জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আশ-শি’রুল কাদীম-১ (Ash-Shirul Qadim-1) – 204207, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৫১ মিনিট পড়ার সময়
১১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৬৩
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٢
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
الشعر القديم-١
[প্রাচীন আরবি পদ্য-১]
বিষয় কোড: ২০৪২০৭
الوقت: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ডান ও বাম পাশে উল্লিখিত।]


١- تَرْجِمْ ثَلاَثًا مِنَ القِطَعَاتِ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ١٠ × ٣ = ٣٠)

[১. নিম্নোক্ত যেকোনো ৩টি কাব্যাংশের বাংলা ভাবার্থ ও অর্থ লিপিবদ্ধ করো: (মান: ১০ × ৩ = ৩০)]

(الف) امرؤ القيس (معلقة):

قِفَا نَبْكِ مِنْ ذِكْرَى حَبِيبٍ وَمَنْزِلِ * بِسِقْطِ اللِّوَى بَيْنَ الدَّخُولِ فَحَوْمَلِ
فَتَوْضِحَ فَالمِقْرَاةِ لَمْ يَعْفُ رَسْمُهَا * لِمَا نَسَجَتْهَا مِنْ جَنُوبٍ وَشَمْأَلِ
تَرَى بَعَرَ الآرَامِ فِي عَرَصَاتِهَا * وَقِيعَانِهَا كَأَنَّهَا حَبُّ فُلْفُلِ
كَأَنِّي غَدَاةَ البَيْنِ يَوْمَ تَحَمَّلُوا * لَدَى سَمُرَاتِ الحَيِّ نَاقِفُ حَنْظَلِ-

পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:

  1. “তোমরা দুজন থামো! এসো আমরা প্রিয়তমার স্মৃতি এবং তাঁর পরিত্যক্ত বাসস্থানের স্মরণে অশ্রু বিসর্জন করি; যা সিক্বতুল লিওয়া নামক বালিয়াড়ির বাঁকে দাখূল ও হাওমালের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।”
  2. “অতঃপর তাওযীহ ও মিক্বরাতের মধ্যবর্তী এই জনপদের স্মৃতিচিহ্নসমূহ এখনো সম্পূর্ণ মুছে যায়নি; কারণ দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত বায়ু একে বালুরাশি দ্বারা আবৃত ও সুরক্ষিত করে রেখেছে।”
  3. “আজ সেখানে হরিণ ও চমরী গাইরা নির্ভয়ে বিচরণ করছে এবং তাদের বিষ্ঠাগুলো যেন উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ও উপত্যকার ঢালে গোলমরিচের দানার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।”
  4. “প্রিয়তমার বিদায়ের প্রভাতে, যেদিন তারা শিবিকায় আরোহণ করে যাত্রা করল, আমি গোত্রের বাবলা বৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে এমনভাবে কাঁদছিলাম যেন কেউ হানযাল (মাকাল ফল) চিরে তার তীব্র ঝাঁঝে অশ্রুপাত করছে!”

(ب) كعب بن زهير (بانت سعاد – كعب يطلب العفو):

أُنْبِئْتُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ أَوْعَدَنِي * وَالعَفْوُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ مَأْمُولُ
مَهْلاً هَدَاكَ الَّذِي أَعْطَاكَ نَافِلَةَ الْـ * ـقُرْآنِ فِيهَا مَوَاعِيظٌ وَتَفْصِيلُ
لاَ تَأْخُذْنِي بِأَقْوَالِ الوُشَاةِ وَلَمْ * أُذْنِبْ وَلَوْ كَثُرَتْ عَنِّي الأَقَاوِيلُ
وَلَقَدْ أَقُومُ مَقَامًا لَوْ يَقُومُ بِهِ * أَرَى وَأَسْمَعُ مَا لَوْ يَسْمَعُ الفِيلُ-

পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:

  1. “আমাকে অবগত করা হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল আমাকে শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেছেন; অথচ আল্লাহর রাসূলের পবিত্র সান্নিধ্যেই তো ক্ষমার পরম প্রত্যাশা করা হয়।”
  2. “হে নবী! অনুগ্রহ করে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন; সেই মহান সত্তা আপনাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন যিনি আপনাকে কুরআনের মতো অমূল্য উপহার দান করেছেন, যাতে রয়েছে প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ ও বিশদ বিবরণ।”
  3. “চোগলখোরদের কুৎসাপূর্ণ কথায় আপনি আমাকে পাকড়াও করবেন না; কারণ আমার বিরুদ্ধে বহু মিথ্যা রটনা প্রচারিত হলেও আমি বাস্তবে কোনো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করিনি।”
  4. “আমি আজ এমন এক ভয়াবহ ও সম্মানিত স্থানে দণ্ডায়মান হয়েছি, যেখানে যা আমি প্রত্যক্ষ করছি ও শ্রবণ করছি— তা যদি একটি বিশালকায় হস্তীও দেখত ও শুনত, তবে ভয়ে তার দেহও প্রকম্পিত হয়ে উঠত।”

(ج) كعب بن زهير (مدح الرسول والصحابة):

إِنَّ الرَّسُولَ لَنُورٌ يُسْتَضَاءُ بِهِ * مُهَنَّدٌ مِنْ سُيُوفِ اللهِ مَسْلُولُ
فِي فِتْيَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ قَالَ قَائِلُهُمْ * بِبَطْنِ مَكَّةَ لَمَّا أَسْلَمُوا زُولُوا
زَالُوا فَمَا زَالَ أَنْكَاسٌ وَلاَ كُشُفٌ * عِنْدَ اللِّقَاءِ وَلاَ مِيلٌ مَعَازِيلُ
شُمُّ العَرَانِينِ أَبْطَالٌ لَبُوسُهُمْ * مِنْ نَسْجِ دَاوُدَ فِي الهَيْجَا سَرَابِيلُ-

পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:

  1. “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল এক চিরন্তন জ্যোতির্ময় আলোকবর্তিকা, যাঁর আলোতে সমগ্র বিশ্ববাসী সঠিক পথের দিশা পায়; তিনি আল্লাহর তরবারিসমূহের মধ্যে ভারতীয় ইস্পাতে তৈরি এক উন্মুক্ত তরবারি।”
  2. “তিনি কুরাইশ গোত্রের এমন একদল বীর যুবকদের মাঝে আবির্ভূত হয়েছেন, মক্কার প্রান্তরে যখন তাদের আহ্বানকারী বলেছিল: তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে হিজরত করো!”
  3. “তারা হিজরত করলেন; অথচ তারা যুদ্ধক্ষেত্রে পলায়নকারী দুর্বল কাপুরুষ ছিলেন না, তারা অস্ত্রহীন বা লক্ষ্যভ্রষ্টও ছিলেন না।”
  4. “তারা উন্নত নাসিকা ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মহান বীর; সমরক্ষেত্রে তাদের পরিধেয় পোশাক হলো হযরত দাউদ (আ.)-এর তৈরিকৃত সুরক্ষিত লোহার লৌহবর্ম।”

(د) حسان بن ثابت (يوم فتح مكة):

عَدِمْنَا خَيْلَنَا إِنْ لَمْ تَرَوْهَا * تُثِيرُ النَّقْعَ مَوْعِدُهَا كَدَاءُ
يُبَارِينَ الأَعِنَّةَ مُصْعِدَاتٍ * عَلَى أَكْتَافِهَا الأَسَلُ الظِّمَاءُ
تَظَلُّ جِيَادُنَا مُتَمَطِّرَاتٍ * تُلَطِّمُهُنَّ بِالخُمُرِ النِّسَاءُ
فَإِمَّا تَعْرِضُوا عَنَّا اعْتَمَرْنَا * وَكَانَ الفَتْحُ وَانْكَشَفَ الغِطَاءُ-

পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:

  1. “আমাদের অশ্বারোহী দল সমূলে ধ্বংস হয়ে যাক, যদি তোমরা তাদের না দেখ কাদা উপত্যকা অতিক্রম করে ধূলিঝড় উড়িয়ে তীব্র গতিতে এগিয়ে আসতে!”
  2. “তারা তীব্র গতিতে বল্গা টেনে উর্ধ্বশ্বাসে পাহাড়ের চড়াই অতিক্রম করছে, আর তাদের আরোহীদের কাঁধে ঝুলছে রক্তপিপাসু ধারালো বর্শা।”
  3. “আমাদের দ্রুতগামী তেজস্বী ঘোড়াগুলো বৃষ্টির বেগে ধাবিত হবে, আর মক্কার কাফের নারীরা নিজেদের ওড়না দিয়ে তাদের মুখমণ্ডলে আঘাত করে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে।”
  4. “যদি তোমরা আমাদের পথে বাধা না দাও তবে আমরা ওমরাহ সম্পন্ন করব; অন্যথায় চূড়ান্ত বিজয় সমাগত হবে এবং যাবতীয় পর্দা উন্মোচিত হয়ে সত্যের জয় হবে।”

(هـ) الفرزدق (في نقائض جرير):

حَلَفْتُ بِرَبِّ مَكَّةَ وَالمُصَلَّى * وَأَعْنَاقِ الهُدَى مُقَلَّدَاتِ
لَقَدْ قَلَّدْتُ جِلْفَ بَنِي كُلَيْبٍ * قَلاَئِدَ فِي السَّوَالِفِ بَاقِيَاتِ
تَلاَئِدَ لَيْسَ مِنْ ذَهَبٍ وَلَكِنْ * مَوَاسِمَ مِنْ جَهَنَّمَ مُنْضَجَاتِ
فَكَيْفَ تَرَى عَطِيَّةَ حِينَ يَلْقَى * عِظَامًا هَامُهُنَّ قَرَاسِيَاتِ-

পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:

  1. “আমি শপথ করছি মক্কার প্রতিপালক রবের, মুসাল্লার (ইব্রাহিমের মাকামের) এবং কুরবানির সেই পশুসমূহের যাঁদের গলায় মালা পরিয়ে নির্দেশিত করা হয়েছে।”
  2. “নিশ্চয়ই আমি বনু কুলাইবের নির্বোধ জারীরকে এমন এক স্থায়ী কলঙ্কের মালা পরিয়ে দিয়েছি, যা যুগ যুগ ধরে তার ঘাড়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”
  3. “সেই মালাগুলো কোনো স্বর্ণের অলঙ্কার নয়, বরং তা হলো জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিতে উত্তপ্ত করা চিরন্তন দাগ বা প্রতীক।”
  4. “জারীরের পিতা আতিয়্যাহর কী দুর্দশা হবে, যখন সে কবরে বা হাশরের ময়দানে আমাদের পূর্বপুরুষদের পর্বতসম কঠিন ও অক্ষয় মর্যাদাসম্পন্ন অস্থিসমূহ প্রত্যক্ষ করবে!”

(و) حسان بن ثابت (هجاء أبي سفيان بن الحارث):

أَلاَ أَبْلِغْ أَبَا سُفْيَانَ عَنِّي * فَأَنْتَ مُجَوَّفٌ نَخِبٌ هَوَاءُ
بِأَنَّ سُيُوفَنَا تَرَكَتْكَ عَبْدًا * وَعَبْدَ الدَّارِ سَادَتُهَا الإِمَاءُ
هَجَوْتَ مُحَمَّدًا فَأَجَبْتُ عَنْهُ * وَعِنْدَ اللهِ فِي ذَاكَ الجَزَاءُ
أَتَهْجُوهُ وَلَسْتَ لَهُ بِكُفْءٍ * فَشَرُّكُمَا لِخَيْرِكُمَا الفِدَاءُ-

পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:

  1. “সাবধান! আমার পক্ষ থেকে আবু সুফিয়ান বিন হারেসকে জানিয়ে দাও— তুমি তো ভেতরে অন্তঃসারশূন্য, কাপুরুষ এবং ফাপা বাতাসের মতো।”
  2. “আমাদের তরবারি তোমাকে ক্রীতদাসে পরিণত করেছে, আর বনু আবদুদ্দারের নেতারা আজ বাঁদীদের অধীনস্থ হয়েছে।”
  3. “তুমি বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছিলে, তাই আমি তাঁর পক্ষ থেকে তার সমুচিত জবাব দিয়েছি; আর আল্লাহর দরবারেই আমার এই কাজের পূর্ণ প্রতিদান সংরক্ষিত রয়েছে।”
  4. “তুমি কি তাঁর নিন্দা করছ অথচ তুমি তাঁর সমকক্ষ নও? জেনে রাখো, তোমাদের দুজনের মধ্যে যে নিকৃষ্ট (অর্থাৎ তুমি), সে আমাদের দুজনের মধ্যে যিনি সর্বোত্তম (মুহাম্মদ সা.) তাঁর চরণে উৎসর্গীকৃত হোক!”

٢- اِشْرَحِ اثْنَيْنِ مِنَ الأَبْيَاتِ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ٥ × ٢ = ١٠)

[২. নিম্নোক্ত যেকোনো ২টি পঙ্ক্তির ব্যাখ্যা করো: (মান: ৫ × ২ = ১০)]

(الف) لاَ يَسْأَلُونَ أَخَاهُمْ حِينَ يَنْدُبُهُمْ * فِي النَّائِبَاتِ عَلَى مَا قَالَ بُرْهَانَا-

উৎস ও প্রসঙ্গ: এই অমর পঙ্ক্তিটি কবি কুরাইত বিন উনায়ফ (قريط بن أنيف)-এর সংকলিত ‘হামাসাহ’ কাব্যের অন্তর্গত। কবি তাঁর বনু মাযিন গোত্রের অভাবনীয় আনুগত্য ও একতাবোধের প্রশংসা করে এই পঙ্ক্তিটি উচ্চারণ করেছেন।

ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা: জাহিলী যুগে আরবদের প্রধান সামাজিক চালিকাশক্তি ছিল গোত্রীয় সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব। কবি বলেন, আমার গোত্রের লোকেরা এমন বীর ও অনুগত যে, যখন গোত্রের কোনো ভাই বিপদে বা সংকটের সময় সাহায্যের জন্য তাদের ডাক দেয়, তখন তারা অন্ধভাবে তার সাহায্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সত্য বলছে নাকি মিথ্যা, তার পেছনে কোনো প্রমাণ বা দলীল খোঁজার অপেক্ষা করে না। আধুনিক বিচারে অন্ধ আনুগত্য সমালোচিত হলেও তৎকালীন যুগে চরম বিপদকালে এই তাৎক্ষণিক সংহতিই গোত্রের টিকে থাকার প্রধান ঢাল ছিল।

(ب) وَجِبْرِيلُ أَمِينُ اللهِ فِينَا * وَرُوحُ القُدْسِ لَيْسَ لَهُ كِفَاءُ-

উৎস ও প্রসঙ্গ: পঙ্ক্তিটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিশিষ্ট সাহাবী ও কবি হযরত হাসসান বিন সাবিত (রা.) রচিত কাসীদার অংশ, যা তিনি মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে কাফেরদের জবাব হিসেবে রচনা করেছিলেন।

ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা: কবি এখানে মুসলমানদের আত্মিক শক্তি ও ঐশী মদদের কথা ঘোষণা করছেন। তিনি কাফেরদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, মুসলমানদের সঙ্গে কেবল পার্থিব সৈন্যদলই নেই, বরং স্বয়ং আল্লাহর বিশ্বস্ত ওহীবাহক ফেরেশতা জিব্রাঈল (আ.) সর্বক্ষণ অবস্থান করছেন। তিনি হলেন ‘রূহুল কুদুস’ (পবিত্র আত্মা), যার শক্তিমত্তা ও মর্যাদার কোনো সমকক্ষ বা বিকল্প এই সৃষ্টিজগতে নেই। সুতরাং যে দলের রক্ষক জিব্রাঈল ও ফেরেশতাকুল, কোনো পার্থিব শক্তি তাদের পরাজিত করতে পারে না।

(ج) إِذَا المَرْءُ لَمْ يَدْنَسْ مِنَ اللُّؤْمِ عِرْضُهُ * فَكُلُّ رِدَاءٍ يَرْتَدِيهِ جَمِيلُ-

উৎস ও প্রসঙ্গ: এটি প্রখ্যাত জাহিলী কবি সামাওআল বিন আদিয়া (السموأل بن عادياء)-এর কাসীদাতুল লামিয়্যাহ-এর অমর প্রারম্ভিক পঙ্ক্তি। আরবি সাহিত্যে এটি একটি কালজয়ী প্রবাদবাক্য (حكمة)।

ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা: কবি মানুষের বাহ্যিক পোশাকের চেয়ে অন্তরের পবিত্রতা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। মানুষের আসল সৌন্দর্য তার রেশমি কাপড়ে নয়, বরং তার নিষ্কলঙ্ক চরিত্রে। কোনো ব্যক্তি যদি হীনতা, কৃপণতা ও বিশ্বাসঘাতকতা থেকে নিজের মর্যাদা ও আত্মসম্মানকে সুরক্ষিত রাখতে পারে, তবে সে যে সাধারণ ছিন্নবস্ত্রই পরিধান করুক না কেন— তা-ই তার জন্য সুন্দর ও গৌরবজনক। আত্মিক পবিত্রতাই মানুষের চিরন্তন অলঙ্কার।

(د) لَوْ كُنْتُ مِنْ مَازِنٍ لَمْ تَسْتَبِحْ إِبِلِي * بَنُو اللَّقِيطَةِ مِنْ ذُهْلِ بْنِ شَيْبَانَا-

উৎস ও প্রসঙ্গ: কবি কুরাইত বিন উনায়ফ তাঁর নিজের দুর্বল গোত্র ‘বনু আনবার’-এর কাপুরুষতায় ব্যথিত হয়ে এই পঙ্ক্তিটি উচ্চারণ করেছিলেন, যখন শত্রু গোত্র বনু যুহল তাঁর উটগুলো লুট করে নিয়েছিল কিন্তু তাঁর গোত্র কোনো প্রতিরোধ করেনি।

ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা: কবি তীব্র আক্ষেপ করে বলছেন— হায়! আমি যদি বীর ও তেজস্বী ‘বনু মাযিন’ গোত্রের লোক হতাম, তবে বনু যুহলের সেই অপদার্থ ও জারজ সন্তানের দল কখনো আমার উটের পালে আক্রমণ করে তা ছিনিয়ে নেওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারত না। বীর গোত্র কখনো নিজের সদস্যের ওপর অত্যাচার সহ্য করে না, অথচ দুর্বল গোত্র অপমান মুখ বুজে সহ্য করে।


٣- اِشْرَحْ بِالعَرَبِيَّةِ اثْنَيْنِ مِنَ الأَبْيَاتِ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ٥ × ٢ = ١٠)

[৩. নিম্নোক্ত যেকোনো ২টি পঙ্ক্তির আরবিতে ব্যাখ্যা (الشرح بالعربية) করো: (মান: ৫ × ২ = ১০)]

(الف) أَلاَ أَيُّهَا اللَّيْلُ الطَّوِيلُ أَلاَ انْجَلِ * بِصُبْحٍ وَمَا الإِصْبَاحُ مِنْكَ بِأَمْثَلِ-

الشرح الأدبي بالعربية:
هذا البيت من معلقة امرئ القيس الشهيرة، يصور فيه الشاعر معاناته النفسية وأحزانه المتراكمة في ظلمات الليل الطويل. يخاطب الشاعر الليل كأنه إنسان عاقل يسمع النداء، فيتوسل إليه أن ينجلي ويزول وينكشف بقدوم ضوء الصباح. لكن الشاعر يعود بنبرة يائسة في الشطر الثاني ليقرر حقيقة مؤلمة، وهي أن الصباح لن يكون أفضل حالا من الليل؛ لأن همومه وأحزانه ملازمة له في كل وقت، فالليل يحيطه بالوحشة والهموم، والنهار يواجهه بالمصائب وفقدان الملك وموت أبيه حجر. فالهم مقيم لا يزول بزوال الظلام.

(ب) وَأَسْيَافُنَا فِي كُلِّ شَرْقٍ وَمَغْرِبٍ * بِهَا مِنْ قِرَاعِ الدَّارِعِينَ فُلُولُ-

الشرح الأدبي بالعربية:
هذا البيت في باب الفخر والحماسة للشاعر حسان بن ثابت أو السموأل، يفتخر فيه بقوة قبيلته وبسالتها في خوض المعارك. يقول الشاعر: إن سيوفنا قد خاضت الحروب في كل بقاع الأرض شرقا وغربا دفاعا عن الحق والشرف. وهذه السيوف ليست للزينة، بل إن في شفراتها ثلوما وتكسرا وانحناء (فلول) بسبب كثرة اصطدامها وضَرْبِها لدروع الأبطال الشجعان وخوذاتهم الحديدية في ساحات القتال. وهذا دليل ساطع على شجاعتهم المستمرة وعدم فرارهم من وجه الأعداء.

(ج) لِسَانٌ صَارِمٌ لاَ عَيْبَ فِيهِ * وَبَحْرِي لاَ تُكَدِّرُهُ الدِّلاَءُ-

الشرح الأدبي بالعربية:
هذا البيت للشاعر حسان بن ثابت رضي الله عنه، يفتخر فيه بقدرته الشعرية الفائقة وفصاحة لسانه في هجاء أعداء الإسلام. يصف لسانه بأنه سيف قاطع حاد لا عيب فيه ولا وهن، يصيب الهدف بدقة متناهية. ثم يشبه موهبته الشعرية وقريحته الفياضة بالبحر العظيم الواسع الذي يفيض بالماء العذب؛ ومهما نزحت منه الدلاء وأخذ منه الناس، فإنه لا يتعكر ولا ينفد، دلالة على غزارة حفظه وبلاغته وقوة حجته.

(د) فَفَاضَتْ دُمُوعُ العَيْنِ مِنِّي صَبَابَةً * عَلَى النَّحْرِ حَتَّى بَلَّ دَمْعِي مَحْمَلِي-

الشرح الأدبي بالعربية:
هذا البيت لامرئ القيس في مستهل معلقته، يصف فيه شدة وجده ولوعته إثر تذكره لأيام الوصال مع محبوبته عند الأطلال الدارسة. يقول: لما وقفتُ بتلك الديار تذكرتُ حبيبتي، فغلبتني عاطفة الشوق والحنين (الصبابة)، فجرت دموع عيني بغزارة شديدة على صدري ونحري، حتى سالت تلك العبرات وبللت حمالة سيفي الذي أتقلده. وهذا تصوير حسي بليغ لعظمة الحزن الذي ملك على الشاعر مشاعره وأفاض دموعه كالسيل.


٤- أَجِبْ بِاللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ عَنِ اثْنَيْنِ مِنَ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ٥ × ٢ = ١٠)

[৪. আরবি ভাষায় যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (মান: ৫ × ২ = ১০)]

(الف) اُكْتُبْ خُلاَصَةَ قَصِيدَةِ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ-

الجواب بالعربية:
تعد قصيدة حسان بن ثابت رضي الله عنه النونية “عَفَتْ ذَاتُ الأَصَابِعِ فَالجِوَاءُ” من عيون الشعر الإسلامي، أنشدها في عام فتح مكة ردا على هجاء أبي سفيان بن الحارث. تتلخص القصيدة في النقاط الآتية:
١- بدأت بذكر الديار الخالية كعادة العرب القدامى إيذانا بالتحول إلى نصرة الدين الجديد.
٢- أقسم الشاعر بجياد المسلمين وخيولهم السريعة التي أثارت النقع وتوجهت نحو مكة محذرا قريشا من مغبة مقاومتهم.
٣- الرد القاطع والمهيب على هجاء أبي سفيان بن الحارث للنبي صلى الله عليه وسلم، مبينا أن حسان وأهله وقومه فداء لعرض رسول الله.
٤- إبراز الدعم الإلهي للمسلمين بنزول جبريل عليه السلام (روح القدس) مؤيدا وناصرا لهم.
٥- الثناء على المهاجرين والأنصار وبيان شجاعتهم وبسالتهم وتضحيتهم في سبيل إعلاء كلمة الله.

(ب) اُكْتُبْ خَلْفِيَّةَ قَصِيدَةِ ‘بَانَتْ سُعَادُ’ بِالإِيجَازِ-

الجواب بالعربية:
كان كعب بن زهير وأخوه بُجَيْر شاعرين، فلما ظهر الإسلام أسلم بُجير، فغضب كعب وهجا النبي صلى الله عليه وسلم والمسلمين بأبيات لاذعة. فأهدر النبي صلى الله عليه وسلم دمه بعد فتح مكة. كتب إليه أخوه بجير ينصحه بالتوبة، وأخبره بأن رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل توبة من جاءه تائبا ولا يقتل مسلما. فضاقت الأرض على كعب، وجاء إلى المدينة المنورة متخفيا، ودخل المسجد بعد صلاة الفجر، ووضع يده في يد النبي صلى الله عليه وسلم وأعلن إسلامه ونطق بالشهادتين، ثم أنشد قصيدته الخالدة “بانت سعاد”. فلما بلغ قوله: “إن الرسول لنور يستضاء به”، خلع النبي صلى الله عليه وسلم بردته الشريفة وألقاها عليه إكراما وعفوا عنه.

(ج) اُكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ صَاحِبِ دِيوَانِ الحَمَاسَةِ-

الجواب بالعربية:
صاحب “ديوان الحماسة” هو الشاعر العباسي الكبير حبيب بن أوس الطائي، المعروف بأبي تمام (ولد سنة ١٨٨ هـ وتوفي سنة ٢٣١ هـ). كان أديبا وشاعرا فذا، تميز شعره بالصنعة البديعية واستقصاء المعاني الفلسفية. لما حبسه الثلج بمدينة همدان في دار أبي الوفاء بن سلمة، دخل خزانة كتبه فاختار منها روائع الشعر العربي وصنفها في عشرة أبواب، أشهرها وأولها باب “الحماسة”، فسمي الكتاب كله به. ويعتبر هذا الديوان من أوثق المختارات الشعرية وأعظمها أثرا في الأدب العربي، حتى قيل: “حماسة أبي تمام تدل على أنه في اختياره أشعر منه في شعره”.

(د) تَحَدَّثْ عَنْ أَغْرَاضِ الشِّعْرِ الجَاهِلِيِّ بِالإِيجَازِ-

الجواب بالعربية:
تنوعت أغراض الشعر الجاهلي لتعكس حياة البدوي في السلم والحرب، وأهم هذه الأغراض:
١- الفخر والحماسة: للاعتزاز بالقبيلة والشجاعة والكرامة (مثل شعر عنترة وعمرو بن كلثوم).
٢- المدح: لذكر مآثر الملوك والكرماء وكسب العطايا (مثل مدائح النابغة وزهير).
٣- الهجاء: لذم الأعداء وتجريدهم من الفضائل (وكان يلتزم بعدم الفحش الشديد غالبا).
٤- الغزل: للتعبير عن الحب وجمال المرأة، وينقسم إلى غزل عذري عفيف وغزل صريح.
٥- الرثاء: للبكاء على الموتى وتعداد محاسنهم (وأشهرهن الخنساء).
٦- الوصف: لتصوير الطبيعة الصحراوية، والناقة، والفرس، والليل، ومجالس الصيد.
٧- الحكمة: لنقل التجارب الإنسانية والمواعظ (مثل معلقة زهير بن أبي سلمى).


٥- أَجِبْ عَنْ أَرْبَعَةٍ مِنَ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ٥ × ٤ = ٢٠)

[৫. নিম্নোক্ত যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (মান: ৫ × ৪ = ২০)]

(الف) تَحَدَّثْ عَنْ مَكَانَةِ مُعَلَّقَةِ امْرِئِ القَيْسِ فِي الأَدَبِ العَرَبِيِّ-

উত্তর: ইমরুল কায়েসের মু’আল্লাকা “قِفَا نَبْكِ مِنْ ذِكْرَى حَبِيبٍ وَمَنْزِلِ” আরবি সাহিত্যের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও প্রভাবশালী কাসীদা। আরবি সাহিত্যে এর অনন্য স্থান নিম্নরূপ:

  • কাসীদা রচনার বুনিয়াদ প্রবর্তন: তিনিই সর্বপ্রথম প্রেমিকার পরিত্যক্ত ভিটার স্মৃতিচারণ করে ক্রন্দন (البكاء على الأطلال), বিরহ বেদনা ও মরুযাত্রার বর্ণনার যে ঐতিহ্য স্থাপন করেন, পরবর্তী হাজার বছরের কবিরা সেই পথ অনুসরণ করেছেন।
  • অনুপম চিত্রকল্প ও উপমা: রাতের আঁধারকে সাগরের বিশাল ঢেউয়ের সাথে এবং শিকারী ঘোড়াকে পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া বিশাল পাথরের সাথে তুলনা করার যে উপমা তিনি ব্যবহার করেছেন, তা অলঙ্কার শাস্ত্রের চিরন্তন নিদর্শন।
  • বিদ্বানদের স্বীকৃতি: স্বয়ং খলিফা হযরত আলী (রা.) তাঁকে ‘সকল কবির অগ্রনায়ক’ (سابق الشعراء) বলে অভিহিত করেছেন, যিনি কবিদের জন্য কাব্যের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

(ب) مَنْ شَاعِرُ الرَّسُولِ؟ اُكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاتِهِ مُلَخَّصًا-

উত্তর: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রধান কবি হলেন হযরত হাসসান বিন সাবিত আনসারী (রা.)

  • জন্ম ও বংশ: তিনি মদীনার খাযরাজ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উপাধি ছিল ‘শা’ইরুর রাসূল’ এবং ‘শা’ইরুল আনসার’।
  • দীর্ঘায়ু জীবন: তিনি মোট ১২০ বছর জীবিত ছিলেন— ৬০ বছর জাহিলী যুগে এবং ৬০ বছর ইসলামে নিবেদিত সাহাবী হিসেবে অতিবাহিত করেন।
  • ইসলামের প্রতিরক্ষা: কুরাইশদের ব্যঙ্গাত্মক কবিতার জবাবে তিনি কলম ও ভাষার মাধ্যমে ইসলামের সত্যতা তুলে ধরতেন। মহানবী (সা.) তাঁর জন্য মসজিদে নববীতে মিম্বর স্থাপন করে দিয়েছিলেন এবং দোয়া করতেন: “হে আল্লাহ, জিব্রাঈল দ্বারা তাঁকে সাহায্য করুন।”
  • মৃত্যু: তিনি আনুমানিক ৫৪ হিজরীতে (৬৭৪ খ্রি.) মদীনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন।

(ج) لِمَ أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلِ كَعْبِ بْنِ زُهَيْرٍ؟ وَكَيْفَ جَاءَ إِلَى المَدِينَةِ؟

উত্তর:

  • হত্যার আদেশের কারণ: কা’ব বিন যুহাইর ছিলেন জাহিলী যুগের প্রখ্যাত কবি। তাঁর ভাই বুজায়র (রা.) ইসলাম গ্রহণ করলে কা’ব ক্ষিপ্ত হয়ে মহানবী (সা.) ও সাহাবী নারীদের অবমাননা করে ব্যঙ্গাত্মক কাসীদা রচনা করেন। এতে চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ধর্ম অবমাননা ঘটায় অষ্টম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন (أهدر دمه)।
  • মদীনায় আগমন ও ক্ষমা লাভ: ভাই বুজায়রের পত্র পেয়ে কা’ব বুঝতে পারেন যে মুহাম্মদ (সা.) তওবাকারীকে ক্ষমা করে দেন। ফলে তিনি গোপনে মদীনায় এসে জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তির আশ্রয়ে ফজরের নামাজের পর দরবারে নববীতে উপস্থিত হন। তিনি নিজের হাত রাসূল (সা.)-এর হাতে রেখে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর বিশ্বখ্যাত কাসীদা ‘বানাত সু’আদ’ আবৃত্তি করে নবীর প্রশংসা করেন। রাসূল (সা.) অত্যন্ত খুশি হয়ে তাঁকে ক্ষমা করে দেন এবং নিজের গায়ের চাদর উপহার দেন।

(د) اُكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ نَقَائِضِ جَرِيرٍ وَالفَرَزْدَقِ-

উত্তর: উমাইয়া যুগের সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যিক ঘটনা হলো বনু তামীম গোত্রের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কবি জারীরআল-ফারাজদাক্ব-এর মধ্যকার চার দশকব্যাপী কাব্যযুদ্ধ, যা ‘নাক্বাইজ’ নামে খ্যাত।

  • প্রকৃতি: এক কবি অন্য কবির আত্মগৌরব (ফখর) বা বংশমর্যাদাকে আক্রমণ করে কাসীদা লিখতেন, আর অপর কবি ঠিক একই ছন্দ (বাহর), ওজন ও কাফিয়ায় পাল্টা কাসীদা লিখে প্রথম কবির দাবিকে চূর্ণ করতেন।
  • কাব্যিক বৈশিষ্ট্য: ফারাজদাক্ব ছিলেন প্রাচীন আরবি ভাষার পাহাড়সম পণ্ডিত ও বংশগৌরবে অটল; আর জারীর ছিলেন সহজাত প্রতিভাধর, আক্রমণাত্মক ও বিরহগাথায় পারদর্শী। এই বিতর্কের মাধ্যমে প্রাচীন আরবের ভাষা, ইতিহাস ও আইয়ামুল আরবের বহু অমূল্য তথ্য সংরক্ষিত হয়েছে।

(هـ) اُكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاةِ أَبِي تَمَّامٍ-

উত্তর:

  • নাম ও জন্ম: পুরো নাম হাবীব বিন আওস আত-তাঈ, উপনাম আবু তাম্মাম। তিনি ১৮৮ হিজরীতে সিরিয়ার জাসিম নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • সাহিত্যিক জীবন: তিনি আব্বাসীয় যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্য সমালোচক। খলিফা আল-মু’তাসিমের দরবারে তিনি প্রধান সভাকবি ছিলেন। তাঁর রচিত ‘আম্মুরিয়ার বিজয় কাসীদা’ (فتح عمورية) আরবি মহাকাব্যিক কবিতার শীর্ষস্থান অধিকার করে আছে: “السَّيْفُ أَصْدَقُ أَنْبَاءً مِنَ الكُتُبِ”
  • প্রধান সংকলন: তাঁর অমর কীর্তি হলো ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ (ديوان الحماسة) সংকলন, যা আরবি কবিতার সর্বশ্রেষ্ঠ নৃবিজ্ঞান। তিনি ২৩১ হিজরীতে মসুল শহরে মৃত্যুবরণ করেন।

(و) اُكْتُبْ أَغْرَاضَ الشِّعْرِ فِي العَصْرِ الأُمَوِيِّ-

উত্তর: উমাইয়া যুগে (৪১–১৩২ হি.) কবিতার বিষয়বস্তুতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:

  1. রাজনৈতিক কবিতা (الشعر السياسي): উমাইয়া, শিয়া, জুবায়েরী ও খারেজী— এই চার রাজনৈতিক দলের কবিরা নিজ দলের সমর্থনে এবং বিপক্ষের খণ্ডনে কবিতা লিখতেন। যেমন ক্বাতরী বিন ফুজাআহর খারেজী কবিতা।
  2. আন-নাক্বাইজ (النقائض): গোত্রীয় আত্মগৌরব ও ব্যঙ্গাত্মক কাব্যের লড়াই (জারীর, ফারাজদাক্ব ও আখতাল)।
  3. আল-গযল (الغزل – প্রেমগীতি): এ যুগে গযল দুটি স্বতন্ত্র ধারায় বিভক্ত হয়:
    • গযলে উযরী (الغزل العذري): পবিত্র, একনিষ্ঠ ও নিষ্কলঙ্ক প্রেমকাব্য (যেমন জামিল বুসাইনা, কায়েস লুবনা)।
    • গযলে সারীহ বা হিজাযী (الغزل الصريح): চটুল ও বাহ্যিক রূপবর্ণনা (উমর বিন আবি রাবিয়া)।
  4. ঐতিহ্যবাহী মাদহ ও ফখর: খলিফা ও গভর্নরদের প্রশংসা এবং যুদ্ধজয়ের গৌরবগাঁথা।

(ز) تَحَدَّثْ عَنْ مُمَيِّزَاتِ الشِّعْرِ المُخَضْرَمِ-

উত্তর: জাহিলী যুগ ও ইসলামের প্রাথমিক যুগ— উভয় কালের সমন্বয়ে গঠিত মুখাযরাম কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

  • কুরআনী পরিভাষা ও ভাবধারার অন্তর্ভুক্তি: কবিদের শব্দচয়ন জাহিলী জটিলতা কাটিয়ে তাওহীদ, আখেরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ও তাকওয়ার আলোয় আলোকিত হয়।
  • নৈতিকতার সংযম: অশ্লীল কামোদ্দীপক কবিতা, অতিরিক্ত মদ্যপান ও অন্যায় রক্তপাতের প্রশংসা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
  • আদর্শিক জিহাদী চেতনা: কবিতা পরিণত হয় দ্বীনের প্রচার ও বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আধ্যাত্মিক অস্ত্রে। যেমন হাসসান ও কা’ব বিন মালিকের কবিতা।
  • শোকগাঁথায় ধৈর্য ও সন্তুষ্টি: জাহিলী যুগের বুকে চাপড়ানো বিলাপরীতি দূর হয়ে আল্লাহর ফায়সালার ওপর সন্তুষ্টির প্রকাশ ঘটে। যেমন আল-খানসার ইসলামোত্তর কবিতা।

(ح) بَيِّنْ أَغْرَاضَ الشِّعْرِ الَّتِي أَحْدَثَهَا الإِسْلاَمُ-

উত্তর: ইসলামের আগমনের ফলে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষাকে কেন্দ্র করে আরবি কবিতায় কিছু সম্পূর্ণ নতুন ও অভিনব কাব্যধারার জন্ম হয়:

  1. আল-মাদাইহুন নাবাবিয়্যাহ (المدائح النبوية – নাত ও নবীপ্রশস্তি): মহানবী (সা.)-এর পবিত্র অবয়ব, মহান চরিত্র, মুজিযা ও তাঁর আদর্শের প্রশংসায় নিবেদিত কাব্যধারা। যেমন হাসসান (রা.) ও কা’ব (রা.)-এর কাসীদা।
  2. আশ-শি’রুল জিহাদী ওয়াল ইসলামী (الشعر الجهادي): আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনের সুরক্ষায় মুজাহিদদের শাহাদাতের অনুপ্রেরণাদায়ী কবিতা।
  3. আশ-শি’রুয যুহদিয়্যাত ওয়াত তাওহীদ (الزهد والتوحيد): দুনিয়ার মোহমুক্তি, তাওহীদের মহিমা, কবরের আযাব ও কিয়ামতের ভয় সংবলিত আত্মশুদ্ধিমূলক কবিতা।
  4. আশ-শি’রুদ দিফাঈ (الشعر الدفاعي): ইসলামের বিরুদ্ধে অমুসলিম ও মুনাফিকদের অপপ্রচারের বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব সংবলিত প্রতিরক্ষামূলক কবিতা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আশ-শি’রুল কাদীম-১ পত্রে প্রধানত কোন কবিদের রচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?

এই পত্রে প্রধানত প্রাক-ইসলামী জাহিলী যুগের শীর্ষ কবি ইমরুল কায়েসের মু’আল্লাকা, মুখাযরাম কবি কা’ব বিন যুহাইরের ‘বানাত সু’আদ’, কবি হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর ইসলামী কবিতা, উমাইয়া যুগের নাক্বাইজ এবং আবু তাম্মামের ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’-এর নির্বাচিত অংশের সাহিত্যিক বিশ্লেষণ পাঠ্য রয়েছে।

২. ইমরুল কায়েসকে কেন ‘আমীরুশ শুআরা’ বা কবিদের সম্রাট বলা হয়?

ইমরুল কায়েস প্রাচীন আরবি কাসীদার প্রচলিত কাঠামো (পরিত্যক্ত ভিটার স্মৃতিচারণ, প্রেমিকার বিরহ ও মরুযাত্রার বিবরণ) সর্বপ্রথম নিখুঁতভাবে প্রবর্তন করেন এবং তাঁর উপমা ও দৃশ্যমান বর্ণনাশৈলী ছিল অতুলনীয়। এ কারণে পরবর্তী যুগের কবিরা তাঁকে পথপ্রদর্শক মানতেন।

৩. কা’ব বিন যুহাইরের ‘বানাত সু’আদ’ কাসীদাকে কেন ‘কাসীদাতুল বুরদাহ’ বলা হয়?

কা’ব বিন যুহাইর যখন ইসলাম গ্রহণের পর দরবারে নববীতে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক এই কাসীদা পাঠ করেন, তখন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সন্তুষ্ট হয়ে নিজের পবিত্র গায়ের ইয়ামানী চাদর (বুরদাহ) কা’বকে উপহার দিয়েছিলেন। এজন্য একে ‘কাসীদাতুল বুরদাহ’ বলা হয়।

৪. উমাইয়া যুগের ‘নাক্বাইজ’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য কী?

নাক্বাইজ হলো একই ছন্দ, মিটার ও অন্ত্যমিলে রচিত প্রতিযোগিতামূলক কাব্যযুদ্ধ, যেখানে এক কবি অপর কবির আত্মগৌরব ও ব্যঙ্গোক্তিকে খণ্ডন করে তাৎক্ষণিক পাল্টা কাসীদা রচনা করতেন। জারীর ও ফারাজদাক্ব এই ধারার শ্রেষ্ঠ রূপকার ছিলেন।

৫. ইসলাম আগমনের ফলে আরবি কবিতার মৌলিক পরিবর্তন কী ঘটেছিল?

ইসলাম কবিতার অশ্লীলতা, বংশীয় অন্ধ অহমিকা ও মদ্যপানের প্রশংসা নিষিদ্ধ করে তাকে তাওহীদ, তাকওয়া, আখেরাতমুখী চেতনা, সত্যের প্রতিরক্ষা এবং চারিত্রিক সৌন্দর্যের বাহনে রূপান্তর করেছিল।

৬. আবু তাম্মামের ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ কেন এত সমাদৃত?

আবু তাম্মাম হামদানে অবস্থানকালে প্রাচীন আরবের শ্রেষ্ঠ কবিদের সহস্রাধিক বীরত্ব ও নীতিগাথামূলক কবিতা চয়ন করে দশটি পরিচ্ছেদে সুবিন্যস্ত করেছিলেন। তাঁর এই সাহিত্যচয়ন এত উচ্চমানের ছিল যে প্রাচীন সমালোচকগণ বলতেন, আবু তাম্মামের সংকলন তাঁর নিজের কবিতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *