اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القسم: الحديث والدراسات الإسلامية [বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المادة: شرح معاني الآثار و شرح مشكل الآثار [বিষয়: শারহু মা’আনিল আছার ওয়া শারহু মুশকিলিল আছার]
كود المادة [বিষয় কোড]: 401 | كود الامتحان [পরীক্ষা কোড]: 204 | كود ورقة الأسئلة [প্রশ্নপত্র কোড]: 168
الزمن [সময়]: ৪ ঘণ্টা | الدرجات الكاملة [পূর্ণমান]: ৮০
الملاحظة [দ্রষ্টব্য]: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب) والدرجات متساوية- [ক বিভাগ (مجموعة أ) থেকে যে কোনো চারটি এবং খ বিভাগ (مجموعة ب) থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান (১৬ নম্বর)।]
مجموعة (أ) – [ক বিভাগ]
নিচের হাদিসগুলোর অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। মান: ১৬ × ৪ = ৬৪
১. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
١- عن جابر بن عبد الله رضى الله عنه قال: جمع النبي صلى الله عليه وسلم بين الظهر والعصر والمغرب والعشاء بالمدينة من غير خوف ولا علة- وعن عائشة رضى الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في السفر يؤخر الظهر ويقدم العصر ويؤخر المغرب ويقدم العشاء-
[১. হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী করীম (সা.) মদিনায় কোনো প্রকার ভয়ভীতি কিংবা ওজর/অসুস্থতা ছাড়াই জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেছিলেন।” এবং হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) সফরে জোহরকে বিলম্বে আদায় করতেন এবং আসরকে এগিয়ে এনে পড়তেন; আবার মাগরিবকে বিলম্বে এবং এশাকে এগিয়ে এনে পড়তেন।”]
(أ) بين اختلاف الفقهاء الكرام في الجمع بين الصلاتين-
[(ক) দুই ওয়াক্তের নামাজ একত্রে আদায় (আল-জাম’ বাইনাস সালাতাইন) বিষয়ে ফকিহগণের মতভেদ বর্ণনা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা: দুই ওয়াক্ত নামাজ এক ওয়াক্তে পড়া বা জমা করা শরিয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মাসআলা। জাম’ মূলত দুই প্রকার: ১. জাম’য়ে হাকিকি (এক ওয়াক্তের নামাজ অন্য ওয়াক্তে প্রবেশ করিয়ে পড়া) এবং ২. জাম’য়ে সূরি (প্রথম ওয়াক্তের শেষভাগে প্রথম নামাজ এবং দ্বিতীয় ওয়াক্তের শুরুতেই দ্বিতীয় নামাজ আদায় করা)।
আইম্মায়ে কেরামের মতভেদ:
- জমহুর ফুকাহা (ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.): তাঁদের মতে, সফর এবং নির্দিষ্ট কিছু কারণে (যেমন: মুষলধারে বৃষ্টি, চরম অসুস্থতা ইত্যাদি) জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার মধ্যে ‘জাম’য়ে হাকিকি’ করা জায়েজ। তাঁদের দলিল হলো হযরত ইবনে আব্বাস ও হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত বাহ্যিক হাদিসসমূহ।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও হানাফি ফকিহগণ: হানাফি মাজহাব অনুযায়ী আরাফাতের ময়দানে (জোহর ও আসর) এবং মুজদালিফায় (মাগরিব ও এশা) ছাড়া অন্য কোনো স্থানে জাম’য়ে হাকিকি জায়েজ নেই। সাধারণ সফর বা ওজরের ক্ষেত্রে যে জাম’ বর্ণিত হয়েছে তা হলো ‘জাম’য়ে সূরি’ (বাহ্যিক জমা)। অর্থাৎ জোহরের ওয়াক্তের একেবারে শেষ সময়ে জোহর এবং আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করার সাথে সাথে আসর আদায় করা। তাঁদের প্রমাণ হলো কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ: “নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে” (সূরা আন-নিসা: ১০৩) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত আমল। হযরত আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে ‘বিলম্বিত করা’ ও ‘এগিয়ে আনা’ মূলত ওয়াক্তের প্রান্তিক সীমাকে নির্দেশ করে।
(ب) اكتب نبذة من حياة جابر بن عبد الله رضى الله عنه-
[(খ) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর:
- নাম ও বংশপরিচয়: নাম জাবির, কুনিয়াত আবু আব্দুল্লাহ। পিতার নাম আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম আল-আনসারী আস-সালামী। তিনি মদিনার বিখ্যাত খাজরাজ গোত্রের বনু সালামা শাখার সন্তান ছিলেন।
- ইসলাম গ্রহণ ও বায়’আত: তিনি শৈশবেই তাঁর পিতার সাথে দ্বিতীয় আকাবার শপথের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা উহুদের যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেন।
- জিহাদে অংশগ্রহণ: পিতা শহীদ হওয়ার পর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে খন্দক, বায়’আতে রিদওয়ানসহ মোট ১৯টি সামরিক অভিযানে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।
- হাদিস বর্ণনা ও শিক্ষাদান: তিনি ‘মুকছিরীন’ (অধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি)-দের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১,৫৪০টি। তিনি মসজিদে নববীতে নিয়মিত দরস দিতেন, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে তাবেঈগণ হাদিস শিক্ষার জন্য সমবেত হতেন। ইমাম বাকির, আতা ইবনে আবি রাবাহ, আমর ইবনে দিনার তাঁর বিশিষ্ট ছাত্র ছিলেন।
- ইন্তেকাল: তিনি ৭৪ বা ৭৮ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় প্রায় ৯৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনিই ছিলেন মদিনায় ইন্তেকালকারী সর্বশেষ জীবিত সাহাবিদের অন্যতম।
২. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٢- عن أبى ذر قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فأذن بلال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم مه يا بلال ثم أراد أن يؤذن فقال مه يا بلال ثم أراد أن يؤذن فقال مه يا بلال حتى رأينا في التلول ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن شدة الحر من فيح جهنم فأبردوا بالصلاة إذا اشتد الحر-
[২. হযরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন বিলাল (রা.) আজান দিতে চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: ‘থামো, হে বিলাল!’ অতঃপর তিনি আবার আজান দিতে চাইলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আবার বললেন: ‘থামো, হে বিলাল!’ এভাবে বারবার থামতে বললেন যতক্ষণ না আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: ‘প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের অংশ; সুতরাং যখন গরম তীব্র হয়, তখন নামাজ ঠান্ডা করে (দেরি করে) পড়।’ “]
(أ) ما حكم المنع عن تعجيل الصلوة عند شدة الحرّ؟
[(ক) তীব্র গরমের সময় নামাজ দ্রুত আদায় করতে নিষেধ করার হুকুম কী? ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা: সাধারণ নিয়মে ওয়াক্তের শুরুতে নামাজ আদায় করা উত্তম (তা’জিল)। কিন্তু তীব্র গরমের সময় জোহরের নামাজ বিলম্বে আদায় করাকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইবরাদ’ (الإبراد) বলা হয়।
হুকুম ও ফিকহি বিশ্লেষণ:
- ইবরাদের বিধান: তীব্র গরমে জোহরের নামাজ রোদ কিছুটা স্তিমিত হওয়া পর্যন্ত দেরি করে পড়া মুস্তাহাব ও সুন্নাহসম্মত। হাদিসে ‘ফাবরিদু বিস-সালাত’ (فأبردوا بالصلاة) নির্দেশসূচক বাক্য হওয়ায় এটি বিশেষ সুন্নাহ।
- হিকমত ও তাৎপর্য:
- খুশু-খুজু রক্ষা: অসহ্য গরমে মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে এবং নামাজের একাগ্রতা নষ্ট হয়। আবহাওয়া কিছুটা সহনশীল হলে পূর্ণ একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় সম্ভব হয়।
- জামাতে উপস্থিতি সহজকরণ: তীব্র রোদে দূর থেকে মুসল্লিদের মসজিদে হেঁটে আসা কষ্টদায়ক। ঠান্ডা হলে জামাতে মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
- উম্মতের জন্য সহজতা: ইসলাম সহজতার ধর্ম। রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মতের কষ্ট লাঘবের জন্যই এই অবকাশ প্রদান করেছেন।
(ب) اكتب نبذة عن حياة أبى ذر رضى الله عنه-
[(খ) হযরত আবু যর গিফারী (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর:
- নাম ও পরিচয়: নাম জুনদুব ইবনে জুনাদাহ, উপাধি আবু যর। তিনি আরবের দুর্ধর্ষ ‘গিফার’ গোত্রের সন্তান ছিলেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে তিনিই প্রথম দিকের (পঞ্চম বা ষষ্ঠ) ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি।
- দাওয়াত ও ত্যাগ: ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মক্কার কাফেরদের সামনে প্রকাশ্যে তাওহিদের ঘোষণা দেন এবং তাদের দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রহৃত হন। পরবর্তীতে তিনি নিজ গোত্রে ফিরে যান এবং তাঁর দাওয়াতে গোটা গিফার গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে।
- জুহদ ও দুনিয়াবিমুখতা: তিনি ছিলেন চরম সংযমী, অল্পেতুষ্ট ও দুনিয়াবিমুখতার মূর্ত প্রতীক। অতিরিক্ত সম্পদ পুঞ্জীভূত করার ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং দরিদ্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন বক্তব্য দিতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “আবু যরের চেয়ে অধিক সত্যবাদী কাউকে আকাশ ছায়া দেয়নি এবং জমিন ধারণ করেনি।”
- নির্বাসন ও ওফাত: জীবনের শেষভাগে তিনি মদিনার অদূরে ‘রাবজাহ’ নামক মরুভূমিতে নির্জন বাস শুরু করেন এবং ৩২ হিজরিতে সেখানেই নিঃসঙ্গ অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। বিখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) কাফেলাসহ এসে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন।
৩. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٣- عن عبادة بن الصامت رضى الله عنه قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الفجر فتعايت عليه القراءة، فلما سلّم قال: أتقرءون خلفى؟ قلنا نعم يا رسول الله! قال: فلا تفعلوا الا بفاتحة الكتاب، فإنه لا صلاة لمن لم يقرأ بها-
عن أبى هريرة رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنما جعل الإمام ليؤتم به فإذا قرأ فأنصتوا-
[৩. হযরত উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিয়ে ফজরের নামাজ পড়লেন। কিরাত পড়তে গিয়ে তাঁর জন্য কিরাত কষ্টকর হয়ে গেল। নামাজ শেষে তিনি বললেন: ‘তোমরা কি তোমাদের ইমামের পেছনে কিরাত পড়?’ আমরা বললাম: ‘হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন: ‘সূরা ফাতিহা ছাড়া এমনটি করো না; কেননা যে সূরা ফাতিহা পড়ে না তার নামাজ হয় না।’ ” অন্যদিকে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে যেন তাকে অনুসরণ করা হয়, সুতরাং ইমাম যখন কিরাত পাঠ করে তখন তোমরা চুপ থাক।”]
(أ) بين حكم قرأة المقتدى خلف الإمام في ضوء الكتاب والسنة-
[(ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইমামের পেছনে মুক্তাদির কিরাত পাঠের বিধান বর্ণনা কর।]
উত্তর:
ইমামের পেছনে মুক্তাদির কিরাত পড়ার বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে তিনটি সুপরিচিত মত রয়েছে:
- ১. ইমাম আবু হানিফা ও হানাফি মাজহাব: জেহরি (উচ্চস্বরে পঠিত) বা সিররি (নীরবে পঠিত)—কোনো নামাজেই মুক্তাদির জন্য সূরা ফাতিহা বা অন্য কোনো কিরাত পড়া জায়েজ নেই, বরং ইমামের কিরাত মনোযোগ দিয়ে শোনা বা চুপ থাকা ওয়াজিব। দলীল:
- কুরআনের নির্দেশ: “আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক।” (সূরা আল-আ’রাফ: ২০৪)।
- হাদিস: “যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কিরাতই তার কিরাত।” (ইবনে মাজাহ, ইমাম তহাবী)।
- ২. ইমাম শাফেয়ী (রহ.): সকল নামাজে (জেহরি ও সিররি) ইমাম এবং মুক্তাদি উভয়ের ওপর সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ।
- ৩. ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ (রহ.): সিররি নামাজে মুক্তাদি সূরা ফাতিহা পড়বে, তবে জেহরি নামাজে ইমামের কিরাত শুনবে এবং নিজে পড়বে না।
(ب) الحديث الأول يدل على القراءة خلف الإمام والحديث الثاني يدل على عدم القراءة، فما التوفيق بينهما؟ بين-
[(খ) প্রথম হাদিসটি ইমামের পেছনে পড়ার পক্ষে এবং দ্বিতীয় হাদিসটি না পড়ার পক্ষে নির্দেশ করে; উভয়ের মাঝে সমন্বয় কীভাবে করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর:
ইমাম তহাবী (রহ.) তাঁর ‘শারহু মা’আনিল আছার’ গ্রন্থে উভয় হাদিসের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় (তাতবীক) ও বিশ্লেষণ পেশ করেছেন:
- নাসখ বা রহিতকরণের সমন্বয়: ইমাম তহাবী ও মুহাদ্দিসগণের একাংশের মতে, উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.)-এর হাদিসটি ইসলামের প্রাথমিক যুগের ঘটনা। তখন মুক্তাদিরা ইমামের পেছনে জোরে জোরে কিরাত পড়ত। ফলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কিরাতে বিভ্রান্তি ঘটত। তাই সাময়িকভাবে কেবল সূরা ফাতিহার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সূরা আ’রাফের ২০৪ নম্বর আয়াত এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস ‘ফা ইজা ক্বারাআ ফাআনসিতূ’ (ইমাম যখন পড়বে তখন চুপ থাক) নাজিল ও ঘোষিত হয়ে পূর্বের সকল অনুমতি সম্পূর্ণ রহিত (মানসূখ) হয়ে যায়।
- একাকী নামাজির ওপর প্রযোজ্য: ‘লা সালাতা ইল্লা বিফাতিহাতিল কিতাব’ হাদিসটি মূলত একাকী নামাজ আদায়কারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর জামাতের ক্ষেত্রে মুক্তাদির দায়িত্ব ইমাম বহন করেন।
৪. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٤- عن عبد الله قال صلينا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنى ركعتين ومع أبى بكر ركعتين ومع عمر ركعتين فليت خطى من أربع ركعات ركعتان متقبلتان-
[৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: “আমরা মিনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে দুই রাকাত (কসর) নামাজ পড়েছি, আবু বকর (রা.)-এর সাথে দুই রাকাত পড়েছি এবং ওমর (রা.)-এর সাথেও দুই রাকাত পড়েছি। হায়! চার রাকাতের বিপরীতে আমার এই কবুল হওয়া দুই রাকাতই যদি আমার ভাগ্যে থাকত!”]
(أ) ما معنى القصر؟ بين حكم القصر فى الصلاة-
[(ক) কসর শব্দের অর্থ কী? নামাজে কসরের হুকুম বর্ণনা কর।]
উত্তর:
- কসরের অর্থ: ‘আল-কসর’ (القصر) শব্দের আভিধানিক অর্থ সংক্ষেপ করা, হ্রাস করা বা কমানো। শরিয়তের পরিভাষায়, মুসাফির অবস্থায় চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজকে (জোহর, আসর ও এশা) সংক্ষেপ করে দুই রাকাত আদায় করাকে ‘কসর’ বলা হয়।
- কসরের হুকুম:
- হানাফি মাজহাব মতে: সফরে কসর পড়া ওয়াজিব (বা আজিমত)। মুসাফির ইচ্ছাকৃত চার রাকাত পড়লে সে সুন্নাহ পরিপন্থি কাজ করল এবং গোনাহগার হবে। দলীল: আয়েশা (রা.) বলেন, “নামাজ যখন প্রথম ফরজ হয়েছিল তখন দুই রাকাত করেই ফরজ হয়েছিল; পরবর্তীতে মুকিমের নামাজ বৃদ্ধি করা হয় এবং মুসাফিরের নামাজ বহাল রাখা হয়।”
- জমহুর ফুকাহা মতে: কসর করা রূখসত বা জায়েজ ও উত্তম, তবে পূর্ণ চার রাকাত পড়লেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
(ب) من هو المسافر في الشريعة الإسلامية؟ بين أقوال العلماء الكرام فى تعين المسافر مفصلاً-
[(খ) ইসলামি শরিয়তে মুসাফির কাকে বলে? মুসাফিরের দূরত্ব নির্ধারণে আলেমগণের মতামত বিস্তারিত লেখ।]
উত্তর:
মুসাফিরের পরিচয়: শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি যখন নির্দিষ্ট দূরত্বের সফরে নিজের আবাসস্থলের এলাকা বা লোকালয় অতিক্রম করে এবং ১৫ দিনের কম অবস্থানের নিয়ত করে, তখন তাকে ‘মুসাফির’ বলে।
দূরত্ব নির্ধারণে ওলামায়ে কেরামের মতামত:
- হানাফি ফকিহগণের অভিমত: পায়ে হেঁটে বা স্বাভাবিক উটের গতিতে তিন দিন তিন রাতের পথ। আধুনিক পরিমাপে এটি প্রায় ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৭.৫ থেকে ৭৮ কিলোমিটার।
- জমহুর ফুকাহার অভিমত (শাফেয়ী, মালেকি ও হাম্বলি): চার বারিদ বা ১৬ ফারসাখ। আধুনিক হিসেবে এটি প্রায় ৪৮ হাশেমি মাইল (প্রায় ৮৮ কিলোমিটার)।
- ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও আহলে হাদিসগণের মত: স্থান-কাল-পাত্রভেদে প্রচলিত প্রথা (উরফ)-তে যাকে সাধারণ মানুষ ‘সফর’ বলে গণ্য করে, তাতেই কসর কার্যকর হবে; এর কোনো নির্দিষ্ট কিলোমিটারে সীমাবদ্ধতা নেই।
৫. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٥- عن عائشة رضى الله عنها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: أيما امرأة نكحت بغير إذن وليها فنكاحها باطل فإن أصابها فلها مهرها بما استحل من فرجها فإن اشتجروا فالسلطان ولى من لا ولى له-
[৫. হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়, তার বিবাহ বাতিল। যদি স্বামী তার সাথে সহবাস করে থাকে, তবে তার লজ্জাস্থান হালাল করার বিনিময়ে তাকে পূর্ণ মোহর দিতে হবে। আর অভিভাবকত্ব নিয়ে যদি কোনো বিতর্ক বা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তবে শাসকই হবে তার অভিভাবক যার কোনো অভিভাবক নেই।”]
(أ) عرف المهر- بين مقداره-
[(ক) মোহরের সংজ্ঞা দাও। মোহরের পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা কর।]
উত্তর:
- মোহরের সংজ্ঞা: বিবাহচুক্তির কারণে স্বামীর ওপর স্ত্রীর সম্মান ও সন্তুষ্টির প্রতীক হিসেবে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত যে ধন-সম্পদ বা অর্থ প্রদান আবশ্যক হয়, তাকে মোহর (المهر) বা সাদাক (الصداق) বলে।
- মোহরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ:
- সর্বনিম্ন মোহর: হানাফি মাজহাব মতে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ১০ দিরহাম (বর্তমান হিসেবে প্রায় ৩০.৬১৮ গ্রাম খাঁটি রুপা বা এর সমমূল্য)। মালেকি মাজহাব মতে ৩ দিরহাম। শাফেয়ী ও হাম্বলি মাজহাব মতে এমন যে কোনো বস্তু যার আর্থিক মূল্য রয়েছে তা-ই মোহর হতে পারে।
- সর্বোচ্চ মোহর: শরিয়তে মোহরের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সামর্থ্যের বাইরে অতিরিক্ত মোহর নির্ধারণ করা অনুচিত। সর্বোত্তম মোহর হলো ‘মোহরে ফাতেমি’ (প্রায় ৫০০ দিরহাম বা ১৩১ তোলা রুপা)।
(ب) بين حكم إذن الولى فى النكاح-
[(খ) বিবাহে অভিভাবকের (ওলী) অনুমতির হুকুম বর্ণনা কর।]
উত্তর:
- জমহুর ফুকাহা (শাফেয়ী, মালেকি ও হাম্বলি): অভিভাবকের অনুমতি ও উপস্থিতি বিবাহের অন্যতম অপরিহার্য শর্ত (রুকন)। অভিভাবক ছাড়া কোনো নারীর বিবাহ শুদ্ধ হবে না। তাঁদের প্রধান দলিল হলো উল্লেখিত হাদিস: ‘ফানিকাহুহা বাতিল’।
- ইমাম আবু হানিফা ও হানাফি মাজহাব: প্রাপ্তবয়স্কা ও বুদ্ধিমতী নারী অভিভাবকের উপস্থিতি বা অনুমতি ছাড়াও নিজের পছন্দে কুফু (সমমর্যাদাসম্পন্ন পাত্র) ও উপযুক্ত মোহরে বিবাহ করতে পারে। তবে অভিভাবকের সম্মতিতে হওয়া মুস্তাহাব। দলীল: কুরআনের আয়াত—“যদি তারা পারস্পরিক সম্মতিতে বিধিমোতাবেক বিবাহ করে তবে তোমরা নারীদের বাধা দিও না।” (সূরা আল-বাকারা: ২৩২)। আর উল্লেখিত হাদিসটি অপ্রাপ্তবয়স্কা বা দাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে হানাফি উসূলবিদগণ ব্যাখ্যা করেছেন।
৬. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٦- عن ابن عباس عن أسامة بن زيد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إنما الربا في النسيئة-
عن أبى سعيدن الخدرى رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا تبيعوا الذهب بالذهب ولا الورق بالورق إلا وزنا بوزن مثلا بمثل سواء بسواء-
[৬. হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “নিশ্চয় সুদ কেবল বাকিতেই (বিলম্বিত পরিশোধে) হয়ে থাকে।” অন্যদিকে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রি করো না সমান সমান ও ওজনে সমান ব্যতিরেকে।”]
(أ) ما النسيئة؟ هل يجوز بيع الذهب بالدرهم والدرهم بالذهب؟ بين اختلاف الفقهاء فيه-
[(ক) নাসীয়া (النسيئة) কী? স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য/দিরহাম এবং দিরহামের বিনিময়ে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় কি জায়েজ? ফকিহগণের মতভেদ ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর:
- নাসীয়া-এর পরিচয়: ‘নাসীয়া’ অর্থ বিলম্ব করা। শরিয়তের পরিভাষায়, সমজাতীয় পণ্যের বিনিময়ে এক পক্ষ নগদ দিয়ে অন্য পক্ষ দেরিতে পরিশোধ করার কারণে যে অতিরিক্ত লাভ নেওয়া হয় তাকে ‘রিবা আন-নাসীয়া’ বলে।
- স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান: এটিকে ফিকহের পরিভাষায় ‘বায়’য়ে সারফ’ (بيع الصرف) বলা হয়।
- শর্তসাপেক্ষে সর্বসম্মত বৈধতা: যদি স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য কেনাবেচা করা হয় তবে কম-বেশি করা জায়েজ (যেহেতু জাত ভিন্ন), কিন্তু নগদে হাতবদল (দস্তবদস্ত) হওয়া বাধ্যতামূলক। বাকিতে লেনদেন করা সম্পূর্ণ হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি কর, যদি তা হাতে হাতে (নগদ) হয়।”
(ب) عرف الربا- ما علة الربا في الأموال الربوية؟ بين بالإيضاح-
[(খ) সুদের সংজ্ঞা দাও। সুদি পণ্যে সুদ কার্যকর হওয়ার \’ইল্লত\’ বা মূল কারণ কী? বিশদ বর্ণনা কর।]
উত্তর:
- সুদের সংজ্ঞা: শরিয়তের পরিভাষায়, বিনিময়হীনভাবে চুক্তির শর্তানুযায়ী এক পক্ষের অতিরিক্ত মাল গ্রহণ করাকে ‘রিবা’ বা সুদ বলা হয়।
- সুদ কার্যকর হওয়ার ‘ইল্লত’ (প্রভাবক কারণ): হাদিসে বর্ণিত ৬টি পণ্যের (স্বর্ণ, রৌপ্য, গম, যব, খেজুর ও লবণ) ক্ষেত্রে কেন সুদ হয়, সে বিষয়ে ফকিহদের মতভেদ:
- হানাফি মাজহাব মতে: ইল্লত হলো ‘পরিমাপযোগ্যতা বা ওজন এবং সমজাতীয়তা’ (القدر مع الجنس)। অর্থাৎ যা ওজন বা পাত্র দিয়ে মাপা যায় এবং উভয় পণ্য একই জাতের হয়।
- শাফেয়ী মাজহাব মতে: স্বর্ণ-রৌপ্যের ক্ষেত্রে মূল্যমান হওয়া (ছামানিয়াত) এবং বাকি চারটির ক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্য হওয়া (তম)।
- মালেকি মাজহাব মতে: খাদ্যদ্রব্য হওয়া এবং যা সংরক্ষণযোগ্য ও প্রধান খাদ্য (মুদ্দাহার ও কূত)।
مجموعة (ب) – [খ বিভাগ]
নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মান: ১৬ × ১ = ১৬
٧- تحدث عن ترجمة الإمام الطحاوى رحمه الله عليه- ثم بين مزايا كتابه شرح معانى الآثار ومنهجه وطرق استدلاله في كتابه-
[৭. ইমাম তহাবী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা কর। অতঃপর তাঁর গ্রন্থ \’শারহু মা\’আনিল আছার\’-এর বৈশিষ্ট্য, সংকলন পদ্ধতি এবং দলিলাদি উপস্থাপনের রীতি বর্ণনা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা: ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তহাবী (রহ.) ছিলেন হিজরি তৃতীয়-চতুর্থ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, মুহাদ্দিস ও যুগশ্রেষ্ঠ ফকিহ। তাঁর অমর কীর্তি ‘শারহু মা’আনিল আছার’ হাদিস ও ফিকহের এক অপূর্ব সমন্বয় গ্রন্থ।
১. ইমাম তহাবী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:
- জন্ম ও বংশপরিচয়: তিনি ২৩৯ হিজরিতে মিসরের ‘তহা’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরাইশ বংশের বনু আজদ গোত্রের সন্তান ছিলেন।
- শিক্ষা ও মাজহাব পরিবর্তন: তিনি প্রথমে তাঁর মামা প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও শাফেয়ী আলেম ইমাম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযানির কাছে শাফেয়ী ফিকহ অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি গভীর তাহকিক ও দলিলের শক্তিমত্তা দেখে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফিকহ গ্রহণ করেন।
- ইন্তেকাল: তিনি ৩২১ হিজরিতে মিসরের ফুসতাত শহরে ইন্তেকাল করেন।
২. শারহু মা’আনিল আছার গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও সংকলন পদ্ধতি:
- আপাতবিরোধী হাদিসের সমাধান: বাহ্যিকভাবে যেসব হাদিসের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা যায়, ইমাম তহাবী (রহ.) সনদ ও মতনের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেগুলোর চমৎকার সমন্বয় বা নাসখ (রহিতকরণ) প্রমাণ করেছেন।
- উচ্চমানের সনদ ও রিজাল শাস্ত্রের প্রয়োগ: তিনি প্রতিটি হাদিসের সহিহ সনদ উল্লেখ করেছেন এবং রাবীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করেছেন।
- ফিকহে হানাফির দলিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠা: বিরোধীরা হানাফি মাজহাবকে ‘রায়’ বা যুক্তিনির্ভর মনে করত। ইমাম তহাবী প্রমাণ করেছেন যে, হানাফি ফিকহের প্রতিটি মাসআলাই সহিহ হাদিস ও আসার দ্বারা সমর্থিত।
- যুক্তিনির্ভর দলীল (নজর বা কিয়াস): তিনি প্রথমে হাদিসের দলিল দেন, তারপর যৌক্তিক বিশ্লেষণ (বয়ানুন নজর) পেশ করে প্রমাণ করেন যে শরিয়তের মূল উদ্দেশ্যের সাথে কোনটি অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
٨- عرف النكاح ثم بين أهميته فى تأسيس المجتمع الإسلامى المأمون فى ضوء القران الكريم والسنة المطهرة-
[৮. নিকাহ-এর পরিচয় দাও। অতঃপর পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ইসলামি সমাজ বিনির্মাণে এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা: বিবাহ মানবজীবনের একটি পবিত্র চুক্তি এবং নবীদের অন্যতম প্রধান সুন্নাত। এটি কেবল জৈবিক চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়, বরং একটি নৈতিক, পবিত্র ও নিরাপদ মানবসমাজ গঠনের প্রধান বুনিয়াদ।
১. নিকাহ-এর পরিচয়:
- আভিধানিক অর্থ: ‘নিকাহ’ (النكاح) শব্দের আভিধানিক অর্থ একত্রিত হওয়া, মিলিত হওয়া বা চুক্তি করা।
- পারিভাষিক অর্থ: শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)-এর মাধ্যমে সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যকার দাম্পত্য সম্পর্ক বৈধ করার চুক্তিকে নিকাহ বলে।
২. নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে বিবাহের গুরুত্ব:
- নৈতিক পবিত্রতা ও চরিত্র রক্ষা: বিবাহ মানুষকে ব্যভিচার, অশ্লীলতা ও পরকীয়ার মতো সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে; কেননা তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।” (বুখারি ও মুসলিম)।
- পবিত্র বংশধারা সংরক্ষণ (হিফযুন নাসল): সমাজকে জারজ সন্তান ও বংশীয় বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত রাখতে বৈধ বিবাহের কোনো বিকল্প নেই।
- পরিবার গঠন ও মানসিক প্রশান্তি: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন স্ত্রীদের, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আর-রূম: ২১)।
- সামাজিক শান্তি ও দায়বদ্ধতা: পরিবার হলো সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর। সুস্থ পারিবারিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্তানরা স্নেহ, ভালোবাসা ও দ্বীনি শিক্ষার মধ্য দিয়ে সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
উপসংহার: কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা মোতাবেক বিবাহ সহজ ও প্রসারিত হলে সমাজ থেকে অপরাধ, ব্যভিচার ও বিশৃঙ্খলা চিরতরে দূর হতে বাধ্য।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions – FAQ)
প্রশ্ন ১: ফাজিল ৪র্থ বর্ষের হাদিস পরীক্ষায় ‘শারহু মা’আনিল আছার’ বিষয়ে কীভাবে লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়?
উত্তর: প্রতিটি প্রশ্নের শুরুতে মূল হাদিসটির প্রাঞ্জল অর্থ লিখতে হবে। এরপর আইম্মায়ে কেরামের মতভেদ উল্লেখ করে ইমাম তহাবী (রহ.) কীভাবে হাদিসের আপাত বৈপরীত্য নিরসন করেছেন এবং হানাফি মাজহাবের পক্ষে সহিহ দলিল ও যৌক্তিক প্রমাণ (নজর) পেশ করেছেন, তা সাব-হেডিং দিয়ে স্পষ্ট করলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২: ফাজিল পরীক্ষায় হাদিসের মূল এবারত কি সম্পূর্ণ আরবিতে লেখা আবশ্যক?
উত্তর: মূল প্রশ্নপত্রে হাদিস উল্লেখ থাকলে খাতায় হাদিসের অংশবিশেষ লিখে বা নম্বর উল্লেখ করে সরাসরি বাংলা অর্থ ও গভীর বিশ্লেষণ লিখলে সময় বাঁচে এবং উত্তর মানসম্মত হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা ও হাদিসের অংশ আরবিতে কোট করা উত্তরের মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন ৩: ‘শারহু মা’আনিল আছার’ গ্রন্থটি অধ্যয়ন করার মূল ফায়দা কী?
উত্তর: এ কিতাবটি পাঠ করলে ফিকহি মাসআলাসমূহের হাদিসভিত্তিক ভিত্তি মজবুত হয় এবং বাহ্যিক মতবিরোধপূর্ণ হাদিসসমূহের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করতে হয় (তাতবীক ও নাসখ) সে সম্পর্কে প্রাজ্ঞতা অর্জিত হয়।
প্রশ্ন ৪: ৪র্থ বর্ষ ফাজিল পরীক্ষায় ক ও খ বিভাগের নম্বর বণ্টন কেমন থাকে?
উত্তর: ২০২০ সালের প্রশ্ন অনুযায়ী ‘ক’ বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের প্রতিটিতে ১৬ নম্বর করে মোট ৬৪ নম্বর এবং ‘খ’ বিভাগ থেকে ১টি তাত্ত্বিক প্রশ্নের জন্য ১৬ নম্বর—সর্বমোট ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৫: এই প্রশ্নোত্তরে কি নির্ভরযোগ্য হাদিস ও ফিকহি কিতাবের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এতে ইমাম তহাবীর ‘শারহু মা’আনিল আছার’, ‘বাদায়েউস সানায়ে’, ‘হেদায়া’ এবং সিহাহ সিত্তাহর বিশুদ্ধ হাদিসের রেফারেন্সের আলোকে সম্পূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ উত্তর সাজানো হয়েছে।