اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۲
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
وسائل الدعوة والإعلام
[ওয়াসাইলুদ দা’ওয়াহ ওয়াল ই’লাম]
বিষয় কোড: ২০৩৮০৭ | পরীক্ষা কোড: ২০৪ | প্রশ্নপত্র কোড: ১৩৫
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
مجموعة (الف) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
١- عرف الدعوة والإعلام- ثم بين اهميتهما والعلاقة بينهما مفصلا-
[১. الدعوة ও الإعلام এর পরিচয় দাও। অতঃপর উভয়ের গুরুত্ব এবং উভয়ের মাঝে সম্পর্ক উল্লেখ কর।]
ভূমিকা
ইসলাম একটি সার্বজনীন ও চিরন্তন জীবনব্যবস্থা। মানুষের কাছে ইসলামের এই শাশ্বত বাণী পৌঁছে দেওয়ার দুটি মৌলিক প্রক্রিয়া হলো ‘দাওয়াহ’ (الدعوة) এবং ‘মিডিয়া বা তথ্যপ্রবাহ’ (الإعلام)। আধুনিক যুগে দাওয়াহকে গণমানুষের দ্বারে পৌঁছে দিতে প্রচারমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম।
الدعوة (দাওয়াত)-এর পরিচয় ও গুরুত্ব
শাব্দিক অর্থ: আহ্বান করা, ডাকা, উৎসাহিত করা বা কোনো সত্যের প্রতি আকৃষ্ট করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি আহ্বান জানানো, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা এবং মানবজাতিকে উভয় জাহানের কল্যাণের পথপ্রদর্শন করার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে দাওয়াত বলে।
গুরুত্ব: কুরআন মজিদে আল্লাহ বলেন: “ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথার অধিকারী আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকর্ম করে এবং বলে নিশ্চয় আমি অনুগত মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা ফুসসিলাত: ৩৩)।
الإعلام (গণমাধ্যম বা প্রচারমাধ্যম)-এর পরিচয় ও গুরুত্ব
শাব্দিক অর্থ: সংবাদ পৌঁছানো, জ্ঞাত করা, তথ্য আদান-প্রদান করা বা অবহিত করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: যে কোনো মাধ্যম (মৌখিক, লিখিত, মুদ্রণ বা ইলেকট্রনিক) ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক জনমণ্ডলীকে সঠিক তথ্য, সংবাদ ও শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করার সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়াকে ‘ই’লাম’ বা গণমাধ্যম বলা হয়।
গুরুত্ব: আজকের বিশ্ব মিডিয়া-নিয়ন্ত্রিত। মানুষের চিন্তা, রুচিবোধ, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও ধর্মীয় বিশ্বাস নির্মাণে গণমাধ্যম প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে। মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহারে সমাজে বিপ্লব সৃষ্টি করা সম্ভব।
দাওয়াহ ও মিডিয়ার পারস্পরিক সম্পর্ক (العلاقة بينهما)
- লক্ষ্য ও উপায়ের সম্পর্ক: দাওয়াহ হলো মূল লক্ষ্য (আল-গাইয়্যাহ), আর মিডিয়া বা প্রচারমাধ্যম হলো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর আধুনিক ও শক্তিশালী মাধ্যম (আল-ওয়াসীলাহ)। মাধ্যম ছাড়া দাওয়াহকে দূর-দূরান্তে পৌঁছানো অসম্ভব।
- তথ্য আদান-প্রদানের সমতা: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঐতিহাসিক নির্দেশনা—“আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও (বাল্লিগূ আন্নী ওয়ালাও আয়াহ)”—মূলত তথ্য প্রচারের (ই’লামের) সর্বোচ্চ দায়িত্ব নির্দেশ করে।
- ব্যাপকতা ও গতিশীলতা: ঐতিহ্যবাহী দাওয়াত ছিল ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র মজলিস কেন্দ্রিক। মিডিয়ার সংযুক্তির ফলে একজন দাঈর কথা একযোগে কোটি কোটি মানুষের কাছে সেকেন্ডের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে।
- পারস্পরিক পরিপূরকতা: উদ্দেশ্যবিহীন মিডিয়া সমাজে বিভ্রান্তি ও পাপাচার ছড়ায়, আর দাওয়াহবিহীন চিন্তা মানুষকে ধর্মহীন করে। তাই সত্য ও ইনসাফভিত্তিক দাওয়াহই গণমাধ্যমকে নৈতিক দিশা দান করে।
٢- عرف الإعلام الإسلامي- تحدث عن وسائل الاعلام الحديثة مع بيان آثاره مفصلا-
[২. الإعلام الإسلامي এর সংজ্ঞা দাও। আধুনিক প্রচার মাধ্যম ও এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
আধুনিক বিশ্বে গণমাধ্যম কেবল সংবাদের উৎস নয়, বরং এটি মানবচেতনা ও সংস্কৃতি নির্মাণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। ধর্মনিরপেক্ষ ও ভোগবাদী মিডিয়ার বিপরীতে সত্য, ন্যায় ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ইসলামিক মিডিয়া’র অপরিহার্য বিকাশ ঘটেছে।
الإعلام الإسلامي (ইসলামী মিডিয়া)-এর সংজ্ঞা
সংজ্ঞা: যে তথ্য ও প্রচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহর নৈতিক বিধিবিধান মেনে পরিচালিত হয় এবং যার মাধ্যমে কোনো প্রকার মিথ্যা, অপবাদ, অশ্লীলতা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যতীত বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের সত্য, মানবিকতা, শান্তি ও ইনসাফের বাণী পৌঁছে দেওয়া হয়, তাকে ‘আল-ই’লামুল ইসলামী’ বা ইসলামী প্রচারমাধ্যম বলে।
আধুনিক প্রচার মাধ্যমসমূহ (وسائل الإعلام الحديثة)
- ইলেকট্রনিক ও অডিও-ভিজ্যুয়াল মিডিয়া: টেলিভিশন, রেডিও, স্যাটেলাইট চ্যানেল ও পডকাস্ট। এর মাধ্যমে কোটি কোটি শ্রোতা ও দর্শক সরাসরি আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র ও লাইভ প্রোগ্রাম উপভোগ করতে পারে।
- ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া: ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক। আধুনিক তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব প্রভাবিত করার সবচেয়ে দ্রুততম মাধ্যম।
- মুদ্রণ মিডিয়া (প্রিন্ট মিডিয়া): দৈনিক সংবাদপত্র, সাময়িকী, গবেষণা জার্নাল ও ইসলামী সাহিত্য। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও গভীর চিন্তাশীল পাঠকের চিন্তাধারা গঠনে কাজ করে।
- অনলাইন পোর্টাল ও ওয়েবসাইট: ইসলামিক ব্লগ, প্রশ্ন-উত্তরের ফতোয়া পোর্টাল, অনলাইন লাইব্রেরি ও অ্যাপস।
মানবসমাজে আধুনিক মিডিয়ার সুদূরপ্রসারী প্রভাবসমূহ (آثار وسائل الإعلام)
- ইতিবাচক প্রভাব:
- বিশ্বব্যাপী মুহূর্তের মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত বিস্তার এবং কুরআন তিলাওয়াত ও তাফসির সহজলভ্য হওয়া।
- ইসলামোফোবিয়া ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার তাৎক্ষণিক প্রামাণ্য প্রতিবাদ রচনা।
- অনলাইন ভিত্তিক হালাল বাণিজ্য, ইসলামিক ব্যাংকিং ও ধর্মীয় শিক্ষার বৈশ্বিক প্রসার।
- নেতিবাচক প্রভাব (নিয়ন্ত্রণহীন অপব্যবহারের ফলে):
- অশ্লীলতা, উলঙ্গপনা ও অপসংস্কৃতির বিস্তার, যা পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস করছে।
- ভুয়া সংবাদ (Fake News), গুজব ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি।
- যুবসমাজের সময় অপচয়, মাদকাসক্তি ও ভার্চুয়াল আসক্তি তৈরি হওয়া।
٣- ما الوسائل غير المشروعة؟ تحدث عن آثارها السيئة في الدعوة الى الله-
[৩. الوسائل غير المشروعة কী কী? দা’ওয়াহর ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামে লক্ষ্য যেমন পবিত্র হতে হয়, সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যমকেও ঠিক তেমনই শরীয়তসম্মত ও পবিত্র হতে হয়। ম্যাকিয়াভেলির নীতি—”উদ্দেশ্য উপায়কে সিদ্ধ করে (End justifies the means)”—ইসলামে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যাত। দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ বা অনৈতিক পথ অবলম্বন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
الوسائل غير المشروعة (অবৈধ মাধ্যমসমূহ)-এর স্বরূপ
দাওয়াতের ক্ষেত্রে যেসব অবৈধ মাধ্যম ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, তার কয়েকটি হলো—
- মিথ্যা ও জাল হাদিসের ব্যবহার: মানুষকে ওয়াজ-নসীহতে আকৃষ্ট করতে বা ভয় দেখাতে বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী ও ভিত্তিহীন হাদিস বর্ণনা করা।
- বলপ্রয়োগ ও জবরদস্তি (الإكراه): ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জোরপূর্বক কাউকে দ্বীন গ্রহণে বাধ্য করা। আল্লাহ বলেন: “দ্বীনের মধ্যে কোনো জবরদস্তি নেই।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬)।
- অন্যের ধর্মের উপাস্যদের গালি দেওয়া: প্রতিপক্ষের ধর্মবিশ্বাসকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় অপমান করা। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের ডাকে, তোমরা তাদের গালি দিও না…” (সূরা আল-আনআম: ১০৮)।
- আর্থিক প্রলোভন ও প্রতারণা: অর্থের লোভ দেখিয়ে বা ধোঁকা দিয়ে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা।
- অশ্লীলতা ও হারাম বিনোদনের আশ্রয়: যুবকদের আকৃষ্ট করতে দাওয়াহর নামে নাচ-গান, বাদ্যযন্ত্র বা শরীয়তবিরোধী কনসার্টের আয়োজন করা।
দা’ওয়াহর ক্ষেত্রে অবৈধ মাধ্যমের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবসমূহ (آثارها السيئة)
- ইসলামের পবিত্র ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া: অমুসলিমদের চোখে ইসলাম একটি অনৈতিক বা প্রতারণামূলক ধর্ম হিসেবে চিত্রিত হয়।
- ভ্রান্ত আকিদার বিস্তার: জাল বর্ণনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদয়াত ও কুসংস্কার শিকড় গেড়ে বসে।
- আল্লাহর সাহায্য ও বরকত বিলোপ: হারামের মিশ্রণ ঘটলে দাওয়াতে আল্লাহর রহমত থাকে না এবং অন্তরে হেদায়েতের কোনো আসর হয় না।
- সামাজিক সংঘাত ও রক্তপাত: উগ্রতা ও পরমতঅসহিষ্ণুতার কারণে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধে।
٤- تحدث عن دور الجهاد وتعمير المساجد وانشاء المدارس في نشر الدعوة الإسلامية-
[৪. ইসলামি দা’ওয়াহ এর প্রসারে জিহাদ, মসজিদ নির্মাণ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ভূমিকা উল্লেখ কর।]
ভূমিকা
ইসলামী দাওয়াতকে কার্যকর, স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ইতিহাসে তিনটি উপকরণ যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে: রাষ্ট্রীয় প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে জিহাদ, আধ্যাত্মিক মিলনায়তন হিসেবে মসজিদ এবং ইলম বিস্তারে মাদ্রাসা।
১. ইসলামি দাওয়াহ প্রসারে জিহাদের ভূমিকা (دور الجهاد)
- জুলুম ও তাগুতী বাধার অপসারণ: ইসলামে জিহাদ কারো ওপর জোরপূর্বক দ্বীন চাপানোর জন্য নয়, বরং যেসব স্বৈরশাসক সাধারণ মানুষকে সত্য জানার ও গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখত, সেই জালেমদের পতন ঘটিয়ে দাওয়াত প্রচারের উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই ছিল জিহাদের উদ্দেশ্য।
- মজলুমদের মুক্তি: রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের অত্যাচারিত প্রজারা মুসলিম মুজাহিদদের ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতা দেখে দলে দলে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল।
২. মসজিদ নির্মাণের ভূমিকা (تعمير المساجد)
- দাওয়াতের মূল মারকাজ: মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বপ্রথম ‘মসজিদে কুবা’ ও ‘মসজিদে নববী’ নির্মাণ করেন। মসজিদ কেবল সালাতের স্থান ছিল না, এটি ছিল দাওয়াতের হেডকোয়ার্টার, আদালত এবং সংসদ ভবন।
- ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের প্রশিক্ষণ: মসজিদে দৈনিক পাঁচবার ধনী-গরিব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে শ্রেণীভেদ ভুলে একাকার হয়ে যায়, যা দেখে অমুসলিমরা ইসলামের সাম্যের প্রেমে আকৃষ্ট হতো।
- জুমার খুতবার গণযোগাযোগ: সাপ্তাহিক জুমার খুতবা ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী গণদাওয়াত ও দিকনির্দেশনার মঞ্চ।
৩. মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ভূমিকা (إنشاء المدارس)
- দক্ষ দাঈ ও আলেম তৈরি: মসজিদে নববীর ‘আসহাবে সুফফাহ’ ছিল ইসলামের প্রথম আবাসিক মাদ্রাসা। পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীতে নিজামুল মুলক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘মাদ্রাসা-ই নিজামিয়া’ বিশ্বজুড়ে সুন্নাহর দাওয়াতকে পুনরুজ্জীবিত করে।
- দ্বীনের বিশুদ্ধতা রক্ষা: বাতিল ফিরকা ও বস্তুবাদী দর্শনের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন থেকে উম্মাহর আকিদা ও আমলকে পাহারা দেওয়ার অতন্দ্র প্রহরী হলো মাদ্রাসা ব্যবস্থা।
٥- ما المراد بالخدمات الإجتماعية؟ اذكر أنواعها ووسائلها وطرقها-
[৫. الخدمات الإجتماعية দ্বারা কী বুঝায়? এর প্রকার, মাধ্যম ও পদ্ধতিসমূহ উল্লেখ কর।]
ভূমিকা
ইসলাম কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদতের ধর্ম নয়, এটি আর্তমানবতার সেবার ধর্ম। মানবকল্যাণ ও সৃষ্টির সেবাকে ইসলামে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং দাওয়াতের অত্যন্ত ফলপ্রসূ মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
الخدمات الاجتماعية (সমাজসেবা)-এর পরিচয়
সংজ্ঞা: কোনো প্রকার ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রতিদানের আশা ব্যতীত কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সমাজের অভাবগ্রস্ত, দুর্বল, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের শারীরিক, আর্থিক, শিক্ষাগত ও চিকিৎসাগত কল্যাণ সাধনে আত্মনিয়োগ করাকে ‘সমাজসেবা’ বলে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত; সুতরাং আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় সে ব্যক্তি, যে তাঁর পরিবারের প্রতি সবচেয়ে বেশি সদাচরণ করে।” (বায়হাকী)।
সমাজসেবার প্রকারভেদসমূহ (أنواعها)
- আর্থিক সেবা: যাকাত, সদকা, ঋণ প্রদান (করযে হাসানা) ও খাদ্য বিতরণ।
- চিকিৎসা সেবা: বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ঔষধ বিতরণ, হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা।
- শিক্ষা ও পুনর্বাসন সেবা: অনাথ আশ্রম, বিধবা ভাতা, দরিদ্র শিশুদের বিদ্যালয় স্থাপন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ।
- পরিবেশ ও অবকাঠামো সেবা: সুপেয় পানির জন্য নলকূপ স্থাপন, বৃক্ষরোপণ এবং রাস্তাঘাট ও সেতু মেরামত।
সমাজসেবার মাধ্যম ও পদ্ধতিসমূহ (وسائلها وطرقها)
- ব্যক্তিগত উদ্যোগ: ধনী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের নিজ উদ্যোগে প্রতিবেশীর অধিকার আদায় ও দান-খয়রাত করা।
- ওয়াকফ ব্যবস্থা (الأوقاف): জমি, ভবন বা সম্পদ স্থায়ীভাবে মানবকল্যাণে দান করা, যার আয় দিয়ে হাসপাতাল ও সরাইখানা পরিচালিত হয়।
- প্রাতিষ্ঠানিক ও দাতব্য সংস্থা: আধুনিক এনজিও, রেড ক্রিসেন্ট ও বায়তুল মালের আদলে সুসংগঠিত চ্যারিটি ফান্ড গঠন করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা।
٦- اكتب مساهمة الهاتف والتلفاز والإنترنت في نشر الدعوة الى الله-
[৬. দা’ওয়াহর বিস্তারে টেলিফোন, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের ভূমিকা লেখ।]
ভূমিকা
যোগাযোগ প্রযুক্তির বৈপ্লবিক অগ্রগতি দাওয়াহর ময়দানকে অবারিত করেছে। ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে নিমেষেই বিশ্বব্যাপী সত্যের পয়গাম পৌঁছে দিতে টেলিফোন, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট অনন্য ভূমিকা রাখছে।
১. দাওয়াতের বিস্তারে টেলিফোনের ভূমিকা (الهاتف)
- ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও খোঁজখবর: আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং টেলিফোনে সংক্ষিপ্ত উপদেশ বা সালাতের তাগিদ দেওয়া।
- হটলাইন ও ফতোয়া সেবা: সাধারণ মানুষ বিশ্বের শীর্ষ মুফতি ও আলেমদের সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলে তাৎক্ষণিক শরঈ সমস্যার সমাধান লাভ করতে পারছে।
- মোবাইল মেসেজিং (SMS): দৈনিক হাদিস, কুরআনের বাণী ও দো’আ মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ গ্রাহকের কাছে পাঠানো।
২. দাওয়াতের বিস্তারে টেলিভিশনের ভূমিকা (التلفاز)
- পিস টিভি ও ইসলামিক চ্যানেল: স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে ড. জাকির নায়েকসহ বিশ্বমানের দাঈরা কোটি কোটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন।
- পারিবারিক দাওয়াত: ড্রয়িংরুমে বসে পরিবারের সকল সদস্য একসাথে বসে তাফসির, সিরাত ও ইসলামিক প্রামাণ্যচিত্র দেখতে পারছে, যা অনৈসলামিক চ্যানেলগুলোর বিকল্প তৈরি করেছে।
- লাইভ হজ্জ ও উমরাহ সম্প্রচার: মক্কা ও মদিনার পবিত্র সালাত ও তাওয়াফের দৃশ্য অমুসলিমদের অন্তরেও প্রবল কৌতূহল ও শ্রদ্ধা সৃষ্টি করে।
৩. দাওয়াতের বিস্তারে ইন্টারনেটের ভূমিকা (الإنترنت)
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স ও টিকটকে শর্ট ভিডিও এবং রিলসের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে ইসলামের মৌলিক নীতি পৌঁছে যাচ্ছে।
- ডিজিটাল লাইব্রেরি ও অ্যাপস: শামেলা, আল-মাকতাবাতুল ওয়াকফিয়াহ এবং কুরআন-হাদিসের হাজার হাজার অ্যাপস যে কারও স্মার্টফোনে জ্ঞানের মহাসমুদ্র উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
- বিশ্বব্যাপী আন্তঃধর্মীয় সংলাপ: ভার্চুয়াল জুম ও ওয়েবিনারের মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পণ্ডিতদের সাথে ইসলামের সৌন্দর্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্ভব হচ্ছে।
٧- عرف الهجرة- ثم اذكر فضائلها وأهميتها في الدعوة الى الله-
[৭. الهجرة এর পরিচয় দাও। এর তাৎপর্য ও দা’ওয়াহর ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব উল্লেখ কর।]
ভূমিকা
ইসলামের ইতিহাসে হিজরত কেবল দেশত্যাগ নয়, বরং এটি কুফরি ও জুলুমের পরিবেশ থেকে ঈমান ও দ্বীনকে রক্ষা করার এক ঐতিহাসিক ত্যাগ ও কৌশলগত মোড় পরিবর্তন। হিজরতের ফলেই ইসলামের বৈশ্বিক বিজয়ের সূচনা হয়েছিল।
الهجرة (হিজরত)-এর পরিচয়
শাব্দিক অর্থ: ত্যাগ করা, বর্জন করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: নিজের ঈমান, আকিদা ও দ্বীন রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পাপাচারপূর্ণ বা দারুল কুফর ত্যাগ করে দারুল ইসলাম বা নিরাপদ আশ্রয়ে গমন করাকে হিজরত বলে। আধ্যাত্মিক অর্থে সমস্ত পাপ বর্জন করাকেও হিজরত বলা হয়।
হিজরতের فضائل (মর্যাদা ও তাৎপর্য)
- গুনাহ মোচন ও জান্নাতের সুসংবাদ: আল্লাহ তা’আলা বলেন: “যারা হিজরত করেছে, নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছে… আমি অবশ্যই তাদের পাপ ক্ষমা করে দেব এবং জান্নাতে প্রবেশ করাব।” (সূরা আলে ইমরান: ১৯৫)।
- পৃথিবীতে প্রশস্ততা ও প্রাচুর্য: ইরশাদ হয়েছে: “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করবে, সে পৃথিবীতে বহু আশ্রয়ের স্থান ও প্রাচুর্য লাভ করবে।” (সূরা আন-নিসা: ১০০)।
দা’ওয়াহর ক্ষেত্রে হিজরতের গুরুত্ব (أهميتها في الدعوة)
- দাওয়াতের ভৌগোলিক সম্প্রসারণ: মক্কায় কাফেরদের অবরোধ ও নির্যাতনের মুখে যখন দাওয়াহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, তখন মদিনায় হিজরতের মাধ্যমে ইসলামের জন্য একটি স্বাধীন রাজনৈতিক ভূখণ্ড অর্জিত হয়।
- মুহাজির ও আনসারদের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্ব: হিজরত উম্মাহর পারস্পরিক ভালোবাসা ও ত্যাগের এক চিরন্তন অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
- ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন: হিজরতের পরই মদিনা সনদ প্রণয়ন, ইসলামী বিচার ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু এবং জিহাদের মাধ্যমে দাওয়াতকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
٨- عرف التبليغ- ثم بين أهميته وفضائله والفرق بينه وبين التعليم-
[৮. তাবলিগের সংজ্ঞা দাও। এর গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং তাবলিগ ও তা’লীমের মাঝে পার্থক্য বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
দ্বীন ইসলামকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের গভীরে প্রতিষ্ঠিত করতে যে দুটি পরিভাষা ওতপ্রোতভাবে জড়িত তা হলো ‘তাবলিগ’ (বাণী পৌঁছানো) এবং ‘তা’লীম’ (শিক্ষা দান)। উভয়টি নববী মিশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
التبليغ (তাবলিগ)-এর সংজ্ঞা ও গুরুত্ব
সংজ্ঞা: ‘বালাগ’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ কোনো সংবাদ অবিকল ও পূর্ণাঙ্গরূপে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর আহকাম ও রাসূলের পয়গাম বিশ্বমানবতার দ্বারে দ্বারে সশরীরে পৌঁছে দেওয়ার মেহনতকে তাবলিগ বলে।
গুরুত্ব: কুরআন মজিদে আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন: “হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে যা আপনার ওপর নাজিল হয়েছে তা পৌঁছে দিন (বাল্লিগ); যদি তা না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পালন করলেন না।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৭)।
তাবলিগের فضائل (মর্যাদা)
- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও।” (সহিহ বুখারী)।
- বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে নবীজী নির্দেশ দেন: “উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে এ বাণী পৌঁছে দেয়।”
- যে ব্যক্তি সৎকাজের পথ দেখায়, সে আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে (সহিহ মুসলিম)।
তাবলিগ ও তা’লীমের মধ্যে পার্থক্য (الفرق بين التبليغ والتعليم)
| পার্থক্যসূচক বিষয় | তাবলিগ (التبليغ) | তা’লীম (التعليم) |
|---|---|---|
| মূল অর্থ | দ্বীনের মৌলিক দাওয়াত ও সংবাদ মানুষের কানে পৌঁছে দেওয়া। | শরীয়তের গভীর জ্ঞান, হিকমত ও দলীল-প্রমাণ পদ্ধতিগতভাবে শিক্ষা দেওয়া। |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি | প্রত্যেক সাধারণ মুমিন তার জানা পরিমাণ দ্বীনের তাবলিগ করতে পারে। | কেবল যোগ্য, বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ আলেম-উস্তাদগণ তা’লীম দিতে পারেন। |
| পদ্ধতি | মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে মোটিভেশন ও অনুপ্রেরণা জাগ্রত করা। | শ্রেণীকক্ষে বা শিক্ষাঙ্গনে বসে কিতাব ও সিলেবাস ভিত্তিক শিক্ষাদান। |
| ক্ষেত্র | আমল ও ঈমানি চেতনা সৃষ্টির প্রাথমিক ধাপ। | মাসআলা-মাসায়েল, ফিকহ ও তাহক্বীক্ব সমৃদ্ধ উচ্চতর স্তর। |
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
٩- ما الفرق بين الوسائل والأساليب؟
[৯. الوسائل ও الأساليب এর মধ্যে পার্থক্য কী?]
উত্তর: দাওয়াহ শাস্ত্রে ‘ওয়াসাইল’ ও ‘উসলুব’-এর মধ্যে সূক্ষ্ম ও মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:
- ওয়াসাইল (الوسائل – মাধ্যমসমূহ): এটি ‘ওয়াসীলাহ’-এর বহুবচন, যার অর্থ বাস্তব বা কাঠামোগত যন্ত্র ও উপকরণ যার সাহায্যে দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়। যেমন: মাইক্রোফোন, বই-পুস্তক, সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, মসজিদ, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি।
- উসলুব (الأساليب – কর্মপদ্ধতি বা শৈলী): এটি ‘উসলূব’-এর বহুবচন, যার অর্থ উপস্থাপন ভঙ্গি, বুদ্ধিমত্তা, মানসিক কৌশল ও বাচনভঙ্গি যার মাধ্যমে মাদ’উকে (শ্রোতাকে) আকৃষ্ট করা হয়। যেমন: হিকমত, সদুপদেশ (মাওইযাতুল হাসানা), বিতর্ক (মুজাদালাহ বিল্লাতী হিয়া আহসান), কোমলতা ইত্যাদি। সংক্ষেপে: ওয়াসাইল হলো ‘যন্ত্র/টুলস’, আর আসালিব হলো সেই টুলস ব্যবহারের ‘কৌশল ও আর্ট’।
١٠- ماذا تفهم عن الموعظة الحسنة؟
[১০. الموعظة الحسنة বলতে কী বুঝ?]
উত্তর: ‘আল-মাওইযাতুল হাসানা’ অর্থ সদুপদেশ বা চিত্তাকর্ষক হৃদয়গ্রাহী নসীহত। কুরআনের নির্দেশ: “ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ” (আপনার রবের পথে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন)। (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
মাওইযায়ে হাসানাহ হলো এমন হৃদয়স্পর্শী ভঙ্গিতে কথা বলা, যাতে কোনো প্রকার কটূক্তি, খোঁচা বা উপহাস না থাকে; বরং আন্তরিক ভালোবাসা, জান্নাতের লোভনীয় সুসংবাদ ও জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শ্রোতার কলবকে দ্রবীভূত করে সত্যের পথে আকৃষ্ট করা হয়।
١١- اذكر أهمية إزالة المنكر عن المجتمع-
[১১. সমাজ থেকে খারাপ কাজ অপসারণের গুরুত্ব উল্লেখ কর।]
উত্তর: সমাজ থেকে অন্যায়, অশ্লীলতা ও পাপাচার (মুনকারাত) নির্মূল করা মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম শর্ত।
গুরুত্ব:
- রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “তোমাদের কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখলে সে যেন হাত দিয়ে (ক্ষমতা প্রয়োগে) তা বন্ধ করে দেয়; সক্ষম না হলে মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করে; আর তাতেও সক্ষম না হলে অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে, আর এটি হলো ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর।” (সহিহ মুসলিম)।
- অন্যায় বারণ না করলে সমাজে আল্লাহর সর্বগ্রাসী আজাব নেমে আসে এবং নেককারদের দো’আও কবুল হয় না।
- সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কেবল মুনকার বর্জনের মাধ্যমেই সম্ভব।
١٢- تحدث عن وسائل الخدمات الاجتماعية-
[১২. সমাজসেবার মাধ্যমসমূহ আলোচনা কর।]
উত্তর: সমাজে কল্যাণ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলামে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক মাধ্যম নির্ধারিত রয়েছে:
- যাকাত ও সাদাকাতুল ফিতর: সমাজের ধনীদের ওপর বাধ্যতামূলক করে দরিদ্রদের স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা।
- ওয়াকফে ইসলামী: বিদ্যালয়, সরাইখানা, রাস্তা ও কুপ খননের মতো জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পদ স্থায়ী দান।
- করযে হাসানা (সুদহীন ঋণ): দরিদ্র উদ্যোক্তা বা ঋণগ্রস্তদের সুদমুক্ত আর্থিক সহায়তা দান।
- স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ক্লাব: অসহায়দের চিকিৎসা, দূর্যোগে ত্রাণ বিতরণ ও রক্তদানের মতো যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন।
١٣- اذكر أهمية السيرة الحسنة-
[১৩. السيرة الحسنة এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]
উত্তর: ‘আস-সীরাতুল হাসানা’ অর্থ উত্তম চরিত্র ও প্রশংসনীয় জীবনচরিত। একজন দাঈর জন্য এটি সর্বশ্রেষ্ঠ নীরব দাওয়াহ।
গুরুত্ব:
- মুখের বক্তৃতার চেয়ে ব্যক্তিগত আমল ও উন্নত চরিত্র মানুষের হৃদয়ে শতগুণ বেশি গভীর দাগ কাটে (“লিসানুল হাল আফসাহু মিন লিসানিল মাকাল”)।
- রাসূলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াতের পূর্বে নিজের সততা ও আমানতদারির কারণে মক্কার কাফেরদের নিকট ‘আল-আমীন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন, যা ছিল তাঁর দাওয়াতের প্রথম ভিত্তি।
- চরিত্রহীন দাঈর কথা মানুষ উপহাসের চোখে দেখে এবং তার কারণে সাধারণ মানুষ দ্বীন থেকে বিমুখ হয়।
١٤- ما أهداف الإعلام الإسلامي-
[১৪. الإعلام الإسلامي এর উদ্দেশ্য কী কী?]
উত্তর: ইসলামী মিডিয়ার প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো:
- বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের সঠিক, সুন্দর ও মানবিক শিক্ষা তুলে ধরা।
- ইসলাম, কুরআন ও মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত মিথ্যা অপপ্রচারের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও যৌক্তিক জবাব দেওয়া।
- মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করা।
- অশ্লীলতা ও অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রোধ করে সুস্থ, রুচিশীল ও হালাল বিনোদনের ব্যবস্থা করা।
- নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত মজলুম মুসলমানদের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা।
١٥- اذكر آثار التبليغ في نشر الدعوة الى الله-
[১৫. দা’ওয়াহর বিস্তারে তাবলিগের প্রভাব উল্লেখ কর।]
উত্তর: দাওয়াতের প্রসারে তাবলিগের প্রত্যক্ষ প্রভাবসমূহ নিম্নরূপ:
- আমলে পরিবর্তন: সাধারণ বেনামাযী ও উদাসীন মানুষ তাবলিগের সংস্পর্শে এসে মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়কারী হয়ে ওঠে।
- সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠন: পোশাক-পরিচ্ছদ, পানাহার, কথাবার্তা ও দৈনন্দিন জীবনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতের অনুসরণ বৃদ্ধি পায়।
- বিশ্বব্যাপী ইসলামি জাগরণ: বিশ্ব ইজতেমা ও দেশ-বিদেশে জামাত প্রেরণের মাধ্যমে বর্ণ-ভাষার প্রাচীর ভেঙে উম্মাহর বৈশ্বিক ঐক্য সুদৃঢ় হচ্ছে।
- আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতি: পরিবার ও ব্যবসা ছেড়ে দ্বীনের জন্য কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে আত্মত্যাগ ও বিনয় অর্জিত হয়।
١٦- تحدث عن مكارم الاخلاق-
[১৬. مكارم الاخلاق সম্পর্কে আলোচনা কর।]
উত্তর: ‘মাকারিমুল আখলাক’ অর্থ মহৎ ও শ্রেষ্ঠ চরিত্র। এটি ইসলামী শরীয়তের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ” (নিশ্চয় আমি উন্নত ও মহোত্তম চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরিত হয়েছি)। (মুয়াত্তা মালিক, আহমাদ)।
মূল উপাদানসমূহ: সত্যবাদিতা, বিনয়, দয়া, ক্ষমার মানসিকতা, পরোপকার, পিতা-মাতার সেবা, প্রতিবেশীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ক্রোধ দমন। কিয়ামতের দিন মুমিনের মীজানের পাল্লায় মহৎ চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো আমল থাকবে না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ‘দাওয়াত’ ও ‘মিডিয়া’র মধ্যকার মূল সম্পর্ক কী?
দাওয়াত হলো মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়ার মহান ঐশী লক্ষ্য, আর মিডিয়া বা গণমাধ্যম হলো সেই লক্ষ্যে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর আধুনিক কৌশলগত মাধ্যম।
২. দাওয়াতের ক্ষেত্রে কি যে কোনো মাধ্যম ব্যবহার করা বৈধ?
না, ইসলামে লক্ষ্য ও উপায় উভয়টিকেই শরীয়তসম্মত ও পবিত্র হতে হয়; কোনো প্রকার মিথ্যা, প্রতারণা বা হারাম পথ অবলম্বন করে দাওয়াত দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩. ইসলামের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র কোনটি ছিল?
মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববীর উত্তর পাশে অবস্থিত ‘আসহাবে সুফফাহ’ ছিল ইসলামের সর্বপ্রথম নিয়মিত আবাসিক মাদ্রাসা ও দাওয়াহ শিক্ষাকেন্দ্র।
৪. ‘মাওইযায়ে হাসানাহ’ বলতে কী বোঝায়?
কোনো প্রকার কটূক্তি বা উপহাস ছাড়া অত্যন্ত দরদ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা নিয়ে মানুষকে পরকালমুখী করার সদুপদেশ দান করাকে মাওইযায়ে হাসানাহ বলে।
৫. ওয়াসাইল ও আসালিবের মধ্যে পার্থক্য কী?
ওয়াসাইল হলো দাওয়াত প্রচারের বাস্তব মাধ্যম বা উপকরণ (যেমন ইন্টারনেট বা মাইক), আর আসালিব হলো সেই উপকরণ ব্যবহারের বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল ও উপস্থাপন শৈলী।
৬. মহানবী (সা.)-এর প্রেরণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
হাদিস শরিফ অনুযায়ী মানবজাতির মাঝে উন্নত, মার্জিত ও মহোত্তম চরিত্রের (মাকারিমুল আখলাক) পূর্ণতা সাধন করাই ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।