জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ-২ (Qawaidul Lughatil Arabiyyah – 2) – 204203, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪৮ মিনিট পড়ার সময়
১৩ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৬৬
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٤
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
قواعد اللغة العربية-٢ (الصرف)
[আরবি ব্যাকরণ-২ (ছরফ)]
বিষয় কোড: ২০৪২০৩
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) / ক-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ١٥ = ٦٠)

١- اذْكُرْ أَقْسَامَ الفِعْلِ مِنْ حَيْثُ الزَّمَنِ وَالتَّعَدِّى وَاللُّزُومِ وَبِنَائِهِ لِلْمَعْلُومِ وَالمَجْهُولِ مُوَضَّحًا بِالأَمْثِلَةِ-

[১. কাল বা জামান, লাযেম ও মুতা’আদ্দী এবং মা’রূফ ও মাজহুল গঠনের দৃষ্টিকোণ থেকে ফে’লের প্রকারভেদ উদাহরণসহ আলোচনা করো।]

ভূমিকা: আরবি ব্যাকরণে কালেমা বা পদের অন্যতম প্রধান শাখা হলো ‘ফে’ল’ (الفعل) বা ক্রিয়া। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ফে’লের চমৎকার শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। নিম্নে প্রশ্নোক্ত তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে ফে’লের বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

১. কাল বা জামানের (الزمن) দৃষ্টিকোণ থেকে ফে’লের প্রকারভেদ:

কাল বা সময়ের বিচারে ফে’ল প্রধানত তিন প্রকার:

  • ক. আল-ফে’লুল মাযী (الفعل الماضي – অতীতকাল): যে ক্রিয়া দ্বারা অতীতকালে কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়া বোঝায়। যেমন: كَتَبَ (সে লিখেছে), نَصَرَ (সে সাহায্য করেছে)।
  • খ. আল-ফে’লুল মুযারে’ (الفعل المضارع – বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল): যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজ করা বা হওয়া বোঝায়। এর শুরুতে চারটি আলামতের (أ، ن، ي، ت) যেকোনো একটি যুক্ত থাকে। যেমন: يَكْتُبُ (সে লিখছে বা লিখবে)।
  • গ. আল-ফে’লুল আমর (فعل الأمر – আদেশসূচক ক্রিয়া): যে ক্রিয়া দ্বারা ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজের আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করা হয়। যেমন: اُكْتُبْ (তুমি লেখো), اُنْصُرْ (তুমি সাহায্য করো)।

২. তা’আদ্দী ও লুযূমের (التعدي واللزوم) দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকারভেদ:

কর্ম বা মাফঊলের মুখাপেক্ষী হওয়ার বিচারে ফে’ল দুই প্রকার:

  • ক. আল-ফে’লুল লাযেম (الفعل اللازم – অকর্মক ক্রিয়া): যে ক্রিয়া কেবল তার কর্তা বা ফায়েল (الفاعل)-কে নিয়েই পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করতে পারে, কোনো মাফঊল (কর্ম)-এর প্রয়োজন হয় না। যেমন: قَامَ زَيْدٌ (যায়দ দাঁড়াল), جَلَسَ بَكْرٌ (বকর বসল)।
  • খ. আল-ফে’লুল মুতা’আদ্দী (الفعل المتعدي – সকর্মক ক্রিয়া): যে ক্রিয়ার অর্থ ফায়েল ছাড়াও মাফঊল বিহী (কর্মপদ)-এর ওপর পতিত হয়। মাফঊলের সংখ্যার বিচারে এটি আবার তিন প্রকার:
    1. এক মাফঊল বিশিষ্ট: যেমন— قَرَأَ خَالِدٌ الكِتَابَ (খালেদ কিতাবটি পড়ল)।
    2. দুই মাফঊল বিশিষ্ট: যেমন— أَعْطَى زَيْدٌ الفَقِيرَ دِرْهَمًا (যায়দ দরিদ্রকে একটি দিরহাম দিল)।
    3. তিন মাফঊল বিশিষ্ট: যেমন— أَعْلَمَ الأُسْتَاذُ التِّلْمِيذَ النَّجَاحَ قَرِيبًا (শিক্ষক ছাত্রটিকে জানালেন যে সাফল্য সন্নিকটে)।

৩. মা’লূম ও মাজহুল (المعلوم والمجهول) গঠনের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকারভেদ:

  • ক. আল-ফে’লুল মা’লূম বা মা’রূফ (الفعل المعلوم – কর্তৃবাচ্য): যে ক্রিয়ার কর্তা (ফায়েল) বাক্যে সুস্পষ্ট বা অনুমিতভাবে উল্লেখিত থাকে। যেমন: خَلَقَ اللَّهُ الإِنْسَانَ (আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন)।
  • খ. আল-ফে’লুল মাজহুল (الفعل المجهول – কর্মবাচ্য): যে ক্রিয়ার মূল ফায়েল উল্লেখিত থাকে না; বরং মাফঊল ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ‘নায়েবে ফায়েল’ হিসেবে মারফু হয়।
    • মাযীর গঠন: প্রথম অক্ষরে পেশ এবং শেষ অক্ষরের পূর্বের অক্ষরে যের দিয়ে গঠিত হয়। যেমন: خُلِقَ الإِنْسَانُ (মানুষ সৃষ্ট হয়েছে)।
    • মুযারের গঠন: প্রথম অক্ষরে পেশ এবং শেষ অক্ষরের পূর্বের অক্ষরে যবর দিয়ে গঠিত হয়। যেমন: يُكْتَبُ الدَّرْسُ (পাঠটি লেখা হচ্ছে)।

٢- اذْكُرْ أَوْزَانَ الفِعْلِ الثُّلاَثِىِّ المُجَرَّدِ وَالثُّلاَثِىِّ المَزِيدِ فِيهِ مَعَ ذِكْرِ الصَّرْفِ الصَّغِيرِ مِنْ مَصْدَرِ “الكِتَابَةِ”-

[২. ছুলাছী মুজাররাদ এবং ছুলাছী মাযীদ ফীহ-এর ওযনসমূহ উল্লেখ করো। অতঃপর ‘আল-কিতাবাতু’ মাছদার থেকে সরফে ছগীর লেখো।]

১. ছুলাছী মুজাররাদের ৬টি বাব বা ওযন:

যে ক্রিয়ার মূল অক্ষর তিনটি এবং কোনো অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত থাকে না, তাকে ছুলাছী মুজাররাদ বলে। এর মাযী ও মুযারে’র আইন কালিমার হরকতের তারতম্যের ভিত্তিতে ৬টি প্রধান বাব গঠিত হয়:

বাবের নাম মাযী ও মুযারের ওযন উদাহরণ (মাযী ও মুযারে) অর্থ
১. নাসারা-ইয়য়ানসুরু (نَصَرَ) فَعَلَ – يَفْعُلُ نَصَرَ – يَنْصُرُ সাহায্য করা
২. যারাবা-ইয়াযরিবু (ضَرَبَ) فَعَلَ – يَفْعِلُ ضَرَبَ – يَضْرِبُ প্রহার করা
৩. ফাতাহা-ইয়াফতাহু (فَتَحَ) فَعَلَ – يَفْعَلُ فَتَحَ – يَفْتَحُ উন্মুক্ত করা
৪. সামিআ-ইয়াসমাউ (سَمِعَ) فَعِلَ – يَفْعَلُ سَمِعَ – يَسْمَعُ শ্রবণ করা
৫. কারুমা-ইয়াকুরুমু (كَرُمَ) فَعُلَ – يَفْعُلُ كَرُمَ – يَكْرُمُ সম্মানিত হওয়া
৬. হাসিবা-ইয়াহসিবু (حَسِبَ) فَعِلَ – يَفْعِلُ حَسِبَ – يَحْسِبُ ধারণা করা

২. ছুলাছী মাযীদ ফীহ-এর মূল ওযনসমূহ:

মূল তিন অক্ষরের সাথে অতিরিক্ত এক, দুই বা তিনটি হরফ যুক্ত হয়ে যে সকল বাব গঠিত হয়, তাদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত প্রসিদ্ধ বাবসমূহ হলো:

  • এক অক্ষর বৃদ্ধিযুক্ত (৩টি বাব): إِفْعَالٌ (أَفْعَلَ يُفْعِلُ – যেমন أَكْرَمَ يُكْرِمُ), تَفْعِيلٌ (فَعَّلَ يُفَعِّلُ – যেমন صَرَّفَ يُصَرِّفُ), مُفَاعَلَةٌ (فَاعَلَ يُفَاعِلُ – যেমন قَاتَلَ يُقَاتِلُ)।
  • দুই অক্ষর বৃদ্ধিযুক্ত (৫টি বাব): تَفَعُّلٌ (تَفَعَّلَ يَتَفَعَّلُ – যেমন تَعَلَّمَ), تَفَاعُلٌ (تَفَاعَلَ يَتَفَاعَلُ – যেমন تَبَاعَدَ), اِفْتِعَالٌ (اِفْتَعَلَ يَفْتَعِلُ – যেমন اِجْتَمَعَ), اِنْفِعَالٌ (اِنْفَعَلَ يَنْفَعِلُ – যেমন اِنْكَسَرَ), اِفْعِلاَلٌ (اِفْعَلَّ يَفْعَلُّ – যেমন اِحْمَرَّ)।
  • তিন অক্ষর বৃদ্ধিযুক্ত: اِسْتِفْعَالٌ (اِسْتَفْعَلَ يَسْتَفْعِلُ – যেমন اِسْتَغْفَرَ يَسْتَغْفِرُ)।

৩. ‘আল-কিতাবাতু’ (الكتابة) মাছদার থেকে সরফে ছগীর (باب نصر):

كَاتَبَ كَتَبَ يَكْتُبُ كَتْبًا وَكِتَابَةً فَهُوَ كَاتِبٌ، وَكُتِبَ يُكْتَبُ كَتْبًا فَهُوَ مَكْتُوبٌ، لَمْ يَكْتُبْ، لَمْ يُكْتَبْ، لَا يَكْتُبُ، لَا يُكْتَبُ، لَنْ يَكْتُبَ، لَنْ يُكْتَبَ، الأَمْرُ مِنْهُ: اكْتُبْ، لِيُكْتَبْ، وَالنَّهْىُ عَنْهُ: لاَ تَكْتُبْ، لاَ يُكْتَبْ، وَالظَّرْفُ مِنْهُ: مَكْتَبٌ، مَكْتَبَانِ، مَكَاتِبُ، وَالآلَةُ مِنْهُ: مِكْتَبٌ، مِكْتَبَانِ، مَكَاتِبُ، وَأَفْعَلُ التَّفْضِيلِ مِنْهُ: أَكْتَبُ، أَكْتَبَانِ، أَكْتَبُونَ، وَالمُؤَنَّثُ مِنْهُ: كُتْبَى، كُتْبَيَانِ، كُتْبَيَاتٌ-


٣- عَرِّفِ اسْمَ المَفْعُولِ، ثُمَّ بَيِّنْ كَيْفِيَّةَ بِنَائِهِ وَأَوْزَانَهُ مِنَ الثُّلاَثِىِّ المُجَرَّدِ وَالثُّلاَثِىِّ المَزِيدِ فِيهِ مَعَ ذِكْرِ صِيَغِ اسْمِ المَفْعُولِ مِنْ مَصْدَرِ “الظُّلْمِ”-

[৩. ইসমে মাফউলের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর ছুলাছী মুজাররাদ এবং ছুলাছী মাযীদ ফীহ থেকে এটি গঠনের নিয়ম ও ওযনসমূহ বর্ণনা করো। সাথে ‘আয-যুলমু’ মাছদার থেকে ইসমে মাফউলের রূপগুলো উল্লেখ করো।]

১. ইসমে মাফউলের সংজ্ঞা:

ইসমে মাফউল হলো এমন একটি বিশেষ্য পদ (মুশতাক বা নিষ্পন্ন রূপ), যা এমন সত্তাকে নির্দেশ করে যার ওপর কর্তার ক্রিয়া বা কর্মটি সরাসরি সংঘটিত হয়েছে (اسم مشتق يدل على من وقع عليه الفعل)। যেমন: مَنْصُورٌ (যাকে সাহায্য করা হয়েছে)।

২. গঠনের নিয়ম ও ওযন:

  • ক. ছুলাছী মুজাররাদ থেকে: ছুলাছী মুজাররাদের সমস্ত বাব থেকে ইসমে মাফউল সর্বদা مَفْعُولٌ (মাফঊলুন) ওযনে গঠিত হয়।
    • গঠনপদ্ধতি: শুরুতে একটি যবরযুক্ত মীম (مَـ) এবং আইন ও লাম কালিমার মাঝে একটি ওয়াও (و) যুক্ত করতে হয়। যেমন: نَصَرَ থেকে مَنْصُورٌ, كَتَبَ থেকে مَكْتُوبٌ
    • মু’তাল ক্রিয়ার ক্ষেত্রে: যেমন قَالَ থেকে مَقُولٌ, بَاعَ থেকে مَبِيعٌ
  • খ. ছুলাছী মাযীদ ফীহ থেকে: মাযীদ ফীহ-এর সমস্ত বাব থেকে ইসমে মাফউল গঠনের সাধারণ কায়দা হলো:
    1. ফে’লে মুযারে মা’লূম গ্রহণ করা।
    2. শুরুর আলামতে মুযারে (يـ) দূর করে সেখানে একটি পেশযুক্ত মীম (مُـ) যুক্ত করা।
    3. শেষ অক্ষরের পূর্বের অক্ষরে ফাতহা বা যবর প্রদান করা (যদি ইতিপূর্বে যবর না থাকে)।
    4. উদাহরণ: বাবে ইফ’আল থেকে يُكْرِمُمُكْرَمٌ, বাবে ইসতিফ’আল থেকে يَسْتَخْرِجُمُسْتَخْرَجٌ

৩. ‘আয-যুলমু’ (الظلم) মাছদার থেকে ইসমে মাফউলের ৬টি সীগাহ:

বচন ও লিঙ্গ (الصيغة) আরবি রূপ (اللفظ) বাংলা অর্থ
واحد مذكر (পুংলিঙ্গ একবচন) مَظْلُومٌ একজন অত্যাচারিত পুরুষ
تثنية مذكر (পুংলিঙ্গ দ্বিবচন) مَظْلُومَانِ দুজন অত্যাচারিত পুরুষ
جمع مذكر (পুংলিঙ্গ বহুবচন) مَظْلُومُونَ সকল অত্যাচারিত পুরুষ
واحد مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ একবচন) مَظْلُومَةٌ একজন অত্যাচারিত নারী
تثنية مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচন) مَظْلُومَتَانِ দুজন অত্যাচারিত নারী
جمع مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন) مَظْلُومَاتٌ সকল অত্যাচারিত নারী

٤- مَا المُرَادُ بِخَصَائِصِ الأَبْوَابِ؟ اذْكُرْ خَصَائِصَ بَابِ الإِفْعَالِ وَالافْتِعَالِ وَالاسْتِفْعَالِ-

[৪. খাসায়েসুল আবওয়াব (বিভিন্ন বাবের বিশেষ অর্থ ও বৈশিষ্ট্য) বলতে কী বোঝায়? বাবে ইফ’আল, ইফতি’আল এবং ইসতিফ’আলের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ উদাহরণসহ লেখো।]

১. খাসায়েসুল আবওয়াবের পরিচয়:

আরবি ছরফ শাস্ত্রে একটি প্রখ্যাত নীতি রয়েছে: «زِيَادَةُ المَبْنَى تَدُلُّ عَلَى زِيَادَةِ المَعْنَى» (শব্দের অক্ষরের বৃদ্ধি অর্থের গভীরতা ও রূপান্তর নির্দেশ করে)। ছুলাছী মুজাররাদের ধাতুতে যখন অতিরিক্ত হরফ যুক্ত হয়ে মাযীদ ফীহের বিভিন্ন বাব তৈরি হয়, তখন মূল অর্থের সাথে কিছু অনন্য ভাব ও অর্থগত বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়। এই অর্থগত বিশেষত্বসমূহকে ‘খাসায়েসুল আবওয়াব’ (خصائص الأبواب) বলা হয়।

২. বাবে ইফ’আল (الإفعال)-এর প্রধান খাসিয়াত:

  • ১. আত-তা’দিয়াহ (التعدية): লাযেম বা অকর্মক ক্রিয়াকে মুতা’আদ্দী বা সকর্মকে রূপান্তরিত করা। যেমন: قَامَ زَيْدٌ (যায়দ দাঁড়াল) → أَقَامَ عَمْرٌو زَيْدًا (আমর যায়দকে দাঁড় করাল)।
  • ২. আস-সায়রূরাহ (الصيرورة): কোনো অবস্থান্তর বা উপাদানের অধিকারী হওয়া। যেমন: أَثْمَرَ الشَّجَرُ (গাছটি ফলবান হলো)।
  • ৩. আল-হীনূনাত (الحينونة): কোনো কাজের উপযুক্ত সময় উপস্থিত হওয়া। যেমন: أَحْصَدَ الزَّرْعُ (ফসল কাটার সময় হলো)।
  • ৪. আস-সালাব ওয়াল ইযালাহ (السلب والإزالة): কোনো কিছু দূর করা বা অপনোদন করা। যেমন: أَعْجَمْتُ الكِتَابَ (আমি কিতাবের জটিলতা/নুকতা দূর করলাম)।

৩. বাবে ইফতি’আল (الافتعال)-এর প্রধান খাসিয়াত:

  • ১. আল-মুতাওয়া’আহ (المطاوعة): অন্য বাবের ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া সহজে গ্রহণ করা। যেমন: جَمَعْتُهُ فَاجْتَمَعَ (আমি তাকে একত্র করলাম আর সে একত্র হয়ে গেল)।
  • ২. আল-ইতিখায (الاتخاذ): কোনো বস্তুকে নিজের জন্য গ্রহণ বা তৈরি করা। যেমন: اِخْتَتَمَ زَيْدٌ (যায়দ নিজের জন্য আংটি তৈরি করল)।
  • ৩. আল-মুশারাকাত (المشاركة): পারস্পরিক কাজের অংশীদারিত্ব। যেমন: اِخْتَصَمَ زَيْدٌ وَعَمْرٌو (যায়দ ও আমর পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হলো)।
  • ৪. আল-মুবালাগা ওয়াল ইজতিহাদ (المبالغة): কোনো কাজে চরম প্রচেষ্টা ও জোর দেওয়া। যেমন: اِكْتَسَبَ (কঠোর পরিশ্রমে উপার্জন করল)।

৪. বাবে ইসতিফ’আল (الاستفعال)-এর প্রধান খাসিয়াত:

  • ১. আত-তালাব (الطلب): কোনো কিছু প্রার্থনা করা বা চাওয়া (এটিই এর মূল অর্থ)। যেমন: اِسْتَغْفَرَ اللَّهَ (সে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করল), اِسْتَسْقَى (পানি প্রার্থনা করল)।
  • ২. আস-সায়রূরাহ (الصيرورة): এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়া। যেমন: اِسْتَحْجَرَ الطِّينُ (কাদা শুকিয়ে পাথরে পরিণত হলো)।
  • ৩. আল-ইতিখাদ (الاتخاذ): গ্রহণ করা। যেমন: اِسْتَوْطَنَ البَلَدَ (দেশকে স্থায়ী আবাস বানিয়ে নিল)।
  • ৪. আল-ই’তিকাদ (الاعتقاد): কোনো সত্তাকে নির্দিষ্ট গুণে বিশ্বাস করা। যেমন: اِسْتَعْظَمْتُ الأَمْرَ (আমি বিষয়টিকে গুরুতর মনে করলাম)।

٥- عَرِّفِ الصَّحِيحَ وَالمُعْتَلَّ وَالمَهْمُوزَ وَالمُضَاعَفَ، ثُمَّ بَيِّنْ أَقْسَامَ المُعْتَلِّ وَالمُضَاعَفِ مُوَضَّحًا بِالأَمْثِلَةِ-

[৫. সহীহ, মু’তাল, মাহমূয এবং মুদা’আফের পরিচয় দাও। অতঃপর মু’তাল ও মুদা’আফের প্রকারভেদ উদাহরণসহ বিশ্লেষণ করো।]

১. প্রাথমিক চার প্রকারের সংজ্ঞা (হাফতে আকসামের আলোকে):

  • আস-সহীহ (الصحيح): যে ক্রিয়ার মূল হরফসমূহে কোনো হরফে ইল্লত (و، ا، ي), হামযাহ (ء) এবং একই হরফের পুনরাবৃত্তি থাকে না। যেমন: نَصَرَ, كَتَبَ
  • আল-মু’তাল (المعتل): যে ক্রিয়ার মূল হরফসমূহের কোনো একটি বা দুটি হরফ হরফে ইল্লত (واو বা ياء) হয়। যেমন: وَعَدَ, قَالَ, رَمَى
  • আল-মাহমূয (المهموز): যে ক্রিয়ার মূল অক্ষরে হামযাহ (ء) থাকে। যেমন: أَخَذَ, سَأَلَ, قَرَأَ
  • আল-মুদা’আফ (المضاعف): যে ক্রিয়ার মূল হরফে একই জাতীয় দুটি হরফ পাশাপাশি অবস্থান করে। যেমন: مَدَّ (اصل: مَدَدَ)।

২. মু’তালের বিস্তারিত প্রকারভেদ:

হরফে ইল্লতের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে মু’তাল চার প্রকার:

  1. আল-মিছাল (المثال): যার ফা-কালিমায় (প্রথম অক্ষরে) হরফে ইল্লত থাকে। যেমন: وَعَدَ (মিছালে ওয়াবী), يَسَرَ (মিছালে ইয়ায়ী)।
  2. আল-আজওয়াফ (الأجوف): যার আইন-কালিমায় (মাঝের অক্ষরে) হরফে ইল্লত থাকে। যেমন: قَالَ (اصل: قَوَلَ), بَاعَ (اصل: بَيَعَ)।
  3. আন-নাক্বিস (الناقص): যার লাম-কালিমায় (শেষ অক্ষরে) হরফে ইল্লত থাকে। যেমন: دَعَا (اصل: دَعَوَ), رَمَى (اصل: رَمَيَ)।
  4. আল-লাফীফ (اللفيف): যার মূল অক্ষরে দুটি হরফে ইল্লত বিদ্যমান থাকে। এটি দুই প্রকার:
    • লাফীফে মাকরূন (مقرون): দুটি হরফে ইল্লত পাশাপাশি থাকলে। যেমন: طَوَى, رَوِيَ
    • লাফীফে মাফরূক (مفروق): দুটি হরফে ইল্লতের মাঝে একটি সহীহ হরফ পৃথককারী হলে। যেমন: وَقَى, وَلِيَ

৩. মুদা’আফের প্রকারভেদ:

  • মুদা’আফে ছুলাছী: আইন ও লাম কালিমা একই জাতীয় হরফ দ্বারা গঠিত হলে। যেমন: مَدَّ (اصل: مَدَدَ), فَرَّ (اصل: فَرَرَ)।
  • মুদা’আফে রুবাঈ: ফা ও প্রথম লাম কালিমা এক জাতীয় এবং আইন ও দ্বিতীয় লাম কালিমা এক জাতীয় হরফ হলে। যেমন: زَلْزَلَ, وَسْوَسَ

٦- اكْتُبْ مَوَاضِعَ اسْتِخْدَامِ عَلاَمَاتِ التَّرْقِيمِ التَّالِيَةِ: النُّقْطَتَانِ، الفَاصِلَةُ، عَلاَمَةُ التَّعَجُّبِ-

[৬. আরবি ব্যাকরণে বিরামচিহ্নের (আলামাতুত তারক্বীম) ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ আলোচনা করো: কোলন (النقطتان :), কমা (الفاصلة ،) এবং বিস্ময়সূচক চিহ্ন (علامة التعجب !)।]

১. আন-নুক্বতাতান বা কোলন ( : النقطتان)-এর ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ:

  • উক্তি বা বাণীর পরে: ‘ক্বালা’ (قال) বা এর সমার্থক ক্রিয়াপদের পর উদ্ধৃতি শুরু করার পূর্বে। যেমন: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ»
  • ব্যাখ্যা বা উদাহরণের পূর্বে: কোনো সাধারণ বিবরণের পর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা উদাহরণ দেওয়ার পূর্বে। যেমন: أَقْسَامُ الكَلِمَةِ ثَلاَثَةٌ : اسْمٌ، وَفِعْلٌ، وَحَرْفٌ
  • শব্দ ও তার সংজ্ঞার মাঝে: কোনো পারিভাষিক শব্দের নামের পর তার সংজ্ঞা লেখার সময়। যেমন: الفَاعِلُ : اسْمٌ مَرْفُوعٌ يَدُلُّ عَلَى مَنْ فَعَلَ الفِعْلَ

২. আল-ফাসীলাহ বা কমা ( ، الفاصلة)-এর ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ:

  • সংযুক্ত ছোট বাক্যসমূহের মাঝে: যখন একাধিক পূর্ণাঙ্গ বাক্য পরস্পর অর্থগতভাবে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত থাকে। যেমন: الصِّدْقُ فَضِيلَةٌ، وَالكَذِبُ رَذِيلَةٌ
  • শ্রেণিবিভাগ বা তালিকার উপাদানসমূহের মাঝে: কোনো জিনিসের বিভিন্ন অংশ বা প্রকার উল্লেখ করার সময়। যেমন: أَرْكَانُ الإِسْلاَمِ: الشَّهَادَتَانِ، وَالصَّلاَةُ، وَالزَّكَاةُ، وَالصَّوْمُ، وَالحَجُّ
  • সম্বোধন বা মুনাদার পরে: বাক্যে কাউকে আহ্বান করার পর। যেমন: يَا عَلِىُّ، اجْتَهِدْ فِى دِرَاسَتِكَ
  • শর্ত ও তার জবাবের দীর্ঘ বাক্যদ্বয়ের মাঝে: যেমন: إِنْ أَطَعْتَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فِى كُلِّ أَمْرٍ، نِلْتَ السَّعَادَةَ فِى الدَّارَيْنِ

৩. আলামাতুত তা’আজ্যুব বা বিস্ময়সূচক চিহ্ন ( ! علامة التعجب)-এর ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ:

  • বিস্ময় বা আশ্চর্য প্রকাশে: সিগায়ে তা’আজ্যুবের পর। যেমন: مَا أَجْمَلَ السَّمَاءَ!, أَكْرِمْ بِزَيْدٍ!
  • আনন্দ, উল্লাস বা প্রশংসায়: যেমন: يَا لَهُ مِنْ نَصْرٍ عَظِيمٍ!, بَخٍ بَخٍ!
  • দুঃখ, শোক বা আর্তনাদে: যেমন: وَا حَسْرَتَاهُ!, وَا مُصِيبَتَاهُ!
  • প্রার্থনা ও দোয়ায়: যেমন: رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا!

مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ٥ = ٢٠)

٧- اكْتُبْ كَيْفِيَّةَ بِنَاءِ صِيَغِ الأَمْرِ الحَاضِرِ المَعْرُوفِ مِنَ الفِعْلِ الثُّلاَثِىِّ المُجَرَّدِ-

[৭. ছুলাছী মুজাররাদ থেকে আমরে হাযির মা’রূফ গঠনের নিয়ম বিশদভাবে লেখো।]

ছুলাছী মুজাররাদ থেকে আমরে হাযির মা’রূফ (আদেশসূচক মধ্যম পুরুষ) গঠনের ধাপে ধাপে নিয়মাবলী:

  1. মুযারে হাযিরের সীগাহ গ্রহণ: সর্বপ্রথম ফে’লে মুযারে হাযির মা’রূফের সীগাহ নিতে হবে (যেমন: تَنْصُرُ, تَضْرِبُ, تَفْتَحُ)।
  2. আলামতে মুযারে বিলোপন: শুরুর আলামতে মুযারে ‘তা’ (تـ) বিলুপ্ত করতে হবে।
  3. হামযায়ে ওসল আনয়ন: আলামতে মুযারে বাদ দেওয়ার পর পরবর্তী ফা-কালিমা সাকিন হলে পড়ার সুবিধার্থে শুরুতে একটি হামযায়ে ওসল (همزة وصل) আনতে হবে।
    • যদি আইন-কালিমায় পেশ (যম্মা) থাকে, তবে হামযায় পেশ হবে। যেমন: تَنْصُرُاُنْصُرْ (বাবে নাসারা)।
    • যদি আইন-কালিমায় যের বা যবর থাকে, তবে হামযায় যের হবে। যেমন: تَضْرِبُاِضْرِبْ (বাবে যারাবা), تَفْتَحُاِفْتَحْ (বাবে ফাতাহ)।
  4. শেষ অক্ষরে জযম প্রদান: শেষ হরফে সাকিন বা জযম দিতে হবে। যদি শেষে নূনে এরাবী থাকে তা বিলুপ্ত হবে, আর হরফে ইল্লত থাকলে তাও বিলুপ্ত হবে। যেমন: تَدْعُواُدْعُ

٨- اكْتُبْ صِيَغَ المُضَارِعِ المُثْبَتِ المَعْرُوفِ مِنْ مَصْدَرِ “الشُّكْرِ” ثُمَّ تَرْجِمْهَا إِلَى البَنْغَالِيَّةِ-

[৮. ‘আশ-শুকরু’ মাছদার থেকে মুযারে মুছবাত মা’রূফের ১৪টি সীগাহ এবং তাদের বাংলা অর্থ লেখো।]

সীগাহ (الصيغة) আরবি শব্দ (اللفظ) বাংলা অর্থ
واحد مذكر غائب يَشْكُرُ সে একজন পুরুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে/করবে
تثنية مذكر غائب يَشْكُرَانِ তারা দুজন পুরুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে/করবে
جمع مذكر غائب يَشْكُرُونَ তারা সকল পুরুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে/করবে
واحد مؤنث غائب تَشْكُرُ সে একজন নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে/করবে
تثنية مؤنث غائب تَشْكُرَانِ তারা দুজন নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে/করবে
جمع مؤنث غائب يَشْكُرْنَ তারা সকল নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে/করবে
واحد مذكر حاضر تَشْكُرُ তুমি একজন পুরুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছ/করবে
تثنية مذكر حاضر تَشْكُرَانِ তোমরা দুজন পুরুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছ/করবে
جمع مذكر حاضر تَشْكُرُونَ তোমরা সকল পুরুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছ/করবে
واحد مؤنث حاضر تَشْكُرِينَ তুমি একজন নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছ/করবে
تثنية مؤنث حاضر تَشْكُرَانِ তোমরা দুজন নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছ/করবে
جمع مؤنث حاضر تَشْكُرْنَ তোমরা সকল নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছ/করবে
واحد متكلم أَشْكُرُ আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি/করব
جمع متكلم نَشْكُرُ আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি/করব

٩- مَا المُرَادُ بِالقَلْبِ وَالإِسْكَانِ وَالحَذْفِ؟ أَوْضِحْ مُمَثِّلاً-

[৯. তালীল শাস্ত্রে কালব (রূপান্তর), ইসকান (সাকিনকরণ) এবং হাযফ (বিলোপন) বলতে কী বোঝায়? উদাহরণসহ সুস্পষ্ট করো।]

মু’তাল শব্দের জটিলতা দূর করে উচ্চারণ সহজ করার জন্য তালীলের তিনটি প্রধান পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়:

  • ১. আল-ক্বলব (القلب – রূপান্তর): এক হরফে ইল্লতকে অপর হরফে ইল্লত বা অন্য হরফে পরিবর্তন করা। যেমন: ওয়াও বা ইয়া হরকতযুক্ত হলে এবং তার পূর্বের অক্ষরে যবর থাকলে তা আলিফে রূপান্তরিত হয়। যথা— قَوَلَقَالَ এবং بَيَعَبَاعَ
  • ২. আল-ইসকান (الإسكان – সাকিনকরণ): হরফে ইল্লতের হরকতকে পড়ার ভার লাঘবের উদ্দেশ্যে বিলুপ্ত করে তাকে সাকিন করা অথবা পূর্ববর্তী সহীহ হরফে স্থানান্তর করা। যথা— يَقْوُلُ-এর ওয়াও-এর পেশ পূর্ববর্তী কাফে স্থানান্তর করে يَقُولُ করা হয়েছে।
  • ৩. আল-হাযফ (الحذف – বিলোপন): উচ্চারণের প্রয়োজনে হরফে ইল্লতকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া। বিশেষ করে দুই সাকিন একত্রিত হলে হরফে ইল্লত বিলুপ্ত হয়। যথা— قُولْ থেকে দুই সাকিনের কারণে ওয়াও বিলুপ্ত হয়ে قُلْ হয়েছে।

١٠- مَاذَا تَفْهَمُ بِالمَصْدَرِ المِيمِىِّ وَالمَصْدَرِ الصِّنَاعِىِّ وَاسْمِ المَصْدَرِ؟ بَيِّنْ مُوَضَّحًا-

[১০. মাছদারে মীমী, মাছদারে সিনায়ী এবং ইসমে মাছদার বলতে কী বোঝো? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।]

  • ১. আল-মাছদারুল মীমী (المصدر الميمي): যে মাছদারের শুরুতে একটি অতিরিক্ত যবরযুক্ত মীম (مـ) থাকে এবং তা মূল মাছদারের সমার্থক অর্থ প্রদান করে। ছুলাছী মুজাররাদ থেকে এর ওযন مَفْعَلٌ বা مَفْعِلٌ। যেমন: مَذْهَبٌ (যাওয়া – الذهاب), مَقْتَلٌ (হত্যা করা – القتل)।
  • ২. আল-মাছদারুস সিনাঈ (المصدر الصناعي): কোনো বিশেষ্য বা গুণবাচক শব্দের শেষে তাশদীদযুক্ত ইয়া ও গোল তা (ـِيَّة) যুক্ত করে যে কৃত্রিম ভাববাচক বিশেষ্য গঠন করা হয়। যেমন: إِنْسَانٌ (মানুষ) → إِنْسَانِيَّةٌ (মানবতা), حُرٌّ (স্বাধীন) → حُرِّيَّةٌ (স্বাধীনতা)।
  • ৩. ইসমুল মাছদার (اسم المصدر): যে বিশেষ্য পদটি মাছদারের পূর্ণ অর্থ নির্দেশ করে কিন্তু তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াপদের (ফে’লের) সমস্ত মূল হরফ বিদ্যমান থাকে না (হরফ কমে যায়)। যেমন: كَلَامٌ (কথা), যা ফে’ল كَلَّمَ-এর মূল মাছদার تَكْلِيمٌ-এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। একইভাবে وُضُوءٌ যা تَوَضُّؤٌ-এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।

١١- حَلِّلِ الأَفْعَالَ التَّالِيَةَ تَحْلِيلاً صَرْفِيًّا: اصْطَفَى، نَسْتَعِينُ، يُوَسْوِسُ، أُخْرِجَتْ، انْشَقَّتْ-

[১১. নিম্নোক্ত ফে’লসমূহের ছরফী বিশ্লেষণ (তাহলীল) করো: اصطفى، نستعين، يوسوس، أخرجت، انشقت।]

ফে’ল (الفعل) সীগাহ ও বাহাস (الصيغة والبحث) বাব ও মূলধাতু (الباب والأصل) জিনস ও অর্থ (الجنس والمعنى)
اصْطَفَى واحد مذكر غائب، فعل ماض معروف باب افتعال، মূলধাতু: (ص-ف-و)، আসল: اِصْتَفَيَ معتل ناقص (لفيف)، অর্থ: সে মনোনীত করল
نَسْتَعِينُ جمع متكلم، فعل مضارع معروف باب استفعال، মূলধাতু: (ع-و-ن)، আসল: نَسْتَعْوِنُ معتل أجوف واوي، অর্থ: আমরা সাহায্য প্রার্থনা করছি
يُوَسْوِسُ واحد مذكر غائب، فعل مضارع معروف باب فَعْلَلَة (رباعي مجرد)، মূলধাতু: (و-س-و-س) مضاعف رباعي، অর্থ: সে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে/দেবে
أُخْرِجَتْ واحد مؤنث غائب، فعل ماض مجهول باب إفعال، মূলধাতু: (خ-ر-ج)، আসল: أُخْرِجَتْ صحيح، অর্থ: তাকে (স্ত্রী) বের করা হলো
انْشَقَّتْ واحد مؤنث غائب، فعل ماض معروف باب انفعال، মূলধাতু: (ش-ق-ق)، আসল: اِنْشَقَقَتْ مضاعف ثلاثي، অর্থ: তা (স্ত্রী) বিদীর্ণ হলো

١٢- عَلِّلِ الأَفْعَالَ التَّالِيَةَ: أَقِمْ، يَخْشَى، وَلَّ-

[১২. নিম্নোক্ত ফে’লসমূহের তালীল (রূপান্তরের ব্যাকরণিক কারণ ও নিয়ম) ব্যাখ্যা করো: أقم (আক্বিম), يخشى (ইয়াখশা), ولّ (ওয়াল্লি/ওয়াল্লা)।]

১. أَقِمْ (আক্বিম)-এর তালীল:

  • আসল রূপ: শব্দটি মূলত ছিল أَقْوِمْ (বাবে ইফ’আলের আমরে হাযির)।
  • তালীলের কায়দা: ওয়াও হরকতযুক্ত এবং তার পূর্ববর্তী অক্ষর ‘ক্বাফ’ সাকিন সহীহ হওয়ায় ওয়াও-এর যের পূর্ববর্তী ক্বাফে স্থানান্তর করা হলো (الإسكان)। ফলে শব্দটি হলো أَقِيْمْ
  • হাযফ: এখন ‘ইয়া’ সাকিন এবং শেষ অক্ষর ‘মীম’ সাকিন— দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে নিয়ম অনুযায়ী হরফে ইল্লত ইয়া বিলুপ্ত হলো (التقاء الساكنين)। ফলে শব্দটি أَقِمْ-এ রূপান্তরিত হলো।

২. يَخْشَى (ইয়াখশা)-এর তালীল:

  • আসল রূপ: শব্দটি মূলত ছিল يَخْشَيُ (বাবে সামিআ-এর মুযারে মা’রূফ)।
  • তালীলের কায়দা: ইয়া হরকতযুক্ত (পেশবিশিষ্ট) এবং তার পূর্ববর্তী অক্ষর ‘শীন’ যবরযুক্ত (ফাতহাযুক্ত)। ছরফের নিয়ম হলো: হরফে ইল্লত হরকতযুক্ত এবং তার পূর্বে যবর থাকলে সেই হরফে ইল্লত আলিফে রূপান্তরিত হয় (القلب)। সুতরাং ইয়া-কে আলিফে মাকসুরায় রূপান্তর করে يَخْشَى করা হলো।

৩. وَلَّ (ওয়াল্লা)-এর তালীল:

  • আসল রূপ: শব্দটি মূলত ছিল وَلِيَ (বাবে যারাবা বা সামিআ) অথবা বাবে তাফঈলে وَلَّى। এখানে যদি আমর وَلِّ বা মাযী وَلَّى উদ্দেশ্য হয়:
    • মাযী হলে: وَلِيَ-এর ইয়া হরকতযুক্ত এবং পূর্বে যবর থাকায় তা আলিফে পরিবর্তিত হয়ে وَلَّى (বা ইদগাম হয়ে وَلَّ) হয়েছে।
    • আমরের সীগাহ হলে: মুযারে يُوَلِّي থেকে আলামতে মুযারে বিলুপ্ত করে এবং আমরের কারণে শেষ হরফে ইল্লত বিলুপ্ত করে وَلِّ গঠিত হয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ-২ (ছরফ) বিষয়ের নম্বর বণ্টন কেমন?

কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ-২ (কোড: ২০৪২০৩) বিষয়ের পূর্ণমান ৮০। ক-বিভাগ থেকে ৪টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন (৪ × ১৫ = ৬০ নম্বর) এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি ব্যাকরণিক রূপান্তর ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন (৪ × ৫ = ২০ নম্বর) উত্তর করতে হয়।

২. সরফে ছগীর লেখার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা উচিত?

মাযী, মুযারে, মাসদার, ইসমে ফায়েল, মাযহুল রূপ, নফী ও জাহাদ, আমর, নাহী, জরফ এবং আলা ও তাফযীলের রূপগুলো ক্রমানুসারে নির্ভুল হরকতসহ লেখা আবশ্যক।

৩. খাসায়েসুল আবওয়াব থেকে প্রশ্ন এলে কীভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়?

প্রতিটি বাবের কমপক্ষে ৩-৪টি প্রধান খাসিয়াত (যেমন তা’দিয়াহ, সায়রূরাহ, তালাব, মুতাওয়া’আহ) উল্লেখ করে প্রতিটির জন্য বিশুদ্ধ আরবি বাক্য উদাহরণ হিসেবে দিতে হবে।

৪. তালীল (التعليل) সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর লেখার সর্বোত্তম কাঠামো কী?

প্রথমে শব্দটির আসল রূপ (الأصل), এরপর কোন অক্ষরের কী রূপান্তর বা বিলোপ ঘটেছে তার ছরফী কায়দা এবং পরিশেষে চূড়ান্ত রূপটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়।

৫. বিরামচিহ্ন বা আলামাতুত তারক্বীমের গুরুত্ব কী?

আরবি ভাষায় বক্তব্য সুস্পষ্ট করা, অর্থের বিভ্রান্তি দূর করা এবং বাক্যের বিরতি ও ভাব প্রকাশে কোলন, কমা ও বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

৬. হাফতে আকসাম ও ছুলাছী মুজাররাদের বাবগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কী?

হাফতে আকসাম হলো হরফের সুস্থতা ও অসুস্থতার বিচারে শব্দের ৭টি শ্রেণি; আর ছুলাছী মুজাররাদের ৬টি বাব হলো মাযী ও মুযারের আইন কালিমার হরকত পরিবর্তনের ভিত্তিতে গঠিত রূপ কাঠামো।

\n

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *