জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আধুনিক মিশর ও সুদানের ইতিহাস (History of Modern Egypt and Sudan) – 205305, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2020

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪২ মিনিট পড়ার সময়
৬ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2020
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: আধুনিক মিশর ও সুদানের ইতিহাস
বিষয় কোড: 205305 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

১. ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের মিশর অভিযানের কারণ ও ফলাফল লিখ।

[Write down the causes and results of Napoleon’s expedition in Egypt.]

ক. নেপোলিয়নের মিশর অভিযানের কারণসমূহ (১৭৯৮ খ্রি.):

  1. ব্রিটিশ বাণিজ্যের ওপর আঘাত ও ভারত পথ রুদ্ধকরণ: ইংল্যান্ড ছিল ফ্রান্সের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। সরাসরি ইংল্যান্ড আক্রমণ অসম্ভব বিবেচনা করে নেপোলিয়ন ব্রিটেনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উপনিবেশ ভারতের বাণিজ্য রুট ধ্বংস করার কৌশল নেন। মিশর দখল করতে পারলে লোহিত সাগর হয়ে ভারতে ব্রিটিশ বাণিজ্যে মারাত্মক আঘাত হানা সম্ভব ছিল।
  2. প্রাচ্যে ফরাসি উপনিবেশ স্থাপন: ভূমধ্যসাগরে ফরাসি আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং উত্তর আফ্রিকায় একটি লাভজনক স্থায়ী ফরাসি বাণিজ্যিক উপনিবেশ গড়ে তোলা ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
  3. মামলুকদের স্বেচ্ছাচারিতা দমন: মিশরে উসমানীয় খিলাফতের নামমাত্র কর্তৃত্ব থাকলেও প্রকৃতপক্ষে শাসন করছিল অত্যাচারী মামলুক বে-রা। তারা ফরাসি বণিকদের হয়রানি করত। নেপোলিয়ন প্রচার করেন যে তিনি অটোমান সুলতানের বন্ধু হিসেবে মামলুকদের শায়েস্তা করতে এসেছেন।
  4. বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক কৌতূহল: প্রাচীন ফারাওদের রহস্যময় মিশরীয় সভ্যতার ওপর গবেষণা ও প্রাচ্যের জ্ঞানভাণ্ডার উন্মোচনের জন্যও নেপোলিয়ন বিপুল বিজ্ঞানী ও পণ্ডিতদের সাথে নিয়েছিলেন।

খ. অভিযানের ঘটনা ও ফলাফল:

  1. পিরামিডের যুদ্ধ ও কায়রো অধিকার: ১৭৯৮ সালের জুলাই মাসে নেপোলিয়ন ৩৫ হাজার সৈন্য নিয়ে আলেকজান্দ্রিয়ায় অবতরণ করেন এবং ঐতিহাসিক ‘পিরামিডের যুদ্ধে’ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে মামলুকদের অশ্বারোহী বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে কায়রো দখল করেন।
  2. নীলনদের যুদ্ধে ফরাসি নৌবহর ধ্বংস: কিন্তু ১লা আগস্ট ১৭৯৮ সালে ব্রিটিশ নৌসেনাপতি অ্যাডমিরাল নেলসন নীল নদের মোহনায় (আবু কির উপসাগর) অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে ফরাসি নৌবহর সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন। এর ফলে নেপোলিয়ন স্বদেশের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মিশরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সিরিয়া অভিযানে গিয়েও তিনি একরে ব্যর্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত গোপনে ফ্রান্সে পালিয়ে যান। ১৮০১ সালে ফরাসি বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয়।
  3. মিশরে আধুনিকতার নবজাগরণ: সামরিকভাবে এ অভিযান ব্যর্থ হলেও সাংস্কৃতিকভাবে এটি মিশরের সুপ্ত আত্মাকে জাগ্রত করে। নেপোলিয়ন ১৬৭ জন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী সাথে এনেছিলেন। তাঁদের মাধ্যমে কায়রোতে ‘ইনস্টিটিউট অব ইজিপ্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়, আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র ও হাসপাতাল স্থাপিত হয়।
  4. রোসেটা স্টোন আবিষ্কার: ১৭৯৯ সালে ফরাসি প্রকৌশলী বুশার রোসেটা পাথর (Rosetta Stone) আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে জঁ ফ্রাঁসোয়া শাঁপোলিয়ন এই পাথরের মাধ্যমে প্রাচীন মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক লিপি পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হন, যা বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক দিগন্ত উন্মোচন করে।
  5. মুহাম্মদ আলীর উত্থানের ক্ষেত্র তৈরি: ফরাসিদের আক্রমণের ফলেই মামলুক শক্তির চিরতরে অবসান ঘটে এবং উসমানীয় অফিসার মুহাম্মদ আলী পাশার ক্ষমতায় আসার রাজপথ প্রস্তুত হয়।

২. আধুনিক মিশরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী পাশার কৃতিত্ব পর্যালোচনা কর।

[Review the achievement of Mohammad Ali Pasha as the founder of modern Egypt.]

ভূমিকা: আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত উসমানীয় সামরিক কমান্ডার মুহাম্মদ আলী পাশা (১৮০৫–১৮৪৮ খ্রি.) নেপোলিয়ন-পরবর্তী চরম অস্থিতিশীল মিশরের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি মিশরের মধ্যযুগীয় কাঠামোকে গুঁড়িয়ে দিয়ে একটি শক্তিশালী, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক পাশ্চাত্য ধাঁচের রাষ্ট্রে রূপান্তর করেন। এ কারণেই ইতিহাসবিদগণ তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে ‘আধুনিক মিশরের প্রতিষ্ঠাতা’ (Father of Modern Egypt) বা ‘মিশরের পিটার দ্য গ্রেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ক. মুহাম্মদ আলী পাশার বহুমুখী সংস্কার ও কৃতিত্ব:

  1. মামলুক শক্তির চিরতরে মূলোৎপাটন (১৮১১): মিশরে দীর্ঘদিনের অরাজকতার মূল হোতা ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত মামলুকরা। ১৮১১ সালের ১লা মার্চ কায়রো দুর্গে (সিটাডেল) এক রাজকীয় ভোজসভার আয়োজন করে তিনি সেখানে সমবেত প্রায় ৫০০ শীর্ষ মামলুক নেতাকে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে হত্যা করেন। এর মাধ্যমে মিশরে তাঁর অবিসংবাদিত একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
  2. সামরিক আধুনিকায়ন: তিনি ঐতিহ্যবাহী অনিয়মিত সেনাদের বদলে আধুনিক ফরাসি সামরিক বিশেষজ্ঞদের (কর্নেল সেভ ওরফে সুলেমান পাশা) এনে ‘নিজামে জাদিদ’ বা আধুনিক ইউরোপীয় সামরিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। মিশরীয় ফেল্লাহিন (কৃষক) তরুণদের নিয়ে এক সুশৃঙ্খল জাতীয় সেনাবাহিনী ও আলেকজান্দ্রিয়ায় আধুনিক নৌবহর গড়ে তোলেন।
  3. কৃষি বিপ্লব ও দীর্ঘ আঁশের তুলা চাষ: তিনি ফরাসি প্রকৌশলী জামেলের সহায়তায় উচ্চফলনশীল ‘জুমেল তুলা’ (দীর্ঘ আঁশের মিশরীয় তুলা) চাষ ব্যাপকভাবে প্রবর্তন করেন, যা মিশরের প্রধান অর্থকরী রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়। নীল নদের বদ্বীপ অঞ্চলে ব্যারাজ ও সেচ খাল (মাহমুদিয়া খাল) খনন করে তিনি লাখ লাখ একর পতিত জমি আবাদযোগ্য করে তোলেন। কৃষিতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া বাণিজ্য (Monopoly) প্রবর্তন করে বিপুল রাজস্ব আয় করেন।
  4. শিল্পায়ন: তিনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আধুনিক অস্ত্র কারখানা, গোলাবারুদ কারখানা, টেক্সটাইল মিল, চিনি ও চামড়া কারখানা স্থাপন করে মিশরকে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতামুক্ত করার চেষ্টা করেন।
  5. শিক্ষা ও সংস্কৃতির নবজাগরণ: তিনি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, ভেটেরিনারি ও সামরিক কলেজ স্থাপন করেন। রিফায়া আল-তাহতাবি-এর নেতৃত্বে শত শত তরুণ মিশরীয় ছাত্রকে রাষ্ট্রীয় খরচে ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠান। ১৮২২ সালে বোলাক সরকারি ছাপাখানা (Bulaq Press) প্রতিষ্ঠা করেন এবং সরকারি পত্রিকা ‘আল-ওয়াকায়ি আল-মিসরিয়্যা’ প্রকাশ করেন।
  6. কায়রো সিটাডেলের মুহাম্মদ আলী মসজিদ: কায়রো দুর্গের শীর্ষে অটোমান স্থাপত্যরীতিতে মার্বেল পাথরে নির্মিত সুবিশাল ‘মুহাম্মদ আলী মসজিদ’ তাঁর অমর স্থাপত্যকীর্তি হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে।

৩. সাদ জাগলুল পাশা কে ছিলেন? মিশরের সাংবিধানিক আন্দোলনে তাঁর ওয়াফদ পার্টির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

[Who was Saad Zaglul Pasha? Evaluate the role of his Wafd Party in the constitutional movement of Egypt.]

ক. সাদ জাগলুল পাশার পরিচয়:

সাদ জাগলুল পাশা (১৮৫৯–১৯২৭ খ্রি.) ছিলেন মিশরের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত জাতীয়তাবাদী নেতা, প্রখ্যাত আইনবিদ এবং আধুনিক মিশরের অন্যতম সেরা প্রধানমন্ত্রী। তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও কায়রো ল স্কুলে শিক্ষা লাভ করেন। জামালুদ্দীন আফগানী ও মুহাম্মদ আবদুহর সংস্কারবাদী দর্শনে প্রভাবিত হয়ে তিনি আইনপেশা ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

খ. ওয়াফদ পার্টির গঠন ও ঐতিহাসিক ভূমিকা:

  1. ওয়াফদ বা প্রতিনিধি দল গঠন (১৯১৮): প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯১৮ সালের ১৩ই নভেম্বর সাদ জাগলুল এক প্রতিনিধি দল গঠন করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্যার রেজিনাল্ড উইনগেটের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্যারিস শান্তি সম্মেলনে মিশরের স্বাধীনতার দাবি উপস্থাপনের জন্য পাসপোর্টের দাবি জানান। আরবিতে ‘ওয়াফদ’ (وفد) শব্দের অর্থ প্রতিনিধি দল। ব্রিটিশরা পাসপোর্ট প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে এ প্রতিনিধি দলটিই পরবর্তীতে মিশরের সর্ববৃহৎ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ‘ওয়াফদ পার্টি’-তে রূপান্তরিত হয়।
  2. ১৯১৯ সালের ঐতিহাসিক গণবিপ্লব (সাওরাতু ১৯১৯): ব্রিটিশরা ১৯১৯ সালের মার্চে সাদ জাগলুল ও তাঁর সহকর্মীদের গ্রেপ্তার করে মাল্টায় নির্বাসনে পাঠায়। এর সাথে সাথে সমগ্র মিশরে এক অভূতপূর্ব গণবিস্ফোরণ ঘটে। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী এবং মুসলিম ও খ্রিস্টান কপটিক সম্প্রদায় এক হয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ ও ধর্মঘট শুরু করে। ব্রিটিশরা বাধ্য হয়ে সাদ জাগলুলকে মুক্তি দেয় এবং প্যারিসে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
  3. ১৯২২ সালের স্বাধীনতার একতরফা ঘোষণা: ওয়াফদ পার্টির তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার লর্ড অ্যালেনবির পরামর্শে ১৯২২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি বাধ্য হয়ে একতরফাভাবে মিশরের ওপর থেকে ব্রিটিশ প্রটেক্টরেট (অধীনতামূলক শাসন) প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এবং মিশরকে শর্তসাপেক্ষে একটি স্বাধীন রাজতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ফলে সুলতান ফুয়াদ ‘প্রথম ফুয়াদ’ উপাধি নিয়ে বাদশাহ হন।
  4. ১৯২৩ সালের গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন: সাদ জাগলুল ও ওয়াফদ পার্টির প্রবল চাপের মুখে ১৯২৩ সালে মিশরে আধুনিক সংসদীয় গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯২৪ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ওয়াফদ পার্টি বিপুল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৯০% আসন) অর্জন করে এবং সাদ জাগলুল পাশা স্বাধীন মিশরের প্রথম জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

৪. সুয়েজ খাল খনন সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ রচনা কর।

[Write an essay on the construction of Suez Canal.]

১. ভূমিকা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব:

সুয়েজ খাল হলো উত্তর ও পূর্ব মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত একটি মানবনির্মিত সমুদ্র-সমতলীয় জলপথ, যা ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। ১৯৩ কিলোমিটার (১২০ মাইল) দীর্ঘ এ ঐতিহাসিক খাল এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে দূরপাল্লার নৌবাণিজ্যকে সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ (উত্তমাশা অন্তরীপ) প্রদক্ষিণ করার প্রায় ৭,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ থেকে মুক্তি দিয়েছে।

২. খননের উদ্যোগ ও ফার্দিনান্দ দে লেসেপ্স:

মিশরের খলিল পাশার ঘনিষ্ঠ ফরাসি কূটনীতিক ও প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দে লেসেপ্স (Ferdinand de Lesseps) সুয়েজ খাল খননের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন। ১৮৫৪ সালে মিশরের তৎকালীন শাসক মুহাম্মদ সাইদ পাশা দে লেসেপ্সকে সুয়েজ ইস্থমাস দিয়ে খাল খনন ও ৯৯ বছরের জন্য পরিচালনার অনুমতি (কনসেশন) প্রদান করেন। ১৮৫৮ সালে গঠিত হয় ‘কম্পানি ইউনিভার্সেল দু ক্যানাল মারিতিম দ্য সুয়েজ’ (Suez Canal Company)।

৩. খনন প্রক্রিয়া ও শ্রমিকদের মানবিক মূল্য:

১৮৫৯ সালের ২৫শে এপ্রিল খালের খননকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এটি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ দশ বছর (১৮৫৯–১৮৬৯ খ্রি.) সময় লেগেছিল। আধুনিক যন্ত্রপাতির স্বল্পতার কারণে মিশরের ১৫ লক্ষাধিক দরিদ্র কৃষক ও শ্রমিককে (ফেল্লাহিন) বাধ্যতামূলক বেগার শ্রমে (Corvée labor) নিযুক্ত করা হয়। প্রচণ্ড তাপ, কলেরা ও আমাশয়ের মহামারীতে প্রায় এক লক্ষাধিক হতভাগ্য মিশরীয় শ্রমিক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন।

৪. জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন (১৮৬৯):

১৮৬৯ সালের ১৭ই নভেম্বর খেদিভ ইসমাইল পাশার আমলে সুয়েজ খালের জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষ্যে ফ্রান্সের সম্রাজ্ঞী ইউজেনি, অস্ট্রিয়ার সম্রাট ফ্রাঞ্জ জোসেফসহ ইউরোপের রাজা-রানিদের রাজকীয় আতিথেয়তা প্রদান করা হয় এবং বিখ্যাত সুরকার জিউসেপ্পে ভের্দিকে দিয়ে ‘আইদা’ (Aida) অপেরা রচনা করানো হয়। খালের উত্তর মোহনায় পোর্ট সাইদ এবং দক্ষিণ মোহনায় পোর্ট সুয়েজ শহর গড়ে ওঠে।

৫. মিশরের ঋণগ্রস্ততা ও ব্রিটিশ দখলদারিত্ব:

উদ্বোধনের উন্মত্ত বিলাসিতা ও খালের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে খেদিভ ইসমাইল পাশা ইউরোপীয় ব্যাংকারদের কাছে দেউলিয়া হয়ে পড়েন। ১৮৭৫ সালে বাধ্য হয়ে মিশরের শেয়ার (৪৪%) মাত্র ৪০ লক্ষ পাউন্ডে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন ডিফারেলির কাছে বিক্রি করে দেন। পরিণামে ১৮৮২ সালে ব্রিটিশরা সৈন্য নামিয়ে সুয়েজ খাল ও সমগ্র মিশর সামরিকভাবে দখল করে নেয়। অবশেষে ১৯৫৬ সালে জামাল আব্দেল নাসের কর্তৃক সুয়েজ খাল জাতীয়করণের মাধ্যমে তা পূর্ণ মিশরীয় মালিকানায় ফিরে আসে।


৫. সুদানে ইঙ্গ-মিশরীয় যুগ্ম শাসনের উৎস ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।

[Discuss the origin and evolution of joint rule of Anglo-Egyptian in Sudan.]

ক. যুগ্ম শাসনের উৎস (Origin):

১৮২০–২১ সালে মুহাম্মদ আলী পাশার পুত্র ইসমাইল পাশা সুদান জয় করে মিশরের নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু সুদানীদের ওপর অতিরিক্ত কর ও অত্যাচারের ফলে ১৮৮১ সালে মুহাম্মদ আহমদ আল-মাহদী-এর নেতৃত্বে এক ভয়াবহ ইসলামি জাতীয়তাবাদী বিপ্লব ঘটে। ১৮৮৫ সালে মাহদীবাদী যোদ্ধারা খার্তুম দখল করে ব্রিটিশ জেনারেল চার্লস গর্ডনকে হত্যা করে এবং স্বাধীন মাহদী রাষ্ট্র কায়েম করে। দীর্ঘ তেরো বছর পর ১৮৯৮ সালে ব্রিটিশ জেনারেল লর্ড কিচেনার ওমদুরমানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ম্যাক্সিম কামানের সাহায্যে মাহদীবাহিনীকে পরাজিত করে সুদান পুনর্দখল করেন। সুদান বিজয়ের পর ব্রিটিশরা কূটকৌশল অবলম্বন করে ১৮৯৯ সালের ১৯শে জানুয়ারি মিশরের সাথে ইঙ্গ-মিশরীয় কনডোমিনিয়াম চুক্তি (Anglo-Egyptian Condominium Agreement) স্বাক্ষর করে যৌথ বা যুগ্ম শাসন কায়েম করে।

খ. যুগ্ম শাসনের ক্রমবিকাশ ও বাস্তবতা:

  1. নামেমাত্র যুগ্ম, বাস্তবে ব্রিটিশ আধিপত্য: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সুদানের প্রশাসনিক ভবনে ব্রিটিশ ও মিশরীয় দুটি পতাকা পাশাপাশি উড়ত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গভর্নর-জেনারেল হতেন একজন পদস্থ ব্রিটিশ সামরিক অফিসার, যাকে নামেমাত্র খেদিভ অনুমোদন করতেন। সুদানের সকল শীর্ষ প্রশাসনিক ও সামরিক পদে ব্রিটিশরাই আধিপত্য করত।
  2. মিশরীয়দের অর্থ ও সৈন্যের শোষণ: সুদান পরিচালনার সিংহভাগ সামরিক ব্যয় ও সৈন্য সরবরাহ করত মিশর, অথচ রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো প্রকৃত কর্তৃত্ব তাদের ছিল না।
  3. দক্ষিণ সুদানকে বিচ্ছিন্নকরণ নীতি (Closed District Ordinance): ব্রিটিশরা ১৯২২ সালে আইন জারি করে উত্তর সুদানের মুসলিম ও আরবি ভাষাভাষীদের সাথে খ্রিস্টান ও সর্বপ্রাণবাদী দক্ষিণ সুদানের মানুষের মেলামেশা ও ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দেয়, যা পরবর্তীকালে স্বাধীন সুদানে দীর্ঘস্থায়ী উত্তর-দক্ষিণ রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের বীজ বপন করেছিল।
  4. ১৯২৪ সালের স্যার লি স্ট্যাক হত্যাকাণ্ড: ১৯২৪ সালে কায়রোতে সুদানের গভর্নর-জেনারেল স্যার লি স্ট্যাক নিহত হলে ব্রিটিশরা ক্ষিপ্ত হয়ে সুদান থেকে সমস্ত মিশরীয় সৈন্য ও কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করে একক কর্তৃত্ব কায়েম করে। অবশেষে ১৯৫৩ সালে মিশরে নাসেরের বিপ্লবের পর চুক্তি বাতিল হয়ে সুদানের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হয়।

৬. স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সুদানের অভ্যুদয়ের ইতিহাস অনুসরণ কর।

[Trace the history of the emergence of Sudan as an independent and sovereign state.]

ক. স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমি:

সুদানে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান দুটি ধারা ছিল: (১) আশীক্কা বা ন্যাশনাল ইউনিয়নিস্ট পার্টি (NUP): যাদের লক্ষ্য ছিল মিশরের সাথে নীল উপত্যকার ঐক্য (Unity of the Nile Valley) এবং (২) উম্মা পার্টি: মাহদীর অনুসারীদের দল, যাদের লক্ষ্য ছিল কোনো বৈদেশিক প্রভাবমুক্ত একক স্বাধীন সুদান।

খ. চূড়ান্ত স্বাধীনতার ধাপসমূহ:

  1. ১৯৫২ সালের মিশরীয় বিপ্লবের প্রভাব: ১৯৫২ সালে মিশরে জামাল আব্দেল নাসের ও মুহাম্মদ নাগিবের ফ্রি অফিসার্স মুভমেন্টের সফলতার পর মিশরীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। নাগিবের পিতা ছিলেন সুদানী। মিশর ঘোষণা করে যে সুদানীদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার পূর্ণভাবে স্বীকার করা হবে।
  2. ১৯৫৩ সালের ইঙ্গ-মিশরীয় চুক্তি: ১৯৫৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি ব্রিটেন ও মিশরের মধ্যে ঐতিহাসিক সুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় যে তিন বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের মধ্যে ব্রিটিশ ও মিশরীয় উভয় সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে এবং সুদানীরা গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
  3. ১৯৫৩ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ইসমাইল আল-আজহারী: ১৯৫৩ সালের নির্বাচনে ইসমাইল আল-আজহারীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল ইউনিয়নিস্ট পার্টি জয়লাভ করে এবং তিনি সুদানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। প্রথমে মিশরের সাথে ঐক্যের কথা থাকলেও সুদানের সর্বস্তরের জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখে আজহারী পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন।
  4. ১৯৫৬ সালের ১লা জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা: ১৯৫৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর সুদানের পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বাধীনতার প্রস্তাব পাস করে। ১৯৫৬ সালের ১লা জানুয়ারি খার্তুমের রাজপ্রাসাদ থেকে ব্রিটেন ও মিশরের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন সুদানের নতুন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সুদান প্রজাতন্ত্র (Republic of the Sudan) আত্মপ্রকাশ করে।

খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

৭. সুয়েজ খালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

[Analyze the economic importance of the Suez Canal.]

সুয়েজ খাল হলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম:

  • দূরত্ব ও জ্বালানি সাশ্রয়: ইউরোপ থেকে ভারত ও দূরপ্রাচ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ৪,৩০০ নটিক্যাল মাইল দূরত্ব এবং প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনের সমুদ্রযাত্রার সময় বাঁচায়, যা কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি সাশ্রয় করে।
  • বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবাহ: বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১২% এবং কন্টেইনার বাণিজ্যের প্রায় ৩০% সুয়েজ খাল দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের তেল ইউরোপ ও আমেরিকায় পরিবহনের জন্য এটি প্রধানতম করিডোর।
  • মিশরের আয়ের প্রধান উৎস: সুয়েজ খালের টোল আদায় মিশরের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত (বাৎসরিক আয় প্রায় ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার)।

৮. সুদানে মাহদী বিপ্লব সম্পর্কে টীকা লিখ।

[Write a short note about the Mahdi revolt in Sudan.]

১৮৮১ সালে সুদানের ধর্মপ্রাণ সুফি সাধক মুহাম্মদ আহমদ (১৮৪৪–১৮৮৫ খ্রি.) নিজেকে ঐশী প্রতিশ্রুত ‘ইমাম আল-মাহদী’ হিসেবে ঘোষণা করে তুর্কি-মিশরীয় ও ব্রিটিশ শোষণের বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে তোলেন, তাকে সুদানে মাহদী বিপ্লব বলা হয়। তাঁর অনুসারীদের ‘আনসার’ বলা হতো। তিনি শাইকান ও এল ওবেদ-এর যুদ্ধে ব্রিটিশদের পর্যুদস্ত করেন এবং ১৮৮৫ সালের ২৬শে জানুয়ারি খার্তুম অধিকার করে ব্রিটিশ গভর্নর চার্লস গর্ডনকে হত্যা করেন। খার্তুম বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীন মাহদী রাষ্ট্রের সূচনা হয়। যদিও ছয় মাস পর মাহদীর ওফাত ঘটে, তবুও তাঁর উত্তরসূরি খলিফা আব্দুল্লাহ ১৮৯৮ সালের ওমদুরমানের যুদ্ধ পর্যন্ত এ স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন।

৯. নাসেরবাদ বলতে কী বুঝ?

[What do you mean by Nasserism?]

মিশরের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট ও আধুনিক আরব জাহানের কিংবদন্তি জাতীয়তাবাদী নেতা জামাল আব্দেল নাসের (১৯১৮–১৯৭০ খ্রি.)-এর রাজনৈতিক, সামাজিক ও পররাষ্ট্রীয় চিন্তাধারাকে নাসেরবাদ (Nasserism) বলা হয়। এর মূল উপাদানসমূহ হলো:

  • সর্ব-আরব জাতীয়তাবাদ (Pan-Arabism): মরক্কো থেকে ইরাক পর্যন্ত সমস্ত আরব জাতি একই সত্তার অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
  • আরব সমাজতন্ত্র (Arab Socialism): ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ, ভারী শিল্প ও ব্যাংক জাতীয়করণ এবং সামন্ত ভূস্বামীদের হাত থেকে জমি কেড়ে নিয়ে কৃষকদের মাঝে বিতরণ।
  • সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জোটনিরপেক্ষতা: পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে টিটো ও নেহরুর সাথে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৫৬ সালে ঐতিহাসিক সুয়েজ খাল জাতীয়করণ।

১০. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি সম্বন্ধে টীকা লিখ।

[Write a note about Camp David Agreement.]

১৯৭৮ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিড অবকাশ যাপন কেন্দ্রে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন-এর মধ্যে যে ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি (Camp David Accords) বলা হয়। এর ভিত্তিতে ১৯৭৯ সালে আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

  • চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে দখলকৃত মিশরের সিনাই উপদ্বীপ সম্পূর্ণ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়।
  • বিনিময়ে মিশর প্রথম আরব দেশ হিসেবে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করে এবং সুয়েজ খাল দিয়ে ইসরায়েলি জাহাজের চলাচলের অধিকার দেয়।
  • প্রতিক্রিয়া: এ চুক্তির ফলে অন্যান্য সকল আরব দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে মিশরকে আরব লীগ থেকে বহিষ্কার করে এবং সাদাতকে বিশ্বাসঘাতক ঘোষণা করে। এ ক্ষোভের পরিণতিতে ১৯৮১ সালের ৬ই অক্টোবর সামরিক প্যারেডে সাদাতকে হত্যা করা হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আধুনিক মিশরের প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়?

উসমানীয় সেনাপতি মুহাম্মদ আলী পাশা (১৮০৫–১৮৪৮ খ্রি.) মামলুকদের উচ্ছেদ করে আধুনিক সেনাবাহিনী, দীর্ঘ আঁশের তুলা চাষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক মিশরের ভিত্তি স্থাপন করেন।

২. সুয়েজ খালের মূল প্রকৌশলী কে ছিলেন এবং এটি কবে উন্মুক্ত হয়?

ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দে লেসেপ্স সুয়েজ খাল খনন করেন এবং দীর্ঘ দশ বছরের শ্রমের পর ১৮৬৯ সালের ১৭ই নভেম্বর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়।

৩. সাদ জাগলুল পাশা প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক দলটির নাম কী?

সাদ জাগলুল ১৯১৮ সালে মিশরের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে ‘ওয়াফদ পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ১৯১৯ সালের জাতীয় বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয়।

৪. সুদানের স্বাধীন মাহদী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

সুফি সাধক মুহাম্মদ আহমদ আল-মাহদী ১৮৮১ সালে মাহদী বিপ্লব শুরু করে ১৮৮৫ সালে খার্তুমে ব্রিটিশ বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীন মাহদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।

৫. সুদান কবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৯৫৬ সালের ১লা জানুয়ারি সুদান ইঙ্গ-মিশরীয় যুগ্ম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৬. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে কোন দুটি প্রধান আরব-ইসরায়েলি নেতা স্বাক্ষর করেন?

১৯৭৮ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন ঐতিহাসিক ক্যাম্প ডেভিড শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *