জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-মুসনাদ লি আবি হানিফা ওয়া আল-শাফিঈ ওয়া আহমদ (Al-Musnad lil Imam Abi Hanifa, ash-Shafii, Ahmad) – 202403, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
19 September, 2026
৮৫ মিনিট পড়ার সময়
১৬ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: 204 | প্রশ্নপত্র কোড: 158
اختبار السنة الرابعة للفاضل (البكالوريوس) الشرف ، لعام ۲۰۲۱
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
الحديث والدراسات الإسلامية
[আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المسند لأبي حنيفة والشافعى وأحمد
[আল-মুসনাদ লি আবি হানিফা ওয়া আল-শাফিঈ ওয়া আহমদ]
বিষয় কোড : 202403
الوقت — ٤ ساعات | الدرجات الكاملة — ٨٠
[সময় — ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة : أجب عن اثنين من مجموعة (الف) وعن اثنين من مجموعة (ب) وعن اثنين من مجموعة (ج) وعن اثنين من مجموعة (د)- والأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ হতে দুটি, (খ) অংশ হতে দুটি, (গ) অংশ হতে দুটি এবং (ঘ) অংশ হতে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (الف) — مسند الإمام أبي حنيفة (ক বিভাগ: মুসনাদে ইমাম আবু হানিফা)

الدرجات — ١٠ × ٢ = ٢٠
(ترجم الأحاديث ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[হাদিসগুলোর অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও]


١- أبو حنيفة عن عبد الرحمن بن هُرْمُز الأعرج عن أبى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: كل مولود يولد على الفطرة، فأبواه يُهوّدانه وينصّرانه قيل: فمن مات صغيرًا يا رسول الله؟ قال: الله أعلم بما كانوا عاملين-

[১. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) … হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাত (প্রকৃতিগত ইসলাম)-এর ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায় এবং খ্রিস্টান বানায়। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি শৈশবাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে (তার বিধান কী)? তিনি বললেন: তারা বেঁচে থাকলে কী আমল করত তা আল্লাহই অধিক অবগত।]


(أ) بين اختلاف العلماء في حكم أولاد المشركين (الذين ماتوا فى صغرهم)-

[(ক) মুশরিকদের সন্তানদের (যারা শৈশবে মারা যায়) হুকুম ও পরিণতির ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মতপার্থক্য আলোচনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
নাবালেগ বা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী অমুসলিম ও মুশরিকদের সন্তানদের পরকালীন পরিণতি ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও আকিদা শাস্ত্রের একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রসিদ্ধ মাসআলা। যেহেতু তারা কোনো পাপ করার পূর্বে নিষ্পাপ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাই পরকালে তাদের জান্নাত বা জাহান্নামের বিষয়ে মুহাদ্দিসীন ও ফুকাহায়ে কেরামের মাঝে কয়েকটি প্রসিদ্ধ মতামত রয়েছে।

ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মতামত ও পর্যালোচনা:

  1. প্রথম মত (তারা জান্নাতবাসী হবে):
    ইমাম নববী (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, মুহাক্কিক সালাফ ও খালাফের অধিকাংশ আলেমের মতে মুশরিকদের নাবালেগ মৃত সন্তানরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। এর সপক্ষে অকাট্য দলীলসমূহ:

    • কুরআনের মূলনীতি: আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন: ﴿وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًا﴾ (আর আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দিই না — সুরা আল-ইসরা: ১৫)। যেহেতু তাদের কাছে শরীয়তের কোনো দায়িত্ব পৌঁছায়নি, তাই তারা শাস্তির যোগ্য হতে পারে না।
    • ইব্রাহীম (আ.)-এর সাথে জান্নাতে অবস্থান: সহীহ বুখারীতে হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত মিরাজের দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ জান্নাতে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর চারপাশে শিশুদের সমবেত দেখতে পান। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের সন্তানরাও কি সেখানে রয়েছে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, মুশরিকদের সন্তানরাও সেখানে রয়েছে।”
    • ফিতরাতের ওপর মৃত্যু: তারা জন্মগত ফিতরাতের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছে, পিতামাতার কুফরি তাদের ওপর আরোপিত হতে পারে না।
  2. দ্বিতীয় মত (তারা জাহান্নামী হবে):
    একদল আলেম মনে করেন তারা তাদের মুশরিক পিতামাতার অনুগামী হিসেবে জাহান্নামে যাবে। তাঁরা উক্ত হাদিসের অংশ «اللهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ» (তারা বেঁচে থাকলে কী করত আল্লাহ তা জানেন) দ্বারা দলিল দেন। তবে জমহুর মুহাদ্দিসীন এই মতকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন; কারণ সম্ভাব্য কাজের ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ তাআলা কাউকে জাহান্নামে শাস্তি দেন না।
  3. তৃতীয় মত (তাওয়াক্কুফ বা নীরবতা অবলম্বন):
    ইমাম হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, ইবনুল মুবারক ও একদল ফকীহ কোনো সুস্পষ্ট রায় না দিয়ে বলেছেন—তাদের বিষয়টি আল্লাহর জিম্মায় সমর্পিত। আল্লাহ তাদের ব্যাপারে যা ইচ্ছা তাই ফায়সালা করবেন।
  4. চতুর্থ মত (কিয়ামতের দিন তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে):
    ইমাম আহমদ, ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর মতে, যাদের কাছে দুনিয়াতে দাওয়াত পৌঁছায়নি (আহলুল ফাতরাত) এবং মুশরিকদের নাবালেগ সন্তানদের হাশরের ময়দানে আল্লাহ তাআলা পরীক্ষা করবেন। যারা আল্লাহর আদেশ মানবে তারা জান্নাতে যাবে, আর যারা অমান্য করবে তারা জাহান্নামে যাবে।

উপসংহার:
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য সিদ্ধান্ত হলো—আল্লাহর অসীম দয়া ও ইনসাফের দাবি অনুযায়ী তারা জান্নাতবাসী হবে।


٢- أبو حنيفة عن ابى الزبير عن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا : لا اله الا الله ، فإذا قالوها عصموا منى دمائهم وأموالهم الا بحقها ، وحسابهم على الله-

[২. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) … হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমি মানুষের সাথে লড়াই করার নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)। সুতরাং যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের জান ও মাল নিরাপদ করে নেবে—তবে ইসলামের হক ব্যতীত; আর তাদের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।]


(أ) اشرح قوله صلى الله عليه وسلم: “وحسابهم على الله”-

[(ক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “وحسابهم على الله” (আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর)-এর ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামি বিচারব্যবস্থা ও শরিয়তের প্রয়োগের অন্যতম প্রধান মূলনীতি হলো ‘বাহ্যিক অবস্থার ওপর বিচার কার্যকর করা’ (الحُكْمُ بِالظَّاهِرِ)। নবী করীম ﷺ-এর বাণী “وحسابهم على الله” এই আন্তর্জাতিক ইসলামি মানবিক নীতির মূল ভিত্তি।

‘وحسابهم على الله’ এর বিশদ ব্যাখ্যা:

  1. বাহ্যিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রদান:
    যখন কোনো ব্যক্তি মুখে তাওহীদের বাণী “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” উচ্চারণ করে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন পার্থিব জীবনে রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলো তাৎক্ষণিকভাবে তার জান, মাল ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা (ইসমাতুদ্দাম ওয়াল মাল) প্রদান করা। সে মনের গভীর থেকে আন্তরিকভাবে বলেছে নাকি প্রাণ বাঁচানোর ভয়ে বলেছে—তা অনুসন্ধান করার অধিকার কোনো মানুষের নেই।
  2. অন্তরের ভেতরের হিসাব একমাত্র আল্লাহর এখতিয়ার:
    মানুষের অন্তরের গোপন বিশ্বাস (নিয়ত ও ইখলাস) কেবল সর্বজ্ঞ আল্লাহই জানেন। যদি সে আন্তরিক মুমিন হয় তবে আল্লাহর দরবারে জান্নাত পাবে; আর যদি সে ভণ্ড মুনাফিক হয়ে মুখে স্বীকৃতি দেয়, তবে পরকালে আল্লাহ তাআলা তাকে তার নিফাকের কারণে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে শাস্তি দেবেন। এই গোপন বিচার আল্লাহ নিজের হাতে রেখেছেন।
  3. হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-এর প্রামাণ্য ঘটনা:
    হযরত উসামা (রা.) যুদ্ধের ময়দানে এক শত্রুকে তলোয়ারের নিচে পেয়ে সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা সত্ত্বেও হত্যা করেছিলেন। নবীজী ﷺ এ কথা শুনে অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে বারবার বললেন: «أَفَلَا شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ حَتَّى تَعْلَمَ أَقَالَهَا أَمْ لَا؟» (তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে যে সে অন্তর থেকে বলেছিল নাকি ভয়ে বলেছিল? — সহীহ মুসলিম)। এই হাদিস প্রমাণ করে যে মানুষের অন্তর পরীক্ষা করা আমাদের কাজ নয়।
  4. ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মত মূলনীতি:
    ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: «إِنَّمَا نَحْكُمُ بِالظَّاهِرِ وَاللَّهُ يَتَوَلَّى السَّرَائِرَ» (আমরা কেবল মানুষের প্রকাশ্য আচরণের ভিত্তিতে বিচার করব, আর অন্তরের গোপন রহস্যের ফায়সালা করবেন মহান আল্লাহ)।

উপসংহার:
উক্ত হাদিসের এই বাক্যটি ইসলামে ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক অধিকারের এমন এক সুউচ্চ সনদ যা দুনিয়ার কোনো আইনে পাওয়া যায় না।


٣- أبو حنيفة عن حمّاد عن ابى وائل عن عبد الله رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : طلب العلم فريضة على كل مسلم-

[৩. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) … হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।]


(أ) ما المراد بالعلم فى الحديث؟ اكتب أهمية طلب العلم الشرعى موجزًا-

[(ক) উক্ত হাদিসে ‘ইলম’ (জ্ঞান) দ্বারা কী উদ্দেশ্য? শরয়ী জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখ।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানভিত্তিক জীবনব্যবস্থা। পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ শব্দই হলো ‘ইক্বরা’ (পাঠ কর)। নবী করীম ﷺ-এর এই বিখ্যাত হাদিসটি জ্ঞানার্জনকে প্রতিটি মুসলমানের মৌলিক ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বাধ্যতামূলক করেছে।

১. হাদিসে ‘ইলম’ (العلم) দ্বারা কী উদ্দেশ্য?
ইমামগণ আলোচনা করেছেন যে, দুনিয়ার যাবতীয় জ্ঞান অর্জন করা কি সবার ওপর ফরজ? না, বরং হাদিসে ‘ইলম’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:

  • ইলমুল হাল (علم الحال – তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান): একজন মানুষের ওপর যখন যে ইবাদত বা দায়িত্ব বর্তায়, তখন সেই সম্পর্কিত শরিয়তের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেকের ওপর ‘ফরযে আইন’ (ব্যক্তিগত আবশ্যকীয় ফরজ)। যেমন:
    1. বিশুদ্ধ ঈমান ও তাওহীদের জ্ঞান (শিরক ও কুফর থেকে বাঁচার উপায়)।
    2. দৈনন্দিন সালাত ও তাহারাত (পবিত্রতা)-এর সহীহ নিয়ম।
    3. রমজানের রোজা, সম্পদশালীর ওপর যাকাত ও হজের নিয়মাবলী।
    4. ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীর জন্য হালাল-হারামের নীতিমালা।
  • ফরযে কিফায়া স্তর: শরিয়তের গভীর গবেষণা, ফতোয়া প্রদান, উলূমুল হাদিস ও চিকিৎসাবিজ্ঞান ইত্যাদির সর্বোচ্চ স্তরের জ্ঞান অর্জন করা সমাজের সামগ্রিক দায়িত্ব (ফরযে কিফায়া)।

২. শরয়ী জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব (أهمية طلب العلم الشرعي):

  • জান্নাতের পথ সুগম হওয়া: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ» (যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন — সহীহ মুসলিম)।
  • ফেরেশতা ও সৃষ্টির দোয়া লাভ: তালেবে ইলমের সন্তুষ্টির জন্য ফেরেশতারা তাঁদের নূরের ডানা বিছিয়ে দেন এবং পানির মাছ ও গর্তের পিঁপড়া পর্যন্ত তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
  • নবীগণের উত্তরাধিকার লাভ: নবীজী ﷺ বলেন, “আলেমগণ হলেন আম্বিয়াগণের ওয়ারিশ। নবীগণ কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তাঁরা রেখে গেছেন জ্ঞানের উত্তরাধিকার।”

উপসংহার:
দ্বীনি জ্ঞান ছাড়া কোনো আমলই বিশুদ্ধ হতে পারে না। জ্ঞান হলো অন্ধকার দূর করে হেদায়াতের পথে চলার অনন্য ঐশী আলোকবর্তিকা।


مجموعة (ب) — مسند الإمام الشافعى (খ বিভাগ: মুসনাদে ইমাম শাফিঈ)

الدرجات — ١٠ × ٢ = ٢٠
(ترجم الأحاديث ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[হাদিসগুলোর অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও]


٤- أخبرنا الشافعى قال: أخبرنا إبراهيم بن محمد قال: أخبرنى أبو سَلَمة بن عبد الله الخطمىّ عن محمد بن كعب أنه سمع رجلا من بنى وائل يقول: قال النبى صلى الله عليه وسلم: تجب الجمعة على كل مسلم إلا إمرأة أو صَبِيًّا أو مملوكًا-

[৪. ইমাম শাফিঈ (রহ.) … এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব/ফরজ; তবে নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা ক্রীতদাস ব্যতীত।]


(أ) على من تجب صلاة الجمعة؟ بين موضحًا-

[(ক) জুমার সালাত কার কার ওপর ওয়াজিব বা ফরজ? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
সাপ্তাহিক শ্রেষ্ঠতম ইবাদত হলো জুমার সালাত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জুমার আজান হওয়ার সাথে সাথে বেচাকেনা বন্ধ করে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিস শরীফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে কাদের ওপর জুমার সালাত ফরজ এবং কারা এর আবশ্যকতা থেকে অব্যাহতি পাবে।

১. জুমার সালাত ফরজ হওয়ার আবশ্যকীয় শর্তাবলি (شروط وجوب الجمعة):
চার মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন ব্যক্তির ওপর জুমার সালাত ফরজ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো বিদ্যমান থাকা আবশ্যক:

  1. মুসলিম হওয়া (الإسلام): অমুসলিমের ওপর সালাত ফরজ নয়।
  2. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (البلوغ): অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ওপর জুমা ফরজ নয়; হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে: «إِلَّا صَبِيًّا» (নাবালেগ শিশু ব্যতীত)।
  3. সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া (العقل): পাগল বা বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর জুমা ফরজ নয়।
  4. পুরুষ হওয়া (الذكورة): নারীদের ওপর জুমার জামাতে উপস্থিত হওয়া ফরজ নয় («إِلَّا امْرَأَةً»)। তবে কোনো নারী মসজিদে এসে জুমার সালাত আদায় করলে তার ফরজ আদায় হয়ে যাবে এবং তাকে আর জোহরের সালাত পড়তে হবে না।
  5. স্বাধীন হওয়া (الحرية): ক্রীতদাস বা পরাধীন ব্যক্তির ওপর জুমা ফরজ নয় («أَوْ مَمْلُوكًا»)।
  6. মু Resident বা স্থানীয় অধিবাসী হওয়া (الإقامة): শরয়ী মুসাফিরের ওপর জুমা ফরজ নয়; সে চাইলে জোহর পড়তে পারে।
  7. শারীরিক সুস্থতা ও সক্ষমতা (الصحة): এমন অসুস্থ ব্যক্তি যার পক্ষে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর বা রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে, তার ওপর জুমা ফরজ নয়।
  8. অন্ধত্ব বা তীব্র অপারগতা না থাকা: যে অন্ধ পথ চলতে পারে না বা যার কোনো পথপ্রদর্শক নেই, সে অব্যাহতি পাবে।

উপসংহার:
যে ব্যক্তির মধ্যে উপরোক্ত সকল শর্ত বিদ্যমান থাকবে, বিনা ওজরে জুমার সালাত ত্যাগ করা তার জন্য কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ ﷺ সতর্ক করেছেন যে, বিনা কারণে পরপর তিনটি জুমা পরিত্যাগকারীর অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন।


٥- أخبرنا الشافعى قال أخبرنا مالك عن ابن شهاب عن إبن السَّبَّاق: أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: فى جُمُعَةٍ من الجُمَع: يا معشر المسلمين! إن هذا يومٌ جعله الله عيدًا للمسلمين فاغتسلوا، ومن كان عنده طيبٌ فلا يضرّه أن يَمَسّ منه وعليكم بالسواك-

[৫. ইমাম শাফিঈ (রহ.) … ইবনুস সাব্বাক থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক জুমার দিনে ইরশাদ করেছিলেন: হে মুসলিম সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই এটি এমন এক দিন যাকে আল্লাহ মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন বানিয়েছেন। সুতরাং তোমরা গোসল কর, যার কাছে সুগন্ধি আছে সে তা ব্যবহার করলে কোনো ক্ষতি নেই, আর তোমরা অবশ্যই মেসওয়াক করবে।]


(أ) بين حكم السواك وفوائده-

[(ক) মেসওয়াকের শরয়ী হুকুম ও উপকারিতাসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামে শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা এবং পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করা ও দাঁতের সুরক্ষায় ‘মেসওয়াক’ হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অত্যন্ত প্রিয় ও অবিরাম অনুসৃত এক অনন্য সুন্নাত।

১. মেসওয়াকের শরয়ী হুকুম (حكم السواك):

  • সর্বসম্মত হুকুম: জমহুর ফুকাহায়ে কেরামের মতে মেসওয়াক করা হলো **’সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ’ (سنة مؤكدة)**। কোনো কোনো ইমামের মতে এটি ওযুর অন্যতম প্রধান সুন্নাত, আবার কারো মতে এটি সালাতের সুন্নাত।
  • মেসওয়াক ব্যবহারের বিশেষ মুহূর্তসমূহ:
    1. প্রতিটি ওযুর শুরুতে ও সালাতের পূর্বে।
    2. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর।
    3. কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের পূর্বে।
    4. ঘরে প্রবেশের সময় এবং জুমার সালাতে যাওয়ার প্রাক্কালে।
  • হাদিসের অকাট্য প্রমাণ: সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ» (যদি না আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর মনে করতাম, তবে প্রতিটি সালাতের পূর্বে আমি তাদের ওপর মেসওয়াক করা আবশ্যক করে দিতাম)।

২. মেসওয়াকের বহুমুখী উপকারিতাসমূহ (فوائد السواك):
হাদিস ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে মেসওয়াকের অগণিত উপকারিতা রয়েছে:

  1. আধ্যাত্মিক উপকারিতা: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ» (মেসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা অর্জন এবং মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের অনন্য উপায় — সুনানে নাসায়ী)। মেসওয়াক করে নামাজ পড়লে তার সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
  2. স্বাস্থ্যগত ও শারীরিক উপকারিতা:
    • দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করে এবং দুর্গন্ধ দূর করে।
    • দাঁতের মাড়ি শক্ত করে এবং পায়োরিয়া ও ক্যাভিটি প্রতিরোধ করে।
    • পাকস্থলীর হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং চোখের জ্যোতি বাড়ায়।
    • কণ্ঠস্বর পরিষ্কার করে ও বাক্য উচ্চারণে স্পষ্টতা আনে।
    • ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন, নিয়মিত মেসওয়াককারীর মৃত্যুর সময় কালিমায়ে শাহাদাত নসীব হয়।

উপসংহার:
মেসওয়াক অতি সহজ কিন্তু বিপুল সওয়াব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার এক অতুলনীয় নববী উপহার।


٦- أخبرنا الشافعى قال أخبرنا الثقة، عن الزهرى، عن السائب بن يزيد أن الأذان كان أوله للجُمُعة حين يجلس الإمام على المنبر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبى بكر وعمر رضى الله عنهما ، فلما كان خلافة عثمان رضى الله عنه كَثُر الناس أمر عثمان رضى الله عنه بأذان ثانٍ فأُذّن به فثبت الأمر على ذالك-

[৬. ইমাম শাফিঈ (রহ.) … সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রা.)-এর যুগে জুমার প্রথম আজান ছিল সেই সময়ে যখন ইমাম মিম্বারে বসতেন। অতঃপর যখন হযরত ওসমান (রা.)-এর খিলাফতের যুগে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি দ্বিতীয় আজানের (জুমার মূল আজানের পূর্বে বাইরের আজান) নির্দেশ দিলেন। সুতরাং সেই আজান দেওয়া হলো এবং বিষয়টি এর ওপরই সুপ্রতিষ্ঠিত রইল।]


(أ) هل أذان عثمان رضى الله عنه بدعة؟ بين أقسام البدعة وحكمها-

[(ক) হযরত ওসমান (রা.)-এর প্রবর্তিত আজান কি বিদআত? বিদআতের প্রকারভেদ ও তার শরয়ী হুকুম বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামি শরিয়তের উসূল ও ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে হযরত ওসমান (রা.) কর্তৃক প্রবর্তিত জুমার প্রাথমিক আজানের পর্যালোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাহাবায়ে কেরামের সম্মিলিত সম্মতি (ইজমা) এবং সুন্নাহর সংজ্ঞার আলোকে এর সমাধান করা জরুরি।

১. হযরত ওসমান (রা.)-এর আযান কি বিদআত?
না, হযরত ওসমান (রা.)-এর প্রবর্তিত আজান কোনোক্রমেই শরিয়ত বিরোধী পথভ্রষ্ট বিদআত নয়; বরং তা সুন্নাতে খুলাফায়ে রাশেদীন এবং সর্বসম্মত সুন্নাহ। এর সপক্ষে অকাট্য প্রমাণসমূহ:

  • খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণের স্পষ্ট নির্দেশ: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: «فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ» (তোমাদের ওপর আমার সুন্নাত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত আঁকড়ে ধরা আবশ্যক; তোমরা তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাক — তিরমিযী ও আবু দাউদ)। হযরত ওসমান (রা.) তৃতীয় খলীফায়ে রাশেদ।
  • সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বা সর্বসম্মত স্বীকৃতি: হযরত ওসমান (রা.) যখন মদিনার ‘যাওরা’ নামক স্থানে এই আজান চালু করলেন, তখন হযরত আলী (রা.), তালহা, জুবায়েরসহ বদরী সাহাবীগণ জীবিত ছিলেন। কেউই এর প্রতিবাদ করেননি; বরং সকলেই তা মেনে নিয়েছেন। ফলে এটি সাহাবাদের ‘ইজমায়ে সুকূতী’ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
  • মাসলাহাত বা জনস্বার্থের সংরক্ষণ: মদিনার বিস্তার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দূর-দূরান্তের মানুষকে যথাসময়ে জুমার জামাতে শরিক করার মহৎ উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

২. বিদআতের প্রকারভেদ ও শরয়ী হুকুম (أقسام البدعة وحكمها):
ইমাম শাফিঈ, সুলতানুল উলামা ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম এবং ইমাম নববী (রহ.) বিদআতকে ভাষাগত ও পারিভাষিক দিক থেকে বিশ্লেষণ করে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেছেন:

  1. بدعة حسنة / محمودة (বিদআতে হাসানাহ বা প্রশংসনীয় উদ্ভাবন):
    যে নতুন কাজ বা ব্যবস্থা কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের কোনো মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়; বরং দ্বীনের মৌলিক উদ্দেশ্য সাধনে সহায়তা করে। যেমন: কুরআনকে গ্রন্থাকারে সংকলন, কিতাবে নুকতা ও হরকত প্রদান, তারাবীহর ২০ রাকাত জামাত (হযরত ওমর একে বলেছিলেন: «نِعْمَتِ الْبِدْعَةُ هَذِهِ»), মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি। এর হুকুম হলো—এটি মুস্তাহাব বা ওয়াজিব হতে পারে।
  2. بدعة ضلالة / سيئة (বিদআতে দ্বালালাহ বা নিকৃষ্ট বিদআত):
    দ্বীনের মৌলিক আকাইদ ও ইবাদতের মধ্যে এমন কোনো নতুন বিষয় যুক্ত করা যার কোনো শারয়ী ভিত্তি নেই এবং যা সুন্নাহর পরিপন্থী। এর হুকুম হলো—এটি সম্পূর্ণ হারাম ও পথভ্রষ্টতা। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: «كُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ» (প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার স্থান জাহান্নামে)।

উপসংহার:
হযরত ওসমান (রা.)-এর আজান ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, যা চৌদ্দশত বছর ধরে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে অদ্যাবধি সর্বসম্মতিক্রমে পালিত হয়ে আসছে।


مجموعة (ج) — مسند الإمام احمد بن حنبل (গ বিভাগ: মুসনাদে ইমাম আহমদ)

الدرجات — ١٠ × ٢ = ٢٠
(ترجم الأحاديث ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[হাদিসগুলোর অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও]


٧- حدثنا عبد الله بن نمير قال أخبرنا اسماعيل يعنى إبن أبى خالد عن قيس قال: قام أبو بكر فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: يا أيها الناس! إنكم تقرءون هذه الآية: “يا أيها الذين أمنوا عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل إذا اهتديتم”- وإنا سمعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن الناس إذا رأوا المنكر فلم يغيروه أوشك أن يعمّهم الله بعقابه-

[৭. ইমাম আহমদ … কায়েস (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হযরত আবু বকর (রা.) দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন, অতঃপর বললেন: হে লোকসকল! তোমরা তো এই আয়াতটি পাঠ করছ—’হে ঈমানদারগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদের নিজেদের ওপরই, তোমরা যদি সৎপথে থাক তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ অথচ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই মানুষ যখন কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে অথচ তা পরিবর্তন করে না, তখন অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর শাস্তির আওতাভুক্ত করে নেবেন।]


(أ) ما التطبيق بين الآية والحديث؟ بين موضحًا-

[(ক) উক্ত আয়াত ও হাদিসের মধ্যে সমন্বয়সাধন (তাতবীক) কীভাবে করা হবে? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মায়িদাহর ১০৫ নং আয়াত: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ﴾ বাহ্যত দেখলে মনে হতে পারে যে, নিজের ভালো থাকাটাই যথেষ্ট, সমাজের অন্যায় প্রতিরোধ (আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার) করার কোনো প্রয়োজন নেই। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) স্বীয় খুতবায় এই ভুল ব্যাখ্যার অপনোদন করে হাদিসের সাথে আয়াতের নিখুঁত সমন্বয় সাধন করেছেন।

আয়াত ও হাদিসের মাঝে সমন্বয়সাধন (التطبيق والتوفيق بين الآية والحديث):
মুফাসসিরীন ও ফুকাহায়ে কেরাম এর মাঝে চমৎকার সমন্বয় পেশ করেছেন:

  1. ‘যদি তোমরা সৎপথে থাক’ (إِذَا اهْتَدَيْتُمْ)-এর সঠিক মর্ম অনুধাবন:
    আল্লাহ তাআলা শর্ত দিয়েছেন—”যদি তোমরা নিজেরা সৎপথে থাক তবে অপরের পথভ্রষ্টতা তোমাদের ক্ষতি করবে না।” এখন প্রশ্ন হলো, একজন মুমিন কখন পরিপূর্ণ ‘সৎপথপ্রাপ্ত’ বা হিদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারে?
    ইসলামি শরিয়তের অকাট্য বিধান হলো—সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ঈমানের অন্যতম মৌলিক ফরজ দায়িত্ব। সুতরাং যে ব্যক্তি চোখের সামনে অন্যায় দেখেও হাত গুটিয়ে বসে থাকে, সে নিজেই আল্লাহর এই ফরজ বিধান লঙ্ঘন করায় পূর্ণ হেদায়াতপ্রাপ্ত থাকতে পারে না। অতএব, সাধ্যমতো অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পরেই কেবল এই আয়াত কার্যকর হবে।
  2. আদেশ-নিষেধের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরের পর্যায়:
    হযরত ইবনে মাসউদ ও আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর মতে, এই আয়াতটি সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য যখন মুমিনরা আন্তরিকভাবে সমাজে দাওয়াত ও অন্যায়ের প্রতিবাদ জারি রাখবে, কিন্তু পথভ্রষ্ট সমাজ তাদের কথা শুনবে না। সেই পরিস্থিতিতে মুমিনদের আর কোনো গোনাহ হবে না; সমাজের অন্যায়ের দায় তাদের স্পর্শ করবে না।
  3. হাদিসের সতর্কতা ও সামাজিক অবক্ষয়:
    হাদিস শরীফ প্রমাণ করে যে, সমাজে যখন প্রকাশ্যে অন্যায়-অনাচার ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ না করে নীরবে তা সহ্য করে নেয়, তখন আল্লাহর সার্বজনীন গজব নেমে আসে এবং সেই গজবে সৎ ও অসৎ সকলেই আক্রান্ত হয়।

উপসংহার:
আয়াতটি মানুষকে আত্মশুদ্ধির নির্দেশ দেয় এবং হাদিসটি মানুষকে সামাজিক দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেয়। উভয়ের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব নেই; বরং একে অপরের পরিপূরক।


٨- حدثنا أبو كامل حدثنا إبراهيم بن سعد حدثنا ابن شهاب عن عبيد بن السبّاق عن زيد بن ثابت قال: أرسل إليّ مقتل أهل اليمامة- فقال أبو بكر: يا زيد بن ثابت إنك غلام شاب عاقل لا نتهمك، قد كنت تكتب الوحى لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتتبع القرآن فاجمعه-

[৮. ইমাম আহমদ … হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়ামামার যুদ্ধে সাহাবীগণের শাহাদাতের পর হযরত আবু বকর (রা.) আমাকে ডেকে পাঠালেন। অতঃপর আবু বকর (রা.) বললেন: হে যায়েদ ইবনে সাবিত! তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক, তোমার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় বা অপবাদ নেই এবং তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহী লিপিবদ্ধ করতে; সুতরাং তুমি কুরআনের অনুসন্ধান কর এবং তা একত্রিত কর।]


(أ) اكتب تاريخ جمع القرآن فى عهد أبى بكر رضى الله عنه-

[(ক) হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
পবিত্র কুরআনুল কারীমের ইতিহাস সংরক্ষণে প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর খেলাফতকাল এক অনন্য ঐতিহাসিক স্বর্ণযুগ। বিক্ষিপ্ত অবস্থায় সংরক্ষিত ওহীর লিপিগুলোকে সর্বপ্রথম একটি সুসংহত গ্রন্থাকার রূপ (মাসহাফ) দানের মহান কাজ তাঁর যুগেই সম্পন্ন হয়েছিল।

হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলনের ইতিহাস:

  1. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (ইয়ামামার যুদ্ধ):
    ১২ হিজরীতে ভণ্ড নবী মুসায়লামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে প্রায় সাতশত বিশিষ্ট সাহাবী শহীদ হন, যাঁদের মধ্যে কুরআনের শীর্ষস্থানীয় বহু হাফেজে কুরআন সাহাবী ছিলেন।
  2. হযরত ওমর (রা.)-এর দূরদর্শী প্রস্তাব:
    হাফেজ সাহাবীদের ব্যাপক শাহাদাতে শঙ্কিত হয়ে হযরত ওমর (রা.) খলীফা আবু বকর (রা.)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে প্রস্তাব করলেন: “বিভিন্ন যুদ্ধে যদি এভাবে হাফেজ সাহাবীগণ শহীদ হতে থাকেন, তবে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতএব আমার অভিমত হলো আপনি অবিলম্বে কুরআনকে গ্রন্থাকারে একত্রিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।”
  3. আবু বকর (রা.)-এর দ্বিধা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
    শুরুতে আবু বকর (রা.) দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে বললেন: «كَيْفَ تَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ؟» (যে কাজ রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বয়ং করেননি, আমি তা কীভাবে করব?)। কিন্তু ওমর (রা.) তাঁকে বোঝালেন যে, এটি দ্বীনের হিফাজতের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর কাজ। অবশেষে আল্লাহ তাআলা আবু বকর (রা.)-এর বক্ষ উন্মুক্ত করে দিলেন এবং তিনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন।
  4. যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে প্রধান নির্বাচন:
    আবু বকর (রা.) প্রধান সংকলক হিসেবে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে মনোনীত করলেন। কারণ: তিনি ছিলেন তরুণ, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, বিশ্বস্ত এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রধান ওহী লেখক। যায়েদ (রা.) বলেন, “আল্লাহর কসম! তাঁরা যদি আমাকে একটি পাহাড় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশ দিতেন, তবে সেটাও আমার কাছে কুরআন সংকলনের চেয়ে কঠিন মনে হতো না!”
  5. সংকলনের কঠোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি:
    যায়েদ (রা.) শুধু নিজের মুখস্থ শক্তির ওপর নির্ভর করেননি; বরং তিনি প্রতিটি আয়াতের জন্য দুটি অকাট্য প্রমাণের সমন্বয় নিশ্চিত করেছিলেন:

    • লিপিবদ্ধ রূপ (খেজুরের ডাল, পাথরের ফলক, চামড়ায় লিখিত ওহী)।
    • কমপক্ষে দুইজন বিশ্বস্ত প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্য যে এই আয়াতটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপস্থিতিতেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

    সুরা তাওবার শেষ দুই আয়াত আবু খুযাইমা আনসারী (রা.)-এর কাছে লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল এবং সাহাবীদের স্মৃতি তার সত্যতা নিশ্চিত করেছিল।

  6. সংরক্ষণ:
    এই সংকলিত পবিত্র কপিটি প্রথমে আবু বকর (রা.)-এর নিকট, তাঁর ইন্তেকালের পর ওমর (রা.)-এর নিকট এবং পরবর্তীতে উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.)-এর হেফাজতে সংরক্ষিত রাখা হয়।

উপসংহার:
আবু বকর (রা.)-এর এই মহৎ উদ্যোগের ফলেই কুরআনুল কারীম কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য অবিকৃত ও অপরিবর্তনীয় আকারে সংরক্ষিত হয়েছে।


٩- حدثنا أسود بن عامر قال حدثنا زهير عن سليمان الأعمش حدثنا إبراهيم عن عابس بن ربيعة قال: رأيت عمر نظر إلى الحجر فقال: أما والله لو لا أنى رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبّلك ما قبّلتك، ثم قبّله-

[৯. ইমাম আহমদ … আবিস ইবনে রাবিয়াহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হযরত ওমর (রা.)-কে দেখেছি, তিনি হাজরে আসওয়াদের দিকে তাকিয়ে বললেন: আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি জানি তুমি একটি পাথর মাত্র, ক্ষতি বা উপকার করার কোনো ক্ষমতা তোমার নেই। আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমি কখনোই তোমাকে চুম্বন করতাম না। অতঃপর তিনি একে চুম্বন করলেন।]


(أ) بين فضائل تقبيل الحجر الأسود وكيفية تقبيله-

[(ক) হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার ফযীলত ও তা চুম্বন করার শরয়ী পদ্ধতি বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
কা’বা শরীফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে স্থাপিত জান্নাতী পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’ (কালো পাথর) তাওয়াফের সূচনা ও সমাপ্তির কেন্দ্রবিন্দু। হযরত ওমর (রা.)-এর এই উক্তিটি প্রমাণ করে যে, ইসলামে কোনো পাথরের নিজস্ব ঐশ্বরিক ক্ষমতা নেই; বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিঃশর্ত অনুকরণের (ইত্তিবায়ে সুন্নাত) অংশ হিসেবেই হাজরে আসওয়াদকে সম্মান ও চুম্বন করা হয়।

১. হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের ফযীলত (فضائل تقبيل الحجر الأسود):

  • গুনাহ মাফ হওয়া: তিরমিযী শরীফে হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: «إِنَّ مَسْحَهُمَا يَحُطُّ الْخَطَايَا حَطًّا» (হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করা মানুষের গুনাহসমূহকে সম্পূর্ণরূপে ঝরিয়ে দেয়)।
  • কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী সাক্ষী হওয়া: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এই পাথরটিকে এমন অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন যে তার দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে এবং একটি যবান থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে; যে ব্যক্তি সততার সাথে তাকে স্পর্শ বা চুম্বন করেছে, সে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।”
  • জান্নাত থেকে অবতরণ: এটি মূলত দুধের চেয়েও সাদা অবস্থায় জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল, পরবর্তীতে মানবজাতির পাপের প্রভাবে তা কালো হয়ে গেছে।

২. হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের শরয়ী পদ্ধতি (كيفية تقبيله):
ফুকাহায়ে কেরাম ভিড় ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তিনটি পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন:

  1. প্রথম পদ্ধতি (সরাসরি মুখে চুম্বন করা – মূল সুন্নাত): যদি ভিড় না থাকে এবং সহজে পৌঁছানো যায়, তবে উভয় হাত পাথরের ওপর রেখে মধ্যবর্তী স্থানে মুখ রেখে কোনো প্রকার শব্দ না করে আলতোভাবে চুম্বন করা।
  2. দ্বিতীয় পদ্ধতি (হাত বা লাঠি দিয়ে স্পর্শ করে তাতে চুম্বন করা): যদি সরাসরি মুখ লাগানো সম্ভব না হয়, তবে নিজের ডান হাত বা কোনো লাঠি দ্বারা পাথরটি স্পর্শ করবে এবং সেই হাতে বা লাঠিতে চুম্বন করবে।
  3. তৃতীয় পদ্ধতি (দূর থেকে ইশারা করা – ইস্তিলাম): যদি অতিরিক্ত ভিড় থাকে এবং কারো গায়ে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা হয়, তবে দূর থেকেই হাজরে আসওয়াদের দিকে মুখ করে উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত তুলে «بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ» বলে হাতের তালু দিয়ে ইশারা করবে এবং নিজের হাতের তালুতে চুম্বন করবে। কা’বার তাওয়াফকারীদের কোনো কষ্ট না দেওয়া ওয়াজিব, আর চুম্বন করা সুন্নাত; সুতরাং সুন্নাত পালনার্থে কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েজ।

উপসংহার:
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন হলো একমাত্র সুন্নাতে নববীর প্রতি নিখাদ আনুগত্য ও গভীর প্রেমের অনন্য প্রতীক।


مجموعة (د) — তাত্ত্বিক প্রশ্ন (ঘ বিভাগ: ইমামদের জীবনী ও তাঁদের মুসনাদ গ্রন্থ)

الدرجات — ١٠ × ٢ = ٢٠
[أجب عن اثنين من مجموعة (د)]
[নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও]


١٠- اكتب نبذة من حياة الإمام أبى حنيفة (رح)- ثم بين مكانته في علم الحديث-

[১০. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। অতঃপর হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থান বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামি আইনশাস্ত্রের জনক এবং চার মাযহাবের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ ইমাম হলেন ইমামে আযম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত (রহ.)। তিনি একাধারে অনন্য মুজতাহিদ ফকীহ এবং হাদিস শাস্ত্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্বস্ত হাফেজ ছিলেন।

১. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

  • নাম ও বংশপরিচয়: তাঁর নাম নোমান, উপনাম আবু হানিফা। পিতার নাম সাবিত। তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
  • জন্ম: তিনি ৮০ হিজরীতে (৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) ইরাকের বিখ্যাত ইলমী নগরী কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। এই সময় বহু সাহাবী জীবিত ছিলেন।
  • তাবেঈ হওয়ার গৌরব: তিনি প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক, আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা ও সাহল ইবনে সা’দ (রা.)-সহ একাধিক সাহাবীকে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাঁদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ফলে সর্বসম্মতভাবে তিনি একজন মর্যাদাপূর্ণ ‘তাবেঈ’ ছিলেন।
  • শিক্ষা ও উস্তাদবৃন্দ: তিনি কুফার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ হযরত হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান (রহ.)-এর সান্নিধ্যে দীর্ঘ ১৮ বছর কাটিয়ে ফিকহ ও হাদিসের সর্বোচ্চ জ্ঞান অর্জন করেন। এছাড়া তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইমাম বাকির, ইমাম জাফর সাদিক ও ইকরিমা (রহ.)-এর মতো চার হাজার শ্রেষ্ঠ উস্তাদের কাছে ইলম চর্চা করেন।
  • চারিত্রিক গুণাবলি: তিনি ছিলেন অত্যন্ত তাকওয়াবান, পরহেযগার, ব্যবসায়ী এবং রাতের অধিকাংশ সময় নফল নামাজে রত এক মহান সাধক। তিনি শাসকগোষ্ঠীর কোনো অন্যায্য সরকারি পদ (যেমন প্রধান বিচারপতির পদ) গ্রহণ করেননি এবং জেলখানায় বন্দি থাকা অবস্থায় নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
  • ইন্তেকাল: ১৫০ হিজরীতে (৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দ) বাগদাদের কারাগারে ৭০ বছর বয়সে এই মহান ইমাম শাহাদাতবরণ করেন।

২. হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার সুউচ্চ অবস্থান ও মর্যাদা (مكانته في علم الحديث):
কিছু বিদ্বেষী ব্যক্তি ইমাম আবু হানিফাকে কিয়াসকারী এবং হাদিসে দুর্বল বলে অপবাদ দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু নিরপেক্ষ মুহাদ্দিসীনদের মূল্যায়নে তিনি ছিলেন হাদিসের এক বিরাট সমুদ্র:

  1. উচ্চ সনদের অধিকারী (আ’লাস সানাদ): ইমাম আবু হানিফা ছিলেন হিজরী প্রথম শতকের মানুষ। তাঁর হাদিসের সনদে মাত্র দুজন বা তিনজন বর্ণনাকারী থাকতেন (সুলাসিয়াত)। ইমাম বুখারী যেখানে বহু সনদে পাঁচ বা ছয়জন রাবির মাধ্যমে হাদিস পান, আবু হানিফা সেখানে সরাসরি তাবেঈ ও সাহাবীদের মাধ্যমেই হাদিস পেয়েছেন।
  2. রাবি নির্বাচনে চরম সতর্কতা ও কঠোর শর্ত: ইমাম আবু হানিফা হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যান্য ইমামদের চেয়েও কঠোর শর্ত আরোপ করেছিলেন। তিনি কেবল সেই হাদিসই গ্রহণ করতেন যা বর্ণনাকারী মুখস্থ শোনার পর থেকে বর্ণনা করা পর্যন্ত একটানা স্মৃতিতে পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে (حفظ من حين السماع إلى حين الأداء)। এই চরম সতর্কতার কারণেই তিনি কেবল বাছাইকৃত বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণনা করতেন।
  3. সমসাময়িক ও পরবর্তী শীর্ষ মুহাদ্দিসদের সুউচ্চ প্রশংসা:
    • মহামতি ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন: «لَوْلَا أَنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي بِأَبِي حَنِيفَةَ وَسُفْيَانَ كُنْتُ كَسَائِرِ النَّاسِ» (আল্লাহ যদি আবু হানিফা ও সুফিয়ান সাওরী দ্বারা আমাকে সাহায্য না করতেন, তবে আমি সাধারণ পথভ্রষ্ট মানুষের মতোই থেকে যেতাম)। তিনি আরও বলেন, “আবু হানিফার চেয়ে বড় কোনো মুহাদ্দিস ও ফকীহ আমি দেখিনি।”
    • ইমাম মক্কী ইবনে ইব্রাহীম (যিনি ইমাম বুখারীর প্রধান উস্তাদ) বলেন: “আবু হানিফা ছিলেন তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় আলেম ও বিশ্বস্ত হাদিস বিশারদ।”
    • ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (ইলমুল জারহ ওয়াত তাদিলের প্রধান ইমাম) বলেন: “আবু হানিফা হাদিসের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত (সিক্বাহ); তিনি কোনো ভুল হাদিস বলতেন না।”
  4. মুসনাদে আবি হানিফা: তাঁর বর্ণিত সহস্রাধিক বিশুদ্ধ হাদিস নিয়ে পরবর্তীতে মুহাদ্দিসগণ ‘মুসনাদু আবি হানিফা’ সংকলন করেছেন (যেমন ইমাম খারেযমী, হাসকাফী ও ইবনুল মুকরী কর্তৃক সংকলিত মুসনাদ)।

উপসংহার:
ইমাম আবু হানিফার গভীর ফিকহের প্রতিটি রায়ই ছিল শত শত সহীহ হাদিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছিলেন সুন্নাহর এক মহান সংরক্ষক ও ব্যাখ্যাদাতা।


١١- اكتب نبذة من حياة الإمام الشافعى (رح)- ثم تحدث عن مسنده-

[১১. ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। অতঃপর তাঁর ‘মুসনাদুশ শাফিঈ’ গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামি আইনশাস্ত্রের অন্যতম চার স্তম্ভের তৃতীয় ইমাম এবং উসূলে ফিকহের জনক হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিঈ (রহ.)। তিনি হাদিস ও যুক্তির (আহলুল হাদিস ও আহলুর রায়) মাঝে এক যুগান্তকারী ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় সাধন করেছিলেন।

১. ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

  • নাম ও বংশপরিচয়: তাঁর নাম মুহাম্মদ, উপনাম আবু আবদুল্লাহ। বংশলতিকা: মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস ইবনুল আব্বাস আল-কুরাইশী আল-হাশেমী আল-মুত্তালিবী আশ-শাফিঈ। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বংশের সাথে ‘আব্দে মানাফ’-এ গিয়ে মিলিত হয়েছেন।
  • জন্ম: তিনি ১৫০ হিজরীতে ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন (যে বছর ইমাম আবু হানিফা ইন্তেকাল করেন)।
  • শিক্ষা ও অসাধারণ মেধা: মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করেন এবং দশ বছর বয়সে ইমাম মালিকের বিশ্বখ্যাত ‘মুয়াত্তা’ মুখস্থ সম্পন্ন করেন। তিনি মক্কার মুফতি মুসলিম ইবনে খালিদ জানজীর কাছে ফিকহ শেখেন এবং মাত্র ১৫ বছর বয়সে ফতোয়া দানের অনুমতি লাভ করেন। এরপর মদিনায় গিয়ে ইমাম মালিকের প্রত্যক্ষ শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ইরাকে গিয়ে ইমাম আবু হানিফার শীর্ষ ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ আশ-শায়বানীর কাছে হানাফী ফিকহ আয়ত্ত করেন।
  • উপাধি: সুন্নাহর পক্ষে অকাট্য যুক্তি ও দলিল উপস্থাপনের কারণে তাঁকে ইতিহাসে **’নাসিরুস সুন্নাহ’ (ناصر السنة – সুন্নাহর বিজয়ী সাহায্যকারী)** উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
  • কালজয়ী রচনাবলী: তিনি উসূলে ফিকহের প্রথম গ্রন্থ ‘আর-রিসালাহ’ এবং ফিকহের সুবিশাল গ্রন্থ ‘কিতাবুল উম্ম’ রচনা করেন।
  • ইন্তেকাল: ২০৪ হিজরীর রজব মাসে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে মিসরের কায়রোতে এই মহামনীষী ইন্তেকাল করেন।

২. ‘মুসনাদুশ শাফিঈ’ (مسند الإمام الشافعي) গ্রন্থের বিস্তারিত পরিচয়:

  • গ্রন্থটির সংকলন প্রেক্ষাপট: ইমাম শাফিঈ (রহ.) নিজে আলাদাভাবে এই মুসনাদ গ্রন্থ সাজিয়ে যাননি। বরং তাঁর প্রধান গ্রন্থ ‘কিতাবুল উম্ম’ এবং ‘আল-মাবসূত’-এ তিনি স্বীয় ফিকহী রায়ের সপক্ষে সনদসহ যত হাদিস উল্লেখ করেছিলেন, পরবর্তীতে তাঁর বিখ্যাত শিষ্য ইমাম আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম (রহ.) তাঁর উস্তাদ রবী ইবনে সুলাইমানের সূত্রে সেই হাদিসগুলোকে একত্রিত করে ‘মুসনাদুশ শাফিঈ’ নাম দিয়ে গ্রন্থবদ্ধ করেন।
  • গ্রন্থের কাঠামো ও বিন্যাস: এটি সাধারণ মুসনাদ গ্রন্থের মতো সাহাবীদের নামে নয়, বরং ফিকহী অধ্যায় (কিতাবুত তাহারাত, সালাত, বুয়ূ’ ইত্যাদি) অনুসারে বিন্যস্ত। এতে মারফূ, মাওকূফ ও মাকতূ’ হাদিসসহ প্রায় দুই হাজারেরও বেশি রেওয়ায়েত সংকলিত রয়েছে।
  • উচ্চ সনদের মর্যাদা: এতে বহু হাদিস ইমাম শাফিঈ সরাসরি ইমাম মালিক এবং সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক সূত্রে বর্ণিত হাদিসগুলো স্বর্ণালী সনদের (সিলসিলাতুয যাহাব) অন্তর্ভুক্ত।
  • তাখরীজ ও শারহ: পরবর্তীতে বহু শীর্ষ মুহাদ্দিস এই মুসনাদের শারহ লিখেছেন; যার মধ্যে আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযীর শারহ এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর তাখরীজ অত্যন্ত সমাদৃত।

উপসংহার:
‘মুসনাদুশ শাফিঈ’ শাফিয়ী মাযহাবের ফিকহী ইস্তিম্বাত অনুধাবনের এবং সহীহ হাদিস চর্চার এক অনন্য নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থ।


١٢- اكتب نبذة عن كتاب “مسند الإمام أحمد”- ثم بين مكانته بين كتب الحديث-

[১২. ‘মুসনাদে ইমাম আহমদ’ গ্রন্থ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। অতঃপর হাদিস গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর সুউচ্চ অবস্থান ও মর্যাদা আলোচনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমাম, ইমামুল মুহাদ্দিসীন আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) সংকলিত ‘আল-মুসনাদ’ বা ‘মুসনাদে ইমাম আহমদ’ সমগ্র মুসলিম জাহানের সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক ব্যাপক হাদিস বিশ্বকোষ। হাদিসের বিশালতা ও প্রামাণিকতার দিক থেকে এটি এক অতুলনীয় ঐতিহাসিক সৌধ।

১. ‘মুসনাদে ইমাম আহমদ’ গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও কাঠামো:

  • সংকলক: আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী আল-মারওয়াযী আল-বাগদাদী (১৬৪ – ২৪১ হি.)।
  • হাদিস সংখ্যা ও বিন্যাস পদ্ধতি: ইমাম আহমদ প্রায় সাত লক্ষেরও বেশি হাদিস মুখস্থ করেছিলেন, যেখান থেকে দীর্ঘ সাধনায় বাছাই করে তিনি এই গ্রন্থে প্রায় ২৭,০০০ থেকে ৩০,০০০ হাদিস সংকলন করেছেন (মুকাররারসহ)।
  • বিন্যাস রীতি: এটি ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সাজানো নয়; বরং ‘মুসনাদ’ পদ্ধতির চিরায়ত রীতিতে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা অনুসারে সাজানো। যেমন:
    1. খুলাফায়ে রাশেদীনের মুসনাদ (আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলী রা.)।
    2. আশারায়ে মুবাশশারাহ ও বিশিষ্ট বদরী সাহাবীদের মুসনাদ।
    3. মক্কার ও মদিনার সাহাবীগণ এবং আহলে বাইতের মুসনাদ।
    4. মহিলা সাহাবীগণের মুসনাদ (উম্মুল মুমিনীনগণের বর্ণনা)।

    এতে প্রায় ৯০০ সাহাবীর বর্ণিত হাদিস সংকলিত হয়েছে।

  • গ্রন্থটির চূড়ান্ত রূপায়ন: ইমাম আহমদের সুযোগ্য পুত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ এবং তাঁর প্রধান ছাত্র আবু বকর আল-ক্বাতিয়ী স্বীয় উস্তাদের কাছ থেকে শুনে অতিরিক্ত কিছু সনদী তথ্য (যাওয়ায়েদে আবদুল্লাহ) সহ একে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

২. হাদিস গ্রন্থসমূহের মধ্যে মুসনাদে আহমদের মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থান:

  1. সুন্নাহর সর্ববৃহৎ মহাফেজখানা: ইমাম আহমদ স্বয়ং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন: «إِنَّ هَذَا الْكِتَابَ قَدْ جَمَعْتُهُ وَانْتَقَيْتُهُ مِنْ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِمِائَةِ أَلْفٍ، فَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ الْمُسْلِمُونَ مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَارْجِعُوا إِلَيْهِ، فَإِنْ وَجَدْتُمُوهُ فِيهِ، وَإِلَّا فَلَيْسَ بِحُجَّةٍ» (আমি এই কিতাবটি সাত লক্ষেরও বেশি হাদিস থেকে অতি সতর্কতার সাথে বাছাই করে সংকলন করেছি। সুতরাং মুসলমানরা যখনই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কোনো হাদিস নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হবে, তারা যেন এই কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। যদি হাদিসটি এতে পাও তবে তা গ্রহণ কর, আর যা এতে নেই তা দলিলযোগ্য নয়)।
  2. হাদিসের মানের চমৎকার স্থায়িত্ব: এতে জাল বা মনগড়া কোনো হাদিস নেই। ইমাম ইবনে তাইমিয়া, হাফেজ যাহাবী ও ইবনে হাজার প্রমাণ করেছেন যে মুসনাদে আহমদের হাদিসগুলো মূলত সহীহ, হাসান এবং এমন কিছু গ্রহণযোগ্য দুর্বল যা ফাজায়েলে আমল বা শাওয়াাহিদের অন্তর্ভুক্ত। কোনো কোনো সমালোচক এতে কয়েকটি দুর্বল হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করলেও আল্লামা সুয়ূতী ও ইবনে হাজার তাঁদের খণ্ডন করেছেন।
  3. কুতুবে সিত্তার অন্যতম প্রধান উৎস: ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী—সকল শীর্ষ ইমামগণ সরাসরি ইমাম আহমদ অথবা তাঁর সংকলিত হাদিসের ভাণ্ডার থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন।

উপসংহার:
মুসনাদে ইমাম আহমদ হলো হাদিস সাহিত্যের এক সুবিশাল বটবৃক্ষ, যার ছায়াতলে পরবর্তী সকল যুগের মুহাদ্দিস ও গবেষকগণ তৃপ্তি ও নিরাপত্তার সন্ধান পেয়েছেন।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ৪র্থ বর্ষের ‘আল-মুসনাদ লি আবি হানিফা ওয়া আল-শাফিঈ ওয়া আহমদ’ (বিষয় কোড: 202403) পরীক্ষার মানবণ্টন কেমন?

উত্তর: এই পরীক্ষার পূর্ণমান ৮০। প্রশ্নপত্রটি চারটি গ্রুপে বিভক্ত: (ক) বিভাগ: মুসনাদে আবু হানিফা, (খ) বিভাগ: মুসনাদে শাফিঈ, (গ) বিভাগ: মুসনাদে আহমদ, এবং (ঘ) বিভাগ: ইমামদের জীবনী ও মুসনাদ সম্পর্কিত তাত্ত্বিক প্রশ্ন। প্রতিটি বিভাগে ৩টি করে প্রশ্ন থাকে যার মধ্য থেকে ২টি করে মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় (৮ × ১০ = ৮০ নম্বর)। প্রথম তিন বিভাগে প্রতিটি প্রশ্নে হাদিসের অনুবাদের মান ৬ এবং সংশ্লিষ্ট উপ-প্রশ্নের মান ৪ নম্বর।

২. মুসনাদ জাতীয় হাদিস গ্রন্থের মূল বৈশিষ্ট্য কী এবং জামে বা সুনান গ্রন্থের সাথে এর পার্থক্য কী?

উত্তর: মুসনাদ জাতীয় গ্রন্থে হাদিসগুলো ফিকহী বিষয়ের (যেমন তাহারাত, সালাত ইত্যাদি) ভিত্তিতে সাজানো হয় না; বরং হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবায়ে কেরামের নামের ক্রমানুসারে সাজানো হয় (যেমন: আবু বকর রা.-এর বর্ণিত সকল হাদিস এক জায়গায়, ওমরের হাদিস এক জায়গায়)। পক্ষান্তরে জামে ও সুনান গ্রন্থে হাদিসগুলোকে বিষয়ভিত্তিক ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সুবিন্যস্ত করা হয়।

৩. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর হাদিস শাস্ত্রে অবস্থান কেমন ছিল?

উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ছিলেন একজন শীর্ষস্থানীয় তাবেঈ এবং হাদিসের অতি উচ্চ সনদের (সুলাসিয়াত) অধিকারী। তিনি হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তির অবিচ্ছিন্ন সুরক্ষার মতো অত্যন্ত কঠোর শর্ত আরোপ করতেন। সমকালীন জারহ ও তাদিলের শ্রেষ্ঠ ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও শু’বা ইবনুল হাজ্জাজ তাঁকে হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ) ও প্রামাণ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

৪. মুসনাদে আহমদের হাদিস সংখ্যা কত এবং এতে কি কোনো জাল হাদিস আছে?

উত্তর: মুসনাদে আহমদে পুনরাবৃত্তিসহ প্রায় ২৭,০০০ থেকে ৩০,০০০ হাদিস রয়েছে যা প্রায় ৯০০ সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। এতে কোনো জাল (মওদূ’) হাদিস নেই। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী ও ইমাম যাহাবীর মতে, এর অধিকাংশ হাদিসই সহীহ ও হাসান স্তরের এবং অবশিষ্ট কিছু হাদিস এমন দুর্বল যা মুতাবাআত ও শাওয়াাহিদের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য।

৫. ফাজিল অনার্স পরীক্ষায় হাদিসের অনুবাদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার উপায় কী?

উত্তর: পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য হাদিসের অনুবাদে মূল আরবি শব্দের গভীর ও যথাযথ ভাবার্থ ফুটিয়ে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট তাত্ত্বিক প্রশ্নে ভূমিকা, ফুকাহায়ে কেরামের মতপার্থক্যের তুলনামূলক আলোচনা, কুরআনের আয়াত ও হাদিসের সমন্বয় (তাতবীক) এবং প্রাসঙ্গিক ফিকহী নীতি পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করা আবশ্যক।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন