পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৫৮
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٣
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
علوم الحديث
[উলূমুল হাদীস]
বিষয় কোড: ২০৪২০২
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) / ক-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ١٥ = ٦٠)
(أجب عن أربعة من الأسئلة الآتية)
١- عَرِّفْ عُلُومَ الحَدِيثِ، ثُمَّ بَيِّنْ مَوْضُوعَهُ وَغَرَضَهُ وَأَهَمِّيَّتَهُ-
[১. উলূমুল হাদিসের পরিচয় দাও। অতঃপর এর আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
ভূমিকা: ইসলামি জ্ঞানের সুবিশাল ঐতিহ্যে উলূমুল হাদিস বা হাদিস বিজ্ঞান হলো এক অনন্য ও অভূতপূর্ব শাস্ত্রীয় উদ্ভাবন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম ও সম্মতিকে ভেজাল ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রেখে বিশুদ্ধরূপে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মুহাদ্দিসগণ এই বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন।
১. উলূমুল হাদিসের সংজ্ঞা:
- আভিধানিক বিশ্লেষণ: ‘উলূম’ (علوم) শব্দটি ‘ইলম’ (علم)-এর বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞান, শাস্ত্র বা বিজ্ঞান। আর ‘হাদিস’ (الحديث) অর্থ নতুন বিষয়, কথা বা বার্তা। সুতরাং আভিধানিক অর্থে ‘উলূমুল হাদিস’ হলো হাদিস বিষয়ক শাস্ত্রসমূহ।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী ও ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.)-এর মতে:
علم بقوانين يُعرف بها أحوال السند والمتن من حيث القبول والرد
(এমন কতকগুলো মূলনীতি ও নিয়মনীতি সম্পর্কিত শাস্ত্র, যার দ্বারা হাদিসের সনদ ও মতনের অবস্থা জানা যায় যে তা গ্রহণযোগ্য নাকি বর্জনীয়)। - শাখাগত বিন্যাস: উলূমুল হাদিস প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
- ইলমুল হাদিস রিওয়ায়াতান (علم الحديث رواية): যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, কর্ম, গুণাবলী ও সম্মতির নির্ভুল উদ্ধৃতি ও শব্দাবলি সংরক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট।
- ইলমুল হাদিস দিরায়াতান (علم الحديث دراية): যা হাদিসের সনদ, বর্ণনাকারীদের অবস্থা, গ্রহণযোগ্যতা-অগ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলী এবং মূল বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। এটিই মূলত ‘মুসত্বালাহুল হাদিস’ (مصطلح الحديث)।
২. উলূমুল হাদিসের আলোচ্য বিষয় (موضوعه):
উলূমুল হাদিসের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো হাদিসের সনদ (سند) ও মতন (متن)। সনদ ও মতনের বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), স্মরণশক্তি (ضبط), সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال) এবং তাতে কোনো দোষ-ত্রুটি (علة) বা শায (شذوذ) বিদ্যমান আছে কি না—তার বিচার-বিশ্লেষণই হলো এ শাস্ত্রের মুখ্য বিষয়বস্তু।
৩. উলূমুল হাদিসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (غرضه):
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ বাণীসমূহকে (মাকবুল) জাল, বানোয়াট ও দুর্বল (মরদূদ) বর্ণনা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও সংরক্ষিত করা।
- দ্বীনের বিধান প্রণয়নে প্রামাণিক দলিলের শুদ্ধতা নিশ্চিত করা।
- হাদিসের ওপর মানবীয় প্রবৃত্তিজাত মিথ্যা অপবাদ ও বিকৃতি প্রতিহত করা এবং পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করা।
৪. উলূমুল হাদিসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য (أهميته):
- দ্বীনের বিশুদ্ধতা রক্ষা: উলূমুল হাদিসের মাধ্যমেই ইসলাম তার মূল রূপ নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে। এটি না থাকলে যে কেউ নিজের খেয়ালখুশিমতো কথাকে রাসূলের নামে চালিয়ে দিতে পারত।
- মুসলিম উম্মাহর অনন্য অবদান: সনদ বিশ্লেষণ ও বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনার এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সমগ্র মানব সভ্যতায় কেবল মুসলিম উম্মাহরই একক ঐতিহাসিক অবদান। প্রখ্যাত জার্মান প্রাচ্যবিদ ড. স্প্রেঙ্গার স্বীকার করেছেন: “বিশ্বের কোনো জাতি মুসলমানদের মতো তাদের নবীর বাণী ও সঙ্গীদের ইতিহাস এত সূক্ষ্মভাবে সংরক্ষণ করতে পারেনি।”
- ফিকহি ইজতিহাদের ভিত্তি: যেকোনো ফিকহি মাসআলা উদ্ভাবন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য হাদিসের প্রামাণিকতা যাচাই করা প্রথম অপরিহার্য শর্ত, যা উলূমুল হাদিসের মাধ্যমেই সাধিত হয়।
٢- كَمْ قِسْمًا لِلْخَبَرِ بِاعْتِبَارِ وُصُولِهِ إِلَيْنَا؟ بَيِّنْ حُكْمَ كُلِّ قِسْمٍ بِالتَّفْصِيلِ-
[২. আমাদের নিকট পৌঁছার সনদের সূত্রের বিচারে খবর কত প্রকার? প্রতিটি প্রকারের হুকুম বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
ভূমিকা: উলূমুল হাদিসের অন্যতম মৌলিক পরিভাষা হলো ‘আল-খবর’ (الخبر)। আমাদের পর্যন্ত খবর পৌঁছার বর্ণনাসূত্র ও রাবীর সংখ্যার বিচারে ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ‘নুখবাতুল ফিকার’-এ খবরকে প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: ১. মুতাওয়াতির (المتواتر) এবং ২. আহাদ (الآحاد)।
১. আল-খবর আল-মুতাওয়াতির (الخبر المتواتر):
- সংজ্ঞা: যে খবর বা হাদিস সনদের প্রতিটি স্তরে বিপুল সংখ্যক এমন নির্ভরযোগ্য রাবী বর্ণনা করেছেন, যাদের সংখ্যাধিক্য ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কোনো মিথ্যা বা মনগড়া কথার ওপর ঐকমত্য পোষণ করা স্বাভাবিক অভ্যাসের দিক থেকে সম্পূর্ণ অসম্ভব।
- শর্তাবলী: সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি যুগে রাবীর সংখ্যা প্রচুর হতে হবে; তাঁদের সম্মিলিত মিথ্যার অসম্ভবতা থাকতে হবে; এবং বর্ণনাটি শ্রবণ বা দর্শনের মতো পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
- মুতাওয়াতিরের হুকুম (حكمه):
- মুতাওয়াতির খবর নিশ্চিত ও অকাট্য জ্ঞান দান করে (يفيد العلم اليقيني الضروري)। এটি স্বচক্ষে দেখা বস্তুর মতোই সন্দেহাতীত সত্য।
- এতে বর্ণনাকারীদের জীবনী বা ব্যক্তিগত গুণাবলী যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না, কারণ এর সত্যতা স্বয়ংসিদ্ধ।
- মুতাওয়াতির দ্বারা প্রমাণিত আক্বিদা বা দ্বীনের অকাট্য বিধানকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত তথা কাফির বলে গণ্য হবে।
২. খবরে আহাদ বা ওয়াহিদ (خبر الآحاد):
- সংজ্ঞা: যে খবরে মুতাওয়াতিরের শর্তাবলী পূর্ণ হয়নি, অর্থাৎ যার সনদে বর্ণনাকারীর সংখ্যা মুতাওয়াতিরের নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছেনি, তাকে খবরে আহাদ বলা হয়।
- প্রকারভেদ: সনদের সূত্রের সংখ্যার ভিত্তিতে খবরে আহাদ তিন প্রকার:
- মাশহুর (المشهور): যে খবরের সনদের প্রতি স্তরে ন্যূনতম তিনজন রাবী থাকেন, কিন্তু মুতাওয়াতিরে পৌঁছায় না।
- আযীয (العزيز): যে খবরের সনদের কোনো স্তরে রাবীর সংখ্যা দুইয়ের কম হয় না (ন্যূনতম দুইজন)।
- গরীব (الغريب): যে খবরের সনদের কোনো স্তরে একক কোনো রাবী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
- খবরে আহাদের হুকুম (حكمه):
- খবরে আহাদ স্বভাবগতভাবে ধারণাপ্রসূত প্রবল প্রত্যয় বা প্রায়-নিশ্চিত জ্ঞান দান করে (يفيد العلم النظري أو الظن الراجح)। অর্থাৎ এটি দলিলের অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।
- খবরে আহাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য (মাকবুল) এবং বর্জনীয় (মরদূদ)—উভয় প্রকার হাদিস বিদ্যমান থাকে।
- যদি খবরে আহাদ বিশুদ্ধতার শর্ত পূরণ করে (সহীহ বা হাসান হয়), তবে আমলি জিন্দেগি ও শরিয়তের সমস্ত হালাল-হারামের বিধান প্রণয়নে তা অকাট্য হুজ্জত এবং তার ওপর আমল করা ওয়াজিব।
٣- مَا الحَدِيثُ الصَّحِيحُ؟ وَمَا شُرُوطُهُ وَأَقْسَامُهُ؟ ثُمَّ بَيِّنْ حُكْمَهُ مَعَ الأَمْثِلَةِ-
[৩. সহীহ হাদিস কাকে বলে? এর শর্তাবলী ও প্রকারভেদ কী কী? উদাহরণসহ এর বিধান বর্ণনা করো।]
১. সহীহ হাদিসের সংজ্ঞা:
- আভিধানিক অর্থ: ‘সহীহ’ (الصحيح) শব্দের আভিধানিক অর্থ সুস্থ, ত্রুটিহীন, রোগমুক্ত ও খাঁটি।
- পারিভাষিক অর্থ: ইমাম ইবনুস সালাহ (রহ.)-এর ভাষায়:
هو الحديث المسند الذي يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن العدله إلى منتهاه، ولا يكون شاذًا ولا معللاً
(যে হাদিসের সনদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন এবং প্রতিটি স্তরে বিশ্বস্ত ও সুস্মরণশক্তিসম্পন্ন রাবী স্বীয় অনুরূপ রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং হাদিসটি শায ও গোপন ত্রুটিমুক্ত—তাকে সহীহ হাদিস বলা হয়)।
২. সহীহ হাদিসের ৫টি মৌলিক শর্ত:
- সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال السند): সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রত্যেক রাবী তাঁর সরাসরি উস্তাদ থেকে হাদিসটি গ্রহণ করেছেন, মাঝে কোনো বর্ণনাকারী উহ্য বা বিচ্ছিন্ন নেই।
- রাবীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الرواة): সনদের প্রতিটি রাবী মুসলিম, বালেগ, বিবেকবান, তাকওয়াবান এবং প্রকাশ্য কবিরা গুনাহ ও নীচ আচরণ থেকে মুক্ত হতে হবে।
- রাবীর প্রখর ধারণক্ষমতা বা স্মৃতিশক্তি (تمام الضبط): রাবীর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর হতে হবে (যবতে সদরি) অথবা তাঁর লিখিত পাণ্ডুলিপি নির্ভুল ও সংরক্ষিত হতে হবে (যবতে কিতাবি)।
- শায না হওয়া (عدم الشذوذ): কোনো বিশ্বস্ত রাবী তাঁর চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য ও সংখ্যাগুরু রাবীদের বিরোধী বর্ণনা দিতে পারবেন না।
- সূক্ষ্ম ত্রুটিমুক্ত হওয়া (عدم العلة القادحة): হাদিসটিতে এমন কোনো লুকায়িত বা গোপন দোষ থাকতে পারবে না যা বাহ্যত সহীহ মনে হলেও সনদ বা মতনকে ত্রুটিযুক্ত করে দেয়।
৩. সহীহ হাদিসের প্রকারভেদ: সহীহ হাদিস দুই প্রকার:
- ক. সহীহ লি-যাতিহী (صحيح لذاته): যে হাদিস স্বীয় সনদের সাহায্যেই সহীহ হওয়ার উল্লিখিত ৫টি শর্ত পরিপূর্ণভাবে পূরণ করে।
উদাহরণ: ইমাম বুখারী বর্ণিত: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسٍ… (এখানে সনদের সকল রাবী সর্বোচ্চ স্তরের আদালত ও যবতের অধিকারী)। - খ. সহীহ লি-গাইরিহী (صحيح لغيره): যে হাদিসটির রাবীর স্মরণশক্তিতে সামান্য ঘাটতি থাকায় মূলত ‘হাসান লি-যাতিহী’ ছিল, কিন্তু একাধিক ভিন্ন বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে তা উন্নীত হয়ে সহীহর মর্যাদা লাভ করেছে।
৪. সহীহ হাদিসের হুকুম (حكمه):
- সহীহ হাদিসের ওপর সর্বসম্মতিক্রমে আমল করা ওয়াজিব।
- এটি ইসলামি শরিয়তের অকাট্য হুজ্জত। আক্বিদা ও ফিকহি আহকাম প্রমাণের ক্ষেত্রে সহীহ হাদিস কুরআনের পরই সর্বোচ্চ মর্যাদা বহন করে।
٤- مَا المُرَادُ بِالجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ؟ اُذْكُرْ مَرَاتِبَهُمَا مَعَ التَّمْثِيلِ، ثُمَّ اُذْكُرْ أَشْهَرَ المُصَنَّفَاتِ فِيهِمَا-
[৪. জারহ ও তা’দীল বলতে কী বোঝায়? উদাহরণসহ এদের স্তরসমূহ উল্লেখ করো এবং এ বিষয়ের প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলী লিপিবদ্ধ করো।]
১. জারহ ও তা’দীলের পরিচয়:
- আল-জারহ (الجرح): আভিধানিক অর্থ ক্ষতবিক্ষত করা। হাদিস শাস্ত্রে রাবীর আদালত বা যবতের মধ্যে এমন কোনো দোষ বা ত্রুটি প্রকাশ করা, যার কারণে তাঁর বর্ণিত হাদিস অগ্রাহ্য বা দুর্বল বলে বিবেচিত হয়।
- আত-তা’দীল (التعديل): আভিধানিক অর্থ সোজা করা বা ন্যায়সঙ্গত সাব্যস্ত করা। হাদিস শাস্ত্রে রাবীর চারিত্রিক বিশ্বস্ততা, খোদাভীতি ও স্মৃতিশক্তির নির্ভুলতা ঘোষণা করে তাঁকে হাদিস বর্ণনার যোগ্য সাব্যস্ত করা।
২. তা’দীলের স্তরসমূহ (مراتب التعديل): ইমাম ইবনু আবি হাতিম ও হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) তা’দীলের ৬টি স্তর নির্ধারণ করেছেন:
- প্রথম স্তর (সর্বোচ্চ স্তর): যা মুবালাগাহ বা চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে। যেমন: أوثق الناس (মানুষের মধ্যে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য), فلان إليه المنتهى في التثبت।
- দ্বিতীয় স্তর: কোনো প্রশংসাসূচক শব্দকে পুনরাবৃত্তি করা। যেমন: ثقة ثقة (অত্যন্ত বিশ্বস্ত, অত্যন্ত বিশ্বস্ত), ثقة ثبت।
- তৃতীয় স্তর: একটিমাত্র শক্তিশালী শব্দে বিশ্বস্ততা প্রকাশ করা। যেমন: ثقة (বিশ্বস্ত), حجة (প্রমাণ), عدل।
- চতুর্থ স্তর: যা সামান্য কম দৃঢ়তা প্রকাশ করে কিন্তু গ্রহণযোগ্য। যেমন: صدوق (সত্যবাদী), لا بأس به (তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই)।
- পঞ্চম স্তর: যার মধ্যে সামান্য ত্রুটির ইঙ্গিত থাকে। যেমন: محله الصدق (তার স্থান সত্যবাদীদের কাতারে), روى عنه الناس।
- ষষ্ঠ স্তর: যা জারহের খুব কাছাকাছি। যেমন: صالح الحديث (হাদিস বর্ণনায় চলনশীল), يكتب حديثه للاعتبار।
৩. জারহের স্তরসমূহ (مراتب الجرح): জারহেরও ৬টি স্তর রয়েছে:
- প্রথম স্তর (সবচেয়ে মৃদু জারহ): فلان لين الحديث (হাদিস বর্ণনায় দুর্বল), فيه مقال (তার ব্যাপারে কথা রয়েছে)।
- দ্বিতীয় স্তর: لا يحتج به (তার দ্বারা দলিল গ্রাহ্য নয়), ضعيف (দুর্বল)।
- তৃতীয় স্তর: رديء الحفظ, متروك الحديث (তার হাদিস বর্জনীয়)।
- চতুর্থ স্তর: متهم بالكذب (মিথ্যার অপবাদে অভিযুক্ত), يسرق الحديث।
- পঞ্চম স্তর: دجال, كذاب (চরম মিথ্যুক), يضع الحديث (হাদিস জালকারী)।
- ষষ্ঠ স্তর (সর্বনিম্ন ও চরম জারহ): أكذب الناس (মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যুক), إليه المنتهى في الوضع।
৪. জারহ ও তা’দীলের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ:
- ইমাম বুখারী (রহ.): আত-তারীখুল কাবীর (التاريخ الكبير)।
- ইমাম ইবনু আবি হাতিম আর-রাযী (রহ.): আল-জারহু ওয়াত তা’দীল (الجرح والتعديل)।
- হাফেজ শামসুদ্দীন আয-যাহাবী (রহ.): মীযানুল ইতিদাল ফী নাক্বদির রিজাল (ميزان الاعتدال)।
- হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.): তাহযীবুত তাহযীব (تهذيب التهذيب) ও তাক্বরীবুত তাহযীব (تقريب التهذيب)।
٥- مَا هُوَ التَّدْلِيسُ لُغَةً وَاصْطِلاَحًا؟ وَمَا الفَرْقُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ المُرْسَلِ الخَفِيِّ؟ بَيِّنْ مُوَضَّحًا-
[৫. তাদলীসের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? তাদলীস ও মুরসালে খফীর মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট করো।]
১. তাদলীসের পরিচয়:
- আভিধানিক অর্থ: ‘তাদলীস’ (التدليس) শব্দটি আরবি ‘দালস’ (الدلس) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অন্ধকার। কেনাবেচায় পণ্যের ত্রুটি ক্রেতার দৃষ্টি থেকে লুকিয়ে রেখে অন্ধকার সৃষ্টি করাকে তাদলীস বলা হয়।
- পারিভাষিক অর্থ: কোনো রাবী হাদিসের সনদে বিদ্যমান দোষ-ত্রুটি বা কোনো দুর্বলতাকে ধামাচাপা দিয়ে হাদিসের বাহ্যিক রূপকে নিখুঁত ও চমৎকার করে উপস্থাপন করাকে তাদলীস বলা হয়।
- প্রকারভেদ: তাদলীস প্রধানত দুই প্রকার:
- তাদলীসুস সনদে বা ইসনাদ (تدليس الإسناد): রাবী এমন এক উস্তাদ থেকে হাদিস বর্ণনা করেন যার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে ও অন্য হাদিস শুনেছেন, কিন্তু আলোচ্য হাদিসটি তাঁর মুখ থেকে সরাসরি শোনেননি; অথচ এমন শব্দ ব্যবহার করেন (যেমন: عن فلان বা قال فلان) যাতে মনে হয় তিনি সরাসরি শুনেছেন।
- তাদলীসুশ শুয়ূখ (تدليس الشيوخ): রাবী তাঁর শায়খের এমন অপরিচিত নাম, উপাধি, কুনিয়াত বা বংশপরিচয় উল্লেখ করেন যাতে সাধারণ মানুষ শায়খের আসল দুর্বল পরিচয় বুঝতে না পারে।
২. তাদলীস ও মুরসালে খফীর মধ্যকার পার্থক্য:
| তুলনার ক্ষেত্র | তাদলীস (التدليس) | আল-মুরসাল আল-খফী (المرسل الخفي) |
|---|---|---|
| শায়খের সাথে সাক্ষাৎ | রাবী তাঁর উল্লেখিত শায়খের সাথে নিশ্চিতভাবে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে অন্তত একটি হাদিস হলেও সরাসরি শ্রবণ করেছেন। | রাবী ও শায়খ সমসাময়িক ছিলেন (معاصرة), কিন্তু তাঁদের মধ্যে কখনো সাক্ষাৎ প্রমাণিত হয়নি অথবা কোনো হাদিস সরাসরি শোনেননি। |
| প্রকৃতি | সাক্ষাৎ প্রমাণিত থাকা সত্ত্বেও না-শোনা হাদিস শোনার মতো করে উপস্থাপন করায় এটি অধিক ধোঁকাযুক্ত। | সমসাময়িক ব্যক্তির কাছ থেকে না-শোনা হাদিস মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়ে বর্ণনা করা। |
| নির্ণয়ের জটিলতা | শায়খ থেকে শোনার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট হাদিসটি শুনেছেন কি না তা যাচাই করা অত্যন্ত জটিল। | ঐতিহাসিক প্রমাণাদির মাধ্যমে সাক্ষাৎ না হওয়ার প্রমাণ উদঘাটন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। |
| উলামাদের অভিমত | তাদলীস অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং ইচ্ছাকৃত প্রতারণা হিসেবে গণ্য। | মুরসালে খফী মূলত সনদের একপ্রকার সূক্ষ্ম বিচ্ছিন্নতা (ইনক্বিত্বা)। |
٦- مَا الفَرْقُ بَيْنَ المُتَابِعِ وَالشَّاهِدِ؟ وَمَا أَقْسَامُ المُتَابِعِ وَالاعْتِبَارِ؟ وَمَتَى يُقَالُ: ‘مِثْلَهُ’ وَ’نَحْوَهُ’؟
[৬. মুতাবি’ ও শাহিদের পার্থক্য কী? মুতাবা’আত ও ই’তিবারের প্রকারভেদ কী? কখন ‘মিসলাহু’ এবং ‘নাহওয়াহু’ বলা হয়?]
১. মুতাবি’ ও শাহিদের মধ্যকার পার্থক্য:
- আল-মুতাবি’ (المتابع): যখন কোনো একক রাবীর বর্ণিত হাদিসকে সমর্থন করে অপর কোনো রাবী একই সাহাবি সূত্রে অভিন্ন অর্থ বা শব্দে হাদিস বর্ণনা করেন, তখন দ্বিতীয় সনদটিকে ‘মুতাবি’ এবং প্রক্রিয়াটিকে ‘মুতাবাআত’ (المتابعة) বলা হয়।
- আশ-শাহিদ (الشاهد): যখন কোনো একক রাবীর বর্ণিত হাদিসের সমর্থনে অন্য কোনো সাহাবি সূত্রে অনুরূপ বক্তব্য বর্ণিত হয়, তখন তাকে ‘শাহিদ’ (الشاهد) বলা হয়।
- সংক্ষিপ্ত পার্থক্য: সাহাবি অভিন্ন হলে তা মুতাবা’আত; আর সাহাবি ভিন্ন হলে তা শাহিদ।
২. মুতাবা’আতের প্রকারভেদ: মুতাবা’আত দুই প্রকার:
- ক. মুতাবা’আতে তয়াম্মাহ (المتابعة التامة): সনদের একেবারে শুরু থেকে (যে রাবী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাঁর স্তর থেকেই) অপর কোনো রাবী একই উস্তাদ থেকে হাদিসটি বর্ণনা করলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মুতাবা’আত বলা হয়।
- খ. মুতাবা’আতে ক্বাসিরাহ (المتابعة القاصرة): সনদের উপরের স্তরে (উস্তাদের উস্তাদ বা তার উপরের স্তরে) গিয়ে যদি অন্য কোনো সনদের মাধ্যমে সমর্থন পাওয়া যায়, তবে তাকে অপূর্ণাঙ্গ মুতাবা’আত বলা হয়।
৩. আল-ই’তিবার (الاعتبار): কোনো একক সনদে বর্ণিত হাদিসের কোনো মুতাবি’ বা শাহিদ আছে কি না তা খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থ ও সনদে যে গবেষণা ও অনুসন্ধান চালানো হয়, সেই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে ‘ই’তিবার’ বলা হয়।
৪. ‘মিসলাহু’ (مثله) এবং ‘নাহওয়াহু’ (نحوه)-এর ব্যবহার:
- মিসলাহু (مثله – তার মতো হুবহু): যখন দ্বিতীয় সনদের হাদিসের শব্দমালা প্রথম সনদের হাদিসের শব্দের সাথে অক্ষরে অক্ষরে সম্পূর্ণরূপে মিলে যায়, তখন মুহাদ্দিসগণ পূর্ণ মতন পুনরায় উল্লেখ না করে বলেন: وبإسناده مثله (উক্ত সনদে হুবহু এর অনুরূপ শব্দে বর্ণিত)।
- নাহওয়াহু (نحوه – তার ভাবের অনুরূপ): যখন দ্বিতীয় সনদের হাদিসের মূল বক্তব্য বা ভাব প্রথম হাদিসের সাথে এক থাকে, কিন্তু শব্দবিন্যাসে কিছুটা পার্থক্য থাকে, তখন মুহাদ্দিসগণ বলেন: نحوه (এর ভাবার্থের অনুরূপ)।
٧- مَا هُوَ الخَبَرُ الضَّعِيفُ؟ ثُمَّ بَيِّنْ حُكْمَ رِوَايَتِهِ وَالعَمَلِ بِهِ، وَالمُصَنَّفَاتِ المَشْهُورَةِ فِيهِ-
[৭. যয়ীফ খবর কাকে বলে? এর বর্ণনা ও আমলের বিধান কী? এ বিষয়ের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ উল্লেখ করো।]
১. খবরে যয়ীফের পরিচয়:
- আভিধানিক অর্থ: ‘যয়ীফ’ (الضعيف) অর্থ দুর্বল, শক্তিহীন ও ত্রুটিযুক্ত।
- পারিভাষিক অর্থ: যে হাদিসে সহীহ ও হাসান হাদিসের গ্রহণযোগ্যতার আবশ্যকীয় শর্তাবলী (যেমন: সনদের সংযোগ, রাবীর সততা ও প্রখর স্মৃতিশক্তি) অনুপস্থিত থাকে, তাকে খবরে যয়ীফ বা দুর্বল হাদিস বলা হয়।
২. যয়ীফ হাদিস বর্ণনা করার হুকুম (حكم روايته):
সনদ উল্লেখ না করে সরাসরি قال رسول الله (রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন) দৃঢ়তার সাথে বলা জায়েয নেই; বরং তামরীয বা সংশয়সূচক শব্দ (যেমন: রূবিয়া আনহু – বর্ণিত হয়েছে, যুকিরা – উল্লেখ আছে) ব্যবহার করে বর্ণনা করতে হবে। তবে জাল বা মওযূ হাদিস তার জালিয়াতি প্রকাশ করা ব্যতীত বর্ণনা করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
৩. যয়ীফ হাদিসের ওপর আমল করার বিধান (حكم العمل به):
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী ও ইমাম নববী (রহ.)-এর মতে ফাযায়েল ও নফল আমলের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদিসের ওপর আমল করার জন্য ৩টি কঠোর শর্ত প্রযোজ্য:
- হাদিসটি যেন মারাত্মক পর্যায়ের দুর্বল (যেমন মিথ্যুক বা জালিয়াত রাবীর সূত্রে) না হয়।
- হাদিসটির বক্তব্য যেন ইসলামি শরিয়তের কোনো সর্বসম্মত সাধারণ মূলনীতির আওতাভুক্ত থাকে।
- আমল করার সময় এটিকে সুনিশ্চিত সুন্নাত বা ওয়াজিব মনে করা যাবে না; বরং সতর্কতামূলকভাবে সওয়াবের আশায় আমল করতে হবে।
- আক্বিদা ও হালাল-হারামে: আক্বিদার বিষয় প্রমাণে এবং শরিয়তের হালাল-হারাম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদিসের ওপর আমল করা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয।
৪. যয়ীফ ও মওযূ হাদিস বিষয়ক বিখ্যাত কিতাবসমূহ:
- ইবনুল জাওযী (রহ.): আল-মাওযূ’আতুল কুবরা (الموضوعات الكبرى)।
- ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.): আল-লাআলী আল-মাসনূ’আহ ফিল আহাদীসিল মাওযূ’আহ (اللآلئ المصنوعة)।
- আল্লামা শাওকানী (রহ.): আল-ফাওয়ায়েদুল মাজমূ’আহ (الفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة)।
- মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.): আল-মাসনূ’ ফী মা’রিফাতিল হাদিসিল মাওযূ’ (المصنوع في معرفة الحديث الموضوع)।
٨- مَا المُرَادُ بِعِلْمِ عِلَلِ الحَدِيثِ؟ بَيِّنْ نَشْأَتَهُ وَتَطَوُّرَهُ، وَطُرُقَ مَعْرِفَةِ العِلَّةِ-
[৮. ইলমে ইলালিল হাদিস বলতে কী বোঝায়? এর উৎপত্তি ও বিকাশ এবং ইল্লত জানার পদ্ধতিসমূহ বিস্তারিত লেখো।]
১. ইলমে ইলালিল হাদিসের পরিচয়:
- ‘ইল্লত’ (العلة) শব্দের আভিধানিক অর্থ রোগ, দোষ বা অন্তরালবর্তী ক্ষতি।
- পরিভাষায়: سبب خفي قادح يقدح في صحة الحديث مع أن الظاهر السلامة منه
(হাদিসের মধ্যে এমন কোনো গোপন ও সূক্ষ্ম ক্ষতিকর ত্রুটি, যা হাদিসটির বিশুদ্ধতাকে নষ্ট করে দেয়; অথচ বাহ্যিকভাবে হাদিসটি সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন ও সহীহ প্রতীয়মান হয়)। - আর যে শাস্ত্রে হাদিসের এই অপ্রকাশ্য ও সূক্ষ্ম ত্রুটিগুলো উদঘাটন করা হয়, তাকে ‘ইলমে ইলালিল হাদিস’ বলা হয়। এটি উলূমুল হাদিসের সবচেয়ে জটিল ও সূক্ষ্মতম শাখা।
২. ইলমে ইলালের উৎপত্তি ও বিকাশ:
- হিজরি দ্বিতীয় শতকে ইমাম শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরী এবং ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান (রহ.)-এর মাধ্যমে এই ইলমের ভিত্তি রচিত হয়।
- হিজরি তৃতীয় শতকে ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (ইমাম বুখারীর উস্তাদ), ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল, ইমাম বুখারী এবং ইমাম আবু হাতিম আর-রাযী (রহ.)-এর হাতে এই ইলম পূর্ণ বিকাশ লাভ করে। ইমাম তিরমিযী তাঁর জামে কিতাবের শেষে ‘কিতাবুল ইলাল’ সংযোজন করেন।
- পরবর্তীতে ইমাম দারাকুতনী (রহ.) তাঁর কালজয়ী সুবিশাল গ্রন্থ আল-ইলালুল ওয়ারিদাহ ফিল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ (العلل الواردة في الأحاديث النبوية) রচনা করে এ শাস্ত্রকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
৩. হাদিসের গোপন ইল্লত জানার পদ্ধতিসমূহ (طرق معرفة العلة):
- বিভিন্ন সূত্রের হাদিস একত্রীকরণ (جمع طرق الحديث): একটি নির্দিষ্ট হাদিসের সমস্ত বিদ্যমান সনদ ও বর্ণনা একত্রিত করা। বিভিন্ন সূত্রের মধ্যে তুলনা করলেই কেবল অমিল ও বিকৃতি ধরা পড়ে।
- রাবীর বর্ণনার বৈপরীত্য পর্যবেক্ষণ (المقارنة بين الروايات): বিশ্বস্ত রাবীদের বর্ণনার বিপরীতে কোনো রাবী অতিরিক্ত শব্দ যোগ করেছেন কি না (ইদরাজ), অথবা মারফু হাদিসকে মওকুফ কিংবা মুত্তাসিল হাদিসকে মুরসাল বানিয়ে ফেলেছেন কি না—তা গভীরভাবে নিরীক্ষণ করা।
- মুহাদ্দিসের সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞা (ذوق المحدث ونقده): যেমন একজন স্বর্ণকার সোনা দেখেই খাঁটি-ভেজাল বুঝতে পারেন, তেমনি দীর্ঘদিনের হাদিস সাধনার মাধ্যমে বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের হৃদয়ে এমন এক ঐশী নূর ও বিচারক্ষমতা তৈরি হয় যার মাধ্যমে তাঁরা হাদিসের অন্তর্নিহিত ত্রুটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারেন।
مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ٥ = ٢٠)
(أجب عن أربعة من الأسئلة الآتية)
٩- عَرِّفِ السَّنَدَ وَالمَتْنَ، ثُمَّ بَيِّنِ الفَرْقَ بَيْنَهُمَا-
[৯. সনদ ও মতনের পরিচয় দাও। অতঃপর এদের মধ্যকার পার্থক্য নির্দেশ করো।]
১. আস-সনদ (السند):
- আভিধানিক অর্থ: যা কোনো বস্তুর জন্য অবলম্বন বা ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- পারিভাষিক অর্থ: سلسلة الرجال الموصلة للمتن (রাবীদের সেই ধারাবাহিক বর্ণনাপরম্পরা বা সূত্র, যা মূল হাদিসের বক্তব্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয়)। একে ‘তরীক্ব’ (طريق) বা ‘ওয়াজহ’ও বলা হয়।
২. আল-মতন (المتن):
- আভিধানিক অর্থ: শক্ত ও সমতল ভূমি, দেহের পিঠ বা মূল শরীর।
- পারিভাষিক অর্থ: ما ينتهي إليه السند من الكلام (সনদের ধারা সমাপ্ত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সা. বা সাহাবির যে মূল বক্তব্য, বাক্য বা কর্মের বিবরণ শুরু হয়, তাকে মতন বলে)।
৩. পার্থক্য: সনদ হলো হাদিসের বাহ্যিক স্তম্ভ ও মাধ্যম (কাদের মাধ্যমে কথাটি এসেছে); আর মতন হলো হাদিসের মূল বক্তব্য বা অভ্যন্তরীণ বিষয়বস্তু (কী বলা হয়েছে)। সনদ ছাড়া মতন প্রামাণিক নয়, আর মতন ছাড়া সনদের কোনো কার্যকারিতা নেই।
١٠- مَا هُوَ الإِسْنَادُ؟ وَمَا أَهَمِّيَّتُهُ فِي الإِسْلاَمِ؟
[১০. ইসনাদ কাকে বলে? ইসলামে ইসনাদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কতটুকু?]
১. ইসনাদের সংজ্ঞা: কোনো হাদিস বা বক্তব্যকে তার মূল বক্তা পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য ধারাবাহিকভাবে সনদের বর্ণনাকারীদের সূত্র উল্লেখ করাকে ‘ইসনাদ’ (الإسناد) বলা হয়।
২. ইসলামে ইসনাদের অপরিহার্য গুরুত্ব:
- দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ: বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন:
الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء
(“ইসনাদ হলো দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; যদি ইসনাদের ব্যবস্থা না থাকত, তবে যার যা মনে চাইত সে তা-ই দ্বীনের নামে বলে বেড়াত”)। - ভেজাল ও বিকৃতি প্রতিরোধ: ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহ.) বলেন: “ইসনাদ হলো মুমিনের অস্ত্র; যদি তার কাছে অস্ত্র না থাকে তবে সে কীভাবে যুদ্ধ করবে?” ইসনাদের মাধ্যমেই হাদিসের সত্যতা ও বর্ণনাকারীদের সততা যাচাই করা সম্ভব হয়।
١١- مَا المُرَادُ بِعِلْمِ نَاسِخِ الحَدِيثِ وَمَنْسُوخِهِ؟ بَيِّنْ مَعَ التَّمْثِيلِ-
[১১. ইলমে নাসিখ ও মানসূখুল হাদিস বলতে কী বোঝায়? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।]
১. নাসিখ ও মানসূখের সংজ্ঞা:
- ‘নাসখ’ (النسخ) অর্থ রহিত করা, বাতিল করা বা পরিবর্তন করা।
- পরিভাষায় শরিয়তের কোনো পূর্ববর্তী হুকুমকে তার পরবর্তী কোনো স্পষ্ট দলিল বা হাদিস দ্বারা প্রত্যাহার বা রহিত করাকে নাসখ বলা হয়। যে হাদিসটি পূর্বের বিধানকে রহিত করে তাকে নাসিখ (الناسخ) এবং যার বিধান রহিত হয়ে যায় তাকে মানসূখ (المنسوخ) বলা হয়।
২. প্রামাণ্য উদাহরণ: কবর জিয়ারত সংক্রান্ত বিখ্যাত হাদিস:
- মানসূখ হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইসলামের শুরুতে পৌত্তলিকতার প্রভাব দূর করার জন্য কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ করেছিলেন।
- নাসিখ হাদিস: পরবর্তীতে তাওহীদ সুদৃঢ় হলে তিনি পূর্বের নিষেধাজ্ঞা রহিত করে ঘোষণা করেন:
كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ القُبُورِ، فَزُورُوهَا؛ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُكُمُ الآخِرَةَ
(“আমি পূর্বে তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম; এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো, কেননা তা তোমাদের পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়”— সহীহ মুসলিম)।
١٢- عَرِّفِ المَشْهُورَ وَالعَزِيزَ وَالغَرِيبَ مُمَثَّلاً-
[১২. মাশহুর, আযীয ও গরীব হাদিসের সংজ্ঞা দাও এবং প্রতিটির উদাহরণ উপস্থাপন করো।]
- ১. আল-মাশহুর (المشهور): যে হাদিসের সনদের প্রতিটি স্তরে কমপক্ষে তিনজন বা ততোধিক রাবী থাকেন, কিন্তু মুতাওয়াতিরে পৌঁছে না।
উদাহরণ: المُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ (প্রকৃত মুসলিম সে যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে)। - ২. আল-আযীয (العزيز): যে হাদিসের সনদের কোনো স্তরে রাবীর সংখ্যা দুইজনের নিচে নামেনি (সর্বনিম্ন দুইজন বিদ্যমান)।
উদাহরণ: لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ। - ৩. আল-গরীব (الغريب): যে হাদিসের সনদের যেকোনো এক বা একাধিক স্তরে কেবল একজনমাত্র রাবী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
উদাহরণ: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ (সকল আমলের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)।
١٣- مَا هُوَ الخَبَرُ المُرْسَلُ؟ وَمَا حُكْمُهُ عِنْدَ المُحَدِّثِينَ؟
[১৩. খবরে মুরসাল কাকে বলে? মুহাদ্দিসগণের নিকট এর বিধান কী?]
১. মুরসালের সংজ্ঞা: যে হাদিসের সনদের শেষভাগে সাহাবির নাম উল্লেখ না করে কোনো তাবেয়ী সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরাতে বলেন: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا (রাসূলুল্লাহ সা. এরূপ বলেছেন), তাকে হাদিসে মুরসাল বলা হয়।
২. মুরসাল হাদিসের হুকুম:
- মুহাদ্দিসীনগণের জমহুর মত: মুরসাল হাদিস মূলত যয়ীফ বা দুর্বল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। কারণ যে মধ্যবর্তী রাবী উহ্য পড়েছেন তিনি সাহাবি ছিলেন নাকি অন্য কোনো দুর্বল তাবেয়ী ছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।
- ইমাম আবু হানীফা ও মালিক (রহ.)-এর মত: যদি মুরসালকারী তাবেয়ী নির্ভরযোগ্য (যেমন হাসান বসরী, ইবনুল মুসায়্যিব) হন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া অন্যের বরাতে মুরসাল না করার জন্য পরিচিত হন, তবে তাঁর মুরসাল হাদিস প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
- ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর শর্ত: মুরসালকারী যদি বড় মাপের তাবেয়ী হন এবং হাদিসটি অন্য কোনো মুসনাদ সনদ বা অন্য কোনো মুরসাল দ্বারা সমর্থিত হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে।
١٤- وَضِّحِ الفُرُوقَ بَيْنَ الحَدِيثِ وَالخَبَرِ وَالأَثَرِ وَالسُّنَّةِ-
[১৪. হাদিস, খবর, আসার এবং সুন্নাহর মধ্যকার পারস্পরিক পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।]
| পরিভাষা | পারিভাষিক অর্থ ও বৈশিষ্ট্য | তুলনামূলক পরিধি |
|---|---|---|
| হাদিস (الحديث) | যা বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম, গুণাবলী ও মৌন সম্মতিকে নির্দেশ করে। | কেবল মারফু (রাসূলের সাথে সংশ্লিষ্ট) বিষয়ের জন্য খাস। |
| খবর (الخبر) | যা রাসূলুল্লাহ (সা.) অথবা অন্য যেকোনো ব্যক্তি (যেমন পূর্ববর্তী রাজা-বাদশাহ ও জাতির ইতিহাস) সম্পর্কিত তথ্যকে বোঝায়। | হাদিসের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক (أعم من الحديث)। |
| আসার (الأثر) | যা মূলত সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের উক্তি, ফতোয়া ও আমলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। | মওকুফ ও মাক্বতূ বর্ণনার জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত। |
| সুন্নাহ (السنة) | রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গৃহীত দ্বীনি পথ, জীবনাদর্শ, তরীকা ও আদর্শিক আচরণ (যা অনুসরণযোগ্য)। | হাদিস হলো বাণীর রূপ, আর সুন্নাহ হলো তার বাস্তব আদর্শিক প্রয়োগ। |
١٥- مَا خَبَرُ الآحَادِ؟ وَمَا حُكْمُهُ فِي العَقَائِدِ وَالأَحْكَامِ؟
[১৫. খবরে আহাদ কাকে বলে? আক্বিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে এর বিধান কী?]
১. খবরে আহাদের পরিচয়: যে হাদিসের সনদ মুতাওয়াতিরের স্তরে পৌঁছেনি এবং যাতে এক বা একাধিক বর্ণনাকারী বিদ্যমান থাকে, তাকে খবরে আহাদ বলা হয়।
২. আহকাম ও শরিয়তের বিধানে এর হুকুম:
- যদি খবরে আহাদ সহীহ বা হাসান হয়, তবে শরিয়তের সমস্ত ব্যবহারিক বিধান (হালাল, হারাম, ওয়াজিব, মুস্তাহাব) প্রমাণ করার ক্ষেত্রে তা সর্বসম্মতিক্রমে অকাট্য দলিল এবং তার ওপর আমল করা ওয়াজিব। সাহাবায়ে কেরাম একক ব্যক্তির সাক্ষ্য বা বর্ণনায় কিবলার পরিবর্তন ও মদ্যপানের নিষেধাজ্ঞার ওপর সাথে সাথে আমল করেছিলেন।
৩. আক্বিদা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এর হুকুম:
- আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অধিকাংশ ইমামগণের মতে, সহীহ সনদে বর্ণিত খবরে আহাদ দ্বীনের শাখাগত আক্বিদা (যেমন কবরের আযাব, হাউয, শাফাআত, মিজান) প্রমাণের জন্য নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য। তবে মৌলিক ঈমানের যেসকল বিষয় অস্বীকার করলে কাফির হতে হয়, তা প্রমাণের জন্য মুতাওয়াতির দলিল আবশ্যক।
١٦- مَنْ هُوَ الحَافِظُ وَالحَاكِمُ فِي اصْطِلاَحِ المُحَدِّثِينَ؟
[১৬. মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘হাফেজ’ এবং ‘হাকিম’ কাকে বলা হয়?]
১. আল-হাফেজ (الحافظ):
- মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় যিনি এক লক্ষ হাদিস সনদ ও মতনসহ মুখস্থ রাখেন এবং সনদের প্রতিটি স্তরের বর্ণনাকারীদের আদালত, যবত ও জীবনী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অবগত থাকেন।
- তিনি যা জানেন তার পরিমাণ যা জানেন না তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হতে হবে। যেমন: হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী, হাফেজ আয-যাহাবী (রহ.)।
২. আল-হাকিম (الحاكم):
- হাদিস শাস্ত্রে এটি হাফেজের চেয়েও উচ্চতর মর্যাদা। যিনি হাদিস শাস্ত্রের সমস্ত কিতাবের প্রায় সকল সনদের বিবরণ, বর্ণনাকারীদের ব্যক্তিগত ইতিহাস, ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং রাবীদের গ্রহণযোগ্যতা-অগ্রহণযোগ্যতা পূর্ণাঙ্গরূপে নিজের জ্ঞানে ধারণ করেন।
- কোনো নির্দিষ্ট হাদিস তাঁর অজ্ঞাত থাকার ঘটনা নিতান্তই বিরল। যেমন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী (রহ.)।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. উলূমুল হাদিস বিষয়ের প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বণ্টন কেমন?
উলূমুল হাদিস (কোড: ২০৪২০২) বিষয়ের পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং সময় ৪ ঘণ্টা। ক-বিভাগ থেকে ৪টি বড় প্রশ্নের জন্য ৬০ নম্বর এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য ২০ নম্বর নির্ধারিত থাকে।
২. সহীহ হাদিস চেনার জন্য কয়টি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক?
যেকোনো হাদিসকে ‘সহীহ’ হিসেবে সাব্যস্ত করতে ৫টি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক: সনদের নিরবচ্ছিন্নতা, রাবীর আদালত বা সততা, রাবীর স্মৃতিশক্তির পূর্ণাঙ্গতা, শায না হওয়া এবং সূক্ষ্ম ক্ষতিকর ত্রুটি (ইল্লত) মুক্ত হওয়া।
৩. জারহ ও তা’দীল শাস্ত্র কেন প্রয়োজন হয়েছিল?
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামে প্রচারিত বর্ণনাগুলো থেকে বানোয়াট ও দুর্বল কথাগুলো দূর করে রাবীদের ব্যক্তিগত সততা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে হাদিসের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য জারহ ও তা’দীল শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল।
৪. যয়ীফ হাদিস দিয়ে কি কোনো হালাল বা হারাম বিধান প্রমাণ করা যায়?
না, যয়ীফ হাদিস দ্বারা শরিয়তের হালাল, হারাম বা কোনো মৌলিক বিধান প্রমাণ করা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয। এটি কেবল কতিপয় শর্তসাপেক্ষে নফল আমলের ফযীলত বর্ণনায় প্রযোজ্য।
৫. হাদিস ও সুন্নাহর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
হাদিস হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথা, কাজ ও সম্মতির বাচনিক বিবরণ বা রেকর্ড; আর সুন্নাহ হলো তাঁর সার্বিক আদর্শিক পথ ও দ্বীনি বাস্তব প্রয়োগ যা মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয়।
৬. খ-বিভাগের প্রশ্নোত্তরে সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করার উপায় কী?
খ-বিভাগের ৫ নম্বরের প্রশ্নের জন্য অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ভূমিকা বর্জন করে সুনির্দিষ্ট পারিভাষিক সংজ্ঞা, বিশুদ্ধ আরবি উদ্ধৃতি ও ছক আকারে পার্থক্য এবং উদাহরণ উপস্থাপন করাই সর্বোত্তম।