১৮তম NTRCA জুনিয়র মৌলভী লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান (বিষয় কোড: ২০২)
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) কর্তৃক অনুষ্ঠিত ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার মাদরাসা পর্যায়ের জুনিয়র মৌলভী / ইবতেদায়ী মৌলভী পদের মূল প্রশ্নপত্রের (সেট: শাপলা-২, কোড: ২২৮) হুবহু পাঠ, কুরআন-হাদিসের বঙ্গানুবাদ, ব্যাকরণ, আরবি অনুবাদ, দরখাস্ত ও রচনার শতভাগ নির্ভুল সমাধান নিচে প্রকাশ করা হলো।
পরীক্ষার প্রাথমিক পরিচিতি ও প্রশ্ন কাঠামো
| বিবরণ ক্ষেত্র | অফিসিয়াল তথ্য |
|---|---|
| পরীক্ষার নাম | ১৮তম NTRCA শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষা (18th NTRCA Written Exam) |
| পদের নাম | জুনিয়র মৌলভী / ইবতেদায়ী মৌলভী (Junior Moulovi) |
| বিষয় ও বিষয় কোড | কুরআন ও তাজবীদ / ফিকহ ও আরবি — বিষয় কোড: ২০২ |
| প্রশ্নপত্র সেট ও নম্বর | শাপলা-২ (২২৮) |
| সময় ও পূর্ণমান | সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০ নম্বর |
| বিশেষ দ্রষ্টব্য | ডান পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। |
১। আল-কুরআন অংশ: অনুবাদ (মান: ২০ = ১০ × ২)
মূল প্রশ্ন: অনুবাদ করুন (যে কোনো দুটি): ১০ × ২ = ২০
(ক) সূরা আল-বাকারা (আয়াত: ৩০-৩১)
«وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ * وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ»
বঙ্গানুবাদ
“আর স্মরণ করুন, যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদের বলেছিলেন: ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ তখন তারা নিবেদন করল: ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরাই তো আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা কীর্তন করি।’ তিনি (আল্লাহ) বললেন: ‘নিশ্চয়ই আমি যা অবগত আছি, তোমরা তা জানো না।’ অতঃপর তিনি আদমকে সমস্ত বস্তুর নাম ও পরিচয় শিক্ষা দিলেন; তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে আমাকে এসব বস্তুর নাম বলে দাও।’”
এই আয়াতে মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব ও খিলাফতের মর্যাদা ঘোষিত হয়েছে। ফেরেশতাদের আপত্তি দূর করতে আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ.)-কে ইলম বা জ্ঞানের শক্তিতে ভূষিত করেন, যা প্রমাণ করে ইলমই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান ভিত্তি।
(খ) সূরা আল-আলাক্ব (আয়াত: ১-৬)
«اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ * الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ * عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ * كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى»
বঙ্গানুবাদ
“পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্তপিণ্ড (আলাক্ব) থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার পালনকর্তা পরম মহিমান্বিত ও দয়ালু; যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। কখনোই নয়! নিশ্চয়ই মানুষ সীমালঙ্ঘন করে থাকে (অহংকারে উদ্ধত হয়)।”
এটি আল-কুরআনের অবতীর্ণ প্রথম ওহি। এতে জ্ঞানার্জন, পাঠাভ্যাস এবং কলমের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসারকে ইসলামের প্রথম নির্দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
(গ) সূরা আত-ত্বীন (আয়াত: ১-৮)
«وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ * وَطُورِ سِينِينَ * وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ * لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ * ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ * إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ * فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدِّينِ * أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ»
বঙ্গানুবাদ
“শপথ আঞ্জির (ডুমুর) ও জয়তুনের, এবং শপথ সিনাই পর্বতের, এবং শপথ এই নিরাপদ নগরীর (মক্কা মুকাররমার)। নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম ও সুন্দরতম গঠনে। অতঃপর আমি তাকে নিক্ষেপ করেছি হীনতমদের নিম্নতম স্তরে; কিন্তু তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে—তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন ও অফুরন্ত পুরস্কার। সুতরাং এরপরও কোন জিনিস তোমাকে শেষ বিচার দিবস সম্পর্কে অবিশ্বাস করতে বাধ্য করে? আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন?”
মানুষকে আল্লাহ দৈহিক ও আত্মিকভাবে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রূপ দান করেছেন। কিন্তু ঈমান ও নেক আমল থেকে বিচ্যুত হলে মানুষ পশুর চেয়েও অধম স্তরে পতিত হয়।
২। আল-হাদিস অংশ: অনুবাদ (মান: ২০ = ১০ × ২)
মূল প্রশ্ন: অনুবাদ করুন (যে কোনো দুটি): ১০ × ২ = ২০
(ক) মুনাফিকের আলামত সংক্রান্ত হাদিস (হুবহু ১৮তম প্রশ্নপত্র)
«عن عبد الله بن عمر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : أربع من كن فيه كان منافقاً خالصاً ومن كانت فيه خصلة منهن كانت فيه خصلة من النفاق حتى يدعها إذا اؤتمن خان وإذا حدث كذب وإذا عاهد غدر وإذا خاصم فجر- (متفق عليه)»
বঙ্গানুবাদ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিক বলে গণ্য হবে। আর যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি স্বভাব থাকবে, তার মধ্যে মুনাফিকির একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে—যতক্ষণ না সে তা বর্জন করে। সেই চারটি লক্ষণ হলো:
- যখন তার নিকট কোনো আমানত রাখা হয়, সে তাতে খেয়ানত করে;
- যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে;
- যখন কোনো চুক্তি বা অঙ্গীকার করে, তা ভঙ্গ করে; এবং
- যখন কারও সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়, তখন অশ্লীল বাক্য ও অন্যায় সীমা লঙ্ঘন করে।’”
এই হাদিসে আমলি বা আচরণগত নিফাকের মারাত্মক ব্যাধিগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। একজন প্রকৃত মুমিনের চরিত্রে এই চারটি অসৎ স্বভাবের কোনো স্থান হতে পারে না।
(খ) ইসলামের ভিত্তি সংক্রান্ত হাদিস (সিলেবাসের প্রমিত পরিপূরক প্রশ্ন)
«عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : بني الإسلام على خمس : شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وحج البيت، وصوم رمضان- (متفق عليه)»
বঙ্গানুবাদ
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত: ১. এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, ২. সালাত কায়েম করা, ৩. জাকাত আদায় করা, ৪. বায়তুল্লাহর হজ্ব সম্পাদন করা, এবং ৫. রমজানের রোজা পালন করা।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)”
(গ) পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ সংক্রান্ত হাদিস (সিলেবাসের প্রমিত পরিপূরক প্রশ্ন)
«عن أبي مالك الأشعري رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : الطهور شطر الإيمان، والحمد لله تملأ الميزان، وسبحان الله والحمد لله تملآن ما بين السماوات والأرض- (رواه مسلم)»
বঙ্গানুবাদ
“হযরত আবু মালেক আল-আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ। আর আল-হামদুলিল্লাহ (আল্লাহর প্রশংসা) মিজানের পাল্লাকে পূর্ণ করে দেয়। এবং সুবহানাল্লাহ ও আল-হামদুলিল্লাহ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সমস্ত শূন্যস্থানকে নেকি দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম)”
৩। ইলমুত তাজবীদ অংশ (সিলেবাস মান: ১০)
প্রশ্ন: নূন সাকিন ও তানভীনের হুকুম কয়টি ও কী কী? উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করুন।
পূর্ণাঙ্গ উত্তর ও বিশ্লেষণ
পবিত্র কুরআন শুদ্ধ ও বিশুদ্ধ উচ্চারণে তিলাওয়াত করার জন্য নূন সাকিন (جزم যুক্ত نْ) এবং তানভীন (ً ٍ ٌ)-এর বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নূন সাকিন ও তানভীনের পর পরবর্তী হরফের ভিত্তিতে এর হুকুম মোট ৪টি:
| হুকুমের নাম (আরবি ও বাংলা) | হরফ সংখ্যা ও হরফসমূহ | উচ্চারণের নিয়ম | কুরআনিক উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১. ইযহার (الإظهار) — স্পষ্ট করা | ৬টি حلقي হরফ: ء، هـ، ع، ح، غ، خ | গুন্নাহ ছাড়া স্বাভাবিক ও স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়। | مَنْ آمَنَ، أَنْعَمْتَ، عَلِيمٌ حَكِيمٌ |
| ২. ইদগাম (الإدغام) — মিলিয়ে পড়া | ৬টি হরফ (يرملون): ي، ر، م، ل، و، ن • গুন্নাহসহ (يمنو) • গুন্নাহ ছাড়া (ر، ل) |
পরবর্তী হরফে তাশদীদ দিয়ে মিলিয়ে পড়তে হয়। | مَنْ يَقُولُ (গুন্নাহসহ), مِنْ رَبِّهِمْ (গুন্নাহ ছাড়া) |
| ৩. ইক্বলাব (الإقلاب) — পরিবর্তন করা | ১টি হরফ: ب | নূন সাকিন বা তানভীনকে ‘মীম’ (م) দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়। | مِنْ بَعْدِ، سَمِيعٌ بَصِيرٌ |
| ৪. ইখফা (الإخفاء) — গোপন করে পড়া | ১৫টি হরফ: ت، ث، ج، د، ذ، ز، س، ش، ص، ض، ط، ظ، ف، ق، ك | নূন-এর মাখরাজে জিহ্বা না লাগিয়ে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহ করে পড়তে হয়। | مِنْ كُنْتُمْ، أَنْفُسَكُمْ، يَتِيمًا فَآوَى |
৪। আল-ফিকহ অংশ (সিলেবাস মান: ১০)
প্রশ্ন: সালাতের আহকাম ও আরকান (ফরজসমূহ) কয়টি ও কী কী? বিস্তারিত আলোচনা করুন।
পূর্ণাঙ্গ উত্তর ও বিশ্লেষণ
নামাজ বা সালাত ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। সালাতের ফরজ মোট ১৩টি; যা দুই ভাগে বিভক্ত: সালাতের বাইরের ফরজ বা আহকাম (৭টি) এবং সালাতের ভেতরের ফরজ বা আরকান (৬টি)।
ক. সালাতের আহকাম (নামাজের বাইরের ৭টি ফরজ বা শর্ত):
- শরীর পাক হওয়া (طهارة البدن): ছোট ও বড় নাপাকি থেকে শরীর পবিত্র রাখা।
- কাপড় পাক হওয়া (طهارة الثياب): পরিধেয় বস্ত্র যাবতীয় অপবিত্রতা থেকে মুক্ত থাকা।
- নামাজের জায়গা পাক হওয়া (طهارة المكان): যেখানে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া হবে সে স্থান পবিত্র হওয়া।
- সতর ঢাকা (ستر العورة): পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং নারীদের মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি ও পায়ের পাতা ছাড়া সমগ্র শরীর আবৃত করা।
- কিবলামুখী হওয়া (استقبال القبلة): কাবা শরিফের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো।
- ওয়াক্ত হওয়া (دخول الوقت): যে ওয়াক্তের নামাজ তার নির্ধারিত সময় উপস্থিত হওয়া।
- নিয়ত করা (النية): যে ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হচ্ছে মনে মনে তা নির্দিষ্ট করা।
খ. সালাতের আরকান (নামাজের ভেতরের ৬টি ফরজ):
- তাকবীরে তাহরীমা (تكبيرة الإحرام): ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করা।
- কিয়াম বা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা (القيام): সক্ষম ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া।
- কিরাত পাঠ করা (القراءة): কমপক্ষে ছোট একটি সূরা বা তিনটি ছোট আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা।
- রুকু করা (الركوع): পিঠ সোজা রেখে রুকুতে অবনত হওয়া।
- উভয় সিজদা করা (السجود): প্রতি রাকাতে কপাল ও নাক মাটিতে ঠেকিয়ে দুটি সিজদা করা।
- শেষ বৈঠক (القعدة الأخيرة): নামাজের শেষ রাকাতে তাশাহহুদ পাঠের পরিমাণ সময় বসা।
৫। আরবি ব্যাকরণ (নাহু) অংশ (মান: ১০ = ১০ × ১)
মূল প্রশ্ন: যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দিন: ১০ × ১ = ১০
(ক) كلمة কাকে বলে? كلمة কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ আলোচনা করুন।
পূর্ণাঙ্গ উত্তর ও বিশ্লেষণ
১. কালিমার সংজ্ঞা (تعريف الكلمة):
• আভিধানিক অর্থ: আঘাত করা বা কথা বলা।
• পারিভাষিক সংজ্ঞা: «الكلمة لفظ وُضع لمعنى مفرد» অর্থাৎ “একক অর্থ প্রকাশের জন্য গঠিত অর্থবোধক মৌলিক শব্দকে কালিমা (Word) বলা হয়।” যেমন: قَلَمٌ (কলম), كَتَبَ (সে লিখল), فِي (মধ্যে)।
২. কালিমার প্রকারভেদ (أقسام الكلمة):
আরবি ভাষায় কালিমা প্রধানত ৩ প্রকার:
| প্রকার | সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য | আরবি উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. ইসম (الاسم) — বিশেষ্য/নাম | যে শব্দ নিজের অর্থ নিজে প্রকাশ করতে পারে এবং তার অর্থের সাথে তিন কালের (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) কোনো সম্পর্ক থাকে না। | مُحَمَّدٌ (মুহাম্মদ), كِتَابٌ (বই), مَدْرَسَةٌ (মাদরাসা) |
| ২. ফেল (الفعل) — ক্রিয়া | যে শব্দ নিজের অর্থ নিজে প্রকাশ করতে পারে এবং তার অর্থের সাথে তিন কালের কোনো একটি কাল স্পষ্টভাবে জড়িত থাকে। | نَصَرَ (সে সাহায্য করল – অতীত), يَكْتُبُ (সে লিখছে – বর্তমান/ভবিষ্যৎ), اِقْرَأْ (পড়ো – আদেশ) |
| ৩. হরফ (الحرف) — অব্যয় | যে শব্দ ইসম বা ফেলের সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়া নিজে নিজে কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না। | مِنْ (হতে), عَلَى (ওপর), إِلَى (দিকে), فِي (মধ্যে) |
(খ) مبتداء ও خبر এর সংজ্ঞা লিখুন। مبتداء ও خبر এর حكم কী? লিখুন।
পূর্ণাঙ্গ উত্তর ও বিশ্লেষণ
১. মুবতাদা ও খবরের সংজ্ঞা:
• মুবতাদা (المبتدأ): জুমলা ইসমিয়্যার (বিশেষ্যবাচক বাক্যের) প্রারম্ভে অবস্থিত যে মারফু বিশেষ্য পদ সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রদান করা হয় এবং যা শাব্দিক আমেল থেকে মুক্ত থাকে, তাকে মুবতাদা (Subject) বলে। যেমন: «العِلْمُ نُورٌ» বাক্যে ‘العِلْمُ’ হলো মুবতাদা।
• খবর (الخبر): মুবতাদা সম্পর্কে যে সংবাদ বা তথ্য প্রদান করে বাক্যের অর্থ পূর্ণতা লাভ করে, তাকে খবর (Predicate) বলে। যেমন: উপর্যুক্ত বাক্যে ‘نُورٌ’ হলো খবর।
২. মুবতাদা ও খবরের হুকুম (أحكام المبتدأ والخبر):
- উভয়েই মারফু (إعرابهما الرفع): মুবতাদা এবং খবর উভয়ের মূল ই’রাব হলো ‘রফা’ (পেশ বিশিষ্ট হওয়া)। যেমন: «اللهُ غَفُورٌ»।
- নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট হওয়া (التعريف والتنكير): নিয়ম অনুযায়ী মুবতাদা সাধারণত ‘মারিফা’ (নির্দিষ্ট) হয় এবং খবর ‘নাকিরাহ’ (অনির্দিষ্ট) হয়।
- লিঙ্গভেদ সামঞ্জস্য (المطابقة في التذكير والتأنيث): মুবতাদা পুংলিঙ্গ হলে খবর পুংলিঙ্গ এবং মুবতাদা স্ত্রীলিঙ্গ হলে খবর স্ত্রীলিঙ্গ হবে। যেমন: «زَيْدٌ عَالِمٌ»، «فَاطِمَةُ عَالِمَةٌ»।
- বচনের সামঞ্জস্য (المطابقة في الإفراد والتثنية والجمع): একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচনে উভয়ের মিল থাকতে হয়। যেমন: «المُعَلِّمُونَ حَاضِرُونَ»।
৬। বাংলা থেকে আরবিতে অনুবাদ (মান: ১০ = ১০ × ১)
মূল প্রশ্ন: আরবি করুন (যে কোনো একটি): ১০ × ১ = ১০
(ক) ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুচ্ছেদ
বাংলা পাঠ:
“কুরআন আল্লাহর বাণী। আমাদের নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)। আমি প্রত্যহ কুরআন পড়ি। হাদিস রাসুলের বাণী। আমি মাদরাসার শিক্ষক। আল-কুরআন আমাদের সংবিধান।”
বিশুদ্ধ আরবি অনুবাদ
الترجمة إلى اللغة العربية:
«القُرْآنُ كَلَامُ اللهِ. نَبِيُّنَا حَضْرَةُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. أَنَا أَقْرَأُ القُرْآنَ كُلَّ يَوْمٍ (يَوْمِيًّا). الحَدِيثُ كَلَامُ الرَّسُولِ (قَوْلُ الرَّسُولِ). أَنَا مُعَلِّمُ المَدْرَسَةِ (مُدَرِّسٌ فِي المَدْرَسَةِ). القُرْآنُ الكَرِيمُ دُسْتُورُنَا.»
(খ) দেশপ্রেম ও মাতৃভূমি অনুচ্ছেদ
বাংলা পাঠ:
“আমরা সবাই জন্মভূমিকে ভালোবাসি এবং সেবায় জান-প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করি। কেননা আমরা তার মাটিতেই জন্মেছি। তার আকাশের নিচে জীবন যাপন করছি। প্রয়োজনে জন্মভূমির জন্য প্রাণ বিসর্জন দিব।”
বিশুদ্ধ আরবি অনুবাদ
الترجمة إلى اللغة العربية:
«نَحْنُ جَمِيعًا نُحِبُّ وَطَنَنَا وَنَبْذُلُ قُصَارَى جُهْدِنَا فِي خِدْمَتِهِ. لِأَنَّنَا وُلِدْنَا فِي تُرَابِهِ (عَلَى أَرْضِهِ)، وَنَعِيشُ تَحْتَ سَمَائِهِ. وَعِنْدَ الحَاجَةِ سَنُضَحِّي بِأَرْوَاحِنَا (بِحَيَاتِنَا) مِنْ أَجْلِ الوَطَنِ.»
৭। আরবি দরখাস্ত অথবা রচনা লিখন (মান: ১০)
মূল প্রশ্ন: অসুস্থতার জন্য ছুটি চেয়ে অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষকের বরাবর একটি দরখাস্ত আরবিতে লিখুন। (১০) অথবা আরবিতে রচনা লিখুন (যে কোনো একটি): (أ) الاسلام (ب) العلم
অসুস্থতার জন্য ছুটির দরখাস্ত (طلب إجازة بسبب المرض)
التاريخ: 20 سبتمبر 2026 م
إلى: فضيلة مدير المدرسة المحترم / رئيس المؤسسة
المدرسة: مدرسة دار الهدى الإسلامية، دكا.
الموضوع: طلب إجازة بسبب المرض المفاجئ
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته،
أما بعد:
فأعرض على فضيلتكم بكل احترام وتواضع أنني أصبت بحمى شديدة ووعكة صحية حادة منذ ليلة أمس، وقد فحصني الطبيب المعالج وأمرني بالراحة التامة وملازمة الفراش لمدة ثلاثة أيام ابتداءً من اليوم الموافق 20 سبتمبر إلى 22 سبتمبر 2026 م، ونظراً لذلك لا أستطيع الحضور إلى الفصل ومتابعة الدروس.
لذا، ألتمس من عطفكم وكرمكم التفضل بالموافقة على منحي إجازة لمدة هذه الأيام الثلاثة المذكورة. وأسأل الله العلي القدير أن يوفقكم لكل خير ويديم عليكم الصحة والعافية.
وتفضلوا بقبول فائق احترامي وشكري الجزيل.
مقدم الطلب:
الطالب: عبد الله بن محمد
الصف: العاشر / القسم الثانوي
رقم القيد (الجلوس): 15
বিকল্প রচনা (أ): الإسلام (ইসলাম)
المقدمة:
الإسلام هو دين الحق الذي ارتضاه الله تعالى للبشرية جمعاء ليكون منهاج حياة متكامل، قال الله تعالى: ﴿إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ﴾. والإسلام لغة هو الاستسلام والانقياد، واصطلاحاً هو الاستسلام لله بالتوحيد والانقياد له بالطاعة والبراءة من الشرك وأهله.
أركان الإسلام ومقاصده:
بُني الإسلام على خمسة أركان أساسية: الشهادتان، والصلاة، والزكاة، والصوم، وحج البيت لمن استطاع إليه سبيلاً. ويهدف الإسلام إلى صيانة الضروريات الخمس للإنسان: الدين، والنفس، والعقل، والعرض، والمال.
الإسلام دين السلام والعدالة:
ينبذ الإسلام الظلم والعدوان ويدعو إلى التعايش السلمي وبر الوالدين، والإحسان إلى الجار، والصدق في المعاملات. فهو لا يفرق بين أبيض وأسود إلا بالتقوى والعمل الصالح.
الخاتمة:
إن التمسك بتعاليم الإسلام السمحة هو السبيل الوحيد لنهضة الأمة وخلاص العالم من الفوضى والاضطراب، والظفر برضا الله في الدنيا والآخرة.
বিকল্প রচনা (ب): العلم (জ্ঞান / ইলম)
المقدمة:
العلم نور ساطع يبدد ظلمات الجهل، وهو أساس كل نهضة وحضارة. وقد اهتم الإسلام بالعلم اهتماماً بالغاً؛ حيث كانت أول كلمة نزلت من القرآن الكريم على قلب النبي صلى الله عليه وسلم هي أمره بالقراءة: ﴿اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ﴾.
مكانة العلم في الإسلام:
رفع الله درجات أهل العلم؛ فقال تعالى: ﴿يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ﴾، وجعل طلب العلم فريضة على كل مسلم ومسلمة. كما أن الملائكة تضع أجنحتها لطالب العلم رضاً بما يصنع.
أهمية العلم في حياة الفرد والمجتمع:
العلم ينير بصيرة الإنسان ليعرف ربه ويعبده على بينة، ويدفعه إلى خدمة مجتمعه وتطوير وسائله في الزراعة والطب والصناعة والتكنولوجيا الحديثة. والمجتمع المتعلم مجتمع قوي لا يمكن استعماره أو خداعه.
الخاتمة:
يجب على كل طالب أن يجد ويجتهد في تحصيل العلوم الدينية والحياتية النافعة، حتى يسهم في بناء وطنه ورفع راية الإسلام عالية خفاقة.
পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্ন ও উত্তর (SEO FAQs)
১. ১৮তম NTRCA জুনিয়র মৌলভী (কোড: ২০২) লিখিত পরীক্ষায় পূর্ণমান ও প্রশ্নের কাঠামো কেমন ছিল?
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন জুনিয়র মৌলভী লিখিত পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ নম্বর এবং সময় ৩ ঘণ্টা। এতে প্রধানত ৪টি ক্ষেত্র থেকে প্রশ্ন করা হয়: আল-কুরআন অংশের অনুবাদ (২০ নম্বর), হাদিস অংশের অনুবাদ (২০ নম্বর), আরবি ব্যাকরণ ও অনুবাদ (২০ নম্বর) এবং দরখাস্ত/রচনা ও তাজবীদ-ফিকহ মিলিয়ে বাকি ৪০ নম্বর নির্ধারিত থাকে।
২. জুনিয়র মৌলভী পরীক্ষায় আরবি অংশের অনুবাদ করার সময় কী কী বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
আরবি অনুবাদের সময় ক্রিয়াপদের কাল (মাজি, মুদারে), কর্তার লিঙ্গ (মুজাক্কার, মুয়ান্নাস), বচন এবং ই’রাব (পেশ, জবর, যের) যথাযথভাবে ঠিক রাখা আবশ্যক। সহজ ও প্রচলিত আরবি শব্দ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।
৩. দরখাস্ত ও রচনার মধ্যে কোনটি উত্তর করা বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য সুবিধাজনক?
পরীক্ষায় সাধারণত ছুটির দরখাস্ত লেখা কম সময়ে বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য উত্তম; কারণ দরখাস্তের তারিখ, প্রাপক, বিষয়, মূল বক্তব্য ও বিনীত নিবেদকের সুনির্দিষ্ট ছক অনুসরণ করলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়। তবে যাদের আরবি লেখার দক্ষতা ভালো তারা সুন্দর করে পয়েন্ট আকারে রচনা লিখেও দারুণ নম্বর তুলতে পারেন।
৪. কুরআন ও হাদিস অনুবাদ অংশে কি শব্দার্থ আলাদাভাবে লেখার প্রয়োজন আছে?
না, সরাসরি আয়াত বা হাদিসের সুবিন্যস্ত ও প্রাঞ্জল বঙ্গানুবাদ লিখলেই পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। তবে প্রাসঙ্গিক শিক্ষা বা সংক্ষিপ্ত শিক্ষণীয় পয়েন্ট এক-দুই লাইনে জুড়ে দিলে খাতার মান বহুগুণ বেড়ে যায়।
৫. ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রশ্ন সমাধান কেন আসন্ন ১৯তম বা পরবর্তী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর?
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন হলো সবচেয়ে সাম্প্রতিক সম্পন্ন হওয়া পরীক্ষা। জুনিয়র মৌলভী পদের কালিমার প্রকারভেদ, মুবতাদা-খবর, মুনাফিকের হাদিস এবং সূরা বাকারার মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিবন্ধন পরীক্ষায় বারবার রিপিট হয়। তাই ১৮তম প্রশ্ন নির্ভুল সমাধান করলে পরীক্ষার বাস্তব রূপরেখা ও কমন পাওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত হয়।