ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2023
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: বাংলার ইতিহাস (১২০১-১৭৫৭) (History of Bengal)
বিষয় কোড: 205303 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি
১. মোঘল বাংলার আর্থ-সামাজিক জীবনের একটি চিত্র তুলে ধর।
[Draw a pen picture of socio economic life during the Mughal Bengal.]
ক. ভূমিকা:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ খান কররানীর পতনের পর বাংলায় মুঘল শাসন সূচিত হয়। সুবেদার ইসলাম খান ও শায়েস্তা খানের আমলে বাংলা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা লাভ করে এবং কৃষি, শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি অর্জন করে। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে বাংলাকে ‘জান্নাতুল বিলাদ’ (সুবা বাংলা বা দেশসমূহের স্বর্গ) হিসেবে অভিহিত করা হতো।
খ. অর্থনৈতিক জীবনের চিত্র:
- কৃষি ও অবিশ্বাস্য প্রাচুর্য: বাংলা ছিল সুজলা-সুফলা শস্যভাণ্ডার। ধান, পাট, আখ, রেশম ও তামাকের বিপুল ফলন হতো। শায়েস্তা খানের আমলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়ার ঐতিহাসিক প্রবাদ মুঘল বাংলার খাদ্য সুরক্ষার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ছিল অত্যন্ত সস্তা।
- বস্ত্রশিল্প ও ঢাকার মসলিন: বাংলার মসলিন ও জামদানি বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিল। ঢাকার সুক্ষ্ম সুতি বস্ত্র মোগল বাদশাহ ও পারস্যের শাহদের দরবারে সমাদৃত হতো। এছাড়া রেশম, সুতি কাপড় ও পাটের চট বিদেশে রপ্তানি হতো।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌবন্দর: সপ্তগ্রাম, হুগলি ও চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আরব, পারস্য, পর্তুগিজ, ডাচ ও ইংরেজ বণিকদের জাহাজ বাংলায় আসত। বাংলা থেকে বিপুল পরিমাণ চাল, চিনি, নীল ও বস্ত্র রপ্তানি হতো যার বিনিময়ে ইউরোপীয় স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা বাংলায় প্রবেশ করত।
গ. সামাজিক জীবনের চিত্র:
- সামাজিক শ্রেণিভেদ: সমাজ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত ছিল—উচ্চবিত্ত শাসক শ্রেণি (সুবেদার, দেওয়ান, মনসবদার ও জমিদার) এবং সাধারণ শ্রমজীবী প্রজা (কৃষক, তাঁতি ও কারিগর)। উচ্চবিত্তরা বিলাসিতাপূর্ণ জীবনযাপন করত এবং সাধারণ মানুষ ছিল সহজ-সরল গ্রামীণ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিদ্যমান ছিল। কাজি ও পণ্ডিতরা নিজ নিজ সমাজে বিচার ও ধর্মীয় নেতৃত্ব দিতেন। নবান্ন, মেলা ও লোকজ উৎসবগুলো উভয় সম্প্রদায়ের আনন্দোৎসব ছিল।
- শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিস্তার: মসজিদ-মাদরাসা ও টোল-পাঠশালার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার পেত। ফারসি ছিল রাষ্ট্রভাষা। সুফি সাধক ও পীর-মাশায়েখদের খানকাহ কেন্দ্রিক ধর্মীয় চর্চা সামাজিক শান্তি অক্ষুণ্ণ রাখত।
২. ইসলাম খান কে ছিলেন? বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।
[Who was Islam Khan? Evaluate his achievements to establish Mughal rule in Bengal.]
ক. ইসলাম খানের পরিচয়:
শেখ আলাউদ্দীন ইসলাম খান চিশতি (১৫৭০-১৬১৩ খ্রি.) ছিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দুধভাই এবং বিশিষ্ট সুফি হযরত শেখ সেলিম চিশতির দৌহিত্র। সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত করে পাঠান। তিনি ছিলেন এক অনন্য দূরদর্শী কূটনীতিবিদ ও অসম সাহসী সমরনায়ক।
খ. বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠায় কৃতিত্ব:
- বারো ভূঁইয়াদের দমন ও আনুগত্য লাভ: আকবরের আমলে মানসিংহ যা পারেননি, ইসলাম খান তা অত্যন্ত নিখুঁত রণকৌশলে সম্পন্ন করেন। তিনি ভাটি অঞ্চলের অবিসংবাদিত বীর মুসা খান (ঈসা খানের পুত্র) এবং তাঁর মিত্রদের নৌযুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে মুঘল বশ্যতা শিকারে বাধ্য করেন। একে একে ওসমান খান লোহানী, খাজা উসমান এবং যশোরের প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত করে সমগ্র বাংলাকে মুঘল পতাকাতলে নিয়ে আসেন।
- ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর (১৬১০ খ্রি.): ইসলাম খানের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক কৃতিত্ব হলো বাংলার রাজধানী প্রাচীন রাজমহল থেকে কৌশলগত বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী ঢাকায় স্থানান্তর করা। তিনি সম্রাটের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’। নদীবেষ্টিত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকা থেকে সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলার নৌযুদ্ধ পরিচালনা সহজতর হয়।
- শক্তিশালী নৌবাহিনী (নওয়ারা) গঠন: ভাটির নদীমাতৃক বাংলায় আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি সুবিশাল রাজকীয় নৌবহর বা নওয়ারা গড়ে তোলেন। এর মাধ্যমে তিনি কামরূপ ও কোচবিহার জয় করেন।
- মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যু দমন: আরাকানের মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুরা দক্ষিণ বাংলায় যে নারকীয় লুণ্ঠন চালাত, ইসলাম খান শক্ত হাতে তাদের প্রতিরোধ করে উপকূলীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
৩. ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বাংলায় উপনিবেশ স্থাপন করেছিল? আলোচনা কর।
[How did the English East India Company colonize Bengal? Discuss.]
ক. বাণিজ্যিক অনুপ্রবেশ ও কুঠি স্থাপন:
১৬০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬৫১ সালে ড. গ্যাব্রিয়েল বাউটন ও সুবেদার শাহ সুজার মাধ্যমে বাংলায় প্রথম হুগলিতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি পায়। ১৬৯০ সালে জব চার্নক সুতানুটি, কলকাতা ও গোবিন্দপুর গ্রাম ক্রয় করে কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন এবং ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ গড়ে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন।
খ. ১৭১৭ সালের ফররুখশিয়ারের ফরমান (বাণিজ্যিক ম্যাগনাকার্টা):
মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ার মাত্র তিন হাজার টাকার বার্ষিক শুল্কের বিনিময়ে কোম্পানিকে বাংলায় বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য (দস্তক) এবং নিজস্ব মুদ্রা চালুর নজিরবিহীন অধিকার প্রদান করেন। কোম্পানি এ দস্তকের চরম অপব্যবহার করে বাংলার দেশীয় ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া করে দেয়।
গ. পলাশীর যুদ্ধ ও নওয়াব শাসনের অবসান (১৭৫৭):
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানির অবৈধ দুর্গ নির্মাণ, দস্তকের অপব্যবহার ও অবাধ্যতার প্রতিবাদ করলে রবার্ট ক্লাইভ নওয়াবের সেনাপতি মীর জাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ ও ঘসেটি বেগমের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে প্রহসনের যুদ্ধে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
ঘ. বক্সারের যুদ্ধ ও দেওয়ানী লাভ (১৭৬৪-১৭৬৫):
পুতুল নবাব মীর কাসিম কোম্পানির শোষণ থেকে মুক্তি পেতে চেষ্টা করলে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে তিনি মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও অযোধ্যার নবাবের সাথে সম্মিলিত হয়েও ক্লাইভের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার দেওয়ানি (রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি বিচারের অধিকার) লাভ করে কার্যত বাংলাকে পূর্ণ ঔপনিবেশিক শোষণের শিকলে বন্দি করে।
৪. দিওয়ানী বলতে কী বুঝ? বাংলার কোম্পানির দিওয়ানী লাভের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
[What do you mean by Diwani? Analyze the impact on taking Dewani by the company.]
ক. দিওয়ানীর সংজ্ঞা:
মুঘল প্রাদেশিক প্রশাসনিক কাঠামোয় দুটি প্রধান শাখা ছিল—’নিজামত’ (আইন-শৃঙ্খলা, সামরিক ও ফৌজদারি বিচার) এবং ‘দিওয়ানী’ (রাজস্ব আদায়, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও দেওয়ানি বিচার)। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের ১২ আগস্ট বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার নামমাত্র নজরানার বিনিময়ে রবার্ট ক্লাইভের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার চিরস্থায়ী দিওয়ানী সনদ প্রদান করেন।
খ. কোম্পানির দিওয়ানী লাভের মারাত্মক প্রভাবসমূহ:
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অভিশাপ (Dual Government, 1765-1772): ক্লাইভ এক অভিনব শাসন চালু করেন—কোম্পানির হাতে রইল অর্থ ও ক্ষমতা (দায়িত্বহীন ক্ষমতা), আর নামমাত্র নবাবের ওপর রইল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ভার কিন্তু কোনো অর্থ নেই (ক্ষমতাহীন দায়িত্ব)। ফলে বাংলায় এক ভয়াবহ প্রশাসনিক অরাজকতা নেমে আসে।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ / ১৭৭০ খ্রি.): কোম্পানি অতিরিক্ত মুনাফার লোভে রাজস্বের হার কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে এবং জোরপূর্বক আদায় করে। এর সাথে খরার যোগসূত্র মিলে বাংলায় মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ ঘটে। বাংলার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় এক কোটি মানুষ) অনাহারে মৃত্যুবরণ করে, অথচ সে বছরও কোম্পানি কর আদায় বাড়িয়ে রেকর্ড গড়েছিল।
- সম্পদ পাচার (Drain of Wealth): দিওয়ানী লাভের পূর্বে ব্রিটিশরা ইংল্যান্ড থেকে রূপা এনে পণ্য কিনত। দিওয়ানী লাভের পর বাংলার রাজস্বের অর্থ দিয়েই বাংলার সিল্ক, মসলিন কিনে বিদেশে পাচার করতে থাকে। বাংলা চরম নিঃস্ব ও কাঁচামাল সরবরাহকারী পশ্চাৎপদ অঞ্চলে পরিণত হয়।
- কোম্পানির প্রত্যক্ষ সার্বভৌমত্ব: ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন বাতিল করে নবাবকে ভাতাভোগী করে কোম্পানি সরাসরি শাসনভার গ্রহণ করে।
৫. বক্সারের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ব্যাখ্যা কর।
[Explain the background and effect of the battle of Buxar.]
ক. বক্সারের যুদ্ধের পটভূমি ও কারণসমূহ (১৭৬৪ খ্রি.):
- নবাব মীর কাসিমের স্বাধীনচেতা মনোভাব: ইংরেজদের পুতুল হিসেবে নয়, মীর কাসিম বাংলার প্রকৃত সার্বভৌম নবাব হিসেবে শাসন পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি ইংরেজ প্রভাবমুক্ত হতে রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন।
- দেশীয় বস্ত্র ও বাণিজ্য শুল্ক বিলোপ: কোম্পানি দস্তকের অপব্যবহার করে স্থানীয় বণিকদের পথে বসাচ্ছিল। মীর কাসিম চরম সাহসিকতা দেখিয়ে দেশীয় সকল বণিকের ওপর থেকে বাণিজ্য শুল্ক প্রত্যাহার করে সমতা আনেন, যা ইংরেজদের ক্ষিপ্ত করে তোলে।
- আধুনিক সেনাবাহিনী ও সমরাস্ত্র কারখানা: তিনি মুঙ্গেরে তোপখানা ও বন্দুক কারখানা স্থাপন করে ফরাসি ও আর্মেনীয় প্রশিক্ষক দ্বারা সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়ন শুরু করেন।
- পাটনার হত্যাকাণ্ড ও ত্রিপক্ষীয় জোট: ইংরেজদের ঔদ্ধত্য ও যুদ্ধের মুখে মীর কাসিম মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সাথে এক ঐতিহাসিক ঐক্যজোট গড়ে তোলেন।
খ. বক্সারের যুদ্ধের পরিণতি ও ঐতিহাসিক প্রভাব (২২ অক্টোবর ১৭৬৪):
- কোম্পানির একচ্ছত্র সামরিক বিজয়: বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজ সেনাপতি মেজর হেক্টর মুনরোর সুশৃঙ্খল গোলন্দাজ বাহিনীর নিকট ত্রিপক্ষীয় যৌথবাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। পলাশীর যুদ্ধ ছিল ক্লাইভের বিশ্বাসঘাতকতার জয়, কিন্তু বক্সার ছিল ইংরেজদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ।
- এলাহাবাদ চুক্তি (১৭৬৫): ক্লাইভ পরাজিত সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি আদায় করে এবং অযোধ্যার নবাবকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে কোম্পানির অনুগত মিত্রে পরিণত করে।
- স্বাধীন বাংলার কফিনে শেষ পেরেক: মীর কাসিম নিঃস্ব অবস্থায় পালিয়ে আত্মগোপন করেন। এর ফলে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের প্রতিরোধ চিরতরে চূর্ণ হয় এবং ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
৬. ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল বর্ণনা কর।
[Describe the causes and consequence of the sepoy mutiny in 1857.]
ক. সিপাহি বিদ্রোহের কারণসমূহ (১৮৫৭):
- রাজনৈতিক কারণ: লর্ড ডালহৌসির সাম্রাজ্যবাদী ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ (Doctrine of Lapse)-র মাধ্যমে ঝাঁসি, সাতারা, নাগপুর এবং অপশাসনের অজুহাতে অযোধ্যা দখল করে ভারতীয় রাজন্যবর্গকে চরম অপমানিত করা হয়। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহের উপাধি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
- অর্থনৈতিক শোষণ: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে প্রাচীন জমিদার ও কৃষকরা উচ্ছেদ হয়। বিলাতি কাপড়ের আমদানিতে বাংলার তাঁতশিল্প সমূলে ধ্বংস হয়।
- ধর্মীয় ও সামাজিক কারণ: খ্রিস্টান মিশনারিদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং পশ্চিমা আইন চাপিয়ে দেওয়ার ফলে হিন্দু ও মুসলিমরা তাদের ধর্ম নাশের আশঙ্কা করে।
- সামরিক অসন্তোষ ও বৈষম্য: ভারতীয় সিপাহিদের নিচু পদে রাখা হতো, বেতন ও ভাতা ইংরেজ সৈন্যদের তুলনায় ছিল নগণ্য। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা ধর্মীয় আঘাত হানে।
- প্রত্যক্ষ কারণ (এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ): নতুন এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজের খোলস দাঁত দিয়ে কাটতে হতো, যাতে গরু ও শূকরের চর্বি মেশানো ছিল বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এটি হিন্দু ও মুসলিম উভয় সিপাহির ধর্মবিশ্বাসে চরম আঘাত করে এবং ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডে ও ঢাকায় লালবাগ দুর্গে সিপাহিরা বিদ্রোহের আগুন প্রজ্বলিত করে।
খ. সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান: ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কোম্পানির কুশাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার সরাসরি মহারানী ভিক্টোরিয়ার হাতে ন্যস্ত করে। গভর্নর জেনারেলকে ‘ভাইসরয়’ উপাধি দেওয়া হয়।
- মুঘল সাম্রাজ্যের চিরতরে বিলুপ্তি: শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে বন্দি করে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয় এবং তাঁর পুত্রদের নির্মমভাবে হত্যা করে শতাব্দীপ্রাচীন মুঘল সাম্রাজ্যের ইতি টানা হয়।
- মুসলিমদের ওপর দমননীতি: বিদ্রোহের মূল কাণ্ডারী মনে করে ইংরেজরা মুসলিম সমাজের ওপর অবর্ণনীয় নিপীড়ন চালায়, যার ফলে ভারতীয় মুসলিমরা শিক্ষা ও রাজনীতিতে মারাত্মক পিছিয়ে পড়ে।
৭. সৈয়দ আমীর আলীর পরিচয় দাও। বাংলায় মুসলিম জাগরণে তাঁর ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
[Introduce Sayed Ameer Ali. Evaluate his role of Muslim revival in Bengal.]
ক. সৈয়দ আমীর আলীর পরিচয় (১৮৪৯-১৯২৮):
জাস্টিস সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার এক প্রবাদপ্রতিম আইনজীবী, ইতিহাসবিদ, সংস্কারক ও মুসলিম রেনেসাঁসের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। তিনি হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম মুসলিম বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ রাজদরবারের সর্বোচ্চ আপিল আদালত প্রিভি কাউন্সিলের জুডিশিয়াল কমিটির প্রথম ভারতীয় সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
খ. বাংলায় মুসলিম জাগরণে অবদান:
- সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা (১৮৭৭): এটি ছিল ভারতের সর্বপ্রথম রাজনৈতিক চরিত্রসম্পন্ন আধুনিক মুসলিম সংগঠন। এর মাধ্যমে তিনি অবহেলিত মুসলিম সমাজের অধিকার আদায়ে ব্রিটিশ সরকারের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন এবং চাকরিতে মুসলিমদের জন্য বিশেষ কোটা ও সংরক্ষণের দাবি আদায় করেন।
- মুসলিম শিক্ষার আধুনিকায়ন: তিনি বিশ্বাস করতেন আধুনিক ইংরেজি শিক্ষা ও বিজ্ঞান ছাড়া মুসলিমদের মুক্তি সম্ভব নয়। তিনি মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স এবং ঢাকায় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- অমর গ্রন্থ রচনা ও ইসলামি ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন: তিনি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ ‘The Spirit of Islam’ এবং ‘A Short History of the Saracens’। এ গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে তিনি পাশ্চাত্যের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার সমুচিত বৈজ্ঞানিক জবাব দেন এবং তরুণ মুসলিমদের মাঝে স্বীয় ধর্মের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করেন।
- লন্ডন মুসলিম লীগ গঠন ও পৃথক নির্বাচন আদায় (১৯০৯): ১৯০৮ সালে তিনি লন্ডনে মুসলিম লীগের শাখা স্থাপন করেন এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যুক্তিপূর্ণ তদবির চালিয়ে ঐতিহাসিক মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনে (১৯০৯) ভারতীয় মুসলিমদের জন্য ‘পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা’ (Separate Electorate) অন্তর্ভুক্ত করান।
৮. বাংলার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কৃষক-প্রজা পার্টির অবদান মূল্যায়ন কর।
[Evaluate the contribution of the Krishak-Proja Party for the welfare of labour classes people of Bengal.]
ক. পটভূমি ও প্রতিষ্ঠা:
১৯২৯ সালে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বাংলার নির্যাতিত কৃষক, প্রজা ও মেহনতি মানুষের স্বার্থরক্ষায় ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ গঠন করেন, যা ১৯৩৬ সালে পুনর্গঠিত হয়ে ‘কৃষক-প্রজা পার্টি’ (Krishak Praja Party – KPP) নামে আত্মপ্রকাশ করে। এর নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘লাঙ্গল’। ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ এবং ‘ডাল-ভাত’ স্লোগানে দলটি অবিভক্ত বাংলার রাজনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
খ. শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে ঐতিহাসিক অবদানসমূহ:
- বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন (১৯৩৮): ১৯৩৭ সালে ফজলুল হক বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে এ আইন সংশোধন করেন। এর ফলে জমিদারদের অন্যায় নজরানা, সেলামি ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের অধিকার চিরতরে বাতিল হয় এবং প্রজারা জমির নিরঙ্কুশ বংশানুক্রমিক স্বত্ব লাভ করে।
- ঋণ সালিশী বোর্ড (Debt Settlement Board) গঠন: মহাজনি সুদের জালে বাংলার লক্ষ লক্ষ কৃষক সর্বস্ব হারিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া হচ্ছিল। ফজলুল হকের সরকার প্রায় চার হাজার ঋণ সালিশী বোর্ড গঠন করে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সুদের বোঝা ও ভুয়া ঋণ থেকে মুক্তি দেয় এবং তাদের জমি ফেরত দেয়।
- মহাজনি আইন পাস (Bengal Moneylenders Act, 1940): মহাজনদের সুদের সর্বোচ্চ হার সংবিধিবদ্ধভাবে নির্ধারণ করে লাইসেন্সবিহীন সুদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়।
- ফ্লাউড কমিশন গঠন: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত উচ্ছেদ এবং জমিদারি প্রথা বিলোপের সুপারিশের লক্ষ্যে তিনি ঐতিহাসিক ‘ফ্লাউড কমিশন’ (Floud Commission) গঠন করেন, যা পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে জমিদারি উচ্ছেদ আইনের পথ সুগম করে।
- শিক্ষা ও মেহনতি মানুষের জাগরণ: ফজলুল হক বাংলার দরিদ্র কৃষকের সন্তানদের শিক্ষার জন্য কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ, লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ এবং অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি
৯। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ধারাসমূহ বিশ্লেষণ কর।
[Analyze the provisions of the Lahore resolution of 1940.]
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন:
- ভৌগোলিক সীমানা পুনর্বিন্যাস: ভারতবর্ষের যেসব অঞ্চলে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ (উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল) সেসব অঞ্চল নিয়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
- স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ (Independent States): মূল প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে একত্রিত করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ‘রাষ্ট্রসমূহ’ (States) গঠিত হবে এবং এর অঙ্গরাষ্ট্রগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
- সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক সুরক্ষা: উভয় অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক গ্যারান্টি প্রদান করা হবে।
১০। সম্রাট আকবর কর্তৃক বাংলা বিজয়ের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর।
[Discuss the causes and results of the conquest of Bengal by Empror Akbar.]
বাংলা বিজয়ের কারণ: আফগান সুলতান সুলাইমান কররানী আকবরের প্রতি আনুগত্য রাখলেও তাঁর পুত্র দাউদ খান কররানী নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করে নিজ নামে মুদ্রা জারি ও খুতবা পাঠ করেন। আফগানদের চরম শক্তি ধ্বংস করা এবং সুজলা-সুফলা বাংলার বিপুল সম্পদ মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত করা আকবরের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
- ফলাফল: ১৫৭৬ সালের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ খান কররানী পরাজিত ও নিহত হন। এর ফলে বাংলায় দীর্ঘকালের স্বাধীন আফগান সালতানাতের অবসান ঘটে এবং বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবায় পরিণত হয়। তবে আকবরের সেনাপতিরা ভাটি অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী বারো ভূঁইয়াদের পুরোপুরি বশীভূত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
১১। বাংলায় ফরায়েজী আন্দোলনের কার্যক্রম আলোচনা কর।
[Discuss the activities of the Faraizi Movement in Bengal.]
ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে মক্কার পবিত্র সংস্কারে উদ্বুদ্ধ হয়ে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরিদপুরে যে সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন তাকে ফরায়েজী আন্দোলন বলা হয়:
- ধর্মীয় সংস্কার: আল্লাহর নির্দেশিত ফরজ ও ওয়াজিব বিধান যথাযথভাবে পালন করা এবং সমাজে প্রচলিত শির্ক, বিদআত ও অনৈসলামিক কুসংস্কার বর্জন করা। ইংরেজ শাসিত পরাধীন বাংলাকে ‘দারুল হরব’ ঘোষণা করে জুমা ও ঈদের জামাত স্থগিত রাখা।
- কৃষক অধিকার ও নীলকরদের প্রতিরোধ: হাজী শরীয়তুল্লাহ এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র দুদু মিয়া (মুহসিনউদ্দীন আহমদ) অত্যাচারী হিন্দু জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে শোষিত মুসলিম কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন। জমিদারের অন্যায় কর (যেমন দাড়ি রাখার ওপর কর) প্রদান নিষিদ্ধ করেন এবং নিজস্ব পঞ্চায়েতি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
১২। বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) আন্দোলনের কারণ ও তাৎপর্য সংক্ষেপে মূল্যায়ন কর।
[Briefly evaluate the causes and significance of the Partition of Bengal (1905).]
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন সুবিশাল বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করে ‘পূর্ব বাংলা ও আসাম’ (রাজধানী ঢাকা) নামে নতুন প্রদেশ গঠন করেন:
- কারণ: প্রায় ৮ কোটি জনসংখ্যার সুবিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সি একজন গভর্নরের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে শাসন করা দুরূহ ছিল। পিছিয়ে পড়া পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ছিল অন্যতম প্রশাসনিক কারণ।
- তাৎপর্য: এর ফলে পূর্ব বাংলার অবহেলিত মুসলিম কৃষক ও মধ্যবিত্ত সমাজ নতুন প্রাণ ফিরে পায়। রাজধানী হিসেবে ঢাকার বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটে এবং ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও তীব্র হিন্দু আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়, তবে এ আন্দোলনই বাঙালি মুসলিমদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চেতনার বীজ রোপণ করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ইসলাম খান চিশতি বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন কত সালে?
সুবেদার ইসলাম খান চিশতি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে এর নাম রাখেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
২. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত খ্রিস্টাব্দে বাংলার দেওয়ানি লাভ করে?
রবার্ট ক্লাইভের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের ১২ আগস্ট মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।
৩. বক্সারের যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল?
বক্সারের ঐতিহাসিক যুদ্ধ ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার প্রান্তরে মেজর হেক্টর মুনরোর ব্রিটিশ বাহিনী এবং মীর কাসিমের যৌথ বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়।
৪. সৈয়দ আমীর আলীর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সংগঠনের নাম কী?
সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ভারতের প্রথম মুসলিম রাজনৈতিক সংস্থা ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।
৫. ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেছিলেন?
বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
৬. কৃষক-প্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা কে ছিলেন?
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় ১৯৩৬ সালে কৃষক-প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।