ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2021
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: বাংলার ইতিহাস (১২০১-১৭৫৭) (History of Bengal)
বিষয় কোড: 205303 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি
১. মুঘল বাংলার আর্থ-সামাজিক জীবনের একটি চিত্র তুলে ধর।
[Draw a pen picture of socio-economic life during the Mughal-Bengal.]
ভূমিকা: ১৫৭৬ থেকে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাব্দীকাল মুঘলদের শাসনাধীনে বাংলা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বখ্যাত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলাকে তাঁর সমগ্র সাম্রাজ্যের মধ্যে ‘জান্নাতুল বিলাদ’ (স্বর্গভূমি) হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
ক. সামাজিক জীবনের রূপরেখা:
- সম্প্রদায়ে সম্প্রীতি ও গ্রামীণ জীবন: বাংলায় প্রধানত হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। গ্রামীণ সমাজে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ছিল না; উভয় সম্প্রদায় গ্রামীণ মেলা, উৎসব ও সামাজিক বিপদে একে অপরকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করত।
- সামাজিক শ্রেণিস্তর: সমাজ তিনটি প্রধান স্তরে বিন্যস্ত ছিল—(১) উচ্চবিত্ত শাসক শ্রেণি: সুবাদার, দিওয়ান, মনসবদার ও ভূস্বামী জমিদার; (২) মধ্যবিত্ত শ্রেণি: আলেম, কাজি, পুরোহিত, শিক্ষক, কবি ও ব্যবসায়ী; এবং (৩) নিম্নবিত্ত সাধারণ শ্রেণি: কৃষক, তাঁতী, জেলে ও কামার-কুমার।
- শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি: মক্তব ও মাদ্রাসার মাধ্যমে ফারসি ও আরবি শিক্ষা এবং টোলের মাধ্যমে সংস্কৃত শিক্ষা দেওয়া হতো। এ যুগেই মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণবিকাশ ঘটে; মহাকবি আলাওল (পদ্মাবতী), দৌলত কাজী এবং শাহ মুহম্মদ সগীর প্রমুখ কবি সাহিত্য সমৃদ্ধ করেন।
খ. অর্থনৈতিক জীবনের রূপরেখা:
- অভাবনীয় কৃষি প্রাচুর্য: উর্বর পলিমাটির কারণে বাংলায় বছরে তিনবার ফসল হতো। চাল, ডাল, গম, আখ, পাট ও সরিষার ফলন এত বেশি ছিল যে পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার (Bernier) মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন: “বাংলা কেবল হিন্দুস্তানের চাহিদা মেটায় না, বরং সিংহল, মালদ্বীপ ও ইউরোপে প্রচুর খাদ্য রপ্তানি করে।” সুবাদার শায়েস্তা খানের আমলে মাত্র এক টাকায় আট মণ চাল বিক্রি হতো।
- বিশ্বখ্যাত হস্তশিল্প ও বস্ত্রশিল্প: ঢাকার মসলিন ছিল বিশ্বজোড়া রাজকীয় বিস্ময়। এত সূক্ষ্ম ছিল যে ৫০ গজ মসলিন একটি সাধারণ আংটির ভেতর দিয়ে অনায়াসে প্রবেশ করানো যেত। এছাড়া জামদানি, সুতি ও রেশমি কাপড় ইউরোপীয় বণিকদের প্রধান আকর্ষণ ছিল।
- বাণিজ্য ভারসাম্য ও সম্পদের প্রাচুর্য: ইংরেজ, ডাচ, পর্তুগিজ ও ফরাসি ব্যবসায়ীরা বাংলার বস্ত্র ও মসলা ক্রয়ের জন্য ইউরোপ থেকে জাহাজভর্তি রৌপ্য ও স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে আসত, ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত সর্বদা বাংলার অনুকূলে ছিল।
২. বক্সারের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, কারণ ও ফলাফল বর্ণনা কর।
[Describe the background, causes and result of the battle of Buxar.]
ক. প্রেক্ষাপট ও কারণসমূহ (১৭৬৪ খ্রি.):
পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা পুতুল নবাব মীর জাফরকে সরিয়ে তাঁর জামাতা মীর কাসিম-কে ১৭৬০ সালে বাংলার সিংহাসনে বসায়। কিন্তু মীর কাসিম ছিলেন অত্যন্ত স্বাধীনচেতা, দক্ষ ও তেজস্বী শাসক। তিনি ইংরেজদের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে অস্বীকার করলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে:
- রাজধানী মুঙ্গেরে স্থানান্তর: ইংরেজদের সার্বক্ষণিক ষড়যন্ত্র ও ফোর্ট উইলিয়াম কাউন্সিলের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার জন্য তিনি রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে নিরাপদ দূরবর্তী বিহারের মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন এবং দুর্গ সুরক্ষিত করেন।
- ইউরোপীয় ধাঁচে আধুনিক সেনাবাহিনী গঠন: তিনি জার্মান সামরিক অফিসার রেইনহার্ড (সম্রু) এবং আর্মেনিয়ান মার্কাসের সহায়তায় ইউরোপীয় রীতিতে দেশীয় পদাতিক বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেন এবং মুঙ্গেরে নিজস্ব বন্দুক ও কামানের গোলাবারুদ তৈরির কারখানা স্থাপন করেন।
- দস্তকের অপব্যবহার রোধ ও শুল্কমুক্ত দেশীয় বাণিজ্য: ইংরেজ কর্মচারীরা দস্তকের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসায় শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছিল। মীর কাসিম বারবার প্রতিবাদ করে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত এক বিপ্লবী পদক্ষেপ নেন—তিনি দেশীয় সকল হিন্দু-মুসলিম বণিকদের জন্য সমস্ত বাণিজ্যিক শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেন। এতে ইংরেজদের একচেটিয়া বাণিজ্যে প্রচণ্ড আঘাত লাগে এবং তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ত্রিশক্তি মৈত্রী জোট গঠন: কাটোয়া, গিরিয়া ও উদয়নালায় ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মীর কাসিম অযোধ্যায় গমন করেন। সেখানে তিনি অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা এবং পলাতক মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে মিলে ইংরেজদের বিতাড়নের জন্য একটি শক্তিশালী ত্রিশক্তি মৈত্রী জোট গঠন করেন।
খ. যুদ্ধ ও সুদূরপ্রসারী ফলাফল:
১৭৬৪ সালের ২২শে অক্টোবর বিহারের পাটনার নিকটবর্তী বক্সার প্রান্তরে ইংরেজ সেনাপতি মেজর হেক্টর মনরোর বাহিনীর সাথে ত্রিশক্তি যৌথ বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উন্নত রণকৌশল ও ভারতীয় নেতাদের পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে হেক্টর মনরো ত্রিশক্তি জোটকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করেন।
- পলাশীর চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বিজয়: ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ যথার্থই বলেছেন, “The battle of Buxar was far more decisive than Plassey.” পলাশী ছিল ক্লাইভের কূটনৈতিক ষড়যন্ত্রের জয়, কিন্তু বক্সার ছিল সামরিক শক্তির প্রত্যক্ষ জয়।
- সমগ্র উত্তর ভারতের ওপর ব্রিটিশ আধিপত্য: বাংলার নবাব মীর কাসিম সর্বস্বান্ত হয়ে পালিয়ে যান, অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা আত্মসমর্পণ করেন এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ইংরেজদের আশ্রিত পুতুল সম্রাটে পরিণত হন।
- ১৭৬৫ সালের এলাহাবাদ চুক্তি ও দেওয়ানি লাভ: এ বিজয়ের প্রত্যক্ষ পুরস্কার হিসেবে ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ মুঘল সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের সার্বভৌম অধিকার ‘দেওয়ানি’ লাভ করেন।
৩. ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর।
[Discuss the causes and results of the Sepoy mutiny in 1857.]
ক. ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রধান কারণসমূহ:
- রাজনৈতিক কারণ (স্বত্ববিলোপ নীতি): লর্ড ডালহৌসির সাম্রাজ্যবাদী ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ (Doctrine of Lapse) প্রয়োগ করে দত্তক পুত্রের অধিকার অস্বীকার করে ঝাঁসি, নাগপুর, সাতারা ও সম্বলপুর ইংরেজ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়। তদুপরি কুশাসনের অজুহাতে অযোধ্যা দখল এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের রাজকীয় মর্যাদা ও ভাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘোষণা ভারতীয়দের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে।
- অর্থনৈতিক শোষণ: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে কৃষকদের সর্বস্বান্তকরণ, অতিরিক্ত রাজস্বের বোঝা এবং ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের সস্তা কাপড়ের আগ্রাসনে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতী ও কুটিরশিল্পীদের ধ্বংস করে দেওয়া।
- সামরিক অসন্তোষ ও বৈষম্য: কোম্পানিতে কর্মরত ভারতীয় সিপাহীদের (যাঁদের ৯০% ছিল ভারতীয়) ইংরেজ সৈন্যদের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ বেতন দেওয়া হতো, পদোন্নতি আটকে রাখা হতো এবং সমুদ্র পার হয়ে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করে জাত বিনষ্টের চেষ্টা চলত।
- ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আঘাত: খ্রিস্টান মিশনারিদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ প্রচেষ্টা, প্রাচীন ফারসি রাজভাষা বাতিল এবং ইংরেজি চাপিয়ে দেওয়াকে সনাতন সমাজ তাদের ধর্মের ওপর আক্রমণ মনে করেছিল।
- প্রত্যক্ষ কারণ—এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ: ১৮৫৭ সালের শুরুতে সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেল প্রবর্তন করা হয়, যার কার্তুজের ঢাকনা দাঁত দিয়ে কাটতে হতো। গুজব রটে যায় যে এ কার্তুজে গরু ও শুকরের চর্বি মিশ্রিত রয়েছে। গরু হিন্দুদের কাছে পবিত্র এবং শুকর মুসলমানদের কাছে হারাম হওয়ায় সিপাহীরা ধর্মনষ্টের ষড়যন্ত্র হিসেবে তা প্রত্যাখ্যান করে। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডে প্রথম বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেন এবং ১০ই মে মীরাটে সিপাহীরা বিদ্রোহ করে দিল্লী অভিমুখে যাত্রা করে বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে।
খ. বিদ্রোহের ঐতিহাসিক ফলাফল:
- কোম্পানি শাসনের অবসান ও মহারানির ঘোষণা (১৮৫৮): ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একশত বছরের শোষণমূলক শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুট (Crown) ও মহারানি ভিক্টোরিয়ার হাতে ন্যস্ত হয়।
- মুঘল সাম্রাজ্যের চিরতরে বিলুপ্তি: শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (মায়ানমার) নির্বাসনে পাঠানো হয় এবং তাঁর পুত্রদের নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে তিনশত বছরের গৌরবময় মুঘল সাম্রাজ্যের ইতি টানা হয়।
- মুসলিমদের ওপর চরম রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন: ব্রিটিশরা এ বিদ্রোহের জন্য মূলত মুসলমানদের দায়ী মনে করে হাজার হাজার আলেম ও মুসলিম ভদ্রলোককে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলায় এবং মুসলিমদের সরকারি চাকরি ও জমিদারি থেকে বঞ্চিত করে।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: এ বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এটি ভারতবাসীর মনে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিনাশী চেতনা জাগ্রত করে, যা পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধী ও সুভাষ বসুর জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের পথ দেখায়।
৪. দেওয়ানি বলতে কী বুঝ? বাংলায় কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলাফল বর্ণনা কর।
[What do you understand by Dewani? Give an account of getting Dewani by the Company in Bengal.]
ক. দেওয়ানির সংজ্ঞা:
মুঘল প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুবা বা প্রদেশের শাসন ক্ষমতা দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত ছিল: (১) নিজামত: সামরিক ক্ষমতা, আইনশৃঙ্খলা ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা (যা সুবাদার বা নাজিমের অধীন ছিল); এবং (২) দেওয়ানি: ভূমি রাজস্ব আদায়, সরকারি কোষাগার পরিচালনা এবং দেওয়ানি বিচারব্যবস্থা (যা দেওয়ানের অধীন ছিল)। সুতরাং, কোনো অঞ্চলের ভূমি রাজস্ব আদায় ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের আইনি ও সার্বভৌম কর্তৃত্বকেই দেওয়ানি (Dewani) বলা হয়। ১৭৬৫ সালের ১২ই আগস্ট লর্ড ক্লাইভ দিল্লির মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমকে বার্ষিক ২৬ লাখ টাকা কর প্রদানের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি ফরমান লাভ করেন।
খ. বাংলায় কোম্পানি কর্তৃক দেওয়ানি লাভের ফলাফল:
- দ্বৈত শাসনের প্রবর্তন (Dual Government): লর্ড ক্লাইভ বাংলায় এক অদ্ভুত ও দানবীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেন। কোম্পানির হাতে গেল রাজস্ব ও অর্থভাণ্ডারের পূর্ণ ক্ষমতা, কিন্তু প্রজা সুরক্ষার কোনো দায়িত্ব তারা নিল না (ক্ষমতা আছে কিন্তু দায়িত্ব নেই)। অন্যদিকে নবাব নজম-উদ-দৌলার হাতে রইল পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব, কিন্তু তা পরিচালনার মতো কোনো অর্থ তহবিল ছিল না (দায়িত্ব আছে কিন্তু ক্ষমতা ও অর্থ নেই)।
- নিষ্ঠুর রাজস্ব শোষণ: কোম্পানি নিলামে সর্বোচ্চ ডাককারীদের কাছে রাজস্ব আদায়ের ইজারা দেয়। দেশীয় নায়েব দেওয়ান রেজা খান ও সেতাব রায়ের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে বলপূর্বক অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হয়।
- বাংলার সম্পদ পাচার (Drain of Wealth): পূর্বে কোম্পানি পণ্য কিনতে ইংল্যান্ড থেকে স্বর্ণ-রৌপ্য আনত। কিন্তু দেওয়ানি লাভের পর বাংলার মানুষের কাছ থেকে আদায় করা রাজস্বের উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়েই বাংলার সিল্ক, মসলিন ও চাল কিনে ইংল্যান্ডে রপ্তানি শুরু করে। ফলে দেশীয় পুঁজি ব্যাপকভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যায়।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের মহাবিপর্যয় (১১৭৬ বঙ্গাব্দ/১৭৭০ খ্রি.): চরম অনাবৃষ্টি এবং কোম্পানির কর্মচারীদের নির্দয় চাল মজুত ও অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের ফলে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যাতে বাংলার এক কোটি মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে।
- কোম্পানির রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা: দেওয়ানি লাভের মাধ্যমেই একটি ক্ষুদ্র বণিক কোম্পানি কার্যত বাংলার সর্বময় প্রকৃত শাসকে পরিণত হয়।
৫. বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর এর প্রভাব নির্দেশপূর্বক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শিক্ষানীতি পর্যালোচনা কর।
[Review the education policy of East India Company emphasizing its impact on the Muslim community in Bengal.]
ক. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শিক্ষানীতি:
- প্রাথমিক প্রাচ্যবাদী নীতি (Orientalism): প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮১ সালে কলকাতা মাদ্রাসা এবং ১৭৯১ সালে বেনারস সংস্কৃত কলেজ স্থাপন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানি শাসনের জন্য ফারসি জানা মুন্সি ও হিন্দু পণ্ডিত তৈরি করা।
- ১৮১৩ সালের সনদ আইন ও এক লাখ টাকা বরাদ্দ: ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্টে শিক্ষার জন্য প্রথমবারের মতো বাৎসরিক এক লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এ অর্থ প্রাচ্য নাকি পাশ্চাত্য ভাষায় ব্যয় হবে তা নিয়ে ‘প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিতর্ক’ (Orientalist-Anglicist Controversy) শুরু হয়।
- ১৮৩৫ সালের মেকলে মিনিট (Macaulay’s Minute): লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আইন সচিব লর্ড মেকলে এক অহংকারী কার্যবিবরণী পেশ করেন। তিনি দাবি করেন: “A single shelf of a good European library was worth the whole native literature of India and Arabia.” তিনি এমন একটি শ্রেণি তৈরির সুপারিশ করেন যারা “রক্তে ও বর্ণে ভারতীয় হলেও রুচি, মতামত, নীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিতে হবে খাঁটি ইংরেজ।” সরকার মেকলের প্রস্তাব মেনে ইংরেজিকে শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম ও রাজভাষা ঘোষণা করে।
- ১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচ (Wood’s Despatch): আধুনিক ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে খ্যাত চার্লস উডের নির্দেশনায় প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত স্তরভিত্তিক শিক্ষা ও অনুদান প্রথা (Grants-in-aid) চালু হয়।
খ. বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব:
- ঐতিহ্যবাহী মুসলিম শিক্ষা ব্যবস্থার উচ্ছেদ: মুসলিম আমলে হাজার হাজার মসজিদ ও মাদ্রাসার ব্যয়নির্বাহ হতো লাখেরাজ (নিষ্কর) ও ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে। কিন্তু কোম্পানি কঠোর রেজাম্পশন আইন (Resumption Regulations) জারি করে দলিল প্রদর্শনে ব্যর্থতার অজুহাতে মুসলিমদের সকল নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্ত করে। ফলে শত শত মাদ্রাসা একযোগে বন্ধ হয়ে যায়। ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টার তাঁর বিখ্যাত ‘The Indian Musalmans’ গ্রন্থে লিখেছেন: “Our resumption laws ruined dozens of the finest Muslim families and dealt a fatal blow to their education system.”
- ফারসি ভাষা বাতিল ও প্রশাসনিক চাকরিচ্যুতি (১৮৩৭): ১৮৩৭ সালে শতাব্দীপ্রাচীন সরকারি রাজভাষা ফারসি বিলুপ্ত করে ইংরেজিকে আদালত ও প্রশাসনের একমাত্র মাধ্যম করা হয়। এর ফলে রাতারাতি সমগ্র মুসলিম শিক্ষিত সমাজ অযোগ্য ও নিরক্ষরে পরিণত হয়। সরকারি উচ্চপদগুলো থেকে মুসলিমদের একযোগে বিতাড়িত করা হয়।
- ধর্মীয় সংস্কারের কারণে ইংরেজি বর্জন: মুসলিম আলেম সমাজ প্রথম দিকে ইংরেজি শিক্ষাকে ঈমান বিধ্বংসী খ্রিস্টানদের ভাষা মনে করে তা বর্জনের ফতোয়া দেয়। পক্ষান্তরে হিন্দু সম্প্রদায় রাজা রামমোহন রায়ের নেতৃত্বে সানন্দে ইংরেজি শিখে সরকারি চাকরি, ওকালতি ও ব্যবসায় মুসলিমদের স্থান দখল করে নেয়। ফলে বাঙালি মুসলিমরা অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে শত বছর পিছিয়ে পড়ে এক নিঃস্ব মজুর জাতিতে পরিণত হয়।
৬. বাংলার মুসলিম জাগরণে সৈয়দ আমীর আলীর ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
[Evaluate the role of Syed Ameer Ali to the regeneration of the Muslims in Bengal.]
ভূমিকা: ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ব্রিটিশদের অবহেলা ও পশ্চাৎপদতার অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলার মুসলমানদের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তির দিশারী হিসেবে আবির্ভূত হন প্রখ্যাত আইনবিদ ও ঐতিহাসিক জাস্টিস সৈয়দ আমীর আলী (১৮৪৯–১৯২৮ খ্রি.)। তিনি ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম মুসলিম বিচারপতি এবং প্রিভি কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় সদস্য।
ক. সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা (১৮৭৭):
নবাব আব্দুল লতিফের মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি কেবল সামাজিক সংস্কারে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সৈয়দ আমীর আলী উপলব্ধি করেন যে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে একটি সুসংহত রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজন। ১৮৭৭ সালে তিনি কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ (Central National Mahommedan Association)। এটি ছিল ভারতের মুসলিমদের প্রথম রাজনৈতিক দল। সমগ্র ভারতবর্ষে এর ৫০টিরও বেশি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
খ. ১৮৮২ সালের ঐতিহাসিক স্মারকলিপি:
১৮৮২ সালে লর্ড রিপনের সরকারের নিকট তিনি একটি অত্যন্ত জোরালো ঐতিহাসিক স্মারকলিপি (Memorial of 1882) পেশ করেন। এতে তিনি সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের শোচনীয় বঞ্চনার তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুসলমানদের জন্য বিশেষ চাকরির কোটা সংরক্ষণ, মুসলিম বিচারক নিয়োগ এবং ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার জোর দাবি জানান। এর ফলে সরকার মুসলিম শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়।
গ. বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক অবদান:
পাশ্চাত্যের ইসলামবিদ্বেষী পণ্ডিতদের যুক্তি খণ্ডন করে তিনি ইংরেজি ভাষায় দুটি অমর ক্লাসিক গ্রন্থ রচনা করেন:
- ‘The Spirit of Islam’ (১৮৯১): এতে তিনি মহানবী (সা.)-এর পবিত্র চরিত্র এবং আধুনিক প্রগতিশীল মানবকল্যাণে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেন, যা বিশ্বজুড়ে তুমুল সমাদৃত হয়।
- ‘A Short History of the Saracens’ (১৮৮৯): এর মাধ্যমে মুসলিমদের অতীত বীরত্ব ও বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের প্রামাণ্য ইতিহাস তুলে ধরে তিনি হতাশ মুসলিম তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেন।
ঘ. পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা অর্জন (১৯০৯):
১৯০৮ সালে তিনি লন্ডনে মুসলিম লীগের শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৯ সালের ‘মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনে’ ভারতীয় মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা (Separate Electorate) সাংবিধানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করানোর পেছনে তাঁর অদম্য কূটনৈতিক অবদান ছিল সর্বাধিক।
খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি
৭. ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের কারণ ও ১৯১১ সালে এর রদের ফলাফল আলোচনা কর।
[Discuss the causes of the Partition of Bengal in 1905 and results of the annulment in 1911.]
কারণসমূহ: ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর লর্ড কার্জন বিশাল বাংলাকে বিভক্ত করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও আসাম নিয়ে ‘পূর্ব বাংলা ও আসাম’ প্রদেশ গঠন করেন। প্রধান কারণ ছিল প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাত, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক—বাংলার জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দুর্বল করা এবং পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা।
রদের ফলাফল: কংগ্রেস ও উচ্চবর্ণের হিন্দুদের প্রবল স্বদেশী বয়কট আন্দোলন ও সশস্ত্র চরমপন্থার মুখে ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ (বাতিল) করেন। এর ফলে মুসলিমরা চরমভাবে ব্যথিত ও ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে। এ সান্ত্বনা হিসেবেই ১৯১২ সালে মুসলিমদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
৮. ১৯২৩ সালের বঙ্গীয় চুক্তির ধারাসমূহ বিশ্লেষণ কর।
[Analyse the provision of the Bengal Pact in 1923 A.D.]
বাংলার হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তোলার জন্য স্বরাজ্য দলের নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৩ সালে যে যুগান্তকারী সমঝোতা চুক্তি সম্পাদন করেন, তাকে বঙ্গীয় চুক্তি বা বেঙ্গল প্যাক্ট (Bengal Pact) বলা হয়। প্রধান শর্তসমূহ:
- বাংলার আইনসভায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে এবং পৃথক নির্বাচনের নীতি বহাল থাকবে।
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোতে (পৌরসভা ও জেলা বোর্ড) সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের জন্য ৬০% এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ৪০% প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
- সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের মোট জনসংখ্যার অনুপাত (৫৫%) পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫৫% পদ মুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
- মসজিদের সামনে গান-বাজনা নিষিদ্ধ থাকবে এবং কোরবানি পালনে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। কিন্তু ১৯২৫ সালে সি. আর. দাশের অকাল মৃত্যুর পর সংকীর্ণমনা কংগ্রেস নেতারা এ মহৎ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন।
৯. ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ধাপগুলো বিশ্লেষণ কর।
[Analyze the provisions of the Lahore resolution of 1940.]
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ লাহোরের মিন্টো পার্কে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মূল বিধানসমূহ ছিল:
- ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনমতো সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
- ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহকে একত্রিত করে একাধিক ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ’ (Independent States) গঠন করতে হবে।
- এ রাষ্ট্রসমূহের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম (Autonomous and Sovereign)।
- সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে কার্যকর রক্ষাকবচ প্রদান করা হবে। এ ঐতিহাসিক প্রস্তাবই মূলত স্বাধীন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মূল তাত্ত্বিক ভিত্তিভূমি ছিল।
১০. ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির ফলাফল আলোচনা কর।
[Discuss the effects of the partition of India in 1947.]
১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ই আগস্ট মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার ভিত্তিতে দীর্ঘ দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী:
- ভৌগোলিক ও মানবিক বিপর্যয়: সিরিল র্যাডক্লিফের বিতর্কিত সীমানা কমিশনের কারণে বাংলা ও পাঞ্জাব বিভক্ত হয়। ইতিহাসের সর্ববৃহৎ শরণার্থী সংকট দেখা দেয়; প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় দশ লক্ষ নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়।
- কাশ্মীর সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে স্থায়ী যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয় যা আজও অমীমাংসিত।
- পূর্ব বাংলার জন্য নয়া শোষণ: পূর্ব বাংলা ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হলেও দ্রুত তারা বুঝতে পারে যে ব্রিটিশদের শোষণের বদলে তারা পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক জান্তার ঔপনিবেশিক শোষণের জালে বন্দি হয়েছে, যা পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বক্সারের যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয় এবং এতে ইংরেজ সেনাপতি কে ছিলেন?
১৭৬৪ সালের ২২শে অক্টোবর ঐতিহাসিক বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ইংরেজ বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন মেজর হেক্টর মনরো।
২. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে দেওয়ানি লাভ করে?
১৭৬৫ সালের ১২ই আগস্ট লর্ড ক্লাইভ দিল্লির মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন।
৩. ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ কে ছিলেন?
১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে সিপাহী মঙ্গল পাণ্ডে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে শাহাদাত বরণ করেন।
৪. জাস্টিস সৈয়দ আমীর আলী প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সংগঠনের নাম কী?
১৮৭৭ সালে তিনি কলকাতায় ভারতীয় মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।
৫. ১৯২৩ সালের বিখ্যাত ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ কে সম্পাদন করেছিলেন?
স্বরাজ্য দলের প্রখ্যাত নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ (সি. আর. দাশ) বাংলায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য ঐতিহাসিক বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদন করেন।
৬. ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেছিলেন কোন ভাইসরয়?
ব্রিটিশ ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর ঢাকাকে রাজধানী করে ‘পূর্ব বাংলা ও আসাম’ প্রদেশ গঠন করে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন।