اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القسم: الحديث والدراسات الإسلامية [বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المادة: السنن للإمام أبي داؤد [বিষয়: আস-সুনান লিল ইমাম আবী দাঊদ]
كود المادة [বিষয় কোড]: 409 | كود الامتحان [পরীক্ষা কোড]: 204 | كود ورقة الأسئلة [প্রশ্নপত্র কোড]: 176
الزمن [সময়]: ৪ ঘণ্টা | الدرجات الكاملة [পূর্ণমান]: ৮০
الملاحظة [দ্রষ্টব্য]: اجب عن اربعة من مجموعة (أ) و عن واحد من مجموعة (ب) والدرجات متساوية- [ক বিভাগ (مجموعة أ) থেকে যে কোনো চারটি এবং খ বিভাগ (مجموعة ب) থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান (১৬ নম্বর)।]
مجموعة (أ) – [ক বিভাগ]
নিচের হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। মান: ১৬ × ৪ = ৬৪
১. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
١- حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : ألا كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته- فالأمير الذي على الناس راع عليهم وهو مسئول عنهم والرجل راع على أهل بيته وهو مسئول عنهم والمرأة راعية على بيت بعلها وولده وهى مسئولة عنهم والعبد راع على مال سيده وهو مسئول عنه ، فكلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته-
[১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল (রা’ঈ) এবং তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব, জনগণের ওপর নিযুক্ত শাসক একজন দায়িত্বশীল, সে তার প্রজাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, সে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর ঘর-সংসার ও সন্তানদের তত্ত্বাবধায়ক, সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। এবং কৃতদাস তার মনিবের ধন-সম্পদের পাহারাদার, সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব জেনে রেখো! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্তদের ব্যাপারে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবে।”
(أ) ما المراد باالراعي فى الحديث؟
[(ক) হাদিসে ‘রা’ঈ’ (الراعي – অভিভাবক/দায়িত্বশীল) দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]
উত্তর:
ভূমিকা: ইসলামি সমাজব্যবস্থায় ব্যক্তি ও সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল ভিত্তি হলো আমানতদারি ও দায়িত্ববোধ। আলোচ্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ উপমায় ‘রা’ঈ’ পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন।
১. ‘রা’ঈ’ (الراعي)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
- আভিধানিক অর্থ: ‘রা’ঈ’ শব্দটি ‘রিয়ায়াহ’ (الرعاية) ধাতু থেকে ইসমে ফায়েল (কর্তৃকারক)। এর আভিধানিক অর্থ হলো—রাখাল, রাখী, রক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক, সংরক্ষণকারী, পরিচালক ও অভিভাবক।
- পারিভাষিক তাৎপর্য: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, ‘রা’ঈ’ হলেন সেই ব্যক্তি যাঁর ওপর কোনো ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ বা সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কল্যাণ সাধন এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের দায়িত্ব সমর্পণ করা হয়েছে।
২. হাদিসের আলোকে দায়িত্বশীলতার বিভিন্ন স্তর:
- রাষ্ট্রপ্রধান ও শাসক (الأمير): তিনি জনগণের জান, মাল, ইজ্জত রক্ষা এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও শরিয়তের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর দরবারে চূড়ান্তভাবে দায়ী।
- পরিবারের কর্তা (الرجل): পরিবারের ভরণপোষণ, দ্বীনি শিক্ষা প্রদান এবং পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য পুরুষ অভিভাবক হিসেবে জিজ্ঞাসিত হবে।
- নারী বা গৃহিণী (المرأة): স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাঁর সম্মান ও ধন-সম্পদ হেফাজত করা এবং সন্তানদের সৎ নৈতিকতায় গড়ে তোলার দায়িত্ব নারীর।
- কর্মচারী ও সেবক (العبد): মালিকের অর্পিত দায়িত্ব ও সম্পত্তির বিশ্বস্ততার সাথে পাহারা দেওয়া তাঁর দায়িত্ব।
(ب) اكتب نبذة من حياة عبد الله بن عمر رضى الله عنه-
[(খ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর:
- নাম ও বংশপরিচয়: নাম আব্দুল্লাহ, কুনিয়াত আবু আব্দুর রহমান। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা (রা.)-এর সহোদর ভাই। কুরাইশ বংশের বনু আদি শাখার সন্তান।
- ইসলাম গ্রহণ ও হিজরত: তিনি শৈশবেই নবুওয়াতের দশম সনে পিতার সাথে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পিতার সাথেই মদিনায় হিজরত করেন।
- জিহাদে অংশগ্রহণ: বদর ও উহুদের যুদ্ধের সময় বয়স কম থাকায় রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি। ১৫ বছর বয়সে খন্দকের যুদ্ধে প্রথম অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এরপর বায়’আতে রিদওয়ান ও মক্কা বিজয়সহ পরবর্তী সকল অভিযানে বীরত্বের সাথে অংশ নেন।
- সুন্নাতের অনুসরণে অনন্য দৃষ্টান্ত: সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সুন্নাতের চুলচেরা অনুসরণে হযরত ইবনে উমর (রা.) ছিলেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) যে পথে হেঁটেছেন, যেখানে বসে বিশ্রাম নিয়েছেন, যে গাছে ছায়া নিয়েছেন—ইবনে উমরও পরম ভালোবাসায় হুবহু তা অনুসরণ করতেন।
- হাদিস বর্ণনা ও ফতোয়া প্রদান: তিনি ‘মুকছিরীন’ (অধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি)-দের অন্যতম। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২,৬৩০টি। মদিনা মুনাওয়ারায় তিনি দীর্ঘ ৬০ বছর যাবত ইলমে হাদিসের দরস ও ফতোয়া প্রদান করেন। ইমাম নাফে’ ও ইমাম যুহরী তাঁর শীর্ষ ছাত্র ছিলেন।
- ফিতনা থেকে নিরাসক্তি ও দুনিয়াবিমুখতা: হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর সাহাবিদের মধ্যকার রাজনৈতিক মতভেদে তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন। খিলাফতের লোভনীয় প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
- ইন্তেকাল: তিনি ৭৩ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায় প্রায় ৮৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। মক্কার ‘যী তুওয়া’ নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
২. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٢- أتى رجل عبد الله بن عمرو وعنده القوم حتى جلس عنده فقال أخبرنى بشيئ سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه-
[২. এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর কাছে এমন সময় এলো যখন তাঁর কাছে একদল লোক বসা ছিল। লোকটি তাঁর কাছে বসে বলল: আমাকে এমন একটি কথা শুনান যা আপনি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে শুনেছেন। তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেছেন: “প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্যান্য মুসলমানরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে; আর প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা চূড়ান্তভাবে বর্জন করে।”
(أ) ما معنى الهجرة لغة وشرعا؟ وكم قسما لها؟ أوضح حق الإيضاح-
[(ক) হিজরতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এর প্রকারভেদ কয়টি ও কী কী? যথাযথভাবে ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর:
১. হিজরত (الهجرة)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ:
- আভিধানিক অর্থ: ‘হিজরত’ শব্দটি আরবি ‘হাজর’ (الهجر) মূলধাতু থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ হলো—ত্যাগ করা, ছেড়ে দেওয়া, কোনো স্থান বা সঙ্গ বর্জন করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং দূরত্ব বজায় রাখা।
- পারিভাষিক অর্থ: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নিজের দ্বীন ও ঈমান রক্ষার উদ্দেশ্যে কুফর ও শিরকের দেশ বা পাপের পরিবেশ পরিত্যাগ করে ইসলামের আবাসভূমি বা নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে গমনাগমন করাকে হিজরত বলে।
২. হিজরতের প্রকারভেদ:
- ভৌগোলিক বা স্থানগত হিজরত (الهجرة المكانية): নিজের দ্বীন পালন অসম্ভব হয়ে পড়লে দারুল কুফর বা দারুল হরব থেকে দারুল ইসলামে হিজরত করা। এর দুটি ঐতিহাসিক রূপ ছিল:
- মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত: মক্কা বিজয়ের পূর্বে এটি মুসলমানদের জন্য ফরজ ছিল। মক্কা বিজয়ের পর এই বিশেষ হিজরতের আবশ্যকতা শেষ হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন: «لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الفَتْحِ» (মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই)।
- ঈমান রক্ষার্থে সাধারণ হিজরত: যে কোনো দেশে যদি কোনো মুসলমানের পক্ষে ফরজ আমল ও আকিদা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে হিজরত করা কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
- আত্মিক ও নৈতিক হিজরত (الهجرة المعنوية / القلبية): শরিয়তের নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিত্যাগ করা। আল্লাহর অবাধ্যতা, কুপ্রবৃত্তি, শিরক, বিদআত এবং সকল প্রকার পাপকর্ম চিরতরে ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে আসাকে আত্মিক হিজরত বলা হয়। এই হিজরত প্রতিটি মুসলমানের জন্য প্রতি মুহূর্তে ফরজ।
(ب) من هم المهاجرون؟ بين في ضوء الحديث-
[(খ) হাদিসের আলোকে প্রকৃত মুহাজির কারা? ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর:
- হাদিসের মূল বার্তা: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: «وَالمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ» অর্থাৎ কেবল শারীরিকভাবে এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ডে পাড়ি দিলেই প্রকৃত মুহাজির হওয়া যায় না; বরং যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়াবলিকে বর্জন করে, সে-ই আল্লাহর নিকট প্রকৃত মুহাজির।
- পাপমুক্তির সংগ্রাম: পার্থিব লোভ-লালসা, পরশ্রীকাতরতা, অহংকার, মিথ্যাচার, হারাম উপার্জন এবং যাবতীয় গর্হিত কাজ পরিত্যাগ করা একজন মুমিনের জীবনে হিজরতের চেয়েও বড় জিহাদ।
- উপসংহার: বাহ্যিক হিজরতের সওয়াব তখনই অর্জিত হয় যখন অন্তরে গুনাহ বর্জনের হিজরত বাস্তবায়িত হয়।
৩. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٣- عن إبن عباس رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لما أصيب إخوانكم بأحد جعل الله أرواحهم فى جوف طير خضر ترد أنهار الجنة تأكل من ثمارها وتأوى إلى قناديل من ذهب معلقة في ظل العرش فلما وجدوا طيب مأكلهم ومشربهم ومقيلهم قالوا من يبلغ إخواننا عنا أنا أحياء في الجنة نرزق لئلا يزهدوا في الجهاد ولا ينكلوا عند الحرب فقال الله تعالى: أنا أبلغهم عنكم قال وأنزل الله تعالى عز وجل: ‘ولا تحسبن الذين قُتلوا في سبيل الله أمواتا’ إلى اخر الآيات-
[৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “উহুদের যুদ্ধে যখন তোমাদের ভাইয়েরা শাহাদাতবরণ করলেন, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদের রূহসমূহকে সবুজ পাখির পেটের ভেতর স্থাপন করলেন। তারা জান্নাতের নদীসমূহে ঘুরে বেড়ায়, জান্নাতের ফলমূল আহার করে এবং আরশের ছায়ায় ঝুলন্ত সোনার প্রদীপে আশ্রয় গ্রহণ করে। অতঃপর যখন তারা নিজেদের চমৎকার খাবার, পানীয় ও আরামদায়ক বিশ্রামাগার প্রত্যক্ষ করল, তখন তারা বলল: আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের জীবিত ভাইদের কাছে কে এই সুসংবাদ পৌঁছে দেবে যে—আমরা জান্নাতে চিরঞ্জীব অবস্থায় উত্তম রিজিকপ্রাপ্ত হচ্ছি; যাতে তারা জিহাদে অনীহা প্রকাশ না করে এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করে? তখন মহান আল্লাহ বললেন: ‘আমি স্বয়ং তোমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করলেন: ‘আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত এবং তাদের রিজিক প্রদান করা হচ্ছে…’ শেষ পর্যন্ত।”
(أ) ما معنى الشهيد؟ وكم قسما له؟ وما حكمه؟
[(ক) শহীদের সংজ্ঞা কী? এর প্রকারভেদ কয়টি ও কী কী? এবং শহীদের শরিয়তি হুকুম কী?]
উত্তর:
১. শহীদ (الشهيد)-এর পরিচয়:
- আভিধানিক অর্থ: ‘শহীদ’ শব্দটি ‘শুহূদ’ (الشهود) মূলধাতু থেকে ফাই’ল (فعيل) ওজনে গঠিত। এর অর্থ প্রত্যক্ষদর্শী, সাক্ষী, উপস্থিত ব্যক্তি।
- নামকরণের কারণ: আল্লাহর রাস্তায় জীবন উৎসর্গকারীকে শহীদ বলা হয়; কারণ তাঁর রুহ বের হওয়ার সময় রহমতের ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন, অথবা তিনি জীবিত থেকে জান্নাতের নেয়ামত প্রত্যক্ষ করেন, অথবা কিয়ামতের দিন তিনি অন্যান্য জাতির ওপর সাক্ষ্য প্রদান করবেন।
২. শহীদের প্রকারভেদ:
- শহীদে কামিল বা দুনিয়া ও আখেরাতের শহীদ (شهيد الدنيا والآخرة): যে ব্যক্তি খাঁটি নিয়তে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাফেরদের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে শত্রুর আঘাতে সরাসরি নিহত হন।
- আখেরাতের শহীদ (شهيد الآخرة): যেসব মুসলমান স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো বিশেষ রোগ বা দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করায় হাদিসে তাঁদের শহীদি সওয়াবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে (যেমন: মহামারীতে মৃত্যু, পেটের পীড়ায় মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু, সন্তান প্রসবকালে মৃত্যু ইত্যাদি)।
- দুনিয়ার শহীদ (شهيد الدنيا): যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছে কিন্তু তার নিয়ত ছিল গনিমতের মাল লাভ বা লোকদেখানো বীরত্ব প্রকাশ। দুনিয়াতে তাকে শহীদ হিসেবে দাফন করা হলেও আখেরাতে সে কোনো সওয়াব পাবে না।
৩. শহীদের শরিয়তি হুকুম:
- গোসল ও কাফন: যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত কামিল শহীদকে কোনো গোসল দেওয়া হবে না। তাঁর পরিহিত রক্তমাখা পোশাকই কাফন হিসেবে রাখা হবে।
- জানাজার নামাজ: হানাফি মাজহাব অনুযায়ী শহীদের ওপর জানাজার নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর মতে শহীদের কোনো জানাজার নামাজ পড়তে হয় না।
(ب) ما معنى قوله: ‘أرواحهم في جوف طير خضر’؟
[(খ) হাদিসে বর্ণিত ‘তাদের রূহসমূহ সবুজ পাখির পেটের ভেতরে থাকে’ কথার তাৎপর্য কী?]
উত্তর:
- এটি আলমে বারযাখে শহিদগণের জন্য আল্লাহর বিশেষ সম্মাননা। সাধারণ মৃত ব্যক্তিদের রূহ কবরে বা ইল্লিয়্যীনে অবস্থান করে, কিন্তু শহিদদের রূহকে আল্লাহ তাআলা সবুজ পাখির পেটের ভেতর এমনভাবে স্থাপন করেন যাতে তারা জান্নাতের নদী ও বাগিচায় মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় উড়ে বেড়াতে পারে এবং জান্নাতি নেয়ামত আস্বাদন করতে পারে।
- পাখির রং সবুজ হওয়ার কারণ হলো—সবুজ রং জান্নাতবাসীদের পোশাক ও সৌন্দর্যের প্রতীক। আরশের নিচে স্বর্ণের ঝাড়বাতিতে তাদের আশ্রয় নেওয়া আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্যের পরিচায়ক।
৪. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٤- عن ابن عباس قال قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله! إنا هذا الحى من ربيعة قد حال بيننا وبينك كفار مضر فلسنا نخلص إليك إلا فى شهر حرام فلو أمرتنا بشيء نأخذه عنك ونبلغه من وراءنا قال أمركم بأربع وأنهاكم عن أربع- الإيمان بالله شهادة أن لا إله إلا الله واقام الصلاة وإيتاء الزكاة وان تؤدو إلى الله خمس مما غنمتم وأنهاكم عن الدباء والحنتم والنقير والمزفّت-
[৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্দুল কায়িস গোত্রের প্রতিনিধিদল যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হলো, তখন তারা নিবেদন করল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রবি’আ গোত্রের লোক। আমাদের ও আপনার ভূখণ্ডের মাঝে মুদার গোত্রের কাফেররা প্রতিবন্ধক হয়ে আছে; তাই সম্মানিত নিষিদ্ধ মাসগুলো (রজব, জিলকদ, জিলহজ ও মহররম) ছাড়া অন্য কোনো সময় আমরা নিরাপদে আপনার কাছে পৌঁছাতে পারি না। অতএব, আপনি আমাদের এমন কিছু সুস্পষ্ট ও সার্বিক দ্বীনি বিধানের আদেশ দিন যা আমরা আপনার কাছ থেকে মুখস্থ রাখব এবং আমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের পৌঁছে দেব। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের আদেশ করছি এবং চারটি বিষয় থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করছি: আদেশ করছি—১. এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনা, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই এই সাক্ষ্য দেওয়া, ২. নামাজ কায়েম করা, ৩. জাকাত প্রদান করা এবং ৪. গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) আল্লাহর জন্য আদায় করা। আর তোমাদের নিষেধ করছি চারটি পাত্র ব্যবহার করতে—দুব্বা, হানতাম, নাকীর এবং মুযাফফাত।”
(أ) عرف الحنتم والدباء والنقير والمزفّت-
[(ক) আল-হানতাম, আদ-দুব্বা, আন-নাকীর এবং আল-মুযাফফাত-এর পরিচয় দাও।]
উত্তর:
জাহেলি যুগে আরবরা মাদক ও মদ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ কিছু পাত্র ব্যবহার করত, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) মদ্যপান নিষিদ্ধ করার প্রাথমিক যুগে কঠোরভাবে বর্জন করার নির্দেশ দেন। পাত্র চারটির বিবরণ নিম্নরূপ:
- আল-হানতাম (الحنتم): এটি বিশেষ এক প্রকার মাটির তৈরি সবুজ বা লালাভ রঙের কলসি বা মটকা। আরবরা মাটির সাথে চুল, পশুর রক্ত ও চর্বি মিশিয়ে এটি তৈরি করত। এতে ফলের রস রাখলে তা দ্রুত গেঁজিয়ে তীব্র নেশাজাতীয় অ্যালকোহলে রূপান্তরিত হতো।
- আদ-দুব্বা (الدباء): লাউ বা কদুর ভেতরের শাঁস ফেলে দিয়ে শুকিয়ে তৈরি করা কাঠের মতো শক্ত খোল বা পাত্র। এতে সংরক্ষিত পানীয় দ্রুত গাঁজন প্রক্রিয়ায় মদ হয়ে যেত।
- আন-নাকীর (النقير): খেজুর গাছের শক্ত কাণ্ড বা গুঁড়ির মধ্যভাগ খোদাই করে তৈরি করা বিশেষ কাঠের পাত্র।
- আল-মুযাফফাত (المزفت): যে পাত্রের ভেতরের অংশে আলকাতরা, রজন বা পিচ (যিফ্ত) দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হতো। এতে পানীয় রাখলে তা তীব্র ঝাঁঝালো নেশাযুক্ত হতো।
নোট: পরবর্তীতে যখন সাহাবিদের অন্তরে মদ্যপানের নিষেধাজ্ঞা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন পাত্রের নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়ে যায় এবং যে কোনো পাত্রে হালাল পানীয় পান বৈধ করা হয়।
(ب) لم لم يذكر الحج في الحديث وهو من أركان الإسلام؟
[(খ) হজ ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এই হাদিসে কেন হজের কথা উল্লেখ করা হয়নি?]
উত্তর:
- ১. হজ ফরজ হওয়ার পূর্বের ঘটনা: ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী আব্দুল কায়িস গোত্রের এই প্রতিনিধিদলটি ৫ম হিজরিতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসেছিল। অথচ ইসলামের অন্যতম ফরজ রুকন হজ ফরজ হয়েছে ৯ম বা ১০ম হিজরিতে। সুতরাং তখনো পর্যন্ত হজ ফরজ না হওয়ায় এর উল্লেখ ছিল না।
- ২. পথ নিরাপদ না থাকা (عدم استطاعة السبيل): তাদের নিজেদের বক্তব্য অনুযায়ী মুদার গোত্রের কাফেরদের কারণে তাদের পথ নিরাপদ ছিল না। আর পথ নিরাপদ হওয়া হজের জন্য পূর্বশর্ত।
- ৩. সমসাময়িক প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব: প্রতিনিধিদলের সামনে তৎক্ষণাৎ আমলযোগ্য বুনিয়াদি ফরজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
৫. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٥- حدثنا احمد بن حنبل قال نا سفيان عن الزهرى قال أخبرنى ابو بكر بن عبيد الله بن عبد الله بن عمر عن جده ابن عمر ان النبى صلى الله عليه وسلم قال : إذا أكل أحدكم فليأكل بيمينه وإذا شرب فليشرب بيمينه فان الشيطان يأكل بشماله ويشرب بشماله-
[১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন: “তোমাদের কেউ যখন আহার করে, সে যেন ডান হাত দিয়ে আহার করে; আর যখন পান করে, সে যেন ডান হাত দিয়ে পান করে। কেননা শয়তান বাম হাত দিয়ে আহার করে এবং বাম হাত দিয়ে পান করে।”
(أ) بين آداب الأكل والشرب مع اختلاف الأئمة-
[(ক) আইম্মায়ে কেরামের মতভেদসহ পানাহারের আদব ও শিষ্টাচার বর্ণনা কর।]
উত্তর:
১. পানাহারের মৌলিক ইসলামি আদবসমূহ:
- খাওয়ার পূর্বে ও পরে উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করা।
- শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা।
- ডান হাত দ্বারা খাওয়া এবং নিজের সামনের অংশ থেকে খাদ্য গ্রহণ করা।
- বসে পানাহার করা এবং দাঁড়িয়ে পান না করা।
- খাদ্যদ্রব্য বা পানীয়ের পাত্রে ফুঁ না দেওয়া এবং পাত্রের ভেতর নিঃশ্বাস না ফেলা।
- এক নিঃশ্বাসে পুরো পানি পান না করে দুই বা তিন নিঃশ্বাসে পান করা।
- খাবারের কোনো দোষত্রুটি না ধরা; ভালো লাগলে খাওয়া, না লাগলে চুপ থাকা।
২. ডান হাতে খাওয়ার হুকুম বিষয়ে আইম্মায়ে কেরামের মতভেদ:
- জমহুর ফুকাহা (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ী রহ.): তাঁদের মতে ডান হাত দিয়ে খাওয়া ও পান করা মুস্তাহাব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। কোনো ওজর ছাড়া বাম হাত দিয়ে খাওয়া মাকরূহে তানযীহী বা তাহরীমী। হাদিসের নির্দেশটি এখানে আদব ও শিষ্টাচার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম ইবনে হাজম ও ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.): তাঁদের মতে কোনো শারীরিক অক্ষমতা বা ওজর ছাড়া ডান হাতে খাওয়া ‘ওয়াজিব’ এবং বাম হাতে খাওয়া সম্পূর্ণ ‘হারাম’। কারণ হাদিসে সরাসরি শয়তানের সাথে সাদৃশ্য বর্জনের কঠোর নির্দেশ রয়েছে।
(ب) ما الفرق بين حدثنا وأخبرنا وأنبأنا؟
[(খ) মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় হাদ্দাসানা (حدثنا), আখবারানা (أخبرنا) এবং আম্বাআনা (أنবأنا)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?]
উত্তর:
ইলমে হাদিসের পরিভাষায় উস্তাদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণের বিভিন্ন স্তর অনুযায়ী শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়:
- হাদ্দাসানা (حدثنا): শাইখ বা উস্তাদ যখন নিজের মুখে হাদিস তিলাওয়াত করেন এবং ছাত্ররা মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করে (السماع من لفظ الشيخ)। মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি হাদিস বর্ণনার সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য পরিভাষা।
- আখবারানা (أخبرنا): ছাত্র যখন উস্তাদের সামনে কিতাব দেখে হাদিস পাঠ করে এবং উস্তাদ তা শ্রবণ করে মৌনসম্মতি বা অনুমোদন দান করেন (القراءة على الشيخ / العَرْض)।
- আম্বাআনা (أنبأنا): পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসদের নিকট এটি ‘আখবারানা’-এর সমার্থক ছিল। কিন্তু পরবর্তী মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এটি মূলত সাধারণ ‘ইজাজত’ (অনুমোদনপত্র দিয়ে বর্ণনা করার অনুমতি)-এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
৬. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নাবলী
٦- عن الأحنف بن قيس قال خرجت وأنا أريد يعنى في القتال فلقينى أبو بكرة فقال ارجع فإنى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إذا توجه المسلمان بسيفيهما فالقاتل والمقتول في النار- قلت يا رسول الله! هذا القاتل فما بال المقتول؟ قال إنه أراد قتل صاحبه-
[৬. হযরত আল-আহনাফ ইবনে কাইস (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি (সিফফীন বা জামালের যুদ্ধে আলীর সমর্থনে) যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলাম। পথিমধ্যে বিশিষ্ট সাহাবি আবু বাকরাহ (রা.)-এর সাথে আমার দেখা হলো। তিনি আমাকে বললেন: ফিরে যাও! কেননা আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেছেন: “যখন দুজন মুসলমান তলোয়ার উঁচিয়ে পরস্পরের মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামে যাবে।” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারীর জাহান্নামে যাওয়া তো স্পষ্ট, কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ (যে সেও জাহান্নামে যাবে)? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “নিশ্চয় সেও তার প্রতিপক্ষ সঙ্গীকে হত্যা করার দৃঢ় সংকল্প ও সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল।”
(أ) ما معنى القتال؟ وما الفرق بين القتال والجهاد؟ بين-
[(ক) কিতাল (القتাল)-এর অর্থ কী? কিতাল ও জিহাদের মধ্যে পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা কর।]
উত্তর:
১. কিতাল (القتال)-এর পরিচয়:
- ‘কিতাল’ শব্দটি আরবি ‘কাতল’ (القتل) ধাতু থেকে বাবে মুফা’আলার মাসদার। এর আভিধানিক অর্থ হলো—পরস্পরে লড়াই করা, যুদ্ধ করা, সশস্ত্র সংঘাত এবং রক্তপাত ঘটানো।
- শরিয়তের পরিভাষায়, কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে সশরীরে প্রাণনাশের যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াকে কিতাল বলে।
২. কিতাল ও জিহাদের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য:
- ব্যাপকতা ও সীমাবদ্ধতা: ‘জিহাদ’ একটি অতি ব্যাপক প্রত্যয়। দ্বীন রক্ষা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মেধা, অর্থ, বক্তব্য, দাওয়াত ও নফসের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম সবই জিহাদের অন্তর্ভুক্ত (যেমন: জিহাদ বিন-নাফস, জিহাদ বিল-মাল)। পক্ষান্তরে ‘কিতাল’ হলো জিহাদের একটি বিশেষ ও চূড়ান্ত রূপ, যা কেবল অস্ত্র হাতে শত্রুর মুখোমুখি সশস্ত্র যুদ্ধকে বোঝায়।
- হুকুমের ভিন্নতা: জিহাদ সবসময়ই পুণ্যময় ও প্রশংসনীয় ইবাদত। কিন্তু কিতাল জায়েজ ও নাজায়েজ উভয় হতে পারে। যেমন: কাফেরদের আগ্রাসন রুখতে কিতাল করা ফরজ, কিন্তু দুই মুসলিম দলের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বা অন্ধ আক্রোশে অস্ত্র ধরা সম্পূর্ণ হারাম ও জাহান্নামে যাওয়ার কারণ।
(ب) هل ارادة المعصية معصية؟ وعلى ماذا يدل قوله أنه اراد قتل صاحبه؟
[(খ) পাপের সংকল্প বা ইচ্ছা করাও কি পাপ? ‘সে তার সঙ্গীকে হত্যা করতে চেয়েছিল’ কথাটি দ্বারা কী প্রমাণিত হয়?]
উত্তর:
১. গুনাহের ইচ্ছা কি গুনাহ হিসেবে গণ্য?
- অন্তরের ক্ষণিক খেয়াল (হাদিসুন নাফস / আল-খাতরাহ): অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্তরে কোনো পাপের চিন্তা এসে আবার চলে গেলে তা শরিয়তে ক্ষমাযোগ্য। রাসূল (সা.) বলেছেন: “আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের কুচিন্তা ক্ষমা করে দিয়েছেন যতক্ষণ না তা কাজে পরিণত করে বা মুখে বলে।”
- দৃঢ় সংকল্প ও বাস্তব প্রয়াস (আল-আজমুল মুসাম্মাম): যদি কোনো ব্যক্তি কোনো গুনাহ সংঘটনের দৃঢ় ইচ্ছা করে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কিন্তু বাহ্যিক কোনো বাধার কারণে তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পূর্ণ পাপের ভাগীদার হবে।
২. ‘ইন্নাহু আরাদা কাতলা সাহিবিহী’-এর তাৎপর্য:
- হাদিসে নিহত ব্যক্তির জাহান্নামি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নবীজি এই মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন যে—নিহত ব্যক্তিটি কোনো সাধু বা নিরপরাধ ছিল না; সেও অন্য ভাইকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তলোয়ার চালিয়েছিল, কিন্তু অপরজন দ্রুত আঘাত করায় সে নিজে নিহত হয়েছে। অর্থাৎ তার নিয়ত ও চেষ্টা পুরোপুরি হত্যারই ছিল।
- এটি প্রমাণ করে যে, ‘কাজের প্রতিফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ (ইন্নামাল আ’মালু বিন-নিয়্যাত)। অন্তরের অশুভ সংকল্প যদি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে তা অপরাধ হিসেবেই আল্লাহর কাছে বিবেচিত হবে।
مجموعة (ب) – [খ বিভাগ]
নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। মান: ১৬ × ১ = ১৬
٧- اكتب نبذة من حياة أبى داؤد (رح) ثم بين منزلة كتابه بين السنن-
[৭. ইমাম আবু দাউদ (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। অতঃপর সুনান গ্রন্থসমূহের মাঝে তাঁর কিতাবের স্থান ও মর্যাদা আলোচনা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা: সিহাহ সিত্তাহ বা কুতুবে সিত্তাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্তম্ভ হলেন ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী (রহ.)। ফিকহি মাসআলা-মাসায়েল ও আহকাম সংক্রান্ত হাদিস সংকলনে তাঁর সংকলিত ‘সুনানে আবু দাউদ’ গ্রন্থটি মুসলিম বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
১. ইমাম আবু দাউদ (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:
- নাম ও বংশপরিচয়: নাম সুলাইমান, উপাধি আবু দাউদ। পিতার নাম আল-আশ’আছ। পূর্ণ বংশপরম্পরা হলো—সুলাইমান ইবনুল আশ’আছ ইবনে ইসহাক আল-আযদী আস-সিজিস্তানী। তিনি আরবের বিখ্যাত কাহতানী বংশের ‘আযদ’ গোত্রের সন্তান ছিলেন।
- জন্ম ও শৈশব: তিনি ২০২ হিজরিতে বর্তমান ইরানের সিস্তান (তৎকালীন খোরাসানের সিজিস্তান) নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি গভীর মেধা ও হাদিস অন্বেষণের প্রবল আগ্রহের অধিকারী ছিলেন।
- জ্ঞানার্জনের জন্য দেশভ্রমণ: হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি তৎকালীন মুসলিম জাহানের প্রায় সমস্ত ইলমি কেন্দ্র সফর করেন। তিনি খোরাসান, বাগদাদ, বসরা, কুফা, দামেস্ক, মিশর ও হেজাজের শীর্ষ মুহাদ্দিসগণের সান্নিধ্য লাভ করেন।
- বিখ্যাত উস্তাদবৃন্দ: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.), ইমাম কুতাইবা ইবনে সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী এবং মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ (রহ.) তাঁর অন্যতম প্রধান উস্তাদ ছিলেন। বিশেষ করে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ফিকহ ও হাদিসের গভীর সান্নিধ্য তিনি লাভ করেছিলেন।
- বিশিষ্ট ছাত্রবৃন্দ: ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিজি, ইমাম আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী, আবু উবায়দ আল-আজুরী, ইমাম আবুল কাসিম আল-তাবারানি এবং স্বীয় পুত্র আবু বকর ইবনে আবি দাউদ তাঁর বিশিষ্ট ছাত্র ছিলেন।
- চারিত্রিক গুণাবলি ও জুহদ: তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ ও সত্যবাদী। তাঁর জামার একটি হাতা চওড়া ছিল যাতে হাদিসের পাণ্ডুলিপি বহন করা যায়, অন্য হাতাটি ছিল স্বাভাবিক।
- ইন্তেকাল: তিনি ১৬ই শাওয়াল ২৭৫ হিজরিতে ৭৩ বছর বয়সে ইরাকের বসরা নগরীতে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই সুফিয়ান সাওরী (রহ.)-এর কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
২. সুনান গ্রন্থসমূহের মাঝে ‘সুনানে আবু দাউদ’-এর অনন্য স্থান ও মর্যাদা:
- ফিকহি হাদিসের মহাসমুদ্র: ইমাম আবু দাউদ তাঁর কিতাবে প্রধানত আহকাম (শরিয়তের হালাল, হারাম ও ফিকহি বিধান) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন। তিনি প্রায় ৫ লক্ষ হাদিস থেকে গভীর যাচাই-বাছাই করে ৪,৮০০টি প্রামাণ্য হাদিস তাঁর কিতাবে সন্নিবেশিত করেছেন।
- মুজতাহিদ ফকিহদের অবলম্বন: বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আল-খাত্তাবী (রহ.) বলেন: “ইলমে হাদিসের ভাণ্ডারে সুনানে আবু দাউদের মতো কোনো গ্রন্থ আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি। মুজতাহিদ ফকিহগণের মাসআলা প্রমাণের জন্য এই একটি কিতাবই যথেষ্ট।”
- সনদ ও মতনের নিরপেক্ষতা: ইমাম আবু দাউদ স্বয়ং ঘোষণা করেছেন: “আমি আমার কিতাবে সহিহ হাদিস এনেছি এবং যা সহিহর কাছাকাছি তা উল্লেখ করেছি। আর যে হাদিসের ভেতর কোনো দুর্বলতা রয়েছে তা আমি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি। আর যে হাদিসের ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করিনি, তা আমার মতে গ্রহণযোগ্য ও দলিলের যোগ্য (সালিহ)।”
- সিহাহ সিত্তায় অবস্থান: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের পরেই ফিকহি নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে সুনানে আবু দাউদকে সুনান গ্রন্থসমূহের (তিরমিজি, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ) মধ্যে শীর্ষস্থান দেওয়া হয়।
٨- ما معنى الخراج والفيئ والغَنِيمَة؟ وما الفرق بينهم؟ بين مفصلًا-
[৮. খারাজ (الخراج), ফাই (الفيء) এবং গনীমত (الغنيمة)-এর সংজ্ঞা দাও। এবং তাদের পারস্পরিক পার্থক্য সবিস্তারে বর্ণনা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা: ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বায়তুলমালের আয়ের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে গনীমত, ফাই ও খারাজ অন্যতম। এই তিনটি সম্পদ সংগ্রহের ক্ষেত্র এবং বণ্টনের নিয়মনীতি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
১. তিনটির আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:
- আল-গনীমত (الغنيمة – যুদ্ধলব্ধ সম্পদ):
- আভিধানিক অর্থ: কোনো কষ্ট ছাড়াই প্রাপ্ত মুনাফা বা অতিরিক্ত অর্জন।
- পারিভাষিক অর্থ: অমুসলিম শত্রুপক্ষের সাথে সম্মুখযুদ্ধের মাধ্যমে মুসলমানরা বিজয়ী হওয়ার পর রণক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের ফেলে যাওয়া যে স্থাবর ও অস্থাবর ধন-সম্পদ মুসলিম বাহিনী হস্তগত করে, তাকে গনীমত বলে।
- আল-ফাই (الفيء – বিনাযুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ):
- আভিধানিক অর্থ: ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা বা ছায়া বিস্তার করা।
- পারিভাষিক অর্থ: কোনো প্রকার প্রত্যক্ষ সশস্ত্র সংঘাত বা রক্তপাত ছাড়াই কাফের-শত্রুপক্ষ ভীতিগ্রস্ত হয়ে আত্মসমর্পণ করার ফলে কিংবা সন্ধির মাধ্যমে মুসলমানদের হাতে যে ধন-সম্পদ ও ভূখণ্ড অর্পিত হয়, তাকে শরিয়তের পরিভাষায় ফাই বলে।
- আল-খারাজ (الخراج – ভূমির রাজস্ব বা কর):
- আভিধানিক অর্থ: কোনো কিছু থেকে বের হয়ে আসা বস্তু, ফসলের অংশ বা খাজনা।
- পারিভাষিক অর্থ: ইসলামি রাষ্ট্রের অধীনে থাকা বিজিত ভূমির ওপর কিংবা সন্ধিসূত্রে প্রাপ্ত জমির ওপর অমুসলিম প্রজাদের প্রতি বছর যে নির্ধারিত রাজস্ব বা কর ধার্য করা হয়, তাকে খারাজ বলে। হযরত উমর (রা.) ইরাকের সাওয়াদ ভূমির ওপর সর্বপ্রথম এই প্রথা চালু করেন।
২. গনীমত, ফাই এবং খারাজ-এর মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যসমূহ:
| পার্থক্যসূচক বিষয় | আল-গনীমত (الغنيمة) | আল-ফাই (الفيء) | আল-খারাজ (الخراج) |
|---|---|---|---|
| ১. প্রাপ্তির মাধ্যম | সরাসরি অস্ত্রযুদ্ধ ও রক্তপাতের মাধ্যমে অর্জিত। | যুদ্ধ ও রক্তপাত ছাড়াই সন্ধি বা ভয়ের কারণে অর্জিত। | উৎপাদনশীল জমির মালিকানা বা চাষাবাদের ওপর ধার্যকৃত বার্ষিক কর। |
| ২. কুরআনের বিধান | সূরা আল-আনফালের ৪১ নম্বর আয়াত দ্বারা পরিচালিত। | সূরা আল-হাশরের ৭ নম্বর আয়াত দ্বারা পরিচালিত। | খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত ও ইজমা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। |
| ৩. বণ্টন পদ্ধতি | মোট সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ (২০%) বায়তুলমালের জন্য রেখে বাকি চার-পঞ্চমাংশ (৮০%) প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করা হয়। | সৈন্যদের মাঝে কোনো অংশ বণ্টন করা হয় না; বরং পুরো সম্পদই বায়তুলমালে জমা হয় এবং জনগণের সাধারণ কল্যাণে ব্যয় হয়। | পুরো অর্থ সরাসরি রাষ্ট্রের বায়তুলমালে জমা হয় এবং রাস্তাঘাট, সীমান্ত রক্ষা ও জনকল্যাণে ব্যয় হয়। |
| ৪. সময়ের স্থায়িত্ব | এককালীন সম্পদ (যুদ্ধ শেষ হলে একবারই অর্জিত হয়)। | এককালীন সম্পদ (সন্ধি হলে একবারই প্রাপ্ত হয়)। | স্থায়ী ও নিয়মিত বার্ষিক রাজস্ব (প্রতি বছর আদায়যোগ্য)। |
উপসংহার: গনীমতের মাধ্যমে ইসলাম মুজাহিদদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করেছে, আর ফাই ও খারাজের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় ও চিরস্থায়ী জনকল্যাণমুখী করেছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions – FAQ)
প্রশ্ন ১: ফাজিল ৪র্থ বর্ষের হাদিস পরীক্ষায় ‘আস-সুনান লিল ইমাম আবী দাঊদ’ বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর তোলার কৌশল কী?
উত্তর: প্রতিটি হাদিসের উত্তরের শুরুতে হাদিসের নির্ভুল ও প্রাঞ্জল বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের রাবীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, ব্যাকরণগত তাহকিক এবং ফিকহি মতভেদগুলো (যেমন: ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী ও অন্যান্যদের দৃষ্টিভঙ্গি) কুরআন ও হাদিসের দলিলসহ স্পষ্ট সাব-হেডিং আকারে লিখলে সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করা যায়।
প্রশ্ন ২: ফাজিল পরীক্ষার খাতায় কি হাদিসের আরবি পাঠ সম্পূর্ণ লেখা বাধ্যতামূলক?
উত্তর: মূল প্রশ্নপত্রে হাদিসের এবারত মুদ্রিত থাকায় উত্তরপত্রে পুরো আরবি না লিখে হাদিসের প্রথম ও শেষ অংশ উল্লেখ করে সরাসরি বাংলা অর্থ এবং বিশ্লেষণ লিখলে সময় বাঁচে। তবে ফিকহি বিশ্লেষণ অংশে গুরুত্বপূর্ণ আরবি পরিভাষা ও প্রামাণ্য আয়াতাংশ উল্লেখ করা উত্তরের মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন ৩: ‘সুনানে আবু দাউদ’ কিতাবটির মূল বিশেষত্ব কী?
উত্তর: কুতুবে সিত্তাহর অন্যান্য কিতাবে আকিদা ও ইতিহাসের হাদিস থাকলেও সুনানে আবু দাউদের অনন্য বিশেষত্ব হলো—এটি মূলত ফিকহি আহকাম (হালাল ও হারাম) সংক্রান্ত হাদিসের সুবিন্যস্ত সংকলন। ফকিহগণের ইজতিহাদের জন্য এটি সর্বাধিক প্রয়োজনীয় কিতাব।
প্রশ্ন ৪: ৪র্থ বর্ষ ফাজিল পরীক্ষায় ক ও খ বিভাগের নম্বর বণ্টন কেমন?
উত্তর: ২০২০ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী ‘ক’ বিভাগ (হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন) থেকে ৪টি প্রশ্নের প্রতিটিতে ১৬ নম্বর করে মোট ৬৪ নম্বর এবং ‘খ’ বিভাগ (ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক প্রশ্ন) থেকে ১টি প্রশ্নের জন্য ১৬ নম্বর—সর্বমোট ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৫: এই উত্তরমালায় কি নির্ভরযোগ্য হাদিস ও ফিকহি শরাহ অনুসরণ করা হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এতে আল্লামা খাত্তাবীর ‘মাআলিমুস সুনান’, আল্লামা শামসুল হক আজিমাবাদীর ‘আউনুল মা’বুদ শারহু সুনানে আবি দাউদ’, এবং ‘বাদায়েউস সানায়ে’ ও ‘আল-মাবসূত’ সহ প্রামাণ্য শাস্ত্রগ্রন্থের বিশুদ্ধ তথ্যের আলোকে উত্তরসমূহ প্রস্তুত করা হয়েছে।