জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-জামি’ আস-সহীহ লিল ইমাম আল-বুখারী (Al-Jami’ as-Sahih lil Imam al-Bukhari) – 411, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

Abswer.com Abswer.com
19 September, 2026
৮২ মিনিট পড়ার সময়
১৪ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القسم: الحديث والدراسات الإسلامية [বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المادة: الجامع الصحيح للإمام البخاري [বিষয়: আল-জামি’ আস-সহীহ লিল ইমাম আল-বুখারী]
كود المادة [বিষয় কোড]: 411 | كود الامتحان [পরীক্ষা কোড]: 204 | كود ورقة الأسئلة [প্রশ্নপত্র কোড]: 178
الزمن [সময়]: ৪ ঘণ্টা | الدرجات الكاملة [পূর্ণমান]: ৮০

الملاحظة [দ্রষ্টব্য]: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة- [ক বিভাগ (مجموعة أ) থেকে যে কোনো চারটি এবং খ বিভাগ (مجموعة ب) থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মার্জিনের সংখ্যা পূর্ণমান নির্দেশ করে।]


مجموعة (أ) – [ক বিভাগ]

নিচের হাদিসগুলোর অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। মান: ১৬ × ৪ = ৬৪


১. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী

١- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا يزنى الزانى حين يزنى وهو مؤمن- ولا يشرب الخمر حين يشرب وهو مؤمن- ولا يسرق حين يسرق وهو مؤمن- ولا ينتهب نهبة يرفع الناس إليه فيها أبصارهم حين ينتهبها وهو مؤمن-

[১. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করে না; মদপায়ী যখন মদ পান করে তখন সে মুমিন অবস্থায় মদ পান করে না; চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন অবস্থায় চুরি করে না; এবং কোনো ছিনতাইকারী বা লুণ্ঠনকারী যখন এমন মূল্যবান সম্পদ প্রকাশ্যে ছিনতাই করে যার দিকে মানুষ অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মুমিন অবস্থায় তা করে না।” [সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ২৪৭৫, ৫৫৭৮]]

(أ) تحدث عن حد الزنا مع ذكر الأدلة من القرآن الكريم والسنة النبوية-

[(ক) কুরআন ও সুন্নাহর দলিল উল্লেখপূর্বক ব্যভিচারের শাস্তি (হাদ্দুজ জিনা) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা: ইসলামী শরিয়তে মানব সমাজের বংশমর্যাদা, পারিবারিক পবিত্রতা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতা রক্ষার স্বার্থে ব্যভিচারকে (যিনা) অন্যতম মারাত্মক কবিরা গুনাহ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর জন্য কঠোরতম শরয়ি দণ্ডবিধি (হাদ্দ) নির্ধারণ করা হয়েছে।

১. ব্যভিচারের পরিচয়: শরিয়তের পরিভাষায় কোনো বৈধ বিবাহবন্ধন বা শরিয়তসম্মত মালিকানা ব্যতিরেকে কোনো পুরুষ ও নারীর মধ্যে সংঘটিত যৌন মিলনকে ব্যভিচার (যিনা) বলা হয়।

২. ব্যভিচারের প্রকারভেদ ও নির্ধারিত হাদ্দ (শাস্তি): শরিয়তে ব্যভিচারীর বৈবাহিক অবস্থা অনুযায়ী শাস্তি দুই প্রকারে বিভক্ত:

  • ক. গাইরে মুহসান (অবিবাহিত ব্যভিচারী): যে ব্যক্তি কোনো বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়নি বা সংগম করেনি, এমন স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তার শাস্তি হলো ১০০টি বেত্রাঘাত এবং ক্ষেত্রবিশেষে এক বছরের জন্য দেশান্তর।

    কুরআনুল কারিমের দলিল:

    الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ

    “ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ—তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত কর। আর আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি কোনো দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক।” (সূরা আন-নূর: ২)

  • খ. মুহসান (বিবাহিত ব্যভিচারী): যে ব্যক্তি পূর্বে বা বর্তমানে কোনো বৈধ শরিয়তসম্মত বিবাহের মাধ্যমে সহবাসের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে, এমন ব্যক্তি ব্যভিচার করলে তার নির্ধারিত শরয়ি শাস্তি হলো ‘রজম’ (الرجم) অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা।

    সুন্নাহে নববীর দলিল: সুন্নাহ ও উম্মাহর ইজমা দ্বারা রজমের বিধান চূড়ান্তভাবে সাব্যস্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং তাঁর জীবদ্দশায় একাধিক ক্ষেত্রে রজম কার্যকর করেছেন।
    সহীহ মুসলিমে হযরত উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

    خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي، قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا، الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْيُ سَنَةٍ، وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ

    “তোমরা আমার থেকে বিধান গ্রহণ কর, তোমরা আমার থেকে বিধান গ্রহণ কর! নিশ্চয় আল্লাহ তাদের জন্য পথ করে দিয়েছেন: অবিবাহিতের সাথে অবিবাহিতের ব্যভিচারে একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের দেশান্তর; আর বিবাহিতের সাথে বিবাহিতের ব্যভিচারে একশত বেত্রাঘাত ও রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড)।” (সহীহ মুসলিম: ১৬৯০)
    এছাড়াও হযরত মা’ইজ ইবনে মালিক আল-আসলামী (রা.) এবং গামেদিয়া গোত্রের মহিলার স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক রজম বাস্তবায়নের ঘটনা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে মুতাওয়াতির সনদে বর্ণিত হয়েছে।

৩. ব্যভিচারের শাস্তি প্রমাণের শর্তাবলি: হাদ্দ কার্যকর করার জন্য অত্যন্ত কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে: চারজন বিশ্বস্ত, ন্যায়পরায়ণ ও চাক্ষুষ প্রত্যক্ষদর্শী পুরুষ সাক্ষীর অকাট্য সাক্ষ্য অথবা বিচারকের সামনে ব্যভিচারীর চারবার দ্ব্যর্থহীন স্বীকারোক্তি। কোনো প্রকার সন্দেহ (শুবহাত) থাকলে হাদ্দ রহিত হয়ে যায়।

(ب) حقق الكلمات الآتية : لا يزنى، مؤمن، يسرق، نهبة، أبصارهم-

[(খ) উল্লেখিত শব্দগুলোর তাহকিক (صيغة، بحث، باب، مصدر، مادة/جنس، معنى) কর।]

উত্তর:

الكلمات (শব্দ) الصيغة (রূপ) البحث (শ্রেণি) الباب (অধ্যায়) المصدر (ধাতুমূল) المادة ও الجنس المعنى (বাংলা অর্থ)
لاَ يَزْنِي واحد مذكر غائب نفي فعل مضارع معروف ضَرَبَ يَضْرِبُ الزِّنَا / الزِّنَاءُ ز-ن-ي (معتل – ناقص يائي) সে ব্যভিচার করে না / লিপ্ত হয় না
مُؤْمِنٌ واحد مذكر اسم فاعل الإِفْعَالُ الإِيْمَانُ أ-م-ن (مهموز الفاء) বিশ্বাসী / মুমিন ব্যক্তি
يَسْرِقُ واحد مذكر غائب اثبات فعل مضارع معروف ضَرَبَ يَضْرِبُ السَّرِقُ / السَّرِقَةُ س-ر-ق (صحيح) সে চুরি করে / অপকর্ম করে
نُهْبَةٌ واحد مؤنث اسم مصدر / اسم لما يُنْهَبُ فَتَحَ يَفْتَحُ النَّهْبُ ن-ه-ب (صحيح) ছিনতাই বা প্রকাশ্যে লুণ্ঠিত সম্পদ
أَبْصَارُهُمْ جمع تكسير (قلة) مضاف إلى ضمير الجمع اسم جامد (মুফরাদ: بَصَرٌ) البَصَرُ ب-ص-ر (صحيح) তাদের চোখসমূহ / দৃষ্টিসমূহ

২. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী

٢- عن ابن عمر رضى الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج معتمরা فحال كفار قريش بينه وبين البيت فنحر هديه وحلق رأسه بالحديبية وقاضاهم على أن يعتمر العام المقبل ولا يحمل سلاحًا عليهم إلّا سيوفًا ولا يقيم بها إلّا ما أحبوا فاعتمر من العام المقبل فدخلها كما كان صالحهم فلما ان أقام بها ثلاثا أمروه أن يخرج فخرج-

[২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমরা পালনের উদ্দেশ্যে (মক্কার পথে) বের হলেন। কিন্তু কুরাইশ কাফেররা তাঁর ও কাবাগৃহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করল। তখন তিনি হুদাইবিয়াতেই তাঁর সাথে থাকা কুরবানির পশু জবাই করলেন এবং তাঁর মাথা মুণ্ডন করলেন। অতঃপর তিনি তাদের সাথে এই মর্মে সন্ধিচুক্তি করলেন যে, তিনি পরবর্তী বছর উমরা আদায় করবেন এবং কোষবদ্ধ তলোয়ার ছাড়া তাদের ওপর কোনো অস্ত্র বহন করবেন না এবং তারা যতদিন পছন্দ করে (তিন দিন) তার বেশি সেখানে অবস্থান করবেন না। অতঃপর পরবর্তী বছর তিনি উমরা আদায় করলেন এবং তাদের সাথে সম্পাদিত সন্ধির শর্তানুযায়ী মক্কায় প্রবেশ করলেন। অতঃপর যখন তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করলেন, তখন কাফেররা তাঁকে মক্কা ত্যাগ করতে নির্দেশ দিল এবং তিনিও মক্কা হতে প্রস্থান করলেন। [সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৪২৫১]

(أ) متى وقع صلح الحديبية؟ أذكر أهمية صلح الحديبية موجزًا-

[(ক) হুদাইবিয়ার সন্ধি কখন সংঘটিত হয়েছিল? হুদাইবিয়ার সন্ধির ঐতিহাসিক ও দ্বীনি গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর:

১. হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়কাল: হুদাইবিয়ার সন্ধি ঐতিহাসিক হিজরি ষষ্ঠ সনের জিলকদ মাসে (মার্চ ৬২৮ খ্রিস্টাব্দ) মক্কার অদূরে ‘হুদাইবিয়া’ নামক প্রান্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং কুরাইশ প্রতিনিধি সুহাইল ইবনে আমরের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল।

২. হুদাইবিয়ার সন্ধির গুরুত্ব ও সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য: বাহ্যিক দৃষ্টিতে সন্ধির শর্তগুলো মুসলিমদের জন্য অবমাননাকর বা অসম মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী টার্নিং পয়েন্ট। মহান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং কুরআনুল কারিমে একে ‘ফাতহুম মুবিন’ (সুস্পষ্ট বিজয়) ঘোষণা করেছেন: “নিশ্চয় আমি আপনাকে এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি” (সূরা আল-ফাতহ: ১)। এর মূল গুরুত্বসমূহ নিম্নরূপ:

  • ক. মদিনা রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি: এর মাধ্যমে মক্কার অহংকারী কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মদিনার ইসলামী রাষ্ট্র এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সমকক্ষ রাজনৈতিক পক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
  • খ. দাওয়াতের দ্বার উন্মোচন: দশ বছরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় আরবের সাধারণ মানুষ মুসলমানদের সাথে অবাধ মেলামেশা ও ইসলামের সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পায়। ফলে সন্ধির পরবর্তী মাত্র দুই বছরে যত মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তা পূর্ববর্তী বিশ বছরের মোট সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি ছিল। এ সময়েই হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আস (রা.)-এর মতো প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বরা ইসলামে দীক্ষিত হন।
  • গ. বিশ্বনেতৃবৃন্দের নিকট দ্বীনের দাওয়াত প্রেরণ: অভ্যন্তরীণ সামরিক উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ায় রাসূলুল্লাহ (সা.) রোম, পারস্য, আবিসিনিয়া, মিসরসহ বিশ্বের তৎকালীন পরাশক্তিগুলোর সম্রাট ও শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র পাঠাতে সক্ষম হন।
  • ঘ. মক্কা বিজয়ের সুবর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর: হুদাইবিয়ার সন্ধির পথ ধরেই পরবর্তীকালে মাত্র দুই বছর পর (৮ম হিজরিতে) রক্তপাতহীনভাবে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় সাধিত হয়।

(ب) عرف العمرة مع ذكر أركانها-

[(খ) উমরার সংজ্ঞা দাও এবং এর রুকনসমূহ উল্লেখ কর।]

উত্তর:

১. উমরার সংজ্ঞা:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘উমরা’ (العمرة) শব্দটি ‘ই’তিমার’ (الاعتمار) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ যিয়ারত করা, দর্শন করা বা কোনো স্থানে উপনীত হওয়া (الزيارة)।
  • পারিভাষিক অর্থ: ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় নির্দিষ্ট নিয়মে মিকাত থেকে ইহরাম পরিধানপূর্বক কাবাগৃহ তাওয়াফ করা, সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সা’ঈ করা এবং চুল মুণ্ডন বা ছোট করার মাধ্যমে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার পূর্ণাঙ্গ ইবাদতকে উমরা বলা হয়।

২. উমরার শরয়ি বিধান: ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর মতে জীবনে একবার উমরা আদায় করা সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর ফরজ। অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে উমরা আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।

৩. উমরার রুকনসমূহ (أركان العمرة): ফুকাহায়ে কেরামের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতানুযায়ী উমরার রুকন মূলত ৩টি (মতান্তরে ৪টি):

  • ১. ইহরাম (الإحرام): মিকাত অতিক্রম করার পূর্বে উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠসহ নির্ধারিত পোশাকে নিজেকে আবদ্ধ করা।
  • ২. তাওয়াফ (الطواف بالبيت): পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করা।
  • ৩. সা’ঈ (السعي بين الصفا والمروة): সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে নির্ধারিত নিয়মে সাতবার দৌড়ানো বা প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করা।
  • ৪. হলক বা তাকসির (الحلق أو التقصير): মাথা মুণ্ডন করা অথবা পুরো মাথার চুল সমানভাবে ছাঁটা (ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর মতে এটি রুকন, জমহুর হানাফিগণের মতে এটি ওয়াজিব)।

৩. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী

٣- عن أبى هريرة رضى الله عنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يبيع حاضر لباد ولا تناجشوا ولا يبيع الرجل على بيع اخيه ولا يخطب على خطبة اخيه ولا تسأل المرأة طلاق اختها لتكفأ ما فى انائها-

[৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন— কোনো শহরবাসী যেন কোনো গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি না করে, তোমরা পরস্পরে প্রতারণামূলকভাবে কৃত্রিম দর বাড়াবে না (নাজাশ করবে না), কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের বেচাকেনার ওপর বেচাকেনা না করে, কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর বিয়ের প্রস্তাব না দেয়, এবং কোনো নারী যেন তার অপর বোনের (সতিনের) পাত্রে যা আছে তা নিজের পাত্রে নিঃশেষ করার উদ্দেশ্যে তার তালাক প্রার্থনা না করে। [সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ২১৪০, ২১৭৭]

(أ) ما معنى النجش لغة واصطلاحًا؟ ثم اذكر أقوال الفقهاء في حكمه-

[(ক) আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ‘নাজাশ’ (النجش)-এর পরিচয় কী? এরপর এর বিধান সম্পর্কে ফকিহগণের মতামত উল্লেখ কর।]

উত্তর:

১. নাজাশের পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘নাজাশ’ (النَّجْشُ) শব্দের মূল অর্থ প্ররোচিত করা, কোনো কিছুকে আলোড়িত বা উসকে দেওয়া (الإثارة والتحريك)। শিকারকে তাড়িত করে ফাঁদে ফেলার ক্ষেত্রেও এ শব্দ ব্যবহৃত হয়।
  • পারিভাষিক অর্থ: শরিয়তের পরিভাষায় কোনো পণ্য নিজে কেনার উদ্দেশ্য ছাড়াই শুধুমাত্র সাধারণ ক্রেতাদের প্রতারিত করে বেশি দামে কিনতে প্রলুব্ধ করার লক্ষ্যে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে বলাকে ‘নাজাশ’ বলা হয়। যেমন: নিলামে বা সাধারণ বাজারে বিক্রেতার সাথে যোগসাজশে কোনো দালাল ক্রেতা সেজে চড়া দাম হাকাতে থাকে।

২. নাজাশের শরয়ি হুকুম ও ফুকাহাদের মতামত:

  • ক. নাজাশের মৌলিক হুকুম: সমস্ত ফুকাহা ও উম্মাহর সর্বসম্মত ইজমা অনুযায়ী ‘নাজাশ’ সম্পূর্ণ হারাম এবং কবিরা গুনাহ। কারণ এটি চরম পর্যায়ের ধোঁকাবাজি (গাশ্শ), অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা।
  • খ. নাজাশকৃত কেনাবেচা চুক্তির বৈধতা নিয়ে মতভেদ:
    • জমহুর ফুকাহা (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম মালেক রহ.): তাঁদের মতে নাজাশকারী চরম গুনাহগার হলেও মূল কেনাবেচার চুক্তিটি (আকদ) বাতিল হবে না; বরং তা শর্তসাপেক্ষে কার্যকর হবে। তবে প্রতারিত ক্রেতা যদি জানতে পারে যে তাকে ঠকানো হয়েছে, তবে অধিকাংশের মতে সে প্রতারণার ক্ষতিপূরণ (খিয়ারুল গাবানিল ফাহিশ) পাওয়ার অধিকারী হবে এবং চাইলে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
    • ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর একটি রেওয়ায়েত এবং জাহেরি মাজহাব: তাঁদের মতে যে চুক্তির ভিত্তিই প্রতারণা ও শরিয়তের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে চুক্তিটি মূল থেকেই বাতিল (ফাসিদ/বাতিল)। ক্রেতা পণ্য ফেরত দিয়ে তার পুরো মূল্য ফেরত নিতে বাধ্য থাকবে।

(ب) ما هو بيع الحاضر للباد؟ تحدث عن حكمه وعلة نهيه-

[(খ) শহরবাসী কর্তৃক গ্রামবাসীর পণ্য বিক্রি (বাই’উল হাদিরি লিল বাদি) কী? এর হুকুম এবং নিষেধাজ্ঞার ইল্লত (কারণ) বর্ণনা কর।]

উত্তর:

১. ‘বাই’উল হাদিরি লিল বাদি’ (بيع الحاضر للباد)-এর স্বরূপ:
গ্রামাঞ্চল বা দূরদূরান্ত থেকে কোনো কৃষক, খামারি বা ব্যবসায়ী যখন তার উৎপাদিত শস্য, ফলমূল বা গবাদিপশু শহরের খোলা বাজারে স্বাভাবিক মূল্যে দ্রুত বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে, তখন কোনো শহুরে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল গিয়ে তাকে বলে: “তুমি পণ্য বাজারে নিয়ো না, আমার কাছে রেখে দাও, আমি ধীরে ধীরে চড়া দামে শহরের মানুষের কাছে বিক্রি করে তোমাকে বেশি লাভ এনে দেব।” এই মধ্যস্থতা বা কৃত্রিম সিন্ডিকেট তৈরির নামই হলো ‘বাই’উল হাদিরি লিল বাদি’।

২. শরয়ি হুকুম: অধিকাংশ ফকিহের মতে শহরবাসী কর্তৃক গ্রামবাসীর এমন পণ্য মজুত করে বিক্রি করা মাকরুহে তাহরিমি বা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (হারাম)। তবে যদি শহরবাসী কোনো প্রকার মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি না করে শুধু গ্রামবাসীর কল্যাণার্থে নিঃস্বার্থ পরামর্শ দেয়, তবে তা নিষিদ্ধ নয়।

৩. নিষেধাজ্ঞার ইল্লত (কারণ ও হিকমত):
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্নিহিত মূল সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ স্পষ্ট করেছেন। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে:

دَعُوا النَّاسَ يَرْزُقِ اللَّهُ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ

“তোমরা মানুষকে স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দাও, যাতে আল্লাহ তাআলা তাদের একজনের মাধ্যমে অপরজনকে জীবিকা দান করেন।” (সহীহ মুসলিম: ১৫২২)

  • ক. সাধারণ জনগণের কল্যাণ রক্ষা: গ্রামবাসী সরাসরি বাজারে পণ্য নিয়ে আসলে শহরের সাধারণ ভোক্তা ও দরিদ্র জনগণ সুলভ ও স্বাভাবিক মূল্যে খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারে। দালালরা মাঝখানে ঢুকলে পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
  • খ. মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট দমন: এটি মুক্তবাজার অর্থনীতির বিকৃতি রোধ করে এবং অনৈতিক ফড়িয়া ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করে।

৪. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী

عن أبى هريرة رضي الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: خلق الله أدم وطوله ستون ذراعًا ثم قال إذهب فسلّم على أولئك من الملائكة فاستمع ما يحيونك تحيّتك وتحيّة ذرّيتك فقال السلام عليكم، فقالوا السلام عليك ورحمة الله، فزادوه ورحمة الله فكل من يدخل الجنة على صورة أدم فلم يزل الخلق ينقص حتى الآن-

[৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। অতঃপর আল্লাহ বললেন: ‘যাও, ফেরেশতাদের ওই উপবিষ্ট দলটিকে সালাম দাও এবং তারা তোমার সালামের উত্তরে কী অভিবাদন জানায় তা মনোযোগ দিয়ে শোনো; কেননা সেটাই হবে তোমার এবং তোমার ভবিষ্যৎ বংশধরের পারস্পরিক অভিবাদন।’ অতঃপর আদম (আ.) গিয়ে বললেন: ‘আস-সালামু আলাইকুম’ (আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। ফেরেশতাগণ প্রত্যুত্তরে বললেন: ‘আস-সালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ (আপনার ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)। তাঁরা ‘ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বাক্যটি বৃদ্ধি করলেন। সুতরাং যে কেউই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে আদম (আ.)-এর সুরতেই প্রবেশ করবে। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির শারীরিক আকৃতি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে আসছে।” [সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৩৩২৬, ৬২২৭]]

(أ) ما معنى السلام؟ وما حكمه؟ بين أهمية السلام في ضوء القرآن والسنة بالاختصار-

[(ক) ‘সালাম’-এর অর্থ কী এবং এর হুকুম কী? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সালামের গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর:

১. সালামের অর্থ: ‘আস-সালাম’ (السَّلَامُ) মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একটি পবিত্র গুণবাচক নাম। এর আভিধানিক অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা, যাবতীয় ত্রুটি ও বিপদাপদ থেকে মুক্তি। শরিয়তের পরিভাষায় একজন মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে সাক্ষাতকালে তার ইহকালীন নিরাপত্তা ও পরকালীন শান্তির জন্য নির্ধারিত বাক্য দ্বারা যে দোয়া করে তাকে ‘সালাম’ বলা হয়।

২. সালামের শরয়ি হুকুম:

  • সালাম দেওয়া: সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে) এবং সুন্নাতে কেফায়া (দলের ক্ষেত্রে)। কারো কারো মতে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মুস্তাহাব।
  • সালামের উত্তর দেওয়া: ওয়াজিব বা ফরজে আইন (একক ব্যক্তির ওপর) এবং ফরজে কেফায়া (দলের ওপর; দলের একজন উত্তর দিলে সকলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়)।

৩. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সালামের গুরুত্ব:

  • কুরআনুল কারিমের নির্দেশ: মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:

    وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا

    “আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন জানানো হয় (সালাম দেওয়া হয়), তখন তোমরা তার চেয়ে উৎকৃষ্টতর অভিবাদন জানাও অথবা হুবহু তা-ই ফিরিয়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।” (সূরা আন-নিসা: ৮৬)

  • সুন্নাহে নববীর নির্দেশনা: সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:

    لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ

    “তোমরা মুমিন না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর পরস্পরকে ভালো না বাসা পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের সন্ধান দেব না যা করলে তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সালামের প্রসার ঘটাও।” (সহীহ মুসলিম: ৫৪)

(ب) اشرح قوله عليه الصلوة والسلام: ‘فكل من يدخل الجنة على صورة أدم’-

[(খ) নবী করিম (সা.)-এর বাণী: ‘فكل من يدخل الجنة على صورة أدم’ (জান্নাতে প্রবেশকারী প্রত্যেকেই আদম আলাইহিস সালামের আকৃতিতে প্রবেশ করবে)-এর ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর:

হাদিসাংশের গভীর তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা:
মুহাদ্দিসীনে কেরাম এই মোবারক হাদিসের ব্যাখ্যায় অত্যন্ত চমৎকার কিছু তাত্বিক রহস্য উন্মোচন করেছেন:

  • ১. শারীরিক উচ্চতা ও পূর্ণতা: জান্নাতে প্রবেশকারী প্রতিটি মুমিন মানবদেহের আদি ও নিখুঁততম রূপ—হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)-এর মতো ষাট হাত দীর্ঘ এবং প্রকাণ্ড শারীরিক সৌন্দর্য ও মর্যাদার অধিকারী হবে। পার্থিব জগতে শারীরিক খর্বতা বা বিকলাঙ্গতা জান্নাতের চিরস্থায়ী জীবনে থাকবে না।
  • ২. অপূর্ব সৌন্দর্য ও অঙ্গসৌষ্ঠব: আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ.)-কে কোনো মধ্যবর্তী মাধ্যম ছাড়া স্বহস্তে নিখুঁততম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছিলেন। জান্নাতি বান্দাগণ সেই প্রথম মানবীয় চরম সৌন্দর্যের প্রতীক হবেন। তাছাড়া হাদিসের অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে জান্নাতিরা হযরত ইউসুফ (আ.)-এর মতো অতুলনীয় রূপসৌন্দর্য লাভ করবেন।
  • ৩. চিরস্থায়ী যৌবন ও ত্রুটিহীনতা: জান্নাতিদের বয়স হবে তেত্রিশ বছর। তারা হবেন লোমহীন শরীর, সুরমাযুক্ত চোখ এবং যাবতীয় রোগ-শোক, বার্ধক্য, দুর্বলতা ও শারীরিক অপূর্ণতা থেকে চিরমুক্ত।
  • ৪. অবক্ষয়ের সমাপ্তি: হাদিসের শেষাংশে বলা হয়েছে—’মানুষের শারীরিক গঠন আদম (আ.)-এর পর থেকে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পেতে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে।’ জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যমে এই পার্থিব অবক্ষয় দূর হয়ে মানবজাতি পুনরায় তার মূল পূর্ণাঙ্গ মহিমায় প্রত্যাবর্তন করবে।

৫. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী

٥- عن أبي هريرة رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: تجدون الناس معادن خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا وتجدون خير الناس في هذا الشأن اشدهم له كراهية وتجدون شرّ الناس ذا الوجهين الذي يأتى هؤلاء بوجه ويأتى هؤلاء بوجه-

[৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা মানুষকে খনির মতো (বিভিন্ন ধাতুর স্বভাববিশিষ্ট) দেখতে পাবে; জাহেলিয়াত যুগে যারা স্বভাব ও চরিত্রে সর্বোত্তম ছিল, ইসলামেও তারাই সর্বোত্তম—যদি তারা দীনের সঠিক জ্ঞান ও গভীর প্রজ্ঞা (ফিকহ) অর্জন করে। আর তোমরা রাষ্ট্রপরিচালনা ও নেতৃত্বের দায়িত্বে ওই ব্যক্তিকে সর্বোত্তম পাবে, যে তা গ্রহণের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনাগ্রহী ছিল। এবং তোমরা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পাবে দ্বিমুখী (মুনাফিক স্বভাবের) লোককে, যে এক দলের কাছে এক মুখ নিয়ে যায় এবং অপর দলের কাছে ভিন্ন মুখ নিয়ে যায়।” [সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৩৪৯৩, ৩৪৯৪]]

(أ) اكتب نبذة من حياة أبى هريرة رضى الله عنه ثم اذكر مساهمته في الحديث النبوى-

[(ক) হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অনন্য অবদান উল্লেখ কর।]

উত্তর:

১. সংক্ষিপ্ত জীবনী:

  • নাম ও পরিচয়: ইসলাম গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর নাম রাখেন ‘আব্দুর রহমান’ (ইসলামপূর্ব নাম ছিল আবদুশ শামস)। তাঁর কুনিয়াত ছিল ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়ালছানার পিতা); একটি বিড়ালছানাকে পরম যত্নে রাখার কারণে বিশ্বনবী (সা.) ভালোবেসে তাঁকে এই উপাধি দেন। তিনি ইয়েমেনের ‘দাওস’ গোত্রের সন্তান ছিলেন।
  • ইসলাম গ্রহণ ও সাহচর্য: তিনি সপ্তম হিজরিতে খায়বার বিজয়ের বছর মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত পর্যন্ত তিনি পার্থিব সকল কাজ ত্যাগ করে মসজিদে নববীর সুফফাহ-তে অবস্থান করে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্বনবী (সা.)-এর ছায়াসঙ্গী হয়ে ইলম অন্বেষণ করেন।
  • রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বরকতময় দোয়া: আবু হুরায়রা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে হাদিস ভুলে যাওয়ার সমস্যার কথা বললে নবীজি তাঁর চাদর বিছাতে বলেন এবং তাতে বরকতের দোয়া করে চাদরটি বুকের সাথে জড়িয়ে নিতে বলেন। এর পর থেকে তিনি জীবনে কখনো একটি হাদিসের শব্দও বিস্মৃত হননি।
  • ইন্তেকাল: তিনি হিজরি ৫৭ অথবা ৫৯ সনে মদিনা মুনাওয়ারায় প্রায় ৭৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত হন।

২. হাদিস শাস্ত্রে অনন্য অবদান:

  • সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী (মুকছিরীনদের শিরোমণি): সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত হাদিসের মোট সংখ্যা ৫,৩৭৪টি
  • ছাত্র ও শিক্ষাদান: তাঁর কাছ থেকে আট শতাধিক তাবেঈ ও সাহাবি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিমের মতো শীর্ষ মুহাদ্দিসদের সংকলনে তাঁর হাদিসসমূহ উম্মাহর সবচেয়ে বড় ইলমি সম্পদ। তাঁর সার্বক্ষণিক নিষ্ঠা ও স্মৃতিশক্তি হাদিস সংরক্ষণের ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক।

(ب) اشرح ‘الناس معادن’-

[(খ) ‘الناس معادن’ (মানুষ খনির মতো)-এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর:

‘الناس معادن’ বাক্যাংশের রূপক বিশ্লেষণ ও গভীর অর্থ:
মা’আদিন (معادن) হলো মা’দান (معدن)-এর বহুবচন, যার অর্থ খনি (স্বর্ণ, রৌপ্য, লোহা ইত্যাদির আকর)। খনি থেকে যেভাবে মূল্যবান ধাতু উত্তোলন করা হয়, মানুষের সত্তাও ঠিক তেমনি বিভিন্ন অন্তর্নিহিত স্বভাব ও যোগ্যতার ভাণ্ডার।

  • ১. স্বভাবগত আভিজাত্য ও নৈতিক সততা: খাঁটি স্বর্ণ যেভাবে আবর্জনার নিচে থাকলেও তার মৌলিক সত্তা হারায় না, ঠিক তেমনি যে সকল মানুষের স্বভাবগত রক্তে বীরত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ, সততা ও উদারতা থাকে, তারা জাহেলিয়াত যুগেও মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকত। যেমন: হযরত আবু বকর, হযরত উমর এবং হযরত উসমান (রা.) ইসলামপূর্ব যুগেও মদ্যপান ও ব্যভিচারকে ঘৃণা করতেন।
  • ২. ইসলামের ছোঁয়া ও ‘ফিকহ’ (প্রজ্ঞা): সেই মূল্যবান খনিজ ধাতু যখন ইসলামের নূরে পরিশুদ্ধ হয় এবং তারা দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (ফিকহ) অর্জন করে, তখন তারা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শকে পরিণত হন। আর যে ব্যক্তি স্বভাবগতভাবে নিকৃষ্ট ও কপট, ইসলামে দীক্ষিত হয়ে প্রজ্ঞা অর্জন না করলে তার কুপ্রবৃত্তি দূর হয় না।
  • ৩. দ্বিমুখী চরিত্রের ধিক্কার: হাদিসের পরের অংশে দ্বিমুখী (যু ওয়াজহাইন) মানুষের নিন্দা করা হয়েছে; কারণ এটি খনির ভেজাল ও মরিচার মতো, যা মানুষের অন্তরের সততাকে বিনষ্ট করে মুনাফিকিতে নিমজ্জিত করে।

৬. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী

٦- عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما قال: أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنكبيّ فقال: كن في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل وكان إبن عمر (رض) يقول: إذا أمسيت فلا تنتظر الصباح، وإذا أصبحت فلا تنتظر المساء، وخذ من صحّتك لمرضك ومن حياتك لموتك-

[৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার উভয় কাঁধ ধরে বললেন: “দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস কর যেন তুমি একজন অপরিচিত প্রবাসী অথবা একজন পথচারী মুসাফির।” আর ইবনে উমর (রা.) বলতেন: “সন্ধ্যা হলে তুমি সকালের অপেক্ষা করো না, আর সকাল হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না; তোমার সুস্থতার সময়ে অসুস্থতার জন্য প্রস্তুতি নাও এবং তোমার জীবিতাবস্থায় মৃত্যুর জন্য সম্বল সংগ্রহ কর।” [সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৪১৬]]

(أ) اكتب نبذة من حياة عبد الله بن عمر رضى الله عنهما-

[(ক) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]

উত্তর:

১. নাম ও বংশপরিচয়: নাম আব্দুল্লাহ, কুনিয়াত আবু আব্দুর রহমান। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর মাতা যাইনাব বিনতে মাযউন (রা.)।

২. ইসলাম গ্রহণ ও হিজরত: তিনি শৈশবে পিতার সাথে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পিতার সাথেই মদিনায় হিজরত করেন। বদর ও উহুদের যুদ্ধে কম বয়সের কারণে অংশগ্রহণের অনুমতি পাননি; পরবর্তীতে খন্দকের যুদ্ধ ও বায়’আতে রিদওয়ানে বীরত্বের সাথে অংশ নেন।

৩. সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুকরণ (ইত্তিবায়ে সুন্নাহ): সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চালচলন, ওঠাবসা ও প্রতিটি পদক্ষেপ হুবহু অনুকরণে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত। নবীজি যেখানে নামাজ পড়েছেন বা বিশ্রাম নিয়েছেন, তিনি ঠিক সেখানেই যেতেন।

৪. হাদিস বর্ণনা ও ইলমি অবস্থান: তিনি ‘মুকছিরীন’ সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২,৬৩০টি। ফিকহ ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মদিনার শীর্ষ আলিমদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।

৫. তাকওয়া ও ফিতনা থেকে নির্লিপ্ততা: সাহাবায়ে কেরামের মধ্যকার রাজনৈতিক মতভেদ ও গৃহযুদ্ধের সময় তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে ইবাদত-বন্দেগি ও ইলম চর্চায় নিমগ্ন থাকেন। তিনি খেলাফত বা কোনো সরকারি পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

৬. ইন্তেকাল: তিনি হিজরি ৭৩ সনে মক্কা মুকাররমায় ৮৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং যিতুওয়া নামক স্থানে সমাহিত হন। তিনিই ছিলেন মক্কায় ওফাতপ্রাপ্ত সর্বশেষ সাহাবিদের অন্যতম।

(ب) اشرح قوله عليه الصلوة والسلام: ‘كن في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل’-

[(খ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: ‘كن في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل’ (দুনিয়াতে এমনভাবে থাক যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী মুসাফির)-এর মর্মার্থ ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর:

হাদিসের গভীর দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক মর্মার্থ:
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পার্থিব জীবনের অনিত্যতা ও আখেরাতের চিরস্থায়ী গন্তব্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত, তা দুটি চমৎকার উপমার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন:

  • ১. প্রবাসীর মতো জীবন (كأنك غريب): একজন প্রবাসী মানুষ ভিনদেশে জীবিকার তাগিদে সাময়িক বসবাস করে। সে পরবাসকে নিজের স্থায়ী ঠিকানা মনে করে না, পরদেশের তুচ্ছ বিবাদে জড়ায় না এবং সর্বদাই নিজের প্রিয় স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে ও সঞ্চয় পাঠায়। মুমিনের প্রকৃত স্বদেশ হলো জান্নাত; দুনিয়া কেবলই এক নির্বাসন ও সাময়িক কর্মক্ষেত্র।
  • ২. পথচারী মুসাফিরের মতো জীবন (أو عابر سبيل): মুসাফির ব্যক্তি প্রবাসীর চেয়েও বেশি গতিশীল। সে কোনো গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়, কিন্তু সেখানে স্থায়ীভাবে ঘর বাঁধে না; তার একমাত্র লক্ষ্য থাকে গন্তব্যে পৌঁছানো। মুমিন দুনিয়াতে কেবল সেই পরিমাণ প্রয়োজন গ্রহণ করবে যা তাকে আখেরাতের মূল গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
  • ৩. দীর্ঘ আশার (طول الأمل) মূলোৎপাটন: হযরত ইবনে উমর (রা.)-এর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সকাল হলে সন্ধ্যার আশা না করা এবং সন্ধ্যা হলে সকালের আশা না করা। কারণ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অতএব প্রতিটি মুহূর্তকে নেক আমল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যয় করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

مجموعة (ب) – [খ বিভাগ]

নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মান: ১৬ × ১ = ১৬


٧- من هو أمير المؤمنين في الحديث؟ أكتب نبذة من سيرته ثم بين مزايا جامعه-

[৭. হাদিস শাস্ত্রের ‘আমিরুল মুমিনীন’ কে? তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ এবং তাঁর সংকলিত ‘আল-জামি’ আস-সহীহ’ (সহীহ বুখারী)-এর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্বসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর:

১. আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিসের পরিচয়:
হাদিস শাস্ত্রের সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি হলো ‘আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস’ (أمير المؤمنين في الحديث)। সর্বকালের সর্বসম্মত মতানুযায়ী এই অনন্য খেতাবের অধিকারী হলেন প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.)

২. ইমাম বুখারী (রহ.)-এর পুঙ্খানুপুঙ্খ জীবনী:

  • নাম, বংশ ও জন্ম: নাম মুহাম্মদ, কুনিয়াত আবু আব্দুল্লাহ। পিতার নাম ইসমাইল, দাদার নাম ইব্রাহিম। তিনি ১৯৪ হিজরির ১৩ শাওয়াল জুমাবার বর্তমান উজবেকিস্তানের বিখ্যাত ‘বুখারা’ নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা একজন তাকওয়াবান আলিম ও হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন।
  • শৈশব ও অলৌকিক দৃষ্টিশক্তি লাভ: শৈশবেই তিনি পিতৃহারা হন। বাল্যকালে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে যান। তাঁর মায়ের অশ্রুসিক্ত অবিরাম কান্নাকাটি ও দোয়ার পর এক রাতে হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে এসে জানান যে, আল্লাহর কৃপায় তাঁর পুত্রের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকালে দেখা গেল তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন।
  • ইলম অন্বেষণ ও স্মরণশক্তি: মাত্র দশ বছর বয়সেই তিনি বুখারার মক্তবে হাদিস মুখস্থ করা শুরু করেন এবং এগারো বছর বয়সেই শিক্ষকদের হাদিসের সনদগত ভুল সংশোধন করে তাক লাগিয়ে দেন। ষোলো বছর বয়সে তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও ওয়াকী’ ইবনুল জাররাহ (রহ.)-এর কিতাবসমূহ মুখস্থ করেন। তিনি সনদ ও মতনসহ প্রায় এক লক্ষ সহীহ হাদিস এবং দুই লক্ষ গাইরে সহীহ হাদিস মুখস্থ করেছিলেন।
  • ইলমি সফর: জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি প্রধান ইলমি কেন্দ্রে সফর করেন। তিনি মক্কা, মদিনা, বসরা, কুফা, বাগদাদ, মিসর, দামেস্ক, আসকালান, হেমস এবং নিশাপুরে দীর্ঘ বছর অবস্থান করে হাদিস সংগ্রহ করেন।
  • উস্তাদ ও শিক্ষকবৃন্দ: তিনি এক হাজারেরও বেশি মুহাদ্দিস থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রধান উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রহ.)।
  • বাগদাদের ঐতিহাসিক পরীক্ষা: বাগদাদের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণ ইমাম বুখারীর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষার জন্য একশতটি হাদিসের সনদ ও মতন অদলবদল করে দশজন ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর সামনে পাঠ করেন। ইমাম বুখারী প্রতিটি হাদিসের ভুল সনদ ও মতন তৎক্ষণাৎ শুদ্ধ করে দেন, যা দেখে সমগ্র বাগদাদের আলিম সমাজ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব অবনত মস্তকে স্বীকার করে নেন।
  • ইন্তেকাল: জীবনের শেষভাগে বুখারার গভর্নরের অনৈতিক দাবির প্রতিবাদ করায় তিনি নিজ শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হন। অতঃপর ২৫৬ হিজরির ১ শাওয়াল (ঈদুল ফিতরের রাতে) সমরকন্দের নিকটবর্তী ‘খারতাঙ্গ’ গ্রামে ৬২ বছর বয়সে এই মহান ইমাম ইন্তেকাল করেন।

৩. ‘আল-জামি’ আস-সহীহ’ (সহীহ বুখারী)-এর বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্বসমূহ (مزايا جامعه):

ইমাম বুখারী সংকলিত কিতাবটির পূর্ণ নাম হলো: “আল-জামি’উল মুসনাদুস সহীহুল মুখতাসারু মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়্যামিহি”। গ্রন্থটির অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ১. আসাহহুল কুতুবি বা’দা কিতাবিল্লাহ (أصح كتاب بعد كتاب الله): সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও আইম্মায়ে কেরামের সর্বসম্মত ইজমা অনুযায়ী মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের পর পৃথিবীর বুকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ, নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য কিতাব হলো সহীহ আল-বুখারী।
  • ২. প্রথম একক বিশুদ্ধ হাদিস সংকলন: ইমাম বুখারী (রহ.)-এর পূর্বে হাদিস গ্রন্থে সহীহ, হাসান এবং জয়িফ হাদিস একত্রে মিশ্রিত থাকত। তাঁর মহান উস্তাদ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহর পরামর্শে তিনিই প্রথম কেবল সহীহ হাদিসের ওপর স্বতন্ত্র সংকলন রচনার ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটান।
  • ৩. কঠোরতম গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলি (শুরুতুল বুখারী): ইমাম বুখারী হাদিস সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন যুগের সবচেয়ে কঠোর শর্তারোপ করেন। রাবীদের সততা ও নিখুঁত স্মৃতির পাশাপাশি উস্তাদ ও শিষ্যের মধ্যে কেবল সমসাময়িকতা (মু’আসারাত) নয়, বরং তাদের মধ্যে চাক্ষুষ সরাসরি সাক্ষাৎ (সুবুতুল লিকা) অকাট্যভাবে প্রমাণিত হওয়াকে তিনি অপরিহার্য শর্ত সাব্যস্ত করেন।
  • ৪. রুহানি পবিত্রতা ও ইস্তিখারা: ইমাম বুখারী ১৬ বছর ধরে গভীর সাধনায় প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস মন্থন করে এটি রচনা করেন। তিনি মসজিদে নববীতে রওজায়ে আতহার ও মিম্বারের মাঝে বসে এর পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং প্রতিটি হাদিস কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করার পূর্বে গোসল করে দুই রাকাত ইস্তিখারার সালাত আদায় করে চূড়ান্ত নিশ্চিত হতেন।
  • ৫. ফিকহুল বুখারী ফি তারাজিমিহি (فقه البخاري في تراجمه): সহীহ বুখারীর অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ বিন্যাস (তারাজুমুল আবওয়াব) ইমাম বুখারীর অসাধারণ ফিকহি গভীরতা ও ইজতিহাদের স্বাক্ষর বহন করে। অনুচ্ছেদের শিরোনাম দেখে তাঁর সূক্ষ্ম মাসআলা উদ্ভাবনের দক্ষতা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।
  • ৬. হাদিসের বিন্যাস ও পুনরাবৃত্তি (তাকারুর ও তাকতি’): একটি দীর্ঘ হাদিসকে তিনি বিভিন্ন অধ্যায়ে প্রাসঙ্গিক অংশ অনুযায়ী ভেঙে ভেঙে উল্লেখ করেছেন, যাতে প্রতিটি অনুচ্ছেদের ফিকহি দাবির স্বপক্ষে প্রত্যক্ষ দলীল সাব্যস্ত হয়।

٨- تحدث عن أهمية الإصلاح بين الناس في المجتمع في ضوء القرآن والسنة-

[৮. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সমাজে মানুষের পারস্পরিক বিরোধ মীমাংসা, শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের (ইসলাহু জাতিল বাইন) গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যার মূল ভিত্তিই হলো শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি। মানবসমাজে স্বার্থের সংঘাত, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা শয়তানের প্ররোচনায় মানুষের মাঝে বিরোধ ও শত্রুতা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। এই বিরোধ নিষ্পত্তি করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইসলাহু জাতিল বাইন’ (الإصلاح بين الناس / إصلاح ذات البين) বলা হয়। এটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামাজিক ইবাদত।

১. কুরআনুল কারিমের আলোকে ইসলাহু জাতিল বাইনের গুরুত্ব:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বহু আয়াতে বিরোধ মীমাংসাকে মুমিনের অপরিহার্য গুণ এবং তাকওয়ার নির্দেশক হিসেবে উল্লেখ করেছেন:

  • ক. মুমিনদের ভ্রাতৃত্ব ও মীমাংসার নির্দেশ: মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:

    إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

    “নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। সুতরাং তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মাঝে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হতে পার।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১০)

  • খ. কল্যাণময় পরামর্শের সর্বোত্তম ক্ষেত্র: মানুষের অধিকাংশ গোপনীয় আলাপচারিতাকে নিরর্থক ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা শান্তি স্থাপনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন:

    لَّا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

    “তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই; কিন্তু যে ব্যক্তি সদকা করার, সৎকাজ করার কিংবা মানুষের মাঝে বিরোধ মীমাংসা করার নির্দেশ দেয় তার কথা ভিন্ন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তা করে, অচিরেই আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করব।” (সূরা আন-নিসা: ১১৪)

  • গ. তাকওয়ার অনিবার্য দাবি: সূরা আল-আনফালে ইরশাদ হয়েছে:

    فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ ۖ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

    “অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন ও মীমাংসা করে নাও; আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর যদি তোমরা মুমিন হও।” (সূরা আল-আনফাল: ১)

২. সুন্নাহে নববীর আলোকে ইসলাহু জাতিল বাইনের মর্যাদা:
হাদিস শরিফে মানুষের মাঝে বিরোধ মীমাংসাকে নফল ইবাদতের চেয়েও উচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং বিবাদ জিইয়ে রাখাকে দ্বীন ধ্বংসকারী ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে:

  • ক. নফল নামাজ, রোজা ও সদকার চেয়েও শ্রেষ্ঠ আমল: হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের উদ্দেশ্য করে বলেন:

    أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلَاةِ وَالصَّدَقَةِ؟ قَالُوا: بَلَى، قَالَ: صَلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ، فَإِنَّ فَسَادَ ذَاتِ الْبَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ

    “আমি কি তোমাদেরকে (নফল) রোজা, নামাজ ও সদকার মর্যাদার চেয়েও শ্রেষ্ঠ আমলের সংবাদ দেব না? সাহাবিগণ বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: তা হলো মানুষের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়া। আর মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ফাটল ও বিবাদ হলো (দ্বীনকে) মুণ্ডনকারী।” (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯২৭, জামে আত-তিরমিজি: ২৫০৯)
    তিরমিজির বর্ণনায় নবীজি আরও যোগ করেন: “আমি বলি না যে তা চুল মুণ্ডন করে, বরং তা দ্বীনকে মূলোৎপাটিত করে।”

  • খ. মীমাংসার স্বার্থে কৌশলী কথা বা অপ্রকাশ্য বক্তব্য জায়েজ: ইসলামে মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহ হলেও বিবাদমান দুই পক্ষের মন জয় করে সন্ধি স্থাপনের উদ্দেশ্যে সত্যকে ভিন্নভাবে প্রকাশ করার বা অতিরঞ্জন করার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

    لَيْسَ الْكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ فَيَنْمِي خَيْرًا أَوْ يَقُولُ خَيْرًا

    “ওই ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয় এবং ভালো কথা পৌঁছায় কিংবা উত্তম কথা বলে।” (সহীহ বুখারী: ২৬৯২)

  • গ. সম্পর্কচ্ছেদের কঠোর হুঁশিয়ারি: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বন্ধ রাখা বা সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়েজ নেই (সহীহ বুখারী: ৬০৬৫)।

৩. সামাজিক জীবনে বিরোধ নিষ্পত্তির সুফল ও তাৎপর্য:

  • সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা: পারস্পরিক বিরোধ মিটে গেলে সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি ও রক্তপাত বন্ধ হয় এবং শান্তিময় পরিবেশ তৈরি হয়।
  • উম্মাহর ঐক্য রক্ষা: মুসলিম জাতি যখন অনৈক্যে বিভক্ত হয় তখন শত্রুরা তাদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন উম্মাহর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিকে অটুট রাখে।
  • পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ: দাম্পত্য কলহ এবং আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ রোধ করে সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে ইসলাহু জাতিল বাইন কার্যকর হাতিয়ার।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions – FAQ)

প্রশ্ন ১: সহীহ বুখারী গ্রন্থটির পূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক নাম কী?

উত্তর: ইমাম বুখারী (রহ.) সংকলিত সহীহ বুখারী গ্রন্থটির পূর্ণ ও ঐতিহাসিক নাম হলো: “আল-জামি’উল মুসনাদুস সহীহুল মুখতাসারু মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়্যামিহি” (الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه)

প্রশ্ন ২: হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারী (রহ.)-এর প্রধান শর্ত কী ছিল?

উত্তর: ইমাম বুখারী (রহ.)-এর প্রধান ও কঠোরতম শর্ত হলো—হাদিসের বর্ণনাকারীগণের বিশ্বস্ততা ও প্রখর স্মরণশক্তির পাশাপাশি উস্তাদ ও ছাত্রের মধ্যে একই যুগের বাসিন্দা (মু’আসারাত) হওয়ার সাথে সাথে তাদের মধ্যে চাক্ষুষ সরাসরি সাক্ষাৎ ও হাদিস শ্রবণ (সুবুতুল লিকা) অকাট্য সনদে প্রমাণিত হতে হবে।

প্রশ্ন ৩: ইসলামী শরিয়তে ব্যভিচারের শাস্তি (হাদ্দুজ জিনা) কীভাবে কার্যকর হয়?

উত্তর: ব্যভিচারী যদি অবিবাহিত (গাইরে মুহসান) হয়, তবে তার শরয়ি শাস্তি হলো ১০০টি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের দেশান্তর। আর ব্যভিচারী যদি বিবাহিত (মুহসান) হয়, তবে তার শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা (রজম)। তবে এই শাস্তি কেবল চারজন প্রত্যক্ষদর্শী ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য অথবা শাসকের নিকট চারবার স্পষ্ট স্বীকারোক্তির মাধ্যমেই প্রমাণিত হতে হয়।

প্রশ্ন ৪: হুদাইবিয়ার সন্ধিকে কুরআনে ‘ফাতহুম মুবিন’ বা সুস্পষ্ট বিজয় বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে মক্কার কুরাইশরা মদিনা রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয় এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে মানুষ নির্ভয়ে ইসলামের সংস্পর্শে আসে এবং মাত্র দুই বছরে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। এ সন্ধির বদৌলতেই ঐতিহাসিক রক্তপাতহীন মক্কা বিজয়ের পথ সুগম হয়েছিল বিধায় আল্লাহ একে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ ঘোষণা করেন।

প্রশ্ন ৫: ইসলামে ‘নাজাশ’ এবং ‘বাই’উল হাদিরি লিল বাদি’ নিষিদ্ধ করার মূল অর্থনৈতিক দর্শন কী?

উত্তর: ইসলামে কেনাবেচাকে সিন্ডিকেট, ধোঁকাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কৃত্রিম শোষণ থেকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ‘নাজাশ’ (দালালি করে কৃত্রিম দাম বাড়ানো) এবং ‘বাই’উল হাদিরি লিল বাদি’ (গ্রাম্য বিক্রেতার পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে শহরের ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি) সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে বাজারে পণ্যের অবাধ ও সুলভ সরবরাহ অক্ষুণ্ণ থাকে।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন