জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

অর্থনীতি ও ইসলামী অর্থনীতি (Economics and Islamic Economics) – 205302, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2023

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৩৭ মিনিট পড়ার সময়
৫ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2023
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: অর্থনীতি ও ইসলামী অর্থনীতি (Economics and Islamic Economics)
বিষয় কোড: 205302 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

১. ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আলোচনা কর।

[Define Islamic Economics. Discuss its aims and objectives.]

ক. ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা:

ইসলামি শরীয়াহর শাশ্বত নীতিমালা—কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের আলোকে মানবজাতির উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ, সঞ্চয় ও অর্থনৈতিক আচরণের যে সামগ্রিক বিশ্লেষণ তাকে ইসলামি অর্থনীতি (Islamic Economics) বলে। ড. এম. এন. সিদ্দিকীর মতে, “ইসলামি অর্থনীতি হলো এমন এক সামাজিক বিজ্ঞান যা শরীয়াহর নির্দেশাবলির আলোকে অর্থনৈতিক সমস্যাবলি এবং সম্পদ উৎপাদনের মানবিক আচরণ অধ্যয়ন করে।” এটি কেবল ইহলৌকিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং পরকালীন মুক্তির (ফালাহ) সাথে পার্থিব সমৃদ্ধির সমন্বয় সাধন করে।

খ. ইসলামি অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:

  1. মানবকল্যাণ ও সার্বিক মুক্তি (ফালাহ অর্জন): ইসলামি অর্থনীতির পরম লক্ষ্য হলো ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করা। মানুষের জাগতিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আত্মিক শুচিতা রক্ষা করা।
  2. মৌলিক মানবিক চাহিদার সার্বজনীন নিশ্চয়তা: সমাজের প্রতিটি নাগরিক—মুসলিম কিংবা অমুসলিম—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা যাতে সহজে লাভ করতে পারে তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
  3. সম্পদের ইনসাফপূর্ণ সুষম বণ্টন: সমাজে যেন ধনের বৈষম্য সৃষ্টি না হয় এবং সম্পদ কেবল ধনিক শ্রেণির হাতে পুঞ্জীভূত না থাকে (সূরা আল-হাশর: ৭)। যাকাত, সাদাকাহ ও মিরাস আইনের মাধ্যমে সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটানো।
  4. শোষণমুক্ত ও নৈতিক সমাজ গঠন: সুদ (রিবা), জুয়া, মজুতদারি, ধোঁকা ও ফটকাবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে হালাল উপার্জনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক শোষণহীন ভারসাম্যপূর্ণ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
  5. সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও অপচয় রোধ: আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত ও প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ও ফলপ্রসূ ব্যবহার করা এবং যেকোনো ধরনের অপব্যয় (ইসরাফ ও তাবযীর) কঠোরভাবে পরিহার করা।

২. ইসলামি অর্থনীতির উৎসসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা কর।

[Discuss in detail the sources of Islamic Economics.]

ক. মৌলিক ও অপরিবর্তনীয় উৎসসমূহ:

  1. আল-কুরআন: ইসলামি অর্থনীতির প্রধান ও আদি উৎস হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। এতে অর্থনৈতিক জীবনের মৌলিক দর্শন, সম্পদের মালিকানা আল্লাহর ঘোষণা (সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৪), ব্যবসা-বাণিজ্য হালাল ও সুদকে হারাম ঘোষণা (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫), যাকাত ও ইনসাফভিত্তিক অর্থনৈতিক বিধান বিধিবদ্ধ রয়েছে।
  2. আস-সুন্নাহ ও হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র কথা, কর্ম ও অনুমোদন হলো দ্বিতীয় মৌলিক উৎস। মদিনা রাষ্ট্রের সফল অর্থনৈতিক পরিচালনা, ওজনে সঠিক পরিমাপ, কৃষি বর্গা ও শ্রমিকের অধিকার সংক্রান্ত শত শত দিকনির্দেশনা হাদিস দ্বারা সুস্পষ্ট হয়েছে।

খ. যুক্তিভিত্তিক ও সহায়ক উৎসসমূহ:

  1. আল-ইজমা (ঐকমত্য): কোনো নির্দিষ্ট যুগে কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নীতিমালার আলোকে সমকালীন অর্থনৈতিক সমস্যা নিরসনে মুসলিম মুজতাহিদগণের সর্বসম্মত রায়কে ইজমা বলে (যেমন আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের বৈধতা)।
  2. আল-কিয়াস (সাদৃশ্যমূলক অনুমান): কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সুস্পষ্ট বিধানের সমজাতীয় কার্যকারণের (ইল্লত) ওপর ভিত্তি করে নতুন উদ্ভূত অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান বের করা।
  3. ইজতিহাদ ও মাসলাহাতুল মুরসালাহ (জনস্বার্থ): সমকালীন মুদ্রা ব্যবস্থা, শেয়ারবাজার, মুদ্রাস্ফীতি ও আধুনিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে ইসলামি অর্থনীতিবিদদের গবেষণা ইসলামি বিধানকে চির প্রাসঙ্গিক রাখে।

৩. আধুনিক পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সাথে ইসলামি অর্থনীতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

[Make a comparative analysis of Islamic economics with modern capitalist and socialist economics.]

তুলনার বিষয় পুঁজিবাদী অর্থনীতি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ইসলামি অর্থনীতি
মালিকানা স্বত্ব সম্পদের ওপর ব্যক্তির নিরঙ্কুশ ও সীমাহীন ব্যক্তিগত মালিকানা। ব্যক্তিগত মালিকানা নিষিদ্ধ; রাষ্ট্রের একক যৌথ মালিকানা। মৌলিক মালিকানা একমাত্র আল্লাহর; মানুষ তাঁর আমানতদার ও নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তি মালিকানা ভোগ করে।
সুদ ও শোষণ সুদ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি; ধনিকদের দ্বারা শ্রমিকের শোষণ ঘটে। সুদ বিলুপ্ত কিন্তু রাষ্ট্রের আমলাতান্ত্রিক শোষণ ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ। সুদ সম্পূর্ণ হারাম; লাভ-লোকসানের অংশীদারিত্ব ও যাকাতের মাধ্যমে সামাজিক ভারসাম্য।
নৈতিক মূল্যবোধ সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনই একমাত্র লক্ষ্য; নৈতিকতার বাধ্যবাধকতা নেই। বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি; ধর্ম ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ উপেক্ষিত। হালাল-হারামের কঠোর বিধান; মুনাফার সাথে খোদাভীতি ও তাকওয়ার নিবিড় সংযোগ।

৪. ইসলামে ব্যক্তিগত মালিকানার ধারণা ব্যাখ্যা কর।

[Explain the concept of private ownership in Islam.]

ক. প্রকৃত ও নিরঙ্কুশ মালিকানা মহান আল্লাহর:

ইসলামি আকিদা অনুসারে আসমান ও জমিনের যা কিছু আছে তার নিরঙ্কুশ ও শাশ্বত মালিকানা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের (সূরা আল-ইমরান: ১০৯)। মানুষ জগতে আল্লাহর প্রতিনিধি (খলিফা) এবং তার হাতে থাকা সম্পদ হলো মহান আল্লাহর একটি পবিত্র ‘আমানত’ (Trust)।

খ. নিয়ন্ত্রিত ও শর্তসাপেক্ষ ব্যক্তিগত মালিকানা:

মানুষকে ইসলাম ব্যক্তিগত মালিকানা অর্জনের পূর্ণ অধিকার প্রদান করেছে, তবে তা পুঁজিবাদীদের মতো লাগামহীন বা স্বেচ্ছাচারী নয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. উপার্জনের বৈধতা (হালাল উপায়): ব্যক্তিগত মালিকানা কেবল বৈধ ব্যবসা, শ্রম, উত্তরাধিকার (মিরাস), দান বা রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের মাধ্যমে অর্জিত হতে হবে। চুরি, ডাকাতি, সুদ, ঘুষ, জুয়া ও মজুতদারির মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদের ওপর কোনো মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না।
  2. ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ: স্বীয় সম্পদ ইচ্ছামতো অপব্যয় বা অপচয় (ইসরাফ ও তাবযীর) করা যাবে না এবং হারাম পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ।
  3. সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দরিদ্রের হক: ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদ নিসাব পরিমাণ হলে তা থেকে নির্ধারিত হারে যাকাত আদায় করা এবং সমাজের অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করা বাধ্যতামূলক (সূরা আল-মা’আরিজ: ২৪-২৫)।

৫. ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা কী? প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ইসলামি ব্যাংকের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর।

[What is Islamic banking system? Distinguish between conventional commercial bank and Islamic bank.]

ক. ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংজ্ঞা:

যে ব্যাংক ব্যবস্থা ইসলামি শরীয়াহর মূলনীতি অনুসরণ করে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ বর্জনপূর্বক লাভ-লোকসানের অংশীদারিত্ব এবং প্রকৃত পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয়ের ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগ পরিচালনা করে তাকে ইসলামি ব্যাংক (Islamic Bank) বলে। এর সকল কার্যক্রম শরীয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড কর্তৃক সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।

খ. প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ইসলামি ব্যাংকের মধ্যে পার্থক্য:

  1. লেনদেনের ভিত্তি: প্রচলিত ব্যাংকের মূল ভিত্তি হলো সুদ (Interest)। পক্ষান্তরে ইসলামি ব্যাংকের ভিত্তি হলো বাণিজ্য ও লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব (Profit-Loss Sharing)।
  2. ঋণদাতা বনাম অংশীদার: প্রচলিত ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্ক ঋণদাতা ও গ্রহীতার। কিন্তু ইসলামি ব্যাংকে ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্ক অংশীদার (মুশারাকা), বিনিয়োগকারী-ব্যবস্থাপক (মুদারাবা) কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতার (মুরাবাহা)।
  3. মুনাফার নিশ্চয়তা ও ক্ষতিবণ্টন: প্রচলিত ব্যাংকে আমানতকারীর ক্ষতি হলেও নির্দিষ্ট সুদের টাকা ফেরত দিতে হয়। ইসলামি ব্যাংকে ব্যবসা লোকসান হলে শরীয়াহর নীতিতে লোকসানের দায়ভার উভয়ে বহন করে।
  4. সামাজিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা: প্রচলিত ব্যাংক লাভজনক হলে মদ, জুয়া বা অনৈতিক যেকোনো খাতে অর্থায়ন করতে পারে। কিন্তু ইসলামি ব্যাংক শরীয়াহ অনুমোদিত হালাল ও কল্যাণকর খাত ছাড়া কোথাও অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে না।

৬. মুদারাবা ও মুশারাকার সংজ্ঞা দাও এবং এদের পরিচালন পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

[Define Mudaraba and Musharaka and explain their operational methods.]

ক. মুদারাবা (Mudaraba):

সংজ্ঞা: মুদারাবা হলো এমন এক অংশীদারি কারবার যেখানে এক পক্ষ মূলধন সরবরাহ করে (যাকে ‘রব্বুল মাল’ বা মূলধনদাতা বলা হয়) এবং অপর পক্ষ স্বীয় মেধা, শ্রম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে (যাকে ‘মুদারিব’ বা উদ্যোক্তা বলা হয়)।

  • পরিচালন পদ্ধতি: চুক্তির শুরুতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে অর্জিত মুনাফার পূর্বনির্ধারিত অনুপাত (যেমন ৬০:৪০ বা ৭০:৩০) ধার্য করা হয়। ব্যবসায় লাভ হলে চুক্তি অনুযায়ী বণ্টন হয়; কিন্তু ব্যবসায় প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি হলে সম্পূর্ণ ক্ষতি মূলধনদাতা বহন করে এবং উদ্যোক্তার শ্রম বৃথা যায় (যদি উদ্যোক্তার অবহেলা বা বিশ্বাসভঙ্গ না থাকে)।

খ. মুশারাকা (Musharaka):

সংজ্ঞা: মুশারাকা হলো শিরকাত বা যৌথ মালিকানার এমন এক অংশীদারি চুক্তি যেখানে দুই বা ততোধিক পক্ষ মূলধন সরবরাহ করে এবং যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে লাভ-লোকসানে শরিক হয়।

  • পরিচালন পদ্ধতি: সকল অংশীদার ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে। মুনাফা চুক্তিনুযায়ী যেকোনো যুক্তিসঙ্গত হারে বণ্টন হতে পারে, তবে ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে তা অবশ্যই মূলধনের আনুপাতিক হারে (Capital Ratio) প্রত্যেকে বহন করতে বাধ্য থাকবে।

৭. দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে যাকাত ব্যবস্থার ভূমিকা আলোচনা কর।

[Discuss the role of Zakat system in poverty alleviation and social security.]

ক. ভূমিকা:

যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ এবং এটি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের অলঙ্ঘনীয় অধিকার (সূরা আল-মা’আরিজ: ২৪-২৫)। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় যাকাত হলো দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার সর্বপ্রধান অস্ত্র।

খ. দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা:

  1. পুঁজি গঠন ও স্বাবলম্বীকরণ: যাকাতের অর্থ কেবল তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তায় সীমাবদ্ধ না রেখে দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রিকশা, সেলাই মেশিন, ক্ষুদ্র ব্যবসায় পুঁজি বা কৃষিজমির বীজ সরবরাহ করে তাদের স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করা যায়। ফলে এক বছরের যাকাতগ্রহীতা পরবর্তীকালে যাকাতদাতার কাতারে উন্নীত হয়।
  2. সম্পদের সুষম প্রবাহ সৃষ্টি: যাকাত ধনীদের অলস ও মজুতকৃত পুঁজিকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসে। সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখা বন্ধ হয় এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

গ. সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:

  1. আটটি খাতের মাধ্যমে সর্বজনীন সুরক্ষা (সূরা আত-তাওবাহ: ৬০): ফকির, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত (গারিমিন), দাসমুক্তি এবং মুসাফিরদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজে এক সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা বলয় (Social Safety Net) তৈরি হয়।
  2. অপরাধ ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা হ্রাস: চরম দারিদ্র্যের কারণে মানুষ চুরি, ছিনতাই ও অনৈতিক কাজে জড়ায়। যাকাত তাদের অন্ন ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিয়ে অপরাধমুক্ত সুস্থ সমাজ উপহার দেয়। খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের আমলে ন্যায়নিষ্ঠ যাকাত ব্যবস্থার ফলে যাকাত নেওয়ার মতো কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৮. ইসলামি অর্থনীতিতে বাই-মুরাবাহা ও ইজারার ধারণা ব্যাখ্যা কর।

[Explain the concepts of Bai-Murabaha and Ijara in Islamic economics.]

ক. বাই-মুরাবাহা (Bai-Murabaha):

সংজ্ঞা: মুরাবাহা হলো একটি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি যেখানে বিক্রেতা (ব্যাংক) ক্রেতাকে (গ্রাহক) পণ্যের প্রকৃত ক্রয়মূল্য এবং তার ওপর নির্ধারিত নির্দিষ্ট মুনাফার পরিমাণ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে পণ্য বিক্রি করে।

  • পদ্ধতি: গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী ব্যাংক তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পণ্য নিজ নামে ক্রয় করে নিজের দখলে নেয়। এরপর সম্মত মুনাফা যোগ করে গ্রাহকের কাছে এককালীন বা কিস্তিতে (মুয়াজ্জাল) বিক্রি করে। পণ্যের ঝুঁকি ও মালিকানা ব্যাংকের ওপর বর্তানো মুরাবাহার অন্যতম প্রধান শর্ত।

খ. ইজারা (Ijara):

সংজ্ঞা: শরীয়াহর পরিভাষায়, কোনো নির্দিষ্ট মূল্যবান সম্পদের মূল সত্তার মালিকানা নিজের হাতে রেখে নির্ধারিত মেয়াদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে তার ব্যবহারিক উপযোগ অপরকে হস্তান্তর করার চুক্তিকে ইজারা (Leasing) বলে।

  • পদ্ধতি: যানবাহন, যন্ত্রপাতি, ভবন বা ভারী কলকারখানার ক্ষেত্রে ব্যাংক সম্পত্তিটি ক্রয় করে গ্রাহককে নির্দিষ্ট ভাড়ায় ব্যবহারের জন্য দেয়। ভাড়ার মেয়াদ শেষে সম্পত্তিটি হয় ফেরত নেওয়া হয়, অথবা আরেকটি পৃথক বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে গ্রাহকের কাছে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়, যাকে ‘ইজারা ওয়া ইক্বতিনা’ (Hire Purchase under Shirkatul Melk) বলা হয়।

খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

৯। ইসলামে আয় ও ব্যয়ের ধারণা দাও। হালাল উপার্জনের বৈধ পন্থাগুলো আলোচনা কর।

[Give the concept of income and expenditure in Islam. Discuss the rightful method of income.]

আয় ও ব্যয়ের ইসলামি দর্শন: ইসলামে আয় ও ব্যয় উভয়ই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং শরীয়াহর নির্দেশনার অধীন। কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে দুটি প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে—সম্পদ কোথা থেকে কীভাবে উপার্জন করেছিল এবং তা কোন পথে কীভাবে ব্যয় করেছিল। অপচয় (ইসরাফ) ও কৃপণতা পরিহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই ব্যয়ের ইসলামি নীতি (সূরা আল-ইসরা: ২৯)।

হালাল উপার্জনের বৈধ পন্থাগুলো:

  • শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম: নিজ হাতের উপার্জনকে সর্বোত্তম বলা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন: “নিজ হাতের উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো খায়নি।”
  • সততাপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্য: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সত্যবাদী আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিকীন ও শহীদদের সঙ্গী হবেন।”
  • উর্বর ভূমিতে কৃষিকাজ ও শিল্পোৎপাদন: ভূমি চাষাবাদ ও প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদন হালাল উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম।
  • শরীয়াহভিত্তিক অংশীদারি কারবার: মুদারাবা, মুশারাকা ও মুরাবাহার মাধ্যমে বৈধ মুনাফা অর্জন।

১০। উৎপাদনের উপকরণ বলতে কী বুঝ? সনাতন পদ্ধতিতে ভূমি ও ইসলামি অর্থনীতিতে ভূমি ধারণাটির মধ্যকার পার্থক্য দেখাও।

[What do you mean by factors of production? Show the difference between the Islamic economics and traditional economics regarding the concept of land.]

উৎপাদনের উপকরণ (Factors of Production): কোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য যেসব উপাদান অপরিহার্যভাবে প্রয়োজন হয় তাদের উৎপাদনের উপকরণ বলা হয়। সনাতন ও ইসলামি অর্থনীতিতে এর প্রধান চারটি উপাদান হলো: ১. ভূমি (Land), ২. শ্রম (Labour), ৩. মূলধন (Capital), এবং ৪. সংগঠন (Organization)।

সনাতন ও ইসলামি অর্থনীতিতে ভূমির ধারণার পার্থক্য:

  • মালিকানার স্বরূপ: সনাতন অর্থনীতিতে ব্যক্তির ভূমির ওপর নিরঙ্কুশ ও সীমাহীন মালিকানা স্বীকৃত; সে ভূমি ফেলে রাখতে পারে বা ধ্বংসও করতে পারে। পক্ষান্তরে ইসলামি অর্থনীতিতে ভূমির নিরঙ্কুশ মালিক আল্লাহ; মানুষ কেবল তার ভোগকারী। নবীজি (সা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, কেউ তিন বছর কোনো জমি অনাবাদি ফেলে রাখলে রাষ্ট্র তা বাজেয়াপ্ত করে চাষাবাদে সক্ষম ব্যক্তিকে দিতে পারে।
  • বণ্টন ও উশর প্রদান: সনাতন অর্থনীতিতে ভূমির প্রতিদান হলো খাজনা বা রেন্ট (Rent)। ইসলামি অর্থনীতিতে ভূমির ফসলের ওপর সরাসরি দশমাংশ বা বিশ শতাংশ হারে আল্লাহর হক বা ‘উশর’ প্রদান বাধ্যতামূলক, যা সমাজের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন হয়।

১১। মুনাফা ও সুদের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর।

[Make distinction between profit and interest.]

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন: “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন সম্পূর্ণ হারাম।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫)। এদের প্রধান পার্থক্যসমূহ:

  • ঝুঁকি ও লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব: মুনাফা অর্জনের পূর্বশর্ত হলো মূলধনের ঝুঁকি এবং ব্যবসায়ের লাভ ও লোকসানের সম্ভাবনা মেনে নেওয়া। কিন্তু সুদে কোনো ঝুঁকি থাকে না; ব্যবসায়ীর লাভ হোক বা লোকসান হোক, ঋণদাতা পূর্বনির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে।
  • বাস্তব পণ্যের বিনিময়: মুনাফা অর্জিত হয় প্রকৃত পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় ও মূল্যের তারতম্যের মাধ্যমে। কিন্তু সুদ হলো কেবল অলস অর্থ খাটানোর বিনিময়ে অর্থের ওপর সময়মূল্যের নিশ্চিত শোষণ।
  • সামাজিক প্রভাব: মুনাফা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীকে কর্মচঞ্চল করে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে। সুদ সমাজে অলস শ্রেণি সৃষ্টি করে সম্পদকে এককেন্দ্রিক করে অর্থনৈতিক মন্দা ডেকে আনে।

১২। ইসলামি বিমার গুরুত্ব বর্ণনা কর।

[Describe the importance of Islamic Insurance.]

ইসলামি বিমা বা তাকাফুল (Takaful): প্রচলিত বিমায় জুয়া (মাইসির), অনিশ্চয়তা (গারার) ও সুদ (রিবা) বিদ্যমান থাকায় শরীয়াহতে তা নিষিদ্ধ। এর বিকল্প হিসেবে পারস্পরিক সহযোগিতা, দান (তাবাররু) ও যৌথ দায়িত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ইসলামি বিমাকে তাকাফুল বলা হয়।

  • অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে আর্থিক নিরাপত্তা: কোনো সদস্য আকস্মিক দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকাফুল তহবিল থেকে তাকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে পরিবারকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
  • নৈতিক ও শোষণহীন সঞ্চয়: গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের অর্থ কেবল হালাল ও লাভজনক ব্যবসায় মুদারাবা বা মুশারাকা নীতিতে বিনিয়োগ করা হয় এবং মুনাফা বণ্টন করা হয়।
  • ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ: এটি নিছক বাণিজ্যিক চুক্তি নয়; বরং বিশ্বনবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও কুরআনের নির্দেশ: “সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা করো।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ইসলামি অর্থনীতির মূল উৎসসমূহ কী কী?

ইসলামি অর্থনীতির প্রধান মৌলিক উৎস আল-কুরআন ও আস-সুন্নাহ, এবং সহায়ক উৎস হলো আল-ইজমা, আল-কিয়াস ও শরীয়াহসম্মত ইজতিহাদ।

২. পুঁজিবাদ ও ইসলামি অর্থনীতির প্রধান পার্থক্য কী?

পুঁজিবাদে ব্যক্তির সীমাহীন ও লাগামহীন মালিকানা এবং সুদ স্বীকৃত, কিন্তু ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদের নিরঙ্কুশ মালিক আল্লাহ, সুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং মানুষের মালিকানা হালাল-হারামের শর্তসাপেক্ষ।

৩. ইসলামে সুদের পরিবর্তে ব্যবসার মূল ভিত্তি কী?

সুদের পরিবর্তে ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো মূলধনের ঝুঁকি গ্রহণ, লাভ-লোকসানের অংশীদারিত্ব এবং প্রকৃত পণ্য ও সেবার ন্যায়সঙ্গত ক্রয়-বিক্রয়।

৪. উৎপাদনের উপকরণ কয়টি ও ইসলামি অর্থনীতিতে ভূমির অবস্থান কী?

উৎপাদনের মৌলিক উপকরণ চারটি: ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। ইসলামে ভূমির ফলনের ওপর নির্ধারিত হারে ‘উশর’ (যাকাত) প্রদান বাধ্যতামূলক এবং জমি অনাবাদি ফেলে রাখা নিষিদ্ধ।

৫. ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রধান বিনিয়োগ পদ্ধতিগুলো কী কী?

মুদারাবা (মূলধন-শ্রম অংশীদারিত্ব), মুশারাকা (যৌথ মূলধনী কারবার), বাই-মুরাবাহা (মূল্য ও লাভ ঘোষিত ক্রয়-বিক্রয়) এবং ইজারা (ভাড়াভিত্তিক অর্থায়ন)।

৬. ইসলামি বিমা বা তাকাফুলের মূল উদ্দেশ্য কী?

তাকাফুলের মূল উদ্দেশ্য হলো সুদ, জুয়া ও অনিশ্চয়তামুক্ত পদ্ধতিতে পারস্পরিক দান ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত সদস্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা প্রদান করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *