জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল হাদিস (Ulumul Hadith) – 201303, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৮ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৩
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف ، لعام ۲۰۲۲ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علوم الحديث
[উলূমুল হাদিস]
বিষয় কোড: ২০১৩০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান।]


مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ৪ × ১৫ = ৬০)

১ নম্বর প্রশ্ন

عرف علم مصطلح الحديث- ثم بين نشأته وتطوره مفصلا-

[১. مصطلح الحديث এর সংজ্ঞা দাও। এই শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

علم مصطلح الحديث (উসূলে হাদীস বা পরিভাষা শাস্ত্র)-এর সংজ্ঞা

ভাষাগত দিক থেকে ‘মুসত্বালাহ’ (مصطلح) শব্দের অর্থ সর্বসম্মত পরিভাষা বা বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত শব্দ। আর ‘হাদীস’ (الحديث) হলো নতুন বিষয় বা বাণী।

পারিভাষিক সংজ্ঞায় হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.) বলেন: عِلْمٌ بِقَوَاعِدَ يُعْرَفُ بِهَا أَحْوَالُ السَّنَدِ وَالْمَتْنِ مِنْ حَيْثُ الْقَبُولُ وَالرَّدُّ অর্থাৎ “মুসত্বালাহুল হাদীস হলো এমন কিছু নিয়ম-নীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে সনদ (বর্ণনাকারী পরম্পরা) এবং মতন (মূল বক্তব্য)-এর গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনীয়তার অবস্থা নিরূপণ করা যায়।” এর মূল উদ্দেশ্য হলো সহীহ হাদীসকে যয়ীফ ও জাল হাদীস থেকে পৃথক করা।

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস

  • নবুওয়াত ও সাহাবা যুগ: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সাহাবায়ে কিরাম সরাসরি ওহীর সান্নিধ্যে ছিলেন। তাঁরা পরস্পরকে পূর্ণ সত্যবাদী মনে করতেন। কিন্তু খিলাফতে রাশেদার শেষভাগে বিশেষ করে হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর মুসলিম সমাজে রাজনৈতিক ফিতনা ও দলীয় সংকটের উদ্ভব হলে হাদীসের সনদ অনুসন্ধান শুরু হয়। ইমাম ইবনে সীরীন (র.) বলেন: لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الإِسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ قَالُوا سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ অর্থাৎ “পূর্বে সনদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হতো না; কিন্তু ফিতনা দেখা দেওয়ার পর বলা হলো: তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো।”
  • তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন যুগ: এ যুগে ইমাম যুহরী, শু’বা ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস এবং ইমাম শাফেয়ী (র.) হাদীস বর্ণনাকারীদের চরিত্র ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের মূলনীতিসমূহ মৌখিকভাবে এবং গ্রন্থাবলিতে লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন। ইমাম শাফেয়ী তাঁর বিখ্যাত ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থে মাকবূল ও মারদূদ হাদীসের মৌলিক নীতিমালা সর্বপ্রথম বিধিবদ্ধ করেন।
  • স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে সংকলন পর্ব (চতুর্থ শতাব্দী): চতুর্থ হিজরী শতকে কাযী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুযী (মৃত্যু ৩৬০ হি.) সর্বপ্রথম এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়াঈ’। এরপর ইমাম হাকিম নিশাপুরী রচনা করেন ‘মা’রিফাতু উলূমিল হাদীস’, খতীব বাগদাদী লেখেন ‘আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ’
  • চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণ পর্ব: সপ্তম হিজরীতে আল্লামা ইবনুস সালাহ (র.) স্বীয় অমর গ্রন্থ ‘মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ’ (উলূমুল হাদীস) রচনার মাধ্যমে এ শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত ও চূড়ান্ত রূপ দান করেন। পরবর্তীকালে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী তাঁর ‘নুখবাতুল ফিকার’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘নুযহাতুন নাযার’ লিখে শাস্ত্রটিকে সংক্ষেপায়ন ও সূক্ষ্ম বিন্যাসের শীর্ষে পৌঁছে দেন।

২ নম্বর প্রশ্ন

عرف الخبر المتواتر- ثم بين شروطه وأقسامه وأشهر المصنفات فيه-

[২. الخبر المتواتر এর সংজ্ঞা দাও। খবর মুতাওয়াতির এর শর্ত, প্রকারভেদ ও সে বিষয়ে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর বিবরণ দাও।]

খবরে মুতাওয়াতির (الخبر المتواتر)-এর সংজ্ঞা

ভাষাগত দিক থেকে ‘মুতাওয়াতির’ শব্দটি ‘তাওয়াতুর’ (التواتر) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ একের পর এক ধারাবাহিকভাবে আসা।

উসূলে হাদীসের পরিভাষায় মুতাওয়াতির হলো: مَا رَوَاهُ جَمْعٌ غَفِيرٌ تَسْتَحِيلُ عَادَةً تَوَاطُؤُهُمْ عَلَى الْكَذِبِ، عَنْ مِثْلِهِمْ، مِنْ أَوَّلِ السَّنَدِ إِلَى مُنْتَهَاهُ، وَكَانَ مُسْتَنَدُ حِسِّهِمْ অর্থাৎ “এমন এক বিপুল সংখ্যক রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, যাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে স্বাভাবিক অভ্যাসবশত মিথ্যার ওপর একমত হওয়া যুক্তিগতভাবে অসম্ভব; এবং সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই অনুরূপ বিশাল সংখ্যা বিদ্যমান থাকে এবং তাঁদের বর্ণনার ভিত্তি হয় পঞ্চেন্দ্রিয়লব্ধ প্রত্যক্ষ জ্ঞান (দেখা বা শোনা)।”

মুতাওয়াতির হওয়ার চারটি অপরিহার্য শর্ত

  1. সনদের প্রতিটি স্তরে বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারী বিদ্যমান থাকা।
  2. বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এত বিশাল ও বিভিন্ন অঞ্চলের হওয়া যে, তাদের সবার পক্ষে গোপন ষড়যন্ত্র করে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া মানবীয় অভ্যাসের পরিপন্থী হতে হবে।
  3. সনদের সূচনা থেকে শেষ স্তর পর্যন্ত কোথাও কোনো স্তরে রাবীর সংখ্যায় ঘাটতি না থাকা।
  4. বর্ণনার ভিত্তি যুক্তি বা অনুমান নয়; বরং পঞ্চেন্দ্রিয়লব্ধ বাস্তব অনুভূতি (যেমন ‘আমরা স্বচক্ষে দেখেছি’ বা ‘স্বকর্ণে শুনেছি’) হওয়া।

মুতাওয়াতিরের প্রকারভেদ

  • মুতাওয়াতিরে লাফযী (المتواتر اللفظي): যে হাদীসের মূল শব্দ ও অর্থ উভয়ই বিপুল সংখ্যক সনদে অবিকল এক থাকে। যেমন বিশ্বখ্যাত হাদীস: مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)। এটি ৭০ জনেরও বেশি সাহাবী বর্ণনা করেছেন।
  • মুতাওয়াতিরে মা’নাবী (المتواتر المعنوي): যে হাদীসের মূল শব্দ বিভিন্ন রকম হলেও এর অন্তর্নিহিত মূল মর্ম বা সাধারণ অর্থটি বহু সনদে অভিন্ন থাকে। যেমন দোয়ায় হাত ওঠানোর হাদীস। প্রায় একশত ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার সূত্রে নবীজি (সা.)-এর দোয়ায় হাত তোলার প্রমাণ পাওয়া যায়।

মুতাওয়াতির বিষয়ে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

  1. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রচিত: ‘আল-আযহারুল মুতানাছিরাহ ফিল আখবারিল মুতাওয়াতিরাহ’ (الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة)।
  2. ইমাম সুয়ূতীর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ: ‘কাতফুল আযহার’ (قطف الأزهار)।
  3. আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-কাত্তানী রচিত: ‘নাযমুল মুতানাছির মিনাল হাদীসিল মুতাওয়াতির’ (نظم المتناثر من الحديث المتواتر)।

৩ নম্বর প্রশ্ন

عرف الخبر الغريب- ثم بين أقسامه بالأمثلة-

[৩. الخبر الغريب এর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

খবরে গারীব (الخبر الغريب)-এর সংজ্ঞা

‘গারীব’ শব্দের আভিধানিক অর্থ একাকী, অপরিচিত বা আত্মীয়স্বজন থেকে দূরবর্তী। পরিভাষায় হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: هُوَ مَا يَنْفَرِدُ بِرِوَايَتِهِ شَخْصٌ وَاحِدٌ فِي أَيِّ مَوْضِعٍ مِنْ طَبَقَاتِ السَّنَدِ অর্থাৎ “সনদের যেকোনো একটি স্তরে কোনো একজন একক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসকে খবরে গারীব বলা হয়।” সনদের কেবল এক স্তরে একক রাবী হলেও তা গারীব গণ্য হবে, যদিও অন্য স্তরে বহু রাবী থাকে।

গারীব হাদীসের প্রকারভেদ ও উদাহরণ

গারীবের এককত্ব সনদের শুরুতে নাকি মাঝে ঘটেছে তার ওপর ভিত্তি করে একে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

১. গারীবে মুতলাক্ব বা ফর্দ মুতলাক্ব (الغريب المطلق / الفرد المطلق):

যদি সনদের মূল গোড়ায় অর্থাৎ সাহাবীর স্তরে এককত্ব ঘটে (কেবল একজন সাহাবীই নবীজি থেকে বর্ণনা করেছেন), তবে তাকে গারীবে মুতলাক্ব বলা হয়।

উদাহরণ: বুখারী ও মুসলিমের সূচনাকারী বিশ্ববিখ্যাত হাদীস: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ (নিশ্চয় যাবতীয় আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)। এ হাদীসটি নবী করীম (সা.) থেকে কেবল হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একাকী বর্ণনা করেছেন। উমর (রা.) থেকে কেবল আলক্বামাহ, তাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তায়মী এবং তাঁর থেকে কেবল ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এরপর ইয়াহইয়া থেকে অসংখ্য বর্ণনাকারী তা রেওয়ায়েত করেছেন।

২. গারীবে নিসবী বা ফর্দ নিসবী (الغريب النسبي / الفرد النسبي):

যদি সনদের গোড়ায় সাহাবীর স্তরে এককত্ব না ঘটে; বরং পরবর্তী কোনো স্তরে (যেমন তাবেয়ীন বা তাবে-তাবেয়ীনের স্তরে) কোনো নির্দিষ্ট রাবী, শহর বা বংশের সাপেক্ষে এককত্ব ঘটে, তবে তাকে গারীবে নিসবী বলা হয়।

উদাহরণ: ইমাম মালিক (র.) যুহরী থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন লৌহবর্ম (মিগফার) পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। এ হাদীসটি যুহরী থেকে এককভাবে ইমাম মালিক বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ইমাম মালিকের সাপেক্ষে এটি গারীবে নিসবী।

৪ নম্বর প্রশ্ন

عرف الصحيح مع شرح تعريفه ومثاله وحكمه ثم اذكر خمسة مصنفات فيه-

[৪. ব্যাখ্যাসহ الصحيح এর সংজ্ঞা, উদাহরণ ও হুকুম লেখ। এ বিষয়ে রচিত পাঁচটি গ্রন্থের বর্ণনা দাও।]

সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা ও বিশ্লেষণ

ইমাম ইবনুস সালাহ ও হাফেজ ইবনে হাজারের সংজ্ঞায় সহীহ লি-জাতিহী হলো: هُوَ الْحَدِيثُ الْمُسْنَدُ الَّذِي يَتَّصِلُ إِسْنَادُهُ بِنَقْلِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ عَنْ مِثْلِهِ إِلَى مُنْتَهَاهُ، مِنْ غَيْرِ شُذُوذٍ وَلَا عِلَّةٍ অর্থাৎ “যে হাদীসের সনদ প্রতিটি স্তরে বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ এবং নিখুঁত স্মৃতিশক্তির অধিকারী বর্ণনাকারীর মাধ্যমে তার অনুরূপ নির্ভরযোগ্য রাবীর সূত্রে শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছায় এবং তা কোনো প্রকার শায (বিরোধপূর্ণ ত্রুটি) ও ক্ষতিকর গোপন দোষ (ইল্লত) থেকে মুক্ত থাকে।”

সংজ্ঞার পাঁচটি মৌলিক শর্তের বিশ্লেষণ

  1. ইত্তিসালুস সানাদ (اتصال السند): সনদের সূচনা থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো রাবী বাদ না পড়ে নিরবচ্ছিন্ন থাকা।
  2. আদালাতুর রুয়াত (عدالة الرواة): সকল বর্ণনাকারীর মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, তাকওয়াবান এবং কবিরা গুনাহমুক্ত হওয়া।
  3. দাবতুর রুয়াত (ضبط الرواة): বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তি অথবা লিখিত সংরক্ষণ নিখুঁত ও নির্ভুল হওয়া।
  4. আদমূশ শুযূয (عدم الشذوذ): নির্ভরযোগ্য রাবী কর্তৃক নিজের চেয়ে অধিকতর বিশ্বস্ত রাবীর বর্ণনার বিপরীত না হওয়া।
  5. আদমুল ইল্লাহ (عدم العلة): সনদে বা মতনে এমন কোনো সূক্ষ্ম গোপন ত্রুটি না থাকা যা বাহ্যিকভাবে চোখে পড়ে না কিন্তু হাদীসের বিশুদ্ধতা নষ্ট করে।

সহীহ হাদীসের উদাহরণ ও হুকুম

উদাহরণ: ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ সূত্রে, তিনি মালিক সূত্রে, তিনি ইবনে শিহাব সূত্রে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যুবাইর ইবনে মুতইম সূত্রে, তাঁর পিতা জুবাইর (রা.) থেকে বলেন: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَرَأَ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ (আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে মাগরিবের সালাতে সূরা তূর তিলাওয়াত করতে শুনেছি)। এ সনদের সকল রাবী আদল ও যাবতের শীর্ষে এবং সনদটি সম্পূর্ণ অবিচ্ছিন্ন ও ত্রুটিমুক্ত।

হুকুম: সহীহ হাদীসের ওপর আমল করা এবং আকিদা ও আহকামে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা উম্মতের সর্বসম্মত ঐকমত্যে ওয়াজিব।

সহীহ হাদীস সংকলনের পাঁচটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ

  1. সহীহুল বুখারী – ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (র.)।
  2. সহীহ মুসলিম – ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী (র.)।
  3. সহীহ ইবনে খুযায়মাহ – ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযায়মাহ (র.)।
  4. সহীহ ইবনে হিব্বান (আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া) – ইমাম ইবনে হিব্বান আল-বুসতী (র.)।
  5. আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন – ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী (র.)।

৫ নম্বর প্রশ্ন

ما المراد بالسقط من الإسناد؟ وما هى أنواع السقط؟ تحدث عن المعلق ممثلا-

[৫. السقط من الإسناد দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এর প্রকারগুলো কী কী? উদাহরণসহ المعلق এর আলোচনা কর।]

السقط من الإسناد (সনদ বিচ্ছিন্নতা বা রাবী বাদ পড়া)-এর স্বরূপ

‘সাকাত’ (السقط) শব্দের অর্থ পড়ে যাওয়া বা বাদ পড়া। উলূমুল হাদীসে সনদ পরম্পরার মধ্য থেকে কোনো এক বা একাধিক রাবী বাদ পড়ে যাওয়ার কারণে সনদের ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়াকে ‘আস-সাকাতু মিনাল ইসনাদ’ বা ইনক্বিতা (انقطاع) বলা হয়।

সাকাত বা সনদচ্যুতির প্রকারভেদ

বাদ পড়ার ধরন ও অবস্থানের ভিত্তিতে সাকাত প্রধানত দুই প্রকার:

  • সাকাত যাহির (السقط الظاهر – প্রকাশ্য বিচ্ছিন্নতা): যা ঐতিহাসিক তথ্যের মাধ্যমে (উভয় রাবীর জীবৎকাল না মেলা বা সাক্ষাৎ অসম্ভব হওয়ার কারণে) সহজেই স্পষ্ট ধরা পড়ে। এর চারটি প্রকার:
    1. আল-মুআল্লাক্ব (المعلق): সনদের সূচনা থেকে এক বা একাধিক রাবী বাদ পড়া।
    2. আল-মুরসাল (المرسل): তাবেয়ীর পর সাহাবীর স্তরে রাবী বাদ পড়া।
    3. আল-মু’দাল (المعضل): সনদের মাঝখান থেকে পরপর দুজন বা ততোধিক রাবী বাদ পড়া।
    4. আল-মুনকাতি’ (المنقطع): সনদের মধ্যভাগ থেকে পরপর ছাড়া যেকোনো স্থানে একজন রাবী বাদ পড়া।
  • সাকাত খাফী (السقط الخفي – গোপন বিচ্ছিন্নতা): যা কেবল শাস্ত্রজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ সূক্ষ্ম অনুসন্ধানে ধরতে পারেন। এর দুটি প্রকার: আল-মুদাল্লাস (المدلس) এবং আল-মুরসাল আল-খাফী (المرسل الخفي)

হাদীসে মুআল্লাক্ব (الحديث المعلق)-এর বিস্তারিত আলোচনা ও উদাহরণ

সংজ্ঞা: গ্রন্থকার স্বীয় কিতাবের সনদের শুরু থেকে এক বা একাধিক রাবীকে ধারাবাহিকভাবে বিলুপ্ত করে সরাসরি ওপরের স্তরের রাবী বা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি হাদীস সম্পর্কযুক্ত করলে তাকে ‘মুআল্লাক্ব’ বলা হয়। এমনকি পূর্ণ সনদ বিলুপ্ত করে কেবল قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ বললেও তা মুআল্লাক্ব হবে।

উদাহরণ: ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে অধ্যায়ের শিরোনামে বলেন: وَقَالَ أَبُو مُوسَى: غَطَّى النَّبِيُّ ﷺ رُكْبَتَيْهِ حِينَ دَخَلَ عُثْمَانُ (আবু মূসা আশয়ারী রা. বলেন: উসমান রা. প্রবেশ করলে নবীজি সা. স্বীয় হাঁটু ঢেকে নিয়েছিলেন)। এখানে ইমাম বুখারী ও আবু মূসা (রা.)-এর মধ্যকার সমগ্র সনদ বাদ দিয়েছেন।

হুকুম: সনদের ধারাবাহিকতা না থাকায় মুআল্লাক্ব মূলত যয়ীফ বা মারদূদ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত। তবে সহীহ বুখারীর যেসব মুআল্লাক্ব জযমের শব্দে (দৃঢ় প্রত্যয়সূচক শব্দ যেমন قال, روى) বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো ইমাম বুখারীর নিকট অন্য সূত্রে সহীহ সাব্যস্ত ছিল।

৬ নম্বর প্রশ্ন

ما المراد بالطعن فى الراوى؟ وما أسباب الطعن؟ بين مفصلا وممثلا-

[৬. الطعن فى الراوى দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এর কারণগুলো কী কী? উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

الطعن فى الراوى (রাবীর ওপর দোষারোপ)-এর ধারণা

‘তা’ন’ (الطعن) শব্দের অর্থ আঘাত করা, অপবাদ দেওয়া বা ত্রুটি ধরা। উলূমুল হাদীসে রাবীর বিশ্বস্ততা, সততা বা স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা নির্দেশ করে কোনো সমালোচনামূলক মন্তব্য বা জারহ (جرح) করাকেই ‘আত-তা’নু ফির রাবী’ বলা হয়। এর ফলে রাবীর বর্ণিত হাদীস অগ্রাহ্য বা প্রত্যাখ্যাত হয়।

তা’নের দশটি মৌলিক কারণ (أسباب الطعن)

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.) রাবীর ওপর দোষারোপের দশটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি সম্পর্কযুক্ত রাবীর ধার্মিকতা ও সততার সাথে (عدالة), আর বাকি পাঁচটি সম্পর্কযুক্ত স্মৃতিশক্তির সাথে (ضبط):

১. সততা ও ন্যায়পরায়ণতা নষ্টকারী পাঁচটি কারণ (المتعلقة بالعدالة):
  1. মিথ্যাচারিতা (الكذب في الحديث): রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ইচ্ছাকৃত বানোয়াট হাদীস আরোপ করা। এর কারণে হাদীস ‘মাওযূ’ (الموضوع) হয়।
  2. মিথ্যাচারের অপবাদ (التهمة بالكذب): সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হওয়া যদিও হাদীসের ক্ষেত্রে মিথ্যা প্রমাণ মেলেনি। এর কারণে হাদীস ‘মাতরূক’ (المتروك) হয়।
  3. পাপাচারিতা (الفسق): প্রকাশ্য কবিরা গুনাহে লিপ্ত থাকা। এর ফলে হাদীস ‘মুনকার’ (المنكر) হয়।
  4. বিদআত (البدعة): দ্বীনের মধ্যে নতুন আকায়েদ উদ্ভাবন করা ও তার দিকে মানুষকে আহ্বান জানানো।
  5. অজ্ঞতা বা পরিচয়হীনতা (الجهالة): রাবী অজ্ঞাতপরিচয় (মাজহুল) হওয়া যার নির্ভরযোগ্যতা জানা যায়নি।
২. স্মৃতিশক্তি ও সংরক্ষণ নষ্টকারী পাঁচটি কারণ (المتعلقة بالضبط):
  1. মারাত্মক ভুল করা (فحش الغلط): বর্ণনায় ঘন ঘন মারাত্মক ভ্রান্তিতে পতিত হওয়া।
  2. স্মৃতিভ্রষ্টতা বা অসাবধানতা (غفلة عن الإتقان): হাদীস সংরক্ষণে অমনোযোগী থাকা।
  3. ভ্রান্ত ধারণা বা সংশয় (الوهم): সহীহকে ভুল বা মারফূকে মাওকূফ মনে করে দ্বিধায় পড়া। এর ফলে হাদীস ‘মুআল্লাল’ (المعلل) হয়।
  4. অধিক নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা (مخالفة الثقات): এর কারণে মুদরাজ, মাকলূব, মুযতারিব বা শায হাদীসের সৃষ্টি হয়।
  5. স্মৃতিশক্তির মন্দাবস্থা (سوء الحفظ): বার্ধক্য বা অন্ধত্বজনিত কারণে স্মৃতিশক্তি এলোমেলো হয়ে যাওয়া। এর ফলে হাদীস ‘শায’ বা ‘মুখতালিত’ হয়।

৭ নম্বর প্রশ্ন

عرف الموضوع ثم بين حكم روايته وكيفية معرفته ودواعى الوضع مفصلا-

[৭. الموضوع এর সংজ্ঞা দাও। এটি বর্ণনার হুকুম, চেনার উপায় ও হাদিস জালকরণের কারণ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

আল-হাদীসুল মাওযূ (الحديث الموضوع – জাল হাদীস)-এর সংজ্ঞা

‘মাওযূ’ শব্দের অর্থ তৈরি করা, মনগড়া বা ভিত্তিহীন। পরিভাষায়: هُوَ الْكَذِبُ الْمُخْتَلَقُ الْمَصْنُوعُ الْمَنْسُوبُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ زُورًا وَبُهْتَانًا অর্থাৎ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র নামের প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াটভাবে আরোপকৃত রচিত বাণীকেই হাদীসে মাওযূ বা জাল হাদীস বলা হয়।” এটি যয়ীফ হাদীসের নিকৃষ্টতম রূপ।

মাওযূ হাদীস বর্ণনার হুকুম

কোনো হাদীস জাল বলে জানার পর তা প্রচার বা বর্ণনা করা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ; যদি না সাথে সাথে এটি যে জাল তা স্পষ্ট সতর্কবাণী হিসেবে বলে দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: مَنْ حَدَّثَ عَنِّي بِحَدِيثٍ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ (যে ব্যক্তি আমার সূত্রে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করে যা মিথ্যা বলে মনে হয়, তবে সেও মিথ্যাবাদীদেরই একজন – সহীহ মুসলিম)।

জাল হাদীস চেনার প্রধান উপায়সমূহ

  • বর্ণনাকারীর নিজের স্বীকারোক্তি: যেমন মায়সারা ইবনে আবদে রাব্বিহ স্বীকার করেছিল যে সে বিভিন্ন সূরার ফজিলত সম্পর্কিত বহু হাদীস নিজে বানিয়ে প্রচার করেছে।
  • ভাষাগত অপূর্ণতা ও অশুদ্ধতা: আরবী বালাগাত ও ভাষার মানদণ্ডে নিম্নমানের এবং অপ্রাসঙ্গিক শব্দের ব্যবহার যা নববী বাণীর গভীরতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • কুরআন, সুন্নাহ ও ঐতিহাসিক অকাট্য সত্যের স্পষ্ট বিরোধিতা: এমন দাবি করা যা কুরআনের মূল নীতি বা সুস্থ মানবীয় বিবেকের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
  • ক্ষুদ্র আমলে কাল্পনিক অসীম সওয়াব বা সামান্য ত্রুটিতে ভয়াবহ আজাবের ঘোষণা: মনগড়া কিসসা-কাহিনীর সুর থাকা।

হাদীস জালকরণের প্রধান কারণসমূহ (دواعي الوضع)

  1. ইসলাম ধ্বংসের গোপন ষড়যন্ত্র: যিন্দীক ও ইসলামবিরোধীরা মুসলমানদের আকায়েদ বিভ্রান্ত করতে হাজার হাজার মিথ্যা হাদীস রচনা করেছিল। যেমন আবদুল করীম ইবনে আবিল আওজা ফাঁসির মঞ্চে স্বীকার করে যে সে চার হাজার জাল হাদীস বানিয়েছিল।
  2. মাযহাবী ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব: খেলাফত ও মাযহাবী বিতর্কে স্বীয় দল বা নেতার প্রশংসা এবং বিরোধীদের নিন্দায় মিথ্যা হাদীস তৈরি করা।
  3. মূর্খ পুণ্যলোভীদের কর্মকাণ্ড (তারগীব ও তারহীব): কিছু অজ্ঞ ধার্মিক লোক মানুষকে নেক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে সূরার ফজিলত সংক্রান্ত বানোয়াট হাদীস প্রচার করত।
  4. শাসকদের তোষণ ও অর্থলোভ: খলিফা বা ধনীদের খুশি করে বৈষয়িক সুবিধা ও উপহার লাভের উদ্দেশ্যে মিথ্যা হাদীস পেশ করা।

৮ নম্বর প্রশ্ন

ما هى شروط قبول الراوى؟ وكيف تثبت هذه الشروط؟ بين مفصلا-

[৮. ‘রাবী’ গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্তগুলো কী কী এবং শর্তগুলো কীভাবে প্রমাণিত হয়? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

রাবী গ্রহণযোগ্য হওয়ার অপরিহার্য শর্তাবলি

হাদীসের বর্ণনাকারী (রাবী)-এর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (মাকবূল) হওয়ার জন্য সর্বসম্মতভাবে দুটি মৌলিক গুণ থাকা অপরিহার্য:

  1. আল-আদালাহ (العدالة – সততা ও ধার্মিকতা): এর অধীনে চারটি উপ-শর্ত রয়েছে:
    • ইসলাম (الإسلام): রাবীকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। কাফিরের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।
    • বুলূগ ও আকল (البلوغ والعقل): প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পাগলের বর্ণনা গ্রাহ্য নয়।
    • তাকওয়া (التقوى): কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত থাকা এবং সগিরা গুনাহের ওপর অবিচল না থাকা।
    • মুরূয়াত (المروءة): মানবিক সম্ভ্রম, শালীনতা ও সমাজের শিষ্টাচার বজায় রাখা; মানহানিকর কোনো নীচ আচরণ না করা।
  2. আদ-দাবত (الضبط – নিখুঁত স্মৃতি ও সংরক্ষণ ক্ষমতা): এর অধীনে রয়েছে:
    • দাবতুস সাদর (ضبط الصدر): শ্রবণের পর থেকে বর্ণনা করা পর্যন্ত স্মৃতিপটে নির্ভুলভাবে মুখস্থ রাখা।
    • দাবতুল কিতাব (ضبط الكتاب): লিখিত পাণ্ডুলিপিকে যেকোনো প্রকার পরিবর্তন, বিকৃতি বা বিনষ্ট হওয়া থেকে পূর্ণ সতর্কতায় সংরক্ষণ করা।

এসব শর্ত প্রমাণিত হওয়ার পদ্ধতিসমূহ

রাবীর আদালাত ও দাবত দুটি স্বীকৃত পন্থায় প্রমাণিত হয়:

  • প্রসিদ্ধি ও সর্বজনীন সুখ্যাতি (الشهرة والاستفاضة): কোনো রাবী যদি উম্মতের শীর্ষ আলেম ও মুহাদ্দিসগণের মাঝে ন্যায়পরায়ণতা, তাকওয়া ও নির্ভরযোগ্যতার সাথে ব্যাপকভাবে পরিচিত থাকেন, তবে তাঁর জন্য পৃথক সনদের প্রয়োজন হয় না। যেমন ইমাম মালিক, সুফিয়ান সাওরী, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ প্রমূখ ইমামগণ।
  • জারহ ও তা’দীলের বিজ্ঞ ইমামগণের দ্ব্যর্থহীন প্রত্যয়ন (التنصيص من أئمة الجرح والتعديل): কোনো নির্ভরযোগ্য নিরপেক্ষ মুহাদ্দিস কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট রাবীকে ‘ছিক্বাহ’ (বিশ্বস্ত), ‘আদল’ বা ‘যাবিত’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা। এর মাধ্যমে রাবীর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হয়।

مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ৪ × ৫ = ২০)

৯ নম্বর প্রশ্ন

اكتب مراتب الصحيح-

[৯. الصحيح এর স্তরগুলো লেখ।]

বিশুদ্ধতা ও নির্ভরতার বিচারে সহীহ হাদীসের সাতটি স্তর রয়েছে:

  1. মুত্তাফাক্বুন আলাইহি (متفق عليه): যা ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম উভয়ই স্ব স্ব সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এটি সর্বোচ্চ স্তর।
  2. ইনফিরাদে বুখারী: যা কেবল ইমাম বুখারী এককভাবে সংকলন করেছেন।
  3. ইনফিরাদে মুসলিম: যা কেবল ইমাম মুসলিম এককভাবে সংকলন করেছেন।
  4. বুখারী ও মুসলিমের শর্তাধীন: যা তাঁদের গ্রন্থে স্থান পায়নি, তবে উভয় ইমামের বর্ণনাকারীদের কঠোর শর্ত পূরণ করেছে।
  5. এককভাবে বুখারীর শর্তাধীন: যা কেবল ইমাম বুখারীর শর্ত পূরণ করেছে।
  6. এককভাবে মুসলিমের শর্তাধীন: যা কেবল ইমাম মুসলিমের শর্ত পূরণ করেছে।
  7. অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ইমামদের নিকট সহীহ: যা বুখারী ও মুসলিমের শর্তে নয়, তবে ইবনে খুযায়মাহ বা ইবনে হিব্বানের শর্তে সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে।

১০ নম্বর প্রশ্ন

ما شروط الشيخين فى رواية الحديث؟

[১০. হাদিস বর্ণনায় ইমাম বুখারী ও মুসলিমের শর্তগুলো কী কী?]

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম স্ব স্ব গ্রন্থে হাদীস গ্রহণের জন্য বর্ণনাকারীদের সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করেছেন:

  • উভয় ইমামের যৌথ শর্ত: সনদের ধারাবাহিক ইত্তিসাল (অবিচ্ছিন্নতা), রাবীগণের সর্বোচ্চ তাকওয়া, পরম ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) এবং নিখুঁত স্মৃতিশক্তি (দাবত) থাকা।
  • সাক্ষাৎ প্রমাণের শর্তে ইমাম বুখারীর কঠোর নীতি: ইমাম বুখারীর মতে, ছাত্র ও শিক্ষকের সমসাময়িক (মু’আসারাত) হওয়ার পাশাপাশি উভয়ের মধ্যে জীবনে অন্তত একবার হলেও সরাসরি প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ (লিকা বা সুবূতুত তালাকী) সুপ্রমাণিত হতে হবে।
  • ইমাম মুসলিমের শর্ত: ইমাম মুসলিমের মতে, উভয় রাবী সমসাময়িক হওয়া এবং তাঁদের পরস্পরের সাক্ষাৎলাভ যুক্তিসঙ্গতভাবে সম্ভবপর (ইমকানুল লিকা) হওয়াই যথেষ্ট; সরাসরি সাক্ষাতের ঐতিহাসিক তথ্য বাধ্যতামূলক নয় যদি না রাবী মুদাল্লিস হন।

১১ নম্বর প্রশ্ন

ما هى ألفاظ التعديل؟

[১১. التعديل এর শব্দগুলো কী কী?]

মুহাদ্দিসগণ রাবীর বিশ্বস্ততা ও গুণাবলি প্রকাশের জন্য স্তরভিত্তিক বিশেষ শব্দাবলি ব্যবহার করেন। আল্লামা ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে হাজারের মতে তা’দীলের ছয়টি প্রধান স্তর ও শব্দাবলি নিম্নরূপ:

  1. সর্বোচ্চ স্তর (মুবালাগা): যেমন أَوْثَقُ النَّاسِ (মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য), إِلَيْهِ الْمُنْتَهَى فِي التَّثَبُّتِ (নির্ভুলতায় যিনি চূড়ান্ত শীর্ষ)।
  2. শব্দ পুনরাবৃত্তি দ্বারা তাকীদ: যেমন ثِقَةٌ ثِقَةٌ (পরম বিশ্বস্ত, পরম বিশ্বস্ত), ثِقَةٌ ثَبْتٌ
  3. একক শক্তিশালী গুণ: যেমন ثِقَةٌ (বিশ্বস্ত), مُتْقِنٌ (পারদর্শী), عَدْلٌ ضَابِطٌ
  4. স্বল্প প্রশংসাসূচক: যেমন صَدُوقٌ (সত্যবাদী), لَا بَأْسَ بِهِ (তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই)।
  5. গ্রহণযোগ্যতার নিম্নস্তর: যেমন مَحَلُّهُ الصِّدْقُ (সে সত্যবাদিতার পর্যায়ে রয়েছে), شَيْخٌ
  6. দুর্বলতার নিকটবর্তী স্তর: যেমন صَالِحُ الْحَدِيثِ (হাদীসে ভালো), يُكْتَبُ حَدِيثُهُ (তার হাদীস লেখা যায়)।

১২ নম্বর প্রশ্ন

ما هى طرق تحمل الحديث؟

[১২. হাদিস গ্রহণ করার পদ্ধতিগুলো কী কী?]

উস্তাদ বা শায়েখের নিকট থেকে ছাত্র কর্তৃক হাদীস শিক্ষা ও গ্রহণ করার আটটি স্বীকৃত পদ্ধতি (তুুরুকু তাহাম্মুলিল হাদীস) রয়েছে:

  1. আস-সামা’ (السَّمَاعُ): উস্তাদের মুখ থেকে সরাসরি পঠিত হাদীস ছাত্র কর্তৃক শ্রবণ করা। এটি সর্বোচ্চ স্তর।
  2. আল-ক্বিরাআত আলাশ শায়েখ (الْقِرَاءَةُ عَلَى الشَّيْخِ / العَرْض): ছাত্র উস্তাদের সামনে হাদীস পাঠ করে এবং উস্তাদ শ্রবণ করে অনুমোদন দেন।
  3. আল-ইজাযাহ (الإِجَازَةُ): উস্তাদ মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো ছাত্রকে তাঁর হাদীস বর্ণনা করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করা।
  4. আল-মুনাওয়ালাহ (المُنَاوَلَةُ): উস্তাদ স্বহস্তে স্বীয় কিতাব ছাত্রের হাতে অর্পণ করে বর্ণনার নির্দেশ দেওয়া।
  5. আল-মুকাতেবাহ (المُكَاتَبَةُ): উস্তাদ দূরবর্তী কোনো ছাত্রের জন্য স্বহস্তে হাদীস লিখে প্রেরণ করা।
  6. আল-ই’লাম (الإِعْلامُ): উস্তাদ ছাত্রকে জানিয়ে দেওয়া যে এ হাদীসটি অমুকের সূত্রে তাঁর নিকট বর্ণিত।
  7. আল-ওয়াসিয়্যাহ (الوَصِيَّةُ): মৃত্যুর সময় স্বীয় হাদীসের পাণ্ডুলিপি কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে প্রদান করার অসিয়ত করা।
  8. আল-বিজাদাহ (الوِجَادَةُ): শায়েখের অনুমতি বা পাঠ ব্যতিরেকে তাঁর নির্ভরযোগ্য স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাওয়া।

১৩ নম্বর প্রশ্ন

ما هى شروط قبول المعنعن؟

[১৩. মু’আন’আন হাদিস গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তগুলো কী কী?]

মু’আন’আন (المعنعن): যে হাদীসের সনদে সরাসরি শ্রবণের শব্দ (যেমন ‘হাদ্দাসানা’ বা ‘আখবারানা’) ব্যবহার না করে কেবল ‘আন’ (عن – অমুক থেকে) শব্দ দ্বারা বর্ণনা করা হয়।

মুহাক্কিক উলামায়ে কিরামের নিকট মু’আন’আন হাদীস সহীহ ও মাকবূল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত আবশ্যক:

  • তাদলীস থেকে মুক্ত হওয়া: সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীকে ‘তাদলীস’ (সনদের ত্রুটি গোপনকারী) অপবাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে হবে। মুদাল্লিস না হলে তাঁর ‘আন’ শব্দ সরাসরি শ্রবণের স্থলাভিষিক্ত ধরা হয়।
  • সাক্ষাৎ ও সমসাময়িক হওয়া: ছাত্র ও উস্তাদের পরস্পরের সমসাময়িক হওয়া এবং তাঁদের সাক্ষাৎ প্রমাণিত (ইমাম বুখারীর মতে) বা সাক্ষাৎ সম্ভবপর (ইমাম মুসলিমের মতে) হওয়া।

১৪ নম্বর প্রশ্ন

اكتب أسماء خمسة مصنفات فى علوم الحديث مع ذكر مؤلفيها-

[১৪. উলূমুল হাদিস বিষয়ে রচিত পাঁচটি গ্রন্থ এবং এগুলোর সংকলকের নাম লেখ।]

ক্রম গ্রন্থের নাম গ্রন্থকারের নাম ও ওফাত সন
আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়াঈ কাযী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুযী (মৃত্যু ৩৬০ হি.)
মা’রিফাতু উলূমিল হাদীস ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী (মৃত্যু ৪০৫ হি.)
আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ আল-খতীব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হি.)
মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ (উলূমুল হাদীস) আল্লামা তকীউদ্দীন আবু আমর ইবনুস সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হি.)
নুখবাতুল ফিকার ফী মুসত্বালাহি আহলিল আসার হাফেজ শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হি.)

১৫ নম্বর প্রশ্ন

هات مثالين للتوابع والشواهد-

[১৫. التوابع ও الشواهد এর দুটি উদাহরণ দাও।]

১. মুতাবাআত (المتابعة বা التوابع)-এর উদাহরণ:

সংজ্ঞা: কোনো একক রাবীর সনদে অন্য কোনো রাবী একই উস্তাদ থেকে একই সাহাবীর সূত্রে একই হাদীস বর্ণনা করে সমর্থন জোগালে তাকে মুতাবাআত বলা হয়।

উদাহরণ: ইমাম শাফেয়ী মালিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ يَوْمًا (মাস হয় উনত্রিশ দিনে)। ইমাম শাফেয়ীর এই বর্ণনার পর দেখা গেল যে, একই শায়েখ মালিক থেকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল-কা’নাবী অবিকল এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আল-কা’নাবীর বর্ণনাটি ইমাম শাফেয়ীর জন্য ‘মুতাবাআতে তাম্মাহ’ (পূর্ণ সমর্থন)।

২. শাওয়াহিদ (الشواهد)-এর উদাহরণ:

সংজ্ঞা: মূল হাদীসের বক্তব্যকে সমর্থন করে ভিন্ন কোনো সাহাবীর সূত্রে অপর কোনো হাদীস বর্ণিত হলে তাকে শাহিদ বলা হয়।

উদাহরণ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীস: إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ… خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ (মুসলিম বান্দা যখন অজু করে, পানির সাথে তার চোখের গুনাহ ঝরে যায়)। এ হাদীসটির মর্মার্থকে সমর্থন করে অন্য সাহাবী হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ। এখানে হযরত উসমানের বর্ণনাটি আবু হুরায়রার বর্ণনার জন্য একটি অকাট্য ‘শাহিদ’।

১৬ নম্বর প্রশ্ন

علق على اثنين من التالية: المسند (بكسر النون)، المحدث، الحافظ، الحاكم-

[১৬. নিচের যে কোনো দুটি বিষয়ে টীকা লেখ:]

(ক) আল-মুসনিদ (المُسْنِد – নূনে যেরসহ):

যে আলেম হাদীসকে তার নিজস্ব সনদসহ রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেন, তাঁকে ‘মুসনিদ’ বলা হয়; চাই তাঁর সে হাদীসের গভীর তত্ত্ব ও দিরায়েত সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকুক বা কেবল সনদ মুখস্থ থাকুক।

(খ) আল-মুহাদ্দিস (المُحَدِّث):

যিনি হাদীসের সনদ ও মতন, ইলাল (সূক্ষ্ম ত্রুটি), রাবীগণের পরিচয় ও নির্ভরযোগ্যতা (জারহ ও তা’দীল) সম্পর্কে বিস্তারিত প্রজ্ঞার অধিকারী এবং বহু হাদীস ও হাদীসগ্রন্থ আত্মস্থ করেছেন, তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

(গ) আল-হাফেজ (الحَافِظ):

মুহাদ্দিসের চেয়েও উচ্চতর মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে, যিনি কমপক্ষে এক লক্ষ হাদীস সনদ, মতন এবং রাবীদের বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্তসহ মুখস্থ ধারণ করেন এবং যাঁর অজানা হাদীসের চেয়ে জানা হাদীসের সংখ্যা বেশি, তাঁকে ‘আল-হাফেজ’ বলা হয়। যেমন হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী।

(ঘ) আল-হাকিম (الحَاكِم):

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এটি উলূমুল হাদীসের সর্বোচ্চ মর্যাদাসূচক পদবী। যিনি প্রচলিত প্রায় সমগ্র হাদীসসম্ভার এমনভাবে নিজের আয়ত্তে এনেছেন যে, কোনো একটি হাদীসের সনদ, মতন ও রাবীর অবস্থা তাঁর অজ্ঞাত থাকা অত্যন্ত বিরল। যেমন ইমাম হাকিম নিশাপুরী (র.)।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উলূমুল হাদীস বা মুসত্বালাহুল হাদীস পাঠের মূল উদ্দেশ্য কী?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশুদ্ধ হাদীসসমূহকে দুর্বল ও জাল বর্ণনা থেকে নির্ভুলভাবে পৃথক করা এবং শরীয়তের বিধান সংরক্ষণে সহীহ সনদের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা।

২. খবরে মুতাওয়াতির কেন অকাট্য জ্ঞানের (ইলমে ইয়াক্বীন) নিশ্চয়তা দেয়?

কারণ সনদের প্রতিটি স্তরে এত বিপুল সংখ্যক সত্যবাদী মানুষ তা বর্ণনা করেছেন যাদের সবার পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া মানবীয় অভ্যাসে সম্পূর্ণ অসম্ভব।

৩. সহীহ হাদীসের পাঁচটি প্রধান শর্ত কী কী?

সনদের ধারাবাহিক অবিচ্ছিন্নতা, সকল রাবীর সততা ও তাকওয়া, নিখুঁত স্মৃতিশক্তি বা সংরক্ষণ, অধিকতর নির্ভরযোগ্যতার সাথে বিরোধমুক্ত হওয়া এবং গোপন সূক্ষ্ম ত্রুটিমুক্ত হওয়া।

৪. হাদীস বর্ণনায় ইমাম বুখারীর প্রধান স্বাতন্ত্র্য কী?

তিনি সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে জীবনে অন্তত একবার হলেও সরাসরি প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ ও শ্রবণ সুপ্রমাণিত হওয়াকে বাধ্যতামূলক শর্ত করেছেন।

৫. জাল হাদীস চেনার প্রধান নিদর্শন কী?

আরবি বালাগাতহীন নিম্নমানের শব্দচয়ন, কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষার স্পষ্ট বিরোধিতা এবং ক্ষুদ্র আমলে অবাস্তব অসীম প্রতিদানের দাবি থাকা।

৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য উলূমুল হাদীস কীভাবে আত্মস্থ করা উচিত?

প্রতিটি পরিভাষার পারিভাষিক আরবি সংজ্ঞা, শর্তাবলি, প্রকারভেদ ও কিতাবুল আসারের প্রামাণ্য উদাহরণসহ খাতায় ছক এঁকে অনুশীলন করা সর্বোত্তম।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *