اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القسم: الحديث والدراسات الإسلامية [বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المادة: الموطأ للإمام مالك وسنن الدارمي [বিষয়: আল-মুয়াত্তা লিল ইমাম মালিক ও সুনানুদ দারিমী / Al-Muwatta & Sunan ad-Darimi]
كود المادة [বিষয় কোড]: 402 | كود الامتحان [পরীক্ষা কোড]: 204 | كود ورقة الأسئلة [প্রশ্নপত্র কোড]: 169
الزمن [সময়]: ৪ ঘণ্টা | الدرجات الكاملة [পূর্ণমান]: ৮০
الملاحظة [দ্রষ্টব্য]: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والدرجات متساوية- [ক বিভাগ (مجموعة أ) থেকে যে কোনো চারটি এবং খ বিভাগ (مجموعة ب) থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান (১৬ নম্বর)।]
مجموعة (أ) – [ক বিভাগ]
নিচের হাদিসগুলোর অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। মান: ১৬ × ৪ = ৬৪ (অনুবাদ-৬, أ-৫, ب-৫)
১. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
١- عن مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه: أنه كان يقول في قول الله تبارك وتعالى— ﴿وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُم بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنتُمْ فِي أَنفُسِكُمْ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَٰكِن لَّا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّا أَن تَقُولُوا قَوْلًا مَّعْرُوفًا﴾— أن يقول الرجل للمرأة، وهي في عدتها من زوجها: إنك على كريمة، وإني فيك لراغب، وإن الله لسائق إليক خيرا ورزقا ونحو هذا من القول-
[১. ইমাম মালিক (রহ.) আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: তিনি মহান আল্লাহর বাণী—“আর যদি তোমরা ইঙ্গিতে নারীদের বিবাহের প্রস্তাব দাও কিংবা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখ, তবে তাতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা তাদের স্মরণ করবে; কিন্তু তাদের সাথে গোপনে কোনো অঙ্গীকার করো না, তবে সদাচারমূলক কোনো কথা বলতে পার…” (সূরা আল-বাকারা: ২৩৫)—এর তাফসিরে বলতেন: এর অর্থ হলো কোনো পুরুষ কর্তৃক স্বামীর ইদ্দতরত নারীকে এভাবে বলা যে, “নিশ্চয়ই তুমি আমার কাছে সম্মানিত, আমি তোমাকে পছন্দ করি, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার কাছে কল্যাণ ও উত্তম রিজিক পাঠাবেন”—কিংবা এ জাতীয় ইঙ্গিতের কথা বলা।]
(أ) اكتب عدة المتوفى عنها زوجها بالأدلة-
[(ক) দলীলসহ স্বামীহারা (বিধবা) নারীর ইদ্দতের সময়সীমা ও বিধান লেখ।]
উত্তর:
ভূমিকা: স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে শোক পালন করতে হয়, তাকে ‘মুতাওয়াফ্ফা আনহা যাওজুহা’-এর ইদ্দত বলে।
ইদ্দতের মেয়াদ ও শরয়ী দলিল:
- ১. সাধারণ ক্ষেত্রে (গর্ভবতী না হলে): যে নারীর স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে এবং সে গর্ভবতী নয়, তার ইদ্দত হলো ৪ মাস ১০ দিন।
কুরআনের দলিল: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষমাণ রাখবে।” (সূরা আল-বাকারা: ২৩৪)।
- ২. গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে: স্বামী মৃত্যুর সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে তার ইদ্দত সন্তান প্রসব পর্যন্ত। সন্তান প্রসব চার মাস দশ দিনের আগেও হতে পারে কিংবা পরেও হতে পারে।
কুরআনের দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর গর্ভবতীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত।” (সূরা আত-ত্বালাক: ৪)। হযরত সুবাইআ আল-আসলামিয়্যা (রা.)-এর স্বামীর মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন পর সন্তান প্রসব হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে অবিলম্বে পুনরায় বিবাহের অনুমতি দেন।
- ইদ্দতের বিধান ও শোক পালন (ইহদাদ): এই সময়ে নারীর জন্য সুরমা, সুবাস, রঙিন ও আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান এবং সাজসজ্জা করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজন ছাড়া স্বামীর ঘর ত্যাগ করা জায়েজ নয়।
(ب) اكتب فضل النكاح بإيجاز-
[(খ) বিবাহের ফজিলত ও গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখ।]
উত্তর:
ইসলামে বিবাহ কোনো সাধারণ সামাজিক প্রথা নয়, বরং এটি নবীদের পবিত্র সুন্নাত ও মহান ইবাদত।
- দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণতা: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “বান্দা যখন বিবাহ সম্পন্ন করল, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করল; অতএব বাকি অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।” (বায়হাকী, শুআবুল ঈমান)।
- সুন্নাতের অনুসরণ: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “বিবাহ আমার সুন্নাত; সুতরাং যে আমার সুন্নাত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার উম্মতের দলভুক্ত নয়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)।
- দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের সুরক্ষা: বিবাহ মানুষকে পাপাচার ও ব্যভিচার থেকে রক্ষা করে চোখের হেফাজত নিশ্চিত করে।
- রিজিকে বরকত লাভ: আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন: “তারা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন।” (সূরা আন-নূর: ৩২)।
২. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٢- وحدثنى يحيى عن مالك عن أبى الزناد عن الأعرج عن أبى هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا يجمع بين المرأة وعمتها ولا بين المرأة وخالتها-
[২. ইয়াহইয়া (রহ.) ইমাম মালিক থেকে, তিনি আবুল জিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে এবং তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “কোনো নারী ও তার ফুফুকে একত্রে এক পুরুষের বিবাহে রাখা যাবে না, এবং কোনো নারী ও তার খালাকেও একত্রে এক পুরুষের বিবাহে রাখা যাবে না।”]
(أ) اكتب المحرمات الأبدية والموقتة مفصلا-
[(ক) চিরস্থায়ীভাবে হারাম (মুহাররামাতুল আবাদিয়্যাহ) এবং সাময়িকভাবে হারাম (মুহাররামাতুল মুয়াক্কাতাহ) নারীদের বিবরণ বিস্তারিত লেখ।]
উত্তর:
যেসব নারীর সাথে বিবাহ বন্ধন শরিয়তে নিষিদ্ধ, তারা দুই ভাগে বিভক্ত:
১. স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ নারী (المحرمات الأبدية): এদের সাথে কোনো অবস্থাতেই বিবাহ বৈধ নয়। কারণ তিনটি:
- রক্তের সম্পর্কের কারণে (৭ শ্রেণি): মাতা, কন্যা, ভগ্নি, ফুফু, খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী (ভাইয়ের মেয়ে) এবং ভগ্নিপুত্রী (বোনের মেয়ে)। (সূরা আন-নিসা: ২৩)।
- দুধের সম্পর্কের কারণে (রদাআত): দুধমা এবং দুধবোন (রক্তের সম্পর্কে যা হারাম, দুধের সম্পর্কেও তা হারাম)।
- বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে (মুসাহারাত – ৪ শ্রেণি): শাশুড়ি, সহবাসকৃত স্ত্রীর অন্য ঘরের মেয়ে (রবীবা), নিজের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী (পুত্রবধূ) এবং পিতার স্ত্রী (সৎমা)।
২. সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ নারী (المحرمات المؤقتة): বিশেষ প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত হারাম, প্রতিবন্ধকতা দূর হলে বিবাহ জায়েজ:
- দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা: এক বোন বৈবাহিক সম্পর্কে বা ইদ্দতে থাকা অবস্থায় অপর বোনকে বিবাহ করা হারাম।
- স্ত্রী ও তার ফুফু বা খালাকে একত্রে রাখা: উল্লেখিত হাদিস অনুযায়ী এদের একত্রে রাখা হারাম।
- অন্যের বিবাহিতা বা ইদ্দতরত নারী: যতক্ষণ বিবাহ বা ইদ্দত বলবৎ থাকে।
- চার স্ত্রী বিদ্যমান থাকা অবস্থায় পঞ্চম স্ত্রী: কোনো একজনকে তালাক দিয়ে ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
- মুশরিক বা মূর্তিপূজক নারী: যতক্ষণ না সে ইসলাম বা কিতাবি ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করে।
(ب) اكتب فتوى مالك فيمن تزوج امرأة ثم نكح أمها-
[(খ) কোনো ব্যক্তি এক নারীকে বিবাহ করার পর তার মাকে বিবাহ করলে ইমাম মালিক (রহ.)-এর ফতোয়া কী? ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর:
ইমাম মালিক (রহ.) ও জমহুর ফুকাহার সুস্পষ্ট ফতোয়া হলো:
- শাশুড়ির সাথে বিবাহের হুকুম: কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীর সাথে বিবাহচুক্তি (আকদ) সম্পন্ন করে, তবে কেবল এই আকদ হওয়ার কারণেই ওই নারীর মা (শাশুড়ি) তার জন্য চিরতরে হারাম (মুহাররামাতুল আবাদিয়্যাহ) হয়ে যায়—চাই সে স্ত্রীর সাথে সহবাস করুক বা না করুক। কুরআনের অকাট্য বিধান: “এবং তোমাদের স্ত্রীদের মায়েরা (তোমাদের জন্য হারাম)” (সূরা আন-নিসা: ২৩)।
- পরবর্তীতে মাকে বিবাহের হুকুম: অতএব, কন্যার সাথে বিবাহের পর যদি কেউ তার মাকে বিবাহ করে, তবে সেই দ্বিতীয় বিবাহটি সম্পূর্ণ বাতিল (বাতিল ও ফাসেদ) হবে। তাদের অবিলম্বে পৃথক করে দিতে হবে এবং তাদের মধ্যকার কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ হবে না।
৩. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٣- عن على بن أبى طالب رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن متعة النساء يوم خيبر- وعن أكل لحوم الحمر الإنسية-
[৩. হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়বারের যুদ্ধের দিন মুত’আ বিবাহ (নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য চুক্তিভিত্তিক সাময়িক বিবাহ) এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।]
(أ) تحدث عن يوم خيبر بالإيضاح-
[(ক) খায়বারের যুদ্ধ দিবসের ঘটনা স্পষ্টভাবে আলোচনা কর।]
উত্তর:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: খায়বার ছিল মদিনা থেকে প্রায় ৯৫ মাইল উত্তরে ইহুদিদের একটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি ও সুরক্ষিত দুর্গনগরী। মদিনা থেকে বিতাড়িত বনু নাদির ও অন্যান্য ইহুদিরা এখানে সমবেত হয়ে কুরাইশ ও বিভিন্ন গোত্রকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছিল। হুদায়বিয়ার সন্ধির পর হিজরি ৭ম সনের মুহাররম মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ১,৪০০ সাহাবিকে নিয়ে খায়বার অভিমুখে রওয়ানা হন।
খায়বারের বিজয় ও গুরুত্ব:
- হযরত আলীর বীরত্ব: খায়বারের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ ‘কামুস’ জয় করা কঠিন হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেন: “আগামীকাল আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দেব, যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন এবং সেও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে।” পরদিন তিনি হযরত আলীর হাতে পতাকা দেন। আলী (রা.) ইহুদি সেনাপতি মারহাবকে দ্বৈরথে হত্যা করেন এবং দুর্গের ভারী লৌহকপাটকে ঢাল বানিয়ে দুর্গ জয় করেন।
- শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিধিবিধান প্রবর্তন: খায়বার বিজয়ের দিনই ইসলামের দুটি বড় হারাম বিধান জারি হয়: ১. মুত’আ বিবাহ চিরতরে হারাম ঘোষণা এবং ২. গৃহপালিত গাধার গোশত ভক্ষণ চিরতরে নিষিদ্ধকরণ।
(ب) اكتب نبذة من حياة على رضى الله عنه-
[(খ) হযরত আলী (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর:
- জন্ম ও ইসলাম গ্রহণ: হযরত আলী (রা.) নবুওয়াতের প্রায় ১০ বছর পূর্বে মক্কার পবিত্র কাবা ঘরের সন্নিকটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চাচাতো ভাই এবং শিশুদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সৌভাগ্যবান সাহাবি।
- খেতাব ও মর্যাদা: তাঁর বীরত্বের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ‘আসাদুল্লাহ’ (আল্লাহর সিংহ) উপাধি দেন এবং স্নেহ করে ‘আবু তুরাব’ ডাকতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাথে নিজ কন্যা সাইয়্যিদাতু নিসা ফাতিমা (রা.)-এর বিবাহ দেন। তিনি আশারায়ে মুবাশশারা এবং চার খলিফার অন্যতম।
- বীরত্ব ও খিলাফত: বদর, উহুদ, খন্দক ও খায়বারসহ প্রতিটি যুদ্ধে তিনি অনন্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন। ৩৫ হিজরিতে হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর তিনি চতুর্থ খলিফা নির্বাচিত হন। তিনি খিলাফতের রাজধানী কুফায় স্থানান্তর করেন।
- শাহাদাত: ৪০ হিজরির ১৭ই রমজান কুফার মসজিদে ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে খারেজি আততায়ী আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম বিষাক্ত তরবারি দিয়ে তাঁকে আঘাত করে। এর তিন দিন পর তিনি শাহাদাতবরণ করেন।
৪. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٤- قال كعب: نجد مكتوبا: محمد رسول الله لا فظ، ولا غليظ، ولا سخاب بالأسواق، ولا يجزى بالسيئة السيئة، ولكن يعفو ويغفر وأمته الحمادون- يكبرون الله على كل نجد، ويحمدونه فى كل منزلة يتأزرون على أنصافهم، ويتوضأون على أطرافهم، مناديهم ينادى فى جو السماء، صفهم فى القتال وصفهم فى الصلاة سواء، لهم بالليل دوى كدوى النحل، مولده بمكة، ومهاجره بطابة، وملكه بالشام-
[৪. হযরত কা’ব আল-আহবার (রহ.) বলেন: “আমরা (পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবে) লিখিত পাই: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; তিনি কঠোরভাষী নন, কঠোর স্বভাবের নন এবং হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের প্রতিফল মন্দ দিয়ে দেন না; বরং ক্ষমা ও মার্জনার দৃষ্টি প্রদর্শন করেন। তাঁর উম্মত হবে ‘হাম্মাদূন’ (অধিক প্রশংসাকারী)—তারা প্রতিটি টিলায় আল্লাহর তাকবির ধ্বনি দেবে এবং প্রতিটি অবতরণস্থলে তাঁর প্রশংসা করবে। তারা পায়ের অর্ধাংশ পর্যন্ত তহবন্দ পরবে, তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অজু করবে এবং তাদের আহ্বানকারী (মুয়াজ্জিন) আকাশের শূন্যমণ্ডলে আজানের মাধ্যমে আহ্বান করবে। যুদ্ধের ময়দানে তাদের কাতার এবং নামাজের কাতার সমান ও সুবিন্যস্ত হবে। রাতের বেলা তাদের কোরআন তিলাওয়াতের গুঞ্জন হবে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো। তাঁর জন্ম হবে মক্কায়, তাঁর হিজরত হবে তায়বায় (মদিনায়) এবং তাঁর কর্তৃত্ব বিস্তৃত হবে শামে।”]
(أ) اشرح: “مناديهم ينادى في جو السماء”-
[(ক) “তাদের আহ্বানকারী আকাশের শূন্যমণ্ডলে আহ্বান করবে”—উক্তিটির ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর:
এই বাক্যাংশটি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবে (তাওরাত ও ইঞ্জিলে) হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের মুয়াজ্জিন এবং আজানের এক অপূর্ব ভবিষ্যদ্বাণী।
- আজানের মাহাত্ম্য: ‘মুনাদিহিম’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উম্মতে মুহাম্মাদির মুয়াজ্জিনগণ। ইসলামে আজান এমন এক ধ্বনি যা উঁচু স্থান (মিনার বা ছাদ) থেকে উন্মুক্ত আকাশে আল্লাহর বড়ত্ব (আল্লাহু আকবার) ও তাওহিদের সাক্ষ্য দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
- হযরত বিলালের ঐতিহাসিক উদাহরণ: মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে উঁচু স্থানে উঠে এবং মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র কাবার ছাদে দাঁড়িয়ে হযরত বিলাল (রা.) যেভাবে উন্মুক্ত আকাশে আজান দিয়েছিলেন, এই ভবিষ্যদ্বাণীটিতে হুবহু সেই দৃশ্যের অলৌকিক প্রতিফলন ঘটেছে।
(ب) اكتب بعض الأوصاف الجسمية لرسول الله صلى الله عليه وسلم-
[(খ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য (শামায়েল) লেখ।]
উত্তর:
হযরত আলী, আনাস ও জাবির (রা.) বর্ণিত শামায়েলের আলোকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক অবয়ব ছিল সৃষ্টির সেরা ও নিখুঁত:
- উচ্চতা ও গড়ন: তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘদেহী ছিলেন না আবার বেঁটেও ছিলেন না; বরং মধ্যমাকৃতির চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন। তাঁর শরীরের গঠন ছিল সুদৃঢ় ও সুষম।
- চেহারা মোবারক: তাঁর মুখমণ্ডল ছিল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়। তিনি অতিরিক্ত শুভ্র বা শ্যামলা ছিলেন না; বরং রক্তিম শুভ্র বর্ণের অধিকারী ছিলেন।
- কেশ ও দাড়ি মোবারক: তাঁর মাথার চুল সম্পূর্ণ সোজা বা অতিরিক্ত কোঁকড়ানো ছিল না; ঢেউখেলানো ছিল এবং কখনো কান পর্যন্ত আবার কখনো কাঁধ পর্যন্ত ঝুলত। তাঁর দাড়ি মোবারক ছিল ঘন ও সুন্দর।
- নয়নযুগল ও মোহরে নবুওয়াত: তাঁর চোখ ছিল বড় ও আকর্ষণীয় কুচকুচে কালো। দুই কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে কবুতরের ডিমের মতো উঁচু নবুওয়াতের বিশেষ সিলমোহর (মোহরে নবুওয়াত) অঙ্কিত ছিল।
৫. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٥- عن ابن عباس رضى الله عنهما قال: دعا النبى صلى الله عليه وسلم بلالا، فطلب بلال الماء ثم جاء فقال: لا والله ما وجدت الماء، فقال النبى صلى الله عليه وسلم: فهل من شَنٍّ؟ فأتاه بشن، فبسط كفيه فيه، فانبعثت تحت يده عين، قال: فكان ابن مسعود يشرب وغيره يتوضأ-
[৫. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী করীম (সা.) বিলাল (রা.)-কে ডাকলেন। বিলাল পানির সন্ধান করলেন, অতঃপর এসে বললেন: ‘আল্লাহর কসম! আমি কোথাও পানি পাইনি।’ তখন নবী করীম (সা.) বললেন: ‘কোনো পুরনো মশক (চামড়ার পাত্র) কি আছে?’ অতঃপর তিনি একটি পুরনো পাত্র নিয়ে এলেন। নবী করীম (সা.) পাত্রে তাঁর উভয় হাতের তালু প্রসারিত করলেন। তখনই তাঁর আঙুলগুলোর নিচ থেকে পানির ফোয়ারা প্রবাহিত হতে লাগল। ইবনে আব্বাস বলেন: তখন ইবনে মাসউদ (রা.) সেই পানি পান করছিলেন এবং অন্যরা তা দিয়ে অজু করছিলেন।”]
(أ) اكتب ثلاث معجزات لرسول الله صلى الله عليه وسلم بالإيجاز-
[(ক) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তিনটি মুজিজা সংক্ষেপে লেখ।]
উত্তর:
- সর্বশ্রেষ্ঠ চিরন্তন মুজিজা আল-কুরআন: আরবের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও কবিদের চ্যালেঞ্জ করে কুরআনের মতো একটি সূরা রচনায়ও মানব ও জিন জাতিকে অক্ষম করে দেওয়া হয়েছে। এটি কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তিত ও সংরক্ষিত মুজিজা।
- ইঙ্গিতে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতকরণ (শাক্কুল ক্বামার): মক্কার কাফেরদের দাবির মুখে রাসূলুল্লাহ (সা.) আঙুলের ইশারায় চাঁদকে দুই টুকরো করে দেখান, যা কুরআনের সূরা আল-ক্বামারে উল্লেখ রয়েছে।
- আঙুলের মধ্য থেকে পানির প্রস্রবণ প্রবাহিত হওয়া: হুদায়বিয়া ও বিভিন্ন সফরে পানির তীব্র সংকটের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) পাত্রে হাত রাখলে তাঁর পবিত্র আঙুলগুলোর ফাঁক দিয়ে সুপেয় ঝরনার মতো পানি প্রবাহিত হতো এবং হাজার হাজার সাহাবি তা দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ ও অজু সম্পন্ন করতেন।
(ب) اكتب نبذة من حياة بلال رضى الله عنه-
[(খ) হযরত বিলাল (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর:
- নাম ও পরিচয়: নাম বিলাল, কুনিয়াত আবু আব্দুল্লাহ। পিতার নাম রাবাহ এবং মাতার নাম হামামাহ। তিনি আবিসিনিয়ার (ইথিওপিয়া) বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবি ছিলেন এবং মক্কায় উমাইয়া ইবনে খালাফের ক্রীতদাস ছিলেন।
- ঈমানের অবিচলতা ও ত্যাগ: ইসলামের সূচনা লগ্নেই তিনি গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর মনিব উমাইয়া তাকে উত্তপ্ত মরুভূমির বালুর ওপর শুইয়ে বুকের ওপর ভারী পাথর চাপা দিয়ে ইসলাম ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তিনি অবিরাম ‘আহাদ, আহাদ’ (আল্লাহ এক) ধ্বনি উচ্চারণ করতেন। পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা.) বিপুল মূল্যে তাঁকে কিনে মুক্ত করে দেন।
- মুয়াজ্জিনুর রাসূল: মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সুমধুর কণ্ঠ ও আন্তরিকতার কারণে তাঁকে ইসলামের প্রথম অফিশিয়াল মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি কাবার ছাদে দাঁড়িয়ে বিজয়ের আজান দেন।
- ইন্তেকাল: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর তিনি মদিনায় আজান দেওয়া বন্ধ করেন এবং শামে জিহাদে চলে যান। ২০ হিজরিতে দামেস্কে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং বাবুল সাগিরে তাঁকে দাফন করা হয়।
৬. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٦- أخبرنا أبو المغيرة ثنا الأوزاعى عن حسان قال: ما ابتدع قوم بدعة في دينهم إلا نزع الله من سنتهم مثلها، ثم لا يعيدها إليهم إلى يوم القيامة-
[৬. আবুল মুগীরাহ ইমাম আওযায়ী থেকে এবং তিনি হাসান (ইবনে আতিয়্যা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “কোনো সম্প্রদায় যখনই তাদের দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআতের উদ্ভাবন করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্য থেকে সমপরিমাণ সুন্নাত উঠিয়ে নেন; অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত তা আর তাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন না।”]
(أ) تحدث عن مصير المبتدعين فى ضوء السنة-
[(ক) সুন্নাহর আলোকে বিদআতীদের শোচনীয় পরিণতি বর্ণনা কর।]
উত্তর:
দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত প্রথা ও বিদআতকে ইসলামে মারাত্মক গুনাহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে:
- আমল প্রত্যাখ্যাত হওয়া: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।
- হাওযে কাওসার থেকে বিতাড়ন: কিয়ামতের দিন বিদআতীরা যখন পিপাসার্ত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাউজে কাওসারের পানির কাছে আসবে, তখন ফেরেশতারা তাদের তাড়িয়ে দেবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের বলবেন: “দূর হও, দূর হও—যারা আমার পরে দ্বীন পরিবর্তন করেছিলে!”
- তওবা থেকে বঞ্চিত থাকা: হাদিস শরিফে এসেছে, বিদআতী ব্যক্তি তার বিদআতকে সওয়াবের কাজ মনে করায় সে তা থেকে তওবা করার তৌফিক পায় না।
- পথভ্রষ্টতা ও জাহান্নাম: রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার খুতবায় সতর্ক করতেন: “সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নবউদ্ভাদিত কাজ, প্রতিটি নবউদ্ভাদিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণতি জাহান্নাম।” (সুনানে নাসাঈ)।
(ب) اكتب أهمية اتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم-
[(খ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব আলোচনা কর।]
উত্তর:
- আল্লাহর ভালোবাসা লাভের একমাত্র মাধ্যম: কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ কর; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেবেন।” (সূরা আলে ইমরান: ৩১)।
- ঈমানের পূর্বশর্ত: রাসূল (সা.)-এর আনুগত্য ছাড়া ঈমানদার হওয়া অসম্ভব। আল্লাহ বলেন: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা আল-হাশর: ৭)।
- উম্মতের ঐক্যের প্রতীক: বিভিন্ন মতাদর্শ ও ফেতনার যুগে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরাই হলো নাজাত ও ঐক্যের একমাত্র রক্ষাকবচ।
مجموعة (ب) – [খ বিভাগ]
নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মান: ১৬ × ১ = ১৬
٧- اكتب ترجمة الإمام الدارمى رحمه الله مع ذكر مساهمته فى تدوين الحديث النبوى-
[৭. ইমাম দারিমী (রহ.)-এর জীবনী আলোচনা কর এবং হাদিস সংকলনে তাঁর অবদান উল্লেখ কর।]
উত্তর:
ভূমিকা: ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমী আস-সামারকান্দী (রহ.) ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, মুফাসসির ও প্রখ্যাত ফকিহ। তাঁর সংকলিত ‘সুনানুদ দারিমী’ হাদিসের অন্যতম মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ।
১. সংক্ষিপ্ত জীবনী:
- জন্ম ও বংশপরিচয়: তিনি ১৮১ হিজরিতে ঐতিহাসিক সামারকান্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বনু দারেম গোত্রের সন্তান ছিলেন বিধায় তাঁকে ‘আদ-দারিমী’ বলা হয়।
- ইলম অন্বেষণে সফর: তিনি হাদিস শিক্ষার জন্য হিজাজ, সিরিয়া, ইরাক, খোরাসান ও মিসর ভ্রমণ করেন। তিনি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন প্রমুখ বরেণ্য উস্তাদের নিকট শিক্ষালাভ করেন।
- মর্যাদা ও চারিত্রিক গুণাবলী: তিনি গভীর স্মৃতিশক্তি ও সততার অধিকারী ছিলেন। সামারকান্দে তাঁকে বিচারকের (কাজি) দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হলে তিনি মাত্র একটি রায় দিয়ে পদত্যাগ করেন। ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ তাঁর প্রত্যক্ষ ছাত্র ছিলেন।
- ইন্তেকাল: তিনি ২৫৫ হিজরির ৮ই জিলহজ ইয়াওমুত তারবিয়াহ দিবসে সামারকান্দে ইন্তেকাল করেন।
২. হাদিস সংকলনে অবদান (সুনানুদ দারিমীর বৈশিষ্ট্য):
- উচ্চমানের সনদ (সুলাসিয়াত): ইমাম দারিমীর হাদিসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর ‘সুলাসিয়াত’ (মাত্র তিন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে সরাসরি রাসূল সা. পর্যন্ত পৌঁছানো সনদ) বিদ্যমান।
- উসূলে হাদিস ও সুন্নাহর মুকাদ্দামা: সুনানের শুরুতে তিনি সুন্নাহর গুরুত্ব, ইলম অর্জনের ফজিলত এবং ফতোয়া প্রদানের নিয়মনীতির ওপর একটি অসাধারণ মুখবন্ধ যুক্ত করেছেন যা উসূলে হাদিসের অমূল্য সম্পদ।
- সাহাবা ও তাবেঈদের ফতোয়া সংকলন: তিনি কেবল মারফু হাদিসই নয়, বরং সাহাবি ও শীর্ষ তাবেঈদের বহু মূল্যবান ফতোয়া ও আসার সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করেছেন।
٨- اكتب خصائص الموطأ للإمام مالك ومنهج تأليفه ومكانته بين كتب الحديث-
[৮. ইমাম মালিক (রহ.)-এর ‘আল-মুয়াত্তা’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য, সংকলন পদ্ধতি এবং হাদিস গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর মর্যাদা আলোচনা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা: ইমাম দারুল হিজরাহ মালিক ইবনে আনাস (রহ.) সংকলিত ‘আল-মুয়াত্তা’ ইসলামি ইতিহাসের প্রথম নিয়মতান্ত্রিক হাদিস ও ফিকহি সংকলন। খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের অনুরোধে উম্মতের সহজতার জন্য তিনি এই গ্রন্থটি রচনা করেন।
১. সংকলন পদ্ধতি (মানহাজ):
- আমলে আহলে মদিনা: ইমাম মালিক মদিনাবাসীদের সম্মিলিত আমলকে (আমলে আহলে মদিনা) সুন্নাতের অন্যতম বড় দলিল হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং মুয়াত্তায় তা সুদৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন।
- ফিকহি অধ্যায়ভিত্তিক সাজানো: তিনি নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত, বিবাহ, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি ফিকহি তারতিব অনুসারে হাদিস ও ফতোয়া বিন্যস্ত করেছেন।
- মারফু, মাওকুফ ও মাকতু হাদিসের সমন্বয়: মুয়াত্তায় সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের পাশাপাশি সাহাবিদের আমল (মাওকুফ) এবং তাবেঈদের সিদ্ধান্ত (মাকতু) যথাযথভাবে সংকলন করা হয়েছে।
২. মুয়াত্তা গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য ও সনদগত শক্তি:
- সিলসিলাতুজ জাহাব (স্বর্ণালী সনদ): ইমাম মালিক বর্ণিত সনদের মধ্যে ‘মালিক — নাফে — ইবনে উমর’ সনদটিকে মুহাদ্দিসগণ হাদিস বিশ্বের সর্বাধিক বিশুদ্ধতম সনদ বা ‘স্বর্ণালী শিকল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- কঠোর যাচাই-বাছাই: তিনি প্রায় এক লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই করে মাত্র এক হাজারেরও কিছু বেশি অতি বিশুদ্ধ হাদিস ও আসার এতে স্থান দিয়েছেন। মদিনার সত্তর জন ফকিহ এই গ্রন্থটি যাচাই করে একমত প্রকাশ করেছিলেন বিধায় এর নাম রাখা হয় ‘আল-মুয়াত্তা’ (সর্বসম্মত/সুগম কিতাব)।
৩. হাদিস শাস্ত্রে আল-মুয়াত্তার মর্যাদা:
- ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মূল্যায়ন: ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: “আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনের পর জমিনের বুকে ইমাম মালিকের মুয়াত্তার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ কোনো কিতাব প্রকাশ পায়নি।” (সহিহ বুখারি সংকলনের পূর্ব পর্যন্ত এটিই ছিল সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ গ্রন্থ)।
- সহিহাইন-এর অন্যতম উৎস: ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে মুয়াত্তার বহু হাদিস সর্বোচ্চ সনদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions – FAQ)
প্রশ্ন ১: আল-মুয়াত্তা ও সুনানুদ দারিমী কি সিহাহ সিত্তাহর অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: সিহাহ সিত্তাহ বা কুতুবে সিত্তাহর ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে কেউ কেউ সুনানে ইবনে মাজাহর পরিবর্তে ইমাম মালিকের ‘আল-মুয়াত্তা’কে আবার কেউ কেউ ‘সুনানুদ দারিমী’কে গণ্য করে থাকেন। উভয় কিতাবই হাদিসের মৌলিক ও সর্বোচ্চ স্তরের নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থ।
প্রশ্ন ২: ফাজিল ৪র্থ বর্ষের হাদিস পরীক্ষায় সনদ বিশ্লেষণ করা কি আবশ্যক?
উত্তর: সম্পূর্ণ সনদ বিশ্লেষণ করা বাধ্যতামূলক না হলেও হাদিসের রাবী (সাহাবি), হাদিসের স্তর (সহিহ বা মুত্তাফাক আলাইহ) এবং আইম্মায়ে কেরামের গৃহীত সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা ভালো নম্বরের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
প্রশ্ন ৩: মুত’আ বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সাহাবিদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছিল কি?
উত্তর: প্রাথমিক যুগে সাময়িক মুত’আ বিবাহের অবকাশ থাকলেও খায়বারের যুদ্ধ এবং মক্কা বিজয়ের পর এটি কিয়ামত পর্যন্ত চিরতরে হারাম করা হয়েছে। এ বিষয়ে সকল সাহাবি ও চার মাজহাবের ফকিহগণ সম্পূর্ণ একমত।
প্রশ্ন ৪: আল-মুয়াত্তা পাঠ করলে শিক্ষার্থীদের কী কী উপকারিতা অর্জিত হয়?
উত্তর: হাদিসের উচ্চমানের সনদ চেনার পাশাপাশি ফিকহি মাসআলা কীভাবে হাদিস থেকে বের করতে হয় এবং মদিনার ফুকাহাদের ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান অর্জিত হয়।
প্রশ্ন ৫: এই প্রশ্ন সমাধানের তথ্যগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য?
উত্তর: এটি সরাসরি ইমাম মালিকের ‘আল-মুয়াত্তা’, ইমাম দারিমীর ‘সুনান’, ‘তানভীরুল হাওয়ালেক’ এবং ফিকহে হানাফি ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থসমূহের প্রামাণ্য দলিলের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।