জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর বিস-সানাদ (At-Tafsir bis-Sanad) – 201301, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫০ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲٤ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بالسند
[আত-তাফসীর বিস-সানাদ]
বিষয় কোড: ২০১৩০১ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٤ × ٥ = ٧٠
(ترجم الآيات الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)

١- الر ۚ كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ – أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۚ إِنَّنِي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ – وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ ۖ وَإِن تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ – إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ –

[১. আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে, অতঃপর বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে। যেন তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত না করো; নিশ্চয়ই আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। আর যেন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করো; তবে তিনি তোমাদের এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাবানকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দান করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করছি। আল্লাহর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।]

(أ) ما المراد بقوله تعالى “يمتعكم متاعا حسنًا إلى أجل مسمى”؟

[(ক) আল্লাহর বাণী “তিনি তোমাদের এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবন উপভোগ করতে দেবেন”—এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

বিশদ তাফসীর ও ব্যাখ্যা

মুফাসসিরীনদের সর্বসম্মত অভিমত অনুযায়ী, আলোচ্য আয়াতে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও খাঁটি তাওবার পার্থিব শুভ পরিণাম বর্ণিত হয়েছে:

  • উত্তম জীবনোপভোগ (متاعًا حسنًا): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীতে শান্তি, নিরাপত্তা, হালাল ও বরকতময় রিজিক, সুস্থ শরীর, মানসিক স্বস্তি ও সৎকর্মময় পারিবারিক জীবন। যারা আল্লাহর দিকে রুজু করে, আল্লাহ তাদের জীবনকে অশান্তি ও অনাবিল উদ্বেগ থেকে মুক্ত করে এক পরিতৃপ্তিকর নেয়ামতপূর্ণ জীবন দান করেন।
  • নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত (إلى أجل مسمى): এর অর্থ হলো প্রত্যেকের পার্থিব জীবনের অবধারিত মৃত্যু বা আয়ুষ্কালের সমাপ্তি পর্যন্ত। অর্থাৎ মৃত্যু অবধি আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের এই পার্থিব মর্যাদা ও নেয়ামতে ভূষিত রাখবেন। এরপর পরকালে তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে জান্নাতের অফুরন্ত চিরস্থায়ী সম্মান।
  • হাসান বসরী (রহ.)-এর উক্তি: তিনি বলেন, “উত্তম উপভোগ হলো অল্পে তুষ্টি লাভ করা এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।”

(ب) لم قدم الاستغفار على التوبة؟

[(খ) তওবার পূর্বে ইস্তিগফারকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে?]

অগ্রাধিকারের কারণ ও তাৎপর্য

  1. আবর্জনা দূরীকরণ শোভা বর্ধনের পূর্বশর্ত (التخلية قبل التحلية): ইসলামি আত্মশুদ্ধিশাস্ত্রের এক অমোঘ নিয়ম হলো, কোনো পাত্রকে সুবাসিত তরল দিয়ে পূর্ণ করার পূর্বে তাকে সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা থেকে ধৌত ও পরিষ্কার করতে হয়। ইস্তিগফার হলো অতীত জীবনের গুনাহখাতা মুছে অন্তরকে পাপমুক্ত করা (তাকলিয়াহ), আর তাওবা হলো আনুগত্য ও নেক আমলের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর ভালোবাসায় সজ্জিত করা (তাহলিয়াহ)।
  2. অতীতের প্রতিকার বনাম ভবিষ্যতের অঙ্গীকার: ইস্তিগফার হলো পেছনের ভুলত্রুটি ও গুনাহের ওপর লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা; আর তাওবা হলো ভবিষ্যতে আর কখনও পাপে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করে আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকা। তাই স্বাভাবিক ক্রমধারায় অতীতের অপরাধের ক্ষমার বিষয়টিই অগ্রে স্থান পেয়েছে।

٢- وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۗ وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِن بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ –

[২. আর তিনিই সেই সত্তা যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তখন তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর; যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, কর্মে তোমাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? আর আপনি যদি বলেন, মৃত্যুর পর নিশ্চয়ই তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে, তবে কাফেররা অবশ্যই বলবে, এ তো এক সুস্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।]

(أ) ما الحكمة من خلق السماوات والأرض في ستة أيام كما ورد في الآية؟

[(ক) আয়াতে উল্লেখিত আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করার পেছনের হিকমত কী?]

হিকমত ও প্রজ্ঞা

  • বান্দাদের ধীরস্থিরতা ও সুপরিকল্পিত কাজের শিক্ষা দেওয়া: যদিও আল্লাহ এক পলকে সবকিছু সৃষ্টি করতে পারেন, কিন্তু তিনি ধাপে ধাপে সৃষ্টি করে মানবজাতিকে শিখিয়েছেন যে, সব কাজের একটি স্বাভাবিক ক্রমবিকাশ ও পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া থাকে।
  • সৃষ্টিজগতে সুষম নিয়ম ও কার্যকারণ প্রতিষ্ঠা: প্রাকৃতিক নিয়ম (Sunanullah) প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে মহাবিশ্ব এক অমোঘ সুশৃঙ্খল নিয়মে আবর্তিত হয়।
  • তাড়াহুড়ো পরিহার: হাদিস শরিফে এসেছে, “ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।” সৃষ্টিতত্ত্বের মাধ্যমে এই শিক্ষার বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে।

(ب) هل يفهم بهذه الآية ان الغاية من الخلق هى ابتلاء العباد بأحسن الأعمال؟ بين –

[(খ) এ আয়াত দ্বারা কি বোঝা যায় যে সৃষ্টির মূল লক্ষ্য হলো বান্দাদের উত্তম কর্মের পরীক্ষা নেওয়া? স্পষ্ট কর।]

বিশ্লেষণ

হ্যাঁ, আলোচ্য আয়াতে মহান আল্লাহ পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন: لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا (যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন কর্মে তোমাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ)।

  1. আমলের প্রাচুর্য নয়, মানের শ্রেষ্ঠত্ব (أحسن عملا وليس أكثر عملا): আল্লাহ বলেননি কে বেশি আমল করে, বরং বলেছেন কে উত্তম আমল করে। বিশিষ্ট তাবেয়ী আল্লামা ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আহসানু আমালা’ (সর্বোত্তম আমল) কী? তিনি জবাব দিলেন: “যা হবে সবচেয়ে খাঁটি (أخلصه) এবং সবচেয়ে সঠিক (أصوبه)। খাঁটি হলো যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়; আর সঠিক হলো যা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ মোতাবেক সম্পাদিত হয়।”
  2. পার্থিব জীবনের মূল দর্শন: আকাশ, পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সকল উপকরণ মানুষের কল্যাণে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য।

٣- قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَرَزَقَنِي مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًا ۚ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَىٰ مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ ۚ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ ۚ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ –

[৩. শুয়াইব বললেন: হে আমার কওম! তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিজিক দান করে থাকেন? আর আমি চাই না যে, যে বিষয়ে আমি তোমাদের নিষেধ করছি নিজের ক্ষেত্রে তার বিপরীত কাজ করব। আমি তো যথাসাধ্য সংশোধন ছাড়া আর কিছুই চাই না। আর আমার সাফল্য তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।]

(أ) ماذا بين شعيب عليه السلام فى هذه الآية عن مقصده من الدعوة والاصلاح؟

[(ক) হযরত শুয়াইব (আ.) এ আয়াতে তাঁর দাওয়াত ও সংশোধনের লক্ষ্য সম্পর্কে কী বর্ণনা করেছেন?]

বিশদ উত্তর

হযরত শুয়াইব (আ.) মদইয়ান ও আসহাবুল আইকার লোকদের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। তারা শিরক ছাড়াও ওজনে কম দেওয়া এবং আর্থিক দুর্নীতির ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিল। শুয়াইব (আ.) তাঁর দাওয়াতের পবিত্র উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট করে বলেন:

  • নিঃস্বার্থ সংস্কার কামনা (إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ): তাঁর দাওয়াতের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ, বৈষয়িক লোভ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না; বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে আল্লাহর ন্যায়বিচার, তাওহিদ ও অর্থনৈতিক সততা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
  • কথায় ও কাজে পূর্ণ মিল: তিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি কোনো স্বৈরাচারী শাসক নন যে মানুষকে সৎ কাজের নির্দেশ দিয়ে নিজে অসৎ কাজে লিপ্ত হবেন। বরং তিনি যা উপদেশ দেন, নিজ জীবনে সবার আগে তা বাস্তবায়ন করেন।

(খ) كيف توضح هذه الآية اعتماد الأنبياء على الله فى التوفيق والهداية؟

[(খ) এ আয়াত কীভাবে তাওফিক ও হেদায়েতের ক্ষেত্রে নবীদের আল্লাহর ওপর নির্ভরতা স্পষ্ট করে?]

উত্তর

হযরত শুয়াইব (আ.)-এর বাণী: وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ নবীদের পরম তাওয়াক্কুলের অনন্য নিদর্শন:

  1. নবীগণ তাঁদের মেধা, বাগ্মিতা বা কৌশলের ওপর অহংকার করেননি; বরং বিনম্রচিত্তে স্বীকার করেছেন যে সত্য প্রচার ও হিদায়াত লাভের পূর্ণ তাওফিক একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহেই সম্ভব।
  2. বিরোধীদের কঠিন হুমকি ও বাধার মুখেও তিনি একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) রেখেছিলেন এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এটি সকল দায়ীর জন্য এক মহান আদর্শ।

٤- قَالُوا يَا أَبَانَا مَا لَكَ لَا تَأْمَنَّا عَلَىٰ يُوسُفَ وَإِنَّا لَهُ لَنَاصِحُونَ – أَرْسِلْهُ مَعَنَا غَدًا يَرْتَعْ وَيَلْعَبْ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ – قَالَ إِنِّي لَيَحْزُنُنِي أَن تَذْهَبُوا بِهِ وَأَخَافُ أَن يَأْكُلَهُ الذِّئْبُ وَأَنتُمْ عَنْهُ غَافِلُونَ –

[৪. তারা বলল: হে আমাদের পিতা! আপনার কী হলো যে আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদের বিশ্বাস করছেন না, অথচ নিশ্চয়ই আমরা তার শুভাকাঙ্ক্ষী? আগামীকাল তাকে আমাদের সাথে পাঠান, সে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে ও খেলাধুলা করবে এবং আমরা অবশ্যই তার পূর্ণ হেফাজতকারী হব। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এটা আমাকে ব্যথিত করে যে তোমরা তাকে নিয়ে যাবে এবং আমি ভয় করি যে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলবে যখন তোমরা তার থেকে অসতর্ক থাকবে।]

(أ) ماذا تكشف هذه الآية عن موقف اخوة يوسف عليه السلام تجاهه؟

[(ক) এ আয়াত হযরত ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি তাঁর ভাইদের মনোভাব সম্পর্কে কী প্রকাশ করে?]

বিশ্লেষণ

  • হিংসা ও প্রতারণামূলক মুখোশ: ভাইয়েরা মুখে নিজেদের পরম শুভাকাঙ্ক্ষী (لَنَاصِحُونَ) দাবি করলেও তাদের অন্তরে ছিল ইউসুফ (আ.)-কে নিশ্চিহ্ন করার গভীর চক্রান্ত।
  • মনস্তাত্ত্বিক চাল: তারা পিতার স্নেহশীল মনের দুর্বলতা বুঝতে পেরে খেলাধুলা ও আনন্দ-ভ্রমণের টোপ ব্যবহার করেছিল যাতে পিতা তাকে পাঠাতে রাজি হন।
  • কসম ও অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতির প্রবণতা: অতিমাত্রায় জোর দিয়ে কথা বলা (إِنَّا لَهُ لَنَاصِحُونَ, وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) অপরাধী মনের অবচেতন প্রতিরক্ষামূলক আচরণের প্রকাশ ঘটায়।

(ب) ما سبب خوف يعقوب عليه السلام من ارسال يوسف مع اخوته؟

[(খ) ইউসুফকে ভাইদের সাথে পাঠানোর ব্যাপারে ইয়াকুব (আ.)-এর ভয়ের কারণ কী ছিল?]

উত্তর

  1. অপার পিতৃস্নেহ ও বিচ্ছেদভীতি: ইয়াকুব (আ.) ইউসুফকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করতে চাইতেন না। তাঁর অনুপস্থিতিই পিতার মনকে বেদনাক্লিষ্ট করে দিত (إِنِّي لَيَحْزُنُنِي أَن تَذْهَبُوا بِهِ)।
  2. ভাইদের হিংসাপূর্ণ মনোভাবের অদৃশ্য অনুভূতি: ইয়াকুব (আ.) একজন পয়গম্বর ছিলেন। তিনি ভাইদের অন্তরের লুক্কায়িত হিংসা আঁচ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু সরাসরি তাদের অভিযুক্ত না করে এক যৌক্তিক আশঙ্কার কথা বলেছিলেন যে, খেলায় মগ্ন থাকার সুযোগে কোনো নেকড়ে বাঘ এসে তাকে খেয়ে ফেলতে পারে। পরবর্তীতে ভাইয়েরা পিতার এই আশঙ্কার কথাটিকেই তাদের মিথ্যা বাহানা হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

٥- اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُم بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ –

[৫. আল্লাহই সেই সত্তা যিনি আকাশমণ্ডলীকে দৃশ্যমান কোনো স্তম্ভ ছাড়াই উঁচুতে স্থাপন করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে সমুন্নত হয়েছেন; এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করবে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে পারো।]

(أ) كيف تدل هذه الآية على قدرة الله تعالى فى خلق الكون؟

[(ক) এ আয়াত মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে মহান আল্লাহর কুদরত কীভাবে প্রমাণ করে?]

বিশদ উত্তর

  • স্তম্ভহীন সুবিশাল মহাশূন্যের ভারসাম্য: কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি সম্বলিত আসমান কোনো দৃশ্যমান খুঁটি ছাড়াই মহাশূন্যে সুদৃঢ়ভাবে ভাসমান। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে এক অদৃশ্য মহাকর্ষীয় বল (Gravitational Force)-এর মাধ্যমে সমগ্র মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কুরআন দেড় হাজার বছর আগেই بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا বলে এই বৈজ্ঞানিক সত্যের ইঙ্গিত দিয়েছে।
  • আরশে ইস্তাওয়া ও নিখুঁত প্রশাসন: আল্লাহ তাআলা কেবল স্রষ্টাই নন, বরং তিনি আরশ থেকে মহাবিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণুর সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রক ও পরিচালক (يُدَبِّرُ الْأَمْرَ)।

(ب) ما الحكمة من تسخير الشمس والقمر كما ورد فى هذه الآية؟

[(খ) এ আয়াতে বর্ণিত সূর্য ও চন্দ্রকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করার হিকমত কী?]

হিকমতসমূহ

  1. পৃথিবীর জীবনচক্র রক্ষা: সূর্যের আলো, তাপ ও ঋতুপরিবর্তন উদ্ভিদজগতের খাদ্য তৈরি এবং সকল জীবের বেঁচে থাকার ভিত্তি। আর চাঁদের মহাকর্ষ সাগরে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে পানিকে জীবন্ত রাখে।
  2. সময় ও বর্ষগণনা: চন্দ্র ও সূর্যের নিয়মিত আবর্তন দ্বারা দিন, মাস ও বছর গণনা করা সম্ভব হয়, যা মানবজাতির সভ্যতা ও ধর্মীয় ইবাদতের সময় নির্ধারণের অপরিহার্য মাপকাঠি।

٦- قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ ۚ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُم مِّن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ ۗ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ ۚ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ –

[৬. বলুন: আসমানসমূহ ও জমিনের প্রতিপালক কে? বলে দিন: আল্লাহ! বলুন: তবে কি তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে এমন সব অভিভাবক গ্রহণ করেছ যারা নিজেদের লাভ বা ক্ষতিরও কোনো মালিক নয়? বলুন: অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে, অথবা অন্ধকার ও আলো কি সমান হতে পারে? নাকি তারা আল্লাহর এমন সব অংশীদার বানিয়েছে যারা তাঁর সৃষ্টির মতো কিছু সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সৃষ্টি তাদের নিকট সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়েছে? বলুন: আল্লাহই সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, মহাশক্তিশালী।]

(أ) ماذا يثبت هذا السؤال القرآنى عن وحدانية الله سبحانه وتعالى؟

[(ক) এই কুরআনী প্রশ্নটি আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে কী প্রমাণ করে?]

উত্তর

পবিত্র কুরআনের এই প্রশ্নটি ছিল কাফেরদের স্বীকারোক্তিভিত্তিক এক অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি (إلزام الخصم)। মক্কার মুশরিকরাও স্বীকার করত যে আসমান ও জমিনের স্রষ্টা আল্লাহ। সুতরাং যে সত্তা আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন, তিনিই রবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের একমাত্র অধিকারী। যিনি সৃষ্টি করেন না এবং নিজের লাভ-ক্ষতিরও মালিক নন, এমন কোনো জড় বা সৃষ্টি কখনোই ইবাদতের যোগ্য হতে পারে না।


(ب) كيف يوضح هذا النص بطلان عبادة الشركاء مع الله؟

[(খ) এ বাণী আল্লাহর সাথে অন্য অংশীদারদের উপাসনার অসারতা কীভাবে স্পষ্ট করে?]

উত্তর

  1. সৃষ্টিশক্তির অনুপস্থিতি: অংশীদাররা কি আকাশ, জমিন বা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পেরেছে? তাদের কোনো সৃষ্টির অস্তিত্ব নেই; সুতরাং তাদের পূজা করা চরম মূর্খতা।
  2. অন্ধকার ও আলোর বৈসাদৃশ্য: শিরক হলো অন্ধকারের মতো আর তাওহিদ হলো উজ্জ্বল আলোর মতো। একজন সুস্থ বিবেকবান মানুষ কখনো চক্ষুষ্মানকে বাদ দিয়ে অন্ধের নেতৃত্ব এবং আলোকে বাদ দিয়ে অন্ধকার গ্রহণ করতে পারে না।

٧- الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا ۚ أُولَٰئِكَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ – وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ ۖ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ – وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا أَنْ أَخْرِجْ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَذَكِّرْهُم بِأَيَّامِ اللَّهِ –

[৭. যারা আখিরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনকে বেশি ভালোবাসে, আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয় এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে; তারাই চরম বিভ্রান্তিতে রয়েছে। আর আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি যাতে তিনি তাদের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন; অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন; আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আর নিশ্চয়ই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলি সহকারে প্রেরণ করেছিলাম যে, তুমি তোমার কওমকে অন্ধকারসমূহ থেকে আলোর দিকে বের করে আন এবং তাদের আল্লাহর দিবসসমূহ স্মরণ করিয়ে দাও।]

(أ) فسر قوله تعالى “الذين يستحبون الحياة الدنيا على الاخرة” –

[(ক) আল্লাহর বাণী “যারা আখিরাতের ওপর পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দেয়”—এর তাফসীর কর।]

বিশদ তাফসীর

আলোচ্য আয়াতাংশে কাফের ও মুনাফিকদের মূল চরিত্রচিত্রণ করা হয়েছে। তারা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ভোগ-বিলাস, অহংকার ও অর্থবিত্তের ভালোবাসাকে পরকালের চিরন্তন মুক্তির ওপর প্রাধান্য দেয়। ফলে তাদের অন্তরে সত্য গ্রহণের কোনো আকাঙ্ক্ষা থাকে না। তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয় এবং সাধারণ সরলমনা মানুষদেরও ইসলাম গ্রহণে নানা কূটকৌশলে বাধা প্রদান করে।


(ب) كيف ترد شبهة من يقول “الله يهدى من يشاء” فلا نبحث عن الهداية؟

[(খ) “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন—সুতরাং আমাদের হিদায়াত খোঁজার প্রয়োজন নেই”—এই সংশয়ের জবাব কীভাবে দেবে?]

সংশয় নিরসন

  1. আল্লাহর ইচ্ছার সাথে বান্দার চেষ্টার সম্পর্ক: কুরআনে ‘যাকে ইচ্ছা’ (من يشاء) কথাটি নিরর্থক নয়; বরং এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে সত্যের সন্ধান করে এবং হিদায়াতের পথ বেছে নেয়, আল্লাহ নিজের নীতি অনুযায়ী তাকেই হিদায়াতের তৌফিক দেন। যেমন আল্লাহ বলেন: وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا — “যারা আমার পথে প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদের আমার সরল পথ প্রদর্শন করব।” (সূরা আল-আনকাবূত: ৬৯)।
  2. উপায় উপকরণ গ্রহণের বিধান: রুটি না খেয়ে যেমন কেউ বসে থেকে বলে না ‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষুধা নিবারণ করবেন’, ঠিক তেমনি হিদায়াতের উপকরণ (কুরআন পাঠ, সুন্নাহর অনুসরণ, আলেমদের সান্নিধ্য) গ্রহণ না করে হিদায়াতের দাবি করা চরম বাতুলতা। বান্দাকে ইচ্ছা ও কর্মের স্বাধীনতা (ইখতিয়ার) দেওয়া হয়েছে এবং এই চেষ্টার ওপরই প্রতিফল নির্ধারিত হবে।

٨- وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ – وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِ – وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِّن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ –

[৮. আর নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুকনো ঠনঠনে কাদা থেকে যা দুর্গন্ধযুক্ত পরিবর্তিত মাটি থেকে তৈরি। আর জিন জাতিকে আমি ইতিপূর্বে অতি উত্তপ্ত লু-হাওয়া বা অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি করেছি। আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বললেন: নিশ্চয়ই আমি শুষ্ক ঠনঠনে পরিবর্তিত মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।]

(أ) اكتب مراحل نمو الجنين موضحا –

[(ক) মানব ভ্রূণের ক্রমবিকাশের ধাপসমূহ বিশদভাবে লেখ।]

কুরআন ও হাদিসের আলোকে ভ্রূণের স্তরসমূহ

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মু’মিনূনের ১২-১৪ আয়াতে এবং সহীহ বুখারীর হাদিসে ভ্রূণের ক্রমবিকাশের বৈজ্ঞানিক ধাপসমূহ অত্যন্ত চমৎকারভাবে বর্ণিত হয়েছে:

  1. নুৎফাহ (النطفة): মাতৃগর্ভে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষিক্তকরণ (Fertilized Zygote)।
  2. আলাকাহ (العلقة): রক্তপিণ্ড বা জোঁকের মতো জরায়ুর গায়ে ঝুলন্ত অবস্থা (Implanted Blastocyst)।
  3. মুদগাহ (المضغة): চিবানো মাংসপিণ্ডের মতো অবয়বহীন মাংসস্তূপ।
  4. ইযাম (العظام): ভ্রূণে কঙ্কাল ও হাড়ের কাঠামোর রূপদান।
  5. কিসাওয়াতুল ইযাম বিল লাহম (كسوة العظام لحما): হাড়ের ওপর মাংসপেশি ও ত্বকের আচ্ছাদন তৈরি।
  6. রূহ ফুঁকে দেওয়া (نفخ الروح): মাতৃগর্ভে ১২০তম দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে পূর্ণ মানব রূপ দান করা।

(ب) كيف تبرز هذه الآيات عظمة الله تعالى في الخلق والقدرة؟

[(খ) এ আয়াতসমূহ সৃষ্টিতত্ত্বে মহান আল্লাহর মহিমা ও কুদরত কীভাবে প্রস্ফুটিত করে?]

উত্তর

তুচ্ছ শুষ্ক মাটি থেকে মানুষের মতো সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তিক আশরাফুল মাখলুকাত সৃষ্টি করা এবং প্রজ্বলিত উত্তপ্ত আগুন থেকে জিন সৃষ্টি করা মহান স্রষ্টার অনন্ত বৈচিত্র্য ও কুদরতকে প্রমাণ করে। দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী মৌল উপাদান দিয়ে দুই সচেতন জাতি গঠন করা একমাত্র পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব।


مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٠ × ١ = ١٠

٩- مَا مَعْنَى التَّفْسِيرِ وَالتَّأْوِيلِ؟ اكْتُبْ تَارِيخَ نَشْأَةِ التَّفْسِيرِ بِالْمَأْثُورِ وَتَطَوُّرِهِ بِالْوَضَاحَةِ –

[৯. তাফসীর ও তাবিলের অর্থ কী? তাফসীর বিল মা’ছুরের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস সুস্পষ্টভাবে লেখ।]

তাফসীর ও তাবিলের সংজ্ঞা

  • তাফসীর (التفسير): আভিধানিক অর্থ স্পষ্ট করা, উন্মোচন করা ও ব্যাখ্যা করা। পরিভাষায়, কুরআনের দুর্বোধ্য শব্দের আভিধানিক অর্থ ও বাহ্যিক মর্মে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো তাফসীর।
  • তাবীল (التأويل): আভিধানিক অর্থ কোনো বস্তুর শেষ পরিণতির দিকে প্রত্যাবর্তন করা। পরিভাষায়, উপযুক্ত দলিলের আলোকে কোনো শব্দের সম্ভাব্য গভীর অর্থ ও নিগূঢ় মর্মার্থ উন্মোচন করাকে তাবীল বলে।

তাফসীর বিল মা’ছুরের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

  1. নবুওয়তী যুগ: স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (স.) ওহীর মাধ্যমে আয়াতের ব্যাখ্যা সাহাবিদের শিক্ষা দিতেন।
  2. সাহাবা যুগ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (যাঁকে রইসুল মুফাসসিরীন বলা হয়), ইবনে মাসউদ ও আলী (রা.)-এর যুগ। মক্কা, মদীনা ও কুফায় তাফসীরের প্রাথমিক পাঠশালা গড়ে ওঠে।
  3. তাবেয়ী যুগ: মুজাহিদ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, কাতাদাহ ও হাসান বসরী (রহ.)-এর মাধ্যমে তাফসীর সংরক্ষণ ব্যাপক রূপ লাভ করে।
  4. গ্রন্থায়ন যুগ: তৃতীয় হিজরী শতকে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহ.) তাঁর বিশ্বখ্যাত জামেউল বায়ান রচনার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সনদসহ তাফসীর বিল মা’ছুরের সুবর্ণ যুগের সূচনা করেন। পরবর্তীতে ইবনে কাসীর ও সুয়ূতী (রহ.) একে আরও সংহত করেন।

١٠- اذْكُرْ نُبْذَةً مِنْ حَيَاةِ الشَّوْكَانِيِّ صَاحِبِ تَفْسِيرِ “فَتْحِ الْقَدِيرِ” – ثُمَّ بَيِّنْ مَنَاهِجَهُ وَخَصَائِصَ تَفْسِيرِهِ الْمَذْكُورِ –

[১০. তাফসীরে ফাতহুল কাদীরের রচয়িতা আল্লামা শাওকানী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ কর এবং তাঁর তাফসীরের পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।]

আল্লামা শাওকানী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  • নাম ও জন্ম: পুরো নাম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাওকানী আস-সানআনী। তিনি ১১৭৩ হিজরীতে ইয়েমেনের শাওকান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • কর্মজীবন ও মর্যাদা: তিনি একাধারে মুজতাহিদ, ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির ছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি সানআ নগরীর প্রধান বিচারপতি (কাজী উল কুযাত) হিসেবে অত্যন্ত সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১২৫০ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
  • প্রধান গ্রন্থাবলি: তাঁর অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে তাফসীর গ্রন্থ ফাতহুল কাদীর এবং বিখ্যাত হাদিস ব্যাখ্যাগ্রন্থ নায়লুল আওতার

তাফসীরে ফাতহুল কাদীরের মানহাজ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. রেওয়ায়েত ও দিরায়াতের অপূর্ব সমন্বয়: আল্লামা শাওকানী তাঁর তাফসীরে তাফসীর বিল মা’ছুর (হাদিস ও আসার) এবং তাফসীর বিদ-দিরায়াহ (বুদ্ধিবৃত্তিক ও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ)-এর এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
  2. ভাষাতাত্ত্বিক ও বালাগাত বিশ্লেষণ: আরবি ব্যাকরণ, বালাগাত ও অলঙ্কারশাস্ত্রের নিখুঁত প্রয়োগে তিনি প্রতিটি শব্দের গভীর অর্থ ফুটিয়ে তুলেছেন।
  3. মাযহাবী অন্ধ গোঁড়ামিমুক্ত দলিলভিত্তিক ফিকহ: তিনি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অন্ধ অনুকরণ না করে দলিল ও সুন্নাহর ভিত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ফিকহী পর্যালোচনা পেশ করেছেন।
  4. হাদিসের মান পর্যালোচনা: তাফসীরে উল্লেখিত হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে সূক্ষ্ম মন্তব্য প্রদান করেছেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ৩য় বর্ষের আত-তাফসীর বিস-সানাদ (২০১৩০১) পরীক্ষার মূল প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?

নির্বাচিত সূরাসমূহের প্রতিটি আয়াতের নির্ভুল আরবি পাঠ, শব্দার্থ, নাহভী বিশ্লেষণ এবং তাফসীরশাস্ত্রের পারিভাষিক সংজ্ঞাগুলো মুখস্থ রাখা পরীক্ষার জন্য অপরিহার্য।

২. তাফসীর ও তাবিলের মধ্যকার মূল পার্থক্য কী?

তাফসীর হলো শব্দের বাহ্যিক ও আভিধানিক বিশ্লেষণ যা ওহী ও রেওয়ায়েতের ওপর নির্ভরশীল; আর তাবীল হলো অন্তর্নিহিত ও গভীর অর্থের উদ্ঘাটন যা প্রামাণ্য ইজতিহাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

৩. আল্লামা শাওকানীর ‘ফাতহুল কাদীর’ তাফসীরের প্রধান স্বাতন্ত্র্য কী?

এ গ্রন্থে একই সাথে নির্ভরযোগ্য হাদিসের উদ্ধৃতি (মা’ছুর) এবং আরবি ব্যাকরণ ও যুক্তির (দিরায়াহ) ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় সাধিত হয়েছে।

৪. কুরআনে হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে বান্দার ভূমিকা কী?

আল্লাহ বান্দাকে ইচ্ছা ও চেষ্টার স্বাধীনতা দিয়েছেন; বান্দা যখন সত্যের অন্বেষণ করে তখন আল্লাহ নিজ ইচ্ছায় তাকে হিদায়াত দান করেন।

৫. মানব ভ্রূণের পর্যায়ক্রমিক সৃষ্টি কুরআনের অলৌকিকত্বকে কীভাবে প্রমাণ করে?

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আল্ট্রাসনোগ্রাফি আবিষ্কারের চৌদ্দশত বছর পূর্বে কুরআনে ভ্রূণের নুৎফাহ, আলাকাহ ও মুদগাহর যে নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা কুরআনের ঐশী সত্যতার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

৬. ক-বিভাগের প্রশ্নের পূর্ণমান অর্জনের বিশেষ কৌশল কী?

মূল আরবি আয়াতের উদ্ধৃতি, আরবী ব্যাকরণগত তারকীব ও প্রামাণ্য মুফাসসিরীনদের মতামত ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *