পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০১৫
اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ٢٠٢٤
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
الدعوة والدراسات الإسلامية [দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المدخل إلى الدعوة الإسلامية [আল-মাদখাল ইলা আদ-দা’ওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ]
বিষয় কোড: ২০৩১০১
الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة—٨٠ [পূর্ণমান—৮০]
[الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)]
[দ্রষ্টব্য : (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
কোর্স ও পরীক্ষা পরিচিতি
| বিশ্ববিদ্যালয় | ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (Islamic Arabic University – IAU) |
|---|---|
| ডিগ্রি ও বর্ষ | ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (Fazil BA Honours 1st Year) |
| বিভাগ | দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ (Department of Dawah & Islamic Studies) |
| বিষয়ের নাম | আল-মাদখাল ইলা আদ-দা’ওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ (المدخل إلى الدعوة الإسلامية – Introduction to Islamic Dawah) |
| বিষয় কোড | ২০৩১০১ (203101) |
| পরীক্ষার সন | ২০২৪ |
| সময় ও পূর্ণমান | ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০ নম্বর |
| নম্বর বণ্টন | مجموعة (أ) [রচনামূলক প্রশ্ন]: ৪ × ১৫ = ৬০ নম্বর | مجموعة (ب) [সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন]: ৪ × ৫ = ২০ নম্বর |
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪-এর দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ‘আল-মাদখাল ইলা আদ-দা’ওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ’ (বিষয় কোড: ২০৩১০১) কোর্সের সকল রচনামূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের প্রামাণ্য দলিলসহ পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিচে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো।
مجموعة (أ) : বিভাগ ‘ক’ (রচনামূলক প্রশ্ন)
الدرجة: ١٥ × ٤ = ٦٠
[الملاحظة: أجب عن أربعة من الأسئلة التالية / নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
١- عرف الإسلام لغة واصطلاحا- كيف يكون الإسلام دينا كاملا ونظاما شاملا؟ أوضح بالأدلة النقلية والعقلية-
[الإسلام এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। ইসলাম কীভাবে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও জীবন ব্যবস্থা হতে পারে তা নকলী ও আকলী দলিলের মাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা: ইসলাম কেবল কতিপয় আচার-অনুষ্ঠান বা উপাসনার সমষ্টি নয়, বরং এটি মানবজীবনের সামগ্রিক দিকনির্দেশনাকারী এক শাশ্বত ও ভারসাম্যপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানুষের যাবতীয় সমস্যার সমাধান ইসলামে চমৎকারভাবে সন্নিবেশিত রয়েছে।
১. ইসলামের শাব্দিক অর্থ (المعنى اللغوي):
‘ইসলাম’ (الإسلام) শব্দটি আরবি ‘সিলম’ (السِّلْم) বা ‘সালামাত’ (السَّلَامَة) ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর মূল শাব্দিক অর্থসমূহ হলো—
- অনুগত্য ও আত্মসমর্পণ (الاستسلام والخضوع): নিজেকে সম্পূর্ণরূপে কারও কর্তৃত্বের সামনে সঁপে দেওয়া।
- শান্তি ও নিরাপত্তা (السلام والأمان): নিজের অন্তর, পরিবেশ ও সৃষ্টিজগতের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা।
- বিশুদ্ধতা ও ত্রুটিমুক্ততা (السلامة من العيوب): যাবতীয় পঙ্কিলতা ও শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
অতএব শাব্দিক অর্থে ইসলাম হলো—আল্লাহ তায়ালার কর্তৃত্বের সামনে বিনম্র চিত্তে আত্মসমর্পণ করে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করা।
২. ইসলামের পারিভাষিক অর্থ (المعنى الاصطلاحي):
শরিয়তের পরিভাষায় ইসলাম হলো—
«هُوَ الِاسْتِسْلَامُ لِلَّهِ بِالتَّوْحِيدِ، وَالِانْقِيَادُ لَهُ بِالطَّاعَةِ، وَالْبَرَاءَةُ مِنَ الشِّرْكِ وَأَهْلِهِ، مَعَ الْإِيمَانِ بِكُلِّ مَا جَاءَ بِهِ النَّبِيُّ مُحَمَّدٌ ﷺ.»
(ভাবার্থ: মহান আল্লাহর তাওহিদ বা একত্ববাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা, তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, শিরক ও মুশরিকদের পথ বর্জন করা এবং প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার প্রতি অকুণ্ঠ বিশ্বাস স্থাপন ও বাস্তবায়ন করা।)
৩. ইসলাম যে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা—তার নকলী দলিলসমূহ (الأدلة النقلية):
- কুরআনিক দলিল-১ (দ্বীনের পূর্ণতার ঘোষণা):
মহান আল্লাহ তায়ালা বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রাক্কালে ঘোষণা করেন—
﴿الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا﴾ (সূরা আল-মায়েদা: ৩)
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” - কুরআনিক দলিল-২ (প্রতিটি বিষয়ের বিশদ ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
﴿وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ﴾ (সূরা আন-নাহল: ৮৯)
“আমি আপনার ওপর কিতাব নাজিল করেছি, যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।” - কুরআনিক দলিল-৩ (ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশের নির্দেশ):
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ﴾ (সূরা আল-বাক্বারা: ২০৮)
“হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।” - হাদিসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
«تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ» (মুয়াত্তা মালিক)
“আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি; যতক্ষণ তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না—আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ।”
৪. ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হওয়ার আকলী বা যুক্তিভিত্তিক দলিলসমূহ (الأدلة العقلية):
- সৃষ্টিকর্তার সর্বজ্ঞাতা ও প্রজ্ঞা: যিনি মানবদেহ, মস্তিষ্ক, আত্মা ও সমাজ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই মানুষের সবচেয়ে কল্যাণকর বিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম। মানুষের তৈরি আইন সীমাবদ্ধ ও পরিবর্তনশীল, কিন্তু আল্লাহর বিধান শাশ্বত ও নিখুঁত।
- মানবজীবনের সর্বস্তরে বিধানের উপস্থিতি: ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত নামায-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিবাহ, উত্তরাধিকার, ব্যবসা-বাণিজ্য, চুক্তি, বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনা, যুদ্ধ ও সন্ধিনীতি পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট মূলনীতি প্রদান করেছে।
- আত্মা ও দেহের ভারসাম্য: বস্তুবাদী মতবাদগুলো মানুষের আত্মাকে অবহেলা করে আর বৈরাগ্যবাদী ধর্মগুলো জৈবিক ও জাগতিক চাহিদাকে অস্বীকার করে। ইসলাম ভারসাম্য বজায় রেখে জাগতিক কর্মপ্রচেষ্টাকেই ইবাদতে রূপান্তরিত করার পদ্ধতি শিখিয়েছে।
- সর্বজনীনতা ও সর্বকালের উপযোগিতা: ইসলামের মূলনীতিগুলো এমন গতিশীল (Dynamic) যে, কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত কিয়াস ও ইজতিহাদের মাধ্যমে যেকোনো যুগের যেকোনো নবউদ্ভূত আধুনিক সমস্যার যুগোপযোগী সমাধান দিতে সক্ষম।
উপসংহার: ইসলাম হলো মানবজীবনের একমাত্র ঐশ্বরিক ব্লুপ্রিন্ট। ব্যক্তিজীবন থেকে আন্তর্জাতিক স্তর পর্যন্ত ইসলামের বিধানসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি অর্জন সম্ভব।
٢- ما الموعظة الحسنة؟ وما أهميتها فى نشر الدعوة الإسلامية؟ أوضح-
[الموعظة الحسنة কাকে বলে? ইসলামি দাওয়াহ প্রসারে এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]
ভূমিকা: ইসলামি দাওয়াতের সবচেয়ে ফলপ্রসূ ও হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতির নাম ‘মাও’ইযায়ে হাসানাহ’ বা উত্তম উপদেশ। মানুষের অন্তরকে নরম করা, বিবেককে জাগ্রত করা এবং সত্যের পথে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এর বিকল্প নেই।
১. ‘আল-মাও’ইযাহ আল-হাসানাহ’ (الموعظة الحسنة)-এর পরিচয়:
শব্দগতভাবে ‘মাও’ইযাহ’ (الموعظة) অর্থ উপদেশ, নসীহত বা সদুপদেশ। আর ‘হাসানাহ’ (الحسنة) অর্থ উত্তম, হৃদয়গ্রাহী বা সুন্দর।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা কুরতুবি ও রাগিব ইসফাহানির মতে—
«هِيَ الْكَلَامُ الرَّقِيقُ الَّذِي يَلِينُ لَهُ الْقَلْبُ، وَيَبْعَثُ عَلَى الطَّاعَةِ وَيَرْدَعُ عَنِ الْمَعْصِيَةِ، مَقْرُونًا بِالتَّرْغِيبِ وَالتَّرْهِيبِ دُونَ تَعْنِيفٍ أَوْ تَجْرِيحٍ.»
(ভাবার্থ: এমন কোমল, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী কথা, যা শুনে পাষাণ অন্তরও বিগলিত হয়, সত্য গ্রহণের আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং কোনো প্রকার কঠোরতা, তিরস্কার বা ব্যক্তি আক্রমণ ছাড়াই মানুষকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।)
কুরআন মাজিদে মহান আল্লাহ বলেন—
﴿ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ﴾ (সূরা আন-নাহল: ১২৫)
“আপনি আপনার প্রতিপালকের পথের দিকে মানুষকে হিকমত (প্রজ্ঞা) ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন।”
২. ইসলামি দাওয়াহ প্রসারে মাও’ইযায়ে হাসানাহ-এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
- ১. অন্তরে সরাসরি প্রভাব বিস্তার: কঠোরতা মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, পক্ষান্তরে কোমল কথা ও আন্তরিক সদুপদেশ মানুষের হৃদয়ের বন্ধ দুয়ার উন্মুক্ত করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা মূসা ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের মতো অহংকারী জালেমের কাছে পাঠানোর সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন—
﴿فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ﴾ (সূরা ত্বা-হা: ৪৪)
“তোমরা তার সাথে নরম ভাষায় কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে।” - ২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ চরিত্র: মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোমল আচরণ ও প্রীতিপূর্ণ বাক্যই মক্কার ঘোর শত্রুদের পরম ভক্ত ও আত্মত্যাগী সাহাবিতে পরিণত করেছিল। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে—
﴿فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ﴾ (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)
“আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ়ভাষী ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।” - ৩. প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া: মানুষ স্বাভাবিকভাবেই উপদেশ শুনতে লজ্জা বা বিরক্তি বোধ করে। কিন্তু উত্তম উপদেশের মধ্যে যখন কোনো আত্মগরিমা থাকে না এবং কেবল কল্যাণকামিতা প্রকাশ পায়, তখন শ্রোতার অহংকার চূর্ণ হয়ে যায় এবং সত্য গ্রহণ সহজ হয়।
- ৪. আশাবাদ ও ভয়ের সুষম সমন্বয় (الترغيب والترهيب): উত্তম উপদেশ জান্নাতের অতুলনীয় সুখ-শান্তির সুসংবাদ দিয়ে যেমন আশার সঞ্চার করে, তেমনি জাহান্নামের আযাব ও আল্লাহর ক্রোধের ভয় দেখিয়ে পাপ থেকে দূরে রাখে। এই ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনা মানুষকে চিরতরে সংশোধন করে।
- ৫. শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশের উত্তরণ: দাওয়াতের ময়দানে যারা বিরোধিতা করে, মাও’ইযায়ে হাসানাহ তাদের অন্তর পরিবর্তন করে চরম শত্রুকেও অন্তরঙ্গ মিত্রে পরিণত করতে পারে।
উপসংহার: একজন সফল ইসলামি দায়ীর প্রধান হাতিয়ার হলো সদুপদেশ ও বিনয়। রুক্ষতা ইসলামি দাওয়াহর আত্মাকে বিনষ্ট করে, আর মাও’ইযায়ে হাসানাহ ইসলামকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে দেয়।
٣- اذكر طبيعة الدعوة الإسلامية ومجالاتها وخصائصها بالإيضاح-
[ইসলামি দাওয়াতের প্রকৃতি, ক্ষেত্রসমূহ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে বর্ণনা দাও।]
ভূমিকা: ইসলামি দাওয়াত হলো বিশ্বমানবতাকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, দাসত্ব থেকে মুক্তির দিকে এবং পথভ্রষ্টতা থেকে আল্লাহর তাওহিদের পথে নিয়ে আসার এক মহান ঐশী মিশন। যুগে যুগে আম্বিয়ায়ে কেরাম এই দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর এই মহতি কাজের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।
১. ইসলামি দাওয়াতের প্রকৃতি (طبيعة الدعوة الإسلامية):
- ঐশ্বরিক দায়িত্ব (مسؤولية ربانية): দাওয়াত কোনো মানুষের মনগড়া আন্দোলন নয়; এটি মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত ফরজ ইবাদত।
- নবুওয়তি উত্তরাধিকার (وراثة النبوة): রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আর কোনো নবী আসবেন না। তাই কিয়ামত পর্যন্ত দাওয়াতের এই পবিত্র মশাল বহন করার দায়িত্ব গোটা মুসলিম উম্মাহর।
- সংস্কার ও বিপ্লব (إصلاح وتغيير): কেবল কথা বলা দাওয়াত নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে আল্লাহর বিধানের আলোকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করাই এর মূল স্বভাব।
২. ইসলামি দাওয়াতের ক্ষেত্রসমূহ (مجالات الدعوة الإسلامية):
- বিশ্বাস ও আক্বিদার ক্ষেত্র (المجال العقدي): শিরক, কুফর, নিফাক ও নাস্তিকতা দূর করে তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রতি বিশুদ্ধ বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা।
- ইবাদত ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্র (المجال التعبدي): নামায, রোজা, হজ, যাকাতসহ যাবতীয় শরয়ি হুকুম-আহকাম যথাযথভাবে পালনে উদ্বুদ্ধ করা।
- আখলাক ও নৈতিকতার ক্ষেত্র (المجال الأخلاقي): সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকার ও আমানতদারিতা প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়, দুর্নীতি, মিথ্যাচার ও অশ্লীলতা নির্মূল করা।
- পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্র (المجال الاجتماعي): পিতা-মাতার হক, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, নারীর অধিকার ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা সুদৃঢ় করা।
- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র (المجال السياسي والاقتصادي): ইনসাফপূর্ণ বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় সুশাসন এবং সুদ ও শোষণমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দিকনির্দেশনা দেওয়া।
৩. ইসলামি দাওয়াতের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص الدعوة الإسلامية):
- ১. রব্বানিয়্যাহ বা ঐশী উৎস (الربانية): দাওয়াতের মূল লক্ষ্য কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং এর নিয়ম-কানুনও আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত।
- ২. শুমুলিয়্যাহ বা পূর্ণাঙ্গতা (الشمولية): এটি জীবনের খণ্ডিত অংশ নিয়ে কাজ করে না; জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানবজীবনের সব অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত।
- ৩. আলামিয়্যাহ বা আন্তর্জাতিক সর্বজনীনতা (العالمية): ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট বংশ, বর্ণ বা ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির মুক্তির বার্তা।
- ৪. ওয়াসাত্বিয়্যাহ বা ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা (الوسطية): এতে চরমপন্থা বা শিথিলতা নেই; মানব প্রকৃতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা।
- ৫. সহজবোধ্যতা ও বাস্তববাদিতা (الواقعية واليسر): ইসলামের দাওয়াত বাস্তবসম্মত ও পালনযোগ্য; এতে কোনো কৃত্রিম বা অসম্ভব চাপ নেই।
٤- عرف الداعية الإسلامي- ثم تحدث عن ميزاته وصفاته-
[ইসলামি দায়ীর পরিচয় দাও। তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলিসমূহ সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা: ইসলামি দাওয়াত প্রচার ও প্রসারে যে ব্যক্তি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, তাকে ‘দায়ী’ বলা হয়। দায়ী হলেন সত্যের দূত এবং সমাজের পথপ্রদর্শক। দাওয়াতের সাফল্য অনেকাংশেই দায়ীর চারিত্রিক উৎকর্ষ ও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।
১. দায়ীর পরিচয় (تعريف الداعية):
‘দায়ী’ (الداعية) শব্দটি ‘দা’ওয়া’ (الدعوة) ধাতু থেকে গঠিত ইসমে ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য)। এর শাব্দিক অর্থ—আহ্বানকারী, নিমন্ত্রণকারী বা পথপ্রদর্শক।
পারিভাষিক অর্থ:
«الـدَّاعِيَةُ هُوَ كُلُّ مُسْلِمٍ يَقُومُ بِإِبْلَاغِ رِسَالَةِ الإِسْلَامِ إِلَى النَّاسِ، وَيَدْعُوهُمْ إِلَى تَوْحِيدِ اللهِ وَطَاعَتِهِ، وَيَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ عَلَى بَصِيرَةٍ.»
(ভাবার্থ: যে মুসলিম ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদ ও আনুগত্যের দিকে আহ্বান জানান, সুস্পষ্ট প্রজ্ঞার ভিত্তিতে মানুষকে সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন এবং ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরেন, তাকে ইসলামি দায়ী বলা হয়।)
২. ইসলামি দায়ীর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলিসমূহ (صفات الداعية وميزاته):
- ১. ইখলাস বা নিষ্ঠা (الإخلاص): দায়ীর একমাত্র লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। জাগতিক পদমর্যাদা, যশ-খ্যাতি বা অর্থলিপ্সা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে।
- ২. ইলম বা প্রামাণ্য জ্ঞান (العلم والبصيرة): কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক জ্ঞান ছাড়া দাওয়াত দেওয়া যায় না। আল্লাহ বলেন—
﴿قُلْ هَٰذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي﴾ (সূরা ইউসুফ: ১০৮)
“বলুন, এটিই আমার পথ; আমি এবং আমার অনুসারীগণ সুস্পষ্ট প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাই।” - ৩. আমল ও কথার মিল (مطابقة القول للعمل): দায়ীর নিজের জীবন হবে ইসলামের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। নিজের কথা ও কাজের অমিল দাওয়াতকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেয়। আল্লাহ সতর্ক করেছেন—
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ﴾ (সূরা আস-সাফ: ২)
“হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?” - ৪. ধৈর্য ও সহনশীলতা (الصبر والتحمل): দাওয়াতের পথে বাধা, উপহাস ও নিপীড়ন আসা স্বাভাবিক। সব প্রতিকূলতায় অটল ধৈর্য ধারণ করা নবীদের প্রধান সুন্নত।
- ৫. হিকমত ও কৌশলগত বিচক্ষণতা (الحكمة والذكاء): শ্রোতার মানসিকতা, বয়স ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সঠিক সময়ে সঠিক কথা উপস্থাপন করা।
- ৬. উত্তম চরিত্র ও কোমলতা (حسن الخلق واللين): মুখে হাসি, ব্যবহারে বিনয়, অমায়িক আচরণ এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম সহানুভূতি দায়ীর পরম সম্পদ।
- ৭. আধুনিক যুগসচেতনতা (معرفة أحوال العصر): বর্তমান যুগের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মিডিয়া এবং ইসলামবিরোধী ফিতনা সম্পর্কে সচেতন থেকে দাওয়াত পরিচালনা করা।
٥- تحدث عن أهمية الأمر بالمعروف والنهى عن المنكر فى ضوء القرآن والسنة-
[কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধের গুরুত্ব আলোচনা কর।]
ভূমিকা: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের প্রতিরোধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) হলো ইসলামি জীবনব্যবস্থার প্রধান রক্ষাকবচ এবং মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্বের মূল কারণ। এটি না থাকলে সমাজ পাপাচারে নিমজ্জিত হয়ে আল্লাহ তায়ালার গণগজবের শিকার হয়।
১. কুরআনুল কারিমের আলোকে গুরুত্ব ও মহিমা:
- উম্মতে মুহাম্মাদীর শ্রেষ্ঠত্বের মূল শর্ত:
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
﴿كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ﴾ (সূরা আলে ইমরান: ১১০)
“তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে, অসৎকাজ থেকে বারণ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে।” - মুমিনদের অন্যতম মৌলিক পরিচয়:
﴿وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ﴾ (সূরা আত-তাওবাহ: ৭১)
“আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজে বাধা প্রদান করে।” - বনি ইসরাইলের ওপর লানতের কারণ:
পূর্ববর্তী জাতিগুলো সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ছেড়ে দেওয়ার কারণেই অভিশপ্ত হয়েছিল—
﴿كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ﴾ (সূরা আল-মায়েদা: ৭৯)
“তারা যেসব অপকর্ম করত তা থেকে একে অপরকে বারণ করত না; তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট ছিল!”
২. হাদিস শরিফের আলোকে গুরুত্ব ও নির্দেশনাবলী:
- অসৎকাজ প্রতিরোধের তিনটি স্তর:
হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» (সহীহ মুসলিম)
“তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়। যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে মুখ দিয়ে (উপদেশ ও প্রতিবাদের মাধ্যমে) বারণ করে; আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে—আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।” - দোয়া কবুল না হওয়ার ও গণশাস্তির হুঁশিয়ারি:
হযরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—
«وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْ عِنْدِهِ، ثُمَّ لَتَدْعُنَّهُ فَلَا يَسْتَجِيبُ لَكُمْ» (জামে আত-তিরমিজি)
“সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে বাধা প্রদান করবে; নতুবা অচিরেই আল্লাহ তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তি অবতীর্ণ করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে কাতর হয়ে দোয়া করবে কিন্তু তিনি তোমাদের দোয়া কবুল করবেন না।”
উপসংহার: সমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হলে আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত ফরজ দায়িত্ব।
٦- من المدعو؟ وكم صنفا له؟ هل تختلف واجبات الداعية حسب اختلاف أصناف المدعو؟ بين بالتفصيل-
[مدعو কাকে বলে? উহা কত প্রকার? مدعو এর ধরনের ভিন্নতার কারণে দায়ীর কর্তব্যের ভিন্নতা প্রয়োজন কি না আলোচনা কর।]
ভূমিকা: ইসলামি দাওয়াতের প্রধান তিনটি স্তম্ভ হলো—দায়ী (আহ্বানকারী), দাওয়াত (ইসলামের মূল বাণী) এবং মাদ’উ (যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়)। মাদ’উর মানসিকতা, জ্ঞান ও সামাজিক অবস্থান গভীরভাবে উপলব্ধি করা দাওয়াতের সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত।
১. ‘মাদ’উ’ (المدعو)-এর সংজ্ঞা:
‘মাদ’উ’ হলো আরবি শব্দ, যা ইসমে মাফউল (কর্মবাচ্য)। এর অর্থ যাকে ডাকা হয়েছে বা যাকে দাওয়াত দেওয়া হয়।
পারিভাষিক অর্থ:
«الْمَدْعُوُّ هُوَ كُلُّ شَخْصٍ أَوْ جَمَاعَةٍ يُوَجَّهُ إِلَيْهِمُ الْخِطَابُ الدَّعْوِيُّ لِإِرْشَادِهِمْ إِلَى دِينِ اللهِ، مُسْلِمًا كَانَ أَوْ غَيْرَ مُسْلِمٍ.»
(ভাবার্থ: আল্লাহর দ্বীনের হেদায়েত ও আনুগত্যের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানো হয়—হোক সে মুসলিম বা অমুসলিম—তাদেরকেই ইসলামি পরিভাষায় ‘মাদ’উ’ বা সম্বোধিত ব্যক্তি বলা হয়।)
২. মাদ’উর শ্রেণিবিভাগ (أصناف المدعو):
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াত এবং মানুষের মানসিক প্রবণতার আলোকে মাদ’উকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
- প্রজ্ঞাবান ও চিন্তাশীল শ্রেণি (أصحاب العقول والحكمة): এরা হলেন উচ্চশিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক ও গবেষক মহল। তারা যেকোনো বিষয় অন্ধভাবে বিশ্বাস করেন না, বরং গভীর যুক্তি, প্রমাণ ও দর্শনের আলোকে সত্য অনুসন্ধান করেন।
- সাধারণ জনগণ (الجمهور وعامة الناس): এরা হলেন সমাজের সাধারণ মানুষ, যাদের জটিল দার্শনিক তর্ক বোঝার অবকাশ বা আগ্রহ নেই। তারা হৃদয়গ্রাহী কথা, আবেগময় উপদেশ ও সুন্দর চরিত্রে দ্রুত প্রভাবিত হন।
- বিতর্ককামী ও সংশয়বাদী শ্রেণি (المجادلون والمعاندون): এরা হলেন বিরুদ্ধমতের লোক, নাস্তিক, সংশয়বাদী বা অন্য ধর্মের গোঁড়া পণ্ডিত। এরা অহেতুক তর্ক, প্রশ্নবাণ ও সংশয় ছড়িয়ে সত্যকে প্রতিহত করতে চায়।
৩. মাদ’উর ভিন্নতার কারণে দায়ীর কর্তব্যের ভিন্নতা ও রণকৌশল:
হ্যাঁ, মাদ’উর শ্রেণি ও প্রকারভেদে দায়ীর দায়িত্ব ও উপস্থাপনা পদ্ধতিতে অবশ্যই ভিন্নতা আবশ্যক। কুরআনের সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশ:
- ১. চিন্তাশীল শ্রেণির ক্ষেত্রে দায়ীর করণীয়: তাদের সাথে ‘আল-হিকমাহ’ (الحكمة) অর্থাৎ উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক, ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক প্রমাণাদি দিয়ে কথা বলতে হবে। যুক্তি খণ্ডনের মাধ্যমে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয় দূর করতে হবে।
- ২. সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে দায়ীর করণীয়: তাদের ক্ষেত্রে ‘আল-মাও’ইযাহ আল-হাসানাহ’ (الموعظة الحسنة) প্রয়োগ করতে হবে। সহজ-সরল ভাষায় জান্নাত-জাহান্নাম, পরকাল, ভালোবাসা ও তাকওয়ার উপদেশ দিয়ে অন্তর নরম করতে হবে। কোনো অপ্রয়োজনীয় জটিল পরিভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
- ৩. বিতর্ককারীদের ক্ষেত্রে দায়ীর করণীয়: তাদের সাথে ‘আল-জিদাল বিল্লাতি হিয়া আহসান’ (وجادلهم بالتي هي أحسن) অর্থাৎ সবচেয়ে সুন্দর, মার্জিত ও প্রামাণ্য বিতর্কের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্রোধ বা গালাগালি না করে ধৈর্য সহকারে অকাট্য দলিলের মাধ্যমে তাদের বিভ্রান্তি উন্মোচন করতে হবে।
উপসংহার: একজন দক্ষ চিকিৎসকের মতো দায়ী প্রতিটি রোগীর রোগের ধরন দেখে যেমন ওষুধ দেন, তেমনি মাদ’উর মেধা ও অবস্থা অনুযায়ী দাওয়াত পরিচালনা করাই হলো নববী সুন্নাহর মূল শিক্ষা।
مجموعة (ب) : বিভাগ ‘খ’ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)
الدرجة: ٥ × ٤ = ٢٠
[সংক্ষেপে নিম্নের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও / أجب عن أربعة من الأسئلة التالية بالاختصار]
٧- ما الحكمة فى الدعوة الإسلامية؟ وضح-
[ইসলামি দাওয়াতে হিকমত কী? আলোচনা কর।]
উত্তর: দাওয়াতে হিকমত (الحكمة في الدعوة):
‘হিকমত’ শব্দের অর্থ প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, দূরদর্শিতা ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা। দাওয়াতের পরিভাষায় হিকমত হলো—সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে, উপযুক্ত পদ্ধতিতে এবং সঠিক পাত্রে সত্যের বাণী কার্যকরভাবে পৌঁছানো।
মহান আল্লাহ বলেন: “আপনি আপনার প্রতিপালকের পথে হিকমতের সাথে আহ্বান করুন।” (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
দাওয়াতে হিকমতের মূল উপাদানসমূহ:
- মাদ’উর মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা নিরূপণ করে কথা বলা।
- কঠিন বিষয়ের অবতারণা না করে সহজ থেকে শুরু করা।
- আচরণে কোনো প্রকার কর্কশতা বা অন্ধ গোঁড়ামি পরিহার করা।
- সময় ও পরিবেশের উপযোগী আধুনিক উপায় ও মাধ্যম ব্যবহার করা।
হিকমত ছাড়া অন্ধ দাওয়াত কখনো কখনো ইতিবাচক ফলের চেয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
٨- ما حكم من لم تبلغه الدعوة؟
[যার কাছে দাওয়াত পৌঁছায়নি তার বিধান কী?]
উত্তর: যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছেনি তাদের শরয়ি হুকুম (أهل الفترة ومن لم تبلغه الدعوة):
ইসলামি আকিদা ও উসূলে ফিকহের দৃষ্টিতে যে ব্যক্তির কাছে নবীদের দাওয়াত বা ইসলামের বাণী কোনোভাবেই পৌঁছায়নি, তাদের ‘আহলুল ফাতরাহ’ (অন্ধকার যুগের মানুষ) হিসেবে গণ্য করা হয়।
- কুরআনের দ্ব্যর্থহীন নীতি: আল্লাহ তায়ালা কোনো বান্দাকে সত্যের বাণী না পৌঁছিয়ে শাস্তি দেন না। ইরশাদ হয়েছে—
﴿وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًا﴾ (সূরা আল-ইসরা: ১৫)
“আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকেই শাস্তি প্রদান করি না।” - আখিরাতের বিচারিক ফায়সালা: নির্ভরযোগ্য হাদিস (মুসনাদে আহমাদ) অনুযায়ী কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা এদের জন্য পৃথক পরীক্ষা নেবেন। তাদের আনুগত্যের পরীক্ষা নেওয়া হবে; যারা সেদিন আল্লাহর নির্দেশ মান্য করবে তারা জান্নাতে যাবে আর যারা অমান্য করবে তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
অতএব, দুনিয়ার জীবনে দাওয়াত না পৌঁছানোর কারণে তাদের ওপর সরাসরি কুফরের চূড়ান্ত শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না।
٩- ما هى وسائل الدعوة؟
[দাওয়াতের মাধ্যমসমূহ কী কী?]
উত্তর: দাওয়াতের মাধ্যমসমূহ (وسائل الدعوة الإسلامية):
দাওয়াতের মাধ্যম বলতে সেসব উপায়, মাধ্যম বা প্রযুক্তিকে বোঝায় যার দ্বারা ইসলামের বাণী মানুষের কাছে প্রচার করা হয়। এ মাধ্যমগুলো শরিয়তের উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক না হলে যেকোনো যুগোপযোগী মাধ্যম গ্রহণ করা বৈধ। প্রধান মাধ্যমগুলো নিম্নরূপ:
- মৌখিক মাধ্যম (الوسائل القولية): খুতবা, ওয়াজ মাহফিল, দ্বীনি আলোচনা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ব্যক্তিগত সংলাপ।
- লিখিত ও প্রকাশনা মাধ্যম (الوسائل المقروءة): বই-পুস্তক, গবেষণাপত্র, সাময়িকী, লিফলেট, পুস্তিকা ও অনুবাদ সাহিত্য।
- কর্ম ও চারিত্রিক দৃষ্টান্ত (الدعوة بالحال والعمل): দায়ীর ব্যক্তিগত সততা, মানবসেবা, অনাথ ও দরিদ্রের সহায়তা এবং সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে মৌন দাওয়াত।
- আধুনিক ডিজিটাল ও মিডিয়া মাধ্যম (الوسائل الرقمية والإعلامية): রেডিও, টেলিভিশন, ইউটিউব, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, পডকাস্ট, অ্যাপস এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
- প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষামূলক মাধ্যম (الوسائل التعليمية): মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং দাওয়াহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
١٠- اكتب تاريخ نشأة جماعة التبليغ-
[তাবলীগ জামায়াতের উৎপত্তির ইতিহাস লিখ।]
উত্তর: তাবলীগ জামায়াতের উৎপত্তির ইতিহাস (نشأة جماعة التبليغ):
তাবলীগ জামায়াত হলো বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় উপমহাদেশে সূচিত অন্যতম প্রধান অরাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক দাওয়াতি আন্দোলন।
- প্রতিষ্ঠাতা ও পটভূমি: প্রখ্যাত ভারতীয় আলেম হযরত মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.) (১৮৮৫–১৯৪৪ খ্রি.) ১৯২৬ সালে ভারতের দিল্লির নিকটবর্তী মেওয়াত অঞ্চলে এই আন্দোলনের সূচনা করেন।
- আন্দোলনের কারণ: তৎকালীন মেওয়াত অঞ্চলের মুসলমানরা চরম অজ্ঞতা ও হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির শিকার হয়ে তাদের ঈমান ও নামায-রোজা হারিয়ে ফেলেছিল। এমনকি ‘শুদ্ধি’ আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলিমদের হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করার ষড়যন্ত্র চলছিল।
- দাওয়াতি পদ্ধতি ও বিস্তার: মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) উপলব্ধি করেন যে কেবল মাদরাসায় বসে থাকলে এই বিভ্রান্তি দূর হবে না। তিনি সাধারণ মুসলমানদের দল বেঁধে (জামায়াত) পাড়ায়-পাড়ায় ঘুরে ‘কালিমা ও নামায’-এর দাওয়াত দেওয়ার অভিনব ও বিনম্র পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র মাওলানা ইউসুফ কান্ধলভি ও মাওলানা ইনআমুল হাসানের নেতৃত্বে এই দাওয়াত ভারত পেরিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে বিশ্বব্যাপী এক বৃহৎ দাওয়াতি রূপ লাভ করে। দিল্লির নিজামুদ্দিন এবং বাংলাদেশের টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা এর অন্যতম বৈশ্বিক নিদর্শন।
١١- ما الفرق بين الدعوة الجماعية والدعوة الفردية؟
[যৌথ দাওয়াত ও ব্যক্তিগত দাওয়াতের মধ্যে পার্থক্য কী?]
উত্তর: যৌথ দাওয়াত বনাম ব্যক্তিগত দাওয়াতের পার্থক্য:
| ব্যক্তিগত দাওয়াত (الدعوة الفردية) | যৌথ দাওয়াত (الدعوة الجماعية) |
|---|---|
| একজন ব্যক্তি এককভাবে অন্য একজন মানুষের সাথে একান্তে দ্বীনি আলোচনা ও সত্যের দাওয়াত দেন। | সম্মিলিতভাবে কোনো মজলিস, মাহফিল, সভা বা সংগঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দাওয়াত পেশ করা হয়। |
| মাদ’উর ব্যক্তিগত সন্দেহ, মানসিক অবস্থা ও খুঁটিনাটি সমস্যা চিহ্নিত করে নিবিড় কাউন্সেলিং করা যায়। | এক সাথে শত শত বা হাজার হাজার মানুষের কাছে সাধারণ দ্বীনি বার্তা ও ইসলামের সার্বিক সৌন্দর্য তুলে ধরা যায়। |
| শ্রোতার অন্তরে গভীর দাগ কাটে এবং আন্তরিক বন্ধুত্বের মাধ্যমে দ্রুত হেদায়েতের পথে আনা সহজ হয়। | সমাজ সংস্কার, জনমত গঠন এবং বৃহত্তর পরিসরে ধর্মীয় জাগরণ সৃষ্টিতে অত্যন্ত কার্যকর। |
| যেমন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইসলাম প্রচারের শুরুতে আবু বকর (রা.), খাদিজা (রা.) ও আলীকে দাওয়াত প্রদান। | যেমন: সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কুরাইশদের প্রতি প্রকাশ্যে ইসলামের উদাত্ত আহ্বান বা জুমার খুতবা। |
١٢- بين موضوع الدعوة الإسلامية-
[ইসলামি দাওয়াতের বিষয়বস্তুর বর্ণনা দাও।]
উত্তর: ইসলামি দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু (موضوع الدعوة الإسلامية):
ইসলামি দাওয়াতের বিষয়বস্তু কোনো একটি ক্ষুদ্র শাখায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইসলাম ধর্মের পূর্ণাঙ্গ দর্শনই এর আলোচ্য বিষয়। সংক্ষেপে দাওয়াতের প্রধান বিষয়বস্তুগুলো হলো:
- তাওহিদ ও বিশুদ্ধ আক্বিদা (الإيمان بالله والعقيدة الصافية): মানুষকে একমাত্র আল্লাহর রুবূবিয়াত, উলূহিয়াত ও গুণাবলিতে অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করানো এবং সকল প্রকার শিরক ও কুফর থেকে সমাজকে মুক্ত করা।
- রিসালাত ও সুন্নাহর অনুসরণ (الإيمان بالرسل واتباع السنة): বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মেনে নিয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহ বাস্তবায়ন করা।
- আখিরাত ও জবাবদিহিতা (الإيمان باليوم الآخر والجزاء): কিয়ামত, কবর, হাশর, মিজান, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর বিশ্বাস সুদৃঢ় করে মানুষের মনে জবাবদিহিতা ও তাকওয়া সৃষ্টি করা।
- শরিয়ত ও ইবাদতের অনুশাসন (الشريعة والعبادات): নামায, রোজা, যাকাত, হজসহ পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আল্লাহর দেওয়া শরয়ি বিধানাবলি পালন করা।
- সচ্চরিত্র ও মানবিক মূল্যবোধ (مكارم الأخلاق): সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, মাতা-পিতার সেবা, অসহায়দের সাহায্য ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার নৈতিক আদর্শ লালন করা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ফাজিল ১ম বর্ষ দাওয়াহ বিভাগের ‘আল-মাদখাল’ পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় কত?
উত্তর: পরীক্ষাটির পূর্ণমান ছিল ৮০ নম্বর এবং পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ছিল ৪ ঘণ্টা।
প্রশ্ন ২: আল-মাদখাল ইলা আদ-দা’ওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ কোর্সের বিষয় কোড কত?
উত্তর: এই কোর্সের প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় কোড হলো ২০৩১০১ (203101)।
প্রশ্ন ৩: ইসলামি দাওয়াহর মৌলিক তিনটি স্তম্ভ কী কী?
উত্তর: ইসলামি দাওয়াত মূলত তিনটি প্রধান উপাদানের ওপর প্রতিষ্ঠিত: ১. দায়ী (আহ্বানকারী), ২. দাওয়াত (ইসলামের মূল বার্তা ও বিধান) এবং ৩. মাদ’উ (সম্বোধিত ব্যক্তি বা শ্রোতা)।
প্রশ্ন ৪: মাদ’উর ধরন অনুযায়ী দাওয়াতের কোন তিনটি পদ্ধতি কুরআন নির্দেশ করেছে?
উত্তর: সূরা আন-নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াতে তিন স্তরের মানুষের জন্য তিনটি পদ্ধতি নির্দেশ করা হয়েছে: ১. আল-হিকমাহ (প্রজ্ঞা ও যুক্তি), ২. আল-মাও’ইযাহ আল-হাসানাহ (উত্তম উপদেশ) এবং ৩. আল-জিদাল বিল্লাতি হিয়া আহসান (মার্জিত বিতর্ক)।
প্রশ্ন ৫: ঐতিহাসিক তাবলীগ জামায়াত কবে এবং কার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯২৬ সালে ভারতের দিল্লির সন্নিকটে মেওয়াত অঞ্চলে প্রখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.)-এর মাধ্যমে তাবলীগ জামায়াতের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
প্রশ্ন ৬: দাওয়াত না পৌঁছানো ব্যক্তিদের ব্যাপারে কুরআনের মূল বিধান কী?
উত্তর: সূরা বনি ইসরাইলের ১৫ নং আয়াত অনুযায়ী, আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যের দাওয়াত ও রাসুলের বাণী কোনো ব্যক্তির কাছে না পৌঁছানো পর্যন্ত আল্লাহ তাকে শাস্তি দেন না।

