অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি (Economics & Islamic Economics) – 203106, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 26, 2026
৬১ মিনিট পড়ার সময়
৪ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্রের কোড: ০২০
ফাজিল স্নাতক (অনার্স) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪
দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয় কোড: ২০৩১-০৬
(অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি)
সময় — ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান — ৮০
[দ্রষ্টব্য : প্রত্যেক বিভাগ থেকে চারটি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]


কোর্স ও পরীক্ষা পরিচিতি

বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (Islamic Arabic University – IAU)
ডিগ্রি ও বর্ষ ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ (Fazil BA Honours 1st Year)
বিভাগ দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ (Department of Dawah & Islamic Studies)
বিষয়ের নাম অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি (Economics & Islamic Economics)
বিষয় কোড ২০৩১-০৬ (203106)
পরীক্ষার সন ২০২৪ (অনুষ্ঠিত: ২০২৪/২০২৫)
সময় ও পূর্ণমান সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০ নম্বর
বিভাগীয় বিন্যাস ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন – ৪টি উত্তর দিতে হয়): ৪ × ১৫ = ৬০ নম্বর | খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন – ৪টি উত্তর দিতে হয়): ৪ × ৫ = ২০ নম্বর

ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্ন (মান — ১৫ × ৪ = ৬০)

১ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

১। ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও। ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর। (মান: ১৫)
[Define Islamic Economics. Discuss the characteristics of Islamic Economics.]


১ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. ইসলামি অর্থনীতির প্রামাণ্য সংজ্ঞা (Definition of Islamic Economics):

ইসলামি অর্থনীতি হলো এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ ও নৈতিক অর্থব্যবস্থা যা আল-কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের অপরিবর্তনীয় বিধানের আলোকে মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি সমাধান করে এবং ইহলৌকিক কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির পথ নির্দেশ করে।

  • ড. এম. নেজাতুল্লাহ সিদ্দিকী-র মতে: “Islamic economics is the Muslim thinkers’ response to the economic challenges of their times. In this endeavor they are aided by the Quran and the Sunnah, as well as by reason and experience.” (ইসলামি অর্থনীতি হলো মুসলিম মনীষীদের যুগের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রচেষ্টা, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং যুক্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকে পরিচালিত)।
  • ড. মুহাম্মদ ওমর চাপড়া-র মতে: “ইসলামি অর্থনীতি জ্ঞানের এমন একটি শাখা যা মানবিক কল্যাণ (ফালাহ) অর্জনে সহায়তা করে এমনভাবে সম্পদ বণ্টন ও ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেয় যাতে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।”
  • আল্লামা মানাফি-র মতে: ইসলামি অর্থনীতি হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনে হালাল-হারামের সীমারেখা মেনে মানবকল্যাণে বৈষয়িক সম্পদের সুষ্ঠু উৎপাদন, ন্যায়সঙ্গত বণ্টন ও পরিমিত ভোগের বিজ্ঞান।

২. ইসলামি অর্থনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (Characteristics of Islamic Economics):

  1. আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও মানুষের খিলাফত (Tawhid & Khilafah): ইসলামি অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো মহাবিশ্বের যাবতীয় সম্পদের প্রকৃত ও চূড়ান্ত মালিক আল্লাহ তাআলা (﴿لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾)। মানুষ এই সম্পদের নিরঙ্কুশ মালিক নয়, বরং পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি (খলিফা) এবং আমানতদার হিসেবে সম্পদ ভোগ ও পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
  2. হালাল ও হারামের সীমারেখা (Permissible & Prohibited Boundary): এতে ব্যক্তি যা ইচ্ছা তা উৎপাদন বা ভোগ করতে পারে না। মদ, জুয়া, সুদ, প্রতারণা, মজুতদারি ও অসামাজিক পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম)। শুধুমাত্র পবিত্র ও উপকারী দ্রব্য উৎপাদন ও বিনিময় বৈধ (হালাল)।
  3. সুদমুক্ত অর্থনৈতিক কাঠামো (Riba-free Financial System): সুদ হলো শোষণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মূল হাতিয়ার। ইসলাম সর্বপ্রকার সুদ (রিবা) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এর বিপরীতে লাভ-লোকসান ভাগাভাগি (PLS – Profit-Loss Sharing), মুদারাবা ও মুশারাকাভিত্তিক অংশীদারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।
  4. সম্পদের সুষম ও ন্যায়সঙ্গত বণ্টন (Equitable Wealth Distribution): ইসলামি অর্থব্যবস্থা সম্পদ কেবল ধনীদের হাতে পুঞ্জীভূত হতে দেয় না (﴿كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ﴾)। জাকাত, উশর, সদকা, ওয়াকফ এবং ফারায়েজের (উত্তরাধিকার আইন) মাধ্যমে সমাজে সম্পদের অবিরত পুনঃবণ্টন নিশ্চিত করে।
  5. মধ্যপন্থা ও অপচয়হীন ভোগ (Moderation & Elimination of Israf): ভোগ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম কৃপণতা এবং অপব্যয়—উভয় চরমপন্থা পরিহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে (সুরা ফুরকান: ৬৭)।
  6. সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবকল্যাণ (Social Safety Net): সমাজে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণ করা ইসলামি রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। বায়তুল মালের মাধ্যমে এ দায়িত্ব কার্যকর হয়।
  7. নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সমন্বয়: পুঁজিবাদ কেবল বস্তুগত মুনাফা খোঁজে এবং সমাজতন্ত্র ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য হরণ করে। পক্ষান্তরে ইসলাম অর্থনীতিকে মানুষের আখেরাতের জবাবদিহিতা ও তাকওয়ার সাথে সংযুক্ত করে এক অনুপম নৈতিক ভারসাম্য দান করেছে।

২ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

২। চাহিদা বলতে কী বুঝ? একটি কাল্পনিক চাহিদা সূচি হতে চাহিদা রেখা অঙ্কন কর। (মান: ১৫)
[What do you mean by demand? Draw a demand curve from an imaginary demand schedule.]


২ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. চাহিদার ধারণা ও সংজ্ঞা (Concept and Definition of Demand):

সাধারণ অর্থে কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে চাহিদা বলা হলেও অর্থনীতিতে শুধু ইচ্ছা থাকলেই তা চাহিদা বলে গণ্য হয় না। অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্যের কার্যকর চাহিদা (Effective Demand) হতে হলে তিনটি অপরিহার্য শর্ত পূরণ হতে হয়:

  1. কোনো নির্দিষ্ট দ্রব্য পাওয়ার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা।
  2. দ্রব্যটি ক্রয় করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য বা অর্থ।
  3. সেই অর্থ উক্ত দ্রব্যটি ক্রয়ের জন্য ব্যয় করার মানসিক ইচ্ছা।

সংজ্ঞা: অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দামে একজন ক্রেতা একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ ক্রয় করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে সেই দ্রব্যের চাহিদা বলে। অর্থনীতিবিদ বেনহামের মতে: “Demand for anything at a given price is the amount to which it will be bought per unit of time at that price.”

চাহিদা বিধি (Law of Demand): অন্যান্য অবস্থা (যেমন ক্রেতার আয়, রুচি, সম্পর্কিত দ্রব্যের দাম ইত্যাদি) অপরিবর্তিত থাকলে কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে তার চাহিদার পরিমাণ কমে এবং দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে। দাম ও চাহিদার এই বিপরীতমুখী সম্পর্ককেই চাহিদা বিধি বলে।

২. কাল্পনিক চাহিদা সূচি (Imaginary Demand Schedule):

একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য দামে একজন ভোক্তা একটি নির্দিষ্ট দ্রব্যের (যেমন আপেল) যে বিভিন্ন পরিমাণ ক্রয় করে, তা যখন তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, তাকে চাহিদা সূচি বলে:

প্রতি কেজি দ্রব্যের দাম (P) [টাকায়] চাহিদার পরিমাণ (Qd) [কেজিতে] প্রাপ্ত বিন্দু (Points)
১০ ৪০ A
২০ ৩০ B
৩০ ২০ C
৪০ ১০ D

৩. চাহিদা সূচি থেকে চাহিদা রেখা অঙ্কন ও ব্যাখ্যা (Demand Curve Derivation):

চাহিদা সূচির জ্যামিতিক প্রকাশই হলো চাহিদা রেখা। নিচে কাল্পনিক রেখাচিত্রের বিবরণ ও রেখা অঙ্কন পদ্ধতি দেওয়া হলো:

অক্ষের বিবরণ রেখাচিত্রের জ্যামিতিক বিশ্লেষণ
• ভূমি অক্ষ (OX): দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ (Qd)
• লম্ব অক্ষ (OY): দ্রব্যের দাম (P)
• DD’: অঙ্কিত চাহিদা রেখা
১. লম্ব অক্ষে দাম যখন ১০ টাকা, তখন ভূমি অক্ষে চাহিদার পরিমাণ ৪০ একক, যা A বিন্দু নির্দেশ করে।
২. দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২০ টাকা হলে চাহিদার পরিমাণ কমে ৩০ একক হয়, যা B বিন্দু নির্দেশ করে।
৩. দাম আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ টাকা ও ৪০ টাকা হলে চাহিদার পরিমাণ হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ২০ একক ও ১০ একক হয়, যা C ও D বিন্দু নির্দেশ করে।
৪. এখন প্রাপ্ত A, B, C এবং D বিন্দুগুলো যোগ করলে যে DD’ রেখাটি পাওয়া যায়, তাই হলো নিম্নগামী চাহিদা রেখা (Demand Curve)।

রেখার প্রকৃতি: চাহিদা রেখাটি বাম থেকে ডানে নিম্নগামী (Downwards from left to right)। এর কারণ হলো দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিদ্যমান ঋণাত্মক বা বিপরীতমুখী সম্পর্ক।


৩ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৩। পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলতে কী বুঝ? এ বাজারে পণ্যের দাম কীভাবে নির্ধারিত হয় তা ব্যাখ্যা কর। (মান: ১৫)
[What do you mean by perfect competitive market? Explain how price is determined in this type of market.]


৩ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য (Concept of Perfect Competition):

যে বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও অসংখ্য বিক্রেতা একটি সমজাতীয় (Homogeneous) দ্রব্য একটি নির্দিষ্ট দামে অবাধে ক্রয়-বিক্রয় করে এবং কোনো একক ক্রেতা বা বিক্রেতার পক্ষে বাজার দামকে প্রভাবিত করা সম্ভব হয় না, তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলা হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা: বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা এত বেশি যে একক কারও আচরণ দামের ওপর প্রভাব ফেলে না। বিক্রেতারা দাম গ্রহীতা (Price Taker), দাম নির্ধারক (Price Maker) নয়।
  • সমজাতীয় পণ্য: বাজারের প্রতিটি ফার্মের উৎপাদিত দ্রব্য গুণাগুণ, বর্ণ, আকৃতি ও প্যাকেজিংয়ে হুবহু একই রকম।
  • বাজারে অবাধ প্রবেশ ও প্রস্থান: যেকোনো ফার্মের শিল্পে প্রবেশের বা শিল্প ত্যাগ করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে।
  • বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান: ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই পণ্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দাম এবং মান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকে।
  • উপাদানের পূর্ণ গতিশীলতা: উৎপাদনের উপাদানসমূহ অবাধে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতে পারে।
  • পরিবহন ব্যয়ের অনুপস্থিতি: পরিবহন খরচ শূন্য ধরা হয়, ফলে সর্বত্র একই দাম বিরাজ করে।

২. পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া:

পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো একক ক্রেতা বা বিক্রেতা দাম নির্ধারণ করতে পারে না। বরং সমগ্র শিল্পের সামগ্রিক চাহিদা (Market Demand) এবং সামগ্রিক জোগান (Market Supply)-এর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে যে বিন্দুতে চাহিদা ও জোগান সমান হয়, সেই বিন্দুতে ভারসাম্য দাম (Equilibrium Price) এবং ভারসাম্য পরিমাণ (Equilibrium Quantity) নির্ধারিত হয়। মার্শাল একে কাঁচির দুই ব্লেডের সাথে তুলনা করেছেন।

প্রতি একক দাম (টাকায়) বাজার চাহিদা (একক) বাজার জোগান (একক) বাজারের অবস্থা (চাহিদা ও জোগানের সম্পর্ক) দামের ওপর প্রভাবের প্রবণতা
১০ ১০০ ২০ চাহিদা > জোগান (ঘাটতি) দাম বৃদ্ধির প্রবণতা
২০ ৮০ ৪০ চাহিদা > জোগান (ঘাটতি) দাম বৃদ্ধির প্রবণতা
৩০ ৬০ ৬০ চাহিদা = জোগান (ভারসাম্য অবস্থা) দাম স্থির থাকবে (ভারসাম্য দাম)
৪০ ৪০ ৮০ জোগান > চাহিদা (উদ্বৃত্ত) দাম হ্রাসের প্রবণতা
৫০ ২০ ১০০ জোগান > চাহিদা (উদ্বৃত্ত) দাম হ্রাসের প্রবণতা

ভারসাম্য দাম নির্ধারণের বিশ্লেষণ:

  • অতিরিক্ত চাহিদা অবস্থা (দাম ১০ ও ২০ টাকা): দাম যখন কম থাকে (যেমন ২০ টাকা), তখন ক্রেতাদের চাহিদা বেশি (৮০ একক) অথচ বিক্রেতাদের জোগান কম (৪০ একক)। ফলে বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয় এবং ক্রেতাদের প্রতিযোগিতায় দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।
  • অতিরিক্ত জোগান অবস্থা (দাম ৪০ ও ৫০ টাকা): দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ টাকা হলে বিক্রেতারা অধিক লাভে ১০০ একক জোগান দিতে চায়, কিন্তু উচ্চ মূল্যে চাহিদা কমে মাত্র ২০ একক হয়। ফলে বাজারে অবিক্রিত পণ্যের পাহাড় জমে এবং বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতায় দাম হ্রাস পেতে থাকে।
  • ভারসাম্য বিন্দু (দাম ৩০ টাকা): ৩০ টাকা দামে বাজার চাহিদা এবং বাজার জোগান উভয়ই ৬০ এককে পরস্পর সমান (D = S) হয়। এই দামেই বাজারে কোনো ঘাটতি বা উদ্বৃত্ত থাকে না। ফলে ৩০ টাকা হলো ভারসাম্য দাম (Pe) এবং ৬০ একক হলো ভারসাম্য পরিমাণ (Qe)। একবার এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে তা স্থিতিশীল থাকে।

৪ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৪। ইসলামি ব্যাংক কী? ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলি আলোচনা কর। (মান: ১৫)
[What is Islamic Bank? Discuss the functions of an Islamic Bank.]


৪ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. ইসলামি ব্যাংকের পরিচয় ও সংজ্ঞা (Concept of Islamic Bank):

ইসলামি ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান যা সমস্ত বাণিজ্যিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ বর্জন করে ইসলামি শরিয়াহর অনুশাসন এবং লাভ-লোকসান বণ্টন (Profit-Loss Sharing) নীতির ভিত্তিতে আমানত গ্রহণ, বিনিয়োগ পরিচালনা ও ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে।

ওআইসি (OIC)-এর সংজ্ঞার্থ অনুযায়ী: “An Islamic bank is a financial institution whose status, rules and procedures expressly state its commitment to the principles of Islamic Shariah and to the banning of the receipt and payment of interest on any of its operations.”

২. ইসলামি ব্যাংকের প্রধান কার্যাবলি (Functions of an Islamic Bank):

ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলিকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়:

ক. আমানত গ্রহণমূলক কার্যাবলি (Deposit Mobilization):

  • আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব (Al-Wadeeah Current Account): আমানতদারদের অর্থের শতভাগ নিরাপত্তা বিধান করে এই হিসাব পরিচালিত হয়। ব্যাংক গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ ব্যবহার করতে পারে কিন্তু কোনো মুনাফা বা ক্ষতি গ্রাহককে দেওয়া হয় না। চাহিবামাত্র অর্থ পরিশোধযোগ্য।
  • মুদারাবা সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাব (Mudaraba Savings & Term Deposits): এতে গ্রাহক হন ‘সাহিবুল মাল’ (পুঁজিদাতা) এবং ব্যাংক হয় ‘মুদারিব’ (ব্যবস্থাপক)। ব্যাংক এই অর্থ হালাল খাতে বিনিয়োগ করে অর্জিত নিট মুনাফার পূর্বনির্ধারিত অংশ (যেমন ৬৫:৩৫ বা ৭০:৩০) আমানতদারদের প্রদান করে।

খ. বিনিয়োগমূলক কার্যাবলি (Financing & Investment Modes):

  • মুশারাকা (Musharaka – অংশীদারি বিনিয়োগ): ব্যাংক ও উদ্যোক্তা উভয়ই যৌথভাবে পুঁজি বিনিয়োগ করে। মুনাফা পূর্বনির্ধারিত চুক্তিতে বণ্টন হয় এবং লোকসান হলে পুঁজির আনুপাতিক হারে বহন করতে হয়।
  • মুদারাবা (Mudaraba – শ্রম ও পুঁজির চুক্তি): ব্যাংক সম্পূর্ণ মূলধন সরবরাহ করে এবং দক্ষ উদ্যোক্তা ব্যবসা পরিচালনা করে।
  • মুরাবাহা (Murabaha – ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতি): গ্রাহকের চাহিদামতো নির্দিষ্ট পণ্য ব্যাংক নিজে ক্রয় করে তার সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ (Mark-up) যোগ করে গ্রাহকের কাছে বাকিতে বা কিস্তিতে বিক্রি করে।
  • বাই-মুয়াজ্জল (Bai-Muajjal): নির্ধারিত মূল্যে বাকিতে পণ্য বিক্রয়।
  • ইজারা বা ইজারা বিল বাই (Ijara / Hire Purchase): যন্ত্রপাতি, যানবাহন বা বাড়ি লিজ প্রদান এবং ভাড়ার বিনিময়ে মেয়াদান্তে মালিকানা হস্তান্তর।
  • বাই-সালাম ও ইস্তিসনা (Bai-Salam & Istisna): কৃষি ও শিল্পে অগ্রিম মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পণ্য সরবরাহের চুক্তি।

গ. সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যাবলি (Socio-Economic & Welfare Functions):

  • করযে হাসানা প্রদান: অসহায় ও দুস্থ উদ্যোক্তাদের কোনো প্রকার লাভ বা সুদ ছাড়া সম্পূর্ণ অনুদানমূলক ঋণ প্রদান।
  • জাকাত ও সদকা তহবিল ব্যবস্থাপনা: ব্যাংকের নিজস্ব আয়ের ওপর বাধ্যতামূলক জাকাত প্রদান এবং দাতাদের জাকাত ও দান সংগ্রহ করে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যয় করা।
  • ক্ষুদ্রঋণ ও পল্লী উন্নয়ন স্কিম (RDS): গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সুদমুক্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগ সরবরাহ করা।

ঘ. সাধারণ ব্যাংকিং সেবা: এলসি (Letter of Credit) খোলা, রেমিট্যান্স আনা-নেওয়া, পে-অর্ডার, এটিএম সেবা এবং সরকারি বিল পরিশোধসহ যাবতীয় আধুনিক সেবা শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে প্রদান করা। প্রতিটি ইসলামি ব্যাংকে একটি স্বাধীন শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি থাকে যা সমস্ত লেনদেনের বৈধতা তদারকি করে।


৫ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৫। যাকাত বলতে কী বুঝ? সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণে যাকাতের ভূমিকা আলোচনা কর। (মান: ১৫)
[What do you mean by Zakat? Discuss the role of zakat in eradication of poverty in society.]


৫ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. জাকাতের সংজ্ঞা ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা (Concept of Zakat):

আভিধানিক অর্থে জাকাত হলো—পবিত্রতা, পরিশুদ্ধি, ক্রমবৃদ্ধি ও বরকত।
শরিয়তের পরিভাষায়: কোনো মুসলমানের নিকট জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্রবছর স্থায়ী থাকলে তার নির্দিষ্ট একটি অংশ (সাধারণত ২.৫%) আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআনে বর্ণিত ৮টি খাতের কোনো সুনির্দিষ্ট হকদারের মালিকানায় নিঃশর্তভাবে অর্পণ করাকে জাকাত বলে। এটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ এবং ফরজে আইন।

২. সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাতের অনন্য ভূমিকা (Role of Zakat in Poverty Eradication):

  1. সম্পদের কেন্দ্রীভবন প্রতিরোধ ও পুনর্বণ্টন: পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় সম্পদ গুটিকয়েক ধনিক শ্রেণির হাতে পুঞ্জীভূত হয়। জাকাত ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ সংগ্রহ করে সরাসরি দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছে দিয়ে সমাজে ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক সমতা স্থাপন করে।
  2. ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামগ্রিক চাহিদা সৃষ্টি: দরিদ্র মানুষের প্রান্তিক ভোগ প্রবণতা (Marginal Propensity to Consume – MPC) ধনীদের চেয়ে বেশি। জাকাতের অর্থ দরিদ্রদের হাতে এলে সমাজে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে, যা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে বহুমুখী গতিশীল করে।
  3. স্থায়ী পুনর্বাসন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি: আধুনিক ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, জাকাত কেবল সাময়িক ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয়, বরং দরিদ্র ব্যক্তিদের রিকশা, সেলাই মেশিন, ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি বা কৃষি উপকরণ কিনে দিয়ে তাদেরকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করা জাকাতের মূল লক্ষ্য। এভাবে একজন ব্যক্তি পরবর্তী বছরগুলোতে গ্রহীতা থেকে দাতার কাতারে উন্নীত হয়।
  4. ঋণগ্রস্তদের মুক্তি (আল-গারিমীন): সুদের যাঁতাকলে পিষ্ট বা ব্যবসায়িক লোকসানে নিঃস্ব হওয়া অসহায় ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঋণমুক্ত করার জন্য জাকাতের একটি স্বতন্ত্র খাত বরাদ্দ রয়েছে, যা মানুষকে দেউলিয়া ও চরম দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করে।
  5. সামাজিক ভিক্ষাবৃত্তি ও অপরাধ নির্মূল: ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের তাড়নায় মানুষ চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অসামাজিক অপরাধে লিপ্ত হয়। জাকাতের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিটি নাগরিকের অন্ন-বস্ত্র নিশ্চিত করা হলে সমাজে ভিক্ষাবৃত্তি ও অপরাধের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
  6. ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত: ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব এবং খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের খেলাফতকালে জাকাতের সুষ্ঠু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ফলে সমগ্র মুসলিম সাম্রাজ্যে জাকাত গ্রহণ করার মতো একজন দরিদ্র মানুষও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৬ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৬। মুদারাবা বলতে কী বুঝ? মুদারাবার শর্ত ও বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর। (মান: ১৫)
[What is Mudaraba? Discuss the conditions and the characteristics of Mudaraba.]


৬ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. মুদারাবার পরিচয় ও সংজ্ঞা (Definition of Mudaraba):

‘মুদারাবা’ (المضاربة) ইসলামি অর্থব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশীদারি বিনিয়োগ চুক্তি। শব্দটির উৎপত্তি ‘দরবুন ফিল আরদ’ (الضرب في الأرض – জীবিকা অন্বেষণে জমিনে পরিভ্রমণ করা) থেকে।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: এটি মূলত এক পক্ষের পুঁজি এবং অপর পক্ষের মেধা ও শ্রম-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বাণিজ্যিক অংশীদারি চুক্তি। এতে পুঁজিদাতাকে বলা হয় ‘সাহিবুল মাল’ (صاحب المال / Capital Provider) বা রব্বুল মাল এবং শ্রম ও দক্ষতাদাতাকে বলা হয় ‘মুদারিব’ (المضارب / Managing Entrepreneur)। ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফা তাদের মধ্যে পূর্বে চুক্তিবদ্ধ আনুপাতিক হারে (যেমন ৫০:৫০ বা ৬০:৪০) বণ্টিত হয়; তবে লোকসান হলে সম্পূর্ণ আর্থিক লোকসান পুঁজিদাতা বহন করে এবং মুদারিব তার শ্রমের কোনো পারিশ্রমিক পায় না (যদি না মুদারিবের কোনো অবহেলা বা বিশ্বাসভঙ্গ প্রমাণিত হয়)।

২. মুদারাবার অপরিহার্য শর্তাবলী (Conditions of Mudaraba):

  • উভয় পক্ষের যোগ্যতা: উভয় পক্ষকে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক এবং চুক্তি করার বৈধ ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে।
  • মূলধনের স্পষ্টতা: মূলধন সুনির্দিষ্ট, নগদ ও প্রচলিত মুদ্রায় হতে হবে এবং তা মুদারিবের হাতে ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ অর্পণ করতে হবে। কোনো বকেয়া ঋণকে মুদারাবার মূলধন বানানো যায় না।
  • মুনাফার অনুপাত নির্ধারণ: মুনাফা বণ্টনের হার শতকরা বা ভগ্নাংশের আনুপাতিক হারে (যেমন ৬০:৪০) সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো পক্ষের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (Fixed Amount, যেমন প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা) নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও হারাম।
  • ব্যবসার স্বাধীনতা ও হালাল খাত: ব্যবসাটি ইসলামি শরিয়াহ সম্মত হালাল পণ্যের হতে হবে।
  • লোকসান বহনের নিয়ম: আর্থিক লোকসান সম্পূর্ণভাবে মূলধন থেকেই কর্তন করা হবে। মুদারিবের ওপর আর্থিক লোকসান চাপানো যাবে না।

৩. মুদারাবার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (Characteristics of Mudaraba):

  1. শ্রম ও পুঁজির ন্যায়সঙ্গত মিলন: সমাজে অনেকের বিপুল অর্থ থাকলেও ব্যবসা করার দক্ষতা বা সময় থাকে না। আবার বহু কর্মঠ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির মেধা থাকা সত্ত্বেও পুঁজির অভাবে কিছু করতে পারে না। মুদারাবা এ দুই শ্রেণির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করে।
  2. আমানতদারি ও বিশ্বস্ততা: মুদারিব ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে একজন ‘আমিন’ বা আমানতদার। তার দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সাথে সৎভাবে কাজ করা।
  3. সুদের বিকল্প শোষণহীন চুক্তি: সুদি ঋণে ঋণগ্রহীতার লাভ হোক বা লোকসান হোক, মূলসহ অতিরিক্ত সুদ বাধ্যতামূলক দিতে হয়। মুদারাবায় লাভ হলেই কেবল ভাগ হয়, অন্যথায় নয়। ফলে উদ্যোক্তা জুলুমের শিকার হয় না।
  4. মুদারাবার প্রকারভেদ: মুদারাবা প্রধানত দুই প্রকার:
    • মুদারাবা মুতলাক্বাহ (অবারিত/Unrestricted): যেখানে পুঁজিদাতা ব্যবসার স্থান বা পণ্যের কোনো শর্ত জুড়ে দেয় না, মুদারিব যেকোনো বৈধ ব্যবসা করতে স্বাধীন।
    • মুদারাবা মুকাইয়্যাদাহ (সীমাবদ্ধ/Restricted): যেখানে নির্দিষ্ট ব্যবসা, পণ্য বা এলাকার শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (মান — ৫ × ৪ = ২০)

৭ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৭। অর্থের কার্যাবলি আলোচনা কর। (মান: ৫)
[Discuss the functions of money.]


৭ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

অর্থনীতিবিদ ওয়াকারের মতে: “Money is what money does” (অর্থ যা করে তাই অর্থ)। আধুনিক অর্থনীতিতে অর্থের কার্যাবলিকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়:

  1. বিনিময়ের মাধ্যম (Medium of Exchange): অর্থ সর্বজনগ্রাহ্য বিনিময় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে দ্রব্য বিনিময় প্রথার (Barter System) দ্রব্যের দ্বিমুখী অভাবের অসঙ্গতি দূর করেছে। অর্থের সাহায্যে যেকোনো পণ্য ও সেবা সহজে কেনাবেচা করা যায়।
  2. মূল্যের পরিমাপক (Measure of Value): সব ধরনের দ্রব্য ও সেবার মূল্য কত তা অর্থের একক (যেমন টাকা, ডলার) দ্বারা সঠিকভাবে হিসাব ও নিরূপণ করা যায়।
  3. স্থগিত লেনদেনের মান (Standard of Deferred Payments): বর্তমান অর্থনীতি ঋণনির্ভর। ভবিষ্যৎ দেনা-পাওনা, ঋণের আসল ও সুদ বা মুনাফা এবং কিস্তি পরিশোধের জন্য অর্থই একমাত্র গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড।
  4. মূল্যের সঞ্চয়ভাণ্ডার (Store of Value): পচনশীল দ্রব্য সঞ্চয় করা সম্ভব না হলেও অর্থ দীর্ঘকাল নিরাপদে সঞ্চয় করে রাখা যায় এবং এর ক্রয়ক্ষমতা ভবিষ্যতে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা যায়।

৮ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৮। যাকাতের নিসাব আলোচনা কর। (মান: ৫)
[Discuss the Nisab of zakat.]


৮ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

নেসাব (النصاب)-এর অর্থ: যে ন্যূনতম পরিমাণ সম্পদ ব্যক্তির মালিকানায় থাকলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়, তাকে জাকাতের নেসাব বলে।

বিভিন্ন সম্পদের নেসাব ও জাকাতের হার:

  • স্বর্ণ: সাড়ে সাত তোলা বা ৭.৫ ভরি (প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম)। স্বর্ণ থাকলে শতকরা ২.৫% জাকাত দিতে হয়।
  • রৌপ্য: সাড়ে বায়ান্ন তোলা বা ৫২.৫ ভরি (প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম)। এর শতকরা ২.৫% জাকাত প্রযোজ্য।
  • নগদ অর্থ ও ব্যবসায়ী পণ্য: ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য অথবা সঞ্চিত নগদ টাকা যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের বর্তমান বাজারমূল্যের সমপরিমাণ বা তার বেশি হয় এবং এক বছর স্থায়ী থাকে, তবে মোট মূল্যের ২.৫% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) জাকাত দেওয়া ফরজ।
  • কৃষিজাত ফসল (উশর): প্রাকৃতিক বৃষ্টিতে সেচপ্রাপ্ত ফসলে ১০ ভাগের ১ ভাগ (১০%) এবং কৃত্রিম সেচের ফসলে ২০ ভাগের ১ ভাগ (৫%) ফসল জাকাত (উশর) হিসেবে প্রদান করতে হয়।
  • গবাদি পশু: প্রতি ৫টি উটের জন্য ১টি বকরি, প্রতি ৩০টি গরুর জন্য ১ বছর বয়সী ১টি বাছুর এবং প্রতি ৪০টি ছাগলের জন্য ১টি ছাগল জাকাত প্রযোজ্য।

৯ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

৯। ইসলামে শ্রমনীতির ব্যাখ্যা কর। (মান: ৫)
[Explain the labour policy in Islam.]


৯ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

ইসলাম শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ শিখরে স্থান দিয়েছে। পুঁজিপতি ও শ্রমিকের দ্বন্দ্ব নিরসনে ইসলাম এক ভারসাম্যপূর্ণ শ্রমনীতি উপহার দিয়েছে:

  • শ্রমের পবিত্রতা ও সম্মান: ইসলামে কায়িক শ্রমকে ছোট করে দেখা হয় না। নবীজি ﷺ ইরশাদ করেছেন: «مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ» (নিজের হাতের উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো গ্রহণ করেনি – সহিহ বুখারি)।
  • ঘাম শুকানোর পূর্বেই মজুরি পরিশোধ: রাসুলুল্লাহ ﷺ শ্রমিকের পারিশ্রমিক দ্রুত আদায়ের তাগিদ দিয়ে বলেছেন: «أَعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ» (শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার মজুরি পরিশোধ করে দাও – সুনানে ইবনে মাজাহ)।
  • ন্যায্য মজুরি ও যৌথ ভ্রাতৃত্ব: মালিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সে নিজে যা খায় ও পরিধান করে, শ্রমিককেও অনুরূপ মর্যাদা দিতে হবে; কারণ তারা ভাই ভাই।
  • সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ না চাপানো: আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا﴾। কোনো শ্রমিকের ওপর তার শারীরিক শক্তির অতিরিক্ত ভারী কাজ চাপানো নিষেধ, আর অতিরিক্ত কাজ করালে মালিককে তাকে সহায়তা করতে বা অতিরিক্ত ভাতা দিতে হবে।

১০ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

১০। রাজস্ব নীতি ও আর্থিক নীতি বলতে কী বুঝায়? (মান: ৫)
[What is meant by fiscal policy and monetary policy.]


১০ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

তুলনার বিষয় রাজস্ব নীতি (Fiscal Policy) আর্থিক নীতি (Monetary Policy)
সংজ্ঞা দেশের সরকার তার আয় (ট্যাক্স/কর সংগ্রহ) ও সরকারি ব্যয় সংক্রান্ত যে নীতি পরিচালনা করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করে, তাকে রাজস্ব নীতি বলে। একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক) দেশের সামগ্রিক মুদ্রা সরবরাহ ও ঋণের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য যে নীতি গ্রহণ করে, তাকে আর্থিক নীতি বলে।
নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ জাতীয় সরকার এবং অর্থ মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রধান হাতিয়ারসমূহ • প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার পরিবর্তন
• সরকারি উন্নয়ন ব্যয়
• অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ
• ভর্তুকি প্রদান
• ব্যাংক হার (Bank Rate)
• খোলাবাজার কার্যক্রম (OMO)
• জমার অনুপাত (CRR/SLR)
• সুদের হার বা নীতি সুদহার (Repo Rate)
মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রার বিনিময় হার ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা।

১১ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

১১। বিমা ও জুয়ার মধ্যে পার্থক্য দেখাও। (মান: ৫)
[Differentiate between insurance and wagery.]


১১ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

প্রচলিত বিমা এবং জুয়া (Wager/Gambling)-এর মধ্যে দৃশ্যত কিছু ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মিল থাকলেও তাদের আইনি ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে প্রচলিত জীবন বিমায় জুয়া ও সুদের উপাদান থাকায় ইসলাম এর বিকল্প হিসেবে ‘তাকাফুল’ (ইসলামি সমবায় বিমা) প্রবর্তন করেছে। নিচে পার্থক্য দেখানো হলো:

পার্থক্যসূচক ক্ষেত্র বিমা (Insurance) জুয়া বা বাজি ধরা (Wagery / Gambling)
সংজ্ঞা ও প্রকৃতি বিমা হলো একটি বৈধ অর্থনৈতিক চুক্তি যার মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সম্ভাব্য ঝুঁকি বহু অংশগ্রহণকারীর মধ্যে বণ্টন করা হয়। জুয়া হলো এমন একটি অর্থহীন খেলা বা বাজি যেখানে একজন কৃত্রিমভাবে ঝুঁকি তৈরি করে অন্যের ক্ষতি করে নিজে লাভবান হতে চায়।
বিমাযোগ্য স্বার্থ (Insurable Interest) বিমাকারীর জীবন বা সম্পত্তিতে আর্থিক ও রক্তের বৈধ স্বার্থ থাকা বাধ্যতামূলক। সম্পত্তি বিনষ্ট হলে গ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জুয়াড়ির কোনো আইনগত স্বার্থ থাকে না; ঘটনা ঘটা বা না ঘটার ওপর কেবল অর্থ জয়ের লোভ থাকে।
ক্ষতিপূরণের নীতি (Indemnity) সাধারণ বিমা শুধু প্রকৃত ক্ষতির সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়, কাউকে অতিরিক্ত ধনী বানানোর জন্য নয়। জুয়া কোনো ক্ষতিপূরণ নয়, বরং এক পক্ষ সম্পূর্ণ হারায় এবং অপর পক্ষ বিনা পরিশ্রমে তা আত্মসাৎ করে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকা বাণিজ্য ও শিল্পে অনিশ্চয়তা দূর করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিরাপত্তা জোগায়। জুয়া সমাজে শত্রুতা, হিংসা, পারিবারিক বিপর্যয় ও নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে। ইসলামে জুয়া (মায়সির) সম্পূর্ণ হারাম (সুরা মায়িদা: ৯০)।
ইসলামি বিকল্প তাবাররু (দান) ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ইসলামি বিমা বা ‘তাকাফুল’ বৈধ। জুয়ার কোনো রূপই ইসলামে বৈধ নয়।

১২ নম্বর প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর

১২। ইসলামের ভূমিনীতি লিখ। (মান: ৫)
[Write land policy of Islam.]


১২ নম্বর প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান

ইসলামে ভূমির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য হলো ভূমির সর্বোচ্চ উৎপাদনশীল ব্যবহার এবং অনাবাদি জমি ফেলে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা। ইসলামের প্রধান ভূমিনীতিসমূহ নিম্নরূপ:

  1. অনাবাদী জমি আবাদকারীর মালিকানা লাভ: রাসুলুল্লাহ ﷺ ঐতিহাসিক এক বিধান ঘোষণা করে বলেন: «مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ» (যে ব্যক্তি কোনো অনাবাদী অনাবৃত পতিত জমি আবাদ করবে, সে জমি তার মালিকানাধীন হবে – সুনানে আবু দাউদ)। এটি জমিকে চাষযোগ্য করার বিশাল প্রণোদনা।
  2. জমি অনাবাদি ফেলে রাখা নিষেধ: ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.) বিধান জারি করেছিলেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো জমির মালিকানা লাভের পর টানা তিন বছর তা অনাবাদি বা পতিত ফেলে রাখে, তবে রাষ্ট্র তার থেকে সেই জমি বাজেয়াপ্ত করে অন্য কোনো কর্মঠ কৃষককে প্রদান করবে।
  3. ভূমি বণ্টন ও বর্গাচাষ (মুযারাআ): জমি নিজে চাষ করা উত্তম, তবে ফসল ভাগাভাগির শর্তে বর্গাচাষ (মুযারাআ) বৈধ। কিন্তু জমিদারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসল একতরফাভাবে দাবি করা নিষেধ; বরং উৎপাদিত ফসলের আনুপাতিক অংশীদার হতে হয়।
  4. ভূমির ওপর রাষ্ট্রীয় কর (উশর ও খারাজ): মুসলিম মালিকানাধীন কৃষি জমির উৎপাদনের ওপর ৫% বা ১০% ‘উশর’ এবং অমুসলিমদের জমিতে রাষ্ট্রীয় খাজনা ‘খারাজ’ ধার্য করা হয়, যা বায়তুল মালের প্রধান উৎস।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ১ম বর্ষ দাওয়াহ বিভাগের ‘অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি’ কোর্সের বিষয় কোড কত?

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি কোর্সের অফিশিয়াল বিষয় কোড হলো ২০৩১-০৬ (203106)।

২. এ পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় কত?

পরীক্ষার মোট পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং নির্ধারিত সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন – ৪টি উত্তর দিতে হয়, মান: ৪ × ১৫ = ৬০ নম্বর) এবং খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন – ৪টি উত্তর দিতে হয়, মান: ৪ × ৫ = ২০ নম্বর)।

৩. ইসলামি অর্থনীতির সাথে পুঁজিবাদী অর্থনীতির মূল পার্থক্য কী?

পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা নিরঙ্কুশ ব্যক্তিমালিকানা, সুদের লেনদেন এবং সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের ওপর প্রতিষ্ঠিত; পক্ষান্তরে ইসলামি অর্থনীতি আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, হালাল-হারামের সীমারেখা, সুদের সম্পূর্ণ বর্জন এবং জাকাতভিত্তিক ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

৪. পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভারসাম্য দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়?

পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্যের দাম কোনো একক ক্রেতা বা বিক্রেতা নির্ধারণ করে না; বরং সমগ্র বাজারের সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক জোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে যে বিন্দুতে চাহিদা ও জোগান সমান হয়, সেখানে ভারসাম্য দাম প্রতিষ্ঠিত হয়।

৫. মুদারাবা চুক্তিতে লোকসান হলে কে বহন করে?

মুদারাবা চুক্তিতে কোনো আর্থিক লোকসান হলে তা সম্পূর্ণভাবে মূলধন জোগানদাতা (সাহিবুল মাল) বহন করে। উদ্যোক্তা বা মুদারিব কোনো আর্থিক দায় বহন করে না, তবে সে তার শ্রমের কোনো পারিশ্রমিক পায় না।

৬. ইসলামি শ্রমনীতির সবচেয়ে বিখ্যাত মূলনীতি কোনটি?

ইসলামি শ্রমনীতির সর্বাধিক বিখ্যাত মানবিক মূলনীতি হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সেই বাণী: “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার ন্যায্য মজুরি পরিশোধ করে দাও।”