জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

নুসূস মিনাল হাদিস (Nusus minal Hadith) – 204201, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৬৩ মিনিট পড়ার সময়
১১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৬৪
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٤
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
نصوص من الحديث
[নুসূস মিনাল হাদীস]
বিষয় কোড: ২০৪২০১
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) / ক-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ١٥ = ٦٠)

(ترجم الأحاديث وأجب عن الأسئلة الملحقة بها)

١- حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى قَالَ أَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِى سُفْيَانَ عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «بُنِىَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ»-

[১. উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসা আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানযালাহ ইবনু আবি সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইকরিমাহ ইবনু খালিদ থেকে, তিনি ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত— এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা; যাকাত প্রদান করা; হজ্জ সম্পাদন করা এবং রমযানের রোজা রাখা।”]

(أ) عَرِّفِ الإِسْلاَمَ، ثُمَّ بَيِّنِ الفَرْقَ بَيْنَ الإِيمَانِ وَالإِسْلاَمِ-

[(ক) ইসলামের পরিচয় দাও। অতঃপর ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: মানবজাতির ইহলৌকিক শান্তি ও পরলৌকিক মুক্তির একমাত্র মনোনীত ঐশী জীবনব্যবস্থার নাম ইসলাম। আলোচ্য হাদিসে দ্বীন ইসলামকে একটি সুরম্য ভবনের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং এর পাঁচটি স্তম্ভের ওপর তা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

১. ইসলামের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘ইসলাম’ (الإسلام) শব্দটি বাবে ইফ’আল (إفعال)-এর মাসদার, যার মূলধাতু ‘সিলম’ (س-ل-م)। এর শাব্দিক অর্থ হলো আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্য স্বীকার করা, শান্তি স্থাপন করা এবং নিজেকে সঁপে দেওয়া।
  • পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ ও সার্বভৌমত্বকে অন্তরে বিশ্বাস করে তাঁর সমস্ত আদেশ-নিষেধের কাছে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত জীবনবিধানকে পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তব জীবনে গ্রহণ ও প্রয়োগ করাকে ইসলাম বলে।

২. ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার পার্থক্য:

ইসলামি আক্বিদা ও কালাম শাস্ত্রে ঈমান ও ইসলামের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ইমাম ও মুজতাহিদগণের মতে এদের মধ্যে সূক্ষ্ম ও মৌলিক কিছু পার্থক্য বিদ্যমান:

  • অর্থগত ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক পার্থক্য: ঈমান (الإيمان) মূলত অন্তরের বিশ্বাস ও আত্মিক স্বীকৃতির সাথে সম্পৃক্ত (التصديق بالقلب)। পক্ষান্তরে ইসলাম (الإسلام) হলো বাহ্যিক আনুগত্য ও শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা (الاستسلام والانقياد بالجوارح)।
  • সাধারণ ও বিশেষের সম্পর্ক (العموم والخصوص): যদি শব্দ দুটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে ঈমান দ্বারা ইসলাম এবং ইসলাম দ্বারা ঈমান উভয়কেই বোঝায়। কিন্তু যখন দুটি শব্দ একই সাথে পাশাপাশি উল্লিখিত হয়, তখন ঈমান দ্বারা অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস (আক্বিদা) এবং ইসলাম দ্বারা বাহ্যিক আমল (ইবাদত) উদ্দেশ্য হয়।
  • কুরআনিক দলিল: সূরা আল-হুজুরাতের ১৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন— قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَٰكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ (মরুবাসী বেদুইনরা বলল, আমরা ঈমান আনলাম। বলুন, তোমরা তো ঈমান আনোনি; বরং তোমরা বলো, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি। কারণ ঈমান এখনও তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি)।
  • হাদিসে জিবরীলের মানদণ্ড: বিখ্যাত হাদিসে জিবরীলে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইসলামের ব্যাখ্যায় কালিমা, সালাত, যাকাত, সিয়াম ও হজ্জের মতো বাহ্যিক আমলসমূহ উল্লেখ করেছেন; আর ঈমানের ব্যাখ্যায় আল্লাহ, ফেরেশতাকুল, আসমানি কিতাব, নবী-রাসূল, পরকাল ও তাকদীরের প্রতি অন্তরের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন।

(ب) اُكْتُبْ نُبْذَةً مِنْ حَيَاةِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ-

[(খ) ইবনু উমর (রা.)-এর জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লেখো।]

১. নাম ও বংশপরিচয়: প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রা.)। তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু আব্দুর রহমান। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর মাতার নাম যয়নাব বিনতে মাযউন (রা.)।

২. ইসলাম গ্রহণ ও হিজরত: তিনি শৈশবেই মক্কায় তাঁর পিতা উমর (রা.)-এর সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মদিনায় হিজরত করেন।

৩. যুদ্ধে অংশগ্রহণ: অল্প বয়সের কারণে তিনি বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি পাননি। খন্দক যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ১৫ বছর হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে যুদ্ধের অনুমতি দেন। এরপর তিনি বায়আতে রিদওয়ান, খায়বার ও মক্কা বিজয়সহ পরবর্তী সকল গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।

৪. ইলম ও সুন্নাহর অনুকরণে অনন্যতা: সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে ইবনু উমর (রা.) ছিলেন সুন্নাহর অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণে সর্বাধিক অগ্রগামী ও নিষ্ঠাবান। রাসূলুল্লাহ (সা.) যেভাবে পথ চলতেন, বসতেন, সালাত আদায় করতেন— তিনি হুবহু সেভাবেই করার চেষ্টা করতেন। তিনি ছিলেন মদিনার শীর্ষস্থানীয় ফকীহ এবং ‘মুকছিরীন’ (সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী) সাহাবিদের অন্যতম। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২,৬৩০টি।

৫. তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা ও ইন্তেকাল: তিনি খিলাফতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে সর্বদা নিজেকে দূরে রাখতেন এবং অত্যন্ত সাদাসিধে ও দানশীল জীবনযাপন করতেন। তিনি হিজরি ৭৩ সনে মক্কাতুল মুকাররমায় ৮৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে মক্কার যী-তুওয়া নামক স্থানে দাফন করা হয়।


٢- عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «سَتَكُونُ فِتَنٌ القَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ القَائِمِ، وَالقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ المَاشِى، وَالمَاشِى فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِى، مَنْ تَشَرَّفَ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ، فَمَنْ وَجَدَ فِيهَا مَلْجَأً أَوْ مَعَاذًا فَلْيَعُذْ بِهِ»-

[২. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “অচিরেই এমন ফিতনা আসবে যাতে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে, দণ্ডায়মান ব্যক্তি পদব্রজে গমনকারী অপেক্ষা উত্তম হবে এবং পদব্রজে গমনকারী ধাবমান ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে। যে ব্যক্তি এর দিকে উঁকি দেবে ফিতনা তাকে গ্রাস করে নেবে। অতএব, যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয় বা নিরাপদ স্থান পাবে, সে যেন তথায় আত্মরক্ষা করে।”]

(أ) مَا المُرَادُ بِالفِتَنِ؟ بَيِّنْ مُفَصَّلاً-

[(ক) ‘ফিতনা’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য? বিস্তারিত বর্ণনা করো।]

১. ফিতনার আভিধানিক অর্থ: ‘ফিতনা’ (الفتنة) শব্দটি আরবি ‘ফাতন’ (فتن) ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর মূল অর্থ সোনা বা রূপাকে আগুনে পুড়িয়ে খাঁটি-অখাঁটি পরীক্ষা করা। পরবর্তীতে শব্দটি পরীক্ষা (الاختبار), বিশৃঙ্খলা (الفوضى), বিভ্রান্তি (الضلالة), সামাজিক বিপর্যয় ও রক্তপাত অর্থে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

২. হাদিসের আলোকে ফিতনার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য:

  • সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ: হাদিসে ফিতনা বলতে এমন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অরাজকতা ও বিভ্রান্তিকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে হক ও বাতিল পরস্পর এমনভাবে মিশে যায় যে সাধারণ মানুষের পক্ষে সত্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
  • গৃহযুদ্ধ ও আত্মঘাতী সংঘাত: মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং ধর্মীয় ভ্রষ্টতা যার মাধ্যমে উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট হয়।
  • আমানত ও নৈতিকতার অবক্ষয়: মানুষের ঈমানি দুর্বলতা, পাপের বিস্তার, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং দ্বীনের মৌলিক স্তম্ভসমূহের প্রতি অবহেলা প্রদর্শনের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া।

(ب) اِشْرَحْ قَوْلَهُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ: “مَنْ تَشَرَّفَ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ، فَمَنْ وَجَدَ فِيهَا مَلْجَأً أَوْ مَعَاذًا فَلْيَعُذْ بِهِ”-

[(খ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “যে ব্যক্তি এর দিকে উঁকি দেবে ফিতনা তাকে গ্রাস করে নেবে, অতএব যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয় পাবে সে যেন তথায় আত্মরক্ষা করে”— ব্যাখ্যা করো।]

১. ‘মান তাশাররাফা লাহা তাসতাশরিফহু’ (مَنْ تَشَرَّفَ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ)-এর ব্যাখ্যা:

  • শব্দার্থ ও রূপক অর্থ: ‘তাশাররুফ’ অর্থ উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে কোনো কিছু দেখার জন্য দৃষ্টি প্রসারিত করা বা উঁকিঝুঁকি মারা। আর ‘তাসতাশরিফহু’ অর্থ ফিতনা তাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে টেনে নেওয়া ও ধ্বংস করা।
  • গূঢ় রহস্য: যে ব্যক্তি কোনো ফিতনা, ফেতনা সৃষ্টিকারী দল বা অশুভ বিতর্কের প্রতি কৌতূহলী হয়ে তাতে নিজেকে জড়াতে চাইবে, ফিতনা তাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলবে এবং সে তার ঈমান ও আমল হারাবে। তাই ফিতনার লক্ষণ দেখা দিলে তা থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখা এবং সম্পূর্ণ অনাসক্ত থাকা মুমিনের কর্তব্য।

২. ‘ফামান ওয়াজাদা ফীহা মালজাআন আও মা’আযান ফালিয়াউয বিহি’-এর ব্যাখ্যা:

  • নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ: ফিতনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নির্জন পাহাড়, মরুভূমি, নিজের ঘর বা নিরাপদ কোনো অবস্থান পায়, তবে সেখানে গিয়ে তার আত্মগোপন ও আত্মরক্ষা করা উচিত।
  • ইমামগণের অভিমত: আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী ও ইমাম নববী (রহ.) বলেন, যখন মুসলমানদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ ও অন্ধ সংঘাত দেখা দেয় এবং সত্য-মিথ্যার বিভাজন অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন কোনো পক্ষের সাথে না জড়িয়ে নিজ ঘরে অবস্থান করা অথবা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকাই শরিয়তের নির্দেশ।

٣- عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : أَمَرَنَا النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعٍ، وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ- أَمَرَنَا بِاتِّبَاعِ الجَنَائِزِ وَعِيَادَةِ المَرِيضِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِى، وَنَصْرِ المَظْلُومِ، وَإِبْرَارِ القَسَمِ، وَرَدِّ السَّلاَمِ، وَتَشْمِيتِ العَاطِسِ، وَنَهَانَا عَنْ آنِيَةِ الفِضَّةِ، وَخَاتَمِ الذَّهَبِ وَالحَرِيرِ وَالدِّيبَاجِ وَالقَسِّىِّ وَالإِسْتَبْرَقِ-

[৩. বারা ইবনু আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের জানাযার অনুসরণ, রোগীর সেবা-শুশ্রূষা, দাওয়াত কবুল করা, মাজলুমকে সাহায্য করা, শপথ পূর্ণ করা, সালামের উত্তর দেওয়া এবং হাঁচিদাতার জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমাদের রৌপ্যপাত্র, স্বর্ণের আংটি, রেশম, দীবায, কাস্সী ও ইসতাবারাক ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।]

(أ) مَا مَعْنَى الجَنَازَةِ؟ مَتَى شُرِعَتْ صَلاَةُ الجَنَازَةِ؟ بَيِّنْ-

[(ক) জানাযার অর্থ কী? জানাযার সালাত কখন প্রবর্তিত বা ফরজ করা হয়? বর্ণনা করো।]

১. জানাযার আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘জানাযা’ (الجنازة) শব্দটি জীম অক্ষরে যবর (জ্বানাযাহ) দিলে তা খাটিয়া বা খাটিয়াসহ মৃতদেহকে বোঝায়, আর জীম অক্ষরে যের (জ্বিনাযাহ) দিলে কেবলমাত্র খাটিয়াকে বোঝায়। এর মূল অর্থ ঢেকে রাখা বা গোপন করা।
  • পারিভাষিক অর্থ: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার মাগফিরাত ও আল্লাহর রহমত কামনায় জামাতের সাথে বিশেষ পদ্ধতি ও দোয়ার মাধ্যমে যে সালাত আদায় করা হয়, তাকে সালাতুল জানাযা বা জানাযার নামাজ বলা হয়। এটি ফরযে কিফায়া।

২. জানাযার সালাত প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট ও সময়কাল:

  • হিজরতের পূর্বে মক্কী জীবনের শেষভাগে মিরাজের রজনীতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হওয়ার পর জানাযার সালাতের বিধান অবতীর্ণ হয়। তবে মক্কার মুশরিকদের অত্যাচারের কারণে প্রকাশ্যে জানাযা পড়া সম্ভব হয়নি।
  • অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, হিজরি প্রথম সনে মদিনা মুনাওয়ারায় জানাযার সালাত নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফরজ বা প্রবর্তিত হয়। মদিনায় সর্বপ্রথম যার জানাযার সালাত রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং আদায় করেছিলেন, তিনি হলেন বিখ্যাত সাহাবি হযরত আস’আদ ইবনু যুরারাহ (রা.) অথবা বারা ইবনু মা’রূর (রা.)।

(ب) بَيِّنِ اخْتِلاَفَ العُلَمَاءِ فِى حُكْمِ صَلاَةِ الجَنَازَةِ عَلَى الغَائِبِ بِالأَدِلَّةِ-

[(খ) দলীলসহ গায়েবানা জানাযার হুকুম সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের মতভেদ বিশ্লেষণ করো।]

মৃত ব্যক্তি উপস্থিত না থাকলে দূরবর্তী স্থানে তার উদ্দেশ্যে জানাযার সালাত (সালাতুল গায়েব) আদায়ের বৈধতা নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মাঝে তিনটি প্রধান মাযহাব বা অভিমত রয়েছে:

  1. ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর অভিমত (বৈধতা):
    • তাঁদের মতে, মৃত ব্যক্তি দূরে অবস্থান করলে তার উদ্দেশ্যে গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয ও মুস্তাহাব।
    • দলিল: সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশী (আসহামা) ইন্তেকাল করলে রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় সাহাবিদের নিয়ে কাতারবন্দী হয়ে তাঁর গায়েবানা জানাযা আদায় করেছিলেন।
  2. ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক (রহ.)-এর অভিমত (সাধারণভাবে অবৈধ):
    • তাঁদের মতে, গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয নয়; জানাযার জন্য মৃতদেহ সামনে উপস্থিত থাকা আবশ্যকীয় শর্ত।
    • নাজ্জাশীর ঘটনার ব্যাখ্যা: হানাফী ও মালেকী ফকীহগণ বলেন, নাজ্জাশীর ঘটনাটি ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য একটি বিশেষ মুজিযা ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। হাদিস অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা মাঝের দূরত্ব দূর করে দিয়েছিলেন এবং নাজ্জাশীর খাটিয়া স্বচক্ষে রাসূল (সা.)-এর সামনে প্রদর্শিত হয়েছিল। এছাড়া তিনি খ্রিষ্টান দেশে একা ঈমান এনেছিলেন এবং সেখানে তাঁর কোনো জানাযা পড়ার লোক ছিল না। আর রাসূল (সা.) তাঁর পরবর্তীতে কোনো দূরবর্তী সাহাবির গায়েবানা জানাযা পড়েননি।
  3. ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর মধ্যপন্থী অভিমত:
    • যদি কোনো মুসলমান এমন কোনো স্থানে মারা যান যেখানে তার জানাযার সালাত আদায় করা হয়নি, তবে মুসলমানদের জন্য তার গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয। কিন্তু যেখানে ইতিপূর্বে যথাযথভাবে জানাযা আদায় করা হয়েছে, সেখানে পুনরায় গায়েবানা জানাযা পড়া সুন্নাহসম্মত নয়।

٤- عَنِ الجَعْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ : سَمِعْتُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ يَقُولُ : «ذَهَبَتْ بِى خَالَتِى إِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ ابْنَ أُخْتِى وَجِعٌ، فَمَسَحَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأْسِى، وَدَعَا لِى بِالبَرَكَةِ، وَتَوَضَّأَ، فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ، وَقُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ، فَنَظَرْتُ إِلَى الخَاتَمِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، فَإِذَا هُوَ مِثْلُ زِرِّ الحَجَلَةِ»-

[৪. জা’দ ইবনু আবদির রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সায়েব ইবনু ইয়াযিদ (রা.)-কে বলতে শুনেছি: “আমার খালা আমাকে নিয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোনের ছেলে অসুস্থ। তখন নবী কারীম (সা.) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি উযু করলেন, আমি তাঁর উযুর অবশিষ্টাংশ পানি পান করলাম এবং তাঁর পিঠের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন আমি তাঁর দুই কাঁধের মধ্যস্থলে অবস্থিত ‘খাতামে নবুওয়াত’ (নবুওয়াতের মোহর)-এর দিকে তাকালাম, তা দেখতে ছিল ঠিক বাসরঘরের খাটের ঘুঘু পাখির ডিম্বাকৃতি বোতামের সদৃশ।” ]

(أ) صِفْ خَاتَمَ النُّبُوَّةِ لِلرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى ضَوْءِ الحَدِيثِ-

[(ক) হাদিসের আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মোহরে নবুওয়াতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।]

১. খাতামে নবুওয়াত (নবুওয়াতের সিলমোহর)-এর পরিচয়:

মহান আল্লাহ তাআলা আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতার অন্যতম বাহ্যিক নিদর্শন হিসেবে তাঁর পবিত্র শরীরে একটি বিশেষ চিহ্ন স্থাপন করেছিলেন, যা পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহেও ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে উল্লেখিত ছিল। এটিকেই ‘খাতামুন নুবুওয়াত’ বলা হয়।

২. অবস্থান ও গঠনগত আকৃতি:

  • অবস্থান: হাদিস শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র পিঠের দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে সামান্য বাম কাঁধের দিকে হেলে থাকা অবস্থায় অবস্থিত ছিল (بین کتفیه مائلا إلی الیسار)।
  • আকার ও তুলনা: আলোচ্য হাদিসে সায়েব ইবনু ইয়াযিদ (রা.) একে ‘যিররুল হিজলাহ’ (زر الحجلة) বা খাটের বোতাম/ঘুঘুর ডিমের সাথে তুলনা করেছেন। অন্যান্য বর্ণনায় একে কবুতরের ডিম্বাকৃতি (مثل بيضة الحمامة) অথবা হাতের মুষ্টিবদ্ধ ফোলা মাংসপিণ্ডের মতো বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার চারপাশে কয়েকটি তিল বা পশম সদৃশ রেখা বিদ্যমান ছিল।
  • অলৌকিকত্ব: এটি কোনো চর্মরোগ বা কৃত্রিম দাগ ছিল না; বরং জন্মগতভাবে মহান রাব্বুল আলামীনের কুদরতি সিলমোহর ছিল, যা তাঁর সর্বশেষ নবী হওয়ার অকাট্য প্রতীক হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছিল।

(ب) حَلِّلِ الكَلِمَاتِ الآتِيَةِ: وَجِعٌ، تَوَضَّأَ، الخَاتَمُ، الحَجَلَةُ-

[(খ) নিম্নোক্ত শব্দসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করো: وجع (ওয়াজি’উন), توضأ (তাওয়াদ্দাআ), الخاتم (আল-খাতামু), الحجلة (আল-হিজলাতু)।]

শব্দ (الكلمة) মূলধাতু ও রূপতত্ত্ব (الصيغة والأصل) বাব ও অর্থ (الباب والمعنى) প্রাসঙ্গিক ব্যাকরণিক আলোচনা (التحليل النحوي والصرفي)
وَجِعٌ صيغة الصفة المشبهة، مفرد مذكر، মূলধাতু: (و-ج-ع) باب سَمِعَ يَسْمَعُ، অর্থ: অসুস্থ বা ব্যথিত ব্যক্তি হাদিসে إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَجِعٌ বাক্যে ‘ইন্না’-এর খবর হিসেবে মারফু (رفع)।
تَوَضَّأَ فعل ماض، واحد مذكر غائب، মূলধাতু: (و-ض-ء) باب تَفَعَّلَ، অর্থ: সে উযু করল বাবে তাফা’উলের বৈশিষ্ট্য হলো মুতাওয়াআহ ও তাকাল্লুফ; পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা।
الخَاتَمُ اسم آلة বা اسم جامد، مفرد مذكر، মূলধাতু: (خ-ت-م) বাবে নাসারা-এর ধাতু, অর্থ: মোহর, আংটি বা সমাপ্তিসূচক চিহ্ন হাদিসে إِلَى الْخَاتَمِ হিসেবে হরফে জারের কারণে মাজরুর (جر)। এর তা’ দ্বারা শেষত্ব নির্দেশিত।
الحَجَلَةُ اسم مفرد مؤنث، جمع: حِجَال، মূলধাতু: (ح-ج-ل) অর্থ: বাসরঘরের পর্দাঘেরা সুসজ্জিত খাট অথবা তিতির/ঘুঘু পাখি مِثْلُ زِرِّ الْحَجَلَةِ বাক্যে মুযাফ ইলাইহি হওয়ার কারণে মাজরুর (جر)।

٥- تَحَدَّثْ عَنِ الكُتُبِ السِّتَّةِ وَمُصَنِّفِيهَا مَعَ ذِكْرِ خُصُوصِيَّتَيْنِ لِكُلٍّ مِنْهَا-

[৫. সিহাহ সিত্তার কিতাবসমূহ ও এদের সংকলকদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও এবং প্রতিটি কিতাবের দুটি করে অনন্য বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।]

ভূমিকা: হাদিস শাস্ত্রে বিশুদ্ধতম ছয়টি প্রামাণ্য হাদিস সংকলনকে সম্মিলিতভাবে ‘আল-কুতুবুস সিত্তাহ’ (الكتب الستة) বলা হয়। নিম্নে এই ছয়টি কিতাব, তাদের মহান সংকলক এবং প্রত্যেকের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:

  1. সহীহুল বুখারী (صحيح البخاري):
    • সংকলক: আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.) [১৯৪-২৫৬ হি.]।
    • বৈশিষ্ট্য ১: পবিত্র কুরআনের পর পৃথিবীর বুকে সর্বাধিক বিশুদ্ধতম কিতাব (أصح الكتب بعد كتاب الله), যেখানে কেবল মুত্তাসিল সনদের সর্বোচ্চ স্তরের বিশুদ্ধ হাদিস সংকলিত হয়েছে।
    • বৈশিষ্ট্য ২: ইমাম বুখারীর ফিকহি সূক্ষ্মদর্শিতা ফুটে উঠেছে তাঁর রচিত ‘তারাজুমুল আবওয়াব’ (অধ্যায়ের শিরোনাম)-এর মধ্যে (فقه البخاري في تراجمه)।
  2. সহীহ মুসলিম (صحيح مسلم):
    • সংকলক: ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী (রহ.) [২০৬-২৬১ হি.]।
    • বৈশিষ্ট্য ১: হাদিস উপস্থাপনায় সনদ ও মতনকে অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে এক স্থানে একত্র করা হয়েছে, যা সনদের বিভিন্ন সূত্র সহজে অনুধাবনে অতুলনীয়।
    • বৈশিষ্ট্য ২: কিতাবের শুরুতে একটি অনন্য মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা রয়েছে, যা ইলমে উসূলে হাদিসের এক অনন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক।
  3. সুনানে আবু দাউদ (سنن أبي داود):
    • সংকলক: ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশ’আছ আস-সিজিস্তানী (রহ.) [২০২-২৭৫ হি.]।
    • বৈশিষ্ট্য ১: এটি মূলত ‘আহকাম’ বা ফিকহি বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসের সর্বশ্রেষ্ঠ সংকলন (عمدة كتب الأحكام)।
    • বৈশিষ্ট্য ২: প্রতিটি হাদিসের সনদের মান বা কোনো দুর্বলতা থাকলে ইমাম আবু দাউদ স্বয়ং তা উল্লেখ করে দিয়েছেন।
  4. জামে আত-তিরমিযী (جامع الترمذي):
    • সংকলক: ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযী (রহ.) [২০৯-২৭৯ হি.]।
    • বৈশিষ্ট্য ১: হাদিসের স্তরভেদ (সহীহ, হাসান, গরীব) অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
    • বৈশিষ্ট্য ২: প্রতিটি বিষয়ের সাথে সাহাবা, তাবেয়ী ও মুজতাহিদ ইমামগণের ফিকহি ইখতিলাফ ও আমল উল্লেখ করা হয়েছে।
  5. সুনানে নাসাঈ (سنن النسائي):
    • সংকলক: ইমাম আবু আব্দুর রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব আন-নাসাঈ (রহ.) [২১৫-৩০৩ হি.]।
    • বৈশিষ্ট্য ১: রাবিদের যাচাই-বাছাই ও সনদের ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) নির্ণয়ে বুখারী ও মুসলিমের পরেই সুনানে নাসাঈর কঠোর মানদণ্ড স্বীকৃত।
    • বৈশিষ্ট্য ২: একই হাদিসের বিভিন্ন তরীক ও সূক্ষ্ম পার্থক্য সুন্দরভাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
  6. সুনানে ইবনে মাজাহ (سنن ابن ماجه):
    • সংকলক: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযভীনি (রহ.) [২০৯-২৭৩ হি.]।
    • বৈশিষ্ট্য ১: চমৎকার অধ্যায় বিন্যাস ও বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ যা ফিকহি মাসআলা খোঁজার জন্য অত্যন্ত সহজবোধ্য।
    • বৈশিষ্ট্য ২: এতে বহু ‘যাওয়ায়েদ’ (অন্য পাঁচ কিতাবে নেই এমন অনন্য সহীহ হাদিস) সংকলিত হয়েছে।

٦- عَرِّفِ السُّنَّةَ، ثُمَّ بَيِّنْ حُجِّيَّةَ السُّنَّةِ نَقْلاً وَعَقْلاً-

[৬. সুন্নাহর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর কুরআন ও যুক্তির আলোকে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (হুজ্জিয়্যাত) বিশদভাবে আলোচনা করো।]

১. সুন্নাহর পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘সুন্নাহ’ (السنة) শব্দের অর্থ তরীকা, আদর্শ, নিয়ম, প্রচলিত প্রথা (الطريقة والسيرة المتبعة)।
  • মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সমস্ত বাণী (কওল), কাজ (ফেল), মৌনসম্মতি (তাকবীর) এবং তাঁর জন্মগত ও চারিত্রিক গুণাবলীকে সুন্নাহ বা হাদিস বলা হয়।
  • উসূলবিদগণের পরিভাষায়: কুরআন ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে শরিয়তের বিধান হিসেবে যা কিছু প্রকাশিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ বলে।

২. সুন্নাহর প্রামাণিকতা (হুজ্জিয়্যাত):

ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় প্রধান ও অলঙ্ঘনীয় উৎস হলো সুন্নাহ। এর প্রামাণিকতা কুরআন, সুন্নাহ ও সুস্থ যুক্তির আলোকে সুপ্রমাণিত:

ক. নক্বলী বা প্রামাণ্য দলিল (কুরআন মাজীদ):

  • নিঃশর্ত আনুগত্যের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا (রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। — সূরা আল-হাশর: ৭)।
  • আল্লাহর ভালোবাসার শর্ত: قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ (বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন। — সূরা আলে ইমরান: ৩১)।
  • ঈমানের পূর্বশর্ত: فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ (অতএব আপনার রবের শপথ! তারা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যকার বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক মেনে নেয়। — সূরা আন-নিসা: ৬৫)।
  • কুরআনের ব্যাখ্যাকারক: আল্লাহ তাআলা রাসূল (সা.)-কে কুরআনের ব্যাখ্যাকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন— وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ (সূরা আন-নাহল: ৪৪)।

খ. আকলী বা যুক্তিভিত্তিক দলিল:

  • কুরআনের সামগ্রিকতার ব্যাখ্যা: কুরআনে সালাত কায়েম, যাকাত প্রদান এবং হজ্জ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিন্তু এর বিস্তারিত নিয়ম, রাকাত সংখ্যা, ওয়াক্ত ও রুকন কুরআনে উল্লেখ নেই। সুন্নাহ ব্যতিরেকে কুরআনের ওপর আমল করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।
  • নবী প্রেরণের উদ্দেশ্য: যদি শুধু কিতাবই যথেষ্ট হতো তবে আল্লাহ শুধু আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করলেই পারতেন। নবী প্রেরণের মূল উদ্দেশ্যই হলো কিতাবের বাস্তব নমুনা প্রদর্শন করা।
  • উম্মাহর নিরবচ্ছিন্ন ইজমা: সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ যে, সহীহ সুন্নাহ অমান্যকারী ব্যক্তি কখনো মুসলমান থাকতে পারে না।

مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ٥ = ٢٠)

٧- مَا مَعْنَى الحَيَاءِ؟ وَمَا عَلاَقَةُ الحَيَاءِ بِالإِيمَانِ؟

[৭. লজ্জাশীলতার (হায়া) অর্থ কী? ঈমানের সাথে লজ্জাশীলতার সম্পর্ক কী?]

১. হায়ার অর্থ: ‘হায়া’ (الحياء) শব্দটি ‘হায়াত’ (জীবন) ধাতু থেকে গৃহীত। এর আভিধানিক অর্থ লজ্জা, সংকোচ ও শালীনতা। পারিভাষিক অর্থে, অন্তরের এমন এক মহৎ আধ্যাত্মিক শক্তি যা মানুষকে অন্যায়, অশ্লীল ও অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখে এবং অন্যের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট করে তাকে হায়া বলা হয়।

২. ঈমানের সাথে হায়ার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক:

  • হাদিস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন— «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً، وَالحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ» অর্থাৎ, ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে, আর লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। (সহীহ বুখারী)।
  • অন্য হাদিসে এসেছে— «الحَيَاءُ وَالإِيمَانُ قُرِنَا جَمِيعًا، فَإِذَا رُفِعَ أَحَدُهُمَا رُفِعَ الآخَرُ» অর্থাৎ, লজ্জা ও ঈমান একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; যখন এর একটি বিদায় নেয়, তখন অপরটিও বিদায় নেয়। (বায়হাকী)।
  • লজ্জা মানুষকে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বাঁচিয়ে রাখে, যা মূলত ঈমানের বাস্তব প্রকাশ। যে ব্যক্তির মধ্যে আল্লাহর প্রতি লজ্জা নেই, সে অবলীলায় যেকোনো পাপে লিপ্ত হতে পারে।

٨- هَلْ تَجُوزُ الجَنَازَةُ فِى المَسَاجِدِ؟ وَمَا الاخْتِلاَفُ فِيهِ؟ بَيِّنْ-

[৮. মসজিদে জানাযার সালাত আদায় করা কি জায়েয? এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মতপার্থক্য বিশ্লেষণ করো।]

মসজিদের অভ্যন্তরে জানাযার সালাত আদায় করার বিষয়ে ফকীহগণের মধ্যে দুটি প্রধান অভিমত রয়েছে:

  • ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর অভিমত: মসজিদে জানাযার সালাত পড়া সম্পূর্ণরূপে জায়েয ও বৈধ, এতে কোনো মাকরূহ নেই। দলিল: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত সুহাইল ইবনে বায়দা (রা.)-এর জানাযার সালাত মসজিদের ভেতরেই আদায় করেছিলেন।
  • ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক (রহ.)-এর অভিমত: ওজর ব্যতীত সাধারণ অবস্থায় মসজিদের ভেতরে জানাযা আদায় করা মাকরূহে তানযীহী। কারণ জানাযার সালাতের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মসজিদের বাইরে স্বতন্ত্র স্থান (মুসাল্লাল জানাইজ) নির্ধারিত ছিল। তাছাড়া মৃতদেহের কারণে মসজিদ অপবিত্র হওয়ার বা মসজিদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তবে কোনো ওজর (যেমন বৃষ্টি বা শত্রুভয়) থাকলে তা সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ।

٩- اُكْتُبِ الصِّفَاتِ الخَلْقِيَّةَ لِلرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى ضَوْءِ الحَدِيثِ-

[৯. হাদিসের আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শারীরিক গঠন ও সৌন্দর্য (সিফাতে খালকিয়্যাহ) বর্ণনা করো।]

সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক অবয়ব ও রূপলাবণ্যের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন:

  • দেহাবয়ব ও উচ্চতা: তিনি অতি দীর্ঘাঙ্গী ছিলেন না এবং খর্বকায়ও ছিলেন না; বরং মধ্যমাকৃতির চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন। তাঁর শরীর ছিল সুঠাম ও মজবুত।
  • চেহারার সৌন্দর্য: হযরত বারা ইবনু আযিব (রা.) বলেন, তাঁর চেহারা ছিল পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়। হযরত জাবির ইবনু সামুরা (রা.) বলেন, আমি এক রজনীতে পূর্ণিমার চাঁদের সাথে তাঁর মুখমণ্ডলের তুলনা করে দেখলাম, তিনি চাঁদের চেয়েও বহুগুণ বেশি সুন্দর।
  • গায়ের রঙ ও চুল: তাঁর গায়ের রঙ ছিল ধবধবে সাদা নয়, বরং লালিমাযুক্ত উজ্জ্বল শ্বেতশুভ্র। তাঁর পবিত্র চুল কাঁধ পর্যন্ত অথবা কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত।
  • বক্ষ ও কাঁধ: তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। বক্ষ ও পেটের উপরিভাগ ছিল সমান এবং বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত একটি ক্ষীণ পশমের রেখা ছিল।

١٠- عَرِّفِ التَّدْلِيسَ، ثُمَّ بَيِّنْ أَقْسَامَهُ بِالاخْتِصَارِ-

[১০. তাদলীসের সংজ্ঞা দাও এবং সংক্ষেপে এর প্রকারভেদ আলোচনা করো।]

১. তাদলীসের সংজ্ঞা: হাদিস শাস্ত্রে ‘তাদলীস’ (التدليس) বলতে সনদের কোনো ত্রুটি বা বর্ণনাকারীর অপ্রসিদ্ধ নাম ব্যবহার করে হাদিসকে বাহ্যত দোষমুক্ত রূপে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াসকে বোঝায়। এটি রাবির সততা ও হাদিসের বিশুদ্ধতার ওপর প্রভাব ফেলে।

২. তাদলীসের প্রধান প্রকারভেদ:

  • ১. তাদলীসুল ইসনাদ (تدليس الإسناد): রাবি তাঁর সমসাময়িক এমন কোনো শায়খের নাম নিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন যার সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়েছে বটে, কিন্তু আলোচিত হাদিসটি তিনি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে শোনেননি; অথচ ‘ক্বালা’ (قال) বা ‘আন’ (عن) জাতীয় অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে এমন ভাব সৃষ্টি করেন যেন তিনি সরাসরি শুনেছেন।
  • ২. তাদলীসুশ শুয়ূখ (تدليس الشيوخ): রাবি তাঁর উস্তাদ বা শায়খকে এমন কোনো অপরিচিত নাম, উপাধি, কুনিয়াত বা বংশপরিচয়ে উল্লেখ করেন যা দ্বারা সাধারণ মানুষ তাঁকে সহজে চিনতে পারে না (যাতে শায়খের দুর্বলতা গোপন থাকে)।
  • ৩. তাদলীসুত তাসবিয়াহ (تدليس التسوية): রাবি তাঁর উপরের দুজন বিশ্বস্ত শায়খের মধ্যবর্তী একজন দুর্বল বর্ণনাকারীকে সনদ থেকে বাদ দিয়ে দেন, যাতে সনদটি পুরোটাই বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের সনদের মতো প্রতীয়মান হয়। এটি তাদলীসের সবচেয়ে মারাত্মক ও নিন্দনীয় প্রকার।

١١- عَرِّفِ الحَدِيثَ الصَّحِيحَ مَعَ بَيَانِ شُرُوطِهِ-

[১১. হাদিসে সহীহের সংজ্ঞা দাও এবং সহীহ হাদিসের শর্তাবলী বিশদভাবে বর্ণনা করো।]

১. হাদিসে সহীহের সংজ্ঞা: আল্লামা ইবনুস সালাহ (রহ.)-এর মতে— «هُوَ الحَدِيثُ المُسْنَدُ الَّذِى يَتَّصِلُ إِسْنَادُهُ بِنَقْلِ العَدْلِ الضَّابِطِ عَنِ العَدْلِ الضَّابِطِ إِلَى مُنْتَهَاهُ، وَلاَ يَكُونُ شَاذًّا وَلاَ مُعَلَّلاً» অর্থাৎ, যে হাদিসের সনদ শেষ পর্যন্ত এমন প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত, যা শায (অস্বাভাবিক) ও মুআল্লাল (সূক্ষ্ম ত্রুটিযুক্ত) নয়, তাকে হাদিসে সহীহ বলে।

২. সহীহ হাদিসের ৫টি মৌলিক শর্ত:

  1. ইত্তেসালুস সানাদ (اتصال السند): সনদের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীর কাছ থেকে সরাসরি হাদিসটি শ্রবণ করেছেন মর্মে সনদের অবিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত হওয়া।
  2. আদালাতুর রুওয়াত (عدالة الرواة): সনদের প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে দ্বীনদার, তাকওয়াবান, চরিত্রবান ও কবীরা গুনাহ থেকে মুক্ত (আদেল) হতে হবে।
  3. যাবতুর রুওয়াত (ضبط الرواة): প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে প্রখর স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুল কিতাব সংরক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন (যাবেত) হতে হবে।
  4. অ-শায হওয়া (عدم الشذوذ): হাদিসটি যেন তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিপরীত না হয়।
  5. অ-মুআল্লাল হওয়া (عدم العلة): হাদিসটিতে এমন কোনো লুকায়িত বা সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লত কাফিয়াহ) না থাকা যা বাহ্যত সহীহ মনে হলেও এর বিশুদ্ধতাকে বিনষ্ট করে।

١٢- كَمْ قِسْمًا لِلْحَدِيثِ بِاعْتِبَارِ السَّنَدِ؟ بَيِّنْ كُلَّ قِسْمٍ مُوَضَّحًا-

[১২. সনদের ধারাবাহিকতা বা বিচ্ছিন্নতার বিচারে হাদিস কত প্রকার? প্রতিটি প্রকার উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।]

সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال) এবং বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর বিচারে মুহাদ্দিসগণ হাদিসকে প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: মুত্তাসিল (متصل) এবং মুনক্বাতি’ (منقطع)। এর অধীনে সনদের বিন্যাস অনুযায়ী হাদিসের প্রধান প্রকারসমূহ নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:

  • ১. আল-হাদিসুল মুত্তাসিল (الحديث المتصل): যে হাদিসের সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক বর্ণনাকারী তাঁর প্রত্যক্ষ উস্তাদের কাছ থেকে সরাসরি হাদিসটি গ্রহণ করেছেন এবং মাঝে কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়েনি।
  • ২. আল-হাদিসুল মুরসাল (الحديث المرسل): যে হাদিসের সনদের শেষভাগে কোনো তাবেয়ী সাহাবির নাম উল্লেখ না করে সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বরাতে হাদিস বর্ণনা করেন।
  • ৩. আল-হাদিসুল মু’আল্লাক্ব (الحديث المعلق): যে হাদিসের সনদের শুরু থেকে (মুসান্নিফের দিক থেকে) এক বা একাধিক বর্ণনাকারীকে ধারাবাহিকভাবে বাদ দিয়ে বর্ণনা করা হয়।
  • ৪. আল-হাদিসুল মু’দ্বাল (الحديث المعضل): সনদের মাঝখান থেকে পরপর দুইজন বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়লে তাকে মু’দ্বাল বলা হয়।
  • ৫. আল-হাদিসুল মুনক্বাতি’ (الحديث المنقطع): সনদের মাঝখান থেকে যেকোনো স্থানে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিলে বা কোনো একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়লে তাকে সাধারণভাবে মুনক্বাতি’ বলা হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষের নুসূস মিনাল হাদিস বিষয়ের প্রশ্নপত্রের কাঠামো কেমন?

নুসূস মিনাল হাদিস (কোড: ২০৪২০১) বিষয়ের পূর্ণমান ৮০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রটি দুটি বিভাগে বিভক্ত: ক-বিভাগ থেকে ৪টি বড় প্রশ্ন (প্রতিটি ১৫ নম্বর করে মোট ৬০ নম্বর) এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (প্রতিটি ৫ নম্বর করে মোট ২০ নম্বর) উত্তর দিতে হয়।

২. ক-বিভাগের হাদিস ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার উপায় কী?

হাদিস ব্যাখ্যার প্রশ্নে হাদিসের নির্ভুল সরল অনুবাদ, হাদিসের পটভূমি বা শানে ওরূদ, হাদিসে উল্লিখিত ফিকহি মাসআলা ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলো পয়েন্ট আকারে প্রামাণ্য দলিলের সাথে উপস্থাপন করলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়।

৩. হাদিসের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (তাকবীর বা তাহলীল) কীভাবে লিখতে হয়?

শব্দগুলোর মূলধাতু (মাদ্দা), সীগাহ, বাবে রূপান্তর এবং বাক্যে তার নাহবী অবস্থান (মারফু, মানসুব বা মাজরুর হওয়ার কারণ) ছক আকারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৪. সিহাহ সিত্তার পরিচয়মূলক প্রশ্নে কোন তথ্যগুলো দেওয়া আবশ্যক?

ইমামগণের পূর্ণ নাম, জন্ম-মৃত্যু সন, কিতাব রচনার উদ্দেশ্য, হাদিস নির্বাচনের কঠোর শর্তাবলী এবং অন্যান্য হাদিসগ্রন্থ থেকে এর স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়।

৫. সুন্নাহর প্রামাণিকতা সংক্রান্ত প্রশ্নে কী ধরনের দলিল উপস্থাপন করা শ্রেয়?

কুরআন মাজীদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ (যেমন সূরা হাশর, আলে ইমরান, নিসা), রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম ও মুজতাহিদ ইমামগণের নিরবচ্ছিন্ন ইজমা ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা শ্রেয়।

৬. খ-বিভাগের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর কতটুকু বিস্তারিত হওয়া উচিত?

খ-বিভাগের প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫ নম্বর। তাই ভূমিকা পরিহার করে সরাসরি মূল সংজ্ঞা, হাদিসের পরিভাষা ও ২-৩টি প্রধান পয়েন্ট এবং নির্ভুল আরবি উদ্ধৃতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করাই সর্বোত্তম।

\n

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *