পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৮
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف ، لعام ۲۰۲۱ م
ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১
القرآن والدراسات الإسلامية (আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
الإسلام والأديان الأخرى (আল-ইসলাম ওয়াল আদয়ানুল উখরা – ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম)
বিষয় কোড: ২০১৩০৮
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান।]
مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ৪ × ১৫ = ৬০)
১ নম্বর প্রশ্ন
ما معنى الدين لغةً واصطلاحًا؟ بين حاجة الناس إلى الدين بالتفصيل-
[১. الدين এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? মানুষের জন্য দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]
দ্বীন (الدين)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ
ভাষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে আরবি ‘দ্বীন’ (الدين) শব্দটি ‘দানা-ইয়াদীনু’ (دان – يدين) মূলধাতু থেকে গৃহীত। এর একাধিক অর্থ রয়েছে; যেমন—প্রতিদান বা বিনিময় (الجزاء والحساب), আনুগত্য ও বাধ্যতা (الطاعة والانقياد), রীতি বা স্বভাব (العادة), সংবিধান বা আইন (الشريعة والقانون)। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
অর্থাৎ “প্রতিদান দিবসের মালিক।”
পারিভাষিক অর্থে ‘দ্বীন’ হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক স্বীয় নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে মানবজাতির হিদায়াত ও কল্যাণের জন্য প্রেরিত এমন এক ঐশী বিধান ও বিশ্বাসমালা, যা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে মানুষ ইহকালে শান্তি এবং পরকালে মুক্তি ও চিরস্থায়ী জান্নাত লাভ করতে পারে।
মানুষের জন্য দ্বীনের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা
মানুষ কেবল রক্ত-মাংসের জৈবিক প্রাণী নয়; মানুষের রয়েছে একটি রুহ বা আধ্যাত্মিক সত্তা এবং সমাজবদ্ধ জীবনের বহুমাত্রিক চাহিদা। নিম্নে দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
- সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও অস্তিত্বের জ্ঞান লাভ: মানুষ কোথা থেকে এসেছে, তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী এবং মৃত্যুর পর তার গন্তব্য কোথায়—মানবীয় যুক্তি ও বিজ্ঞান এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে সম্পূর্ণ অক্ষম। একমাত্র ঐশী দ্বীনই মানুষকে স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্কের সঠিক রূপরেখা প্রদান করে।
- আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক ভারসাম্য: পার্থিব সম্পদ ও প্রযুক্তিগত প্রাচুর্য মানুষকে বাহ্যিক আরাম দিতে পারে, কিন্তু অন্তরের পরম প্রশান্তি দিতে পারে না। বিপদে ধৈর্য ও সুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে দ্বীন মানুষের আত্মিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করে (
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
)। - নৈতিকতার দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন: আইনের ভয় মানুষকে কেবল প্রকাশ্যে অপরাধ করা থেকে বিরত রাখতে পারে; কিন্তু গোপনে মানুষ যখন পাপাচারে লিপ্ত হতে চায়, তখন আল্লাহর সর্বব্যাপী উপস্থিতি ও আখেরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতিই মানুষকে প্রকৃত সৎচরিত্রবান ও নীতিবান রাখে।
- সামাজিক ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা: দ্বীন মানুষকে ভ্রাতৃত্ব, পরোপকার, জুলুমের অবসান এবং পরস্পরের হক আদায় করার শিক্ষা দেয়। ফলে শ্রেণিসংঘাত দূর হয়ে এক শান্তিময় সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
- মৃত্যুর ভয় দূরীকরণ ও পরকালীন মুক্তি: মৃত্যু যে জীবনের পরিসমাপ্তি নয় বরং চিরস্থায়ী অনন্ত জীবনের সূচনা—এ পরম সত্য দ্বীনের মাধ্যমেই জানা যায়, যা মানুষের ভেতর থেকে অন্ধ অনিশ্চয়তা ও ভীতি দূর করে দেয়।
২ নম্বর প্রশ্ন
عرف الإسلام- ثم تحدث أنه دين كامل وشامل لسائر شئون الحياة الإنسانية-
[২. الإسلام এর পরিচয় দাও। অতঃপর আলোচনা কর যে, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা এবং মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্তকারী।]
ইসলাম (الإسلام)-এর পরিচয়
শাব্দিক অর্থে ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ করা (الاستسلام), আনুগত্য স্বীকার করা (الانقياد) এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় প্রবেশ করা (السلامة)। শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও একক কর্তৃত্বের কাছে দ্বিধাহীনচিত্তে আত্মসমর্পণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত সমুদয় বিধিবিধান সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার নামই ইসলাম।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা
ইসলাম কোনো সংকীর্ণ উপাসনাপদ্ধতি বা কেবল আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়; বরং এটি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এবং পারিবারিক জীবন থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত বিস্তৃত এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান (A Complete Code of Life)। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন: الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
(আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম – সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)।
মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের অন্তর্ভুক্তি নিম্নরূপ:
- আকিদা ও বিশ্বাস: শিরকমুক্ত তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত ও তাকদীরের নিখুঁত ও বুদ্ধিভিত্তিক আকিদা শিক্ষা দেয়।
- ইবাদত ও আধ্যাত্মিকতা: সালাত, সাওম, যাকাত ও হজের মাধ্যমে বান্দার সাথে রবের নিবিড় সংযোগ স্থাপন করে।
- পারিবারিক ও সামাজিক জীবন: বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টন, পিতামাতার খেদমত ও প্রতিবেশীর অধিকারের ভারসাম্যপূর্ণ বিধান নিশ্চিত করে।
- অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল: সুদ, ঘুষ, জুয়া ও সিন্ডিকেটমুক্ত হালাল ব্যবসা-বাণিজ্য, বাইতুল মাল এবং যাকাতভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে শোষণমুক্ত অর্থনীতি কায়েম করে।
- রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইন: শূরাভিত্তিক শাসনব্যবস্থা, সুবিচার, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও যুদ্ধের ন্যায়সঙ্গত বিধিবিধান নির্ধারণ করে।
৩ নম্বর প্রশ্ন
اكتب خصائص الإسلام ومحاسنه الاجتماعية والاقتصادية-
[৩. ইসলামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ লিপিবদ্ধ কর।]
ইসলামের সামাজিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ
- সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও সমতা: বংশ, বর্ণ, ভাষা ও ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে সকল মুসলিমকে এক অভিন্ন ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ করেছে (
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
)। এতে কোনো ব্রাহ্মণ-শূদ্র বা উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ নেই। - পরিবার ব্যবস্থার সুদৃঢ় ভিত্তি: পরিবারকে সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করে বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং ব্যভিচার ও লিভ-টুগেদারের মতো নোংরামি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- নারী জাতির সম্মান ও মর্যাদা: কন্যাশিশুর বেঁচে থাকার অধিকার, মায়ের মর্যাদায় জান্নাত লাভ এবং সম্পত্তিতে স্বাধীন মালিকানা নিশ্চিত করেছে।
- প্রতিবেশী ও অসহায়দের অধিকার: চল্লিশ বাড়ির প্রতিবেশী পর্যন্ত হক আদায় এবং এতিম-মিসকিনের দায়িত্ব গ্রহণকে ঈমানের অন্যতম পরিচায়ক ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলামের অর্থনৈতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ
- সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহর: ইসলাম মানুষকে সম্পদের নিরঙ্কুশ মালিক মনে করে না; মানুষ কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন আমানতদার প্রতিনিধি (
وَأَنفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُم مُّسْتَخْلَفِينَ فِيهِ
)। - সুদমুক্ত ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি: পুঁজিবাদের শোষণ ও সর্বগ্রাসী সুদকে (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে (
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
), যা অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মুদ্রাস্ফীতি রোধ করে। - যাকাত ও সদকার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা: ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ (আড়াই শতাংশ) দরিদ্রদের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।
- শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা: ঘাম শুকানোর পূর্বেই শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশ এবং কোনো প্রকার প্রতারণা বা কালোবাজারিকে কঠোর অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে।
৪ নম্বর প্রশ্ন
عرف الديانة اليهودية ثم بين نشأتها وعقائدها الأساسية بالتفصيل-
[৪. ইহুদি ধর্মের পরিচয় দাও। অতঃপর এর উৎপত্তির ইতিহাস ও মৌলিক আকিদাসমূহ বর্ণনা কর।]
ইহুদি ধর্ম (الديانة اليهودية / Judaism)-এর পরিচয় ও উৎপত্তি
হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর চতুর্থ পুত্র ‘ইয়াহুদা’ (Judah)-এর নামানুসারে অথবা হযরত মূসা (আ.)-এর জাতির তাওবার বাণী إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ
(নিশ্চয় আমরা আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি) থেকে ‘ইয়াহুদ’ বা ইহুদি নামের উৎপত্তি। মূলত বনী ইসরাঈল জাতির ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকেই ইহুদি ধর্ম বলা হয়।
উৎপত্তির ইতিহাস: হযরত ইব্রাহিম (আ.) থেকে বনী ইসরাঈলের ইতিহাসের সূচনা। পরবর্তীকালে হযরত মূসা (আ.)-এর মাধ্যমে মিসরের ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্তি এবং তূর পর্বতে তাওরাত প্রাপ্তির মাধ্যমে এই ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ ঘটে। হযরত দাউদ ও সুলাইমান (আ.)-এর যুগে জেরুজালেমে প্রথম হাইকাল (Temple of Solomon) নির্মিত হয় এবং পরবর্তীতে ব্যবিলনীয় নির্বাসনে তাদের ধর্মগ্রন্থসমূহ বিকৃতির শিকার হয়।
ইহুদি ধর্মের মৌলিক আকিদাসমূহ
- ইয়াহওয়েহ বা একক স্রষ্টার ধারণা: তারা বিশ্বাস করে স্রষ্টার নাম ‘ইয়াহওয়েহ’ (Yahweh), যিনি কেবল তাঁদেরই জাতীয় উপাস্য। তবে তারা আল্লাহর সাথে সৃষ্টির সাদৃশ্য কল্পনা করে anthropomorphic গুণে গুণান্বিত করেছে।
- নির্বাচিত জাতি তত্ত্ব (The Chosen People): ইহুদিদের চরম বর্ণবাদী আকিদা হলো—তারা আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ও প্রিয় সন্তান (
نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ
), আর বাদবাকি সমগ্র মানবজাতি (Gentiles) তাদের সেবা করার জন্য সৃষ্ট। - উযাইর (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র দাবি: কুরআনে তাদের এই বিভ্রান্তিকর আকিদার বর্ণনা এসেছে:
وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ
(ইহুদিরা বলে উযাইর আল্লাহর পুত্র – সূরা আত-তাওবাহ: ৩০)। - প্রতিশ্রুত মসীহের আগমন: তারা বিশ্বাস করে যে এক রাজনৈতিক মসীহ আবির্ভূত হয়ে দাউদীয় সাম্রাজ্য পুনরুজ্জীবিত করবে। হযরত ঈসা (আ.) ও হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াতকে তারা চরম বিদ্বেষের সাথে প্রত্যাখ্যান করে।
৫ নম্বর প্রশ্ন
عرف النصرانية ثم تحدث عن نشأتها وكتبها المقدسة-
[৫. খ্রিস্টান ধর্মের পরিচয় দাও। অতঃপর এর উৎপত্তি ও পবিত্র গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে আলোচনা কর।]
খ্রিস্টান ধর্ম (النصرانية / Christianity)-এর পরিচয় ও উৎপত্তি
আরবিতে একে ‘নাসরানিয়্যাহ’ বলা হয়, যা ফিলিস্তিনের ‘নাসিরা’ (Nazareth) শহরের নামানুসারে হয়েছে যেখানে হযরত ঈসা (আ.) বেড়ে উঠেছিলেন। আর পশ্চিমা পরিভাষায় ‘ক্রাইস্ট’ (Christ বা মসীহ) থেকে ক্রিশ্চিয়ানিটি বলা হয়।
উৎপত্তির ইতিহাস: আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলকে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য পিতা ব্যতীত অলৌকিকভাবে হযরত মরিয়মের গর্ভে হযরত ঈসা (আ.)-কে সৃষ্টি করেন এবং ইনজিল কিতাব দান করেন। কিন্তু তাঁর তিরোধানের পর সেন্ট পল (Paul of Tarsus)-এর প্রভাবে তাওহীদবাদী শিক্ষার বিকৃতি ঘটে এবং গ্রিক পৌত্তলিক দর্শনের সংমিশ্রণে বর্তমান ট্রিনিটি বা ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টধর্মের সূচনা হয়। ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ‘কাউন্সিল অব নাইসিয়া’য় ত্রিত্ববাদকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
খ্রিস্টানদের পবিত্র গ্রন্থসমূহ (The Bible)
খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ সমগ্র ‘বাইবেল’ প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত:
- পুরাতন নিয়ম (Old Testament / العهد القديم): এটি মূলত ইহুদিদের হিব্রু ধর্মগ্রন্থ, যার মধ্যে মূসা (আ.)-এর তাওরাত (Pentateuch), জবুর (Psalms) ও অন্যান্য নবীদের ঐতিহাসিক পুস্তকসমূহ অন্তর্ভুক্ত (৩৯টি পুস্তক)।
- নতুন নিয়ম (New Testament / العهد الجديد): এতে মোট ২৭টি পুস্তক রয়েছে, যার সূচনা ঘটেছে ৪টি সুসমাচার বা গসপেল দিয়ে:
- মথি লিখিত সুসমাচার (Gospel of Matthew)
- মার্ক লিখিত সুসমাচার (Gospel of Mark)
- লূক লিখিত সুসমাচার (Gospel of Luke)
- যোহন লিখিত সুসমাচার (Gospel of John)
তদুপরি সেন্ট পলের বিভিন্ন পত্রাবলি (Epistles) ও প্রেরিতদের কার্যাবলি এর অন্তর্ভুক্ত। কোনো সুসমাচারই সরাসরি ঈসা (আ.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর সামনে সংকলিত হয়নি।
৬ নম্বর প্রশ্ন
عرف الهندوسية ثم بين نشأتها وتطورها وعقائدها- وما المراد بالتناسخ عندها؟ بين-
[৬. হিন্দু ধর্মের পরিচয় দাও। এর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও আকিদা সম্পর্কে আলোচনা কর। পুনর্জন্ম বলতে তারা কী বোঝায়? বর্ণনা কর।]
হিন্দু ধর্ম (الهندوسية / Hinduism)-এর পরিচয় ও ক্রমবিকাশ
সিন্ধু নদের অববাহিকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান থেকে ফারসিরা একে ‘হিন্দ’ এবং তার অনুসারীদের ‘হিন্দু’ আখ্যা দেয়। তাদের ধর্মকে ঐতিহাসিকভাবে ‘সনাতন ধর্ম’ (চিরন্তন পথ) বা ‘বৈদিক ধর্ম’ বলা হয়। এর কোনো একক ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠাতা নেই।
ক্রমবিকাশ: আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্য এশিয়া থেকে আর্যদের ভারতে আগমনের পর স্থানীয় দ্রাবিড় সংস্কৃতির সাথে আর্য ধর্মের সংমিশ্রণে বৈদিক যুগের সূচনা হয়। কালক্রমে চারটি বেদ (ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ), উপনিষদ, ব্রাহ্মণ এবং রামায়ণ ও মহাভারত মহাকাব্যের মধ্য দিয়ে বহু ঈশ্বরবাদ ও পৌত্তলিক পূজার বিকাশ ঘটে।
হিন্দু ধর্মের মৌলিক আকিদাসমূহ
- বহু ঈশ্বরবাদ ও ত্রিমূর্তি (Trimurti): ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা), বিষ্ণু (পালনকর্তা) এবং শিব (ধ্বংসকর্তা)—এই তিন প্রধান দেবতাসহ কোটি কোটি দেব-দেবীর মূর্তিপূজা।
- কর্মফলবাদ (Karma): মানুষ ইহজন্মে যে ভালো বা মন্দ কাজ করে, পরবর্তী জীবনে তাকে অবশ্যই তার অবিকল ফল ভোগ করতে হবে।
- মোক্ষ বা নির্বাণ (Moksha): আত্মার জন্ম-মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি চক্র থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করে পরমাত্মা বা ব্রহ্মের সাথে লীন হওয়া।
পুনর্জন্ম ও জন্মান্তরবাদ (التناسخ / Reincarnation)-এর ধারণা
‘তানাসুখ’ বা পুনর্জন্ম হলো হিন্দু ধর্মদর্শনের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিশ্বাস। তাদের মতে, আত্মা অবিনশ্বর। মৃত্যুর পর আত্মা বিনষ্ট হয় না; বরং পুরোনো বস্ত্র ত্যাগের মতো আত্মা এক দেহ ছেড়ে অন্য দেহে প্রবেশ করে।
পূর্বজন্মের কর্ম (Karma) অনুযায়ী আত্মার পরবর্তী জন্মের রূপ নির্ধারিত হয়। কেউ পুণ্যকর্ম করলে পরবর্তী জন্মে উচ্চবর্ণে (ব্রাহ্মণ পরিবারে) বা রাজকীয় পরিবেশে জন্ম নেয়। আর মহাপাপ করলে পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ বা বৃক্ষ হিসেবে অধম যোনিতে জন্ম গ্রহণ করে শাস্তি ভোগ করতে হয়। যতদিন না মোক্ষ লাভ হয়, ততদিন এই জন্ম-মৃত্যুর চক্র (সংসার চক্র) অবিরাম চলতে থাকে। ইসলাম এই পুনর্জন্মবাদ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে একমাত্র আখেরাত ও কিয়ামত দিবসের বিচার ও পুনরুত্থানকে সত্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ৪ × ৫ = ২০)
৭ নম্বর প্রশ্ন
بين أهمية دراسة مقارنة الأديان وفوائدها بالإختصار-
[৭. সংক্ষেপে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের গুরুত্ব ও উপকারিতা বর্ণনা কর।]
তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (مقارنة الأديان / Comparative Religion) অধ্যয়নের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে:
- ইসলামের সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি: অন্যান্য ধর্মের বিকৃতি, অন্ধবিশ্বাস ও অপূর্ণতার পাশাপাশি ইসলামের তাওহীদ, ভারসাম্য ও সর্বজনীনতা গভীরভাবে অনুধাবন করা যায়।
- প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াত পরিচালনা: অন্য ধর্মের বিশ্বাস ও গ্রন্থ সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকলে তাদের ধর্মগ্রন্থ থেকেই যুক্তি ও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে সুন্দরভাবে ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
- সংশয়বাদীদের আক্রমণের দাঁতভাঙা জবাব: প্রাচ্যবিদ ও খ্রিষ্টান মিশনারিদের অপপ্রচারের স্বরূপ উন্মোচন ও প্রতিরোধে এ শাস্ত্র অপরিহার্য।
- ধর্মীয় সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় বোঝাপড়া: সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অধিকার রক্ষার সঠিক সীমারেখা নির্ধারণ করা যায়।
৮ নম্বর প্রশ্ন
تحدث عن الطبقات الاجتماعية في الديانة الهندوسية مختصرًا-
[৮. হিন্দু ধর্মের সামাজিক শ্রেণিভেদ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
হিন্দু সমাজে ‘বর্ণাশ্রম’ বা বর্ণভেদ প্রথা (Caste System) অত্যন্ত কঠোর ও জন্মভিত্তিক। ঋগ্বেদের পুরুষসূক্ত অনুযায়ী চারটি প্রধান বর্ণ রয়েছে:
- ব্রাহ্মণ (Brahmins): স্রষ্টার মুখমণ্ডল থেকে সৃষ্ট; পূজা-অর্চনা, ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও সমাজের শীর্ষ মর্যাদার অধিকারী।
- ক্ষত্রিয় (Kshatriyas): স্রষ্টার বাহু থেকে সৃষ্ট; দেশরক্ষা, যুদ্ধ ও শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
- বৈশ্য (Vaishyas): স্রষ্টার ঊরু থেকে সৃষ্ট; কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পশুপালনকারী শ্রেণি।
- শূদ্র (Shudras): স্রষ্টার পদযুগল থেকে সৃষ্ট; ওপরের তিন উচ্চবর্ণের আজীবন দাসত্ব ও সেবা করাই তাদের একমাত্র ধর্মীয় ভাগ্য।
এছাড়া এর বাইরে রয়েছে ‘অস্পৃশ্য’ বা দলিত সম্প্রদায়, যাদের ছায়া স্পর্শ করাও পাপ গণ্য হতো। ইসলাম এই বর্বর বর্ণভেদ সমূলে উৎপাটন করে বিশ্বজনীন সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
৯ নম্বর প্রশ্ন
ما عقيدة اليهود والنصارى في عيسى بن مريم عليهما السلام؟ وما هو موقف الإسلام عنه؟ وضح-
[৯. ঈসা (আ) সম্পর্কে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের বিশ্বাস কী এবং এ ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান কী? স্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]
- ইহুদিদের বিশ্বাস (চরম অবমূল্যায়ন): ইহুদিরা হযরত ঈসা (আ.)-কে একজন মিথ্যাবাদী, যাদুকর এবং নাউযুবিল্লাহ জারজ সন্তান বলে দাবি করে। তারা তাঁকে রোমানদের সহায়তায় ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছে বলে গর্ব করে।
- খ্রিস্টানদের বিশ্বাস (চরম বাড়াবাড়ি): খ্রিস্টানরা তাঁকে সাধারণ নবী থেকে উন্নীত করে ‘ঈশ্বরের পুত্র’ (Son of God) এবং ত্রিত্ববাদের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে স্বয়ং ঈশ্বর দাবি করে। তাদের মতে তিনি সমগ্র মানবজাতির আদিপাপ মোচনের জন্য ক্রুশে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
- ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান: ইসলাম উভয় প্রান্তিকতার অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করে যে, হযরত ঈসা (আ.) ছিলেন আল্লাহর সম্মানিত বান্দা ও উলুল আযম রাসূল। তিনি কোনো ঈশ্বরের অংশ নন এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি; বরং আল্লাহ তাঁকে সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন:
وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمْ
(তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য সাদৃশ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল – সূরা আন-নিসা: ১৫৭)। কিয়ামতের পূর্বে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন।
১০ নম্বর প্রশ্ন
من ‘غوتَم بوذا’؟ تحدث عن أفكاره وعقائده-
[১০. ‘গৌতম বুদ্ধ’ কে? তার চিন্তাধারা ও বিশ্বাস সম্পর্কে আলোচনা কর।]
পরিচয়: গৌতম বুদ্ধের আসল নাম ছিল ‘সিদ্ধার্থ গৌতম’। তিনি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে নেপালের কপিলাবস্তুর শাক্য রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজকীয় বিলাসিতা ত্যাগ করে বার্ধক্য, ব্যাধি ও মৃত্যুর মানবীয় যন্ত্রণা দেখে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং কঠোর সাধনার পর বোধিজ্ঞান (বুদ্ধত্ব) লাভ করে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন।
চিন্তাধারা ও মূল বিশ্বাস:
- স্রষ্টানিরপেক্ষ দর্শন: বুদ্ধ কোনো পরম স্রষ্টার ধারণার ওপর গুরুত্ব দেননি; বরং মানবজীবনের বাস্তব দুঃখমোচনই ছিল তাঁর দর্শনের মূল।
- চারটি মহান আর্য সত্য (Four Noble Truths): (১) সংসার দুঃখময়, (২) দুঃখের কারণ তৃষ্ণা বা কামনা, (৩) কামনার নিবৃত্তিই দুঃখ মুক্তির পথ, এবং (৪) দুঃখ নিবৃত্তির উপায় হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ।
- অষ্টাঙ্গিক মার্গ (Eightfold Path): সৎ দৃষ্টি, সৎ সংকল্প, সৎ বাক্য, সৎ কর্ম, সৎ জীবিকা, সৎ প্রচেষ্টা, সৎ স্মৃতি এবং সৎ সমাধি।
- নির্বাণ (Nirvana): সকল পার্থিব কামনা-বাসনা চিরতরে নিভিয়ে ফেলে পরম শান্তিময় শূন্যতায় বিলীন হওয়া।
১১ নম্বর প্রশ্ন
تحدث عن الأسفار الخمسة عند اليهود، ثم بين مكانة التلمود عندهم-
[১১. ইয়াহুদিদের পাঁচটি সিফর (কিতাব) সম্পর্কে আলোচনা কর। অতঃপর তাদের নিকট তালমুদের গুরুত্ব বর্ণনা কর।]
পাঁচটি সিফর (The Pentateuch / الأسفار الخمسة)
ইহুদিদের নিকট সর্বাধিক পবিত্র গ্রন্থ হলো মূসা (আ.)-এর তাওরাতের প্রথম পাঁচটি অধ্যায় বা খণ্ড:
- সিফরুত তাকবীন (Genesis / আদিপুস্তক): সৃষ্টিতত্ত্ব, আদম (আ.) ও নূহ (আ.)-এর বিবরণ এবং ইব্রাহিমীয় পূর্বপুরুষদের ইতিহাস।
- সিফরুল খুরুজ (Exodus / যাত্রাপুস্তক): বনী ইসরাঈলের মিসর থেকে প্রস্থান এবং তূর পর্বতে দশটি আজ্ঞা (Ten Commandments) লাভ।
- সিফরুল লাবিয়্যীন (Leviticus / লেবীয় পুস্তক): কোরবানি, পুরোহিতদের নিয়মাবলি এবং আচার-অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিধিবিধান।
- সিফরুল আদাদ (Numbers / গণনা পুস্তক): মরুভূমিতে ইসরাঈলী গোত্রগুলোর সংখ্যা গণনা ও পরিভ্রমণের ইতিহাস।
- সিফরুত তাছনিয়াহ (Deuteronomy / দ্বিতীয় বিবরণ): মূসা (আ.)-এর বিদায়ী ভাষণ ও আইনসমূহের পুনরাবৃত্তি।
তালমুদ (The Talmud)-এর গুরুত্ব
তালমুদ হলো ইহুদি পণ্ডিত ও রাব্বিদের মৌখিক আইন, ব্যাখ্যা এবং ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্কের বিশাল সংকলন। এটি দুটি অংশে বিভক্ত: ‘মিশনাহ’ (মূল মৌখিক বিধি) এবং ‘গেমারা’ (মিশনাহর তাফসীর ও ব্যাখ্যা)। ইহুদিদের মতে তালমুদের কর্তৃত্ব ও মান্যতা অনেক ক্ষেত্রে তাওরাতের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ; কারণ তাওরাতের গোপন রহস্য কেবল তালমুদের মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব বলে তারা বিশ্বাস করে।
১২ নম্বর প্রশ্ন
تحدث عن ‘السيخية’ مختصرًا-
[১২. সংক্ষেপে ‘শিখ’ ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা কর।]
শিখ ধর্ম (السيخية / Sikhism): পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে ভারতের পাঞ্জাবে গুরু নানক (১৪৬৯-১৫৩৯ খ্রি.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি একেশ্বরবাদী সমন্বয়বাদী ধর্ম। ‘শিখ’ শব্দের অর্থ শিষ্য বা শিক্ষার্থী।
- সমন্বয়বাদী রূপ: গুরু নানক হিন্দু ধর্মের ভক্তিবাদ ও ইসলাম ধর্মের নির্ভেজাল একেশ্বরবাদের সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছিলেন। তাদের মূল স্লোগান ছিল: “না কোনো হিন্দু, না কোনো মুসলমান।”
- স্রষ্টার ধারণা: তারা বিশ্বাস করে এক অকাল মূর্তির (এক ওঙ্কার – পরম স্রষ্টা), যাঁর কোনো মূর্তি বা আকার নেই।
- পবিত্র গ্রন্থ: তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম ‘গুরু গ্রন্থ সাহিব’ (আদি গ্রন্থ), যাতে শিখ গুরুদের এবং কবির ও বাবা ফরিদের মতো সুফি সাধকদের বাণী সংকলিত রয়েছে। একেই তারা দশম গুরুর পর জীবন্ত গুরু মনে করে।
- ৫-কাক্কার (পাঁচটি ‘ক’): শিখদের জন্য ৫টি বস্তু ধারণ বাধ্যতামূলক: কেশ (অকর্তিত চুল), কঙ্গা (চিরুনি), কড়া (লোহার বালা), কাচ্ছা (বিশেষ অন্তর্বাস) এবং কিরপান (কৃপাণ বা তলোয়ার)।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ‘আল-ইসলাম ওয়াল আদয়ানুল উখরা’ পাঠের মূল লক্ষ্য কী?
অন্যান্য প্রধান প্রধান ধর্মের ইতিহাস, গ্রন্থ ও আকিদার স্বরূপ জেনে ইসলামের বিশুদ্ধতা, যৌক্তিকতা ও সর্বজনীন শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা এবং গঠনমূলক দাওয়াত পরিচালনা করা।
২. ইহুদিদের ‘নির্বাচিত জাতি’ ধারণার সাথে ইসলামের বিশ্বজনীনতার পার্থক্য কী?
ইহুদিরা জন্ম ও বংশসূত্রে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে; কিন্তু ইসলাম জন্মভিত্তিক আভিজাত্য চূর্ণ করে তাকওয়া ও আমলকে মানুষের একমাত্র মর্যাদার মাপকাঠি বানিয়েছে।
৩. সেন্ট পল কীভাবে খ্রিস্টধর্মে ত্রিত্ববাদের অনুপ্রবেশ ঘটান?
তিনি ঈসা (আ.)-এর তিরোধানের পর রোমান ও গ্রিক পৌত্তলিক দর্শনকে যুক্ত করে ঈসা (আ.)-এর ঈশ্বরত্ব ও আদিপাপের প্রায়শ্চিত্তের কাল্পনিক তত্ত্ব প্রবর্তন করেন।
৪. হিন্দু ধর্মের বর্ণাশ্রম প্রথা কেন মানবতাবিরোধী?
কারণ এতে জন্মগত পরিচয়ের কারণে মানুষের ওপর অস্পৃশ্যতা চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং শূদ্র ও দলিত শ্রেণিকে চিরতরে মৌলিক মানবিক অধিকার ও সম্মান থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।
৫. বৌদ্ধধর্মে কি কোনো সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বরের ধারণা রয়েছে?
না, গৌতম বুদ্ধ সৃষ্টিতত্ত্ব ও ঈশ্বর বিশ্বাসের পরিবর্তে মানুষের পার্থিব দুঃখ এবং নির্বাণ লাভের জন্য নৈতিক আত্মশুদ্ধির (অষ্টাঙ্গিক মার্গ) ওপর জোর দিয়েছেন।
৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এ বিষয়ের প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?
প্রতিটি ধর্মের উৎপত্তি, মূল ধর্মগ্রন্থের নাম, মৌলিক আকিদা এবং ইসলামের সাথে তুলনামূলক পার্থক্যের দিকগুলো প্রামাণ্য দলিলের ভিত্তিতে পয়েন্ট আকারে লেখা অনুশীলন করতে হবে।