জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর বিস-সানাদ (At-Tafsir bis-Sanad) – 201301, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৯ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭১
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف ، لعام ۲۰۲۲ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بالسند
[আত-তাফসীর বিস-সানাদ]
বিষয় কোড: ২০১৩০১
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة : أجب عن خمسة من مجموعة (الف) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ হতে পাঁচটি এবং (ب) অংশ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ৫ × ১৪ = ৭০)

(ترجم الآيات الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[আয়াতসমূহের তর্জমা কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান: তর্জমা ৬ + উপপ্রশ্ন ৪ + ৪ = ১৪)]

১ নম্বর প্রশ্ন

الر- كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ – أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنَّنِي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ – وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ وَإِن تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ – إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ-

[১. আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে, অতঃপর বিশদভাবে বিবৃত করা হয়েছে প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে। যেন তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত না কর; নিশ্চয় আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। আর তোমরা নিজেদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁরই দিকে তাওবা কর; তিনি তোমাদেরকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবন উপভোগ করতে দেবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দান করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের আজাবের আশঙ্কা করছি। আল্লাহর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।]

(الف) ما المراد بقوله تعالى: يمتعكم متاعًا حسنا إلى اجل مسمّى؟

[(ক) আল্লাহর বাণী: ‘তিনি তোমাদেরকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবন উপভোগ করতে দেবেন’ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

তাফসীর ও তাৎপর্য: প্রখ্যাত মুফাসসিরগণের মতে, يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا (উৎকৃষ্ট জীবন উপভোগ করতে দেবেন) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার ও তাওবা করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে দুনিয়াতে প্রশান্তিময় জীবন, হালাল ও বরকতময় রিযিক, শারীরিক সুস্থতা, নিরাপত্তা এবং আত্মিক তৃপ্তি দান করবেন। পক্ষান্তরে পাপের কারণে দুনিয়ায় যে অপদস্থতা, দুর্ভিক্ষ ও পেরেশানি নেমে আসে তা থেকে রক্ষা করবেন। আর إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى (এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পার্থিব জীবনের পরমায়ুর শেষ সীমা অর্থাৎ মৃত্যুক্ষণ পর্যন্ত। অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত মুমিন বান্দা এই পবিত্র জীবন উপভোগ করবে এবং এরপর আখেরাতে লাভ করবে চিরস্থায়ী জান্নাত।

(ب) لم قدم الاستغفار على التوبة؟

[(খ) আয়াতে তাওবার পূর্বে ইস্তিগফারকে কেন অগ্রবর্তী করা হয়েছে?]

তাত্ত্বিক কারণ: বালাগাত ও তাসাউফের সর্বসম্মত নীতি হলো: التَّخْلِيَةُ مُقَدَّمَةٌ عَلَى التَّحْلِيَةِ অর্থাৎ ‘পবিত্রকরণ বা আবর্জনা অপসারণ শোভাদান বা সৌন্দর্য অর্জনের পূর্বশর্ত’।

ইস্তিগফার (استغفار) হলো অতীতে কৃত গুনাহ ও নাফরমানির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে অন্তরের কালিমা দূর করা এবং শিরক ও অবাধ্যতার আবর্জনা থেকে রূহকে মুক্ত করা। আর তাওবা (توبة) হলো খাঁটি দিলে রবের আনুগত্যে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতে নেক আমল ও হেদায়েতের সৌন্দর্যে জীবনকে সুসজ্জিত করা। সুতরাং অন্তরকে পাপমুক্ত না করে পুণ্য অর্জন কার্যকর হয় না বিধায় আল্লাহ তাআলা তাওবার পূর্বে ইস্তিগফারকে অগ্রবর্তী করেছেন।

২ নম্বর প্রশ্ন

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِن بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ – وَلَئِنْ أَخَّرْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِلَىٰ أُمَّةٍ مَّعْدُودَةٍ لَّيَقُولُنَّ مَا يَحْبِسُهُ أَلَا يَوْمَ يَأْتِيهِمْ لَيْسَ مَصْرُوفًا عَنْهُمْ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ-

[২. আর তিনিই আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর; যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলে কে সর্বোত্তম। আর আপনি যদি বলেন: নিশ্চয় মৃত্যুর পর তোমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে, তবে কাফিররা অবশ্যই বলবে: এটি সুস্পষ্ট জাদু ছাড়া কিছুই নয়। আর যদি আমি এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাদের থেকে আজাব স্থগিত রাখি, তবে তারা নিশ্চয় উপহাস করে বলবে: কীসে একে আটকে রেখেছে? জেনে রেখো, যেদিন তাদের কাছে সে আজাব আসবে, সেদিন তা আর তাদের থেকে প্রতিহত করা যাবে না এবং যা নিয়ে তারা উপহাস করত তা-ই তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে।]

(الف) متى وكيف بدأ الله خلق السموات والأرض؟

[(ক) মহান আল্লাহ কখন এবং কীভাবে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সূচনা করেছিলেন?]

সূচনা ও পদ্ধতি: সহীহ বুখারীতে বর্ণিত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-এর হাদীসে এসেছে: كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَهُ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ، ثُمَّ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ অর্থাৎ “আল্লাহ সর্বদাই ছিলেন, তাঁর পূর্বে কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল না; এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর। অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন।”

আল্লাহ তাআলা আকাশ ও জমিন ছয় দিনে (في ستة أيام) অর্থাৎ ছয়টি সুনির্দিষ্ট সময়পর্বে সৃষ্টি করেছেন। সূরা আল-আম্বিয়ার ৩০ আয়াতে আল্লাহ বলেন যে, আকাশ ও জমিন পূর্বে পরস্পর সংযুক্ত (رتقًا) ছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের পৃথক (فتقناهما) করেছেন এবং পানি থেকে প্রতিটি প্রাণবান সত্তা সৃষ্টি করেছেন। কোনো ক্লান্তি বা অক্ষমতা ছাড়াই আল্লাহ তাঁর অসীম কুদরতে এ নিখিল বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।

(ب) ما المراد بـ ‘أمة معدودة’؟

[(খ) ‘উম্মাতিন মা’দূদাহ’ (أمة معدودة) দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

ব্যাখ্যা: আরবি ভাষায় ‘উম্মত’ (أمة) শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন কোনো সম্প্রদায়, দীর্ঘ যুগ বা নির্দিষ্ট সময়কাল। আয়াতে أُمَّةٍ مَّعْدُودَةٍ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘এক সুনির্দিষ্ট ও গণনাযোগ্য সীমিত মেয়াদ বা সময়কাল’ (أجل محدود ووقت معلوم)। আল্লাহ তাআলা স্বীয় হিকমতের কারণে অবিশ্বাসীদের তাৎক্ষণিক আজাব না দিয়ে অবকাশ দেন; কিন্তু তারা সেই অবকাশকে দুর্বলতা মনে করে উপহাস করে বলে যে আজাব কেন আসছে না।

৩ নম্বর প্রশ্ন

لَّقَدْ كَانَ فِي يُوسُفَ وَإِخْوَتِهِ آيَاتٌ لِّلسَّائِلِينَ – إِذْ قَالُوا لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَىٰ أَبِينَا مِنَّا وَنَحْنُ عُصْبَةٌ إِنَّ أَبَانَا لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ – اقْتُلُوا يُوسُفَ أَوِ اطْرَحُوهُ أَرْضًا يَخْلُ لَكُمْ وَجْهُ أَبِيكُمْ وَتَكُونُوا مِن بَعْدِهِ قَوْمًا صَالِحِينَ – قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ لَا تَقْتُلُوا يُوسُفَ وَأَلْقُوهُ فِي غَيَابَتِ الْجُبِّ يَلْتَقِطْهُ بَعْضُ السَّيَّارَةِ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ-

[৩. নিশ্চয় ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে অনুসন্ধানকারীদের জন্য বহু শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে। যখন তারা বলল: ইউসুফ ও তার সহোদর ভাই আমাদের পিতার নিকট আমাদের চেয়ে অধিক প্রিয়, অথচ আমরা একটি শক্তিশালী দল; নিশ্চয় আমাদের পিতা স্পষ্ট ভ্রান্তিতে রয়েছেন। ইউসুফকে হত্যা কর কিংবা তাকে কোনো দূরবর্তী স্থানে ফেলে আস, যাতে তোমাদের পিতার মনোযোগ কেবল তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হয় এবং এরপর তোমরা সৎ লোক হয়ে যাবে। তাদের মধ্য থেকে একজন বলল: ইউসুফকে হত্যা করো না; যদি কিছু করতেই চাও, তবে তাকে কোনো অন্ধকূপের গভীরে নিক্ষেপ কর, যাতে কোনো পথিক কাফেলা তাকে তুলে নিয়ে যায়।]

(الف) ما الآيات فى يوسف وإخوته للسائلين؟ بين-

[(ক) ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে অনুসন্ধানকারীদের জন্য কী কী শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে?]

নিদর্শন ও শিক্ষাসমূহ: মক্কার কুরাইশরা যখন মদিনার ইহুদিদের প্ররোচনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ইউসুফ (আ.) ও তাঁর বংশধরের মিসরে যাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল, তখন এই সূরা নাযিল হয়। এতে বহু নিদর্শন বিদ্যমান:

  1. একজন উম্মী নবীর মুখ থেকে সুপ্রাচীন নিখুঁত ঐতিহাসিক সত্য প্রকাশ যা ঐশী ওহীর অকাট্য প্রমাণ।
  2. হিংসা ও ষড়যন্ত্র কখনো সফল হয় না; ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা তাঁকে নিঃশেষ করতে চেয়েছিল, অথচ আল্লাহ তাঁকে মিসরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন।
  3. ধৈর্য ও তাকওয়ার শুভ পরিণাম এবং চরম বিপর্যয়ের পর ঐশী বিজয়ের নিশ্চয়তা।

(ب) ما معنى العصبة فى الآية وما الفرق بين نفر وطائفة؟

[(খ) আয়াতে ‘উসবাহ’ (عصبة)-এর অর্থ কী এবং ‘নফর’ ও ‘ত্বায়িফাহ’-এর মধ্যে পার্থক্য কী?]

‘উসবাহ’ (العصبة): এমন শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ দল যাদের বন্ধন অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং যারা যেকোনো বাধা প্রতিরোধে সক্ষম। সাধারণ ব্যবহারে দশ থেকে চল্লিশ জন ব্যক্তির শক্তিশালী দলকে উসবাহ বলা হয়। ইউসুফ (আ.)-এর দশজন বৈমাত্রেয় ভাই ছিল বলবান যুবক দল।

নফর (نفر) ও ত্বায়িফাহ (طائفة)-এর পার্থক্য: ‘নফর’ বলা হয় ৩ থেকে ৯ জন পুরুষের দলকে, যাতে কোনো নারী অন্তর্ভুক্ত থাকে না। অপরদিকে ‘ত্বায়িফাহ’ বলা হয় এমন যেকোনো মানবদলকে (হোক তা এক বা একাধিক ব্যক্তি) যা কোনো আদর্শ বা কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে একটি পৃথক শ্রেণিভুক্ত হয়েছে।

৪ নম্বর প্রশ্ন

وَجَاءُوا عَلَىٰ قَمِيصِهِ بِدَمٍ كَذِبٍ قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنفُسُكُمْ أَمْرًا فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ – وَجَاءَتْ سَيَّارَةٌ فَأَرْسَلُوا وَارِدَهُمْ فَأَدْلَىٰ دَلْوَهُ قَالَ يَا بُشْرَىٰ هَٰذَا غُلَامٌ وَأَسَرُّوهُ بِضَاعَةً وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِمَا يَعْمَلُونَ – وَشَرَوْهُ بِثَمَنٍ بَخْسٍ دَرَاهِمَ مَعْدُودَةٍ وَكَانُوا فِيهِ مِنَ الزَّاهِدِينَ-

[৪. আর তারা তাঁর জামায় কৃত্রিম রক্ত লাগিয়ে নিয়ে এলো; পিতা ইয়াকুব বললেন: বরং তোমাদের অন্তর তোমাদের জন্য এক জঘন্য কাজকে সহজ ও শোভনীয় করে দিয়েছে; সুতরাং উত্তম ধৈর্যই আমার অবলম্বন, আর তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল। অতঃপর এক পথিকদল এলো এবং তারা তাদের পানি সংগ্রহকারীকে পাঠাল। সে তার বালতি নামিয়ে দিল এবং বলে উঠল: কী আনন্দের সংবাদ! এ যে এক বালক! এবং তারা তাকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে গোপন করে রাখল; আর তারা যা করছিল আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। অতঃপর তারা তাকে বিক্রি করে দিল অতি তুচ্ছ মূল্যে, মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট দিরহামের বিনিময়ে; আর তার ব্যাপারে তারা ছিল সম্পূর্ণ অনাগ্রহী।]

(الف) اشرح قوله تعالى: “بل سوّلت لكم انفسكم امرًا”-

[(ক) আল্লাহর বাণী: ‘বরং তোমাদের অন্তর তোমাদের জন্য এক জঘন্য কাজকে সহজ ও শোভনীয় করে দিয়েছে’-এর ব্যাখ্যা দাও।]

ব্যাখ্যা: ‘সাওওয়ালাত’ (سوّلت) শব্দের অর্থ কুপ্রবৃত্তি কর্তৃক কোনো মারাত্মক অন্যায় বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়কে মানুষের সামনে আকর্ষণীয় ও শোভনীয় করে উপস্থাপন করা। হযরত ইয়াকুব (আ.) ইউসুফের জামা দেখে বুঝতে পেরেছিলেন যে ঘটনা সত্য নয়। কারণ জামায় রক্ত লেগে ছিল ঠিকই, কিন্তু বাঘ আক্রমণ করলে জামা ছিঁড়ে যাওয়ার কথা ছিল, অথচ জামাটি ছিল সম্পূর্ণ অক্ষত। তাই তিনি বিজ্ঞ পিতার দূরদর্শিতা নিয়ে বললেন: নেকড়ে ইউসুফকে খায়নি, বরং তোমাদের আত্মপূজক কুপ্রবৃত্তিই ইউসুফকে সরিয়ে দেওয়ার জঘন্য ষড়যন্ত্রকে তোমাদের কাছে সহজ ও উত্তম মনে করিয়েছে।

(ب) ما معنى السيارة؟ وما المراد بـ ‘سيارة’ فى الآية؟

[(খ) ‘সাইয়ারাহ’ শব্দের অর্থ কী এবং আয়াতে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

অর্থ ও উদ্দেশ্য: ‘সাইয়ারাহ’ (سيارة) শব্দটি ‘সাইর’ (سير – গমন করা) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পরিভ্রমণকারী যাত্রী বা পথিকদল (مسافرون)। আয়াতে ‘সাইয়ারাহ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তৎকালীন মাদইয়ান থেকে মিসরগামী একটি বাণিজ্যিক কাফেলা, যারা পথিমধ্যে পানির সন্ধানে সেই কূপের নিকট উপনীত হয়েছিল এবং বালতি ফেলে বালক ইউসুফকে উদ্ধার করেছিল।

৫ নম্বর প্রশ্ন

المر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَالَّذِي أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ الْحَقُّ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ – اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُم بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ-

[৫. আলিফ-লাম-মীম-রা; এগুলো মহাগ্রন্থের আয়াত। আর যা আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা চিরন্তন সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করে না। আল্লাহই তিনি, যিনি আকাশমন্ডলীকে কোনো দৃশ্যমান খুঁটি ব্যতীত ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখছ, অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হয়েছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন; প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আবর্তন করছে। তিনি যাবতীয় কার্য পরিচালনা করেন এবং বিশদভাবে নিদর্শনাবলি বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে পার।]

(الف) ما معنى الرعد؟ بين وجه تسمية لسورة الرعد-

[(ক) ‘রাদ’ শব্দের অর্থ কী? সূরা আর-রাদের নামকরণের কারণ বর্ণনা কর।]

অর্থ ও নামকরণ: ‘রাদ’ (الرعد) শব্দের অর্থ মেঘের গর্জন বা বজ্রপাত। এ সূরার ১৩ নম্বর আয়াতে মেঘের গর্জনের তাসবীহ পাঠের অলৌকিক বর্ণনা এসেছে: وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ অর্থাৎ “বজ্র তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাগণও তাঁর ভয়ে।” সৃষ্টিজগতের এই ভয়াল প্রাকৃতিক ঘটনা যে আল্লাহর অনুগত বান্দা এবং আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার অধীন—তা প্রকাশের কারণে এ সূরার নাম ‘সূরা আর-রাদ’ রাখা হয়েছে।

(ب) فسر قوله تعالى: “وسخر الشمس والقمر، كل يجرى لأجل مسمّى”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: ‘এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন; প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আবর্তন করছে’-এর তাফসীর কর।]

তাফসীর: আল্লাহ তাআলা সূর্য ও চন্দ্রকে মানবজাতির কল্যাণার্থে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও গতিসীমার অধীনে পরিচালনা করছেন। كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى-এর দুটি অর্থ রয়েছে: (১) দিন-রাতের হিসাব ও ঋতু পরিবর্তনের জন্য তাদের কক্ষপথে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে পরিভ্রমণ; এবং (২) মহাবিশ্বের ধ্বংসক্ষণ তথা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই গতিশীলতা অব্যাহত থাকা। কিয়ামতের দিন সূর্য নিষ্প্রভ হবে এবং চন্দ্র আলোহীন হয়ে মহাশূন্যের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।

৬ নম্বর প্রশ্ন

وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُّتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِّنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَىٰ بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَىٰ بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ – وَإِن تَعْجَبْ فَعَجَبٌ قَوْلُهُمْ أَإِذَا كُنَّا تُرَابًا أَإِنَّا لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ وَأُولَٰئِكَ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَأُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ-

[৬. আর জমিনে রয়েছে পরস্পরের সংলগ্ন নানা ভূখণ্ড এবং আঙুর বাগান, শস্যক্ষেত ও খেজুর গাছ—যার কোনোটি এক মূলবিশিষ্ট এবং কোনোটি বহু কাণ্ডবিশিষ্ট; যা একই পানিতে সেচ করা হয়, অথচ স্বাদে আমি এদের একটিকে অপরটির চেয়ে উৎকৃষ্ট করে থাকি। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমান কওমের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। আর আপনি যদি বিস্মিত হন, তবে বিস্ময়কর তাদের কথা: যখন আমরা মাটিতে পরিণত হব, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে ফিরে আসব? এরা তারাই যারা তাদের রবকে অস্বীকার করেছে, এদেরই গলায় থাকবে লোহার বেড়ি এবং এরাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।]

(الف) فسر قوله تعالى: “وفى الأرض قطع متجاورات”-

[(ক) আল্লাহর বাণী: ‘আর জমিনে রয়েছে পরস্পরের সংলগ্ন নানা ভূখণ্ড’-এর তাফসীর কর।]

তাফসীর: ভূপৃষ্ঠে পাশাপাশি অবস্থিত মাটির টুকরোগুলোর উপাদান ও উর্বরতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একই মাটির সীমানায় একটি অংশ হয় অত্যন্ত উর্বর ও শস্যশ্যামল, অপরটি হয় শুষ্ক লবণাক্ত বা অনুর্বর পাথর। একই বৃষ্টিপাত ও বাতাসের স্পর্শ সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী মাটির এ বৈচিত্র্য প্রমাণ করে যে কোনো অন্ধ প্রাকৃতিক শক্তি নয়, বরং এক পরম কুশলী স্রষ্টাই স্বীয় ইচ্ছায় এদের নিয়ন্ত্রণ করছেন।

(ب) ما المراد بقوله تعالى: صنوان وغير صنوان؟

[(খ) ‘সিনওয়ানুন ওয়া গাইরু সিনওয়ান’ (صنوان وغير صنوان) দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

অর্থ ও ব্যাখ্যা: ‘সিনওয়ান’ (صنوان) হলো এক মূল থেকে একাধিক কাণ্ড বা শাখা গজিয়ে ওঠা খেজুর গাছ (যৌথ কাণ্ড)। আর ‘গাইরু সিনওয়ান’ (غير صنوان) হলো একক মূলবিশিষ্ট পৃথক কাণ্ডের খেজুর গাছ। একই মাটিতে একই পানি গ্রহণ করে একটি গাছ থেকে বহু কাণ্ড এবং অপরটি থেকে একটি কাণ্ড গজিয়ে ওঠা এবং ফলমূলের স্বাদ, বর্ণ ও গন্ধে ভিন্নতা হওয়া মহান আল্লাহর একত্ববাদের অনন্য নিদর্শন।

৭ নম্বর প্রশ্ন

الر كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَىٰ صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ – اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَوَيْلٌ لِّلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ – الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا أُولَٰئِكَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ-

[৭. আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানবজাতিকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকারসমূহ থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন—মহামহিমান্বিত ও পরম প্রশংসিত আল্লাহর পথে। আল্লাহ তিনিই, আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তা সবই যাঁর। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাবের ধ্বংসবার্তা। যারা আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনকে অধিক ভালোবাসে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করে; তারাই ঘোর বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত।]

(الف) بين حكمة ذكر الحروف المقطعات فى القرآن الكريم-

[(ক) পবিত্র কুরআনে হুরুফে মুকাত্তাআত উল্লেখের হিকমত বা রহস্য বর্ণনা কর।]

হিকমত ও তাৎপর্য: হুরুফে মুকাত্তাআত হলো কুরআনের সূচনাকারী বিচ্ছিন্ন হরফমালা (যেমন الر, الم, حم)। এর অন্যতম প্রধান হিকমত হলো আরব সাহিত্যিক ও কবিদের অক্ষমতা প্রমাণ করা। কুরআন তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে যে—কুরআন তোমাদেরই পরিচিত বর্ণমালা আলিফ, লাম, রা ইত্যাদি দিয়েই অবতীর্ণ, অথচ তোমরা এর মতো একটি সূরাও রচনা করতে সম্পূর্ণ অক্ষম। এছাড়া তিলাওয়াতকারী ও শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ এবং আল্লাহর একক ইলমের প্রতি দাসত্ব স্বীকার করাও এর হিকমতের অন্তর্ভুক্ত।

(ب) فسر قوله تعالى: “الذين يستحبون الحياة الدنيا على الآخرة”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: ‘যারা আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনকে অধিক ভালোবাসে’-এর তাফসীর কর।]

তাফসীর: কাফির ও মুনাফিকদের মূল চরিত্র হলো তারা চিরস্থায়ী আখেরাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর ক্ষণস্থায়ী পার্থিব ভোগ-বিলাস, নেতৃত্ব ও লোভ-লালসাকে অগ্রাধিকার দেয়। তারা ক্ষণিকের স্বার্থে নিজের ঈমান বিক্রি করে এবং আল্লাহর বিধানকে বাঁকা ও ত্রুটিযুক্ত প্রমাণের ষড়যন্ত্র করে।

৮ নম্বর প্রশ্ন

وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ أَنجَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ وَيُذَبِّحُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَاءٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ – وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ – وَقَالَ مُوسَىٰ إِن تَكْفُرُوا أَنتُمْ وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا فَإِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ حَمِيدٌ-

[৮. আর যখন মূসা স্বীয় জাতিকে বললেন: তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদেরকে ফেরাউনের বংশধরদের থেকে রক্ষা করেছিলেন; যারা তোমাদের মর্মান্তিক শাস্তি দিত, তোমাদের পুত্রসন্তানদের জবাই করত এবং তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত; আর এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ছিল এক মহা পরীক্ষা। আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা করেছিলেন: যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেব; আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয় আমার আজাব অত্যন্ত কঠোর। আর মূসা বললেন: তোমরা এবং জমিনে যারা আছে তারা সবাই যদি কুফরি কর, তবুও নিশ্চয় আল্লাহ অভাবমুক্ত ও চির প্রশংসিত।]

(الف) إلى اية واقعة اشيرت بقوله تعالى: “إذ انجاكم من آل فرعون” الخ-

[(ক) আল্লাহর বাণী: ‘যখন তিনি তোমাদেরকে ফেরাউনের বংশধরদের থেকে রক্ষা করেছিলেন’-এ কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে?]

ঐতিহাসিক ঘটনা: এ আয়াতে বনী ইসরাঈলের মিসর থেকে ঐতিহাসিক প্রস্থান এবং লোহিত সাগর অলৌকিকভাবে দ্বিখণ্ডিত করে ফেরাউনের বাহিনীর সমুদ্রে ডুবে ধ্বংস হওয়ার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ফেরাউন দীর্ঘকাল ধরে বনী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছিল এবং তাদের নবজাতক ছেলেদের জবাই করত। আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আ.)-এর লাঠির মাধ্যমে সাগরে শুকনো পথ তৈরি করে বনী ইসরাঈলকে পার করে দেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সাগরে নিমজ্জিত করে নিঃশেষ করেন।

(ب) لماذا يذبحون الأبناء ويستحيون النساء؟

[(খ) কেন তারা পুত্রসন্তানদের হত্যা করত এবং নারীদের জীবিত রাখত?]

কারণ: ফেরাউনের দরবারের গণক ও জ্যোতিষীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, বনী ইসরাঈল বংশে এমন এক বালকের জন্ম হবে যার হাতে ফেরাউনের রাজত্ব ধ্বংস হবে। এ ভয়ে ফেরাউন আদেশ জারি করেছিল বনী ইসরাঈলের ঘরে কোনো পুত্রসন্তান জন্ম নিলেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জবাই করা হবে। আর কন্যাশিশুদের জীবিত রাখা হতো মিসরীয় কিবতিদের ঘরে আজীবন দাসী ও বাঁদী হিসেবে খাটানোর জন্য।

৯ নম্বর প্রশ্ন

وَمَا أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌ مَّعْلُومٌ – مَّا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ – وَقَالُوا يَا أَيُّهَا الَّذِي نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ – لَّوْ مَا تَأْتِينَا بِالْمَلَائِكَةِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ – مَا نُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَا كَانُوا إِذًا مُّنظَرِينَ-

[৯. আর আমি এমন কোনো জনপদ ধ্বংস করিনি যার জন্য এক নির্দিষ্ট লিখিত সময় নির্ধারিত ছিল না। কোনো জাতিই তার নির্ধারিত সময়ের অগ্রবর্তী হতে পারে না এবং বিলম্বিতও করতে পারে না। আর তারা বলল: হে ওই ব্যক্তি! যার ওপর উপদেশগ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে, নিশ্চয় তুমি একজন উন্মাদ! তুমি আমাদের কাছে ফেরেশতাদের নিয়ে আসছ না কেন, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও? আমি ফেরেশতাদের কেবল সত্য ও ফয়সালাসহ অবতীর্ণ করি; আর তখন তাদেরকে কোনো অবকাশ দেওয়া হবে না।]

(الف) فسر قوله تعالى: “وما أهلكنا من قرية إلا ولها كتاب معلوم”-

[(ক) আল্লাহর বাণী: ‘আর আমি এমন কোনো জনপদ ধ্বংস করিনি যার জন্য এক নির্দিষ্ট লিখিত সময় নির্ধারিত ছিল না’-এর তাফসীর কর।]

তাফসীর: কোনো জাতিকে আল্লাহ তাআলা তৎক্ষণাৎ আজাব দিয়ে ধ্বংস করেন না। প্রতিটি অবাধ্য জাতির জন্য তাওবা করা ও সতর্ক হওয়ার এক সুনির্দিষ্ট মেয়াদ লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ থাকে। সেই নির্ধারিত সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ তাদের অবকাশ দেন। কিন্তু যখন নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হয়, তখন তাদের ধ্বংস এক মুহূর্তও বিলম্বিত বা ত্বরান্বিত হয় না।

(ب) ما معنى الذكر؟ وما المراد بالذكر فى هذه الآيات الكريمة؟

[(খ) ‘যিকির’ শব্দের অর্থ কী এবং এ আয়াতসমূহে যিকির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

অর্থ ও উদ্দেশ্য: ‘যিকির’ (الذكر) শব্দের অর্থ স্মরণ, উপদেশ, আলোচনা ও সম্মান। আয়াতে نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল-কুরআনুল কারীম। কুরাইশ কাফিররা উপহাস ও বিদ্রূপের সুরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলত: ‘হে ওই ব্যক্তি! যে দাবি করছ তোমার ওপর কুরআন নাযিল হয়েছে, তুমি তো একজন পাগল!’

১০ নম্বর প্রশ্ন

وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَزَيَّنَّاهَا لِلنَّاظِرِينَ – وَحَفِظْنَاهَا مِن كُلِّ شَيْطَانٍ رَّجِيمٍ – إِلَّا مَنِ اسْتَرَقَ السَّمْعَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ مُّبِينٌ – وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ شَيْءٍ مَّوْزُونٍ – وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ وَمَن لَّسْتُمْ لَهُ بِرَازِقِينَ-

[১০. আর নিশ্চয় আমি আকাশে বহু সৌরজগৎ ও গ্রহ-নক্ষত্রের বুরুজ সৃষ্টি করেছি এবং দর্শকদের জন্য তা সুশোভিত করেছি। আর আমি তাকে প্রতিটি বিতাড়িত শয়তান থেকে সুরক্ষিত রেখেছি। তবে যে গোপনে কান পেতে শুনতে চায়, উজ্জ্বল জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। আর জমিনকে আমি বিস্তৃত করেছি এবং তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে উৎপন্ন করেছি সুপরিমিত প্রতিটি বস্তু। আর আমি তাতে ব্যবস্থা করেছি তোমাদের জীবনোপকরণ এবং তাদেরও যাদের রিযিকদাতা তোমরা নও।]

(الف) ما معنى البروج؟ وما المراد به هنا؟

[(ক) ‘বুরুজ’ শব্দের অর্থ কী এবং এখানে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

অর্থ ও উদ্দেশ্য: ‘বুরুজ’ (البروج) শব্দটি ‘বুরজ’ (برج)-এর বহুবচন, যার অর্থ উচ্চ প্রাসাদ, দুর্গ বা প্রকাশ্য স্থান। জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় আকাশের ১২টি রাশিচক্র (Zodiac Constellations) বা বিশাল নক্ষত্রপুঞ্জকে বুরুজ বলা হয়। আয়াতে বুরুজ দ্বারা আকাশের দৃশ্যমান উজ্জ্বল নক্ষত্র ও গ্রহমণ্ডলীকে বোঝানো হয়েছে যা রাতের আকাশকে অলংকৃত করে এবং দিকনির্ণয়ে সহায়তা করে।

(ب) فسر قوله تعالى: “وأنبتنا فيها من كل شيئ موزون”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: ‘এবং তাতে উৎপন্ন করেছি সুপরিমিত প্রতিটি বস্তু’-এর তাফসীর কর।]

তাফসীর: ‘মাওযূন’ (موزون) শব্দের অর্থ পরিমিত, নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্যের সাথে নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা জমিনে বৃক্ষলতা, উদ্ভিদ, ফলমূল ও খনিজ সম্পদ এমন এক সূক্ষ্ম অনুপাতে সৃষ্টি করেছেন যা জীবজগতের অস্তিত্ব ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের (Ecological Balance) জন্য অপরিহার্য। কোনো বস্তু অতিরিক্ত বা ঘাটতি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়নি; বরং প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে রয়েছে পরম ভারসাম্য ও প্রজ্ঞা।


مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ১ × ১০ = ১০)

(أجب عن واحد مما يلى)
[যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও]

১১ নম্বর প্রশ্ন

ماذا تفهم عن التفسير بالسند؟ اذكر أنواعه وقواعده مفصلا-

[১১. التفسير بالسند বলতে কী বোঝ? এর প্রকারভেদ ও মূলনীতিসমূহ বিস্তারিত উল্লেখ কর।]

التفسير بالسند (সনদভিত্তিক তাফসীর)-এর পরিচিতি

যে তাফসীরগ্রন্থে কুরআনের প্রতিটি আয়াতের ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কিরাম এবং তাবেয়ীনের বর্ণিত হাদীস ও আসার থেকে অবিচ্ছিন্ন সনদসহ (Chain of Narrators) উদ্ধৃত করা হয়, তাকে ‘আত-তাফসীর বিস-সানাদ’ বা ‘আত-তাফসীর বিল মা’সুর’ (التفسير بالمأثور) বলা হয়। ইমাম ইবনে জারীর আত-তাবারীর ‘জামিঊল বায়ান’ এবং ইবনে কাছীরের ‘তাফসীরুল কুরআনিল আযীম’ এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সনদভিত্তিক তাফসীরের প্রকারভেদ

  1. কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসীর: এক আয়াতের অস্পষ্টতার ব্যাখ্যা অন্য সুস্পষ্ট আয়াত দ্বারা নির্ণয় করা। এটি তাফসীরের সর্বোচ্চ স্তর।
  2. সুন্নাহ বা হাদীসের মাধ্যমে তাফসীর: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও সম্মতির আলোকে আয়াতের মর্ম উদ্ঘাটন করা।
  3. সাহাবায়ে কিরামের আসারের মাধ্যমে তাফসীর: ওহী নাযিল প্রত্যক্ষকারী শীর্ষ সাহাবীগণের (যেমন ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ রা.) বক্তব্যভিত্তিক তাফসীর।
  4. তাবেয়ীনের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাফসীর: মুজাহিদ, কাতাদাহ, হাসান বসরী প্রমুখ বিশিষ্ট তাবেয়ীনের সূত্রে বর্ণিত তাফসীর।

সনদভিত্তিক তাফসীরের মূলনীতিসমূহ (ক্বাওয়াইদ)

  • সনদের বিশুদ্ধতা যাচাই: আসমাউর রিজাল ও জারহ-তা’দীলের নীতিমালার ভিত্তিতে প্রতিটি বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা ও সনদের ধারাবাহিকতা বিচার করা।
  • ইসরাঈলী রেওয়ায়েত বর্জন: তাওরাত-ইঞ্জিলের অনির্ভরযোগ্য ও বিভ্রান্তিকর রূপকথা থেকে তাফসীরকে পবিত্র রাখা।
  • আরবি ভাষার মানদণ্ড রক্ষা: ওহী নাযিলকালীন যুগের বিশুদ্ধ কুরাইশ ভাষার ব্যাকরণ ও বালাগাতের সাথে সামঞ্জস্য রাখা।
  • মনগড়া মতামতের বর্জন: প্রবৃত্তির অনুসরণ বা নিজস্ব মতাদর্শ প্রমাণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে টেনেহিঁচড়ে ব্যাখ্যা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।

১২ নম্বর প্রশ্ন

اذكر نبذة من حياة الشوكانى صاحب تفسير ‘فتح القدير’ ثم بين مناهجه وخصائص تفسيره المذكور-

[১২. ‘ফাতহুল কাদীর’ তাফসীর প্রণেতা শাওকানী (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ কর। অতঃপর উক্ত তাফসীরের পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।]

ইমাম শাওকানী (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

নাম ও পরিচয়: তাঁর পূর্ণ নাম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শাওকানী। তিনি ১১৭৩ হিজরিতে ইয়েমেনের শাওকান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন।

পাণ্ডিত্য ও মর্যাদা: তিনি ছিলেন একাধারে যুগশ্রেষ্ঠ মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং স্বাধীন মুজতাহিদ। তিনি ইয়েমেনের প্রধান বিচারপতি (কাযিউল কুযাত) হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘ফাতহুল কাদীর আল-জামি বাইনা ফান্নায়ির রিওয়ায়াহ ওয়াদ দিরায়াহ মিন ইলমিত তাফসীর’। তিনি ১২৫০ হিজরিতে সানা শহরে ইন্তেকাল করেন।

‘ফাতহুল কাদীর’ তাফসীরের পদ্ধতি ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. রিওয়ায়েত ও দিরায়েতের অপূর্ব সমন্বয়: এ তাফসীরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি একদিকে সনদভিত্তিক রেওয়ায়েতের সমাবেশ ঘটিয়েছে, অপরদিকে ভাষাতাত্ত্বিক ও বিবেকসম্মত দিরায়েতের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছে।
  2. মাযহাবী অন্ধত্ব ও গোঁড়ামিমুক্ত অবস্থান: ইমাম শাওকানী কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অন্ধ অনুকরণ করেননি; বরং কুরআন ও সহীহ হাদীসের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে ফিকহী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
  3. ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ: কঠিন শব্দের ব্যুৎপত্তি, নাহু ও সরফের রূপভেদ এবং বালাগাত শাস্ত্রের অলংকার চমৎকারভাবে বিশদ করেছেন।
  4. জাল ও ইসরাঈলী বর্ণনার কঠোর সমালোচনা: অনির্ভরযোগ্য বর্ণনা উল্লেখের পরপরই তিনি সনদের দুর্বলতা এবং ইসরাঈলিয়্যাতের অসাড়তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ‘আত-তাফসীর বিস-সানাদ’ কাকে বলে?

যে তাফসীরে কুরআনের ব্যাখ্যায় কুরআন, সহীহ হাদীস এবং সাহাবী ও তাবেয়ীনের বক্তব্যসমূহ নির্ভরযোগ্য সনদসহ প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা হয় তাকে আত-তাফসীর বিস-সানাদ বলা হয়।

২. কুরআনে তাওবার পূর্বে ইস্তিগফারকে কেন প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে?

কারণ শরীয়ত ও আত্মশুদ্ধির মূলনীতি অনুযায়ী আগে অন্তরকে পূর্বের পাপ ও নাফরমানি থেকে মুক্ত (তাখলিয়াহ) করতে হয়, এরপর পুণ্য ও আনুগত্য দ্বারা সুসজ্জিত (তাহলিয়াহ) করতে হয়।

৩. ইউসুফ (আ.)-এর ভ্রাতারা কেন তাঁকে কূপের গভীরে ফেলতে চেয়েছিল?

পিতার ভালোবাসা থেকে ইউসুফকে বঞ্চিত করা এবং পথচারী কোনো কাফেলার মাধ্যমে তাঁকে চিরতরে দূরবর্তী দেশে স্থানান্তরের হীন উদ্দেশ্যে তারা এই ষড়যন্ত্র করেছিল।

৪. সূরা আর-রাদের নামকরণের তাৎপর্য কী?

এ সূরার ১৩ নম্বর আয়াতে মেঘের গর্জন বা বজ্রের আল্লাহর প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠের অলৌকিক নিদর্শন বর্ণিত হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে সূরা আর-রাদ।

৫. ইমাম শাওকানীর ‘ফাতহুল কাদীর’ তাফসীরের মূল শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়?

এটি সনদভিত্তিক রেওয়ায়েত এবং জ্ঞানভিত্তিক বুদ্ধি ও ভাষাতত্ত্বের (দিরায়েত) এমন এক অপূর্ব সমন্বয় যা যেকোনো মাযহাবী পক্ষপাতিত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য তাফসীর বিস-সানাদ প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?

কুরআনের আয়াতের নির্ভুল সরল তর্জমা মুখস্থ করার পাশাপাশি শানে নুযূল, আরবী ব্যাকরণ ও মুফাসসিরগণের প্রামাণ্য বিশ্লেষণ পয়েন্ট আকারে অনুশীলন করা উচিত।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *