اختبار السنة الثانية لتفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ۲۰۱۹م
الدعوة والدراسات الإسلامية
قواعد اللغة العربية [কোর্স কোড: 203203]
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ۸۰
القسم الأول: علم النحو [১ম অংশ: ইলমুন নাহু – মান: ৩০]
١- (أ) عرف علم النحو لغة واصطلاحًا – ثم بين موضوعه وغرضه
تعريف علم النحو وموضوعه وغرضه / ইলমুন নাহু-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক পরিচয়, আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য
১. শাব্দিক পরিচয় (علم النحو لغة):
‘নাহু’ (النَّحْوُ) আরবি শব্দ। এর মূলধাতু বা মাসদার হলো (نَحْوٌ)। আরবি অভিধানে নাহু শব্দের একাধিক অর্থ বর্ণিত হয়েছে। যেমন—
- আল-কাসদ (الْقَصْدُ): ইচ্ছা বা সংকল্প করা। যেমন: نَحَوْتُ نَحْوَكَ (আমি আপনার ইচ্ছা করেছি)।
- আল-মিছল (الْمِثْلُ): সদৃশ বা দৃষ্টান্ত। যেমন: زَيْدٌ نَحْوُ عَمْرٍو (যায়েদ আমরের সদৃশ)।
- আল-জিহাত (الْجِهَةُ): দিক বা অভিমুখ। যেমন: سِرْتُ نَحْوَ الْمَسْجِدِ (আমি মসজিদের দিকে হেঁটেছি)।
- আল-মিকদার (الْمِقْدَارُ): পরিমাণ। যেমন: عِنْدِي نَحْوُ أَلْفِ دِرْهَمٍ (আমার নিকট প্রায় এক হাজার দিরহাম রয়েছে)।
২. পারিভাষিক সংজ্ঞা (علم النحو اصطلاحًا):
নাহুবিদদের পরিভাষায় আল্লামা ইবনু হিশাম ও কাফিয়া প্রণেতা ইবনুল হাজিব (রহ.)-এর মতে:
«عِلْمُ النَّحْوِ: عِلْمٌ بِأُصُولٍ يُعْرَفُ بِهَا أَحْوَالُ أَوَاخِرِ الْكَلِمِ الثَّلَاثِ إِعْرَابًا وَبِنَاءً، وَكَيْفِيَّةُ تَرْكِيبِ بَعْضِهَا مَعَ بَعْضٍ»
ভাষান্তর: “ইলমুন নাহু হলো এমন কিছু মৌলিক নিয়মনীতির জ্ঞান, যার দ্বারা তিন প্রকার কালিমার (ইসম, ফেল ও হরফ) শেষাক্ষরের অবস্থা—ই’রাব (পরিবর্তনশীলতা) ও বিনা (অপরিবর্তনশীলতা) জানা যায় এবং একটি শব্দকে অন্য শব্দের সাথে বাক্য গঠনের নিয়ম অবগত হওয়া যায়।”
৩. ইলমুন নাহু-এর আলোচ্য বিষয় (موضوع علم النحو):
ইলমুন নাহুর আলোচ্য বিষয় হলো ‘আল-কালিমা ওয়াল কালাম’ (الْكَلِمَةُ وَالْكَلَامُ) অর্থাৎ শব্দ ও বাক্য। পারস্পরিক বাক্যগঠন এবং শব্দের শেষাক্ষরের অবস্থার পরিবর্তনের দিক থেকে তা এ শাস্ত্রে আলোচিত হয়।
৪. ইলমুন নাহু-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য (غرض علم النحو):
- কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ অনুধাবন: ওহীর বাণী সঠিকভাবে বোঝা এবং শাব্দিক ও অর্থগত বিভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত থাকা।
- আরবি ভাষায় বাকরীতিতে ভুলত্রুটি রোধ: আরবি কথন, পঠন ও লিখনে শাব্দিক পদস্খলন (اللَّحْنُ فِي الْكَلَامِ) থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা।
- শরয়ী হুকুম-আহকাম উদ্ঘাটনে সহায়তা: ফিকহী ইজতিহাদ ও তাফসিরের সূক্ষ্ম ভাবার্থ অনুধাবনের ভিত্তি স্থাপন করা।
١- (ب) عرف الاسم – ثم بين أقسامه من حيث التذكير والتأنيث والإفراد والتثنية والجمع والتنكير والتعريف مفصلاً وممثلاً
تعريف الاسم وتفصيل أقسامه / ইসমের পরিচয় এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রকারভেদ
১. ইসমের পারিভাষিক পরিচয় (تعريف الاسم):
আল্লামা ইবনুল হাজিব (রহ.) কাফিয়া গ্রন্থে বলেন:
«الِاسْمُ: مَا دَلَّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهِ غَيْرَ مُقْتَرِنٍ بِأَحَدِ الْأَزْمِنَةِ الثَّلَاثَةِ»
ভাষান্তর: “ইসম (বিশেষ্য) হলো এমন শব্দ যা নিজস্ব সত্তা দ্বারা স্বাধীনভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে এবং অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ—এই তিন কালের কোনোটির সাথে সংযুক্ত থাকে না।” যেমন: رَجُلٌ (ব্যক্তি), كِتَابٌ (বই), مَكَّةُ (মক্কা নগরী)।
২. বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ইসমের বিস্তারিত প্রকারভেদ:
ক. মুযাক্কার ও মুয়ান্নাস (পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক) হিসেবে প্রকারভেদ:
- মুযাক্কার (الْمُذَكَّرُ): যে শব্দ পুরুষ সত্তাকে নির্দেশ করে এবং যাতে কোনো স্ত্রীলিঙ্গ চিহ্ন নেই। যেমন: رَجُلٌ (পুরুষ), قَلَمٌ (কলম)।
- মুয়ান্নাস (الْمُؤَنَّثُ): যে শব্দ স্ত্রী সত্তাকে নির্দেশ করে কিংবা যাতে তা’নীসের চিহ্ন (গোল তা ‘ة’, আলিফে মাকসূরা ‘ى’, আলিফে মামদূদা ‘اء’) বিদ্যমান থাকে। যেমন: امْرَأَةٌ (মহিলা), عَائِشَةُ, كُبْرَى, صَحْرَاءُ, شَمْسٌ (মুয়ান্নাসে সামাঈ)।
খ. আদাদ বা বচন (সংখ্যা) হিসেবে প্রকারভেদ:
- মুফরাদ বা একবচন (الْمُفْرَدُ): যা একক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে। যেমন: مُسْلِمٌ (একজন মুসলিম), كِتَابٌ (একটি বই)।
- তাছনিয়া বা দ্বিবচন (الْمُثَنَّى): যা দুই ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে এবং শব্দের শেষে অতিরিক্ত আলিফ-নুন (রাফা অবস্থায়) অথবা ইয়া-নুন (নাসব ও জর অবস্থায়) যুক্ত হয়। যেমন: مُسْلِمَانِ (দুইজন মুসলিম – মারফু), مُسْلِمَيْنِ (মানসুব/মাজরুর)।
- জমা বা বহুবচন (الْجَمْعُ): যা দুইয়ের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে। এটি প্রধানত দুই প্রকার:
- জমা সালেম (الْجَمْعُ السَّالِمُ): একবচনের রূপ অক্ষুণ্ণ থাকে। যেমন: পুংলিঙ্গে مُسْلِمُونَ / مُسْلِمِينَ (জমা মুযাক্কার সালেম); স্ত্রীলিঙ্গে مُسْلِمَاتٌ (জমা মুয়ান্নাস সালেম)।
- জমা তাকসীর (جَمْعُ التَّكْسِيرِ): একবচনের রূপ ভেঙে যায়। যেমন: رِجَالٌ (একবচন: রজলুন), كُتُبٌ (একবচন: কিতাবুন)।
গ. মারেফা ও নাকেরা (নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট) হিসেবে প্রকারভেদ:
- নাকেরা বা অনির্দিষ্ট (النَّكِرَةُ): যা কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে। যেমন: رَجُلٌ (যেকোনো ব্যক্তি), مَدِينَةٌ (যেকোনো শহর)।
- মারেফা বা নির্দিষ্ট (الْمَعْرِفَةُ): যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে। মারেফা সর্বমোট সাত প্রকার:
- দমীর বা সর্বনাম (الضَّمِيرُ): যেমন— هُوَ, أَنْتَ, أَنَا।
- আলম বা নামবাচক বিশেষ্য (الْعَلَمُ): যেমন— مُحَمَّدٌ, مَكَّةُ।
- ইসমুল ইশারা বা নির্দেশক সর্বনাম (اسْمُ الْإِشَارَةِ): যেমন— هَذَا, هَذِهِ, ذَلِكَ।
- ইসমুল মাউসুল বা সম্বন্ধপদ (الِاسْمُ الْمَوْصُولُ): যেমন— الَّذِي, الَّتِي।
- মু’আররাফ বিল-লাম বা আলিফ-লাম যুক্ত শব্দ (الْمُعَرَّفُ بِاللَّامِ): যেমন— الرَّجُلُ, الْكِتَابُ।
- মুদাফ ইলা মারেফা বা নির্দিষ্ট শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (الْمُضَافُ إِلَى الْمَعْرِفَةِ): যেমন— كِتَابُ زَيْدٍ, قَلَمِي।
- মুনাদা বা সম্বোধিত পদ (الْمُنَادَى الْمَقْصُودُ): যেমন— يَا رَجُلُ।
١- (ج) عرف الفعل ثم بين أقسامه من حيث الزمن والتعدي واللزوم وبنائه للمعلوم وللمجهول ممثلاً
تعريف الفعل وأقسامه المختلفة / ফেলের পরিচয় এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রকারভেদ
১. ফেলের পারিভাষিক পরিচয় (تعريف الفعل):
ইলমুন নাহুর পরিভাষায় ফেল বলা হয়:
«الْفِعْلُ: كَلِمَةٌ دَلَّتْ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهَا مُقْتَرِنَةٍ بِأَحَدِ الْأَزْمِنَةِ الثَّلَاثَةِ وَضْعًا»
ভাষান্তর: “ফেল (ক্রিয়া) হলো এমন শব্দ যা নিজস্ব সত্তা দ্বারা কোনো কাজের অর্থ প্রকাশ করে এবং তিন কালের (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ) কোনো একটি কালের সাথে অপরিহার্যভাবে সম্পৃক্ত থাকে।” যেমন: كَتَبَ (সে লিখেছে), يَكْتُبُ (সে লিখছে বা লিখবে), اكْتُبْ (তুমি লেখো)।
২. বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ফেলের প্রকারভেদ:
ক. যামানা বা কাল অনুসারে ফেলের প্রকারভেদ (من حيث الزمن):
- ১. ফেলে মাযী বা অতীতকাল (الْفِعْلُ الْمَاضِي): যা অতীতকালে কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়া নির্দেশ করে। যেমন: نَصَرَ (সে সাহায্য করেছে), قَرَأَ (সে পড়েছে)।
- ২. ফেলে মুযারে বা বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল (الْفِعْلُ الْمُضَارِعُ): যা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজ করা বা হওয়া নির্দেশ করে। এর শুরুতে আতায়না (أ-ت-ي-ن) হরফের কোনো একটি যুক্ত থাকে। যেমন: يَنْصُرُ (সে সাহায্য করছে বা করবে)।
- ৩. ফেলে আমর বা আদেশসূচক ক্রিয়া (فِعْلُ الْأَمْرِ): যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যেমন: انْصُرْ (তুমি সাহায্য করো), اجْلِسْ (তুমি বসো)। (অনেক ব্যাকরণবিদ নিষেধসূচক ফেলকে ‘নাহী’ হিসেবে স্বতন্ত্র উল্লেখ করেন: لَا تَفْعَلْ)।
খ. কর্ম গ্রহণ ও না-গ্রহণের দিক থেকে প্রকারভেদ (من حيث التعدي واللزوم):
- ১. ফেলে লাযেম বা অকর্মক ক্রিয়া (الْفِعْلُ اللَّازِمُ): যে ফেল কেবল কর্তা (ফায়েল)-কে নিয়েই পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে এবং মাফউলে বিহী (কর্মপদ)-এর মুখাপেক্ষী হয় না। যেমন: قَامَ زَيْدٌ (যায়েদ দাঁড়িয়েছে), ذَهَبَ بَكْرٌ (বকর চলে গেছে)।
- ২. ফেলে মুতাআদ্দি বা সকর্মক ক্রিয়া (الْفِعْلُ الْمُتَعَدِّي): যে ফেল কেবল ফায়েল দ্বারা অর্থ পূর্ণ করতে পারে না; বরং বক্তব্য সমাপ্ত করার জন্য মাফউলে বিহী (কর্মপদ)-এর প্রয়োজন হয়। যেমন: شَرِبَ زَيْدٌ الْمَاءَ (যায়েদ পানি পান করেছে – এখানে ‘আল-মাআ’ মাফউল)।
গ. ফায়েল উল্লেখ থাকা বা না-থাকার দিক থেকে প্রকারভেদ (من حيث البناء للمعلوم والمجهول):
- ১. মা’রূফ বা কর্তৃবাচ্য (الْمَبْنِيُّ لِلْمَعْلُومِ): যে ক্রিয়ার কর্তা (ফায়েল) বাক্যে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। যেমন: خَلَقَ اللَّهُ الْإِنْسَانَ (আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন – এখানে আল্লাহ তায়ালা ফায়েল মা’লূম)।
- ২. মাজহুল বা কর্মবাচ্য (الْمَبْنِيُّ لِلْمَجْهُولِ): যে ক্রিয়ার ফায়েলকে গোপন রেখে মাফউলকে ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত (নায়েবে ফায়েল) করা হয়। যেমন: মাযীতে প্রথম অক্ষরে পেশ ও শেষাক্ষরের পূর্বে যের হয়— خُلِقَ الْإِنْسَانُ (মানুষ সৃষ্ট হয়েছে); মুযারেতে প্রথম অক্ষরে পেশ ও শেষাক্ষরের পূর্বে যবর হয়— يُكْرَمُ الصَّالِحُ (সৎ ব্যক্তিকে সম্মান করা হয়)।
١- (د) عرف المبتدأ والخبر ثم اكتب موضع تقديم المبتدأ على الخبر وجوبًا بالأمثلة
تعريف المبتدأ والخبر ومواضع تقديم المبتدأ وجوبًا / মুবতাদা ও খবরের পরিচয় এবং খবরের ওপর মুবতাদাকে ওয়াজিবভাবে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রসমূহ
১. মুবতাদা ও খবরের পরিচয় (تعريف المبتدأ والخبر):
- মুবতাদা (الْمُبْتَدَأُ): জুমলায়ে ইসমিয়্যার যে অংশ দ্বারা বাক্য শুরু করা হয় এবং যার সম্পর্কে কোনো তথ্য বা বিধান আরোপ করা হয় (المُسْنَدُ إِلَيْهِ), তাকে মুবতাদা বলে। এটি সাধারণত মারফু এবং মারেফা হয়ে থাকে। যেমন: اللَّهُ رَبُّنَا (আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক – এখানে ‘আল্লাহু’ মুবতাদা)।
- খবর (الْخَبَرُ): মুবতাদা সম্পর্কে যা কিছু সংবাদ বা তথ্য প্রকাশ করা হয় (المُسْنَدُ), যা ছাড়া বাক্যের অর্থ পূর্ণ হয় না, তাকে খবর বলে। এটিও মূলত মারফু হয়ে থাকে। যেমন: الْعِلْمُ نُورٌ (জ্ঞান আলো – এখানে ‘নূরুন’ খবর)।
২. খবরের ওপর মুবতাদাকে ওয়াজিবভাবে আগে আনার (তাকদীম করার) ক্ষেত্রসমূহ:
স্বাভাবিক অবস্থায় মুবতাদা আগে এবং খবর পরে আসে। তবে নিম্নের ক্ষেত্রগুলোতে মুবতাদাকে খবরের পূর্বে আনা বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব):
- মুবতাদা যদি এমন শব্দ হয় যা বাক্যের শুরুতে আসা আবশ্যক (صَدَارَةُ الْكَلَامِ): যেমন ইসমুল ইসতিফহাম (প্রশ্নবোধক সর্বনাম) বা ইসমুশ শারত (শর্তবোধক সর্বনাম)।
উদাহরণ: مَنْ قَادِمٌ؟ (কে আগমনকারী? – ‘মান’ মুবতাদা) অথবা مَنْ يَجْتَهِدْ يَنْجَحْ (যে পরিশ্রম করে সে সফল হয়)। - মুবতাদা ও খবর উভয়ই মারেফা অথবা উভয়ই নাকেরা হলে এবং স্পষ্টকারী কোনো লক্ষণ না থাকলে: যদি আগে-পরে করলে অর্থের বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকে (خَوْفُ اللَّبْسِ), তবে প্রথমটিকেই মুবতাদা ধরা ওয়াজিব।
উদাহরণ: زَيْدٌ أَخُوكَ (যায়েদ তোমার ভাই – এখানে ‘যায়দুন’কে আগে আনা ওয়াজিব; কারণ ‘আখূকা যায়দুন’ বললে অর্থ ও উদ্দেশ্য পাল্টে যাবে)। - খবর যদি এমন জুমলায়ে ফেলিয়্যা হয় যার ফায়েল মুবতাদার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী দমীর:
উদাহরণ: زَيْدٌ قَامَ (যায়েদ দাঁড়িয়েছে – এখানে ‘ক্বামা’র ভেতরে ‘হুওয়া’ দমীর যা যায়েদের দিকে ফিরেছে। যদি বলা হয় ‘ক্বামা যায়দুন’, তখন তা জুমলায়ে ফেলিয়্যা হয়ে যায়েদ ফায়েল হয়ে যাবে)। - মুবতাদার সাথে যদি লামে ইবতিদা (لَامُ الِابْتِدَاءِ) যুক্ত হয়:
উদাহরণ: ﴿لَأَنتُمْ أَشَدُّ رَهْبَةً فِي صُدُورِهِم مِّنَ اللَّهِ﴾ (তোমরাই তাদের অন্তরে আল্লাহ অপেক্ষা অধিক ভীতিকর – এখানে ‘লা-আনতুম’ মুবতাদা এবং লামের কারণে তা পূর্বে আসা ওয়াজিব)। - মুবতাদা যখন খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয় ‘ইন্নামা’ (إِنَّمَا) বা ‘ইল্লা’ (إِلَّا)-এর মাধ্যমে (الْقَصْرُ وَالْحَصْرُ):
উদাহরণ: إِنَّمَا زَيْدٌ كَاتِبٌ (যায়েদ কেবল একজন লেখকই) অথবা مَا زَيْدٌ إِلَّا شَاعِرٌ (যায়েদ কবি ছাড়া কিছু নয়)।
١- (هـ) كم قسمًا للتوابع؟ عرف النعت ثم بين وجوه التطابق بين النعت والمنعوت ممثلاً
أقسام التوابع وتعريف النعت وأوجه التطابق بين النعت والمنعوت / তাওয়াবে-এর প্রকারভেদ, না’তের সংজ্ঞা এবং না’ত ও মান’উতের সামঞ্জস্যতা
১. তাওয়াবের পরিচয় ও প্রকারভেদ (أقسام التوابع):
যেসব শব্দ তার পূর্ববর্তী পদের (মাতবূ’) অনুসরণ করে ই’রাব লাভ করে, তাদেরকে ‘তাওয়াবে’ (التَّوَابِعُ) বলে। তাওয়াবে সর্বমোট পাঁচ প্রকার:
- আন-না’ত বা সিফাত (النَّعْتُ / الصِّفَةُ): যেমন— جَاءَ رَجُلٌ عَالِمٌ।
- আল-আতফ বিল-হরফ (الْعَطْفُ بِالْحَرْفِ): যেমন— جَاءَ زَيْدٌ وَعَمْرٌو।
- আত-তাকীদ (التَّأْكِيدُ): যেমন— جَاءَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ।
- আল-বদল (الْبَدَلُ): যেমন— قَالَ الْخَلِيفَةُ عُمَرُ।
- আতফে বায়ান (عَطْفُ الْبَيَانِ): যেমন— أَقْسَمَ بِاللَّهِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ।
২. না’ত-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (تعريف النعت):
ইবনুল হাজিব (রহ.) বলেন:
«النَّعْتُ: هُوَ التَّابِعُ الَّذِي يَدُلُّ عَلَى صِفَةٍ فِي مَتْبُوعِهِ أَوْ فِي شَيْءٍ يَتَعَلَّقُ بِمَتْبُوعِهِ»
ভাষান্তর: “না’ত (বিশেষণ) হলো এমন অনুগামী পদ যা তার পূর্ববর্তী মাতবূ’ (মান’উত)-এর কোনো গুণ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, অথবা মাতবূ’র সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে।”
৩. না’ত ও মান’উতের মাঝে সামঞ্জস্যতার ক্ষেত্রসমূহ (أوجه التطابق):
হাকীকী না’ত (النعت الحقيقي) তার মান’উতের সাথে মোট ১০টি বিষয়ের মধ্যে ৪টি বিষয়ে হুবহু সাদৃশ্য বজায় রাখা আবশ্যক:
| ক্ষেত্র (মোট ১০টি গুণ) | বাধ্যতামূলক সাদৃশ্য (৪টি বিষয়ে) | উদাহরণ ও বিশ্লেষণ |
|---|---|---|
| ১. ই’রাব (الإعراب): রাফা, নাসব, জর (৩টি) |
মান’উত যে ই’রাব পাবে, না’তও সেই ই’রাব পাবে (১টি) | جَاءَ رَجُلٌ كَرِيمٌ (মারফু) رَأَيْتُ رَجُلًا كَرِيمًا (মানসুব) مَرَرْتُ بِرَجُلٍ كَرِيمٍ (মাজরুর) |
| ২. তাদকীক ও তা’নীস (التذكير والتأنيث): পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ (২টি) |
মুযাক্কার হলে মুযাক্কার, মুয়ান্নাস হলে মুয়ান্নাস (১টি) | طَالِبٌ مُجْتَهِدٌ (মুযাক্কার) طَالِبَةٌ مُجْتَهِدَةٌ (মুয়ান্নাস) |
| ৩. আদাদ বা বচন (العدد): মুফরাদ, তাছনিয়া, জমা (৩টি) |
একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচনে হুবহু মিল থাকবে (১টি) | مُسْلِمٌ صَالِحٌ (একবচন) مُسْلِمَانِ صَالِحَانِ (দ্বিবচন) مُسْلِمُونَ صَالِحُونَ (বহুবচন) |
| ৪. তা’রীফ ও তানকীর (التعريف والتنكير): মারেফা ও নাকেরা (২টি) |
নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট হওয়ায় মিল থাকবে (১টি) | الْكِتَابُ الْمُفِيدُ (মারেফা) كِتَابٌ مُفِيدٌ (নাকেরা) |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: গায়রে আক্বেল (বিবেকহীন)-এর জমা মুকাসসারের সিফাত সাধারণত ওয়াহেদ মুয়ান্নাস (একবচন স্ত্রীবাচক) হয়। যেমন: كُتُبٌ قَيِّمَةٌ, أَيَّامٌ مَعْدُودَاتٌ।
القسم الثاني: علم الصرف [২য় অংশ: ইলমুস সারফ – মান: ২০]
٢- (أ) عرف علم الصرف ثم بين موضوعه وغرضه
تعريف علم الصرف وموضوعه وغرضه / ইলমুস সারফ-এর পরিচয়, আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য
১. ইলমুস সারফ-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক পরিচয়:
‘সারফ’ (الصَّرْفُ) শব্দের আভিধানিক অর্থ রূপান্তর করা (التَّحْوِيلُ ও التَّغْيِيرُ)। যেমন আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন: ﴿وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ﴾ (বায়ুর গতিপথের রূপান্তর)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: সারফবিদদের মতে—
«عِلْمُ الصَّرْفِ: عِلْمٌ بِأُصُولٍ يُعْرَفُ بِهَا أَحْوَالُ أَبْنِيَةِ الْكَلِمِ الَّتِي لَيْسَتْ بِإِعْرَابٍ وَلَا بِنَاءٍ»
ভাষান্তর: “ইলমুস সারফ হলো এমন কিছু নিয়মনীতির জ্ঞান, যার দ্বারা শব্দের অভ্যন্তরীণ গঠনকাঠামো জানা যায়, যা ই’রাব বা বিনার সাথে সম্পৃক্ত নয়।” অর্থাৎ একটি মূলধাতু (মাসদার) থেকে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শব্দ রূপান্তরের নিয়ম এ শাস্ত্রে শিক্ষা দেওয়া হয়।
২. ইলমুস সারফ-এর আলোচ্য বিষয় (موضوع علم الصرف):
ইলমুস সারফের আলোচ্য বিষয় হলো ইসমুল মুতামাক্কিন (المُعْرَبُ مِنَ الْأَسْمَاءِ) এবং ফেলে মুতাসাররিফ (الْفِعْلُ الْمُتَصَرِّفُ)। অর্থাৎ যে বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদের রূপান্তর সম্ভব, সেগুলোর অভ্যন্তরীণ রূপ পরিবর্তন নিয়ে এ শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়। অবিকৃত ইসম (মাবনী) এবং জামিদ ফেল (যেমন— عَسَى, لَيْسَ) সারফের আলোচ্য বিষয় নয়।
৩. ইলমুস সারফ-এর উদ্দেশ্য ও ফযিলত (غرض علم الصرف):
- শব্দ গঠনে জিহ্বাকে ভুল থেকে রক্ষা করা: আরবি শব্দ গঠন, ওজন এবং তাহলীল করার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি থেকে নিজেকে বাঁচানো।
- একটি শব্দ থেকে বহু অর্থবোধক শব্দের রূপান্তর জানা: যেমন ‘নাসর’ মূলধাতু থেকে নাছারা, ইয়ানসুরু, নাসিরুন, মানসুরুন ইত্যাদি অগণিত শব্দ গঠন করার ক্ষমতা অর্জন।
- কুরআন ও সুন্নাহর গভীর সাহিত্যিক মর্ম ও বালাগাত অনুধাবন করা। সারফ শাস্ত্রকে আরবি ভাষার ‘জননী’ (الصرف أم العلوم) এবং নাহু শাস্ত্রকে ‘পিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
٢- (ب) كم قسمًا للفعل من حيث التجرد والزيادة؟ اذكر أوزان الفعل الثلاثي المزيد فيه
أقسام الفعل من حيث التجرد والزيادة وأوزان الثلاثي المزيد فيه / মুজাররাদ ও মাযীদ হিসেবে ফেলের প্রকার এবং ছুলাসী মাযীদ ফীহ-এর ওযানসমূহ
১. মুজাররাদ ও মাযীদ হিসেবে ফেলের প্রকারভেদ:
মৌলিক অক্ষরের বিবেচনায় ফেলকে প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়:
- মুজাররাদ (الْمُجَرَّدُ): যে ফেলের অতীতকালের প্রথম সীগাহয় কেবল মূল অক্ষর থাকে, কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে না। এটি দুই প্রকার:
- ছুলাসী মুজাররাদ (الثلاثي المجرد): যার মূল অক্ষর তিনটি। যেমন: ضَرَبَ, نَصَرَ।
- রুবায়ী মুজাররাদ (الرباعي المجرد): যার মূল অক্ষর চারটি। যেমন: دَحْرَجَ, زَلْزَلَ।
- মাযীদ ফীহ (الْمَزِيدُ فِيهِ): যে ফেলের মূল অক্ষরের সাথে এক বা একাধিক অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়। এটিও দুই প্রকার:
- ছুলাসী মাযীদ ফীহ (الثلاثي المزيد فيه): তিন মূল অক্ষরের সাথে অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়ে গঠিত। যেমন: أَكْرَمَ, اجْتَمَعَ।
- রুবায়ী মাযীদ ফীহ (الرباعي المزيد فيه): চার মূল অক্ষরের সাথে অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়ে গঠিত। যেমন: تَدَحْرَجَ, احْرَنْجَمَ।
২. ছুলাসী মাযীদ ফীহ-এর প্রসিদ্ধ বাবাসমূহ ও ওযান (أوزان الثلاثي المزيد فيه):
ছুলাসী মাযীদ ফীহ-এর প্রসিদ্ধ বাবাসমূহ প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত:
- ১. এক অক্ষর অতিরিক্ত যুক্ত বাবাসমূহ (أوزان الرباعي بحرف واحد):
- أَفْعَلَ – يُفْعِلُ – إِفْعَالًا (বাব ইফ’আল): যেমন— أَكْرَمَ – يُكْرِمُ – إِكْرَامًا।
- فَعَّلَ – يُفَعِّلُ – تَفْعِيلًا (বাব তাফ’ঈল): যেমন— صَرَّفَ – يُصَرِّفُ – تَصْرِيفًا।
- فَاعَلَ – يُفَاعِلُ – مُفَاعَلَةً (বাব মুফা’আলাহ): যেমন— قَاتَلَ – يُقَاتِلُ – مُقَاتَلَةً।
- ২. দুই অক্ষর অতিরিক্ত যুক্ত বাবাসমূহ (أوزان الخماسي بحرفين):
- انْفَعَلَ – يَنْفَعِلُ – انْفِعَالًا (বাব ইনফিয়াল): যেমন— انْكَسَرَ – يَنْكَسِرُ – انْكِسَارًا।
- افْتَعَلَ – يَفْتَعِلُ – افْتِعَالًا (বাব ইফতিয়াল): যেমন— اجْتَمَعَ – يَجْتَمِعُ – اجْتِمَاعًا।
- افْعَلَّ – يَفْعَلُّ – افْعِلَالًا (বাব ইফ’ইলাল): যেমন— احْمَرَّ – يَحْمَرُّ – احْمِرَارًا।
- تَفَعَّلَ – يَتَفَعَّلُ – تَفَعُّلًا (বাব তাফা’উল): যেমন— تَعَلَّمَ – يَتَعَلَّمُ – تَعَلُّمًا।
- تَفَاعَلَ – يَتَفَاعَلُ – تَفَاعُلًا (বাব তাফা’উল): যেমন— تَبَاعَدَ – يَتَبَاعَدُ – تَبَاعُدًا।
- ৩. তিন অক্ষর অতিরিক্ত যুক্ত বাবাসমূহ (أوزان السداسي بثلاثة أحرف):
- اسْتَفْعَلَ – يَسْتَفْعِلُ – اسْتِفْعَالًا (বাব ইসতিফ’আল): যেমন— اسْتَغْفَرَ – يَسْتَغْفِرُ – اسْتِغْفَارًا।
- افْعَوْعَلَ – يَفْعَوْعِلُ – افْعِيعَالًا (বাব ইফ’ঈ’আল): যেমন— اعْشَوْشَبَ الْأَرْضُ।
٢- (ج) عرف التصغير ثم بين أوزان التصغير مع ذكر الأحكام المتعلقة بها
تعريف التصغير وأوزانه وأحكامه / তাসগীরের পরিচয়, ওযানসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট বিধান
১. তাসগীর-এর পারিভাষিক পরিচয় (تعريف التصغير):
আরবি ব্যাকরণে তাসগীর (ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপান্তর) বলা হয়:
«التَّصْغِيرُ: تَحْوِيلُ الِاسْمِ الْمُعْرَبِ إِلَى صِيغَةِ (فُعَيْل) أَوْ (فُعَيْعِل) أَوْ (فُعَيْعِيل) لِأَغْرَاضٍ مَعْلُومَةٍ»
ভাষান্তর: “নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য (যেমন: ক্ষুদ্রতা প্রকাশ, আদর-স্নেহ, তুচ্ছতা বা সময়/স্থানের নৈকট্য জ্ঞাপন)-এর উদ্দেশ্যে কোনো মু’রাব ইসমকে ফুআইল (فُعَيْل), ফুআই’ইল (فُعَيْعِل) বা ফুআই’ঈল (فُعَيْعِيل) ওযনে রূপান্তর করাকে তাসগীর বলে।”
২. তাসগীরের ওযানসমূহ (أوزان التصغير الثلاثة):
মু’রাব ইসমের মূল অক্ষরের সংখ্যার ভিত্তিতে তাসগীরের ওযান তিনটি:
- ১. ফুআইল (فُعَيْلٌ): তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের তাসগীর এ ওযনে হয়। প্রথম অক্ষরে পেশ, দ্বিতীয় অক্ষরে যবর এবং তৃতীয় স্থানে একটি সাকিন ইয়া (ياء التصغير) যুক্ত হয়।
যেমন: رَجُلٌ থেকে رُجَيْلٌ (ছোট পুরুষ), قَلَمٌ থেকে قُلَيْمٌ, جَبَلٌ থেকে جُبَيْلٌ, عَبْدٌ থেকে عُبَيْدٌ। - ২. ফুআই’ইল (فُعَيْعِلٌ): চার অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের তাসগীর এ ওযনে হয়। ইয়া-এর পরবর্তী অক্ষরে যের হয়।
যেমন: دِرْهَمٌ থেকে دُرَيْهِمٌ, مَسْجِدٌ থেকে مُسَيْجِدٌ, جَعْفَرٌ থেকে جُعَيْفِرٌ। - ৩. ফুআই’ঈল (فُعَيْعِيلٌ): পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ যার চতুর্থ অক্ষরটি হরফে ইল্লত (আলিফ, ওয়াও বা ইয়া) হয়।
যেমন: مِصْبَاحٌ থেকে مُصَيْبِيحٌ, عُصْفُورٌ থেকে عُصَيْفِيرٌ, قِنْدِيلٌ থেকে قُنَيْدِيلٌ।
৩. তাসগীরের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট হুকুমসমূহ (أحكام التصغير):
- ক্ষুদ্রতা প্রকাশ (تقليل الحجم): যেমন— كُلَيْبٌ (ছোট কুকুর)।
- সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা (تقليل العدد): যেমন— دُرَيْهِمَاتٌ (কয়েকটি দিরহাম)।
- আদর-স্নেহ প্রকাশ (التحبب والتلطف): যেমন— يَا بُنَيَّ (হে আমার প্রিয় বৎস!), أُخَيَّ (আমার প্রিয় ভাই!)।
- তুচ্ছতা জ্ঞাপন (التحقير): যেমন— رُجَيْلٌ (নগণ্য ব্যক্তি), شُوَيْعِرٌ (তুচ্ছ কবি)।
- সময় বা দূরত্বের নৈকট্য (تقريب الزمان أو المكان): যেমন— قُبَيْلَ الْمَغْرِبِ (মাগরিবের ঠিক পূর্বে), فُوَيْقَ الْجَبَلِ (পাহাড়ের সামান্য উপরে)।
- মাবনী ইসম, ফেল এবং হরফের তাসগীর হয় না। আল্লাহর নাম বা পবিত্র ফেরেশতাদের নামের ক্ষেত্রে তাসগীর করা নাজায়েজ।
٢- (د) اكتب مواضع استخدام همزة القطع وهمزة الوصل ممثلاً
همزة القطع وهمزة الوصل ومواضع استخدامهما / হামযাতুল কত’ এবং হামযাতুল ওয়াসল ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ
১. মৌলিক পরিচয়:
- হামযাতুল ওয়াসল (هَمْزَةُ الْوَصْلِ): যে হামযা শব্দের শুরুতে উচ্চারিত হয়, কিন্তু পূর্ববর্তী শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়ার সময় বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং লেখায় কেবল খালি আলিফ (ا) বা উপরে ছোট ‘ص’ চিহ্ন থাকে।
- হামযাতুল কত’ (هَمْزَةُ الْقَطْعِ): যে হামযা সর্বাবস্থায়—শুরুতে হোক বা মাঝে মিলিয়ে পড়ার সময় হোক—স্পষ্টভাবে উচ্চারিত ও লিখিত হয় (ء / أ / إ / ؤ / ئ)।
২. হামযাতুল ওয়াসল ব্যবহারের স্থানসমূহ (مواضع همزة الوصل):
- হরফের মধ্যে: নির্দিষ্টতাবাচক আলিফ-লাম (ال)-এর হামযা। যেমন: الْكِتَابُ, الْقَلَمُ (মিলিয়ে পড়লে: وَالْكِتَابُ)।
- ইসমের মধ্যে: আরবি ভাষার সুনির্দিষ্ট ১০টি বিশেষ ইসমের হামযা:
اسْمٌ (নাম), ابْنٌ (পুত্র), ابْنَةٌ (কন্যা), امْرُؤٌ (ব্যক্তি), امْرَأَةٌ (স্ত্রীলোক), اثْنَانِ (দুই পুরুষ), اثْنَتَانِ (দুই নারী), ابْنُمٌ, ايْمُنُ اللَّهِ (শপথসূচক), اسْتٌ। - ফেলের মধ্যে:
- ছুলাসী মুজাররাদের আমরের হামযা: যেমন— اكْتُبْ (একতুব), انْصُرْ, اضْرِبْ।
- খুমাসী ও সুদাসী (পাঁচ ও ছয় অক্ষরবিশিষ্ট) ফেলের মাযী, আমর ও মাসদারের হামযা:
যেমন: انْطَلَقَ – انْطَلِقْ – انْطِلَاقًا (পাঁচ অক্ষর); اسْتَغْفَرَ – اسْتَغْفِرْ – اسْتِغْفَارًا (ছয় অক্ষর)।
৩. হামযাতুল কত’ ব্যবহারের স্থানসমূহ (مواضع همزة القطع):
হামযাতুল ওয়াসলের উল্লেখিত স্থানগুলো ব্যতীত যাবতীয় হামযাই হামযাতুল কত’। প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:
- যাবতীয় হরফ (أَلْفَاظُ الْحُرُوفِ): আলিফ-লাম ব্যতীত সকল হরফ। যেমন: إِنَّ, أَنَّ, إِلَى, إِذَا, أَوْ, أَمْ।
- যাবতীয় সাধারণ ইসম: উপরে উল্লেখিত ১০টি শব্দ ব্যতীত সকল বিশেষ্য ও সর্বনাম। যেমন: أَحْمَدُ, إِبْرَاهِيمُ, أَنَا, أَنْتَ, أَبٌ, أُمٌّ।
- ফেলের মধ্যে:
- ছুলাসী মুজাররাদের মাযী ও মাসদার যার শুরুতে হামযা থাকে: যেমন— أَخَذَ – أَخْذًا, أَكَلَ – أَكْلًا।
- রুবায়ী (চার অক্ষরবিশিষ্ট) ফেলের মাযী, আমর ও মাসদার: যেমন— أَكْرَمَ – أَكْرِمْ – إِكْرَامًا, أَحْسَنَ – أَحْسِنْ – إِحْسَانًا।
- মুযারের মুতাকাল্লিম সীগাহর শুরুতে বিদ্যমান হামযা: যেমন— أَكْتُبُ (আমি লিখছি), أَسْتَغْفِرُ (আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।
القسم الثالث: الترجمة إلى العربية الفصحى [৩য় অংশ: আরবি অনুবাদ – মান: ১০]
٣- ترجم النص الآتي الى العربية الفصحى
মূল বাংলা অনুচ্ছেদ:
“ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। ইহা একটি প্রাচীন শহর। ইহা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। এখানে বহুলোক বাস করে। এই শহরে অনেক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। এ বিমানবন্দরে নানা দেশের বিমান অবতরণ করে।”
الفكرة المعربة الفصيحة / শুদ্ধ আরবি রূপান্তর:
«دَاكَا هِيَ عَاصِمَةُ بَنْغَلَادِيشَ. وَهِيَ مَدِينَةٌ قَدِيمَةٌ. تَقَعُ عَلَى ضِفَافِ نَهْرِ بُورِيغَانْغَا. يَسْكُنُ فِيهَا خَلْقٌ كَثِيرٌ (أَوْ: يَعِيشُ فِيهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ). وَيُوجَدُ فِي هَذِهِ الْمَدِينَةِ كَثِيرٌ مِنَ الْمَدَارِسِ وَالْكُلِّيَّاتِ وَالْمَعَاهِدِ وَالْجَامِعَاتِ. وَفِي دَاكَا مَطَارٌ دَوْلِيٌّ، تَهْبِطُ فِيهِ طَائِرَاتٌ مِنْ مُخْتَلِفِ بُلْدَانِ الْعَالَمِ.»
বাক্যভিত্তিক বিশদ তাহলীল ও শব্দার্থ:
- ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী = دَاكَا عَاصِمَةُ بَنْغَلَادِيشَ (এখানে ‘দাকা’ মুবতাদা এবং ‘আসিমা’ মুদাফ হয়ে খবর)।
- ইহা একটি প্রাচীন শহর = وَهِيَ مَدِينَةٌ قَدِيمَةٌ (‘মাদীনা’ মাওসুফ, ‘কাদীমাহ’ সিফাত)।
- ইহা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত = تَقَعُ عَلَى ضِفَافِ نَهْرِ بُورِيغَانْغَا (বা عَلَى شَاطِئِ نَهْرِ بُورِيغَانْغَا)।
- এখানে বহুলোক বাস করে = يَسْكُنُ فِيهَا كَثِيرٌ مِنَ السُّكَّانِ (বা يَعِيشُ فِيهَا أُنَاسٌ كَثِيرُونَ)।
- এই শহরে অনেক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে = وَتُوجَدُ فِي هَذِهِ الْمَدِينَةِ مَدَارِسُ وَكُلِّيَّاتٌ وَمَعَاهِدُ وَجَامِعَاتٌ كَثِيرَةٌ।
- ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে = وَيُوجَدُ فِي دَاكَا مَطَارٌ دَوْلِيٌّ (বা فِي دَاكَا مَطَارٌ دَوْلِيٌّ)।
- এ বিমানবন্দরে নানা দেশের বিমান অবতরণ করে = تَهْبِطُ فِي هَذَا الْمَطَارِ طَائِرَاتٌ مِنْ مُخْتَلِفِ الدُّوَلِ (বা بُلْدَانِ الْعَالَمِ)।
القسم الرابع: الإنشاء والمراسلة [৪র্থ অংশ: পত্র / দরখাস্ত লিখন – মান: ১০]
٤- اكتب رسالة إلى أستاذك تخبره بقبولك في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
نموذج الرسالة إلى الأستاذ المحترم / সম্মানিত শিক্ষকের নিকট আনন্দবার্তা জানিয়ে পত্র
التاريخ: ٢٥ من شوال ١٤٤٠ هـ / ٢٠ من يونيو ٢٠١٩ م
المكان: دَاكَا، بَنْغَلَادِيش
أُسْتَاذِيَ الْكَرِيمَ وَمُرَبِّيَ الْفَاضِلَ حَفِظَكُمُ اللَّهُ تَعَالَى وَرَعَاكُمْ،
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد:
فَيَسُرُّنِي وَيُشَرِّفُنِي أَنْ أَرْفَعَ إِلَى سَمَاحَتِكُمْ أَسْمَى آيَاتِ الشُّكْرِ وَالِامْتِنَانِ عَلَى مَا بَذَلْتُمُوهُ فِي تَعْلِيمِي وَتَرْبِيَتِي مِنْ جُهُودٍ مُخْلِصَةٍ كَانَتْ بَعْدَ تَوْفِيقِ اللَّهِ تَعَالَى نِبْرَاسًا يُضِيءُ لِي دَرْبَ الْعِلْمِ وَالنَّجَاحِ.
وَإِنَّهُ لَمِنْ دَوَاعِي سُرُورِي وَابْتِهَاجِي أَنْ أُبَشِّرَ فَضِيلَتَكُمْ بِخَبَرٍ سَارٍّ، وَهُوَ أَنَّهُ قَدْ تَمَّ بِفَضْلِ اللَّهِ تَعَالَى وَمَنِّهِ قَبُولِي لِلدِّرَاسَةِ فِي «الْجَامِعَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ بِالْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ» عَلَى صَاحِبِهَا أَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَأَتَمُّ التَّسْلِيمِ، لِنَيْلِ دَرَجَةِ الْبَكَالُورْيُوسِ فِي كُلِّيَّةِ الدَّعْوَةِ وَأُصُولِ الدِّينِ.
وَإِنَّنِي إِذْ أَتَوَجَّهُ إِلَى مَدِينَةِ الْمُصْطَفَى ﷺ، أَعْتَرِفُ أَنَّ هَذَا الْفَضْلَ يَعُودُ بَعْدَ اللَّهِ إِلَى حُسْنِ تَوْجِيهَاتِكُمْ وَدُعَائِكُمُ الْمُبَارَكِ. وَأَسْأَلُ اللَّهَ الْعَلِيَّ الْقَدِيرَ أَنْ يَرْزُقَنِي الْإِخْلَاصَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ وَالْعَمَلَ بِهِ، وَأَنْ يَجْعَلَنِي دَاعِيًا إِلَى دِينِهِ الْحَنِيفِ عَلَى بَصِيرَةٍ.
أَرْجُو مِنْ كَرَمِكُمْ أَلَّا تَنْسَوْنِي مِنْ صَالِحِ دُعَائِكُمْ فِي صَلَوَاتِكُمْ وَخَلَوَاتِكُمْ، وَسَأَظَلُّ دَائِمًا عَلَى عَهْدِ الْوَفَاءِ لَكُمْ.
وَالسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ.
تِلْمِيذُكُمُ الْمُخْلِصُ:
عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ
طَالِبُ كُلِّيَّةِ الدَّعْوَةِ وَالدِّرَاسَاتِ الْإِسْلَامِيَّةِ
أو: اكتب طلبًا إلى مدير المدرسة تطلب فيه الإجازة لثلاثة أيام
نموذج طلب الإجازة لمدير المدرسة / প্রধান শিক্ষকের নিকট ৩ দিনের ছুটির আবেদনপত্র
التاريخ: ١٠ من محرم ١٤٤١ هـ / ١٠ من سبتمبر ٢٠١٩ م
إِلَى: فَضِيلَةِ مُدِيرِ الْمَدْرَسَةِ الْمُحْتَرَمِ
الْمَوْضُوعُ: طَلَبُ إِجَازَةٍ لِمُدَّةِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ بِسَبَبِ الْمَرَضِ الطَّارِئِ.
سَيِّدِيَ الْمُدِيرَ الْفَاضِلَ،
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، وبعد:
فَأَرْفَعُ إِلَى عِنَايَتِكُمْ أَنِّي أَنَا الطَّالِبُ (عَبْدُ اللَّهِ) بِالصَّفِّ الثَّانِي الْفَاضِلِ (قِسْمِ الدَّعْوَةِ)، أُحِيطُكُمْ عِلْمًا بِأَنَّنِي أُصِبْتُ بِحُمَّى شَدِيدَةٍ وَصُدَاعٍ مُفَاجِئٍ مُنْذُ لَيْلَةِ أَمْسِ، وَقَدْ أَمَرَنِي الطَّبِيبُ الْمُعَالِجُ بِالرَّاحَةِ التَّامَّةِ وَعَدَمِ الْخُرُوجِ لِمُدَّةِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ابْتِدَاءً مِنْ يَوْمِ الْأَحَدِ الْمُوَافِقِ ١٥ سَبْتَمْبِر إِلَى يَوْمِ الثُّلَاثَاءِ ١٧ سَبْتَمْبِر ٢٠١٩م.
لِذَلِكَ أَرْجُو مِنْ كَرَمِ فَضِيلَتِكُمْ أَنْ تَتَفَضَّلُوا عَلَيَّ بِالْمُوَافَقَةِ عَلَى مَنْحِي إِجَازَةً لِهَذِهِ الْأَيَّامِ الثَّلَاثَةِ، شَاكِرًا لَكُمْ حُسْنَ تَعَاوُنِكُمْ وَعَطْفِكُمْ.
وَتَفَضَّلُوا بِقَبُولِ فَائِقِ الِاحْتِرَامِ وَالتَّقْدِيرِ.
مُقَدِّمُ الطَّلَبِ:
الطَّالِبُ: عَبْدُ اللَّهِ
رَقْمُ الْجُلُوسِ: ٢٠٣٢٠٣
الصَّفُّ: الثَّانِي فَاضِل (الشَّرَف)
القسم الخامس: المقالة العربية [৫ম অংশ: আরবি প্রবন্ধ রচনা – মান: ১০]
٥- (أ) مدرستي (আমার বিদ্যালয় / মাদরাসা)
مقالة حول “مدرستي” / “আমার মাদরাসা” শীর্ষক প্রবন্ধ
مَدْرَسَتِي هِيَ بَيْتِي الثَّانِي، وَمَوْطِنُ التَّرْبِيَةِ وَمَنْبَعُ الْعِلْمِ وَالْأَدَبِ. فِيهَا قَضَيْتُ أَجْمَلَ أَيَّامِ عُمُرِي مُنْذُ الصِّغَرِ، حَيْثُ تَعَلَّمْتُ كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى وَسُنَّةَ رَسُولِهِ ﷺ، وَارْتَوَيْتُ مِنْ مَعِينِ الْعُلُومِ النَّافِعَةِ.
تَقَعُ مَدْرَسَتِي فِي بِيئَةٍ هَادِئَةٍ جَمِيلَةٍ تَسُرُّ النَّاظِرِينَ، وَيَتَكَوَّنُ مَبْنَاهَا مِنْ طَوَابِقَ مُتَعَدِّدَةٍ تَضُمُّ فُصُولًا دِرَاسِيَّةً وَاسِعَةً، وَمَكْتَبَةً ضَخْمَةً تَحْتَوِي عَلَى أُمَّهَاتِ الْكُتُبِ فِي التَّفْسِيرِ وَالْحَدِيثِ وَالْفِقْهِ وَاللُّغَةِ الْعَرَبِيَّةِ وَالْعُلُومِ الْحَدِيثَةِ. كَمَا يُوجَدُ فِيهَا مَسْجِدٌ كَبِيرٌ يُؤَدِّي فِيهِ الطُّلَّابُ وَالْمُعَلِّمُونَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ جَمَاعَةً فِي خُشُوعٍ وَاطْمِئْنَانٍ.
أَمَّا مُعَلِّمُونَا فَهُمْ كَالْآبَاءِ الْمُشْفِقِينَ، يَبْذُلُونَ قُصَارَى جُهْدِهِمْ فِي تَنْوِيرِ عُقُولِنَا بِالْعِلْمِ وَتَزْكِيَةِ نُفُوسِنَا بِالْأَخْلَاقِ الْفَاضِلَةِ. وَإِنَّنِي أَشْعُرُ بِالْفَخْرِ وَالِاعْتِزَازِ بِانْتِمَائِي إِلَى هَذَا الصَّرْحِ التَّعْلِيمِيِّ الْمُبَارَكِ، وَأَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَحْفَظَ مَدْرَسَتِي وَيَجْعَلَهَا مَنَارَةً لِلْهُدَى وَالصَّلَاحِ.
সারসংক্ষেপ: মাদরাসা হলো আমাদের দ্বিতীয় গৃহ এবং নৈতিক চরিত্র ও ইলমের প্রস্রবণ। এখানে উন্নত পরিবেশ, বিশাল পাঠাগার ও সুবিশাল মসজিদ রয়েছে যেখানে সালাত কায়েম করা হয়। শিক্ষকবৃন্দ পিতৃতুল্য ভালোবাসায় শিক্ষার্থীদের ইলম ও তাযকিয়ার পাঠ দান করেন।
٥- (ب) بلادي (আমার প্রিয় জন্মভূমি)
مقالة حول “بلادي” / “আমার প্রিয় স্বদেশ” শীর্ষক প্রবন্ধ
حُبُّ الْوَطَنِ غَرِيزَةٌ فِطْرِيَّةٌ مُسْتَقِرَّةٌ فِي أَعْمَاقِ النُّفُوسِ الْبَشَرِيَّةِ، وَقَدْ ضَرَبَ لَنَا النَّبِيُّ ﷺ أَرْوَعَ الْأَمْثِلَةِ فِي حُبِّ مَوْطِنِهِ مَكَّةَ الْمُكَرَّمَةِ. وَإِنَّ بِلَادِي الْحَبِيبَةَ هِيَ «بَنْغَلَادِيشُ»، تِلْكَ الْأَرْضُ الْخَضْرَاءُ الْجَمِيلَةُ الَّتِي حَبَاهَا اللَّهُ بِنِعَمٍ لَا تُعَدُّ وَلَا تُحْصَى.
تَمْتَازُ بِلَادِي بِطَبِيعَتِهَا السَّاحِرَةِ وَأَنْهَارِهَا الْجَارِيَةِ وَسُهُولِهَا الْخَصِيبَةِ، وَشَعْبُهَا شَعْبٌ مُسْلِمٌ مُتَمَسِّكٌ بِدِينِهِ، مَعْرُوفٌ بِالْكَرَمِ وَالشَّجَاعَةِ وَحُبِّ السَّلَامِ. وَقَدْ نَالَتْ بِلَادُنَا اسْتِقْلَالَهَا فِي عَامِ ۱۹۷۱م بَعْدَ تَضْحِيَاتٍ جَسِيمَةٍ وَشَهَادَةِ مَلَايِينَ الْأَبْطَالِ.
إِنَّ وَاجِبَنَا نَحْوَ بِلَادِنَا أَنْ نَبْذُلَ أَرْوَاحَنَا وَأَمْوَالَنَا فِي سَبِيلِ رِفْعَتِهَا وَتَقَدُّمِهَا، وَأَنْ نَسْعَى لِبِنَاءِ مُجْتَمَعٍ يَقُومُ عَلَى الْعَدْلِ وَالْإِيمَانِ وَالْأَمَانِ، فَاللَّهُمَّ احْفَظْ بِلَادَنَا بَنْغَلَادِيشَ مِنْ كُلِّ سُوءٍ وَمَكْرُوهٍ.
সারসংক্ষেপ: দেশপ্রেম ঈমানের স্বভাবজাত অংশ। বাংলাদেশ একটি সুজলা-সুফলা ও শ্যামল সৌন্দর্যের দেশ। ১৯৭১ সালে লাখো প্রাণের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এ দেশের উন্নয়ন, সংহতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করাই প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব।
٥- (ج) مطالعة الكتب (বই পড়া / পুস্তকাধ্যয়ন)
مقالة حول “مطالعة الكتب” / “পুস্তক অধ্যয়ন” শীর্ষক প্রবন্ধ
الْقِرَاءَةُ هِيَ غِذَاءُ الرُّوحِ وَمِفْتَاحُ الْمَعْرِفَةِ، وَلَيْسَ أَدَلَّ عَلَى أَهَمِّيَّتِهَا مِنْ أَنَّ أَوَّلَ كَلِمَةٍ نَزَلَتْ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ الْعَزِيزِ عَلَى قَلْبِ الْمُصْطَفَى ﷺ هِيَ قَوْلُهُ تَعَالَى: ﴿اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ﴾.
إِنَّ مُطَالَعَةَ الْكُتُبِ تُنِيرُ الْعَقْلَ وَتُوَسِّعُ الْمَدَارِكَ، وَتَنْقُلُ الْإِنْسَانَ عَبْرَ صَفَحَاتِهَا إِلَى عُصُورٍ مَاضِيَةٍ وَحَضَارَاتٍ مُتَنَوِّعَةٍ، فَيَجْلِسُ الْقَارِئُ مَعَ الْعُلَمَاءِ وَالْحُكَمَاءِ وَيَسْتَفِيدُ مِنْ تَجَارِبِهِمْ دُونَ عَنَاءٍ. وَكَمَا قَالَ الشَّاعِرُ الْعَرَبِيُّ أَبُو الطَّيِّبِ الْمُتَنَبِّي:
«أَعَزُّ مَكَانٍ فِي الدُّنَى سَرْجُ سَابِحٍ … وَخَيْرُ جَلِيسٍ فِي الزَّمَانِ كِتَابُ»
فَالْكِتَابُ نِعْمَ الصَّاحِبُ وَالرَّفِيقُ، لَا يَخُونُ وَلَا يَمَلُّ، وَيَمْنَحُكَ الْحِكْمَةَ وَالْفَضِيلَةَ. فَيَنْبَغِي لِكُلِّ طَالِبِ عِلْمٍ أَنْ يُخَصِّصَ وَقْتًا يَوْمِيًّا لِمُطَالَعَةِ الْكُتُبِ النَّافِعَةِ لِيَبْنِيَ مُسْتَقْبَلًا مُشْرِقًا لِنَفْسِهِ وَأُمَّتِهِ.
সারসংক্ষেপ: পাঠাভ্যাস আত্মার খোরাক ও জ্ঞানের চাবিকাঠি। ওহীর প্রথম নির্দেশই ছিল ‘ইকরা’ (পড়ো)। বই মানুষের জ্ঞানকে প্রশস্ত করে এবং মনীষীদের চিন্তার সাথে সংযোগ ঘটায়। আল-মুতানাব্বীর ভাষায়—পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু হলো উত্তম বই।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ইলমুন নাহু ও ইলমুস সারফের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
উত্তর: ইলমুস সারফে শব্দের ভেতরের অক্ষর ও ওজন রূপান্তর (مفردات) নিয়ে আলোচনা করা হয়, আর ইলমুন নাহুতে বাক্যে শব্দের শেষাক্ষরের অবস্থা (ই’রাব ও বিনা) এবং একাধিক শব্দ মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশ্ন ২: না’ত ও মান’উতের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে মিল থাকা আবশ্যক?
উত্তর: হাকীকী না’ত তার মান’উতের সাথে দশটি বিষয়ের মধ্যে চারটি বিষয়ে মিল রাখে—ই’রাব (রাফা, নাসব, জর-এর যেকোনো একটি), জিনস (মুযাক্কার বা মুয়ান্নাস), আদাদ (মুফরাদ, তাছনিয়া বা জমা) এবং তারীফ ও তানকীর (মারেফা বা নাকেরা)।
প্রশ্ন ৩: ছুলাসী মাযীদ ফীহ কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ছুলাসী মাযীদ ফীহ প্রধানত তিন প্রকার—এক অক্ষর অতিরিক্ত যুক্ত বাব (যেমন: ইফ’আল, তাফ’ঈল, মুফা’আলাহ), দুই অক্ষর অতিরিক্ত যুক্ত বাব (যেমন: ইনফিয়াল, ইফতিয়াল, তাফা’উল) এবং তিন অক্ষর অতিরিক্ত যুক্ত বাব (যেমন: ইসতিফ’আল)।
প্রশ্ন ৪: তাসগীর করার প্রধান ওযান কয়টি ও কী কী?
উত্তর: তাসগীরের মূল ওযান তিনটি—১. ফুআইল (فُعَيْلٌ) ৩ অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের জন্য, ২. ফুআই’ইল (فُعَيْعِلٌ) ৪ অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের জন্য এবং ৩. ফুআই’ঈল (فُعَيْعِيلٌ) ৫ অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের জন্য যার ৪র্থ অক্ষর হরফে ইল্লত।
প্রশ্ন ৫: হামযাতুল ওয়াসল ও হামযাতুল কত’ কীভাবে চিনব?
উত্তর: হামযাতুল ওয়াসল শব্দের শুরুতে পড়া যায় কিন্তু পূর্ববর্তী শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়লে উচ্চারণে বাদ পড়ে যায়; অপরদিকে হামযাতুল কত’ শব্দের শুরুতে হোক বা মিলিয়ে পড়া হোক সর্বাবস্থায় উচ্চারিত ও লিখিত হয়।
প্রশ্ন ৬: খবরের পূর্বে মুবতাদাকে কখন ওয়াজিবভাবে প্রাধান্য দিতে হয়?
উত্তর: মুবতাদা যখন প্রশ্নবোধক বা শর্তবোধক শব্দের মতো সাদারাতে কালাম হয়, মুবতাদা ও খবর উভয়ই মারেফা হয়ে বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকলে, খবর জুমলায়ে ফেলিয়্যা হয়ে তার দমীর মুবতাদার দিকে ফিরলে, এবং ‘ইন্নামা’ দিয়ে বাক্যকে সীমাবদ্ধ করা হলে মুবতাদাকে আগে আনা ওয়াজিব।