পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৫৯
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٢
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
قواعد اللغة العربية-٢
[আরবি ব্যাকরণ-২]
বিষয় কোড: ২০৪২০৩
الوقت: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (الف) / ক-বিভাগ (الدرجات— ٤ × ١٥ = ٦٠)
(أجب عن أربعة من الأسئلة الآتية)
١- عَرِّفِ الفِعْلَ ثُمَّ بَيِّنْ أَقْسَامَهُ مِنْ حَيْثُ الزَّمَانِ مَعَ ذِكْرِ الفَرْقِ بَيْنَ الفِعْلِ اللاَّزِمِ وَالفِعْلِ المُتَعَدِّي مُمَثَّلاً وَمُوَضَّحًا-
[১. ক্রিয়ার (ফেল) সংজ্ঞা দাও, অতঃপর কালের দিক থেকে এর প্রকারভেদ বর্ণনা করো এবং উদাহরণসহ লাযিম ও মুতাআদ্দি ক্রিয়ার পার্থক্য আলোচনা করো।]
ভূমিকা: আরবি ব্যাকরণে পদ (শব্দ) প্রধানত তিন প্রকার: ইসম (বিশেষ্য/সর্বনাম), ফেল (ক্রিয়া) এবং হরফ (অব্যয়)। এর মধ্যে ফেল বা ক্রিয়াপদ হলো বাক্যের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, যা কোনো ঘটনার সম্পাদন ও কালকে নির্দেশ করে।
১. ফেলের (الفعل) সংজ্ঞা:
- আভিধানিক অর্থ: ‘ফেল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কাজ, কর্ম, ক্রিয়া বা সম্পাদন (العمل والحدث)।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: প্রখ্যাত বৈয়াকরণদের সর্বসম্মত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে:
“الفِعْلُ هُوَ كَلِمَةٌ دَلَّتْ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهَا وَاقْتَرَنَتْ بِأَحَدِ الأَزْمِنَةِ الثَّلاَثَةِ”
“ফেল হলো এমন একটি অর্থবোধক শব্দ, যা নিজস্ব অর্থ নিজে প্রকাশ করতে পারে এবং তিন কালের (অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ) যেকোনো একটি কালের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত থাকে।” যেমন: كَتَبَ (সে লিখেছে), يَكْتُبُ (সে লিখছে বা লিখবে)।
২. কালের বিচারে ফেলের প্রকারভেদ (أقسام الفعل من حيث الزمان): কালের ভিত্তিতে ফেলকে প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়:
- আল-ফেল আল-মাদী (الفعل الماضي – অতীতকালীন ক্রিয়া): যে ক্রিয়া দ্বারা অতীতকালে কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়া বোঝায়। যেমন: قَرَأَ الطَّالِبُ الدَّرْسَ (ছাত্রটি পাঠটি পড়ল)। এর মূল চিহ্ন হলো শেষে সাকিনযুক্ত তা (تَاءُ التَّأْنِيثِ السَّاكِنَةُ) গ্রহণ করা (যেমন: قَرَأَتْ)।
- আল-ফেল আল-মুদারে’ (الفعل المضارع – বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া): যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজ করা বা হওয়া বোঝায়। যেমন: يَنْصُرُ زَيْدٌ عَمْرًا (যায়েদ আমরকে সাহায্য করছে বা করবে)। এর শুরুতে হরুফে আতায়না (أ، ت، ي، ن)-এর যেকোনো একটি অতিরিক্ত হরফ থাকে এবং এটি ‘সীন’ (س)، ‘সাওফা’ (سوف)، ‘লাম’ (لم) ইত্যাদি গ্রহণ করতে পারে।
- ফেলুল আমর (فعل الأمر – আদেশসূচক ক্রিয়া): যে ক্রিয়া দ্বারা ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজের নির্দেশ বা অনুরোধ বোঝায়। যেমন: اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ (পাঠ করো তোমার রবের নামে)। এর চিহ্ন হলো সরাসরি আদেশ বোঝানোর পাশাপাশি শেষে ‘ইয়ায়ে মু مخاطবা’ (ياء المخاطبة) গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখা (যেমন: اِضْرِبِي)।
৩. ফেল লাযিম ও ফেল মুতাআদ্দির মধ্যকার পার্থক্য (الفرق بين اللازم والمتعدي):
| তুলনার ক্ষেত্র | ফেল লাযিম (الفعل اللازم – অকর্মক ক্রিয়া) | ফেল মুতাআদ্দি (الفعل المتعدي – সকর্মক ক্রিয়া) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা ও প্রকৃতি | যে ফেল কেবল ফায়েল (কর্তা)-কে নিয়েই অর্থ প্রকাশে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, মাফঊল (কর্ম)-এর মুখাপেক্ষী হয় না। | যে ফেল কেবল ফায়েল দ্বারা অর্থ পূর্ণ করতে পারে না, বরং অর্থ স্পষ্ট করতে মাফঊল বিহির মুখাপেক্ষী হয়। |
| প্রভাব (عمل) | এর কাজের প্রভাব ফায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, অতিক্রম করে মাফঊলে যায় না। | এর কাজের প্রভাব ফায়েলকে অতিক্রম করে সরাসরি মাফঊল বিহির ওপর আপতিত হয়। |
| চিহ্ন (علامة) | এটি মাফঊলের সর্বনাম (هاء المفعول) সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। (যেমন: جلسه বলা যায় না)। | এটি মাফঊলের সর্বনাম সরাসরি গ্রহণ করতে পারে। (যেমন: ضربه، أكله)। |
| উদাহরণ | قَامَ زَيْدٌ (যায়েদ দাঁড়াল), نَامَ الطِّفْلُ (শিশুটি ঘুমাল)। | شَرِبَ مُحَمَّدٌ المَاءَ (মুহাম্মদ পানি পান করল), فَتَحَ عَلِيٌّ البَابَ (আলী দরজা খুলল)। |
٢- تَحَدَّثْ عَنْ أَقْسَامِ الفِعْلِ مِنْ حَيْثُ الجِنْسِ مُفَصَّلاً وَمُمَثَّلاً-
[২. গঠন বা লিঙ্গের বিচারে ক্রিয়ার প্রকারভেদ বিস্তারিত আলোচনা করো।]
ভূমিকা: ইলমুস সরফের আলোচনায় ‘জিনস’ (الجنس – জাত/প্রকৃতি) একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিভাষা। সরফ শাস্ত্রের পরিভাষায় মূল অক্ষরের ধরন ও সুস্থতার দিক থেকে ক্রিয়াকে ‘হাফত আকসাম’ (الأقسام السبعة – সাত প্রকার) বা সহীহ ও মু’তালের দিক থেকে ভাগ করা হয়। এছাড়াও ব্যাকরণিক লিঙ্গভেদে ফেল মুযাক্কার ও মুয়ান্নাসে বিভক্ত। নিম্নে উভয় দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করা হলো:
প্রথমত: মূল অক্ষরের প্রকৃতিভেদে (হাফত আকসাম / الأقسام السبعة):
সুলাসী মুজাররাদের মূল অক্ষরসমূহের প্রকৃতি বিবেচনায় ফেলকে প্রধানত দুই ভাগে এবং চূড়ান্তভাবে সাত ভাগে বিভক্ত করা হয়:
ক. আস-সহীহ (الصحيح): যে ফেলের মূল অক্ষরের মধ্যে কোনো হরফে ইল্লত (و، ا، ي) থাকে না। এটি তিন প্রকার:
- সালিম (السالم): যার মূল অক্ষরে কোনো হরফে ইল্লত, হামযাহ কিংবা একই হরফের দ্বিত্ব (মুযাআফ) থাকে না। যেমন: نَصَرَ، ضَرَبَ، فَتَحَ।
- মাহমূয (المهموز): যার মূল অক্ষরের কোনো একটিতে হামযাহ বিদ্যমান থাকে। এটি আবার তিন প্রকার:
- মাহমূযুল ফা: أَخَذَ، أَمَرَ
- মাহমূযুল আইন: سَأَلَ، رَأَسَ
- মাহমূযুল লাম: قَرَأَ، بَدَأَ
- মুযাআফ (المضاعف): যার মূল অক্ষরের মধ্যে আইন ও লাম কলিমা একই হরফের হয়। যেমন: مَدَّ (مَدَدَ)، فَرَّ (فَرَرَ)।
খ. আল-মু’তাল (المعتل): যে ফেলের মূল অক্ষরের কোনো একটিতে হরফে ইল্লত (ওয়াও বা ইয়া) থাকে। এটি চার প্রকার:
- মিসাল (المثال): যার ফা-কলিমায় হরফে ইল্লত থাকে। যেমন: وَعَدَ (মিসালে ওয়াবী), يَسَرَ (মিসালে ইয়ায়ী)।
- আজওয়াফ (الأجوف): যার আইন-কলিমায় হরফে ইল্লত থাকে। যেমন: قَالَ (اصل: قَوَلَ), بَاعَ (اصل: بَيَعَ)।
- নাক্বিস (الناقص): যার লাম-কলিমায় হরফে ইল্লত থাকে। যেমন: دَعَا (اصل: دَعَوَ), رَمَى (اصل: رَمَيَ)।
- লাফীফ (اللفيف): যার মূল অক্ষরে দুটি হরফে ইল্লত বিদ্যমান থাকে। এটি দুই প্রকার:
- লাফীফে মাকরূন (اللفيف المقرون): দুটি হরফে ইল্লত পাশাপাশি থাকলে (আইন ও লাম কলিমা)। যেমন: طَوَى، رَوَى।
- লাফীফে মাফরূক্ব (اللفيف المفروق): দুটি হরফে ইল্লতের মাঝে একটি সহীহ হরফ ব্যবধান থাকলে (ফা ও লাম কলিমা)। যেমন: وَقَى، وَلِيَ।
দ্বিতীয়ত: ব্যাকরণিক লিঙ্গভেদে (من حيث التذكير والتأنيث):
- ফেল মুযাক্কার (الفعل المذكر): যে ক্রিয়ার কর্তা পুরুষবাচক হয়। যেমন: قَامَ رَجُلٌ، جَاءَ سَعِيدٌ।
- ফেল মুয়ান্নাস (الفعل المؤنث): যে ক্রিয়ার কর্তা স্ত্রীবাচক হয়। এতে মুয়ান্নাসের আলামত হিসেবে অতীতকালে সাকিনযুক্ত তা (ت) এবং মুদারেতে তা (ت) যুক্ত হয়। যেমন: قَامَتْ هِنْدٌ، تَكْتُبُ عَائِشَةُ।
٣- اذْكُرْ أَوْزَانَ الفِعْلِ الثُّلاَثِيِّ المُجَرَّدِ وَالثُّلاَثِيِّ المَزِيدِ فِيهِ مَعَ ذِكْرِ الصَّرْفِ الصَّغِيرِ مِنْ مَصْدَرِ ‘التَّعْلِيم’-
[৩. সুলাসী মুজাররাদ ও সুলাসী মাযীদ ফীহ-এর বাবের ওজনসমূহ উল্লেখ করো এবং ‘আত-তা’লীম’ মাসদার থেকে সারফে সাগীর লিপিবদ্ধ করো।]
ভূমিকা: আরবি ক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো তিন অক্ষরবিশিষ্ট ধাতু বা সুলাসী (الثلاثي)। যদি অতিরিক্ত কোনো হরফ না থাকে তবে তা ‘মুজাররাদ’ এবং এক বা একাধিক হরফ বৃদ্ধি করা হলে তাকে ‘মাযীদ ফীহ’ বলা হয়।
১. সুলাসী মুজাররাদের ৬টি বাবের ওজন (أوزان الثلاثي المجرد):
সুলাসী মুজাররাদের মাদী ও মুদারে-এর আইন কলিমার হরকতের তারতম্যের ভিত্তিতে ৬টি বিখ্যাত বাব রয়েছে:
| নং | বাবের প্রচলিত নাম | ওজন (الوزن: الماضي – المضارع) | প্রসিদ্ধ উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১ | বাব নাসারা (نَصَرَ) | فَعَلَ – يَفْعُلُ | نَصَرَ – يَنْصُرُ (সাহায্য করা) |
| ২ | বাব যারাবা (ضَرَبَ) | فَعَلَ – يَفْعِلُ | ضَرَبَ – يَضْرِبُ (প্রহার করা) |
| ৩ | বাব ফাতাহা (فَتَحَ) | فَعَلَ – يَفْعَلُ | فَتَحَ – يَفْتَحُ (উন্মুক্ত করা) |
| ৪ | বাব সামিআ (سَمِعَ) | فَعِلَ – يَفْعَلُ | سَمِعَ – يَسْمَعُ (শ্রবণ করা) |
| ৫ | বাব কারুমা (كَرُمَ) | فَعُلَ – يَفْعُلُ | كَرُمَ – يَكْرُمُ (মর্যাদাবান হওয়া) |
| ৬ | বাব হাসিবা (حَسِبَ) | فَعِلَ – يَفْعِلُ | حَسِبَ – يَحْسِبُ (ধারণা করা) |
২. সুলাসী মাযীদ ফীহ-এর প্রসিদ্ধ ওজনসমূহ:
সুলাসী মাযীদ ফীহের হামযায়ে ওয়াসল বিহীন এবং যুক্ত মিলিয়ে বহু বাব রয়েছে। প্রধান ৮টি প্রসিদ্ধ বাব হলো:
- بَابُ الإِفْعَالِ: ওজন— أَفْعَلَ يُفْعِلُ إِفْعَالاً (যেমন: أَكْرَمَ يُكْرِمُ إِكْرَامًا)।
- بَابُ التَّفْعِيلِ: ওজন— فَعَّلَ يُفَعِّلُ تَفْعِيلاً (যেমন: عَلَّمَ يُعَلِّمُ تَعْلِيمًا)।
- بَابُ المُفَاعَلَةِ: ওজন— فَاعَلَ يُفَاعِلُ مُفَاعَلَةً (যেমন: قَاتَلَ يُقَاتِلُ مُقَاتَلَةً)।
- بَابُ التَّفَعُّلِ: ওজন— تَفَعَّلَ يَتَفَعَّلُ تَفَعُّلاً (যেমন: تَعَلَّمَ يَتَعَلَّمُ تَعَلُّمًا)।
- بَابُ التَّفَاعُلِ: ওজন— تَفَاعَلَ يَتَفَاعَلُ تَفَاعُلاً (যেমন: تَقَابَلَ يَتَقَابَلُ تَقَابُلاً)।
- بَابُ الاِفْتِعَالِ: ওজন— اِفْتَعَلَ يَفْتَعِلُ اِفْتِعَالاً (যেমন: اِكْتَسَبَ يَكْتَسِبُ اِكْتِسَابًا)।
- بَابُ الاِنْفِعَالِ: ওজন— اِنْفَعَلَ يَنْفَعِلُ اِنْفِعَالاً (যেমন: اِنْكَسَرَ يَنْكَسِرُ اِنْكِسَارًا)।
- بَابُ الاِسْتِفْعَالِ: ওজন— اِسْتَفْعَلَ يَسْتَفْعِلُ اِسْتِفْعَالاً (যেমন: اِسْتَغْفَرَ يَسْتَغْفِرُ اِسْتِغْفَارًا)।
৩. ‘আত-তা’লীম’ (التعليم) মাসদার থেকে সারফে সাগীর (الصرف الصغير):
এটি বাবে তাফঈল (التفعيل)-এর সুলাসী মাযীদ ফীহ:
| ক্রিয়া ও পদের নাম | আরবি রূপান্তর (الصيغة) | অর্থ |
|---|---|---|
| الفعل الماضي (معروف) | عَلَّمَ | সে শিক্ষা দিল |
| الفعل المضارع (معروف) | يُعَلِّمُ | সে শিক্ষা দিচ্ছে বা দেবে |
| المصدر | تَعْلِيمًا | শিক্ষা দেওয়া |
| اسم الفاعل | فَهُوَ مُعَلِّمٌ | অতএব সে একজন শিক্ষক / শিক্ষাদাতা |
| الماضي المجهول | عُلِّمَ | তাকে শিক্ষা দেওয়া হলো |
| المضارع المجهول | يُعَلَّمُ | তাকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে বা হবে |
| اسم المفعول | وَذَاكَ مُعَلَّمٌ | আর সে শিক্ষিত / যাকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে |
| فعل الأمر | الأَمْرُ مِنْهُ: عَلِّمْ | তুমি শিক্ষা দাও |
| فعل النهي | وَالنَّهْيُ عَنْهُ: لاَ تُعَلِّمْ | তুমি শিক্ষা দিও না |
| اسم الظرف | وَالظَّرْفُ مِنْهُ: مُعَلَّمٌ | শিক্ষা দেওয়ার স্থান বা সময় |
| اسم الآلة | وَالآلَةُ مِنْهُ: مُعَلَّمٌ بِهِ | শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যম বা যন্ত্র |
٤- مَا المُرَادُ بِالأَسْمَاءِ المُشْتَقَّةِ؟ وَكَمْ نَوْعًا لَهَا؟ هَاتِ صِيَغَ اسْمِ الآلَةِ مِنْ مَصْدَرِ ‘الفَتْح’-
[৪. আসমায়ে মুশতাক্বাহ বলতে কী বোঝায়? এর প্রকার কয়টি? এবং ‘আল-ফাতহু’ মাসদার থেকে ইসমুল আলা-এর সীগাহসমূহ লিপিবদ্ধ করো।]
ভূমিকা: আরবি বিশেষ্য পদকে ব্যুৎপত্তিগত বিচারে জামিদ (অব্যুৎপন্ন) এবং মুশতাক্ব (ব্যুৎপন্ন)-এ বিভক্ত করা হয়। মাসদার থেকে যেসকল বিশেষ্য পদ সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও ওজনে তৈরি হয়, সেগুলোকে আসমায়ে মুশতাক্বাহ বলা হয়।
১. আসমায়ে মুশতাক্বাহ-এর পরিচয়:
- আভিধানিক অর্থ: ‘মুশতাক্ব’ (المشتق) শব্দের অর্থ কোনো উৎস থেকে উৎসারিত, কর্তিত বা গৃহীত।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: বৈয়াকরণদের মতে:
“الاِسْمُ المُشْتَقُّ هُوَ مَا أُخِذَ مِنْ غَيْرِهِ (مِنَ المَصْدَرِ) لِيَدُلَّ عَلَى ذَاتٍ مُتَّصِفَةٍ بِوَصْفٍ”
“যে বিশেষ্য পদ মাসদার (ধাতুমূল) থেকে নির্দিষ্ট ওজনে গঠিত হয়ে এমন ব্যক্তি, বস্তু বা অবস্থাকে নির্দেশ করে যা কোনো গুণের সাথে সম্পৃক্ত, তাকে ইসমুল মুশতাক্ব বলা হয়।” যেমন: عِلْمٌ (জ্ঞান) মাসদার থেকে عَالِمٌ (জ্ঞানী) এবং مَعْلُومٌ (জ্ঞাত বিষয়)।
২. আসমায়ে মুশতাক্বাহ-এর প্রকারভেদ:
জমহুর বৈয়াকরণদের মতে আসমায়ে মুশতাক্বাহ প্রধানত ৭ প্রকার:
- ইসমুল ফায়েল (اسم الفاعل – কর্তৃবাচ্য বিশেষ্য): যে কাজটি সম্পাদন করে। যেমন: نَاصِرٌ (সাহায্যকারী)।
- ইসমুল মাফঊল (اسم المفعول – কর্মবাচ্য বিশেষ্য): যার ওপর কাজটি আপতিত হয়। যেমন: مَنْصُورٌ (সাহায্যপ্রাপ্ত)।
- সিফাতে মুশাব্বাহাহ (الصفة المشبهة – চিরন্তন গুণবাচক বিশেষ্য): স্থায়ী গুণ বোঝায়। যেমন: حَسَنٌ، كَرِيمٌ।
- ইসমুত তাফযীল (اسم التفضيل – আতিশয্যবাচক বিশেষ্য): দুই বা ততোধিকের মধ্যে কোনো গুণের আধিক্য বোঝায়। যেমন: أَكْبَرُ، أَفْضَلُ।
- ইসমুয যারফ (اسم الظرف – স্থান ও কালবাচক বিশেষ্য): কাজের স্থান বা সময় নির্দেশ করে। যেমন: مَسْجِدٌ، مَكْتَبٌ।
- ইসমুল আলা (اسم الآلة – যন্ত্র বা মাধ্যমবাচক বিশেষ্য): যার সাহায্যে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। যেমন: مِفْتَاحٌ، مِبْرَدٌ।
- ইসমুল মুবালাগা (اسم المبالغة – আধিক্যসূচক গুণবাচক বিশেষ্য): কোনো কাজের চরম পৌনঃপুনিকতা বোঝায়। যেমন: عَلاَّمٌ، غَفُورٌ।
৩. ‘আল-ফাতহু’ (الفتح) মাসদার থেকে ইসমুল আলার সীগাহসমূহ:
সুলাসী মুজাররাদ থেকে ইসমুল আলার তিনটি মূল ক্বিয়াসী ওজন রয়েছে। ‘আল-ফাতহু’ (খোলা বা জয় করা) মাসদার থেকে এর রূপসমূহ নিম্নরূপ:
| ওজনের নাম | মূল ওজন | সীগাহ (রূপান্তর) | অর্থ |
|---|---|---|---|
| সুগরা (ছোট যন্ত্র) | مِفْعَلٌ | مِفْتَحٌ | খোলার ছোট যন্ত্র |
| উসতা (মাঝারি যন্ত্র) | مِفْعَلَةٌ | مِفْتَحَةٌ | খোলার মাঝারি যন্ত্র |
| কুবরা (বড় যন্ত্র) | مِفْعَالٌ | مِفْتَاحٌ | চাবি / খোলার বড় যন্ত্র |
٥- مَا المُرَادُ بِخَصَائِصِ الأَبْوَابِ؟ اُكْتُبْ خَصَائِصَ بَابِ التَّفْعِيلِ وَالتَّفَعُّلِ وَالتَّفَاعُلِ-
[৫. খাসায়িসুল আবওয়াব বলতে কী বোঝায়? বাবে তাফঈল, তাফা’উল এবং তাফা’উল-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লিপিবদ্ধ করো।]
ভূমিকা: আরবি ব্যাকরণে সুলাসী মুজাররাদের অক্ষরের সাথে যখন অতিরিক্ত হরফ যুক্ত করে বিভিন্ন বাবে রূপান্তর করা হয়, তখন প্রতিটি বাবের নিজস্ব অর্থগত বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও রূপান্তর ঘটে। এই অর্থগত বৈচিত্র্যকে ‘খাসায়িসুল আবওয়াব’ (خصائص الأبواب) বলা হয়।
১. খাসায়িসুল আবওয়াব-এর অর্থ:
‘খাসায়িস’ হলো ‘খাসিয়াত’ (خاصية)-এর বহুবচন, যার অর্থ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, এবং ‘আবওয়াব’ হলো ‘বাব’ (باب)-এর বহুবচন। পরিভাষায়: “সুলাসী মুজাররাদের মূল ক্রিয়ার সাথে নির্দিষ্ট হরফ বৃদ্ধি করার ফলে ক্রিয়ার মূল অর্থের মধ্যে যেসকল নতুন অর্থগত মাত্রা (যেমন: কর্মসম্পাদন, পৌনঃপুনিকতা, রূপান্তর, কৃত্রিমতা ইত্যাদি) যুক্ত হয়, তাকে খাসায়িসুল আবওয়াব বলা হয়।” আরবি প্রবাদ: “زيادة المبنى تدل على زيادة المعنى” (শব্দকাঠামোর বৃদ্ধি অর্থগত ব্যাপ্তির প্রমাণ বহন করে)।
২. বাবে তাফঈল (التفعيل)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- আত-তা’দিয়াহ (التعدية – সকর্মক করা): অকর্মক (লাযিম) ফেলকে সকর্মক (মুতাআদ্দি) করা। যেমন: فَرِحَ زَيْدٌ (যায়েদ খুশি হলো) থেকে فَرَّحْتُ زَيْدًا (আমি যায়েদকে খুশি করলাম)।
- আত-তাকসীর (التكثير – কাজের আধিক্য): কোনো কাজের পৌনঃপুনিকতা ও আধিক্য বোঝানো। যেমন: قَطَّعَ الحَبْلَ (সে দড়িটিকে টুকরো টুকরো করে কাটল), غَلَّقَتِ الأَبْوَابَ (সকল দরজা শক্তভাবে বন্ধ করল)।
- আস-সালব ওয়াত তানহিয়াহ (السلب – দূরীকরণ): কোনো বস্তু থেকে কোনো ক্ষতিকর উপাদান দূর করা। যেমন: قَشَّرْتُ الفَاكِهَةَ (আমি ফলের খোসা ছাড়ালাম)।
- আন-নিসবাহ (النسبة – সম্বন্ধযুক্ত করা): কাউকে কোনো কাজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা। যেমন: فَسَّقْتُهُ (আমি তাকে ফাসিক সাব্যস্ত করলাম), كَفَّرْتُهُ (কাফের সাব্যস্ত করা)।
৩. বাবে তাফা’উল (التفعل)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- আল-মুতাওয়াআহ (المطاوعة – ফল গ্রহণ করা): বাবে তাফঈলের সকর্মক ক্রিয়ার প্রভাব গ্রহণ করা। যেমন: عَلَّمْتُهُ فَتَعَلَّمَ (আমি তাকে শিক্ষা দিলাম, অতঃপর সে শিক্ষা গ্রহণ করল)।
- আত-তাকাল্লুফ (التكلف – কষ্টসাধ্য অর্জন): চেষ্টা ও মেহনতের মাধ্যমে কোনো গুণ অর্জন করা। যেমন: تَصَبَّرَ (কষ্ট সত্ত্বেও ধৈর্য ধারণ করল), تَشَجَّعَ (বীরত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা করল)।
- আত-তাদরীজ (التدريج – পর্যায়ক্রমিক কাজ): ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা। যেমন: تَجَرَّعَ المَاءَ (সে ঢোক গিলে গিলে পানি পান করল)।
- আল-ইত্তিখায (الاتخاذ – গ্রহণ করা): কোনো কিছুকে নিজের আশ্রয় বা পেশা হিসেবে গ্রহণ করা। যেমন: تَوَسَّدَ ذِرَاعَهُ (হাতকে বালিশ বানাল)।
৪. বাবে তাফা’উল (التفاعل)-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- আল-মুশারাকাহ (المشاركة – পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া): দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে একই কাজে সমানভাবে অংশগ্রহণ করা। যেমন: تَصَالَحَ القَوْمُ (লোকেরা পরস্পরে সন্ধি করল), تَعَاوَنَ الطُّلابُ (ছাত্ররা পরস্পরে সহযোগিতা করল)।
- আত-তাহাযুর (التظاهر – ভান করা): বাস্তবে যা নয় কৃত্রিমভাবে তার ভান করা। যেমন: تَمَارَضَ زَيْدٌ (যায়েদ অসুস্থতার ভান করল অথচ সে সুস্থ), تَنَاوَمَ (ঘুমের ভান করল)।
- আল-মুতাওয়াআহ (المطاوعة): বাবে মুফাআলার ফল গ্রহণ করা। যেমন: بَاعَدْتُهُ فَتَبَاعَدَ (আমি তাকে দূরে সরালাম, ফলে সে দূরে সরে গেল)।
٦- عَرِّفِ المَصْدَرَ وَاسْمَ المَصْدَرِ ثُمَّ بَيِّنْ أَنْوَاعَ المَصْدَرِ مُفَصَّلاً وَمُمَثَّلاً-
[৬. মাসদার ও ইসমুল মাসদারের সংজ্ঞা দাও, অতঃপর উদাহরণসহ মাসদারের বিভিন্ন প্রকার বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
ভূমিকা: আরবি শব্দভাণ্ডারের মূল উৎস হলো মাসদার। বসরার বৈয়াকরণদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসদার থেকেই সমস্ত ক্রিয়াপদ ও কৃদন্ত বিশেষ্য নিঃসৃত হয়।
১. মাসদার ও ইসমুল মাসদারের সংজ্ঞা:
- ক. মাসদার (المصدر):
আভিধানিক অর্থ নির্গমন স্থান বা উৎস। পারিভাষিক সংজ্ঞা:
“المَصْدَرُ هُوَ الاِسْمُ الدَّالُّ عَلَى الحَدَثِ مُجَرَّدًا عَنِ الزَّمَانِ، وَمُشْتَمِلاً عَلَى جَمِيعِ حُرُوفِ فِعْلِهِ لَفْظًا أَوْ تَقْدِيرًا”
“মাসদার হলো এমন বিশেষ্য পদ যা কোনো কালের সংস্রবহীন নিছক কাজের নাম নির্দেশ করে, এবং যাতে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়ার সমস্ত মূল অক্ষর উচ্চারণে বা অনুমানে সম্পূর্ণরূপে বিদ্যমান থাকে।” যেমন: ضَرْبٌ (প্রহার করা), إِكْرَامٌ (সম্মান করা)। - খ. ইসমুল মাসদার (اسم المصدر):
পারিভাষিক সংজ্ঞা:
“هُوَ مَا دَلَّ عَلَى مَعْنَى المَصْدَرِ لَكِنَّهُ نَقَصَ عَنْ حُرُوفِ فِعْلِهِ دُونَ عِوَضٍ”
“যে পদ মাসদারের অর্থই প্রদান করে, কিন্তু তাতে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াপদের মূল অক্ষরের চেয়ে কম অক্ষর থাকে এবং তার পরিবর্তে কোনো হরফও আনা হয় না, তাকে ইসমুল মাসদার বলে।”
যেমন: ক্রিয়াপদ تَوَضَّأَ (সে অজু করল)-এর ক্বিয়াসী মাসদার হলো تَوَضُّؤٌ, কিন্তু এর পরিবর্তে যখন বলা হয় وُضُوءٌ (অজু), তখন তা ইসমুল মাসদার; কারণ এতে ক্রিয়ার ‘তা’ হরফটি বাদ পড়েছে। তদ্রূপ أَعْطَى-এর মাসদার إِعْطَاءٌ, কিন্তু ব্যবহৃত হয় عَطَاءٌ।
২. মাসদারের প্রকারভেদ (أنواع المصدر): মাসদার প্রধানত নিম্নোক্ত প্রকারসমূহে বিভক্ত:
- আল-মাসদার আল-আসলী / আস-সরীহ (المصدر الأصلي / الصريح): ধাতুর মূল স্বাভাবিক মাসদার। যেমন: সুলাসী মুজাররাদের ক্ষেত্রে نَصْرٌ، خُرُوجٌ، ذَهَابٌ।
- আল-মাসদার আল-মীমী (المصدر الميمي): যে মাসদারের শুরুতে অতিরিক্ত ‘মীম’ (م) যুক্ত থাকে (তবে তা বাবে মুফাআলাহর ওজন নয়)।
- সুলাসী মুজাররাদ থেকে এর ওজন: مَفْعَلٌ বা مَفْعِلٌ। যেমন: مَطْلَبٌ (চাওয়া), مَوْعِدٌ (ওয়াদা করা), مَغْفِرَةٌ (ক্ষমা করা)।
- গায়রে সুলাসী থেকে ইসমুল মাফঊলের ওজনে হয়। যেমন: مُنْقَلَبٌ (প্রত্যাবর্তন স্থান/করা)।
- মাসদারে মাররাহ (مصدر المرة – এককালীন সংঘটন সূচক): কাজটি কেবল একবার সংঘটিত হওয়া বোঝায়। সুলাসী থেকে এর ওজন فَعْلَةٌ। যেমন: ضَرَبْتُ ضَرْبَةً (আমি একবার প্রহার করলাম)।
- মাসদারে হাইয়াহ (مصدر الهيئة – ধরন ও অবস্থা সূচক): কাজের ধরন বা প্রকৃতি বোঝায়। সুলাসী থেকে এর ওজন فِعْلَةٌ। যেমন: جَلَسَ جِلْسَةَ العُلَمَاءِ (সে আলেমদের মতো গম্ভীরভাবে বসল)।
- আল-মাসদার আস-সিনাঈ (المصدر الصناعي – কৃত্রিম মাসদার): কোনো বিশেষ্য বা গুণের শেষে ইয়ায়ে মুশাদ্দাদাহ ও তা (ـِيَّة) যুক্ত করে গঠিত ভাববাচক বিশেষ্য। যেমন: إِنْسَانٌ (মানুষ) থেকে إِنْسَانِيَّةٌ (মানবতা), حُرٌّ (স্বাধীন) থেকে حُرِّيَّةٌ (স্বাধীনতা), وَطَنٌ থেকে وَطَنِيَّةٌ (স্বদেশপ্রেম)।
- আল-মাসদার আল-মুআব্বাল (المصدر المؤول): ‘আন’ (أَنْ) এবং মুদারে ক্রিয়া মিলে মাসদারের অর্থে রূপান্তর। যেমন: أَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ অর্থাৎ صِيَامُكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ (তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর)।
٧- اُكْتُبِ الصَّرْفَ الصَّغِيرَ مِنْ مَصْدَرِ ‘الجُلُوس’ وَ ‘الإِحْسَان’ وَ ‘التَّعَاوُن’ وَ ‘الاِنْهِدَام’-
[৭. ‘আল-জুলূস’, ‘আল-ইহসান’, ‘আত-তাআউন’ এবং ‘আল-ইনহিদাম’ মাসদারগুলোর সারফে সাগীর লিপিবদ্ধ করো।]
১. ‘আল-জুলূস’ (الجلوس – বসা) মাসদারের সারফে সাগীর:
এটি বাবে যারাবা (ضرب يضرب)-এর সুলাসী মুজাররাদে লাযিম:
جَلَسَ، يَجْلِسُ، جُلُوسًا، فَهُوَ جَالِسٌ، وَالأَمْرُ مِنْهُ: اِجْلِسْ، وَالنَّهْيُ عَنْهُ: لاَ تَجْلِسْ، وَالظَّرْفُ مِنْهُ: مَجْلِسٌ، وَالآلَةُ مِنْهُ: مِجْلَسٌ-
(অর্থ: সে বসল, সে বসছে বা বসবে, বসা, অতএব সে উপবিষ্ট ব্যক্তি। আদেশ: তুমি বসো; নিষেধ: তুমি বোসো না; স্থান/কাল: বসার স্থান বা মজলিস; যন্ত্র: বসার আসন বা মাধ্যম।)
২. ‘আল-ইহসান’ (الإحسان – অনুগ্রহ করা) মাসদারের সারফে সাগীর:
এটি বাবে ইফআল (الإفعال)-এর সুলাসী মাযীদ ফীহ মুতাআদ্দি:
أَحْسَنَ، يُحْسِنُ، إِحْسَانًا، فَهُوَ مُحْسِنٌ، وَأُحْسِنَ، يُحْسَنُ، إِحْسَانًا، فَذَاكَ مُحْسَنٌ إِلَيْهِ، الأَمْرُ مِنْهُ: أَحْسِنْ، وَالنَّهْيُ عَنْهُ: لاَ تُحْسِنْ، وَالظَّرْفُ مِنْهُ: مُحْسَنٌ-
(অর্থ: সে অনুগ্রহ করল, সে অনুগ্রহ করছে বা করবে, অনুগ্রহ করা, অতএব সে অনুগ্রহকারী। তার প্রতি অনুগ্রহ করা হলো… আদেশ: তুমি অনুগ্রহ করো; নিষেধ: তুমি অনুগ্রহ কোরো না; স্থান/কাল: অনুগ্রহের স্থান/সময়।)
৩. ‘আত-তাআউন’ (التعاون – পারস্পরিক সহযোগিতা করা) মাসদারের সারফে সাগীর:
এটি বাবে তাফা’উল (التفاعل)-এর সুলাসী মাযীদ ফীহ আজওয়াফে ওয়াবী:
تَعَاوَنَ، يَتَعَاوَنُ، تَعَاوُنًا، فَهُوَ مُتَعَاوِنٌ، الأَمْرُ مِنْهُ: تَعَاوَنْ، وَالنَّهْيُ عَنْهُ: لاَ تَتَعَاوَنْ، وَالظَّرْفُ مِنْهُ: مُتَعَاوَنٌ-
(অর্থ: তারা পরস্পরে সহযোগিতা করল, তারা সহযোগিতা করছে বা করবে, সহযোগিতা করা, অতএব সে সহযোগী। আদেশ: তোমরা পরস্পরে সহযোগিতা করো; নিষেধ: সহযোগিতা কোরো না; স্থান/কাল: পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র।)
৪. ‘আল-ইনহিদাম’ (الانهدام – ভেঙে পড়া / ধ্বংস হওয়া) মাসদারের সারফে সাগীর:
এটি বাবে ইনফিআল (الانفعال)-এর সুলাসী মাযীদ ফীহ লাযিম (মুতায়াআহ):
اِنْهَدَمَ، يَنْهَدِمُ، اِنْهِدَامًا، فَهُوَ مُنْهَدِمٌ، الأَمْرُ مِنْهُ: اِنْهَدِمْ، وَالنَّهْيُ عَنْهُ: لاَ تَنْهَدِمْ، وَالظَّرْفُ مِنْهُ: مُنْهَدَمٌ-
(অর্থ: তা ভেঙে পড়ল, তা ভেঙে পড়ছে বা পড়বে, ভেঙে পড়া, অতএব তা ধ্বংসপ্রাপ্ত/পতিত বস্তু। আদেশ: তুমি ভেঙে পড়ো; নিষেধ: তুমি ভেঙে পড়ো না; স্থান/কাল: ধ্বংসের স্থান।)
٨- اُكْتُبْ مَوَاضِعَ اسْتِخْدَامِ ‘عَلاَمَةِ التَّنْصِيصِ’ وَ ‘عَلاَمَةِ التَّعَجُّبِ’ وَ ‘الفَاصِلَةِ’ مُمَثَّلاً-
[৮. যতিচিহ্ন ‘উদ্ধৃতি চিহ্ন’ (আল্লামাতুত তানসীস), ‘আশ্চর্যবোধক চিহ্ন’ (আল্লামাতুত তাআজজুব) এবং ‘কমা’ (আল-ফাসিলাহ)-এর ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ উদাহরণসহ লিপিবদ্ধ করো।]
ভূমিকা: আরবি লিখনরীতিতে ভাবকে সুস্পষ্ট, শ্রুতিমধুর ও নির্ভুলভাবে উপস্থাপনের জন্য আধুনিক আরবি ব্যাকরণে যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্ন (علامات الترقيم)-এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে প্রশ্নোক্ত তিনটি চিহ্নের ব্যবহারের ক্ষেত্র ও উদাহরণ আলোচনা করা হলো:
১. উদ্ধৃতি চিহ্ন (علامة التنصيص – ” “):
কোনো বক্তার হুবহু বক্তব্য বিকৃতিহীনভাবে উদ্ধৃত করার জন্য এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। ব্যবহারের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
- পবিত্র কুরআনের আয়াত ও হাদীসের উদ্ধৃতিতে: যেমন— قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: “إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ”
- কারো হুবহু উক্তি বা কবিতার পঙ্ক্তি বর্ণনায়: যেমন— قال المعلم للتلميذ: “العِلْمُ نُورٌ وَالجَهْلُ ظَلاَمٌ”
- কোনো বিশেষ পরিভাষা বা গ্রন্থনাম স্পষ্টকরণে: যেমন— أَلَّفَ سِيبَوَيْهِ كِتَابَهُ الشَّهِيرَ “الكِتَاب”
২. আশ্চর্যবোধক বা বিস্ময়চিহ্ন (علامة التعجب / التأثر – !):
মানব হৃদয়ের গভীর আবেগ, বিস্ময়, আনন্দ, বেদনা, ভয় বা প্রার্থনার অভিব্যক্তি প্রকাশের পর এই চিহ্ন বসে। প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
- বিস্ময় ও তাআজজুবের সীগাহর পরে: যেমন— مَا أَجْمَلَ السَّمَاءَ! (আকাশটি কতই না সুন্দর!), أَكْرِمْ بِزَيْدٍ! (যায়েদ কতই না সম্মানিত!)
- আফসোস ও হাহাকার প্রকাশে (الندبة والتحسر): যেমন— وَا حَسْرَتَاهُ عَلَى مَا فَرَّطْتُ! (হায় আফসোস আমার অবহেলার ওপর!)
- উদ্বেগ ও ভীতিতে (التحذير): যেমন— النَّارَ النَّارَ! (আগুন, আগুন থেকে সাবধান!)
- সুসংবাদ বা পরম আনন্দে: যেমন— يَا لَهَا مِنْ بُشْرَى عَظِيمَةٍ! (কী চমৎকার সুসংবাদ!)
৩. কমা বা স্বল্প বিরতি চিহ্ন (الفاصلة – ،):
আরবিতে কমা ইংরেজি কমার উল্টোভাবে (،) লেখা হয়। বাক্যের মধ্যে সামান্য থামার প্রয়োজন হলে এটি ব্যবহৃত হয়। ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ:
- পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ছোট ছোট বাক্যংশের মাঝে: যেমন— المُسْلِمُ إِذَا تَكَلَّمَ صَدَقَ، وَإِذَا وَعَدَ أَوْفَى، وَإِذَا اؤْتُمِنَ أَدَّى الأَمَانَةَ
- কোনো বিষয়ের প্রকারভেদ বা সমজাতীয় শব্দের মাঝে: যেমন— أَقْسَامُ الكَلِمَةِ ثَلاَثَةٌ: اِسْمٌ، وَفِعْلٌ، وَحَرْفٌ
- সম্বোধন পদের (المنادى) ঠিক পরে: যেমন— يَا عَبْدَ اللهِ، اِتَّقِ اللهَ حَيْثُمَا كُنْتَ
- শর্ত ও তার উত্তরের মাঝে যদি বাক্য দীর্ঘ হয়: যেমন— إِنْ أَطَعْتَ وَالِدَيْكَ وَأَحْسَنْتَ إِلَيْهِمَا، نِلْتَ رِضَا رَبِّكَ
مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجات— ٤ × ۵ = ২০)
(أجب عن أربعة من الأسئلة الآتية)
٩- اُكْتُبْ كَيْفِيَّةَ بِنَاءِ اسْمِ الفَاعِلِ مُوَضَّحًا-
[৯. ইসমুল ফায়েল গঠনের নিয়ম বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো।]
উত্তর: ইসমুল ফায়েল (اسم الفاعل) গঠনের নিয়ম মূলত ক্রিয়াটি সুলাসী মুজাররাদ নাকি গায়রে সুলাসী (মাযীদ ফীহ/রুবায়ী) তার ওপর নির্ভর করে:
- সুলাসী মুজাররাদ (তিন অক্ষরবিশিষ্ট) থেকে গঠনের নিয়ম:
সুলাসী মুজাররাদ থেকে ইসমুল ফায়েল সর্বদা فَاعِلٌ (ফায়িলুন)-এর ওজনে গঠিত হয়। যথা:- ফা-কলিমার পর একটি অতিরিক্ত আলিফ যুক্ত করা হয় এবং আইন-কলিমায় কাসরাহ (যের) দেওয়া হয়। যেমন: نَصَرَ থেকে نَاصِرٌ, كَتَبَ থেকে كَاتِبٌ।
- যদি ক্রিয়াটি আজওয়াফ (মাঝখানে হরফে ইল্লত) হয়, তবে সেই হরফে ইল্লত হামযায় রূপান্তরিত হয়। যেমন: قَالَ থেকে قَائِلٌ, بَاعَ থেকে بَائِعٌ।
- সুলাসী মাযীদ ফীহ ও অন্যান্য গায়রে সুলাসী থেকে গঠনের নিয়ম:
মুদারে মারূফের সীগাহ থেকে তিনটি সহজ ধাপে ইসমুল ফায়েল গঠিত হয়:- প্রথম ধাপ: শুরুতে অবস্থিত আলামতে মুদারে (يـ ইত্যাদি) দূর করা।
- দ্বিতীয় ধাপ: তার স্থানে একটি পেশযুক্ত মীম (مُـ) যুক্ত করা।
- তৃতীয় ধাপ: শেষ অক্ষরের পূর্বের অক্ষরে কাসরাহ (যের) প্রদান করা এবং শেষে তানভীন দেওয়া।
- উদাহরণ: يُعَلِّمُ থেকে مُعَلِّمٌ, يَسْتَغْفِرُ থেকে مُسْتَغْفِرٌ, يُدَحْرِجُ থেকে مُدَحْرِجٌ।
١٠- اُكْتُبْ صِيَغَ اسْمِ المَفْعُولِ فِي مَصْدَرِ ‘الحَمْد’ مَعَ تَرْجَمَتِهَا بِالبَنْغَالِيَّةِ-
[১০. ‘আল-হামদু’ মাসদার থেকে ইসমুল মাফঊলের সীগাহসমূহ বাংলা অর্থসহ লিপিবদ্ধ করো।]
উত্তর: ‘আল-হামদু’ (الْحَمْدُ – প্রশংসা করা) সুলাসী মুজাররাদের বাব সামিআ বা ফাতাহা থেকে ব্যবহৃত হয়। এর ইসমুল মাফঊলের ওজন হলো مَفْعُولٌ। নিম্নে এর ৬টি প্রধান সীগাহ ও বাংলা অর্থ প্রদান করা হলো:
| সীগাহ ও বচন | আরবি রূপ (الصيغة) | বাংলা অর্থ |
|---|---|---|
| واحد مذكر (একবচন পুংলিঙ্গ) | مَحْمُودٌ | প্রশংসিত একজন পুরুষ |
| تثنية مذكر (দ্বিবচন পুংলিঙ্গ) | مَحْمُودَانِ / مَحْمُودَيْنِ | প্রশংসিত দুইজন পুরুষ |
| جمع مذكر سالم (বহুবচন পুংলিঙ্গ) | مَحْمُودُونَ / مَحْمُودِينَ | প্রশংসিত সকল পুরুষ |
| واحد مؤنث (একবচন স্ত্রীলিঙ্গ) | مَحْمُودَةٌ | প্রশংসিত একজন নারী |
| تثنية مؤنث (দ্বিবচন স্ত্রীলিঙ্গ) | مَحْمُودَتَانِ / مَحْمُودَتَيْنِ | প্রশংসিত দুইজন নারী |
| جمع مؤنث سالم (বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ) | مَحْمُودَاتٌ | প্রশংসিত সকল নারী |
١١- عَرِّفِ الإِدْغَامَ وَالإِعْلاَلَ مُمَثَّلاً-
[১১. উদাহরণসহ ইদগাম ও ই’লালের সংজ্ঞা দাও।]
উত্তর:
- ১. আল-ইদগাম (الإدغام):
- আভিধানিক অর্থ: এক বস্তুকে অন্য বস্তুর মধ্যে প্রবেশ করানো বা প্রবিষ্ট করা।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: “উচ্চারণের সুবিধার জন্য দুটি সমজাতীয় হরফ পাশাপাশি আসলে প্রথমটিকে সাকিনযুক্ত করে দ্বিতীয় হরফের মধ্যে মিলিয়ে তাশদীদসহ একবার উচ্চারণ করাকে ইদগাম বলা হয়।”
- উদাহরণ: مَدَدَ (মাদাদা)-এর প্রথম ‘দাল’ সাকিন করে দ্বিতীয়টির সাথে মিলিয়ে مَدَّ (মাদ্দা) করা হয়েছে। তদ্রূপ فَرَرَ থেকে فَرَّ।
- ২. আল-ই’লাল (الإعلال):
- আভিধানিক অর্থ: রোগাক্রান্ত করা বা পরিবর্তন সাধন করা।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: “শব্দের উচ্চারণকে সহজ ও সাবলীল করার উদ্দেশ্যে কোনো শব্দের অন্তর্গত হরফে ইল্লতকে (واو، ألف، ياء) পরিবর্তন করা (بِالقَلْبِ), বিলুপ্ত করা (بِالحَذْفِ) অথবা তার হরকত স্থানান্তর বা সাকিন করাকে (بِالإِسْكَانِ) ই’লাল বলা হয়।”
- উদাহরণ:
- রূপান্তরের মাধ্যমে ই’লাল (الإعلال بالقلب): قَوَلَ-এর ওয়াও হরকতযুক্ত এবং তার পূর্বের হরফ যবরযুক্ত হওয়ায় ওয়াও-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে قَالَ করা হয়েছে।
- বিলুপ্তির মাধ্যমে ই’লাল (الإعلال بالحذف): يَوْعِدُ থেকে ওয়াও বিলুপ্ত করে يَعِدُ করা হয়েছে।
١٢- تَحَدَّثْ عَنْ أَوْزَانِ الأَسْمَاءِ الثُّلاَثِيَّةِ وَالرُّبَاعِيَّةِ وَالخُمَاسِيَّةِ بِإِيجَازٍ-
[১২. সুলাসী, রুবায়ী ও খুমাসী বিশেষ্যের ওজনসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।]
উত্তর: আরবি ব্যাকরণে আসমায়ে মুতামাক্কিনাহ বা মুজাররাদ বিশেষ্য পদ মূল অক্ষরের সংখ্যার ভিত্তিতে তিন প্রকার: সুলাসী (তিন অক্ষর), রুবায়ী (চার অক্ষর) এবং খুমাসী (পাঁচ অক্ষর):
- সুলাসী মুজাররাদ বিশেষ্যের ওজন (১২টি সম্ভাব্য, প্রচলিত ১০টি):
ফা ও আইন কলিমার হরকতের মিলনে গঠিত প্রধান ওজনগুলো হলো:- فَعْلٌ (যেমন: شَمْسٌ، سَهْلٌ)
- فَعَلٌ (যেমন: قَمَرٌ، فَرَحٌ)
- فَعِلٌ (যেমন: كَتِفٌ، حَذِرٌ)
- فَعُلٌ (যেমন: عَضُدٌ، رَجُلٌ)
- فِعْلٌ (যেমন: حِمْلٌ، ذِكْرٌ)
- فِعَلٌ (যেমন: عِنَبٌ، قِطَعٌ)
- فِعِلٌ (যেমন: إِبِلٌ)
- فُعْلٌ (যেমন: قُفْلٌ، حُكْمٌ)
- فُعَلٌ (যেমন: صُرَدٌ، عُمَرُ)
- فُعُلٌ (যেমন: عُنُقٌ)
- রুবায়ী মুজাররাদ বিশেষ্যের প্রধান ৫টি ওজন:
- فَعْلَلٌ (যেমন: جَعْفَرٌ – নদী)
- فِعْلِلٌ (যেমন: زِبْرِجٌ – অলঙ্কার)
- فُعْلُلٌ (যেমন: بُلْبُلٌ)
- فِعْلَلٌّ (যেমন: قِمَطْرٌ – বইয়ের বাক্স)
- فِعَلٌّ (যেমন: دِرْهَمٌ)
- খুমাসী মুজাররাদ বিশেষ্যের প্রধান ৪টি ওজন:
- فَعَلَّلٌ (যেমন: سَفَرْجَلٌ – এক প্রকার ফল)
- فَعْلَلِلٌ (যেমন: جَحْمَرِشٌ – বৃদ্ধা নারী)
- فِعْلَلٌّ (যেমন: قِرْطَعْبٌ)
- فُعَلِّلٌ (যেমন: خُبَعْثِنٌ – সিংহ)
١٣- اذْكُرْ أَحْكَامَ المُثَنَّى وَالأَلْفَاظَ المُلْحَقَةَ بِالمُثَنَّى مُوَضَّحًا-
[১৩. মুসান্না (দ্বিবচন) এবং মুলহাক্ব বিল মুসান্নার বিধানসমূহ ব্যাখ্যা করো।]
উত্তর:
- মুসান্নার (المثنى) পরিচয়: যে বিশেষ্য পদ একবচনের শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নূন (ان) অথবা ইয়া ও নূন (ين) যুক্ত করে দুই সংখ্যা নির্দেশ করে। যেমন: كِتَابٌ থেকে كِتَابَانِ / كِتَابَيْنِ।
- মুসান্নার ই’রাবের বিধান: মুসান্না হরকত (যম্মা, ফাতহা, কাসরা) দ্বারা নয়, বরং হরফ দ্বারা ই’রাব গ্রহণ করে:
- হালতে রাফা (রফার অবস্থা): ‘আলিফ’ দ্বারা হয়। যেমন: جَاءَ الرَّجُلاَنِ (দুইজন পুরুষ এলো)।
- হালতে নাসব ও জার (নসব ও জারের অবস্থা): পূর্বের অক্ষরে যবরযুক্ত ‘ইয়া’ (الياء المفتوح ما قبلها) দ্বারা হয়। যেমন: رَأَيْتُ الرَّجُلَيْنِ (আমি পুরুষ দুজনকে দেখলাম), مَرَرْتُ بِالرَّجُلَيْنِ (আমি তাদের পাশ দিয়ে গেলাম)।
- ইযাফতের সময় নূন বিলুপ্ত হওয়া: মুসান্না যখন মুযাফ হয়, তখন তার শেষের নূন পড়ে যায়। যেমন: يَدَا أَبِي لَهَبٍ (মূল ছিল: يدَانِ)।
- মুলহাক্ব বিল মুসান্না (الملحق بالمثنى – মুসান্নার সাথে সাদৃশ্যযুক্ত শব্দাবলী):
যেসব শব্দের রূপান্তর হুবহু মুসান্নার মতো (আলিফ ও ইয়া দ্বারা ই’রাব হয়) কিন্তু ব্যাকরণগতভাবে তাদের কোনো একক একবচন শব্দ নেই, সেগুলোকে ‘মুলহাক্ব বিল মুসান্না’ বলা হয়। প্রধান চারটি শব্দ হলো:- اِثْنَانِ (পুংলিঙ্গ – দুই) এবং اِثْنَتَانِ / ثِنْتَانِ (স্ত্রীলিঙ্গ – দুই): এদের কোনো একবচন শব্দ নেই। যেমন: حَضَرَ اثْنَانِ, رَأَيْتُ اثْنَيْنِ।
- كِلاَ (উভয় – পুংলিঙ্গ) এবং كِلْتَا (উভয় – স্ত্রীলিঙ্গ): এই দুটি শব্দ যখন যমীরের (সর্বনাম) দিকে মুযাফ হয়, কেবল তখনই মুসান্নার মতো ই’রাব গ্রহণ করে। যেমন: جَاءَ الرَّجُلاَنِ كِلاَهُمَا (রফার হালতে আলিফ), رَأَيْتُ الرَّجُلَيْنِ كِلَيْهِمَا (নসবের হালতে ইয়া)। তবে যদি স্পষ্ট বিশেষ্যের দিকে মুযাফ হয় (যেমন: كِلا الرَّجُلَيْنِ), তখন তা মাকসূর ইসমের মতো অপ্রকাশ্য (তাক্বদীরী) হরকত দ্বারা ই’রাব গ্রহণ করে।
١٤- كَمْ نَوْعًا لِلْجَمْعِ؟ وَكَيْفَ يُصَاغُ جَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمِ؟ بَيِّنْ مُمَثَّلاً-
[১৪. বহুবচন (জমা) কয় প্রকার এবং জমা মুযাক্কার সালিম কীভাবে গঠিত হয়? উদাহরণসহ বর্ণনা করো।]
উত্তর:
- জমার প্রকারভেদ: আরবি ব্যাকরণে দুই-এর অধিক সংখ্যা প্রকাশক বিশেষ্যকে ‘জমা’ (جمع) বলা হয়। জমা প্রধানত তিন প্রকার:
- জমা মুযাক্কার সালিম (جمع المذكر السالم): যাতে একবচনের মূল গঠন অক্ষত থাকে এবং শেষে পুংলিঙ্গবাচক চিহ্ন যুক্ত হয়। যেমন: مُسْلِمُونَ / مُسْلِمِينَ।
- জমা মুয়ান্নাস সালিম (جمع المؤنث السالم): যাতে একবচনের গঠন অক্ষত রেখে শেষে আলিফ ও তা (ات) যুক্ত হয়। যেমন: مُسْلِمَاتٌ।
- জমা তাকসীর (جمع التكسير – ভগ্ন বহুবচন): যাতে একবচনের মূল অক্ষর বা হরকতের পরিবর্তন ও বিনাশ ঘটে। যেমন: رَجُلٌ থেকে رِجَالٌ, كِتَابٌ থেকে كُتُبٌ।
- জমা মুযাক্কার সালিম গঠনের নিয়ম (كيفية صياغته):
একবচন পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে কোনো পরিবর্তন না করে সরাসরি নিম্নের বর্ণমালা যুক্ত করে এটি গঠিত হয়:- হালতে রাফায় (রফার অবস্থায়): একবচনের শেষ অক্ষরে পেশ দিয়ে তার সাথে ‘ওয়াও সাকিন ও যবরযুক্ত নূন’ (ـُونَ) যুক্ত করতে হয়। যেমন: مُعَلِّمٌ থেকে مُعَلِّمُونَ।
- হালতে নাসব ও জারে (নসব ও জারের অবস্থায়): শেষ অক্ষরে যের দিয়ে তার সাথে ‘ইয়া সাকিন ও যবরযুক্ত নূন’ (ـِينَ) যুক্ত করতে হয়। যেমন: مُعَلِّمِينَ।
- শর্তাবলী: জমা মুযাক্কার সালিম কেবল বিবেকবান পুরুষের নাম (علم لمذكر عاقل) যেমন مُحَمَّدُونَ, অথবা বিবেকবান পুরুষের গুণবাচক শব্দ (صفة لمذكر عاقل) যেমন صَالِحُونَ থেকে গঠিত হতে পারে।
١٥- هَاتِ جُمُوعَ الكَلِمَاتِ التَّالِيَةِ جَمْعًا مُذَكَّرًا سَالِمًا أَوْ جَمْعًا مُؤَنَّثًا سَالِمًا: حَاذِق، بَنْغَلاَدِيشِيّ، طَيِّب، فَلاَّح، مُعَلِّم، أُخْت، بِنْت، السَّمَاء، فُضْلَى، مُؤْمِنَة-
[১৫. নিম্নোক্ত শব্দগুলোর জমা মুযাক্কার সালিম অথবা জমা মুয়ান্নাস সালিম রূপান্তর করো: حاذق، بنغلاديشي، طيب، فلاح، معلم، أخت، بنت، السماء، فضلى، مؤمنة-]
উত্তর: প্রদত্ত শব্দসমূহের সঠিক ও ব্যাকরণসম্মত জমা মুযাক্কার সালিম বা জমা মুয়ান্নাস সালিমের রূপান্তর নিম্নের ছকে উপস্থাপন করা হলো:
| মূল শব্দ (الكلمة) | জমার ধরন | বহুবচন রূপ (الجمع) | অর্থ |
|---|---|---|---|
| حَاذِقٌ (নিপুণ/দক্ষ) | جمع مذكر سالم | حَاذِقُونَ / حَاذِقِينَ | দক্ষ ব্যক্তিবর্গ |
| بَنْغَلاَدِيشِيٌّ (বাংলাদেশী) | جمع مذكر سالم | بَنْغَلاَدِيشِيُّونَ / بَنْغَلاَدِيشِيِّينَ | বাংলাদেশীগণ |
| طَيِّبٌ (পবিত্র/উত্তম পুরুষ) | جمع مذكر سالم | طَيِّبُونَ / طَيِّبِينَ | সৎ ও পবিত্র ব্যক্তিগণ |
| فَلاَّحٌ (কৃষক) | جمع مذكر سالم | فَلاَّحُونَ / فَلاَّحِينَ | কৃষকগণ |
| مُعَلِّمٌ (শিক্ষক) | جمع مذكر سالم | مُعَلِّمُونَ / مُعَلِّمِينَ | শিক্ষকবৃন্দ |
| أُخْتٌ (বোন) | جمع مؤنث سالم | أَخَوَاتٌ | ভগিনীগণ / বোনেরা |
| بِنْتٌ (কন্যা/মেয়ে) | جمع مؤنث سالم | بَنَاتٌ | মেয়েরা / কন্যারা |
| السَّمَاءُ (আকাশ) | جمع مؤنث سالم | السَّمَاوَاتُ | আকাশমণ্ডলী |
| فُضْلَى (শ্রেষ্ঠা নারী) | جمع مؤنث سالم | فُضْلَيَاتٌ | শ্রেষ্ঠা নারীগণ |
| مُؤْمِنَةٌ (ঈমানদার নারী) | جمع مؤنث سالم | مُؤْمِنَاتٌ | মুমিন নারীগণ |
١٦- عَلِّلِ الكَلِمَاتِ التَّالِيَةِ: سَلْ، أُدْعُ، نَامَ-
[১৬. নিম্নোক্ত শব্দগুলোর তালীল (শব্দরূপান্তরের ব্যাকরণিক কারণ) বিশ্লেষণ করো: سَلْ، أُدْعُ، نَامَ-]
উত্তর:
- سَلْ (তুমি যাচ্ঞা করো / চাও):
- মূল রূপ: এটি বাবে ফাতাহা থেকে আমর হাযের মারূফের সীগাহ। এর মূল ছিল اِسْأَلْ (ইস্আল)।
- তালীলের নিয়ম: ‘হামযাহ’ হরকতযুক্ত (যবর) এবং তার পূর্ববর্তী অক্ষর ‘সীন’ সাকিনযুক্ত হওয়ায় উচ্চারণের লাঘব ও সহজীকরণের উদ্দেশ্যে হামযার যবর পূর্ববর্তী সাকিনযুক্ত সীনকে দেওয়া হলো। ফলে হামযাহটি সাকিন হয়ে গেল (اِسَـأْلْ)। অতঃপর হামযাহ সাকিন এবং শেষের লাম সাকিনের মধ্যে ‘ইলতিক্বায়ে সাকিনাইন’ (দুটি সাকিনের মিলন) ঘটায় হামযাহটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেল। যেহেতু সীন হরকতযুক্ত হয়ে গেছে, তাই শুরুতে আনা অতিরিক্ত হামযায়ে ওয়াসলের আর প্রয়োজন রইল না; ফলে সেটিও পড়ে গিয়ে শব্দটি سَلْ (সাল)-এ রূপান্তরিত হলো। কুরআনে এসেছে: “سَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ”।
- أُدْعُ (তুমি ডাকো / আহ্বান করো):
- মূল রূপ: এটি বাবে নাসারা থেকে নাক্বিসে ওয়াবী ক্রিয়ার আমর হাযের মারূফ। এর মূল ছিল اُدْعُو (উদ’ঊ)।
- তালীলের নিয়ম: ফেলুল আমরের শেষে সাকিন হওয়া ওয়াজিব (مبني على السكون)। কিন্তু ক্রিয়াটি যদি নাক্বিস (শেষে হরফে ইল্লতযুক্ত) হয়, তবে তার আমরের জযম বা সাকিন হয় শেষ থেকে হরফে ইল্লত বিলুপ্তির মাধ্যমে (حذف حرف العلة)। এখানে اُدْعُو-এর শেষ থেকে হরফে ইল্লত ‘واو’ পড়ে গিয়ে লাম-কলিমার পেশ অক্ষত রেখে শব্দটি أُدْعُ-তে পরিণত হয়েছে। কুরআনে এসেছে: “ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ”।
- نَامَ (সে ঘুমাল):
- মূল রূপ: এটি বাবে সামিআ থেকে আজওয়াফে ওয়াবী ক্রিয়া। এর মূল রূপ ছিল نَوِمَ (নাওিমা)।
- তালীলের নিয়ম: সরফের সুবিখ্যাত কায়দা হলো: হরফে ইল্লত ‘ওয়াও’ বা ‘ইয়া’ যদি হরকতযুক্ত হয় এবং তার পূর্ববর্তী অক্ষরের হরকত ‘ফাতহা’ (যবর) হয়, তবে উক্ত ওয়াও বা ইয়া-কে ‘আলিফ’ দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব (الإعلال بالقلب)। এখানে نَوِمَ-এর ‘واو’ যেরযুক্ত ছিল এবং পূর্বের ‘নূন’ যবরযুক্ত ছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী ‘واو’-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে শব্দটি نَامَ-তে রূপান্তরিত হয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ-২ পত্রে মূলত কী আলোচনা করা হয়?
এই পত্রে আরবি ইলমুস সরফ (শব্দতত্ত্ব ও রূপান্তর), ক্রিয়ার প্রকারভেদ, বাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ (খাসায়িসুল আবওয়াব), আসমায়ে মুশতাক্বাহ, ইদগাম ও ই’লালের নিয়মাবলী এবং আরবি যতিচিহ্নের ব্যবহারিক প্রয়োগ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
২. সুলাসী মুজাররাদের ছয়টি প্রসিদ্ধ বাব কী কী?
সুলাসী মুজাররাদের ছয়টি বাব হলো: বাবে নাসারা (نصر ينصر), বাবে যারাবা (ضرب يضرب), বাবে ফাতাহা (فتح يفتح), বাবে সামিআ (سمع يسمع), বাবে কারুমা (كرم يكرم), এবং বাবে হাসিবা (حسب يحسب)।
৩. ফেল লাযিম ও মুতাআদ্দির প্রধান পার্থক্য কী?
ফেল লাযিম বা অকর্মক ক্রিয়া কেবল ফায়েল (কর্তা)-কে নিয়েই অর্থ পূর্ণ করতে পারে, কর্ম (মাফঊল)-এর প্রয়োজন হয় না। অপরদিকে ফেল মুতাআদ্দি বা সকর্মক ক্রিয়া অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে মাফঊল বিহির মুখাপেক্ষী হয়।
৪. মাসদার ও ইসমুল মাসদারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
মাসদারে ক্রিয়ার সমস্ত মূল অক্ষর উচ্চারণে বা অনুমানে সম্পূর্ণরূপে বিদ্যমান থাকে (যেমন: তাওয়াদ্দুআ থেকে তাওয়াদ্দু’)। কিন্তু ইসমুল মাসদারে ক্রিয়ার অর্থের সাদৃশ্য থাকলেও কোনো বিকল্প ছাড়াই ক্রিয়ার মূল হরফের চেয়ে কম হরফ থাকে (যেমন: উযূ)।
৫. ইদগাম ও ই’লালের পার্থক্য কী?
ইদগাম হলো দুটি সমজাতীয় হরফকে মিলিয়ে তাশদীদসহ এক হরফে উচ্চারণ করা (যেমন: মাদাদা থেকে মাদ্দা)। অপরদিকে ই’লাল হলো হরফে ইল্লতকে সহজ উচ্চারণের স্বার্থে রূপান্তর, বিলুপ্তি বা সাকিন করা (যেমন: ক্বাওয়ালা থেকে ক্বালা)।
৬. আসমায়ে মুশতাক্বাহ বলতে কী বোঝায়?
যে সকল বিশেষ্য পদ সরাসরি মাসদার থেকে নির্দিষ্ট ব্যাকরণিক ওজনে তৈরি হয়ে কোনো ব্যক্তি, বস্তু, গুণ বা কাজের স্থান-কালকে নির্দেশ করে, তাদের আসমায়ে মুশতাক্বাহ বলা হয়। যেমন ইসমুল ফায়েল, ইসমুল মাফঊল, ইসমুল আলা ইত্যাদি।