জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

ইলমুস সিয়াসাহ ওয়াল ইদারাতুল আম্মাহ (Ilmus Siyasah wal Idaratul Ammah) – 203308, দাওয়াহ্ ও ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৫ মিনিট পড়ার সময়
৫ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: 203 | প্রশ্নপত্র কোড: 094
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علم السياسة والإدارة العامة
[ইলমুস সিয়াসাহ ওয়াল ইদারাতুল আম্মাহ]
বিষয় কোড: 203308
الوقت — ٤ ساعات [সময় — ৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة — ٨٠ [পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة : أجب عن سؤالين من كل من المجموعتين (أ، ج) وعن أربعة من كل من المجموعتين (ب، د)
[দ্রষ্টব্য: (أ) ও (ج) প্রত্যেক গ্রুপ থেকে দুটি করে এবং (ب) ও (د) প্রত্যেক গ্রুপ থেকে চারটি করে মোট ১২টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) [علم السياسة – أسئلة موسعة / বিভাগ ‘ক’ – রাষ্ট্রবিজ্ঞান রচনামূলক]

মান: ১০ × ২ = ২০ (যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

١- عرّف الدولة وبيّن عناصرها وخصائص الدولة الإسلامية-

[১. রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দাও, এর উপাদানসমূহ উল্লেখ কর এবং ইসলামি রাষ্ট্রের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

মানব সভ্যতার বিকাশ, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামষ্টিক জীবনের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। ইসলামে ধর্ম ও রাজনীতি কোনো ভিন্ন বা বিপরীতমুখী সত্তা নয়; বরং দ্বীনকে সামগ্রিকভাবে বাস্তবায়নের অপরিহার্য মাধ্যম হলো রাষ্ট্রক্ষমতা। খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনব্যবস্থা বিশ্ব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের নমুনা।

রাষ্ট্রের সংজ্ঞা ও উপাদানসমূহ (تعريف الدولة وعناصرها)

সংজ্ঞা: রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গার্নারের মতে: রাষ্ট্র হলো এমন একটি সুসংগঠিত জনসমাজ যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, যা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণমুক্ত এবং যার একটি সুসংগঠিত সরকার রয়েছে যার প্রতি অধিকাংশ জনগণ স্বাভাবিক আনুগত্য প্রদর্শন করে।

রাষ্ট্রের আধুনিক চারটি উপাদান:

  1. জনসমষ্টি (Population): রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক উপাদান।
  2. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (Defined Territory): নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা।
  3. সরকার (Government): রাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশ ও বাস্তবায়নের মাধ্যম।
  4. সার্বভৌমত্ব (Sovereignty): রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও চরম ক্ষমতা।

ইসলামি রাষ্ট্রের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص الدولة الإسلامية)

  1. আল্লাহর পরম সার্বভৌমত্ব (الحاكمية لله): আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, কিন্তু ইসলামি রাষ্ট্রে চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব কেবল মহান আল্লাহর। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশই চূড়ান্ত: “হুকুম বা কর্তৃত্বের অধিকার কেবল আল্লাহর।” (সূরা ইউসুফ: ৪০)
  2. খেলাফত ও খলিফার প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্ব (الاستخلاف): সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হলেন আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি এবং জনগণের সেবক। তিনি স্বেচ্ছাচারী শাসক নন; বরং আল্লাহর আইনের অনুগত সেবক।
  3. পরামর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থা (الشورى): রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও নির্বাচন পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়: “এবং তাদের পারস্পরিক কার্যাবলী পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়।” (সূরা আশ-শুরা: ৩৮)
  4. আইনের শাসন ও সামাজিক ইনসাফ (العدل والمساواة): রাজা ও প্রজা, ধনী ও দরিদ্র—আইনের চোখে সবাই সমান। এমনকি খলিফার বিরুদ্ধেও সাধারণ নাগরিক আদালতে মামলা করতে পারে।
  5. আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার: সৎকাজের নির্দেশ এবং অন্যায় ও অশ্লীলতার প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক দায়িত্ব: “তারা এমন লোক যাদের পৃথিবীতে ক্ষমতা দিলে তারা নামাজ কায়েম করে, যাকাত দেয়, সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে।” (সূরা আল-হাজ্জ: ৪১)
  6. বায়তুল মাল ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি: যাকাত ও উশরের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মৌলিক অধিকারের গ্যারান্টি প্রদান করে।

উপসংহার

ইসলামি রাষ্ট্র কোনো সংকীর্ণ জাতিবাদী রাষ্ট্র নয়; এটি ন্যায়বিচার, খোদাভীতি ও সার্বজনীন মানবিক কল্যাণের এক অনুপম জীবন্ত রূপরেখা।


٢- ما هو القانون الإسلامي؟ واشرح مصادره وخصائصه-

[২. ইসলামি আইন কী? এর মৌলিক উৎসসমূহ এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

মানবজীবনের সামগ্রিক কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) কর্তৃক নির্ধারিত বিধি-বিধানের সমষ্টিকে ইসলামি আইন বা আশ-শরীয়াহ বলা হয়। মানুষের তৈরি আইনের মতো এটি ত্রুটিপূর্ণ বা স্বার্থান্ধ নয়; বরং এটি পরম প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার সর্বজনীন ও শাশ্বত আইন।

ইসলামি আইনের সংজ্ঞা (تعريف القانون الإسلامي)

ইসলামি আইনের পরিভাষায়: মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় যাবতীয় প্রকাশ্য আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য পবিত্র কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ থেকে আহরিত অলঙ্ঘনীয় ঐশী বিধি-বিধানের পদ্ধতিকে ইসলামি আইন বলা হয়।

ইসলামি আইনের উৎসসমূহ (مصادره)

  1. পবিত্র কুরআনুল কারীম: আইনের সর্বপ্রথম, মৌলিক ও অলঙ্ঘনীয় উৎস। এতে রাষ্ট্র, বিচার, শাস্তি ও সামাজিক বিধানের মূলনীতি সন্নিবেশিত।
  2. সুন্নাতে নাবাবিয়্যাহ: কুরআনের সংক্ষিপ্ত আইনের বিস্তারিত রূপরেখা এবং নতুন বিধিবদ্ধ আইনের দ্বিতীয় প্রামাণ্য উৎস।
  3. ইজমা (ঐক্যমত): কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে সমকালীন বিজ্ঞ ফকিহগণের সর্বসম্মত সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত।
  4. কিয়াস (যৌক্তিক গবেষণা): ইল্লত বা কার্যকর কারণের সাদৃশ্যে নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির আইনি সমাধান।

ইসলামি আইনের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائصه)

  • ঐশী উৎস (رباني المصدر): এটি কোনো শাসক বা পার্লামেন্টের খেয়ালখুশিমতো তৈরি হয় না; এর মূল উৎস আসমানি ওহী। ফলে এতে কোনো শ্রেণিগত বা দলীয় স্বার্থপরতা নেই।
  • স্থায়িত্ব ও গতিশীলতার সমন্বয়: মৌলিক বিধানসমূহ চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয়, তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সময়ের চাহিদানুযায়ী ইজতিহাদের চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে।
  • ইহকাল ও পরকালের জবাবদিহিতা: মানুষের তৈরি আইন মানুষ কেবল পুলিশের ভয়ে মানে, কিন্তু ইসলামি আইন মানুষ নিজের ঈমানি তাগিদে এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার ভয়ে ঘরে-বাইরে সর্বাবস্থায় মান্য করে।
  • নৈতিকতার সাথে আইনের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন: পশ্চিমা আইনে নৈতিকতা ও আইন আলাদা হলেও ইসলামে আইন ও নৈতিকতা পরস্পরের পরিপূরক।

উপসংহার

ইসলামি আইন মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে একটি অপরাধমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।


٣- ناقش مفهوم المجتمع الإسلامي وأسسه التي يقوم عليها-

[৩. ইসলামি সমাজের ধারণা আলোচনা কর এবং যে সকল ভিত্তির ওপর এ সমাজ প্রতিষ্ঠিত তা বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

মানুষ সামাজিক জীব। কিন্তু ইসলাম কেবল একটি সাধারণ সমাজ নয়; বরং একটি আদর্শিক, খোদাভীরু ও মানবকল্যাণমুখী সমাজের রূপরেখা প্রদান করে, যাকে ‘আল-মুজতামাউল ইসলামী’ (ইসলামি সমাজ) বলা হয়। মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) এই সমাজের বাস্তব নমুনা কায়েম করেছিলেন।

ইসলামি সমাজের ধারণা (مفهوم المجتمع الإسلامي)

ইসলামি সমাজ হলো এমন এক জনসমাজ যার প্রতিটি সদস্য একক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও আখিরাতের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রেখে কুরআন ও সুন্নাহর আইন অনুযায়ী তাদের সামগ্রিক জীবন অতিবাহিত করে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সুবিচার ও তাকওয়ার ভিত্তিতে আবদ্ধ থাকে।

ইসলামি সমাজের প্রধান ভিত্তিসমূহ (أسسه التي يقوم عليها)

  1. তাওহিদ ও আকিদাগত ঐক্য: ইসলামি সমাজের প্রথম ভিত্তি হলো একক আল্লাহর দাসত্ব। বর্ণ, ভাষা বা ভূগোলের ভিত্তিতে নয়; বরং ঈমান ও কালিমার বন্ধনে মানুষ এখানে একতাবদ্ধ।
  2. ইসলামি ভ্রাতৃত্ব (الأخوة الإسلامية): পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: “নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১০)। রাসূলুল্লাহ (সা.) সমাজকে একটি মানবদেহের সাথে তুলনা করেছেন—দেহের একটি অঙ্গে আঘাত লাগলে যেমন পুরো দেহ ব্যথিত হয়, সমাজেও একজনের কষ্টে অন্যরা ব্যথিত হয়।
  3. ন্যায়বিচার ও ইনসাফ (العدل والقسط): শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সকলের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন করা সমাজের ভিত্তি: “কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ বর্জনে প্ররোচিত না করে।” (সূরা আল-মায়েদা: ৮)
  4. আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার: একে অপরকে ভালো কাজের পরামর্শ দেওয়া এবং মাদক, অশ্লীলতা ও জুলুমের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
  5. পারস্পরিক সহানুভূতি ও বায়তুল মাল: যাকাত, ফিতরা ও সদকার মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যহীন একটি অর্থনৈতিক সৌহার্দ্য রক্ষা করা।

উপসংহার

ইসলামি সমাজ হিংসা, বর্ণবাদ ও শোষণমুক্ত এমন এক নিরাপদ দুর্গ যা ব্যক্তি ও সমষ্টির উভয় জাহানের পূর্ণাঙ্গ কল্যাণের নিশ্চয়তা দেয়।


٤- ما هي شروط رئيس الدولة في الإسلام ومسؤولياته؟

[৪. ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধানের (ইমাম/খলিফা) আবশ্যকীয় শর্তাবলী এবং তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান বা খলিফার পদটি অত্যন্ত মর্যাদা ও বিশাল আমানতপূর্ণ। তিনি কোনো স্বেচ্ছাচারী একনায়ক নন; বরং তিনি উম্মাহর সেবক ও আল্লাহর আইনের বাস্তবায়নকারী নির্বাহী প্রধান। তাঁর নির্বাচন এবং যোগ্যতা সম্পর্কে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধানের আবশ্যকীয় শর্তাবলী (شروطه)

  1. ইসলাম (الإسلام): অমুসলিমদের ওপর কোনো কাফিরের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।
  2. জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (العلم والاجتهاد): কুরআন, সুন্নাহ ও শরীয়তের গভীর জ্ঞান থাকতে হবে, যাতে তিনি জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
  3. আদল ও তাকওয়া (العدالة والتقوى): খোদাভীরু, ন্যায়পরায়ণ এবং চরিত্রহীনতা ও কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়া।
  4. শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা (الكفاية وسلامة الحواس): দূরদর্শিতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সাহসিকতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা থাকা।
  5. পরামর্শমূলক মানসিকতা: বিজ্ঞ পরামর্শদাতাদের (আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদ) সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা থাকা।

রাষ্ট্রপ্রধানের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ (مسؤولياته)

  • দ্বীনের সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা (حراسة الدين): শরীয়তের মৌলিক আকিদা ও আহকাম সমাজে সুরক্ষা করা এবং বিদআত ও নাস্তিকতা দমন করা।
  • আইনের বাস্তবায়ন ও বিচার পরিচালনা: সমাজে ইনসাফ কায়েম করা, হুদুদ ও কিসাসের বিধান কার্যকর করা এবং মজলুমের অধিকার আদায় করা।
  • সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জিহাদ পরিচালনা: দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং শত্রু আক্রমণ প্রতিহত করতে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলা।
  • অর্থনৈতিক কল্যাণ ও বায়তুল মালের রক্ষণাবেক্ষণ: বায়তুল মালের অর্থ ন্যায়সঙ্গতভাবে সংগ্রহ ও বণ্টন করা এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
  • জনগণের সেবা ও জবাবদিহিতা: নিজের দরজা জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং জবাবদিহিতার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকা। যেমন হযরত ওমর (রা.) বলেছিলেন: “ফোরাত নদীর তীরে যদি একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায়, তবে কিয়ামতের দিন ওমরকে তার জন্য আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে।”

উপসংহার

ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ কোনো রাজকীয় ভোগের বস্তু নয়; এটি এক কাঁটার মুকুট ও পরকালীন জবাবদিহিতার চরম আমানত।


مجموعة (ب) [علم السياسة – أسئلة موجزة / বিভাগ ‘খ’ – রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংক্ষিপ্ত]

মান: ৫ × ৪ = ২০ (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

٥- اكتب نبذة موجزة عن دستور بنغلاديش لعام 1972م-

[৫. ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।]

উত্তর

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

  • মূলনীতিসমূহ: মূল সংবিধানে রাষ্ট্রীয় চারটি মূলনীতি ঘোষণা করা হয়: ১. জাতীয়তাবাদ, ২. সমাজতন্ত্র, ৩. গণতন্ত্র এবং ৪. ধর্মনিরপেক্ষতা। (পরবর্তীতে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এবং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ও ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়)।
  • কাঠামো: এটি একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান। এতে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ এবং ৪টি মূল তফসিল ছিল।
  • মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র: জনগণের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার রূপরেখা প্রদান করা হয়।

٦- ما هي المشاكل الاجتماعية الرئيسية في بنغلاديش؟

[৬. বাংলাদেশের প্রধান প্রধান সামাজিক সমস্যাসমূহ কী কী?]

উত্তর

একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নানাবিধ জটিল সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন:

  1. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব: বিশাল জনসংখ্যার অনুপাতে কর্মসংস্থানের অভাব এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য।
  2. দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব: সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুর্নীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ইনসাফের অন্তরায়।
  3. মাদকাসক্তি ও যুব অবক্ষয়: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদক ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নৈতিক চরিত্র ধ্বংস করছে।
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন: যৌতুক প্রথা, বাল্যবিয়ে এবং পারিবারিক সহিংসতা।
  5. নিরক্ষরতা ও স্বাস্থ্যহীনতা: উপযুক্ত কর্মমুখী শিক্ষার অভাব এবং প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা।

٧- بيّن مفهوم المسؤولية الاجتماعية في الإسلام-

[৭. ইসলামে সামাজিক দায়িত্ববোধের (আল-মাসউলিয়্যাতুল ইজতিমায়িয়্যাহ) ধারণা ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর

ধারণা: ইসলামে কোনো ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো কেবল নিজেকে নিয়ে বাঁচতে পারে না। সমাজের প্রতিটি সদস্যের ওপর পরিবারের, প্রতিবেশীর ও সামগ্রিক মানবতার সুনির্দিষ্ট সামাজিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।

  • হাদিসের দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন:

    كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

    “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।” (সহিহ বুখারি)

  • ব্যবহারিক রূপ: অভাবীর পাশে দাঁড়ানো, ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করা, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, রাস্তা থেকে ক্ষতিকর বস্তু সরানো এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবদান রাখা সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

٨- ما هي أهمية المجتمع في حياة الإنسان؟

[৮. মানবজীবনে সমাজের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।]

উত্তর

সমাজ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব ও বিকাশ অসম্ভব:

  • মৌলিক চাহিদা পূরণ: একা কোনো মানুষ নিজের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না; সমাজের শ্রমবিভাজন ও সহযোগিতার মাধ্যমেই মানুষের জীবন চলে।
  • ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ: সামাজিক মেলামেশার মাধ্যমেই মানুষ কথা বলতে শেখে, শিক্ষা অর্জন করে এবং সভ্যতার উত্তরাধিকারী হয়।
  • মানসিক ও পারিবারিক প্রশান্তি: মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার জন্য আত্মীয় ও প্রতিবেশীর সান্নিধ্য অপরিহার্য। এরিস্টটল যথার্থই বলেছিলেন: “যে ব্যক্তি সমাজে বসবাস করে না, সে হয় পশু না হয় দেবতা।”

مجموعة (ج) [الإدارة العامة – أسئلة موسعة / বিভাগ ‘গ’ – লোকপ্রশাসন রচনামূলক]

মান: ১০ × ২ = ২০ (যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

٩- عرّف الإدارة العامة وبيّن نشأتها وأهميتها في الدولة الحديثة-

[৯. লোকপ্রশাসনের সংজ্ঞা দাও এবং আধুনিক রাষ্ট্রে এর উৎপত্তি ও গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

একটি আধুনিক রাষ্ট্রের নীতিমালা বাস্তবায়ন, নাগরিক সেবা প্রদান এবং শাসনব্যবস্থার চাকা সচল রাখার মূল চালিকাশক্তি হলো ‘লোকপ্রশাসন’ (الإدارة العامة – Public Administration)। আইনসভা যে আইন তৈরি করে, তা বাস্তবায়নের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব লোকপ্রশাসনের আমলাতন্ত্র ও কর্মচারীদের ওপর ন্যস্ত থাকে।

লোকপ্রশাসনের সংজ্ঞা (تعريف الإدارة العامة)

সংজ্ঞা: মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson)-এর মতে: “লোকপ্রশাসন হলো বিস্তারিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সরকারি আইনের বাস্তব প্রয়োগ।”
এল. ডি. হোয়াইট বলেন: “রাষ্ট্রের ঘোষিত সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যাবতীয় কর্মকাণ্ডের সমষ্টিই হলো লোকপ্রশাসন।”

লোকপ্রশাসনের উৎপত্তি ও বিকাশ (نشأتها)

  1. ঐতিহাসিক পটভূমি: প্রাচীন মিশর, ব্যবিলন, রোম এবং বিশেষ করে খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে লোকপ্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয় (যেমন দেওয়ান ব্যবস্থা ও বায়তুল মাল)।
  2. আধুনিক স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ (১৮৮৭ খ্রি.): উড্রো উইলসন ১৮৮৭ সালে তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ “The Study of Administration” রচনার মাধ্যমে রাজনীতি থেকে প্রশাসনকে পৃথক একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে ঘোষণা করেন। এজন্য তাঁকে লোকপ্রশাসনের জনক বলা হয়।
  3. আমলাতন্ত্রের তত্ত্ব (ম্যাক্স ওয়েবার): জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক আমলাতন্ত্রের সুনির্দিষ্ট নিয়মবিধি উপস্থাপন করেন।

আধুনিক রাষ্ট্রে লোকপ্রশাসনের অপরিহার্য গুরুত্ব (أهميتها)

  • সরকারি নীতিমালার সফল বাস্তবায়ন: সরকার যত চমৎকার পরিকল্পনাই করুক না কেন, দক্ষ প্রশাসন ছাড়া তা কেবল কাগজের দলিলে সীমাবদ্ধ থাকে।
  • আইন-শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা: পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে।
  • নাগরিক মৌলিক সেবা নিশ্চিতকরণ: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প সরাসরি প্রশাসনের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছায়।
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ পুনর্বাসন: বন্যা, মহামারি ও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনই প্রথম সারির উদ্ধারকারী হিসেবে কাজ করে।

উপসংহার

লোকপ্রশাসন হলো রাষ্ট্রের কঙ্কাল বা মেরুদণ্ড। একটি দক্ষ, সৎ ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনের ওপরই রাষ্ট্রের সামগ্রিক সাফল্য নির্ভরশীল।


١٠- اشرح النظرية الإسلامية في الإدارة في ضوء خلافة أبي بكر الصديق رضي الله عنه-

[১০. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর খেলাফতের আলোকে ইসলামি প্রশাসনিক তত্ত্ব ও দর্শন ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

ইসলামি প্রশাসনিক দর্শন কেবল জাগতিক ক্ষমতার অনুশীলন নয়; এটি আল্লাহর ভয় ও জনতার আমানতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক অনন্য ব্যবস্থা। বিশ্বনবী (সা.)-এর ওফাতের পর প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত আড়াই বছরের শাসনকাল ছিল ইসলামি প্রশাসনিক কাঠামোর এক অনন্য মাইলফলক।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ঐতিহাসিক অভিষেক ভাষণ ও প্রশাসনিক দর্শন

দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রদত্ত প্রথম ভাষণটি আজও বিশ্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সবচেয়ে কালজয়ী প্রশাসনিক ম্যানিফেস্টো:

أَيُّهَا النَّاسُ، فَإِنِّي قَدْ وُلِّيتُ عَلَيْكُمْ وَلَسْتُ بِخَيْرِكُمْ، فَإِنْ أَحْسَنْتُ فَأَعِينُونِي، وَإِنْ أَسَأْتُ فَقَوِّمُونِي… الصِّدْقُ أَمَانَةٌ، وَالْكَذِبُ خِيَانَةٌ، وَالضَّعِيفُ فِيكُمْ قَوِيٌّ عِنْدِي حَتَّى أُرِيحَ عَلَيْهِ حَقَّهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، وَالْقَوِيُّ فِيكُمْ ضَعِيفٌ عِنْدِي حَتَّى آخُذَ الْحَقَّ مِنْهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

“হে লোকসকল! আমাকে তোমাদের শাসক মনোনীত করা হয়েছে অথচ আমি তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নই। আমি যদি ভালো কাজ করি তবে আমাকে সহযোগিতা কর, আর যদি ভুল করি তবে আমাকে সংশোধন করে দাও। সত্য হলো আমানত আর মিথ্যা হলো খেয়ানত। তোমাদের মধ্যকার দুর্বল ব্যক্তি আমার কাছে শক্তিশালী যতক্ষণ না আমি তাকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিই; আর তোমাদের মধ্যকার শক্তিশালী ব্যক্তি আমার নিকট দুর্বল যতক্ষণ না আমি তার থেকে অপরের হক আদায় করি।”

তাঁর খেলাফতের প্রধান প্রশাসনিক নীতিসমূহ

  1. সংকট মোকাবিলায় আপসহীন নেতৃত্ব (Crisis Management):
    রাসূল (সা.)-এর ওফাতের পর উম্মাহ যখন মুরতাদ আন্দোলন, ভণ্ড নবীদের উত্থান এবং যাকাত অস্বীকারের মতো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল, তখন তিনি অটল সাহসিকতায় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেন।
  2. পরামর্শভিত্তিক শাসন (শুরা):
    তিনি এককভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন না; ওমর, আলী, উসমান (রা.) প্রমুখ বিজ্ঞ সাহাবিদের নিয়ে গঠিত মজলিসে শুরার সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন।
  3. কঠোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:
    খলিফা হওয়ার পরও তিনি কাপড়ের ব্যবসা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাহাবিরা বায়তুল মাল থেকে তাঁর জন্য একজন সাধারণ নাগরিকের সমপরিমাণ অতি সামান্য ভাতা নির্ধারণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি অসিয়ত করে যান যেন তাঁর ব্যক্তিগত বাগান বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় ভাতার সমুদয় অর্থ বায়তুল মালে ফেরত দেওয়া হয়।
  4. যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ:
    তিনি কোনো স্বজনপ্রীতি না করে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, উসামা ইবনে যায়েদ প্রমুখ যোগ্য ব্যক্তিদের সেনাপতি ও প্রশাসক পদে বহাল রাখেন।

উপসংহার

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর প্রশাসন প্রমাণ করেছে যে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও জনসেবাই হলো সর্বোৎকৃষ্ট প্রশাসনিক নেতৃত্ব।


١١- ما هي القيادة الإدارية وما هي أوصاف القائد الناجح في الإسلام؟

[১১. প্রশাসনিক নেতৃত্ব কী এবং ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে একজন সফল নেতার গুণাবলী আলোচনা কর।]

ভূমিকা

যেকোনো সংগঠন বা রাষ্ট্রের সাফল্যের কেন্দ্রীয় উপাদান হলো নেতৃত্ব (القيادة الإدارية – Administrative Leadership)। নেতৃত্বহীন জনসমষ্টি লক্ষ্যহীন তরঙ্গের মতো। ইসলাম এমন এক নৈতিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ধারণা দেয় যা দুনিয়ায় সফলতা এবং পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি নিশ্চিত করে।

প্রশাসনিক নেতৃত্বের সংজ্ঞা

সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের উদ্বুদ্ধ, পরিচালিত, প্রভাবিত ও সমন্বিত করার ক্ষমতাকে প্রশাসনিক নেতৃত্ব বলা হয়। ইসলামি পরিভাষায় নেতৃত্ব হলো একটি পবিত্র আমানত (الأمانة) এবং খিদমতের মাধ্যম।

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন সফল নেতার আবশ্যকীয় গুণাবলী (أوصاف القائد الناجح)

  1. তাকওয়া ও খোদাভীতি (التقوى): নেতা অন্তরে বিশ্বাস করবেন যে তিনি জনগণের মালিক নন, বরং সেবক; এবং প্রতিটি কাজের জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে।
  2. যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা (الكفاءة والقوة): কুরআনে নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠ দুটি গুণ বলা হয়েছে: “নিশ্চয় আপনার কর্মী হিসেবে সে-ই উত্তম যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।” (সূরা আল-কাসাস: ২৬)
  3. আমানতদারি ও নিখুঁত সততা (الأمانة والنزاهة): দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা।
  4. পরামর্শ গ্রহণ ও শুরা পদ্ধতি (الشورى): অধস্তনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্বেচ্ছাচারিতা পরিহার করা।
  5. নম্রতা ও ক্ষমাশীল আচরণ: আল্লাহ রাসূল (সা.) সম্পর্কে ইরশাদ করেন: “আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলেন; যদি আপনি কঠোর ও রূঢ় স্বভাবের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।” (সূরা আলে ইমরান: ১৫৯)
  6. সাহসিকতা ও তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা: প্রতিকূল ও সংকটময় মুহূর্তে নির্ভীক চিত্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।

উপসংহার

ইসলামি নেতৃত্বের দর্শন হলো: “সায়্যিদুল কাওমি খাদিমুহুম” (سيد القوم خادمهم)—জাতির প্রকৃত নেতা হলেন তিনি যিনি জাতির সবচেয়ে বড় সেবক।


١٢- عرّف المنظمة وبيّن مبادئ التنظيم الإداري-

[১২. সংগঠনের সংজ্ঞা দাও এবং প্রশাসনিক সংগঠনের মূলনীতিসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

যেকোনো যৌথ কাজ বা লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে একদল মানুষকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখায় সাজাতে হয়, যাকে ‘সংগঠন’ (Organization) বলা হয়। সংগঠন ছাড়া লোকপ্রশাসনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। ইসলামও উম্মাহকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

সংগঠনের সংজ্ঞা (تعريف المنظمة)

প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী চেস্টার বার্নার্ড (Chester Barnard)-এর মতে: “সংগঠন হলো দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সচেতনভাবে সমন্বিত কার্যকলাপ বা শক্তির একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা।”
সহজ কথায়, সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগণের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও সম্পর্কের কাঠামোগত বিন্যাসকে সংগঠন বলে।

প্রশাসনিক সংগঠনের মৌলিক মূলনীতিসমূহ (مبادئ التنظيم)

  1. নির্দিষ্ট লক্ষ্যের নীতি (Principle of Objective): প্রতিটি সংগঠনের একটি সুস্পষ্ট ও লিখিত লক্ষ্য থাকতে হবে, যার দিকে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
  2. শ্রমবিভাগ ও বিশেষায়ন (Division of Work): কর্মীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজ বণ্টন করা, যাতে কাজের মান ও গতি বাড়ে।
  3. কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সমতা (Authority and Responsibility): কোনো কর্মীকে দায়িত্ব দিলে সেই দায়িত্ব পালনের উপযোগী উপযুক্ত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বও প্রদান করতে হবে।
  4. আদেশের ঐক্য (Unity of Command): একজন অধস্তন কর্মী কেবল একজনমাত্র উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যক্ষ আদেশ গ্রহণ করবে; একাধিক বস থাকলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
  5. নির্দেশনার ঐক্য (Unity of Direction): একই ধরনের কাজের জন্য একটিমাত্র পরিকল্পনা ও একজনমাত্র নেতা থাকবে।
  6. নিয়ন্ত্রণ পরিধি (Span of Control): একজন কর্মকর্তার অধীনে কতজন কর্মী সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকবে তা সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত হতে হবে (সাধারণত ৫ থেকে ৮ জন)।
  7. পদসোপান নীতি (Scalar Chain / Hierarchy): শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্নতম কর্মচারী পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন কর্তৃত্বের শৃঙ্খল থাকবে।

উপসংহার

সংগঠন হলো প্রশাসনিক দক্ষতার চাবিকাঠি। সঠিক নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে অত্যন্ত দ্রুত সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।


مجموعة (د) [الإدارة العامة – أسئلة موجزة / বিভাগ ‘ঘ’ – লোকপ্রশাসন সংক্ষিপ্ত]

মান: ৫ × ৪ = ২০ (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

١٣- ما الفرق بين الإدارة الإسلامية والإدارة الغربية الحديثة؟

[১৩. ইসলামি প্রশাসন এবং আধুনিক পাশ্চাত্য প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।]

উত্তর

উভয় ব্যবস্থার দর্শন ও কর্মপন্থায় মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:

পার্থক্যের ক্ষেত্র ইসলামি প্রশাসন আধুনিক পাশ্চাত্য প্রশাসন
মূল দর্শন আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাকওয়া ও আখিরাতের জবাবদিহিতাভিত্তিক। সম্পূর্ণ সেক্যুলার, জাগতিক উৎপাদন ও মুনাফাভিত্তিক।
সার্বভৌমত্ব চূড়ান্ত আইনদাতা আল্লাহ; শরীয়তের অধীনে প্রশাসন পরিচালিত। জনগণ বা পার্লামেন্টের তৈরি আইনের অধীন।
নৈতিকতা আইন ও নৈতিকতা অবিচ্ছেদ্য; ফাঁকি দেওয়াও গুনাহ। আইন মান্য করা কেবল বাহ্যিক শাস্তির ভয়ে; নৈতিকতা ব্যক্তিগত বিষয়।
নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি নেতা হলেন জনগণের সেবক (খাদিমুল কাওম)। নেতা হলেন ক্ষমতার অধিকারী বস বা ব্যবস্থাপক।

١٤- اذكر مزايا الإدارة الإسلامية-

[১৪. ইসলামি প্রশাসনিক ব্যবস্থার সুবিধাসমূহ উল্লেখ কর।]

উত্তর

ইসলামি প্রশাসনের প্রধান সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:

  • স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ: অন্তরে খোদাভীতি ও পরকালের জবাবদিহিতার অনুভূতি থাকার কারণে কর্মচারীগণ ঘুষ, খেয়ানত ও স্বজনপ্রীতি থেকে মুক্ত থাকেন।
  • ইনসাফ ও বৈষম্যহীনতা: ক্ষমতাশীল ও সাধারণ নাগরিকের মাঝে আইনের সমান প্রয়োগ ঘটে।
  • জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা: প্রশাসনকে দ্বীনি আমানত মনে করায় জনগণ সরকারের নির্দেশকে অন্তর থেকে মান্য করে।
  • কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: দুর্বল, এতিম ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোকে প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব মনে করা হয়।

١٥- ما هي صفات حاكم مديرية (Deputy Commissioner)؟

[১৫. একজন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রয়োজনীয় গুণাবলী কী কী?]

উত্তর

বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ের জেলা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হলেন জেলা প্রশাসক (DC / Deputy Commissioner)। তাঁর আবশ্যকীয় গুণাবলী:

  1. প্রশাসনিক ও বিচারিক দক্ষতা: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অপরাধ দমন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আইনগত জ্ঞান ও সাহস থাকা।
  2. সততা ও নিরপেক্ষতা: রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বিচার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি করা।
  3. সংকট মোকাবিলার নেতৃত্ব: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দাঙ্গা বা মহামারিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠপর্যায়ে পরিচালনা করার মানসিকতা।
  4. জনবান্ধব আচরণ ও ধৈর্য: সাধারণ জনগণের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার মানসিকতা থাকা।

١٦- بيّن أهمية المنظمة في تكوين المجتمع-

[১৬. সমাজ গঠনে সংগঠনের গুরুত্ব ও ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর

সুসংগঠিত সমাজ ছাড়া মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বিকাশ সম্ভব নয়:

  • বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দূরীকরণ: সংগঠনহীন সমাজ বিশৃঙ্খল মব বা জনতার রূপ নেয়; সংগঠনের মাধ্যমে আইন ও শৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠা ঘটে।
  • যৌথ লক্ষ্য অর্জন: বৃহৎ উন্নয়নমূলক কাজ (যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা প্রতিরক্ষা) কোনো একক ব্যক্তির দ্বারা সম্ভব নয়; শক্তিশালী সংগঠনের মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়।
  • নেতৃত্ব তৈরি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: সংগঠন তরুণদের মাঝে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকশিত করে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি কী?

ইসলামি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর চরম সার্বভৌমত্ব (হাকিমিয়্যাত), খেলাফত ব্যবস্থা, পারস্পরিক পরামর্শভিত্তিক শাসন (শুরা) এবং আইনের চোখে শতভাগ সুবিচার প্রতিষ্ঠা।

২. আধুনিক লোকপ্রশাসনের জনক কে?

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson)-কে তাঁর ১৮৮৭ সালের যুগান্তকারী প্রবন্ধের কারণে আধুনিক লোকপ্রশাসনের জনক বলা হয়।

৩. হযরত আবু বকর (রা.)-এর প্রশাসনিক দর্শনের মূল কথা কী ছিল?

তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে সত্যই হলো আমানত আর মিথ্যা হলো খেয়ানত; সমাজে দুর্বল ব্যক্তি অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর কাছে শক্তিশালী এবং জালিম শক্তিশালী ব্যক্তি তাঁর নিকট দুর্বল।

৪. ইসলামি নেতৃত্বে ‘শুরা’ বলতে কী বুঝায়?

শুরা হলো পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থা। ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধান বা নেতাকে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ওয়াজিব।

৫. সংগঠনের ‘আদেশের ঐক্য’ (Unity of Command) নীতি কী?

আদেশের ঐক্য নীতি অনুযায়ী প্রশাসনিক সংগঠনে একজন অধস্তন কর্মী কেবল একজনমাত্র নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে আদেশ ও নির্দেশনা গ্রহণ করবে, যাতে কাজের বিশৃঙ্খলা না হয়।

৬. একজন জেলা প্রশাসকের (DC) প্রধান ভূমিকা কী?

জেলা প্রশাসক হলেন মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রধান প্রতিনিধি। তিনি জেলায় ভূমি রাজস্ব আদায়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *