১। আল্লাহ ﷻ-এর স্মরণ হচ্ছে ইবাদতের ভিত্তি। সকল অবস্থা এবং সময়ে এটি ইবাদতকারীদের আল্লাহ ﷻ-এর সাথে সম্পর্ক করে দেয়। আয়িশা رضي الله عنهاا বলেন,
আল্লাহ ﷻ-এর রাসূল ﷺ সর্বদা আল্লাহ ﷻ-এর স্মরণ করতেন।
আল্লাহ ﷻ-এর সাথে এই সম্পর্ক হচ্ছে জীবন, তাঁর নৈকট্য হচ্ছে সফলতা এবং সন্তুষ্টি এবং পথভ্রষ্টতা এবং বিপর্যয় থেকে বহু দূরে থাকার উপায়।
২। আল্লাহ ﷻ-এর স্মরণ মুনাফিক্বদের থেকে বান্দাকে আলাদা করে। কারণ মুনাফিক্বদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা আল্লাহ ﷻ-কে খুবই কম স্মরণ করেঃ
‘‘….এবং আল্লাহ ﷻ-কে খুবই কম স্মরণ করে।”
اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ یُخٰدِعُوۡنَ اللّٰہَ وَ ہُوَ خَادِعُہُمۡ ۚ وَ اِذَا قَامُوۡۤا اِلَی الصَّلٰوۃِ قَامُوۡا کُسَالٰی ۙ یُرَآءُوۡنَ النَّاسَ وَ لَا یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰہَ اِلَّا قَلِیۡلًا.
নিশ্চয় মুনাফিক্ব লোকেরা নিজের ধারণায়, আল্লাহকে প্রতারিত করতে চায়; বস্তুত তিনিই তাদেরকে অন্যমনস্ক করে মারবেন; আর যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন মনভোলা অবস্থায়, মানুষকে দেখায় (মাত্র) এবং আল্লাহকে স্মরণ করে না কিন্তু অল্প সংখ্যক লোক।
(আন নিসা, ৪ঃ১৪২)
৩। শয়তান বান্দাদের উপর বিজয়ী হতে পারে না যদি না তারা আল্লাহ ﷻ-এর স্মরণ থেকে অমনোযোগী হয়। আল্লাহ ﷻ-এর স্মরণ হচ্ছে ঢালের ন্যায়।
৪। যিকর হচ্ছে বান্দার সুখের উপায়ঃ
“… নিশ্চয়ই আল্লাহ ﷻ-এর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।”
اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ تَطۡمَئِنُّ قُلُوۡبُہُمۡ بِذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ اَلَا بِذِکۡرِ اللّٰہِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ.
ওই সব লোক, যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তি পায়; শুনে নাও, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরের প্রশান্তি রয়েছে।
(আর রাদ, ১৩ঃ২৮)
৫। আল্লাহ ﷻ-কে সর্বদা স্মরণ করা। জান্নাতে বান্দাদের কোন আফসোস থাকবে না শুধু দুনিয়ার ঐ সময়ের জন্য যা সে আল্লাহ ﷻ-এর স্মরণ ব্যতীত কাটিয়েছে।
৬। আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে স্মরণ করেন যে আল্লাহ ﷻ-কে স্মরণ করে।
“আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব।”
فَاذۡکُرُوۡنِیۡۤ اَذۡکُرۡکُمۡ وَ اشۡکُرُوۡا لِیۡ وَ لَا تَکۡفُرُوۡنِ.
সুতরাং আমার স্মরণ করো, আমিও তোমাদের চর্চা করবো আর আমার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো এবং আমার অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
(সূরা বাক্বারাহ ২ঃ১৫২)
একজন ব্যক্তি অনেক খুশি হয় যখন তাকে সংবাদ দেয়া হয় যে শাসকরা তাকে নিয়ে আলোচনা করেছে তাদের সমাবেশে এবং তার প্রশংসা করেছে। সুতরাং কিরূপ উপলব্দি হওয়া উচিত, আল্লাহ, যিনি বিশ্বজগতের রাব্ব, এর চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করেছেন?
৭। আল্লাহ ﷻ-এর স্মরণ দ্বারা এমন কিছু বোঝায় না যে দুই একটি শব্দ উচ্চারন করা যখন হৃদয় কি বলছে তা থেকে উদাসীন থাকে এবং আল্লাহ ﷻ-এর মহত্বতা এবং আনুগত্য থেকে মন উদাসীন থাকে।
সুতরাং জিহবা দ্বারা স্মরণ করার নিঃসন্দেহে এর দিকে মনোযোগ দেয়া, অর্থের দিকে খেয়াল করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
“আল্লাহ ﷻ-কে স্মরণ কর তোমার নিজের মধ্যে, বিনীতভাবে এবং ভয় সহকারে এবং উচু শব্দে নয়, সকাল এবং সন্ধ্যায় এবং তাদের মধ্যে হইও না যারা গাফেল।”
اذۡکُرۡ رَّبَّکَ فِیۡ نَفۡسِکَ تَضَرُّعًا وَّ خِیۡفَۃً وَّ دُوۡنَ الۡجَہۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوِّ وَ الۡاٰصَالِ وَ لَا تَکُنۡ مِّنَ الۡغٰفِلِیۡنَ.
এবং আপন রবকে নিজের অন্তরে স্মরণ করুন সবিনয়ে (কান্না) ও ভয় সহকারে এবং মুখ থেকে অনুচ্চস্বরে, প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায়; এবং উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
(সুরা, আল আ’রাফ ৭ঃ২০৫)