পরীক্ষা কোড: 203 | প্রশ্নপত্র কোড: 088
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢٢
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
سير الأنبياء ومناهج دعوتهم في القرآن
[সিয়ারুল আম্বিয়া ওয়া মানাহিজু দাওয়াতিহিম ফিল কুরআন]
বিষয় কোড: 203302
الوقت — ٤ ساعات [সময় — ৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة — ٨٠ [পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (الف) [বিভাগ ‘ক’ – রচনামূলক প্রশ্নাবলী]
মান: ১৫ × ৪ = ৬০
١- ما هي الجوانب المتفقة من المناهج الدعوية بين الأنبياء والرسل؟
[১. নবী ও রাসূলগণের দাওয়াতি কর্মপন্থার অভিন্ন ও মৌলিক দিকসমূহ কী কী? বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে যত নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, তাঁদের ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা ও শরীয়তের কিছু খুঁটিনাটি বিধানে ভিন্নতা থাকলেও তাঁদের মূল দাওয়াতি মানহাজ বা কর্মপন্থা ছিল এক ও অভিন্ন। কারণ তাঁদের সকলের শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁদের লক্ষ্য ছিল একই সত্য প্রতিষ্ঠা করা।
আম্বিয়াগণের দাওয়াতি কর্মপন্থার অভিন্ন দিকসমূহ
- তাওহিদের অভিন্ন মূলবাণী: সকল নবীর দাওয়াতের সর্বপ্রথম ও মূল কথা ছিল এক আল্লাহর ইবাদত ও তাগুত বর্জন:
يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ
“হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই।” (সূরা আল-আ’রাফ: ৫৯)—নূহ, হূদ, সালেহ, শুআইব থেকে শুরু করে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সবাই অবিকল এই এক কথাই বলেছেন।
- কোনো পার্থিব প্রতিদান না চাওয়া: সকল নবী নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। তাঁরা নিজ জাতির কাছে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন: “আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল বিশ্বজগতের রবের নিকট।” (সূরা আশ-শুআরা: ১০৯)
- আখেরাতের জবাবদিহিতা ও পুনরুত্থানের স্মরণ: দুনিয়ার জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব এবং কিয়ামতের ময়দানে জবাবদিহিতার মাধ্যমে জান্নাত-জাহান্নামের স্পষ্ট সত্য তুলে ধরা।
- প্রজ্ঞাপূর্ণ ও কোমল উপদেশ (হিকমত): শত্রুর শত প্ররোচনা সত্ত্বেও প্রথমে অত্যন্ত নরম ও যুক্তিপূর্ণ ভাষায় সত্য উপস্থাপন করা। যেমন মূসা ও হারূনকে ফেরাউনের কাছে যাওয়ার সময় বলা হয়েছিল: “তোমরা তার সাথে নরম সুরে কথা বলবে।”
- অসীম ধৈর্য ও অবিচলতা: স্বজাতির অত্যাচার, দেশত্যাগ ও হত্যার হুমকি সত্ত্বেও কোনো নবী দাওয়াতের পথ থেকে একচুলও সরে যাননি বা অসৎ আপস করেননি।
উপসংহার
নবীগণের এই অভিন্ন দাওয়াতি নীতিই প্রমাণ করে যে ইসলাম একটি চিরন্তন শাশ্বত জীবনব্যবস্থা। বর্তমান যুগের সকল ইসলামি আন্দোলনের জন্যও এই অভিন্ন মানহাজই একমাত্র পথপ্রদর্শক।
٢- اشرح حكمة دعوة النبي محمد ﷺ لمختلف الحكام والملوك-
[২. সমকালীন বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহ ও শাসকদের প্রতি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাওয়াত প্রেরণের হিকমত ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা
হুদাইবিয়ার সন্ধির (ষষ্ঠ হিজরি) পর মক্কার কুরাইশদের সাথে যুদ্ধবিরতি স্থাপিত হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) দাওয়াতকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীন বিশ্বের পরাশক্তি রোম, পারস্য, আবিসিনিয়া, মিসর ও আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজাদের নিকট পত্র মারফত ইসলামের দাওয়াত পৌঁছান। এটি ছিল ইসলামের সার্বজনীনতার এক উজ্জ্বল মাইলফলক।
চিঠি প্রেরণের হিকমত ও তাৎপর্য
- ইসলামের বিশ্বজনীনতার বাস্তব ঘোষণা: ইসলাম যে কেবল আরবদের ধর্ম নয়; বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য অবতীর্ণ—শাসকদের চিঠি পাঠিয়ে রাসূল (সা.) বিশ্বমঞ্চে তা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করেন।
- প্রজাদের মুক্তির পথ সুগম করা: তৎকালীন যুগে সাধারণ জনগণ রাজাদের ধর্মের অন্ধ অনুসারী ছিল (الناس على دين ملوكهم)। রাজারা ইসলাম গ্রহণ করলে কোটি কোটি প্রজার হেদায়েতের দ্বার উন্মুক্ত হতো। যেমন সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে লেখা পত্রে নবীজি সতর্ক করেছিলেন: “যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনার প্রজাদের (আরিসিয়ীন) পথভ্রষ্টতার দায় আপনার ওপরই বর্তাবে।”
- হুজ্জত কায়েম করা: বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর কাছে ইসলামের দাওয়াত আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিয়ে তাদের ওপর আল্লাহর দলিল প্রতিষ্ঠা করা।
- উচ্চমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতা: চিঠিতে রূপার আংটির সিলমোহর ব্যবহার (মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ) এবং প্রতিটি রাজার সম্মানজনক উপাধি ব্যবহার করে (যেমন রোম সম্রাটকে ‘আজীমে রুম’, পারস্য সম্রাটকে ‘আজীমে ফারিস’) সর্বোচ্চ কূটনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শন করা হয়।
শাসকদের প্রতিক্রিয়া
- আবিসিনিয়ার নাজ্জাশী (আসহামা): পরম শ্রদ্ধার সাথে চিঠি গ্রহণ করেন এবং ইসলামে দীক্ষিত হন।
- রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস ও মিসরের মুকাওকিস: চিঠির সত্যতা স্বীকার করলেও ক্ষমতার লোভে ইসলাম গ্রহণ করেননি, তবে উপহার পাঠিয়ে সম্মান জানান।
- পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ: অহংকারে উন্মত্ত হয়ে নবীজির পবিত্র চিঠি ছিঁড়ে ফেলে। রাসূল (সা.) খবর শুনে বলেছিলেন: “আল্লাহ তার সাম্রাজ্যকে টুকরো টুকরো করে দেবেন।” পরবর্তীতে অল্প দিনেই পারস্য সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়।
উপসংহার
রাজা-বাদশাহদের প্রতি প্রেরিত এই পত্রাবলি বিশ্ব রাজনীতিতে ইসলামের স্বাধীন অস্তিত্ব ও বৈশ্বিক দাওয়াতি বিপ্লবের সূচনা করেছিল।
٣- بيّن عصمة الأنبياء عليهم السلام واذكر أقوال العلماء في ذلك-
[৩. আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের নিষ্পাপতা (ইসমত) ব্যাখ্যা কর এবং এ বিষয়ে আলেমগণের অভিমত উল্লেখ কর।]
ভূমিকা
ইসলামি আকিদার অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ হলো আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের ‘ইসমত’ বা নিষ্পাপতায় বিশ্বাস রাখা। নবীগণ যদি পাপ বা ভুলের ঊর্ধ্বে না হতেন, তবে তাঁদের প্রেরিত আসমানি ওহী ও শরীয়তের প্রামাণিকতা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হতো। তাই আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে কুদরতিভাবে সংরক্ষিত রেখেছেন।
ইসমতের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব
মহান আল্লাহ কর্তৃক নবী ও রাসূলগণকে নবুওয়াত লাভ করার পূর্বে ও পরে সর্বপ্রকার কুফরি, শিরক, কবিরা গুনাহ এবং সমাজবিনাশী সগিরা গুনাহ থেকে সুরক্ষিত রাখাকে ‘ইসমাতে আম্বিয়া’ বলা হয়।
এ বিষয়ে উম্মতের বিজ্ঞ আলেমগণের অভিমত (أقوال العلماء)
- তাবলিগ ও ওহী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে: উম্মতের সকল বিজ্ঞ ইমাম ও আলেম সর্বসম্মত যে, ওহীর বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে নবীগণ শতভাগ নিষ্পাপ ও নির্ভুল। এতে ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোনো প্রকার কম-বেশি হওয়া অসম্ভব: “তিনি খেয়ালখুশিমতো কথা বলেন না; এটি তো ওহী যা প্রত্যাদেশ হয়।” (সূরা আন-নাজম: ৩-৪)
- কুফর ও শিরক থেকে মুক্তি: ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনী এবং কাজী ইয়াজ (রহ.) বলেন: সকল নবী নবুওয়াতের পূর্বে ও পরে আজীবন শিরক ও কুফর থেকে শতভাগ পবিত্র ছিলেন।
- কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে: জমহুর আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সিদ্ধান্ত হলো, নবীগণ কোনো অবস্থাতেই কবিরা গুনাহে লিপ্ত হতে পারেন না।
- সগিরা গুনাহ ও ‘যাল্লা’র ব্যাখ্যা: কোনো কোনো গবেষক বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে উত্তম কাজের বদলে কম উত্তম কাজ করা (তর্কে আওলা) আম্বিয়াগণের ক্ষেত্রে কদাচিৎ ঘটেছে, যাকে ‘যাল্লা’ বলা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল উম্মতকে তাওবার নিয়ম শেখানো এবং সাথে সাথে ওহীর মাধ্যমে তাঁদের সংশোধন করে দেওয়া হতো।
উপসংহার
নবী-রাসূলগণ ছিলেন মানব ইতিহাসের সর্বোত্তম নিষ্পাপ আদর্শ। তাঁদের এই পবিত্রতা তাঁদের আনীত দ্বীনকে কিয়ামত পর্যন্ত সন্দেহাতীত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত রেখেছে।
٤- اكتب نبذة عن حياة عيسى عليه السلام واذكر مزايا دعوته لقومه-
[৪. হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জীবনবৃত্তান্ত সংক্ষেপে লেখ এবং তাঁর কওমের প্রতি দাওয়াতের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।]
ভূমিকা
বনি ইসরাইলের সর্বশেষ নবী ছিলেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম। তাঁর অলৌকিক জন্ম, বিস্ময়কর মোজেজা এবং কওমের প্রতি দাওয়াতি সংগ্রাম মানব ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। বস্তুবাদ ও ভণ্ডামিতে লিপ্ত তৎকালীন ইহুদি জাতিকে আধ্যাত্মিকতার দিকে ফেরাতে তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন।
হযরত ঈসা (আ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত
পবিত্র কুরআনের সূরা মারইয়ামে বর্ণিত হয়েছে যে, পিতা ছাড়া কেবল আল্লাহর কুদরতি নির্দেশে কুমারী মারইয়ামের গর্ভ থেকে ফিলিস্তিনের বেথলেহেমে তাঁর জন্ম হয়। নবজাতক অবস্থায় দোলনায় থাকতেই তিনি কথা বলে মায়ের পবিত্রতা ঘোষণা করেন। ত্রিশ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন এবং আসমানি কিতাব ‘ইনজিল’ প্রাপ্ত হন।
তিনি মৃতকে জীবিত করা, অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করার মতো বিস্ময়কর মোজেজা দেখান। কিন্তু ইহুদি ধর্মগুরুরা তাঁর বিরোধিতা করে এবং রোমান শাসকের মাধ্যমে তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করে। মহান আল্লাহ তাঁকে সশরীরে দ্বিতীয় আসমানে উঠিয়ে নেন। কিয়ামতের পূর্বে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন।
তাঁর কওমের প্রতি দাওয়াতের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ
- তাওহিদের দিকে আহ্বান ও শিরকের মূলোৎপাটন: তিনি বনি ইসরাইলকে স্পষ্ট বলেছিলেন: “হে বনি ইসরাইল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক।” (সূরা আল-মায়েদা: ৭২)
- আত্মিক পবিত্রতা ও অন্তরের পরিশুদ্ধি: তৎকালীন ইহুদিরা ধর্মের কেবল বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান ও লোকদেখানো ধার্মিকতায় লিপ্ত ছিল। ঈসা (আ.) অন্তরের ভালোবাসা, খোদাভীতি ও তাকওয়ার ওপর জোর দেন।
- তাওরাতের বিকৃত বিধানের সংস্কার: তাওরাতের যেসকল কঠোর বিধান ইহুদিরা নিজেদের স্বার্থে চাপিয়েছিল বা বিকৃত করেছিল, তিনি তার কিছু অংশ রহিত করে সহজ করে দেন।
- শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুসংবাদ প্রদান: তিনি পরিষ্কার ঘোষণা করেছিলেন: “আমি এমন এক রাসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আসবেন এবং যাঁর নাম হবে আহমদ।” (সূরা আস-সফ্ফ: ৬)
উপসংহার
হযরত ঈসা (আ.) ছিলেন একত্ববাদের এক মহান পতাকাবাহী রাসূল। খ্রিস্টানরা তাঁকে খোদার পুত্র বানিয়ে পথভ্রষ্ট হলেও মুসলমানরা তাঁকে আল্লাহর সম্মানিত বান্দা ও রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করে।
٥- اذكر أسماء الأنبياء المذكورين في القرآن الكريم وتحدث عن حياة أحدهم-
[৫. পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত নবীগণের নাম উল্লেখ কর এবং তাঁদের মধ্য থেকে একজনের জীবন সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
ভূমিকা
মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনুল কারীমে তাঁদের মধ্য থেকে বিশিষ্ট ২৫ জন মহান নবীর নাম মোবারক সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর পবিত্র নাম
- আদম (আ.)
- ইদরিস (আ.)
- নূহ (আ.)
- হূদ (আ.)
- সালেহ (আ.)
- ইবরাহিম (আ.)
- লূত (আ.)
- ইসমাইল (আ.)
- ইসহাক (আ.)
- ইয়াকূব (আ.)
- ইউসুফ (আ.)
- আইয়ূব (আ.)
- শুআইব (আ.)
- মূসা (আ.)
- হারূন (আ.)
- দাউদ (আ.)
- সুলাইমান (আ.)
- ইলিয়াস (আ.)
- আল-ইয়াসা’ (আ.)
- ইউনুস (আ.)
- যুলকিফল (আ.)
- যাকারিয়া (আ.)
- ইয়াহইয়া (আ.)
- ঈসা (আ.)
- হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)
হযরত মূসা (আ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত
জন্ম ও লালন-পালন: ফেরাউনের যুগে যখন বনি ইসরাইলের নবজাতক পুত্র সন্তানদের হত্যা করা হচ্ছিল, তখন আল্লাহর নির্দেশে মূসা (আ.)-এর মা তাঁকে একটি বাক্সে করে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। অলৌকিকভাবে সেই বাক্স ফেরাউনের প্রাসাদে পৌঁছায় এবং ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়াহ (রা.)-এর স্নেহছায়ায় তিনি রাজপ্রাসাদেই বড় হন।
মাদইয়ানে হিজরত ও নবুওয়াত: মিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনার পর তিনি মাদইয়ানে গিয়ে হযরত শুআইব (আ.)-এর আশ্রয়ে ১০ বছর কাটান এবং তাঁর কন্যাকে বিয়ে করেন। মাদইয়ান থেকে ফেরার পথে তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে সরাসরি বাক্যালাপের সৌভাগ্য অর্জন করে নবুওয়াত লাভ করেন। এজন্য তাঁকে ‘কালীজুল্লাহ’ বলা হয়।
ফেরাউনের পতন ও কওমের নেতৃত্ব: ভাই হারূন (আ.)-কে সাথে নিয়ে তিনি অহংকারী ফেরাউনকে তাওহিদের দাওয়াত দেন। ফেরাউন অস্বীকার করলে লোহিত সাগরে অলৌকিকভাবে পথ তৈরি করে বনি ইসরাইলকে মুক্ত করেন এবং ফেরাউনকে সদলবলে ডুবিয়ে ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীতে তুর পাহাড়ে তাওরাত কিতাব লাভ করেন।
উপসংহার
হযরত মূসা (আ.)-এর জীবন ছিল জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই এবং কওমের অবাধ্যতার মুখে চরম ধৈর্যের এক কালজয়ী মহাকাব্য।
٦- ما هي معجزات موسى عليه السلام؟ واشرح أسلوب دعوته لفرعون-
[৬. হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মোজেজাসমূহ কী কী? এবং ফেরাউনের প্রতি তাঁর দাওয়াতি কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা
হযরত মূসা (আ.) ছিলেন উলুল আযম রাসূলগণের অন্যতম। তৎকালীন সময়ের পরাক্রমশালী খোদাদ্রোহী শাসক ফেরাউনকে সত্যের পথে আহ্বান করার জন্য আল্লাহ তাঁকে প্রকাশ্য ও অকাট্য অলৌকিক মোজেজা প্রদান করেছিলেন।
হযরত মূসা (আ.)-এর প্রধান প্রধান মোজেজাসমূহ
- লাঠির অজগর রূপ ধারণ (عصا موسى): মাটিতে নিক্ষেপ করলেই তাঁর লাঠিটি একটি ভয়াল অজগর সাপে পরিণত হতো, যা ফেরাউনের জাদুকরদের ভোজবাজির সমস্ত কৃত্রিম সাপকে গিলে ফেলেছিল।
- শুভ্র হাতের দ্যুতি (اليد البيضاء): বগলের নিচে হাত দিয়ে বের করলে তা কোনো রোগ ছাড়াই উজ্জ্বল সূর্যের মতো দ্যুতি ছড়াত।
- লোহিত সাগরের পানি বিভক্ত হওয়া: লাঠির আঘাতে লোহিত সাগরে ১২টি শুকনো রাস্তা তৈরি হয়েছিল, যার মধ্য দিয়ে বনি ইসরাইল নিরাপদে পার হয়ে যায় এবং ফেরাউন ডুবে মরে।
- পাথর থেকে ১২টি পানির ঝর্ণা প্রবাহিত হওয়া: মরুভূমিতে পিপাসার্ত কওমের জন্য পাথরে লাঠি মারতেই ১২টি পানির প্রস্রবণ তৈরি হয়।
- আসমানি খাবার (মান্না ও সালওয়া) নাযিল হওয়া: মরুভূমিতে রান্না ছাড়া জান্নাতি খাবার প্রাপ্তি।
- ফেরাউনের জাতির ওপর নয়টি নিদর্শন: ঝড়-তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ এবং পানিতে রক্ত ইত্যাদি বিপদ আসা।
ফেরাউনের প্রতি তাঁর দাওয়াতি কর্মপদ্ধতি
- কোমল কথার মাধ্যমে সূচনা: আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন: “তোমরা ফেরাউনের সাথে নরম ভাষায় কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে বা ভয় পাবে।” (সূরা ত্বহা: ৪৪)
- চরম আত্মবিশ্বাস ও সাহসিকতা: কোনো বডিগার্ড ছাড়া সরাসরি ফেরাউনের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে এক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন।
- যৌক্তিক প্রমাণ উপস্থাপন: যখন ফেরাউন জিজ্ঞেস করল ‘রব্বুল আলামীন কে?’, মূসা (আ.) আসমান-জমিন এবং পূর্ব-পশ্চিমের স্রষ্টার নিখুঁত যুক্তি পেশ করেন।
- জাদুকরদের বিভ্রান্তি দূরীকরণ: সর্বসমক্ষে মোজেজা প্রদর্শন করে জাদুকরদের সিজদায় ফেলতে বাধ্য করেন।
উপসংহার
হযরত মূসা (আ.) প্রমাণ করেছিলেন যে আল্লাহর শক্তির সামনে পৃথিবীর কোনো জালিম শাসকের ক্ষমতাই টিকে থাকতে পারে না।
٧- ما هي المشاكل التي واجهها النبي ﷺ في الدعوة بمكة وكيف واجهها؟
[৭. মক্কায় দাওয়াতের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি তা মোকাবিলা করেন?]
ভূমিকা
মক্কায় ইসলাম প্রচারের পথ ছিল চরম ত্যাগ, পরীক্ষা ও কণ্টকাকীর্ণতায় ঘেরা। প্রাচীন গোত্রীয় আভিজাত্য, মূর্তিপূজা এবং কায়েমী স্বার্থের বিরুদ্ধে তাওহিদের আওয়াজ তোলায় মক্কার কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং মুষ্টিমেয় সাহাবিদের ওপর নজিরবিহীন নিপীড়ন চালায়।
মক্কী জীবনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মুখীন হওয়া প্রধান সমস্যাসমূহ
- চরিত্রহনন ও মানসিক নির্যাতন: তাঁকে পাগল (মাজনুন), জাদুকর (সাগির), কবি ও গণক বলে সমাজে অপপ্রচার চালানো হতো।
- শারীরিক আক্রমণ ও লাঞ্ছনা: সিজদারত অবস্থায় পিঠের ওপর উটের নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দেওয়া, গলায় চাদর পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখা হতো।
- সাহাবিদের ওপর পাশবিক নির্যাতন: দাস ও দুর্বল সাহাবি বিলাল, আম্মার, খাব্বাব (রা.)-দের ওপর তপ্ত বালু ও কয়লার ওপর ফেলে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। হযরত সুমাইয়া (রা.)-কে নির্মমভাবে বর্শা মেরে শহীদ করা হয়।
- সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ (শি’আবে আবি তালিব): টানা ৩ বছর বনু হাশিমকে এক গিরিদরিবর্তীতে অবরুদ্ধ করে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
- দাওয়াতে আপসের প্রলোভন: ধন-সম্পদ, রাজত্ব ও আরবের শ্রেষ্ঠ নারীর বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে দাওয়াত বন্ধ করার চেষ্টা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) কীভাবে এসব মোকাবিলা করেছিলেন?
- দৃঢ় ঈমান ও অবিচলতা: ঐতিহাসিক উক্তি: “আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চাঁদ এনে দিলেও আমি এ দাওয়াত ছাড়ব না।”
- দারুল আরকামে আত্মিক প্রশিক্ষণ: গোপনে সাহাবিদের ঈমানি প্রশিক্ষণ প্রদান।
- হাবশায় হিজরতের নির্দেশ: অনুসারীদের নিরাপত্তার জন্য নাজ্জাশীর দেশে হিজরতের অনুমতি।
- ক্ষমা ও দোয়া: তায়েফের ময়দানে রক্তাক্ত হয়েও ধ্বংসের বদদোয়া না করে ক্ষমার দোয়া করা।
- মদিনার আনসারদের সাথে চুক্তি: হজের মৌসুমে গোত্রগুলোতে যোগাযোগ করে আকাবার বায়াতের মাধ্যমে হিজরতের রাজনৈতিক পথ তৈরি করা।
উপসংহার
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই অলৌকিক ধৈর্য ও দূরদর্শিতার ফলেই ইসলামের দাওয়াত মক্কার সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।
٨- اذكر مميزات دعوة الرسول ﷺ في حياته المدنية-
[৮. মাদানী জীবনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
ভূমিকা
মদিনায় হিজরতের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াতি আন্দোলনের এক নতুন বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। মক্কায় দাওয়াত ছিল মূলত আকিদা ও আত্মরক্ষামূলক, কিন্তু মদিনায় এসে দাওয়াত রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
মাদানী জীবনে দাওয়াতের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ
- রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক রূপদান: মসজিদে নববী নির্মাণ এবং ‘মদিনা সনদ’ (বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান)-এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়।
- সামাজিক ভ্রাতৃত্ব কায়েম (মুয়াখাত): মক্কার নিঃস্ব মুহাজিরদের সাথে মদিনার আনসারদের মাঝে এমন অভূতপূর্ব রক্তহীন ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি করা হয় যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
- শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ বিধিবদ্ধ আইনের বাস্তবায়ন: সালাত ও সাওমের পূর্ণাঙ্গ রূপ, যাকাত ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক আদায়, উত্তরাধিকার আইন, বিবাহ-তালাক এবং চুরি-ব্যভিচার ও খুনের হুদুদ ও কিসাসের আইন কার্যকর করা হয়।
- সত্য প্রতিষ্ঠার জিহাদ ও আত্মরক্ষা: বাতিল শক্তির আগ্রাসন রুখতে বদর, ওহুদ ও খন্দকের মতো আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের মাধ্যমে দাওয়াতের পথকে কণ্টকমুক্ত করা হয়।
- আন্তর্জাতিক দাওয়াত ও কূটনীতি: বিশ্বের পরাশক্তি রোম, পারস্য ও অন্যান্য রাজাদের কাছে চিঠি ও দূত পাঠিয়ে বৈশ্বিক দাওয়াতের সূচনা করা হয়।
- মক্কা বিজয় ও সাধারণ ক্ষমা: বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করে চরম শত্রুদের ক্ষমা করে দেওয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের অন্তর জয় করা হয়।
উপসংহার
মাদানী জীবনের দাওয়াত প্রমাণ করেছে যে ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়; এটি মানবজাতির ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও ইনসাফভিত্তিক কালজয়ী মহাব্যবস্থা।
مجموعة (ب) [বিভাগ ‘খ’ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী]
মান: ৫ × ৪ = ২০
٩- ما هي مميزات دعوة موسى عليه السلام؟
[৯. হযরত মূসা আলাইহিস সালামের দাওয়াতের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কী?]
উত্তর
হযরত মূসা (আ.)-এর দাওয়াতের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- স্বৈরশাসকের মুখোমুখি হওয়া: সরাসরি পরাক্রমশালী ফেরাউনের রাজদরবারে গিয়ে সত্যের ঘোষণা দেওয়া।
- নরম কথায় সূচনা: প্রথম সাক্ষাতে শিষ্টাচার ও কোমল ভাষায় কথা বলা।
- অকাট্য মোজেজার প্রকাশ: লাঠি ও শুভ্র হাতের স্পষ্ট অলৌকিক নিদর্শনের মাধ্যমে জাদুকরদের পরাস্ত করা।
- বনি ইসরাইলের রাজনৈতিক মুক্তি: ফেরাউনের দাসত্ব থেকে একটি নিপীড়িত জাতিকে মুক্ত করে স্বাধীন ভূমিতে পুনর্বাসন করা।
- তাওরাত কিতাবের মাধ্যমে কঠোর আইন প্রয়োগ: সমাজকে সুশৃঙ্খল করতে শরীয়তের বিধান কার্যকর করা।
١٠- اكتب صورة موجزة عن دعوة نوح عليه السلام لقومه-
[১০. কওমের প্রতি হযরত নূহ আলাইহিস সালামের দাওয়াতের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধর।]
উত্তর
হযরত নূহ (আ.) সুদীর্ঘ ৯৫০ বছর তাঁর জাতিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন:
- অবিরাম দাওয়াত: রাত-দিন গোপনে ও প্রকাশ্যে ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে মূর্তিপূজা ছেড়ে এক আল্লাহর দিকে আসার আহ্বান জানান।
- কওমের চরম অবাধ্যতা: তাঁর কথা শুনে কওমের লোকেরা কানে আঙুল ঢুকিয়ে রাখত, কাপড়ে মুখ ঢেকে নিত এবং অহংকার করত।
- কিশতী নির্মাণ ও মহাপ্লাবন: আল্লাহর নির্দেশে কিশতী তৈরি করেন এবং মহাপ্লাবনে সকল অবাধ্য কাফির ধ্বংস হয়ে যায়; আর নৌকার মুষ্টিমেয় মুমিনদের নিয়ে মানবজাতির নতুন যুগ শুরু হয়।
١١- ما هي الأعمال الدعوية لهود عليه السلام؟
[১১. হযরত হূদ আলাইহিস সালামের দাওয়াতি কার্যক্রম সংক্ষেপে লেখ।]
উত্তর
হযরত হূদ (আ.) প্রাচীন আরবের শক্তিশালী ‘আদ’ জাতির নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন:
- অহংকারের বিরুদ্ধে তাওহিদের দাওয়াত: আদ জাতি তাদের শারীরিক শক্তি ও আকাশচুম্বী অট্টালিকার অহংকারে মত্ত ছিল। হূদ (আ.) তাদের এক আল্লাহর আনুগত্য করার এবং জুলুম বর্জন করার নির্দেশ দেন।
- নিঃস্বার্থ ঘোষণা: তিনি বলেন: “হে আমার কওম! এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চাই না।”
- কওমের ধ্বংস: কওম অহংকারবশত তাঁকে অস্বীকার করায় আল্লাহ টানা সাত রাত ও আট দিন প্রচণ্ড শীতল ও ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিবায়ু পাঠিয়ে সমগ্র আদ জাতিকে সমূলে ধ্বংস করে দেন।
١٢- من هو صاحب الحوت؟ ولِمَ سُمي بذلك؟
[১২. ‘সাহিবুল হূত’ (মাছের পেটের সঙ্গী) কে? এবং কেন তাঁকে এ নামে নামকরণ করা হয়েছে?]
উত্তর
পরিচয়: পবিত্র কুরআনে ‘সাহিবুল হূত’ বা ‘যুন-নূন’ বলতে হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। তিনি ইরাকের নিনেভা নগরীর অধিবাসীদের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন।
নামকরণের কারণ: কওমের অবাধ্যতায় আল্লাহর চূড়ান্ত নির্দেশের পূর্বেই তিনি নিনেভা ত্যাগ করে জাহাজে ওঠেন। পথিমধ্যে উত্তাল তরঙ্গে লটারি করে তাঁকে সাগরে ফেলে দিলে আল্লাহর হুকুমে একটি বিশাল মাছ তাঁকে গিলে ফেলে। তিনি মাছের পেটের অন্ধকারের মধ্যে অনুতপ্ত হয়ে ঐতিহাসিক দোয়া পাঠ করেন:
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে মাছের পেট থেকে অক্ষত অবস্থায় তীরে পৌঁছে দেন। মাছের পেটে অবস্থান করার এই অলৌকিক ঘটনার কারণেই কুরআনে তাঁকে ‘সাহিবুল হূত’ (মাছওয়ালা) বলা হয়েছে।
١٣- تحدث عن دعوة النبي ﷺ بالرسائل والكتب-
[১৩. চিঠি ও পত্রের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর দাওয়াত প্রেরণের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।]
উত্তর
হুদাইবিয়ার সন্ধির পর ষষ্ঠ ও সপ্তম হিজরিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) তৎকালীন বিশ্বের পরাশক্তি ও আঞ্চলিক প্রধানদের কাছে বিশিষ্ট সাহাবিদের মারফত সিলমোহরকৃত চিঠি পাঠান:
- রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের নিকট দাহিয়াতুল কালবী (রা.)-কে পাঠান।
- পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা আস-সাহমী (রা.)-কে পাঠান।
- আবিসিনিয়ার রাজা নাজ্জাশীর নিকট আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরী (রা.)-কে পাঠান।
- মিসরের শাসক মুকাওকিসের নিকট হাতেব ইবনে আবি বালতায়া (রা.)-কে পাঠান।
এই চিঠিগুলোর মাধ্যমেই ইসলামের দাওয়াত সমগ্র বিশ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পৌঁছে যায়।
١٤- اذكر معجزات سليمان عليه السلام في القرآن-
[১৪. পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের মোজেজাসমূহ উল্লেখ কর।]
উত্তর
আল্লাহ তায়ালা হযরত সুলাইমান (আ.)-কে এমন এক বিশাল সাম্রাজ্য ও অলৌকিক মোজেজা দিয়েছিলেন যা ইতিহাসে আর কাউকে দেওয়া হয়নি:
- পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের ভাষা বোঝা: তিনি পাখি ও পিঁপড়াদের ভাষা সরাসরি বুঝতে পারতেন এবং তাদের সাথে কথা বলতেন (সূরা আন-নামল)।
- বায়ুপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণ: বাতাস তাঁর হুকুমের অনুগত ছিল; সকাল ও সন্ধ্যায় এক মাসের দূরত্বের পথ বাতাসের সাহায্যে অতিক্রম করতেন।
- জিন বাহিনীকে অধীনস্থ করা: জিনেরা তাঁর নির্দেশে বিশাল প্রাসাদ, ভাস্কর্য ও সুগভীর সাগর থেকে মুক্তা আহরণ করত।
- গলিত তামার ফোয়ারা: আল্লাহ তাঁর জন্য তরল তামার প্রস্রবণ প্রবাহিত করে দিয়েছিলেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. সকল নবী-রাসূলের দাওয়াতের মূল অভিন্ন বাণী কী ছিল?
সকল নবী-রাসূলের দাওয়াতের মূল ও অভিন্ন বাণী ছিল একক আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা, গায়রুল্লাহ ও তাগুত বর্জন করা এবং পরকালের জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
২. রাসূলুল্লাহ (সা.) কেন রাজা-বাদশাহদের চিঠি পাঠিয়েছিলেন?
ইসলাম যে সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি বৈশ্বিক ও সার্বজনীন ধর্ম—তা বিশ্বমঞ্চে ঘোষণা করার জন্য এবং তৎকালীন পরাশক্তিগুলোর ওপর আল্লাহর হুজ্জত কায়েম করতে তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
৩. আম্বিয়াগণের ‘ইসমত’ বলতে কী বুঝায়?
ইসমত হলো আল্লাহ কর্তৃক নবীগণকে সর্বপ্রকার কুফরি, শিরক ও কবিরা গুনাহ থেকে কুদরতিভাবে সম্পূর্ণ মুক্ত ও সংরক্ষিত রাখা, যাতে ওহীর সত্যতায় কোনো সন্দেহ না থাকে।
৪. হযরত ইউনুস (আ.)-কে কেন ‘সাহিবুল হূত’ বলা হয়?
কারণ তিনি আল্লাহর হুকুমে সাগরে এক বিশাল মাছের পেটে জীবিত অবস্থায় অলৌকিকভাবে অবস্থান করেছিলেন এবং সেখান থেকেই তাওবা করে মুক্তি লাভ করেছিলেন।
৫. মাদানী জীবনের দাওয়াতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাফল্য কোনটি?
মদিনা সনদের মাধ্যমে প্রথম ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং পরবর্তীতে বিনা রক্তপাতে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে আরবে একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা।
৬. হযরত সুলাইমান (আ.)-এর অন্যতম প্রধান মোজেজা কী ছিল?
তিনি বাতাসকে নিজের হুকুমে পরিচালনা করতে পারতেন, জিন জাতিকে অনুগত করেছিলেন এবং সকল পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের ভাষা সরাসরি বুঝতে পারতেন।