জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (As-Sirah An-Nabawiyyah) – 205301, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2021

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪২ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2021
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (السيرة النبوية)
বিষয় কোড: 205301 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

١- اكتب الحالات السياسية والثقافية والاقتصادية للعرب الجاهلية-

[জাহিলি যুগে আরবদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা লিপিবদ্ধ কর।]

ভূমিকা: ইসলাম আবির্ভাবের পূর্ববর্তী ষষ্ঠ শতাব্দীর আরব সমাজকে ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বলা হয়। এ যুগে আরবের রাজনৈতিক ঐক্য ছিল শূন্য, অর্থনীতি ছিল শোষণ ও লুণ্ঠননির্ভর এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কাব্যপ্রতিভার চরম বিকাশ সত্ত্বেও তা নৈতিকতাহীনতায় পর্যবসিত ছিল।

ক. রাজনৈতিক অবস্থা:

  1. কেন্দ্রীভূত সরকারের অনুপস্থিতি: সমগ্র আরবে কোনো সমন্বিত জাতীয় সরকার, সংবিধান বা কেন্দ্রীয় বিচারব্যবস্থা ছিল না। আরবরা ছিল বিভিন্ন স্বাধীন ও যাযাবর গোত্রে বিভক্ত।
  2. গোত্রীয় ব্যবস্থা ও শেখ-এর কর্তৃত্ব: প্রতিটি গোত্রের নেতৃত্বে থাকতেন একজন প্রবীণ দলপতি, যাকে ‘শেখ’ বলা হতো। তাঁর সিদ্ধান্তই ছিল অলিখিত আইন, তবে তাঁর কোনো স্থায়ী পুলিশ বা সৈন্যবাহিনী ছিল না।
  3. আসাবিয়্যাত বা রক্তভিত্তিক অন্ধ পক্ষপাত: গোত্রীয় অন্ধ পক্ষপাতিত্ব ছিল রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। নিজের গোত্রের লোক অন্যায় করলেও তার পক্ষে অন্ধ সমর্থন দেওয়া পৌরুষ মনে করা হতো।
  4. রক্তক্ষয়ী গোত্রদ্বন্দ্ব (আইয়ামুল আরব): তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বংশপরম্পরায় যুদ্ধ চলত। বনু বকর ও বনু তাগলিবের ৪০ বছরের ‘বাসুস যুদ্ধ’ এবং হরবুল ফিজার ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক নৈরাজ্যের জ্বলন্ত উদাহরণ।

খ. অর্থনৈতিক অবস্থা:

  1. লুণ্ঠন ও গাজওয়া (দস্যুবৃত্তি): মরুভূমিতে কৃষিকাজের সুযোগ সীমিত থাকায় এক গোত্র অন্য গোত্রের উট ও সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়াকে অর্থনৈতিক উপার্জনের অন্যতম প্রধান বৈধ পন্থা মনে করত।
  2. চক্রবৃদ্ধি সুদ ও মহাজনী শোষণ: মক্কার কুরাইশ পুঁজিপতিরা দরিদ্রদের চক্রবৃদ্ধি হারে সুদে (রিবা আল-জাহেলিয়াহ) ঋণ দিত। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দেনাদারের স্ত্রী-সন্তানদের দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হতো।
  3. আন্তর্জাতিক কাফেলা বাণিজ্য: ভৌগোলিক সুবিধার কারণে মক্কা ছিল বাণিজ্য নগরী। গ্রীষ্মকালে সিরিয়ায় এবং শীতকালে ইয়েমেনে (রিহলাতাশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ) কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা চলাচল করত। চামড়া, লোম, রৌপ্য ও সুগন্ধি রপ্তানি হতো।

গ. সাংস্কৃতিক অবস্থা:

  1. অনুপম কাব্যপ্রতিভা ও অলঙ্কারশাস্ত্র: আরবরা নিজেদের বিশুদ্ধ আরবি ভাষার জন্য গর্ববোধ করত এবং বাকি বিশ্বকে ‘আজম’ (বোবা) মনে করত। তাঁদের স্মৃতিশক্তি ও তাৎক্ষণিক কবিতা রচনার ক্ষমতা ছিল অতিমানবীয়।
  2. উকাজের বার্ষিক মেলা: তায়েফের কাছে প্রতি বছর জিলকদ মাসে উকাজের মেলা বসত, যা ছিল প্রধান সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। সেখানে কবিরা বীরত্ব, আভিজাত্য ও প্রণয়ের কবিতা আবৃত্তি করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন।
  3. মুয়াল্লাকাতের সৃষ্টি: উকাজের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সাতটি দীর্ঘ কাসীদাকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে কা’বার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো (সাব’আ মুয়াল্লাকাত)। কিন্তু এ উচ্চাঙ্গের কাব্যসংস্কৃতিতে নৈতিকতার চেয়ে মদ্যপান, বংশগৌরব ও কামোদ্দীপক বর্ণনাই প্রধান ছিল।

٢- تحدث عن أسباب وواقعة هجرة النبي صلى الله عليه وسلم من مكة إلى المدينة- ثم بين أهميتها في التاريخ الاسلامي-

[মহানবি (স) এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের কারণ ও ঘটনা লেখ। ইসলামের ইতিহাসে এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]

ক. হিজরতের প্রধান কারণসমূহ:

  1. কুরাইশ মুশরিকদের অসহনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুসলিমদের সামাজিক বয়কট (শি’আবে আবু তালিবে তিন বছরের বন্দিদশা)।
  2. আবু তালিব ও খাদীজা (রা.)-এর ওফাতের পর মক্কায় দাওয়াতের পরিবেশ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া।
  3. তায়েফবাসীর নির্দয় প্রত্যাখ্যান ও প্রস্তরাঘাত।
  4. আকাবার প্রথম ও দ্বিতীয় শপথে ইয়াসরিবের আনসারদের পক্ষ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও আমন্ত্রণের অঙ্গীকার।
  5. দারুন নদওয়ায় সম্মিলিত কুরাইশ গোত্র কর্তৃক মহানবী (সা.)-কে হত্যার চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র এবং আল্লাহর প্রত্যক্ষ নির্দেশ।

খ. হিজরতের রোমাঞ্চকর ঘটনা:

৬২২ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে কুরাইশ যুবকেরা যখন তরবারি হাতে রাসূল (সা.)-এর বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছিল, তখন তিনি হযরত আলী (রা.)-কে নিজের বিছানায় সবুজ চাদর মুড়িয়ে শুইয়ে রেখে কাফেরদের চোখে ধুলো দিয়ে সূরা ইয়াসীনের ৯ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করতে করতে বেরিয়ে যান। তিনি বিশ্বস্ত সঙ্গী হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-কে সাথে নিয়ে মক্কার দক্ষিণে সওর পর্বতের গুহায় (غار ثور) তিন দিন আত্মগোপন করে থাকেন। কাফেররা গুহামুখ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও মাকড়সার জাল ও কবুতরের ডিমের অলৌকিক আবরণে তারা বিভ্রান্ত হয়। অতঃপর বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক আব্দুল্লাহ ইবনে উরাইকিতকে নিয়ে লোহিত সাগরের উপকূলীয় দুর্গম পথে যাত্রা করে তাঁরা মদীনার উপকণ্ঠে কুবা পল্লীতে পৌঁছান এবং সেখান থেকে ঐতিহাসিক উল্লাসধ্বনির মাঝে ইয়াসরিবে প্রবেশ করেন।

গ. ইসলামের ইতিহাসে হিজরতের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব:

  • মদীনা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা: হিজরতের মাধ্যমে ইসলাম কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের গণ্ডি পেরিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম রাজনৈতিক ও সামরিক রাষ্ট্রে রূপ লাভ করে।
  • মদীনার সনদের প্রণয়ন: বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান রচিত হয় এবং মদীনার নাম হয় ‘মাদীনাতুন্নবী’ বা শান্তির নগরী।
  • মুওয়াখাত বা ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্ব: মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যে আত্মত্যাগমূলক ভ্রাতৃত্ব স্থাপিত হয়, তা সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত।
  • হিজরী সনের প্রবর্তন: ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.) হিজরতকে ইসলামের নবজন্ম হিসেবে বিবেচনা করে ৬২২ খ্রিস্টাব্দের হিজরত থেকেই ইসলামি বর্ষপঞ্জির সূচনা করেন।

٣- ماذا تعلم عن المعراج؟ بين أهمية المعراج في ضوء القرآن والسنة-

[মি’রাজ সম্পর্কে কী জান? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর তাৎপর্য পর্যালোচনা কর।]

ক. ইসরা ও মি’রাজের পরিচয় ও ঘটনা:

নবুওয়াতের দশম বর্ষে (আনুমানিক ৬২১ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে রজব রাতে) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনে সংঘটিত অলৌকিক ঊর্ধ্বারোহণকে মি’রাজ (المعراج) বলা হয়। আরবিতে ‘ইসরা’ অর্থ নৈশভ্রমণ এবং ‘মি’রাজ’ অর্থ সিঁড়ি বা ঊর্ধ্বে আরোহণ। জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে বোরাক নামক ঐশী বাহনে চড়ে তিনি প্রথমে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে (মসজিদুল আকসা) গমন করেন। সেখানে তিনি সকল নবী-রাসূলগণের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করেন (ইমামুল আম্বিয়া)। অতঃপর সেখান থেকে সপ্ত আকাশ, সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করে মহান আল্লাহর খাস সান্নিধ্যে আরোহণ করেন।

খ. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মি’রাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য:

  1. পবিত্র কুরআনের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা: সূরা বনী ইসরাঈলের ১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে: “পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাঁকে আমার কুদরতের নিদর্শন প্রদর্শন করি।” আবার সূরা আন-নাজমে সিদরাতুল মুনতাহার ঊর্ধ্বজগত দর্শনের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
  2. সর্বশ্রেষ্ঠ তোহফা—পাঁচ ওয়াক্ত সালাত: মি’রাজের রজনীতেই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়। সালাতকে মুমিনের জন্য মি’রাজস্বরূপ ঘোষণা করা হয়েছে।
  3. আবু বকর (রা.)-এর ‘সিদ্দিক’ উপাধি লাভ: মি’রাজ থেকে ফিরে নবীজী ঘটনা বর্ণনা করলে কাফেররা উপহাস শুরু করে। কিন্তু আবু বকর (রা.) এক সেকেন্ডও দ্বিধা না করে বলেন, “মুহাম্মদ (সা.) যদি বলে থাকেন তবে তা নিঃসন্দেহে সত্য।” এ অটল বিশ্বাসের কারণে তিনি ‘আস-সিদ্দিক’ (পরম সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত হন।
  4. ১৪ দফার ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্রদর্শন: সূরা বনী ইসরাঈলে মি’রাজ বর্ণনার পরপরই আল্লাহ তা’আলা পিতা-মাতার সেবা, আত্মীয়ের হক, অপচয় বর্জন, কন্যাশিশু হত্যা রোধ, ব্যভিচার নিষিদ্ধকরণ ও ওজনে সঠিক পরিমাপসহ ১৪টি মৌলিক সামাজিক ও রাজনৈতিক নীতি ঘোষণা করেন।

٤- كيف بدأ نزول الوحي على النبي صلى الله عليه وسلم؟ وماذا كانت كيفيته؟

[নবিজী (স) এর উপর ওহি অবতরণের সূচনা কীভাবে হয় এবং তার পদ্ধতি কিরূপ ছিল?]

ক. ওহী অবতরণের সূচনা (বাদউল ওহী):

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও ওহীর সূচনা হয়েছিল মক্কার জাবালে নূরের নির্জন হেরা গুহায় (غار حراء)। ওহী লাভের পূর্বে তিনি টানা ছয় মাস সত্য স্বপ্ন (রুইয়া সাদিকাহ) প্রত্যক্ষ করেন। অতঃপর ৬১০ খ্রিস্টাব্দের রমজান মাসের কদরের রাতে আল্লাহর প্রধান ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) হেরা গুহায় আবির্ভূত হয়ে তাঁকে তিনবার আলিঙ্গন করে সূরা আল-আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত (“ইক্বরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক…”) পাঠ করান। এভাবেই আল-কুরআনের জ্যোতির্ময় ওহীর ঐতিহাসিক সূচনা ঘটে।

খ. ওহী অবতরণের বিভিন্ন পদ্ধতি ও অবস্থা (কাইফিয়াতুল ওহী):

সহীহ বুখারীতে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, হারেস ইবনে হিশাম রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ওহী অবতরণের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিভিন্ন পদ্ধতির কথা জানান:

  1. ঘণ্টার ধ্বনির মতো (সালসালাতুল জারাস): এটি ছিল ওহীর সবচেয়ে কঠিন ও ভারী পদ্ধতি। ঘণ্টার ঝংকারের মতো তীব্র শব্দে ওহী অবতীর্ণ হতো। এ সময় তীব্র শীতের দিনেও নবীজীর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত। উটের ওপর সওয়ার থাকা অবস্থায় এ ওহী আসলে উট ভার বহন করতে না পেরে মাটিতে বসে পড়ত। ওহী সমাপ্ত হলে নবীজী তা মুখস্থ করে নিতেন।
  2. ফেরেশতা মানব রূপ ধারণ করে: জিবরাঈল (আ.) কোনো সুদর্শন মানুষের আকৃতিতে (বিশেষ করে সাহাবী দিহইয়া কালবীর রূপে) এসে সরাসরি মানুষের ভাষায় কথা বলতেন। এটি ছিল রাসূলের জন্য সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। ‘হাদীসে জিবরাঈল’ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
  3. ফেরেশতার স্বরূপে আবির্ভাব: জিবরাঈল (আ.) তাঁর আসল ছয়শত ডানাবিশিষ্ট দিগন্ত বিস্তৃত ঐশী রূপ ধারণ করে আবির্ভূত হতেন। নবীজী জীবদ্দশায় দুবার তাঁকে স্বরূপে দেখেছিলেন—প্রথমবার হেরা গুহায় এবং দ্বিতীয়বার মিরাজে সিদরাতুল মুনতাহার নিকট।
  4. স্বপ্নের মাধ্যমে ঐশী প্রত্যাদেশ (রুইয়া ফিল মানাম): নবীদের স্বপ্ন ওহীর শামিল। ঘুমন্ত অবস্থায় অন্তরে আল্লাহ তা’আলা ওহী পৌঁছে দিতেন।
  5. পর্দার অন্তরাল থেকে সরাসরি কথোপকথন (কালামুল্লাহ): কোনো ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়া সরাসরি মহান আল্লাহর বাণী শ্রবণ করা, যেমন ঘটেছিল মিরাজের রাতে বা মূসা (আ.)-এর ক্ষেত্রে তূর পর্বতে।
  6. অন্তরে প্রক্ষেপণ (ইলকা ফিল ক্বলব): কোনো শব্দ না করেই ফেরেশতা গোপনে নবীজীর পবিত্র হৃদয়ে অলৌকিকভাবে আল্লাহর বাণী বা নির্দেশ ঢেলে দিতেন।

٥- تحدث عن الرسائل التي أرسلها النبي صلى الله عليه وسلم الى السلاطين والحكام-

[সালাতীন ও হুক্কামদের নিকট নবি করীম (স) যে সব পত্র প্রেরণ করেছিলেন সে সম্পর্কে আলোচনা কর।]

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট: ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশদের সাথে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মহানবী (সা.) বিশ্বমঞ্চে ইসলামকে সার্বজনীন আন্তর্জাতিক জীবনবিধান হিসেবে প্রচারের লক্ষ্যে তৎকালীন বিশ্বের পরাশক্তি ও পার্শ্ববর্তী সাম্রাজ্যের সম্রাট ও রাজন্যবর্গের নিকট দাওয়াতী পত্র প্রেরণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। সাহাবীদের পরামর্শে তিনি একটি রৌপ্য মোহর তৈরি করান, যাতে খোদাই করা ছিল: ‘মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ’ (আল্লাহ / রাসূল / মুহাম্মদ)।

প্রধান সম্রাট ও শাসকদের নিকট প্রেরিত চিঠি ও তাঁদের প্রতিক্রিয়া:

  1. রোমান (বাইজেন্টাইন) সম্রাট হেরাক্লিয়াস: সাহাবী হযরত দিহইয়া কালবী (রা.) রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াসের দরবারে পত্র নিয়ে যান। পত্রে লেখা ছিল: “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে রোমের অধিপতি হেরাক্লিয়াসের প্রতি… ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেবেন…”। হেরাক্লিয়াস তৎকালীন মক্কার বাণিজ্য নেতা আবু সুফিয়ানকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্য নবীর পরিচয় উপলব্ধি করেন, কিন্তু রাজত্ব হারানোর ভয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন; তবে দূতের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক আচরণ করেন।
  2. পারস্যের সম্রাট খসরু পারভেজ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাফা আস-সাহমী (রা.) পারস্যের সাসানীয় সম্রাট খসরু পারভেজের নিকট চিঠি নিয়ে যান। অহংকারী খসরু পারভেজ চিঠির শুরুতে নিজের নামের পূর্বে নবীজীর নাম দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে পবিত্র চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলে। এ খবর শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বদদোয়া করে বলেছিলেন: “আল্লাহ তার সাম্রাজ্যকেও তেমনি টুকরো টুকরো করে দিন।” অল্পদিনের মধ্যেই খসরু তার নিজ পুত্রের হাতে নিহত হয় এবং পারস্য সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়।
  3. আবিসিনিয়ার (হাবশা) নাজ্জাশী সম্রাট আসহামা: হযরত আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরী (রা.) হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর নিকট চিঠি নিয়ে যান। নাজ্জাশী অত্যন্ত ভক্তিভরে চিঠিটি চোখে স্পর্শ করেন, সিংহাসন থেকে মাটিতে নেমে আসেন এবং সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তাঁর ওফাতে মদীনায় নবীজী গায়েবানা জানাজা আদায় করেছিলেন।
  4. মিশরের অধিপতি আল-মুক্বাওক্বিস: হযরত হাতিব ইবনে আবি বালতা’আ (রা.) আলেকজান্দ্রিয়ার খ্রিস্টান শাসক মুকাওকিসের দরবারে চিঠি পৌঁছান। মুকাওকিস অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করে উপহারস্বরূপ মারিয়া কিবতিয়া (রা.), একটি সাদা খচ্চর (দুলদুল) এবং এক হাজার মিসকাল স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন।
  5. ওমান ও বাহরাইনের শাসকগণ: ওমানের শাসক জাইফর ও আব্দ ইসলাম গ্রহণ করেন। বাহরাইনের শাসক মুনজির ইবনে সাওয়াও ইসলাম কবুল করেন। এ কূটনৈতিক পত্রসমূহ ইসলামকে আরবের মরুভূমি ছাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে এক আন্তর্জাতিক সভ্যতায় রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করে।

٦- تحدث عن شروط صلح الحديبية- ثم بين أهمية صلح الحديبية في تاريخ الإسلام-

[হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তাবলি উল্লেখ কর। ইসলামের ইতিহাসে এর গুরুত্ব নিরূপণ কর।]

ক. ঐতিহাসিক পটভূমি ও শর্তাবলি:

ষষ্ঠ হিজরীর জিলকদ মাসে (মার্চ, ৬২৮ খ্রি.) মহানবী (সা.) ১,৪০০ নিরস্ত্র সাহাবী নিয়ে উমরার উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওয়ানা হন। মক্কার উপকণ্ঠে হুদাইবিয়া নামক স্থানে কুরাইশরা তাঁদের পথরোধ করে। রক্তপাত এড়াতে কুরাইশ দূত সুহায়েল ইবনে আমরের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর যে ঐতিহাসিক সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয়, তাকে হুদাইবিয়ার সন্ধি (صلح الحديبية) বলা হয়।

সন্ধির প্রধান শর্তসমূহ:

  1. মুসলিমরা এ বছর উমরা না করে মদীনায় ফিরে যাবে এবং আগামী বছর এসে মাত্র তিন দিনের জন্য অস্ত্রহীন অবস্থায় উমরা পালন করতে পারবে।
  2. উভয় পক্ষের মধ্যে আগামী দশ বছর যাবত কোনো প্রকার যুদ্ধবিগ্রহ চলবে না, পূর্ণ শান্তি বজায় থাকবে।
  3. আরবের যেকোনো গোত্র ইচ্ছানুযায়ী কুরাইশ বা মুসলিম যেকোনো পক্ষের সাথে মৈত্রী চুক্তি করতে পারবে (বনু বকর কুরাইশদের সাথে এবং বনু খোজাআ মুসলিমদের সাথে যোগ দেয়)।
  4. কোনো মক্কাবাসী অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া মদীনায় পালিয়ে গেলে মুসলিমরা তাকে ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে; কিন্তু কোনো মদীনাবাসী মক্কায় পালিয়ে আসলে কুরাইশরা তাকে ফেরত দেবে না।

খ. ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়ার সন্ধির গুরুত্ব (‘ফাতহুম মুবিন’):

  • পবিত্র কুরআনে প্রকাশ্য বিজয় ঘোষণা: আপাতদৃষ্টিতে শর্তগুলো একতরফা ও মুসলিমদের জন্য অবমাননাকর মনে হওয়ায় সাহাবীগণ ব্যথিত হয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা সূরা আল-ফাতহের প্রথম আয়াতেই ঘোষণা করেন: “নিশ্চয় আমি আপনাকে দান করেছি সুস্পষ্ট প্রকাশ্য এক বিজয় (ফাতহুম মুবিন)।”
  • মদীনা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: এ চুক্তির মাধ্যমে চরম শত্রু কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মদীনা রাষ্ট্র এবং মহানবী (সা.)-কে সমমর্যাদার একটি বৈধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
  • শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইসলামের বিপুল বিস্তার: দশ বছরের যুদ্ধবিরতির সুযোগে আরবের সাধারণ মানুষ কোনো ভীতি ছাড়াই মুসলিমদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়। ফলে পরবর্তী মাত্র দুই বছরে যত মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তা পূর্ববর্তী আঠারো বছরের সংখ্যার চেয়েও বেশি ছিল। খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আসের মতো শীর্ষ বীরগণ এ সময়ই ইসলাম গ্রহণ করেন।
  • মক্কা বিজয়ের রাজপথ উন্মোচন: অষ্টম হিজরীতে কুরাইশ মিত্র বনু বকর কর্তৃক সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করার ফলেই বিনা রক্তপাতে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের স্বর্ণদ্বার উন্মোচিত হয়।

مجموعة (ب) – খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

٧- تحدث عن حلف الفضول-

[হিলফুল ফুযুল সম্পর্কে আলোচনা কর।]

জাহেলি যুগের কুখ্যাত হরবুল ফিজার (অন্যায় সমর)-এর রক্তক্ষয়ী ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ব্যথিত হয়ে কিশোর মুহাম্মদ (সা.) তাঁর চাচা জুবায়ের ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সহযোগিতায় বনু হাশিম ও অন্যান্য গোত্রের শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে আব্দুল্লাহ ইবনে জুদ’আনের গৃহে যে শান্তি সংঘ গড়ে তোলেন, তাকে হিলফুল ফুযুল (حلف الفضول) বলা হয়। অতীতে ফজল নামধারী কয়েকজন ব্যক্তি অনুরূপ চুক্তি করায় এর নাম হিলফুল ফুযুল রাখা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল: অত্যাচারীকে প্রতিহত করা, মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, বহিরাগত ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা এবং আরবে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা। নবুওয়াত লাভের পরও মহানবী (সা.) এ চুক্তির স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, “এর বিনিময়ে আমাকে লাল রঙের মূল্যবান উট দেওয়া হলেও আমি তা পরিত্যাগ করতাম না।”

٨- اكتب المؤاخاة بين الأنصار والمهاجرين التي قام بها النبي صلى الله عليه وسلم-

[আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নবিজী (স) এর অবদান আলোচনা কর।]

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদীনায় হিজরতের পর সর্বস্বান্ত হয়ে মক্কা থেকে আগত মুহাজিরদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য মহানবী (সা.) আনাস ইবনে মালেকের বাড়িতে সমবেত করে স্থানীয় আনসার এবং বহিরাগত মুহাজিরদের মধ্যে রক্তের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে যে ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্ববন্ধন গড়ে তোলেন, তাকে মুওয়াখাত (المؤاخاة) বলা হয়। তিনি একজন মুহাজিরের সাথে একজন আনসারকে দ্বীনি ভাই বানিয়ে দেন (যেমন—আব্দুর রহমান ইবনে আউফের সাথে সা’দ ইবনে রাবীকে)। আনসার সাহাবীগণ নিজেদের বাড়িঘর, জমিজমা ও বাগান অর্ধেক বিলিয়ে দিয়ে ভাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁদের মাঝে উত্তরাধিকারের বিধানও কার্যকর ছিল। এটি বিশ্বের ইতিহাসে শরণার্থীকেন্দ্রিক সামাজিক পুনর্বাসনের সর্বশ্রেষ্ঠ ও অলৌকিক দৃষ্টান্ত।

٩- تحدث عن فتح مكة-

[মক্কা বিজয় সম্পর্কে আলোকপাত কর।]

অষ্টম হিজরীর ২০শে রমজান (জানুয়ারি, ৬৩০ খ্রি.) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দশ হাজার সুসজ্জিত সাহাবীর কাফেলা নিয়ে রক্তপাতহীন এক অলৌকিক উপায়ে নিজ জন্মভূমি পবিত্র মক্কা বিজয় (فتح مكة) সম্পন্ন করেন। কুরাইশরা হুদাইবিয়ার সন্ধি লঙ্ঘন করে মুসলিম মিত্র খোজাআ গোত্রের ওপর গণহত্যা চালালে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মক্কায় প্রবেশ করে তিনি কা’বা ঘরে প্রবেশ করে ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন এবং সত্যের জয় ঘোষণা করেন। তিনি চিরশত্রু কুরাইশ ও আবু সুফিয়ানসহ সকলকে উদ্দেশ্য করে বিশ্ব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন: “লা তাসরীবা আলাইকুমুল ইয়াওম, ইযহাবূ ফা আনতুমুত তুলাকা” (আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত ও স্বাধীন)। এ অনন্য ক্ষমার মহিমায় সমগ্র কুরাইশ জাতি স্বেচ্ছায় ইসলামের পতাকাতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

١٠- تحدث عن غزوة تبوك-

[তাবুক অভিযান সম্পর্কে যা জান লেখ।]

নবম হিজরীর রজব মাসে (অক্টোবর, ৬৩০ খ্রি.) মদীনা থেকে প্রায় ৫০০ মাইল উত্তরে সিরিয়া সীমান্তে রোমান বাইজেন্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াসের আগ্রাসী বাহিনীকে প্রতিহত করতে মহানবী (সা.) ত্রিশ হাজার সাহাবী নিয়ে যে ঐতিহাসিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন, তাকে গাযওয়ায়ে তাবুক (غزوة تبوك) বলা হয়। এটি ছিল মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশার সর্বশেষ সামরিক অভিযান। প্রচণ্ড খরা, তীব্র উত্তাপ ও দুর্ভিক্ষের কারণে এ অভিযানকে ‘জায়শুল উসরাহ’ (কষ্টের বাহিনী) বলা হয়। এ অভিযানে হযরত আবু বকর (রা.) নিজের ঘরের শতভাগ সম্পদ এবং উসমান (রা.) এক-তৃতীয়াংশ সৈন্যের সমস্ত রসদ ও ৯৫০টি উট একাই দান করেছিলেন। তাবুকে মুসলিম বাহিনীর শৌর্যবীর্য দেখে রোমান বাহিনী যুদ্ধ না করেই পালিয়ে যায়। ফলে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই মুসলিমদের বিজয় সূচিত হয় এবং সীমান্তবর্তী বহু খ্রিস্টান ও ইহুদি গোত্র জিজিয়া প্রদানে সম্মত হয়ে সন্ধি করে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আইয়ামে জাহেলিয়াতের বিখ্যাত বার্ষিক সাহিত্য মেলা কোথায় বসত?

তায়েফের নিকটবর্তী উকাজ নামক ময়দানে প্রতি বছর জিলকদ মাসে আরব কবি ও সাহিত্যিকদের ঐতিহাসিক সাহিত্য মেলা ও কাব্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো।

২. হিজরতের সময় মহানবী (সা.) ও আবু বকর (রা.) কোন পর্বতের গুহায় অবস্থান করেছিলেন?

মক্কার দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহাসিক জাবালে সওর বা সওর পর্বতের গুহায় তাঁরা কাফেরদের চোখ ফাঁকি দিয়ে টানা তিন দিন আত্মগোপন করেছিলেন।

৩. মি’রাজের রাতে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার কী ছিল?

মি’রাজের ঐতিহাসিক রজনীতেই মহান আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়।

৪. হুদাইবিয়ার সন্ধিকে কুরআনে কী নামে অভিহিত করা হয়েছে?

সূরা আল-ফাতহের প্রথম আয়াতে হুদাইবিয়ার সন্ধিকে মহান আল্লাহ তা’আলা ‘ফাতহুম মুবিন’ বা সুস্পষ্ট প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

৫. কোন অহংকারী সম্রাট মহানবী (সা.)-এর পবিত্র চিঠি ছিঁড়ে ফেলেছিল?

পারস্যের সাসানীয় সম্রাট খসরু পারভেজ অহংকারবশত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চিঠিটি টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলেছিল।

৬. মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশার সর্বশেষ সামরিক অভিযান কোনটি ছিল?

নবম হিজরীতে রোমান বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত ত্রিশ হাজার সেনার ‘তাবুক অভিযান’ ছিল মহানবী (সা.)-এর জীবনের সর্বশেষ যুদ্ধযাত্রা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *