জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

সুনান আত-তিরমিযী ও সুনান ইবনে মাজাহ (Sunan At-Tirmidhi wa Sunan Ibn Majah) – ২০২২০৬, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৬২ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: সুনান আত-তিরমিযী ও সুনান ইবনে মাজাহ
বিষয় কোড: ২০২২০৬
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

ক বিভাগ: جامع الترمذي (সুনান আত-তিরমিযী অংশ) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান

١. عن الأعمش عن أبى صالح عن أبى هريرة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن للصلاة أولاً وآخراً وإن أول وقت صلاة الظهر حين تزول الشمس وإن آخر وقتها حين يدخل وقت العصر…

[১. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: নিশ্চয় সালাতের শুরু ও শেষ ওয়াক্ত রয়েছে। আর যোহরের সালাতের প্রথম ওয়াক্ত হলো সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার সময় এবং এর শেষ ওয়াক্ত হলো যখন আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করে…]

(الف) عرف الصلاة لغة وشرعًا- ثم بين فضلها-

১. সালাতের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘সালাত’ (الصلاة) শব্দের মূল অর্থ দোয়া, প্রার্থনা ও ক্ষমা প্রার্থনা (الدعاء والاستغفار)। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: “وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ” (আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন, নিশ্চয়ই আপনার দোয়া তাদের জন্য শান্তির কারণ – সূরা তাওবা: ১০৩)। এছাড়া এর অর্থ তাসবীহ ও রহমত।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: শরীয়তের পরিভাষায়— “أقوال وأفعال مخصوصة مفتتحة بالتكبير ومختومة بالتسليم بشرائط مخصوصة” অর্থাৎ, “সুনির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলি সাপেক্ষে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে শুরু হয়ে সালামের মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়া বিশেষ কতিপয় কথা (তিলাওয়াত, তাসবীহ) ও কাজের (রুকু, সিজদা) সমষ্টিকে সালাত বলা হয়।”

২. সালাতের ফযিলত ও তাৎপর্য:

  • দ্বীনের খুঁটি: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “الصَّلاةُ عِمَادُ الدِّينِ، فَمَنْ أَقَامَهَا فَقَدْ أَقَامَ الدِّينَ، وَمَنْ هَدَمَهَا فَقَدْ هَدَمَ الدِّينَ” (সালাত হলো দ্বীনের স্তম্ভ; যে তা প্রতিষ্ঠা করল সে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করল, আর যে তা বিনষ্ট করল সে দ্বীনকে ধ্বংস করল)।
  • কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: কিয়ামতের ময়দানে বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে; যদি সালাত সঠিক হয় তবে সে সফলকাম হবে, আর সালাত বরবাদ হলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে (জামি’ আত-তিরমিযী)।
  • পাপমোচনকারী নহর: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: কোনো ব্যক্তির দরজার সামনে যদি একটি প্রবাহমান নদী থাকে এবং সে দৈনিক পাঁচবার তাতে গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবীগণ বললেন: না। নবীজী বললেন: এটাই হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ, আল্লাহ এর মাধ্যমে সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেন (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।
  • অশ্লীলতা ও পাপ থেকে সুরক্ষা: আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: “إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ” (নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে – সূরা আনকাবূত: ৪৫)।

(ب) حلل الكلمات: تزول، الفجر، وقت-

তাহলীলুল কালিমাত (শব্দবিশ্লেষণ):

শব্দ (الكلمة) ছিগাহ ও বহস বাব ও মূলধাতু (مادة) আভিধানিক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
تَزُولُ واحد مؤنث غائب، بحث فعل مضارع معروف বাব نَصَرَ – يَنْصُرُ، মূলধাতু (ز و ل) আজওয়াফে ওয়াবী অর্থ: ঢলে পড়ে/বিচ্যুত হয়। حين ظرف-এর পর আসার কারণে ক্রিয়ামূলক বাক্য হিসেবে ব্যবহৃত।
الفَجْرُ اسم جنس / مصدر মূলধাতু (ف ج ر) বাবে ضَرَبَ বা نَصَرَ অর্থ: প্রভাত, সুবহে সাদেক। অন্ধকার বিদীর্ণ করে যে আলোর স্ফুরণ ঘটে তাকে ফজর বলে।
وَقْتٌ اسم مفرد، বহুবচনে أَوْقَات মূলধাতু (و ق ت) মিছালে ওয়াবী অর্থ: নির্ধারিত সময়কাল। শরীয়তের পরিভাষায় কোনো ইবাদতের জন্য নির্ধারিত প্রারম্ভ ও সমাপ্তিকাল।

٢. عن محمود بن لبيد عن رافع بن خديج قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: أسفروا بالفجر فإنه أعظم للأجر…

[২. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত রাফে’ ইবনে খাদীজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমরা ফজর সালাত ফর্সা করে আদায় কর; কেননা তা তোমাদের জন্য অধিক সওয়াবের কারণ…]

(الف) تحدث عن افضل وقت لصلاة الفجر-

ফজর সালাতের সর্বোত্তম ওয়াক্ত সম্পর্কে ইমামগণের মাযহাব ও তাহকীক:

  1. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও হানাফী মাযহাবের মত (الإسفار بالفجر):

    হানাফী ফকীহগণের মতে ফজর সালাত আকাশ কিছুটা ফর্সা ও আলোকিত করে (ইসফার) আদায় করা মুস্তাহাব ও অধিক সওয়াবের কারণ। তাঁদের দলীল হলো আলোচ্য হাদিস: “أَسْفِرُوا بِالفَجْرِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ” (তোমরা ফজরকে আলোকিত করে আদায় কর; কারণ এতে মহা প্রতিদান রয়েছে – তিরমিযী, নাসাঈ)। এছাড়া এতে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ কেরাত পাঠ করে সুন্নাহ অনুযায়ী সালাত আদায় করা যায়। তবে সূর্যোদয়ের পূর্বে নয়; বরং স্পষ্ট আলো ছড়িয়ে পড়ার পর সূর্য ওঠার পূর্বেই সালাম ফেরানো বাঞ্ছনীয়।

  2. জমহুর উলামা—ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও আহমদ (রহ.)-এর মত (التغليس):

    জমহুর ইমামগণের মতে ফজরের সালাত অন্ধকারের রেশ থাকতেই (তাগলিস) প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা সর্বোত্তম। তাঁদের দলীল হযরত আয়েশা (রা.)-এর হাদিস: “كُنَّ نِسَاءُ الْمُؤْمِنَاتِ يَشْهَدْنَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْفَجْرِ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ ثُمَّ يَنْقَلِبْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ حِينَ يَقْضِينَ الصَّلَاةَ لَا يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ مِنَ الْغَلَسِ” (মুমিন মহিলারা চাদর জড়িয়ে রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাথে ফজরের সালাত পড়তেন, অতঃপর সালাত শেষে যখন ঘরে ফিরতেন তখন রাতের অন্ধকারের কারণে কাউকে চেনা যেত না – সহীহ বুখারী)।

  3. সমন্বয় (الجمع والتوفيق):

    ইমাম আত-তাহাবী ও বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ বলেন: উভয় হাদিসের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাত শুরু করতেন অন্ধকারের মধ্যে (তাগলিস) এবং দীর্ঘ কেরাত পাঠ করতে করতে সালাত শেষ করার সময় আকাশ ফর্সা হয়ে যেত (ইসফার)। ফলে উভয় সুন্নাহর ওপর আমল সম্পন্ন হয়।

(ب) ما المراد ‘بحسن صحيح’ للترمذى؟ بين-

ইমাম তিরমিযীর পরিভাষা ‘হাসানুন সহীহ’ (حسن صحيح)-এর তাৎপর্য:

ইমাম তিরমিযী (রহ.) তাঁর জামি’ গ্রন্থে বহু হাদিসের ক্ষেত্রে একত্রে ‘হাদিসুন হাসানুন সহীহ’ (حديث حسن صحيح) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন। বাহ্যত ‘হাসান’ এবং ‘সহীহ’ দুটি ভিন্ন স্তরের হাদিস হওয়ায় একই হাদিসে উভয় শব্দের প্রয়োগ নিয়ে মুহাদ্দিসগণ গভীর গবেষণা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী ও ইমাম নববী (রহ.) এর নিম্নোক্ত সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন:

  • ১. একাধিক সনদের ক্ষেত্রে: হাদিসটির যদি দুটি সনদ থাকে, তবে একটি সনদের বিচারে হাদিসটি ‘সহীহ’ এবং অপর সনদের বিচারে হাদিসটি ‘হাসান’। তাই তিনি উভয় সনদের প্রতি ইঙ্গিত করে ‘হাসানুন সহীহ’ বলেছেন।
  • ২. একক সনদের ক্ষেত্রে দ্বিধা নিরসন: যদি হাদিসটির মাত্র একটি সনদ থাকে, তবে ইমাম তিরমিযীর নিকট অথবা সমসাময়িক বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের মাঝে রাবীর স্মৃতিশক্তি নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। কেউ তাকে সর্বোচ্চ স্তরের সিক্বাহ বলে সহীহ বলেছেন এবং কেউ কিছুটা নিম্ন স্তরের বলে হাসান বলেছেন। ইমাম তিরমিযী উভয় সম্ভাবনার কারণে অথবা বুঝিয়েছেন: ‘হাদিসটি আমাদের নিকট হাসান এবং অন্যদের নিকট সহীহ’ (حسن عندنا صحيح عند غيرنا)।
  • ৩. ভাষাগত অর্থে ‘হাসান’: কোনো কোনো মুহাদ্দিসের মতে, এখানে ‘হাসান’ পারিভাষিক অর্থে নয়; বরং আভিধানিক অর্থে অর্থাৎ হাদিসটির মতন ও অর্থ অত্যন্ত সুন্দর ও অনুপম, আর সনদগতভাবে এটি ‘সহীহ’।

٣. عن سعيد المقبرى عن أبى هريرة (رض) قال قال النبى صلى الله عليه وسلم لولا ان أشق على أمتى لأمرتهم أن يؤخروا العشاء إلى ثلث الليل أو نصفه- عن ابى برزة قال كان النبى صلى الله عليه وسلم يكره النوم قبل العشاء والحديث بعدها-

[৩. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবীজী (সা.) ইরশাদ করেন: যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তবে আমি তাদেরকে ইশার সালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধাংশ পর্যন্ত বিলম্ব করে পড়ার নির্দেশ দিতাম। আবু বারযাহ (রা.) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইশার পূর্বে ঘুমানো এবং ইশার পর অহেতুক কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন…]

(الف) تحدث عن أفضل وقت لأداء صلاة العشاء-

ইশার সালাতের সর্বোত্তম ওয়াক্ত:

  • দেরি করে পড়ার ফযিলত: হাদিসের আলোকে ইশার সালাত প্রথম ওয়াক্তে পড়ার চেয়ে রাতের এক-তৃতীয়াংশ (ثلث الليل) পর্যন্ত বিলম্ব করে পড়া মুস্তাহাব ও উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي” (নিশ্চয়ই এটিই হলো ইশার প্রকৃত উত্তম ওয়াক্ত, যদি না আমার উম্মতের জন্য তা কষ্টকর হতো – সহীহ মুসলিম)।
  • জামাতের ক্ষেত্রে সাধারণ মুসল্লিদের সুবিধা বিবেচনা: তবে মসজিদে জামাতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কষ্ট ও দুর্বলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইমামগণ রাতের প্রথম অংশে বিলম্ব না করে ইশা আদায় করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জামাতে সাহাবীদের উপস্থিতি দেখে কখনো জলদি পড়তেন এবং কখনো বিলম্ব করতেন। মধ্যরাতের পর অহেতুক দেরি করা মাকরূহ।

(ب) بين فوائد النوم مبكرا والنهي عن السمر بعد العشاء-

তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপকারিতা এবং ইশার পর কথাবার্তা নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত:

  1. ফজর ও তাহাজ্জুদের হেফাজত: ইশার পর অহেতুক আড্ডা ও রাত জাগার কারণে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ এবং বিশেষ করে ফজরের সালাত কাযা হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। তাড়াতাড়ি ঘুমালে শেষ রাতে সতেজ মনে আল্লাহর ইবাদতে জাগ্রত হওয়া সহজ হয়।
  2. দিনের শেষ আমল পুণ্যময় রাখা: রাসুলুল্লাহ (সা.) চেয়েছিলেন মুমিনের দিনের শেষ আমল যেন হয় আল্লাহর ঘরে ইশার সালাত এবং দোয়ার মাধ্যমে। ইশার পর দুনিয়াবী কথাবার্তা ও পাপাচারে লিপ্ত হলে দিনের পরিসমাপ্তি ঘটে গুনাহের মাধ্যমে।
  3. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও প্রমাণিত যে, রাতের প্রথমাংশে ঘুম মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, মস্তিষ্কের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং কর্মক্ষমতা বজায় রাখে।
  4. ব্যতিক্রমী অনুমোদিত ক্ষেত্রসমূহ: উলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেছেন যে, ইলম চর্চা, ইসলামি বই অধ্যয়ন, মেহমানের মেহমানদারী, পারিবারিক প্রয়োজনীয় আলোচনা এবং জনকল্যাণমূলক পরামর্শের জন্য ইশার পর জাগ্রত থাকা সম্পূর্ণ জায়েয ও প্রশংসনীয়। খলিফা উমর (রা.) ও আবু বকর (রা.) দ্বীনের কল্যাণে ইশার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে পরামর্শ করতেন।

٤. عن أبى قتادة (رض) قال ذكروا للنبى صلى الله عليه وسلم نومهم عن الصلاة فقال إنه ليس فى النوم تفريط إنما التفريط فى اليقظة فإذا نسى أحدكم صلاة أو نام عنها فليصلها إذا ذكرها-

[৪. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ঘুমিয়ে সালাত ছুটে যাওয়ার কথা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: ঘুমের মধ্যে কোনো অবহেলা বা ত্রুটি নেই; ত্রুটি তো জাগ্রত অবস্থায় অবহেলা করায়। অতএব তোমাদের কেউ যখন সালাত ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ার কারণে তা ছুটে যায়, তখন স্মরণ হওয়ামাত্রই সে যেন তা আদায় করে নেয়…]

(الف) ما حكم من نام عن الصلاة فاستيقظ عند طلوع الشمس أو غروبها؟

ঘুমন্ত ব্যক্তি সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় জাগ্রত হলে সালাত আদায়ের শরয়ী হুকুম:

  • ১. সাধারণ হুকুম: অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে পড়া বা ভুলে যাওয়ার কারণে সালাতের ওয়াক্ত পার হয়ে গেলে কোনো গুনাহ নেই (رفع القلم عن ثلاث… وعن النائم حتى يستيقظ)। তবে জাগ্রত হওয়ামাত্রই তা কাযা করা ওয়াজিব।
  • ২. মাকরূহ ওয়াক্তে জাগ্রত হলে করণীয় (হানাফী মাযহাবের তাহকীক):
    • সূর্যোদয়ের সময়: যদি ঘুম ভাঙার সময় সূর্য উঠতে শুরু করে (যা মাকরূহ ও হারাম ওয়াক্ত), তবে হানাফী ফকীহগণের মতে সূর্য সম্পূর্ণ উদিত হয়ে এক বা দুই বর্শা পরিমাণ ওপরে ওঠা পর্যন্ত (প্রায় ১৫-২০ মিনিট) অপেক্ষা করতে হবে। সূর্য পুরোপুরি উঠে যাওয়ার পর ফজর সালাতের সুন্নত ও ফরজ কাযা হিসেবে আদায় করতে হবে। কারণ উদয়কালীন সময়ে সালাত আদায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
    • সূর্যাস্তের সময়: যদি আসরের সালাত পড়া না থাকে এবং সূর্যাস্তের উপক্রম হয়, তবে আসরের সালাত সূর্য ডোবার মুখে হলেও আদায় করে নিতে হবে। কিন্তু অন্য কোনো কাযা সালাত সূর্যাস্তের মাকরূহ ওয়াক্তে পড়া যাবে না।
  • ৩. ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর অভিমত: শাফেয়ী মাযহাব মতে কারণযুক্ত কাযা সালাত (ذوات الأسباب) মাকরূহ ওয়াক্তেও আদায় করা যায়; তবে তিনিও সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাকে নিরাপদ ও উত্তম মনে করেন।

(ب) حلل الكلمات: تفريط، نسى، صلاة-

শব্দ (الكلمة) ছিগাহ ও ব্যাকরণ মূলধাতু ও অর্থ তাৎপর্য
تَفْرِيطٌ مصدر، باب تَفْعِيل মূলধাতু (ف ر ط)، অর্থ: অবহেলা, সীমা লঙ্ঘন, ত্রুটি। হাদিসে উদ্দেশ্য: সালাতের নির্ধারিত ওয়াক্ত সম্পর্কে জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করে তা বিনষ্ট করা।
نَسِيَ واحد مذكر غائب، فعل ماض معروف বাব سَمِعَ – يَسْمَعُ، মূলধাতু (ن س ي) নাকেসে ইয়ায়ী অর্থ: সে ভুলে গেল। বিস্মৃতিজনিত কারণে কোনো কাজ ছুটে গেলে শরীয়তে বান্দাকে ক্ষমা করা হয়েছে।
صَلاةً اسم مفرَد منصوب على أنه مفعول به মূলধাতু (ص ل و) অর্থ: সালাত/নামায। বাক্যটিতে এটি فَلْيُصَلِّهَا ক্রিয়ার পূর্বে বা প্রেক্ষাপটে মাফউলে বিহ হিসেবে ব্যবহৃত।

٥. عن أبى هريرة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الإمام ضامن والمؤذن مؤتمن اللهم أرشد الائمة واغفر للمؤذنين-

[৫. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: ইমাম হলেন জামিনের দায়িত্বশীল এবং মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার। হে আল্লাহ! আপনি ইমামদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা প্রদর্শন করুন…]

(الف) من هو حق بالإمامة؟ بين-

ইমামতির সর্বাধিক হকদার কে? হাদিসের আলোকে ক্রমবিন্যাস:

হযরত আবু মাসউদ আল-আনসারী (রা.) বর্ণিত সহীহ মুসলিমের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইমামতির যোগ্যতার সুস্পষ্ট ক্রম নির্ধারণ করে দিয়েছেন:

“يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِلْمًا (أَوْ سِنّاً)”

  1. ১. কুরআনে অধিক দক্ষ ও বিশুদ্ধ তিলাওয়াতকারী (أقرؤهم لكتاب الله): যিনি কুরআনের তিলাওয়াত সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও সুন্দরভাবে করতে পারেন এবং অধিক কুরআন মুখস্থ রাখেন। ফিকহে হানাফী অনুযায়ী যিনি সালাতের মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে সর্বাধিক অভিজ্ঞ (الأعلم بالسنة)।
  2. ২. সুন্নাহ ও ফিকহে সর্বাধিক জ্ঞানী (أعلمهم بالسنة): কেরাতে সমান হলে যিনি হাদিস ও সালাতের আহকামে অধিক গভীর পাণ্ডিত্য রাখেন।
  3. ৩. তাকওয়া ও পরহেযগারীতে অগ্রগামী: যিনি কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত এবং অধিক আল্লাহভীরু।
  4. ৪. বয়সে প্রবীণ বা বয়োজ্যেষ্ঠ (أكبرهم سناً): সকল ক্ষেত্রে সমান হলে যিনি বয়সে বড় তিনি অগ্রাধিকার পাবেন।
  5. বিশেষ দ্রষ্টব্য: গৃহের মালিক নিজ ঘরে এবং নির্ধারিত ইমাম মসজিদে অন্য যে কারো চেয়ে ইমামতির অধিক হকদার।

(ب) اكتب نبذة عن حياة أبى هريرة (رض)-

হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

  • নাম ও পরিচয়: ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নাম ছিল আবদুশ শামস। ইসলাম গ্রহণের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর নাম রাখেন ‘আব্দুর রহমান’। একটি বিড়ালের বাচ্চার প্রতি তাঁর মায়া দেখে নবীজী স্নেহ করে তাঁর কুনিয়াত রাখেন ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়ালছানার পিতা)। তিনি ইয়েমেনের দাউস গোত্রের সন্তান ছিলেন।
  • ইসলাম গ্রহণ ও সাহচর্য: ৭ম হিজরীতে খায়বার যুদ্ধের সময় তিনি মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজের ঘর-সংসার ও ব্যবসা ত্যাগ করে মসজিদে নববীর ‘আহলে সুফফায়’ স্থায়ীভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সার্বক্ষণিক খাদেম হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন।
  • স্মৃতিশক্তি ও হাদিস বর্ণনা: তিনি ছিলেন সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী (مكثر الرواية)। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সর্বমোট ৫,৩৭৪টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। একবার তিনি স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কথা জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চাদর মেলে দোয়া করে তা বুকে জড়িয়ে নিতে বলেন; এরপর তিনি জীবনে কোনোদিন একটি হাদিসও বিস্মৃত হননি।
  • ওফাত: ৫৭ বা ৫৯ হিজরীতে ৭৮ বছর বয়সে মদিনা মুনাওয়ারায় এই মহান সাহাবী ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাক্বীতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

খ বিভাগ: سنن ابن ماجة (সুনান ইবনে মাজাহ অংশ) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান

٦. عن ابن عباس (رض) أن النبى صلى الله عليه وسلم بعث معاذا إلى اليمن فقال إنك تأتى قوماً أهل كتاب فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله… فإياك وكرائم أموالهم واتق دعوة المظلوم فإنها ليس بينها وبين الله حجاب-

[৬. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) হযরত মুআয (রা.)-কে ইয়েমেনে শাসক ও বিচারক হিসেবে প্রেরণের সময় নসিহত করেন: তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাচ্ছ, প্রথমে তাদের তাওহীদের সাক্ষ্যের প্রতি আহ্বান জানাবে… অতঃপর তাদের জানিয়ে দাও যে আল্লাহ তাদের ধনীদের ওপর সদকা (যাকাত) ফরজ করেছেন যা তাদের গরিবদের মাঝে বণ্টন করা হবে। সাবধান! তাদের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করবে; কেননা তার বদদোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না…]

(الف) ما المراد بالصدقة فى الحديث؟ اكتب نصاب الذهب والفضة-

১. হাদিসে ‘সদকা’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?
হাদিসের পরিভাষায় এখানে ‘সদকা’ (الصدقة) দ্বারা নফল দান নয়; বরং ইসলামের অন্যতম ফরজ রুকন ‘যাকাত’ (الزكاة المفروضة) উদ্দেশ্য। কারণ হাদিসটিতে বলা হয়েছে: “أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ” (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সম্পদে সদকা ফরজ করেছেন), আর ফরজ সদকাই হলো যাকাত।

২. স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাতের নিসাব:

  • স্বর্ণের নিসাব (نصاب الذهب): বিশ (২০) মিসকাল বা দীনার। আধুনিক পরিমাপে তা সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি বা তোলা, যা প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম বা ৮৫ গ্রামের সমান। এই পরিমাণ বা তার অধিক স্বর্ণ পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকলে তার ৪০ ভাগের ১ ভাগ অর্থাৎ ২.৫% (আড়াই শতাংশ) যাকাত আদায় করা ফরজ।
  • রৌপ্যের নিসাব (نصاب الفضة): দুইশত (২০০) দিরহাম। আধুনিক পরিমাপে তা সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি বা তোলা, যা প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম বা ৫৯৫ গ্রামের সমান। কারো নিকট এই পরিমাণ রৌপ্য এক বছর সঞ্চিত থাকলে তারও ২.৫% যাকাত দেওয়া ফরজ। নগদ টাকা ও বাণিজ্যিক পণ্যের ক্ষেত্রে রৌপ্যের নিসাবকে দরিদ্রের কল্যাণে মানদণ্ড ধরা হয়।

(ب) حلل الكلمات: فادعهم، افترض، اغنياء-

শব্দ (الكلمة) ছিগাহ ও বহস বাব ও মূলধাতু অর্থ ও ব্যাকরণ
فَادْعُهُمْ واحد مذكر حاضر، فعل أمر حاضر معروف বাব نَصَرَ – يَنْصُرُ، মূলধাতু (د ع و) নাকেসে ওয়াবী অর্থ: তুমি তাদেরকে ডাক/আহ্বান কর। الامر-এর কারণে শেষাক্ষরের হরফে ইল্লত (و) বিলুপ্ত হয়েছে।
افْتَرَضَ واحد مذكر غائب، فعل ماض معروف বাব اِفْتِعَال، মূলধাতু (ف ر ض) সহীহ অর্থ: তিনি অপরিহার্য বা ফরজ করেছেন।
أَغْنِيَاءُ جمع تكسير، مفرد: غَنِيٌّ মূলধাতু (غ ن ي) নাকেসে ইয়ায়ী অর্থ: ধনী বা বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ।

٧. حدثنا الليث بن سعد عن يزيد بن أبى حبيب عن سعد بن سنان عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: المعتدى فى الصدقة كما نعها-

[৭. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) সূত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: যাকাত আদায়ে সীমালঙ্ঘনকারী ব্যক্তি যাকাত প্রদান অস্বীকারকারীর সমান…]

(الف) ما المراد بالمعتدى فى هذا الحديث وما معناه؟

‘মু’তাদী’ (المعتدي)-এর তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা:

হাদিসে ‘আল-মু’তাদী ফিস সাদাক্বা’ (المعتدي في الصدقة) দ্বারা দুই শ্রেণীর লোককে নির্দেশ করা হয়েছে:

  1. যাকাত আদায়কারী কর্মকর্তা (العامل على الزكاة):

    সরকার নিযুক্ত যাকাত কর্মকর্তা যদি সীমালঙ্ঘন করে দাতার নির্ধারিত হকের চেয়ে বেশি জোরপূর্বক আদায় করে অথবা দাতার সেরা ও পছন্দনীয় উৎকৃষ্ট দুগ্ধবতী পশু (كرائم الأموال) কেড়ে নেয়, তবে সে সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে গণ্য হবে। এমন বাড়াবাড়ি যাকাত দিতে অস্বীকার করার মতো মহাপাপ।

  2. যাকাত প্রদানকারী সম্পদশালী ব্যক্তি (صاحب المال):

    যাকাতদাতা যদি যাকাত নির্ধারণে কারচুপি করে, ভালো মালের বদলে খারাপ ও নিকৃষ্ট মাল যাকাত হিসেবে প্রদান করে কিংবা উপযুক্ত হকদার ছাড়া অসদুপায়ে অপাত্রে যাকাত দিয়ে দায়মুক্ত হতে চায়, তবে সেও ‘মু’তাদী’ হিসেবে গণ্য হবে এবং তার আমল যাকাত অস্বীকারকারীর মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

(ب) اكتب نبذة عن حياة انس بن مالك (رض)-

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

  • পরিচয়: আনাস ইবনে মালিক আল-আনসারী আল-খাযরাজী। উপনাম আবু হামযাহ। তিনি ছিলেন মদিনার আনসারদের বিখ্যাত সন্তান।
  • খাদেমুর রাসুল (সা.): হিজরতের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। তাঁর মা উম্মে সুলাইম (রা.) তাঁকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে নিয়ে এসে বলেন: “হে আল্লাহর রাসুল! আনাস আপনার খেদমত করবে।” তিনি সুদীর্ঘ ১০ বছর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একান্ত খাদেম হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি বলেন: “রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দশ বছরে কখনো আমাকে উফ্ শব্দ বলেননি কিংবা কোনো কাজের জন্য বকা দেননি।”
  • নবীজীর দোয়া ও বরকত: রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন: “اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَأَطِلْ حَيَاتَهُ وَاغْفِرْ لَهُ” (হে আল্লাহ! আপনি তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত দিন, তার হায়াত দীর্ঘ করুন এবং তাকে ক্ষমা করুন)। এই দোয়ার বরকতে তিনি শতাধিক সন্তানের পিতা হয়েছিলেন এবং তাঁর বাগানে বছরে দুবার ফল ফলত।
  • হাদিস বর্ণনা ও ওফাত: তিনি সাহাবীদের মধ্যে অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের অন্যতম। তিনি ২,২৮৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ৯৩ হিজরীতে বসরায় ১০৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন বসরায় ওফাতপ্রাপ্ত সর্বশেষ সাহাবী।

٨. عن أبى هريرة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فيما سقت السماء والعيون العشر وفيما سقى بالنضح نصف العشر-

[৮. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: যে জমি আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি ও ঝরনার পানিতে সিক্ত হয় তাতে ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ (উশর) এবং যা সেচের পানির সাহায্যে উৎপন্ন হয় তাতে বিশ ভাগের এক ভাগ (অর্ধেক উশর) আদায় করা ফরজ…]

(الف) بين مقدار صدقة الزرع والثمار (العشر)-

কৃষি ফসলের যাকাত বা উশর (العشر)-এর পরিমাণ ও হুকুম:

  • প্রাকৃতিক সেচ (বৃষ্টি বা ঝরনার পানিতে উৎপন্ন ফসল): যে জমি চাষাবাদে কৃষকের কোনো সেচ খরচ লাগে না; বরং বৃষ্টি, নদী বা প্রাকৃতিকভাবে নির্গত ঝরনার পানিতে ফসল ফলে, তাতে মোট উৎপাদিত ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ বা ১০% (দশ শতাংশ) আল্লাহর রাস্তায় উশর হিসেবে আদায় করা ফরজ।
  • কৃত্রিম সেচ (শ্রম ও খরচের মাধ্যমে উৎপন্ন ফসল): যে জমিতে কৃত্রিম সেচ দিতে হয়, যেমন কুপ, মোটরের পানি, গভীর নলকূপ বা পানির চাকা ঘুরিয়ে কষ্ট ও অর্থ ব্যয়ে সেচ দিতে হয়, তাতে মোট ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ বা ৫% (পাঁচ শতাংশ বা নিসফে উশর) প্রদান করতে হয়।
  • উশরের নিসাব: জমহুর ফকীহদের মতে ৫ ওসাক্ব (প্রায় ২০ মণ বা ৬৫৩ কেজি) ফসল হলে উশর দিতে হয়। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে জমিতে যে পরিমাণই ফসল উৎপন্ন হোক না কেন, কম বা বেশি—সকল পরিমাণের ওপরই উশর প্রদান করা ওয়াজিব।

(ب) اكتب أهمية الزكاة فى إزالة الفقر والتكافل الاجتماعي-

দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় যাকাতের ভূমিকা:

  • ধনীদের সম্পদে দরিদ্রের অধিকার প্রতিষ্ঠা: পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ” (তাদের সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিতদের সুনির্দিষ্ট হক রয়েছে)। যাকাত কোনো দয়া নয়; এটি গরিবের সাংবিধানিক অধিকার।
  • সম্পদের কেন্দ্রীভূতকরণ রোধ: যাকাত ধনী ও পুঁজিপতিদের হাত থেকে সম্পদকে সমাজে ছড়িয়ে দেয়, ফলে পুঁজিবাদ ধ্বংস হয় এবং সমাজে অর্থের প্রবাহ সচল থাকে।
  • কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতা সৃষ্টি: পরিকল্পিতভাবে যাকাত প্রদান করলে দরিদ্র ব্যক্তিরা ক্ষুদ্র ব্যবসা বা উপকরণের মালিক হয়ে দ্রুত স্বাবলম্বী হতে পারে এবং পরের বছর নিজেই যাকাতদাতার কাতারে শামিল হতে পারে। খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের আমলে যাকাত ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের ফলে যাকাত নেওয়ার মতো কোনো গরিব মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
  • সামাজিক অপরাধ ও শ্রেণিদ্বন্দ্ব নিরসন: ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হলে সমাজে ছিনতাই, চুরি ও হিংসা-বিদ্বেষের মূলোৎপাটন হয় এবং সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

٩. عن ابى سعيد الخدرى (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تحل الصدقة لغنى إلا لخمسة لعامل عليها أو لغاز فى سبيل الله أو لغنى اشتراها بماله أو فقير تصدق عليه فاهداها لغنى أو غارم-

[৯. হাদিসের মূল পাঠ: হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) সূত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: কোনো ধনীর জন্য যাকাত গ্রহণ হালাল নয় কেবল পাঁচ ব্যক্তি ছাড়া—যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, আল্লাহর পথের মুজাহিদ, এমন ধনী ব্যক্তি যে নিজের সম্পদ দিয়ে যাকাতের মাল খরিদ করেছে, অথবা এমন দরিদ্র ব্যক্তি যাকে যাকাত দেওয়া হয়েছিল অতঃপর সে কোনো ধনীকে তা উপহার দিল, অথবা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি…]

(الف) اكتب مصارف الزكاة فى ضوء القرآن والحديث-

পবিত্র কুরআনের আলোকে যাকাতের ৮টি খাত (مصارف الزكاة):

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ যাকাত বণ্টনের সুনির্দিষ্ট ৮টি খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন:

“إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ”

  1. ১. ফকীর (الفقراء): যার কোনো সম্পদ নেই কিংবা সামান্য আছে যা তার প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
  2. ২. মিসকীন (المساكين): যে নিঃস্ব ও রিক্তহস্ত, যার আত্মমর্যাদাবোধের কারণে মানুষের কাছে হাত পাততে পারে না।
  3. ৩. আমেলীন বা যাকাত কর্মকর্তা (العاملين عليها): ইসলামী রাষ্ট্র কর্তৃক যাকাত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বণ্টনে নিয়োজিত কর্মচারীবৃন্দ (তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে যাকাত দেওয়া জায়েয, ধনী হলেও)।
  4. ৪. মুআল্লাফাতুল কুলূব (المؤلفة قلوبهم): যাদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য বা ইসলামের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার জন্য মন জয় করা প্রয়োজন।
  5. ৫. দাসমুক্তি (في الرقاب): ক্রীতদাসকে মুক্ত করার জন্য অথবা বন্দি মুসলিমকে ছাড়িয়ে আনার ক্ষেত্রে।
  6. ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (الغارمين): যে ব্যক্তি বৈধ প্রয়োজনে ঋণগ্রস্ত হয়ে ঋণের বোঝা পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ অক্ষম।
  7. ৭. ফি সাবীলিল্লাহ (في سبيل الله): আল্লাহর পথে নিয়োজিত জিহাদকারী ও দ্বীনের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তি, যার প্রয়োজনীয় রসদ নেই।
  8. ৮. ইবনুস সাবীল বা মুসাফির (ابن السبيل): নিজ দেশে সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও প্রবাসে বা সফরে বিপদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পথচারী।

(ب) حلل الكلمات: سبيل، فقير، غارم-

শব্দ (الكلمة) ছিগাহ ও প্রকার মূলধাতু ও অর্থ শরীয়তের তাৎপর্য
سَبِيلٌ اسم مذكر ومؤنث، বহুবচনে سُبُل মূলধাতু (س ب ل) অর্থ: পথ বা রাস্তা। শরীয়তে ‘ফি সাবীলিল্লাহ’ দ্বারা আল্লাহর দ্বীন বিজয়ের পথ ও জিহাদকে বুঝানো হয়।
فَقِيرٌ صفة مشبهة، وزن: فَعِيل، বহুবচনে فُقَرَاء মূলধাতু (ف ق ر) অর্থ: অভাবগ্রস্ত, যার মেরুদণ্ড অভাবের তাড়নায় ভেঙে পড়েছে।
غَارِمٌ اسم فاعل، বহুবচনে غَارِمُونَ / غُرَمَاء মূলধাতু (غ ر م) বাবে ضَرَبَ অর্থ: ঋণী বা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, যে ঋণ পরিশোধে অক্ষম।

গ বিভাগ: التاريخ والتراجم (ইতিহাস ও জীবনী অংশ) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান

١٠. اكتب حياة الإمام الترمذى (رح) مع بيان مؤلفاته ومكانته العلمية بالتفصيل-

[১০. ইমাম তিরমিযী রহ.-এর জীবনী, তাঁর গ্রন্থাবলি এবং হাদিসশাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ স্থান বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

সিহাহ সিত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, হাদিসের জগদ্বিখ্যাত সংকলক এবং অনন্য মুহাদ্দিস হলেন ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী (রহ.)। তাঁর সংকলিত ‘জামি’ আত-তিরমিযী’ গ্রন্থটি হাদিস, ফিকহ ও উলুমুল হাদিসের সমন্বয়ে গঠিত এক কালজয়ী মাস্টারপিস।

১. জন্ম ও বংশপরিচয়

নাম মুহাম্মদ, কুনিয়াত আবু ঈসা, লকব হাফিজ ও আল্লামা। বংশপরিক্রমা: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মুসা ইবনে আদ-দাহহাক আস-সুলামী আত-তিরমিযী। তিনি ২০৯ হিজরীতে মধ্য এশিয়ার আমু দরিয়া নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রাচীন শহর তিরমিযের অন্তর্গত ‘বুগ’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

২. ইলম অন্বেষণ ও শায়খগণ

তিনি প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। হাদিস অন্বেষণে তিনি খোরাসান, ইরাক, বসরা, কুফা ও হেজাযে দীর্ঘ সফর করেন। তিনি হাদিসের শ্রেষ্ঠ ইমামগণের প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উস্তাদ ছিলেন আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.)। ইমাম বুখারী তাঁর গভীর ইলমে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন: “مَا انْتَفَعْتَ بِي أَكْثَرَ مِمَّا انْتَفَعْتُ بِكَ” (আমি তোমার কাছ থেকে যতটুকু উপকৃত হয়েছি, তুমি আমার কাছ থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হওনি)। এছাড়া ইমাম মুসলিম ও আবু দাউদও তাঁর উস্তাদগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জীবনের শেষভাগে আল্লাহর ভয়ে অতিরিক্ত রোনাজারির কারণে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন।

৩. অমর গ্রন্থাবলি (مؤلفاته الخالدة)

  • ১. আল-জামি’ আল-মুখতাসার (জামি’ আত-তিরমিযী): সিহাহ সিত্তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব। ফিকহী মাযহাব ও সনদের গভীর পর্যালোচনায় এটি অনন্য।
  • ২. আশ-শামায়িলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ (الشمائل المحمدية): রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র আকৃতি, পোশাক, চরিত্র ও জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সংবলিত সিরাত সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব।
  • ৩. কিতাবুল ইলাল আল-কাবীর ও আস-সাগীর (كتاب العلل): হাদিসের গোপন ত্রুটি (ইল্লাত) চিহ্নিতকরণে এক অনন্য বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ।
  • ৪. কিতাবুত তারিখ ও কিতাবুয যুহদ।

৪. ওফাত

২৭৯ হিজরীর ১৩ই রজব ৭০ বছর বয়সে নিজ জন্মভূমি তিরমিযের বুগ গ্রামে এই মহান ইমাম ইন্তেকাল করেন।


١١. عرف بكتاب سنن ابن ماجة؟ ثم بين منزلته بين كتب السنن الأربع مع ذكر اشهر شروحه-

[১১. সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থের পরিচয় দাও, সিহাহ সিত্তাহ ও সুনানের মধ্যে এর মর্যাদা এবং এর প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ উল্লেখ কর।]

ভূমিকা

ইসলামী জ্ঞানের আকর সিহাহ সিত্তার ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে সমাদৃত ‘সুনানে ইবনে মাজাহ’। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযবীনী (রহ.) (২০৯-২৭৩ হি.) কর্তৃক সংকলিত এই গ্রন্থটি এর চমৎকার অধ্যায় বিন্যাস ও বিরল ফিকহী হাদিসের জন্য হাদিস জগতে অত্যন্ত সুপরিচিত।

১. সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

  • হাদিস সংখ্যা: সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে ৩২টি খণ্ডে, ১,৫১৫টি অধ্যায়ে সর্বমোট ৪,৩৪১টি হাদিস স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৩,০০২টি হাদিস সিহাহ সিত্তার বাকি পাঁচ কিতাবেও বিদ্যমান রয়েছে এবং ১,৩৩৯টি হাদিস সম্পূর্ণ একক অতিরিক্ত (জাওয়ায়িদ) যা অন্য পাঁচ কিতাবে নেই।
  • অনন্য অধ্যায় বিন্যাস: সুনান চতুষ্টয়ের মধ্যে ইবনে মাজাহর বাব বা অধ্যায় বিন্যাস সবচেয়ে চমৎকার, সুশৃঙ্খল ও সংক্ষিপ্ত। ইমাম ইবনে কাসীর বলেন: “এটি অত্যন্ত উপকারী ও চমৎকার কিতাব, বিশেষ করে এর পরিচ্ছেদ বিন্যাস অনুপম।”

২. সিহাহ সিত্তাহ ও সুনানের মধ্যে এর মর্যাদা (منزلته)

সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈর পর চতুর্থ সুনান হিসেবে ইমাম ইবনে মাজাহর কিতাবকে সর্বপ্রথম সিহাহ সিত্তার ষষ্ঠ কিতাবের মর্যাদা দেন হাফিজ আবুল ফাদল মুহাম্মদ ইবনে তাহের আল-মাকদিসী (রহ.) (ওফাত: ৫০৭ হি.)। পরবর্তীতে হাফিজ আব্দুল গণী আল-মাকদিসী তাঁর ‘আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল’ গ্রন্থে একে ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। যদিও কোনো কোনো আলেম ইমাম মালেকের মুয়াত্তা বা সুনানে দারিমীকে ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইবনে মাজাহর একক অতিরিক্ত ১,৩৩৯টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী হাদিসের উপস্থিতির কারণে মুহাদ্দিসগণ একেই সিহাহ সিত্তার ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

৩. সুনানে ইবনে মাজাহর বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (أشهر شروحه)

  1. মা তা মাসসা ইলাইহিল হাজাহ শারহু সুনানি ইবনে মাজাহ (ما تمس إليه الحاجة): হাফিজ আলাউদ্দীন মুগলতায় আল-হানাফী (ওফাত: ৭৬২ হি.)।
  2. মিসবাহুয যুজাজাহ ফী শারহি সুনানি ইবনে মাজাহ (مصباح الزجاجة): ইমাম জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতী (রহ.) (ওফাত: ৯১১ হি.)।
  3. কিফায়াতুল হাজাহ ফী শারহি সুনানি ইবনে মাজাহ (كفاية الحاجة): প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদী আস-সিন্ধী আল-হানাফী (রহ.) (ওফাত: ১১৩৮ হি.)। এটি ইবনে মাজাহর বিশ্বব্যাপী বহুল পঠিত ও প্রামাণ্য হাশিয়া।
  4. ইনজাহুল হাজাহ (إنجاح الحاجة): ভারতীয় উপমহাদেশের বিশিষ্ট মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল গণী মুজাদ্দিদী দেহলভী (রহ.)।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. হাদিসের আলোকে সালাত মূলত কী এবং এর শ্রেষ্ঠ ফযিলত কী?

সালাত হলো বিশেষ শর্তসহ তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে শুরু হয়ে সালামে সমাপ্ত নির্ধারিত ইবাদত; আর কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সালাতেরই হিসাব গ্রহণ করা হবে।

২. ইমাম তিরমিযীর পরিভাষা ‘হাসানুন সহীহ’ বলতে কী বুঝায়?

এর অর্থ হলো হাদিসটির দুটি ভিন্ন সনদ রয়েছে—যার একটি হাসান এবং অন্যটি সহীহ, অথবা রাবীর মর্যাদায় মতপার্থক্যের কারণে উভয় সনদের সমন্বয় প্রকাশ করা হয়েছে।

৩. স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাতের নিসাব কত?

স্বর্ণের নিসাব হলো ২০ মিসকাল বা সাড়ে সাত তোলা (৮৭.৪৮ গ্রাম) এবং রৌপ্যের নিসাব হলো ২০০ দিরহাম বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৬১২.৩৬ গ্রাম)।

৪. বৃষ্টির পানিতে উৎপন্ন ফসলের উশরের পরিমাণ কত?

বৃষ্টি ও ঝরনার পানিতে প্রাকৃতিকভাবে সিক্ত ফসলে ১০ ভাগের ১ ভাগ (১০% বা উশর) এবং কৃত্রিম সেচের জমিতে ২০ ভাগের ১ ভাগ (৫% বা নিসফে উশর) দিতে হয়।

৫. সিহাহ সিত্তার মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী কে?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হলেন সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী, যাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা সর্বমোট ৫,৩৭৪টি।

৬. সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে কতটি অতিরিক্ত (জাওয়ায়িদ) হাদিস রয়েছে?

সিহাহ সিত্তার বাকি পাঁচ কিতাবে নেই এমন ১,৩৩৯টি সম্পূর্ণ একক অতিরিক্ত (জাওয়ায়িদ) হাদিস সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *