জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীরুল মুয়াসসির (At-Tafsirul Muasir) – 201202, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2021

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪৫ মিনিট পড়ার সময়
১৫ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2021
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আত-তাফসীরুল মুয়াসসির (التفسير المعاصر)
বিষয় কোড: 201202 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে যে কোনো পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]


مجموعة (أ) – ক বিভাগ: আয়াতভিত্তিক তাফসির ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট

١- قال الله تعالى: ﴿قُل سِيرُوا فِي الْأَرْضِ ثُمَّ انظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ ۝ قُل لِّمَن مَّا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ قُل لِّلَّهِ ۚ كَتَبَ عَلَىٰ نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۚ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ۝ وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ﴾

[১. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “বলুন: তোমরা জমিনে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ মিথ্যাচারীদের পরিণাম কী হয়েছিল! বলুন: আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা কার? বলুন: আল্লাহরই। তিনি স্বীয় সত্তার উপর রহমত অবধারিত করে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই কিয়ামতের দিন তোমাদের একত্র করবেন, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। যারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা ঈমান আনবে না। আর রাত ও দিনে যা কিছু স্থিতি লাভ করে তা তাঁরই এবং তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা আল-আন’আম: ১১-১৩)]

(الف) حقّق الكلمات التالية: سِيرُوا، لَيَجْمَعَنَّكُمْ، كَتَبَ، السَّمَاوَاتُ-

[(ক) নিম্নের শব্দাবলির তাহকীক কর: سِيرُوا، لَيَجْمَعَنَّكُمْ، كَتَبَ، السَّمَاوَاتُ]

শব্দ (الكلمة) ছিগাহ ও বাহাস (الصيغة والبحث) বাব ও মাদ্দাহ (الباب والمادة) মূলধাতু ও অর্থ (المعنى)
سِيرُوا صيغة جمع مذكر حاضر، بحث أمر حاضر معروف باب ضَرَبَ يَضْرِبُ، مادة: س ي ر (اجوف يائي) তোমরা ভ্রমণ কর / বিচরণ কর
لَيَجْمَعَنَّكُمْ صيغة واحد مذكر غائب، بحث فعل مضارع مؤكد بلام التوكيد ونون الثقيلة مع ضمير الجمع باب فَتَحَ يَفْتَحُ، مادة: ج م ع (صحيح) তিনি অবশ্যই তোমাদের একত্র করবেন
كَتَبَ صيغة واحد مذكر غائب، بحث فعل ماض معروف باب نَصَرَ يَنْصُرُ، مادة: ك ت ب (صحيح) তিনি নির্ধারণ / অবধারিত করেছেন
السَّمَاوَاتُ اسم، جمع مؤنث سالم مادة: س م و (ناقص واوي) আকাশমণ্ডলী / আসমানসমূহ

(ب) بيّن سبب نزول هذه الآية: “قل سيروا في الأرض ثم انظروا كيف كان عاقبة المكذبين”-

[(খ) আল্লাহ তায়ালার বাণী: قل سيروا في الأرض ثم انظروا كيف كان عاقبة المكذبين এর শানে নুযূল বর্ণনা কর।]

শানে নুযূল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

মক্কার কাফের ও কুরাইশ নেতারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত ও তাওহীদের দাওয়াতকে চরম উপহাস করত এবং অহংকারবশত দাবি করত—যদি আপনি সত্য নবী হন তবে আমাদের উপর আযাব আনয়ন করুন। তাদের এই দাম্ভিকতা ও অস্বীকৃতির জবাবে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। আল্লাহ তাদের পূর্ববর্তী অতীত জাতিসমূহের (যেমন: আদ, সামূদ, লূত ও মাদইয়ানবাসী) ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করার নির্দেশ দেন। তারা বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে সিরিয়া ও ইয়েমেন যাওয়ার পথে এই ধ্বংসস্তূপগুলো প্রত্যক্ষ করত। আয়াতটির উদ্দেশ্য হলো অতীত ইতিহাসের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সত্য দ্বীন গ্রহণ করা।


٢- قال الله تعالى: ﴿وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُن مِّنَ السَّاجِدِينَ ۝ قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ ۖ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ﴾

[২. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আর নিশ্চয় আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদের রূপ দিয়েছি, তারপর আমি ফেরেশতাদের বললাম: তোমরা আদমকে সিজদা কর। তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদা করল; সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো না। আল্লাহ বললেন: আমি যখন তোমাকে আদেশ করলাম তখন কিসে তোমাকে বিরত রাখল যে তুমি সিজদা করলে না? সে বলল: আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে।” (সূরা আল-আ’রাফ: ১১-১২)]

(الف) اذكر القصة المتعلقة بهذين الآيتين الكريمتين-

[(ক) আয়াতে কারীমাদ্বয় সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি উল্লেখ কর।]

আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও ইবলীসের অহংকারের ঐতিহাসিক ঘটনা:

আল্লাহ তা’আলা যখন জমিনে স্বীয় খলীফা হিসেবে হযরত আদম (আ.)-কে মাটি থেকে নিখুঁত অবয়বে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলেন, তখন তিনি আদম (আ.)-কে সমগ্র সৃষ্টির নাম ও জ্ঞান শিক্ষা দিলেন। অতঃপর আল্লাহ ফেরেশতামণ্ডলীকে আদম (আ.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের স্বীকৃতিস্বরূপ সিজদা করার নির্দেশ প্রদান করলেন। সকল ফেরেশতা আনুগত্যের সাথে সিজদা করলেও ইবলীস অহংকার ও হিংসাবশত তা প্রত্যাখ্যান করল। আল্লাহ তাকে অবাধ্যতার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে উদ্ধত কণ্ঠে যুক্তি দেখাল—’আমি মাটির তৈরি মানুষের চেয়ে উত্তম, কারণ আগুন মাটির চেয়ে শক্তিশালী ও ঊর্ধ্বগামী।’ এই অন্ধ অহংকার, বর্ণবাদী মানসিকতা ও কিয়াসের কারণে ইবলীস চিরতরে অভিশপ্ত ও বিতাড়িত (রাজীম) হলো।

(ب) ما معنى السجدة؟ وهل تجوز السجدة لغير الله؟ بيّن بالأدلة-

[(খ) سجدة (সিজদাহ্) এর অর্থ কী? আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদাহ্ করা যাবে কি না? দলিলসহ বর্ণনা কর।]

সিজদার সংজ্ঞা ও শরীয়তের হুকুম:

১. সিজদার অর্থ: আভিধানিক অর্থ চরম বিনয়, আনুগত্য ও কপাল জমিনে রাখা। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর মহত্ত্বের সামনে সর্বোচ্চ বিনম্রতায় জমিনে নাক ও কপাল স্পর্শ করা।

২. গায়রুল্লাহকে সিজদার হুকুম:

  • ইবাদতের সিজদা (سجدة العبادة): আল্লাহ ব্যতীত নবী, ওলী, মাজার, প্রতিমা বা কোনো সৃষ্টিকে ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা করা স্পষ্ট শিরক ও কুফর।
  • সম্মানের সিজদা (سجدة التحية): পূর্ববর্তী শরীয়তে (যেমন আদম ও ইউসুফ আ.-এর যুগে) সম্মানের সিজদা জায়েয ছিল। কিন্তু মুহাম্মাদী শরীয়তে সম্মানের সিজদাকেও সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • দলিল: সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রা.) শাম থেকে ফিরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সিজদা করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে নিষেধ করে বললেন: «لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا» — “আমি যদি কোনো মানুষের জন্য অপর কোনো মানুষকে সিজদা করার আদেশ দিতাম, তবে নারীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করতে।” (তিরমিযী)। অতএব ইসলামে একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কারো সামনে মাথা নত করা সম্পূর্ণ হারাম।

٣- قال الله تعالى: ﴿وَكَم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا فَجَاءَهَا بَأْسُنَا بَيَاتًا أَوْ هُمْ قَائِلُونَ ۝ فَمَا كَانَ دَعْوَاهُمْ إِذْ جَاءَهُم بَأْسُنَا إِلَّا أَن قَالُوا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ﴾

[৩. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আর কত জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি! তাদের উপর আমার আযাব এসেছিল রাতের বেলায় অথবা যখন তারা দুপুরে বিশ্রামরত ছিল। অতঃপর যখন তাদের উপর আমার আযাব আপতিত হয়েছিল, তখন তাদের কোনো দাবি ছিল না কেবল এ কথা বলা ছাড়া যে: নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম।” (সূরা আল-আ’রাফ: ৪-৫)]

(الف) لِمَ خُصَّ مجيء البأس بهذين الوقتين؟ بيّن-

[(ক) শাস্তি প্রদানকে দুই সময়ের (রাত্রিকালে অথবা দ্বিপ্রহরে) সাথে কেন নির্দিষ্ট করা হয়েছে? বর্ণনা কর।]

রাত ও দ্বিপ্রহরে আযাব আসার হিকমত:

  1. চরম অসচেতনতা ও শান্তির সময়: রাতের বেলা (بَيَاتًا) মানুষ নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে এবং দ্বিপ্রহরে (هُمْ قَائِلُونَ – ক্বায়লূলা) বিশ্রাম নেয়। এ দুই সময়ে মানুষ জাগতিক বিপদাপদ থেকে নিজেকে সবচেয়ে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত মনে করে।
  2. প্রতিরোধহীন অসহায়ত্ব: এই গভীর অসতর্ক মুহূর্তে আকস্মিক আযাব আপতিত হলে আত্মরক্ষা বা পলায়নের কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে আল্লাহর পাকড়াও যে কতটা নির্মম ও অপ্রতিরোধ্য, তা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
  3. গাফিলতির শাস্তি: যারা চরম বিলাসিতা ও উদাসীনতায় ডুবে থাকে, আল্লাহ তাদের সেই আরামের মুহূর্তেই সমূলে ধ্বংস করে দেন।

(ب) ماذا وقع في التركيب النحوي “هم قائلون”؟ بيّن-

[(খ) ‘هم قائلون’ তারকীব-এ কী হয়েছে? বর্ণনা কর।]

নাহবীয় তারকীব বিশ্লেষণ:

  • ‘হুম’ (هُمْ) হলো যমীরে মারফূ’ মুনফাসিল, যা মুবতাদা (مبتدأ)।
  • ‘ক্বা-ইলূন’ (قَائِلُونَ) হলো ইসমু ফায়েল-এর জমা মুযাক্কার সালিম, যা খবর (خبر)। শব্দটি এসেছে ‘ক্বায়লূলাহ’ (القيلولة – দুপুরের বিশ্রাম) থেকে।
  • মুবতাদা ও খবর মিলে জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ গঠিত হয়েছে।
  • সমগ্র জুমলাটি ‘হাল’ (حال) হিসেবে পূর্ববর্তী শব্দের অবস্থা বর্ণনা করছে, অর্থাৎ “এমন অবস্থায় যে তারা দ্বিপ্রাহরিক নিদ্রায় নিমগ্ন ছিল।”

٤- قال الله تعالى: ﴿يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَنفَالِ ۖ قُلِ الْأَنفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ ۖ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ﴾

[৪. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “তারা আপনাকে গনীমতের সম্পদ (আনফাল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন: আনফাল তো আল্লাহ এবং রাসূলের। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন কর, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।” (সূরা আল-আনফাল: ১)]

(الف) ما معنى “الأنفال” وما حكمها؟ وما الفرق بين الفيء والغنيمة؟

[(ক) ‘الأنفال’ এর অর্থ কী? এর হুকুম কী? الفيء ও الغنيمة এর মধ্যে পার্থক্য কী? লেখ।]

আনফাল, গনীমত ও ফাই-এর পরিচয় ও পার্থক্য:

১. আনফাল (الأنفال): ‘নাফল’-এর বহুবচন, অর্থ অতিরিক্ত দান বা উপহার। যুদ্ধে কাফেরদের নিকট থেকে অর্জিত যুদ্ধলব্ধ সম্পদকে আনফাল বলা হয়। এর চূড়ান্ত মালিকানা আল্লাহ ও রাসূলের বিধান দ্বারা নির্ধারিত।

২. গনীমত ও ফাই-এর পার্থক্য:

  • আল-গনীমাহ (الغنيمة): প্রত্যক্ষ যুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে কাফেরদের থেকে হস্তগত সম্পদকে গনীমত বলে। এর চার-পঞ্চমাংশ (৪/৫) মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করা হয় এবং এক-পঞ্চমাংশ (১/৫ বা খুমুস) রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সংরক্ষিত হয়।
  • আল-ফাই (الفيء): কোনো প্রকার যুদ্ধ ও রক্তপাত ছাড়া কাফেরদের ফেলে যাওয়া বা সন্ধির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদকে ফাই বলা হয়। এটি সম্পূর্ণভাবে বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত এবং জনকল্যাণে ব্যয় হয়।

(ب) ما معنى التقوى؟ اكتب مراتب التقوى مختصرًا-

[(খ) التقوى এর অর্থ কী? تقوى এর স্তরসমূহ সংক্ষেপে লেখ।]

তাকওয়ার অর্থ ও স্তরসমূহ:

অর্থ: আত্মরক্ষা করা, আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রেখে যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ বর্জন করা এবং আদেশ পালন করা।

তাকওয়ার তিনটি স্তর (مراتب التقوى):

  1. সাধারণ স্তর (العوام): শিরক ও কুফর বর্জন করে ঈমান আনার মাধ্যমে জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুন থেকে আত্মরক্ষা করা।
  2. মধ্যম স্তর (الخواص): যাবতীয় কবীরা গুনাহ, ছগীরা গুনাহ এবং সন্দেহযুক্ত বস্তু পরিহার করে শরীয়তের পাবন্দী বজায় রাখা।
  3. সর্বোচ্চ স্তর (خواص الخواص): আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুতকারী সকল অনর্থক চিন্তা ও বস্তু থেকে অন্তরকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত রেখে একমাত্র আল্লাহর প্রেমে নিমগ্ন থাকা।

٥- قال الله تعالى: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ ۝ وَمَن يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِّقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَىٰ فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ﴾

[৫. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কাফেরদের মুখোমুখি হবে সুশৃঙ্খল যুদ্ধের ময়দানে, তখন তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না। আর যে ব্যক্তি সেদিন তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে—যুদ্ধকৌশল পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো দলের সাথে মিলিত হওয়া ব্যতীত—সে তো আল্লাহর গযবে নিপতিত হবে এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য!” (সূরা আল-আনফাল: ১৫-১৬)]

(الف) ما حكم الفرار عن الحرب؟ ومتى يجوز الفرار منها؟

[(ক) যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়নের হুকুম কী? কখন যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা জায়েজ?]

রণাঙ্গন থেকে পলায়নের হুকুম:

রণাঙ্গন থেকে পলায়ন করা ইসলামের অন্যতম কবিরা গুনাহ (মুহলিকাত বা ধ্বংসাত্মক সাত পাপের অন্তর্ভুক্ত)। কুরআনে একে আল্লাহর গযব ও জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ বলা হয়েছে।

পলায়ন জায়েয হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ:

  1. মুতাহাররিফান লিক্বিতাল (متحرفا لقتال): সামরিক রণকৌশল হিসেবে শত্রুকে বিভ্রান্ত করতে সাময়িক পিছু হটে পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া।
  2. মুতাহাইয়িযান ইলা ফি’আহ (متحيزا إلى فئة): নিজ বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুসলিমদের অন্য কোনো সেনাদল বা কেন্দ্রের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য পিছিয়ে আসা।
  3. শত্রুপক্ষের আধিক্য: যদি শত্রুর সংখ্যা মুসলিম সৈন্যের দ্বিগুণেরও বেশি হয় (অর্থাৎ ১ জন মুসলিমের বিপরীতে ২ জনের অধিক কাফের), তখন জান বাঁচাতে পিছু হটা বৈধ।

(ب) ما هو وجه نصب “زَحْفًا”؟

[(খ) ‘زَحْفًا’ শব্দটি নসববিশিষ্ট হওয়ার কারণ কী?]

নাহবীয় বিশ্লেষণ:

‘যাহ্ফান’ (زَحْفًا) শব্দটি মূলধাতু (মাসদার)। এখানে এটি ‘হাল’ (حال) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নসব (যবর) প্রাপ্ত হয়েছে। বাক্যটির ভাবার্থ হলো: “এমন অবস্থায় যখন তারা সৈন্যবাহিনী নিয়ে পঙ্গপালের মতো অগ্রসর হচ্ছে।”


٦- قال الله تعالى: ﴿بَرَاءَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى الَّذِينَ عَاهَدتُّم مِّنَ الْمُشْرِكِينَ ۝ فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ ۙ وَأَنَّ اللَّهَ مُخْزِي الْكَافِرِينَ﴾

[৬. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা ঐসব মুশরিকদের প্রতি, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে। সুতরাং তোমরা জমিনে চার মাস বিচরণ কর এবং জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না; আর নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের লাঞ্ছিতকারী।” (সূরা আত-তাওবাহ: ১-২)]

(الف) ما معنى التوبة؟ اذكر أقوال العلماء في عدم ذكر البسملة في أوّل سورة التوبة-

[(ক) التوبة অর্থ কী? সূরাহ আত-তাওবাহ্ এর প্রথমে بسم الله উল্লেখ না করার ব্যাপারে আলেমদের মতামত বর্ণনা কর।]

তাওবার অর্থ ও বিসমিল্লাহ না লেখার কারণ:

১. তাওবার অর্থ: ফিরে আসা, গুনাহ পরিত্যাগ করে আল্লাহর আনুগত্যে প্রত্যাবর্তন করা।

২. সূরা তাওবার শুরুতে বিসমিল্লাহ না থাকার ওলামায়ে কেরামের অভিমত:

  • হযরত আলী (রা.)-এর অভিমত: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম হলো শান্তি, নিরাপত্তা ও রহমতের প্রতীক। পক্ষান্তরে সূরা তাওবা অবতীর্ণ হয়েছে তরবারি, যুদ্ধ ও বিশ্বাসঘাতক মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কঠোর হুঁশিয়ারি নিয়ে। তাই রহমতের আয়াতের সাথে আযাবের ঘোষণার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়নি।
  • হযরত উসমান (রা.)-এর অভিমত: সূরা আনফাল ও সূরা তাওবার বিষয়বস্তুর গভীর সাদৃশ্যের কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করে আলাদা করার পূর্বেই ওফাত পান। ফলে সাহাবায়ে কেরাম মাঝখানে ফাঁকা রেখে বিসমিল্লাহ ছাড়া এটি সংকলন করেন।

(ب) ما هي الأشهر الحرم وما حكمها؟

[(খ) হারাম মাসসমূহ কী কী এবং এগুলোর হুকুম কী?]

আশহুরে হুরুম (পবিত্র চার মাস):

  • পবিত্র মাস চারটি হলো: জিলকদ, জিলহজ, মুহাররম এবং রজব।
  • হুকুম: এ মাসগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাত বন্ধ রাখা হতো। ইসলামে এ মাসগুলোর পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে এবং এ সময়ে কৃত ইবাদতের সওয়াব যেমন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি এ মাসে পাপকর্মে লিপ্ত হওয়ার শাস্তিও অত্যন্ত ভয়াবহ।

٧- قال الله تعالى: ﴿هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ ۚ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَٰلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ ۚ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ﴾

[৭. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “তিনিই সেই সত্তা, যিনি সূর্যকে দীপ্তিমান (যিয়া) এবং চাঁদকে আলোকময় (নূর) করেছেন এবং তার জন্য কক্ষপথ নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বছর গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পার। আল্লাহ এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি, তিনি সত্যতার সাথেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানবান কওমের জন্য নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বর্ণনা করেন।” (সূরা ইউনুস: ৫)]

(الف) ما الفرق بين ضياء ونور؟ بيّن مفصّلا-

[(ক) ضياء ও نور এর মধ্যে পার্থক্য কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

‘যিয়া’ ও ‘নূর’-এর বৈজ্ঞানিক ও ভাষাতাত্ত্বিক পার্থক্য:

  • যিয়া (الضياء): এমন তীব্র ও প্রখর আলো যা নিজস্ব উৎস থেকে উৎপন্ন হয় এবং যার সাথে উত্তাপ ও তেজস্ক্রিয়তা জড়িত থাকে। সূর্য তার নিজস্ব পারমাণবিক প্রক্রিয়ায় প্রজ্বলিত হয়ে আলো দেয়, তাই কুরআন সূর্যকে ‘যিয়া’ বলেছে।
  • নূর (النور): এমন শান্ত, কোমল ও প্রতিফলিত আলো যার নিজস্ব উত্তাপ নেই। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই, বরং তা সূর্যের আলোর প্রতিফলন মাত্র। চৌদ্দশত বছর পূর্বে কুরআনের এই শব্দচয়ন কুরআনের অলৌকিক বৈজ্ঞানিক মুজিযার অকাট্য প্রমাণ।

(ب) ما المراد بقوله تعالى: “لتعلموا عدد السنين والحساب”؟ اكتب مختصرًا-

[(খ) আল্লাহ্ তায়ালার বাণী: لتعلموا عدد السنين والحساب দ্বারা উদ্দেশ্য কী? সংক্ষেপে লেখ।]

উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য:

চন্দ্র ও সূর্যের আবর্তন এবং চন্দ্রকলার হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবজাতি দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর গণনা করতে পারে। এর ফলে মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সর্বোপরি রোজা, হজ, যাকাত ও ইদ্দতের মতো ধর্মীয় ইবাদতের সময় নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়।


٨- قال الله تعالى: ﴿إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ ۖ مَا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِن بَعْدِ إِذْنِهِ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ﴾

[৮. মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী: “নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে; অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত কর। তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?” (সূরা ইউনুস: ৩)]

(الف) ما المراد بقوله تعالى ‘فى ستة ايام’؟ فصّل-

[(ক) আল্লাহ্ তায়ালার বাণী: ‘فى ستة ايام’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য? ব্যাখ্যা কর।]

ছয় দিনে সৃষ্টির তাৎপর্য:

আল্লাহ তা’আলা ‘কুন’ (হও) বললেই নিমিষে সবকিছু সৃষ্টি হতে পারত, কিন্তু ছয়টি সুনির্দিষ্ট কাল বা পর্যায়ে সৃষ্টি করার পেছনে মানবজাতির জন্য শিক্ষণীয় হিকমত রয়েছে: প্রতিটি কর্মে ধারাবাহিকতা, ধৈর্য ও নিয়মানুবর্তিতা রক্ষা করা। আয়াতে ‘আইয়্যাম’ (الأيام) দ্বারা আমাদের চব্বিশ ঘণ্টার দিন নয়, বরং মহাজাগতিক দীর্ঘ ছয়টি যুগ বা স্তরকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(ب) أوضح بقوله تعالى ‘يدبّر الامر’-

[(খ) আল্লাহ্র বাণী: ‘يدبّر الامر’ এর ব্যাখ্যা কর।]

‘ইউদাব্বিরুল আমর’-এর তাৎপর্য:

আল্লাহ কেবল মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেই দায়িত্ব শেষ করেননি; বরং অণু-পরমাণু থেকে শুরু করে সুবিশাল ছায়াপথ পর্যন্ত সমগ্র সৃষ্টিজগতের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রতিটি বিষয় তিনিই নিখুঁতভাবে পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষা করছেন। কোনো পাতা ঝরে পড়া থেকে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস সবই তাঁর সার্বভৌম পরিচালনায় সংঘটিত হয়।


مجموعة (ب) – খ বিভাগ: আধুনিক তাফসির শাস্ত্র ও গ্রন্থ পরিচিতি

٩- وازن بين خصائص ‘صفوة التفاسير’ و ‘تفسير المنار’-

[৯. ‘تفسير المنار’ ও ‘صفوة التفاسير’ এর বৈশিষ্ট্যসমূহের তুলনামূলক আলোচনা কর।]

১. তাফসিরদ্বয়ের মৌলিক পরিচিতি:

  • সাফওয়াতুত তাফাসীর (صفوة التفاسير): রচয়িতা আধুনিক যুগের খ্যাতনামা সিরিয়ান ফকীহ ও মুফাসসির আল্লামা মুহাম্মদ আলী আস-সাবূনী (রহ.)। এটি প্রধান প্রধান ধ্রুপদী তাফসিরের সারাংশ।
  • তাফসীরুল মানার (تفسير المنار): শায়খ মুহাম্মদ আবদুহু-এর চিন্তাধারার আলোকে তাঁর সুযোগ্য শিষ্য আল্লামা রশীদ রিদা কর্তৃক রচিত আধুনিক সংস্কারবাদী তাফসির।

২. তুলনামূলক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

তুলনার ক্ষেত্র সাফওয়াতুত তাফাসীর (الصفوة) তাফসীরুল মানার (المنار)
পদ্ধতি ও শৈলী প্রাচীন নির্ভরযোগ্য তাফসিরের নির্যাস অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুবিন্যস্ত আরবিতে উপস্থাপন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও যুক্তিভিত্তিক সংস্কারধর্মী আলোচনা।
বালাগাত ও ভাষা আয়াতের বালাগাত ও সাহিত্যের সৌন্দর্য বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সমসাময়িক যুগের সমস্যা ও পাশ্চাত্যের বিভ্রান্তির বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব।
ইজতিহাদ ও দৃষ্টিভঙ্গি জমহুর আহলুস সুন্নাতের বিশুদ্ধ আকীদাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মুক্তচিন্তা ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

١٠- اكتب نبذة من حياة “الدكتور وهبة الزحيلي” مع خصائص تفسيره ‘تفسير المنير’-

[১০. ডক্টর ওয়াহবাহ্ আয-যুহাইলী এর জীবনী উল্লেখসহ তাঁর রচিত তাফসির ‘تفسير المنير’ এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

১. ডক্টর ওয়াহবাহ আয-যুহাইলী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

  • জন্ম ও শিক্ষা: তিনি ১৯৩২ সালে সিরিয়ার দামেস্কের নিকটবর্তী দাইর আতিয়া নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী আইন ও শরীয়াহর উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
  • অবদান: তিনি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ফিক্বহ বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং বিশ্বখ্যাত এনসাইক্লোপিডিয়া ‘আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু’-এর প্রণেতা।
  • ইনতিকাল: ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট তিনি দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।

২. ‘আত-তাফসীরুল মুনীর’ (التفسير المنير)-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. ত্রিমাত্রিক কাঠামো: প্রতিটি সূরার অধীনে তিনি তিনটি প্রধান শিরোনামে আলোচনা করেছেন: আল-ই’রাব ওয়াল বালাগাহ (ব্যাকরণ ও সাহিত্য), আল-মুফরাদাত ওয়াল মা’না (শব্দার্থ ও প্রেক্ষাপট) এবং আহকামুল আয়াত (ফিক্বহী বিধান ও সমকালীন শিক্ষা)।
  2. ফিক্বহী পাণ্ডিত্য: একজন শ্রেষ্ঠ ফকীহ হিসেবে তিনি বিভিন্ন মাযহাবের যুক্তি ও দলীলের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সমন্বয় করেছেন।
  3. আধুনিক সমস্যার সমাধান: কুরআন থেকে সমসাময়িক জীবনব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজকল্যাণের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করেছেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আত-তাফসীরুল মুয়াসসির পাঠের মূল উদ্দেশ্য কী?

সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে আল-কুরআনের সার্বজনীন বিধান, সামাজিক সংস্কার ও বৈজ্ঞানিক সত্যতা অনুধাবন করাই এ বিষয়ের মূল লক্ষ্য।

২. সূর্যের ক্ষেত্রে ‘যিয়া’ এবং চাঁদের ক্ষেত্রে ‘নূর’ ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক রহস্য কী?

সূর্য নিজস্ব প্রখর আলো ও উত্তাপ বিকিরণ করে (যিয়া), আর চাঁদ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে স্নিগ্ধ আলো দেয় (নূর)।

৩. ইসলামে গায়রুল্লাহকে সিজদা করার হুকুম কী?

ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা করা স্পষ্ট শিরক এবং সম্মানের সিজদাও ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ।

৪. সূরা আত-তাওবার শুরুতে তাসমিয়া না থাকার কারণ কী?

এটি বিশ্বাসঘাতক মুশরিকদের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ ও যুদ্ধের ঘোষণা হওয়ায় রহমতের প্রতীক বিসমিল্লাহ উল্লেখ করা হয়নি।

৫. তাফসিরে মুনীরের রচয়িতা কে?

বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত সিরিয়ান ফকীহ ডক্টর ওয়াহবাহ আয-যুহাইলী (রহ.)।

৬. গনীমত ও ফাই-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ গনীমত এবং বিনা যুদ্ধে সন্ধির মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদকে ফাই বলা হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *