জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আধুনিক তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তানের ইতিহাস (History of Modern Turkey, Iran and Afghanistan) – 205304, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2020

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৬ মিনিট পড়ার সময়
৬ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2020
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: আধুনিক তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তানের ইতিহাস
বিষয় কোড: 205304 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

১. “সেভার্সের সন্ধি” সম্পর্কে আলোচনা কর।

[Discuss the “Treaty of Severs”.]

ক. সেভার্সের সন্ধির পটভূমি (Treaty of Sèvres, 1920):

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪–১৯১৮ খ্রি.) অটোমান সাম্রাজ্য (উসমানীয় খিলাফত) জার্মানির পক্ষে যোগদান করেছিল। যুদ্ধে মিত্রশক্তির বিজয়ের পর ১৯১৮ সালের ৩০শে অক্টোবর মুদরোসের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে অটোমানদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর ১৯২০ সালের ১০ই আগস্ট প্যারিসের নিকটবর্তী সেভার্স (Sèvres) শহরে বিজয়ী মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও গ্রিস) অসহায় ও পুতুল সুলতান ষষ্ঠ মুহাম্মদ ওয়াহিদুদ্দীনের সরকারের ওপর এক চরম অপমানজনক ও জবরদস্তিমূলক চুক্তি চাপিয়ে দেয়, যা ইতিহাসে সেভার্সের সন্ধি নামে পরিচিত।

খ. সন্ধির প্রধান শর্তাবলি:

  1. অটোমান সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক ব্যবচ্ছেদ: উসমানীয়দের বিশাল সাম্রাজ্যকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়। সিরিয়া ও লেবানন ফ্রান্সের ম্যান্ডেট এবং মেসোপটেমিয়া (ইরাক) ও ফিলিস্তিন ব্রিটেনের ম্যান্ডেটভুক্ত করা হয়। হেজাজকে (সৌদি আরব) একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
  2. ইউরোপীয় অঞ্চল ও স্মার্না গ্রিসকে প্রদান: কনস্টান্টিনোপল ও এর সংলগ্ন ক্ষুদ্র এলাকা ছাড়া সমগ্র থ্রেস এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দর স্মার্না (ইজমির) ও এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জ গ্রিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
  3. আর্মেনিয়া ও কুর্দিস্তান সৃষ্টি: পূর্ব আনাতোলিয়ায় একটি বৃহৎ স্বাধীন আর্মেনিয়া রাজ্য প্রতিষ্ঠা এবং কুর্দিদের জন্য স্বায়ত্তশাসিত এলাকা গঠনের বিধান রাখা হয়।
  4. আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণাধীনে প্রণালীসমূহ: বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালীদ্বয়কে তুরস্কের সামরিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে একটি আন্তর্জাতিক কমিশনের নিয়ন্ত্রণে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
  5. সামরিক ও আর্থিক বিধিনিষেধ: সুলতানের সৈন্যসংখ্যা মাত্র ৫০,০০০-এ সীমিত করা হয়, বিমানবাহিনী নিষিদ্ধ করা হয় এবং তুর্কি অর্থব্যবস্থা ও বাজেট মিত্রশক্তির আর্থিক কমিশনের নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করা হয়।

গ. ফলাফল ও গুরুত্ব:

সেভার্সের সন্ধি ছিল তুরস্কের জন্য একটি ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ (Death Warrant)। কিন্তু আনাতোলিয়ায় মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয়তাবাদী গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এ দাসত্বমূলক সন্ধি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। কামাল আতাতুর্ক ‘জাতীয় চুক্তি’ (Misak-i Milli) ঘোষণা করে তুর্কি স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং গ্রিক ও মিত্রবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে বিতাড়িত করে ১৯২৩ সালের বিজয়ী ‘লুজেন চুক্তি’র মাধ্যমে সেভার্স চুক্তিকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেন।


২. কামালবাদ কী? কামালবাদের অধীনে তুরস্কে সূচিত প্রধান সংস্কারসমূহ পর্যালোচনা কর।

[What is Kamalism? Review the major reforms introduced under Kamalism in Turkey.]

ক. কামালবাদের ধারণা (Kamalism / Six Arrows):

আধুনিক তুরস্কের জাতির জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক (১৮৮১–১৯৩৮ খ্রি.) ঐতিহ্যবাহী ও জরাজীর্ণ অটোমান সমাজকে ভেঙে একটি আধুনিক, প্রগতিশীল, পশ্চিমা ধাঁচের ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরের জন্য যে সুসংহত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মতাদর্শ প্রণয়ন করেন, তাকে কামালবাদ (Kemalism) বলা হয়। ১৯৩১ সালে তাঁর দল ‘রিপাবলিকান পিপলস পার্টি’র (CHP) দলীয় প্রতীকে কামালবাদের ছয়টি মূলনীতি (Six Arrows / Altı Ok) অন্তর্ভুক্ত করা হয়: (১) প্রজাতন্ত্রবাদ (Republicanism), (২) জাতীয়তাবাদ (Nationalism), (৩) গণবাদ বা পপুলিজম (Populism), (৪) রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি (Statism), (৫) ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (Secularism), এবং (৬) সংস্কারবাদ বা বিপ্লববাদ (Reformism/Revolutionism)।

খ. কামাল আতাতুর্কের প্রধান সংস্কারসমূহ:

  1. রাজনৈতিক ও আইনি সংস্কার:
    • ১৯২২ সালের ১লা নভেম্বর ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী উসমানীয় সালতানাত বিলুপ্ত করা হয়।
    • ১৯২৩ সালের ২৯শে অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয় এবং আঙ্কারাকে নতুন রাজধানী করা হয়।
    • ১৯২৪ সালের ৩রা মার্চ ঐতিহাসিক খিলাফত ব্যবস্থা চিরতরে বিলুপ্ত করা হয় এবং খলিফা দ্বিতীয় আব্দুল মাজিদকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
    • শরীয়াহ আদালত ও উসমানীয় আইন (মাজাল্লা) বাতিল করে ১৯২৬ সালে সুইজারল্যান্ডের অনুকরণে দেওয়ানি আইন (Swiss Civil Code) এবং ইতালির অনুকরণে দণ্ডবিধি প্রবর্তন করা হয়।
  2. সামাজিক ও পোশাকীয় সংস্কার:
    • ১৯২৫ সালে ‘টুপি আইন’ (Hat Law) পাস করে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পোশাক ফেজ টুপি ও পাগড়ি নিষিদ্ধ করা হয় এবং পশ্চিমা হ্যাট ও স্যুট পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়।
    • দরবেশদের আস্তানা, তরিকত ও খানকাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
    • বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়, নারীদের তালাকের সমঅধিকার প্রদান করা হয় এবং ১৯৩৪ সালে নারীদের ভোটাধিকার ও পার্লামেন্টে নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হয়। নারীদের বোরকা ও হিজাব পরিধানে নিরুৎসাহিত করা হয়।
  3. শিক্ষা ও ভাষাগত সংস্কার:
    • ১৯২৮ সালে শতাব্দী প্রাচীন আরবি ও ফারসি বর্ণমালার পরিবর্তে ল্যাটিন বর্ণমালা বাধ্যতামূলক করা হয়। আতাতুর্ক নিজে ব্ল্যাকবোর্ড নিয়ে তুর্কি জনগণকে নতুন ল্যাটিন বর্ণমালা শিক্ষা দেন।
    • একীভূত শিক্ষানীতি কার্যকর করে সকল ধর্মীয় মাদ্রাসা বন্ধ করে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।
    • আরবি ভাষায় আজান দেওয়ার পরিবর্তে তুর্কি ভাষায় আজান দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয় (যা পরবর্তীতে আদনান মেন্দারেসের আমলে রদ হয়)।
  4. অর্থনৈতিক সংস্কার: রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভারী শিল্প কারখানা, রেলপথ, চিনি ও টেক্সটাইল কলকারখানা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। কৃষকদের ওপর থেকে প্রাচীন ‘আশার’ (উশর) কর বাতিল করা হয়।

৩. ইরানে প্রথম রেজা শাহের সংস্কারসমূহের মূল্যায়ন কর।

[Evaluate the reforms introduced by Reza Shah I in Iran.]

ভূমিকা: ১৯২১ সালে কাজার রাজবংশের দুর্বলতার সুযোগে পারস্য কসাক ব্রিগেডের দক্ষ সামরিক অফিসার রেজা খান এক সফল সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৯২৫ সালে নিজেকে শাহ ঘোষণা করে পাহলভী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন তুরস্কের কামাল আতাতুর্কের সমসাময়িক এবং আতাতুর্কের সংস্কার দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে ইরানে কঠোর পশ্চিমা আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

ক. রেজা শাহের প্রধান সংস্কারাবলি:

  1. প্রশাসনিক ও সামরিক সংস্কার: তিনি বিচ্ছিন্ন উপজাতীয় সর্দার ও সামন্তপ্রভুদের কঠোর হস্তে দমন করে ইরানে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামো ও আধুনিক সুসজ্জিত জাতীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। ১৯৩৫ সালে তিনি সরকারিভাবে দেশের প্রাচীন নাম ‘পারস্য’ (Persia) পরিবর্তন করে ‘ইরান’ (আর্যদের ভূমি) ঘোষণা করেন।
  2. আইনি ও বিচারিক সংস্কার: তিনি শিয়া আলেম ও উলামাদের প্রভাবাধীন শরীয়াহ আদালতের এখতিয়ার সংকুচিত করেন এবং ফরাসি আইনের আদলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন প্রবর্তন করেন। বিচারালয় থেকে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় কর্তৃত্ব অপসারণ করা হয়।
  3. শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংস্কার: তিনি ১৯৩৫ সালে বিখ্যাত তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষাক্রম চালুর পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত করেন। ইতিহাস ও পাঠ্যপুস্তকে প্রাক-ইসলামি পারস্য সাম্রাজ্যের (সাইরাস ও সাইরোক্সীয় যুগ) আর্য জাতীয়তাবাদী গৌরব তুলে ধরার নীতি গ্রহণ করেন।
  4. পোশাকীয় আধুনিকায়ন ও বাধ্যতামূলক হিজাব উন্মোচন (কাশফে হিজাব): ১৯৩৬ সালে তিনি রাজকীয় ডিক্রি জারি করে ইরানি নারীদের জন্য চাদর বা বোরকা পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয় জনসমক্ষে কোনো নারী হিজাব পরলে তা জোরপূর্বক খুলে ফেলার। পুরুষদের জন্য ইউরোপীয় পোশাক ও পাহলভী হ্যাট বাধ্যতামূলক করা হয়।
  5. যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক কীর্তি হলো কাস্পিয়ান সাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত ৮৬০ মাইল দীর্ঘ সুবিশাল ট্রান্স-ইরানিয়ান রেলওয়ে নির্মাণ। কোনো বৈদেশিক ঋণ ছাড়াই অভ্যন্তরীণ চিনি ও চায়ের ওপর কর বসিয়ে তিনি এ অবিশ্বাস্য মেগা প্রকল্প সম্পন্ন করেন।

খ. সংস্কারের মূল্যায়ন ও দুর্বলতা:

রেজা শাহ আধুনিক অবকাঠামো ও সেনাবাহিনী গড়ে তুললেও তাঁর সংস্কার ছিল স্বৈরতান্ত্রিক ও জনবিচ্ছিন্ন। তিনি শিয়া ধর্মীয় আলেম ও ধর্মপ্রাণ আপামর জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হানেন। উলামাদের ক্ষোভ এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অভাবের ফলে তাঁর শাসন ছিল পুলিশি ভীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার কারণে ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ও সোভিয়েত যৌথ বাহিনী ইরান দখল করলে তিনি পুত্র মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর অনুকূলে সিংহাসন ত্যাগ করে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন।


৪. ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লবের কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

[Analyze the causes and consequences of the Islamic Revolution of 1979 in Iran.]

ক. ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের কারণসমূহ:

  1. শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর স্বৈরাচার ও সাভাকের বর্বরতা: শাহের কুখ্যাত গোপন পুলিশ বাহিনী ‘সাভাক’ (SAVAK) হাজার হাজার রাজনৈতিক বিরোধী, বুদ্ধিজীবী ও ধর্মীয় আলেমদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালায় এবং নির্বিচারে হত্যা করে মানুষের বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করে দিয়েছিল।
  2. শ্বেত বিপ্লব ও অন্ধ পশ্চিমাকরণ: ১৯৬৩ সালে শাহ মার্কিন সমর্থনে তথাকথিত ‘শ্বেত বিপ্লব’ শুরু করে উলামাদের ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করেন এবং ইরানি সমাজে অনৈতিক পশ্চিমা অপসংস্কৃতি, নাইটক্লাব ও নগ্নতা ছড়িয়ে দেন। এতে শিয়া আলেম সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
  3. অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্নীতি: ১৯৭০-এর দশকে তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিপুল অর্থ এলেও তা রাজপরিবারের সীমাহীন অপব্যয়, বিলাসিতা এবং মার্কিন অস্ত্র ক্রয়ে অপচয় হয়। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও বৈষম্য সাধারণ মানুষের জীবন অসহনীয় করে তোলে। ১৯৭১ সালে পার্সেপোলিসে পারস্য সাম্রাজ্যের ২৫০০ বছর পূর্তিতে রাজপরিবারের ১০০ মিলিয়ন ডলারের উন্মত্ত বিলাসিতা জনগণকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে।
  4. মার্কিন তোষণ নীতি ও জাতীয় অবমাননা: ইরানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের বিচারিক দায়মুক্তি (Capitulations) দিয়ে শাহ ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
  5. আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর দূরদর্শী নেতৃত্ব: نجফ ও প্যারিসে নির্বাসিত অবস্থায় থেকে মহান শিয়া আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী অডিও ক্যাসেট ও বার্তার মাধ্যমে ইরানি জনগণকে শাহের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি ‘বেলায়াতে ফকিহ’ (ইসলামি আইনবিদের অভিভাবকত্ব) দর্শনের ভিত্তিতে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ডাক দেন।

খ. বিপ্লবের ঐতিহাসিক ফলাফল ও তাৎপর্য:

  1. ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্রের পতন: ১৯৭৯ সালের ১৬ই জানুয়ারি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী দেশ ছেড়ে পলায়ন করেন। ১লা ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ খোমেনী বীরের বেশে ফ্রান্সে দীর্ঘ ১৫ বছরের নির্বাসন শেষে তেহরানে প্রত্যাবর্তন করেন। ১১ই ফেব্রুয়ারি শাহের সামরিক বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
  2. ইসলামি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা: ১৯৭৯ সালের ১লা এপ্রিল এক জাতীয় গণভোটে ৯৮.২% মানুষের সমর্থনে ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান’ (Islamic Republic of Iran) ঘোষণা করা হয় এবং খোমেনী হন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader)।
  3. নতুন ইসলামি সংবিধান ও শরীয়াহ প্রবর্তন: কুরআনিক আইন ও বেলায়াতে ফকিহর ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। নারীদের জন্য পর্দাপ্রথা পুনর্বহাল করা হয় এবং ব্যাংক, মিডিয়া ও সমাজে ইসলামি মূল্যবোধ বাধ্যতামূলক করা হয়।
  4. আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রূপান্তর: ইরান আমেরিকার প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে এসে ‘না প্রাচ্য, না পাশ্চাত্য—কেবল ইসলাম’ (La Sharqiyya, La Gharbiyya) নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব ধূলিসাৎ হয় এবং মুসলিম বিশ্বের নিপীড়িত জাতিসমূহ এক অভূতপূর্ব অনুপ্রেরণা লাভ করে।

৫. আফগানিস্তানের আধুনিকীকরণে বাদশাহ আমানুল্লাহর ভূমিকা পর্যালোচনা কর।

[Review the role of the King Amanullah to modernize Afghanistan.]

ভূমিকা: ১৯১৯ সালে পিতা হাবিবুল্লাহ খানের হত্যাকাণ্ডের পর সিংহাসনে আরোহণ করেন বাদশাহ আমানুল্লাহ খান (১৯১৯–১৯২৯ খ্রি.)। তিনি ক্ষমতায় এসেই তৃতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধের সূচনা করেন এবং রাওয়ালপিন্ডি চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নাগপাশ থেকে আফগানিস্তানের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেন। স্বাধীন আফগানিস্তানের প্রথম শাসক হিসেবে তিনি দেশকে আধুনিকতার পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক সংস্কার হাত নেন।

ক. বাদশাহ আমানুল্লাহর আধুনিকায়ন পদক্ষেপসমূহ:

  1. প্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন (১৯২৩): তিনি আফগানিস্তানের ইতিহাসে সর্বপ্রথম আধুনিক সংবিধান (নেজামনামা) প্রণয়ন করেন। এতে নাগরিক অধিকারের স্বীকৃতি, আইনের শাসন, দাসপ্রথা সম্পূর্ণ বিলোপ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়।
  2. সামাজিক ও নারী অধিকার সংস্কার: তিনি বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করেন, নারীদের দেনমোহরের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেন এবং মেয়েদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার নির্দেশ দেন। ১৯২৮ সালে ইউরোপ সফর থেকে ফিরে তিনি ও রানি সোরায়া জনসমক্ষে রানিকে বোরকা ছাড়া আধুনিক পোশাকে উপস্থিত করান এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পশ্চিমা কোট-প্যান্ট পরা বাধ্যতামূলক করেন।
  3. শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংস্কার: তিনি কাবুলে আধুনিক আমানিয়া ও আমানি হাইস্কুল স্থাপন করেন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রান্সে ও জার্মানিতে পাঠান। তিনি স্বাধীন সংবাদপত্র ও ছাপাখানা স্থাপন করেন।
  4. প্রশাসনিক ও বিচারিক সংস্কার: বিচার বিভাগকে উপজাতীয় সর্দার ও অনিয়ন্ত্রিত কাজিদের প্রভাবমুক্ত করে আধুনিক আইনি আদালত স্থাপন করেন। আধুনিক করব্যবস্থা চালু করে তিনি সেনাবাহিনীতে নগদ বেতন প্রবর্তন করেন।

খ. সংস্কারের ব্যর্থতার কারণ ও পতন:

বাদশাহ আমানুল্লাহর সংস্কারের উদ্দেশ্য সৎ হলেও তিনি আফগান সমাজের চরম রক্ষণশীল মনস্তত্ত্ব, প্রবল উপজাতীয় আভিজাত্য এবং উলামাদের ধর্মীয় প্রভাবকে যথাযথভাবে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন। রানি সোরায়ার পশ্চিমা পোশাক পরিধান এবং দ্রুতগতির সংস্কারকে রক্ষণশীলরা ইসলামবিরোধী হিসেবে প্রচার করে। ১৯২৯ সালে বাচ্চায়ে সাকাও (হাবিবুল্লাহ কালকানি) নামক এক ডাকাত সর্দারের নেতৃত্বে মোল্লা ও উপজাতিরা বিদ্রোহ করলে আমানুল্লাহ রক্তপাত এড়াতে সিংহাসন ত্যাগ করে ইতালিতে নির্বাসনে চলে যান।


৬. আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থান ও ক্রমবিকাশের বিবরণ দাও।

[Describe the rise and evolution of Taliban in Afghanistan.]

ক. তালেবানদের উত্থানের পটভূমি:

১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান ত্যাগের পর এবং ১৯৯২ সালে নাজিবুল্লাহর কমিউনিস্ট সরকারের পতনের পর মুজাহিদীন দলগুলোর মধ্যে (বুরহানুদ্দীন রব্বানী, গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, আহমেদ শাহ মাসুদ) ক্ষমতা নিয়ে এক বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বিভিন্ন ওয়ারলর্ড (War Lords) ও সর্দাররা দেশে লুটতরাজ, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় ১৯৯৪ সালে কান্দাহারের কাছে সিংহেসারে এক চোখ হারানো সোভিয়েতবিরোধী যোদ্ধা মোল্লা মুহাম্মদ ওমর-এর নেতৃত্বে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের (তালিবান অর্থ ছাত্রবৃন্দ) নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল দল গঠিত হয়।

খ. ক্ষমতাদখল ও ক্রমবিকাশ:

  1. কান্দাহার থেকে কাবুল দখল (১৯৯৪–১৯৯৬): স্থানীয় জনগণকে ওয়ারলর্ডদের চাঁদাবাজি ও অত্যাচার থেকে রক্ষা করে তালেবানরা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ সমর্থনে ১৯৯৪ সালে কান্দাহার এবং ১৯৯৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর রাজধানী কাবুল দখল করে নাজিবুল্লাহকে ফাঁসি দেয়। তারা আফগানিস্তানকে ‘ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান’ ঘোষণা করে এবং মোল্লা ওমর হন ‘আমিরুল মুমিনীন’।
  2. প্রথম তালেবান শাসন (১৯৯৬–২০০১): তারা দেশে কঠোর শরীয়াহ আইন জারি করে অপরাধ ও চুরি সম্পূর্ণ দূর করে শতভাগ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনে। কিন্তু মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরি বন্ধ করা, কঠোর পর্দা, পুরুষদের দাড়ি বাধ্যতামূলক করা এবং ২০০১ সালে বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ধ্বংসের কারণে তারা আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়। কেবল পাকিস্তান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল।
  3. ৯/১১ পরবর্তী পতন ও ২০ বছরের গেরিলা যুদ্ধ (২০০১–২০২১): ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর মার্কিন টুইন টাওয়ার হামলার পর ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তর না করায় আমেরিকা ও ন্যাটো আফগানিস্তান আক্রমণ করে তালেবান সরকারকে উৎখাত করে। কিন্তু তালেবানরা পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২০ বছর রক্তক্ষয়ী গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে ফেলে।
  4. দোহা চুক্তি ও দ্বিতীয় উত্থান (২০২১): অবশেষে আমেরিকা ২০২০ সালে কাতারের দোহায় তালেবানদের সাথে শান্তি চুক্তি করতে বাধ্য হয়। ২০২১ সালের ১৫ই আগস্ট মার্কিন পুতুল আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালালে তালেবানরা বিনা রক্তপাতে পুনরায় কাবুল বিজয় করে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

৭. ‘লুজেন’ সন্ধির উপর টীকা লেখ।

[Write a short note about ‘Treaty of Lausanne’.]

মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী তুর্কি বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে গ্রিকদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করার পর বিজয়ী তুরস্কের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তির ১৯২৩ সালের ২৪শে জুলাই সুইজারল্যান্ডের লুজেন শহরে যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে লুজেন সন্ধি (Treaty of Lausanne) বলা হয়। তুরস্কের পক্ষে ইসমত ইনোনু এতে স্বাক্ষর করেন।

  • এ চুক্তির মাধ্যমে ১৯২০ সালের অপমানজনক ‘সেভার্স চুক্তি’ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়।
  • তুরস্কের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে; সমগ্র আনাতোলিয়া, পূর্ব থ্রেস ও স্মার্না তুরস্কের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
  • বিদেশি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক কমিশন বাতিল করা হয় এবং তুরস্ককে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এটি ছিল আধুনিক তুরস্কের স্বাধীনতা ও মর্যাদার চূড়ান্ত বিজয় সনদ।

৮. ইরাক-ইরান যুদ্ধের কারণ বিশ্লেষণ কর।

[Analyse the causes of Iraq-Iran war.]

১৯৮০ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৮৮ সালের ২০শে আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী ইরাক-ইরান যুদ্ধের প্রধান কারণসমূহ ছিল:

  1. শাত-ইল-আরব জলপথ বিরোধ: টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলনস্থল শাত-ইল-আরব জলসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ১৯৭৫ সালের আলজিয়ার্স চুক্তিতে ইরান সুবিধা পেয়েছিল। সাদ্দাম হোসেন ১৯৭৯ সালের বিপ্লবোত্তর বিশৃঙ্খলার সুযোগে সে চুক্তি বাতিল করে জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চান।
  2. মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব ও বিপ্লব রপ্তানির ভয়: আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ ইরাকের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে সাদ্দাম ভীত ছিলেন।
  3. আরব বনাম অনারব আধিপত্য ও পশ্চিমা উসকানি: সাদ্দাম নিজেকে সমগ্র আরব জাহানের অবিসংবাদিত নেতা প্রমাণের চেষ্টা করেন। আমেরিকা, ফ্রান্স ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো বিপ্লবী ইরানকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সাদ্দামকে কোটি কোটি ডলার ও উন্নত সমরাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধে নামায়। অবশেষে জাতিসংঘের ৫৯৮ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ঘটে।

৯. মধ্য এশিয়ায় স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় সম্পর্কে লেখ।

[Write about the emergence of independent states in Central Asia.]

উনবিংশ শতাব্দীতে জার রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের পর ঐতিহ্যবাহী মুসলিম মধ্য এশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে চলে যায়। দীর্ঘ ৭০ বছর কমিউনিস্টদের ধর্মহীন নীতি ও দমন-পীড়নের পর ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের আকস্মিক বিলুপ্তির ফলে মধ্য এশিয়ায় পাঁচটি সার্বভৌম মুসলিম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে:

  • ১. কাজাখস্তান: মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম ও খনিজ সম্পদে সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র (রাজধানী: আস্তানা/নুর-সুলতান)।
  • ২. উজবেকিস্তান: ঐতিহাসিক সমরকন্দ ও বোখারার গৌরবমণ্ডিত সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের কেন্দ্র (রাজধানী: তাসখন্দ)।
  • ৩. তুর্কমেনিস্তান: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুতের দেশ (রাজধানী: আশগাবাত)।
  • ৪. কিরগিজস্তান: তিয়েনশান পর্বতমালা বেষ্টিত পার্বত্য রাষ্ট্র (রাজধানী: বিশকেক)।
  • ৫. তাজিকিস্তান: ফারসি ভাষী প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক রাষ্ট্র (রাজধানী: দুশানবে)।

এ রাষ্ট্রসমূহের স্বাধীনতার ফলে বিশ্ব মুসলিম মানচিত্রে এক বিশাল সম্ভাবনাময় মুসলিম ব্লক যুক্ত হয়।

১০. টীকা লিখ: (ক) ডি-এইট [D-8], (খ) শ্বেত বিপ্লব [White Revolution]।

[Write short notes: (a) D-8, (b) White Revolution.]

(ক) ডি-এইট (D-8 / Developing-8):

১৯৯৭ সালের ১৫ই জুন তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ড. নাজমুদ্দীন এরবাকানের দূরদর্শী উদ্যোগে ইস্তাম্বুল সম্মেলনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল আটটি বৃহৎ মুসলিম দেশকে নিয়ে গঠিত একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট হলো ডি-এইট (D-8)। এর সদস্য দেশ আটটি হলো: বাংলাদেশ, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং নাইজেরিয়া। এর সদর দপ্তর ইস্তাম্বুলে অবস্থিত। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

(খ) শ্বেত বিপ্লব (White Revolution):

১৯৬৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডির চাপে ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী কোনো রক্তপাতহীন উপায়ে দেশকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ১৯ দফার যে আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তাকে শ্বেত বিপ্লব (Enghelab-e Sefid) বলা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল ভূমি সংস্কারের নামে বৃহৎ ভূস্বামীদের এবং বিশেষ করে শিয়া ধর্মীয় আলেমদের ওয়াকফ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কৃষকদের মাঝে বণ্টন, অরণ্য জাতীয়করণ এবং নারীদের আধুনিকীকরণ। কিন্তু এর ফলে ঐতিহ্যবাহী কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস হয়, লাখ লাখ কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেয় এবং আলেম সমাজ শাহের চরম শত্রুতে পরিণত হয়, যার পরিণতিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আধুনিক তুরস্কের জনক কাকে বলা হয়?

মোস্তফা কামাল আতাতুর্ককে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির জনক (আতাতুর্ক) বলা হয়।

২. কামালবাদের ছয়টি মূল স্তম্ভ কী কী?

কামালবাদের ছয়টি স্তম্ভ হলো: প্রজাতন্ত্রবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণবাদ (পপুলিজম), রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি (স্টেটিজম), ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং সংস্কারবাদ।

৩. অটোমান খিলাফত আনুষ্ঠানিকভাবে কবে বিলুপ্ত করা হয়?

১৯২৪ সালের ৩রা মার্চ মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুর্কি গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি আইন পাসের মাধ্যমে খিলাফত চিরতরে বিলুপ্ত করে।

৪. ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের প্রধান স্থপতি কে ছিলেন?

মহান আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী ১৯৭৯ সালে শাহের রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল করেন।

৫. আফগানিস্তানের আধুনিকীকরণে প্রথম অগ্রদূত কে ছিলেন?

বাদশাহ আমানুল্লাহ খান (১৯১৯–১৯২৯ খ্রি.) তৃতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধের মাধ্যমে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন করেন এবং দেশে প্রথম সংবিধান ও আধুনিক সংস্কার শুরু করেন।

৬. সোভিয়েত পতনের পর মধ্য এশিয়ায় কয়টি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠিত হয়?

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর ৫টি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র জন্ম নেয়: কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান এবং তাজিকিস্তান।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *