পরীক্ষা কোড: ২০৪ | প্রশ্নপত্র কোড: ১৮৯
ফাজিল (স্নাতক) সম্মান চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: আধুনিক উত্তর আফ্রিকার মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ (সপ্তম পত্র)
[North African Muslim States in Modern Times (Paper VII)]
বিষয় কোড: ২০৫৪০৭
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
রচনামূলক প্রশ্ন
[দ্রষ্টব্য: যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫: ১৫ × ৪ = ৬০]
১. লিবিয়ার সানুসীদের উত্থান ও বিকাশ আলোচনা কর। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে তাদের ভূমিকা কী ছিল?
[English: Discuss the rise and development of Sainnusi in Libya. What was their role in the nationalist movement?]
ভূমিকা
উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে উত্তর আফ্রিকার মাগরেব অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যে কয়টি আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন বীরদর্পে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তার মধ্যে লিবিয়ার ‘সানুসিয়া আন্দোলন’ (Sanussiya Movement) সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মূলত একটি সূফী সংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে লিবিয়ার জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
সানুসিয়া তরিকার উৎপত্তি ও বিকাশ
- প্রতিষ্ঠাতা: আলজেরিয়ার মুসতাগানামে ১৭৮৭ সালে জন্মগ্রহণকারী প্রখ্যাত সূফী সাধক ও পণ্ডিত সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সানুসী (যিনি ‘গ্র্যান্ড সানুসী’ বা সানুসী আল-কবীর নামে খ্যাত) ১৮৩৭ সালে মক্কায় এই তরিকার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- লিবিয়ায় আগমন ও জাওয়াভিয়ার বিস্তার: মক্কায় ওহাবী ও অটোমানদের বিরোধের পর তিনি ১৮৪৩ সালে লিবিয়ার সাইরেনাইকা (বারক্বা) অঞ্চলে আসেন এবং সেখানে ‘জাবাল আল-আখদার’-এ প্রথম ‘জাওয়াভিয়া’ (খানকাহ ও মাদ্রাসাকেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক দুর্গ) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৫৬ সালে তিনি রাজধানী সাহারার দুর্গম ‘জাগবুব’ মরুদ্যানে স্থানান্তর করেন।
- সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার: সানুসীরা যাযাবর বেদুইন উপজাতিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ করে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে। প্রতিটি জাওয়াভিয়ায় কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি কৃষিকাজ, পশুপালন, অস্ত্রচালনা এবং সাহারা মরুভূমির বাণিজ্য কাফেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। ফলে সমগ্র লিবিয়া, চাদ ও সুদানে শত শত জাওয়াভিয়া গড়ে ওঠে।
লিবিয়ার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে সানুসীদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা
- ফরাসি ও চাদ সীমান্তে প্রতিরোধ: উনবিংশ শতকের শেষে ফরাসিরা বিষুবীয় আফ্রিকা ও সাহারা দখল করতে চাইলে সানুসী যোদ্ধারা চাদ ও সাহারার সীমান্তে ফরাসি বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- ১৯১১ সালে ইতালীয় আগ্রাসন ও পবিত্র জিহাদ: ১৯১১ সালে ইতালি লিবিয়া আক্রমণ করলে তৎকালীন সানুসী প্রধান সাইয়্যিদ আহমাদ আশ-শরীফ অটোমান বাহিনীর সাথে যৌথভাবে ইতালির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদ ঘোষণা করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পর্যন্ত তারা ইতালীয় বাহিনীকে কেবল উপকূলীয় কয়েকটি শহরে অবরুদ্ধ করে রাখে।
- মরুসিংহ ওমর আল-মুখতারের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ (১৯২৩-১৯৩১): সানুসিয়া আন্দোলনের ইতিহাসে সর্বাধিক স্মরণীয় বীর সেনানী হলেন শায়খ ওমর আল-মুখতার। তিনি দীর্ঘ দশ বছর ধরে ইতালীয় ফ্যাসিস্ট একনায়ক মুসোলিনির আধুনিক বিমান ও ট্যাংকবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তাঁর অদম্য সাহসিকতার কারণে তাঁকে ‘মরুভূমির সিংহ’ (Lion of the Desert) বলা হয়। ১৯৩১ সালে ৭৩ বছর বয়সে তিনি বন্দি হন এবং বীরের মতো ফাঁসির মঞ্চে শাহাদাত বরণ করেন।
- স্বাধীন লিবিয়া প্রতিষ্ঠা ও বাদশাহ ইদ্রিস: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সানুসীরা ব্রিটিশদের সাথে মৈত্রী স্থাপন করে ইতালি ও জার্মানিকে লিবিয়া থেকে বিতাড়িত করে। অবশেষে ১৯৫১ সালের ২৪ ডিসেম্বর সানুসী তরিকার প্রধান সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইদ্রিস আস-সানুসী ‘বাদশাহ প্রথম ইদ্রিস’ হিসেবে স্বাধীন লিবিয়া রাজ্যের প্রথম শাসক হন।
উপসংহার
সানুসিয়া আন্দোলন আধ্যাত্মিক তাসাউফ এবং জাতীয়তাবাদের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে লিবিয়াকে ঔপনিবেশিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রূপ দিয়েছিল।
২. লিবিয়ায় গাদ্দাফি কীভাবে ক্ষমতায় আসেন? তাঁর ‘সবুজবিপ্লব’ সম্পর্কে আলোচনা কর।
[English: How did Goddafi come to power in Libya? Discuss about his ‘Green Revolution’.]
ভূমিকা
১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৭ বছর বয়সী এক তরুণ সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফি রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে লিবিয়ার রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তী চার দশক ধরে তিনি তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শন প্রয়োগ করে লিবিয়াকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত কেন্দ্রে পরিণত করেন।
গাদ্দাফির ক্ষমতায় আরোহণের পটভূমি
- রাজতন্ত্রের দুর্বলতা ও দুর্নীতি: ১৯৫১ সালে বাদশাহ ইদ্রিস ক্ষমতায় আসার পর লিবিয়ায় বিপুল তেলের সন্ধান মেলে। কিন্তু তেলের রাজস্ব সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে রাজপরিবার এবং পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর পকেটে যেতে থাকে। এছাড়া বাদশাহ ছিলেন অতিমাত্রায় ব্রিটেন ও আমেরিকার অনুগত।
- নাসেরিজম ও আরব জাতীয়তাবাদের প্রভাব: জামাল আব্দুল নাসেরের আরব জাতীয়তাবাদ ও প্যান-অ্যারাবিজমে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণ গাদ্দাফি সামরিক একাডেমিতে সমমনা অফিসারদের নিয়ে ‘মুক্ত সামরিক অফিসার আন্দোলন’ (Free Officers Movement) গড়ে তোলেন।
- ১ সেপ্টেম্বরের রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান (আল-ফাতেহ বিপ্লব): ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাদশাহ ইদ্রিস চিকিৎসার জন্য তুরস্কে অবস্থানকালে গাদ্দাফি ও তাঁর সহযোগী তরুণ অফিসাররা একযোগে বেনগাজী ও ত্রিপোলির রেডিও স্টেশন, বিমানবন্দর ও সরকারি দপ্তর দখল করে নেন। কোনো রক্তপাত ছাড়াই রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ‘লিবিয়ান আরব রিপাবলিক’ ঘোষণা করা হয়।
গাদ্দাফির ‘সবুজ বিপ্লব’ ও তৃতীয় আন্তর্জাতিক তত্ত্ব (The Green Book)
ক্ষমতায় এসে গাদ্দাফি পুঁজিবাদ ও সোভিয়েত সমাজতন্ত্র উভয়কেই প্রত্যাখ্যান করে তাঁর নিজস্ব দর্শন ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক তত্ত্ব’ (Third Universal Theory) প্রচার করেন, যা তাঁর বিখ্যাত **’সবুজ গ্রন্থ’ (The Green Book)**-এ বিধৃত:
- জামাহিরিয়া বা গণরাষ্ট্র (State of the Masses): ১৯৭৭ সালে তিনি লিবিয়াকে ‘সমাজতান্ত্রিক গণ জামাহিরিয়া’ ঘোষণা করেন। তাঁর মতে সংসদীয় গণতন্ত্র হলো প্রতারণা। তাই তিনি প্রচলিত সংসদ ও রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে তৃণমূল পর্যায়ে ‘মৌলিক গণকমিটি’ (Basic People’s Congresses)-র মাধ্যমে প্রত্যক্ষ গণশাসনের কাঠামো গড়ে তোলেন।
- অর্থনৈতিক সবুজ বিপ্লব:
- তেল সম্পদের জাতীয়করণ: পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর আধিপত্য খর্ব করে তেল সম্পদের ওপর জাতীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। তেল রাজস্ব দিয়ে লিবিয়ার প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হয়।
- কৃষি ও দ্য গ্রেট ম্যান-মেড রিভার (GMR): গাদ্দাফির সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো সাহারা মরুভূমির তলদেশ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় ও সেচের পানি সরবরাহের এক বিশাল ভূগর্ভস্থ নদী প্রকল্প (Great Man-Made River Project) নির্মাণ। একে বিশ্বের ‘অষ্টম আশ্চর্য’ বলা হতো। এর ফলে হাজার হাজার একর মরুভূমি সবুজ ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়।
- গৃহায়ন ও সমাজকল্যাণ: তাঁর বিখ্যাত নীতি ছিল: “ঘর তার যে তাতে বসবাস করে, জমি তার যে তাতে চাষ করে এবং গাড়ি তার যে তা চালায়।” নবদম্পতিদের জন্য সরকারি অনুদান ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হতো।
- ইসলাম ও আরব জাতীয়তাবাদের সমন্বয়: তিনি শরিয়তের মৌলিক মূল্যবোধের সাথে সমাজতান্ত্রিক সমবণ্টন নীতির সমন্বয় ঘটান। লিবিয়া থেকে সমস্ত মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি উচ্ছেদ করেন এবং ইতালীয় উপনিবেশবাদীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন।
উপসংহার
গাদ্দাফির সবুজ বিপ্লব লিবিয়াকে আফ্রিকার অন্যতম শীর্ষ মাথাপিছু আয়ের ও উন্নত মানবসম্পদের দেশে পরিণত করেছিল, যদিও কঠোর একনায়কতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে এক সহিংস অভ্যুত্থানে তাঁর মর্মান্তিক পতন ঘটে।
৩. তিউনিসিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পর্যালোচনা কর।
[English: Review the history of the establishment of French colonial rule in Tunisia.]
ভূমিকা
উত্তর আফ্রিকার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত রাষ্ট্র তিউনিসিয়ায় উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে অটোমান শাসনের দুর্বলতা এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে ফরাসিরা তাদের আধিপত্য বিস্তার করে। ১৮৮১ সালে বার্দো চুক্তির মাধ্যমে তিউনিসিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসি প্রোটেক্টরেটে (Protectorate) পরিণত হয়।
ফরাসি শাসন প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক পটভূমি
- হোসাইনী রাজবংশ ও তিউনিসিয়ার আধুনিকায়ন প্রয়াস: উনবিংশ শতাব্দীতে তিউনিসিয়ার বেইগণ (হোসাইনী রাজবংশ)—বিশেষ করে আহমদ বেই এবং সংস্কারক খায়রুদ্দীন পাশা তিউনিসিয়াকে আধুনিক ইউরোপীয় ধাঁচে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তারা আধুনিক সেনাবাহিনী, নৌঘাঁটি এবং আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
- চরম অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও ইউরোপীয় ঋণ: এই ব্যয়বহুল আধুনিকায়ন এবং রাজদরবারের অপচয়ের কারণে তিউনিসিয়া ইউরোপীয় ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে চড়া সুদে বিপুল ঋণ গ্রহণ করে। ১৮৬৯ সালে তিউনিসিয়া ঋণখেলাপি হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ইতালি মিলে তিউনিসিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর একটি ‘আন্তর্জাতিক আর্থিক কমিশন’ (International Financial Commission) চাপিয়ে দেয় এবং দেশটির কর ও রাজস্বের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়।
- ১৮৭৮ সালের বার্লিন কংগ্রেসের গোপন সমঝোতা: ১৮৭৮ সালের বার্লিন সম্মেলনে ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো আফ্রিকা ভাগাভাগির দরকষাকষিতে নামে। ব্রিটেন সাইপ্রাস দখলের বিনিময়ে তিউনিসিয়ায় ফ্রান্সের আগ্রাসনকে সমর্থন দিতে সম্মত হয়। অপরদিকে জার্মানির বিসমার্ক ফ্রান্সকে জার্মানির প্রতিশোধ থেকে দূরে রাখতে উত্তর আফ্রিকায় সাম্রাজ্য বিস্তারে প্ররোচিত করেন।
আগ্রাসন ও শাসন প্রতিষ্ঠা
- সীমান্তে ক্রুমির উপজাতিদের ঘটনার অজুহাত (১৮৮১): ১৮৮১ সালের এপ্রিলে তিউনিসিয়া-আলজেরিয়া সীমান্তে ক্রুমির (Kroumir) যাযাবর উপজাতিদের ছোটখাটো দাঙ্গাকে অজুহাত করে ফ্রান্সের এক বিশাল সেনাবাহিনী তিউনিসিয়ায় সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন চালায়। ফরাসি নৌবাহিনী উপকূলীয় বিজার্তা ও অন্যান্য বন্দর অবরুদ্ধ করে।
- বার্দো চুক্তি (Treaty of Bardo – ১২ মে ১৮৮১): ফরাসি সৈন্যরা বেই-এর ক্বাসর সাঈদ প্রাসাদ ঘিরে ফেলে। তিউনিসিয়ার শাসক মুহম্মদ আস-সাদিক বেই জীবন বাঁচাতে অপমানজনক বার্দো চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এর শর্তানুযায়ী:
- তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্র, অর্থ ও সামরিক প্রতিরক্ষা সম্পূর্ণ ফরাসি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তিউনিসিয়ায় ফরাসি সৈন্য স্থায়ীভাবে মোতায়েনের অধিকার পায়।
- মার্সা কনভেনশন (La Marsa Convention – ১৮৮৩): ১৮৮১ সালের চুক্তির বিরুদ্ধে তিউনিসিয়ার জনগণ ও উপজাতিরা তীব্র বিদ্রোহ শুরু করে, যা ফরাসিরা নির্মমভাবে দমন করে। এরপর ১৮৮৩ সালে স্বাক্ষরিত মার্সা কনভেনশনের মাধ্যমে ফ্রান্সের ক্ষমতা আরও নিরঙ্কুশ হয়। তিউনিসিয়ায় ফরাসি ‘রেসিডেন্ট-জেনারেল’ (Resident-General) মূলত দেশটির সর্বময় হর্তাকর্তায় পরিণত হন এবং বেই কেবল নামমাত্র পুতুল শাসকে পরিণত হন।
উপসংহার
তিউনিসিয়ায় ফরাসি শাসন আলজেরিয়ার মতো সরাসরি আত্মসাৎ (Annexation) ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ছদ্মবেশী ‘সুরক্ষিত রাজ্য’ (Protectorate), যার মাধ্যমে তিউনিসিয়ার উর্বর জমি ও খনিজ ফসফেট সম্পদ পরবর্তী ৭৫ বছর ধরে ফরাসিরা চরমভাবে লুণ্ঠন করেছিল।
৪. তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট হাবিব বরগুইবার অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ কর।
[English: Analyze the domestic and foreign polices of President Habib Bourguiba of Tunisia.]
ভূমিকা
আধুনিক তিউনিসিয়ার জাতির পিতা ও স্থপতি হিসেবে খ্যাত হাবিব বরগুইবা (Habib Bourguiba, ১৯০৩-২০০০ খ্রি.) ১৯৫৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে তিউনিসিয়ার স্বাধীনতা অর্জনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ তিন দশক (১৯৫৭-১৯৮৭ খ্রি.) দেশটির রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এক ধর্মনিরপেক্ষ, পাশ্চাত্যমুখী ও আধুনিক তিউনিসিয়া বিনির্মাণ করেন।
হাবিব বরগুইবার অভ্যন্তরীণ নীতি
- রাজতন্ত্র উচ্ছেদ ও প্রজাতন্ত্র ঘোষণা (১৯৫৭): ১৯৫৬ সালে তিউনিসিয়া স্বাধীনতা লাভের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১৯৫৭ সালের ২৫ জুলাই ২৫০ বছরের পুরনো হোসাইনী রাজতন্ত্র ও বেই পদবি বিলুপ্ত করে তিউনিসিয়াকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- ব্যক্তিগত মর্যাদা সংহিতা (Code of Personal Status – ১৯৫৬): বরগুইবার সবচেয়ে বৈপ্লবিক ও বিতর্কিত সংস্কার ছিল এই পারিবারিক আইন।
- তিনি মুসলিম বিশ্বে প্রথম আইন করে বহুবিবাহ (Polygamy) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ করেন।
- নারীদের বিবাহ বিচ্ছেদের সমান অধিকার দেন এবং মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স বাড়ান।
- নারীদের হিজাব পরার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং এটিকে অনগ্রসরতার প্রতীক বলে অভিহিত করেন।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার: জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশ তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী যাইতুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাব কমিয়ে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করেন।
- চরম ধর্মনিরপেক্ষতা ও রমজানের রোজা বিতর্ক: তুরস্কের কামাল আতাতুর্কের মতো তিনিও ইসলামকে আধুনিকায়নের অন্তরায় মনে করতেন। ১৯৬০ সালে তিনি জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির অজুহাত তুলে প্রকাশ্য দিবালোকে কমলালেবুর রস পান করে শ্রমিকদের রমজানের রোজা না রাখার আহ্বান জানান, যা মুসলিম বিশ্বে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয়।
- একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন: তিনি তাঁর ‘নিও-দেস্তুর’ (পরবর্তীতে সমাজতান্ত্রিক দেস্তুরিয়ান দল) ছাড়া অন্য সমস্ত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন। ১৯৭৫ সালে পার্লামেন্টের মাধ্যমে নিজেকে ‘আজীবন রাষ্ট্রপতি’ (President for Life) ঘোষণা করেন।
হাবিব বরগুইবার পররাষ্ট্রনীতি
- পাশ্চাত্যমুখী ও মধ্যপন্থী কূটনীতি: আরব বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের (যেমন নাসের বা গাদ্দাফি) মতো তিনি সমাজতান্ত্রিক জোটে যোগ না দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সাথে গভীর বাণিজ্যিক ও সামরিক মিত্রতা বজায় রাখেন।
- আরব-ইসরায়েল ইস্যুতে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি: ১৯৬৫ সালে জেরিকো বক্তৃতায় তিনি আরব নেতাদের প্রতি অবাস্তব স্লোগান পরিহার করে জাতিসংঘের ১৯৪৭ সালের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইসরায়েলের সাথে শান্তি স্থাপনের আহ্বান জানান। এজন্য তৎকালীন উগ্র আরব বিশ্ব তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিলেও পরবর্তীতে তাঁর কথাই সত্য প্রমাণিত হয়।
- আরব লীগ ও পিএলওকে আশ্রয় প্রদান: ১৯৭৯ সালে মিশর ইসরায়েলের সাথে শান্তি চুক্তি করলে আরব লীগের সদর দপ্তর কায়রো থেকে তিউনিসে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া ১৯৮২ সালে লেবানন যুদ্ধের পর বরগুইবা ইয়াসির আরাফাত ও পিএলওকে তিউনিসিয়ায় সদর দপ্তর স্থাপনের অনুমতি দেন।
উপসংহার
হাবিব বরগুইবা ছিলেন আধুনিক ও প্রগতিশীল তিউনিসিয়ার রূপকার, যিনি নারীমুক্তি ও আধুনিক শিক্ষায় নজির স্থাপন করেছিলেন; যদিও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে ১৯৮৭ সালে তাঁরই প্রধানমন্ত্রী জয়নাল আবেদিন বিন আলী তাঁকে রক্তপাতহীনভাবে অপসারণ করতে বাধ্য হন।
৫. আলজেরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনে FLN ও ALN এর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
[English: Explain the role of FLN and ALN in the independence movement of Algeria.]
ভূমিকা
১৩২ বছরের দীর্ঘ ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের নিগড় থেকে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল আলজেরিয়া। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এই মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দুটি প্রধান সংগঠন ছিল রাজনৈতিক দল ‘এফএলএন’ (FLN) এবং তার সামরিক শাখা ‘এএলএন’ (ALN)।
সংগঠন দুটির পরিচয়
- এফএলএন (Front de Libération Nationale – জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট): ১৯৫৪ সালে আহমেদ বিন বেল্লা, হোয়ারি বুমেদিন, ক্রিম বেলকাসেম এবং মোস্তফা বিন বুলাইদের মতো তরুণ বিপ্লবীদের নেতৃত্বে কায়রো ও আলজেরিয়ায় এই বিপ্লবী রাজনৈতিক ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এএলএন (Armée de Libération Nationale – জাতীয় মুক্তি বাহিনী): এটি ছিল এফএলএনের সশস্ত্র সামরিক শাখা। তারা আলজেরিয়ার দুর্গম পাহাড়, অরণ্য ও মরুভূমিতে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ফরাসি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই পরিচালনা করত।
স্বাধীনতা আন্দোলনে FLN ও ALN এর ঐতিহাসিক ভূমিকা
- ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘোষণা ও বিপ্লবের সূচনা: ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর মধ্যরাতে এফএলএন ও এএলএন একযোগে সমগ্র আলজেরিয়ায় ফরাসি সেনাঘাঁটি, পুলিশ স্টেশন ও টেলিগ্রাফ অফিসে সমন্বিত আক্রমণ চালিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ (Algerian War of Independence) শুরু করে। তারা একটি ইশতেহারে স্পষ্ট ঘোষণা করে: “সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন আলজেরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।”
- উইলায়া (Wilaya) ভিত্তিক গেরিলা রণকৌশল: এএলএন সমগ্র আলজেরিয়াকে ৬টি সামরিক প্রশাসনিক অঞ্চল বা ‘উইলায়া’-তে বিভক্ত করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। ফরাসিদের ৫ লাখ আধুনিক সৈন্য ও বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধে এএলএনের অকুতোভয় যোদ্ধারা (যাঁদের মুজাহিদীন বলা হতো) ‘হিট অ্যান্ড রান’ পদ্ধতিতে ফরাসিদের নাজেহাল করে তোলে।
- আলজিয়ার্সের যুদ্ধ (Battle of Algiers – ১৯৫৬-৫৭): রাজধানী আলজিয়ার্সের কাসবা (পুরনো মুসলিম এলাকা)-তে এফএলএন নগর গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে। ফরাসি জেনারেল ম্যাসু প্যারাট্রুপার নামিয়ে বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যা চালালেও এফএলএনের প্রতিরোধ বিশ্ববাসীর নজরে আসে।
- নারীদের ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ: জমিলা বুহায়রাদ ও জমিলা বাউপাশার মতো আলজেরীয় নারী যোদ্ধারা বোমা বহন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে বীরত্বের অমর ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
- আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অন্তর্বর্তী সরকার (GPRA): ১৯৫৮ সালে এফএলএন কায়রোতে ‘আলজেরিয়া প্রজাতন্ত্রের অস্থায়ী সরকার’ (GPRA) গঠন করে। জাতিসংঘে আলজেরিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে ব্যাপক আন্তর্জাতিক জনমত ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অকুণ্ঠ সমর্থন আদায় করে।
- ইভিয়ান চুক্তি ও চূড়ান্ত বিজয় (১৯৬২): দীর্ঘ আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং প্রায় **১৫ লাখ শহীদের (One and a half million martyrs)** রক্তের বিনিময়ে অবশেষে ফরাসি প্রেসিডেন্ট চার্লস ডি গল নতি স্বীকার করেন। ১৯৬২ সালের ১৮ মার্চ ঐতিহাসিক ‘ইভিয়ান চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয় এবং জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৯৯% মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে আলজেরিয়া পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
উপসংহার
এফএলএন ও এএলএন ছিল আলজেরীয় জাতীয়তাবাদের ইস্পাতকঠিন বর্ম। তাদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছিল যে, স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষার সামনে বিশ্বের যেকোনো আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিও পরাভূত হতে বাধ্য।
৬. ১৯৫৬ সালে মরক্কো স্বাধীনতা অর্জনের প্রধান ঘটনাবলি উল্লেখ কর। এতে ইস্তিকলাল দলের ভূমিকা কী ছিল?
[English: Mention the main events that led to the independence of Morocco 1956. What was the role of Istiqlal party in it?]
ভূমিকা
১৯১২ সালের ফেজ চুক্তির মাধ্যমে মরক্কো ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে দ্বিখণ্ডিত হয়ে একটি ঔপনিবেশিক প্রোটেক্টরেটে পরিণত হয়। কিন্তু মরক্কোর অকুতোভয় জনগণ রাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদী দলসমূহের যৌথ নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৫৬ সালের ২ মার্চ ফরাসিদের হাত থেকে এবং পরবর্তীতে স্প্যানিশদের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করে।
১৯৫৬ সালে মরক্কোর স্বাধীনতা অর্জনের প্রধান প্রধান ঘটনাবলি
- সুলতান মুহাম্মদ বিন ইউসুফের ঐতিহাসিক তাঞ্জিয়ার ভাষণ (১৯৪৭): স্বাধীনতা আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৯৪৭ সালের ৯ এপ্রিল মরক্কোর সুলতান মুহাম্মদ বিন ইউসুফ (পরবর্তীতে বাদশাহ পঞ্চম মুহাম্মদ) কর্তৃক আন্তর্জাতিক শহর তাঞ্জিয়ারে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণ। সেখানে তিনি ফরাসিদের নিয়ন্ত্রণ উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে মরক্কোর পূর্ণ স্বাধীনতা এবং আরব লীগের সাথে ঐক্যের দাবি তোলেন।
- সুলতানের নির্বাসন ও গণবিস্ফোরণ (১৯৫৩): সুলতান ফরাসিদের অন্যায় আদেশে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করায় ১৯৫৩ সালের আগস্টে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাঁকে সপরিবারে মাদাগাস্কারে নির্বাসিত করে এবং এক অযোগ্য বৃদ্ধ আত্মীয় মুহাম্মদ বিন আরাফাকে সিংহাসনে বসায়। এতে সারা মরক্কোয় দাবানলের মতো গণবিদ্রোহ ও গেরিলা যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জনগণ বিন আরাফার পুতুল শাসন সম্পূর্ণ বয়কট করে।
- সশস্ত্র প্রতিরোধ ও লিবারেশন আর্মি (ALM): মরক্কো লিবারেশন আর্মি গড়ে ওঠে এবং তারা ফরাসি স্বার্থ, রেললাইন ও সেনাদের ওপর গেরিলা আক্রমণ চালাতে থাকে। পরিস্থিতি ফরাসিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- সুলতানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন (১৯৫৫): আলজেরিয়ায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ফ্রান্স মরক্কোয় আরেকটি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা হারায়। ফরাসিরা নতি স্বীকার করে ১৯৫৫ সালের ১৬ নভেম্বর বীর সুলতান পঞ্চম মুহাম্মদকে সসম্মানে নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনে। লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে তাঁকে সংবর্ধনা দেয়।
- স্বাধীনতা চুক্তি স্বাক্ষর (২ মার্চ ১৯৫৬): অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২ মার্চ প্যারিসে ফরাসি-মরোক্কান যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে ১৯১২ সালের ফেজ চুক্তি বাতিল করা হয় এবং মরক্কোকে একটি পূর্ণ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ৭ এপ্রিল স্পেনও তাদের উত্তর মরক্কোর ওপর থেকে দাবি প্রত্যাহার করে নেয়।
স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘ইস্তিকলাল’ (Istiqlal) দলের ঐতিহাসিক ভূমিকা
১৯৪৩ সালে বিখ্যাত জাতীয়তাবাদী নেতা আল্লাল আল-ফাসী এবং আহমদ বালাফ্রাজের নেতৃত্বে গঠিত ‘হিজব আল-ইস্তিকলাল’ (স্বাধীনতা দল) ছিল মরক্কোর মুক্তি সংগ্রামের প্রাণভোমরা:
- ১১ জানুয়ারি ১৯৪৪-এর স্বাধীনতা ইশতেহার: ইস্তিকলাল পার্টি ১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসি সরকারের কাছে ‘স্বাধীনতা ইশতেহার’ (Manifesto of Independence) পেশ করে। এতে মরক্কোর ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্ব ও সুলতানের অধীনে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
- জনমত গঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠিতকরণ: দলটি ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং শ্রমিক শ্রেণিকে জাতীয় পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করে। তারা ফরাসি পণ্য বয়কট এবং সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়ে ফরাসি অর্থনীতি অচল করে দেয়।
- রাজতন্ত্রের সাথে কৌশলগত মৈত্রী: অন্য অনেক দেশের মতো রাজতন্ত্রের সাথে বিরোধ না জড়িয়ে ইস্তিকলাল পার্টি সুলতান পঞ্চম মুহাম্মদকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে এক অভিন্ন ফ্রন্ট গড়ে তোলে।
- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমর্থন আদায়: আল্লাল আল-ফাসী কায়রো থেকে আরব বিশ্ব ও আমেরিকায় মরক্কোর স্বাধীনতার পক্ষে ব্যাপক জনমত ও কূটনীতিক সমর্থন আদায় করেন।
উপসংহার
সুলতান পঞ্চম মুহাম্মদের আপসহীন দেশপ্রেম এবং ইস্তিকলাল পার্টির রাজনৈতিক ও গণসংগঠনের অপূর্ব সমন্বয়েই মরক্কো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরম বিপর্যয় এড়িয়ে সফলভাবে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
[দ্রষ্টব্য: যেকোনো দুইটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০: ১০ × ২ = ২০]
১. গাদ্দাফির পতন পরবর্তী লিবিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ কর।
[English: Analyze the political situation of Libya after the fall of Gaddafi.]
উত্তর:
২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’ এবং ন্যাটোর সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চার দশকের শাসক মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির মর্মান্তিক পতনের পর লিবিয়া এক চরম বিশৃঙ্খলা, সংঘাত ও ব্যর্থ রাষ্ট্রের (Failed State) রূপ ধারণ করে:
- দ্বৈত সরকার ও ক্ষমতার বিভাজন: লিবিয়া রাজনৈতিকভাবে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারে বিভক্ত হয়ে পড়ে:
- পশ্চিমে রাজধানী ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড’ (GNA – বর্তমানে GNU)।
- পূর্বে তবরুক ও বেনগাজীতে জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন ‘লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ (LNA) সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ ও সরকার।
- মিলিশিয়া ও উপজাতীয় দৌরাত্ম্য: গাদ্দাফির পতনের পর হাজার হাজার সশস্ত্র মিলিশিয়া গ্রুপ (যথা মিসরাতা ও জিনতান মিলিশিয়া) শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। কোনো সুসংহত জাতীয় পুলিশ বা সেনাবাহিনী গড়ে না ওঠায় মিলিশিয়াগুলো তেল ক্ষেত্র ও ব্যাংক জিম্মি করে রাখে।
- বিদেশি পরাশক্তির প্রক্সি যুদ্ধ: লিবিয়া একটি আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে পরিণত হয়। তুরস্ক ও কাতার ত্রিপোলি সরকারকে সমর্থন দেয়; অপরদিকে রাশিয়া (ভাগনার গ্রুপ), মিশর, ইউএই এবং ফ্রান্স হাফতারের বাহিনীকে সামরিক সমর্থন জোগায়।
- উদ্বাস্তু ও মানবাধিকার সংকট: আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির ফলে লিবিয়া ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপগামী অবৈধ অভিবাসী ও মানবপাচারকারীদের আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবে পরিণত হয় এবং চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থা সৃষ্টি হয়।
২. ‘বিজার্তা সংকট’ সম্পর্কে ধারণা দাও।
[English: Give an idea about the ‘Bizerta Crisis’.]
উত্তর:
পটভূমি ও পরিচয়: ১৯৫৬ সালে তিউনিসিয়া ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করলেও ফরাসিরা তাদের কৌশলগত ভূমধ্যসাগরীয় নৌ ও বিমানঘাঁটি ‘বিজার্তা’ (Bizerta) বন্দর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেয়। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফরাসিরা বিজার্তা ঘাঁটি ব্যবহার করে আলজেরীয় বিদ্রোহীদের ওপর আক্রমণ চালাত। তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট হাবিব বরগুইবা বারবার ফরাসিদের এই সামরিক ঘাঁটি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়ার দাবি জানান।
১৯৬১ সালের রক্তক্ষয়ী সংঘাত:
- ১৯৬১ সালের জুলাই মাসে তিউনিসিয়ার সেনাবাহিনী ও হাজার হাজার সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী বিজার্তা নৌঘাঁটি অবরুদ্ধ করে ফেলে।
- এর জবাবে ফরাসি বিমানবাহিনী ও প্যারাট্রুপাররা তিউনিসিয়ার ওপর সর্বাত্মক বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযান শুরু করে। এই চার দিনের রক্তক্ষয়ী অসম যুদ্ধে প্রায় এক সহস্রাধিক তিউনিসীয় নাগরিক ও সেনা শহীদ হন।
সমাধান ও তাৎপর্য: বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত হয় এবং আন্তর্জাতিক তীব্র নিন্দার মুখে ফরাসিরা চাপে পড়ে। অবশেষে ১৯৬২ সালে আলজেরিয়া স্বাধীন হওয়ার পর ফ্রান্স বিজার্তার কৌশলগত গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে এবং ১৯৬৩ সালের ১৫ অক্টোবর ফরাসি বাহিনী চিরতরে বিজার্তা ত্যাগ করে। তিউনিসিয়ায় এটি ‘উচ্ছেদ দিবস’ (Evacuation Day) হিসেবে আজও জাতীয়ভাবে উদযাপিত হয়।
৩. আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট শাদলি বেনজাদিদের প্রশাসনিক সংস্কারসমূহ পর্যালোচনা কর।
[English: Review the administrative reforms of President Chadly Benzadid of Algeria.]
উত্তর:
পরিচয়: সমাজতান্ত্রিক নেতা হোয়ারি বুমেদিনের মৃত্যুর পর ১৯৭৯ সালে কর্নেল শাদলি বেনজাদিদ (Chadli Bendjedid) আলজেরিয়ার তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন।
প্রধান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারসমূহ:
- অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: বুমেদিনের কঠোর রাষ্ট্রীয় সমাজতান্ত্রিক ও ভারী শিল্পনির্ভর অর্থনীতি পরিহার করে তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা করেন। তিনি বিশাল অদক্ষ রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশনগুলোকে ভেঙে ছোট ছোট উৎপাদনশীল ইউনিটে রূপান্তর করেন এবং ব্যক্তিমালিকানা ও কৃষিতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করেন।
- ১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বহুদলীয় সংবিধান: ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশব্যাপী ভয়াবহ দাঙ্গা (October Riots) ছড়িয়ে পড়লে তিনি একদলীয় এফএলএন শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সংবিধানের মাধ্যমে **বহুদলীয় গণতন্ত্রের** স্বীকৃতি দেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার দেওয়া হয়।
- ইসলামী রাজনৈতিক দলের অনুমোদন: তিনি আব্বাসি মাদানি ও আলী বেলহাজের নেতৃত্বাধীন ‘ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট’ (FIS)-কে প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
ফলাফল ও সংকট: ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম মুক্ত জাতীয় নির্বাচনে এফআইএস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে সেনাবাহিনী ক্ষিপ্ত হয়। ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে সেনাবাহিনী শাদলি বেনজাদিদকে পদত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল করে এবং নির্বাচন বাতিল করে, যার ফলে আলজেরিয়ায় এক দশকের ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ (Dark Decade) শুরু হয়।
৪. মরক্কোয় ফরাসি ও স্পেনিশ আগ্রাসন নীতি বিশ্লেষণ কর।
[English: Analyze the French and Spanish aggressive policy in Morocco.]
উত্তর:
উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মরক্কোর ওপর ফ্রান্স ও স্পেনের আগ্রাসী ঔপনিবেশিক নীতি আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছিল:
- ১৯০৪ সালের আঁতাত কর্দিয়াল (Entente Cordiale): ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার ঐতিহাসিক চুক্তিতে ব্রিটেন মিশরে ফরাসিদের ছাড় পাওয়ার বিনিময়ে মরক্কোয় ফ্রান্সের একচ্ছত্র আগ্রাসনের অধিকার স্বীকার করে নেয়। একই বছর ফ্রান্স গোপনে স্পেনের সাথে চুক্তি করে জিব্রাল্টার প্রণালীর বিপরীতের উত্তর মরক্কো (রিফ অঞ্চল) স্পেনকে দেওয়ার সমঝোতা করে।
- মরক্কো সংকট (১৯০৫ ও ১৯১১): মরক্কোয় ফরাসি আগ্রাসনে বাধা দিতে জার্মানির কায়জার দ্বিতীয় উইলিয়াম ১৯০৫ সালে তাঞ্জিয়ার সফরে যান এবং ১৯১১ সালে আগাদির বন্দরে গানবোট ‘প্যান্থার’ পাঠান। এর ফলে ইউরোপে মহাযুদ্ধের আবহ তৈরি হলেও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে ফ্রান্স জার্মানিকে নিবৃত্ত করে।
- ১৯১২ সালের ফেজ চুক্তি ও বিভাজন: ১৯১২ সালের ৩০ মার্চ ফ্রান্স মরক্কোর সুলতান মৌলে আব্দুল হাফিজের ওপর ‘ফেজ চুক্তি’ চাপিয়ে দিয়ে মরক্কোকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করে:
- ফরাসি জোন: মরক্কোর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের উর্বর ভূমি, আটলান্টিক উপকূল এবং প্রধান প্রধান শহর (রাবাত, কাসাব্লাঙ্কা, ফেজ)। এটি জেনারেল লাউতের (Lyautey) নেতৃত্বে ফরাসিরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করত।
- স্প্যানিশ জোন: উত্তরের ভূমধ্যসাগরীয় পার্বত্য অঞ্চল (রিফ অঞ্চল) এবং দক্ষিণের মরুভূমি তারফায়া স্পেন দখল করে।
- রিফ প্রজাতন্ত্র ও দমননীতি: ১৯২০-এর দশকে রিফ অঞ্চলের নেতা আব্দুল করিম আল-খাত্তাবী স্প্যানিশ বাহিনীকে অ্যানোয়ালের যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে ‘রিফ প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ফ্রান্স ও স্পেন যৌথভাবে প্রায় আড়াই লাখ সৈন্য ও বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে ১৯২৬ সালে এই বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ধ্বংস করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. আধুনিক যুগে উত্তর আফ্রিকার মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ (২০৫৪০৭) পত্রের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো কী কী?
উত্তর: এই পত্রে মূলত উত্তর আফ্রিকার আরব-মুসলিম মাগরেব অঞ্চল—যথা লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও মরক্কোর ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের ইতিহাস, জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা-উত্তর শাসনব্যবস্থা বিশদভাবে আলোচিত হয়।
২. লিবিয়ার সানুসিয়া আন্দোলন কীভাবে একটি সূফী তরিকা থেকে সামরিক শক্তিতে রূপ নিল?
উত্তর: সানুসিয়া তরিকার জাওয়াভিয়াগুলো কেবল যিকির-আজকারের স্থান ছিল না, বরং সেখানে কৃষিকাজ, শৃঙ্খলা ও অস্ত্রচালনা শেখানো হতো। ফলে ফরাসি ও পরবর্তীতে ১৯১১ সালে ইতালীয় আগ্রাসনের সময় তারা একটি অকুতোভয় জাতীয়তাবাদী প্রতিরোধ বাহিনীতে পরিণত হয়।
৩. আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামকে কেন ‘দশ লাখ শহীদের যুদ্ধ’ বলা হয়?
উত্তর: কারণ ১৯৫৪ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছরের মুক্তিযুদ্ধে ফরাসি ঔপনিবেশিক বাহিনীর নির্মম গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে প্রায় ১৫ লাখ আলজেরীয় বীর স্বাধীনতাকামী শহীদ হয়েছিলেন।
৪. তিউনিসিয়ায় হাবিব বরগুইবার ‘ব্যক্তিগত মর্যাদা সংহিতা’ কেন ঐতিহাসিক?
উত্তর: কারণ ১৯৫৬ সালে প্রণীত এই আধুনিক আইনের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে প্রথম বহুবিবাহকে আইনত নিষিদ্ধ করা হয় এবং বিবাহবিচ্ছেদে নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
৫. মরক্কোর স্বাধীনতা আন্দোলনে বাদশাহ পঞ্চম মুহাম্মদের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: বাদশাহ পঞ্চম মুহাম্মদ ফরাসিদের অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করে স্বাধীনতার পক্ষে অনড় অবস্থান নেন। ফরাসিরা তাঁকে মাদাগাস্কারে নির্বাসিত করলেও জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে তাঁকে ফিরিয়ে এনে মরক্কোর স্বাধীনতা মেনে নিতে বাধ্য হয়।
৬. ফাজিল ৪র্থ বর্ষের এই পত্রে ভালো নম্বর পাওয়ার কার্যকর উপায় কী?
উত্তর: প্রতিটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাল-তারিখ, ঐতিহাসিক চুক্তি (যেমন: বার্দো চুক্তি, ফেজ চুক্তি, ইভিয়ান চুক্তি) এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের (ওমর মুখতার, গাদ্দাফি, বরগুইবা, বিন বেল্লা) ভূমিকা পয়েন্ট আকারে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হবে।