জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর বি-গায়রিস সানাদ-২ (At-Tafsir bi-Ghayris-Sanad-2) – 201302, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৩ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭২
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف ، لعام ۲۰۲۲ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بدون السند-٢
[আত-তাফসীর বি-গায়রিস সানাদ-২]
বিষয় কোড: ২০১৩০২
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة : أجب عن خمسة من مجموعة (الف) وعن واحد من مجموعة (ب)- والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ হতে পাঁচটি এবং (ب) অংশ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। পাশের সংখ্যা পূর্ণমান নির্দেশক।]


مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ৫ × ১৪ = ৭০)

১ নম্বর প্রশ্ন

وَالْأَنْعَامَ خَلَقَهَا ۗ لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌ وَمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ – وَلَكُمْ فِيهَا جَمَالٌ حِينَ تُرِيحُونَ وَحِينَ تَسْرَحُونَ – وَتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ إِلَىٰ بَلَدٍ لَّمْ تَكُونُوا بَالِغِيهِ إِلَّا بِشِقِّ الْأَنفُسِ ۚ إِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ – وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً ۚ وَيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[১. আর চতুষ্পদ জন্তুসমূহ—তিনি তা সৃষ্টি করেছেন; তোমাদের জন্য এতে রয়েছে শীতবস্ত্রের উষ্ণতা ও বহুবিধ উপকারিতা এবং এগুলো থেকে তোমরা আহার্য গ্রহণ কর। আর এগুলোতে তোমাদের জন্য রয়েছে চমৎকার শোভা যখন সন্ধ্যায় তোমরা এগুলো চারণভূমি থেকে ফিরিয়ে আন এবং সকালে যখন চারণে নিয়ে যাও। আর এগুলো তোমাদের ভারী বোঝা বহন করে এমন সব দূরবর্তী দেশে নিয়ে যায়, যেখানে অবর্ণনীয় প্রাণান্তকর কষ্ট ব্যতীত তোমরা পৌঁছাতে পারতে না; নিশ্চয় তোমাদের রব পরম স্নেহশীল, অসীম দয়ালু। আর তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা—যাতে তোমরা সেগুলোতে আরোহণ করতে পার এবং শোভা হিসেবে; আর তিনি এমন বহু বস্তু সৃষ্টি করেন যা তোমরা জানো না।]

(ب) بين فوائد الأنعام فى ضوء سورة النحل-

[(খ) সূরা আন-নাহলের আলোকে চতুষ্পদ জন্তুর উপকারিতা বর্ণনা:]

সূরা আন-নাহলে চতুষ্পদ গবাদি পশুর (উট, গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল) বহুবিধ উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে:

  1. শীতবস্ত্র ও আবরণ (دفء): পশুর পশম, লোম ও চামড়া দিয়ে মানুষ গরম পোশাক, তাবু ও লেপ তৈরি করে শীত নিবারণ করে।
  2. দুধ ও পুষ্টিকর খাদ্য (ومنها تأكلون): গোশত ভক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন সুপেয় দুধ পান করা যা স্বাস্থ্যের জন্য মহা উপকারী।
  3. ভার বহন ও পরিবহন: দূর-দূরান্তের দুর্গম বাণিজ্যপথে ভারী পণ্য পরিবহন করা।
  4. মানসিক আনন্দ ও নান্দনিক সৌন্দর্য (جمال): সন্ধ্যায় যখন পাল দল বেঁধে খোয়াড়ে ফিরে আসে এবং সকালে মাঠে যায়, তখন মালিকের মন এক পরম প্রশান্তি ও প্রাচুর্যের আনন্দে ভরে ওঠে।

(ج) فسر قوله تعالى: “ويخلق ما لا تعلمون”-

[(গ) আল্লাহর বাণী: ‘আর তিনি এমন বহু বস্তু সৃষ্টি করেন যা তোমরা জানো না’-এর তাফসীর:]

তাফসীর: প্রাচীন যুগে মানুষ কেবল উট, ঘোড়া, খচ্চর ও গাধাকেই একমাত্র বাহন হিসেবে চিনত। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ভবিষ্যতের জন্য অলৌকিক পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে উদ্ভাবিত রেলগাড়ি, মোটরগাড়ি, উড়োজাহাজ, সাবমেরিন ও মহাকাশযান—সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টি প্রক্রিয়ার অন্তর্নিহিত জ্ঞানের অংশ। মানুষের উদ্ভাবনী বুদ্ধি এবং যন্ত্রপাতির কাঁচামাল ও খনিজ উপাদান সবই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতি যেসব অভাবনীয় বাহন ও সৃষ্টি আবিষ্কার করবে, সবই এই আয়াতের ব্যাপক অর্থের আওতাভুক্ত।

২ নম্বর প্রশ্ন

هُوَ الَّذِي أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً ۖ لَّكُم مِّنْهُ شَرَابٌ وَمِنْهُ شَجَرٌ فِيهِ تُسِيمُونَ – يُنبِتُ لَكُم بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالْأَعْنَابَ وَمِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ – وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[২. তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যার থেকে তোমরা পানীয় গ্রহণ কর এবং তা থেকে উৎপন্ন হয় বৃক্ষলতা যাতে তোমরা পশু চারণ কর। তিনি তা দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন ফসল, যায়তুন, খেজুর, আঙুর এবং সর্বপ্রকার ফলমূল; নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল কওমের জন্য মহা নিদর্শন রয়েছে। আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে; এবং নক্ষত্ররাজিও তাঁরই আদেশে নিয়ন্ত্রিত; নিশ্চয় এতে বোধশক্তিসম্পন্ন কওমের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।]

(ب) فسر قوله تعالى: “ومنه شجر فيه تُسيمون”-

[(খ) আল্লাহর বাণী: ‘তা থেকে উৎপন্ন হয় বৃক্ষলতা যাতে তোমরা পশু চারণ কর’-এর তাফসীর:]

তাফসীর: ‘তুসীমূন’ (تُسِيمُون) শব্দটি ‘ইসামাহ’ (الإسامة) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পশুকে উন্মুক্ত মাঠে বা চারণভূমিতে ঘাস ও পাতা খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া। যে পশুকে চারণভূমিতে লালন-পালন করা হয় তাকে শরীয়তের পরিভাষায় ‘সায়েমাহ’ (السائمة) বলা হয়। বৃষ্টির পানি কেবল মানুষের তৃষ্ণাই নিবারণ করে না, বরং জমিনে এমন সব ঘাস, লতাগুল্ম ও বনাঞ্চল তৈরি করে যেখানে গবাদি পশু অবাধে বিচরণ করে খাদ্য গ্রহণ করে।

(ج) فسر قوله تعالى: “إن فى ذلك لآيات لقوم يعقلون”-

[(গ) আল্লাহর বাণী: ‘নিশ্চয় এতে বোধশক্তিসম্পন্ন কওমের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে’-এর তাফসীর:]

তাফসীর: দিন-রাত্রির পর্যায়ক্রমিক আবর্তন, সূর্যের উত্তাপ ও আলো প্রদান, চাঁদের কলাভৃদ্ধি ও হ্রাস এবং কোটি কোটি মাইল দূরবর্তী নক্ষত্ররাজির নিখুঁত কক্ষপথে আবর্তন—এগুলো কোনো অন্ধ বা আকস্মিক ঘটনা হতে পারে না। সুস্থ বিবেক ও আকল খাটালে যে কেউ নিঃসংশয়ে বুঝতে বাধ্য হবে যে, এক অসীম জ্ঞানী, সর্বশক্তিমান ও একক পরিচালকই এই মহাবিশ্বের নিখুঁত নিয়মকানুন পরিচালনা করছেন।

৩ নম্বর প্রশ্ন

وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ ۖ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِّتَبْتَغُوا فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ ۚ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا – وَكُلَّ إِنْسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ ۖ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنشُورًا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[৩. আর আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন বানিয়েছি; অতঃপর রাতের নিদর্শনকে আলোহীন করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে করেছি আলোকোজ্জ্বল, যাতে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা বছর গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পার; আর আমি প্রতিটি বিষয় বিশদভাবে স্পষ্ট করেছি। আর প্রত্যেক মানুষের কর্মের নথি আমি তার গ্রীবায় অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করে দিয়েছি; এবং কিয়ামত দিবসে আমি তার জন্য বের করব এক কিতাব, যা সে উন্মুক্ত অবস্থায় পাবে।]

(ب) اعرب “وكل شيئ فصلناه تفصيلا”-

[(খ) বাক্যটির ব্যাকরণিক ইরাব (إعراب):]

  • الواو: واو الاستئناف বা عاطفة।
  • كلَّ: مفعول به منصوب بفعل محذوف يفسره المذكور بعده (اشتغال-এর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ক্রিয়া ‘ফাসসালনাহু’ দ্বারা মানসূব)।
  • شيءٍ: مضاف إليه مجرور وعلامة جره الكسرة الظاهرة।
  • فصلناه: فعل ماض مبني على السكون لاتصاله بضمير الفاعل (نا)، و(نا) ضمير متصل مبني في محل رفع فاعل، والهاء ضمير متصل مبني في محل نصب مفعول به।
  • تفصيلاً: مفعول مطلق منصوب وعلامة نصبه الفتحة الظاهرة للتأكيد।

(ج) فسر قوله تعالى: “وكل إنسان الزمناه طائره فى عنقه”-

[(গ) আল্লাহর বাণী: ‘আর প্রত্যেক মানুষের কর্মের নথি আমি তার গ্রীবায় অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করে দিয়েছি’-এর তাফসীর:]

তাফসীর: প্রাচীন আরবরা পাখির উড্ডয়ন দেখে সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের লক্ষণ নির্ধারণ করত যাকে ‘ত্বায়ির’ বলা হতো। কুরআন এ শিরকী কুসংস্কার দূর করে ঘোষণা করেছে যে, মানুষের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য অন্য কোনো পাখির মধ্যে নয়; বরং মানুষের নিজস্ব আমল ও কৃতকর্মের মধ্যেই নিহিত। ‘গ্রীবায় যুক্ত করা’ একটি আরবী রূপক অলংকার—যেমন গলার হার কখনো শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, তেমনি মানুষের নেক ও বদ আমল তার সত্তার সাথে চিরদিনের জন্য লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। কিয়ামতের দিন এই আমলনামাই তার সামনে উন্মুক্ত কিতাব হিসেবে পেশ করা হবে।

৪ নম্বর প্রশ্ন

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا – وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[৪. আর আপনার রব চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত আর কারও ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার করবে। যদি তোমার নিকট তাঁদের একজন কিংবা উভয়ই বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাঁদেরকে ‘উফ’ (বিরক্তি বা তাচ্ছিল্যসূচক শব্দ) পর্যন্ত বলবে না, তাঁদের ধমক দেবে না এবং তাঁদের সাথে সম্মানজনক ও বিনম্র ভাষায় কথা বলবে। আর ভালোবাসার সাথে তাঁদের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনমিত কর এবং প্রার্থনা কর: হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি রহম করুন যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে স্নেহ-মমতায় লালন-পালন করেছিলেন।]

(ب) فسر قوله تعالى: “وقضى ربك ألا تعبدوا إلا إياه وبالوالدين إحسانًا”-

[(খ) তাফসীর:]

তাফসীর: ‘ক্বাদ্বা’ (قضى) শব্দের অর্থ আবশ্যকীয় ও চূড়ান্ত ফায়সালা প্রদান করা। আল্লাহ তাআলা স্বীয় একক ইবাদতের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হক হিসেবে পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারকে (এহসান) নির্ধারণ করেছেন। পিতামাতাই হলেন পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব লাভ ও শৈশবের অসহায় অবস্থার পরম আশ্রয়স্থল। তাই তাওহীদের পরেই পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্য প্রকাশ করাকে কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ফরজ ঘোষণা করেছে।

(ج) ما معنى “جناح الذل”؟ وكم وجهًا فيه؟

[(গ) ‘জানাহায যুল’ (جناح الذل)-এর অর্থ ও অলংকারিক রূপ:]

অর্থ ও বালাগাত: পাখি যখন নিজ ছানাদের স্নেহ ও ভালোবাসায় পরম যত্নে আগলে রাখে, তখন সে স্বীয় ডানা অবনমিত করে দেয়। আল্লাহ তাআলা এখানে ইস্তিআরাহ বা রূপক উপমা ব্যবহার করে সন্তানকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, পিতামাতার সামনে নিজের যাবতীয় অহংকার ও কর্তৃত্ব চূর্ণ করে এক পরম বিনম্র ও আত্মসমর্পিত সেবকের রূপ ধারণ করতে।

পঠনভঙ্গির রূপভেদ (وجوه القراءة): সাধারণ কিরআতে ‘যুল’ (الذُّلِّ) পেশ দিয়ে পড়া হয়, যার অর্থ বিনয়, নম্রতা ও অহংকারহীনতা। অপর এক বিরল কিরআতে ‘যিল’ (الذِّلِّ) যের দিয়ে পড়া হয়েছে, যার অর্থ আনুগত্য ও সহজবোধ্যতা। উভয় পাঠেই পিতামাতার সামনে পূর্ণ আনুগত্য ও বিনয়ের সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫ নম্বর প্রশ্ন

فَضَرَبْنَا عَلَىٰ آذَانِهِمْ فِي الْكَهْفِ سِنِينَ عَدَدًا – ثُمَّ بَعَثْنَاهُمْ لِنَعْلَمَ أَيُّ الْحِزْبَيْنِ أَحْصَىٰ لِمَا لَبِثُوا أَمَدًا – نَّحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُم بِالْحَقِّ ۚ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى – وَرَبَطْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَن نَّدْعُوَ مِن دُونِهِ إِلَٰهًا ۖ لَّقَدْ قُلْنَا إِذًا شَطَطًا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[৫. অতঃপর আমি গুহার মধ্যে বহু বছর তাদের কর্ণে নিদ্রার পর্দা টেনে দিলাম। অতঃপর আমি তাদের পুনরুজ্জীবিত করলাম, এটা জানার জন্য যে, দুই দলের মধ্যে কোনটি তাদের অবস্থানকালের সঠিক হিসাব মনে রাখতে পেরেছে। আমি আপনার নিকট তাদের প্রকৃত বৃত্তান্ত সত্য সহকারে বর্ণনা করছি; নিশ্চয় তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম। আর আমি তাদের অন্তরকে সুদৃঢ় করে দিয়েছিলাম যখন তারা উঠে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করল: আমাদের রব তো তিনিই, যিনি আকাশমণ্ডলী ও জমিনের প্রতিপালক; আমরা কখনো তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যকে আহ্বান করব না; যদি করি তবে নিশ্চয় আমরা চরম অসঙ্গত কথা বলব।]

(ب) فسر قوله تعالى: “إنهم فتية آمنوا بربهم وزدناهم هدى”-

[(খ) তাফসীর:]

তাফসীর: আসহাবে কাহাফের সদস্যগণ ছিলেন তৎকালীন রোমান পৌত্তলিক সমাজের সম্ভ্রান্ত পরিবারের কতিপয় তরুণ যুবক। যখন তাদের সমাজ ও অত্যাচারী বাদশাহ দাকিয়ানুস মূর্তিপূজায় নিমজ্জিত ছিল, তখন এই যুবকরা যৌবনের ভোগবিলাস ত্যাগ করে এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান আনেন। আর বান্দা যখন সত্যের পথে আত্মনিয়োগ করে, তখন আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্য ও হেদায়েতের নূর বৃদ্ধি করে দেন।

(ج) ما الفرق بين الكهف والرقيم؟ بين-

[(গ) ‘কাহাফ’ ও ‘রাকীম’-এর মধ্যে পার্থক্য:]

  • কাহাফ (الكهف): পাহাড়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিশাল ও প্রশস্ত গুহা বা প্রকোষ্ঠ, যেখানে মানুষ অনায়াসে বসবাস বা আশ্রয় নিতে পারে।
  • রাকীম (الرقيم): ‘রাক্বাম’ (রং বা খোদাই করে লেখা) থেকে উদ্ভূত। এটি ছিল একটি তাম্রলিপি বা পাথরের ফলক, যার ওপর আসহাবে কাহাফের যুবকদের নাম, বংশপরিচয় এবং তাদের ঈমান রক্ষার ঐতিহাসিক ঘটনা খোদাই করে গুহামুখে স্থাপন করা হয়েছিল।

৬ নম্বর প্রশ্ন

وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ ۚ وَنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ ۖ وَكَلْبُهُم بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ بِالْوَصِيدِ ۚ لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[৬. আর তুমি মনে করতে তারা জাগ্রত, অথচ তারা ছিল গভীর নিদ্রামগ্ন; এবং আমি তাদেরকে ডানপাশে ও বামপাশে পাশ ফেরাতাম, আর তাদের কুকুরটি গুহামুখে তার সম্মুখ বাহু দুটি প্রসারিত করে বসে ছিল; যদি তুমি তাদের দিকে উঁকি দিতে, তবে অবশ্যই তাদের থেকে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং অবশ্যই তোমার অন্তর তাদের ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে যেত।]

(ب) فسر قوله تعالى: “لو اطلعت عليهم لوليت منهم فرارًا”-

[(খ) তাফসীর:]

তাফসীর: মহান আল্লাহ তাঁর কুদরতে গুহাবাসীদের ওপর এমন এক অলৌকিক ভাবগাম্ভীর্য ও ভয়াবহ প্রভাব (رعب) বিস্তার করে রেখেছিলেন যে, বাইরের কোনো মানবসন্তান গুহামুখে প্রবেশ করার সাহস পেত না। তাদের চক্ষু উন্মুক্ত ছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাস সচল ছিল অথচ তারা ছিল শত শত বছর ধরে গভীর নিদ্রামগ্ন। আল্লাহ কুদরতি সুরক্ষার চাদর দিয়ে তাদের রক্ষা করেছিলেন যাতে অত্যাচারী শাসকের সৈন্যরা তাদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে।

(ج) لم سميت السورة بسورة الكهف؟ وما فضائلها التى وردت فى الحديث الشريف؟ بين-

[(গ) সূরার নামকরণ ও হাদীসে বর্ণিত ফজিলত:]

নামকরণ: গুহাবাসী ঈমানদার যুবকদের (আসহাবে কাহাফ) অলৌকিক জীবনবৃত্তান্ত এ সূরায় প্রধান উপজীব্য হিসেবে বর্ণিত হওয়ায় একে ‘সূরা আল-কাহাফ’ নামকরণ করা হয়েছে।

হাদীসসম্মত ফজিলত: সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত একটি বিশেষ নূর চমকাতে থাকবে।” অপর বর্ণনায় এসেছে: “যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।”

৭ নম্বর প্রশ্ন

يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَىٰ لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا – قَالَ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا – قَالَ كَذَٰلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِن قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[৭. হে জাকারিয়া! নিশ্চয় আমি তোমাকে এক পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম হবে ইয়াহিয়া; ইতিপূর্বে আমি এ নামে কারও নামকরণ করিনি। তিনি বললেন: হে আমার রব! কেমন করে আমার পুত্র হবে যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি নিজেও বার্ধক্যের শেষ সীমায় উপনীত? তিনি বললেন: এভাবেই হবে; তোমার রব বলেছেন—এটি আমার জন্য অত্যন্ত সহজ; আর ইতিপূর্বে আমি তোমাকেও সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না।]

(ب) من هو يحيى عليه السلام؟ بين معجزاته-

[(খ) হযরত ইয়াহিয়া (আ.)-এর পরিচয় ও অলৌকিক বৈশিষ্ট্য:]

হযরত ইয়াহিয়া (আ.) ছিলেন বনী ইসরাঈলের একজন মহান নবী এবং হযরত জাকারিয়া (আ.)-এর পুত্র। তাঁর উল্লেখযোগ্য মুজিযা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে বৃদ্ধ পিতা ও বন্ধ্যা মাতার ঘরে তাঁর অলৌকিক জন্ম।
  2. শৈশবেই মহান আল্লাহ তাঁকে বিশেষ প্রজ্ঞা ও নবুওয়াত দান করেছিলেন (وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا)।
  3. তিনি ছিলেন পাপহীন, পবিত্র এবং জাগতিক প্রবৃত্তি ও নারী সংসর্গ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত (হাদীসে তাঁকে ‘হাসূর’ বলা হয়েছে)।
  4. আল্লাহ স্বয়ং আসমান থেকে তাঁর নাম ‘ইয়াহিয়া’ নির্ধারণ করেছিলেন।

(ج) اكتب وجه تسمية السورة بـ ‘مريم’-

[(গ) সূরা মারয়ামের নামকরণের কারণ:]

হযরত ঈসা (আ.)-এর মহীয়সী মাতা হযরত মারয়াম (আ.)-এর পবিত্রতা, সাধ্বী চরিত্র এবং কোনো পুরুষের স্পর্শ ব্যতীত পিতা ছাড়া অলৌকিকভাবে হযরত ঈসা (আ.)-কে গর্ভে ধারণ ও প্রসবের ঐতিহাসিক অলৌকিক ঘটনা বিশদভাবে বিবৃত হওয়ায় এ সূরার নাম ‘সূরা মারয়াম’ রাখা হয়েছে।

৮ নম্বর প্রশ্ন

قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا – قَالَتْ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا – قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ ۖ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا ۚ وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[৮. সে বলল: আমি তো কেবল আপনার রবের প্রেরিত দূত, যাতে আপনাকে এক নিষ্পাপ পুত্রসন্তান দান করতে পারি। তিনি বললেন: কেমন করে আমার পুত্র হবে যখন কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি কোনো অসতী নারীও নই? সে বলল: এভাবেই হবে; আপনার রব বলেছেন—এটি আমার জন্য অত্যন্ত সহজ; এবং যাতে আমি তাকে মানবজাতির জন্য এক বিরাট নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত করতে পারি; আর এটি তো এক চূড়ান্ত পূর্বনির্ধারিত বিষয়।]

(ب) من هى مريم عليها السلام؟ بين الواقعة المتعلقة بالآية-

[(খ) হযরত মারয়াম (আ.)-এর পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট ঘটনা:]

হযরত মারয়াম (আ.) ছিলেন ইমরান ও হান্নার কন্যা, বনী ইসরাঈলের এক পরম সাধ্বী ও পবিত্র নারী। তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে আল্লাহর ইবাদতে নির্জনবাস করছিলেন। তখন হযরত জিবরাঈল (আ.) এক সুপুরুষের বেশে তাঁর সামনে আবির্ভূত হন। অচেনা পুরুষ দেখে মারয়াম আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করলে জিবরাঈল (আ.) নিজের পরিচয় দেন এবং জানান যে তিনি পিতা ছাড়া এক পবিত্র পুত্রসন্তান (ঈসা আ.) জন্মের ঐশী বার্তা নিয়ে এসেছেন।

(ج) فسر قوله تعالى: “ولنجعله آية للناس”-

[(গ) তাফসীর:]

তাফসীর: মানব ইতিহাসের সূচনায় আল্লাহ আদম (আ.)-কে পিতা-মাতা উভয় ব্যতিরেকে এবং হাওয়া (আ.)-কে কেবল পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছিলেন। সাধারণ নিয়মে পিতা ও মাতার মিলনে মানুষ জন্মায়। আর এই চতুর্থ ধারায় পিতা ছাড়া কেবল নারীর গর্ভে হযরত ঈসা (আ.)-কে সৃষ্টি করে আল্লাহ মানবজাতিকে দেখিয়ে দিলেন যে, তিনি প্রচলিত জৈবিক কার্যকারণ সম্পর্কের মুখাপেক্ষী নন; তাঁর ‘কুন’ (হও) আদেশের মাধ্যমেই যেকোনো সৃষ্টি অস্তিত্ব লাভ করে।

৯ নম্বর প্রশ্ন

طه – مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَىٰ – إِلَّا تَذْكِرَةً لِّمَن يَخْشَىٰ – تَنزِيلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَى – الرَّحْمَٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[৯. ত্বা-হা; আপনাকে কষ্ট ও ক্লেশে নিপতিত করার জন্য আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি। বরং যে ভয় করে তার জন্য এক উপদেশস্বরূপ। এটি তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিনি সৃষ্টি করেছেন জমিন ও সমুচ্চ আকাশমণ্ডলী। পরম করুণাময় আল্লাহ আরশের ওপর সমুন্নত হয়েছেন।]

(ب) فسر قوله تعالى: “الرحمن على العرش استوى”-

[(খ) তাফসীর:]

আহলুস সুন্নাহর আকিদা: এটি আল-কুরআনের অন্যতম মুতাশাবিহ বা রূপক আয়াত। ইমাম মালিক (র.)-এর সুবিখ্যাত মূলনীতি অনুযায়ী: الاسْتِوَاءُ مَعْلُومٌ، وَالْكَيْفُ مَجْهُولٌ، وَالإِيمَانُ بِهِ وَاجِبٌ، وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ অর্থাৎ “ইস্তাওয়া (সমুন্নত হওয়া) জ্ঞাত, কিন্তু এর পদ্ধতি ও স্বরূপ মানুষের অজ্ঞাত; এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব এবং এর ধরণ নিয়ে প্রশ্ন করা বিদআত।” আল্লাহ সৃষ্টির সাথে কোনো সাদৃশ্য বা স্থান-কালের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বীয় শান অনুযায়ী আরশে সমুন্নত হয়েছেন।

(ج) ما الفرق بين الإنـزال والتنزيل؟ بين-

[(গ) ইনযাল (الإنزال) ও তানযীল (التنزيل)-এর পার্থক্য:]

  • ইনযাল (الإنزال): কোনো বিষয়কে একবারে সম্পূর্ণভাবে অবতীর্ণ করা। যেমন লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানের বাইতুল ইযযাহতে কদরের রাতে পূর্ণ কুরআন একত্রে অবতীর্ণ করা।
  • তানযীল (التنزيل): কোনো বিষয়কে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যায়ক্রমে ও অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করা (التنجيم)। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পার্থিব জীবনে ২৩ বছর ধরে প্রয়োজন অনুযায়ী কুরআন অবতীর্ণ হওয়া।

১০ নম্বর প্রশ্ন

سُنَّةَ مَن قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِن رُّسُلِنَا ۖ وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا – أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا-

(الف) ترجم الآيات الكريمة-

[(ক) আয়াতসমূহের তর্জমা:]

[১০. আপনার পূর্বে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এটি তাদের ক্ষেত্রেও আমার চিরাচরিত নিয়ম; আর আপনি আমার নিয়মে কোনো পরিবর্তন পাবেন না। সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করুন এবং ফজরের তিলাওয়াত; নিশ্চয় ফজরের তিলাওয়াতে ফেরেশতাগণের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ঘটে।]

(ب) فسر قوله تعالى: “إن قرآن الفجر كان مشهودًا”-

[(খ) তাফসীর:]

তাফসীর: সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা এবং দিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ ফজরের নামাজের জামাতে একত্র হন। বান্দা যখন ফজরের সালাতে কুরআন তিলাওয়াত করে, তখন উভয় দলের ফেরেশতারা স্বচক্ষে তা প্রত্যক্ষ করেন এবং সাক্ষ্য দেন। এরপর রাতের ফেরেশতারা আসমানে আরোহণ করলে আল্লাহ তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন: তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে? তাঁরা বলেন: আমরা তাদের সালাতরত অবস্থায় রেখে এসেছি। এজন্য ফজরের তিলাওয়াতকে ‘মাশহূদ’ (সাক্ষীযুক্ত ও প্রত্যক্ষকৃত) বলা হয়েছে।

(ج) ما مواقيت الصلاة المشار إليها فى الآية الكريمة؟ بين-

[(গ) আয়াতে নির্দেশিত সালাতের পাঁচ ওয়াক্ত সময়সূচি:]

  1. দুলূকুশ শামস (دلوك الشمس): দ্বিপ্রহরে মাথার ওপর থেকে পশ্চিম আকাশে সূর্য হেলে পড়া—যা যোহর ও আসরের ওয়াক্ত নির্দেশ করে।
  2. গাসাকুল লাইল (غسق الليل): সূর্যাস্তের পর রাতের অন্ধকারের সূচনা—যা মাগরিব ও ইশার ওয়াক্ত নির্দেশ করে।
  3. কুরআনাল ফজর (قرآن الفجر): সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব মুহূর্ত—যা ফজরের সালাতের ওয়াক্ত নির্দেশ করে।

এভাবে এই একটিমাত্র আয়াতেই সংক্ষেপে ইসলামের পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময়সীমা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।


مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ১ × ১০ = ১০)

১১ নম্বর প্রশ্ন

اكتب نبذة من حياة لابن عطية الأندلسى (رح) ومزايا تفسيره “المحرر الوجيز فى تفسير الكتاب العزيز”-

[১১. ইমাম ইবনে আতিয়্যাহ আন্দালুসী (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত এবং তাঁর বিখ্যাত তাফসীর ‘আল-মুহাররারুল ওয়াজীয’-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

ইমাম ইবনে আতিয়্যাহ আন্দালুসী (র.)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

নাম ও জন্ম: তাঁর পূর্ণ নাম আবুল মুহাম্মদ আবদুল হক ইবনে গালিব ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আতিয়্যাহ আল-মুহারিবী আল-আন্দালুসী। তিনি ৪৮১ হিজরিতে স্পেনের গ্রানাডায় (গারনাতা) এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

কর্মজীবন ও ইন্তেকাল: তিনি ছিলেন একাধারে যুগশ্রেষ্ঠ মুফাসসির, হাদিসবেত্তা, ফকীহ ও কাযী (বিচারক)। আলমেরিয়ায় তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫৪১ বা ৫৪৬ হিজরিতে লোরকা শহরে ইন্তেকাল করেন।

‘আল-মুহাররারুল ওয়াজীয’ তাফসীরের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. বিশুদ্ধ সংক্ষেপায়ন ও নির্ভরযোগ্যতা: তিনি পূর্ববর্তী বিশাল তাফসীরসমূহ থেকে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ আলোচনা বর্জন করে বিশুদ্ধ ও সারগর্ভ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন।
  2. ইসরাঈলী বর্ণনার মূলোৎপাটন: তাফসীরকে ভিত্তিহীন পৌরাণিক কল্পকাহিনী ও বানোয়াট ইহুদি রেওয়ায়েত থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র রেখেছেন। ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীরে ইবনে আতিয়্যার ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
  3. আরবি ভাষা ও বালাগাতের নিখুঁত প্রয়োগ: আন্দালুসিয়ার উচ্চাঙ্গ সাহিত্যের আলোকে নাহু, বালাগাত ও আরবী কাব্যের মাধ্যমে গভীর ভাব ফুটিয়ে তুলেছেন।
  4. মুতাযিলাদের ভ্রান্ত মতবাদের খণ্ডন: আহলুস সুন্নাহর আকিদা রক্ষা করে তৎকালীন দার্শনিক ও মুতাযিলী বিভ্রান্তির তথ্যভিত্তিক খণ্ডন করেছেন।

১২ নম্বর প্রশ্ন

ما الفرق بين التفسير والتأويل؟ تحدث عن التفسير بدون السند مع بيان شروطه وحكمه-

[১২. তাফসীর ও তা’ভীলের মধ্যে পার্থক্য কী? সনদবিহীন তাফসীর সম্পর্কে আলোচনা কর এবং এর শর্তাবলি ও শরয়ী বিধান বর্ণনা কর।]

তাফসীর ও তা’ভীলের পার্থক্য

তুলনার বিষয় তাফসীর (التفسير) তা’ভীল (التأويل)
শাব্দিক অর্থ উন্মুক্ত করা, প্রকাশ করা ও ব্যাখ্যা করা। প্রত্যাবর্তন করানো বা মূল উৎসে ফিরিয়ে নেওয়া।
নির্ভরতা তাফসীর প্রধানত ওহী, রেওয়ায়েত ও প্রামাণ্য শ্রবণের ওপর নির্ভরশীল। তা’ভীল প্রজ্ঞা, ভাষাতাত্ত্বিক গভীরতা ও ইজতিহাদের ওপর নির্ভরশীল।
প্রয়োগক্ষেত্র কুরআনের সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য (মুহকামাত) আয়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কুরআনের রূপক, জটিল ও অস্পষ্ট (মুতাশাবিহাত) আয়াতের মর্ম নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

التفسير بدون السند (সনদবিহীন তাফসীর বা তাফসীর বিদূনিস সানাদ)

সনদের দীর্ঘ শৃঙ্খল উল্লেখ না করে সরাসরি নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েত এবং ভাষা ও বুদ্ধিভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে রচিত তাফসীরকেই ‘তাফসীর বিদূনিস সানাদ’ বা ‘তাফসীর বির-রায়’ বলা হয়।

এর গ্রহণযোগ্যতার অপরিহার্য শর্তাবলি

  • আরবি ভাষা, ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও অলংকারশাস্ত্রে (মা’আনী, বায়ান, বাদী’) অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা।
  • কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কিরামের সর্বসম্মত ঐকমত্যের (ইজমা) বিপরীত কোনো ব্যাখ্যা না করা।
  • শরীয়তের সর্বজনীন মূলনীতি ও মাকাসিদুস শরীয়াহর সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা।
  • নিজস্ব মনগড়া মতবাদ প্রমাণের কুমতলব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা।

শরয়ী বিধান (হুকুম)

যদি শর্তাবলি পূরণ করে কুরআন-সুন্নাহর অনুগত হয়ে তাফসীর করা হয়, তবে তা সর্বসম্মতভাবে বৈধ ও প্রশংসনীয় (التفسير بالرأي المحمود)। কিন্তু যদি অজ্ঞতাবশত বা মনগড়া প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে তাফসীর করা হয়, তবে তা হারাম ও পথভ্রষ্টতা (التفسير بالرأي المذموم)। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَأْيِهِ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ (যে ব্যক্তি নিজের মনগড়া রায় দিয়ে কুরআনের ব্যাখ্যা করবে, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়)।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ‘আত-তাফসীর বি-গায়রিস-সানাদ’ বলতে কী বোঝায়?

যে তাফসীরগ্রন্থে বর্ণনাকারীদের দীর্ঘ সনদের উল্লেখ পরিহার করে নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যার সারমর্ম ও আরবি ভাষাতত্ত্বের নিরিখে আয়াতের তাফসীর করা হয় তাকে আত-তাফসীর বি-গায়রিস-সানাদ বলা হয়।

২. সূরা আন-নাহলে ‘ويخلق ما لا تعلمون’ দ্বারা আধুনিক কোন বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে?

এতে আধুনিক যুগে উদ্ভাবিত রেলগাড়ি, বিমান, মহাকাশযানসহ ভবিষ্যতের যাবতীয় উন্নত মানবীয় আবিষ্কার ও বাহনের প্রতি সুস্পষ্ট ঐশী ইঙ্গিত রয়েছে।

৩. আসহাবে কাহাফের ঘটনায় কী শিক্ষা রয়েছে?

বাতিল ও অত্যাচারী পরিবেশেও ঈমানের ওপর দৃঢ় অবিচল থাকা এবং বিপদে একমাত্র আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করার অনুপম শিক্ষা এতে বিদ্যমান।

৪. পিতা ছাড়া হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম কেন এক মহা নিদর্শন?

আল্লাহ তাআলা প্রমাণ করেছেন যে তিনি জৈবিক কার্যকারণ নিয়মের মুখাপেক্ষী নন; তাঁর ‘কুন’ (হও) আদেশের মাধ্যমেই যেকোনো সৃষ্টি অস্তিত্ব লাভ করতে পারে।

৫. ইমাম ইবনে আতিয়্যাহর তাফসীরের মূল স্বাতন্ত্র্য কী?

তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে ইসরাঈলী বানোয়াট রেওয়ায়েত বর্জন করেছেন এবং বিশুদ্ধতম আরবি বালাগাতের ভিত্তিতে সারগর্ভ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন।

৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষায় তাফসীর বিদূনিস সানাদের প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?

আয়াতসমূহের সরাসরি বিশুদ্ধ তর্জমা, ব্যাকরণগত ইরাব, বালাগাত এবং মুফাসসিরগণের প্রামাণ্য বিশ্লেষণ পয়েন্ট আকারে বারবার লিখে অনুশীলন করা জরুরি।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *