ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২০
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আত-তাফসীরুল মাওদূয়ী (التفسير الموضوعي – বিষয়ভিত্তিক তাফসীর)
বিষয় কোড: ৪০৬ | প্রশ্নপত্র কোড: ১৬২ | পরীক্ষা কোড: ২০৪
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: নিচের যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও। সকল প্রশ্নের মান সমান: ১৬ × ৫ = ৮০]
ভূমিকা ও পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৪র্থ বর্ষের আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আত-তাফসীরুল মাওদূয়ী’ (التفسير الموضوعي – বিষয়ভিত্তিক তাফসীর) একটি অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও প্রায়োগিক মৌলিক বিষয় (বিষয় কোড: ৪০৬)। গতানুগতিক ধারাবাহিক তাফসীরের পাশাপাশি পবিত্র কুরআনের সুনির্দিষ্ট বিষয় (যেমন: ঈমান, সালাত, সিয়াম ও তাকওয়া, হজ্জ ও উমরাহ, তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ ও উলূহিয়্যাহ, সূরা হুজুরাতের সামাজিক অনুশাসন এবং সূরা ফাতিহার মৌলিক দর্শন)-কে কেন্দ্র করে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের সমন্বিত বিশ্লেষণই হলো বিষয়ভিত্তিক তাফসীর। ২০২০ সালের এই প্রশ্নপত্রে মোট ৮টি প্রশ্ন রয়েছে এবং প্রতিটি প্রশ্নের উপ-প্রশ্নসমূহ অত্যন্ত গভীর তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিশ্লেষণ দাবি করে। নিম্নে সকল প্রশ্নের প্রামাণিক, উচ্চাঙ্গের ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান উপস্থাপন করা হলো।
١- (أ) اكتب سورة الفاتحة- (ب) اكتب اسماء سورة الفاتحة- (ج) اكتب موضوعات سورة الفاتحة-
[(ক) সূরা ফাতিহা লেখ; (খ) সূরা ফাতিহার নামগুলো লেখ; (গ) সূরা ফাতিহার আলোচ্য বিষয়গুলো লেখ।]
(أ) سورة الفاتحة مكتوبة كاملة بالتشكيل (সূরা আল-ফাতিহা পূর্ণাঙ্গ আরবী পাঠ)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
অর্থ: “পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের অধিপতি। আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই। আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ, যাদের আপনি পুরস্কৃত করেছেন; তাদের পথ নয় যারা অভিশপ্ত এবং যারা পথভ্রষ্ট।”
(ب) أسماء سورة الفاتحة (সূরা আল-ফাতিহার বিভিন্ন নাম ও তাৎপর্য)
মুফাসসিরীন কেরাম উল্লেখ করেছেন যে, কোনো বিষয়ের নামের প্রাচুর্য তার অপরিসীম মর্যাদা ও মাহাত্ম্য প্রমাণ করে (كثرة الأسماء تدل على شرف المسمى)। ইমাম সুয়ূতী ‘আল-ইতকান’ গ্রন্থে সূরা ফাতিহার ২৫টিরও অধিক নাম উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নামসমূহ নিম্নরূপ:
- ফাতিহাতুল কিতাব (فاتحة الكتاب – মহাগ্রন্থের সূচনা): এই সূরা দ্বারা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, লিখন এবং সালাতের কিরাআত শুরু হয় বিধায় একে ফাতিহাতুল কিতাব বলা হয়।
- উম্মুল কুরআন / উম্মুল কিতাব (أم القرآن / أم الكتاب – কুরআনের জননী বা মূল ভিত্তি): সমগ্র কুরআনের মূল নির্যাস ও সারমর্ম (তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত, ইবাদত ও হিদায়াত) এই সূরায় সংক্ষিপ্তাকারে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- আস-সাব’উল মাছানী (السبع المثاني – বারবার পঠিত সাতটি আয়াত): এই সূরায় ৭টি আয়াত রয়েছে এবং প্রত্যেক নামাযের প্রতিটি রাকাআতে এটি বারবার তিলাওয়াত করা হয় (সূরা হিজর: ৮৭)।
- সূরাতুস সালাত (سورة الصلاة – নামাযের সূরা): হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন: «قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ» (আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে আধাআধি বণ্টন করেছি—এখানে সালাত দ্বারা সূরা ফাতিহা উদ্দেশ্য)। এই সূরা ছাড়া কোনো নামায শুদ্ধ হয় না।
- সূরাতুশ শিফা / আশ-শাফিয়াহ (سورة الشفاء / الشافية – আরোগ্যকারী সূরা): এটি যাবতীয় শারীরিক ও আত্মিক ব্যাধির মহৌষধ। সহীহ বুখারীতে বিষাক্ত সাপে দংশিত ব্যক্তিকে সূরা ফাতিহা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করে সুস্থ করার প্রামাণ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
- আল-আসাস (الأساس – মূল ভিত্তি): এটি সমগ্র আসমানি কিতাব ও ইসলামী শরীয়তের মৌলিক ভিত্তি।
- সূরাতুল ওয়াফিয়াহ ও আল-কাফিয়াহ (الوافية / الكافية – স্বয়ংসম্পূর্ণ সূরা): এই সূরাটি নামাযে অর্ধেক পড়ার সুযোগ নেই; বরং পূর্ণ পড়তে হয় এবং এটি অন্য সূরার ঘাটতি পূরণ করে দেয়।
(ج) موضوعات سورة الفاتحة (সূরা আল-ফাতিহার মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ)
সূরা আল-ফাতিহা একটি সংক্ষিপ্ত সূরা হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের সামগ্রিক জ্ঞান ও দর্শনের মহাসমাবেশ ঘটিয়েছে। এর প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো হলো:
- তাওহীদের তিনটি শাখার মহাসমাবেশ:
- তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ: ‘رَبِّ الْعَالَمِينَ’ দ্বারা বিশ্বজগতের একমাত্র পালনকর্তা হিসেবে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ঘোষণা।
- তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত: ‘الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ’ দ্বারা আল্লাহর অনুপম নাম ও পরম দয়ার গুণাবলির স্বীকৃতি।
- তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ ও ইবাদত: ‘إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ’ দ্বারা শিরকমুক্ত খাঁটি উপাসনা ও একক সাহায্য প্রার্থনার ঘোষণা।
- আখিরাত ও প্রতিদান দিবসের অবিসংবাদিত বিশ্বাস: ‘مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ’ দ্বারা মানুষকে পরকালীন বিচার ও কর্মফলের অমোঘ জবাবদিহিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- মানবজীবনের পরম চাওয়া—হিদায়াতের প্রার্থনা (الصراط المستقيم): মানবজীবনের একমাত্র চূড়ান্ত প্রার্থনা হলো সত্য, সরল ও মধ্যমপন্থা (সিরাতে মুস্তাক্বীম) লাভ করা।
- মানবজাতির ঐতিহাসিক ত্রিধারার চিত্রায়ন:
- আল-মুন্আম আলাইহিম: আম্বিয়া, সিদ্দীক্বীন, শুহাদা ও সালেহীনদের সফলতার পথ।
- আল-মাগদূব আলাইহিম: যারা সত্য জেনেও তা অমান্য করেছে (যেমন ইহুদি সম্প্রদায়)।
- আদ-দ্বাল্লীন: যারা অজ্ঞতা ও অন্ধ আবেগে পথভ্রষ্ট হয়েছে (যেমন খ্রিস্টান সম্প্রদায়)।
٢- قولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا وما أنزل إلى إبراهيم وإسماعيل وإسحاق ويعقوب والأسباط وما أوتي موسى وعيسى وما أوتي النبيون من ربهم، لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون [البقرة: ১৩৬]
(أ) فسر الآية- [(ক) আয়াতের তাফসির কর।]
(ب) تحدث عن أركان الإيمان- [(খ) ঈমানের রুকনসমূহ আলোচনা কর।]
(ج) اكتب نواقض الإيمان- [(গ) ঈমান পরিপন্থী বিষয়গুলো লেখ।]
(أ) تفسير الآية الكريمة (আয়াতে কারীমার বিশদ তাফসীর)
এই মহিমান্বিত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম উম্মাহকে পূর্ববর্তী সমস্ত নবী-রাসূল ও তাঁদের ওপর অবতীর্ণ আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন। ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার জবাবে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়:
- ’قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ‘: তোমরা অন্তরে বিশ্বাস, মুখে উচ্চারণ এবং কর্মের মাধ্যমে ঘোষণা দাও যে, আমরা একমাত্র আল্লাহর প্রতি অটল ঈমান এনেছি।
- ’وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا‘: এবং আমাদের ওপর শেষনবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর মাধ্যমে যে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছি।
- পূর্ববর্তী নবীগণের পরম্পরা: হযরত ইব্রাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাঁর বংশধর ‘আসবাত্ব’ (বনী ইসরাঈলের ১২টি গোত্রের নবীগণ)-এর সহীফা এবং মূসা (আ.)-কে প্রদত্ত ‘তাওরাত’ ও ঈসা (আ.)-কে প্রদত্ত ‘ইনজীল’ এবং সমস্ত নবীকে আল্লাহর পক্ষ থেকে যা দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি আমরা নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করি।
- ’لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ‘: আমরা আহলে কিতাবদের মতো কোনো নবীকে মানব আর কোনো নবীকে অস্বীকার করব—এমন বিভেদ নীতি পোষণ করি না; বরং সকল নবীকে সত্য ও আল্লাহর প্রেরিত হিসেবে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস করি।
- ’وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ‘: এবং আমরা একমাত্র মহান আল্লাহর সামনেই পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের সাথে আত্মসমর্পণকারী মুসলিম।
(ب) أركان الإيمان (ঈমানের রুকন বা মৌলিক স্তম্ভসমূহ)
হযরত উমর (রা.) বর্ণিত বিশ্ববিখ্যাত ‘হাদীসে জিবরীল’-এ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈমানের ছয়টি রুকন বা স্তম্ভ নির্ধারণ করেছেন:
- আল্লাহর প্রতি ঈমান (الإيمان بالله): আল্লাহর অস্তিত্ব, রুবূবিয়্যাহ (রব হিসেবে একত্ব), উলূহিয়্যাহ (উপাসনায় একত্ব) এবং আসমা ওয়া সিফাত (সুন্দর নাম ও গুণাবলি)-এ শিরকমুক্ত দৃঢ় বিশ্বাস।
- ফেরেশতাকুলের প্রতি ঈমান (الإيمان بالملائكة): আল্লাহ নূর দ্বারা নিষ্পাপ ফেরেশতাকুল সৃষ্টি করেছেন, তাঁরা আল্লাহর আদেশ পালনে সদা রত। বিশেষ করে জিবরীল, মীকাঈল, ইসরাফীল ও আযরাঈল (আ.)-এর প্রতি বিশ্বাস।
- আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান (الإيمان بالكتب السماوية): আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির হিদায়াতে অবতীর্ণ সমস্ত কিতাব (তাওরাত, যাবূর, ইনজীল ও সহীফাসমূহ) এবং সর্বশেষ ও সংরক্ষিত গ্রন্থ আল-কুরআনের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস।
- নবী-রাসূলগণের প্রতি ঈমান (الإيمان بالرسل): হযরত আদম (আ.) থেকে শেষনবী মুহাম্মদ (ﷺ) পর্যন্ত লক্ষাধিক নবী-রাসূলের প্রতি নিঃশর্ত বিশ্বাস। শেষনবী (ﷺ)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও খাতামুন নাবিয়্যীন হিসেবে মানা।
- আখেরাত বা পরকালের প্রতি ঈমান (الإيمان باليوم الآخر): মৃত্যুর পর কবরের সওয়াল-জওয়াব, কিয়ামত, পুনরুত্থান, মিজান, পুলসিরাত এবং জান্নাত-জাহান্নামের চিরন্তন বাস্তবতায় বিশ্বাস।
- তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান (الإيمان بالقدر خيره وشره): মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সমস্ত ঘটনা আল্লাহর পূর্বজ্ঞান, ইচ্ছা ও নির্ধারিত পরিমাপ অনুযায়ী সংঘটিত হয়—এই অটল বিশ্বাস।
(ج) نواقض الإيمان (ঈমান ভঙ্গকারী বা ঈমান পরিপন্থী বিষয়সমূহ)
যেভাবে ওযু বা সালাতের কিছু কারণ রয়েছে যা সংঘটিত হলে ওযু বা সালাত বাতিল হয়ে যায়, ঠিক তেমনি কিছু জঘন্য বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড রয়েছে যা সংঘটিত হলে একজন মানুষের ঈমান সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায় (নওয়াক্বিযুল ঈমান)। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.) ১০টি মূল নওয়াক্বিয উল্লেখ করেছেন। প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপ:
- আল্লাহর ইবাদতে শিরক করা (الشرك في عبادة الله): কবরপূজা, মূর্তিপূজা বা গাইরুল্লাহর নামে পশু কুরবানী ও মানত করা।
- আল্লাহ ও বান্দার মাঝে মাধ্যম ধরা (اتخاذ الوسائط): আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর জন্য পীর-মাশায়েখকে স্বাধীন সুপারিশকারী ও অভাব মোচনকারী ভেবে তাদের পূজা বা সিজদা করা।
- কাফের-মুশরিকদের কাফের মনে না করা: ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক বা স্পষ্ট মুরতাদদের কুফুরীর ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করা বা তাদের ধর্মকে সত্য মনে করা।
- ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো আইন বা মতবাদকে শ্রেষ্ঠ মনে করা: মানব রচিত ধর্মনিরপেক্ষ আইন বা মানবরচিত সংবিধানকে কুরআনের শরীয়তের চেয়ে উত্তম বা সমতুল্য জ্ঞান করা।
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোনো সুন্নাহ বা বিধানকে ঘৃণা করা: যেমন পর্দা, বহুবিবাহ, জিহাদ বা দাড়ি ইত্যাদিকে অন্তরে ঘৃণা করা (﴿ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ﴾)।
- দ্বীনের কোনো বিধান নিয়ে উপহাস বা ট্রল করা (الاستهزاء بالدين): ইসলামের সালাত, রোযা বা কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা সরাসরি কুফুরী (সূরা তাওবাহ: ৬৫-৬৬)।
- যাদু-টোনা করা বা তাতে সন্তুষ্ট থাকা (السحر): কুফরী কালাম দ্বারা যাদু করা বা যাদুর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানো।
- মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের-মুশরিকদের সাহায্য করা (مظاهرة المشركين على المسلمين): মুসলমানদের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কাফেরদের সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা দেওয়া।
٣- يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون [البقرة: ১৮৩]
(أ) عرف الصيام لغة وشرعا ثم بين فوائده الصحية- [(ক) সিয়ামের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও এবং সাওমের স্বাস্থ্যগত উপকারগুলো বর্ণনা কর।]
(ব) أوضح قوله عليه الصلاة والسلام: الصوم جنة- [(খ) নবী (স) এর বাণী: الصوم جنة এর ব্যাখ্যা কর।]
(ج) اكتب أهمية التقوى فى حياة الفرد- [(গ) ব্যক্তি জীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব লেখ।]
(أ) الصيام لغة وشرعاً وفوائده الصحية (সিয়ামের সংজ্ঞা ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা)
- আভিধানিক অর্থ: আরবী ভাষায় ‘আস-সিয়াম’ (الصيام) ও ‘আস-সাওম’ (الصوم) শব্দের মূল অর্থ হলো: الإمساك والامتناع عن الشيء অর্থাৎ যেকোনো কাজ, কথা বা পানাহার থেকে নিজেকে বিরত রাখা ও সংবরণ করা। যেমন কুরআনে মরিয়ম (আ.)-এর কথা না বলার রোযা প্রসঙ্গে এসেছে: ﴿إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَٰنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا﴾ [مريم: ২৬]।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়:
«هُوَ الإِمْسَاكُ عَنِ الْمُفَطِّرَاتِ مِنَ الأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالجِمَاعِ، مِنْ طُلُوعِ الفَجْرِ الصَّادِقِ إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ، بِنِيَّةِ التَّقَرُّبِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى»
“মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের একনিষ্ঠ নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌনমিলন এবং রোযা ভঙ্গকারী যাবতীয় বিষয় থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম।” - সাওমের আধুনিক স্বাস্থ্যগত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপকারিতা (الفوائد الصحية):
- অটোফেজি (Autophagy) প্রক্রিয়া সক্রিয়করণ: ২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওসুমি (Yoshinori Ohsumi) অটোফেজি গবেষণায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে, দীর্ঘ সময় উপবাস থাকলে মানবদেহের সুস্থ কোষগুলো দেহের ক্ষতিগ্রস্ত ও বিষাক্ত মৃত কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে ক্যান্সার ও ক্ষতিকর জীবাণু থেকে মুক্ত করে।
- পরিপাকতন্ত্রের বিশ্রাম ও বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাশন (Detoxification): একাদিক্রমে ১১ মাস অবিরাম কাজ করার পর রোযার মাধ্যমে পাকস্থলী ও লিভার বিশ্রাম পায় এবং সঞ্চিত চর্বি গলে রক্তে বিষাক্ত টক্সিন দূর হয়।
- ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: রোযা ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল হ্রাস করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- মানসিক স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি: রোযার ফলে মস্তিষ্কে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) প্রোটিন বৃদ্ধি পায় যা স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং বিষণ্ণতা ও আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ করে।
(ب) شرح الحديث النبوي الشريف: «الصَّوْمُ جُنَّةٌ» (নবীজীর বাণী: ‘রোযা একটি ঢাল’-এর তাৎপর্য)
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন:
«الصِّيَامُ جُنَّةٌ، فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ، وَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ»
“রোযা হলো একটি ঢালস্বরূপ; অতএব রোযাদার যেন কোনো অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং অজ্ঞতাসুলভ মূর্খতা প্রদর্শন না করে। কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া বা গালিগালাজ করে, সে যেন বলে: আমি রোযাদার!”
‘জুন্নাহ’ (ঢাল)-এর তিনটি সুগভীর অর্থ:
- জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার ঢাল: যেভাবে যুদ্ধের ময়দানে লোহার ঢাল শত্রুর তীর ও তরবারির আঘাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে, ঠিক তেমনি রোযা কিয়ামতের দিন মুমিনকে জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিশিখা থেকে রক্ষা করবে।
- পাপ ও নফসের কুপ্রবৃত্তি থেকে বাঁচার ঢাল: রোযা মানুষের পাশবিক যৌনাকাঙ্ক্ষা ও লালসাকে দমন করে। তাই যুবকদের বিয়ের সামর্থ্য না থাকলে রাসূল (ﷺ) রোযা রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: «فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ» (রোযা তার জন্য যৌনচাহিদা দমনের ঢাল)।
- সামাজিক অন্যায় ও ঝগড়া-বিবাদের বিরুদ্ধে আত্মনিয়ন্ত্রণের ঢাল: রোযাদার ব্যক্তি গালি বা আঘাতের জবাবে প্রতি-আঘাত না করে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে নিজেকে শান্ত রাখে।
(ج) أهمية التقوى فى حياة الفرد (ব্যক্তি জীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব)
সূরা আল-বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে রোযার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে: ﴿لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ﴾ অর্থাৎ “যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” ব্যক্তি জীবনে তাকওয়ার অপরিহার্য গুরুত্ব নিম্নরূপ:
- আল্লাহর সার্বক্ষণিক নজরদারির অনুভূতি (ইহসান): তাকওয়া হলো নির্জনেও আল্লাহকে ভয় করা। রোযাদারের সামনে ফ্রিজে ঠান্ডা পানি ও সুস্বাদু খাবার থাকা সত্ত্বেও কেবল আল্লাহর ভয়ে সে এক ফোঁটা পানিও পান করে না। এই তাকওয়া ব্যক্তি জীবনে দুর্নীতি ও পাপাচার প্রতিরোধ করে।
- হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী আলোকবর্তিকা (ফুরকান): কুরআন ঘোষণা করে: ﴿إِن تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًا﴾ অর্থাৎ তোমরা আল্লাহকে ভয় করলে তিনি তোমাদের সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী প্রজ্ঞা দান করবেন।
- সংকট থেকে মুক্তির উপায় ও অভাবনীয় রিযিক লাভ: আল্লাহ বলেন: ﴿وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ﴾ অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার সংকট মুক্তির পথ বের করে দেন এবং তাকে ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক দান করেন।
- আল্লাহর দরবারে পরম সম্মানের মাপকাঠি: বংশ বা সম্পদ নয়; বরং তাকওয়াই হলো আল্লাহর নিকট সম্মানিত হওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি: ﴿إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ﴾।
٤- قد أفلح المؤمنون الذين هم في صلاتهم خاشعون والذين هم عن اللغو معرضون [المؤمنون: ১-৩]
(أ) فسر الآيات الكريمة- [(ক) আয়াতে কারীমাগুলোর তাফসির কর।]
(ب) اكتب صفات المؤمنين فى ضوء سورة المؤمنين- [(খ) সূরা মু’মিনুন এর আলোকে মুমিনদের গুণাবলি লেখ।]
(ج) تحدث عن أهمية الصلاة للإصلاح الاجتماعى- [(গ) সামাজিক শুদ্ধতার জন্য সালাতের গুরুত্ব আলোচনা কর।]
(أ) تفسير الآيات الكريمة (আয়াতে কারীমাগুলোর বিশদ তাফসীর)
- ’قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ‘: ‘আফলাহা’ শব্দটি ‘ফালাহ’ (الفلاح) ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ চিরন্তন সাফল্য, সৌভাগ্য ও কাঙ্ক্ষিত মুক্তি লাভ। এখানে আল্লাহ তা‘আলা অতীতকালীন ক্রিয়াপদ (قد أفلح) ব্যবহার করে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, মুমিনদের চূড়ান্ত বিজয় ও জান্নাতুল ফিরদাউস লাভ অবধারিত ও সুনিশ্চিত।
- ’الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ‘: মুমিনদের প্রথম ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা সালাতে ‘খুশূ’-এর অধিকারী। ‘খুশূ’ (الخشوع) হলো আল্লাহর মহত্ত্বের ভয়ে অন্তরে বিনম্র থাকা এবং সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রেখে অন্যমনস্কতা পরিহার করে কেবল আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট থাকা। হযরত আলী (রা.) বলেন: খুশূ হলো অন্তরের ভয় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নম্রতা।
- ’وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ‘: ‘লাগব’ (اللغو) হলো এমন সমস্ত কথা ও কাজ যাতে কোনো দ্বীনী বা দুনিয়াবী কল্যাণ নেই; যেমন: মিথ্যা, গীবত, অশ্লীল গান-বাজনা, অনর্থক সময় নষ্টকারী আড্ডা ও সামাজিক মাধ্যমের অনৈতিক বিনোদন। সফল মুমিনরা লাগব কথা ও কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।
(ب) صفات المؤمنين فى ضوء سورة المؤمنين (সূরা আল-মু’মিনূনের আলোকে মুমিনদের গুণাবলি)
সূরা আল-মু’মিনূনের ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াতে সফল মুমিনদের সাতটি প্রধান চারিত্রিক ও আমলী গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে, যার পুরস্কার হিসেবে জান্নাতুল ফিরদাউসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:
- সালাতে বিনম্রতা ও একাগ্রতা রক্ষা করা (الخشوع في الصلاة): অন্তরের ভয় ও শ্রদ্ধার সাথে নামাজ আদায় করা।
- অনর্থক ও অসার কাজকর্ম বর্জন করা (الإعراض عن اللغو): সময় অপচয়কারী ও পাপের বিষয় থেকে দূরে থাকা।
- নিয়মিত যাকাত আদায় করা (أداء الزكاة): সম্পদের পরিশুদ্ধি ও গরিবের অধিকার আদায়ে সক্রিয় থাকা।
- লজ্জাস্থানের পবিত্রতা ও চরিত্র সংরক্ষণ (حفظ الفروج): বৈধ স্ত্রী ও বাঁদী ছাড়া পরকীয়া, ব্যভিচার ও সমকামিতার মতো যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে লজ্জাস্থানকে পুতপবিত্র রাখা।
- আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করা (رعاية الأمانات): মানুষের ধন-সম্পদ, গোপনীয় কথা এবং রাষ্ট্রীয় ও দ্বীনী আমানত বিশ্বস্ততার সাথে ফেরত দেওয়া।
- প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার পূর্ণ করা (الوفاء بالعهود): আল্লাহ ও মানুষের সাথে কৃত চুক্তি ও ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা।
- সালাতের পূর্ণ হেফাজত করা (المحافظة على الصلوات): সঠিক সময়ে, ওযুর পূর্ণ শর্তসহ নিয়মিত জামা‘আতে সালাত কায়েম রাখা।
(ج) أهمية الصلاة للإصلاح الاجتماعي (সামাজিক সংস্কার ও শুদ্ধতায় সালাতের ভূমিকা)
সালাত কেবল ব্যক্তিগত উপাসনা নয়; বরং এটি একটি সুসংহত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের শ্রেষ্ঠতম সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সামাজিক শুদ্ধতায় সালাতের ভূমিকা নিম্নরূপ:
- অশ্লীলতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন:
﴿إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ﴾ [العنكبوت: ৪৫]
“নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে যাবতীয় অশ্লীল, নির্লজ্জ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” দিনে পাঁচবার আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তি কখনো ঘুষ, দুর্নীতি ও জুলুমে লিপ্ত হতে পারে না। - শ্রেণিহীন সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা:
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত জামা‘আতে মসজিদের কাতারে রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব ও মালিক-শ্রমিক একই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়। এতে ধনীদের অহংকার চূর্ণ হয় এবং সামাজিক ভেদাভেদ মুছে যায়। - সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ:
সালাত মানুষকে নির্দিষ্ট সময়ে জীবন পরিচালনার শৃঙ্খলা শেখায়। জামা‘আতে ইমামের আনুগত্য করার মাধ্যমে সমাজে নেতৃত্ব মান্য করার নিয়মানুবর্তিতা প্রতিষ্ঠিত হয়। - পারস্পরিক সম্প্রীতি ও খোঁজখবর নেওয়া:
প্রতিদিন মহল্লার মানুষ মসজিদে একত্রিত হওয়ায় একে অপরের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিতে পারে। কেউ অসুস্থ হলে বা বিপদে পড়লে প্রতিবেশীরা তৎক্ষণাৎ তার পাশে দাঁড়াতে পারে।
٥- وأتموا الحج والعمرة لله، فإن أحصرتم فما استيسر من الهدى [البقرة: ১৯৬]
(أ) متى فرض الحج؟ وما فرائضه؟ [(ক) কখন হজ ফরজ করা হয় এবং হজের ফরজগুলো কী কী?]
(ب) كم قسما للحج؟ وأيه أفضل؟ بين بالأدلة- [(খ) হজ কয় প্রকার? কোন হজ উত্তম? দলিলসহ বর্ণনা কর।]
(ج) تحدث عن فضل العمرة- [(গ) ওমরার ফজিলত আলোচনা কর।]
(أ) فرضية الحج وفرائضه (হজ্ব কখন ফরজ হয় এবং এর ফরজসমূহ)
- হজ্ব কখন ফরজ হয়:
জমহুর উলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী হিজরী নবম (৯ম) সনে সূরা আলে ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াত—﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا﴾ নাযিল হওয়ার মাধ্যমে সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ্ব পালন করা ফরজ হয়। কেউ কেউ বলেন হিজরী ষষ্ঠ সনে হুদাইবিয়ার সময় ফরজ হয়েছিল; তবে ১ম মতটিই অধিক প্রামাণিক। - হজ্বের ফরজসমূহ (أركان الحج وفرائضه):
হানাফী ফিকহ অনুযায়ী হজ্বের ফরজ মূলত ৩টি (অন্যান্য মাযহাবের মতে তাওয়াফে কুদূম ও সায়ীর বিন্যাসে ৪ বা ৬টি)। হানাফী মাযহাবের ৩টি মূল ফরজ হলো:- ইহরাম বাঁধা (الإحرام مع النية): মীকাত অতিক্রমের পূর্বে হজ্জের নিয়তে ইহরামের কাপড় পরিধান ও তালবিয়াহ পাঠ করা (এটি শর্তের অন্তর্ভুক্ত হলেও ফরজের মর্যাদা রাখে)।
- আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (الوقوف بعرفة): ৯ই জিলহজ্জ দ্বিপ্রহরের পর থেকে ১০ই জিলহজ্জ সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো মুহূর্তে মুহূর্তকালের জন্য হলেও আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। নবীজী (ﷺ) বলেছেন: «الْحَجُّ عَرَفَةُ» (হজ্ব হলো আরাফায় অবস্থান)।
- তাওয়াফে যিয়ারত সম্পাদন (طواف الإفاضة / الزيارة): ১০ই জিলহজ্জ থেকে ১২ই জিলহজ্জের মধ্যে কাবা শরীফের সাতটি চক্কর সম্পন্ন করা।
(ب) أقسام الحج وأفضلها (হজ্বের প্রকারভেদ ও কোনটি সর্বোত্তম)
পবিত্র মক্কার বাইরের দূরবর্তী লোকদের (আফাক্বী) জন্য হজ্ব সম্পাদন পদ্ধতির ভিত্তিতে তিন প্রকার:
| হজ্বের প্রকার | পদ্ধতি ও বিবরণ | শারয়ী বিধান ও কুরবানী (দম) |
|---|---|---|
| ১. হজ্বে ইফরাদ (حج الإفراد) | উমরাহ ব্যতিরেকে মীকাত থেকে কেবলমাত্র হজ্বের নিয়তে ইহরাম বাঁধা এবং হজ্জের কাজ সম্পন্ন করে ইহরাম খোলা। যিনি এটি করেন তাকে ‘মুফরিদ’ বলে। | এতে শুকরিয়াস্বরূপ দমে শোকর (কুরবানী) করা ওয়াজিব নয়; মুস্তাহাব। মক্কাবাসীদের জন্য কেবল এই হজ্বই নির্ধারিত। |
| ২. হজ্বে ক্বিরান (حج القِران) | মীকাত থেকে একই সাথে হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের নিয়তে এক ইহরামে প্রবেশ করা। মক্কায় পৌঁছে উমরাহ করার পরও ইহরাম না খুলে সেই ইহরামেই হজ্জের কার্যক্রম শেষ করা। যিনি এটি করেন তাকে ‘ক্বারীন’ বলে। | এটি সবচেয়ে কষ্টসাধ্য এবং এতে শুকরিয়াস্বরূপ দমে শোকর বা কুরবানী করা ওয়াজিব। |
| ৩. হজ্বে তামাত্তু’ (حج التمتع) | হজ্জের মাসসমূহে (শাওয়াল, যিলক্বদ বা যিলহজ্জের শুরুতে) মীকাত থেকে প্রথমে উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসে উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে যাওয়া এবং ৮ই জিলহজ্জ নতুন করে মক্কা থেকে হজ্জের ইহরাম বাঁধা। যিনি এটি করেন তাকে ‘মুতামাত্তি’ বলে। | উমরাহ ও হজ্জের মাঝে হালাল হয়ে স্বাভাবিক জীবন উপভোগের সুযোগ থাকায় শুকরিয়াস্বরূপ দমে শোকর (কুরবানী) ওয়াজিব। |
কোন হজ্বটি সর্বোত্তম (الأفضلية مع الأدلة):
- হানাফী মাযহাবের মতে: ‘হজ্বে ক্বিরান’ সর্বোত্তম; অতঃপর তামাত্তু’, অতঃপর ইফরাদ।
দলীল: সহীহ মুসলিমে হযরত আনাস (রা.) বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে একই সাথে উমরাহ ও হজ্জের তালবিয়াহ পাঠ করতে শুনেছি—«لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا»।” উপরন্তু ক্বিরানে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ইহরামের পবিত্রতা রক্ষা করতে হয় যা অধিক কষ্টের ও সওয়াবের। - হাম্বলী মাযহাবের মতে: ‘হজ্বে তামাত্তু” সর্বোত্তম; কারণ রাসূল (ﷺ) জীবনের শেষভাগে সাহাবাদের তামাত্তু’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আফসোস করে বলেছিলেন: “আমি কুরবানীর পশু সাথে না আনলে অবশ্যই তামাত্তু’ করতাম।”
(ج) فضل العمرة (উমরার ফযীলত ও মাহাত্ম্য)
সহীহ সুন্নাহয় উমরার অসংখ্য ফযীলত বর্ণিত হয়েছে:
- উভয় উমরার মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা:
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন:
«الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ»
“এক উমরাহ থেকে পরবর্তী উমরাহ—উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের সমস্ত সগীরা গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়; আর মাবরূর (কবুল) হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।” - দারিদ্র্য ও পাপমোচন:
সুনানে তিরমিযীতে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (ﷺ) বলেন: “তোমরা হজ্জ ও উমরাহ পর পর আদায় কর; কারণ এ দুটি দারিদ্র্য ও পাপকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে কামারের হাপর লোহা ও স্বর্ণের মরিচাকে দূর করে।” - রমযান মাসে উমরাহ করার অনন্য মর্যাদা:
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: «عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً مَعِي» (“রমযান মাসে একটি উমরাহ আদায় করা আমার সাথে হজ্জ সম্পাদন করার সমতুল্য!”)।
٦- قوله تعالى: ﴿وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَّا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ﴾ [البقرة: ১৬৩]
(أ) فسر الآية المذكورة- [(ক) বর্ণিত আয়াতটির তাফসির কর।]
(ب) تحدث عن توحيد الألوهية- [(খ) توحيد الألوهية সম্পর্কে আলোচনা কর।]
(ج) ما الفرق بين الرحمن والرحيم؟ بين- [(গ) الرحمن ও الرحيم এর মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]
(أ) تفسير الآية الكريمة (আয়াতে কারীমার বিশদ তাফসীর)
মক্কার মুশরিকরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলল, “হে মুহাম্মদ! তোমার রবের পরিচয় দাও, তিনি কিসের তৈরি?” তখন মহান আল্লাহ সূরা ইখলাসের পাশাপাশি সূরা আল-বাকারার এই ঐতিহাসিক আয়াত অবতীর্ণ করে তাওহীদের মূল ঘোষণা দেন:
- ’وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ‘: ‘ইলাহ’ হলেন সেই মহান সত্তা যিনি একমাত্র উপাসনা পাওয়ার যোগ্য এবং যাঁর ভালোবাসায় অন্তর নিবেদিত থাকে। হে মানবজাতি! তোমাদের মাবূদ হলেন একমাত্র একক মাবূদ। যাঁর সত্তা, গুণাবলি ও কর্তৃত্বে কোনো দ্বিতীয় শরীক নেই।
- ’لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ‘: এটি হলো ‘কালিমায়ে তাইয়্যেবা’র মূল স্তম্ভ। এখানে প্রথমে ‘লা ইলাহা’ দ্বারা সমস্ত মিথ্যা উপাস্য, মূর্তি, মানুষ ও তাগুতকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার (নফি) করা হয়েছে এবং ‘ইল্লাল্লাহু’ দ্বারা কেবল এক আল্লাহর জন্য উপাসনার অধিকার সাব্যস্ত (ইছবাত) করা হয়েছে।
- ’الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ‘: তিনি পরম দয়াময় ও অসীম করুণাময়। সমগ্র বিশ্ব সৃষ্টি করে তিনি ক্ষান্ত হননি; বরং তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ দিয়ে সমগ্র সৃষ্টিজগতকে প্রতিপালন করছেন।
(ب) توحيد الألوهية (তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ-এর বিশদ আলোচনা)
- সংজ্ঞা: «إِفْرَادُ اللَّهِ تَعَالَى بِأَفْعَالِ الْعِبَادِ» অর্থাৎ বান্দার যাবতীয় ইবাদত (যেমন: সালাত, রোযা, দু‘আ, ভয়, আশা, ভরসা, কুরবানী, মানত ও সিজদা) একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করাকে ‘তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ’ বা ‘তাওহীদুল ইবাদত’ বলা হয়।
- তাওহীদুল উলূহিয়্যাহর অপরিসীম গুরুত্ব:
- সমস্ত নবী-রাসূল প্রেরণের মূল উদ্দেশ্য: হযরত আদম থেকে মুহাম্মদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর মূল দাওয়াত ছিল এটি: ﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ﴾ [النحل: ৩৬]।
- রুবূবিয়্যাহর স্বীকৃতি সত্ত্বেও কুরাইশদের কাফের থাকার কারণ: মক্কার কাফেররা বিশ্বাস করত যে আকাশ-জমিনের স্রষ্টা ও বৃষ্টিদাতা আল্লাহ (তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ); কিন্তু তারা লাত, মানাত ও উযযার পূজা করত এই বলে যে এরা আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। ফলে উলূহিয়্যাহ অস্বীকার করার কারণেই তারা মুশরিক সাব্যস্ত হয়েছিল।
- ইসলাম ও কুফরের সীমারেখা: উলূহিয়্যাহ ব্যতীত কোনো মানুষের নামায, রোযা ও দান-সদকা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না।
(ج) الفرق بين الرحمن والرحيم (আর-রহমান ও আর-রাহীমের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য)
আল্লাহ তা‘আলার এই দুটি অনুপম গুণবাচক নামই ‘রহমত’ (দয়া) ধাতু থেকে উদ্ভূত। তবে এদের অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে গভীর পার্থক্য রয়েছে:
| পার্থক্যের দিক | الرَّحْمَٰنُ (আর-রহমান) | الرَّحِيمُ (আর-রাহীম) |
|---|---|---|
| ১. ব্যাকরণিক ওযন | এটি ’فَعْلَان‘ (ফা’লান) ওযনে গঠিত, যা আরবী ব্যাকরণে তীব্র আধিক্য ও উপচে পড়া ব্যাপকতা (للامتلاء والمبالغة الكبرى) বোঝায়। | এটি ’فَعِيل‘ (ফাঈল) ওযনে গঠিত, যা কোনো গুণের স্থায়ী রূপ ও ক্রমাগত ধারাবাহিক প্রভাব (للثبوت والاستمرار والدوام) নির্দেশ করে। |
| ২. দয়ার পরিধি ও ব্যক্তি | বিশ্বজনীন ও সাধারণ দয়া (রহমতে আম্মাহ): দুনিয়াতে মুমিন, কাফের, পাপাচারী, জীবজন্তু এমনকি সমস্ত সৃষ্টির ওপর আল্লাহর দয়া। কাফেররা অস্বীকার করলেও আল্লাহ তাদের বাতাস, পানি ও রিযিক বন্ধ করেন না। | বিশেষ ও অবিরাম দয়া (রহমতে খাসসাহ): এটি বিশেষভাবে কেবল ঈমানদার মুমিনদের জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ বলেন: ﴿وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا﴾ [الأحزاب: ৪৩]। |
| ৩. আখেরাত বনাম দুনিয়া | দুনিয়ার জীবনে কাফের-মুমিন নির্বিশেষে সবার জন্য তিনি রহমান; কিন্তু আখেরাতে তাঁর এই সাধারণ দয়া থাকবে না। | আখেরাতে তিনি মুমিনদের প্রতি রাহীম হিসেবে ক্ষমা, মাগফিরাত ও চিরন্তন জান্নাত দান করবেন। |
| ৪. নামের অনন্যতা | ‘আর-রহমান’ নামটি কেবল আল্লাহর জন্য খাস; কোনো মানুষের ক্ষেত্রে এই নাম ব্যবহার সম্পূর্ণ হারাম। | ‘রাহীম’ শব্দটি মানুষের গুণ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। যেমন কুরআনে রাসূল (ﷺ) সম্পর্কে বলা হয়েছে: ﴿بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ﴾। |
٧- تحدث عن الأنظمة الاجتماعية المذكورة في سورة الحجرات-
[সূরা হুজুরাতে বর্ণিত সামাজিক নিয়মাবলি সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা
পবিত্র কুরআনের ৪৯তম সূরা ‘সূরা আল-হুজুরাত’ (سورة الحجرات)-কে ইসলামী সমাজবিজ্ঞানের ‘নৈতিকতার মহাসনদ’ (دستور الأخلاق الاجتماعية) বলা হয়। এই মাদানী সূরাটিতে মানব সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য এমন কিছু শাশ্বত সামাজিক নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি অপরাধমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের নিশ্চয়তা দেয়। নিম্নে সূরা হুজুরাতে বর্ণিত প্রধান সামাজিক নিয়মাবলিসমূহ বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:
- নেতৃত্ব ও মুরব্বিদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন (আয়াত: ১-৩):
সূরাটির সূচনাতেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর সিদ্ধান্তের অগ্রবর্তী হতে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। এটি সমাজবিজ্ঞানকে শেখায় যে, যে সমাজে নেতৃত্ব, উলামায়ে কেরাম ও প্রবীণদের প্রতি সম্মান থাকে না, সে সমাজের সামাজিক সংহতি ধ্বংস হয়ে যায়। - গুজব প্রতিরোধ ও তথ্য যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা (আয়াত: ৬):
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ﴾
যেকোনো খবর শোনার সাথে সাথে প্রচার না করে তার উৎস ও সত্যতা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বর্তমান যুগে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে সমাজে যে দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তার নিখুঁত প্রতিষেধক হলো এই আয়াত। - দ্বন্দ্ব নিরসন ও সাম্যভিত্তিক মীমাংসা (আয়াত: ৯-১০):
সমাজে বা মুসলিমদের দুই দলের মাঝে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হলে অন্য সদস্যদের নিরপেক্ষ ইনসাফের সাথে মীমাংসা (ইসলাহ) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো দল অবাধ্য হয়ে সীমা লঙ্ঘন করে, তবে মজলুমের সহায়তায় যালেমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে বলা হয়েছে। - উপহাস, ট্রল ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার কঠোর নিষেধাজ্ঞা (আয়াত: ১১):
﴿لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَى أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِّن نِّسَاءٍ عَسَى أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ﴾
কারো শারীরিক গঠন, দারিদ্র্য, বংশ বা অঞ্চল নিয়ে উপহাস ও ঠাট্টা করাকে হারাম করা হয়েছে; কারণ যাকে উপহাস করা হচ্ছে সে আল্লাহর কাছে উপহাসকারীর চেয়েও শ্রেষ্ঠ হতে পারে। - মন্দ নামে বা অপবাদ দিয়ে ডাকা নিষিদ্ধ (আয়াত: ১১):
﴿وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ﴾ অর্থাৎ কাউকে কুরুচিপূর্ণ উপনামে ডাকা বা খোঁচা দেওয়া নিষিদ্ধ। এটি মানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষা করে। - অহেতুক কুধারণা ও পরনিন্দা পরিহার (আয়াত: ১২):
﴿اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ﴾—মানুষের ব্যাপারে বিনা প্রমাণে মন্দ ধারণা করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। - গুপ্তচরবৃত্তি ও মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ (আয়াত: ১২):
﴿وَلَا تَجَسَّسُوا﴾—কারো গোপন দোষ খোঁজা, ব্যক্তিগত মেসেজ বা জীবনে উঁকিঝুঁকি মারা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। - গীবতের ভয়াবহতা ও মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার উপমা (আয়াত: ১২):
﴿وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ﴾
কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ চর্চাকে আপন মৃত ভাইয়ের পচা গোশত খাওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের সাথে তুলনা করে সমাজকে গীবতের ব্যাধি থেকে মুক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। - বর্ণবাদের মূলোৎপাটন ও তাকওয়ার ভিত্তিতে বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব (আয়াত: ১৩):
﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ﴾
ভাষা, বর্ণ ও বিভিন্ন জাতি কেবল পারস্পরিক পরিচয়ের জন্য; অহংকারের জন্য নয়। আল্লাহর দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া।
٨- عرف التفسير الموضوعي ثم تحدث عن أهميته في الحياة العملية-
[التفسير الموضوعي এর সংজ্ঞা দাও এবং ব্যবহারিক জীবনে এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]
১. ‘আত-তাফসীরুল মাওদূয়ী’ (التفسير الموضوعي – বিষয়ভিত্তিক তাফসীর)-এর সংজ্ঞা
- আভিধানিক অর্থ: ‘আল-মাওদূয়ী’ (الموضوعي) শব্দটি ‘মাওদূ’ (موضوع) থেকে সম্পর্কিত, যার অর্থ নির্দিষ্ট বিষয়, টপিক বা ক্ষেত্র।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা:
আধুনিক উলূমুল কুরআনের গবেষক ড. মুস্তফা মুসলিম তাঁর ‘মাবাহিস ফীত তাফসীরিল মাওদূয়ী’ গ্রন্থে প্রামাণ্য সংজ্ঞা দিয়ে বলেন:
«عِلْمٌ يَتَنَاوَلُ القَضَايَا وَالمَوْضُوعَاتِ القُرْآنِيَّةَ، بِجَمْعِ الآيَاتِ ذَاتِ الصِّلَةِ بِالمَوْضُوعِ الوَاحِدِ مِنْ مُخْتَلِفِ السُّوَرِ، وَتَحْلِيلِهَا وَالتَّوْفِيقِ بَيْنَهَا، لِاسْتِخْرَاجِ نَظَرِيَّةِ القُرْآنِ وَحُكْمِهِ فِي تِلْكَ القَضِيَّةِ»
“এটি এমন এক পদ্ধতিগত জ্ঞানশাখা, যা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সূরায় ছড়িয়ে থাকা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত আয়াতকে এক স্থানে জড়ো করে, তাদের পূর্বাপর প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ ও সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে উক্ত বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, সমাধান ও দর্শনকে সুসংবদ্ধভাবে উপস্থাপন করে।” - বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের প্রধান তিনটি রূপ:
- নির্দিষ্ট কোনো কুরআনিক শব্দের বিশ্লেষণ (الموضوعي للمصطلح القرآني): যেমন: কুরআনে ‘উম্মত’, ‘ফিতনা’ বা ‘তাকওয়া’ শব্দের সামগ্রিক প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা।
- কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের সার্বিক পর্যালোচনা (الموضوعي للموضوع القرآني): যেমন: কুরআনে মানবাধিকার, কুরআনে নারী অধিকার, কুরআনে অর্থনীতি ইত্যাদি।
- কোনো একটি সূরার মূল বিষয়বস্তু উদঘাটন (الموضوعي للسورة القرآنية): কোনো সূরার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্য ও মূল বক্তব্য নিরূপণ করা।
২. ব্যবহারিক জীবনে বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের অপরিসীম গুরুত্ব (أهميته في الحياة العملية)
সমসাময়িক জটিল বিশ্বে সনাতন ধারাবাহিক তাফসীরের চেয়ে বিষয়ভিত্তিক তাফসীর আধুনিক মানুষের জিজ্ঞাসার জবাবে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে:
- সমসাময়িক জটিল সমস্যার সহজ ও সমন্বিত সমাধান:
আজকের যুগে অর্থনীতি, রাজনীতি, বায়ো-এথিক্স, চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সামাজিক অস্থিরতার মতো জটিল বিষয়ে আধুনিক মানুষ জানতে চায়: “এই বিষয়ে ইসলাম বা কুরআনের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি কী?” বিষয়ভিত্তিক তাফসীর সংশ্লিষ্ট সমস্ত আয়াতকে একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘কুরআনিক পলিসি’ উপহার দেয়। - ইসলামের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সর্বোত্তম মাধ্যম:
অমুসলিম গবেষক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ (যেমন: নারীর অধিকার, যুদ্ধের বিধান, দাসপ্রথা ও অমুসলিমদের অধিকার) খণ্ডন করার জন্য খণ্ড খণ্ড আয়াতের ব্যাখ্যার চেয়ে পুরো বিষয়ের কুরআনিক দর্শন তুলে ধরা অপরিহার্য। - কুরআনের আয়াতসমূহের আপাত বৈপরীত্য ও ভুল বোঝাবুঝি নিরসন:
কুরআনের কোনো আয়াতে একরকম এবং অন্য আয়াতে ভিন্ন বিধান দেখলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে (যেমন: মদের পর্যায়ক্রমিক হারাম হওয়া)। বিষয়ভিত্তিক তাফসীর সমস্ত আয়াতকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সাজিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত দেয়। - ইসলামী জীবনব্যবস্থার সামগ্রিক দর্শন প্রণয়ন:
ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত পূজার নাম নয়; বরং এর নিজস্ব রাষ্ট্রদর্শন, বিচারব্যবস্থা ও অর্থনীতি রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক তাফসীর ইসলামী অর্থনীতি ও ইসলামী সমাজনীতির সুসংবদ্ধ থিওরি নির্মাণে গবেষকদের সক্ষমতা যোগায়। - সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্যতা:
সাধারণ মানুষের পক্ষে ৩০ পারা কুরআনের শত শত খণ্ডের তাফসীর পড়া অসম্ভব। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের মাধ্যমে তারা খুব অল্প সময়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমন: পিতামাতার হক, হালাল উপার্জন, সন্তানদের লালন-পালন) কুরআনের সমস্ত নির্দেশনা এক মলাটে জানতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বিষয়ভিত্তিক তাফসীর (التفسير الموضوعي) ও ধারাবাহিক তাফসীরের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
ধারাবাহিক তাফসীরে সূরা ফাতিহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত প্রতিটি আয়াতের পর্যায়ক্রমিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়; অপরদিকে বিষয়ভিত্তিক তাফসীরে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে সমগ্র কুরআনের ছড়িয়ে থাকা আয়াতগুলোকে এক স্থানে জড়ো করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়।
২. সূরা আল-ফাতিহাকে ‘উম্মুল কুরআন’ বলা হয় কেন?
কারণ সমগ্র পবিত্র কুরআনের মূল নির্যাস—তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত, ইবাদত এবং হিদায়াতের মৌলিক বিষয়সমূহ এই সংক্ষিপ্ত সূরার ৭টি আয়াতে বীজাকারে সন্নিবেশিত রয়েছে।
৩. হজের তিনটি প্রকারের মধ্যে কোনটি হানাফী মাযহাব মতে সর্বোত্তম?
হানাফী মাযহাবের মতে ‘হজ্বে ক্বিরান’ সর্বোত্তম; কারণ এতে মীকাত থেকে একই ইহরামে হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের দীর্ঘ কষ্ট সহ্য করে পূর্ণাঙ্গ আমল সম্পন্ন করতে হয়।
৪. আধুনিক বিজ্ঞানে রোযার ‘অটোফেজি’ (Autophagy) কী?
অটোফেজি হলো দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার ফলে শরীরের সুস্থ কোষ কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত, বিষাক্ত ও ক্যান্সারাক্রান্ত মৃত কোষগুলোকে ধ্বংস ও রূপান্তর করার এক প্রাকৃতিক স্বয়ংক্রিয় নিরাময় পদ্ধতি, যার গবেষণায় ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
৫. ‘আল্লাহর নাম আর-রহমান ও আর-রাহীমের প্রধান পার্থক্য কী?
আর-রহমান হলো আল্লাহর ব্যাপক ও সাধারণ দয়া যা দুনিয়াতে সমস্ত সৃষ্টির ওপর পরিব্যাপ্ত; আর আর-রাহীম হলো আল্লাহর বিশেষ ও অবিরাম দয়া যা বিশেষভাবে পরকালে মুমিনদের জন্য নির্ধারিত।
৬. সূরা হুজুরাতকে কেন ‘নৈতিকতার মহাসনদ’ বলা হয়?
কারণ এই সূরায় নেতৃত্বকে সম্মান, গুজব প্রতিরোধ, তথ্য যাচাই, দুর্বল ও বিরোধীদের মাঝে সমঝোতা, গীবত, উপহাস, ট্রল, কুধারণা এবং গুপ্তচরবৃত্তি নিষিদ্ধ করে তাকওয়ার ভিত্তিতে বৈশ্বিক সাম্য ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার অনুশাসন দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার ও পরীক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনা
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল সম্মান ৪র্থ বর্ষের ‘আত-তাফসীরুল মাওদূয়ী’ (৪০৬) প্রশ্নপত্রটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বাস্তবিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিটি আয়াতের সহীহ তাশকীলযুক্ত আরবী পাঠ, মূল শব্দার্থের বিশ্লেষণ, ফিকহী ইস্তিম্বাত এবং বাস্তব জীবনে এর সামাজিক প্রয়োগ টেবিল ও পয়েন্ট আকারে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে হবে। ২০২০ সালের এই প্রশ্নপত্রের ৮টি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণিক প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের যে কোনো পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ গবেষণায় অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।
| প্রশ্ন নং | আলোচ্য বিষয় | কুরআনিক আয়াত / রেফারেন্স | সারসংক্ষেপ |
|---|---|---|---|
| ১ | সূরা আল-ফাতিহার পরিচিতি ও বিষয়বস্তু | সূরা ফাতিহা (১-৭), হাদীসে কুদসী | পূর্ণাঙ্গ আরবী পাঠ, ৭টি প্রসিদ্ধ নাম ও মৌলিক বিষয়বস্তু। |
| ২ | আম্বিয়াদের ওপর ঈমান ও রুকনসমূহ | সূরা বাক্বারাহ: ১৩৬, হাদীসে জিবরীল | ঈমানের ৬টি রুকন ও ঈমান পরিপন্থী ৮টি বিধ্বংসী কারণ। |
| ৩ | সিয়াম, অটোফেজি ও তাকওয়ার গুরুত্ব | সূরা বাক্বারাহ: ১৮৩, বুখারী ও মুসলিম | সিয়ামের সংজ্ঞা, অটোফেজি, ‘রোযা একটি ঢাল’ ও তাকওয়া। |
| ৪ | মুমিনদের গুণাবলি ও সালাতের সমাজ সংস্কার | সূরা মুমিনূন: ১-৩, সূরা আনকাবূত: ৪৫ | খুশূ, অনর্থক বর্জন, ৭টি গুণাবলি ও সামাজিক শুদ্ধতায় সালাত। |
| ৫ | হজ্ব ও উমরার বিধান এবং ফজিলত | সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬, সূরা আলে ইমরান: ৯৭ | ফরযের সন, ৩টি ফরজ, ইফরাদ-ক্বিরান-তামাত্তু’ ও উমরাহ। |
| ৬ | তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ ও রহমান-রাহীম | সূরা বাক্বারাহ: ১৬৩, সূরা ইখলাস | উলূহিয়্যাহর সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং রহমান ও রাহীমের ৪টি পার্থক্য। |
| ৭ | সূরা হুজুরাতে বর্ণিত সামাজিক অনুশাসন | সূরা হুজুরাত: ১-১৩ | গুজব প্রতিরোধ, গীবত ও উপহাস নিষিদ্ধ, ইনসাফ ও সাম্য। |
| ৮ | বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব | ড. মুস্তফা মুসলিম, মাবাহিস ফীত তাফসীর | সংজ্ঞা, তিনটি রূপ এবং আধুনিক জীবনে এর বাস্তব উপযোগিতা। |