ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2023
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মুসলমানদের ইতিহাস
বিষয় কোড: 205308 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি
১. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচয় দাও। ইসলাম আগমনের পূর্বে এ অঞ্চলের অবস্থার বিবরণ দাও।
[Introduce South-East Asia. Give an account of the conditions of this region before the advent of Islam.]
ক. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক পরিচয়:
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (South-East Asia) বলা হয়। এটি দুটি স্বতন্ত্র ভাগে বিভক্ত: ১. মূল ভূখণ্ডীয় অঞ্চল (Mainland): বর্তমান মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং পশ্চিম মালয়েশিয়া; এবং ২. দ্বীপময় অঞ্চল (Maritime/Insular): ইন্দোনেশিয়ার সতের হাজার দ্বীপ (সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও, সুলাওয়েসি ইত্যাদি), পূর্ব মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর এবং ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী এ অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।
খ. ইসলাম আগমনের পূর্বে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা:
- হিন্দু-বৌদ্ধ রাজবংশ ও ‘ভারতীয়করণ’ (Indianization): প্রথম সহস্রাব্দ থেকে চতুর্দশ শতক পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতি ভারতীয় ধর্ম ও ঐতিহ্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিল। সুমাত্রাকেন্দ্রিক বৌদ্ধ শ্রীবিজয় সাম্রাজ্য (৭ম-১৩শ শতক) এবং জাভাকেন্দ্রিক হিন্দু মজপহিত সাম্রাজ্য (১৩শ-১৬শ শতক) এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
- ‘দেবরাজ’ প্রথা ও স্বৈরাচারী শাসন: রাজারা নিজেদের হিন্দু দেবতা শিব বা বিষ্ণুর অবতার দাবি করতেন, যাকে ‘দেবরাজ’ (Devaraja) সংস্কৃতি বলা হতো। শাসকের কথাই ছিল চরম আইন এবং সাধারণ প্রজাদের ওপর সীমাহীন করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হতো।
- ধর্মীয় বহুদেববাদ ও সর্বপ্রাণবাদ: সাধারণ মানুষ বৌদ্ধ ও শৈব ধর্মের পাশাপাশি প্রকৃতিপূজা, পূর্বপুরুষের আত্মা ও বৃক্ষ-পাহাড়ের প্রেতাত্মা পূজায় (Animism) লিপ্ত ছিল। সমাজে কঠোর বর্ণভেদ ও অস্পৃশ্যতা বিদ্যমান ছিল।
- সামাজিক দাসপ্রথা: ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তি ও যুদ্ধবন্দিদের স্থায়ী দাসে পরিণত করা হতো। নারীদের সামাজিক ও উত্তরাধিকার অধিকার অত্যন্ত সীমিত ছিল। ইসলামের সাম্য ও মানবিক মর্যাদা শোষিত এই জনগোষ্ঠীর নিকট মুক্তির দিশারী হয়ে আবির্ভূত হয়।
২. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মুসলিম সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা দাও।
[Give an idea about the expansion of Muslim empire in South-East Asia.]
ক. প্রাথমিক প্রসার ও উপকূলীয় সালতানাতসমূহের উদ্ভব:
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইসলামের রাজনৈতিক উত্থান মধ্যপ্রাচ্যের মতো কোনো বহিরাগত সামরিক অভিযানের ফল ছিল না; বরং তা স্থানীয় শাসক ও অভিজাতদের স্বতঃস্ফূর্ত ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে সার্বভৌম মুসলিম সালতানাতে রূপ লাভ করেছিল।
- পাসে সালতানাত (Samudera Pasai – ১৩শ শতক): উত্তর সুমাত্রার পাসে রাজ্য ১২৬৭ খ্রিস্টাব্দে মালিকুস সালেহের ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বপ্রথম সংবিধিবদ্ধ মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ইবনে বতুতা ১৩৪৫ সালে পাসে ভ্রমণ করে সেখানকার সুলতানের ধর্মপরায়ণতা ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসরণের বর্ণনা দিয়েছেন।
- মালাক্কা সালতানাত (Melaka Sultanate – ১৫শ শতক): ১৪০২ সালে পরমেশ্বর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মালাক্কা ইসলাম গ্রহণের পর এক সুবিশাল আঞ্চলিক পরাশক্তিতে রূপ নেয়। এর প্রভাব মালয় উপদ্বীপ ছাড়িয়ে সুমাত্রার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত হয়। মালাক্কা ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইসলামি সভ্যতার মূল রাজনৈতিক ও ধর্মতাত্ত্বিক স্নায়ুকেন্দ্র।
- আচেহ দারুসসালাম সালতানাত (Aceh Sultanate): ১৫১১ সালে পর্তুগিজদের হাতে মালাক্কার পতনের পর সুমাত্রার আচেহ সালতানাত ইসলামি প্রতিরোধের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। সুলতান ইসকান্দার মুদার আমলে আচেহ উসমানীয় খিলাফতের সাথে সামরিক মিত্রতা স্থাপন করে এবং ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে সফল প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- জাভার দেমাক ও বানতেন সালতানাত: জাভায় হিন্দু মজপহিত সাম্রাজ্যের পতনের পর ‘ওয়ালী সঙ্গ’ (নয়জন সুফি সন্ত)-এর প্রভাবে দেমাক সালতানাত গড়ে ওঠে। এরপর বানতেন ও মাতারাম সালতানাত সমগ্র জাভাজুড়ে ইসলামি শাসন সুসংহত করে।
- সুলু ও মাগিন্দানাও সালতানাত (ফিলিপাইন): দক্ষিণ ফিলিপাইনে শরিফুল হাশেম ও শরিফ কাবুংসুয়ানের মাধ্যমে শক্তিশালী মুসলিম সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়, যা শত শত বছর ধরে স্প্যানিশ ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখে (মোরো মুসলিম)।
৩. ইউরোপীয়দের আগমনের পূর্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিবরণ দাও।
[Give an account of economic condition in South-East Asia before the European came.]
ক. ভূমিকা:
ষোড়শ শতকের সূচনায় ইউরোপীয়দের আগমনের পূর্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ছিল এক স্বয়ংসম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং মুক্ত বাণিজ্য নীতিতে পরিচালিত বিশ্ববাণিজ্যের স্বর্ণভূমি। মৌসুমি বায়ুর গতিপথ এবং মালাক্কা ও সুন্দা প্রণালীর কৌশলগত অবস্থানের কারণে এ অঞ্চল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আন্তর্জাতিক পণ্য বিনিময়ের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছিল।
খ. অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- মসলা অর্থনীতির একচ্ছত্র প্রাচুর্য: মালুকু (মলুক্কাস) ও বান্দা দ্বীপপুঞ্জ ছিল বিশ্বের একমাত্র অঞ্চল যেখানে লবঙ্গ, জায়ফল ও জৈত্রিক উৎপাদিত হতো। সুমাত্রা ও পশ্চিম জাভায় বিপুল গোলমরিচ উৎপাদিত হতো। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে এ মসলার চাহিদা ছিল হীরার মতো মূল্যবান।
- মুক্ত বন্দর ব্যবস্থা (Free Port System): মালাক্কা, পাসে, পেগু এবং ব্রুনাই বন্দরগুলোতে কোনো জাত্যাভিমানী বিধিনিষেধ ছিল না। সকল দেশের বণিকের জন্য বন্দর উন্মুক্ত ছিল এবং অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত শুল্ক (ট্যাক্স) আদায় করা হতো। কোনো একচেটিয়া একাধিপত্য ছিল না।
- শাহবান্দার প্রশাসনিক দক্ষতা: বন্দরে বিদেশি বণিকদের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধান চারটি বাণিজ্যিক অঞ্চলের জন্য চারজন ‘শাহবান্দার’ (বন্দর পরিচালক) নিয়োগ করা হতো (গুজরাটি, ভারতীয়/বর্মি, জাভানিজ ও চীনা)। গুদামজাতকরণ, মুদ্রার বিনিময় হার এবং নিরাপত্তা অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল।
- কৃষি ও কারুশিল্প: জাভা ও মেকং নদীর অববাহিকায় ধান ও আখের প্রাচুর্য ছিল। স্থানীয় হস্তশিল্পীরা ধাতুবিদ্যা, জাহাজের কাঠ এবং বিখ্যাত ‘কৃস’ (Kris) ছুরি ও অস্ত্র তৈরিতে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। দেশীয় মুদ্রা হিসেবে সোনা ও টিনের মুদ্রার (টিন ড্রাম/কাটু) পাশাপাশি চীনা ক্যাশ ব্যবহৃত হতো।
৪. পর্তুগিজ কারা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের বাণিজ্য শাখার অনুসন্ধান প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
[Who were the Portuguese? Narrate their enquiry process of trade route in South-East Asia.]
ক. পর্তুগিজদের পরিচয়:
ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত পর্তুগাল রাজ্যের অধিবাসীদের পর্তুগিজ (Portuguese) বলা হয়। পঞ্চদশ শতাব্দীতে প্রিন্স হেনরি দ্য নেভিগেটরের পৃষ্ঠপোষকতায় পর্তুগিজরা আধুনিক সমুদ্রযাত্রার সূচনা করে এবং তারাই প্রথম প্রাচ্যের মসলা দ্বীপপুঞ্জে সমুদ্রপথে পৌঁছায়।
খ. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যপথ অনুসন্ধান প্রক্রিয়া:
- ভাস্কো দা গামার পথপ্রদর্শন (১৪৯৮): আফ্রিকা মহাদেশের উত্তমাশা অন্তরীপ প্রদক্ষিণ করে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছার মাধ্যমে মুসলিম মধ্যস্বত্বভোগীদের স্থলপথ এড়িয়ে সরাসরি ভারতে আসার সমুদ্রপথ উন্মোচিত হয়।
- মসলার মূল উৎসের সন্ধান: ভারতে এসে পর্তুগিজরা উপলব্ধি করে যে, লবঙ্গ ও জায়ফলের প্রকৃত আঁতুড়ঘর ভারতে নয়, বরং আরও পূর্বের রহস্যময় ‘স্পাইস আইল্যান্ডস’ (Spice Islands) বা মলুক্কাস দ্বীপপুঞ্জে, যার সকল পণ্য মালাক্কা বন্দর দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়।
- ডিয়োগো লোপেজ ডি সিকুইরার গোয়েন্দা অভিযান (১৫০৯): পর্তুগিজ রাজা প্রথম ম্যানুয়েল সিকুইরাকে পাঁচটি জাহাজ দিয়ে মালাক্কার সমুদ্রপথ, পোতাশ্রয়ের গভীরতা ও রাজনৈতিক অবস্থা অনুসন্ধানে পাঠান। সিকুইরা মালাক্কায় পৌঁছে বাণিজ্য কুঠির চেষ্টা করলে গুজরাটি বণিকদের হুঁশিয়ারিতে সুলতান তাকে প্রতিহত করেন।
- আলবুকার্কের সমরকৌশল ও মালাক্কা বিজয় (১৫১১): ভারতের পর্তুগিজ গভর্নর আফোনসো দে আলবুকার্ক বুঝেছিলেন মালাক্কা দখল না করলে মসলা বাণিজ্যের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মুসলিমদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভাঙা অসম্ভব। তিনি ১৮টি ভারী কামানবাহী যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ১৫১১ সালের ২৪ আগস্ট রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মালাক্কা দখল করেন।
- মলুক্কাস দ্বীপে আন্তোনিও ডি আব্রিউ-র অভিযান: মালাক্কা জয়ের পরপরই আলবুকার্ক তিনটি জাহাজ দিয়ে আন্তোনিও ডি আব্রিউ এবং ফ্রান্সিসকো সেরাওকে মসলা দ্বীপপুঞ্জের মূল উৎসে পাঠান। তারা জাভা উপকূল পেরিয়ে বান্দা ও তেরনাতে দ্বীপে পৌঁছান এবং পর্তুগিজ দুর্গের ভিত্তি স্থাপন করেন।
৫. মালাক্কা সালতানাতের পরিচয় দাও এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইসলাম বিস্তারে মালাক্কার ভূমিকা আলোচনা কর।
[Introduce the Malacca Sultanate and discuss the role of Malacca in the spread of Islam in South-East Asia.]
ক. মালাক্কা সালতানাতের পরিচয়:
চতুর্দশ শতকের শেষভাগে সুমাত্রার পালেমবাং রাজ্যের পতন হলে হিন্দু রাজপুত্র পরমেশ্বর পালিয়ে এসে মালয় উপদ্বীপে ১৪০২-১৪০৩ খ্রিস্টাব্দে মালাক্কা নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। পাসের মুসলিম রাজকন্যাকে বিবাহের পর পরমেশ্বর ইসলাম গ্রহণ করে সুলতান ইসকান্দার শাহ নাম ধারণ করেন। পরবর্তী এক শতক ধরে মালাক্কা সালতানাত ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ইসলামি সংস্কৃতির সর্বপ্রধান পরাশক্তি।
খ. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইসলাম বিস্তারে মালাক্কার ঐতিহাসিক ভূমিকা:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইসলামি গবেষণাকেন্দ্র: মালাক্কা রাজদরবারে আরব, পারস্য ও ভারতীয় আলেম, ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণ রাজকীয় সমাদর লাভ করতেন। দূরবর্তী জাভা, সুমাত্রা ও বোর্নিও থেকে শিক্ষার্থীরা ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের জন্য মালাক্কায় ছুটে আসত।
- স্থানীয় ভাষায় ইসলামি সাহিত্যের রূপান্তর: আরবি ভাষার জটিল আকিদা ও তাসাউফের গ্রন্থসমূহ মালাক্কার পণ্ডিতদের মাধ্যমে স্থানীয় ‘বাহাসা মেলায়ু’ (মালয় ভাষা) এবং জাভি লিপিতে লিখিত হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামি জ্ঞান সহজে প্রবেশ করে।
- রাজনৈতিক মিত্রতা ও রাজকীয় বিবাহ: মালাক্কার সুলতানগণ আশেপাশের পাহাং, কেদাহ, জোহর ও কাম্পারের রাজপরিবারের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে সমগ্র মালয় উপদ্বীপের রাজন্যবর্গকে ইসলামে দীক্ষিত করেন।
- বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ও সুফি বণিক: মালাক্কার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বণিকদের জাহাজে করে সুফি প্রচারকগণ জাভার উপকূলবর্তী বন্দরসমূহে (গ্রেসিক, তুবান, সুরাবায়া) যেতেন এবং ইসলাম প্রচার করতেন। এই প্রক্রিয়াই পরবর্তীতে জাভায় ‘ওয়ালী সঙ্গ’ বা নয়জন পীরের ঐতিহাসিক উত্থান ঘটায়।
- শরীয়াহভিত্তিক আইনের প্রবর্তন: মালাক্কায় প্রণীত ‘উন্দাং-উন্দাং মালাক্কা’ পরবর্তী সকল মালয় ও ইন্দোনেশীয় সালতানাতের ইসলামি সংবিধানে রূপান্তরিত হয়।
৬. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠনের পটভূমি আলোচনা কর। কীভাবে ব্রিটিশরা মালয় ভূখণ্ডে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে?
[Discuss the background of the formation of the British East India Company. How did the British establish their dominance in Malay.]
ক. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠনের পটভূমি:
১৬০০ খ্রিস্টাব্দের প্রাক্কালে ডাচ বণিকরা লন্ডনের বাজারে গোলমরিচের দাম প্রতি পাউন্ডে ৩ শিলিং থেকে বাড়িয়ে ৮ শিলিং করে একচেটিয়া মুনাফা লুটছিল। এ বাণিজ্যিক ক্ষোভের মুখে ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ ২১৫ জন লন্ডন ব্যবসায়ীকে প্রাচ্যের বাণিজ্যের একচেটিয়া ১৫ বছরের রাজকীয় সনদ দেন। এর ফলেই আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ (EIC)।
খ. মালয় ভূখণ্ডে ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর্যায়সমূহ:
- পেনাং লিজ গ্রহণ (১৭৮৬): ক্যাপ্টেন ফ্রান্সিস লাইট কেদাহর সুলতানকে শ্যামীয় আক্রমণ থেকে ব্রিটিশ সুরক্ষার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কৌশলগত পেনাং দ্বীপ লাভ করেন এবং ব্রিটিশ নৌঘাঁটি গড়ে তোলেন।
- সিঙ্গাপুরের উত্থান (১৮১৯): স্যার স্ট্যামফোর্ড র্যাফেলস জোহরের সিংহাসন দ্বন্দ্বের সুযোগে হুসাইন শাহকে সুলতান বানিয়ে ১৮১৯ সালে সিঙ্গাপুর দ্বীপ অধিগ্রহণ করে মুক্ত বাণিজ্য বন্দর ঘোষণা করেন, যা অতি দ্রুত মালাক্কা প্রণালীর শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপ নেয়।
- প্রণালী উপনিবেশ (Straits Settlements, ১৮২৬): ১৮২৪ সালের ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তিতে ডাচদের কাছ থেকে মালাক্কা লাভ করে ব্রিটিশরা পেনাং, সিঙ্গাপুর ও মালাক্কাকে একত্রিত করে ১৮২৬ সালে সরাসরি ক্রাউন কলোনি হিসেবে ‘স্ট্রেইটস সেটেলমেন্টস’ গঠন করে।
- পাংকোর চুক্তি ও রেসিডেন্ট ব্যবস্থা (১৮৭৪): মালয়ের টিনখনি সমৃদ্ধ পেরাক রাজ্যে চীনা গোপন সমিতিগুলোর সংঘাত ও উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে হস্তক্ষেপ করে স্যার অ্যান্ড্রু ক্লার্ক ১৮৭৪ সালে ঐতিহাসিক ‘পাংকোর চুক্তি’ (Pangkor Treaty) চাপিয়ে দেন। সুলতানের ওপর একজন ‘ব্রিটিশ রেসিডেন্ট’ (Resident) চাপানো হয়, যার পরামর্শ মানা বাধ্যতামূলক ছিল।
- ফেডারেটেড মালয় স্টেটস (১৮৯৬): পেরাক, সেলাঙ্গর, পাহাং ও নেগ্রি সেম্বিলানকে একত্রিত করে ব্রিটিশরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন যুক্তরাষ্ট্রীয় উপনিবেশ গঠন করে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সমগ্র মালয়েশিয়ায় পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
৭. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্রিটিশদের বাণিজ্যনীতি পর্যালোচনা কর।
[Review the trading policy of the British in South-East Asia.]
ক. মুক্ত বাণিজ্য নীতি (Free Trade Policy):
ডাচদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণবাদী ও কঠোর শুল্ক নীতির বিপরীতে ব্রিটিশরা স্যার স্ট্যামফোর্ড র্যাফেলসের হাত ধরে ‘মুক্ত বাণিজ্য’ (Laissez-faire / Free Port) নীতি গ্রহণ করে। সিঙ্গাপুর ও পেনাং বন্দরে সব দেশের জাহাজের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন ও ইউরোপের জাহাজ ডাচ বাটাভিয়া বন্দর ছেড়ে ব্রিটিশ সিঙ্গাপুরে ভিড় জমায়।
খ. কাঁচামাল আহরণ ও ঔপনিবেশিক রূপান্তর:
- টিন খনির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ: উনবিংশ শতকে ইউরোপে ক্যানিং বা টিনের কৌটায় খাদ্য সংরক্ষণের বিপ্লব ঘটলে পেরাক ও সেলাঙ্গরের টিনের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়। ব্রিটিশরা আধুনিক ড্রেজার ও প্রযুক্তি দিয়ে খনির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
- রাবার বাগান বিপ্লব (Rubber Plantation): ব্রাজিল থেকে রাবার বীজ এনে ব্রিটিশ উদ্ভিদবিদ হেনরি রিডলে মালয়ে রোপণ করেন। মোটরগাড়ির টায়ারের বৈশ্বিক চাহিদার মুখে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো (ডানলপ, গার্থি) মালয়ের হাজার হাজার একর বনভূমি কেটে রাবার বাগানে রূপান্তর করে। মালয় পরিণত হয় বিশ্বের বৃহত্তম রাবার রপ্তানিকারকে।
গ. অভিবাসী শ্রমিক আমদানি ও জনমিতিক পরিবর্তন:
টিনখনিতে কাজের জন্য লাখ লাখ চীনা শ্রমিক এবং রাবার বাগানের জন্য দক্ষিণ ভারত (তামিলনাড়ু) থেকে সস্তা চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক এনে ব্রিটিশরা মালয় সমাজের হাজার বছরের জনমিতিক ভারসাম্য পরিবর্তন করে দেয়। এর ফলে মালয় একটি বহুজাতিক সমাজে পরিণত হয়, যা উত্তরকালে জাতিগত দ্বন্দ্বের বীজ বপন করে।
৮. ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পটভূমি ও প্রভাব পর্যালোচনা কর।
[Review the background and consequence of the Nationalist movement in Indonesia.]
ক. জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পটভূমি:
- ডাচদের নির্মম শোষণ ও কালচার সিস্টেম: তিন শতাব্দী ধরে ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (VOC) ও ডাচ সরকারের বর্বরোচিত শোষণ, বেগার খাটুনি এবং খাদ্য সংকটের ফলে গ্রামীণ ইন্দোনেশীয়দের মাঝে সীমাহীন অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়।
- নৈতিক নীতি (Ethical Policy, 1901) ও মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি: ডাচ সরকারের শিক্ষানীতির ফলে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত একদল ইন্দোনেশীয় পেশাজীবী ও চিকিৎসকের আবির্ভাব ঘটে, যারা জাতীয়তাবাদের মূল নেতৃত্ব দেন।
- প্যান-ইসলামিজম ও আধুনিক সংস্কার: মধ্যপ্রাচ্যের আল-আজহার ও মক্কাফেরত ওলামাগণ ‘মুহাম্মদিয়া’ (১৯১২) ও ‘নাহদাতুল ওলামা’ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষায় জাগরণ আনেন।
- রাজনৈতিক সংগঠনসমূহের বিকাশ: ১৯০৮ সালে ‘বুদি উতোমো’, ১৯১২ সালে গণমানুষের প্রথম সফল আন্দোলন ‘সারেকাত ইসলাম’ (Sarekat Islam) এবং ১৯২৭ সালে তরুণ প্রকৌশলী ড. আহমদ সুকর্ণ প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইন্দোনেশিয়ান ন্যাশনালিস্ট পার্টি’ (PNI)।
খ. প্রভাব ও সুদূরপ্রসারী পরিণতি:
- ঐতিহাসিক যুব অঙ্গীকার (Sumpah Pemuda, 1928): ১৯২৮ সালের ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয় যুব কংগ্রেসে ঐতিহাসিক যুব অঙ্গীকার ঘোষিত হয়: এক মাতৃভূমি (ইন্দোনেশিয়া), এক জাতি (ইন্দোনেশীয় জাতি), এবং এক ভাষা (বাহাসা ইন্দোনেশিয়া)। এটি আঞ্চলিক দ্বীপবাদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ ইন্দোনেশিয়া জাতির জন্ম দেয়।
- জাপানি দখলদারিত্ব ও জাতীয় শক্তির বিকাশ (১৯৪২-১৯৪৫): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ডাচদের পরাজয় শ্বেতাঙ্গদের অপরাজেয় রূপকে মিথ্যায় পরিণত করে। জাপানিদের সহায়তায় ইন্দোনেশীয় মিলিশিয়া (PETA) সামরিক প্রশিক্ষণ লাভ করে।
- ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা: জাপানের আত্মসমর্পণের মাত্র দুই দিন পর ১৯৪৫ সালের ১৭ আগস্ট ড. আহমদ সুকর্ণ ও মুহাম্মদ হাত্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। রক্তক্ষয়ী চার বছরের সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে ডাচরা সার্বভৌমত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি
৯। ভি ও সি [The VOC.] ।
[The VOC.]
ভি ও সি (VOC – Vereenigde Oostindische Compagnie): এটি ১৬০২ সালে নেদারল্যান্ডস পার্লামেন্টের সনদবলে গঠিত ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’-র ডাচ সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ছিল ইতিহাসের প্রথম আনুষ্ঠানিক যৌথ-মূলধনী (Joint-stock) কোম্পানি এবং বিশ্বের প্রথম বহুজাতিক কর্পোরেশন:
- অসীম ক্ষমতা: ডাচ সরকার একে নিজস্ব সৈন্যবাহিনী রাখা, দুর্গ নির্মাণ, নিজস্ব মুদ্রা জারি ও যুদ্ধ ঘোষণার সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করেছিল। এরা বাটাভিয়াকে (বর্তমান জাকার্তা) কেন্দ্র করে গোটা ইন্দোনেশিয়ার মসলা বাণিজ্যের ওপর দুই শতাব্দী ধরে নির্মম একাধিপত্য ও শোষণ চালায়। চরম দুর্নীতি ও দেনার দায়ে ১৭৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটি বিলুপ্ত হয়।
১০। ডাচদের পরিচয় দাও [Introduce the dutch] ।
[Introduce the dutch.]
ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ নেদারল্যান্ডস বা হল্যান্ডের অধিবাসীদের ডাচ (Dutch) বা ওলন্দাজ বলা হয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে নৌচালনা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্য: ১৬০২ সালে তারা VOC গঠন করে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করে এবং ১৬৪১ সালে পর্তুগিজদের পরাজিত করে মালাক্কা দখল করে। তারা ব্রিটিশদের বিতাড়িত করে বাটাভিয়া থেকে সমগ্র জাভা ও সুমাত্রায় ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং ‘কালচার সিস্টেম’-এর মতো শোষক ব্যবস্থা চালিয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিনশত বছর ইন্দোনেশিয়া শাসন করে।
১১। তেমো পিরেস [Teme Peras] ।
[Tomé Pires.]
তমে পিরেস (১৪৬৮-১৫৪০): তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত পর্তুগিজ ওষুধ প্রস্তুতকারক, পর্যটক, লেখক এবং কূটনীতিক। ১৫১১ সালে পর্তুগিজরা মালাক্কা দখলের পর তিনি মালাক্কায় রয়্যাল ফ্যাক্টরির হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন:
- সুমা ওরিয়েন্টাল (Suma Oriental): ১৫১২ থেকে ১৫১৫ সালের মধ্যে মালাক্কায় বসে তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সুমা ওরিয়েন্টাল’ (Suma Oriental) রচনা করেন। এটি ষোড়শ শতকের প্রারম্ভের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মালাক্কা সালতানাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রশাসন, বন্দর ব্যবস্থা এবং ইসলাম বিস্তারের ইতিহাসের সর্বাধিক প্রামাণ্য ও অমূল্য প্রত্যক্ষদর্শী প্রাথমিক দলিল। মালাক্কা সম্পর্কে তাঁর উক্তি চিরস্মরণীয়: “মালাক্কার নিয়ন্ত্রকের হাতেই থাকে বিশ্ববাণিজ্যের চাবিকাঠি।”
১২। ১৮২৪ সালে স্বাক্ষরিত ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তির পটভূমি উল্লেখ কর।
[Mention the background of the Anglo-Dutch treaty under signed in 1824 A.D.]
১৮২৪ সালের ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তির পটভূমি: ১৮১৯ সালে ব্রিটিশ কর্মকর্তা স্যার স্ট্যামফোর্ড র্যাফেলস কর্তৃক সিঙ্গাপুর মুক্ত বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর ডাচদের বাণিজ্যিক একাধিপত্য হুমকির মুখে পড়ে এবং দুই ঔপনিবেশিক পরাশক্তির মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ বাণিজ্যিক সংঘাত দূর করতে ১৮২৪ সালের ১৭ মার্চ লন্ডনে উভয় পরাশক্তি ‘ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তি’ (Anglo-Dutch Treaty of 1824) স্বাক্ষর করে:
- সীমানা বিভাজন ও ফলাফল: মালাক্কা প্রণালী বরাবর একটি কাল্পনিক রেখা টেনে এর উত্তর অঞ্চল (মালয় উপদ্বীপ ও সিঙ্গাপুর) ব্রিটিশ প্রভাববলয়ে এবং দক্ষিণ অঞ্চল (সুমাত্রা, জাভাসহ ইন্দোনেশিয়া) ডাচদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হয়। ব্রিটিশরা সুমাত্রার বেনকুলেন ডাচদের দেয় এবং ডাচরা মালাক্কা বন্দর ব্রিটিশদের ছেড়ে দেয়। এর ফলে মালয় জাতির হাজার বছরের ঐক্য দ্বিখণ্ডিত হয়ে আজকের স্বাধীন মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সীমানা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইসলাম আগমনের পূর্বে প্রধান ধর্মীয় বিশ্বাস কী ছিল?
ইসলাম আগমনের পূর্বে এ অঞ্চলের মানুষ ভারতীয় হিন্দুধর্ম (শৈব ও বৈষ্ণব), বৌদ্ধধর্ম এবং আদিম সর্বপ্রাণবাদ ও প্রকৃতিপূজায় বিশ্বাসী ছিল।
২. মালাক্কা সালতানাতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইসলাম বিস্তারের প্রাণকেন্দ্র কেন বলা হয়?
কারণ পঞ্চদশ শতকে মালাক্কা ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শ্রেষ্ঠ বন্দর এবং এর পৃষ্ঠপোষকতায় আলেম ও সুফি বণিকদের মাধ্যমে সমগ্র মালয়, জাভা ও সুমাত্রায় ইসলাম বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল।
৩. পর্তুগিজরা কত খ্রিস্টাব্দে এবং কেন মালাক্কা দখল করেছিল?
পর্তুগিজ সেনাপতি আফোনসো দে আলবুকার্ক ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে মসলা বাণিজ্যের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ ও মুসলিমদের পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে মালাক্কা দখল করেন।
৪. ভি ও সি (VOC) কী এবং এটি কখন গঠিত হয়?
ভি ও সি হলো ১৬০২ সালে গঠিত ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, যা প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ইন্দোনেশিয়ার মসলা বাণিজ্য ও শাসন নিয়ন্ত্রণ করেছিল।
৫. তমে পিরেস (Tomé Pires) কে ছিলেন এবং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কী?
তমে পিরেস ছিলেন ষোড়শ শতকের পর্তুগিজ পর্যটক ও কূটনীতিক; তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থের নাম ‘সুমা ওরিয়েন্টাল’ (Suma Oriental)।
৬. ১৮২৪ সালের ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তির প্রধান ভৌগোলিক ফলাফল কী ছিল?
এ চুক্তির মাধ্যমে মালাক্কা প্রণালী বরাবর ব্রিটিশ ও ডাচদের প্রভাববলয় বিভক্ত হয়, যা বর্তমান মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্ধারণ করে দেয়।