জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

অর্থনীতি ও ইসলামী অর্থনীতি (Economics and Islamic Economics) – 205302, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2022

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৮ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2022
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: অর্থনীতি ও ইসলামী অর্থনীতি (Economics and Islamic Economics)
বিষয় কোড: 205302 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

১. ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও। ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর।

[Define Islamic economics. Discuss the characteristics of Islamic economics.]

ক. ইসলামি অর্থনীতির প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

ইসলামি অর্থনীতি হলো মানবজীবনের বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিক কল্যাণের লক্ষ্যে আল-কুরআন ও সুন্নাহর দিকনির্দেশনার আলোকে উৎপাদন, ভোগ, বণ্টন ও বিনিময়ের যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুসমন্বিত বিজ্ঞান।

  • ড. এম এ মান্নানের মতে: “Islamic economics is a social science which studies the economic problems of a people imbued with the values of Islam.” অর্থাৎ ইসলামি অর্থনীতি এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা ইসলামি মূল্যবোধে উজ্জীবিত মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি অধ্যয়ন করে।
  • ড. খুরশীদ আহমদের মতে: “Islamic economics is a systematic effort to understand the economic problem and man’s behavior in relation to that problem from an Islamic perspective.” অর্থাৎ ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক সমস্যা ও তদসংশ্লিষ্ট মানবীয় আচরণ অনুধাবনের নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টাই হলো ইসলামি অর্থনীতি।

খ. ইসলামি অর্থনীতির অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. ঐশী মূলনীতি ও শরীয়াহর অধীনতা: এটি মানুষের মনগড়া মতবাদ নয়; এর মূল উৎস হলো আল-কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। এটি ইহলৌকিক সাফল্যের সাথে পরলৌকিক জবাবদিহিতাকে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করে।
  2. আল্লাহর প্রকৃত মালিকানা ও মানুষের প্রতিনিধিত্ব (খিলাফত): আসমান ও জমিনের যাবতীয় সম্পদের নিরঙ্কুশ সার্বভৌম মালিকানা একমাত্র মহান আল্লাহর (সূরা আল-মায়েদাহ: ১৭)। মানুষ এ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি বা আমানতদার হিসেবে সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করার অনুমতিপ্রাপ্ত।
  3. হালাল ও হারামের সীমারেখা: অবাধ অর্থ উপার্জনের নামে যা ইচ্ছা তা করা যায় না। ইসলামে মদ, জুয়া, সুদ, প্রতারণা, মজুতদারি ও অনৈতিক পণ্যের উৎপাদন ও বাণিজ্য সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ।
  4. সুদবিহীন অর্থব্যবস্থা (Riba-free Economy): ইসলামি অর্থনীতির সবচেয়ে বৈপ্লবিক ভিত্তি হলো সুদের মূলোৎপাটন এবং লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব (মুদারাবা ও মুশারাকা) ভিত্তিক অংশীদারিত্বমূলক বিনিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
  5. সম্পদের সুষম বণ্টন ও সামাজিক নিরাপত্তা: বাধ্যতামূলক যাকাত, উশর, ওয়াকফ এবং ফিতরার মাধ্যমে ধনীদের সম্পদ থেকে সমাজের নিঃস্ব, অনাথ ও দুর্বল শ্রেণির সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
  6. ব্যক্তি ও সামাজিক কল্যাণের ভারসাম্য: পুঁজিবাদ ব্যক্তির লাগামহীন স্বার্থপরতাকে উসকে দেয় এবং সমাজতন্ত্র ব্যক্তির স্বাধীনতা কেড়ে নেয়; কিন্তু ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্বাধীনতা স্বীকার করে সমাজের সামগ্রিক স্বার্থ সুরক্ষার নিখুঁত সমন্বয় সাধন করে।

২. চাহিদা সূচি ও চাহিদা রেখার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর। একটি কাল্পনিক চাহিদা সূচি থেকে চাহিদা রেখা অঙ্কন কর।

[Distinguish between demand schedule and demand curve. Draw a demand curve from an imaginary demand schedule.]

ক. চাহিদা সূচি ও চাহিদা রেখার পার্থক্য:

তুলনার বিষয় চাহিদা সূচি (Demand Schedule) চাহিদা রেখা (Demand Curve)
১. সংজ্ঞা বিভিন্ন দামে কোনো পণ্যের বিভিন্ন পরিমাণের চাহিদার গাণিতিক তালিকাকে চাহিদা সূচি বলে। চাহিদা সূচির জ্যামিতিক বা চিত্রগত প্রকাশকে চাহিদা রেখা বলে।
২. প্রকাশের রূপ এটি সংখ্যা বা সারণি (Table) আকারে উপস্থাপিত হয়। এটি গ্রাফ পেপারে রেখাচিত্র (Diagram) আকারে উপস্থাপিত হয়।
৩. প্রকৃতি এটি প্রাথমিক গাণিতিক উপাত্ত। এটি সূচির ওপর ভিত্তি করে অঙ্কিত চূড়ান্ত প্রতিচ্ছবি।
৪. ঢাল নির্ণয় সরাসরি দৃশ্যমান ঢাল উপলব্ধি করা যায় না। রেখাটি বাম থেকে ডানে নিম্নগামী হওয়ায় ঋণাত্মক ঢাল স্পষ্ট দেখা যায়।

খ. কাল্পনিক চাহিদা সূচি (Imaginary Demand Schedule):

প্রতি একক দাম (টাকা) চাহিদার পরিমাণ (একক) বিন্দু
১০ ৪০ A
২০ ৩০ B
৩০ ২০ C
৪০ ১০ D

গ. চাহিদা রেখা অঙ্কন ও ব্যাখ্যা:

চিত্রে লম্ব অক্ষে (OY) দ্রব্যের দাম এবং ভূমি অক্ষে (OX) চাহিদার পরিমাণ নির্দেশ করা হয়েছে।

  • যখন দ্রব্যের দাম ১০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ৪০ একক, যা সূচক বিন্দু A দ্বারা নির্দেশিত।
  • দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২০ টাকা হলে চাহিদা কমে ৩০ একক হয় (বিন্দু B)।
  • দাম আরও বেড়ে ৩০ ও ৪০ টাকা হলে চাহিদা যথাক্রমে কমে ২০ ও ১০ একক হয় (বিন্দু C ও D)।
  • এখন A, B, C ও D বিন্দুগুলো পরস্পর সংযুক্ত করলে যে DD’ রেখাটি পাওয়া যায়, তা-ই হলো নির্ণেয় চাহিদা রেখা
  • বৈশিষ্ট্য: দাম ও চাহিদার বিপরীতমুখী সম্পর্কের (চাহিদা বিধি) কারণে চাহিদা রেখাটি বাম থেকে ডান দিকে নিম্নগামী (Downward sloping) হয়।

৩. অর্থনীতিতে বাজার বলতে কী বোঝ? পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে স্বল্পকালে একটি ফার্ম কি ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন চালিয়ে যাবে? ব্যাখ্যা কর।

[What do you mean by market in economics? Will a farm continue production with loss in a short term under perfect competition market? Explain it.]

ক. অর্থনীতিতে বাজার (Market in Economics):

সাধারণ অর্থে বাজার বলতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে বোঝায় যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা সমবেত হয়। কিন্তু অর্থনীতিতে বাজার কোনো নির্দিষ্ট স্থান নয়; বরং বাজার হলো এমন একটি সুবিন্যস্ত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দ্রব্য বা সেবার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয় এবং পণ্য ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয় (যেমন শেয়ার বাজার, অনলাইন বাজার বা স্বর্ণের বাজার)।

খ. স্বল্পকালে ক্ষতি স্বীকার করে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা:

পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে স্বল্পকালে একটি ফার্ম তিনটি অবস্থায় থাকতে পারে: অস্বাভাবিক মুনাফা (P > ATC), স্বাভাবিক মুনাফা (P = ATC), এবং লোকসান বা ক্ষতি (P < ATC)। ফার্মটি ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন চালিয়ে যাবে কি না, তা নির্ভর করে গড় পরিবর্তনশীল ব্যয় (Average Variable Cost – AVC)-এর ওপর।

  1. স্থির ব্যয় বনাম পরিবর্তনশীল ব্যয়: স্বল্পকালে ফার্মের মোট ব্যয় দুটি অংশে বিভক্ত—মোট স্থির ব্যয় (TFC) এবং মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় (TVC)। ফার্ম উৎপাদন বন্ধ রাখলেও স্থির ব্যয় (যেমন কারখানার ভাড়া, স্থায়ী কর্মচারীর বেতন) বহন করতেই হবে।
  2. উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার শর্ত (P >= AVC):
    • যদি পণ্যের বাজার দাম (P) ফার্মের গড় পরিবর্তনশীল ব্যয় (AVC)-এর চেয়ে বেশি বা সমান হয় (P >= AVC), তবে ফার্ম ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন অব্যাহত রাখবে। কারণ এ অবস্থায় ফার্ম তার পরিবর্তনশীল ব্যয়ের পুরোটাই তুলতে পারে এবং স্থির ব্যয়ের অন্তত কিছু অংশ পুষিয়ে নিতে পারে। উৎপাদন বন্ধ করে দিলে তাকে পুরো স্থির ব্যয় লোকসান দিতে হতো; ফলে চালু রাখলে ক্ষতির পরিমাণ কম হয়।
  3. উৎপাদন বন্ধের বিন্দু (Shutdown Point):
    • যদি দাম কমতে কমতে ঠিক গড় পরিবর্তনশীল ব্যয়ের সর্বনিম্ন বিন্দুর সমান হয় (P = AVC), তবে একে ‘উৎপাদন বন্ধের বিন্দু’ (Shutdown Point) বলে। এর নিচে যদি দাম নেমে যায় (P < AVC), অর্থাৎ বিক্রয়মূল্য দিয়ে কাঁচামাল ও দৈনিক শ্রমিকের খরচও না ওঠে, তখন ফার্ম অবিলম্বে উৎপাদন স্থগিত বা বন্ধ করে দেবে।

৪. ইসলামি ভোক্তা কাকে বলে? ইসলামি ভোক্তা ও সাধারণ ভোক্তার মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।

[What is Islamic Consumer? Discuss the differences between Islamic consumer and conventional consumer.]

ক. ইসলামি ভোক্তার ধারণা:

যে ব্যক্তি আল-কুরআন ও সুন্নাহর বিধানাবলি মেনে শুধুমাত্র হালাল ও পবিত্র পণ্য পরিমিত মাত্রায় ভোগ করে, অপব্যয় ও কার্পণ্য পরিহার করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরলৌকিক সাফল্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বেঁচে থাকার তাগিদে বস্তুগত দ্রব্যের উপযোগ গ্রহণ করে, তাকে ইসলামি ভোক্তা (Islamic Consumer) বলে।

খ. ইসলামি ভোক্তা ও সাধারণ (সনাতন) ভোক্তার পার্থক্য:

  1. লক্ষ্য ও উপযোগের দৃষ্টিভঙ্গি:
    • সাধারণ ভোক্তা: সনাতন অর্থনীতিতে ভোক্তা কেবল পার্থিব বৈষয়িক তৃপ্তি বা উপযোগ সর্বোচ্চকরণে (Utility Maximization) অন্ধভাবে লিপ্ত থাকে।
    • ইসলামি ভোক্তা: পার্থিব তৃপ্তির চেয়ে আখিরাতের কল্যাণ বা ‘ফালাহ’ (Falah) অর্জনই তার পরম লক্ষ্য। সে পার্থিব ও পরলৌকিক উভয় জগতের সমন্বিত উপযোগ খুঁজবে।
  2. পণ্যের বাছবিচার (হালাল-হারাম):
    • সাধারণ ভোক্তা: পণ্যটি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ না হলে যেকোনো পণ্য (মদ, শূকরের মাংস, জুয়া) ভোগ করতে পারে যদি তা তাকে আনন্দ দেয়।
    • ইসলামি ভোক্তা: সে কঠোরভাবে আল্লাহর নির্দেশ মেনে কেবল ‘তাইয়্যেবাত’ বা হালাল ও পবিত্র জিনিস ভোগ করে এবং সকল প্রকার ‘খাবায়েস’ বা অপবিত্র হারাম পণ্য বর্জন করে।
  3. ভোগের মাত্রা ও সংযম:
    • সাধারণ ভোক্তা: সক্ষমতা থাকলে সীমাহীন ভোগবিলাসে মেতে ওঠাকে স্বাভাবিক অধিকার মনে করে।
    • ইসলামি ভোক্তা: পবিত্র কুরআনের নির্দেশ মেনে সে অপব্যয় (ইসরাফ) ও বিলাসিতা (ইতরাফ) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে: “তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।” (সূরা আল-আরাফ: ৩১)। আবার সে কৃপণতাও করে না; বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।
  4. সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দানশীলতা:
    • সাধারণ ভোক্তা: নিজস্ব উপার্জনের সম্পূর্ণ অংশ নিজের বা পরিবারের পেছনে খরচ করে।
    • ইসলামি ভোক্তা: সে বিশ্বাস করে তার অর্জিত সম্পদে সমাজের অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের সুনির্দিষ্ট হক রয়েছে (সূরা আল-মাআরিজ: ২৪-২৫)। তাই সে আনন্দের সাথে যাকাত ও সাদাকাহ প্রদান করে।

৫. পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার ও একচেটিয়া বাজারের মধ্যে পার্থক্য লেখ। ইসলামে কেন পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজার পছন্দ করা হয়? আলোচনা কর।

[Write the differences between perfect competitive market and monopoly market. Why the perfect competitive market is preferable in Islam? Discuss.]

ক. পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার ও একচেটিয়া বাজারের পার্থক্য:

  • ১. ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা: পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও অসংখ্য বিক্রেতা থাকে; একচেটিয়া বাজারে ক্রেতা অসংখ্য হলেও বিক্রেতা বা উৎপাদক থাকে মাত্র একজন।
  • ২. পণ্যের প্রকৃতি: পূর্ণ প্রতিযোগিতায় পণ্যগুলো সম্পূর্ণ সমজাতীয় (Homogeneous); একচেটিয়া বাজারে পণ্যের কোনো নিকটতম বিকল্প দ্রব্য থাকে না।
  • ৩. দাম নির্ধারণ ক্ষমতা: পূর্ণ প্রতিযোগিতায় কোনো একক ফার্মের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকে না, তারা ‘দাম গ্রহীতা’ (Price Taker); একচেটিয়া কারবারি একাই দাম নির্ধারণ করে, সে ‘দাম প্রণেতা’ (Price Maker)।
  • ৪. বাজারে প্রবেশ ও প্রস্থান: পূর্ণ প্রতিযোগিতায় ফার্মের প্রবেশ ও প্রস্থান সম্পূর্ণ অবাধ ও উন্মুক্ত; একচেটিয়া বাজারে নতুন ফার্মের প্রবেশে আইনগত বা প্রযুক্তিগত কঠোর প্রতিবন্ধকতা থাকে।
  • ৫. মুনাফা: দীর্ঘকালে পূর্ণ প্রতিযোগিতায় সকল ফার্ম শুধুমাত্র স্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করে; কিন্তু একচেটিয়া কারবারি দীর্ঘকালেও অস্বাভাবিক অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নেয়।

খ. ইসলামে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার পছন্দের কারণ:

  1. শোষণমুক্ত ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ: পূর্ণ প্রতিযোগিতায় ক্রেতা ও বিক্রেতার অবাধ দরকষাকষিতে চাহিদা ও যোগানের স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়ায় পণ্যের ভারসাম্য ন্যায্য মূল্য (Adl Price) নির্ধারিত হয়, যাতে কোনো পক্ষই শোষিত হয় না।
  2. একচেটিয়া কারবার ও মজুতদারির তীব্র বিরোধিতা (ইহতিকার নিষিদ্ধ): ইসলামে কৃত্রিম উপায়ে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানো বা মজুতদারি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “পাপী ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ মজুতদারি (একচেটিয়া কারবার) করে না।” (সহিহ মুসলিম)। একচেটিয়া কারবার মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে জুলুম করে।
  3. স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ: ইসলামে পণ্যের ত্রুটি গোপন করা বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ব্যবসা করা হারাম। পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ও স্বচ্ছতা ইসলামি সততার মূলনীতির সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৬. ইসলামি ব্যাংক কী? ইসলামি ব্যাংকের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা লেখ।

[What is Islami Bank? Write the importance and necessity of Islami Bank.]

ক. ইসলামি ব্যাংকের পরিচয়:

ইসলামি ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান যা সমস্ত লেনদেন, আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান ও বিনিয়োগ কর্মকাণ্ড থেকে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ বর্জন করে এবং ইসলামি শরীয়াহ বোর্ডের কঠোর তত্ত্বাবধানে লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব (মুদারাবা ও মুশারাকা) এবং ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতি (মুরাবাহা, ইজারা, বাই-মুয়াজ্জাল)-র মাধ্যমে অর্থনৈতিক সেবা প্রদান করে।

খ. ইসলামি ব্যাংকের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

  1. সুদের ভয়াবহ গোনাহ থেকে মুক্তি: আল-কুরআনে সুদখোরের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে (সূরা আল-বাকারা: ২৭৯)। ইসলামি ব্যাংক সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অর্থ লেনদেনে সুদযুক্ত হারাম ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী, হালাল ও শরীয়াহসম্মত বিকল্প উপহার দেয়।
  2. বাস্তব সম্পদভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: প্রচলিত সুদি ব্যাংক কেবল কাগুজে অর্থের ওপর সুদ আদায় করে, যা অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্বুদ সৃষ্টি করে। কিন্তু ইসলামি ব্যাংকিং বাধ্যতামূলকভাবে কোনো বাস্তব পণ্য, সম্পত্তি বা শিল্পোৎপাদনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকে, যা বাস্তব জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
  3. উদ্যোক্তা ও ব্যাংকের ন্যায়সঙ্গত ঝুঁকি বণ্টন: সুদি ব্যাংকে ব্যবসা লোকসান করলেও ঋণগ্রহীতাকে সুদাসলে টাকা ফেরত দিতে হয়, যা উদ্যোক্তাকে দেউলিয়া করে। ইসলামি ব্যাংকিংয়ে মুদারাবা ও মুশারাকা পদ্ধতিতে ব্যাংক ও উদ্যোক্তা উভয়ই লাভ ও ক্ষতির যৌথ অংশীদার হয়, যা সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।
  4. সামাজিক কল্যাণ ও যাকাত তহবিল পরিচালনা: প্রতিটি ইসলামি ব্যাংক নিজস্ব যাকাত ও দাতব্য তহবিল পরিচালনা করে দরিদ্র ও অসহায়দের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখে।

৭. যাকাত বণ্টনের খাতসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর। সমাজের দরিদ্রতা দূরীকরণে যাকাতের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

[Discuss the sectors of Zakat allocation in details. Evaluate the role of Zakat in poverty alleviation in society.]

ক. যাকাত বণ্টনের আটটি নির্ধারিত খাত (মাসারিফুয যাকাত):

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ যাকাতের অর্থ বণ্টনের আটটি সুনির্দিষ্ট খাত ঘোষণা করেছেন:

  1. ফকির (আল-ফুকারা): যার কোনো নিজস্ব সম্পদ নেই অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য সম্পদ রয়েছে।
  2. মিসকিন (আল-মাসাকিন): যার কিছু উপার্জন আছে কিন্তু তা দিয়ে ন্যূনতম পারিবারিক ভরণপোষণ সম্ভব হয় না, অথচ সে আত্মমর্যাদার কারণে মানুষের কাছে হাত পাতে না।
  3. যাকাত আদায়কারী কর্মচারী (আল-আমিলিনা আলাইহা): রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণে নিয়োজিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারিশ্রমিক।
  4. মন জয় করার জন্য (মুআল্লাফাতুল কুলুব): নওমুসলিমদের ইসলামে অবিচল রাখা বা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রদত্ত আর্থিক সহায়তা।
  5. দাসমুক্তি (ফির রিকাব): দাস-দাসীদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার তহবিল (বর্তমানে অন্যায়ভাবে বন্দি মুক্তিতে প্রযোজ্য)।
  6. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (আল-গারিমিন): যে ব্যক্তি বৈধ প্রয়োজনে ঋণগ্রস্ত হয়ে তা পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ অক্ষম।
  7. আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ): দ্বীন ইসলামের প্রচার, প্রসার, প্রতিরক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক পবিত্র জিহাদ বা দাওয়াতি কাজে নিয়োজিতদের জন্য।
  8. মুসাফির (ইবনুস সাবিল): যে ভ্রমণকারী সফরে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে, যদিও নিজ এলাকায় সে ধনী হয়।

খ. দারিদ্র্য দূরীকরণে যাকাতের কার্যকর ভূমিকা:

যাকাত কোনো ঐচ্ছিক ভিক্ষা নয়, বরং এটি ধনীদের সম্পদ থেকে উদ্বৃত্ত অংশের ওপর দরিদ্রদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগৃহীত যাকাত তহবিল দিয়ে কর্মহীন দরিদ্রদের স্থায়ী উৎপাদনের উপকরণ (যেমন সেলাই মেশিন, ভ্যানগাড়ি, দুগ্ধবতী গাভী বা ক্ষুদ্র ব্যবসার পণ্য) প্রদান করা হলে তারা চিরতরে দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে আসে। খোলাফায়ে রাশেদীন এবং উমর ইবনে আব্দুল আজিজের আমলে এ ব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়নে মুসলিম জাহান সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছিল।


৮. বিমা কাকে বলে? প্রচলিত বিমা ও ইসলামি বিমার মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।

[What is insurance? Discuss the differences between conventional insurance and Islamic insurance.]

ক. বিমার সংজ্ঞা:

বিমা হলো এমন একটি চুক্তিভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা যার অধীনে এক পক্ষ (বিমা গ্রহীতা) নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদানের বিনিময়ে অপর পক্ষের (বিমাকারী প্রতিষ্ঠান) কাছ থেকে ভবিষ্যতে কোনো অনিশ্চিত দুর্ঘটনা বা ক্ষতির বিপরীতে আর্থিক ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা লাভ করে।

খ. প্রচলিত বিমা ও ইসলামি বিমার (তাকাফুল) পার্থক্য:

  1. মূল দর্শন ও চুক্তি:
    • প্রচলিত বিমা: এটি বাণিজ্যিক ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি। গ্রাহক অনিশ্চিত ঝুঁকি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে।
    • ইসলামি বিমা: এটি পারস্পরিক সাহায্য ও দানভিত্তিক (তাবাররু) সমবায় ব্যবস্থা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সবাই বিপদে পরস্পরকে সহযোগিতার যৌথ তহবিল গড়ে তোলে।
  2. নিষিদ্ধ উপাদান (রিবা, গারার ও মেইসির):
    • প্রচলিত বিমা: এটি তিনটি হারাম উপাদানে নিমজ্জিত—সুদ (প্রিমিয়ামের অর্থ সুদে খাটানো হয়), গারার (চুক্তিতে মারাত্মক অনিশ্চয়তা ও অস্পষ্টতা) এবং মেইসির বা জুয়া (দুর্ঘটনা ঘটলে প্রচুর পাওয়া যায়, না ঘটলে প্রিমিয়ামের টাকা গচ্চা যায়)।
    • ইসলামি বিমা: এটি সুদ, অস্পষ্টতা ও জুয়ামুক্ত। তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সম্পূর্ণ হালাল ও শরীয়াহসম্মত ব্যবসায় খাটানো হয়।
  3. মুনাফা ও উদ্বৃত্ত বণ্টন:
    • প্রচলিত বিমা: পলিসি থেকে অর্জিত সমস্ত উদ্বৃত্ত মুনাফা কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডারদের পকেটে যায়।
    • ইসলামি বিমা: ক্ষতিপূরণ ও ব্যবস্থাপনা খরচ মেটানোর পর তহবিলের যাবতীয় উদ্বৃত্ত অর্থ (Surplus) অংশগ্রহণকারী গ্রাহকদের মাঝে ফেরত বা বণ্টন করা হয়।

খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

৯. ইসলামে ব্যক্তি মালিকানা বলতে কী বোঝায়?

[What is the sense of ownership in Islam?]

ইসলামি অর্থনীতিতে ব্যক্তি মালিকানার ধারণা পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।

  • প্রকৃত মালিকানা আল্লাহর: আসমান ও জমিনের সমস্ত বস্তুর একক ও নিরঙ্কুশ সার্বভৌম মালিকানা একমাত্র মহান আল্লাহর।
  • প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যক্তি মালিকানা: আল্লাহ তাআলা মানুষকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে সম্পদ অর্জনের এবং তা ভোগ ও হস্তান্তরের আপেক্ষিক বা শর্তসাপেক্ষ মালিকানা দান করেছেন। ব্যক্তি পরিশ্রম করে হালাল পথে উপার্জিত সম্পদের পূর্ণ মালিকানা লাভ করবে।
  • মালিকানার সীমারেখা: ব্যক্তির এ মালিকানা স্বেচ্ছাচারী নয়। সে সম্পদ নষ্ট বা অপব্যয় করতে পারে না, হারাম পথে ব্যয় করতে পারে না এবং তার অর্জিত সম্পদ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে যাকাত ও সামাজিক হক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে।

১০. অর্থের কার্যাবলি আলোচনা কর।

[Discuss the functions of money.]

অর্থনীতিবিদ ওয়াকারের বিখ্যাত সূত্র: “Money is what money does.” অর্থাৎ অর্থ যা করে তাই অর্থ। অর্থের প্রধান কার্যাবলি হলো:

  1. বিনিময়ের মাধ্যম (Medium of Exchange): অর্থ সকল পণ্য ও সেবার সাধারণ বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে দ্রব্য বিনিময় প্রথার (Barter System) অসুবিধা দূর করে।
  2. মূল্যের পরিমাপক (Measure of Value): যেকোনো পণ্যের মূল্য কত তা পরিমাপের সর্বজনীন মাপকাঠি হলো অর্থ।
  3. স্থগিত লেনদেনের মান (Standard of Deferred Payments): ভবিষ্যৎ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের সহজ ভিত্তি হিসেবে অর্থ ব্যবহৃত হয়।
  4. মূল্যের ভাণ্ডার বা সঞ্চয় (Store of Value): অন্যান্য পচনশীল দ্রব্যের মতো নষ্ট হয় না বলে মানুষ ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য অর্থ আকারে সঞ্চয় করে রাখতে পারে।

১১. ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি লেখ।

[Write the Islamic view in determining the lowest wage.]

ইসলাম শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ইসলামি মূলনীতিসমূহ:

  • জীবনধারণের মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা: ইসলামে মজুরি কেবল বাজারের চাহিদা-যোগানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় না। শ্রমিকের মজুরি এমন হতে হবে যাতে সে ও তার পরিবার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা সম্মানজনকভাবে মেটাতে পারে।
  • নবীজির ঐতিহাসিক মূলনীতি: মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন: “তারা তোমাদেরই ভাই, আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীন করেছেন। সুতরাং তোমরা যা খাও তাদের তা খেতে দাও এবং তোমরা যা পরিধান কর তাদের তা পরতে দাও।” (সহিহ বুখারি)।
  • ঘাম শুকানোর পূর্বে মজুরি প্রদান: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পাওনা মজুরি পরিশোধ করে দাও।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)। শ্রমিকের মজুরি কম দেওয়া বা আটকে রাখা ইসলামে মহাপাপ।

১২. টীকা লেখ: (ক) মুদ্রাস্ফীতি [Inflation] (খ) তাকাফুল [Takaful]

[Write notes on: (a) Inflation (b) Takaful]

(ক) মুদ্রাস্ফীতি (Inflation):

অর্থনীতিতে যখন বাজারে পণ্যসামগ্রীর সামগ্রিক সরবরাহ বা উৎপাদনের তুলনায় অর্থ সরবরাহের পরিমাণ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে পণ্যের সাধারণ দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। অধ্যাপক কোলবোর্নের ভাষায়: “Too much money chasing too few goods.” এর ফলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ ও দিনমজুররা তীব্র দুর্ভোগের শিকার হয় এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়ে।

(খ) তাকাফুল (Takaful):

‘তাকাফুল’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ বা যৌথ জামিনদারি। ইসলামি শরীয়াহসম্মত বিকল্প বিমা ব্যবস্থাকে তাকাফুল বলা হয়। এটি দান (তাবাররু) এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এখানে অংশগ্রহণকারীরা একটি সাধারণ তহবিলে নিয়মিত অর্থ প্রদান করে এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ দুর্ঘটনা বা ক্ষতির শিকার হলে সে তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। এটি সুদ, জুয়া ও জুয়াচুরির মতো অনৈসলামিক উপাদান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ইসলামি অর্থনীতির মূল উৎসগুলো কী কী?

ইসলামি অর্থনীতির প্রধান দুটি উৎস হলো আল-কুরআন ও সুন্নাহ এবং সহায়ক উৎস হলো ইজমা (ঐকমত্য) ও কিয়াস (সাদৃশ্যমূলক অনুমান)।

২. চাহিদা রেখা কেন বাম থেকে ডানে নিম্নগামী হয়?

চাহিদা বিধি অনুসারে দাম বাড়লে চাহিদা কমে এবং দাম কমলে চাহিদা বাড়ে; দাম ও চাহিদার এ বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণেই চাহিদা রেখা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী হয়।

৩. পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে উৎপাদন বন্ধের বিন্দু (Shutdown Point) কোনটি?

স্বল্পকালে যখন পণ্যের দাম কমতে কমতে ফার্মের গড় পরিবর্তনশীল ব্যয়ের সর্বনিম্ন বিন্দুর সমান হয় (P = AVC), তখন তাকে উৎপাদন বন্ধের বিন্দু বলে।

৪. পবিত্র কুরআনে যাকাত বণ্টনের কয়টি খাত সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে?

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী যাকাত বণ্টনের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে মোট আটটি খাত নির্ধারণ করা হয়েছে।

৫. প্রচলিত বিমা কেন ইসলামে নিষিদ্ধ?

প্রচলিত বিমায় রিবা (সুদ), গারার (চুক্তিতে মারাত্মক অনিশ্চয়তা) এবং মেইসির (জুয়া)—এ তিনটি হারাম উপাদান বিদ্যমান থাকায় এটি ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৬. ইসলামি বিমাকে কী বলা হয়?

ইসলামি শরীয়াহসম্মত বিকল্প বিমা ব্যবস্থাকে ‘তাকাফুল’ (Takaful) বলা হয়, যা দান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *