জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

ইসলামে ধর্মীয়, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ধারার বিকাশ (Religious, Philosophical and Scientific Development in Islam) – 205307, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2020

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪০ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2020
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: ইসলামে ধর্মীয়, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ধারার বিকাশ
বিষয় কোড: 205307 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

১. ইসলাম কী? মানব জীবনে ইসলামের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

[What is Islam? Analyze the importance of Islam in human life.]

ক. ইসলামের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:

আরবি ‘ইসলাম’ (الإسلام) শব্দটি ‘সিলমুন’ (سلم) ও ‘সালামাতুন’ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, যার আভিধানিক অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। পারিভাষিক অর্থে, মহান আল্লাহ তা’আলার প্রতি একমাত্র উপাস্য হিসেবে পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আনীত যাবতীয় আদেশ-নিষেধের কাছে নিজের ইচ্ছাকে নিঃশর্তভাবে সমর্পণ করার নামই হলো ইসলাম। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “ইন্নাদ দীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম” (নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম – সূরা আলে ইমরান: ১৯)।

খ. মানব জীবনে ইসলামের অপরিহার্য গুরুত্ব:

  1. পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান (Complete Code of Life): ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়; এটি মানবজীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বিচারিক ও আন্তর্জাতিক সকল দিকের সুস্পষ্ট সমাধান দেয়: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং আমার নেয়ামত তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করলাম।” (সূরা আল-মায়িদা: ৩)।
  2. সঠিক আক্বীদা ও ভ্রান্তি থেকে মুক্তি: ইসলাম মানুষকে বহুঈশ্বরবাদ, অন্ধ কুসংস্কার ও মূর্তিপূজার দাসত্ব থেকে মুক্ত করে একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহর একত্ববাদের (তাওহীদ) সন্ধান দেয়, যা মানুষের চিন্তাশক্তিকে স্বাধীন ও উন্নত করে।
  3. সামাজিক সাম্য ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব: বংশ, বর্ণ, ভাষা ও ভৌগোলিক ব্যবধান মুছে ফেলে ইসলাম মানবজাতিকে এক অবিভাজ্য ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ করে। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) ঘোষণা করেন: “অনারবের ওপর আরবের এবং আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া।”
  4. ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ও শোষণমুক্তি: সুদ, জুয়া, প্রতারণা ও মজুতদারিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে ইসলাম যাকাত ও সাদাকাহ ভিত্তিক অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করেছে, যা ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান দূর করে।
  5. নৈতিক উৎকর্ষ সাধন: চুরি, ব্যভিচার, মদ্যপান ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর বিধান এবং সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও ক্ষমাশীলতার প্রশিক্ষণ দিয়ে ইসলাম মানুষকে নৈতিকতার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করে।
  6. পরকালীন জবাবদিহিতা ও মানসিক শান্তি: আখিরাতের বিচারদিবসের প্রতি বিশ্বাস মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে পাপ থেকে বিরত রাখে এবং চরম বিপদাপদেও আত্মহত্যার মতো হতাশা থেকে রক্ষা করে পরম মানসিক প্রশান্তি দান করে।

২. পবিত্র কুরআন সংরক্ষণ ও সংকলনের ইতিহাস লেখ।

[Write down the history of the preservation and compilation of the Holy Quran.]

ভূমিকা: মহান আল্লাহর অলৌকিক বাণী আল-কুরআন দীর্ঘ তেইশ বছরে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে খণ্ড খণ্ডভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু এর প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ অবিকৃতভাবে সুরক্ষিত রয়েছে। আল্লাহ বলেন: “ইন্না নাহনু নায্যালনায যিকরা ওয়া ইন্না লাহু লাহাফিযূন” (নিশ্চয় আমিই এ কুরআন নাযিল করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক – সূরা আল-হিজর: ৯)।

ক. মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় সংরক্ষণ:

  1. হিফজ বা মুখস্থকরণ: আরবদের স্মৃতিশক্তি ছিল অলৌকিক প্রখর। ওহী নাযিলের সাথে সাথে নবীজী (সা.) সাহাবীদের তা পাঠ করে শোনাতেন এবং শত শত সাহাবী তা সাথে সাথে মুখস্থ করে নিতেন। প্রতি রমজানে জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে নবীজী অবতীর্ণ কুরআন পুনরাবৃত্তি (দাওর) করতেন।
  2. ওহী লেখকদের মাধ্যমে লিপিবদ্ধকরণ: নবীজী (সা.)-এর প্রায় ৪২ জন বিশিষ্ট ওহী লেখক (কাতিবুল ওহী) ছিলেন, যাঁদের মধ্যে জায়েদ ইবনে সাবেত, আলী, উবাই ইবনে কা’ব প্রমুখ প্রধান ছিলেন। ওহী আসার পর নবীজীর নির্দেশে তাঁরা তা খেজুরের ডাল, চ্যাপ্টা পাথর, পশুর চামড়া, হাড় ও কাঠে লিখে রাখতেন এবং নবীজী আয়াত ও সূরার সুনির্দিষ্ট ক্রমবিন্যাস বলে দিতেন।

খ. হযরত আবু বকর (রা.)-এর আমলে প্রথম গ্রন্থবদ্ধকরণ (১২ হিজরী/৬৩৩ খ্রি.):

ভণ্ড নবী মুসায়লামা কাযযাবের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী ইয়ামামার যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন শীর্ষ হাফিজ সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন। এতে কুরআনের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে হযরত উমর (রা.) খলিফা আবু বকর (রা.)-কে কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলনের ঐতিহাসিক পরামর্শ দেন। আবু বকর (রা.) প্রধান ওহী লেখক জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেন। অত্যন্ত কঠোর বৈজ্ঞানিক নীতি অনুসরণ করে (অন্তত দুজন চাক্ষুষ সাক্ষীর লিখিত পাণ্ডুলিপি ও মুখস্থের হুবহু মিল) পবিত্র কুরআনকে একটি মলাটবদ্ধ গ্রন্থে সংকলন করা হয়। এ আদি প্রামাণ্য প্রতিলিপিকে ‘সুহুফ’ বলা হয়, যা আবু বকর (রা.), অতঃপর উমর (রা.) এবং পরবর্তীতে উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.)-এর হেফাজতে সংরক্ষিত ছিল।

গ. হযরত উসমান (রা.)-এর আমলে প্রমিত সংকলন ও বিশ্বব্যাপী প্রচার (২৫ হিজরী/৬৪৬ খ্রি.):

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান অভিযানে গিয়ে সাহাবী হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) লক্ষ্য করেন যে বিভিন্ন প্রদেশের নওমুসলিমরা স্থানীয় উচ্চারণভেদে কুরআন তিলাওয়াত নিয়ে বিতর্কে জড়াচ্ছে। তিনি খলিফা উসমান (রা.)-কে উম্মাহর ঐক্যের স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আবেদন জানান। উসমান (রা.) হাফসা (রা.)-এর নিকট থেকে মূল সুহুফটি আনেন এবং জায়েদ ইবনে সাবেতের নেতৃত্বে কুরাইশ উচ্চারণে একাধিক প্রমিত অনুলিপি প্রস্তুত করেন। এ প্রমিত প্রতিলিপিগুলো মক্কা, কুফা, বসরা, দামেস্ক ও বাহরাইনে একটি করে পাঠিয়ে দেন এবং ব্যক্তিগত অপূর্ণ অনুলিপিগুলো বিনষ্টের নির্দেশ দেন। এ ঐতিহাসিক অবদানের কারণে উসমান (রা.)-কে ‘জামি’উল কুরআন’ (কুরআন সংগ্রাহক) উপাধিতে স্মরণ করা হয়।


৩. ইসলামের মৌলিক নীতিগুলো কী কী? আলোচনা কর।

[What are the fundamental principles of Islam? Discuss.]

ভূমিকা: ইসলামের সমগ্র প্রাসাদ কতগুলো সুস্পষ্ট ও সুসংহত স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বিখ্যাত ‘হাদীসে জিবরাঈল’-এ ইসলামের মৌলিক ভিত্তিগুলোকে প্রধানত ঈমানি বিশ্বাস (আক্বাঈদ) এবং ব্যবহারিক ইবাদত (আরকান) হিসেবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

ক. মৌলিক বিশ্বাসসমূহ (উসূলুল ঈমান):

  1. তাওহীদ (একত্ববাদ): আল্লাহকে একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও উপাস্য হিসেবে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা এবং তাঁর সত্তা বা গুণে কাউকে শরিক না করা।
  2. রিসালাত (নবুওয়াত): মানবজাতির হিদায়েতের জন্য প্রেরিত আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী (খাতামুন্নাবিয়্যীন) হিসেবে স্বীকার করা।
  3. আসমানী কিতাবসমূহে বিশ্বাস: আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল এবং সর্বশেষ ও অপরিবর্তিত মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বিশ্বাস।
  4. ফেরেশতাগণে বিশ্বাস: নূরের তৈরি অদৃশ্য ফেরেশতাগণের অস্তিত্বে বিশ্বাস।
  5. আখিরাত ও পুনরুত্থান: মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, হাশরের ময়দানে কর্মের হিসাব, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর অটল বিশ্বাস।
  6. তাকদীর (ভাগ্যলিপি): ভালো-মন্দ সবকিছু আল্লাহর পূর্বজ্ঞান ও ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়ার ওপর বিশ্বাস।

খ. ব্যবহারিক স্তম্ভসমূহ (আরকানুল ইসলাম):

  1. কালিমা শাহাদাত: মুখে উচ্চারণ ও অন্তরে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
  2. সালাত কায়েম করা: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, যা মানুষের আত্মাকে পাপ ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র রাখে।
  3. যাকাত প্রদান: নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ (২.৫%) দরিদ্র ও অভাবীদের মাঝে সুষমভাবে বণ্টন করা।
  4. সিয়াম বা রোজা পালন: মাহে রমজানের পুরো মাস সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও পাপাচার থেকে বিরত থেকে আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জন করা।
  5. হজ সম্পাদন: শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার পবিত্র মক্কায় কা’বা শরীফ জিয়ারত ও হজের রোকনসমূহ পালন করা।

৪. মুসলিম দর্শন কী? মুসলিম দর্শনের উৎসসমূহ পর্যালোচনা কর।

[What is Muslim philosophy? Review the sources of Muslim philosophy.]

ক. মুসলিম দর্শনের সংজ্ঞা (Concept of Muslim Philosophy):

মুসলিম দর্শন বা ‘আল-ফালসাফা আল-ইসলামিয়্যাহ’ (الفلسفة الإسلامية) হলো এমন একটি সুসংহত বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিক চিন্তাধারা যা পবিত্র কুরআনের সত্যসমূহ এবং যুক্তি ও বুদ্ধির সমন্বয়সাধন করে মহাবিশ্ব, স্রষ্টা, মানবাত্মা, নৈতিকতা ও পরকালের স্বরূপ ব্যাখ্যা করে। মুসলিম দর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রিক বা অন্যান্য দর্শনকে অন্ধভাবে অনুকরণ করা নয়; বরং যুক্তি ও প্রজ্ঞার কষ্টিপাথরে ঐশী সত্যকে বিশ্লেষণ করা। আল-কিন্দি, আল-ফারাবি, ইবনে সীনা, ইমাম আল-গাজ্জালী ও ইবনে রুশদ হলেন এ দর্শনের প্রধান স্থপতি।

খ. মুসলিম দর্শনের প্রধান উৎসসমূহ:

  1. পবিত্র আল-কুরআন: মুসলিম দর্শনের সর্বপ্রথম ও সর্বোচ্চ অনুপ্রেরণার উৎস হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। কুরআনের শতাধিক আয়াতে মানুষকে অন্ধ বিশ্বাস পরিহার করে চিন্তা-ভাবনা, গবেষণা ও যুক্তি প্রয়োগের স্পষ্ট তাগিদ দেওয়া হয়েছে: “আফালা তা’কিলূন” (তোমরা কি বুদ্ধি প্রয়োগ করবে না?), “আফালা তাতাফাক্কারূন” (তোমরা কি চিন্তা-গবেষণা করবে না?)। সৃষ্টিতত্ত্ব, আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি, ন্যায়বিচার ও আত্মার অমরত্ব সংক্রান্ত কুরআনিক ধারণাগুলোই মুসলিম দর্শনের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়।
  2. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ ও হাদীস: মহানবী (সা.)-এর প্রজ্ঞাময় বাণী ও যুক্তিযুক্ত জীবনবোধ মুসলিম দার্শনিকদের যুক্তিবাদিতা ও জ্ঞানসন্ধানে গভীর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে: “জ্ঞান ও প্রজ্ঞা হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, যেখানেই সে তা পায়, সে-ই তার সর্বাধিক হকদার।”
  3. ইলমুল কালাম বা অভ্যন্তরীণ ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্ক: ইসলামের প্রাথমিক যুগে কাদারিয়্যা, জাবারিয়্যা ও মু’তাজিলা সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাধীন ইচ্ছা (Free will), অদৃষ্টবাদ এবং কুরআনের সৃষ্ট বা অসৃষ্ট রূপ নিয়ে যে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়, তা থেকেই খাঁটি মুসলিম যুক্তিবাদী দর্শনের উদ্ভব ঘটে।
  4. গ্রিক দর্শনের আত্মীকরণ ও পরিশোধন: আব্বাসীয় স্বর্ণযুগে প্লেটো, এরিস্টটল, নিও-প্লেটোনিজম ও পিথাগোরাসের দর্শন আরবিতে রূপান্তরিত হলে মুসলিম চিন্তাবিদগণ তা গভীর অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করেন। তবে মুসলিম পণ্ডিতগণ গ্রিক ভাববাদকে হুবহু গ্রহণ করেননি; বরং যেখানেই তা কুরআনিক তাওহীদের সাথে সাংঘর্ষিক হয়েছে, সেখানেই তা খণ্ডন করে নতুন ইসলামি দর্শনের রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন।
  5. প্রাচীন পারসিক ও ভারতীয় জ্ঞানভাণ্ডার: প্রাচীন পারস্যের নৈতিক দর্শন এবং ভারতীয় গণিত ও যুক্তিবিদ্যার সংমিশ্রণও মুসলিম দার্শনিক চিন্তাকে সমৃদ্ধ করেছিল।

৫. আব্বাসীয় আমলে জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশে “দারুল তারজামা” ও “বাইতুল হিকমার” ভূমিকা নিরূপণ কর।

[Determine the role of “Dar-al-Tarjamah” and “Baitul Hikmah” to the development of learning under the Abbasids.]

ভূমিকা: আব্বাসীয় খিলাফতকাল (৭৫০–১২৫৮ খ্রি.) ছিল বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানের সোনালী যুগ (Golden Age of Islam)। এ যুগের জ্ঞানবিপ্লবের মূল প্রাণকেন্দ্র ছিল বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত রাজকীয় প্রাচীন শাস্ত্র রূপান্তর কেন্দ্র বা ব্যুরো এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সমন্বিত জ্ঞানালয় ‘বাইতুল হিকমাহ’ (House of Wisdom)

ক. শাস্ত্রীয় ভাষা রূপান্তর কেন্দ্র বা ব্যুরোর ভূমিকা:

  1. খলিফা আল-মনসুরের যুগান্তকারী সূচনা: আব্বাসীয় খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আল-মনসুর (৭৫৪–৭৭৫ খ্রি.) সর্বপ্রথম প্রাচীন গ্রিক, সিরিয়াক, ফারসি ও সংস্কৃত ভাষার বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক গ্রন্থসমূহ আরবি ভাষায় রূপান্তরের জন্য একটি বিশেষ রাজকীয় ব্যুরো প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্কৃত জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রন্থ ‘ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত’ (আরবিতে ‘আল-সিন্ধিন্দ’) তাঁর নির্দেশেই আরবিতে রূপায়িত হয়।
  2. পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ: খলিফা হারুনুর রশীদ ও আল-মামুন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে রাজকীয় প্রতিনিধি পাঠিয়ে উটের পিঠে বোঝাই করে প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডারের মূল্যবান মূল পাণ্ডুলিপি বাগদাদে নিয়ে আসেন।
  3. স্বর্ণের ওজনে সম্মানী প্রদান: খলিফা আল-মামুন জ্ঞানচর্চায় এতটাই উদার ছিলেন যে, কোনো পণ্ডিত বিদেশি কোনো শাস্ত্রীয় মূল্যবান গ্রন্থ বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় রূপান্তর করে উপস্থাপন করলে, পাণ্ডুলিপির ঠিক সমান ওজনের খাঁটি স্বর্ণ তাকে পারিশ্রমিক হিসেবে উপহার দিতেন।

খ. বাইতুল হিকমার (House of Wisdom) ঐতিহাসিক ভূমিকা:

  1. প্রতিষ্ঠা ও সমন্বিত রূপ: ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল-মামুন বাগদাদে ‘বাইতুল হিকমাহ’ (دار الحكمة / بيت الحكمة) স্থাপন করেন। এটি একই সাথে একটি আধুনিক অ্যাকাডেমি, সুবিশাল আন্তর্জাতিক গণগ্রন্থাগার (খিজানাতুল হিকমাহ), মানমন্দির (Observatory) এবং উন্নত গবেষণা কেন্দ্রের সমন্বিত রূপ ছিল।
  2. হুনাইন ইবনে ইসহাকের কৃতিত্ব: বিখ্যাত খ্রিস্টান পণ্ডিত হুনাইন ইবনে ইসহাক ছিলেন বাইতুল হিকমার প্রধান পরিচালক। তিনি প্লেটো, এরিস্টটল, গ্যালেন ও হিপোক্রেটিসের প্রায় সকল অমূল্য চিকিৎসা ও দর্শন শাস্ত্রের মূল গ্রন্থ নিখুঁতভাবে আরবিতে রূপান্তর করেন।
  3. মৌলিক আবিষ্কার ও বিজ্ঞানীদের আঁতুড়ঘর: বাইতুল হিকমায় কেবল রূপান্তরের কাজ হতো না; বরং সেখান থেকে জন্ম নেয় মৌলিক বিজ্ঞান। বীজগণিতের জনক আল-খাওয়ারিজমি, দার্শনিক আল-কিন্দি, জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-ফারগানী এবং বানু মুসা ভ্রাতৃদ্বয় বাইতুল হিকমায় বসেই তাঁদের অমর মৌলিক গ্রন্থসমূহ রচনা করেন।
  4. ইউরোপীয় রেনেসাঁর ভিত্তিপ্রস্তর: বাইতুল হিকমায় সংরক্ষিত ও পরিশোধিত এ বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারই পরবর্তীতে স্পেনের কর্ডোভা ও সিসিলি হয়ে ল্যাটিন মাধ্যমে সমগ্র ইউরোপে প্রবেশ করে মধ্যযুগীয় বর্বর ইউরোপকে আধুনিক রেনেসাঁ ও বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের আলো দেখিয়েছিল।

৬. গণিত শাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান উল্লেখ কর।

[Mention the contribution of Muslims in Mathematics.]

ভূমিকা: মধ্যযুগে মুসলমানরা গণিত শাস্ত্রে যে বিস্ময়কর ও মৌলিক অগ্রগতি সাধন করেছিলেন, তা ছাড়া বর্তমানের আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মহাকাশ গবেষণা কল্পনাও করা যেত না। আধুনিক গণিতের ভিত্তিপ্রস্তর মূলত মুসলিম বিজ্ঞানীদের হাতেই স্থাপিত হয়েছে।

মুসলিম গণিতবিদদের শীর্ষস্থানীয় অবদানসমূহ:

  1. বীজগণিতের (Algebra) আবিষ্কারক আল-খাওয়ারিজমি: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি (৭৮০–৮৫০ খ্রি.) বীজগণিতকে পাটিগণিত থেকে পৃথক করে একটি স্বাধীন বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘কিতাব আল-জাবর ওয়াল মুকাবালা’ থেকেই ইংরেজি ‘Algebra’ শব্দের উৎপত্তি। তিনিই লিনিয়ার ও কোয়াড্রেটিক সমীকরণ সমাধানের প্রথম নিয়ম আবিষ্কার করেন। তাঁর নাম অনুসারেই আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রাণ ‘Algorithm’ (অ্যালগরিদম) নামকরণ হয়েছে।
  2. শূন্য (Zero) এবং আরবি সংখ্যামালার প্রবর্তন: মুসলমানরা শূন্যের (আরবি ‘সিফর’ থেকে ইংরেজিতে ‘Cipher/Zero’) পূর্ণাঙ্গ গাণিতিক প্রয়োগ ও দশমিক ভগ্নাংশ আবিষ্কার করেন। রোমান সংখ্যার জটিল পদ্ধতির স্থলে ১ থেকে ৯ এবং শূন্য সংবলিত ‘আরবি সংখ্যাপদ্ধতি’ (Arabic Numerals) বিশ্বব্যাপী চালু করেন, যা আন্তর্জাতিক আধুনিক গণিতের ভিত্তি।
  3. ত্রিকোণমিতির (Trigonometry) বিকাশ আল-বাত্তানী ও আবুল ওয়াফা: ত্রিকোণমিতিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের শাখা থেকে মুক্ত করে স্বতন্ত্র রূপ দেন আল-বাত্তানী ও আবুল ওয়াফা বুযজানী। তাঁরা সাইন (Sine), কোসাইন (Cosine), ট্যানজেন্ট (Tangent) এবং কোট্যানজেন্টের সারণি তৈরি করেন এবং নিখুঁত ত্রিকোণমিতিক সূত্র প্রণয়ন করেন।
  4. ওমর খৈয়ামের ঘন সমীকরণ (Cubic Equation): পারস্যের প্রখ্যাত গণিতবিদ ওমর খৈয়াম জ্যামিতিক পদ্ধতিতে ৩য় মাত্রার ঘন সমীকরণ (Cubic Equation) সমাধানের অনন্য পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি তৎকালীন জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়েও নিখুঁত ‘জালালী ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করেন।
  5. আল-বিরুনী ও পৃথিবীর পরিধি পরিমাপ: বিশ্বখ্যাত বহুশাস্ত্রবিদ আল-বিরুনী ত্রিকোণমিতিক সাইন সূত্রের সাহায্যে পাকিস্তানের পিন্ড দাদন খানের নন্দনা দুর্গে বসে এককভাবে পৃথিবীর পরিধি পরিমাপ করেছিলেন ৬,৩৩৯ কিলোমিটার, যা আধুনিক উপগ্রহীয় পরিমাপের (৬,৩৭৮ কিমি) প্রায় ৯৯.৫% নিখুঁত ছিল!
  6. নাসিরুদ্দীন তুসীর অবদান: তিনি ত্রিকোণমিতিকে একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে ঘোষণা করে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘শাকলুল কাত্ত্বা’ রচনা করেন।

খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

৭. (ক) যাকাত কী?

[What is Zakat?]

আরবি ‘যাকাত’ (الزكاة) শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা, বৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি লাভ করা। শরীয়তের পরিভাষায়, নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন মুসলিমের জন্য বছরান্তে তার মূল উদ্বৃত্ত ধন-সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫%) অর্থ বা সমমূল্যের পণ্য আল্লাহর নির্ধারিত আটটি খাতের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মালিকানা হস্তান্তর করে প্রদান করাকে যাকাত বলে। এটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ এবং এটি প্রদানের মাধ্যমে ধনীর অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র ও প্রাচুর্যময় হয়।

৭. (খ) ইবনে সীনা কে?

[Who was Ibn Sina?]

আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে সিনা (৯৮০–১০৩৭ খ্রি.), পাশ্চাত্যে যিনি ‘অ্যাভিসেনা’ (Avicenna) নামে পরিচিত, ছিলেন মধ্যযুগের মুসলিম বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও বিশ্বকোষীয় দার্শনিক। তাঁকে ‘আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক’ ও ‘আমিরুল আতিব্বা’ বলা হয়। তাঁর রচিত বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব’ (The Canon of Medicine) দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে ইউরোপ ও প্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রধান পাঠ্যপুস্তক হিসেবে পঠিত হয়েছে। তিনি সংক্রামক রোগের ছড়ানোর মাধ্যম, জীবাণুর অস্তিত্ব এবং আধুনিক মনোরোগবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর অপর দর্শন গ্রন্থ হলো ‘কিতাবুশ শিফা’

৭. (গ) মুয়াল্লাকা কী?

[What is Muallaqah?]

ইসলাম-পূর্ব প্রাক-ইসলামি জাহেলি যুগের আরবে প্রতি বছর মক্কার উপকণ্ঠে ‘উকাজ’ মেলায় বিখ্যাত কবিদের মধ্যে কাব্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। এ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সাতটি শ্রেষ্ঠ ও দীর্ঘ প্রশংসাগীতি বা কাসীদাকে স্বর্ণাক্ষরে মিশরের সূক্ষ্ম কাপড়ে লিখে কা’বা শরীফের প্রাচীরে ঝুলিয়ে রাখা হতো। আরবিতে ‘মুয়াল্লাকা’ (المعلقات) শব্দের অর্থ ঝুলন্ত বা প্রলম্বিত কবিতাসমূহ। এ সাতজন অমর কবিকে ‘আসহাবে মুয়াল্লাকাত’ বলা হয়, যাঁদের মধ্যে ইমরুল কায়েস, তারাফা, যুহাইর ইবনে আবি সুলমা, লাবিদ, আন্তারা, আমর ইবনে কুলসুম এবং আল-হারিস ইবনে হিল্লিজা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এগুলো প্রাচীন আরবি সাহিত্যের অনুপম ক্লাসিক নিদর্শন।

৭. (ঘ) সালাতের ধর্মীয় গুরুত্ব কী?

[What is the religious importance of Salat?]

সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ইবাদত। মহানবী (সা.) সালাতকে দ্বীনের খুঁটি বা স্তম্ভ (ইমাদুদ্দীন) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন; খুঁটি ভেঙে পড়লে যেমন ঘর টিকে থাকে না, তেমনি সালাত ছাড়া ঈমান রক্ষা পায় না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে।” (সূরা আল-আনকাবূত: ৪৫)। কিয়ামতের ময়দানে বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব গ্রহণ করা হবে। সালাত বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে এবং মুমিনের মিরাজস্বরূপ কাজ করে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ইসলামে ঈমানের মৌলিক ভিত্তি কয়টি ও কী কী?

ঈমানের মৌলিক ভিত্তি ছয়টি: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ফেরেশতাগণে বিশ্বাস, আসমানী কিতাবে বিশ্বাস, নবী-রাসূলগণে বিশ্বাস, আখিরাতে বিশ্বাস এবং তাকদীরে বিশ্বাস।

২. পবিত্র কুরআন প্রথম গ্রন্থাকারে সংকলন করেন কে?

ইয়ামামার যুদ্ধের পর হযরত উমর (রা.)-এর পরামর্শে প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) প্রধান ওহী লেখক জায়েদ ইবনে সাবেতের নেতৃত্বে কুরআন প্রথম গ্রন্থাকারে সংকলন করেন।

৩. বীজগণিত শাস্ত্রের জনক কে এবং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কী?

মুসলিম গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি বীজগণিতের জনক। তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ হলো ‘কিতাব আল-জাবর ওয়াল মুকাবালা’।

৪. বাগদাদের ‘বাইতুল হিকমাহ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে ঐতিহাসিক জ্ঞান চর্চাকেন্দ্র ও গবেষণাগার ‘বাইতুল হিকমাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন।

৫. ইবনে সিনার বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞান গ্রন্থের নাম কী?

ইবনে সিনার প্রধান চিকিৎসাবিজ্ঞান গ্রন্থ হলো ‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব’ (The Canon of Medicine), যা ইউরোপীয় রেনেসাঁ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্য ছিল।

৬. সাব’আ মুয়াল্লাকাত কী?

প্রাক-ইসলামি জাহেলি যুগের উকাজের মেলায় নির্বাচিত সাতজন শ্রেষ্ঠ কবির স্বর্ণাক্ষরে লিখিত সাতটি শ্রেষ্ঠ দীর্ঘ কাসীদা, যা পবিত্র কা’বার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *