পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০১৭
اختبار السنة الأولى للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ٢٠٢٤
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
الدعوة والدراسات الإسلامية [দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة الحديث النبوى [দিরাসাতুল হাদীস আন-নববী]
বিষয় কোড: ২০৩১-০৩
الوقت — ٤ ساعات [সময় — ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة — ٨٠ [পূর্ণমান — ৮০]
[الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة]
কোর্স ও পরীক্ষা পরিচিতি
| বিশ্ববিদ্যালয় | ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (Islamic Arabic University – IAU) |
|---|---|
| ডিগ্রি ও বর্ষ | ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (Fazil BA Honours 1st Year) |
| বিভাগ | দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ (Department of Dawah & Islamic Studies) |
| বিষয়ের নাম | দিরাসাতুল হাদিসিন নাবাবি (دراسة الحديث النبوي – Prophetic Hadith Studies) |
| বিষয় কোড | ২০৩১-০৩ (203103) |
| পরীক্ষার সন | ২০২৪ (অনুষ্ঠিত: ২০২৪/২০২৫) |
| সময় ও পূর্ণমান | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০ নম্বর |
| প্রশ্নের বিন্যাস | ক বিভাগ (হাদিস ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন): ৫ × ১৪ = ৭০ নম্বর | খ বিভাগ (মুহাদ্দিস পরিচিতি ও হাদিস শাস্ত্র): ১ × ১০ = ১০ নম্বর |
مجموعة (أ) : হাদিস ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
১ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
١- عن عمر بن الخطاب رضى الله عنه: (الدرجات: ٦ + ٤ + ٤ = ١٤)
حدثنا الحميدى قال حدثنا سفيان قال حدثنا يحيى بن سعيد الأنصارى قال أخبرنى محمد بن إبراهيم التيمى أنه سمع علقمة بن وقاص الليثى يقول سمعت عمر بن الخطاب رضى الله عنه على المنبر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى فمن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو إلى امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه-
(أ) ما النية؟ هل النية شرط لكل عمل؟ وما الاختلاف فيه؟ فصل-
(ب) بين شأن ورود هذا الحديث مع بيان وجه ذكر “أو إلى امرأة ينكحها”-
১ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
হাদিস শরিফের বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
হুমায়দী (রহ.) বর্ণনা করেন, তিনি সুফিয়ান (রহ.) থেকে, তিনি ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী (রহ.) থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আত-তায়মী (রহ.) থেকে, তিনি আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয় যাবতীয় আমলের গ্রহণযোগ্যতা ও ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক মানুষ তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। অতএব, যার হিজরত পার্থিব কোনো স্বার্থ অর্জনের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই পরিগণিত হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।» (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯০৭)
(أ) নিয়তের পরিচয় ও আমলের শর্ত হওয়ার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের মতপার্থক্য:
১. নিয়তের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
‘নিয়ত’ (النية) আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ—القصد والعزم والإرادة (সংকল্প করা, ইচ্ছা পোষণ করা ও কোনো কাজের প্রতি মনস্থির করা)।
শরিয়তের পরিভাষায়: عزم القلب على فعل العبادة تقربًا إلى الله تعالى (আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের নিমিত্তে কোনো ইবাদত পালনের উদ্দেশ্যে অন্তরের সুদৃঢ় সংকল্পকে নিয়ত বলে)। ইমাম বায়যাবী (রহ.) বলেন, নিয়ত হলো অন্তরের এমন এক চালিকাশক্তি যা বান্দাকে কোনো উদ্দেশ্য সাধনে ধাবিত করে।
২. নিয়ত কি প্রতিটি আমলের জন্য শর্ত? এবং ফুকাহায়ে কেরামের মতপার্থক্য:
হাদিসের «إنما الأعمال بالنيات» বাক্যাংশে উহ্য মানদণ্ড (محذوف) নির্ধারণে ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে প্রসিদ্ধ মতপার্থক্য রয়েছে:
- ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ (রহ.)-এর মত (জমহুর): তাদের মতে হাদিসে تقدير হলো «إنما صحة الأعمال بالنيات» (আমলের শুদ্ধতা ও যথার্থতা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)। ফলে তাদের নিকট নামাজ, রোজা, জাকাত, ওজু, গোসলসহ সকল প্রকার ইবাদত শুদ্ধ ও সহিহ হওয়ার জন্য নিয়ত মৌলিক শর্ত (شرط الصحة)। নিয়ত ব্যতীত কোনো ইবাদতই শরিয়তসম্মতভাবে সহিহ হবে না।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও হানাফি ফুকাহায়ে কেরামের মত: হানাফি মাজহাব অনুযায়ী تقدير হলো «إنما كمال الأعمال أو ثواب الأعمال بالنيات» (আমলের পূর্ণতা ও সাওয়াব নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী আমল দুই ভাগে বিভক্ত:
- মাকসুদ ইবাদত (العبادات المقصودة لذاتها): যেমন সালাত, সাওম, হজ ইত্যাদি। এগুলোতে নিয়ত ‘শর্তে সেহহত’ (شرط الصحة); নিয়ত ছাড়া এগুলো আদায়ই হবে না।
- ওয়াসিলা বা মাধ্যমগত ইবাদত (الوسائل والطهور): যেমন অপবিত্রতা দূরীকরণ (ওজু, গোসল, কাপড়ের নাপাকি ধৌত করা ইত্যাদি)। এগুলোতে নিয়ত ‘শর্তে কামালাত ও সাওয়াব’ (شرط الكمال والثواب); অর্থাৎ নিয়ত ছাড়া ওজু করলে পবিত্রতা অর্জিত হবে এবং সালাত আদায় করা বৈধ হবে, তবে আখেরাতে ইবাদতের বিশেষ সাওয়াব পাওয়া যাবে না।
(ب) হাদিসের শানে উরুদ (ورود الحديث) এবং ‘অথবা কোনো নারীকে বিবাহ’ খাসভাবে উল্লেখের হিকমত:
১. হাদিসটির অবতরণ বা বর্ণনার প্রেক্ষাপট (سبب الورود):
তাবারানী মু’জামুল কাবিলে এবং সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনানে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, মক্কার এক ব্যক্তি ‘উম্মু কায়েস’ (أم قيس) নাম্নী এক সম্ভ্রান্ত নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। উম্মু কায়েস শর্ত আরোপ করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে মদিনায় হিজরত করবেন, আর ওই ব্যক্তি যদি মদিনায় হিজরত করে তবেই কেবল তিনি তাকে বিবাহ করবেন। ফলে ওই ব্যক্তি হিজরতের প্রকৃত দ্বীনি ফযিলতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং কেবল উম্মু কায়েসকে বিবাহের উদ্দেশ্যে মদিনায় হিজরত করে। সাহাবায়ে কেরামের মাঝে সে ‘মুহাজিরে উম্মু কায়েস’ (مهاجر أم قيس) নামে পরিচিত হয়। এ প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ এই সুদূরপ্রসারী চিরন্তন মূলনীতি ঘোষণা করেন।
২. পার্থিব স্বার্থের পর নারীকে খাসভাবে উল্লেখের তাৎপর্য (ذكر الخاص بعد العام):
হাদিসে প্রথমে বলা হয়েছে «فمن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها» (যার হিজরত দুনিয়ার কোনো স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে), এখানে ‘দুনিয়া’ শব্দের ভেতরেই বিবাহ, নারী, ধন-সম্পদসহ পার্থিব সব কিছু অন্তর্ভুক্ত ছিল। তথাপি এর পরপরই খাসভাবে «أو إلى امرأة ينكحها» (অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে) উল্লেখ করার কারণ হলো:
- নারীর ফিতনা ও তীব্র মোহের সতর্কতা: দুনিয়ার সমস্ত পার্থিব সম্পদের মধ্যে নারীর আকর্ষণ ও প্রলোভন সর্বাধিক শক্তিশালী। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: «مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ» (আমার পর পুরুষদের জন্য নারীর চেয়ে ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি – সহিহ বুখারি)।
- বালাগত বা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গুরুত্ব: আম বা সাধারণ বিষয়ের পর অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ খাস বিষয়ের উল্লেখ (عطف الخاص على العام) আরবি অলংকারশাস্ত্রের অন্যতম সৌন্দর্য, যা শ্রোতার দৃষ্টিকে সর্বোচ্চ মাত্রায় সতর্ক ও নিবদ্ধ করে।
২ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٢- عن ابن عباس رضى الله عنهما: (الدرجات: ٦ + ٤ + ٤ = ١٤)
عن ابن عباس رضى الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس وكان أجود ما يكون فى رمضان حين يلقاه جبريل وكان يلقاه فى كل ليلة من رمضان فيدارسه القرآن فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة-
(أ) اشرح قوله عليه السلام: “كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس”-
(ب) من هو ابن عباس؟ اكتب نبذة من حياته-
২ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
হাদিস শরিফের বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক দানশীল ও উদার। আর রমজান মাসে যখন জিবরাইল (আ.) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও অধিক দানশীল হতেন। রমজানের প্রতি রাতেই জিবরাইল (আ.) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে কুরআন মাজিদ পাঠ করে শোনাতেন (পরস্পর কুরআন পুনরাবৃত্তি করতেন)। নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ ﷺ কল্যাণ ও দানশীলতায় প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও অধিক গতিময় ও উদার ছিলেন।» (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩০৮)
(أ) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দানশীলতার ব্যাখ্যা («كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس»):
১. ‘জূদ’ (الْجُود)-এর তাৎপর্য:
‘জূদ’ শব্দের অর্থ হলো কোনো প্রকার প্রতিদান বা প্রশংসার প্রত্যাশা ব্যতিরেকে অকুণ্ঠচিত্তে নিঃস্বার্থভাবে অভাবী ও যাচনা না করা ব্যক্তিদের মাঝেও কল্যাণ বিলিয়ে দেওয়া। রাসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে সর্বাধিক বদান্য, উদার ও দানশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি কখনও কোনো প্রার্থীকে ‘না’ বলেননি। হযরত জাবির (রা.) বলেন: «مَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ: لَا» (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে কখনো কোনো কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো ‘না’ বলেননি – সহিহ বুখারি)।
২. রমজান মাসে দানশীলতার প্রাচুর্য ও প্রবাহিত বায়ুর উপমা:
হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দানশীলতাকে ‘প্রবাহিত বায়ু’ (الريح المرسلة)-এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। এর নিগূঢ় তাৎপর্য হলো:
- প্রবাহিত বায়ু যেমন কোনো বাধা মানে না, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর সমভাবে প্রবাহিত হয় এবং শুষ্ক জমিনে বৃষ্টি ও জীবনের সুসংবাদ বয়ে আনে, তেমনি নবীজি ﷺ-এর দান ও কল্যাণ সমগ্র সৃষ্টিজগতের সকল স্তরের মানুষের মাঝে অবিরত ও দ্রুতগতিতে পৌঁছে যেত।
- রমজান মাসে কুরআন তিলাওয়াত ও জিবরাইল (আ.)-এর সাহচর্যের কারণে নবীজি ﷺ-এর অন্তরে আল্লাহর নৈকট্য ও পরকালীন জাযার অনুভূতি আরও তীব্র হতো, ফলে তাঁর বদান্যতা পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করত।
(ب) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবন ও পরিচয়:
- নাম ও বংশপরিচয়: নাম আব্দুল্লাহ, উপনাম আবুল আব্বাস। পিতার নাম আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (নবীজির আপন চাচা), মাতার নাম উম্মুল ফজল লুবাবা বিনতুল হারিস। তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর চাচাতো ভাই।
- জন্ম ও শৈশব: হিজরতের ৩ বছর পূর্বে মক্কার শিয়াবে আবি তালিবে মুসলমানদের বয়কটকালীন সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাতকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বা ১৫ বছর।
- উপাধি: অসাধারণ ইলমি গভীরতার কারণে তাঁকে ‘মুফাসসিরুল কুরআন’, ‘তরজুমানুল কুরআন’ (কুরআনের ভাষ্যকার) এবং ‘হিবরুল উম্মাহ’ (উম্মতের মহাজ্ঞানী পণ্ডিত) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বিশেষ দোয়া: রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর বুকে হাত রেখে দোয়া করেছিলেন: «اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَعَلِّمْهُ التَّأْوِيلَ» (হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করুন এবং কুরআনের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিন – মুসনাদে আহমদ)।
- জ্ঞানচর্চায় অবদান: তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা ও কবিতার এক অনন্য বিশ্বকোষ ছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের জটিল মাসআলায় তিনি ছিলেন প্রধান ফতোয়াদাতা।
- ওফাত: ৬৮ হিজরিতে ৭০ বছর বয়সে তায়েফে ইন্তেকাল করেন। বিশিষ্ট সাহাবি হযরত মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (রহ.) তাঁর জানাজার সালাত পড়ান এবং বলেন: “আজ এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ আলেম বিদায় নিলেন।”
৩ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٣- عن معاوية رضى الله عنه: (الدرجات: ٦ + ٤ + ٤ = ١٤)
عن معاوية رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من يرد الله به خيرا يفقهه فى الدين وإنما أنا قاسم والله يعطى ولن تزال هذه الأمة قائمة على أمر الله لا يضرهم من خالفهم حتى يأتى أمر الله-
(أ) تحدث عن أهمية التفقه فى الدين وفضله فى ضوء القرآن والسنة بالاختصار-
(ب) اشرح قوله عليه السلام: “لا يضرهم من خالفهم”-
৩ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
হাদিস শরিফের বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
হযরত মুআবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (ফিকহ) দান করেন। আর নিশ্চয় আমি বণ্টনকারী মাত্র, কিন্তু মূল দাতা হলেন আল্লাহ তাআলা। আর এই উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের (হকের) ওপর অবিচল থাকবে; তাদের বিরোধিতাকারীরা তাদের কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) উপস্থিত হয়।» (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৩৭)
(أ) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দ্বীনি প্রজ্ঞা (التفقه في الدين)-এর গুরুত্ব ও মর্যাদা:
১. ফিকহের তাৎপর্য: ‘ফিকহ’ মানে কেবল বাহ্যিক জ্ঞান নয়, বরং দ্বীনের বিধিবিধানের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য, হিকমত ও গভীর উপলব্ধি লাভ করা।
২. পবিত্র কুরআনের আলোকে:
- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ﴿فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ﴾ (অতএব তাদের প্রত্যেক দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং নিজ কওমের কাছে ফিরে এসে তাদের সতর্ক করতে পারে? – সুরা তাওবাহ: ১২২)।
- আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: ﴿يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا﴾ (তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন; আর যাকে প্রজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাকে বিপুল কল্যাণ দান করা হয়েছে – সুরা বাকারা: ২৬৯)।
৩. হাদিস শরিফের আলোকে:
- আলোচ্য হাদিসে নবীজি ﷺ স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি সর্বশ্রেষ্ঠ ভালোবাসা ও অফুরন্ত কল্যাণের চূড়ান্ত আলামত হলো দ্বীনি ইলম ও প্রজ্ঞা অর্জন করা।
- রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: «فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ» (আবেদের ওপর আলেমের মর্যাদা যেমন তোমাদের সাধারণের ওপর আমার মর্যাদা – সুনানে তিরমিজি)।
(ب) «لا يضرهم من خالفهم» (বিরোধিতাকারীরা তাদের ক্ষতি করতে পারবে না) বাক্যাংশের ব্যাখ্যা:
১. হকপন্থীদের চিরন্তন সাহায্য ও নিরাপত্তা:
হাদিসের এই অংশে রাসুলুল্লাহ ﷺ উম্মতের মাঝে বিদ্যমান সত্যনিষ্ঠ দলের (الطائفة المنصورة) সুসংবাদ দিয়েছেন। জামানায় যতই ফিতনা, গোমরাহি, পথভ্রষ্টতা ও ইসলামবিরোধীদের চক্রান্ত বিস্তার লাভ করুক না কেন, একটি জামাত সর্বদা হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
২. ক্ষতির প্রকারভেদ ও অর্থ:
এখানে ‘ক্ষতি করতে পারবে না’ (لا يضرهم)-এর অর্থ হলো:
- দ্বীনি ও আত্মিক ক্ষেত্রে: শত্রুদের কোনো মিথ্যাচার, অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্র তাদেরকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না এবং দ্বীনের মূল ধারাকে ধ্বংস করতে পারবে না।
- শারীরিক নির্যাতন প্রসঙ্গে: বিরোধী শক্তি হয়তো তাদের কাউকে শহীদ করতে পারে, কারারুদ্ধ করতে পারে কিংবা পার্থিব ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু তা তাদের ঈমান ও সম্মানকে বিন্দুমাত্র বিনষ্ট করতে পারবে না; বরং আখিরাতে তাদের মর্যাদা সুউচ্চ করবে। ইমাম নববী ও ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, এই দল হলো আহলুল হাদিস, ফুকাহায়ে কেরাম এবং যারা সর্বাবস্থায় কিতাব ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করে থাকেন।
৪ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٤- عن ابن عباس رضى الله عنهما: (الدرجات: ٦ + ٤ + ٤ = ١٤)
عن ابن عباس رضى الله عنهما: أن معاذا قال بعثنى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إنك تأتى قوما من أهل الكتاب، فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأنى رسول الله، فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات فى كل يوم وليلة، فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد فى فقرائهم، فإن هم أطاعوا لذلك فإياك وكرائم أموالهم واتق دعوة المظلوم فإنه ليس بينها وبين الله حجاب-
(أ) ما معنى الدعوة؟ بين طرقها فى ضوء القرآن والسنة-
(ب) اشرح قوله عليه السلام: “اتق دعوة المظلوم فإنه ليس بينها وبين الله حجاب”-
৪ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
হাদিস শরিফের বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন আমাকে (গভর্নর ও বিচারক হিসেবে) ইয়েমেনে প্রেরণ করেন, তখন আমাকে নির্দেশ দিয়ে বললেন: «তুমি আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। অতএব, প্রথমে তাদেরকে এ সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানাবে যে, ‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল।’ যদি তারা এ বিষয়ে আনুগত্য স্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা এতেও আনুগত্য প্রকাশ করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে। আর যখন তারা এটি মেনে নেবে, তখন সাবধান! তাদের উৎকৃষ্ট মানের সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। আর মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করবে; কেননা তার বদদোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরায় বা পর্দা থাকে না।» (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৯৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯)
(أ) দাওয়াহর অর্থ এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দাওয়াতের কর্মপন্থা:
১. দাওয়াহ (الدعوة)-এর অর্থ:
আভিধানিক অর্থ: النداء والطلب والحث (ডাকা, আহ্বান করা ও উদ্বুদ্ধ করা)।
পারিভাষিক অর্থ: মানুষকে সত্য দ্বীন ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানো, আল্লাহর একত্ববাদ ও আনুগত্যের পথে পরিচালিত করা এবং অসত্য ও অন্যায় থেকে বিরত রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টাকে দাওয়াত বলা হয়।
২. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দাওয়াতের মৌলিক পদ্ধতি (طرق الدعوة):
- কুরআনের নির্দেশিত ত্রিমুখী পদ্ধতি: আল্লাহ তাআলা সুরা নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াতে দাওয়াতের মূল কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন:
﴿ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ﴾- ১. হিকমত (الحكمة): প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও উপযুক্ত যুক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের বোধগম্য ভাষায় দাওয়াত দেওয়া।
- ২. মাওয়িজায়ে হাসানা (الموعظة الحسنة): কোমল ভাষা, হৃদয়গ্রাহী উপদেশ এবং জান্নাতের সুসংবাদ ও জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনের সমন্বয়।
- ৩. উত্তম পন্থায় বিতর্ক (المجادلة بالتي هي أحسن): কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ ছাড়া পরম শালীনতা ও অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি খণ্ডন করা।
- সুন্নাহর কর্মপদ্ধতি (পর্যায়ক্রমিক দাওয়াত – التدرج): আলোচ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ দাওয়াতের একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক স্তরবিন্যাস শিখিয়েছেন: প্রথমে আকায়েদ (তাওহিদ ও রিসালাত), অতঃপর শারীরিক ইবাদত (সালাত), এরপর আর্থিক ইবাদত (জাকাত)।
(ب) «اتق دعوة المظلوم فإنه ليس بينها وبين الله حجاب» বাক্যাংশের ব্যাখ্যা:
১. মজলুমের বদদোয়ার ভয়াবহতা:
হাদিসে জাকাত আদায়কারী ও শাসকদের অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা প্রজাদের ওপর অবিচার না করেন এবং জাকাত গ্রহণের সময় বেছে বেছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ছিনিয়ে না নেন। জুলুম অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ, যা কিয়ামতের দিন ঘোর অন্ধকার রূপ ধারণ করবে।
২. পর্দা বা অন্তরায় না থাকার অর্থ (ليس بينها وبين الله حجاب):
সাধারণ দোয়ার ক্ষেত্রে কবুলিয়তের নানা শর্ত বা বিলম্ব হতে পারে, কিন্তু নিপীড়িত মজলুম যখন অশ্রুসজল নয়নে আসমানের দিকে হাত তোলে, তখন তার ফরিয়াদ সরাসরি আরশে আজিমে পৌঁছে যায়। আল্লাহ ও মজলুমের দোয়ার মাঝে কোনো মাধ্যম বা পর্দা থাকে না। অন্য হাদিসে নবীজি ﷺ ইরশাদ করেছেন: «ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لَا شَكَّ فِيهِنَّ: دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ…» (তিনটি দোয়া নিশ্চিত কবুল হয়, যাতে কোনো সন্দেহ নেই: তার একটি হলো মজলুমের দোয়া – সুনানে তিরমিজি)। মজলুম যদি কাফের বা পাপাচারীও হয়, তথাপি তার জুলুমের ফরিয়াদ আল্লাহ সরাসরি শোনেন।
৫ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٥- عن أبى هريرة رضى الله عنه: (الدرجات: ٦ + ٤ + ٤ = ١٤)
عن أبى هريرة رضى الله عنه أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: إذا استيقظ أحدكم من نومه فلا يغمس يده فى وضوئه حتى يغسلها ثلاثا فإن أحدكم لا يدرى أين باتت يده-
(أ) اشرح قوله عليه السلام: “فإن أحدكم لا يدرى أين باتت يده”-
(ب) ما الحكمة النبوية فى الأمر بغسل اليد عند الاستيقاظ من النوم؟ بين-
৫ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
হাদিস শরিফের বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: «তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন পাত্রের ওজুর পানিতে হাত না ডুবায়, যতক্ষণ না সে তার হাত তিনবার ধুয়ে নেবে। কেননা তোমাদের কেউই জানে না যে, ঘুমের ঘোরে তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে (শরীরের কোথায় স্পর্শ করেছে)।» (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৮)
(أ) «فإن أحدكم لا يدرى أين باتت يده» বাক্যাংশের তাৎপর্য:
১. মূল বক্তব্য ও আরবি বাচনভঙ্গি:
‘باتت’ শব্দটি ‘বায়েতুতাহ’ (البيتوتة) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ রাত্রিযাপন করা। মানুষ যখন নিদ্রিত থাকে, তখন তার চেতনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবচেতন অবস্থায় হাত শরীরের বিভিন্ন অংশে—বিশেষ করে মলমূত্রের স্থান বা ঘর্মাক্ত স্থানে চলে যেতে পারে, যেখানে অদৃশ্য ময়লা, নাপাকি বা জীবাণু লেগে থাকার প্রবল আশঙ্কা থাকে।
২. ফিকহি হুকুম:
ঘুম থেকে উঠে ওজুর পাত্রে হাত ডুবানোর আগে হাত তিনবার ধোয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যদি হাতে নিশ্চিত নাপাকি লেগে থাকে তবে ধোয়া ওয়াজিব বা ফরজ। ইমাম আহমদ (রহ.) রাতের ঘুম থেকে ওঠার পর হাত ধোয়াকে ওয়াজিব বলেছেন, আর ইমাম আবু হানিফা, মালেক ও শাফেয়ী (রহ.)-এর মতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আদব।
(ব) ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে হাত ধোয়ার অন্তর্নিহিত নববী হিকমত:
- পবিত্রতার সংরক্ষণ ও নাপাকি থেকে সুরক্ষা: প্রাচীনকালে আরবে পানির সংকট ছিল এবং ছোট পাত্রে পানি রাখা হতো। হাত না ধুয়ে পাত্রে ডুবিয়ে দিলে পুরো পাত্রের পানি অপবিত্র বা সন্দেহযুক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এই হাদিস পানির বিশুদ্ধতা রক্ষা করার অপূর্ব বিধান দিয়েছে।
- আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও জীবাণুমুক্তকরণ: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, ঘুমের মধ্যে মানবদেহে ঘাম, মৃত কোষ ও ব্যাকটিরিয়ার বিস্তার ঘটে। ঘুম থেকে উঠে হাত না ধুয়ে চোখ, মুখ বা খাদ্যে স্পর্শ করলে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ছড়াতে পারে। নবীজি ﷺ চৌদ্দশত বছর পূর্বে এই স্বাস্থ্যবিধি মানবজাতিকে উপহার দিয়েছেন।
- শয়তানি প্রভাব থেকে মুক্তি: অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, শয়তান মানুষের নাকের বাঁশিতে বা অলসতার মধ্যে রাত্রিযাপন করে। হাত ধোয়া ও ওজুর মাধ্যমে বান্দা শয়তানের কুপ্রভাব ও আলস্য থেকে মুক্ত হয়ে সতেজতা লাভ করে।
৬ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٦- عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: (الدرجات: ٦ + ٤ + ٤ = ١٤)
عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن امرأتين أتتا رسول الله صلى الله عليه وسلم و فى أيديهما سواران من ذهب فقال لهما أتؤديان زكاته؟ قالتا لا- قال فقال لهما رسول الله صلى الله عليه وسلم أتحبان أن يسوركما الله سوارين من نار؟ قالتا لا، قال فأديا زكاته-
(أ) ما معنى الزكوة؟ ومتى فرضت؟ وعلى من تجب؟ بين-
(ب) ما هو نصاب الزكاة فى الذهب والفضة؟
৬ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
হাদিস শরিফের বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস) থেকে বর্ণনা করেন যে, দু’জন নারী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত হলো, আর তাদের হাতে ছিল স্বর্ণের দুটি ভারী বালা। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদের জিজ্ঞেস করলেন: «তোমরা কি এগুলোর জাকাত আদায় করো?» তারা উভয়ে বলল: ‘না।’ তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাদের বললেন: «তোমরা কি এটা পছন্দ করো যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তোমাদের এগুলোর পরিবর্তে আগুনের দুটি বালা পরিয়ে দেবেন?» তারা নিবেদন করল: ‘না।’ তখন তিনি বললেন: «তবে তোমরা এগুলোর জাকাত আদায় করো।» (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৬৩; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬৩৭; সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ২৪৭৯)
(أ) জাকাতের অর্থ, ফরজিয়াত ও কার ওপর ফরজ:
১. জাকাতের অর্থ:
আভিধানিক অর্থ: النماء والزيادة والطهارة والبركة (বৃদ্ধি পাওয়া, পবিত্র হওয়া ও বরকত লাভ করা)। জাকাত দিলে সম্পদ হ্রাস পায় না, বরং আত্মিক ও বস্তুগতভাবে পবিত্র ও বৃদ্ধি পায়।
পারিভাষিক অর্থ: শরিয়তের নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআনে বর্ণিত হকদারদেরকে নিঃস্বার্থভাবে মালিক বানিয়ে দেওয়া।
২. জাকাত কখন ফরজ হয়েছে:
ঐতিহাসিক ও ফুকাহায়ে কেরামের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, দ্বিতীয় হিজরি সনে (২য় হিজরির শাওয়াল মাসে—রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর) মদিনা মুনাওয়ারায় জাকাত পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক বিধান হিসেবে বিস্তারিত নেসাব ও হারের বিবরণসহ ফরজ করা হয়। (তবে মক্কী জীবনে জাকাতের সাধারণ নির্দেশ ও দানশীলতার তাগিদ অবতীর্ণ হয়েছিল)।
৩. জাকাত কার ওপর ফরজ (শর্তাবলী):
জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ হতে হবে:
- মুসলমান হওয়া (অমুসলিমের ওপর জাকাত ফরজ নয়)।
- স্বাধীন বা মুক্ত নাগরিক হওয়া।
- প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া (হানাফি মাজহাব মতে)।
- সম্পদের পূর্ণ মালিকানা থাকা (الملك التام)।
- সম্পদ নেসাব পরিমাণ হওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত হওয়া।
- ঋণমুক্ত হওয়া।
- সম্পদ বর্ধনশীল (نامي) হওয়া (যেমন স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্যবসায়ী পণ্য, গৃহপালিত পশু)।
- নেসাব পরিমাণ সম্পদের ওপর পূর্ণ এক চান্দ্রবছর অতিবাহিত হওয়া (حولان الحول)।
(ب) স্বর্ণ ও রৌপ্যের জাকাতের নেসাব ও পরিমাণ:
| সম্পদের প্রকার | শরিয়তসম্মত মূল নেসাব | আধুনিক ওজন (গ্রাম/তোলা) | প্রদেয় জাকাতের হার |
|---|---|---|---|
| স্বর্ণ (الذهب) | ২০ মিসকাল বা ২০ দিনার | ৭.৫ তোলা বা ৮৭.৪৮ গ্রাম (প্রায় ৮৫ গ্রাম) | শতকরা ২.৫% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ / ربع العشر) |
| রৌপ্য (الفضة) | ২০০ দিরহাম (পাঁচ উকিয়া) | ৫২.৫ তোলা বা ৬১২.৩৬ গ্রাম (প্রায় ৫৯৫ গ্রাম) | শতকরা ২.৫% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ / ربع العشر) |
| নগদ অর্থ ও বাণিজ্যিক পণ্য | স্বর্ণ বা রৌপ্যের যেকোনো একটির নেসাবের সমমূল্য (দরিদ্রদের কল্যাণে রৌপ্যের মূল্য ধরা উত্তম) | ৫২.৫ তোলা রৌপ্যের সমপরিমাণ বাজারমূল্য | শতকরা ২.৫% |
অলংকারের জাকাত: হানাফি মাজহাব মতে, নারীদের ব্যবহারের স্বর্ণালংকার নেসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর অতিবাহিত হলে তার ওপরও জাকাত দেওয়া ওয়াজিব, যা আলোচ্য হাদিসের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা দ্বারা প্রমাণিত।
৭ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٧- عن أبي ذر رضي الله عنه: (الدرجات: ٦ + ٤ + ٤ = ١٤)
عن أبي ذر رضي الله عنه يقول كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فأراد المؤذن أن يؤذن الظهر فقال “أبرد” ثم أراد أن يؤذن فقال “أبرد” مرتين أو ثلاثا حتى رأينا في التلول ثم قال إن شدة الحر من فيح جهنم فإذا اشتد الحر فأبردوا بالصلاة-
(أ) ما معنى الصلاة؟ بين آخر وقت لصلاة الظهر مع ذكر أقوال الفقهاء فيه-
(ب) اشرح قوله عليه السلام: “إن شدة الحر من فيح جهنم”-
৭ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
হাদিস শরিফের বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
হযরত আবু জর গিফারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা কোনো এক সফরে নবীজি ﷺ-এর সাথে ছিলাম। একপর্যায়ে মুয়াজ্জিন জোহরের আজান দিতে চাইলেন। তখন নবীজি ﷺ বললেন: «ঠাণ্ডা হতে দাও (গরম কমতে দাও)।’ কিছুক্ষণ পর মুয়াজ্জিন পুনরায় আজান দিতে চাইলে নবীজি ﷺ আবারও বললেন: ‘ঠাণ্ডা হতে দাও।’ এভাবে তিনি দুই বা তিনবার বললেন, এমনকি আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। অতঃপর নবীজি ﷺ ইরশাদ করলেন: «নিশ্চয় প্রচণ্ড উত্তাপ জাহান্নামের উত্তপ্ত বাষ্প ও নিঃশ্বাসের অংশবিশেষ। অতএব যখন গরম তীব্র আকার ধারণ করবে, তখন সালাতকে ঠাণ্ডা করে (বিলম্ব করে) আদায় করো।» (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬১৫)
(أ) সালাতের অর্থ এবং জোহরের শেষ সময় নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্য:
১. সালাত (الصلاة)-এর অর্থ:
আভিধানিক অর্থ: الدعاء والرحمة والاستغفار (দোয়া, রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা)।
পারিভাষিক অর্থ: তাকবীরে তাহরিমা দিয়ে শুরু হয়ে নির্দিষ্ট রুকন ও শর্তাবলীর সমন্বয়ে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়া বিশেষ ইবাদতকে সালাত বলা হয়।
২. জোহরের শেষ সময় নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মতপার্থক্য:
জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার (যাওয়াল) পর থেকে। তবে ওয়াক্ত কখন শেষ হয়, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে:
- জমহুর ফুকাহায়ে কেরামের মত (ইমাম শাফেয়ী, মালেক, আহমদ এবং হানাফি মাজহাবের ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ.):
কোনো বস্তুর ছায়া তার আসলি ছায়া (যাওয়ালের সময়ের ছায়া) বাদে ঠিক এক গুণ (مثل الشيء) বৃদ্ধি পেলেই জোহরের সময় শেষ হয়ে যায় এবং আসরের সময় প্রবেশ করে। তাদের দলিল হযরত জিবরাইল (আ.)-এর ইমামতির হাদিস, যেখানে দ্বিতীয় দিন জিবরাইল (আ.) প্রত্যেক বস্তুর ছায়া এক গুণ হলে জোহর শেষ করেছিলেন। - ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রসিদ্ধ মত:
কোনো বস্তুর ছায়া তার আসলি ছায়া বাদে দ্বিগুণ (مثلين) হলে জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়। তাঁর দলিল হলো আলোচ্য হাদিসের «أبردوا بالصلاة حتى رأينا فيء التلول» (এমনভাবে ঠাণ্ডা করো যাতে টিলাগুলোর ছায়া দ্বিগুণ হয়ে দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে)। হানাফি মাজহাবের অধিকাংশ ফতোয়ায় সতর্কতা হিসেবে এক গুণ ছায়ার মধ্যে জোহর পড়ে নেওয়া মুস্তাহাব বলা হলেও, ওয়াক্ত শেষ হওয়ার চূড়ান্ত সীমা দুই গুণ ছায়া পর্যন্ত নির্ধারিত।
(ب) «إن شدة الحر من فيح جهنم» বাক্যাংশের তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা:
১. ‘ফায়হ’ (فيح)-এর অর্থ: ফায়হুল জাহান্নাম মানে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডের উত্তাপের প্রসারণ, তীব্র ফুটন্ত বাষ্প ও শ্বাসবায়ুর নির্গমন।
২. হাকিকত বনাম রূপক:
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকায়েদ অনুযায়ী এই হাদিসের অর্থ রূপক নয়, বরং বাস্তব ও হাকিকি। অন্য সহিহ হাদিসে নবীজি ﷺ ইরশাদ করেছেন: জাহান্নাম তার রবের নিকট অভিযোগ করে বলেছিল: “হে আমার রব! আমার এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে।” তখন আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে বছরে দুটি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন—একটি নিঃশ্বাস শীতকালে, আর একটি গ্রীষ্মকালে। গ্রীষ্মকালে আমরা যে প্রচণ্ড উত্তাপ অনুভব করি তা জাহান্নামের সেই নিঃশ্বাসের প্রভাব।
৩. সালাত বিলম্ব করার নববী প্রজ্ঞা (الإبراد):
ইসলামের বিধান মানব প্রকৃতির জন্য সহজ ও স্বস্তিদায়ক। প্রচণ্ড দাবদাহে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে গেলে মানুষের খুশু-খুজু ও মনোযোগ বিনষ্ট হয় এবং কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া কিছুটা শীতল হলে জোহরের সালাত জামাতে আদায় করা সুন্নতে মুস্তাহাব।
৮ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٨- عن أبى هريرة رضى الله عنه: (الدرجات: ٦ + ٤ + ٤ = ١٤)
عن أبى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قال الله عز وجل: كل عمل ابن آدم له إلا الصيام فإنه لى وأنا أجزى به والصيام جنة وإذا كان يوم صوم أحدكم فلا يرفث ولا يصخب، فإن سابه أحد أو قاتله فليقل: إنى امرؤ صائم، والذى نفس محمد بيده لخلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك، للصائم فرحتان يفرحهما إذا أفطر فرح وإذا لقى ربه فرح بصومه-
(أ) ما معنى الصوم؟ ما الحكمة فى مشروعيته؟ بين-
(ب) اشرح قوله عليه السلام: “إلا الصوم فإنه لى وأنا أجزى به”-
৮ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
হাদিস শরিফের বিশুদ্ধ ভাবার্থ:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন (হাদিসে কুদসি): «বনি আদমের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্যই, কেবল রোজা ছাড়া। কেননা রোজা একান্তই আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। আর রোজা হলো (জাহান্নাম ও পাপ থেকে আত্মরক্ষার) ঢালস্বরূপ। অতএব তোমাদের কেউ যখন রোজার দিনে উপনীত হয়, তখন সে যেন কোনো অশ্লীল কথা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল বা কলহে লিপ্ত না হয়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় কিংবা তার সাথে ঝগড়া করতে উদ্যত হয়, তবে সে যেন বলে: ‘নিশ্চয় আমি একজন রোজাদার।’ সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুবাসের চেয়েও অধিক সুবাসিত ও প্রিয়। রোজাদারের জন্য দুটি পরম আনন্দ রয়েছে, যাতে সে আনন্দিত হয়: যখন সে ইফতার করে তখন আনন্দ পায়, আর যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তার রোজার বিনিময়ে আনন্দিত ও উদ্বেলিত হবে।» (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫১)
(أ) রোজার অর্থ ও রোজা ফরজ করার অন্তর্নিহিত হিকমত:
১. সাওমের অর্থ:
আভিধানিক অর্থ: الإمساك والكف عن الشيء (যেকোনো কাজ বা কথা থেকে বিরত থাকা ও নিজেকে সংবরণ করা)।
পারিভাষিক অর্থ: আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়তের সাথে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌন সম্ভোগ এবং যাবতীয় রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকাকে সাওম বা রোজা বলে।
২. রোজা ফরজ করার হিকমত ও তাৎপর্য:
- তাকওয়া ও খোদাভীতি অর্জন: আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ﴾ (হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো – সুরা বাকারা: ১৮৩)।
- নফসের লাগাম টেনে ধরা: রোজা মানুষের কুপ্রবৃত্তি, লোভ-লালসা ও পাশবিক আবেগকে দমন করে আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও নির্মল করে।
- সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা: সারাদিন অনাহারে থেকে ধনী ব্যক্তিরা সমাজের অনাহারী ও ক্ষুধার্ত দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারে, যা তাদেরকে দানশীলতায় উদ্বুদ্ধ করে।
- শারীরিক ও আত্মিক আরোগ্য: চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম দেয় এবং দেহের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
(ب) «إلا الصوم فإنه لي وأنا أجزي به» বাক্যাংশের গভীর ব্যাখ্যা:
সকল ইবাদতই আল্লাহর জন্য, তথাপি আল্লাহ তাআলা রোজাকে খাসভাবে নিজের দিকে সম্পর্কিত করে কেন বললেন “রোজা শুধুই আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব”? আল্লামা ইবনে হাজার ও ইমাম কুরতুবী (রহ.) এর প্রধান কারণসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন:
- লোকদেখানোর (রিয়া) অবকাশহীনতা: নামাজ, হজ, জাকাত বা দান-সদকা মানুষ দেখতে পায় এবং তাতে রিয়া বা আত্মপ্রচারের সুযোগ থাকে। কিন্তু রোজা এমন এক গোপন অন্তরের ইবাদত যা আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় কেউ জানতে পারে না। একজন রোজাদার চাইলে গোপনে ঘরের কোণে পানাহার করতে পারে, কিন্তু সে একমাত্র আল্লাহর ভয়ে তা করে না। ফলে এটি ইখলাসের সর্বোচ্চ প্রতীক।
- অসীম ও অপরিমিত প্রতিদান: অন্যান্য নেক আমলের সাওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু রোজার সাওয়াবের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আল্লাহ তাআলা বিনা হিসাবে নিজ কুদরতি হাতে অফুরন্ত নেয়ামত দ্বারা রোজাদারকে পুরস্কৃত করবেন।
- অন্যায়কারীদের প্রতিশোধ থেকে রক্ষা: কিয়ামতের দিন মাজলুম ব্যক্তিরা জালেমের নামাজ, রোজা ও সদকা থেকে তাদের পাওনা কেটে নেবে। কিন্তু সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রহ.) বলেন, আল্লাহ তাআলা রোজার সাওয়াব কাউকে দেবেন না; বরং তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে অন্য আমল দ্বারা মাজলুমকে সন্তুষ্ট করবেন এবং বান্দার রোজার সাওয়াব অক্ষুণ্ণ রেখে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
مجموعة (ب) : মুহাদ্দিস পরিচিতি ও হাদিস শাস্ত্র
৯ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
٩- اكتب نبذة من حياة الإمام مسلم رحمه الله مع ذكر مزايا كتابه “الصحيح لمسلم” ومنهجه فى التأليف- (الدرجات: ١٠)
৯ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর জীবন পরিচিতি:
- নাম ও বংশপরম্পরা: মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ার্দ ইবনে কুশাইর আন-নায়সাবুরী। উপনাম আবুল হুসাইন, উপাধি আসাকিরুদ্দিন।
- জন্ম ও জন্মস্থান: খোরাসানের ঐতিহ্যবাহী নায়সাবুর (বর্তমান ইরানের নিশাপুর) শহরে ২০৬ হিজরি (মতান্তরে ২০৪ হিজরি) সনে জন্মগ্রহণ করেন। এক সম্ভ্রান্ত ও ইলম অনুরাগী পরিবারে তাঁর লালন-পালন হয়।
- ইলম অন্বেষণে সফর: তিনি অতি অল্প বয়সে হাদিসের পাঠ শুরু করেন। জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি হিজাজ (মক্কা-মদিনা), ইরাক (কুফা, বসরা, বাগদাদ), সিরিয়া, মিশর ও খোরাসানের বিভিন্ন শহর একাধিকবার পরিভ্রমণ করেন।
- বিশিষ্ট ওস্তাদ ও শায়খগণ: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন, কুতায়বা ইবনে সাঈদ এবং বিশেষ করে আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম বুখারি (রহ.)। তিনি ইমাম বুখারিকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় কাটান।
- বিখ্যাত ছাত্রবৃন্দ: ইমাম তিরমিজি, আবু হাতেম রাযী, ইবনে খুযাইমা, আবু আওয়ানা এবং ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ প্রমুখ জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিসগণ।
- ওফাত: ২৬১ হিজরির ২৫শে রজব রোববার সন্ধ্যায় নায়সাবুরের নিকটবর্তী নসরবাদে ৫৭ বছর বয়সে এই মহান হাদিস সম্রাট ইন্তেকাল করেন।
২. সহিহ মুসলিম গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব (مزايا صحيح مسلم):
- কুরআনের পর বিশুদ্ধতম গ্রন্থের মর্যাদা: সহিহ বুখারির পরই সহিহ মুসলিম সমগ্র মুসলিম জাহানের নিকট সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য কিতাব (أصح الكتب بعد كتاب الله تعالى)। মাগরিবের (মরক্কো-আন্দালুসিয়া) অনেক আলেম বিন্যাসগত সৌন্দর্যের কারণে একে সহিহ বুখারির চেয়েও অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
- সনদ ও বর্ণনাকারীদের একত্রীকরণ (جمع الطرق والأسانيد): ইমাম মুসলিম একটি হাদিসের সকল সনদ ও বিভিন্ন ভাষার রেওয়ায়েত একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ে এক স্থানে এনে সংকলন করেছেন, যা সহিহ বুখারিতে অধ্যায়ভিত্তিক বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে রয়েছে।
- লফজের সূক্ষ্ম সংরক্ষণ (التحري في الألفاظ): রাবিদের বর্ণনায় সামান্য একটি অক্ষরের পার্থক্য থাকলেও তিনি তা পুঙ্খানুপুঙ্খ উল্লেখ করেছেন (যেমন: حدثنا ও أخبرنا-এর সূক্ষ্ম পরিভাষাগত পার্থক্য তিনি কঠোরভাবে মেনে চলেছেন)।
- পুনরাবৃত্তির স্বল্পতা: প্রয়োজন ছাড়া তিনি একই হাদিস বিভিন্ন অধ্যায়ে বারবার উল্লেখ করেননি।
- অনবদ্য ভূমিকা (مقدمة صحيح مسلم): গ্রন্থের শুরুতে তিনি হাদিস শাস্ত্র ও ইলমে উসুলের এমন এক কালজয়ী ভূমিকা লিখেছেন যা উলুমুল হাদিসের মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।
৩. সংকলন পদ্ধতি ও মানহাজ (منهجه في التأليف):
- তিনি ৩ লক্ষাধিক সংগৃহীত হাদিস যাচাই-বাছাই করে মাত্র চার হাজার (পুনরাবৃত্তিসহ প্রায় সাড়ে সাত হাজার) বিশুদ্ধ হাদিস এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছেন।
- তিনি রাবিদের সততা, বিশ্বস্ততা ও সমসাময়িকতার (المعاصرة) সাথে সাথে সরাসরি সাক্ষাতের সম্ভাবনাকে (إمكان اللقاء) শর্ত হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
- গ্রন্থটি সংকলন করতে তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছর সময় লেগেছিল। সংকলন শেষে তৎকালীন যুগের ইমাম আবু জুর্আ রাযীর সামনে পেশ করেন; তিনি যে হাদিসের সনদে সামান্য ত্রুটি ধরেছেন, ইমাম মুসলিম বিনাবাক্যে তা বাদ দিয়েছেন।
১০ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর
١٠- اكتب ترجمة الإمام الترمذى رحمه الله مع بيان خدماته فى علم الحديث وخصائص كتابه “الجامع للترمذى”- (الدرجات: ١٠)
১০ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান
১. ইমাম তিরমিজি (রহ.)-এর জীবন পরিচিতি:
- নাম ও বংশপরিচয়: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মুসা ইবনে আদ-দাহহাক আস-সুলামী আত-তিরমিজি। উপনাম আবু ঈসা।
- জন্ম: ২০৯ হিজরিতে বর্তমান উজবেকিস্তানের আমু দরিয়া নদীর তীরবর্তী ঐতিহাসিক তিরমিজ শহরের নিকটে বুগ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জ্ঞানার্জন ও ভ্রমণ: ইলমে হাদিসের উচ্চতর জ্ঞানার্জনের জন্য তিনি খোরাসান, ইরাক, হিজাজ প্রভৃতি অঞ্চল সফর করেন। অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। জীবনের শেষভাগে আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে দৃষ্টিহীন (যরীর) হয়ে যান।
- উস্তাদ ও শায়খগণ: ইমামুল বুখারি (তাঁর প্রধান শিক্ষক ও মুরব্বি), ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, কুতায়বা ইবনে সাঈদ এবং মাহমুদ ইবনে গায়লান (রহ.) প্রমুখ। ইমাম বুখারি (রহ.) স্বয়ং তিরমিজিকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন: “তুমি আমার কাছ থেকে যতটুকু উপকৃত হয়েছ, তার চেয়ে আমি তোমার কাছ থেকে বেশি উপকৃত হয়েছি।”
- ওফাত: ২৭৯ হিজরির ১৩ই রজব রাতে ৭০ বছর বয়সে নিজ জন্মভূমিতে ইন্তেকাল করেন।
২. হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অনন্য অবদান (خدماته في علم الحديث):
- হাসান হাদিসের পরিভাষা প্রবর্তন: ইমাম তিরমিজির পূর্বে হাদিস মূলত ‘সহিহ’ ও ‘দ্বয়িফ’ এই দুই ভাগে প্রধানত বিভক্ত ছিল। ইমাম তিরমিজিই প্রথম ব্যাপকভাবে ‘হাদিসে হাসান’ (الحديث الحسن) পরিভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেন এবং ‘হাসান সহিহ’, ‘হাসান গরিব’ পরিভাষা ব্যবহার করে সনদের স্তরমূল্য স্পষ্ট করেন।
- ফিকহুল হাদিস ও মাজহাবের তুলনামূলক উপস্থাপন: প্রতিটি হাদিসের পর সাহাবা, তাবেয়ীন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনদের (ইমাম শাফেয়ী, আহমদ, মালেক, সুফিয়ান সাওরি প্রমুখ) ফিকহি অভিমত ও আমল সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
- ইলমুল ইলাল (علل الحديث)-এর বিকাশ: সনদের অভ্যন্তরীণ সূক্ষ্ম ত্রুটি-বিচ্যুতি শনাক্তকরণে তাঁর গ্রন্থ ‘আল-ইলালুস সগীর’ ও ‘আল-ইলালুল কাবীর’ হাদিস বিজ্ঞানের অমূল্য সম্পদ।
- শামায়েলে তিরমিজি রচনা: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শারীরিক গঠন, স্বভাবচরিত্র ও দৈনন্দিন জীবনাচরণের ওপর তাঁর রচিত ‘আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ’ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সীরাত গ্রন্থ।
৩. ‘জামে আত-তিরমিজি’ গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص الجامع للترمذي):
- হাদিসের মান নির্ধারণ (الحكم على الحديث): ইমাম তিরমিজি হাদিস উল্লেখ করার পরেই তার বিশুদ্ধতার স্তর (সহিহ, হাসান, দ্বয়িফ, গরিব) স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করে দেন, যা অন্য কোনো সিহাহ সিত্তাহর কিতাবে এত বিস্তারিত নেই।
- অধ্যায়ের প্রাসঙ্গিক অন্যান্য হাদিসের ইঙ্গিত (وفي الباب عن فلان): মূল হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যান্য যেসব সাহাবি থেকে রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে, তিনি «وفي الباب عن فلان وفلان» বলে সেগুলোর চমৎকার তালিকা দেন।
- আমলযোগ্যতা নিরূপণ: তৎকালীন ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে কোন কোন হাদিসের ওপর উম্মতের আমল জারি রয়েছে (وعليه العمل عند أهل العلم) তা উল্লেখ করেছেন।
- সার্বজনীন পাঠযোগ্যতা: এটি এমন একটি কিতাব যা মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং সাধারণ পাঠক—সবার জন্যই সমভাবে উপকারী। ইমাম তিরমিজি নিজেই বলেছেন: “যার ঘরে এই জামে তিরমিজি গ্রন্থটি থাকবে, মনে হবে তার ঘরে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ অবস্থান করছেন এবং কথা বলছেন।”
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ১ম বর্ষ দাওয়াহ বিভাগের ‘দিরাসাতুল হাদিসিন নাবাবি’ কোর্সের বিষয় কোড কত?
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের ‘দিরাসাতুল হাদিসিন নাবাবি’ (হাদিস অধ্যয়ন) বিষয়ের অফিশিয়াল বিষয় কোড হলো ২০৩১-০৩ (203103)।
২. এ কোর্সের পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানবণ্টন কেমন?
পরীক্ষার মোট লিখিত পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ‘ক’ বিভাগে ৮টি হাদিস থেকে যেকোনো ৫টি হাদিসের পূর্ণ অনুবাদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় (প্রতিটিতে ১৪ নম্বর করে ৫ × ১৪ = ৭০ নম্বর) এবং ‘খ’ বিভাগে মুহাদ্দিস ও কিতাব পরিচিতি থেকে ২টি প্রশ্ন থেকে ১টির উত্তর দিতে হয় (১০ নম্বর)।
৩. হাদিসের অনুবাদ অংশে ভালো নম্বর পাওয়ার মূল রহস্য কী?
হাদিসের মূল আরবি ইবারতের প্রতিটি শব্দের যথাযথ ও সাবলীল অনুবাদ করা, সনদের বিশিষ্ট সাহাবির নাম উল্লেখ করা এবং হাদিসের সঠিক কিতাব ও হাদিস নম্বর তথ্যসূত্র হিসেবে সংযোজন করলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়।
৪. «إنما الأعمال بالنيات» হাদিসটিকে ইসলামের কতভাগ জ্ঞান বলা হয়?
ইমাম শাফেয়ী, আহমদ ও আবু দাউদ (রহ.) সহ শীর্ষস্থানীয় ইমামগণ বলেছেন যে, এই হাদিসটি দ্বীনের এক-তৃতীয়াংশ (ثلث العلم) জ্ঞান; কেননা মানুষের আমল মূলত তিন মাধ্যমে সম্পন্ন হয়—অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যার মধ্যে নিয়তের সম্পর্ক সরাসরি অন্তরের সাথে।
৫. সহিহ মুসলিম ও জামে তিরমিজির মধ্যে সংকলন পদ্ধতির প্রধান পার্থক্য কী?
সহিহ মুসলিমে প্রতিটি হাদিসের সকল সনদ ও পাঠভেদ এক স্থানে চমৎকারভাবে বিন্যস্ত রয়েছে, অপরদিকে জামে তিরমিজিতে হাদিসের সনদ বর্ণনার পাশাপাশি হাদিসের নির্ভরযোগ্যতার মান (সহিহ, হাসান, জয়িফ) এবং ফুকাহায়ে কেরামের কর্মপদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
৬. স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে জাকাতের আধুনিক নেসাব কত?
শরিয়তের মানদণ্ড অনুযায়ী স্বর্ণের নেসাব হলো ২০ মিসকাল অর্থাৎ প্রায় ৭.৫ তোলা বা ৮৭.৪৮ গ্রাম এবং রৌপ্যের নেসাব ২০০ দিরহাম অর্থাৎ প্রায় ৫২.৫ তোলা বা ৬১২.৩৬ গ্রাম। এই পরিমাণ বা এর সমমূল্যের সম্পদ এক বছর সঞ্চিত থাকলে শতকরা ২.৫% জাকাত প্রদান করা ফরজ।

