জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ (At-Tafsir Bidunis Sanad) – 201201, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2021

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৫০ মিনিট পড়ার সময়
১৬ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2021
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ (التفسير بدون السند)
বিষয় কোড: 201201 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে যে কোনো পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (أ) – ক বিভাগ: আয়াতভিত্তিক তাফসির ও প্রশ্নোত্তর

١- قال الله تعالى: ﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ۝ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ۝ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ﴾

[১. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবলমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ, যাদের আপনি পুরস্কৃত ও নিয়ামত দান করেছেন; তাদের পথ নয়, যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট।” (সূরা আল-ফাতিহা: ৫-৭)]

আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত তাফসির:

সূরা আল-ফাতিহার এ আয়াতগুলোতে তাওহীদুল ইবাদত ও তাওহীদুল ইসতি’আনাহ্-এর মৌলিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ‘আইয়্যাকা না’বুদু’ বাক্যে সর্বনামকে পূর্বে এনে একত্ববাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ আমরা কেবল আপনারই গোলামি করি। আর ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাক্বীম’ হলো সমগ্র কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ দু’আ, যার মাধ্যমে সিরাতে মুস্তাকীমের হিদায়াত প্রার্থনা করা হয়েছে এবং অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

(أ) ما المراد بالصراط المستقيم؟ بيّن-

[(ক) الصراط المستقيم দ্বারা উদ্দেশ্য কী? বর্ণনা কর।]

‘আস-সিরাত আল-মুস্তাক্বীম’ (الصراط المستقيم)-এর পরিচয় ও তাৎপর্য:

১. আভিধানিক অর্থ:
‘সিরাত’ (الصراط) শব্দের অর্থ পথ, রাস্তা বা মহাসড়ক। আর ‘মুস্তাক্বীম’ (المستقيم) শব্দের অর্থ সরল, সোজা, অবিচল, যার মধ্যে কোনো বক্রতা বা জটিলতা নেই। সুতরাং ‘সিরাতে মুস্তাক্বীম’ অর্থ হলো সরল ও সঠিক পথ।

২. পারিভাষিক অর্থ ও মুফাসসিরগণের অভিমত:

  • ইসলাম ধর্ম: প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এবং ইমাম তাবারী (রহ.)-এর মতে, সিরাতে মুস্তাক্বীম হলো দ্বীন ইসলাম, যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য মনোনীত করেছেন।
  • পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ: হযরত আলী (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—সিরাতে মুস্তাক্বীম হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআনুল কারীম) এবং রাসূলের সুন্নাহ।
  • হক ও সত্যের পথ: আল্লামা বায়যাবী (রহ.) স্বীয় তাফসিরে উল্লেখ করেছেন, সিরাতে মুস্তাক্বীম হলো এমন মধ্যমপন্থা যা চরমপন্থা (ইফরাত) এবং শিথিলতা (তাফ্রীত)-এর মাঝামাঝি অবস্থিত এক ভারসাম্যপূর্ণ পথ।

উপসংহার: সিরাতে মুস্তাক্বীম হলো এমন এক নিখুঁত জীবনাদর্শ, যা মানুষকে ইহকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকালে জান্নাতের চিরস্থায়ী শান্তির পথে পরিচালিত করে।

(ب) على من أنعم الله عليهم؟ بيّن-

[(খ) আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতপ্রাপ্ত কারা? বর্ণনা কর।]

আল্লাহ তা’আলার নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয়:

সূরা আন-নিসার ৬৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তা’আলা নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুস্পষ্ট শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা করেছেন:

﴿وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا﴾

এ আয়াত অনুযায়ী নিয়ামতপ্রাপ্ত দল চারটি:

  1. আন-নাবিয়্যীন (نبيين – নবী-রাসূলগণ): যাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি ওহীপ্রাপ্ত হয়ে মানবজাতিকে হিদায়াতের পথ প্রদর্শন করেছেন। তাঁরা সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও নিষ্পাপ।
  2. আস-সিদ্দীক্বীন (صديقين – সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ): যাঁরা নবীগণের আনীত সত্যকে কোনো প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে সত্যায়ন করেছেন এবং জীবনে সত্য ও নিষ্ঠার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন, যেমন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)।
  3. আশ-শুহাদা (شهداء – শহীদগণ): যাঁরা আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত রাখতে এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
  4. আস-সালিহীন (صالحين – সৎকর্মপরায়ণ বান্দাগণ): যাঁরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে পালন করে পুণ্যময় জীবন অতিবাহিত করেন।

٢- قال الله تعالى: ﴿الم ۝ ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ ۝ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ﴾

[২. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আলিফ-লাম-মীম। এ সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; পথপ্রদর্শনকারী মুত্তাকীদের জন্য। যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে জীবনোপকরণ দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।” (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১-৩)]

আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত তাফসির:

কুরআনের শুরুতেই কিতাবের সত্যতা ও নির্ভুলতা ঘোষণা করে বলা হয়েছে এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এটি সকল মুত্তাকী ও আল্লাহভীরু মানুষের জন্য দিশারী। এরপর মুত্তাকীদের তিনটি প্রধান গুণ উল্লেখ করা হয়েছে: গায়েবের প্রতি অটল ঈমান, যথাযথভাবে সালাত আদায় এবং আল্লাহর রাস্তায় ইনফাক্ব করা।

(الف) ما المراد بالحروف المقطعات؟ بيّن-

[(ক) الحروف المقطعات দ্বারা উদ্দেশ্য কী? বর্ণনা কর।]

হুরুফে মুকাত্তা’আত (الحروف المقطعات)-এর তাৎপর্য:

১. শাব্দিক অর্থ: ‘হুরুফ’ হলো হরফের বহুবচন, অর্থ বর্ণমালা। আর ‘মুক্বাত্তা’আত’ শব্দের অর্থ বিচ্ছিন্ন বা পৃথক পৃথক। কুরআনের ২৯টি সূরার প্রারম্ভে ব্যবহৃত বিচ্ছিন্ন হরফসমূহকে হুরুফে মুকাত্তা’আত বলা হয়, যেমন—الم، الر، حم، يس، طه ইত্যাদি।

২. ওলামায়ে কেরামের অভিমত:

  • মুতাশাবিহাত ও নিগূঢ় রহস্য: খোলাফায়ে রাশেদীন ও জমহুর সালাফের মতে, এ হরফগুলো মুতাশাবিহাতের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রকৃত অর্থ ও রহস্য একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই ভালো জানেন।
  • কুরআনের মুজিযা ও চ্যালেঞ্জ: আল্লামা যামাখশারী ও হাফিজ ইবনে কাসীর (রহ.)-এর মতে, আরবরা যে ভাষায় কথা বলত, সেই ভাষার পরিচিত বর্ণমালা দিয়েই কুরআন রচিত। অথচ তারা এর একটি সূরার সমকক্ষ রচনা করতে সম্পূর্ণ অক্ষম। এটি কুরআনের অলৌকিকত্ব ও অপার্থিবতার উজ্জ্বল প্রমাণ।
  • শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ: মুশরিকরা যখন কুরআন তিলাওয়াত শুনতে বাধা দিত, তখন এসব গম্ভীর ও অনুপম হরফের উচ্চারণ তাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করত।

(ب) لم قال الله تعالى هدى للمتقين، دون هدى للناس او هدى للصالحين؟

[(খ) আল্লাহ তায়ালা هدى للمتقين কেন বলেছেন, هدى للناس অথবা هدى للصالحين না বলে?]

‘হুদাল লিল মুত্তাক্বীন’ বলার হিকমত ও তাৎপর্য:

  • আম ও খাছ হিদায়াত: যদিও কুরআন মূলত সমগ্র মানবজাতির জন্য পথনির্দেশক (هدى للناس – সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৫), কিন্তু বাস্তবে কুরআনের হিদায়াত দ্বারা তারাই উপকৃত হয় যাদের অন্তরে খোদাভীতি ও তাকওয়া রয়েছে।
  • গ্রহণের যোগ্যতা: জমিনে বৃষ্টি বর্ষিত হলে কেবল উর্বর জমিনই শস্য উৎপন্ন করে। একইভাবে অন্তরে তাকওয়া না থাকলে কুরআনের নূরে অন্তর আলোকিত হয় না। তাই উপকৃত হওয়ার দিক বিবেচনা করে একে মুত্তাকীদের সাথে নির্দিষ্ট (هدى للمتقين) করা হয়েছে।
  • ‘হুদাল লিস-সালিহীন’ না বলার কারণ: মানুষ কুরআন অনুসরণ করার মাধ্যমেই ‘সালিহ’ বা নেককারে পরিণত হয়। তাকওয়া হলো হিদায়াত গ্রহণের প্রাথমিক শর্ত, আর ‘সালিহ’ হওয়া হলো তার চূড়ান্ত ফল। তাই শর্ত হিসেবে তাকওয়ার উল্লেখ অধিক যুক্তিযুক্ত হয়েছে।

٣- قال الله تعالى: ﴿وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَىٰ شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ ۝ اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ ۝ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ﴾

[৩. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আর যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে: আমরা ঈমান এনেছি। আর যখন তারা গোপনে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে: আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, আমরা তো কেবল উপহাসকারী মাত্র। আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর অবকাশ দেন। এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ক্রয় করেছে; সুতরাং তাদের এ ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না।” (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৪-১৬)]

(الف) عرّف النفاق ثم بيّن صفات المنافقين في ضوء الكتاب والسنة-

[(ক) نفاق এর সংজ্ঞা দাও, অতঃপর কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।]

নিফাক্ব (النفاق)-এর পরিচয় ও মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য:

১. নিফাক্বের সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে নিফাক্ব হলো কোনো সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে অন্য দিক দিয়ে বের হওয়া বা দ্বিচারিতা করা। শরীয়তের পরিভাষায়, অন্তরে কুফর বা অবিশ্বাস গোপন রেখে মুখে ও বাহ্যিকভাবে ঈমানের প্রকাশ করাকে নিফাক্ব বলা হয়।

২. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য:

  • দ্বিমুখী চরিত্র: মুমিনদের সামনে এক রূপ এবং গোপন মজলিসে কাফের বন্ধুদের সামনে বিপরীত রূপ প্রকাশ করা।
  • মিথ্যাচার ও বিশ্বাসঘাতকতা: হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—”মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।” (সহীহ বুখারী)।
  • সালাতে অলসতা ও রিয়া: সূরা আন-নিসায় বলা হয়েছে, তারা যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায় এবং মানুষকে দেখানোর জন্য লোকদেখানো ইবাদত করে।
  • আল্লাহর পথে অনীহা ও অপপ্রচার: জিহাদ ও ত্যাগ-তিতিক্ষার সময় ভীরুতা প্রদর্শন করা এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া।

(ب) كيف اشتروا الضلالة بالهدى؟ بيّن-

[(খ) তারা কীভাবে الهدى এর বিনিময়ে الضلالة ক্রয় করে বর্ণনা কর।]

হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ক্রয়ের স্বরূপ:

আয়াতে ‘ইশতারও’ (اشْتَرَوُا) শব্দটি রূপকার্থে (ইস্তি’আরা) ব্যবহৃত হয়েছে। ক্রয়-বিক্রয়ে মানুষ যেমন মূল্যবান পণ্যের বিনিময়ে পছন্দের বস্তু গ্রহণ করে, মুনাফিকরাও তেমনি:

  1. তাদের সামনে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও হিদায়াতের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা সত্য দ্বীনকে পরিত্যাগ করে অন্ধ ভ্রষ্টতা, অহংকার ও দুনিয়াবি স্বার্থকে বেছে নিয়েছে।
  2. তারা আল্লাহর নূরকে অবজ্ঞা করে জাহেলিয়াতের অন্ধকারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
  3. ফলে তাদের এই পার্থিব ও পারলৌকিক ব্যবসা চরম লোকসানে পরিণত হয়েছে; তারা দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত হয়েছে এবং আখিরাতেও জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (দারে আস-আসফাল) নিক্ষিপ্ত হবে।

٤- قال الله تعالى: ﴿هُوَ الَّذِي أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ ۖ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ ۗ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ ۗ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِّنْ عِندِ رَبِّنَا ۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ﴾

[৪. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “তিনিই সেই সত্তা, যিনি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তার মধ্যে কিছু আয়াত রয়েছে ‘মুহকাম’ (সুস্পষ্ট), যা কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো ‘মুতাশাবিহ’ (রূপক বা অস্পষ্ট)। অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং মনগড়া ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহাতের পেছনে পড়ে। অথচ এর প্রকৃত ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে: আমরা এতে ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত।” (সূরা আলে ইমরান: ৭)]

(الف) ما معنى المحكم والمتشابه؟ ثم بيّن قوله تعالى: “هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ”-

[(ক) محكم এবং متشابه এর অর্থ কী? আল্লাহ তায়ালার বাণী: هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ এবং وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ এর ব্যাখ্যা লেখ।]

মুহকাম ও মুতাশাবিহ-এর অর্থ ও বিশ্লেষণ:

  • মুহকাম (المحكم): যে আয়াতের অর্থ অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যাতে কোনো অস্পষ্টতা বা একাধিক ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। যেমন: হালাল-হারাম, আকীদা, উত্তরাধিকার ও শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধিবিধান।
  • মুতাশাবিহ (المتشابه): যে আয়াতের অর্থ অস্পষ্ট এবং বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে; যেমন আল্লাহর সিফাত সম্পর্কিত আয়াতসমূহ (হাত, চেহারা, আরশে সমাসীন হওয়া) কিংবা হুরুফে মুকাত্তা’আত।
  • ‘হুন্না উম্মুল কিতাব’ (هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ): মুহকামাত আয়াতসমূহ হলো কুরআনের মূল ভিত্তি ও মেরুদণ্ড। কোনো মুতাশাবিহ আয়াতের অর্থ অনুধাবনে সংশয় দেখা দিলে এই মুহকাম আয়াতের আলোকেই তার সমাধান করতে হবে।

(ب) ما المراد بقوله تعالى “وما يعلم تأويله إلا الله، والراسخون في العلم”؟

[(খ) আল্লাহ তায়ালার বাণী: وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ এবং وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]

মুফাসসিরগণের অভিমত ও ওয়াক্ফের বিধান:

  1. প্রথম মত (সালাফ ও জমহুর): ‘ইল্লাল্লাহ’ (إِلَّا اللَّهُ)-তে ওয়াকফে লাযিম করা। অর্থাৎ মুতাশাবিহাতের প্রকৃত হাকীকত ও গুঢ় রহস্য একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই জানেন। আর ‘জ্ঞানবান প্রাজ্ঞ পণ্ডিতগণ’ (الراسخون في العلم) তা জেনে অহংকার না করে বিনম্রভাবে বলেন: “আমরা এতে বিশ্বাস করি, সবই আমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে আগত।”
  2. দ্বিতীয় মত (মুজাহিদ ও আল্লামা ইবনে কাসীর): ‘ওয়াও’ হরফটিকে আত্ফ ধরে অর্থ করা—মুতাশাবিহাতের সঠিক তা’বীল আল্লাহ তা’আলা জানেন এবং জ্ঞানে সুগভীর আলেমগণও আল্লাহর দেওয়া ইলমের সাহায্যে এর গভীর প্রজ্ঞা উপলব্ধি করতে পারেন।

٥- قال الله تعالى: ﴿شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ۝ إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ۗ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ﴾

[৫. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; এবং ফেরেশতাগণ ও ন্যায়বিচারক জ্ঞানী ব্যক্তিগণও সাক্ষ্য দিচ্ছেন—তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা জ্ঞান আসার পরও কেবল পরস্পর বিদ্বেষবশত মতভেদ করেছিল।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮-১৯)]

(الف) ما معنى الشهادة؟ وما الفرق بين شهادة الله وشهادة الملائكة وشهادة أولي العلم؟

[(ক) شهادة এর অর্থ কী? شهادة الله, شهادة الملائكة এবং شهادة اولي العلم এর মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]

শাহাদাতের অর্থ ও শ্রেণিভিত্তিক পার্থক্য:

১. শাহাদাত (الشهادة): আভিধানিক অর্থ প্রত্যক্ষ দর্শন, নিশ্চিত জ্ঞান লাভ ও মৌখিক সত্য সাক্ষ্য প্রদান।

২. তিন শ্রেণির সাক্ষ্যের পার্থক্য:

  • শাহাদাতুল্লাহ (شهادة الله): আল্লাহর সাক্ষ্য হলো সৃষ্টির সৃষ্টিপ্রক্রিয়ায় স্বীয় একত্ববাদের অকাট্য নিদর্শন স্থাপন, ওহী অবতীর্ণকরণ এবং স্বয়ং নিজের অদ্বিতীয় রবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের ঘোষণা প্রদান।
  • শাহাদাতুল মালাইকাহ (شهادة الملائكة): ফেরেশতাগণের সাক্ষ্য হলো কায়মনোবাক্যে আল্লাহর একক সত্তা ও সিফাতকে মেনে নিয়ে তাঁর সার্বক্ষণিক আনুগত্য ও তাসবীহ পাঠ করা।
  • শাহাদাতু উলিল ইলম (شهادة أولي العلم): আলেম ও জ্ঞানীদের সাক্ষ্য হলো বুদ্ধিদীপ্ত দলিল, প্রামাণ্য যুক্তি এবং দ্বীন প্রচার ও আমলের মাধ্যমে আল্লাহর তাওহীদের সত্যায়ন করা। এখানে জ্ঞানীদের মর্যাদাকে আল্লাহ নিজের ও ফেরেশতাদের সাথে যুক্ত করে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

(ب) ما الفرق بين الإسلام والإيمان؟

[(খ) إسلام এবং إيمان এর মধ্যে পার্থক্য কী?]

ইসলাম ও ঈমানের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্য:

  • ঈমান (الإيمان): আভিধানিক অর্থ অন্তরের অবিচল বিশ্বাস ও তাসদীক্ব। শরীয়তের দৃষ্টিতে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, তাকদীর ও আখেরাতের প্রতি অন্তরে দৃঢ় প্রত্যয় স্থাপন করাকে ঈমান বলে।
  • ইসলাম (الإسلام): আভিধানিক অর্থ আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য। শরীয়তে আল্লাহর বিধানাবলীর সামনে বাহ্যিকভাবে মাথা নত করা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল ও ইবাদত সম্পাদন করাকে ইসলাম বলে।
  • পারস্পরিক সম্পর্ক: হাদীসে জিবরীলে ঈমানকে অন্তরের বিশ্বাস এবং ইসলামকে বাহ্যিক পাঁচটি রুকন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে: «قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَٰكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا» — “মরুবাসীরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। বলুন, তোমরা ঈমান আনোনি; বরং বল আমরা আত্মসমর্পণ করেছি।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১৪)।

٦- قال الله تعالى: ﴿وَآتُوا الْيَتَامَىٰ أَمْوَالَهُمْ ۖ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ ۖ وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَىٰ أَمْوَالِكُمْ ۚ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا﴾

[৬. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আর তোমরা ইয়াতীমদের তাদের ধন-সম্পদ বুঝিয়ে দাও। ভালো মালের সাথে মন্দ মালের অদল-বদল করো না এবং তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটি মহাপাপ।” (সূরা আন-নিসা: ২)]

(الف) من هم اليتامى؟ لِمَ أكّد الله في أداء حقوق اليتامى؟

[(ক) اليتامى কারা? আল্লাহ তায়ালা اليتامى এর হকসমূহ আদায়ে কেন তাকীদ দিয়েছেন?]

ইয়াতীমের পরিচয় ও তাদের অধিকারের গুরুত্ব:

১. ইয়াতীমের পরিচয়: যে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর পিতা ইন্তেকাল করেছেন, বালেগ হওয়া পর্যন্ত শরীয়তের দৃষ্টিতে তাকে ‘ইয়াতীম’ বলা হয়।

২. হক্ব আদায়ে কঠোর তাকীদের কারণ:

  • পিতার ছায়াহীন অসহায় এ শিশুরা সমাজে দুর্বল ও অভিভাবকহীন থাকে, ফলে লোভী অভিভাবক বা আত্মীয়স্বজন দ্বারা তাদের সম্পদ আত্মসাতের প্রবল আশঙ্কা থাকে।
  • জাহেলী যুগে আরব সমাজে ইয়াতীমদের অধিকার হরণ করা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। ইসলাম এসে এই সামাজিক অবিচার কঠোর হস্তে দমন করে তাদের সুরক্ষার বিধান দেয়।
  • কুরআনে ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎকারীকে পেটে আগুন ভক্ষণকারীর সাথে তুলনা করা হয়েছে।

(ب) أوضح قوله تعالى: “ولا تتبدّلوا الخبيث بالطيّب”-

[(খ) আল্লাহ তায়ালার বাণী: ولا تتبدّلوا الخبيث بالطيّب এর ব্যাখ্যা কর।]

ব্যাখ্যা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

জাহেলী যুগে কোনো কোনো অভিভাবক ইয়াতীমের উৎকৃষ্ট ছাগল, উট বা স্বর্ণমুদ্রা নিজের নিম্নমানের বা রোগাক্রান্ত পশুর সাথে গোপনে বদলে নিত। আল্লাহ তা’আলা এ কাজের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন: তোমরা ইয়াতীমের উৎকৃষ্ট হালাল সম্পদকে নিজেদের নিকৃষ্ট বা হারাম বস্তু দিয়ে পরিবর্তন করো না। অভিভাবকের জন্য ইয়াতীমের সম্পদ আমানতস্বরূপ, যার তিল পরিমাণ অপচয় করাও হারাম।


٧- قال الله تعالى: ﴿لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ ۚ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا﴾

[৭. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ রয়েছে; তা কম হোক কিংবা বেশি হোক—একটি নির্ধারিত অংশ।” (সূরা আন-নিসা: ৭)]

(الف) ما المراد بقوله تعالى: “للرجال نصيب مما ترك الوالدان والاقربون”؟

[(ক) আল্লাহ তায়ালার বাণী: للرجال نصيب مما ترك الوالدان والاقربون দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]

উত্তরাধিকার আইনের বিপ্লবী সংস্কার:

জাহেলী যুগে আরবরা কেবল অস্ত্রধারণে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদেরই ওয়ারিশ করত। নারী ও দুর্বল শিশুদের কোনো উত্তরাধিকার দেওয়া হতো না। এ আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম ইতিহাসের প্রথম বৈপ্লবিক আইন জারি করে যে, পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের সম্পত্তিতে পুরুষদের যেমন অবিসংবাদিত অধিকার রয়েছে, তেমনি নারীদেরও সুনির্দিষ্ট হিস্যা রয়েছে।

(ب) أوضح قوله تعالى: “مما قلّ منه أو كثر نصيبًا مفروضًا”-

[(খ) আল্লাহ তায়ালার বাণী: مما قلّ منه أو كثر نصيبًا مفروضًا এর ব্যাখ্যা লেখ।]

ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য:

পরিত্যক্ত সম্পত্তির পরিমাণ যত সামান্য বা নগণ্যই হোক না কেন—একটি সূঁচ বা বস্ত্রখণ্ড হোক কিংবা অঢেল স্বর্ণভাণ্ডার হোক—তাতে প্রত্যেকের অংশ শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত (নাসীবাও মাফরূদা)। কেউ নিজ ক্ষমতায় বা যুক্তিতে এ অংশ হ্রাস-বৃদ্ধি বা কাউকে বঞ্চিত করতে পারবে না।


٨- قال الله تعالى: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ ۚ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۗ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ﴾

[৮. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর। তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, সেগুলো ব্যতীত যা তোমাদের কাছে পাঠ করে শোনানো হবে; তবে ইহরাম অবস্থায় শিকার করাকে হালাল মনে করো না। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা নির্দেশ দেন।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ১)]

(الف) ما معنى العقود؟ وما المراد بقوله تعالى: “يا أيها الذين آمنوا أوفوا بالعقود”؟

[(ক) العقود এর অর্থ কী? আল্লাহ তায়ালার বাণী: يا أيها الذين آمنوا أوفوا بالعقود দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]

আল-উকূদ (العقود)-এর তাৎপর্য:

১. আভিধানিক অর্থ: ‘উকূদ’ হলো ‘আক্বদ’-এর বহুবচন, অর্থ দৃঢ় গ্রন্থি, চুক্তি, অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি।

২. আয়াতের উদ্দেশ্য: বান্দা হিসেবে মানুষের জীবনের সকল বৈধ চুক্তি পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

  • আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার চুক্তি (রূহের জগতের ‘বালা’ স্বীকৃতি ও ঈমানী দায়িত্ব)।
  • পারস্পরিক সামাজিক চুক্তি (ব্যবসা-বাণিজ্য, বিবাহ, ঋণ ও আমানতের অঙ্গীকার)।
  • রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ধি-চুক্তি রক্ষা করা।

(ب) ما معنى الصيد؟ وما حكم اقتناص الصيد في حالة الإحرام؟ بيّن-

[(খ) الصيد এর অর্থ কী? মুহরিম অবস্থায় বন্যপশু শিকার করার হুকুম কী? বর্ণনা কর।]

আস-সাইদ ও ইহরাম অবস্থায় শিকারের বিধান:

১. ‘আস-সাইদ’ (الصيد): এমন হালাল বন্যপশু যা স্বভাবগতভাবে মানুষের বশীভূত নয় এবং শিকার ব্যতীত যাকে আয়ত্ত করা যায় না।

২. ইহরাম অবস্থায় হুকুম: হজ বা উমরার ইহরাম পরিধানরত অবস্থায় স্থলভাগের বন্যপশু শিকার করা সম্পূর্ণ হারাম (সূরা আল-মায়িদাহ: ৯৫)। যদি কোনো মুহরিম ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার করে, তবে তাকে সমপরিমাণ গৃহপালিত পশুর কাফফারা বা জরিমানা প্রদান করতে হবে। তবে গৃহপালিত পশু জবাই করা এবং হিংস্র ক্ষতিকর প্রাণী (যেমন: সাপ, বিচ্ছু, ক্ষিপ্ত কুকুর) বধ করা জায়েয।


مجموعة (ب) – খ বিভাগ: তাফসির শাস্ত্র ও গ্রন্থ পরিচিতি

٩- ما معنى التفسير؟ وكم قسما له؟ اكتب خصائص التفسير بدون السند-

[৯. التفسير এর অর্থ কী? তা কত প্রকার? التفسير بدون السند এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

১. তাফসিরের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ:

আভিধানিক অর্থ: ‘তাফসির’ (التفسير) শব্দটি ‘ফাসর’ (فَسْرٌ) ধাতু থেকে তাফ’ঈল বাবে গঠিত, যার অর্থ উন্মোচন করা, স্পষ্ট করা, ব্যাখ্যা করা ও আবরণ সরানো।

পারিভাষিক অর্থ: ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর মতে, তাফসির হলো এমন এক শাস্ত্র যার দ্বারা মানবীয় শক্তি অনুযায়ী আল-কুরআনের অর্থ, নির্দেশনাবলী ও অন্তর্নিহিত হিকমত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

২. তাফসিরের মূল প্রকারভেদ:

  • আত-তাফসির বিল মা’ছুর (التفسير بالمأثور): কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবী ও তাবেঈগণের নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে কৃত তাফসির।
  • আত-তাফসির বির রা’ঈ (التفسير بالرأي): আরবী ভাষা, ব্যাকরণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ ইজতিহাদের ভিত্তিতে রচিত তাফসির।
  • আত-তাফসিরুল ইশারী (التفسير الإشاري): সূফী ও বুজুর্গগণের আত্মিক উপলব্ধিভিত্তিক রূপক তাফসির।

৩. আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ (التفسير بدون السند)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

সনদবিহীন তাফসির সাহিত্যের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:

  1. সনদ বর্জন ও সংক্ষেপণ: প্রাথমিক যুগের তাফসিরগুলোতে দীর্ঘ বর্ণনাকারী পরম্পরা (সনদ) উল্লেখ থাকত। পরবর্তী যুগে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সনদ বাদ দিয়ে সরাসরি বক্তব্য সংকলন করা হয়।
  2. ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ: বাক্যের গঠন, নাহু-সরফের জটিল সমাধান এবং বালাগাতের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা।
  3. ফিক্বহী ও কালামী বিতর্ক উপস্থাপন: মুফাসসিরগণ স্ব স্ব মাযহাবের দলিল ও দার্শনিক প্রশ্নের যৌক্তিক জবাব সন্নিবেশিত করেছেন।
  4. সারগর্ভ ও তথ্যবহুল উপস্থাপনা: অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ বর্ণনা পরিহার করে আয়াতের মূল বার্তা সংক্ষেপে তুলে ধরা।

١٠- اكتب حياة ناصر الدين البيضاوي (رح) مع خصائص تفسيره-

[১০. ناصر الدين البيضاوي এর জীবনীসহ তাঁর তাফসির গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যাবলি লেখ।]

১. ইমাম বায়যাবী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

  • নাম ও উপাধি: আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-বায়যাবী; উপাধি নাসিরুদ্দীন (ناصر الدين)।
  • জন্ম ও বংশ: তিনি ইরানের ফারস প্রদেশের অন্তর্গত ‘বায়যা’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন ফারস অঞ্চলের প্রধান বিচারপতি (কাযীউল কুযাত)।
  • কর্মজীবন: তিনিও স্বীয় মেধা ও যোগ্যতাবলে সিরাজ নগরের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
  • ইনতিকাল: তিনি ৬৮৫ হিজরী (মতান্তরে ৬৯১ হিজরী) তাবরীয শহরে ইনতিকাল করেন।

২. তাফসিরে বায়যাবীর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

তাঁর জগদ্বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থের নাম ‘আনওয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তা’বীল’ (أنوار التنزيل وأسرار التأويل), যা সাধারণ্যে ‘তাফসিরে বায়যাবী’ নামে পরিচিত:

  1. যামাখশারীর তাফসিরে কাশশাফের সারসংক্ষেপ: তিনি কাশশাফের অনুপম বালাগাত ও আরবী সাহিত্যের সৌন্দর্য গ্রহণ করেছেন কিন্তু মু’তাযিলা মতবাদ বর্জন করে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
  2. সংক্ষিপ্ততা ও চমৎকার বাচনভঙ্গি: অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বাক্যে গভীর জ্ঞানের সমাবেশ ঘটিয়েছেন।
  3. কিরাআত ও ব্যাকরণিক আলোচনা: প্রামাণ্য কিরাআত এবং নাহুর জটিল বিশ্লেষণ নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
  4. দরসে নেযামীর পাঠ্যবই: শত শত বছর ধরে মুসলিম বিশ্বের মাদরাসাগুলোতে এটি উচ্চতর পাঠ্য হিসেবে সমাদৃত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ বিষয়ের গুরুত্ব কী?

এ বিষয়ে দীর্ঘ সনদ পরিহার করে আয়াতের গভীর তাত্ত্বিক, ব্যাকরণিক ও সাহিত্যিক রূপ সরাসরি উপস্থাপন করা হয়, যা কুরআন বুঝাকে সহজ করে তোলে।

২. হুরুফে মুকাত্তা’আত বলতে কী বোঝায়?

কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে ব্যবহৃত বিচ্ছিন্ন হরফসমূহকে হুরুফে মুকাত্তা’আত বলা হয়, যা আল্লাহর অনন্য মুজিযা ও রহস্যময় নিদর্শন।

৩. সিরাতে মুস্তাক্বীমের সর্বোত্তম সংজ্ঞা কী?

সিরাতে মুস্তাক্বীম হলো দ্বীন ইসলাম, আল-কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ নির্দেশিত ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবিধান।

৪. তাফসিরে বায়যাবীর বিশেষত্ব কী?

এটি সংক্ষেপে গভীর ব্যাকরণিক ও বালাগাতভিত্তিক তাফসিরের এক অনন্য সমন্বয় এবং দরসে নেযামীর এক প্রামাণ্য পাঠ্যবই।

৫. মুহকাম ও মুতাশাবিহের মূল পার্থক্য কী?

মুহকাম আয়াতের অর্থ সুস্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় বিধানভিত্তিক, আর মুতাশাবিহ হলো এমন আয়াত যার নিগূঢ় রহস্য কেবল আল্লাহই অবগত।

৬. ফাজিল ২য় বর্ষ পরীক্ষায় এ বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার উপায় কী?

আরবি আয়াতের সঠিক পাঠ, ব্যাকরণিক তাহকীক ও সালাফের প্রামাণ্য তাফসির পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করলে পূর্ণ নম্বর অর্জন সম্ভব।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *