ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2023
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ (التفسير بدون السند)
বিষয় কোড: 201201 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) – ক অংশ: আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
١- قال الله تبارك تعالى: ﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ۞ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ۞ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ﴾
[১. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
আয়াতসমূহের তাফসীর ও মূলভাব:
সূরা আল-ফাতিহার এ আয়াতগুলোতে বান্দার সাথে মহান আল্লাহর চূড়ান্ত দাসত্ব ও নির্ভরতার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে। ‘ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা’ঈন’ বাক্যে ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনার ক্ষেত্রকে একমাত্র আল্লাহর সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অতঃপর মানবজাতির ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ ‘সিরাতুল মুস্তাক্বীম’ বা সরল-সঠিক পথের প্রার্থনা করা হয়েছে, যা ছিল নবী-রাসূল ও সালেহীনদের পথ; কোনো অভিশপ্ত বা পথভ্রষ্টদের পথ নয়।
(أ) مَا مَعْنَى الْهِدَايَةِ وَكَمْ قِسْمًا لَهَا؟ بَيِّنْ-
[হিদায়াত এর অর্থ কী? উহা কত প্রকার? বর্ণনা কর।]
- হিদায়াতের পরিচয়: ‘হিদায়াত’ (الهداية) শব্দের আভিধানিক অর্থ পথ প্রদর্শন করা (الدلالة والارشاد), লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানো বা অনুগ্রহ সহকারে পথ দেখানো। শরীয়তের পরিভাষায় সত্য ও কল্যাণের পথ প্রদর্শন এবং জান্নাতের পথে পরিচালিত করাকে হিদায়াত বলে।
- হিদায়াতের স্তর বা প্রকারভেদ: ইমাম রাগিব আসফাহানী (রহ.)-এর মতে কুরআনে বর্ণিত হিদায়াত প্রধানত চার প্রকার:
- সাধারণ সহজাত হিদায়াত (الهداية العامة): যা আল্লাহ জগতের প্রতিটি প্রাণীকে তার বাঁচার তাগিদে দান করেছেন (যেমন জন্মের পর শিশুর স্তন্যপানের জ্ঞান)।
- যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক হিদায়াত (هداية العقل والحواس): মানুষকে চিন্তা ও বিবেচনাবোধ দান করা।
- দ্বীন ও শরীয়তের হিদায়াত (هداية الدلالة والبيان): নবী-রাসূল ও আসমানী কিতাব পাঠিয়ে সত্য-মিথ্যার পথ উন্মুক্ত করা।
- তাওফীক্ব ও জান্নাতের পথে অবিচলতার হিদায়াত (هداية التوفيق والإلهام): যা কেবল মুমিন বান্দাদের অন্তরে আল্লাহ দান করেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করান।
(ب) مَا الْمُرَادُ ‘بِالْمَغْضُوبِ’ وَ ‘الضَّالِّينَ’؟ بَيِّنْ-
[আল-মাগদূব এবং আদ-দ্বাল্লীন দ্বারা উদ্দেশ্য কী? বর্ণনা কর।]
তিরমিযী ও মুসনাদে আহমাদে হযরত আদী ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ দ্ব্যর্থহীনভাবে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
- আল-মাগদূব আলাইহিম (المغضوب عليهم – যাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ নিপতিত হয়েছে): এরা হলো ইহুদি জাতি। কারণ তারা সত্যকে সুস্পষ্টভাবে জানা সত্ত্বেও হঠকারিতা, অহংকার ও দুনিয়ার লোভে সত্য অস্বীকার করেছিল এবং নবীদের হত্যা করেছিল।
- আদ-দ্বাল্লীন (الضالين – যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে): এরা হলো খ্রিস্টান জাতি। কারণ তারা সঠিক জ্ঞান ছাড়া অজ্ঞতা ও অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির (গুলু) বশবর্তী হয়ে ঈসা (আ.)-কে খোদার পুত্র দাবি করে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
٢- قال الله تعالى: ﴿إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ۞ خَتَمَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ﴾
[২. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) حَقِّقْ: (لَمْ تُنْذِرْ، يُؤْمِنُونَ، كَفَرُوا، غِشَاوَةٌ)-
[শব্দগুলোর তাহক্বীক্ব কর:]
| শব্দ | শব্দমূল (مادة) ও বাব | সিগাহ ও বাহাস | অর্থ |
|---|---|---|---|
| لَمْ تُنْذِرْ | ن – ذ – ر (الإفعال) | ওয়াহেদ মুযাক্কার হাযির, নাফী জাহাদ বর ফে’লে মুদ্বরী মা’রূফ | আপনি তাদের সতর্ক করেননি |
| يُؤْمِنُونَ | أ – م – ن (الإفعال) | জমা মুযাক্কার গায়েব, ফে’লে মুদ্বরী মা’রূফ | তারা ঈমান আনে না / আনবে না |
| كَفَرُوا | ك – ف – ر (نَصَرَ) | জমা মুযাক্কার গায়েব, ফে’লে মাযী মা’রূফ | তারা কুফরী করেছে বা অস্বীকার করেছে |
| غِشَاوَةٌ | غ – ش – و (فِعَالَةٌ) | ইসম / মাসদার, একবচন | পর্দা বা আবরণ |
(ب) مَا مَعْنَى ‘الْخَتْمُ’؟ وَمَا الْمُرَادُ بِـ ‘خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ’؟ أَوْضِحْ-
[আল-খাতম এর অর্থ কী? খাতামাল্লাহু আলা ক্বুলূবিহিম দ্বারা উদ্দেশ্য কী? বিস্তারিত লেখ।]
- শাব্দিক অর্থ: সীলমোহর মেরে দেওয়া, বন্ধ করে দেওয়া বা অবরুদ্ধ করা।
- মর্মার্থ: কুরাইশদের আবু জাহেল, আবু লাহাব প্রমুখ চরমপন্থী কাফেরদের সম্পর্কে আল্লাহ ঘোষণা দেন যে, তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাদের অন্যায়ভাবে বিশ্বাস থেকে বঞ্চিত করেছেন; বরং যখন তারা ক্রমাগত অহংকার, একগুঁয়েমি ও অন্ধ বিদ্বেষের কারণে সত্যকে বর্জন করতে থাকে, তখন আল্লাহ শাস্তিস্বরূপ তাদের অন্তর ও শ্রবণশক্তিকে এমনভাবে অবরুদ্ধ করে দেন যে হকের কোনো দাওয়াত তাদের অন্তরে প্রবেশ করে না।
٣- قال الله تعالى: ﴿وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَىٰ شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ ۞ اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ﴾
[৩. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) عَرِّفِ النِّفَاقَ ثُمَّ بَيِّنْ عَلَامَاتِ الْمُنَافِقِينَ-
[নিফাক্ব এর পরিচয় দাও। মুনাফিকদের চিহ্নসমূহ বর্ণনা কর।]
- নিফাক্ব (النفاق)-এর পরিচয়: অন্তরে কুফর, শিরক ও ইসলামের প্রতি শত্রুতা গোপন রেখে প্রকাশ্যে নিজেকে মুসলিম দাবি করা এবং নামায-রোযার ভান করাকে নিফাক্ব বলে।
- মুনাফিকদের প্রধান প্রধান আলামত:
- কথা বললে মিথ্যা বলে (إذا حدّث كذب)।
- ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে (إذا وعد أخلف)।
- আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে (إذا اؤتمن خان)।
- বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে (إذا خاصم فجر)।
- নামাযে অলসতা ভরে দাঁড়ায় এবং মানুষের দেখানোর জন্য ইবাদত করে।
(ب) مَا مَعْنَى الِاسْتِهْزَاءِ؟ أَوْضِحْ ﴿اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ﴾-
[ইস্তিহযা এর অর্থ কী? ‘আল্লাহু ইয়াস্তাহযিউ বিহিম’ এর ব্যাখ্যা কর।]
ইস্তিহযা ও আল্লাহর বিদ্রূপের ব্যাখ্যা: ‘ইস্তিহযা’ অর্থ উপহাস বা বিদ্রূপ করা। মুনাফিকরা মুসলিমদের সাথে ছলচাতুরী করে বলত—আমরা তো তাদের নিয়ে তামাশা করছি। এর জবাবে আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ তাদের নিয়ে বিদ্রূপ করেন”। এটি বালাগাতের ভাষায় ‘মুশাকালাহ’ (المشاكلة) অর্থাৎ তাদের অপরাধের অনুরূপ শাস্তির নামকরণ। আল্লাহ সরাসরি মানুষের মতো ঠাট্টা করেন না; বরং আল্লাহ তাদের ধূর্তামির এমন শোচনীয় পরিণাম প্রস্তুত রেখেছেন এবং তাদের রশি এমনভাবে ঢিল দিয়ে রেখেছেন যে তারা নিজেদের চালাক ভাবলেও চূড়ান্ত দিনে তারা চরম লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হবে।
٤- قال الله تعالى: ﴿رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ ۞ رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ﴾
[৪. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) رَكِّبْ: ﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ﴾-
[তারকীব কর: إن الله لا يخلف الميعاد]
| শব্দ | ব্যাকরণিক পদ ও তারকীব (الإعراب) |
|---|---|
| إِنَّ (ইন্না) | হরফে মুশাব্বাহা বিল ফে’ল (حرف مشبه بالفعل), তাকিদের জন্য আসে। |
| اللَّهَ (আল্লাহ) | ইসমু ইন্না মানসুব (اسم إن منصوب بالفتحة الظاهرة)। |
| لَا يُخْلِفُ (লা ইউখলিফু) | ফে’লে মুদ্বরী নাফী মা’রূফ, এর মধ্যে ‘হুওয়া’ দমীর উহ্য ফাঈল (فاعل)। |
| الْمِيعَادَ (আল-মী’আদ) | মাফ’উলে বিহী মানসুব (مفعول به منصوب)। |
সারসংক্ষেপ: ফে’ল, ফাঈল ও মাফ’উল মিলে জুমলায়ে ফে’লিয়্যাহ হয়ে ‘ইন্না’-এর খবর (মারফূ’ মাহাল্লান) হয়েছে। ইন্না তার ইসম ও খবর মিলে জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ গঠিত হয়েছে।
(ب) مَا مَعْنَى الزَّيْغِ؟ وَمَا الْمُرَادُ “لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا”؟
[আয-যাইগ এর অর্থ কী? লা তুযিগ ক্বুলূবানা দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]
শাব্দিক ও মর্মার্থ: ‘যাইগ’ (الزيغ) শব্দের অর্থ সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া, বাঁকা হওয়া বা হেলে পড়া। ‘লা তুযিগ ক্বুলূবানা’ হলো প্রজ্ঞাবান গভীর জ্ঞানীদের আন্তরিক দু’আ: “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে সরল পথ দেখানোর পর আমাদের অন্তরগুলোকে সত্য থেকে বিচ্যুত বা বক্র করে দেবেন না।” মানুষের অন্তর সবসময় পরিবর্তনশীল, তাই নবীজি নিজেও নিয়মিত দু’আ করতেন: ‘ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব, সাব্বিত ক্বালবী ‘আলা দীনিক’।
٥- قال الله تعالى: ﴿شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ۞ إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ﴾
[৫. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) مَا الْفَرْقُ بَيْنَ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ؟ بَيِّنْ-
[ঈমান ও ইসলামের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।]
হাদীসে জিবরাঈল এবং সূরা আল-হুজুরাতের ১৪ নং আয়াতের আলোকে ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য:
- অভ্যন্তরীণ বনাম বাহ্যিক দিক: ‘ঈমান’ হলো অন্তরের অদৃশ্য বিশ্বাস (আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, আখেরাতে খাঁটি প্রত্যয়); আর ‘ইসলাম’ হলো সেই বিশ্বাসের আলোকে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আনুগত্য (কালেমা, নামায, রোযা, যাকাত ও হজ)।
- একত্রিত ও পৃথক প্রয়োগ: যখন ঈমান ও ইসলাম একসাথে উল্লেখিত হয়, তখন ঈমান দ্বারা অন্তরের বিশ্বাস এবং ইসলাম দ্বারা বাহ্যিক আমল বোঝায়। আর যখন এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন একটি অন্যটির অন্তর্ভুক্ত থাকে। পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে হলে উভয়ের সমন্বয় অপরিহার্য।
(ب) أَوْضِحْ: ﴿إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ﴾-
[‘ইন্নাদ্দীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম’ এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।]
তাৎপর্য: মহান আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য ও একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম। আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ ﷺ পর্যন্ত সকল নবীর মৌলিক দ্বীন ছিল ইসলাম বা এক আল্লাহর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ও তাওহীদ। ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন বা মানব রচিত মতবাদ গ্রহণ করলে তা আখেরাতে কখনোই কবুল করা হবে না এবং সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
٦- قال الله تعالى: ﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا﴾
[৬. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) আয়াতে কারীমার শানে নুযূল উল্লেখ কর:
শানে নুযূল: জাহেলী সমাজে মানবজাতির সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ ও রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। কুরাইশরা নিজেদের উচ্চ বংশীয় এবং অন্যদের নীচ মনে করত। এছাড়া নারীদের সম্পত্তি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতো। এই চরম বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে আল্লাহ তা’আলা মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দিতে এই আয়াত অবতীর্ণ করেন যে, জগতের সকল মানুষ একই পিতা (হযরত আদম আ.) থেকে সৃষ্টি। সুতরাং বংশ বা বর্ণের কোনো অহংকার থাকতে পারে না।
(ب) مَا هُوَ مَحَلُّ الْإِعْرَابِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: ‘وَالْأَرْحَامَ’؟
[‘আল-আরহামা’ এর মাহাল্লে ই’রাব কী?]
ক্বিরাআতের ইমামগণের মধ্যে এ শব্দে দুটি ই’রাব রয়েছে:
- নসবের হালত (الْأَرْحَامَ): জমহুর ক্বারীদের ক্বিরাআতে এটি যবরযুক্ত। এটি আল্লাহর পবিত্র নাম ‘আল্লাহ’ (اتقوا الله) অথবা ‘বিহী’-এর ওপর আতফ হয়ে মাফ’উল হওয়ার কারণে মানসুব হয়েছে। অর্থ: তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাক।
- জরের হালত (الْأَرْحَامِ): ইমাম হামযাহ (রহ.) যের দিয়ে পাঠ করেছেন। এটি ‘বিহী’ এর মাজরুর যমীরের ওপর আতফ হয়েছে (تساءلون به وبالأرحام)। অর্থাৎ জাহেলী যুগে আরবরা আল্লাহর নামের পাশাপাশি আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত।
٧- ﴿لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا﴾
[৭. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) أَصْحَابُ الْفَرَائِضِ مَنْ هُمْ؟ بَيِّنْ-
[আসহাবুল ফারায়িজ কারা? বর্ণনা কর।]
আসহাবুল ফারায়িজ (أصحاب الفرائض): ইসলামি উত্তরাধিকার আইনে যে সকল আত্মীয়-স্বজনের অংশ পবিত্র কুরআনে সুনির্দিষ্ট ভগ্নাংশ আকারে (যেমন: ১/২, ১/৪, ১/৮, ২/৩, ১/৩, ১/৬) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে আসহাবুল ফারায়িজ বা নির্দিষ্ট অংশের অংশীদার বলা হয়। এরা মোট ১২ জন (৪ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী):
- ৪ জন পুরুষ: ১. পিতা, ২. দাদা (সহীহ দাদা), ৩. বৈপিত্রীয় ভাই, ৪. স্বামী।
- ৮ জন নারী: ১. স্ত্রী, ২. কন্যা, ৩. পৌত্রী, ৪. মাতা, ৫. দাদী/নানী, ৬. সহোদর বোন, ৭. বৈমাত্রেয় বোন, ৮. বৈপিত্রীয় বোন।
(ب) حَقِّقْ: (كَثُرَ، قَلَّ، أَقْرَبُونَ، تَرَكَ)-
| শব্দ | শব্দমূল (مادة) ও বাব | সিগাহ ও বাহাস | অর্থ |
|---|---|---|---|
| كَثُرَ | ك – ث – ر (كَرُمَ) | ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়েব, মাযী মা’রূফ | তা অধিক হলো |
| قَلَّ | ق – ل – ل (ضَرَبَ) | ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়েব, মুদা’আফ মাযী | তা অল্প হলো |
| أَقْرَبُونَ | ق – ر – ب (أَفْعَلُ التفضيل) | জমা মুযাক্কার, ইসমে তাফদ্বীল | নিকটাত্মীয়গণ |
| تَرَكَ | ت – ر – ك (نَصَرَ) | ওয়াহেদ মুযাক্কার গায়েব, মাযী মা’রূফ | সে রেখে গেছে (উত্তরাধিকার) |
٨- قال الله تعالى: ﴿إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا﴾
[৮. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) مَا مَعْنَى الْيَتِيمِ؟ ثُمَّ بَيِّنْ حُقُوقَ الْأَيْتَامِ؟
[এতিম অর্থ কী? অতঃপর এতিমদের হকসমূহ বর্ণনা কর।]
- এতিমের পরিচয়: যে শিশুর অপ্রাপ্তবয়স্ক (নাবালেগ) অবস্থায় পিতা ইন্তেকাল করেন, তাকে শরীয়তের পরিভাষায় এতিম বলা হয়। বালেগ হওয়ার পর সে আর এতিম থাকে না।
- এতিমদের প্রধান হকসমূহ:
- তাদের জান-মাল ও সম্পত্তির আমানতদারী রক্ষা করা এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করা।
- তাদের সম্পদে নিজস্ব সম্পদ মিশিয়ে বা অন্যায়ভাবে গ্রাস না করা।
- তাদের প্রতি স্নেহ, ভালোবাসা ও উত্তম লালন-পালনের ব্যবস্থা করা।
(ب) أَوْضِحْ: “إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا”-
[“ইন্নামা ইয়া’কুলূনা ফী বুতূনিহিম নারা” এর বিশ্লেষণ কর।]
বিশ্লেষণ: যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ গ্রাস করে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উদরে আগুন ভক্ষণের সাথে উপমা দিয়েছেন। এর দুটি অর্থ রয়েছে: ১. রূপক অর্থ—এতিমের সম্পদ হলো এমন এক বিষাক্ত আগুন যা তাদের আখেরাতে জাহান্নামের আগুনে জ্বালিয়ে ছারখার করবে। ২. বাস্তব অর্থ—ক্বিয়ামতের ময়দানে এই ভক্ষণকৃত সম্পদ তাদের পেটের ভেতর দাউদাউ করা জলন্ত আগুনে রূপ ধারণ করবে এবং তাদের মুখ ও নাক দিয়ে আগুনের ধোঁয়া বের হতে থাকবে।
٩- قال الله تعالى: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ﴾
[৯. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) مَا مَعْنَى الصَّيْدِ؟ وَمَا حُكْمُ اقْتِنَاصِ الصَّيْدِ فِي حَالَةِ الْإِحْرَامِ؟ بَيِّنْ-
[সাইদ অর্থ কী? ইহরাম অবস্থায় শিকার করার হুকুম কী? বর্ণনা কর।]
- সাইদ (الصيد)-এর পরিচয়: এমন বন্য হালাল প্রাণী যা স্বভাবগতভাবে মানুষের পোষ মানে না এবং দ্রুত পলায়নপর, তাকে সাইদ বা শিকারযোগ্য প্রাণী বলে (যেমন হরিণ, বন্য গরু)।
- ইহরাম অবস্থায় শিকারের হুকুম: হজের বা ওমরাহর ইহরাম বাঁধা অবস্থায় স্থলভাগের কোনো বন্য প্রাণী শিকার করা বা শিকারে কোনো প্রকার সহায়তা করা কঠোরভাবে হারাম। যদি কেউ শিকার করে তবে তাকে জরিমানা হিসেবে সমমূল্যের গৃহপালিত পশু কুরবানী করতে হবে অথবা কাফফারা দিতে হবে। তবে সমুদ্র বা পানির মাছ শিকার করা ইহরাম অবস্থায়ও হালাল।
(ب) مَا مَعْنَى الْعُقُودِ؟ بَيِّنْ شَرَائِطَ الْعُقُودِ-
[উকূদ অর্থ কী? উকূদ এর শর্তসমূহ বর্ণনা কর।]
উকূদ (العقود): এটি ‘আক্বদ’ (عقد) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ চুক্তি, অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি। বান্দার সাথে আল্লাহর দ্বীনি অঙ্গীকার এবং মানুষের সাথে মানুষের বৈবাহিক, ব্যবসায়িক ও সামাজিক সকল চুক্তি এর অন্তর্ভুক্ত। চুক্তি বৈধ হওয়ার প্রধান শর্তগুলো হলো: ১. উভয় পক্ষের সম্মতি (তারাদ্বী), ২. বিবেকবান ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, ৩. পণ্য ও মূল্যের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা, ৪. হারাম ও প্রতারণামূলক বস্তু (গারার) না হওয়া।
١٠- قال الله تعالى: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا﴾
[১০. আয়াতগুলোর তাফসির লিখে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও]
(أ) اكْتُبْ فَرَائِضَ الْوُضُوءِ وَسُنَنَهُ-
[ওযুর ফরজ ও সুন্নাতসমূহ লেখ।]
- ওযুর ফরজ ৪টি (আয়াত অনুযায়ী):
- ১. সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধৌত করা (কপালের চুল ওঠার স্থান থেকে থুতনির নিচ এবং এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত)।
- ২. দুই হাত কনুইসহ ধৌত করা।
- ৩. মাথার চারভাগের একভাগ মাসেহ করা।
- ৪. দুই পা টাখনুসহ ধৌত করা।
- ওযুর প্রধান সুন্নাতসমূহ: নিয়ত করা, বিসমিল্লাহ পড়া, মেসওয়াক করা, তিনবার কব্জি পর্যন্ত হাত ধোয়া, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, দাড়ি ও আঙুল খিলাল করা, সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
(ب) بَيِّنِ الِاخْتِلَافَ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ-
[মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে ফুক্বাহাদের মতভেদ লেখ।]
- ইমাম আবু হানীফা (রহ.): মাথার চারভাগের একভাগ (১/৪) মাসেহ করা ফরজ; কারণ আয়াতে ‘বা’ (بـ) হরফটি ইলতিসাক্ব ও বা’দিয়্যাহ (অংশবিশেষ) অর্থে এসেছে।
- ইমাম শাফেঈ (রহ.): মাথার সামান্যতম অংশ বা কয়েকটি চুল মাসেহ করলেই ফরজ আদায় হয়ে যাবে।
- ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ (রহ.): সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করা ফরজ।
مجموعة (ب) – খ অংশ: সংক্ষিপ্ত তাত্ত্বিক প্রশ্নাবলি
١١- ما معنى التفسير وكم قسما له؟ اكتب خصائص التفسير بدون السند-
[১১. তাফসীর অর্থ কী? তাফসীর কত প্রকার? التفسير بدون السند এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]
তাফসীরের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ: ‘তাফসীর’ অর্থ উন্মোচন বা স্পষ্ট করা। তাফসীর প্রধানত দুই প্রকার: ১. তাফসীর বিল মা’ছূর (কুরআন, হাদীস ও সাহাবীদের বাণীভিত্তিক) এবং ২. তাফসীর বির রায় (বিশুদ্ধ যুক্তি ও ইজতিহাদভিত্তিক)।
সনদবিহীন তাফসীরের বৈশিষ্ট্য: দীর্ঘ সনদের ক্লান্তিকর তালিকা পরিহার করে সরাসরি বিশুদ্ধ অর্থ ও বিধান উপস্থাপন করা, প্রাঞ্জল ও গতিশীল ভাষাভঙ্গি এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে কুরআনী শিক্ষার মেলবন্ধন তৈরি করা।
١٢- وازن بين تفسير كشاف وتفسير بيضاوى-
[১২. তাফসীরে কাশশাফ এবং তাফসীরে বায়যাবীর মধ্যে তুলনা কর।]
| বৈশিষ্ট্য | তাফসীরে কাশশাফ (আল্লামা যামাখশারী মৃ. ৫৩৮ হি.) | তাফসীরে বায়যাবী (ইমাম কাযী বায়যাবী মৃ. ৬৮৫ হি.) |
|---|---|---|
| আক্বীদাগত অবস্থান | মু’তাযিলা মতবাদের প্রবল প্রভাব ও সমর্থন রয়েছে। | আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের (আশ’আরী) আক্বীদা সমর্থন। |
| বালাগাত ও সাহিত্য | আরবি অলংকারশাস্ত্র ও সাহিত্যের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। | কাশশাফের সাহিত্যিক মাধুর্য গ্রহণ করে মু’তাযিলা মতামত ছাঁটাইকৃত। |
| গ্রহণযোগ্যতা | মু’তাযিলা আক্বীদার কারণে সতর্কতার সাথে পঠিত। | বিশ্বের সর্বস্তরের মাদরাসা পাঠ্যতালিকায় সর্বাধিক সমাদৃত। |
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. তাফসীর বিদূনিস সানাদ বলতে কী বোঝায়?
যে তাফসীর গ্রন্থে প্রতিটি আয়াতের বর্ণনাকারীদের দীর্ঘ সনদের ধারাবাহিক শৃঙ্খল উল্লেখ না করে সরাসরি মূল ব্যাখ্যা ও সঠিক বিধান প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরা হয়, তাকে আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ বলে।
২. সূরা আল-ফাতিহায় ‘মাগদূব’ ও ‘দ্বাল্লীন’ দ্বারা কাদের নির্দেশ করা হয়েছে?
সহীহ হাদীসের দ্ব্যর্থহীন ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘মাগদূব’ দ্বারা সত্য জেনেও অহংকারকারী ইহুদি জাতিকে এবং ‘দ্বাল্লীন’ দ্বারা অজ্ঞতাবশত পথভ্রষ্ট খ্রিস্টান জাতিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
৩. ইসলামে ওযুর ফরজ কয়টি?
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়িদাহর ৬ নং আয়াত অনুযায়ী ওযুর ফরজ সুনির্দিষ্টভাবে ৪টি: মুখ ধোয়া, দুই হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথা মাসেহ করা এবং দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।
৪. এতিমের হক নষ্ট করার পরিণতি কী?
কুরআনে এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করাকে পেটের ভেতর জাহান্নামের জলন্ত আগুন ভক্ষণের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং এর জন্য আখেরাতে কঠিন আযাবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
৫. তাফসীরে কাশশাফ ও বায়যাবীর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
তাফসীরে কাশশাফ মু’তাযিলা মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত; আর তাফসীরে বায়যাবী কাশশাফের সাহিত্যিক নির্যাস নিয়ে আহলুস সুন্নাহর আক্বীদার আলোকে রচিত জনপ্রিয় কিতাব।
৬. মিরাছ শাস্ত্রে ‘আসহাবুল ফারায়িজ’ বলতে কাদের বোঝায়?
যাঁদের উত্তরাধিকারের অংশ পবিত্র কুরআনে সুনির্দিষ্ট ভগ্নাংশ হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে তাঁদের আসহাবুল ফারায়িজ বলা হয়। এরা মোট ১২ জন।