পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৪
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف ، لعام ۲۰۲۲ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة الحديث
[দিরাসাতুল হাদিস]
বিষয় কোড: ২০১৩০৪
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة : أجب عن خمسة من مجموعة (الف) وعن واحد من مجموعة (ب)- والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ হতে পাঁচটি এবং (ب) অংশ হতে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। পাশের সংখ্যা পূর্ণমান নির্দেশক।]
مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ৫ × ১৪ = ৭০)
(ترجم الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[নিম্নোক্ত হাদিসসমূহের তর্জমা কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান: তর্জমা ৬ + উপপ্রশ্ন ৪ + ৪ = ১৪)]
১ নম্বর প্রশ্ন
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ-
[১. আল-হুমাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তায়মী আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সীকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—যাবতীয় আমল তো নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। অতএব যার হিজরত হবে কোনো পার্থিব বস্তু লাভের উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যের জন্যই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।]
(الف) بين أقسام الوحى وصوره ممثلا-
[(ক) ওহীর প্রকারভেদ ও রূপসমূহ উদাহরণসহ বর্ণনা:]
ওহী প্রধানত দুই প্রকার:
- ওহী মাতলূ (الوحي المتلو): যে ওহীর শব্দ ও অর্থ উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং যা সালাতে তিলাওয়াত করা হয়; অর্থাৎ আল-কুরআনুল কারীম।
- ওহী গাইরে মাতলূ (الوحي غير المتلو): যার অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কিন্তু শব্দ নববী ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত এবং যা সালাতে তিলাওয়াত করা হয় না; অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও সহীহ হাদীস।
ওহী নাযিলের বিভিন্ন রূপ (صور الوحي): (১) ঘণ্টার ধ্বনির ন্যায় তীব্র ঝংকারে আগমন (صلصلة الجرس)—যা ছিল নবীজির জন্য সবচেয়ে ভারী ও কষ্টকর। (২) ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মানুষের বেশে (বিশেষ করে সাহাবী দিহইয়া কালবী রা.-এর সুরতে) আগমন। (৩) জিবরাঈল (আ.)-এর আসল ছয়শত ডানাবিশিষ্ট জ্যোতির্ময় আকৃতিতে দর্শন। (৪) সত্য স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة)—নবুওয়াতের সূচনাকালে যা প্রভাত-আলোর মতো সত্য প্রমাণিত হতো। (৫) অন্তরে কোনো ভাব বা জ্ঞান প্রবিষ্ট করিয়ে দেওয়া (النفث في الروع)।
(ب) ما معنى النية؟ هل النية شرط لكل عمل؟ بين-
[(খ) নিয়তের অর্থ এবং নিয়ত কি সকল আমলের জন্য শর্ত?]
নিয়তের অর্থ: ‘নিয়ত’ (النية) শব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প, ইচ্ছা বা অন্তরের দৃঢ় প্রত্যয় (القصد والعزم)। শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে দ্বিধাহীনচিত্তে কোনো আমল সম্পাদনের আন্তরিক সংকল্পকে নিয়ত বলা হয়।
আমলের শর্ত কি না: হ্যাঁ, যেকোনো ইবাদত গ্রহণযোগ্য (মাকবূল) ও পুণ্যযোগ্য হওয়ার জন্য নিয়ত একটি অপরিহার্য শর্ত। নিয়ত না থাকলে ইবাদত ও সাধারণ অভ্যাসের মধ্যে পার্থক্য করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ: কেউ খাদ্য না পেলে না খেয়ে থাকা অভ্যাসবশত উপবাস হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর জন্য সিয়াম পালনের নিয়ত করলেই কেবল তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। তবে যেসব কাজের উদ্দেশ্য নিজস্বভাবে নির্ধারিত (যেমন নাপাকী দূর করা বা ঋণ পরিশোধ করা), সেখানে নিয়ত ছাড়া মূল দায়িত্ব আদায় হয়ে গেলেও পরকালীন সওয়াব লাভের জন্য নিয়তের উপস্থিতি অপরিহার্য।
২ নম্বর প্রশ্ন
حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلاَ تَكْتَنُوا بِكُنْيَتِي، وَمَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَقَدْ رَآنِي فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَتَمَثَّلُ فِي صُورَتِي، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ-
[২. মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানাহ আবু হাসীন সূত্রে আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনামে (আবুল কাসিম) উপনাম রেখো না। আর যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল সে প্রকৃতপক্ষে আমাকেই দেখল, কেননা শয়তান আমার সুরত ধারণ করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।]
(الف) ما الإختلاف فى التسمية بإسم النبى صلى الله عليه وسلم وبكنيته؟ فصل-
[(ক) নবীজির নাম ও উপনাম ধারণের ব্যাপারে ওলামায়ে কিরামের মতভেদ:]
হাদীসে নবীজি (সা.) তাঁর নাম (মুহাম্মদ) রাখা বৈধ করলেও উপনাম (আবুল কাসিম) ধারণে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে ইমামগণের তিনটি প্রধান অভিমত রয়েছে:
- সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (ইমাম শাফেয়ী ও জমহুর আলেমগণের মত): এ নিষেধাজ্ঞা কেবল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পার্থিব জীবদ্দশার জন্য প্রযোজ্য ছিল। কারণ জীবদ্দশায় কেউ ‘ইয়া আবাল কাসিম’ বলে ডাকলে নবীজি ফিরে তাকাতেন এবং দ্বিধা তৈরি হতো। নবীজির ইন্তেকালের পর এ নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়ে গেছে; সুতরাং যে কারও জন্য এ উপনাম রাখা জায়েয।
- নাম ও উপনাম একত্রে রাখা নিষিদ্ধ: কারো নাম মুহাম্মদ রেখে একই সাথে তার উপনাম ‘আবুল কাসিম’ রাখা যাবে না; পৃথকভাবে নাম মুহাম্মদ বা উপনাম আবুল কাসিম রাখা যাবে।
- আজীবন ও সার্বিক নিষেধাজ্ঞা (ইমাম যাহিরীগণের মত): কিয়ামত পর্যন্ত যে কারও জন্যই ‘আবুল কাসিম’ উপনাম রাখা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তবে জমহুর মুহাদ্দিসগণের মতে বর্তমান যুগে নাম ও উপনাম রাখা মুস্তাহাব ও বরকতময়।
(ب) ما هو الحديث المتواتر؟ هل هذا الحديث متواتر أم لا؟ أوضح-
[(খ) মুতাওয়াতির হাদীস কী এবং আলোচ্য হাদীসটি মুতাওয়াতির কি না?]
মুতাওয়াতির হাদীস: যে হাদীসের সনদের প্রতিটি স্তরে এত বিপুল সংখ্যক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বিদ্যমান থাকেন যাদের সবার পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া স্বাভাবিক অভ্যাসে অসম্ভব, তাকে মুতাওয়াতির হাদীস বলা হয়।
আলোচ্য হাদীসটি কি মুতাওয়াতির: হ্যাঁ, আলোচ্য হাদীসের শেষ অংশ—مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
হাদিসবিশারদদের সর্বসম্মত ঐকমত্যে একটি মুতাওয়াতিরে লাফযী (لفظي) হাদীস। এটি প্রায় আশিরও অধিক বিশিষ্ট সাহাবী কর্তৃক অবিকল শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
৩ নম্বর প্রশ্ন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ) أَنَّ أَعْرَابِيًّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، قَالَ: تَعْبُدُ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ أَزِيدُ عَلَى هَذَا شَيْئًا أَبَدًا وَلاَ أَنْقُصُ مِنْهُ، فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا-
[৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুইন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে নিবেদন করল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন, যা সম্পাদন করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, নির্ধারিত ফরজ সালাত কায়েম করবে, নির্ধারিত ফরজ যাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে। সে বলল: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি এতে কখনো কোনো কিছু বাড়াবও না এবং কমাবও না। অতঃপর যখন সে পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল, তখন নবী করীম (সা.) বললেন: যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতী মানুষকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন একে দেখে নেয়।]
(الف) لم لم يذكر الشهادة والحج فى الحديث مع أنهما من اركان الايمان؟
[(ক) হাদীসে শাহাদাত ও হজের উল্লেখ না থাকার কারণ:]
- শাহাদাতের অনুপস্থিতি নয় বরং উপস্থিতি: নবীজির বাণী
تَعْبُدُ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا
(আল্লাহর ইবাদত করবে এবং শিরক করবে না) কথাটিই মূলত কালিমায়ে তাওহীদ ও রিসালাতের মর্মার্থ ধারণ করে। বেদুইন ব্যক্তি নবীজিকে আল্লাহর রাসূল মেনে দ্বীনের হেদায়েত চাইতে এসেছিল, ফলে রিসালাতের সাক্ষ্য পূর্ব থেকেই প্রমাণিত ছিল। - হজের উল্লেখ না থাকার কারণ: এ ঘটনাটি ছিল হজের বিধান ফরজ হওয়ার পূর্বের ঘটনা। অথবা হতে পারে সেই বেদুইন ব্যক্তি ছিলেন দরিদ্র এবং হজের সামর্থ্য ছিল না; ফলে নবীজি তাঁর বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে সামর্থ্যাধীন ফরজগুলোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
(ب) عرف الشرك مع بيان أقسامه مفصلا-
[(খ) শিরকের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ:]
সংজ্ঞা: মহান আল্লাহর জাত (সত্তা), সিফাত (গুণাবলি), রুবূবিয়্যাত (প্রভুত্ব) কিংবা উলূহিয়্যাত (ইবাদতের অধিকার)-এ অন্য কোনো সৃষ্টিকে আল্লাহর সমকক্ষ বা অংশীদার সাব্যস্ত করার নাম শিরক। শিরক হলো মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ও ক্ষমার অযোগ্য জুলুম (إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
)।
প্রকারভেদ: শিরক প্রধানত দুই প্রকার:
- শিরকে আকবর (الشرك الأكبر – বড় শিরক): আল্লাহ ব্যতীত কোনো পীর, মাজার, প্রতিমা বা ফেরেশতার উদ্দেশ্যে সিজদা করা, দোআ করা, গায়েবী শক্তির আশা করা বা কুরবানি করা। এর ফলে মানুষ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় এবং ঈমান সম্পূর্ণ বরবাদ হয়ে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হয়।
- শিরকে আসগর (الشرك الأصغر – ছোট শিরক): যা মানুষকে সরাসরি কাফির বানায় না, কিন্তু আমল বিনষ্ট করে। যেমন রিয়া (লোকদেখানো ইবাদত), খ্যাতি অর্জনের জন্য আমল করা বা গাইরুল্লাহর নামে কসম খাওয়া।
৪ নম্বর প্রশ্ন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ) قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ-
[৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—ঈমানের সত্তরটিরও অধিক কিংবা ষাটটিরও অধিক শাখা-প্রশাখা রয়েছে; যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা; এবং লজ্জা হলো ঈমানের অন্যতম বিশেষ শাখা।]
(الف) ما معنى الإيمان لغة وشرعًا؟ وما الاختلاف فى حد الإيمان بين علماء الإسلام؟ بين موضحًا-
[(ক) ঈমানের শাব্দিক ও শরয়ী অর্থ এবং ওলামায়ে কিরামের মতভেদ:]
অর্থ: ঈমান (الإيمان) শব্দের আভিধানিক অর্থ সত্যায়ন করা ও স্বীকার করা (التصديق والإقرار)। শরীয়তের পরিভাষায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সর্বান্তঃকরণে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং মৌখিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া।
ঈমানের সংজ্ঞা নিয়ে মতভেদ:
- ইমাম আবু হানিফা ও আশআরীগণের মতে: ঈমান হলো অন্তরে খাঁটি বিশ্বাস (তাসদীক্ব বিল ক্বালব) এবং মুখে তা উচ্চারণ ও স্বীকৃতি (ইক্বরার বিল লিসান)। আমল ঈমানের পূর্ণতা দানকারী অঙ্গ, তবে আমল না করলে ব্যক্তি কাফির হয় না; বরং ফাসিক মুমিন থাকে।
- মুহাদ্দিসীন ও সালাফে সালেহীনের মতে: ঈমান হলো অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল বাস্তবায়ন—এই তিনের সমষ্টি (
الإِيمَانُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ وَنِيَّةٌ
)। তাঁদের মতে সৎ আমলের দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহের কারণে হ্রাস পায়।
(ب) ما معنى الحياء لغة وشرعًا؟ هل الحياء محمود فى جميع الأمور والأحيان؟ بين-
[(খ) লাজুকতা বা হায়ার অর্থ এবং এটি কি সর্বাবস্থায় প্রশংসনীয়?]
অর্থ: ‘হায়া’ (الحياء) হলো মানুষের আত্মার এমন এক মহৎ মানবিক স্বভাবজাত গুণ, যা মানুষকে যাবতীয় অশ্লীলতা, নোংরামি ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে এবং অন্যের হক ক্ষুণ্ন করতে বাধা দেয়।
সর্বাবস্থায় প্রশংসনীয় কি না: দ্বীন ও শরীয়তের ক্ষেত্রে শরয়ী লজ্জা সর্বাবস্থায় প্রশংসনীয়। হাদীসে এসেছে: الْحَيَاءُ لاَ يَأْتِي إِلاَّ بِخَيْرٍ
(লজ্জা কেবল কল্যাণই বয়ে আনে)। তবে দ্বীনি ইলম অন্বেষণ, সত্য কথা বলা, অন্যায় প্রতিবাদ করা কিংবা নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে লজ্জা পাওয়া প্রশংসনীয় নয় বরং তা কাপুরুষতা ও অজ্ঞতার কারণ। হযরত আয়েশা (রা.) আনসারী নারীদের প্রশংসা করে বলেছিলেন: দ্বীনের জ্ঞানার্জনে লজ্জা তাঁদের কখনো বাধা দিতে পারেনি।
৫ নম্বর প্রশ্ন
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ (رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ: إِنَّكَ لَتَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ، فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَالِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَالِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَالِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ، وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ-
[৫. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনে প্রেরণ করেন, তখন বললেন: তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ যারা আহলে কিতাব। সুতরাং সর্বাগ্রে তুমি তাদেরকে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা এতে আনুগত্য স্বীকার করে, তবে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতিদিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা এতেও আনুগত্য প্রকাশ করে, তবে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের সম্পদে সদকা (যাকাত) ফরজ করেছেন—যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। আর যদি তারা এ নির্দেশ মেনে নেয়, তবে সাবধান! তাদের উৎকৃষ্ট মাল গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকবে; এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করবে, কেননা মজলুম ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা বা অন্তরায় থাকে না।]
(الف) ما معنى الزكوة لغة وشرعًا؟ متى فرضت الزكوة؟ وعلى من تجب الزكوة؟
[(ক) যাকাতের সংজ্ঞা, ফরজ হওয়ার সময় ও কাদের ওপর ওয়াজিব:]
সংজ্ঞা: ‘যাকাত’ (الزكاة) শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা, প্রবৃদ্ধি ও বরকত। শরীয়তের পরিভাষায়, নিসাব পরিমাণ মালের মালিকের স্বীয় উদ্বৃত্ত সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ (সাধারণত ২.৫%) আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শরীয়ত নির্ধারিত হকদারদের হাতে পূর্ণ মালিকানাস্বরূপ প্রদান করাকে যাকাত বলা হয়।
ফরজ হওয়ার সময়: হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে সিয়াম ফরজ হওয়ার সাথে সাথে যাকাত ফরজ হয়।
কাদের ওপর ফরজ: স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এমন প্রতিটি মুসলিমের ওপর যাকাত ফরজ যার নিকট নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ ও বাণিজ্যিক পণ্য) সম্পদ পূর্ণ এক বছরকাল মালিকানায় বিদ্যমান থাকে।
(ب) تحدث عن أسلوب الدعوة الى الله فى ضوء هذا الحديث-
[(খ) হাদীসের আলোকে দ্বীনি দাওয়াতের প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতি:]
- মাদঊ বা শ্রোতার অবস্থা বিবেচনা: ইয়েমেনের মানুষ আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিষ্টান) হওয়ায় নবীজি পূর্বাহ্নেই মুয়াজকে তাদের জ্ঞান ও মানসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
- পর্যায়ক্রমিক দাওয়াত (التدرج في الدعوة): প্রথমে আকিদা ও তাওহীদের বুনিয়াদ স্থাপন, এরপর শারীরিক ইবাদত সালাত, এবং সবশেষে অর্থনৈতিক ত্যাগ যাকাতের দাওয়াত। বুনিয়াদ ছাড়া শাখা বিধান চাপিয়ে না দেওয়া।
- ইনসাফ ও নমনীয়তা: যাকাত আদায়ের সময় ধনীদের সবচেয়ে দামি বা প্রিয় পশু না নিয়ে মধ্যম মানের সম্পদ গ্রহণ করা।
- প্রশাসনিক সততা ও ইনসাফ: প্রজাদের ওপর জুলুম না করা; কারণ শাসকের বিরুদ্ধে মজলুমের আর্তনাদ সরাসরি আরশে পৌঁছে যায়।
৬ নম্বর প্রশ্ন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ) عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْعَجْمَاءُ جُرْحُهَا جُبَارٌ، وَالْمَعْدِنُ جُرْحُهَا جُبَارٌ، وَالْبِئْرُ جُبَارٌ، وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ-
[৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: অবলা চতুষ্পদ জন্তুর মাধ্যমে সংঘটিত জখম বা ক্ষতিপূরণ ক্ষমার যোগ্য (দণ্ডমুক্ত), খনির কারণে সংঘটিত ক্ষতিপূরণ ক্ষমার যোগ্য, কূপ খননকালে সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতি ক্ষমার যোগ্য; এবং ভূগর্ভস্থ প্রোথিত গুপ্তধনে এক-পঞ্চমাংশ (২০%) রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বা যাকাত প্রযোজ্য।]
(الف) حلل الكلمات: الركاز، المعدن، والكنز-
[(ক) শব্দত্রয়ের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:]
- আর-রিকাজ (الركاز): ভূগর্ভে প্রোথিত যেকোনো প্রাচীন ধনসম্পদ—হোক তা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট খনিজ সম্পদ কিংবা প্রাচীন জাহেলী যুগের মানুষের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্রোথিত সম্পদ। ইমাম আবু হানিফার মতে রিকাজের অর্থ ব্যাপক।
- আল-মা’দান (المعدن): আল্লাহ তাআলা জমিনের গভীরে প্রাকৃতিকভাবে যেসব খনিজ সম্পদ সৃষ্টি করেছেন (যেমন সোনা, রূপা, লোহা, তামা, তেল ইত্যাদি)।
- আল-কাঞ্জ (الكنز): মানুষের দ্বারা সঞ্চিত ও সংরক্ষিত নগদ অর্থ বা সোনা-রূপা, যা বিশেষভাবে জমিনে বা সিন্দুকে পুঁতে রাখা হয়েছে।
(ب) ما المراد بقوله عليه السلام: “فى المعدن جبار وفى الركاز خمس”؟ بين-
[(খ) তাফসীর ও ফিকহী হুকুম:]
‘মা’দানু জুরহুহা জুব্বার’ (والمعدن جرحها جبار): কেউ যদি নিজের বা বৈধ কোনো স্থানে খনি বা কূপ খনন করে এবং সেখানে কোনো শ্রমিক নিজস্ব অসাবধানতায় ধসে পড়ে মারা যায়, তবে মালিকের কোনো অবহেলা না থাকলে তার ওপর দিয়াত বা ক্ষতিপূরণ বর্তাবে না; তা মাফ বা অকার্যকর (জুব্বার)।
‘ওয়া ফির রিকাজি আল-খুমুস’ (وفى الركاز الخمس): কোনো ব্যক্তি যদি ভূগর্ভস্থ প্রাচীন জাহেলী যুগের গুপ্তধন বা প্রামাণ্য খনিজ লাভ করে, তবে তাকে কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে তার এক-পঞ্চমাংশ (২০%) বাইতুল মালে জমা দিতে হবে। এতে নিসাব বা এক বছর পূর্ণ হওয়ার কোনো শর্ত নেই।
৭ নম্বর প্রশ্ন
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغَفَّلِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلاَبِ وَرَخَّصَ فِي كَلْبِ الصَّيْدِ وَالْغَنَمِ، وَقَالَ: إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ بِالتُّرَابِ-
[৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনুল মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর নিধনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে শিকারী কুকুর ও পশুপালের পাহারাদার কুকুর পালনের অনুমতি দিয়েছিলেন; এবং তিনি বলেছিলেন: যখন কোনো কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দিয়ে পান করে, তখন তোমরা তা সাতবার ধৌত করবে এবং অষ্টম বার মাটি দ্বারা ঘষে পরিচ্ছন্ন করবে।]
(الف) كيف يطهر الإناء إذا ولغ الكلب فيه؟ وما الاختلاف فيه بين العلماء؟
[(ক) কুকুরে মুখ দেওয়া পাত্র পবিত্র করার পদ্ধতি ও ওলামাদের মতভেদ:]
- ইমাম শাফেয়ী ও আহমাদ ইবনে হাম্বল (র.)-এর মতে: হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশের আলোকে পাত্রটি নিশ্চিতভাবে সাতবার পানি দিয়ে ধুতে হবে এবং এর যেকোনো একবার (বিশেষত প্রথম বা শেষবার) মাটি দিয়ে মর্দন করা ওয়াজিব। কারণ কুকুরের লালা নাপাকে গালাযা এবং এতে ক্ষতিকর বিষাক্ত জীবাণু থাকে।
- ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে: সাধারণ অন্যান্য নাপাকির ন্যায় কুকুর মুখ দেওয়া পাত্র তিনবার পানি দ্বারা ভালো করে ধৌত করলেই তা সম্পূর্ণ পাক হয়ে যাবে। সাতবার ধোয়া এবং মাটি ব্যবহারের নির্দেশটি ছিল তৎকালীন পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুনাশকতার মুস্তাহাব তাগিদ।
- আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা: চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, কুকুরের লালায় ‘র্যাবিস’ ও কৃমির মারাত্মক জীবাণু থাকে যা কেবল পানি দিয়ে দূর হয় না; মাটির অম্লীয় উপাদান জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম।
(ب) عرف الكلب المعلم- وما هى شروط الكلب المعلم؟ هل يجوز قتل الكلاب؟
[(খ) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের সংজ্ঞা, শর্তাবলি ও কুকুর হত্যার বিধান:]
আল-কালবুল মুআল্লাম (الكلب المعلم): যে শিকারী কুকুরকে বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিকার ধরার নিয়ম শেখানো হয়েছে। এর তিনটি প্রধান শর্ত: (১) মালিক শিকার ধরতে পাঠালে সে তাৎক্ষণিক ছুটে যাবে, (২) মালিক থামতে বললে থেমে যাবে, এবং (৩) শিকার ধরে সে নিজে খাবে না; বরং অক্ষত অবস্থায় মালিকের জন্য আটকে রাখবে।
কুকুর হত্যার বিধান: ইসলামের সূচনালগ্নে বিশেষ পরিস্থিতিতে কুকুর হত্যার সাধারণ নির্দেশ থাকলেও পরবর্তীতে তা রহিত (মানসূখ) করা হয়েছে। বর্তমানে অকারণে সাধারণ কুকুর হত্যা করা সম্পূর্ণ না-জায়েজ ও জুলুম। তবে যেসব পাগলা কুকুর বা হিংস্র কালো কুকুর মানুষকে কামড়ায় বা বিষাক্ত রোগ ছড়ায় (الكلب العقور), কেবল সেগুলোকে আত্মরক্ষা ও জনস্বার্থে হত্যা করা জায়েজ।
৮ নম্বর প্রশ্ন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ-
[৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—যদি না আমার উম্মতের ওপর তা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকত, তবে আমি অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের পূর্বে মিসওয়াক করার বাধ্যতামূলক আদেশ দিতাম।]
(الف) ما معنى السواك؟ وما هى الأحوال التى يستحب فيها السواك؟
[(ক) মিসওয়াকের অর্থ ও যেসব অবস্থায় মিসওয়াক মুস্তাহাব:]
অর্থ: ‘মিসওয়াক’ (السواك) শব্দটি ‘সাওক’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ঘর্ষণ করা বা মর্দন করা। শরীয়তের পরিভাষায়, দাঁত, মাড়ি ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করে পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে পিলু বা যায়তুন গাছের তাজা ডাল দিয়ে দাঁত মর্দন করার নাম মিসওয়াক।
মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ: (১) প্রত্যেক সালাতের প্রাক্কালে, (২) ওযুর সূচনায় কুলি করার সময়, (৩) নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার পর, (৪) কুরআন তিলাওয়াত বা হাদীস পাঠের পূর্বে, (৫) দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে, এবং (৬) ঘরে প্রবেশের সময়।
(ب) هل السواك سنن الوضوء أم الصلوة؟ بين فضائله-
[(খ) মিসওয়াক কি ওযুর সুন্নত নাকি সালাতের? মিসওয়াকের ফজিলত:]
ফিকহী মতভেদ: ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে মিসওয়াক হলো ওযুর সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। কারণ ওযুর উদ্দেশ্যই হলো বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করা। অপরপক্ষে ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে এটি সালাতের স্বতন্ত্র সুন্নত; কারণ বান্দা যখন সালাতে রবের সামনে দাঁড়ায় তখন পবিত্রতম হওয়া জরুরি।
মিসওয়াকের ফজিলত: সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন: السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ
অর্থাৎ “মিসওয়াক হলো মুখের যাবতীয় দুর্গন্ধ ও আবর্জনা দূরকারী এবং মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পরম মাধ্যম” (সুনানে নাসাঈ)। মিসওয়াকযুক্ত ওযুর সালাতের সওয়াব সাধারণ সালাতের চেয়ে সত্তর গুণ বৃদ্ধি পায়।
৯ নম্বর প্রশ্ন
عَنْ عَائِشَةَ (رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا) أَنَّهَا قَالَتْ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ-
[৯. হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করতেন, অতঃপর মুসলিম মহিলারা তাদের চাদর আবৃত করে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতেন; ভোরের অন্ধকারের কারণে তাদেরকে চেনা যেত না।]
(الف) بين إختلاف الأئمة فى أفضلية الإسفار أو الغلس بالفجر مدللا-
[(ক) ফজরের সালাতে গালাস (অন্ধকার) নাকি ইসফার (ফর্সা করা) উত্তম—ইমামগণের মতভেদ:]
- ইমাম শাফেয়ী, মালিক ও আহমাদ (র.)-এর মত (তাগলিস উত্তম): তাঁদের মতে সুবহে সাদিকের পরপরই অন্ধকারের মধ্যে ফজরের সালাত শুরু করা উত্তম। তাঁদের দলিল হলো হযরত আয়েশা (রা.)-এর আলোচ্য হাদীস যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন অন্ধকারে সালাত শেষ করতেন যে মহিলাদের চেনা যেত না।
- ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মত (ইসফার উত্তম): হানাফী মাযহাব মতে আকাশ কিছুটা ফর্সা ও আলোকিত করে ফজরের সালাত আদায় করা মুস্তাহাব ও উত্তম। তাঁদের অকাট্য দলিল হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্পষ্ট নির্দেশ:
أَسْفِرُوا بِالْفَجْرِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ
অর্থাৎ “তোমরা ফজরকে ফর্সা ও আলোকিত করে পড়, কেননা এতে সওয়াব অনেক বেশি” (তিরমিযী)। ফর্সা করে পড়লে জামাতে মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ কেরাত তিলাওয়াত করা সম্ভব হয়।
(ب) أذكر حكم قرائة سورة الفاتحة فى الصلوة-
[(খ) সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের শরয়ী বিধান:]
- একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য: চার মাযহাবের ঐকমত্যে একাকী সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব বা ফরজ।
- ইমামের পেছনে মুক্তাদীর ফাতিহা পাঠ:
- ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে: ইমামের পেছনে নিঃশব্দ ও সশব্দ সকল সালাতেই মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ। দলিল:
لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
। - ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে: মুক্তাদীর জন্য ইমামের পেছনে কোনো কেরাত বা সূরা ফাতিহা পাঠ করা বৈধ নয়; বরং নীরব থেকে ইমামের কেরাত মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব। দলিল: কুরআনের নির্দেশ—
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا
এবং হাদীস—مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَقِرَاءَةُ الإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ
(যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কেরাতই তার কেরাত)।
- ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে: ইমামের পেছনে নিঃশব্দ ও সশব্দ সকল সালাতেই মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ। দলিল:
১০ নম্বর প্রশ্ন
عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ، وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَصُومُ قَبْلَ الْهِلاَلِ بِيَوْمٍ-
[১০. ইমাম যুহরী সূত্রে সালেম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—যখন তোমরা নতুন চাঁদ দেখবে তখন রোজা রাখবে, আর যখন তা দেখবে তখন রোজা ভঙ্গ করবে (ঈদ করবে); আর যদি মেঘমালার কারণে আকাশ আচ্ছন্ন থাকে, তবে তোমরা তার হিসাব গণনা করে নেবে। আর ইবনে উমর (রা.) চাঁদ দেখার পূর্বের দিনেও রোজা রাখতেন।]
(الف) ما معنى الصوم لغة وشرعًا؟ وما الحكمة فى فرضية الصوم؟
[(ক) সওমের অর্থ ও রোজা ফরজ হওয়ার হিকমত:]
অর্থ: ‘সওম’ (الصوم) শব্দের আভিধানিক অর্থ যেকোনো বস্তু থেকে বিরত থাকা বা সংযম পালন করা (الإمساك)। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌন মিলন এবং রোজা ভঙ্গকারী যাবতীয় বিষয় থেকে নিয়তসহ বিরত থাকার নাম সওম।
রোজা ফরজ হওয়ার হিকমত: প্রধান হিকমত হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা (لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
)। এছাড়া কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা, দরিদ্র ও অনাহারী মানুষের দুঃখ-কষ্ট প্রত্যক্ষ উপলব্ধি করা, আত্মসংযম ও ধৈর্যের প্রশিক্ষণ লাভ এবং শারীরিক সুস্থতা অর্জন করা।
(ب) ما هو يوم الشك؟ وما حكم الصوم فيه؟ كيف صح صوم ابن عمر قبل الهلال بيوم؟ بين-
[(খ) ইয়াওমুশ শাক্ক কী? এর রোজা রাখার হিকমত ও ইবনে উমরের আমলের ব্যাখ্যা:]
ইয়াওমুশ শাক্ক (يوم الشك – সন্দেহের দিন): শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় মেঘ বা কুয়াশার কারণে আকাশ আচ্ছন্ন থাকায় যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে পরদিনটি কি শাবানের ৩০ তারিখ নাকি রমজানের ১ তারিখ—এ নিয়ে মানুষের মনে যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, সেই দিনটিকে ‘ইয়াওমুশ শাক্ক’ বলা হয়।
রোজা রাখার হুকুম: রমজানের ফরজ হিসেবে ইয়াওমুশ শাক্কের দিনে আগাম রোজা রাখা মাকরূহে তাহরীমী বা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “তোমরা রমজানের আগে একদিন বা দুইদিন রোজা রেখো না।”
ইবনে উমর (রা.)-এর আমলের ব্যাখ্যা: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ২৯ শাবান আকাশ মেঘলা থাকলে সতর্কতামূলক নফল হিসেবে রোজা রাখতেন; তিনি একে কখনই রমজানের ফরজ রোজা মনে করতেন না। এটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ইজতিহাদী আমল, যা সাধারণ উম্মতের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ১ × ১০ = ১০)
(أجب عن واحد مما يلى)
[যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
১১ নম্বর প্রশ্ন
اكتب ترجمة الإمام البخارى رحمه الله تعالى ثم مع بيان مزايا صحيحه-
[১১. ইমাম বুখারী (র.)-এর জীবনী এবং তাঁর সংকলিত সহীহ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]
ইমাম বুখারী (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত
নাম ও জন্ম: আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল মুগীরাহ আল-বুখারী আল-জু’ফী। তিনি ১৯৪ হিজরির ১৩ শাওয়াল খোরাসানের বুখারা নগরীতে এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
জ্ঞানার্জন ও স্মৃতিশক্তি: শৈশবেই তিনি পিতৃহীন হন। আল্লাহ তাঁকে অলৌকিক প্রখর স্মৃতিশক্তি দান করেছিলেন। তিনি ষোল বছর বয়সেই হাজার হাজার হাদীস সনদসহ মুখস্থ করে ফেলেন। হাদীস অন্বেষণে তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা, বাগদাদ, দামেস্ক ও মিসর পরিভ্রমণ করেন। তিনি ২৫৬ হিজরির ১ শাওয়াল ঈদুল ফিতরের রাতে সমরকন্দের নিকটবর্তী খরতংক গ্রামে ইন্তেকাল করেন।
‘সহীহুল বুখারী’ গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা
- পবিত্র কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ: উম্মতের সর্বসম্মত ঐকমত্যে আসমানী কিতাব আল-কুরআনের পর মানবজাতির ইতিহাসে সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো ‘সহীহুল বুখারী’।
- কঠোর শর্তাবলি: ইমাম বুখারী কেবল সহীহ হাদীস সংকলনের কঠোর শর্ত আরোপ করেছিলেন। তিনি সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষকের প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ ও শ্রবণ সুপ্রমাণিত হওয়া বাধ্যতামূলক করেছিলেন।
- তারাজুমুল আবওয়াব (অনুপম শিরোনাম বিন্যাস): ইমাম বুখারীর গভীর ফিকহী দূরদর্শিতা তাঁর উদ্ভাবিত অধ্যায়ের শিরোনামে প্রতিফলিত হয়েছে (
فِقْهُ الْبُخَارِيِّ فِي تَرَاجِمِهِ
)। - আধ্যাত্মিক পবিত্রতা: প্রতিটি হাদীস গ্রন্থে সন্নিবেশিত করার পূর্বে তিনি গোসল করে দুই রাকাত ইস্তিখারার সালাত আদায় করে পূর্ণ নিশ্চিত হতেন। ষোল বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাধনায় তিনি ছয় লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই-বাছাই করে এ অমর গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন।
১২ নম্বর প্রশ্ন
اذكر نبذة من حياة الإمام النسائى رحمه الله تعالى مع بيان خصائص سننه ومنزلته بين الصحاح الستة-
[১২. ইমাম নাসাঈ (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত এবং তাঁর সংকলিত সুনানের বৈশিষ্ট্য ও সিহাহ সিত্তাহর মাঝে এর মর্যাদা বর্ণনা কর।]
ইমাম নাসাঈ (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
নাম ও জন্ম: তাঁর পূর্ণ নাম ইমাম আবু আবদির রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী ইবনে সিনান আল-খুরাসানী আন-নাসাঈ। তিনি ২১৫ হিজরিতে খোরাসানের বিখ্যাত ‘নাসা’ নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
পাণ্ডিত্য ও শাহাদাত: তিনি ছিলেন হাদীসের একজন সুবিখ্যাত হাফেজ ও সূক্ষ্ম রিজালশাস্ত্রবিদ। তিনি কুতাইবা ইবনে সাঈদ ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ প্রমুখ মহামনীষীদের নিকট হাদীস শিক্ষা করেন। জীবনের শেষভাগে দামেস্কে উমাইয়াদের একদল উগ্রপন্থী দ্বারা হযরত আলী (রা.)-এর ফজিলত বর্ণনার কারণে নির্যাতিত হয়ে ৩০৩ হিজরিতে পবিত্র মক্কায় শাহাদাত বরণ করেন।
‘সুনানে নাসাঈ’ (আল-মুজতাবা)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ
- সনদ ও রাবীর ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা: ইমাম নাসাঈ রাবীদের নির্ভরযোগ্যতা বিচারে ইমাম মুসলিম এবং অনেকের মতে ইমাম বুখারীর চেয়েও কঠোর ছিলেন। কোনো রাবীর ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহ থাকলে তিনি তাঁর হাদীস বর্জন করতেন।
- সূক্ষ্ম ইল্লত ও মতভেদ উন্মোচন: একটি হাদীসের বিভিন্ন সনদ এবং রাবীদের মধ্যকার সূক্ষ্ম পাঠভেদ (ইখতিলাফে আলফায) এক স্থানে সমাবেশ ঘটিয়ে তিনি ইলমুল ইলালের বিস্ময়কর সমাধান দিয়েছেন।
- সহীহ হাদীসের প্রাচুর্য: সুনান চতুষ্টয়ের (নাসাঈ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ) মধ্যে সুনানে নাসাঈতে দুর্বল হাদীসের সংখ্যা সবচেয়ে কম।
সিহাহ সিত্তাহর মাঝে সুনানে নাসাঈর মর্যাদা
মুহাদ্দিসীন কিরামের নিকট বিশুদ্ধতা ও শর্তের কঠোরতার মানদণ্ডে বুখারী ও মুসলিমের পরই সুনানে নাসাঈর স্থান নির্ধারিত হয়েছে। মাগরিব বা আন্দালুসিয়ার অনেক শীর্ষ আলেম একে সুনানে আবু দাউদের চেয়েও অগ্রবর্তী মর্যাদা দিয়েছেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ‘দিরাসাতুল হাদীস’ পাঠের মূল উদ্দেশ্য কী?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্বাচিত প্রামাণ্য হাদীসসমূহের গভীর অর্থ, ব্যাকরণ, ফিকহী ইস্তিম্বাত এবং সমকালীন জীবনের প্রয়োগপদ্ধতি বিশ্লেষণ করা।
২. নিয়তের হাদীসকে ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ ইলম বলা হয় কেন?
কারণ মানুষের যাবতীয় আমল তিনটি মাধ্যমে সম্পাদিত হয়—অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ; আর নিয়ত হলো অন্তরের আমল যা অপর দুই অঙ্গের আমলকে পরিশুদ্ধ করে।
৩. স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দেখা কি সত্য?
হ্যাঁ, সহীহ হাদীসের ঘোষণা অনুযায়ী শয়তান কখনোই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সুরত ধারণ করতে পারে না; সুতরাং কেউ নবীজিকে তাঁর আসল বৈশিষ্ট্যে স্বপ্নে দেখলে তা সত্য।
৪. ইসলামে মজলুমের বদদোয়াকে কেন সবচেয়ে বেশি ভয় করতে বলা হয়েছে?
কারণ মজলুম যতই দুর্বল হোক না কেন, তার আর্তনাদ ও মহান আল্লাহর দরবারের মাঝে কোনো অন্তরায় বা পর্দা থাকে না এবং তা অবিলম্বে কবুল হয়।
৫. ইমাম বুখারীর সহীহ গ্রন্থের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
এটি কুরআনুল কারীমের পর বিশুদ্ধতম গ্রন্থ, যেখানে ইমাম বুখারী প্রতিটি হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে রাবীর সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি সরাসরি সাক্ষাৎকার সুপ্রমাণিত হওয়া বাধ্যতামূলক করেছেন।
৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষায় দিরাসাতুল হাদীসে ভালো নম্বর পাওয়ার উপায় কী?
হাদীসের নিখুঁত বাংলা তর্জমা, কঠিন শব্দের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ফিকহী মাসায়েল এবং ইমামগণের দলিলভিত্তিক মতামত পয়েন্ট আকারে লেখা অপরিহার্য।