اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۳ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دفع الشبهات المزعومة حول القرآن الكريم
[দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারীম]
বিষয় কোড: ২০১৩০৬ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: اجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن اربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٥ × ٤ = ٦٠
١- مَا هِيَ الشُّبُهَاتُ الْمَزْعُومَةُ حَوْلَ نُزُولِ الْوَحْيِ؟ وَكَيْفَ تَرُدُّهَا؟
[১. ওহি নাযিল হওয়া সম্পর্কে প্রাচ্যবিদ ও বিরোধীদের অমূলক সন্দেহগুলো কী কী? ঐ সন্দেহগুলো তুমি খণ্ডন করবে কীভাবে?]
ভূমিকা
ইসলামের মূলভিত্তি হলো ওহি বা ঐশী প্রত্যাদেশ। যুগে যুগে প্রাচ্যবিদ (ওরিয়েন্টালিস্ট) ও ইসলামবিরোধীরা ওহির অলৌকিক উৎসকে অস্বীকার করার জন্য নানা মনস্তাত্ত্বিক ও যুক্তিহীন অপবাদ সৃষ্টি করেছে। নিম্নে তাদের অমূলক সন্দেহসমূহ এবং তার প্রামাণ্য খণ্ডন তুলে ধরা হলো।
ওহি নাযিল সম্পর্কে বিরোধীদের প্রধান সন্দেহসমূহ
- মৃগীরোগ বা হিস্টিরিয়ার অপবাদ: প্রাচ্যবিদরা দাবি করে ওহি নাযিলের সময় রাসূল (স.)-এর ঘর্মাক্ত হওয়া, ভারী নিঃশ্বাস নেওয়া ইত্যাদি ছিল মূলত মৃগীরোগ (Epilepsy) বা স্নায়বিক অসুস্থতার লক্ষণ।
- কবির কল্পনা ও ভাবোন্মাদনা: মক্কার কাফেররা বলত মুহাম্মদ (স.) একজন কবি বা গণক, তাঁর উর্বর কল্পনাশক্তিই কুরআন হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
- পরিপক্ব অভ্যন্তরীণ প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ: আধুনিক বস্তুবাদীদের দাবি এটি কোনো আসমানী বিষয় নয়, বরং রাসূল (স.)-এর নিজস্ব অনন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিভার অবচেতন স্ফুরণ।
সন্দেহসমূহের অকাট্য দাঁতভাঙা জবাব
- মৃগীরোগের অপবাদ খণ্ডন: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, মৃগীরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ভারসাম্যহীন, অসংলগ্ন প্রলাপ বকে এবং তার স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি লোপ পায়। পক্ষান্তরে ওহি সমাপ্তির সাথে সাথেই রাসূলুল্লাহ (স.) এমন অতুলনীয় সাহিত্যমানসম্পন্ন, গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং সার্বজনীন আইন প্রণয়নকারী আয়াত তিলাওয়াত করতেন যা সমগ্র আরবের সেরা সাহিত্যিকদের স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। কোনো অসুস্থ মস্তিষ্কের পক্ষে এমন চিরন্তন আইন ও মহাকাব্যিক গ্রন্থ রচনা সম্পূর্ণ অসম্ভব।
- কাব্য ও গণকগিরির অপবাদ খণ্ডন: স্বয়ং আল্লাহ কুরআনে ঘোষণা করেছেন: وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنبَغِي لَهُ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُّبِينٌ — “আমি তাঁকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তাঁর পক্ষে শোভনীয়ও নয়; এ তো কেবল এক উপদেশ এবং স্পষ্ট কুরআন।” (সূরা ইয়াসীন: ৬৯)। রাসূল (স.) জীবনে কখনো একটি চরণ কবিতাও রচনা করেননি।
- উম্মি নবীর অলৌকিকতা: যিনি জীবনে কোনো অক্ষরজ্ঞান শেখেননি, কোনো শিক্ষকের কাছে যাননি, তাঁর মুখ থেকে পূর্ববর্তী হাজার হাজার বছরের নবী-রাসূলদের ইতিহাস এবং বিজ্ঞানের নিখুঁত সত্য প্রকাশ পাওয়া প্রমাণ করে এটি কেবলই আল্লাহর আসমানী ওহি।
٢- كَيْفَ كَانَ جَمْعُ الْقُرْآنِ؟ وَمَا هِيَ الشُّبُهَاتُ الْمَزْعُومَةُ حَوْلَ جَمْعِ الْقُرْآنِ؟ رُدَّ الشُّبُهَاتِ بِالْأَدِلَّةِ –
[২. কুরআন সংকলন কীভাবে হয়েছিল? কুরআন সংকলন নিয়ে অমূলক সন্দেহগুলো কী কী? দলিল দ্বারা ঐ সন্দেহগুলো খণ্ডন কর।]
কুরআন সংকলনের তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়
- রাসূলুল্লাহ (স.)-এর যুগে: ওহি নাযিল হওয়ামাত্র ওহি লেখকদের (যেমন যায়েদ ইবনে সাবিত, উবাই ইবনে কা’ব রা.) দিয়ে চামড়া, খেজুরের ডাল ও পাথরের ফলকে লিখে রাখা হতো এবং হাজার হাজার সাহাবী তা মুখস্থ করতেন।
- হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে (প্রথম গ্রন্থনা): ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করলে হযরত ওমর (রা.)-এর পরামর্শে যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে দুজন লিখিত সাক্ষী ও মুখস্থের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ কুরআনকে একটি একক পাণ্ডুলিপিতে (মুসহাফ) সংকলন করা হয়।
- হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে (আদর্শ প্রতিলিপি তৈরি): বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানদের মধ্যে ক্বিরাআতের মতভেদ দূর করতে কুরাইশী উচ্চারণে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে কয়েকটি অনুলিপি তৈরি করে সমস্ত ইসলামি সাম্রাজ্যের প্রধান কেন্দ্রসমূহে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং ব্যক্তিপর্যায়ের অসম্পূর্ণ নোটগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
কুরআন সংকলন নিয়ে প্রাচ্যবিদদের অপবাদ ও তার খণ্ডন
অপবাদ: গোল্ডজিহার ও নোলডেকে প্রমুখ দাবি করে যে, অনেক আয়াত সংকলনের সময় বাদ পড়েছে বা সাহাবীদের স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছে।
খণ্ডন:
- কুরআন মূলত ‘তাওয়াতুর’ (স্মৃতির নিরবচ্ছিন্ন পরম্পরা)-এর মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে। কেবল লেখার ওপর নির্ভর করা হয়নি, বরং শত শত হাফেজের সম্মিলিত হিফজের সাথে মিলিয়ে প্রতিটি আয়াত লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।
- মহান আল্লাহ স্বয়ং এর হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ — “নিশ্চয় আমিই এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি নিজেই এর সংরক্ষক।” (সূরা আল-হিজর: ৯)।
٣- اذْكُرْ خَمْسَ آيَاتٍ مُتَنَاقِضَةٍ بِزَعْمِ الْمُسْتَشْرِقِينَ – ثُمَّ أَثْبِتْ أَنَّهَا غَيْرُ مُتَنَاقِضَةٍ –
[৩. প্রাচ্যবিদদের ধারণা অনুযায়ী পাঁচটি পারস্পরিক সাংঘর্ষিক আয়াত উল্লেখ কর। অতঃপর প্রমাণ কর যে, এগুলো সাংঘর্ষিক নয়।]
ভূমিকা
ইসলামবিরোধীরা কুরআনের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও আরবি বালাগাত না বুঝে কিছু আয়াতের মধ্যে বাহ্যিক বৈপরীত্যের অভিযোগ তোলে। প্রকৃতপক্ষে কুরআনে কোনো স্ববিরোধিতা নেই।
পাঁচটি আপাত সাংঘর্ষিক আয়াত ও তার সমাধান
- মানুষ সৃষ্টির উপাদান বিষয়ক:
আপাত দ্বন্দ্ব: এক আয়াতে বলা হয়েছে মাটির তৈরি (تراب), অন্য আয়াতে আঠালো কাদা (طين لازب), অপর আয়াতে শুকনো ঠনঠনে মাটি (صلصال) এবং অন্যত্র পানির কথা বলা হয়েছে।
সমাধান: এটি কোনো বৈপরীত্য নয়, বরং সৃষ্টিতাত্ত্বিক ক্রমবিকাশের বিভিন্ন স্তর। মাটি এবং পানির সংমিশ্রণে কাদা হয়, তা শুকালে ঠনঠনে মাটি হয়। স্তরভিত্তিক বর্ণনাকে বিরোধ বলা মূর্খতা। - মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময়কাল:
আপাত দ্বন্দ্ব: সূরা আল-আ’রাফে ছয় দিনে সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সূরা ফুসসিলাতের আয়াতে ২+৪+২ = আট দিন মনে হয়।
সমাধান: আরবিতে সংযুক্ত গণনা (تداخل) রয়েছে। পৃথিবীর সৃষ্টি ও তার খাদ্যসামগ্রী নির্ধারণে মোট ৪ দিন লেগেছে (প্রথম দুই দিনসহ), আলাদা চার দিন নয়। ফলে মোট কাল ছয় দিনই পূর্ণ হয়। - কিয়ামতের দিন পাপীদের কথা বলা:
আপাত দ্বন্দ্ব: এক আয়াতে বলা হয়েছে: هَٰذَا يَوْمُ لَا يَنطِقُونَ (আজ তারা কোনো কথা বলবে না); অন্য আয়াতে বলা হয়েছে তারা বিতর্ক করবে ও ওজর পেশ করবে।
সমাধান: কিয়ামত একটি দীর্ঘ পঞ্চাশ হাজার বছরের দিন। এর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে হতভম্ব হয়ে মুখে তালা থাকবে, পরবর্তী পর্যায়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কথা বলবে। - আল্লাহর ক্ষমার পরিধি:
আপাত দ্বন্দ্ব: সূরা আন-নিসায় বলা হয়েছে শিরক ছাড়া সব মাফ করবেন, কিন্তু সূরা যুমারে বলা হয়েছে সকল পাপ মাফ করবেন।
সমাধান: সূরা যুমারের আয়াতটি তওবাকারীদের জন্য প্রযোজ্য; খাঁটি তওবা করলে শিরকও মাফ হয়। আর সূরা নিসার আয়াত তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের জন্য প্রযোজ্য। - ঈমানের জোরজবরদস্তি:
আপাত দ্বন্দ্ব: لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ (দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই) বনাম যুদ্ধের আয়াতসমূহ।
সমাধান: কাউকে জোর করে অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করানো ইসলামে নিষিদ্ধ; আর যুদ্ধের নির্দেশ ছিল আক্রমণকারী ও জালিমদের প্রতিরোধ করার জন্য, কাউকে জোরপূর্বক মুসলমান বানানোর জন্য নয়।
٤- زَعَمَ بَعْضُ الْكُفَّارِ أَنَّ فِي الْقُرْآنِ زِيَادَةً وَنُقْصَانًا مِنْ جِهَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَجِبِ الرَّزْعْمَ الْبَاطِلَ بِالْأَدِلَّةِ –
[৪. কতক কাফেরের ধারণা হলো “নবী মুহাম্মদ (স.) নিজের পক্ষ থেকে কুরআনে হ্রাস-বৃদ্ধি করেছেন”। যুক্তি-প্রমাণ দ্বারা তাদের অবান্তর ধারণার জবাব দাও।]
অবান্তর ধারণার জবাব ও প্রমাণ
- নবী করীম (স.)-এর অতুলনীয় সততা ও আমানতদারি: নবুওয়তের পূর্বে মক্কার চরম কাফেররাও তাঁকে ‘আল-আমীন’ (বিশ্বস্ত) ও ‘আস-সাদিক’ (সত্যবাদী) উপাধি দিয়েছিল। যিনি মানুষের সাথে কখনো মিথ্যা বলেননি, তিনি আল্লাহর বাণীতে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বাড়াবেন বা কমাবেন—তা বিবেকহীন কল্পনা।
- কুরআনে রাসূল (স.)-কে সতর্কবার্তা: কুরআন যদি তাঁর নিজের রচিত হতো, তবে এতে তাঁর ব্যক্তিগত ভুলের সংশোধন বা তিরস্কারমূলক আয়াত (যেমন সূরা আবাসা: عَبَسَ وَتَوَلَّىٰ এবং যায়েদ ও যয়নবের ঘটনার প্রেক্ষাপট) কখনোই থাকত না। মানুষ নিজের রচিত গ্রন্থে নিজের সমালোচনা করে না।
- ঐশী কঠোর হুঁশিয়ারি: আল্লাহ ইরশাদ করেন: وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ – لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ – ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ — “আর সে যদি আমার নামে কোনো কথা বানিয়ে বলত, তবে অবশ্যই আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং তার হৃদপিণ্ডের শিরা কেটে ফেলতাম।” (সূরা আল-হাক্কাহ: ৪৪-৪৬)।
٥- مَا هِيَ الشُّبُهَاتُ فِي الْمَكِّيِّ وَالْمَدَنِيِّ؟ أَوْضِحْ بِالْأَمْثِلَةِ مَعَ دَفْعِ الشُّبُهَاتِ –
[৫. মাক্কী ও মাদানী সূরা বিষয়ক সন্দেহগুলো কী কী? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করে সংশয় নিরসন কর।]
মাক্কী ও মাদানী বিষয়ক প্রাচ্যবিদদের অপবাদ
প্রাচ্যবিদরা দাবি করে যে, মুহাম্মদ (স.) মক্কায় দুর্বল অবস্থায় ছিলেন বলে সহনশীলতা ও ক্ষমার কথা প্রচার করেছেন, আর মদীনায় ক্ষমতা ও সৈন্য পেয়ে কঠোরতা, জিহাদ ও আইনের কথা বলেছেন। অর্থাৎ তাঁর আদর্শ সুবিধাবাদ ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল ছিল।
সন্দেহ নিরসন ও সঠিক ব্যাখ্যা
- ইসলামের সার্বিক স্তরভিত্তিক বিকাশ: এটি কোনো বৈপরীত্য নয় বরং সমাজ সংস্কারের প্রাকৃতিক ও বিজ্ঞানসম্মত ঐশী পদ্ধতি। মক্কায় ১৩ বছর যাবত মানুষের অন্তরের আকিদা, ঈমান ও নৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করা হয়েছে। ভিত্তি ছাড়া কোনো দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা যায় না।
- মদীনায় যখন স্বাধীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন নাগরিকদের অধিকার রক্ষা, অপরাধ দমন ও রাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য আইন-কানুন ও জিহাদের বিধান অবতীর্ণ হয়েছে। যেকোনো সুস্থ সমাজ গঠনে প্রথমে মানসিক প্রস্তুতি ও পরে রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নই সর্বোত্তম নীতি।
٦- أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ، إِنْ كَانَ كُلُّهَا صَحِيحًا مَعْمُولًا فَلِمَ أَحْرَقَ الصَّحَابَةُ (رض) سِتًّا مِنْهَا؟ وَلِمَ لَمْ يَقُولُوا: “كُلُّ حَرْفٍ صَحِيحٌ”، فَلْيَقْرَأْ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ كَمَا يَقُولُ بَعْضُ الشُّيُوخِ فِي عَصْرِنَا؟
[৬. কুরআন নাযিল হয়েছে সাত হরফে, প্রত্যেকটি যদি সহীহ হিসেবে আমল হয়ে থাকে, তাহলে সাহাবীগণ অন্য ছয় হরফের কুরআন পুড়িয়ে সবার জন্য মাত্র এক হরফের প্রতিলিপি রাখলেন কেন? এর যুক্তিপূর্ণ জবাব দাও।]
সাত হরফ ও উসমানী সংকলনের রহস্য
- সাত হরফের অবতরণের উদ্দেশ্য: আরবের বিভিন্ন গোত্রের উচ্চারণ ও ভাষার সহজতার জন্য সাময়িকভাবে সাত হরফে পড়ার অনুমতি ছিল। এটি কোনো স্থায়ী ফরজ বিধান ছিল না বরং বিশেষ ছাড় (রুখসত) ছিল।
- অনৈক্য ও রক্তপাত রোধের মহতী উদ্যোগ: আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধে যখন বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিম সৈন্যরা ক্বিরাআতের পার্থক্য নিয়ে পরস্পরে রক্তক্ষয়ী বিবাদে লিপ্ত হচ্ছিল, তখন সাহাবায়ে কিরামের সর্বসম্মত ঐকমত্য (ইজমা)-এর ভিত্তিতে হযরত উসমান (রা.) কুরাইশী প্রমিত হরফে মুসহাফ সংকলন করেন।
- পোড়ানোর কারণ: ব্যক্তিগত যেসব পাণ্ডুলিপিতে সাহাবীদের নিজস্ব ব্যাখ্যা, টীকা ও বিভিন্ন হরফের মিশ্রণ ছিল, তা দ্বারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বিভ্রান্ত না হয়, সেজন্য উম্মতের বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে তা জ্বালিয়ে বিনষ্ট করা হয়েছিল। কোনো মৌলিক কুরআন নষ্ট করা হয়নি।
٧- اذْكُرْ بَعْضَ الْوَاقِعَاتِ الْمَذْكُورَةِ فِي الْقُرْآنِ الَّتِي يَزْعُمُ بِهَا الزَّاعِمُونَ خِلَافَ عِصْمَةِ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، ثُمَّ أَجِبْ عَنْ شُبُهَاتِهِمْ –
[৭. কুরআনে বর্ণিত এমন কিছু ঘটনা উল্লেখ কর যার ওপর ভিত্তি করে ভ্রান্ত লোকেরা নবীগণ নিষ্পাপ (মাসূম) নন বলে অমূলক ধারণা করে। অতঃপর তাদের সন্দেহের সমুচিত জবাব দাও।]
ঘটনা ও তার জবাব
- হযরত আদম (আ.)-এর নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ: কুরআন বলেছে وَعَصَىٰ آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَىٰ। জবাব: এটি কোনো ইচ্ছাকৃত পাপ বা অবাধ্যতা ছিল না, বরং শয়তানের প্রবঞ্চনায় এক মুহূর্তের বিস্মৃতি (নসিয়ান) ও ইজতিহাদী ভুল ছিল। ভুলবশত বা ভুলে কোনো কাজ করা শরিয়তে গোনাহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- হযরত মূসা (আ.) কর্তৃক কিবতীকে হত্যা: জবাব: তিনি এক অত্যাচারী কিবতীকে নিবৃত্ত করার জন্য কেবল এক ঘূষি মেরেছিলেন, তাকে হত্যা করার কোনো নিয়ত ছিল না। আকস্মিক দুর্ঘটনায় সে মারা যায়।
- হযরত ইউনুস (আ.)-এর রাগ করে চলে যাওয়া: জবাব: তিনি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে যাননি, বরং স্বজাতির হঠকারিতায় ক্ষুব্ধ হয়ে আল্লাহর চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় ইজতিহাদী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আম্বিয়ায়ে কিরাম কবিরা ও সগীরা সমস্ত গোনাহ থেকে সম্পূর্ণ পূতপবিত্র ও মাসূম।
٨- اكْتُبْ أَسْمَاءَ الْقُرَّاءِ السَّبْعَةِ – ثُمَّ اذْكُرْ مَاذَا تَعْلَمُ عَنْ شُبُهَاتِ الْمُشَكِّكِينَ حَوْلَ الْقِرَاءَةِ لِلْقُرْآنِ –
[৮. সাত ক্বারীর নাম লেখ। ক্বিরাআতের ক্ষেত্রে সন্দেহকারীদের অমূলক সন্দেহ-সংশয় সম্পর্কে যা জান তা উল্লেখ কর।]
সাতজন প্রখ্যাত ইমামে ক্বিরাআত (القراء السبعة)
- ইমাম নাফে’ আল-মাদানী (মদীনা)
- ইমাম ইবনে কাসীর আল-মাক্কী (মক্কা)
- ইমাম আবু আমর আল-বাসরী (বসরা)
- ইমাম ইবনে আমীর আদ-দিমাশক্বী (দামেস্ক)
- ইমাম আসিম ইবনে আবি আন-নাজূদ (কুফা)
- ইমাম হামযাহ আল-কুফী (কুফা)
- ইমাম কিসাঈ আল-কুফী (কুফা)
ক্বিরাআত বিষয়ক সন্দেহের নিরসন
বিরোধীরা দাবি করে যে আরবির নুকতা ও হরকত না থাকার কারণে ক্বারীরা নিজেদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন ক্বিরাআত বানিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা; কারণ ক্বিরাআত কোনো মনগড়া পাঠ নয়, বরং সনদের মাধ্যমে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (স.) থেকে মুতাওয়াতির ও অবিচ্ছিন্ন সূত্রে শ্রুত ও বর্ণিত হয়েছে।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ٥ × ٤ = ٢٠
٩- عَرِّفِ الْقُرْآنَ لُغَةً وَاصْطِلَاحًا مَعَ بَيَانِ وَجْهِ التَّسْمِيَةِ –
[৯. কুরআন শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা ও নামকরণের কারণ বর্ণনা কর।]
সংজ্ঞা ও নামকরণের কারণ
শাব্দিক অর্থ: পাঠ করা (القراءة) অথবা একত্রিত করা (الجمع)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: “আল্লাহ তাআলা কর্তৃক জিবরীল (আ.)-এর মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর অবতীর্ণ, মুসহাফসমূহে লিখিত, মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য—সেই মুজিযাপূর্ণ কালামকে কুরআন বলে।”
নামকরণের কারণ: এটি বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত কিতাব এবং এতে পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী শিক্ষার সারসংক্ষেপ একত্রিত করা হয়েছে বলে একে ‘কুরআন’ বলা হয়।
١٠- مَا مَعْنَى الْوَحْيِ وَكَمْ قِسْمًا لَهُ؟ قَالَ تَعَالَى : وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى، هَلْ هِيَ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ؟
[১০. ওহি শব্দের অর্থ কী এবং তা কত প্রকার? আল্লাহ তাআলা বলেছেন “আমি মূসার মায়ের প্রতি ওহি করলাম”, তাহলে কি তিনি নবী ছিলেন?]
ব্যাখ্যা ও ফায়সালা
ওহি শব্দের এক অর্থ হলো অন্তরে কোনো বিষয় অনুপ্রেরণা বা ইলহাম করা। মূসা (আ.)-এর মাতার প্রতি ওহি ছিল মূলত ‘ইলহাম’ (الإلهام الفطري), নবুওয়তের ওহি নয়। জমহুর উলামায়ে কিরামের মতে নারীদের মধ্য থেকে কেউ কখনো নবী হননি। সুতরাং মূসা (আ.)-এর মাতা একজন পরম পুণ্যবতী ও সাধ্বী নারী ছিলেন, নবী ছিলেন না।
١١- اكْتُبِ الْآيَاتِ الَّتِي فِيهَا ذِكْرُ حُقُوقِ النِّسَاءِ –
[১১. নারী অধিকার সংক্রান্ত কুরআনের আয়াতসমূহ উল্লেখ কর।]
পবিত্র কুরআনে নারীর অধিকার
- পারস্পরিক মর্যাদার অধিকার: وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ [আর নারীদেরও পুরুষের ওপর তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে যেমন পুরুষের রয়েছে তাদের ওপর।] (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২২৮)।
- সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারের অধিকার: لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ [পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং নারীদেরও অংশ রয়েছে।] (সূরা আন-নিসা: ৭)।
- উত্তম সাহচর্যের নির্দেশ: وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ [আর তোমরা তাদের সাথে উত্তম আচরণে জীবনযাপন করো।] (সূরা আন-নিসা: ১৯)।
١٢- اذْكُرِ الشُّبُهَاتِ حَوْلَ الْأَخْطَاءِ الْحِسَابِيَّةِ فِي الْقُرْآنِ ثُمَّ أَجِبْ عَنِ الشُّبُهَاتِ –
[১২. কুরআনে গাণিতিক ভুলের অমূলক সন্দেহসমূহ উল্লেখপূর্বক সন্দেহগুলো খণ্ডন কর।]
উত্তরাধিকারের গাণিতিক হিসাব ও তার নিরসন
সন্দেহ: বিরোধীরা বলে কুরআনের মিরাসের অংশ যোগ করলে কখনো ১-এর চেয়ে বেশি হয়ে যায় (যেমন ২/৩ + ১/৮ + ১/৬ = ২৭/২৪), ফলে এতে নাকি গাণিতিক ভুল আছে।
জবাব: এটি কোনো ভুল নয় বরং ইসলামি আইনশাস্ত্রের ‘আওল’ (العول) পদ্ধতির অপূর্ব সুষম বিধান। কোনো ব্যবসায় অংশীদারদের মোট পুঁজির চেয়ে ক্ষতি বেশি হলে যেমন আনুপাতিক হারে সবার ক্ষতি কমানো হয়, তেমনি উত্তরাধিকারীদের প্রত্যেকের প্রাপ্যাংশ থেকে আনুপাতিক হারে সমন্বয় করা হয়। এটি চরম ইনসাফের প্রমাণ।
١٣- مَا مَعْنَى النَّسْخِ؟ أَجِبْ عَنِ الشُّبُهَاتِ الْمَزْعُومَةِ حَوْلَ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ فِي الْقُرْآنِ –
[১৩. নসখ অর্থ কী? কুরআনে নাসিখ ও মানসূখ সংক্রান্ত অমূলক সন্দেহের জবাব দাও।]
নসখের পরিচয় ও জবাব
অর্থ: রহিত করা বা পরিবর্তন করা। শরিয়তের পরিভাষায় কোনো পূর্ববর্তী বিধানকে পরবর্তী কোনো বিধান দ্বারা স্থগিত করা।
জবাব: বিরোধীরা বলে আল্লাহ কি পূর্বে জানতেন না যে পরে পরিবর্তন করতে হবে? প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ প্রথম থেকেই জানতেন যে বান্দার জন্য কোন যুগে কোন বিধান কতটুকু উপযোগী। এটি মানবজাতির পরিবর্তনের সাথে সাথে ক্রমবিকাশের এক ঐশী হিকমত, কোনো অজ্ঞতা নয়।
١٤- اذْكُرِ الشُّبُهَاتِ حَوْلَ تَحْرِيفِ الْقُرْآنِ مَعَ الْجَوَابِ عَنْهَا –
[১৪. কুরআনের তাহরীফ বা বিকৃতি বিষয়ে অমূলক সন্দেহগুলো জবাবসহ আলোচনা কর।]
তাহরীফের অপবাদ ও জবাব
কোনো কোনো চরমপন্থী দাবি করে কুরআনের অনেক সূরা বা আয়াত বাদ পড়েছে। এটি শতভাগ মিথ্যা। বিশ্বের যে প্রান্তেই কুরআন পাওয়া যায়—চাই তা আফ্রিকা, এশিয়া বা ইউরোপে হোক—তার একটি হরফ বা নুকতারও কোনো তফাত নেই। কোটি কোটি হাফেজে কুরআনের বক্ষে এই কালাম অবিকল সুরক্ষিত।
١٥- عَرِّفِ الْمَلَائِكَةَ ثُمَّ رُدَّ الشُّبُهَاتِ خِلَافَ عِصْمَةِ الْمَلَائِكَةِ –
[১৫. ফেরেশতাদের পরিচয় দাও এবং তাঁদের নিষ্পাপ হওয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সন্দেহ খণ্ডন কর।]
ফেরেশতাদের পরিচয় ও জবাব
ফেরেশতাগণ নূরের তৈরি আল্লাহর এক নিষ্পাপ ও অনুগত সৃষ্টি। হারূত ও মারূত ফেরেশতাদ্বয় যাদু শিক্ষা দিয়ে পাপ করেছিলেন বলে যে ইসরাঈলী অপবাদ দেওয়া হয় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁরা মানুষকে যাদু শেখাতেন না বরং সতর্ক করে বলতেন: “আমরা কেবল পরীক্ষা, তোমরা কুফরি করো না।” ফেরেশতাগণ চিরকাল পাপমুক্ত ও নিষ্পাপ।
١٦- عَلِّقْ عَلَى وَاحِدٍ : (أ) النَّبِيُّ، الرَّسُولُ ؛ (ب) الْمَكِّيُّ، الْمَدَنِيُّ –
[১৬. যে-কোনো একটি বিষয়ে টীকা লেখ: (ক) নবী ও রাসূল; (খ) মাক্কী ও মাদানী।]
(ক) নবী ও রাসূল (النبي والرسول)
রাসূল: যাঁকে আল্লাহ তাআলা নতুন কিতাব ও স্বতন্ত্র শরিয়ত দিয়ে কোনো অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছেন।
নবী: যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহিপ্রাপ্ত হয়েছেন কিন্তু কোনো নতুন শরিয়ত আনেননি বরং পূর্ববর্তী রাসূলের শরিয়তের প্রচার করেছেন। সুতরাং প্রত্যেক রাসূলই নবী কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন।
(খ) মাক্কী ও মাদানী (المكي والمدني)
হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ সমস্ত আয়াত ও সূরা মাক্কী এবং হিজরতের পরে অবতীর্ণ সমস্ত আয়াত ও সূরা মাদানী হিসেবে গণ্য—চাই তা মক্কার বাইরে বা মক্কায় নাজিল হোক না কেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ বিষয়ের বিষয় কোড কত?
আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ বিষয়ের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৬ এবং পরীক্ষা কোড হলো ২০৩।
২. ওহি সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের মূল অপবাদ কী ছিল?
প্রাচ্যবিদরা দাবি করত ওহি আসমানী নয় বরং তা মৃগীরোগ বা রাসূল (স.)-এর উর্বর কাব্যিক প্রতিভার অবচেতন স্ফুরণ, যা বিজ্ঞান ও ইতিহাসের আলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
৩. সাত হরফের কুরআন থেকে এক হরফের মুসহাফে কেন ঐক্যবদ্ধ করা হয়?
বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে ক্বিরাআতের পার্থক্যজনিত মারাত্মক গৃহযুদ্ধ ও অনৈক্য রোধে উম্মতের বৃহত্তর স্বার্থে হযরত উসমান (রা.) কুরাইশী হরফে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেন।
৪. কুরআনে কি কোনো প্রকৃত পারস্পরিক সাংঘর্ষিক আয়াত রয়েছে?
না, পবিত্র কুরআনে কোনো স্ববিরোধিতা নেই; বাহ্যিক যে বৈপরীত্য মনে হয় তা মূলত প্রসঙ্গ, সৃষ্টির পর্যায়ক্রম ও স্থান-কালের ভিন্নতার কারণে হয়ে থাকে।
৫. আম্বিয়ায়ে কিরাম কি নিষ্পাপ ছিলেন?
হ্যাঁ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অকাট্য আকিদা অনুযায়ী সকল নবী ও রাসূল ছোট-বড় সমস্ত গোনাহ থেকে সম্পূর্ণ পূতপবিত্র ও নিষ্পাপ (মাসূম) ছিলেন।
৬. কুরআনের মিরাস বণ্টনে ‘আওল’ পদ্ধতির তাৎপর্য কী?
আওল হলো উত্তরাধিকারীদের নির্দিষ্ট অংশের আনুপাতিক ভারসাম্য বিধান, যা চরম গাণিতিক ইনসাফ নিশ্চিত করে এবং কোনো অংশীদারকে বঞ্চিত করে না।