পরীক্ষা কোড: ২০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ০০৬
ফাজিল স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০
আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি
বিষয় কোড: ২০১১০৬
সময় — ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান — ৮০
[দ্রষ্টব্য : ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। প্রত্যেক বিভাগ থেকে চারটি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]
ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্ন
মান — ১৫ × ৪ = ৬০
১। ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও। ইসলামি অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর। (মান: ৫ + ১০ = ১৫)
[Define Islamic Economics. Discuss the characteristics of Islamic Economics.]
১. ইসলামি অর্থনীতির প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
ইসলামি অর্থনীতি হলো জ্ঞানের এমন এক সুসমন্বিত শাখা, যা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নির্দেশনার আলোকে মানবজাতির বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণ, অর্থনৈতিক সম্পদের ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন, শোষণমুক্ত উৎপাদন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি (ফালাহ) অর্জনের সার্বিক অর্থনৈতিক আচরণ বিশ্লেষণ করে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদগণের সংজ্ঞা:
- ড. এম এ মান্নান (Dr. M. A. Mannan): “Islamic economics is a social science which studies the economic problems of a people imbued with the values of Islam.” অর্থাৎ, ইসলামি অর্থনীতি হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা ইসলামের মূল্যবোধে উজ্জীবিত মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি পর্যালোচনা করে।
- অধ্যাপক খুরশীদ আহমদ (Prof. Khurshid Ahmad): “Islamic economics is a systematic study of the problem of human choices and allocation of resources within the framework of Islamic values.” অর্থাৎ, ইসলামি মূল্যবোধের কাঠামোর মধ্যে মানবীয় পছন্দ এবং সম্পদের বরাদ্দের নিয়মতান্ত্রিক সমীক্ষাই হলো ইসলামি অর্থনীতি।
- আল্লামা বাকির আস-সদর (Baqir al-Sadr): ইসলামি অর্থনীতি কোনো নিছক বস্তুগত বিজ্ঞান নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক বিধান যা মানুষের অর্থনৈতিক জীবনকে ন্যায়পরায়ণতা ও শরিয়াহর অনুশাসনে পরিচালিত করে।
২. ইসলামি অর্থনীতির অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ঐশী উৎস ও তাওহিদভিত্তিক দর্শন: ইসলামি অর্থনীতির মূল ভিত্তি পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ। এর কেন্দ্রীয় দর্শন হলো ‘তাওহিদ’ (আল্লাহর একত্ববাদ)। এতে বিশ্বাস করা হয় যে, নিখিল মহাবিশ্বের সমস্ত আকাশমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের যাবতীয় সম্পদের প্রকৃত ও একচ্ছত্র মালিক মহান আল্লাহ (সূরা আল-মায়েদাহ: ১২০)। মানুষ কেবল আল্লাহর প্রতিনিধি (খলিফা) এবং এই সম্পদের আমানতদার হিসেবে শরিয়াহসম্মত পন্থায় তা ভোগ ও ব্যবহার করতে পারে।
- ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির সমন্বয় (ফালাহ): ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে কেবল ব্যক্তিস্বার্থ ও মুনাফা সর্বোচ্চকরণ এবং সমাজতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণই মুখ্য। কিন্তু ইসলামি অর্থনীতিতে ইহলৌকিক বৈষয়িক সমৃদ্ধির (রুজী-রোজগার) সাথে সাথে পরকালীন জবাবদিহিতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
- সুদবিহীন অর্থব্যবস্থা (রিবামুক্ত লেনদেন): সুদের যাবতীয় রূপ (রিবা আন-নাসিয়া ও রিবা আল-ফজল) ইসলামে কঠোরভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে হারাম ঘোষিত হয়েছে (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)। ইসলামে সুদের শোষণমূলক ব্যবস্থার বিপরীতে লাভ-লোকসান অংশীদারি (Profit-Loss Sharing – PLS) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।
- হালাল ও হারামের সুস্পষ্ট সীমারেখা: ইসলামে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অবাধ নয়। মাদক, মদ, জুয়া, প্রতারণা, চোরাচালান, মজুতদারি, বেশ্যাবৃত্তি ও ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম)। বিপরীতে পবিত্র ও উপকারী পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবসা উৎসাহিত ও ফরজ (হালাল)।
- সম্পদের সুষম বণ্টন ও ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার: ইসলামে ব্যক্তিগত মালিকানাকে স্বীকার করা হয়েছে, তবে তা শর্তহীন বা স্বেচ্ছাচারী নয়। সম্পদ যেন কেবল সমাজের ধনী ও পুঁজিপতিদের মধ্যেই আবর্তিত না হয় (সূরা আল-হাশর: ৭), সেজন্য যাকাত, উশর, সদকা, ওয়াকফ এবং ফারায়েজের (উত্তরাধিকার আইন) মাধ্যমে সম্পদের ব্যাপক পুনর্বণ্টন নিশ্চিত করা হয়েছে।
- নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের প্রাধান্য: দয়া, পরোপকার (ইহসান), ইনসাফ, বিশ্বস্ততা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ইসলামি অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে দুর্বল, অনাথ, মিসকিন ও অভাবগ্রস্তদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
- মধ্যপন্থা অবলম্বন (অপচয় ও কৃপণতার বর্জন): ইসলামি ভোক্তা চরম ভোগবাদ কিংবা অর্থহীন কৃপণতা—কোনোটিই সমর্থন করে না। পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: “আর যারা অপব্যয়ও করে না, আবার কার্পণ্যও করে না; বরং তারা এই দুইয়ের মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ পথে চলে।” (সূরা আল-ফুরকান: ৬৭)।
২। চাহিদাসূচি ও চাহিদা রেখার পার্থক্য নির্ণয় কর। একটি কাল্পনিক চাহিদাসূচি থেকে চাহিদা রেখা অঙ্কন কর। (মান: ৫ + ১০ = ১৫)
[Distinguish between demand schedule and demand curve. Draw a demand curve from an imaginary demand schedule.]
১. চাহিদাসূচি ও চাহিদা রেখার তুলনামূলক পার্থক্য:
| পার্থক্যের বিষয় | চাহিদাসূচি (Demand Schedule) | চাহিদা রেখা (Demand Curve) |
|---|---|---|
| ১. সংজ্ঞা | অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে বিভিন্ন দামে ক্রেতা একটি দ্রব্যের যে বিভিন্ন পরিমাণ ক্রয় করতে প্রস্তুত থাকে, তা যখন সারণি বা তালিকার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তাকে চাহিদাসূচি বলে। | চাহিদাসূচির তথ্যাবলিকে যখন দ্বিমাত্রিক জ্যামিতিক চিত্রের মাধ্যমে রেখাকারে উপস্থাপন করা হয়, তাকে চাহিদা রেখা বলে। |
| ২. প্রকাশের রূপ | এটি মূলত গাণিতিক বা সংখ্যাসূচক সারণির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। | এটি চিত্রভিত্তিক বা জ্যামিতিক রেখাচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। |
| ৩. অক্ষের ব্যবহার | এতে কোনো কার্তেসীয় অক্ষ (X-অক্ষ বা Y-অক্ষ)-এর প্রয়োজন হয় না। | এতে লম্ব অক্ষ (Y-অক্ষ)-এ দাম এবং ভূমি অক্ষ (X-অক্ষ)-এ চাহিদার পরিমাণ দেখানো হয়। |
| ৪. সম্পর্কের সুস্পষ্টতা | দাম ও চাহিদার পরিমাণের সুনির্দিষ্ট সংখ্যাগত মান সরাসরি দেখা যায়। | দাম ও চাহিদার মধ্যকার বিপরীতমুখী সম্পর্কের ঢাল (Slope) দৃশ্যত প্রতিফলিত হয়। |
| ৫. নির্ভরশীলতা | চাহিদাসূচি হলো প্রাথমিক তথ্য কাঠামো যা চাহিদা রেখা অঙ্কনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। | চাহিদা রেখা সম্পূর্ণভাবে চাহিদাসূচির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অঙ্কন করতে হয়। |
২. কাল্পনিক চাহিদাসূচি (Hypothetical Demand Schedule):
ধরি, বাজারে একটি নির্দিষ্ট পণ্য (যেমন: আপেল)-এর বিভিন্ন দামে একজন ক্রেতার চাহিদার পরিমাণ নিম্নরূপ:
| প্রতি কেজি আপেলের দাম (টাকায়) [P] | চাহিদার পরিমাণ (কেজিতে) [Qd] | সংমিশ্রণ বিন্দু |
|---|---|---|
| ১০০ | ১০ | A |
| ৮০ | ২০ | B |
| ৬০ | ৩০ | C |
| ৪০ | ৪০ | D |
| ২০ | ৫০ | E |
৩. চাহিদা রেখা অঙ্কন ও ব্যাখ্যা (Demand Curve):
দাম (টাকা) [Y-অক্ষ] ^ | ১০০|----A | | ৮০|--------B | | ৬০|------------C | | ৪০|----------------D | | ২০|--------------------E | | \ DD (চাহিদা রেখা) +----+----+----+----+----+-------------------> চাহিদার পরিমাণ (কেজি) [X-অক্ষ] ০ ১০ ২০ ৩০ ৪০ ৫০
চিত্রের বিশদ বিবরণ:
১. চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX) চাহিদার পরিমাণ (কেজিতে) এবং লম্ব অক্ষে (OY) দ্রব্যের দাম (টাকায়) নির্দেশ করা হয়েছে।
২. যখন প্রতি কেজি আপেলের দাম ১০০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ১০ কেজি; এই দুইয়ের সংমিশ্রণ নির্দেশক বিন্দু A।
৩. দাম হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ৮০, ৬০, ৪০ এবং ২০ টাকা হলে চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২০, ৩০, ৪০ এবং ৫০ কেজি হয়। এই সংমিশ্রণ নির্দেশক বিন্দুগুলো হলো যথাক্রমে B, C, D এবং E।
৪. এখন A, B, C, D এবং E বিন্দুগুলো পরস্পর যোগ করে যে DD রেখাটি পাওয়া যায়, তাই হলো উদ্দিষ্ট চাহিদা রেখা।
৫. চাহিদা রেখাটি বাম দিক থেকে ডান দিকে নিম্নগামী হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে দ্রব্যের দাম এবং চাহিদার পরিমাণের মধ্যে একটি বিপরীতমুখী (Inverse) সম্পর্ক বিদ্যমান, যা অর্থনীতিতে চাহিদা বিধি (Law of Demand) নামে পরিচিত।
৩। ভোগ বলতে কী বুঝ? ভোগ সম্পর্কে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা কর। (মান: ৫ + ১০ = ১৫)
[What do you mean by consumption? Discuss the views of Islamic Economics regarding consumption.]
১. ভোগের সংজ্ঞা (Concept of Consumption):
সাধারণ অর্থে কোনো বস্তু ব্যবহার করে নিঃশেষ করে ফেলাকে ভোগ বলে। কিন্তু অর্থনীতিতে মানুষ কোনো বস্তুকে সৃষ্টি বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারে না। অর্থনীতিতে ভোগ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ তার কোনো বিশেষ অভাব মোচনের উদ্দেশ্যে কোনো দ্রব্য বা সেবার উপযোগ (Utility) নিঃশেষ বা ব্যবহার করে।
* অধ্যাপক মার্শাল (Alfred Marshall): ভোগ হলো উপযোগের ধ্বংসসাধন যা মানুষের অভাব পূরণের জন্য পরিচালিত হয়।
* অর্থনীতিবিদদের মতে, উপযোগবিহীন কোনো বস্তুর ধ্বংসসাধনকে ভোগ বলা যায় না; অভাব পূরণের সন্তুষ্টি লাভই ভোগের মূল উদ্দেশ্য।
২. ভোগ সম্পর্কে ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি:
পাশ্চাত্য অর্থনীতিতে ভোগকে দেখা হয় চরম উপযোগ সর্বোচ্চকরণ (Utility Maximization) এবং অসীম কামনাবাসনা চরিতার্থ করার মাধ্যম হিসেবে। সেখানে একজন ভোক্তা সার্বভৌম (Consumer Sovereign)। কিন্তু ইসলামি অর্থনীতিতে ভোগের ধারণা নৈতিক অনুশাসন, আত্মসংযম এবং শরিয়াহর কাঠামোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
- তাইয়্যেবাত ও হালাল দ্রব্যের ভোগ: ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী একজন মুসলিম কেবল হালাল (বৈধ) এবং ‘তাইয়্যেব’ (পবিত্র, স্বাস্থ্যসম্মত ও কল্যাণকর) দ্রব্যই ভোগ করতে পারে। ক্ষতিকর, অপবিত্র ও নিষিদ্ধ বস্তু (যেমন: মদ, শূকরের মাংস, বিষাক্ত দ্রব্য, সুদ) কোনোক্রমেই ভোগের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন: “হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার কর।” (সূরা আল-বাকারা: ১৬৮)।
- অপচয় ও অপব্যয় বর্জন (ইসরাফ ও তাবযীর নিষিদ্ধ): ভোগে চরম অপব্যয়কে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে: “তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।” (সূরা আল-আরাফ: ৩১)। অন্যত্র অপব্যয়কারীদের ‘শয়তানের ভাই’ আখ্যায়িত করা হয়েছে (সূরা বনি ইসরাঈল: ২৭)।
- কার্পণ্য ও কঞ্জুসি পরিহার: ইসলাম যেমন অপব্যয় নিষেধ করেছে, তেমনি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কৃপণতা করে নিজের ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন অপূর্ণ রাখাকে গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য করেছে। আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত প্রকাশ ও বৈধ উপভোগ প্রশংসনীয়।
- প্রয়োজনীয়তার স্তরবিন্যাস (শরিয়াহর অনুশাসন): ইসলামি অর্থনীতিবিদগণ মানবীয় ভোগকে তিনটি অগ্রাধিকার স্তরে বিন্যস্ত করেছেন:
* জরুরিয়াত (ضروريات – Necessities): জীবন ও দ্বীন রক্ষার জন্য মৌলিক খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা।
* হাজিয়াত (حاجيات – Comforts): জীবনকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার সুবিধাসমূহ।
* তাহসিনিয়াত বা কামালিয়াত (تحسينيات – Luxuries): রুচিশীল ও শোভন উপাদান। তবে বিলাসিতা ও অহংকারমূলক অপচয় ইসলামে কঠোরভাবে বর্জনীয়। - সামাজিক দায়িত্ব ও পরার্থপরতা: একজন ইসলামি ভোক্তার উপযোগ কেবল নিজের ভোগের ওপর নির্ভর করে না; সমাজের অনাহারী ও দরিদ্র প্রতিবেশীর কল্যাণে ব্যয় করার মধ্যেও সে পরম মানসিক ও আত্মিক তৃপ্তি লাভ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “সে ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী পাশে অভুক্ত থাকে।” (বায়হাকি)।
- পরকালীন জবাবদিহিতা: প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের উপার্জনের উৎস এবং ব্যয়ের খাত সম্পর্কে কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে—এই বিশ্বাস ইসলামি ভোক্তাকে সর্বদা ভারসাম্যপূর্ণ ও সংযমী রাখে।
৪। হালাল-হারাম বলতে কী বুঝ? মানব জীবনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও হারাম উপার্জনের অপকারিতা আলোচনা কর। (মান: ৫ + ১০ = ১৫)
[What do you mean by Halal and Haram? Discuss the importance of earnings in Halalway and demerits of earnings in Haramway in human life.]
১. হালাল ও হারামের সংজ্ঞা:
* হালাল (حلال – Halal): যা শরিয়তের বিধানে আইনসিদ্ধ, অনুমোদিত, পুত-পবিত্র এবং যার ব্যবহারে বা উপার্জনে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা পাপ নেই, তাকে হালাল বলে।
* হারাম (حرام – Haram): যা শরিয়তের সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন দলিলে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, অপবিত্র, ক্ষতিকর এবং যার লঙ্ঘন মারাত্মক শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাকে হারাম বলে।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেন।” (সূরা আল-আরাফ: ১৫৭)।
২. মানব জীবনে হালাল উপার্জনের অপরিসীম গুরুত্ব:
- ফরজ ইবাদত হিসেবে গণ্য: ইসলামে কেবল নামাজ-রোজাই ইবাদত নয়, হালাল জীবিকা অন্বেষণকে অন্যতম প্রধান ফরজ সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “ফরজ ইবাদতসমূহের পর হালাল রুজি অন্বেষণ করা একটি অপরিহার্য ফরজ।” (বায়হাকি)।
- ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত: হালাল খাদ্য ও উপার্জন ব্যতীত কোনো ইবাদত-বন্দেগি, নামাজ বা দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে বলেন, যে দীর্ঘ সফর করে ধূসরিত বেশে আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করে, অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম; তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (সহিহ মুসলিম)।
- শারীরিক সুস্থতা ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা: হালাল ও তাইয়্যেব খাদ্য ভক্ষণে মানুষের অন্তর নরম হয়, মস্তিষ্ক শুদ্ধ চিন্তায় বিকশিত হয় এবং আত্মিক প্রশান্তি অর্জিত হয়।
- পারিবারিক জীবনে বরকত ও নেক সন্তান লাভ: হালাল উপার্জনের অর্থে সন্তান প্রতিপালিত হলে তারা পিতা-মাতার প্রতি অনুগত, সমাজে চরিত্রবান এবং সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
- পরকালীন উচ্চ মর্যাদা: সৎ ও বিশ্বস্ত হালাল ব্যবসায়ীদের পরকালে নবী ও সিদ্দিকীনদের সাথে হাশর হবে মর্মে মহানবী (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন (তিরমিজি)।
৩. মানব জীবনে হারাম উপার্জনের ধ্বংসাত্মক অপকারিতা:
- দোয়া ও নেক আমল প্রত্যাখ্যান: হারাম উপার্জনে গঠিত রক্ত-মাংস দিয়ে কোনো নেক আমল আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “হারাম উপার্জনে পুষ্ট শরীর কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না; জাহান্নামই তার যোগ্য স্থান।” (তিরমিজি ও বায়হাকি)।
- অশান্তি ও মানসিক যাতনা: বাহ্যিকভাবে হারাম উপার্জনে বিপুল সম্পদ অর্জিত হলেও তাতে বরকত থাকে না। পরিবারে রোগব্যাধি, কলহ-বিবাদ এবং আত্মিক অশান্তি লেগেই থাকে।
- সন্তানের বিপথগামিতা ও মূল্যবোধের ধস: হারাম খাদ্যে লালিত-পালিত সন্তানরা প্রায়শই উচ্ছৃঙ্খল, অবাধ্য ও অপরাধপ্রবণ হয়ে পিতা-মাতার চরম দুর্গতির কারণ হয়।
- সামাজিক জুলুম ও বৈষম্য বৃদ্ধি: সুদ, ঘুষ, কালোবাজারি ও দুর্নীতির মতো হারাম উপার্জনের কারণে সমাজে সম্পদের চরম বৈষম্য তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের অধিকার লুণ্ঠিত হয়।
- পরকালীন ভয়াবহ আজাব: কিয়ামতের দিন হারাম উপার্জনের প্রতিটি কড়ি ও অন্যায্য অর্থের চুলচেরা হিসাব নেওয়া হবে এবং এর বিনিময়ে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
৫। ইসলামি ব্যাংক কী? ইসলামি ব্যাংকের কার্যাবলি আলোচনা কর। (মান: ৫ + ১০ = ১৫)
[What is Islamic Bank? Discuss the functions of Islamic Bank.]
১. ইসলামি ব্যাংকের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
ইসলামি ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, যা সম্পূর্ণরূপে ইসলামি শরিয়াহর মূলনীতি অনুসরণ করে সুদমুক্ত ভিত্তিতে অর্থ সংগ্রহ, বিনিয়োগ, বণ্টন এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করে সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
* ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (IDB)-এর সনদ অনুযায়ী: “An Islamic Bank is a financial institution whose statutes, rules and procedures expressly state its commitment to the principles of Islamic Shariah and the banning of the receipt and payment of interest on any of its operations.”
অর্থাৎ, ইসলামি ব্যাংক এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যার সংবিধি ও কর্মপদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে ইসলামি শরিয়াহর নীতিমালার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যার যাবতীয় কার্যক্রমে সুদ গ্রহণ ও প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২. ইসলামি ব্যাংকের বহুমুখী কার্যাবলি:
(ক) আমানত গ্রহণ সংক্রান্ত কার্যাবলি (Deposit Operations):
- আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব (Al-Wadiah Current Account): আমানতদারদের অর্থের সম্পূর্ণ নিরাপত্তার অঙ্গীকারসহ আমানত গ্রহণ করা হয়। এতে ব্যাংক কোনো লাভ বা সুদ দেয় না এবং গ্রাহক চাহিবামাত্র অর্থ ফেরত পেতে পারেন।
- মুদারাবা সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাব (Mudaraba Savings & Term Accounts): ব্যাংক উদ্যোক্তা (মুদারিব) এবং গ্রাহক পুঁজি সরবরাহকারী (সাহিবুল মাল) হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়। বিনিয়োগ থেকে অর্জিত প্রকৃত মুনাফা পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে বণ্টিত হয়। লোকসান হলে নিয়মানুযায়ী পুঁজিদাতার ওপর বর্তায়।
(খ) বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যাবলি (Investment Operations):
- মুশারাকা (Musharakah – Equity Partnership): ব্যাংক ও ব্যবসায়ী যৌথ অংশীদারিত্বে মূলধন বিনিয়োগ করে। মুনাফা পূর্বচুক্তির অনুপাতে এবং লোকসান মূলধনের অনুপাতে বণ্টিত হয়।
- মুদারাবা (Mudarabah – Trust Financing): সম্পূর্ণ মূলধন ব্যাংক সরবরাহ করে এবং গ্রাহক তার মেধা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে।
- মুরাবাহা (Murabaha – Cost-Plus Sale): গ্রাহকের চাহিদামতো পণ্য ক্রয় করে ক্রয়মূল্যের সাথে নির্দিষ্ট লাভ (Mark-up) যোগ করে বাকিতে বা কিস্তিতে বিক্রয়।
- বাই-মুয়াজ্জল ও বাই-সালাম (Deferred Sale & Advance Purchase): নির্দিষ্ট মেয়াদে বাকিতে বিক্রয় (মুয়াজ্জল) এবং কৃষিজাত বা শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রে অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করে ভবিষ্যতে পণ্য গ্রহণ (বাই-সালাম)।
- ইজারা বা ইজারা বিল বাইয়াহ (Ijarah / Hire Purchase): যন্ত্রপাতি, যানবাহন বা বাড়ি লিজ প্রদান বা ভাড়ার মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর (হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক – HPSM)।
- ক্বর্দে হাসানা (Qard-e-Hasana): দরিদ্র ও অভাবী উদ্যোক্তাদের কোনো প্রকার অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া সম্পূর্ণ সুদমুক্ত কল্যাণমূলক ঋণ প্রদান।
(গ) সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি (Socio-Economic Functions):
- যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা: ব্যাংক নিজস্ব মুনাফা এবং গ্রাহকদের যাকাত সংগ্রহ করে সুনির্দিষ্ট শরিয়াহ খাতে বণ্টন করে।
- ওয়াকফ ও সদকা পরিচালনা: ক্যাশ ওয়াকফ সার্টিফিকেট ইস্যু করে অর্জিত আয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যয় করে।
- মানবসম্পদ উন্নয়ন: যুবসমাজকে ক্ষুদ্রঋণের বিকল্প ক্ষুদ্র-বিনিয়োগের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করা।
(ঘ) সাধারণ ব্যাংকিং সেবা: রেমিট্যান্স আনয়ন, ড্রাফট, লেটার অব ক্রেডিট (L/C), এটিএম ও ডিজিটাল লেনদেন শরিয়াহ নীতি বজায় রেখে পরিচালনা করা।
৬। মূল্য নিয়ন্ত্রণে ইসলামি সরকারের ভূমিকা আলোচনা কর। (মান: ১৫)
[Describe the role of an Islamic Government in controlling price.]
ভূমিকা:
একটি সুস্থ ও কল্যাণমুখী অর্থনীতিতে পণ্যের মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জনস্বার্থের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ইসলামি অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় মুক্তবাজার অর্থনীতি ও চাহিদা-যোগানের স্বাধীন ক্রিয়াশীলতাকে সম্মান জানানো হয়। তবে যখন অসৎ ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর চক্র বা কৃত্রিম সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে এবং জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়, তখন ইসলামি সরকারের ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার মনিটরিংয়ের কঠোর আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব অর্পিত হয়।
১. স্বাভাবিক অবস্থায় মূল্য নিয়ন্ত্রণের ইসলামি দর্শন:
স্বাভাবিক অবস্থায় কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়াকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে একবার মদিনায় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে সাহাবিগণ অনুরোধ করেন: “হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জন্য পণ্যের দাম নির্ধারণ (তা’সীর) করে দিন।” তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন মূল্যের নিয়ামক, তিনিই সংকোচনকারী, তিনিই সম্প্রসারণকারী এবং তিনিই রুজিদাতা। আমি এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই যেন তোমাদের কারো রক্ত বা সম্পদের ওপর আমার কোনো জুলুমের দাবি না থাকে।” (আবু দাউদ, তিরমিজি)।
অর্থাৎ, স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘাটতির কারণে দাম বাড়লে জোরপূর্বক দাম নির্ধারণ উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের জন্য জুলুম হতে পারে।
২. অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মূল্য নির্ধারণে ইসলামি সরকারের বৈধতা:
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-হিসবাহ ফিল ইসলাম’ এবং আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) সুস্পষ্ট করেছেন যে, যখন ব্যবসায়ীরা মজুতদারি, চোরাচালান ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্বিগুণ-তিনগুণ মুনাফা লুটে নেয়, তখন জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে ‘ন্যায্য মূল্য’ (ছি’রে আদ্ল – Fair Price) নির্ধারণ করে দেওয়া ইসলামি সরকারের জন্য কেবল জায়েজই নয়, বরং তা ওয়াজিব (অপরিহার্য দায়িত্ব)।
৩. মূল্য নিয়ন্ত্রণে ইসলামি সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপসমূহ:
- মুহতাসিব ও ‘আল-হিসবাহ’ (Al-Hisbah) ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন: ইসলামি খেলাফতের যুগে বাজার তদারকির জন্য ‘মুহতাসিব’ (Ombudsman / Market Inspector) নিযুক্ত করা হতো। ওমর (রা.) স্বয়ং বাজারে ঘুরে দাঁড়িপাল্লা, পরিমাপের বাটখারা ও দ্রব্যের গুণগত মান পরীক্ষা করতেন। আধুনিক ইসলামি সরকারকেও সার্বক্ষণিক বাজার তদারকি টাস্কফোর্স পরিচালনা করতে হবে।
- মজুতদারি (এহতিকার) কঠোরভাবে দমন: কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির প্রধান হাতিয়ার হলো গুদামজাতকরণ বা মজুতদারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন: “যে ব্যক্তি মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে চল্লিশ দিন খাদ্যদ্রব্য মজুত করে রাখে, সে আল্লাহর দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং আল্লাহও তার থেকে সম্পর্কহীন।” (মুসনাদে আহমাদ)। ইসলামি সরকার মজুতদারের গুদাম বাজেয়াপ্ত করে ন্যায্য মূল্যে বাজারে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করবে।
- দালালি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ: রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন: “কোনো কাফেলা বাজারে পৌঁছানোর আগেই পথে গিয়ে তাদের পণ্য ক্রয় করে নিও না।” (সহিহ বুখারি)। মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট নির্মূল করে উৎপাদক কৃষকের সাথে সরাসরি ভোক্তার সংযোগ স্থাপন করা সরকারের দায়িত্ব।
- সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাফার স্টক (Buffer Stock) তৈরি: সরকার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সরাসরি খাদ্যশস্য আমদানি ও উৎপাদন বৃদ্ধি করবে এবং রাষ্ট্রীয় গুদামে আপদকালীন মজুত গড়ে তুলবে। বাজারে সংকট দেখা দিলে সরকার ন্যায্য মূল্যে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি (OMS) করে যোগান স্বাভাবিক রাখবে।
- প্রতারণা, ওজনে কারচুপি ও ভেজাল রোধ: পবিত্র কুরআনে ওজনে কম দেওয়াকে কঠিন শাস্তির কারণ বলা হয়েছে (সূরা আল-মুতাফফিফীন: ১-৩)। অসদুপায়ে মুনাফা অর্জন রোধে সরকারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামি সরকার কোনো নিষ্ক্রিয় দর্শক নয়। বাজারকে একদিকে মুক্ত প্রতিযোগিতা ও উদ্যোক্তা স্বাধীনতার সুযোগ দিতে হবে, অন্যদিকে মজুতদার ও রক্তচোষা সিন্ডিকেটের হাত থেকে নিরীহ জনগণকে বাঁচাতে সরকার ন্যায়সংগতভাবে কঠোর আইনি হস্তক্ষেপ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
মান — ৫ × ৪ = ২০
৭। ইসলামে শ্রম নীতির ব্যাখ্যা কর। (মান: ৫)
[Explain the labour policy in Islam.]
ইসলামে শ্রমের মর্যাদা অনন্য ও অতুলনীয়। যেকোনো সৎ ও হালাল কায়িক বা বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমকে ইসলাম সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে:
- শ্রমিকের মর্যাদা ও ভ্রাতৃত্ব: রাসুলুল্লাহ (সা.) শ্রমিকদের প্রভুর দাস নয়, বরং ভাই হিসেবে ঘোষণা করে বলেছেন: “তোমাদের অধীনস্থরা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের দায়িত্বে অর্পণ করেছেন। সুতরাং যা নিজে খাও, তাদেরও তা খাওয়াও এবং যা পরিধান কর, তাদেরও তা পরিধান করাও।” (সহিহ বুখারি)।
- ঘাম শুকানোর আগেই পারিশ্রমিক পরিশোধ: ইসলামে শ্রমিকের মজুরি দ্রুত ও ন্যায্যভাবে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন: “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার মজুরি পরিশোধ করে দাও।” (ইবনে মাজাহ)।
- শ্রমিকের ওপর সাধ্যাতীত বোঝা না চাপানো: কোনো শ্রমিকের ওপর তার শারীরিক সামর্থ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেওয়া হারাম। কঠিন কাজের ক্ষেত্রে মালিককে নিজে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- শ্রমিকের অধিকার হরণকারীর বিরুদ্ধে আল্লাহর ঘোষণা: কিয়ামতের দিন আল্লাহ স্বয়ং তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবেন, যার একজন হলো—যে ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ণ কাজ আদায় করে নিল, কিন্তু তার উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করল না (সহিহ বুখারি)।
- শ্রমিকের বিশ্বস্ততা ও নিষ্ঠা: ইসলাম যেমন মালিকের দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে, তেমনি শ্রমিককেও আমানতদারী ও নিষ্ঠার সাথে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে।
৮। ইসলামি বিমার গুরুত্ব বর্ণনা কর। (মান: ৫)
[Describe the importance of Islamic Insurance.]
ইসলামি বিমা (তাকাফুল – Takaful) হলো এমন একটি সুদমুক্ত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতিভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে অংশগ্রহণকারীগণ কোনো অনির্দিষ্ট দুর্যোগ বা ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় একে অপরকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে একটি সাধারণ তহবিলে দান (তাবাররু) হিসেবে কিস্তি জমা দেন।
ইসলামি বিমার প্রধান গুরুত্বসমূহ:
- শরিয়াহসম্মত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: প্রচলিত বাণিজ্যিক বিমায় সুদ (রিবা), জুয়া (মাইসির) ও অনিশ্চয়তা (গারার)—এই তিনটি গুরুতর হারাম উপাদান বিদ্যমান থাকে। তাকাফুল ব্যবস্থায় এই হারাম উপাদানগুলো সম্পূর্ণ বর্জন করে শতভাগ হালাল পদ্ধতিতে ঝুঁকি বণ্টন করা হয়।
- পারস্পরিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব (তাকাফুল): এটি নিছক মুনাফালোভী বাণিজ্য নয়, বরং পবিত্র কুরআনের নির্দেশ: “তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে পারস্পরিক সাহায্য কর।” (সূরা আল-মায়েদাহ: ২)-এর বাস্তব রূপায়ন।
- উদ্বৃত্ত মুনাফা বণ্টন (Surplus Sharing): প্রচলিত বিমায় পলিসিহোল্ডারদের কোনো মুনাফা দেওয়া হয় না; সমস্ত উদ্বৃত্ত বিমা কোম্পানির পকেটে যায়। কিন্তু তাকাফুল ব্যবস্থায় তহবিল ব্যবস্থাপনার খরচ বাদে অবশিষ্ট সমুদয় উদ্বৃত্ত অর্থ পলিসিহোল্ডারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে ফেরত দেওয়া হয়।
- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ: তাকাফুল তহবিল থেকে জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণ সুদমুক্ত হালাল খাতে (যেমন: সুকুক, মুদারাবা) বিনিয়োগ করে দেশের শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রভূত ভূমিকা রাখা হয়।
৯। ক্রমহ্রাস প্রান্তিক উপযোগ বিধিটি ব্যাখ্যা কর। (মান: ৫)
[Explain the law of diminishing marginal utility.]
১. বিধির মূল বক্তব্য:
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ আলফ্রেড মার্শাল (Alfred Marshall)-এর মতে, অন্যান্য সকল অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো ব্যক্তি যখন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দ্রব্যের ভোগের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি করতে থাকে, তখন ওই দ্রব্যের অতিরিক্ত এককগুলো থেকে সে যে অতিরিক্ত উপযোগ বা তৃপ্তি লাভ করে, তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। একেই অর্থনীতিতে ক্রমহ্রাস প্রান্তিক উপযোগ বিধি (Law of Diminishing Marginal Utility) বলে।
২. কাল্পনিক সূচি ও সম্পর্ক:
| দ্রব্যের একক (যেমন: মিষ্টি) | মোট উপযোগ (Total Utility – TU) [টাকায়] | প্রান্তিক উপযোগ (Marginal Utility – MU) [টাকায়] |
|---|---|---|
| ১ম একক | ১০ | ১০ |
| ২য় একক | ১৮ | ৮ (হ্রাস পাচ্ছে) |
| ৩য় একক | ২৪ | ৬ |
| ৪র্থ একক | ২৮ | ৪ |
| ৫ম একক | ৩০ (সর্বোচ্চ) | ২ |
| ৬ষ্ঠ একক | ৩০ (স্থির) | ০ (শূন্য উপযোগ বা পূর্ণ তৃপ্তি) |
| ৭ম একক | ২৮ (হ্রাস) | -২ (ঋণাত্মক উপযোগ) |
৩. অনুমিত শর্তাবলি:
এই বিধিটি কার্যকর হতে হলে ভোক্তার আয়, রুচি ও পছন্দ অপরিবর্তিত থাকতে হবে, সময় ব্যবধান থাকা চলবে না এবং দ্রব্যের প্রতিটি একক সমজাতীয় ও পর্যাপ্ত পরিমাণের হতে হবে।
১০। মুনাফা ও সুদের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর। (মান: ৫)
[Make distinction between profit and interest.]
ইসলামি অর্থনীতিতে মুনাফা (Profit) সম্পূর্ণ হালাল ও বৈধ, কিন্তু সুদ (Interest / Riba) চিরতরে ও কঠোরভাবে হারাম। এদের মৌলিক পার্থক্যসমূহ নিচে প্রদর্শিত হলো:
| পার্থক্যের বিষয় | মুনাফা (Profit) | সুদ (Interest / Riba) |
|---|---|---|
| ১. শরিয়তের বিধান | সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র। আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” | কঠোরভাবে হারাম এবং কবিরা গুনাহ। সুদের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও রাসুলের যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। |
| ২. ঝুঁকি ও লোকসান | মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবসায়িক ঝুঁকি এবং লোকসানের সম্ভাবনা বহন করা বাধ্যতামূলক। | ঋণদাতা কোনো ঝুঁকি বহন করে না; মূলধন অক্ষুণ্ণ রেখে কেবল নিশ্চিত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে। |
| ৩. নির্ধারণের ভিত্তি | ব্যবসা পরিচালনার পর প্রকৃত আয়ের ওপর ভিত্তি করে পূর্বচুক্তির আনুপাতিক হারে বণ্টিত হয়। | আগে থেকেই মূলধনের ওপর সুনির্দিষ্ট শতকরা হারে নির্ধারণ করা হয়, ব্যবসায় লাভ হোক বা ক্ষতি হোক। |
| ৪. উৎপাদনশীলতা | মুনাফা হলো শ্রম, মেধা ও পুঁজির উৎপাদনশীল কার্যক্রমের বাস্তব ও ন্যায়সঙ্গত ফল। | সুদ হলো সময়ের বিনিময়ে অনুৎপাদনশীল শোষণ, যা অর্থনৈতিক জুলুম সৃষ্টি করে। |
| ৫. সামাজিক প্রভাব | সম্পদের সুষম বণ্টন ঘটায় এবং ধনী-দরিদ্রের অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে। | ধনীদের আরও ধনী এবং দরিদ্রদের দেউলিয়া করে সমাজে শোষণ ও অস্থিরতা তৈরি করে। |
১১। যাকাতের গুরুত্ব আলোচনা কর। (মান: ৫)
[Discuss the importance of Zakat.]
ইসলামের পাঁচটি পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি ফরজ বিধান হলো যাকাত। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিমের ওপর প্রতি বছর শতকরা আড়াই টাকা (২.৫%) হারে যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
যাকাতের বহুমুখী গুরুত্ব:
- আত্মার ও সম্পদের পবিত্রতা: ‘যাকাত’ শব্দের অর্থ পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষের অন্তর কৃপণতা ও ধনলিপ্সার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয় এবং ধনীর সম্পদে অবশিষ্ট অংশ বরকতময় ও পবিত্র হয় (সূরা আত-তাওবাহ: ১০৩)।
- দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা: সমাজের দুস্থ, এতিম, বিধবা, পঙ্গু ও ঋণগ্রস্তদের বেঁচে থাকার মৌলিক প্রয়োজন পূরণ নিশ্চিত করে যাকাত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের প্রাপ্য সাংবিধানিক অধিকার (সূরা আল-মাআরিজ: ২৪-২৫)।
- সম্পদের কেন্দ্রীভবন রোধ: পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মতো সম্পদ যেন শুধু কয়েকজন পুঁজিপতির হাতে পুঞ্জীভূত না থাকে, সেজন্য যাকাত সম্পদকে সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়।
- সামাজিক শান্তি ও অপরাধ হ্রাস: দরিদ্ররা যখন ধনীদের দ্বারা উপকৃত হয়, তখন তাদের মধ্যকার শ্রেণি-সংঘাত, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হয় এবং চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ হ্রাস পায়।
১২। শ্রম বিভাগ কী? (মান: ৫)
[What is division of Labour?]
১. শ্রম বিভাগের সংজ্ঞা:
কোনো একটি নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদনের সামগ্রিক কাজকে একজন শ্রমিকের দ্বারা সম্পন্ন না করিয়ে কাজের জটিলতা ও পর্যায় অনুসারে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে প্রতিটি অংশে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ভিন্ন ভিন্ন শ্রমিক বা দলের ওপর অর্পণ করার পদ্ধতিকে শ্রম বিভাগ (Division of Labour) বলে।
* আধুনিক অর্থনীতির জনক এডাম স্মিথ (Adam Smith) তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘The Wealth of Nations’ (১৭৭৬)-এ আলপিনের কারখানার উদাহরণ দিয়ে শ্রম বিভাগের কার্যকারিতা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
২. শ্রম বিভাগের প্রধান প্রকারভেদ:
- সরল বা পেশাগত শ্রম বিভাগ: যখন সমাজের মানুষ বিভিন্ন পেশায় ভাগ হয়ে যায়; যেমন—কামার, কুমার, তাঁতি, কৃষক ইত্যাদি।
- জটিল শ্রম বিভাগ: একটি কারখানায় একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বিভিন্ন প্রক্রিয়া আলাদা শ্রমিকের ওপর অর্পণ করা; যেমন—পোশাক কারখানায় কাপড় কাটা, সেলাই করা, বোতাম লাগানো ও ইস্ত্রি করা পৃথক শ্রমিকের দ্বারা করানো।
- ভৌগোলিক বা আঞ্চলিক শ্রম বিভাগ: কোনো বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুবিধার ওপর ভিত্তি করে কোনো বিশেষ পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্রীভূত হওয়া; যেমন—রাজশাহীতে রেশম এবং চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা শিল্প।
৩. শ্রম বিভাগের সুবিধা:
উৎপাদনশীলতা বহু গুণে বৃদ্ধি পায়, শ্রমিকের বিশেষায়ন ও দক্ষতা বাড়ে, সময়ের অপচয় রোধ হয় এবং যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ১ম বর্ষের অর্থনীতি ও ইসলামি অর্থনীতি (২০১১০৬) পরীক্ষার মান বণ্টন কেমন?
পরীক্ষার মোট পূর্ণমান ৮০ নম্বর এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রটি দুটি বিভাগে বিভক্ত: ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন – ৪টি উত্তর দিতে হয়, মান ১৫ × ৪ = ৬০) এবং খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন – ৪টি উত্তর দিতে হয়, মান ৫ × ৪ = ২০)।
২. ইসলামি অর্থনীতি ও প্রচলিত অর্থনীতির মূল পার্থক্য কী?
প্রচলিত অর্থনীতি কেবল মানুষের বস্তুগত স্বার্থ ও মুনাফা সর্বোচ্চকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত; অপরদিকে ইসলামি অর্থনীতি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন জবাবদিহিতা (ফালাহ) এবং সুদ ও হারামমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক অর্থব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৩. একটি কাল্পনিক চাহিদা রেখার ঢাল কেমন হয়?
চাহিদা বিধি অনুসারে দ্রব্যের দাম বাড়লে চাহিদা কমে এবং দাম কমলে চাহিদা বাড়ে; তাই দাম ও চাহিদার বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণে চাহিদা রেখাটি বাম দিক থেকে ডান দিকে নিম্নগামী হয়।
৪. ইসলামে পণ্যের মূল্য বেঁধে দেওয়ার বিধান কী?
স্বাভাবিক মুক্তবাজারে কৃত্রিমভাবে দাম বেঁধে দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও মজুতদারি, অসৎ সিন্ডিকেট বা প্রতারণার মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ইসলামি সরকারের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা ওয়াজিব।
৫. ইসলামি ব্যাংকিংয়ে মুশারাকা ও মুদারাবার মধ্যে পার্থক্য কী?
মুশারাকায় ব্যাংক ও গ্রাহক উভয় পক্ষই মূলধন বিনিয়োগ করে এবং লাভ-লোকসান ভাগ করে নেয়; পক্ষান্তরে মুদারাবায় সমুদয় মূলধন ব্যাংক প্রদান করে এবং গ্রাহক কেবল শ্রম ও মেধা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে।
৬. ক্রমহ্রাস প্রান্তিক উপযোগ বিধির মূল বক্তব্য কী?
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে ভোক্তা যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট দ্রব্যের ভোগের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে, তখন অতিরিক্ত এককগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।

