ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: আশ-শিরুল হাদীস-১ (الشعر الحديث-1 – Modern Arabic Poetry-I)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৭ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
١- ترجم سبع قطعات شعرية مما يلي إلى البنغالية:
[১. নিচের কবিতাংশগুলো থেকে যেকোনো সাতটির প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ লেখ:]
(أ) من الهمزية النبوية لأحمد شوقي
وُلِدَ الهُدَى فَالكائِناتُ ضِياءُ * وَفَمُ الزَمانِ تَبَسُّمٌ وَثَناءُ
الرُوحُ وَالمَلَأُ المَلائِكُ حَولَهُ * لِلدينِ وَالدُنيا بِهِ بُشَراءُ
[১. (ক) হেদায়েতের মূর্ত প্রতীক নবী করীম ﷺ জন্মগ্রহণ করেছেন, ফলে সমগ্র সৃষ্টিজগত স্বর্গীয় জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে; আর কালের মুখমণ্ডল ভরে উঠেছে মধুর মৃদুহাসি ও প্রশংসাগাথায়।
রুহুল কুদুস (জিবরীল আ.) এবং ফেরেশতাকুল তাঁকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছেন; আর দীন ও দুনিয়ার মানবমণ্ডলীর জন্য তাঁর আগমন নিয়ে এসেছে অফুরন্ত সুসংবাদ।]
(ب) خير الأبوة (أحمد شوقي)
خَيْرُ الأُبُوَّةِ حَازَهُمْ لَكَ آدَمُ * دُونَ الأَنَامِ وَأَحْرَزَتْ حَوَّاءُ
هُمْ أَدْرَكُوا عِزَّ النُّبُوَّةِ وَانْتَهَتْ * فِيهَا إِلَيْكَ العِزَّةُ القَعْسَاءُ
[১. (খ) সমগ্র সৃষ্টির বিপরীতে আদি পিতা আদম (আ.) ও মাতা হাওয়া আপনার মাধ্যমেই সর্বশ্রেষ্ঠ পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের পরম গৌরব অর্জন করেছেন।
তাঁরা সকলেই নবুওয়াতের উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন, কিন্তু সেই মর্যাদার ধারাবাহিকতা আপনার মাঝে এসেই চিরস্থায়ী ও সুদৃঢ় চরম শিখরে উপনীত হয়েছে।]
(ج) لمحمود سامي البارودي
لَا تَلُمْ كَفِّي إِذَا السَّيْفُ نَبَا * صَحَّ مِنِّي العَزْمُ وَالدَّهْرُ أَبَى
رُبَّ سَاعٍ مُبْصِرٍ فِي سَعْيِهِ * أَخْطَأَ التَّوْفِيقَ فِي مَا طَلَبَ
[১. (গ) আমার হাতকে তোমরা দোষ দিও না যদি তরবারি কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফিরে আসে; কারণ আমার সংকল্প ও হিম্মত ছিল অবিচল, কিন্তু প্রতিকূল ভাগ্য তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
কত সচেতন দৃষ্টিসম্পন্ন সাধকই তো নিজের প্রচেষ্টায় একাগ্র থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দৈব সহযোগিতার দিক থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে!]
(د) لمعروف الرصافي
أَيُّهَا المُصْلِحُونَ ضَاقَ بِنَا العَيْشُ * وَلَمْ تُحْسِنُوا عَلَيْهِ القِيَامَا
عَزَّتِ السِّلْعَةُ الذَّلِيلَةُ حَتَّى * بَاتَ مَسْحُ الحِذَاءِ خَطْبًا جَسَامَا
[১. (ঘ) হে তথাকথিত সংস্কারকের দল! আমাদের জীবনধারণ আজ চরম দুর্বিষহ ও সংকুচিত হয়ে পড়েছে, অথচ তোমরা তার সুষ্ঠু তদারকি ও সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছ।
অতি তুচ্ছ পণ্যসামগ্রীও আজ এতোটাই দুষ্প্রাপ্য ও দুর্মূল্য হয়ে গেছে যে, এক জোড়া জুতো পলিশ করাও সাধারণ মানুষের জন্য এক মহা বিপদে পরিণত হয়েছে!]
(هـ) لحافظ إبراهيم
أَنَا لَوْلَا أَنَّ لِي مِنْ أُمَّتِي * خَاذِلًا مَا بِتُّ أَشْكُو النُّوَبَا
أُمَّةٌ قَدْ فَتَّ فِي سَاعِدِهَا * بُغْضُهَا الأَهْلَ وَحُبُّهَا الغُرَبَا
[১. (ঙ) আমি যদি আমার নিজ জাতির পক্ষ থেকেই চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও অসহযোগিতার শিকার না হতাম, তবে রাতের আঁধারে কালের এই বিপর্যয় নিয়ে বিলাপ করতাম না।
এমন এক হতভাগা জাতি, যার বাহুবলকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে আপনজনদের প্রতি অন্ধ শত্রুতা এবং পরদেশী বিদেশীদের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা!]
(و) في إصلاح النفوس للرصافي
أَيُّهَا المُصْلِحُونَ أَصْلَحْتُمُ الأَرْضَ * وَبِتُّمْ عَنِ النُّفُوسِ نِيَامَا
أَصْلِحُوا أَنْفُسًا أَضَرَّ بِهَا الفَقْرُ * وَأَحْيَا بِمَوْتِهَا الآثَامَا
[১. (চ) হে সংস্কারকগণ! তোমরা বাহ্যিক বস্তুগত দুনিয়ার সংস্কার করেছ ঠিকই, কিন্তু মানুষের আত্মিক ও মানসিক উৎকর্ষের বিষয়ে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে আছ।
আগে সেই অন্তরসমূহের সংস্কার করো যাকে দারিদ্র্য ক্ষতবিক্ষত করেছে এবং যার নৈতিক মৃত্যুর ফলে সমাজে পাপাচার ও অপরাধ পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠেছে!]
(ز) لإبراهيم عبد القادر المازني (من قصيدة الطفولة)
رَعَى اللَّهُ أَيَّامَ الطُّفُولَةِ إِنَّهَا * عَلَى جَهْلِهَا أَحْلَى وَأَهْنَأُ مَالِيَا
لَيَالِيَ أَظُنُّ الكَوْنَ إِرْثِي وَأَنَّنِي * أُعِيرُ النُّجُومَ الزُّهْرَ نُورَ بَهَائِيَا
[১. (ছ) আল্লাহ যেন আমার সেই সোনালী শৈশবকালকে চিরহেফাজতে রাখেন! শৈশবের সরল অজ্ঞতা সত্ত্বেও তা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর ও পরম সুখময় সম্বল।
সেই সব রজনী, যখন আমি ভাবতাম গোটা মহাবিশ্ব যেন আমারই উত্তরাধিকার, আর আমি নিজেই যেন রাতের উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোকে আমার রূপের আলো ধার দিচ্ছি!]
٢- اشرح بالعربية اثنين مما يلي:
[২. নিচের কবিতাংশগুলো থেকে যেকোনো দুটির প্রাঞ্জল আরবি ব্যাখ্যা লেখ:]
(أ) «وَأَثْقَلَنِي هَمِّي وَأَقْعَدَنِي فَمَا * أُصَعِّدُ طَرْفِي مَرَّةً فِي سَمَائِيَا»
[২. (ক) الهم والحزن أقعد الشاعر]
الشرح:
يُعَبِّرُ الشَّاعِرُ عَنْ مَدَى الحُزْنِ العَمِيقِ وَاليَأْسِ الَّذِي اسْتَوْلَى عَلَى نَفْسِهِ حِينَ كَبُرَتْ سِنُّهُ وَتَكَالَبَتْ عَلَيْهِ هُمُومُ الحَيَاةِ؛ حَيْثُ أَصْبَحَ هَمُّهُ ثَقِيلًا كَالجِبَالِ يَقْعُدُ بِهِ عَنِ الحَرَكَةِ وَالأَمَلِ، حَتَّى عَجَزَ عَنْ أَنْ يَرْفَعَ بَصَرَهُ نَحْوَ السَّمَاءِ لِيَسْتَمِدَّ الأَمَلَ كَمَا كَانَ يَفْعَلُ فِي أَيَّامِ صِبَاهُ البَرِيئَةِ.
(ب) «نُظِّمَتْ أَسَامِي الرُّسْلِ فَهِيَ صَحِيفَةٌ * فِي اللَّوْحِ وَاسْمُ مُحَمَّدٍ طُغْرَاءُ»
[২. (খ) مكانة النبي ﷺ في الهمزية لأحمد شوقي]
الشرح:
يُصَوِّرُ أَمِيرُ الشُّعَرَاءِ أَحْمَدُ شَوْقِي مَكَانَةَ النَّبِيِّ ﷺ بَيْنَ إِخْوَانِهِ مِنَ الأَنْبِيَاءِ بِتَصْوِيرٍ بَلَاغِيٍّ بَدِيعٍ؛ حَيْثُ شَبَّهَ أَسْمَاءَ الرُّسُلِ الكِرَامِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ بِصَحِيفَةٍ شَرِيفَةٍ مَكْتُوبَةٍ فِي اللَّوْحِ المَحْفُوظِ، وَجَعَلَ اسْمَ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ ﷺ كَالطُّغْرَاءِ (وَهِيَ الخَتْمُ السُّلْطَانِيُّ المَلَكِيُّ الفَخْمُ الَّذِي يُتَوِّجُ الصَّحِيفَةَ)؛ بَيَانًا لِأَنَّهُ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَسَيِّدُ المُرْسَلِينَ الَّذِي تَكْتَمِلُ بِهِ الرِّسَالَاتُ.
(ج) «يَا أَيُّهَا الأُمِّيُّ حَسْبُكَ رُتْبَةً * فِي العِلْمِ أَنْ دَانَتْ بِكَ العُلَمَاءُ»
[২. (গ) إعجاز علم النبي الأمي]
الشرح:
يَمْدَحُ الشَّاعِرُ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ ﷺ الَّذِي لَمْ يَقْرَأْ مِنْ كِتَابٍ وَلَمْ يَخُطَّهُ بِيَمِينِهِ، فَيَقُولُ: يَكْفِيكَ شَرَفًا وَفَخْرًا فِي مَرَاتِبِ العِلْمِ أَنَّ كِبَارَ عُلَمَاءِ الفَلْسَفَةِ وَالقَانُونِ وَالشَّرِيعَةِ قَدْ خَضَعُوا لِتَعَالِيمِكَ وَانْقَادُوا لِحِكْمَتِكَ البَالِغَةِ؛ وَهَذَا دَلِيلٌ قَاطِعٌ عَلَى أَنَّ عِلْمَهُ وَحْيٌ إِلَهِيٌّ مُعْجِزٌ لَا كَسْبٌ بَشَرِيٌّ.
٣- أجب عن ثلاثة من الأسئلة التالية بالعربية:
[৩. নিচের প্রশ্নগুলো থেকে যেকোনো তিনটির প্রামাণ্য আরবি উত্তর দাও:]
(أ) كيف وصف حافظ إبراهيم الأمة الإسلامية في قصيدته ‘غادة اليابان’؟
[৩. (ক) ‘গাদাতুল ইয়াবান’ কবিতায় হাফিজ ইব্রাহিম মুসলিম উম্মাহকে কীভাবে বর্ণনা করেছেন?]
الجواب:
وَصَفَ حَافِظُ إِبْرَاهِيمَ الأُمَّةَ الإِسْلَامِيَّةَ بِأَنَّهَا أُمَّةٌ غَارِقَةٌ فِي النَّوْمِ وَالفُتُورِ، أَلْهَتْهَا الخِلَافَاتُ الدَّاخِلِيَّةُ وَالبَغْضَاءُ بَيْنَ أَبْنَائِهَا، بَيْنَمَا تَتَسَابَقُ أُمَمُ العَالَمِ (كَاليَابَانِ) نَحْوَ المَجْدِ وَالعِلْمِ وَالتَّضْحِيَةِ بِالنَّفْسِ فِي سَبِيلِ الوَطَنِ؛ فَكَانَ وَصْفُهُ وَصْفَ تَوْبِيخٍ وَتَحْسِيرٍ لِيَسْتَنْهِضَ هِمَمَ الشَّبَابِ.
(ب) كيف كان رد الفتاة اليابانية على قول الشاعر “ما تصنع في الحرب الغلبا”؟
[৩. (খ) “কঠিন যুদ্ধে তুমি কী করবে?” কবির এ কথার জবাবে জাপানি তরুণী কী বলেছিল?]
الجواب:
أَجَابَتِ الفَتَاةُ اليَابَانِيَّةُ بِكُلِّ عِزَّةٍ وَحَمَاسَةٍ وَطَنِيَّةٍ: إِنَّهَا وَإِنْ كَانَتْ امْرَأَةً ضَعِيفَةً لَا تَحْمِلُ السَّيْفَ فِي مَيْدَانِ القِتَالِ، إِلَّا أَنَّهَا تُشَارِكُ فِي مَعْرَكَةِ الشَّرَفِ كَمُمَرِّضَةٍ تُدَاوِي جِرَاحَ الأَبْطَالِ، وَتَبْعَثُ العَزِيمَةَ فِي قُلُوبِهِمْ، وَتَفْدِي وَطَنَهَا بِدَمِهَا وَرُوحِهَا كَمَا يَفْعَلُ الرِّجَالُ تَمَامًا.
(ج) صف سعادة الطفولة وسرورها كما وصف الشاعر في قصيدة ‘الطفولة’-
[৩. (গ) ‘আত-তুফুলাহ’ কবিতায় বর্ণিত শৈশবের অনাবিল আনন্দ ও সুখের চিত্র আঁক।]
الجواب:
وَصَفَ المَازِنِيُّ الطُّفُولَةَ بِأَنَّهَا أَجْمَلُ أَيَّامِ العُمْرِ وَأَصْفَاهَا؛ حَيْثُ يَعِيشُ الطِّفْلُ فِي عَالَمٍ مَلِيءٍ بِالبَرَاءَةِ وَالسُّرُورِ، لَا يَعْرِفُ طَعْمَ الهَمِّ وَلَا خَوْفَ المُسْتَقْبَلِ. يَرَى كُلَّ مَا حَوْلَهُ مُسَخَّرًا لَهُ، وَيَلْعَبُ بِطُمَأْنِينَةٍ كَأَنَّهُ مَلِكٌ مُتَوَّجٌ، لَا تُعَكِّرُ صَفْوَهُ مَصَائِبُ الدُّنْيَا وَأَحْزَانُهَا.
(د) كيف كانت آثار خطبة النبى صلى الله عليه وسلم في ضوء قصيدة الهمزية النبوية لأحمد شوقى؟
[৩. (ঘ) الهمزية النبوية কবিতায় বর্ণিত নববী ভাষণের প্রভাব আলোচনা কর।]
الجواب:
كَانَتْ خُطَبُ النَّبِيِّ ﷺ كَمَا وَصَفَهَا شَوْقِي سِحْرًا حَلَالًا يَهْتَزُّ لَهُ المِنْبَرُ، وَتَخْشَعُ لَهُ القُلُوبُ القَاسِيَةُ، فَتَفِيضُ العُيُونُ بِالدُّمُوعِ. كَانَتْ كَلِمَاتُهُ نُورًا يُبَدِّدُ ظُلُمَاتِ الجَهْلِ، وَدُسْتُورًا يُحْيِي الضَّمَائِرَ المَيِّتَةَ، وَيَزْرَعُ الإِيمَانَ وَالرَّحْمَةَ فِي نُفُوسِ السَّامِعِينَ.
٤- أجب عن أربعة مما يلى:
[৪. নিচের প্রশ্নগুলো থেকে যেকোনো চারটির বিশদ উত্তর দাও:]
(أ) بم يلقب الشاعر أحمد شوقى؟ ولماذا؟
[৪. (ক) আহমদ শওকীকে কী উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং কেন?]
উপাধি: আহমদ শওকী (১৮৬৮-১৯৩২ খ্রি.)-কে ‘আমীরুশ শুআরা’ (أمير الشعراء) বা কবিরাজ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
কারণ: ১৯২৭ সালে কায়রোতে সমগ্র আরব বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কবি-সাহিত্যিকদের এক ঐতিহাসিক সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরবের ‘আমীরুশ শুআরা’ মুকুট পরানো হয়। তিনি ছিলেন আধুনিক যুগের ক্লাসিক্যাল বা পুনরুজ্জীবনবাদী (ইহইয়াঈ) ধারার অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাট। প্রাচীন আরবি কাসীদার মর্যাদা ফিরিয়ে আনা, ইসলামী ইতিহাসের মহাকাব্যিক রূপায়ণ এবং সর্বপ্রথম আরবিতে পদ্যনাটক (যেমন—মাজনুন লাইলা, আম্বীয, ক্লিওপেট্রা) রচনার অনন্য কৃতিত্বের জন্য তিনি এই উপাধি লাভ করেন।
(খ) تحدث عن خصائص شعر أحمد شوقى موجزا-
[৪. (খ) আহমদ শওকীর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ।]
- কাব্যিক বিশুদ্ধতা ও অলংকার: জাহেলী ও আব্বাসীয় যুগের শ্রেষ্ঠ ক্লাসিক্যাল শব্দের নিখুঁত প্রয়োগ।
- ইসলামী ঐতিহ্য ও নববী প্রেম: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শানে রচিত ‘আল-বুরদাহ’ ও ‘আল-হামযিয়্যাহ’ আরবি কাব্য সাহিত্যের সেরা সম্পদ।
- জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম: উমর মুখতারের শাহাদাত এবং ফিলিস্তিন ও দামেস্কের সংকটে তিনি গর্জে উঠেছেন।
- নাট্যকাব্য প্রবর্তন: তিনি আরবি সাহিত্যে কাব্যনাট্যের সফল জনক।
(গ) اكتب خصائص الشعر العربي الحديث-
[৪. (গ) আধুনিক আরবি কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ।]
- বিষয়বস্তুর বাস্তবমুখিতা: প্রাচীন স্তুতি ও কাল্পনিক প্রেম ত্যাগ করে আধুনিক কবিতা সামাজিক অবিচার, স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনার বাহন হয়েছে।
- সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষা: দুর্বোধ্য প্রাচীন শব্দের পরিবর্তে জীবন্ত ও সাবলীল শব্দের প্রয়োগ।
- পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রভাব ও আধুনিক ধারা: রোমান্টিকতাবাদ, প্রতীকীবাদ এবং পরবর্তীতে মুক্তছন্দ (শি’রে হুর)-এর আগমন।
- রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী জাগরণ: সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি।
(ঘ) من هو شاعر النيل؟ اكتب نبذة من نشأته وحياته العملية-
[৪. (ঘ) নীলনদের কবি কে? তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম সংক্ষেপে লেখ।]
পরিচয়: মিশরের প্রখ্যাত জাতীয় কবি মুহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম (১৮৭২-১৯৩২ খ্রি.)-কে ‘শায়েরুন নীল’ (شاعر النيل) বলা হয়।
জীবন ও কর্ম: তিনি নীলনদের তীরে দাহরুত নামক স্থানে এক নৌকায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পিতৃহীন হয়ে মামার আশ্রয়ে অতি কষ্টে মানুষ হন। পরবর্তীতে মিলিটারি একাডেমি থেকে পাস করে সুদান অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কায়রোর দারুল কুতুবের (জাতীয় গ্রন্থাগার) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন মজলুম মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর। ভিক্টর হুগোর ‘লে মিজারেবল’ উপন্যাস তিনি ‘আল-বুয়াসা’ নামে আরবিতে অনুবাদ করেন।
(هـ) عرف القصيدة لغة واصطلاحا-
[৪. (ঙ) কাসীদার আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয়।]
আভিধানিক অর্থ: ‘কাসীদা’ (القصيدة) শব্দটি আরবি ‘ক্বাসদ’ (قصد) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ইচ্ছা করা বা সংকল্প করা। যেহেতু কবি সুনির্দিষ্ট সংকল্প নিয়ে সুবিন্যস্তভাবে কবিতা রচনা করেন, তাই একে কাসীদা বলা হয়।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: ছন্দশাস্ত্রবিদদের মতে, কমপক্ষে সাত বা ততোধিক পঙক্তি (বায়ত) সম্বলিত সুসংহত কবিতাকে কাসীদা বলে, যার প্রতিটি চরণের শেষ বর্ণ ও অন্ত্যমিল (কাফিয়া) অভিন্ন থাকে এবং যা নির্দিষ্ট কোনো একটি একক ছন্দ বা বাহরে রচিত হয়।
(و) اذكر بعضا من الأعمال الأدبية للشاعر إبراهيم عبد القادر المازني-
[৪. (চ) ইব্রাহিম আব্দুল কাদির আল-মাযিনীর প্রধান সাহিত্যকর্মসমূহ।]
আল-মাযিনী ছিলেন মিশরের বিখ্যাত ‘দিওয়ান গ্রুপ’ (مدرسة الديوان)-এর প্রতিষ্ঠাতা ত্রয়ীর অন্যতম। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হলো: ১. উপন্যাস: ইবরাহীম আল-কাতিব (إبراهيم الكاتب), ২. ইবরাহীম আস-সানী (إبراهيم الثاني), ৩. প্রবন্ধ সংকলন: হাসাফুস সাররী (حصاد الهشيم), ৪. সিন্দুকুদ দুনিয়া (صندوق الدنيا), এবং ৫. কাব্যগ্রন্থ: দিওয়ানুল মাযিনী (ديوان المازني)।
(ز) اذكر بعض أوصاف النبي صلى الله عليه وسلم في ضوء ‘الهمزية النبوية’-
[৪. (ছ) ‘আল-হামযিয়্যাহ’ কাসীদার আলোকে নবী করীম ﷺ-এর গুণাবলি।]
আহমদ শওকী ‘আল-হামযিয়াতুন নাবাবিয়্যাহ’-তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুপম রূপ ও চরিত্রের চিত্র তুলে ধরেছেন: তিনি বিশ্বজগতের জন্য জ্যোতি ও হেদায়েতের বাতিঘর; তাঁর দানশীলতা ছিল উত্তাল সমুদ্রের চেয়েও উদার; তিনি ছিলেন ইনসাফের প্রতীক যিনি ধনী-গরিবের ব্যবধান মিটিয়েছিলেন; তাঁর ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতা শত্রুর অন্তরেও ভীতি ও শ্রদ্ধা সৃষ্টি করেছিল; এবং তাঁর অমিয় বাণী ছিল মৃত আত্মাকে সঞ্জীবিতকারী মহাসঞ্জীবনী।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ৩য় বর্ষের আশ-শিরুল হাদীস-১ বিষয়ের বিষয় কোড কত?
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল (অনার্স) ৩য় বর্ষের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আশ-শিরুল হাদীস-১ পত্রের কোড হলো ২০৪৩০৭।
২. ‘আমীরুশ শুআরা’ উপাধিতে কে ভূষিত হয়েছিলেন?
আধুনিক আরবি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ক্লাসিক্যাল মহাকবি আহমদ শওকী (أحمد شوقي)।
৩. ‘শায়েরুন নীল’ বা নীলনদের কবি কার উপাধি?
মিশরের গণমানুষের কবি মুহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম (حافظ إبراهيم)।
৪. ‘আল-হামযিয়াতুন নাবাবিয়্যাহ’ কার রচিত অমর নাত-কাব্য?
আমীরুশ শুআরা আহমদ শওকীর কালজয়ী নাত-কাসীদা।
৫. আধুনিক আরবি সাহিত্যের ‘মাদরাসাতুদ দিওয়ান’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ কে?
ইব্রাহিম আব্দুল কাদির আল-মাযিনী, আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ ও আব্দুর রহমান শুকরী।
৬. কাসীদা হওয়ার জন্য ন্যূনতম কতটি পঙক্তি বা চরণ থাকা আবশ্যক?
আরবি ছন্দশাস্ত্রের নিয়মানুসারে কাসীদা হতে হলে কমপক্ষে ৭টি পূর্ণ পঙক্তি (বায়ত) থাকতে হয়।