পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০২১
اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ٢٠٢٤
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
الدعوة والدراسات الإسلامية [দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الدراسات البنغلاديشية [বাংলাদেশ স্টাডিজ]
বিষয় কোড: ২০৩১-০৭
الوقت — ٤ ساعات [সময় — ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة — ٨٠ [পূর্ণমান — ৮০]
[الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)]
কোর্স ও পরীক্ষা পরিচিতি
| বিশ্ববিদ্যালয় | ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (Islamic Arabic University – IAU) |
|---|---|
| ডিগ্রি ও বর্ষ | ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (Fazil BA Honours 1st Year) |
| বিভাগ | দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ (Department of Dawah & Islamic Studies) |
| বিষয়ের নাম | বাংলাদেশ স্টাডিজ (الدراسات البنغلاديشية – Bangladesh Studies) |
| বিষয় কোড | ২০৩১-০৭ (203107) |
| পরীক্ষার সন | ২০২৪ (অনুষ্ঠিত: ২০২৪/২০২৫) |
| সময় ও পূর্ণমান | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০ নম্বর |
| বিভাগীয় বিন্যাস | مجموعة (أ) (রচনামূলক প্রশ্ন – ৪টি উত্তর দিতে হয়): ৪ × ১৫ = ৬০ নম্বর | مجموعة (ب) (সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন – ৪টি উত্তর দিতে হয়): ৪ × ৫ = ২০ নম্বর |
مجموعة (أ) : রচনামূলক প্রশ্নাবলী (মান — ১৫ × ৪ = ৬০)
১ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
١- تحدث عن الخطوات المتوقعة لمقاومة الفساد الإدارى فى بنغلاديش- [বাংলাদেশের প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনের সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো আলোচনা কর।] (الدرجات: ١٥)
১ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. প্রশাসনিক দুর্নীতির স্বরূপ ও প্রেক্ষাপট:
প্রশাসনিক দুর্নীতি হলো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অর্পিত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার। ঘুষ গ্রহণ, স্বজনপ্রীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ফাইল আটকে রেখে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং জবাবদিহিতার অভাব বাংলাদেশের প্রশাসনিক দক্ষতাকে মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করেছে এবং জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
২. প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনের সম্ভাব্য কার্যকর পদক্ষেপসমূহ:
- দুদক (ACC)-এর নিরপেক্ষতা ও পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করতে হবে। দুর্নীতিবাজের দলীয় পরিচয় না দেখে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
- ডিজিটালাইজেশন ও ই-গভর্ন্যান্সের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন: নাগরিক সেবায় সরাসরি মানুষের হস্তক্ষেপ যত কমানো যাবে, ঘুষের সুযোগ তত হ্রাস পাবে। জমি নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, টেন্ডার প্রক্রিয়া (e-GP) এবং ট্যাক্স রিটার্ন শতভাগ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে হবে।
- আইনের শাসন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন: দুর্নীতির মামলা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে না রেখে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির আইনি বাধ্যবাধকতা জারি করতে হবে। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
- প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও সিটিজেন চার্টার কার্যকরীকরণ: প্রতিটি সরকারি দপ্তরে ‘সিটিজেন চার্টার’ কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ফাইলের কাজ সম্পন্ন না করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা ও প্রণোদনা: বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত বেতন কাঠামো ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর্থিক অনটনের অজুহাতে দুর্নীতির প্রবণতা তৈরি না হয়। একই সাথে সততা ও দক্ষতার জন্য জাতীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- নৈতিক ও ইসলামি মূল্যবোধের বিকাশ: পরকালীন জবাবদিহিতা ও তাকওয়ার অনুভূতি দুর্নীতি দমনের সর্বশ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। ইসলামে ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই জাহান্নামী ঘোষণা করা হয়েছে («الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي كِلَاهُمَا فِي النَّارِ»)। কর্মকর্তাদের জন্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা দরকার।
২ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٢- اكتب ما تعرف عن مشكلة البطالة وحلها فى بنغلاديش- [বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার সমাধান সম্পর্কে যা জান লেখ।] (الدرجات: ١٥)
২ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. বাংলাদেশে বেকার সমস্যার বর্তমান চিত্র ও কারণ:
কর্মক্ষম ও উপযুক্ত কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন প্রচলিত মজুরিতে কোনো সম্মানজনক কর্মসংস্থান খুঁজে পায় না, তাকে বেকারত্ব বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় সংকট হলো এই বেকারত্ব, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বাধিক।
বেকারত্বের প্রধান কারণসমূহ:
- কর্মমুখী শিক্ষার অভাব: প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তাত্ত্বিক ও সনদমুখী। ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে ডিগ্রিধারীরা শিল্প-কারখানার চাহিদামতো কাজ করতে পারে না।
- জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি: কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির হারের চেয়ে প্রতি বছর শ্রমবাজারে প্রবেশকারী নতুন যুবকদের সংখ্যা অনেক বেশি।
- কৃষির ওপর অতিরিক্ত চাপ: কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ কৃষিশ্রমিকরা প্রচ্ছন্ন বেকারত্বে রূপ নিচ্ছে।
- শিল্পায়নের মন্থর গতি: গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নতুন বৃহৎ শিল্প কলকারখানা পর্যাপ্ত পরিমাণে গড়ে উঠছে না।
২. বেকার সমস্যা সমাধানের বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা:
- শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও কারিগরি শিক্ষা বিস্তার: সাধারণ উচ্চশিক্ষার আসন কমিয়ে কারিগরি, ভোকেশনাল ও আইটি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
- আত্মকর্মসংস্থান ও তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি: যুবকদের শুধুমাত্র সরকারি বা বেসরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে সুদমুক্ত ইসলামি ঋণ (করযে হাসানা বা মুদারাবা স্কিম) প্রদান করতে হবে।
- তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের সম্প্রসারণ: বাংলাদেশের তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি আউটসোর্সিং একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে লাখ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
- কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ও প্রক্রিয়াকরণ: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ডেইরি, পোল্ট্রি, মৎস্য চাষ ও উন্নত কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে কর্মচঞ্চল করা যায়।
- নতুন বৈশ্বিক শ্রমবাজার অনুসন্ধান: মধ্যপ্রাচ্যের সনাতন অদক্ষ শ্রমবাজারের পাশাপাশি ইউরোপ, জাপান ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি (কেয়ারগিভার, নার্স, আইটি স্পেশালিস্ট, প্রকৌশলী) রপ্তানির দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে হবে।
৩ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٣- تحدث عن الموارد الطبيعية فى بنغلاديش- [বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পর্কে আলোচনা কর।] (الدرجات: ١٥)
৩ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. প্রাকৃতিক সম্পদের পরিচয়:
প্রকৃতি থেকে বিনামূল্যে প্রাপ্ত যে সকল বস্তু মানবজাতির বৈষয়িক সমৃদ্ধি, জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি উর্বর বদ্বীপ।
২. বাংলাদেশের প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ:
- ১. খনিজ সম্পদ (Mineral Resources):
- প্রাকৃতিক গ্যাস: বাংলাদেশের প্রধানতম বাণিজ্যিক শক্তির উৎস। তিতাস, রশিদপুর, কৈলাশটিলা, জালালাবাদ ও বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা ও শিল্প খাতের প্রাণশক্তি।
- কয়লা: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ও ফুলবাড়ী এবং জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে উচ্চমানের বিটুমিনাস কয়লা মজুদ রয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা দিয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালিত হয়।
- কঠিন শিলা ও চুনাপাথর: মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প রেললাইন, সেতু ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়। সুনামগঞ্জের টেকেরহাট ও সেন্টমার্টিনে চুনাপাথর রয়েছে যা সিমেন্ট শিল্পের মূল উপাদান।
- চীনামাটি ও সিলিকা বালু: নেত্রকোনার বিজয়পুর ও শেরপুরে উন্নত চীনামাটি পাওয়া যায় যা সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
- ২. পানি সম্পদ (Water Resources): পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ শত শত নদী বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে সিক্ত করেছে। এই নদ-নদী কৃষি সেচ, নৌ-পরিবহন এবং মৎস্য সম্পদের অফুরন্ত উৎস। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের অন্যতম নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎস।
- ৩. বনজ সম্পদ (Forest Resources): দেশের প্রায় ১৭% বনভূমি রয়েছে। সুন্দরবন (বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন), পার্বত্য চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বন এবং ভাওয়াল ও মধুপুরের শালবন মূল্যবান কাঠ, গোলপাতা, মধু ও ভেষজ ওষুধের জোগান দেয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশকে ঢালস্বরূপ রক্ষা করে।
- ৪. মৎস্য ও সমুদ্র সম্পদ (Blue Economy): অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় ও বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলসীমায় ইলিশ, রূপচাঁদা, টুনা ও চিংড়িসহ শত শত প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য ও খনিজ তেল-গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মিঠা পানির মাছ উৎপাদনকারী দেশ।
- ৫. উর্বর কৃষিভূমি ও মানবসম্পদ: পলিগঠিত পলল সমভূমির কারণে বাংলাদেশের জমি অত্যন্ত উর্বর, যা বছরে তিনবার ফসল উৎপাদনে সক্ষম। একই সাথে ১৭ কোটি উদ্যমী জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় কর্মক্ষম প্রাকৃতিক মানবসম্পদ।
৪ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٤- تحدث عن ظهور الإسلام وتطوره فى بنغلاديش- [বাংলাদেশে ইসলামের আবির্ভাব ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।] (الدرجات: ١٥)
৪ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. বাংলায় ইসলামের আবির্ভাবের প্রাথমিক যুগ (নৌ-বাণিজ্যিক যোগাযোগ):
বাংলায় মুসলিম রাজনৈতিক বিজয়ের বহু পূর্বেই সপ্তম ও অষ্টম খ্রিষ্টাব্দে ইসলামের শুভ সূচনা ঘটেছিল। চট্টগ্রাম ছিল প্রাচীন প্রাচ্যের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক বন্দর।
- আরব বণিকদের আগমন: রাসুলুল্লাহ ﷺ ও খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগ থেকেই আরব বণিকরা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন করতেন। লালমাই-ময়নামতি এবং পাহাড়পুরে প্রাপ্ত আব্বাসীয় যুগের খলিফাদের রৌপ্যমুদ্রা (খলিফা হারুনুর রশিদ ও খলিফা মুসতাসিম বিল্লাহর মুদ্রা) এর ঐতিহাসিক প্রমাণ।
- প্রাথমিক সুফি সাধকদের আগমন: রাজনৈতিক আধিপত্যের পূর্বে বায়েজিদ বোস্তামী (চট্টগ্রাম), শাহ সুলতান কমরউদ্দিন রুমী (নেত্রকোনার মদনপুর, ১০৫৩ খ্রি.) এবং বাবা আদম শহীদ (মুন্সীগঞ্জের রামপাল, ১১১৯ খ্রি.) প্রমুখ বাংলায় আগমন করে দাওয়াতের ভিত্তি স্থাপন করেন।
২. বাংলায় রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও ইসলামের বিস্তার (১২০৪ খ্রি.):
১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া ও গৌড় অধিকারের মাধ্যমে বাংলায় প্রথম মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দলে দলে দরবেশ, আলেম ও সুফি বাংলায় আগমন করেন।
৩. সুফি-সাধক ও আউলিয়াদের ঐতিহাসিক ভূমিকা:
বাংলায় তরবারির জোরে নয়, বরং সুফি-দরবেশদের অনুপম চরিত্রমাধুর্য, মানবতার সেবা এবং সাম্যের বাণীর মাধ্যমে ইসলাম গণমানুষের ধর্মে পরিণত হয়। তৎকালীন হিন্দু ব্রাহ্মণ্যবাদের কঠোর জাতপাত ও বর্ণপ্রথায় নিষ্পেষিত বৌদ্ধ ও অন্ত্যজ শ্রেণির হিন্দুরা ইসলাম গ্রহণ করে মুক্তির স্বাদ পায়।
- হযরত শাহজালাল ও তাঁর ৩৬০ জন আউলিয়া (সিলেট বিজয়, ১৩০৩ খ্রি.)।
- হযরত শাহ পরান (সিলেট)।
- হযরত খানজাহান আলী (রহ.) (বাগেরহাট ও সমগ্র খুলনা অঞ্চল)।
- হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (রাজশাহী)।
- শাহ আলী বাগদাদী (মিরপুর, ঢাকা)।
৪. মুসলিম সুলতান ও নবাবদের অবদান:
ইলিয়াস শাহী, হোসেন শাহী এবং মুঘল আমলে মুসলিম শাসকরা আলেম ও মাদ্রাসায় বিশাল ওয়াকফ সম্পত্তি ও লাখেরাজ জমি দান করেন। এর ফলে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইসলামি তাহযিবের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটে এবং বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
৫ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٥- بين خدمات الشاه جلال اليمنى (رح) فى تبليغ الإسلام فى بنغلاديش- [বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে হযরত শাহজালাল ইয়ামানি (রহ) এর অবদান আলোচনা কর।] (الدرجات: ١٥)
৫ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
হযরত শাহজালাল মুজাররাদ আল-ইয়ামানি (রহ.) ছিলেন বাংলায় ইসলাম প্রচারের অবিসংবাদিত পুরুষ ও শীর্ষস্থানীয় সুফি সাধক। তিনি ১২৭১ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের কুনিয়ায় এক সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মামা ও আধ্যাত্মিক মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দী (রহ.) তাঁকে একমুঠো মাটি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন এমন স্থানে ইসলাম প্রচার করতে যার মাটির রঙ, গন্ধ ও স্বাদ এই মাটির সাথে হুবহু মিলে যাবে।
২. সিলেট বিজয় ও ইসলাম প্রতিষ্ঠা (১৩০৩ খ্রি.):
সিলেটের স্থানীয় অত্যাচারী রাজা গৌরগোবিন্দ এক নবজাতক শিশুর আকিকা উপলক্ষে গরু জবাইয়ের অপরাধে বুরহানউদ্দিন নামের এক নিরীহ মুসলমানের সন্তানকে হত্যা করে এবং তাঁর হাত কেটে নেয়। বুরহানউদ্দিনের আরজিতে বাংলার সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ তাঁর ভাগ্নে সিকান্দার গাজীকে পাঠান, কিন্তু রাজা গৌরগোবিন্দের জাদুকরী ও তীরন্দাজ বাহিনীর সামনে তারা পরাস্ত হয়। এ সময় হযরত শাহজালাল (রহ.) তাঁর ৩৬০ জন সফরসঙ্গী আউলিয়াসহ সিকান্দার গাজীর সাথে মিলিত হন এবং ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে অত্যাচারী গৌরগোবিন্দকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে সিলেটে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করেন। সিলেটের মাটির সাথে তাঁর মুর্শিদের দেওয়া মাটির হুবহু মিল খুঁজে পেয়ে তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে খানকাহ স্থাপন করেন।
৩. দাওয়াত ও সমাজ সংস্কারে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান:
- সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতিষ্ঠা: গৌরগোবিন্দের শাসনামলে সাধারণ হিন্দুরা বর্ণাশ্রম ও জাতপাতের চরম শিকলে বন্দি ছিল। হযরত শাহজালাল (রহ.) মানুষের সাথে এক কাতারে বসে খাওয়া-দাওয়া ও মেলামেশা করে মানবতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে হাজার হাজার মানুষ সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন।
- আউলিয়াদের এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন: বিজয় অর্জনের পর তিনি ৩৬০ জন সাহাবি-সুফিকে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলসহ ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ত্রিপুরায় ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে ছড়িয়ে দেন (যেমন: শাহ পরান, শাহ কামাল কুহাফা, শাহ সুন্দর প্রমুখ)।
- খানকাহ ও লঙ্গরখানা পরিচালনা: তিনি তাঁর দরগায় বিশাল লঙ্গরখানা প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে প্রতিদিন শত শত অনাথ, মুসাফির ও অভাবী মানুষকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হতো। বিশ্ববিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটে এসে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ও আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
- স্থায়ী ইসলামি সংস্কৃতির ভিত্তি: তিনি আজীবন অবিবাহিত (মুজাররাদ) থেকে নির্লোভ চিত্তে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানবকল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর মহান আত্মত্যাগের ফলেই আসাম ও পূর্ব বাংলা আজ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।
৬ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٦- اكتب تاريخ التعليم الإسلامى فى بنغلاديش- [বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষার ইতিহাস লিপিবদ্ধ কর।] (الدرجات: ١٥)
৬ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. প্রাক-ঔপনিবেশিক যুগ (সালতানাত ও মুঘল আমল):
মুসলিম বিজয়ের পর থেকেই বাংলায় মসজিদ ও খানকাহভিত্তিক মক্তব এবং মাদ্রাসার প্রসার ঘটে। মুসলিম শাসকরা প্রতিটি গ্রামে ও শহরে শিক্ষার প্রসারে লাখেরাজ (নিষ্কর) জমি দান করতেন। গৌড়, সোনারগাঁও ও পাণ্ডুয়ায় উচ্চতর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল। সোনারগাঁওয়ে শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ছিল তৎকালীন সমগ্র পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ উচ্চতর ইসলামি বিদ্যাপীঠ, যেখানে বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত শরফুদ্দিন ইয়াহিয়া মানেরী (রহ.) শিক্ষা লাভ করেছিলেন। পাঠ্যক্রমে হাদিস, তাফসিরের পাশাপাশি আরবি ব্যাকরণ, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও ফারসি ভাষা শেখানো হতো।
২. ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল ও ইসলামি শিক্ষার দ্বিধাবিভক্তি:
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশদের ক্ষমতা দখলের পর মুসলমানদের ওয়াকফ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ইসলামি শিক্ষাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে দুটি প্রধান ধারার সৃষ্টি হয়:
- আলিয়া মাদ্রাসা ধারার সূচনা (১৭৮০): লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক ১৭৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘কলকাতা মাদ্রাসা’ (বর্তমানে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এটি স্থানান্তরিত হয়ে ‘ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। এটি আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বিত সরকারি শিক্ষাধারা।
- কওমি মাদ্রাসা ধারার সূচনা (১৮৬৬): ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর ব্রিটিশ আগ্রাসন ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির থাবা থেকে খাঁটি ইসলামি বিশ্বাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর অনুকরণে চট্টগ্রামে হাটহাজারী মাদ্রাসা (১৯০১) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলায় দারসে নিজামিভিত্তিক স্বাধীন কওমি মাদ্রাসার শুভ সূচনা ঘটে।
৩. পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশ যুগ:
- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন: ১৯৭৮ সালে মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠিত হয়। এতে দাখিল ও আলিমকে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসির সমমান প্রদান করা হয়।
- ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও ফাজিল-কামিল অনার্স প্রবর্তন: ১৯৮৬ সালে কুষ্টিয়ায় ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ফাজিল ও কামিলকে সাধারণ ডিগ্রি ও মাস্টার্সের মান দেওয়া হয়।
- ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা (২০১৩): দেশের সমস্ত আলিয়া মাদ্রাসার ফাজিল ও কামিল স্তরকে এক ছাতার নিচে এনে উচ্চতর গবেষণা ও ডিগ্রি পরিচালনার জন্য ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (IAU), যা বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক।
- কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মান স্বীকৃতি (২০১৮): ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’-কে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান দেওয়া হয়। বর্তমানে সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা সমন্বিতভাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে।
مجموعة (ب) : সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নাবলী (মান — ৫ × ৪ = ২০)
৭ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٧- تحدث عن ثورة عام ١٩٦٩ م الشعبية موجزًا- [১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।] (الدرجات: ٥)
৭ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান হলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বৈরাচারী ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান সরকারের পতন এবং বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক গণবিস্ফোরণ।
প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ:
- পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং ঐতিহাসিক ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলানোর চক্রান্তের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠে।
- ২০ জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান (আসাদ) পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন তীব্র হয়। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা-কে গুলি করে হত্যা করা হলে সমগ্র বাংলাদেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
- কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মুখে টিকতে না পেরে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের ১০ বছরের মসনদের পতন ঘটে। এই অভ্যুত্থানই বাঙালি জাতিকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত মোহনায় উপনীত করে।
৮ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٨- تحدث عن الصناعات المشهورة فى بنغلاديش- [বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পগুলো সম্পর্কে আলোচনা কর।] (الدرجات: ٥)
৮ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে মসলিনের দেশ হলেও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বহু আধুনিক ও সম্ভাবনাময় শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রসিদ্ধ শিল্পসমূহ হলো:
- তৈরি পোশাক শিল্প (RMG Industry): বাংলাদেশের প্রধানতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্প। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক (বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা) এ খাতে কর্মরত এবং জাতীয় রপ্তানি আয়ের ৮০%-এর বেশি আসে এই খাত থেকে।
- ওষুধ শিল্প (Pharmaceutical Industry): দেশের অন্যতম সফল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প। অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮% ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের পাশাপাশি আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে মানসম্মত ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।
- পাট ও চামড়া শিল্প: সোনালী আঁশ পাট থেকে পরিবেশবান্ধব পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য (জুতো, ব্যাগ) দেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত।
- জাহাজ নির্মাণ ও ভাঙা শিল্প: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাহাজ ভাঙা শিল্প এবং অভ্যন্তরীণ ডকইয়ার্ডগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রগামী জাহাজ তৈরি করে ইউরোপে রপ্তানি করা হচ্ছে।
- সিরামিক ও সিমেন্ট শিল্প: দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শৈল্পিক সিরামিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।
৯ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٩- تحدث عن أهمية الخطة الاقتصادية الوطنية- [জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্ব আলোচনা কর।] (الدرجات: ٥)
৯ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হলো নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে পূর্বনির্ধারিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের একটি সমন্বিত সরকারি দিকনির্দেশনা (যেমন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা)। এর অপরিহার্য গুরুত্বসমূহ নিম্নরূপ:
- সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার: বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সম্পদ সীমিত অথচ চাহিদা অসীম। একটি বিজ্ঞানসম্মত জাতীয় পরিকল্পনা অপচয় রোধ করে অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে (যেমন বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, কৃষি) বিনিয়োগ নিশ্চিত করে।
- জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি: পরিকল্পিত বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন, কৃষি আধুনিকায়ন ও সেবা খাতের বিকাশ ঘটে, যা জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
- আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস: পরিকল্পনার মাধ্যমে অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ অঞ্চলগুলোতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দিয়ে সামগ্রিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সাথে সমন্বয় করে মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়।
১০ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
١٠- اذكر برامج النقاط الست لعام ١٩٦٦ م- [১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ কর।] (الدرجات: ٥)
১০ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের সম্মেলনে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ পেশ করেন। একে বাঙালির ‘ম্যাগনাকার্টা’ বা মুক্তির সনদ বলা হয়। দফাগুলো হলো:
- শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি: ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকার ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে এবং সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটে আইনসভা গঠিত হবে।
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে মাত্র দুটি বিষয়—দেশরক্ষা (প্রতিরক্ষা) ও পররাষ্ট্র নীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে।
- মুদ্রা ব্যবস্থা: পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে; অথবা সমগ্র দেশের জন্য একই মুদ্রা থাকবে, তবে সংবিধানে এমন কঠোর বিধান রাখতে হবে যাতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মুদ্রা বা পুঁজি পাচার হতে না পারে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ থাকবে।
- কর ও শুল্ক ধার্যের ক্ষমতা: সকল প্রকার কর, ট্যাক্স বা রাজস্ব ধার্য ও আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়ের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্র পাবে।
- বৈদেশিক বাণিজ্য ও মুদ্রা: বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলো নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব রাখবে এবং বিদেশের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি করার ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের থাকবে।
- প্যারামিলিশিয়া বা আঞ্চলিক বাহিনী গঠন: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলো নিজস্ব কর্তৃত্বাধীনে প্যারামিলিশিয়া বা আধা-সামরিক বাহিনী (যেমন আনসার বা মিলিশিয়া) গঠন করতে পারবে।
১১ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
١١- اكتب خصائص الدستور المكتوب وغير المكتوب موجزًا- [লিখিত ও অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লেখ।] (الدرجات: ٥)
১১ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | লিখিত সংবিধান (Written Constitution) | অলিখিত সংবিধান (Unwritten Constitution) |
|---|---|---|
| স্বরূপ ও প্রামাণ্যতা | রাষ্ট্রের মৌলিক শাসনতান্ত্রিক নিয়মাবলি একটি বা কয়েকটি আনুষ্ঠানিক দলিল হিসেবে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে (যেমন: বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান)। | শাসনতান্ত্রিক নিয়মাবলি কোনো একক সংবিধিবদ্ধ দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না; বরং ঐতিহাসিক প্রথা, আচার-আচরণ, ঐতিহ্য ও আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় (যেমন: যুক্তরাজ্যের সংবিধান)। |
| সুনির্দিষ্টতা ও স্পষ্টতা | ধারা ও অনুচ্ছেদগুলো সুস্পষ্ট হওয়ায় নাগরিক অধিকার ও সরকারের ক্ষমতার সীমানা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকে না। | অধিকাংশ বিষয় রীতিনীতি ও অলিখিত কনভেনশনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রায়শই ব্যাখ্যাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। |
| সংশোধন পদ্ধতি | সাধারণত দুষ্পরিবর্তনীয় (Rigid); বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া সহজে পরিবর্তন করা যায় না। ফলে সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা রক্ষা পায়। | সুপরিবর্তনীয় (Flexible); সংসদের সাধারণ আইন পাসের মাধ্যমেই যেকোনো নিয়ম সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায়। |
| বিচার বিভাগের ক্ষমতা | সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে বিচার বিভাগ প্রাধান্য পায়। সংবিধানবিরোধী যেকোনো আইন বাতিল করার ক্ষমতা আদালতের থাকে। | সংসদীয় সার্বভৌমত্ব চূড়ান্ত; বিচার বিভাগ আইন বাতিল করতে পারে না, কেবল প্রয়োগ করতে পারে। |
১২ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
١২- بين خصائص التعليم فى المدارس الإسلامية العالية فى بنغلاديش- [বাংলাদেশে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার বৈশিষ্ট্যাবলি বর্ণনা কর।] (الدرجات: ٥)
১২ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
বাংলাদেশে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ইসলামি ও আধুনিক সাধারণ শিক্ষার এক চমৎকার সমন্বিত শিক্ষাধারা। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
- ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয়: আলিয়া মাদ্রাসায় আল-কুরআন, হাদিস, ফিকহ, আরবি ব্যাকরণ ও সাহিত্যের পাশাপাশি সাধারণ ধারার বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বাধ্যতামূলকভাবে শেখানো হয়।
- জাতীয় কারিকুলাম ও সমমান প্রাপ্তি: দাখিল ও আলিমকে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি সমমান এবং ফাজিল ও কামিলকে ডিগ্রি (পাস/অনার্স) ও মাস্টার্স সমমান প্রদান করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েট এবং বিসিএস ক্যাডারে অবাধে মেধার স্বাক্ষর রাখছে।
- দ্বিমুখী ভাষা দক্ষতা: শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি ইসলামি বিশ্বের আন্তর্জাতিক ভাষা আরবি এবং বিশ্বায়নের ভাষা ইংরেজিতে যুগপৎ প্রাথমিক বুৎপত্তি অর্জনের সুযোগ পায়।
- নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা: মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম ও পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্রবান, দুর্নীতিমুক্ত, দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
- ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অভিভাবকত্ব: ২০১৩ সাল থেকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আলিয়া মাদ্রাসার উচ্চশিক্ষা পরিচালিত হওয়ায় এতে আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম ও গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ১ম বর্ষ দাওয়াহ বিভাগের ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ কোর্সের বিষয় কোড কত?
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের বাংলাদেশ স্টাডিজ (الدراسات البنغلاديشية) কোর্সের অফিশিয়াল বিষয় কোড হলো ২০৩১-০৭ (203107)।
২. এ কোর্সের মানবণ্টন ও প্রশ্নের কাঠামো কেমন?
বাংলাদেশ স্টাডিজ পরীক্ষার মোট পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: مجموعة (أ) থেকে যেকোনো ৪টি রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর (৪ × ১৫ = ৬০ নম্বর) এবং مجموعة (ب) থেকে যেকোনো ৪টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর (৪ × ৫ = ২০ নম্বর) দিতে হয়।
৩. এ বিষয়ে ইসলামি ইতিহাসের কোন কোন টপিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
বাংলাদেশে ইসলামের প্রাথমিক আগমন, সুফি-দরবেশদের দাওয়াতি ভূমিকা, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর অবদান এবং বাংলায় ইসলামি ও মাদ্রাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক বিকাশ এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৪. ১৯৬৬ সালের ছয় দফাকে বাঙালির কী বলা হয়?
১৯৬৬ সালের শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের ‘ম্যাগনাকার্টা’ বা মুক্তির সনদ বলা হয়।
৫. লিখিত সংবিধানের মূল সুবিধা কী?
লিখিত সংবিধানের মূল সুবিধা হলো এটি সুস্পষ্ট, দ্বিধাহীন এবং সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয় বিধায় দেশের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সরকারের স্বৈরাচারী ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয়।
৬. আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
আলিয়া মাদ্রাসার দাখিল ও আলিম স্তরের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং উচ্চতর ফাজিল (অনার্স/পাস) ও কামিল স্তরের অ্যাকাডেমিক নিয়ন্ত্রক হলো ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (IAU)।

