বাংলাদেশ স্টাডিজ (Bangladesh Studies) – 201107, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

StudyBoi StudyBoi
September 22, 2026
আপডেট: September 26, 2026
৪৬ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٣
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
القسم: القرآن والدراسات الإسلامية [বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المادة: الدراسات البنغلاديشية [বিষয়: বাংলাদেশ স্টাডিজ / Bangladesh Studies]
كود المادة [বিষয় কোড]: ২০১১০৭ | كود الامتحان [পরীক্ষা কোড]: ২০১ | كود ورقة الأسئلة [প্রশ্নপত্র কোড]: ০০৭
الوقت [সময়]: ৪ ঘণ্টা | الدرجة الكاملة [পূর্ণমান]: ৮০

الملاحظة [দ্রষ্টব্য]: বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। প্রত্যেক বিভাগ থেকে চারটি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।


مجموعة (أ) – [ক বিভাগ]

নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মান: ১৫ × ৪ = ৬০


১. تحدث عن دور حركة اللغة في استقلال بنغلاديش-

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম উন্মেষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের বীজবপনকারী ঐতিহাসিক ঘটনা। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালায়। এর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

স্বাধীনতায় ভাষা আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী ভূমিকা:

  • বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠিত হলেও ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা উপলব্ধি করে যে, ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় কোনো অংশে কম নয়। এই ভাষাগত ঐক্যই পরবর্তীকালে বাঙালি জাতীয়তাবাদে রূপ নেয়।
  • রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও যুক্তফ্রন্টের বিজয় (১৯৫৪): ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের প্রেক্ষাপটেই ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে, যা মুসলিম লীগের রাজনৈতিক আধিপত্য চূর্ণ করে দেয়।
  • পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ৬ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
  • অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ: ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি শক্তিশালী অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ ঘটায়, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উপসংহার: বস্তুত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম বিজয়ী লড়াই। এই আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।


২. اكتب أسباب مشكلة البطالة في بنغلاديش مع بيان طرق حلها-

বাংলাদেশের বেকার সমস্যার কারণসমূহ ও তার সমাধানের উপায়সমূহ লেখ।

উত্তর:

ভূমিকা: বেকারত্ব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আর্থ-সামাজিক সমস্যা। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী যখন যোগ্যতা ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থকরী কাজে নিয়োজিত হতে পারে না, তখন তাকে বেকারত্ব বলে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ সমস্যার কার্যকর সমাধান জরুরি।

বেকার সমস্যার প্রধান কারণসমূহ:

  • জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি: জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়া।
  • কর্মমুখী শিক্ষার অভাব: প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মূলত সনদভিত্তিক ও তাত্ত্বিক; বাস্তবমুখী ও কারিগরি শিক্ষার পর্যাপ্ত বিস্তার ঘটেনি।
  • কৃষি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও মৌসুমি বেকারত্ব: আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে কৃষিতে প্রচ্ছন্ন ও মৌসুমি বেকারত্ব ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।
  • শিল্পায়নের ধীরগতি: মূলধনের স্বল্পতা, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের অভাবে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার গতি ধীর।
  • স্বকর্মসংস্থানের অনীহা ও পুঁজির অভাব: তরুণদের মধ্যে চাকরির প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ এবং নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য সহজ শর্তে ঋণের অভাব।

বেকার সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ:

  1. কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষার প্রসার: শিক্ষাব্যবস্থাকে বাজার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে ভোকেশনাল ও আইটি ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করা।
  2. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (SME) বিকাশ: সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করা।
  3. কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন: সারা বছর কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা।
  4. দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন করে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি।
  5. আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের সম্প্রসারণ: ডিজিটাল অর্থনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি করে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানমুখী করা।

উপসংহার: সঠিক পরিকল্পনা এবং মেধা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে বেকার যুবসমাজকে জনসম্পদে পরিণত করা সম্ভব।


৩. اذكر الثروات الطبعية والمعدنية لبنغلاديش وأهميتها في الاقتصاد-

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের বিবরণ দাও এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: বাংলাদেশ প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে সীমিত হলেও যে সম্পদ রয়েছে তা দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও উত্তোলনের মাধ্যমে এ সম্পদ দেশের জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদসমূহ:

  • প্রাকৃতিক গ্যাস: দেশের প্রধান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। তিতাস, রশিদপুর, কৈলাশটিলা, বিবিয়ানা ইত্যাদি গ্যাসক্ষেত্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা ও শিল্প-কারখানায় জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।
  • কয়লা: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ও খালাসপীর এবং জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা রয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এই কয়লা ব্যবহৃত হয়।
  • কঠিন শিলা ও চুনাপাথর: দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট খনি থেকে কঠিন শিলা এবং সুনামগঞ্জ ও জয়পুরহাট থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে চুনাপাথর উত্তোলন করা হয়।
  • চীনামাটি ও সিলিকা বালু: নেত্রকোনার বিজয়পুর ও শেরপুরে চীনামাটি এবং সিলেট ও মৌলভীবাজারে কাচ শিল্পের উপযোগী সিলিকা বালু পাওয়া যায়।
  • নদী ও সামুদ্রিক জলজ সম্পদ: পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্য নদী এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ ব্লু-ইকোনমি মৎস্য ও সমুদ্র সম্পদে সমৃদ্ধ।

অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রভাব:

  • জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পায়ন: প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কলকারখানা ও উৎপাদনশীল খাতকে সচল রাখে।
  • আমদানি ব্যয় হ্রাস ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: অভ্যন্তরীণ খনিজ সম্পদের ব্যবহার বিদেশি জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানির বিপুল ব্যয় হ্রাস করে।
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি: খনি উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

উপসংহার: সমুদ্রসম্পদ (Blue Economy) ও স্থলভাগে আধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন খনিজ অনুসন্ধান জোরদার করা হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।


৪. تحدث عن أهمية الزراعة في اقتصاد بنغلاديش-

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: ভৌগোলিক অবস্থান ও উর্বর পলল মাটির কারণে বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে একটি কৃষিপ্রধান দেশ। যদিও জাতীয় আয়ে সেবা ও শিল্প খাতের অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবুও কর্মসংস্থান এবং খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে কৃষি এখনো অপরিহার্য।

অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব:

  • খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার মৌলিক খাদ্য চাহিদা (চাল, গম, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল) পূরণে কৃষির ভূমিকা একক ও প্রধান।
  • কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস: দেশের শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল।
  • জিডিপিতে অবদান: দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (GDP) কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১-১২ শতাংশ, যা টেকসই প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি।
  • শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: পাটকল, টেক্সটাইল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিনি ও চামড়া শিল্পের মূল কাঁচামাল আসে কৃষি থেকেই।
  • রপ্তানি আয় ও দারিদ্র্য বিমোচন: হিমায়িত চিংড়ি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চা এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখছে।

উপসংহার: কৃষির আধুনিকায়ন, স্মার্ট ফার্মিং এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেই একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।


৫. ما هي الصناعات المشهورة في بنغلاديش؟ تحدث عن دور صناعة الثياب في تنمية اقتصاد بنغلاديش-

বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পগুলো কী? বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাক শিল্পের ভূমিকা বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান হলেও বিগত কয়েক দশকে শিল্পায়নে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পসমূহ:

  • তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্প (Readymade Garments – RMG)
  • ওষুধ শিল্প (Pharmaceutical Industry) – বর্তমানে বিশ্বমানের ওষুধ ১০০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়
  • চামড়া ও পাদুকা শিল্প (Leather & Footwear)
  • পাট ও পাটজাত পণ্য শিল্প
  • জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ ভাঙা শিল্প
  • সিমেন্ট, সিরামিক ও ইস্পাত শিল্প

অর্থনৈতিক উন্নয়নে তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পের ভূমিকা:

  1. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সিংহভাগ: বাংলাদেশের মোট জাতীয় রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ থেকে ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
  2. ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নারীর ক্ষমতায়ন: এ খাতে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত, যার প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। ফলে এটি গ্রামীণ নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান বদলে দিয়েছে।
  3. লিংকেজ শিল্পের বিকাশ: প্যাকেজিং, ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স, শিপিং ও পরিবহনের মতো অসংখ্য সহায়ক খাত পোশাক শিল্পের ওপর ভিত্তি করে বিকশিত হয়েছে।

উপসংহার: পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপন ও পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে এ খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।


৬. تحدث عن مساهمة المرأة في التنمية الإقتصادية لبنغلاديش-

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অবদান সম্পর্কে বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়—“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ দৃশ্যমান।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর মূল অবদান:

  • পোশাক শিল্পে নেতৃত্ব: তৈরি পোশাক খাতের প্রাণশক্তি হলো নারী শ্রমিক। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অর্জিত হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা।
  • কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: শস্য বপন, ফসল মাড়াই, পশুপালন, হাঁস-মুরগি পালন এবং পারিবারিক সবজি চাষে নারীদের অবদান গ্রামীণ খাদ্য নিরাপত্তাকে মজবুত করেছে।
  • ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (SME): বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় নারীরা কুটির শিল্প, বুটিক, হস্তশিল্প ও দুগ্ধ খামার গড়ে তুলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
  • প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স): বর্তমানে বিপুল সংখ্যক নারী মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী হিসেবে কাজ করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জাতীয় রিজার্ভ সমৃদ্ধ করছেন।
  • কর্পোরেট ও সেবা খাত: শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং, প্রশাসনিক সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীদের উপস্থিতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপসংহার: নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সমান মজুরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করা গেলে জাতীয় প্রবৃদ্ধি দ্রুত দ্বিগুণ করা সম্ভব।


৭. تحدث عن خصائص الدستور الحالي لبنغلاديش-

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) থেকে এটি কার্যকর হয়। এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান: এটি একটি সুসংহত লিখিত দলিল। এতে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ ও ৭টি তফসিল রয়েছে। সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ছাড়া এটি সংশোধন করা যায় না।
  2. রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি (অনুচ্ছেদ ৮): জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা হলো সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ।
  3. এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা (Unitary State): দেশে কোনো প্রাদেশিক ব্যবস্থা নেই; সমগ্র বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক সংসদীয় প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচালিত।
  4. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা (তৃতীয় ভাগ): চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, আইনের সম-অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ ১৮টি মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক স্বীকৃতি রয়েছে।
  5. সার্বভৌম বিচার বিভাগ: সংবিধানের প্রাধান্য বজায় রাখা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত।
  6. ন্যায়পাল ও নির্বাচন কমিশন: স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন এবং ন্যায়পালের সাংবিধানিক বিধান রাখা হয়েছে।

উপসংহার: বাংলাদেশের সংবিধান জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার এক অনন্য প্রতীক এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মূল রক্ষাকবচ।


৮. بين مساهمة شاه جلال اليماني رحمه الله في نشر الإسلام ببنغلاديش-

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে হযরত শাহজালাল ইয়ামানি (রহ) এর অবদান বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: সুলতানি আমলে ভারতীয় উপমহাদেশ ও তৎকালীন বাংলায় সুফি-দরবেশদের মাধ্যমে ইসলামের শান্তির বার্তা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হলেন হযরত শাহজালাল মুজাররদ ইয়ামানি (রহ)।

ইসলাম প্রচারে হযরত শাহজালাল (রহ)-এর অবদান:

  • সিলেট আগমন ও রাজা গৌড় গোবিন্দকে দমন: ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে অত্যাচারী রাজা গৌড় গোবিন্দের নিপীড়নে অতিষ্ঠ মুসলিম বুরহানউদ্দিনের সহায়তায় হযরত শাহজালাল (রহ) ৩৬০ জন আউলিয়াকে নিয়ে সিলেটে আগমন করেন এবং জালেম শাসকের পতন ঘটান।
  • উচ্চ নৈতিক চরিত্র ও মানবিক আদর্শ: তিনি তরবারির চেয়ে নিজের তাকওয়া, ক্ষমা, উদারতা ও সাম্যের মাধ্যমে স্থানীয় হিন্দু ও অনার্য অধিবাসীদের মন জয় করেন। তাঁর চরিত্র দেখে দলমত নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে।
  • ৩৬০ আউলিয়ার মাধ্যমে ধর্মপ্রচার: সিলেট বিজয়ের পর তিনি তাঁর সঙ্গী ৩৬০ জন আউলিয়াকে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে (ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ত্রিপুরা) ছড়িয়ে দিয়ে দ্বীনের দাওয়াত প্রচারের নির্দেশ দেন।
  • খানকাহ ও সামাজিক সংস্কার: তিনি সিলেটে স্থায়ী খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল আত্মশুদ্ধি, কোরআন-হাদিসের পাঠ এবং নিঃস্ব মানুষদের আশ্রয় ও লঙ্গরখানা।

উপসংহার: হযরত শাহজালাল (রহ)-এর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় পূর্ব বাংলায় সুফিবাদী ইসলামের শিকড় মজবুত হয় এবং সিলেট একটি পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়।


مجموعة (ب) – [খ বিভাগ]

সংক্ষেপে নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মান: ৫ × ৪ = ২০


৯. تحدث عن دور انتخابات العام ۱۹۷۰ م في استقلال بنغلاديش-

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ভূমিকা বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির পর প্রথম ও শেষ প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অবাধ নির্বাচন।

মূল আলোচনা:

  • আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে একক বিজয় অর্জন করে।
  • বাঙালির স্বাধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, ৬ দফার দাবির প্রতি গোটা পূর্ব বাংলার মানুষের অখণ্ড সমর্থন রয়েছে।
  • পশ্চিম পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা: সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি জান্তা যখন জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত করে এবং ২৫ মার্চ গণহত্যা চালায়, তখন এই নির্বাচনই স্বাধীন বাংলাদেশ ঘোষণার নৈতিক ও আইনি বৈধতা প্রদান করে।

১০. اكتب الحدود الجغرافية لدولة بنغلاديش-

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমারেখা লেখ।

উত্তর:

ভূমিকা: বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ভূ-কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নদীমাতৃক দেশ। এর আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার (সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আরও বিস্তৃত)।

ভৌগোলিক সীমানা:

  • উত্তর: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য।
  • দক্ষিণ: বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)।
  • পূর্ব: ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমার (রাখাইন রাজ্য)।
  • পশ্চিম: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।

সারসংক্ষেপ: তিন দিক দিয়ে ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং দক্ষিণে রয়েছে উন্মুক্ত সমুদ্রসীমা।


১১. تحدث عن الغاز الطبيعي لبنغلاديش-

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পর্কে বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক হাইড্রোকার্বন জীবাশ্ম জ্বালানি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • উৎপাদন ও গ্যাসক্ষেত্র: দেশে এ পর্যন্ত ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রধান প্রধান গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ, কৈলাশটিলা ও জালালাবাদ।
  • ব্যবহার: দেশের উৎপাদিত গ্যাসের সিংহভাগ ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে (প্রায় ৫৫%), সার কারখানায় ইউরিয়া সার তৈরিতে এবং শিল্প-কারখানা ও আবাসিক লাইনে।
  • বর্তমান প্রেক্ষাপট: দেশীয় গ্যাসের মজুত হ্রাস পাওয়ায় চাহিদা মেটাতে সরকার বর্তমানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানি করছে।

১২. اذكر الجمال الطبيعي لكوكس بازار بالإيجاز-

সংক্ষেপে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও।

উত্তর:

ভূমিকা: কক্সবাজার হলো বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী এবং বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত (প্রায় ১২০ কিমি)।

সৌন্দর্যের মূল আকর্ষণ:

  • সৈকত ও ঢেউয়ের গর্জন: নীল জলরাশি, ঝাউবনের সারি এবং ঢেউয়ের অবিরাম খেলা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
  • সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়: সৈকত থেকে সাগরের বুকে সূর্যাস্তের রক্তিম আভা এক স্বর্গীয় অনুভূতি সৃষ্টি করে।
  • হিমছড়ি ও ইনানী সৈকত: পাহাড় এবং সাগরের অনন্য মিতালী, শীতল পানির ঝরনা ও প্রবাল পাথুরে সৈকত ইনানীর অন্যতম সৌন্দর্য।
  • মেরিন ড্রাইভ: বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় সড়ক, যার একপাশে সবুজ পাহাড় এবং অন্যপাশে উত্তাল সাগর।

১৩. اذكر أبرز إنجازات الحكومة في حقل النقل البرى-

সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ উল্লেখ কর।

উত্তর:

ভূমিকা: অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন অবকাঠামোতে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটেছে।

প্রধান অর্জনসমূহ:

  1. পদ্মা বহুমুখী সেতু: নিজস্ব অর্থায়নে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে রাজধানীর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।
  2. ঢাকা মেট্রোরেল (MRT Line-6): যানজট নিরসনে ঢাকার বুকে দ্রুতগতির আধুনিক পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ট্রেন ব্যবস্থা চালু।
  3. ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: বিমানবন্দর থেকে দ্রুততম সময়ে শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছানোর জন্য উড়াল সড়ক নির্মাণ।
  4. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল: কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নদীগর্ভ টানেল।
  5. মহাসড়ক চার লেনে ও ছয় লেনে উন্নীতকরণ: ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মতো আধুনিক মহাসড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি।

১৪. اكتب الحقوق الأساسية المذكورة في دستور بنغلاديش-

বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ লেখ।

উত্তর:

ভূমিকা: বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত) নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য মৌলিক অধিকারসমূহ:

  • আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭): সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
  • ধর্ম ইত্যাদির কারণে বৈষম্য না করা (অনুচ্ছেদ ২৮): ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।
  • জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২): আইনানুযায়ী ব্যতীত কাউকে তার জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
  • চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯): প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক, মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।
  • সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৭ ও ৩৮): শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ এবং সমিতি বা ইউনিয়ন গঠনের অধিকার।
  • ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১): যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা।

১৫. بين تاريخ المدرسة العالية الحكومية بداكا-

সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা-এর ইতিহাস বর্ণনা কর।

উত্তর:

ভূমিকা: সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষার প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

  • প্রতিষ্ঠা (১৭৮০ খ্রি.): ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮০ সালে কলকাতার শিয়ালদহে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এটি ‘কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা’ নামে পরিচিত ছিল।
  • উদ্দেশ্য: ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে তৎকালীন আইন ও প্রশাসনিক কাজের জন্য দক্ষ লোক তৈরি করা। এর প্রথম প্রধান শিক্ষক (হেড মাওলানা) ছিলেন প্রখ্যাত পণ্ডিত মাওলানা মাজদুদ্দীন (বাহরুল উলূম)।
  • ঢাকায় স্থানান্তর (১৯৪৭ খ্রি.): ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর মাদ্রাসাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। প্রথমে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে, পরে চকবাজার এবং সবশেষে বকশীবাজারে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • অবদান: জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন, আধুনিক দ্বীনি শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং অসংখ্য প্রখ্যাত আলেম, গবেষক ও শিক্ষাবিদ তৈরিতে এই মাদ্রাসার ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

১৬. اكتب دور المفتي عميم الإحسان رحمه الله في علم الحديث-

ইলমুল হাদিস বিষয়ে মুফতি আমীমুল ইহসান (রহ) এর অবদান লেখ।

উত্তর:

ভূমিকা: মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বারকাতী (রহ) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হাদিস বিশারদ, ফকিহ এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রাক্তন হেড মাওলানা ও প্রধান মুফতি।

ইলমুল হাদিসে অবদান:

  • উস্তাদুল মুহাদ্দিসীন: তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সিহাহ সিত্তাহসহ হাদিসের মূল কিতাবগুলোর দরস প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের অসংখ্য আলেম তাঁর কাছ থেকে হাদিসের সনদ লাভ করেছেন।
  • গ্রন্থ রচনা: ইলমুল হাদিস ও উসূলে হাদিসের ওপর তিনি কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো:
    • মিনহাতুল মুগিস (منحة المغيث): উসূলে হাদিস ও পরিভাষার ওপর একটি প্রামাণ্য কিতাব।
    • মুকাদ্দামায়ে সুনানে আবি দাউদ: হাদিস শাস্ত্রের বিশ্লেষণধর্মী মুখবন্ধ।
    • ফিহরিসতুল আহাদিসিল মাওদুআ: জাল হাদিস শনাক্তকরণ সম্পর্কিত মূল্যবান গ্রন্থ।
  • হাদিসের ওপর ফতোয়া প্রদান: বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে সমসাময়িক জটিল সমস্যার সমাধান ও ফতোয়া প্রণয়নে তিনি ছিলেন অনন্য।

উপসংহার: তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষের বাংলাদেশ স্টাডিজ (201107) পরীক্ষায় ভালো করার উপায় কী?

উত্তর: বাংলাদেশ স্টাডিজ পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর সঠিক সন-তারিখ, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ নম্বর এবং অর্থনৈতিক ডেটা পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করা উচিত।

প্রশ্ন ২: ফাজিল পরীক্ষায় কি উত্তর বাংলায় লেখা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ের উত্তর প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় সুস্পষ্টভাবে দেওয়া যায়। তবে মূল আরবি প্রশ্ন ও পরিভাষা নির্ভুলভাবে উল্লেখ করা শ্রেয়।

প্রশ্ন ৩: ফাজিল অনার্স পরীক্ষায় প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করতে হয়?

উত্তর: প্রশ্নপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক’ বিভাগ থেকে ৪টি (৪ × ১৫ = ৬০) এবং ‘খ’ বিভাগ থেকে ৪টি (৪ × ৫ = ২০) সহ মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

প্রশ্ন ৪: বিগত সালের প্রশ্নপত্র সমাধান করা কেন জরুরি?

উত্তর: বিগত ৩-৪ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়, যা পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন ৫: এই প্রশ্ন সমাধানটি কি ২০২৩ সালের অফিসিয়াল প্রশ্নপত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

উত্তর: হ্যাঁ, এটি ২০২৩ সালের অনুষ্ঠিত ফাজিল অনার্স প্রথম বর্ষের মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের শতভাগ নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান।

প্রশ্ন ৬: বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে ভালো নম্বরের জন্য কোন দিকগুলোতে জোর দিতে হবে?

উত্তর: মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সংবিধানের মৌলিক অধিকার এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি বিষয়ক প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও পয়েন্ট উল্লেখ করলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়।