বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ (Bangla) – 203104, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 26, 2026
৫৭ মিনিট পড়ার সময়
৩ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০১৮
ফাজিল স্নাতক (অনার্স) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪
[দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
বাংলা
বিষয় কোড: ২০৩১-০৪
সময় — ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান — ৮০


কোর্স ও পরীক্ষা পরিচিতি

বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (Islamic Arabic University – IAU)
ডিগ্রি ও বর্ষ ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (Fazil BA Honours 1st Year)
বিভাগ দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ (Department of Dawah & Islamic Studies)
বিষয়ের নাম বাংলা (Bangla – Bengali Literature & Grammar)
বিষয় কোড ২০৩১-০৪ (203104)
পরীক্ষার সন ২০২৪ (অনুষ্ঠিত: ২০২৪/২০২৫)
সময় ও পূর্ণমান সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০ নম্বর
বিভাগ বিন্যাস ক বিভাগ (বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস): ২০ নম্বর | খ বিভাগ (গদ্য ও প্রবন্ধ): ২০ নম্বর | গ বিভাগ (কবিতা ও নাটক): ২০ নম্বর | ঘ বিভাগ (ব্যাকরণ ও নির্মিতি): ২০ নম্বর

ক বিভাগ: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মান — ১০ × ২ = ২০)

১ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

১। (ক) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের যুগ বিভাগ সম্পর্কে ধারাবাহিক আলোচনা কর। (মান: ১০)
অথবা,
(খ) টীকা লেখ: (১) বৈষ্ণব পদাবলি (২) বাংলা গদ্যের বিকাশ। (মান: ৫ + ৫ = ১০)


১ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১। (ক) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের যুগ বিভাগ:

বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসকে ভাষাতাত্ত্বিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সমাজ-সংস্কৃতির রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষক ও পণ্ডিতগণ প্রধানত তিনটি যুগে বিভক্ত করেছেন:

যুগের নাম সময়সীমা (ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়) সময়সীমা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) প্রধান নিদর্শন ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য
১. প্রাচীন যুগ ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ — ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ — ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ চর্যাপদ (বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের সাধনসংগীত)
২. মধ্যযুগ
(ক) প্রাক-চৈতন্য যুগ
(খ) চৈতন্য যুগ
(গ) চৈতন্যোত্তর যুগ
১২০১ খ্রিষ্টাব্দ — ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
• অন্ধকার যুগ: ১২০১ — ১৩৫০
• আদি মধ্যযুগ: ১৩৫০ — ১৫০০
• অন্ত্য মধ্যযুগ: ১৫০০ — ১৮০০
১২০১ খ্রিষ্টাব্দ — ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, মর্সিয়া সাহিত্য ও নাথ সাহিত্য
৩. আধুনিক যুগ ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ — বর্তমানকাল ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ — বর্তমানকাল গদ্যের বিকাশ, সংবাদপত্র, নাটক, উপন্যাস, আধুনিক কবিতা, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ

১. প্রাচীন যুগ (চর্যাপদের কাল): হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রাজদরবার থেকে ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ বা ‘চর্যাপদ’ হলো প্রাচীন যুগের একমাত্র প্রামাণ্য নিদর্শন। এতে সন্ধ্যা ভাষায় রচিত ৪৬টি পূর্ণ ও ১টি খণ্ডিত পদ পাওয়া যায়। এতে তত্ত্বকথা ও আধ্যাত্মিক সাধনার অন্তরালে তৎকালীন বাংলার নদীমাতৃক রূপ এবং সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিফলন ঘটেছে।

২. মধ্যযুগ ও অন্ধকার যুগ বিতর্ক: ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পরবর্তী সময়কে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে কেউ কেউ ‘অন্ধকার যুগ’ বললেও এ যুগে রামাই পণ্ডিতের ‘শূন্যপুরাণ’ ও হলায়ুধ মিশ্রের ‘সেক শুভোদয়া’ রচিত হয়। মধ্যযুগে বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ (১৩৫০), শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ-জোলেখা’, কৃত্তিবাস ও কাশীরাম দাসের অনুবাদ সাহিত্য, মুকুন্দরাম ও ভারতচন্দ্রের মঙ্গলকাব্য এবং সৈয়দ সুলতান ও আলাওলের কাব্য সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। মধ্যযুগের সাহিত্যের মূল সুর ছিল দেব-দেবী নির্ভর এবং পদ্যে রচিত।

৩. আধুনিক যুগ: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের সূচনা হয়। এ যুগে সাহিত্য ধর্মীয় বলয় থেকে মুক্ত হয়ে ইহজাগতিক মানবতাবাদী চেতনায় রূপ নেয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরে বাংলা সাহিত্য বিশ্বমানের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়।


১। (খ) টীকা:

(১) বৈষ্ণব পদাবলি:
রাধা ও কৃষ্ণের অলৌকিক ও মানবিক প্রেমলীলাকে অবলম্বন করে রচিত গীতি কবিতাই হলো বৈষ্ণব পদাবলি। পঞ্চদশ শতকে শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনের প্রভাবে এ সাহিত্যের অভাবনীয় স্ফুরণ ঘটে। পদাবলির আদি কবি জয়দেব (গীতগোবিন্দম), বিদ্যাপতি (ব্রজবুলি ভাষার কবি) এবং চণ্ডীদাস। চৈতন্যোত্তর যুগে জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরাম দাস প্রমুখ পদকর্তা রাধার ভাবোল্লাস, পূর্বরাগ, অনুরাগ, অভিসার ও বিরহের যে অনবদ্য মনস্তাত্ত্বিক রূপায়ন করেছেন, তা বাংলা গীতি কবিতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এ সাহিত্যের ভাষা মূলত শ্রুতিমধুর ব্রজবুলি ও বাংলা।

(২) বাংলা গদ্যের বিকাশ:
ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্বে বাংলা সাহিত্য সম্পূর্ণই ছিল পদ্য বা ছন্দে রচিত। ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইংরেজ সিভিলিয়ানদের বাংলা শেখানোর উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা গদ্যের যাত্রা শুরু হয়। উইলিয়াম কেরি, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রামরাম বসু প্রমুখ পন্ডিত পাঠ্যপুস্তক রচনার মাধ্যমে গদ্যের ভিত্তি তৈরি করেন। এরপর রাজা রামমোহন রায় প্রাতিষ্ঠানিক ও তর্কমূলক গদ্যের বিকাশ ঘটান। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্নের যথার্থ ব্যবহার করে বাংলা গদ্যকে সুশৃঙ্খল, গতিশীল ও শিল্পিত রূপ দেন, এজন্য তাঁকে ‘বাংলা গদ্যের জনক’ বলা হয়। পরবর্তীতে প্যারীচাঁদ মিত্র, বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে বাংলা গদ্য আধুনিক ও সমৃদ্ধতম রূপ লাভ করে।


২ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

২। (ক) বাংলা গদ্যের বিকাশে সাময়িক পত্রিকার ভূমিকা আলোচনা কর। (মান: ১০)
অথবা,
(খ) সাম্য, ন্যায় ও বিদ্রোহের কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামকে উপস্থাপন কর। (মান: ১০)


২ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

২। (ক) বাংলা গদ্যের বিকাশে সাময়িক পত্রিকার ভূমিকা:

ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলা গদ্যের শৈশব থেকে কৈশোর ও যৌবনের উত্তরণে সাময়িকপত্র ও সংবাদপত্রের অবদান ছিল অপরিসীম। সাময়িকপত্রের মাধ্যমেই গদ্য সাধারণ মানুষের চিন্তা-ভাবনা, সমাজ সংস্কার ও সাহিত্যের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

  • দিকদর্শন ও সমাচার দর্পণ (১৮১৮): শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত ‘দিকদর্শন’ ছিল প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা এবং ‘সমাচার দর্পণ’ ছিল প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা। এগুলোর মাধ্যমে বাংলা গদ্য তথ্য ও সংবাদের উপযোগী প্রাঞ্জল রূপ ধারণ করে।
  • সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১): ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত এ পত্রিকা ছিল প্রথম দৈনিক বাংলা সংবাদপত্র। এর মাধ্যমেই একদল নতুন গদ্য লেখক ও সাহিত্যিকের জন্ম হয় এবং বঙ্কিমচন্দ্র, দীনবন্ধু মিত্র প্রমুখের সাহিত্যচর্চার হাতেখড়ি হয়।
  • তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা (১৮৪৩): অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় এ পত্রিকা বাংলা গদ্যে বিজ্ঞান, দর্শন, সমাজতত্ত্ব ও যুক্তিবাদী ভাবধারা প্রবেশ করায়। গদ্য গম্ভীর, পরিশীলিত ও তত্ত্বগর্ভ রূপ পায়। বিদ্যাসাগরের বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে মুদ্রিত হয়।
  • বঙ্গদর্শন (১৮৭২): বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘বঙ্গদর্শন’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করে। এ পত্রিকায় উপন্যাস, সমালোচনা, সমাজচিন্তা ও ইতিহাসভিত্তিক উচ্চমানের গদ্য প্রকাশিত হয়ে বাংলা গদ্যরীতির আধুনিক মানদণ্ড স্থাপিত হয়।
  • সবুজপত্র (১৯১৪): প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ চলিত ভাষারীতিকে সাহিত্যের সর্বজনীন বাহন হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বহু শ্রেষ্ঠ গল্প ও উপন্যাস এই চলিত গদ্যরীতির মাধ্যমে সবুজপত্রে প্রকাশ করেন।

২। (খ) সাম্য, ন্যায় ও বিদ্রোহের কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম:

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) বাংলা সাহিত্যের চিরন্তন ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং একই সাথে ‘সাম্যের কবি’। তাঁর সমগ্র সাহিত্যসাধনার মূল সুর ছিল অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে আপসহীন বিদ্রোহ এবং মানবতা ও সাম্যের জয়গান।

  • সাম্যের কবি: নজরুল ধর্ম, বর্ণ, জাতপাত ও লিঙ্গভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘সাম্যবাদী’ কাব্যে তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন:
    «গাহি সাম্যের গান— / যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-নিষেধ / যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রীশ্চান।»
    নারী-পুরুষের অধিকারের প্রশ্নে তাঁর ‘নারী’ কবিতায় তিনি লেখেন:
    «সাম্যের গান গাই— / আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই। / বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, / অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।»
  • ন্যায়ের পক্ষে ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর: কুলি-মজুর, কৃষক, শ্রমিক এবং সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পক্ষে তিনি কলম ধরেছেন। ‘কুলি-মজুর’ কবিতায় শাসক ও ধনিক শ্রেণিকে সতর্ক করে তিনি লেখেন:
    «আসিতেছে শুভদিন, / দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!»
  • বিদ্রোহের অগ্নিবীণা: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, সাম্প্রদায়িকতা এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে তিনি রচনা করেন কালজয়ী ‘বিদ্রোহী’ কবিতা:
    «বল বীর— / বল উন্নত মম শির! / শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!»
    তিনি শুধু ভাঙনের গান গাননি, বরং অন্যায়কে ধ্বংস করে সেখানে সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের নতুন পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ফলে তিনি বাংলা সাহিত্যে চিরভাস্বর সাম্য, ন্যায় ও বিদ্রোহের প্রতীক।

খ বিভাগ: গদ্য ও প্রবন্ধ (মান — ১০ × ২ = ২০)

৩ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৩। (ক) “ছোট গল্প হিসেবে ‘সমাপ্তি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সৃষ্টি”—আলোচনা কর। (মান: ১০)
অথবা,
(খ) ‘তৈল’ প্রবন্ধের বিষয়বস্তু আলোচনামূলক নামকরণের সার্থকতা তুলে ধর। (মান: ১০)


৩ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

৩। (ক) ছোটগল্প হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’র সার্থকতা:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী ও উজ্জ্বল মনস্তাত্ত্বিক ছোটগল্প। ছোটগল্পের সংজ্ঞার্থ অনুসারে একমুখী কাহিনি, সীমিত চরিত্র, নাটকীয়তা এবং জীবনসত্যের গভীর উদ্ঘাটন—সব দিক থেকেই গল্পটি এক অনবদ্য সৃষ্টি।

  • কাহিনি সংক্ষেপ ও চরিত্রায়ন: কলকাতা থেকে বিএ পাস করে গ্রামে ফিরে আসা তরুণ অপূর্ব এবং গ্রামের দুরন্ত, চঞ্চল, স্বাধীনচেতা কিশোরী মৃন্ময়ীর (যাকে সবাই অপয়া মনে করত) মানসিক দ্বন্দ্ব ও পরিণয়কে কেন্দ্র করে কাহিনি আবর্তিত। মৃন্ময়ী প্রথাগত বধূ হিসেবে খাঁচায় বন্দি হতে চায়নি, ফলে বিয়ের রাতে তার পালিয়ে যাওয়া এবং অপূর্বর প্রতি তার অবহেলা বাস্তবসম্মতভাবে চিত্রিত হয়েছে।
  • মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ও শিল্পসার্থকতা: অপূর্বর ভালোবাসার গভীরতা এবং তার দূর প্রবাসে চলে যাওয়ার পর মৃন্ময়ীর অবচেতন হৃদয়ে নারীর চিরন্তন প্রেম ও অনুরাগের যে জাগরণ ঘটে, রবীন্দ্রনাথ তা অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। দুরন্ত কিশোরী মৃন্ময়ী থেকে আত্মসচেতন, প্রেমময়ী তরুণীতে রূপান্তরের মধ্য দিয়েই গল্পের সার্থকতা।
  • ছোটগল্পের সংজ্ঞাগত সমাপ্তি: গল্পের শেষে মৃন্ময়ী যখন সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে অপূর্বর ঘরে ফিরে আসে এবং বলে “আমাকে ছেড়ে যেও না”, সেখানেই কাহিনির চূড়ান্ত নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে। অতিরিক্ত কোনো বর্ণনাবহুলতা ছাড়াই গভীর ব্যঞ্জনায় গল্পটি শেষ হওয়ায় এটি রবীন্দ্রনাথের এক অনন্য ছোটগল্প।

৩। (খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তৈল’ প্রবন্ধের বিষয়বস্তু ও নামকরণের সার্থকতা:

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত ‘তৈল’ বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য ব্যঙ্গাত্মক ও সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক প্রবন্ধ।

  • বিষয়বস্তু: প্রাবন্ধিক অত্যন্ত রসাত্মক ও তীক্ষ্ণ শ্লেষপূর্ণ ভাষায় মানব সমাজের একটি চিরন্তন দুর্বলতাকে তুলে ধরেছেন। সমাজে তেল দেওয়া বা তোষামোদ (Flattery)-এর যে সর্বব্যাপী ক্ষমতা, তা তিনি বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক বাস্তবতায় বিশ্লেষণ করেছেন। তেল শুধু চুলে বা গায়ে মাখার বস্তু নয়; বরং পদোন্নতি, কার্যোদ্ধার, সামাজিক প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতার বলয়ে টিকে থাকার এক অব্যর্থ অস্ত্র হলো এই তোষামোদ বা ‘তেল’।
  • রূপক ও বাস্তবতার মেলবন্ধন: লেখক দেখিয়েছেন যে, বিদ্যা, বুদ্ধি বা সততা যা করতে পারে না, একবিন্দু তেলের প্রয়োগে কঠিনতম হৃদয়ও গলে যায় এবং অসম্ভব কাজও মুহূর্তেই সম্ভব হয়। সংস্কৃত সাহিত্যের উদাহরণ ও দৈনন্দিন জীবনের পর্যবেক্ষণে লেখক তৎকালীন ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্র ও বাঙালি মধ্যবিত্তের চাটুকারিতার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন।
  • নামকরণের সার্থকতা: সাহিত্যের নামকরণে বিষয়ের মূলভাব প্রকাশ পাওয়া অপরিহার্য। এখানে ‘তৈল’ শব্দটি প্রত্যক্ষভাবে একটি তরল পদার্থ হলেও ভাবগত অর্থে তা ‘তোষামোদ’ বা চাটুকারিতার প্রতীকী রূপ। প্রবন্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই একক ভাববস্তুকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে সমাজসংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই বিষয়বস্তুর গভীরতা ও ব্যঙ্গার্থের বিচারে ‘তৈল’ নামকরণটি সর্বাংশে সার্থক ও শিল্পসম্মত।

৪ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৪। (ক) ” ‘শিউলীমালা’ গল্পে শিউলী চরিত্রটি অনেক বেশি জীবন্ত”—কেন? আলোচনা কর। (মান: ১০)
অথবা,
(খ) বাংলা সাহিত্যের ভাষা চর্চার ক্ষেত্রে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অবদান তুলে ধর। (মান: ১০)


৪ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

৪। (ক) ‘শিউলীমালা’ গল্পে শিউলী চরিত্রের জীবন্ত রূপায়ন:

কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক গল্প ‘শিউলীমালা’। এতে নায়িকা ‘শিউলী’ চরিত্রটি লেখকের ভাবাবেগ, বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি ও মানসিক দ্বন্দ্বের অপূর্ব সমন্বয়ে এক রক্ত-মাংসের জীবন্ত সত্তা হিসেবে বিকশিত হয়েছে।

  • প্রকৃতি ও চরিত্রের একাত্মতা: শিউলী চরিত্রটি কেবল একটি কাল্পনিক চরিত্র নয়; ভোরে ঝরে পড়া স্নিগ্ধ, সুবাসিত অথচ বিষাদময় শিউলি ফুলের মতোই তার জীবন। নায়ক আজহারের সাথে তার গভীর আত্মিক পরিচয়, সংগীতের মাধ্যমে হৃদয়ের বিনিময় এবং সামাজিক বাধার কারণে মিলনহীন প্রেমের ট্র্যাজেডি চরিত্রটিকে পাঠকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে তোলে।
  • মানসিক দ্বন্দ্ব ও ত্যাগ: শিউলী একদিকে তার গভীর ভালোবাসা ও আবেগকে ধারণ করেছে, অন্যদিকে পারিবারিক মর্যাদা ও সামাজিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হয়েছে। তার নীরব আত্মত্যাগ, আকুল প্রতীক্ষা এবং সুরের মূর্ছনায় প্রেমকে অবিনশ্বর করে রাখা তাকে প্রচলিত গল্পের সাধারণ নায়িকাদের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল ও জীবন্ত করে তুলেছে।

৪। (খ) বাংলা সাহিত্যের ভাষা চর্চায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অবদান:

বহুভাষাবিদ পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণায় এক অবিসংবাদিত পুরুষ।

  • চর্যাপদের প্রাচীনত্ব ও ভাষার উৎস নির্ণয়: ড. শহীদুল্লাহ প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা করে প্রমাণ করেন যে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি মাগধী প্রাকৃত নয়, বরং গৌড়ীয় প্রাকৃত বা অপভ্রংশ থেকে এবং চর্যাপদের সূচনা খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে (৬৫০ খ্রি.)। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনত্বকে বহু শতাব্দী এগিয়ে দেয়।
  • আঞ্চলিক ভাষার অভিধান প্রণয়ন: বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ ও আঞ্চলিক শব্দ সংগ্রহ করে তিন খণ্ডে সংকলন করেন ঐতিহাসিক ‘পূর্ব পাকিস্তানি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’, যা বাংলা ভাষাতত্ত্বের এক মহীরুহ কীর্তি।
  • বাংলা ব্যাকরণ রচনা ও সংস্কার: তাঁর রচিত ‘বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ বাংলা ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব ও ব্যাকরণ চর্চায় বিজ্ঞানসম্মত ধারা তৈরি করেছে।
  • মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা: ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গঠনের পর উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম গর্জে উঠে বলেছিলেন: “আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।” ভাষা আন্দোলন ও সাহিত্য গবেষণায় তাঁর অবদান চিরভাস্বর।

গ বিভাগ: কবিতা ও নাটক (মান — ১০ × ২ = ২০)

৫ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৫। (ক) ‘বলাকা’ কবিতায় স্থবিরতার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সচেতন বিদ্রোহ কী? বিস্তারিত আলোচনা কর। (মান: ১০)
অথবা,
(খ) আধুনিক কাব্য হিসেবে কবি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কেন গুরুত্বপূর্ণ? আলোচনা কর। (মান: ১০)


৫ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

৫। (ক) ‘বলাকা’ কবিতায় স্থবিরতার বিরুদ্ধে সচেতন বিদ্রোহ ও গতির জয়গান:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ (১৯১৬) কাব্যের নাম-কবিতা ‘বলাকা’ বাংলা সাহিত্যের গীতিময় গতিবাদের (Dynamic philosophy of life) এক কালজয়ী প্রকাশ। কাশ্মীর উপত্যকায় ঝিলাম নদীর তীরে সান্ধ্য প্রকৃতির মাঝে হঠাৎ একঝাঁক বুনো হাঁসের ডানার শব্দে কবির চেতনায় যে মহাজাগতিক গতির উপলব্ধি ঘটেছিল, তাই এ কবিতার মূল উপজীব্য।

  • স্থবিরতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ: প্রকৃতি বাহ্যত শান্ত ও নিশ্চল মনে হলেও রবীন্দ্রনাথ দেখেছেন যে, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড অনন্ত গতির তরঙ্গে ধাবমান। জড়তা, স্থবিরতা ও রক্ষণশীলতার কোনো স্থান এই গতিশীল সৃষ্টিতে নেই। পর্বতমালাকে তিনি দেখেছেন ঊর্ধ্বাকাশে ওড়ার ডানামেল গোপন অভিলাষী হিসেবে।
  • গতির দার্শনিক রূপ: কবি পাখিদের ডানার শব্দের মধ্যে শুনতে পেয়েছেন সৃষ্টির শাশ্বত আহ্বান: «হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে!» নদী, পর্বত, বৃক্ষরাজি এবং সমগ্র মানবচেতনা অসীমের পানে অবিরাম যাত্রা করছে। থমকে দাঁড়ানোই মৃত্যু, আর গতিতেই অনন্ত প্রাণপ্রবাহ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী পটভূমিতে বিশ্ব যখন হতাশায় নিমজ্জিত, তখন রবীন্দ্রনাথ এই চিরন্তন গতি ও মুক্তির বার্তা দিয়ে মানবাত্মাকে স্থবিরতার মোহভঙ্গ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

৫। (খ) আধুনিক কাব্য হিসেবে জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’-এর গুরুত্ব:

জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ (১৯৪২) আধুনিক বাংলা কবিতার এক ধ্রুপদী মাস্টারপিস। আধুনিক মানুষের অস্তিত্ব সংকট, নিঃসঙ্গতা ও ক্লান্তি থেকে চিরন্তন মুক্তির প্রতীকরূপে কবিতাটি অনন্য।

  • ঐতিহাসিক পটভূমি ও সময়ের বিস্তার: কবি হাজার বছর ধরে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগর এবং বিদিশা ও শ্রাবস্তীর প্রাচীন অন্ধকার পরিভ্রমণ করেছেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মানুষের অন্তহীন জীবনযাত্রার ক্লান্তিকে মূর্ত করে।
  • অস্তিত্ববাদী ক্লান্তি ও শান্তির আশ্রয়: আধুনিক মানুষের চরম একাকীত্ব ও জীবনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ক্ষণিক শান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে নাটোরের ‘বনলতা সেন’। তার «পাখির নীড়ের মত চোখ» কেবল নারীর শারীরিক সৌন্দর্য নয়, বরং ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ মানবাত্মার পরম আশ্রয় ও শান্তির প্রতীক।
  • চিত্রকল্প ও ভাষাভঙ্গি: পরাবাস্তববাদী চিত্রকল্প, ধীরলয় ছন্দ এবং গভীর নস্টালজিক সুরের কারণে ‘বনলতা সেন’ আধুনিক কাব্যসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক ও দার্শনিক সৃষ্টি।

৬ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৬। (ক) “ ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতাটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে প্রতিনিধিত্ব করে।” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। (মান: ১০)
অথবা,
(খ) “ ‘মুসাফির’ কবিতাটি মানবতাবোধের এক অসাধারণ উপস্থাপন”—আলোচনা কর। (মান: ১০)


৬ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

৬। (ক) “ ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতাটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে প্রতিনিধিত্ব করে” — উক্তিটির ব্যাখ্যা:

কবি সৈয়দ আলী আহসানের রচিত ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতাটি বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও শ্যামল প্রকৃতির এক অপূর্ব জীবন্ত আলেখ্য।

  • প্রাকৃতিক দৃশ্যের নিখুঁত চিত্রায়ন: কবি পূর্ব বাংলাকে চিত্রিত করেছেন স্নিগ্ধ নদী, পলিমাটি, কাশবনের শুভ্রতা এবং শরতের মেঘমালার সংমিশ্রণে। তিনি লেখেন: «আমার পূর্ব বাংলা একগুচ্ছ স্নিগ্ধ রজনীগন্ধা / রূপালী রঙের একটি প্রকাণ্ড ইলিশ…»। বাংলার নদীমাতৃক রূপ, বর্ষার জলরাশি ও ফসলের মাঠের ঘ্রাণ কবিতায় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হয়ে উঠেছে।
  • দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের অনুরণন: এটি কেবল নৈসর্গিক রূপের বর্ণনা নয়; প্রকৃতির সাথে বাঙালির আত্মিক সম্পর্ক, লোকঐতিহ্য ও মায়ের স্নেহের মতো স্নিগ্ধতার সমন্বয় ঘটেছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েই কবি এই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়কে মূর্ত করে তুলেছেন, যা উক্তিটির সত্যতা প্রমাণ করে।

৬। (খ) “ ‘মুসাফির’ কবিতাটি মানবতাবোধের এক অসাধারণ উপস্থাপন” — আলোচনা:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত ‘মুসাফির’ কবিতাটি আধ্যাত্মিক সাধনার অন্তরালে গভীর বিশ্বজনীন মানবতাবোধ ও সাম্যের এক অনুপম দলিল।

  • জীবনপথের ক্ষণস্থায়ী যাত্রী: ‘মুসাফির’ অর্থ পথিক বা পরিব্রাজক। পার্থিব জীবনে মানুষ এক ক্ষণিকের মুসাফির। কবি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই নশ্বর ধরণিতে অহংকার, লোভ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ নিতান্তই অর্থহীন।
  • উদার মানবতাবোধের উদাত্ত আহ্বান: কবি মানুষকে সকল সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নিঃস্ব, পথহারা ও মজলুম মানুষের বেদনায় ব্যথিত হওয়াই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সার্বজনীন সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের যে আহ্বান নজরুল এ কবিতায় রেখেছেন, তা তাঁকে বিশ্বমানবতার অগ্রদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

ঘ বিভাগ: ব্যাকরণ ও নির্মিতি (মান — ৫ × ৪ = ২০)

৭ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৭। যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (মান: ৫ × ৪ = ২০)
(ক) ‘বহু ভাষার মিশ্রণে প্রচলিত বাংলা ভাষা’ —আলোচনা কর।
(খ) প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।
(গ) সমাস কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?
(ঘ) প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর: দোলনা, দর্শন, শৈল্পিক, লাজুক, পথিক, কাব্য, দাতা।
(ঙ) ভাব-সম্প্রসারণ কর: ‘অর্থই অনর্থের মূল’
(চ) ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে মাদ্রাসা ছাত্রদের ভূমিকা’ নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা কর।


৭ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান (সকল উপ-প্রশ্নের সমাধান)

(ক) বহু ভাষার মিশ্রণে প্রচলিত বাংলা ভাষা:

বাংলা ভাষা কোনো একক উৎসের ভাষা নয়; এটি শতাব্দীকাল ধরে বহু জাতি, ধর্ম ও ভাষার মানুষের সংমিশ্রণে এক সমৃদ্ধ মিশ্র ভাষারূপ পরিগ্রহ করেছে। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা মূলত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য হলেও শব্দভাণ্ডারের দিক থেকে এটি এক উন্মুক্ত মহাসমুদ্র। বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে উৎস অনুসারে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়:

  • তৎসম শব্দ (সংস্কৃত): চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ধর্ম, পাত্র ইত্যাদি।
  • অর্ধ-তৎসম শব্দ: জোছনা (জ্যোৎস্না), ছেরাদ্দ (শ্রাদ্ধ), গিন্নি (গৃহিণী)।
  • তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা শব্দ: হাত (হস্ত > হত্থ > হাত), কান (কর্ণ > কন্ন > কান)।
  • দেশি শব্দ (অনার্য দ্রাবিড় ও কোল-মুণ্ডা প্রভাব): কুলা, কুঁড়ে, ডাব, ডিঙা, ঢেঁকি ইত্যাদি।
  • বিদেশি শব্দ (ঐতিহাসিক আদান-প্রদান):
    • আরবি: আল্লাহ, কুরআন, আদালত, কানুন, কলম, বাকি, নগদ ইত্যাদি।
    • ফারসি: খোদা, নামাজ, রোজা, চশমা, দরবার, কারখানা ইত্যাদি।
    • পর্তুগিজ: আনারস, আলমারি, পাউরুটি, চাবি, বোতাম ইত্যাদি।
    • ইংরেজি: চেয়ার, টেবিল, কলেজ, স্কুল, স্টেশন ইত্যাদি।

এই বহুভাষিক শব্দাবলি বাংলার আবহমান ধারায় এমনভাবে আত্মস্থ হয়েছে যে, তা বাংলা ভাষাকে অতুলনীয় প্রকাশক্ষমতা ও বৈচিত্র্য দান করেছে।


(খ) বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম:

  1. সকল অতৎসম শব্দে ‘ই’ এবং ‘উ’-কার: সকল দেশি, বিদেশি, তদ্ভব ও মিশ্র শব্দে কেবল হ্রস্ব ‘ই’ এবং ‘উ’ কার ব্যবহৃত হবে; দীর্ঘ ‘ঈ’ বা ‘ঊ’ কার হবে না। যেমন: গাড়ি, শাড়ি, চাবি, টুপি, ধুলো ইত্যাদি।
  2. ভাষা ও জাতিবাচক নামে ‘ই’-কার: সকল ভাষা ও জাতির নামের শেষে সর্বদা হ্রস্ব ‘ই’-কার হবে। যেমন: জাপানি, ইরানি, আরবি, ফরাসি, বাঙালি, ইংরেজি ইত্যাদি।
  3. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব বর্জন: রেফের পর কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: কর্ম (করম্ম নয়), ধর্ম, সূর্য, অর্জন, অর্চনা ইত্যাদি।
  4. শব্দশেষে বিসর্গ (ঃ) বর্জন: শব্দের শেষে বিসর্গ ব্যবহার করা যাবে না। যেমন: মূলত (মূলতঃ নয়), কার্যত, প্রধানত, প্রায়শ ইত্যাদি।
  5. ‘ণ’ ও ‘ষ’-এর নিয়ম: খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে মূর্ধন্য ‘ণ’ এবং মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হবে না; সর্বদা দন্ত্য ‘ন’ এবং দন্ত্য ‘স’ হবে। যেমন: কর্নার, গভর্নর, স্টেশন, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

(গ) সমাস কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?

সমাসের সংজ্ঞা: অর্থগতভাবে পরস্পর সম্পর্কিত দুই বা ততোধিক পদ মিলে এক পদে পরিণত হওয়াকে ‘সমাস’ বলে। সমাস শব্দের অর্থ—সংক্ষেপ, মিলন বা একাধিক পদের একপদীকরণ। যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।

সমাসের প্রকারভেদ: বাংলা ব্যাকরণে সমাস প্রধানত ৬ (ছয়) প্রকার:

  1. দ্বন্দ্ব সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়। যেমন: মা ও বাবা = মা-বাবা, হাত ও পা = হাত-পা।
  2. দ্বিগু সমাস: পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্তপদ দ্বারা সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়। যেমন: তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা।
  3. তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। যেমন: বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন (২য়া), রাজাকে ভক্তি = রাজভক্তি (৪র্থী)।
  4. কর্মধারয় সমাস: যেখানে বিশেষ্য ও বিশেষণে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, মহান যে নবী = মহানবী।
  5. বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে ভিন্ন কোনো তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: দশ আনন যার = দশানন (রাবণ), পীত অম্বর যার = পীতাম্বর (শ্রীকৃষ্ণ)।
  6. অব্যয়ীভাব সমাস: পূর্বপদে অব্যয় যুক্ত হয়ে যে সমাস হয় এবং অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, দিন দিন = প্রতিদিন।

(ঘ) প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় (সকল শব্দ):

প্রদত্ত শব্দ মূল প্রকৃতি ও প্রত্যয় প্রত্যয়ের শ্রেণিবিভাগ
দোলনা √দুল্ + না (অনা) কৃৎপ্রত্যয় (বাংলা)
দর্শন √দৃশ্ + অন (অনট্) কৃৎপ্রত্যয় (সংস্কৃত)
শৈল্পিক শিল্প + ইক (ষ্ণিক) তদ্ধিত প্রত্যয় (সংস্কৃত)
লাজুক লাজ + উক তদ্ধিত প্রত্যয় (বাংলা)
পথিক পথ + ইক (ষ্ণিক) তদ্ধিত প্রত্যয় (সংস্কৃত)
কাব্য কবি + য (ষ্যঞ্) তদ্ধিত প্রত্যয় (সংস্কৃত)
দাতা √দা + তৃ (তৃচ্) কৃৎপ্রত্যয় (সংস্কৃত)

(ঙ) ভাব-সম্প্রসারণ: ‘অর্থই অনর্থের মূল’

মূলভাব: মানবজীবনের সামগ্রিক প্রয়োজন মেটানোর বাহন হলো অর্থ। কিন্তু অর্থের প্রতি অন্ধ মোহ, লোভ ও অনৈতিক উপার্জনই জগতে যাবতীয় পাপ, পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক বৈষম্য ও ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মূল কারণ।

সম্প্রসারিত ভাব: জীবন ধারণের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে অর্থ এক অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু অর্থ কেবল একটি মাধ্যম মাত্র, জীবনের চরম লক্ষ্য নয়। মানুষ যখন এই সাধারণ সত্যটি বিস্মৃত হয়ে অর্থকেই জীবনের একমাত্র কাম্য বস্তু মনে করে এবং যেকোনো মূল্যে ধনবান হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, তখনই দেখা দেয় চরম বিপর্যয়। লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ নীতি-নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে ঘুষ, দুর্নীতি, আত্মসাৎ ও জুলুমে জড়িয়ে পড়ে। অর্থের অহমিকায় ভাইয়ে-ভাইয়ে বিবাদ, পিতা-পুত্রের কলহ এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সৃষ্টি হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধের মূলে রয়েছে বিপুল অর্থ ও সম্পদের লোভ। অতিরিক্ত ধনলিপ্সা আত্মাকে পঙ্কিল করে এবং মানুষকে পশুত্বের স্তরে নামিয়ে দেয়। পক্ষান্তরে, সৎ উপায়ে অর্জিত পরিমিত অর্থ যখন মানবকল্যাণে ও আল্লাহর সন্তুষ্টিতে ব্যয় হয়, তখন তা কল্যাণের আধার হয়।

মন্তব্য: সুতরাং, অর্থকে নিজের দাস বানিয়ে সৎকাজে ব্যবহার করাই মানবতা; কিন্তু অর্থকে অন্তরে স্থান দিয়ে তার দাসে পরিণত হলেই তা মানবজাতির জন্য চরম ধ্বংস ও সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


(চ) সংবাদ প্রতিবেদন:

বিষয়: চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে মাদ্রাসা ছাত্রদের গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক ভূমিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা; ২০ আগস্ট ২০২৪:
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। স্বৈরাচার, বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক বিপ্লবে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাদ্রাসা ছাত্রদের আত্মত্যাগ ও সম্মুখ সমরের ভূমিকা ছিল অনন্য, অবিস্মরণীয় ও বীরত্বপূর্ণ।

আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই কওমি ও আলিয়া উভয় ধারার মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই ন্যায়ের পক্ষে রাজপথে নেমে আসে। রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রামপুরা, মিরপুর, উত্তরা এবং চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেটে মাদ্রাসা ছাত্ররা আন্দোলনের অন্যতম ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। পুলিশের গুলি ও টিয়ারশেলের মুখে বুক পেতে দিয়ে তারা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। যাত্রাবাড়ী ও উত্তরায় শত শত মাদ্রাসা ছাত্র শাহাদাত বরণ করেছেন এবং সহস্রাধিক ছাত্র মারাত্মকভাবে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের এই জীবনবাজি রাখা রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম স্বৈরাচারী শক্তির ভিত নাড়িয়ে দেয় এবং ৫ই আগস্টের বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।

শুধু রাজপথের যুদ্ধেই নয়, ৫ই আগস্টের বিজয়ের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মাদ্রাসা ছাত্ররা প্রশংসনীয় দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে। তারা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির পাহারা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় রাত জেগে অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে সমগ্র দেশবাসীর হৃদয় জয় করে নেয়। চব্বিশের এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ইনসাফ কায়েমে মাদ্রাসা ছাত্ররা দেশের এক অতন্দ্র ও দেশপ্রেমিক শক্তি।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ১ম বর্ষ দাওয়াহ বিভাগের ‘বাংলা’ কোর্সের বিষয় কোড কত?

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের বাংলা আবশ্যিক কোর্সের বিষয় কোড হলো ২০৩১-০৪ (203104)।

২. এ বিষয়ের প্রশ্নপত্রে কয়টি বিভাগ থাকে ও পূর্ণমান কত?

বাংলা বিষয়ের মোট পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র ৪টি বিভাগে বিভক্ত: ক বিভাগ (সাহিত্যের ইতিহাস – ২০), খ বিভাগ (গদ্য ও প্রবন্ধ – ২০), গ বিভাগ (কবিতা ও নাটক – ২০) এবং ঘ বিভাগ (ব্যাকরণ ও নির্মিতি – ২০)।

৩. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ নিয়ে প্রধান দুটি মত কী কী?

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীন যুগ ৯৫০-১২০০ খ্রি., মধ্যযুগ ১২০১-১৮০০ খ্রি. এবং আধুনিক যুগ ১৮০১-বর্তমান। অপরদিকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন যুগ ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।

৪. বাংলা ব্যাকরণ অংশে কোন কোন বিষয়ে প্রশ্ন আসে?

ব্যাকরণ অংশে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার, সমাস নির্ণয়, প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয়, ভাব-সম্প্রসারণ এবং সমসাময়িক বিষয়ের ওপর সংবাদ প্রতিবেদন রচনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ কবিতার মূল দর্শন কী?

‘বলাকা’ কবিতার মূল দর্শন হলো হেগেল ও বার্গসোঁর মতো শাশ্বত গতির জয়গান; জগতে স্থবিরতার কোনো স্থান নেই, সৃষ্টি প্রতিনিয়ত অনন্তের পানে ধাবমান।

৬. ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অংশে কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল?

২০২৪ সালের প্রশ্নপত্রের নির্মিতি অংশে সাম্প্রতিক বাংলাদেশের যুগান্তকারী প্রেক্ষাপট থেকে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে মাদ্রাসা ছাত্রদের ভূমিকা’ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সংবাদ প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।