জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর আল-মুকারিন (At-Tafsirul Muqaran) – 201401, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৯৯ মিনিট পড়ার সময়
১৬ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাযিল (স্নাতক) সম্মান ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা—২০২১
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আত-তাফসীর আল-মুকারিন (التفسير المقارن – তুলনামূলক তাফসীরতত্ত্ব)
বিষয় কোড: 201401 | প্রশ্নপত্র কোড: 147
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা


ভূমিকা ও পাঠ্যক্রম পরিচিতি

ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (IAU)-এর ফাযিল (স্নাতক) সম্মান ৪র্থ বর্ষের আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অন্যতম শীর্ষ ও উচ্চতর শাস্ত্রীয় গবেষণামূলক বিষয় হলো ‘আত-তাফসীর আল-মুকারিন’ (التفسير المقارن – Comparative Exegesis), যার প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় কোড ২০১৪০১। তাফসীর শাস্ত্রের হাজার বছরের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক ইতিহাসে মুফাসসিরগণের অনুসৃত বিভিন্ন মানহাজ (পদ্ধতি), ইজতিহাদী দৃষ্টিভঙ্গি, মাযহাবী ও আকীদাগত অবস্থান এবং বর্ণনামূলক ও যুক্তিনির্ভর ধারার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ তুলনামূলক বিশ্লেষণ করাই এই পাঠ্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ২০২১ শিক্ষাবর্ষের এই প্রশ্নপত্রে তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে মারালী, তা’বীলাতু আহলিস সুন্নাহ লিল মাতুরীদী, তাফসীরে কাশশাফ, আইসারুত তাফাসীর, আত-তাফসীরুল মুনীর এবং আদ-দুররুল মানছূরের মতো ধ্রুপদী ও আধুনিক তাফসীর সাহিত্যের গভীর তত্ত্ব সন্নিবেশিত হয়েছে। নিম্নে উক্ত প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্ন ও উপ-প্রশ্নের বিশদ, তথ্যবহুল ও প্রামাণ্য একাডেমিক সমাধান উপস্থাপন করা হলো।


বিভাগ ‘ক’ : রচনামূলক প্রশ্নাবলি (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর আবশ্যক)

١- قوله تعالى: ﴿وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ ۝ وَالْيَوْمِ الْمَوْعُودِ ۝ وَشَاهِدٍ وَمَشْهُودٍ ۝ قُتِلَ أَصْحَابُ الْأُخْدُودِ ۝ النَّارِ ذَاتِ الْوَقُودِ ۝ إِذْ هُمْ عَلَيْهَا قُعُودٌ﴾ [البروج: ১-৬]

(الف) فسر الآيات المذكورة مقارنة بين تفسير الطبري وتفسير المراغي- (উক্ত আয়াতসমূহের তাফসীর ইমাম তাবারী ও ইমাম মুস্তফা আল-মারারীর তাফসীরের আলোকে তুলনামূলক আলোচনা কর)

(ب) بين قصة أصحاب الأخدود- (আসহাবুল উখদূদের ঐতিহাসিক ও কুরআনভিত্তিক ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা কর)

(ক) অংশের সমাধান: ইমাম তাবারী ও ইমাম আল-মারাগীর তুলনামূলক তাফসীর বিশ্লেষণ:

পবিত্র কুরআনের ৮৫তম সূরা আল-বুরূজের সূচনা হয়েছে মহাজাগতিক কয়েকটি মহা-নিদর্শনের শপথ এবং তাওহীদের পথে অবিচল থেকে আত্মোৎসর্গকারী ‘আসহাবুল উখদূদ’-এর ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির বর্ণনার মাধ্যমে। তুলনামূলক তাফসীর শাস্ত্রে সনাতন তাফসীর বিল মা’ছূরের জনক ইমাম ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহ.) এবং আধুনিক সংস্কারবাদী ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার মুফাসসির আল্লামা আহমদ মুস্তফা আল-মারাগী (রহ.)-এর ব্যাখ্যাভঙ্গি এক অনুপম বৈপরীত্য ও সামঞ্জস্যের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

১. সূরা আল-বুরূজের শপথসমূহ (الأقسام) প্রসঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

  • ’وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ‘ (নক্ষত্ররাজিবিশিষ্ট আকাশের শপথ):
    • ইমাম তাবারীর দৃষ্টিভঙ্গি (جامع البيان عن تأويل آي القرآن): ইমাম তাবারী সনদের পরম্পরায় সাহাবী ও তাবেয়ীগণের বিভিন্ন রেওয়ায়েত সংকলন করেছেন। তিনি ইবনে আব্বাস (রা.), মুজাহিদ, কাতাদাহ ও দাহহাক (রহ.) থেকে উদ্ধৃত করেন যে, ‘বুরূজ’ (البروج) দ্বারা মহাকাশের দ্বাদশটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানস্থল (منازل الكواكب والشمس والقمر) বোঝানো হয়েছে। অন্য বর্ণনায় এটিকে বিশাল প্রাসাদ বা দুর্গ (قصور في السماء) বলা হয়েছে। তাবারী সকল বর্ণনা যাচাইপূর্বক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক কক্ষপথ ও নক্ষত্রমণ্ডলী সংক্রান্ত মতটিকে প্রধান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
    • আল্লামা মারাগীর দৃষ্টিভঙ্গি (تفسير المراغي): শায়খ মারাগী আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোকে ‘বুরূজ’-এর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহ তাআলা মহাশূন্যের কোটি কোটি গ্যালাক্সি ও নক্ষত্রপুঞ্জের সুনিয়ন্ত্রিত গতিবিধি ও কক্ষপথের শপথ করে মানুষকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই মহাবিশ্বের কোনো কিছুই বিশৃঙ্খল নয়; অতএব মানুষের ইতিহাস ও তাদের কৃতকর্মও ন্যায়বিচারের বাইরে নয়।
  • ’وَالْيَوْمِ الْمَوْعُودِ‘ (প্রতিশ্রুত দিবসের শপথ):
    • ইমাম তাবারী: বিশুদ্ধ হাদীসের সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফূ সনদে বর্ণনা করেন: «اليَوْمُ المَوْعُودُ يَوْمُ القِيَامَةِ»—অর্থাৎ প্রতিশ্রুত দিবস হলো মহাপ্রলয় ও কিয়ামতের দিন। তাবারী এ ব্যাপারে উম্মতের সর্বসম্মত ইজমা উল্লেখ করেছেন।
    • আল্লামা মারাগী: কিয়ামত দিবসের অনিবার্যতা তুলে ধরে বলেন, জালিমদের সাময়িক বিজয় দেখে মুমিনদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ‘আল-ইয়াওমুল মাওউদ’ প্রমাণ করে যে, পার্থিব যুলুমের চূড়ান্ত ফয়সালা একটি অবধারিত দিনে হবেই।
  • ’وَشَاهِدٍ وَمَشْهُودٍ‘ (সাক্ষী ও যার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া হবে):
    • ইমাম তাবারী: এই শব্দদ্বয়ের ব্যাখ্যায় তাবারী অসংখ্য রেওয়ায়েত আনয়ন করেছেন। প্রথমত, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী: «الشَّاهِدُ يَوْمُ الجُمُعَةِ، وَالمَشْهُودُ يَوْمُ عَرَفَةَ» (সাক্ষী হলো জুমার দিন এবং সাক্ষ্যপ্রাপ্ত দিন হলো আরাফার দিন)। দ্বিতীয়ত, আলী (রা.) ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: শাহিদ হলেন স্বয়ং মহানবী ﷺ এবং মাশহূদ হলো কিয়ামতের দিন। তাবারী প্রতিটি সনদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে জুমার দিন ও আরাফার দিনের মতটিকে অগ্রাধিকার (তারজীহ) দিয়েছেন।
    • আল্লামা মারাগী: মারাগী এর সাধারণ ও ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, ‘শাহিদ’ হলো প্রত্যেক প্রত্যক্ষদর্শী মানুষ, নবী-রাসূল ও আমল রক্ষক ফেরেশতাগণ এবং ‘মাশহূদ’ হলো সৃষ্টিকূলের যাবতীয় কর্ম ও কিয়ামতের মহা-আদালত। তিনি বাহ্যিক আক্ষরিক বর্ণনার চেয়ে দার্শনিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

২. আসহাবুল উখদূদের পরিণতি প্রসঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

  • ’قُتِلَ أَصْحَابُ الْأُخْدُودِ‘ (অভিশপ্ত বা ধ্বংস হয়েছিল গর্তের অধিপতিরা):
    • ইমাম তাবারী: ‘কুতিলা’ (قُتِلَ)-এর অর্থ করেছেন ‘লুয়িনা’ (لُعِنَ) বা লানতগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বিস্তারিত আসমা ও রিজালসহ ইয়েমেনের নাজরানের খ্রিষ্টান মুমিনদের ওপর ইহুদী শাসক যু-নুওয়াসের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপের ঐতিহাসিক রেওয়ায়েতসমূহ সবিস্তারে পেশ করেন।
    • আল্লামা মারাগী: মারাগী ‘কুতিলা’ শব্দটিকে যালিমদের প্রতি আল্লাহর ক্ষোভ ও শাস্তির নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দেখান যে, ঈমানী চেতনার সামনে অগ্নিকুণ্ডের লেলিহান শিখাও মুমিনদের টলাতে পারেনি; বরং যালিমরাই চিরতরে ধিক্কৃত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
  • ’النَّارِ ذَاتِ الْوَقُودِ ۝ إِذْ هُمْ عَلَيْهَا قُعُودٌ‘:
    • ইমাম তাবারী: ‘ওয়াকূদ’ (وقود)-এর ফাতহাহযোগে পাঠের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করে বলেন, যা দিয়ে আগুন প্রজ্বলিত করা হয় অর্থাৎ প্রচুর কাষ্ঠখণ্ড। আর ‘ইয হুম আলাইহা কুউদ’ দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, যালিম কাফিররা গর্তের কিনারায় আসনে বসে মুমিনদের পুড়ে ছাই হওয়ার দৃশ্য পৈশাচিক উল্লাসে প্রত্যক্ষ করছিল।
    • আল্লামা মারাগী: মারাগী এটিকে মানব ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম ফ্যাসিবাদের চিত্র হিসেবে চিত্রিত করেছেন। যালিমরা যখন অহংকারে মত্ত হয়ে নিরপরাধ মানুষের আর্তনাদ উপভোগ করে, তখন তাদের নৈতিক পতন চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছায়।

(খ) অংশের সমাধান: আসহাবুল উখদূদের ঐতিহাসিক ও কুরআনভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ঘটনা:

সহীহ মুসলিমে হযরত সুহাইব আর-রূমী (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ মারফূ হাদীসে (হাদীস নং ৩০০৫) রাসুলুল্লাহ ﷺ আসহাবুল উখদূদের হৃদয়বিদারক অথচ ঈমানোদ্দীপক ঘটনা বর্ণনা করেছেন:

  1. জাদুকর ও কিশোরের প্রেক্ষাপট: প্রাচীন ইয়েমেনের জনৈক অহংকারী বাদশাহর এক বৃদ্ধ জাদুকর ছিল। মৃত্যুর পূর্বে জাদুবিদ্যা শিখিয়ে যাওয়ার জন্য সে এক তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন বালককে নির্বাচন করে। বালকটি জাদুকরের কাছে আসা-যাওয়ার পথে এক নির্জন কুটিরে অবস্থানকারী আল্লাহপ্রেমিক দরবেশ (রাহিব)-এর সাক্ষাত পায় এবং তাঁর তাওহীদি বক্তব্যে আকৃষ্ট হয়ে গোপনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
  2. কারামাত ও সত্যের উন্মেষ: পথিমধ্যে একদিন এক বিশাল হিংস্র প্রাণী মানুষের পথ রুদ্ধ করলে বালকটি একটি পাথর হাতে নিয়ে বলে: «اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ أَمْرُ الرَّاهِبِ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنْ أَمْرِ السَّاحِرِ فَاقْتُلْ هَذِهِ الدَّابَّةَ» (হে আল্লাহ! যদি জাদুকরের চেয়ে রাহিবের দ্বীন আপনার নিকট অধিক প্রিয় হয়, তবে এই প্রাণীকে হত্যা করুন)। সে পাথর নিক্ষেপ করতেই প্রাণীটি নিহত হয়। এর পর থেকে আল্লাহর হুকুমে বালকটির দোয়ায় জন্মান্ধ, কুষ্ঠরোগী ও দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্তরা সুস্থ হতে থাকে।
  3. বাদশাহর সভাসদের দৃষ্টিলাভ ও শাহাদাত: বাদশাহর এক অন্ধ সভাসদ প্রচুর উপহার নিয়ে বালকের কাছে আসে। বালক স্পষ্ট জানিয়ে দেয়: ‘আমি কাউকে আরোগ্য করি না, আরোগ্য দেন একমাত্র আল্লাহ। আপনি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলে আমি দোয়া করব।’ সভাসদ ঈমান আনেন এবং দৃষ্টি ফিরে পান। বিষয়টি জানতে পেরে বাদশাহ সভাসদ ও দরবেশ উভয়কে করাত দিয়ে চিরে দ্বিখণ্ডিত করে শহীদ করে।
  4. বালককে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা: বাদশাহ বালককে হত্যা করতে প্রথমে পাহাড়ের চূড়া থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়; কিন্তু বালকের দোয়ায় পাহাড় প্রকম্পিত হয়ে সৈন্যরা পড়ে মারা যায়। অতপর সাগরের অতল জলে ডুবিয়ে মারতে চাইলে ঝড়ো তরঙ্গে সৈন্যরা ডুবে মরে এবং বালক নিরাপদে ফিরে আসে।
  5. আত্মোৎসর্গ ও গণ-ঈমান আনয়ন: বালক বাদশাহকে বলে: ‘তুমি আমাকে কখনোই হত্যা করতে পারবে না, যতক্ষণ না সমগ্র প্রজাকে এক ময়দানে সমবেত করবে, আমাকে একটি গাছের গুঁড়িতে শূলে চড়াবে এবং আমার তূণ থেকে একটি তীর নিয়ে বলবে: «بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلَامِ» (বালকের প্রতিপালক আল্লাহর নামে)।’ বাদশাহ তা-ই করল। তীর বালকের কপালে বিদ্ধ হলো এবং সে শাহাদাত বরণ করল। এই অলৌকিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে সমবেত লক্ষ লক্ষ মানুষ সমস্বরে চিৎকার করে উঠল: «آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلَامِ» (আমরা বালকের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম!)।
  6. উখদূদের অগ্নিকুণ্ড ও মুমিনদের অটলতা: চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষিপ্ত বাদশাহ নগরের প্রধান প্রধান রাস্তায় বিশাল দীর্ঘ গর্ত (الأخدود) খনন করে তাতে দাউ দাউ করে আগুন প্রজ্বলনের নির্দেশ দেয়। ঘোষণা করা হলো—যে ব্যক্তি দ্বীন ত্যাগ না করবে, তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। মুমিন নর-নারী হাসিমুখে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। এক নারী কোলে শিশু সন্তান থাকায় কিছুটা ইতস্তত করলে আল্লাহ শিশুর বাকশক্তি খুলে দেন; শিশুটি বলল: «يَا أُمَّهِ اصْبِرِي فَإِنَّكِ عَلَى الحَقِّ» (হে মা! ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই আপনি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন!)। এভাবে সত্যের জন্য আত্মাহুতির এক অবিনাশী ইতিহাস রচিত হয়।

٢- قوله تعالى: ﴿قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ ۝ وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّىٰ ۝ بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ۝ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ﴾ [الأعلى: ১৪-১৭]

(الف) فسر الآيات الكريمة المذكورة مقارنة بين تفسير تأويلات أهل السنة للماتريدي والكشاف للزمخشري- (উক্ত আয়াতসমূহের তাফসীর ইমাম আবু মানসূর আল-মাতুরীদী প্রণীত ‘তা’বীলাতু আহলিস সুন্নাহ’ এবং আল্লামা যামাখশারী প্রণীত ‘আল-কাশশাফ’-এর আলোকে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর)

(ب) اكتب أهمية تزكية النفس- (কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আত্মশুদ্ধি বা তাযকিয়াতুন নাফসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলোচনা কর)

(ক) অংশের সমাধান: ইমাম আল-মাতুরীদী ও আল্লামা যামাখশারীর তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

সূরা আল-আ’লার ১৪-১৭ নম্বর আয়াতে মানুষের মুক্তি, আত্মশুদ্ধি, ইবাদত এবং পার্থিব মোহের বিপরীতে পরকালীন অগ্রাধিকারের চিরন্তন মূলনীতি ঘোষিত হয়েছে। সুন্নী কালামশাস্ত্রের প্রবাদপুরুষ ইমাম আবু মানসূর আল-মাতুরীদী (রহ.) তাঁর ‘তা’বীলাতু আহলিস সুন্নাহ’ (تأويلات أهل السنة) গ্রন্থে এবং মু’তাযিলা মতাদর্শ ও আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের দিকপাল আল্লামা মাহমুদ ইবনে উমর আয-যামাখশারী (রহ.) তাঁর ‘আল-কাশশাফ’ (الكشاف عن حقائق غوامض التنزيل) গ্রন্থে আয়াতসমূহের গভীর অথচ স্বতন্ত্র ধারার বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন।

১. ’قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ‘ আয়াতাংশের তুলনামূলক তাফসীর:

  • ইমাম আল-মাতুরীদী (আহলুস সুন্নাহ ধারার বিশ্লেষণ):
    • ইমাম মাতুরীদী ‘তাযাক্কা’ (تزكى)-এর অর্থ নির্ধারণে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয় দিক আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এর মূল অর্থ হলো শিরক, কুফর ও অন্তরের পঙ্কিলতা থেকে নিজেকে পবিত্র করা (تطهّر من الشرك والإثم)।
    • তিনি আতা ও হাসান বসরীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এখানে সদাকাতুল ফিতর ও আর্থিক দান-সদকাও অন্তর্ভুক্ত। তবে কালামশাস্ত্রবিদ হিসেবে মাতুরীদী জোর দিয়ে বলেন, মানুষের প্রকৃত মুক্তি (ফালাহ) কেবল বাহ্যিক আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশুদ্ধ ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বান্দার আমল আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত ফলপ্রসূ হয় না।
  • আল্লামা যামাখশারী (মু’তাযিলা ও বালাগাত ধারার বিশ্লেষণ):
    • যামাখশারী ভাষার ব্যুৎপত্তিগত সৌন্দর্য উন্মোচন করে বলেন, ‘তাযাক্কা’ তাফা’উল (تَفَعُّل) বাব থেকে এসেছে, যা আত্মপ্রচেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের ইঙ্গিত বহন করে। মু’তাযিলা নীতি অনুযায়ী, মানুষ তার কর্মের স্বাধীন কর্তা; তাই বান্দাকে নিজ দায়িত্বে গুনাহ বর্জন করে নেক আমলের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে হবে।
    • তিনি ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে উল্লেখ করেন যে, এটি বিশেষভাবে ঈদুল ফিতরের সাদকা এবং ঈদের উদ্দেশ্যে গোসল ও পরিচ্ছন্নতা অর্জনের সাথে সম্পৃক্ত। যামাখশারী শব্দপ্রয়োগের সূক্ষ্মতা দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, যে ব্যক্তি সাধ্যমতো পরিশুদ্ধির প্রয়াস চালায়, বিজয় তারই নিশ্চিত।

২. ’وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّىٰ‘ আয়াতাংশের তুলনামূলক তাফসীর:

  • ইমাম আল-মাতুরীদী:
    • মাতুরীদী এখানে ‘যিকর’ ও ‘সালাত’-এর সার্বজনীনতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব স্মরণ করে মুখে তাকবীর উচ্চারণ করা এবং অতপর বিনম্র চিত্তে নামাজে দাঁড়ানো হলো মুমিনের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য।
    • ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে হানাফী মাযহাবের মূলনীতি ব্যাখ্যা করে তিনি উল্লেখ করেন, ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবীর পাঠ করা এবং অতপর ঈদের সালাত আদায় করা এই আয়াতের অন্যতম উজ্জ্বল বাস্তব প্রয়োগ।
  • আল্লামা যামাখশারী:
    • যামাখশারী ‘ফা’ (فَ) অব্যয়ের মাধ্যমে কার্যকারণ ও পরম্পরা (الترتيب والتعقيب) বিশ্লেষণ করেন। যিকিরের অনুভূতি মুমিনকে সালাতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি তাকবীরাতুল ইহরামকে ‘যিকর’ এবং পরবর্তী নামাজকে ‘সালাত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
    • তিনি প্রশ্ন তোলেন: মানুষ কীভাবে যিকির করবে? উত্তর দেন: আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর সিফাত ও ইহসানের গভীর ধ্যানের মাধ্যমে।

৩. ’بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ۝ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ‘ আয়াতাংশের তুলনামূলক তাফসীর:

  • ইমাম আল-মাতুরীদী: মাতুরীদী কিরাআতের পার্থক্য তুলে ধরেন। সাধারণ কিরাআতে তা (ت) যোগে ‘তুছিরূনা’ (তোমরা প্রাধান্য দাও), আবার কোনো কিরাআতে ইয়া (ي) যোগে ‘ইউছিরূনা’ (তারা প্রাধান্য দেয়)। তিনি বলেন, কাফির ও গাফেল মুমিন উভয়ের জন্যই এখানে সতর্কবার্তা রয়েছে। আখেরাতকে ‘খাইর’ (উত্তম) বলা হয়েছে কারণ তা নিখাদ আনন্দময়, আর ‘আবকা’ (স্থায়ী) বলা হয়েছে কারণ তা অনন্তকাল বিরাজমান।
  • আল্লামা যামাখশারী: যামাখশারী ‘বাল’ (بَلْ)-কে ‘ইদরাব’ (الإضراب الانتقالي) বা এক প্রসঙ্গ থেকে তীব্র ধিক্কারসহ অন্য প্রসঙ্গে গমনের অলঙ্কার হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা প্রকাশ করে বলেন, উপস্থিত ও দৃশ্যমান নশ্বর সুখের পেছনে ছুটে মানুষ শাশ্বত ও সর্বোৎকৃষ্ট ভবিষ্যৎকে জলাঞ্জলি দেয়।

(খ) অংশের সমাধান: তাযকিয়াতুন নাফস বা আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

ইসলামী জীবনব্যবস্থায় মানবজীবনের চূড়ান্ত সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হলো আত্মশুদ্ধি বা তাযকিয়াতুন নাফস (تزكية النفس)। কুরআন মাজীদে সর্বাধিক এগারোটি শপথ করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: ﴿قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا ۝ وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا﴾ [الشمس: ৯-১০] (নিশ্চয় সে-ই সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে; আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে)।

  1. রিসালাতের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব: স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রেরণের চারটি মৌলিক লক্ষ্যের অন্যতম হলো উম্মতের আত্মশুদ্ধি সাধন। ইরশাদ হয়েছে: ﴿هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ﴾ [الجمعة: ২]। কিতাব ও হিকমতের পূর্বশর্ত হলো অন্তরকে শিরক, রিয়া, হাসাদ ও কিবর থেকে মুক্ত করা।
  2. কালবে সালীম বা সুস্থ অন্তরের অপরিহার্যতা: কিয়ামতের দিন কোনো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কাজে আসবে না, কেবল নিষ্কলুষ অন্তর ব্যতীত। ইরশাদ হয়েছে: ﴿يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ ۝ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ﴾ [الشعراء: ৮৮-৮৯]।
  3. আমলের গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি: হাদীসে কুদসীতে এসেছে, বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, আল্লাহ বান্দার অন্তর ও নিয়তের বিশুদ্ধতা দেখেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «أَلَا وَإِنَّ فِي الجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ القَلْبُ» [সহীহ বুখারী]। অন্তরের সংশোধন ব্যতীত সামগ্রিক জীবনের সংশোধন অসম্ভব।
  4. রিয়া ও আত্মম্ভরিতা থেকে মুক্তি: তাযকিয়া মানুষকে অহংকার (কিবর), পরশ্রীকাতরতা (হাসাদ), ক্রোধ (গযব), কৃপণতা (বুখল) এবং লোকদেখানো মানসিকতা (রিয়া) থেকে মুক্ত করে বিনয়, শোকর, ছবর, ইখলাস ও তাওয়াক্কুলের গুণে ভূষিত করে।
  5. জান্নাত লাভের চূড়ান্ত চাবিকাঠি: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ﴿جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَاءُ مَن تَزَكَّىٰ﴾ [طه: ৭৬] (চিরস্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে; আর এটি হলো তাদেরই প্রতিদান, যারা নিজেদের পরিশুদ্ধ করেছে)।

٣- قوله تعالى: ﴿وَالْعَصْرِ ۝ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ ۝ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ﴾ [العصر: ১-৩]

(الف) فسر الآيات الكريمة المذكورة مقارنة بين تفسير أيسر التفاسير والتفسير المنير- (উক্ত আয়াতসমূহের তাফসীর শায়খ আবু বকর জাযায়েরী প্রণীত ‘আইসারুত তাফাসীর’ এবং ড. ওয়াহবাহ আয-যুহায়লী প্রণীত ‘আত-তাফসীরুল মুনীর’-এর আলোকে তুলনামূলক পর্যালোচনা কর)

(ب) بين أهمية الوقت في ضوء سورة العصر- (সূরা আল-আসর-এর আলোকে মানবজীবনে সময়ের গুরুত্ব, মূল্য ও সদ্ব্যবহার বিশদভাবে ব্যাখ্যা কর)

(ক) অংশের সমাধান: ‘আইসারুত তাফাসীর’ ও ‘আত-তাফসীরুল মুনীর’-এর তুলনামূলক পর্যালোচনা:

সূরা আল-আসর পবিত্র কুরআনের সংক্ষিপ্ততম কিন্তু সবচেয়ে অর্থবহ ও মানবজীবনের সামগ্রিক দর্শনের সারসংক্ষেপক সূরা। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) যথার্থই বলেছেন: «لَوْ تَدَبَّرَ النَّاسُ هَذِهِ السُّورَةَ لَكَفَتْهُمْ» (যদি মানুষ কেবল এই একটি সূরা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করত, তবে মানুষের সার্বিক হেদায়েতের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো)। মদীনার প্রখ্যাত দাঈ ও মুফাসসির শায়খ আবু বকর জাবের আল-জাযায়েরী (রহ.) প্রণীত ‘আইসারুত তাফাসীর লিকালামিল আলিয়্যিল কাবীর’ এবং সিরিয়ার প্রখ্যাত ফকীহ ও মুফাসসির ড. ওয়াহবাহ আয-যুহায়লী (রহ.) প্রণীত ‘আত-তাফসীরুল মুনীর ফিল আকীদাতি ওয়াশ শারীআতি ওয়াল মানহাজ’-এর তুলনামূলক পর্যালোচনা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:

১. কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত পার্থক্য:

  • আইসারুত তাফাসীর (শায়খ আবু বকর আল-জাযায়েরী):
    • গ্রন্থটির বিন্যাস অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সহজবোধ্য। তিনি প্রথমে ‘কালিমাতুল আয়াত’ (শব্দার্থ), তারপর ‘মা’নাল আয়াত’ (আয়াতের মূল ভাবার্থ) এবং পরিশেষে ‘মিন হিদায়াতিল আয়াত’ (আয়াতসমূহের নির্দেশিকা ও জীবনোপলব্ধি) শিরোনামে বিভক্ত করে আলোচনা করেন।
    • সূরা আসরের ব্যাখ্যায় তিনি কোনো জটিল দার্শনিক তর্ক বা কালামী বিতর্ক আনেননি; বরং সরাসরি তাওহীদি ঈমান ও আমলী যিন্দেগীর বাস্তব নির্দেশাবলি তালিকাবদ্ধ করেছেন।
  • আত-তাফসীরুল মুনীর (ড. ওয়াহবাহ আয-যুহায়লী):
    • গ্রন্থটি একটি মহাগ্রন্থীয় আধুনিক গবেষণা। তিনি প্রতিটি সূরার শুরুতে তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, নামকরণের তাৎপর্য, ভাষার অলঙ্কারশাস্ত্র (আল-বালাগাত), ব্যাকরণগত বিশদ রূপ (আল-ই’রাব), ফিকহী আহকাম এবং সমকালীন প্রেক্ষাপটে তার সামাজিক-রাজনৈতিক রূপরেখা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।
    • সূরা আসরের ব্যাখ্যায় তিনি মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ, পুঁজিবাদের ব্যর্থতা, বস্তুবাদী দর্শনের অসারতা এবং মুসলিম উম্মাহর জাগরণের মূলনীতি হিসেবে সূরাটির চার দফাকে তাত্ত্বিক কাঠামোতে দাঁড় করিয়েছেন।

২. আয়াতের ব্যাখ্যায় তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি:

  • ’وَالْعَصْرِ‘ (মহাকালের শপথ):
    • আইসারুত তাফাসীর: জাযায়েরী ‘আল-আসর’ দ্বারা মানুষের বয়স, আয়ুষ্কাল এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনকে বুঝিয়েছেন, যা মানুষের আমল করার একমাত্র মূলধন (رأس مال الإنسان)। তিনি আসরের সালাতের বিশেষ মর্যাদাও উল্লেখ করেছেন।
    • আত-তাফসীরুল মুনীর: ড. যুহায়লী মহাকালের দর্শন আলোচনা করেছেন। সময় হলো ইতিহাসের গতিধারা, জাতির উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী। আল্লাহ সময়ের শপথ করে মানুষকে সতর্ক করেছেন যে, মহাকালের প্রবাহে মানুষ প্রতি মুহূর্তে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যদি না সে এই সময়কে ঈমান ও সৎকাজে রূপান্তর করতে পারে।
  • ’إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ‘ (নিশ্চয় সমগ্র মানবজাতি ক্ষতিগ্রস্ততায় নিমজ্জিত):
    • আইসারুত তাফাসীর: এখানে ‘আল-ইনসান’-এর ‘আলিফ-লাম’ ইসতিগরাক্বী (استغراق الجنس) বা সমগ্র মানবপ্রজাতিকে অন্তর্ভুক্তকারী। প্রত্যেকেই তার মূলধন (জীবন) হারাচ্ছে। ব্যবসায়ে লোকসান হলে যেমন মূলধন শেষ হয়ে দেউলিয়া হয়, তেমনি মানুষ তার সময় অপচয় করে পরকালে দেউলিয়া হয়ে জাহান্নামের অধিকারী হচ্ছে।
    • আত-তাফসীরুল মুনীর: যুহায়লী ‘খুসর’ শব্দের তানভীনকে তাকহীর (التنكير للتعظيم والتهويل) বা ভীতিপ্রদ ভয়াবহ ক্ষতি হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। বস্তুবাদী দৃষ্টিতে যাকে লাভবান মনে হয়, পরকালীন ও নৈতিক মানদণ্ডে সে চরম দেউলিয়া। তিনি দেখিয়েছেন, ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে বৈশ্বিক সভ্যতা—সবই ঈমানবিহীন হলে স্বয়ংক্রিয় ধ্বংসের শিকার হয়।
  • চারটি মুক্তির শর্তাবলী (الإيمان، العمل الصالح، التواصي بالحق، التواصي بالصبر):
    • আইসারুত তাফাসীর: জাযায়েরী একে ব্যক্তি ও সমাজের দায়িত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। ঈমান ও নেক আমল ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার বর্ম; আর হক ও সবরের নসীহত সমাজ সংস্কারের অপরিহার্য হাতিয়ার। তিনি একে দা’ওয়াত ও তাবলীগের বাস্তব কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
    • আত-তাফসীরুল মুনীর: ড. যুহায়লী একে ইসলামী সমাজের সামগ্রিক সংবিধান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ‘তাওয়াসী বিল হাক্ক’ হলো সত্য প্রতিষ্ঠা, আমর বিল মা’রূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার, সুবিচার ও মানবাধিকার রক্ষা; আর ‘তাওয়াসী বিস-সবর’ হলো সত্য প্রতিষ্ঠার পথে যে জুলুম, নিপীড়ন ও প্রতিকূলতা আসে, তাতে সামগ্রিক প্রতিরোধ ও অবিচলতা বজায় রাখা। একটি ছাড়া অন্যটি অচল।

(খ) অংশের সমাধান: সূরা আল-আসর-এর আলোকে মানবজীবনে সময়ের গুরুত্ব ও সদ্ব্যবহার:

সূরা আল-আসরের প্রথম শব্দেই মহান আল্লাহ ‘সময়ের’ শপথ গ্রহণ করেছেন। স্রষ্টা যখন সৃষ্টির কোনো বিষয়ের শপথ করেন, তখন তা উক্ত বিষয়ের অপরিসীম মর্যাদা ও গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে।

  1. সময় মানুষের সর্বপ্রধান মূলধন: হাসান বসরী (রহ.) অপূর্ব ভাষায় বলেছেন: «يَا ابْنَ آدَمَ، إِنَّمَا أَنْتَ أَيَّامٌ، كُلَّمَا ذَهَبَ يَوْمٌ ذَهَبَ بَعْضُكَ» (হে আদম সন্তান! তুমি তো কেবল কতগুলো দিনের সমষ্টি মাত্র; যখনই একটি দিন চলে যায়, তোমার অস্তিত্বের একটি অংশই নিঃশেষ হয়ে যায়)। সময় এমন এক সম্পদ যা সঞ্চয় করে রাখা যায় না, ধার করা যায় না এবং চলে গেলে আর কখনোই ফিরিয়ে আনা যায় না।
  2. বরফ বিক্রেতার দৃষ্টান্ত ও লোকসানের অনিবার্যতা: মুফাসসিরগণ ‘খুসর’ (ক্ষতি)-এর রূপক বোঝাতে গিয়ে বরফ বিক্রেতার উদাহরণ দেন। একজন বরফ বিক্রেতা যদি চড়া রোদে বাজারে বসে বরফ বিক্রি না করে অলস বসে থাকে, তবে তার বরফ গলে পানি হয়ে পুঁজিসহ সব শেষ হয়ে যায়। মানুষের আয়ু ঠিক তেমনি ক্ষণে ক্ষণে গলে নিঃশেষিত হচ্ছে; যদি তা ঈমান ও নেক আমলে বিক্রি না হয়, তবে ক্ষতি অবধারিত।
  3. কিয়ামতের ময়দানে সময়ের হিসাব: তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ القِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلَاهُ…» (কিয়ামতের দিন কোনো বান্দা তার পা এক কদমও নাড়াতে পারবে না, যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে: তার সমগ্র জীবন কীভাবে অতিবাহিত করেছে এবং তার যৌবনকাল কীভাবে ক্ষয় করেছে…)।
  4. সময়ের সদ্ব্যবহারের চার দফা মূলনীতি: সূরা আসর সময়কে কাজে লাগানোর একটি চতুর্মুখী ফ্রেমওয়ার্ক দিয়েছে:
    • জ্ঞান ও বিশ্বাসে সময় ব্যয়: আল্লাহর পরিচয় ও দ্বীন শেখার পেছনে সময় দেওয়া (الذين آمنوا)।
    • সৎকর্মে রূপান্তর: নামাজ, রোজা, জীবিকা নির্বাহ ও মানবকল্যাণে সময় ব্যয় করা (وعملوا الصالحات)।
    • সামাজিক দাওয়াত: সমাজকে অন্যায় থেকে রক্ষা করে ন্যায়ের পথে আহ্বান (تواصوا بالحق)।
    • প্রতিকূলতায় অবিচলতা: বিপদাপদে ধৈর্য ও সংযমের অনুশীলন (تواصوا بالصبر)।
  5. অলসতা ও অনর্থক কাজের বর্জন: মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অনর্থক ও উদ্দেশ্যহীন কাজ (লাহু ও লা’ইব) থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ বলেন: ﴿وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ﴾ [المؤمنون: ৩]। অতএব সময়কে যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করাই দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির একমাত্র পথ।

٤- عرف التفسير بالمأثور والتفسير بالرأي- ثم بين أهم المميزات لكل من هذين النوعين من التفاسير-

মূল প্রশ্নের তাৎপর্য: তাফসীর শাস্ত্রের প্রধান দুটি ধারা হলো ‘তাফসীর বিল মা’ছূর’ (বর্ণনামূলক তাফসীর) এবং ‘তাফসীর বির-রায়’ (বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণামূলক তাফসীর)। এদের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদানপূর্বক উভয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও শক্তিমত্তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।

১. তাফসীর বিল মা’ছূর (التفسير بالمأثور)-এর পরিচয় ও উৎসসমূহ:

ক. শাব্দিক অর্থ: ‘আল-মা’ছূর’ (المأثور) শব্দটি আরবি ‘আছর’ (أَثَرٌ) ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, যার অর্থ বর্ণিত বিষয়, ঐতিহ্য, পদাঙ্ক বা পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া বিবরণ। সুতরাং তাফসীর বিল মা’ছূর অর্থ ঐতিহ্যবাহী বা বর্ণনাকেন্দ্রিক তাফসীর।

খ. পারিভাষিক সংজ্ঞা: উলূমুল কুরআনের পরিভাষায় ইমাম যারকাশী ও সুয়ূতী (রহ.)-এর মতে: «هُوَ الَّذِي يَعْتَمِدُ عَلَى صَحِيحِ المَنْقُولِ مِنَ القُرْآنِ نَفْسِهِ، أَوْ سُنَّةِ الرَّسُولِ ﷺ، أَوْ أَقْوَالِ الصَّحَابَةِ، أَوْ فَتَاوَى التَّابِعِينَ»—অর্থাৎ যে তাফসীর কুরআনুল কারীমের এক আয়াত দ্বারা অন্য আয়াতের ব্যাখ্যা, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বিশুদ্ধ সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরামের মতামত এবং তাবেয়ীগণের ব্যাখ্যার ওপর পূর্ণরূপে নির্ভর করে রচিত হয়, তাকে ‘তাফসীর বিল মা’ছূর’ বা ‘তাফসীর বিন-নাক্বল’ বলা হয়।

গ. প্রধান উৎস ও পর্যায়সমূহ:

  1. কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসীর (تفسير القرآن بالقرآن)।
  2. সহীহ হাদীস দ্বারা কুরআনের তাফসীর (تفسير القرآن بالسنة)।
  3. সাহাবায়ে কেরাম, বিশেষত খুলাফায়ে রাশেদীন, ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ ও উবাই ইবনে কা’ব (রা.)-এর রেওয়ায়েত।
  4. মক্কা, মদীনা ও কুফার তাবেয়ী মুফাসসিরগণের ফতোয়া ও উক্তি।

প্রখ্যাত কিতাবসমূহ: ইমাম তাবারীর ‘জামেউল বায়ান’, ইমাম ইবনে কাছীরের ‘তাফসীরুল কুরআনিল আযীম’, ইমাম বগবীর ‘মাআলিমুত তানযীল’ এবং ইমাম সুয়ূতীর ‘আদ-দুররুল মানছূর’।

২. তাফসীর বির-রায় (التفسير بالرأي)-এর পরিচয় ও প্রকারভেদ:

ক. শাব্দিক অর্থ: ‘আর-রায়’ (الرأي) অর্থ অভিমত, যুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা, বিচার-বিশ্লেষণ ও ইজতিহাদ।

খ. পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা যারকানী (রহ.) ‘মানাহিলুল ইরফান’ গ্রন্থে লেখেন: «هُوَ التَّفْسِيرُ الَّذِي يَعْتَمِدُ فِيهِ المُفَسِّرُ عَلَى الِاجْتِهَادِ وَالِاسْتِنْبَاطِ القَائِمِ عَلَى قَوَاعِدِ اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ وَأُصُولِ الشَّرِيعَةِ»—অর্থাৎ আরবি ভাষা ও ব্যাকরণের প্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলি, বালাগাত শাস্ত্র, শরীয়তের মূলনীতি এবং সমকালীন বাস্তবতার আলোকে একজন যোগ্য মুফাসসির যখন সুগভীর ইজতিহাদ ও গবেষণার মাধ্যমে কুরআনের অর্থ ও অন্তর্নিহিত রহস্য উন্মোচন করেন, তখন তাকে ‘তাফসীর বির-রায়’ বলা হয়।

গ. প্রকারভেদ: এটি দুই প্রকার:

  • তাফসীর বির-রায় আল-মাহমূদ (التفسير المحمود – প্রশংসনীয়): যা শরীয়তের মূলনীতি, সহীহ সুন্নাহ ও আরবি ব্যাকরণের শর্ত পূরণ করে গভীর ইলমের ভিত্তিতে রচিত হয় (যেমন: ইমাম রাযীর মাফাতিহুল গায়েব, আল্লামা আলুসির রূহুল মাআনী)।
  • তাফসীর বির-রায় আল-মাযমুম (التفسير المذموم – নিন্দনীয়): যা মনগড়া ব্যাখ্যা, অজ্ঞতা, বাতিল মতবাদ ও প্রবৃত্তির তাড়নায় কুরআনকে বিকৃত করে করা হয়, যার ব্যাপারে হাদীসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

৩. উভয় প্রকার তাফসীরের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও তুলনামূলক স্বাতন্ত্র্য:

বিবেচ্য বিষয় তাফসীর বিল মা’ছূর (বর্ণনামূলক) তাফসীর বির-রায় (যুক্তিনির্ভর ও ইজতিহাদী)
১. প্রামাণিক ভিত্তি কুরআন, সুন্নাহ, আছার ও নির্ভরযোগ্য সনদ। নকলী ও রিওয়ায়াতভিত্তিক। ইজতিহাদ, আকলী যুক্তি, বালাগাত ও উসূলুল ফিকহের প্রয়োগ।
২. শান-ই-নুযূল ও প্রেক্ষাপট আয়াতের ঐতিহাসিক পটভূমি ও অবতীর্ণ হওয়ার বাস্তব কারণ নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে। ঐতিহাসিক কারণের পাশাপাশি আয়াতের চিরন্তন বিধান ও প্রয়োগিক দিগন্ত উন্মোচন করে।
৩. ইজতিহাদের পরিধি মুফাসসিরের ব্যক্তিগত স্বাধীন মতামতের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত; বর্ণনার বিশুদ্ধতা যাচাই মূল কাজ। মুফাসসিরের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও সমকালীন দর্শনের আলোকে বিস্তৃত উদ্ভাবনী বিশ্লেষণ।
৪. দুর্বলতা ও সতর্কতা অনেক ক্ষেত্রে ইসরাঈলী বর্ণনা ও দুর্বল/জাল সনদের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে, যা সতর্কতা দাবি করে। ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি বা বিদআতী দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবে আয়াতের বিকৃতি ঘটার ঝুঁকি থাকে।
৫. ইলমী ভূমিকা তাফসীর শাস্ত্রের ঐতিহাসিক দলিল ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, কালাম ও নতুন নতুন সমস্যার সমাধান প্রদানে পথ দেখায়।

٥- عرف التفسير المقارن ثم اكتب نشأته وتطوره وأهميته بالتفصيل-

মূল প্রশ্নের তাৎপর্য: আধুনিক তাফসীর বিজ্ঞানের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা পদ্ধতি হলো ‘আত-তাফসীরুল মুকারিন’ বা তুলনামূলক তাফসীর। নিম্নে এর পারিভাষিক সংজ্ঞা, ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ এবং সমকালীন বিশ্বে এর গুরুত্ব সবিস্তারে আলোচনা করা হলো।

১. আত-তাফসীরুল মুকারিন (التفسير المقارن)-এর সংজ্ঞা:

ক. শাব্দিক রূপ: ‘মুকারিন’ শব্দটি বাবে মুফা’আলাহ (المُفَاعَلَة) থেকে এসেছে, যার অর্থ পরস্পরের মধ্যে তুলনা করা, সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করা এবং তুলনামূলক মূল্যায়ন করা।

খ. পারিভাষিক সংজ্ঞা: সমকালীন উসূলুল তাফসীর বিশেষজ্ঞগণের মতে: «هُوَ عِلْمٌ يَبْحَثُ فِي مُقَارَنَةِ أَقْوَالِ المُفَسِّرِينَ وَمَنَاهِجِهِمْ فِي تَفْسِيرِ آيَاتِ القُرْآنِ الكَرِيمِ، مَعَ بَيَانِ أَدِلَّتِهِمْ وَتَرْجِيحِ الرَّاجِحِ مِنْهَا بِنَاءً عَلَى قَوَاعِدِ التَّرْجِيحِ المُعْتَمَدَةِ»—অর্থাৎ এটি এমন এক শাস্ত্রীয় পদ্ধতি, যার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মুফাসসিরের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি ও মানহাজের পারস্পরিক তুলনা করা হয়; তাদের দলিলসমূহ পরীক্ষা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠিত তারজীহ বা অগ্রাধিকারের নীতিমালার ভিত্তিতে সবচেয়ে নির্ভুল ও শক্তিশালী মতটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

২. তুলনামূলক তাফসীরের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ:

তুলনামূলক তাফসীর একটি স্বতন্ত্র আধুনিক পরিভাষা হলেও এর শিকড় ইসলাম ও উলূমুল কুরআনের সূচনালগ্নেই প্রোথিত:

  1. নবুওয়াত ও সাহাবা যুগ (বীজ বপন পর্ব): সাহাবায়ে কেরাম কোনো আয়াতের অর্থ বুঝতে না পারলে একে অপরের সাথে পরামর্শ করতেন। যেমন—ইবনে আব্বাস (রা.) উমর (রা.)-এর মজলিসে প্রবীণ সাহাবীদের সাথে সূরা আন-নাসরের ব্যাখ্যায় তুলনামূলক আলোচনা করে দেখিয়েছিলেন যে, এটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাত নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
  2. তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ী যুগ (মতামতের বৈচিত্র্য): মক্কা ধারার মুজাহিদ, আতা; মদীনা ধারার সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব এবং কুফা ধারার আলকামা ও ইবরাহীম নাখঈর মধ্যে বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যায় মতভিন্নতা দেখা দেয়। এই মতপার্থক্যগুলো পরবর্তী সময়ে সংকলিত হতে থাকে।
  3. ইমাম তাবারীর যুগ (তুলনামূলক তাফসীরের স্বর্ণযুগ): ইমাম আবু জাফর ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহ.) (মৃত ৩১০ হি.) তাঁর অমর গ্রন্থ ‘জামেউল বায়ান’-এ সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তুলনামূলক তাফসীর পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন। তিনি একটি আয়াতের অধীনে পূর্ববর্তী সকল মুফাসসিরের মতামত সনদসহ উল্লেখ করতেন, অতঃপর বলতেন: «وَأَوْلَى الأَقْوَالِ فِي ذَلِكَ بِالصَّوَابِ عِنْدَنَا…» (আমাদের নিকট এ বিষয়ে সর্বাধিক সঠিক মত হলো…)—এভাবে তিনি যুক্তি ও দলিলের ভিত্তিতে তারজীহ প্রদান করতেন।
  4. মধ্যযুগীয় কালামী ও ফিকহী সংঘাতের যুগ: ইমাম কুরতুবী (আহকামুল কুরআনে ফিকহী মাযহাবের তুলনা), ইমাম ফখরুদ্দীন আর-রাযী (কালামী ও দার্শনিক মতের তুলনা) এবং আল্লামা ইবনে কাসীর (হাদীসভিত্তিক মতের যাচাই) তুলনামূলক ধারাকে সমৃদ্ধ করেন। আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) তাঁর ‘মুকাদ্দিমাহ ফী উসূলিত তাফসীর’ গ্রন্থে মুফাসসিরদের মতভেদের কারণ ও তুলনামূলক সমাধানের মূলনীতি নিখুঁতভাবে বিধিবদ্ধ করেন।
  5. আধুনিক যুগ (স্বতন্ত্র একাডেমিক শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠা): বিংশ শতাব্দীতে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে তুলনামূলক তাফসীরকে পাঠ্যক্রমের স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ড. মুহাম্মদ সায়্যিদ তানতাবী, শায়খ মুহাম্মদ আবু যাহরাহ এবং ড. মুহাম্মদ হুসাইন আয-যাহাবী প্রমুখ পণ্ডিতগণ এই শাস্ত্রকে আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির সাথে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেন।

৩. আত-তাফসীরুল মুকারিনের অপরিহার্য গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

  • কুরআনের অর্থের গভীরতা অনুধাবন: বিভিন্ন মুফাসসিরের দৃষ্টিভঙ্গি পাঠ করার ফলে কুরআনের শব্দের বহুমুখী তাৎপর্য, অলঙ্কার ও রহস্য উন্মোচিত হয়।
  • মাযহাবী গোঁড়ামি ও অন্ধভক্তি দূরীকরণ: কেবল একটি নির্দিষ্ট মাযহাব বা দলের ব্যাখ্যার ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে সকল মতের দলিল বিশ্লেষণ করার ফলে গবেষক সংকীর্ণ গোঁড়ামি মুক্ত হয়ে উদার ও বস্তুনিষ্ঠ মনোভাব অর্জন করেন।
  • বিশুদ্ধ মত নির্বাচন (তারজীহ): সহীহ ও দুর্বল ব্যাখ্যার পার্থক্য নিরূপণ করে কুরআনের মূল মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যের সর্বাধিক নিকটবর্তী অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
  • ইসরাঈলিয়্যাত ও ভ্রান্ত মতবাদের অপনোদন: তাফসীরে অনুপ্রবেশকারী ভিত্তিহীন ইসরাঈলী রেওয়ায়েত, মু’তাযিলা, বাতেনী বা দার্শনিকদের ভ্রান্ত ব্যাখ্যাগুলোকে প্রমাণের কষ্টিপাথরে শনাক্ত করে বাতিল করা যায়।
  • সমকালীন জটিল সমস্যার সমাধান: আধুনিক বিশ্বের জটিল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রশ্নের সমাধানে প্রাচীন ও আধুনিক মুফাসসিরগণের চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে এই শাস্ত্রের বিকল্প নেই।

٦- اكتب ترجمة الإمام جلال الدين السيوطى مع ذكر منهج تفسيره المسمى “بالدر المنثور”-

মূল প্রশ্নের তাৎপর্য: হিজরী দশম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ও ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ বহুশাস্ত্রবিদ ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.)-এর জীবনচরিত, ইলমী অবদান এবং তাঁর জগদ্বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘আদ-দুররুল মানছূর’-এর তাফসীর মানহাজ বিশদভাবে উপস্থাপন করা হলো।

১. ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত:

  • নাম, উপাধি ও জন্ম: তাঁর পূর্ণ নাম আব্দুর রহমান ইবনুল কামাল আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ আস-সুয়ূতী। উপাধি ‘জালালুদ্দীন’ এবং কুনিয়াত ‘আবুল ফাদল’। তিনি ৮৪৯ হিজরীর ১ রজব (১৪৪৫ খ্রিষ্টাব্দ) মিশরের কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ আসয়ূতের অধিবাসী ছিলেন বিধায় তাঁকে ‘আস-সুয়ূতী’ বলা হয়।
  • শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন: বাল্যকালেই তিনি পিতৃহারা হন। কিন্তু মাত্র আট বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ কুরআন হিফয করেন। এরপর উমদাহ, মিনহাজুন নাবাবী, আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক মুখস্থ করেন। তিনি তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের সান্নিধ্য লাভ করেন; তাঁদের মধ্যে আল্লামা সালেহ ইবনে উমর আল-বুলকিনী, আল্লামা কাফিয়াজী এবং ইমাম শাখাবী অন্যতম। তিনি হাদীস অন্বেষণে সিরিয়া, হেজায, ইয়েমেন ও ভারত উপমহাদেশ পর্যন্ত সফর করেন।
  • ইলমী গভীরতা ও গ্রন্থাবলি: ইমাম সুয়ূতী ছিলেন এক বিরল মেধার অধিকারী। তিনি তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, ইতিহাস, ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রায় ছয় শতাধিক মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত রচনাবলির মধ্যে আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন, তাফসীরুল জালালাইন (দ্বিতীয় ভাগ), তাদরীবুর রাবী, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির এবং তারীখুল খুলাফা অন্যতম।
  • ওফাত: জীবনের শেষ ভাগে তিনি রাজদরবারের লোভনীয় পদ বর্জন করে নির্জনবাস (উজলাহ) গ্রহণ করেন এবং নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত ও গ্রন্থ রচনায় মগ্ন থাকেন। এই মহান মনীষী ৯১১ হিজরীর ১৯ জুমাদাল উলা (১৫০৫ খ্রিষ্টাব্দ) কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।

২. ‘আদ-দুররুল মানছূর ফীত তাফসীর বিল মা’ছূর’ (الدر المنثور في التفسير بالمأثور)-এর পরিচয় ও প্রেক্ষাপট:

ইমাম সুয়ূতী প্রথমে ‘তারজুমানুল কুরআন’ (ترجمان القرآن) নামে একটি বিশাল তাফসীর গ্রন্থ রচনা করেন, যাতে তিনি প্রতিটি আয়াতের অধীনে সাহাবা ও তাবেয়ীদের রেওয়ায়েত পূর্ণাঙ্গ সনদসহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু গ্রন্থের কলেবর অতিরিক্ত বিশাল হয়ে যাওয়ায় এবং সনদের দীর্ঘতার কারণে সাধারণ পাঠকদের আগ্রহ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল متن (রেওয়ায়েতের বক্তব্য) ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের উদ্ধৃতি সন্নিবেশ করে সংক্ষিপ্তাকারে ‘আদ-দুররুল মানছূর’ প্রস্তুত করেন।

৩. ‘আদ-দুররুল মানছূর’ গ্রন্থের অনন্য তাফসীর মানহাজ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. বিশুদ্ধ রিওয়ায়াতভিত্তিক মানহাজ: এটি তাফসীর বিল মা’ছূরের এক অনন্য বিশ্বকোষ। এই গ্রন্থে ইমাম সুয়ূতী নিজের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিগত রায় বা ব্যাখ্যা দেননি; বরং সম্পূর্ণ তাফসীরটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদীস, সাহাবীদের আসার এবং তাবেয়ীদের ফতোয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
  2. সনদ বর্জন ও মূল উৎসের উদ্ধৃতি (العزو إلى المصادر): গ্রন্থের কলেবর কমাতে তিনি দীর্ঘ সনদ বাদ দিয়েছেন, তবে প্রতিটি হাদীস বা আছার কোন কোন মূল গ্রন্থ (যেমন: সহীহ বুখারী, মুসলিম, সুনানে আরবাআ, মুসনাদে আহমাদ, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, তাফসীরে ইবনে জারীর, ইবনে আবী হাতিম, বাযযার ইত্যাদি) থেকে সংগৃহীত হয়েছে, তা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে উল্লেখ করেছেন।
  3. কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসীর: তিনি সংশ্লিষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যার শুরুতে কুরআনের অন্য যেসকল আয়াতে একই বিষয়ের বিশদ বিবরণ এসেছে, তা সংকলন করেছেন।
  4. শান-ই-নুযূল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সমাহার: আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনায় তিনি নির্ভরযোগ্য সকল রিওয়ায়াত একত্রিত করেছেন, যা গবেষকদের জন্য শান-ই-নুযূলের তুলনামূলক পর্যালোচনার এক অমূল্য ভাণ্ডার।
  5. ফিকহী ও আকিদাগত নিরপেক্ষতা: ইমাম সুয়ূতী ফিকহী মাযহাবী বিতর্কে না জড়িয়ে কেবল দলিলসমূহ উপস্থাপন করেছেন, যাতে পাঠক নিজেই বিশুদ্ধতার দিকে পৌঁছাতে পারেন।
  6. সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা: যেহেতু তিনি প্রতিটি রেওয়ায়েতের সহীহ-যয়ীফ মান নির্ণয় করেননি এবং বহু বিরল ও দুর্বল রেওয়ায়েতও এতে স্থান পেয়েছে, তাই এই কিতাব অধ্যয়নকালে হাদীসের সহীহ ও যয়ীফ সনদ যাচাইয়ের উসূল জানা আবশ্যক। তথাপি, তাফসীর বিল মা’ছূরের গবেষণায় এই গ্রন্থের মর্যাদা চিরভাস্বর।

বিভাগ ‘খ’ : সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর আবশ্যক)

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: মূল প্রশ্নপত্রে বিভাগ ‘খ’-তে ৭ নম্বরের অধীনে মোট ৬টি উপ-প্রশ্ন (الف থেকে و) অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যেকোনো ৪টির উত্তর চাওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিশ্চিত করার জন্য নিম্নে ৭ ও ৮ নম্বর ক্রমিকে ৩টি করে মোট ৬টি প্রশ্নেরই পূর্ণাঙ্গ প্রামাণ্য সমাধান উপস্থাপন করা হলো।]

৭- [বিভাগ ‘খ’ : সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি – প্রথম অংশ]

(أ) اكتب ضوابط الترجيح بين أقوال المفسرين في التفسير المقارن- (তুলনামূলক তাফসীরে মুফাসসিরগণের বিভিন্ন মতামতের মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণ বা তারজীহের মূলনীতি ও শর্তাবলি)

তুলনামূলক তাফসীরে যখন একটি আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের একাধিক বৈপরীত্যপূর্ণ মত পাওয়া যায়, তখন কোনো একটি মতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য উলূমুল কুরআনের ইমামগণ কিছু সার্বজনীন ‘দাওয়াবিতুত তারজীহ’ (ضوابط الترجيح) নির্ধারণ করেছেন:

  • ১. কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলিলের অগ্রাধিকার: যে মতের সমর্থনে অন্য কোনো সুস্পষ্ট আয়াত বা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহীহ ও মারফূ হাদীস বিদ্যমান থাকে, সকল যুক্তির ঊর্ধ্বে সেই মতটিকেই চূড়ান্ত তারজীহ দিতে হবে।
  • ২. আরবি ভাষার বিশুদ্ধ ও বহুল প্রচলিত প্রয়োগের নীতি: কুরআনের ব্যাখ্যা আরবি ভাষার বিরল (শায) বা অপ্রচলিত অর্থের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না; বরং কুরাইশ ও ফাসীহ আরবের প্রামাণ্য ব্যাকরণ ও প্রকাশভঙ্গির অনুকূল অর্থ প্রাধান্য পাবে।
  • ৩. আয়াতের পূর্বাপর প্রাসঙ্গিকতা (السياق والسباق): আয়াতের প্রথমাংশ ও শেষাংশের বক্তব্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সূরার মূল লক্ষ্যের অনুসারী ব্যাখ্যাই অগ্রগণ্য হবে; বিচ্ছিন্ন কোনো অর্থ গ্রহণ করা যাবে না।
  • ৪. জমহুর সাহাবা ও তাবেয়ীদের ঐকমত্যের প্রতি গুরুত্ব: ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদ (রা.)-সহ জমহুর সাহাবায়ে কেরাম যে অর্থের ওপর একমত হয়েছেন, পরবর্তী যুগের কোনো একক ব্যাখ্যার চেয়ে তা অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য।
  • ৫. শরীয়তের মৌলিক মাকাসিদ ও উসূলের অনুকূলতা: যে ব্যাখ্যা তাওহীদ, ইনসাফ ও দ্বীনের প্রতিষ্ঠিত অকাট্য নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যশীল, তা-ই প্রাধান্য পাবে।

(ب) ما المراد بالتفسير الاعتزالي؟ بين- (মু’তাযিলা তাফসীর ও তার মূলনীতি)

পরিচয়: হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীতে ওয়াছেল ইবনে আতা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘মু’তাযিলা’ দলের বুদ্ধিবৃত্তিক ও কালামী দর্শনের সমর্থনে যেসকল তাফসীর রচিত হয়েছে, সেগুলোকে ‘তাফসীরুল ইতিযালী’ (التفسير الاعتزالي) বা মু’তাযিলা তাফসীর বলা হয়।

মূলনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি: মু’তাযিলাগণ ওহীর ওপরে মানবীয় বুদ্ধিকে (আকল) প্রাধান্য দিত। তাদের তাফসীর আবর্তিত হয়েছে তাদের ঘোষিত পাঁচটি মূলনীতির (الأصول الخمسة) ওপর:

  1. আত-তাওহীদ (التوحيد): তারা আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) অস্বীকার করে এবং এর ফলে কুরআনে আল্লাহর হাত, চেহারা ইত্যাদি শব্দকে আক্ষরিক অর্থের পরিবর্তে রূপক ব্যাখ্যা (তা’বীল) করে। এছাড়া তারা কুরআনকে সৃষ্টি (খালক্বুল কুরআন) বলে বিশ্বাস করে।
  2. আল-আদল (العدل): এর ভিত্তিতে তারা মানুষের কর্মের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করে এবং তাকদীর অস্বীকার করে।
  3. আল-ওয়াদ ওয়াল ওয়াইদ (الوعد والوعيد): কবিরা গুনাহকারী তওবা ছাড়া মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামী হবে এবং তাদের জন্য সুপারিশ (শাফাআত) প্রযোজ্য হবে না বলে তারা মনে করে।
  4. আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইনি (المنزلة بين المنزلتين): কবিরা গুনাহকারী মুমিনও নয়, কাফিরও নয়—বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকবে।
  5. আল-আমর বিল মা’রূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার: প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তাদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

প্রখ্যাত তাফসীর: আল্লামা যামাখশারীর ‘আল-কাশশাফ’ এবং কাযী আব্দুল জব্বারের ‘তানযীহুল কুরআন আনিল মাত্বাঈন’। যামাখশারী তাঁর কাশশাফে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের চূড়ান্ত উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি অত্যন্ত সুকৌশলে মু’তাযিলা আকিদা সন্নিবেশিত করেছেন।

(ج) بين فضائل ليلة القدر- (লাইলাতুল কদরের ফযীলত ও বরকতসমূহ)

লাইলাতুল কদর বা মহিমান্বিত রজনী হলো গোটা মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার। সূরা আল-কদর এবং সহীহ হাদীসের আলোকে এর প্রধান ফযীলতসমূহ নিম্নরূপ:

  • ১. মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ হওয়া: আল্লাহ তাআলা এই রাতে লাওহে মাহফূয থেকে প্রথম আকাশে বায়তুল ইযযাহতে পবিত্র কুরআন এককালীন অবতীর্ণ করেন। ইরশাদ হয়েছে: ﴿إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ﴾।
  • ২. এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ: ইরশাদ হয়েছে: ﴿لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ﴾। এই রাতের একটি মুহূর্তের ইবাদত এক হাজার মাস (৮৩ বছর ৪ মাস) অবিরাম ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব এনে দেয়।
  • ৩. ফেরেশতাদের অবতরণ ও শান্তির পরশ: জিবরীল (আ.)-এর নেতৃত্বে অগণিত ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং ইবাদতরত বান্দাদের জন্য শান্তি ও মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকেন। ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত এই শান্তি বর্ষিত হয়।
  • ৪. অতীত জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ: সহীহ বুখারীতে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «مَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ» (যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশায় কদরের রাতে নামাজে দাঁড়াবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে)।
  • ৫. আগামী এক বছরের বাজেট ও তাকদীর বণ্টন: সূরা দুখানের ৩-৪ নম্বর আয়াত অনুযায়ী এই রাতে বান্দার রিযিক, হায়াত ও তাকদীরের বাৎসরিক নির্দেশ ফেরেশতাগণের কাছে ন্যস্ত করা হয়।

৮- [বিভাগ ‘খ’ : সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি – দ্বিতীয় অংশ]

(ঘ) ما الفرق بين التفسير الصوفي والفلسفي؟ بين- (সূফী তাফসীর ও দার্শনিক তাফসীরের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য)

ইসলামী চিন্তাধারায় গভীর আধ্যাত্মিক ধারা (তাসাউউফ) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানতত্ত্বের ধারা (ফালসাফাহ) থেকে দুটি স্বতন্ত্র তাফসীর পদ্ধতির জন্ম হয়েছে। নিম্নে তাদের তুলনামূলক পার্থক্য তুলে ধরা হলো:

পার্থক্যের ক্ষেত্র সূফী / ইশারী তাফসীর (التفسير الصوفي الإشاري) দার্শনিক তাফসীর (التفسير الفلسفي)
১. মূল ভিত্তি অন্তরের পরিশুদ্ধি, কাশফ (উন্মোচন), রুহানী স্বাদ ও গূঢ় ইঙ্গিত (ইশারা)। গ্রিক যুক্তিবিদ্যা, আকলী প্রমাণ, কারণতত্ত্ব ও মেটাফিজিক্স।
২. জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎস ইলহাম ও মুজাহাদা (সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে অর্জিত ইলমে লাদুন্নী)। তাত্ত্বিক দর্শন, অবরোহী ও আরোহী যুক্তিপদ্ধতি।
৩. আক্ষরিক অর্থের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বাহ্যিক অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখে এর অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক রহস্য উন্মোচনের দাবি করে। দার্শনিক মতবাদের সাথে মেলাতে গিয়ে বহু ক্ষেত্রে বাহ্যিক বিধানকে ভিন্ন রূপকে ঠেলে দেয়।
৪. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বান্দাকে দুনিয়াবিমুখ করে আল্লাহর মহব্বত ও মারেফাতের চূড়ায় পৌঁছানো। ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং ধর্মতত্ত্বকে যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা।
৫. প্রতিনিধিত্বশীল গ্রন্থ সাহল আত-তুসতারীর তাফসীরুত তুসতারী, আলুসির রূহুল মাআনী (ইশারী অংশ)। ইবনে সীনা ও আল-ফারাবীর রিসালাসমূহ, ইখওয়ানূস সাফার রচনা।

(ঙ) اكتب خصائص تفسير فتح القدير للشوكاني- (ইমাম শাওকানী প্রণীত ‘ফাতহুল কাদীর’ তাফসীরের বৈশিষ্ট্য)

ইয়েমেনের মুজাদ্দিদ ও প্রধান বিচারপতি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাওকানী (রহ.) (মৃত ১২৫০ হি.) প্রণীত ‘ফাতহুল কাদীর আল-জামে’ বাইনা ফান্নাইর রিওয়ায়াতি ওয়াদ দিরায়াতি মিন ইলমিত তাফসীর’ উলূমুল কুরআনের এক যুগান্তকারী সৃষ্টি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:

  1. রিওয়ায়াত ও দিরায়াতের অনুপম সমন্বয়: এই গ্রন্থের সবচেয়ে বড় স্বাতন্ত্র্য হলো—তিনি একই সাথে বর্ণনামূলক তাফসীর (রিওয়ায়াত) এবং যুক্তিনির্ভর গবেষণা ও ভাষাতাত্ত্বিক বিচার-বিশ্লেষণকে (দিরায়াত) পরম কুশলতায় একীভূত করেছেন।
  2. মাযহাবী অন্ধ অনুকরণ (তাকলীদ) বর্জন: ইমাম শাওকানী ছিলেন মুজতাহিদ ফকীহ। তিনি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অন্ধ অনুকরণের পরিবর্তে সরাসরি শক্তিশালী হাদীস ও যুক্তির ভিত্তিতে ফিকহী মাসআলায় স্বাধীন ইজতিহাদ করেছেন।
  3. শব্দার্থ ও বালাগাতের নিখুঁত বিশ্লেষণ: তিনি প্রতিটি শব্দের মূল ধাতু, ব্যুৎপত্তি এবং আরবি সাহিত্যের প্রামাণ্য কবিতাংশ (শাওয়াহিদ) উদ্ধৃত করে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় রূপ উন্মোচন করেছেন।
  4. সুশৃঙ্খল উপস্থাপনা: তিনি প্রথমে আয়াতের শাব্দিক অর্থ, ব্যাকরণ ও ফিকহী দিরায়াত আলোচনা করেন; অতঃপর আয়াতের শেষে ‘ওয়া আখরাজা…’ বলে সংশ্লিষ্ট সকল হাদীস ও আসার সনদসহ উল্লেখ করেন।
  5. ইসরাঈলিয়্যাতের কঠোর সমালোচনা: অপ্রাসঙ্গিক ও ভিত্তিহীন ইহুদী উপকথা পরিহারে তিনি আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন।

(চ) اكتب حياة الإمام فخر الدين الرازي مختصرا- (ইমাম ফখরুদ্দীন আর-রাযী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবন ও ইলমী অবদান)

  • নাম ও পরিচয়: তাঁর নাম মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনুল হাসান ইবনুল হুসাইন। উপাধি ‘ফখরুদ্দীন’ এবং কুনিয়াত ‘আবু আব্দুল্লাহ’। তিনি হিজরী ৫৪৪ সনে পারস্যের ঐতিহাসিক ‘রে’ (Rayy) নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন খ্যাতিমান খতীব, এজন্য তাঁকে ‘ইবনুল খতীব’ও বলা হতো।
  • জ্ঞান ও প্রজ্ঞা: তিনি একাধারে আশআরি কালামশাস্ত্রের প্রধান ইমাম, তর্কবাগীশ দার্শনিক, ফকীহ, উসূলবিদ এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের পণ্ডিত ছিলেন। বাগদাদ, খাওয়ারিজম, সমরকন্দ ও হেরাতে তিনি জ্ঞান বিতরণ করেন এবং ধর্মদ্রোহী ও দার্শনিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বাহাসে ইসলামকে সমুন্নত রাখেন।
  • অমর তাফসীর ‘মাফাতিহুল গায়েব’: তাঁর রচিত ৩২ খণ্ডের অমর তাফসীর গ্রন্থ ‘মাফাতিহুল গায়েব’ (مفاتيح الغيب) যা ‘আত-তাফসীরুল কাবীর’ নামে সুপরিচিত, যুক্তিনির্ভর দর্শনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ তাফসীর। এতে তিনি মহাবিশ্ব, চিকিৎসা, মানবদেহ, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং কালামশাস্ত্রের গভীরতম তত্ত্বের সমন্বয়ে কুরআনের অলৌকিকত্ব প্রমাণ করেছেন। উলামায়ে কেরাম বলেন: «فِيهِ كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا التَّفْسِير» (এতে সব বিষয়ের সমাধান রয়েছে, এমনকি তাফসীরও)।
  • অন্যান্য গ্রন্থাবলি: উসূলুল ফিকহে আল-মাহসূল, আকীদা শাস্ত্রে আল-মুহাক্কাল, দর্শনে আল-মাবাহিছুশ শারক্বিয়্যাহ তাঁর অমর সৃষ্টি।
  • ওফাত: ৬০৬ হিজরীর ১ শাওয়াল ঈদুল ফিতরের দিন হেরাতে তিনি মহান প্রতিপালকের সান্নিধ্যে গমন করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি এক ওসিয়তনামা লিখে যান, যাতে আল্লাহর তাওহীদের প্রতি নিখাদ বিশ্বাস এবং নববী সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার আকুল আহ্বান প্রকাশ পায়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

  1. প্রশ্ন: আত-তাফসীর আল-মুকারিন বিষয়ের মূল লক্ষ্য কী?
    উত্তর: বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থ ও মুফাসসিরগণের অনুসৃত পদ্ধতি, ব্যাকরণিক ও কালামী দৃষ্টিভঙ্গির পারস্পরিক তুলনা করে শক্তিশালী ও প্রামাণ্য মতটি নির্বাচন করাই এই বিষয়ের মূল লক্ষ্য।
  2. প্রশ্ন: আসহাবুল উখদূদের ঘটনায় মুমিনদের প্রধান শিক্ষা কী?
    উত্তর: জীবনের চরমতম প্রতিকূলতা ও অগ্নিকুণ্ডের মুখেও তাওহীদের বিশ্বাসে অবিচল থাকা এবং পার্থিব ধ্বংসকে বরণ করে হলেও শাশ্বত ঈমান রক্ষা করাই এর প্রধান শিক্ষা।
  3. প্রশ্ন: ইমাম মাতুরীদী ও যামাখশারীর তাফসীরের প্রধান পার্থক্য কোথায়?
    উত্তর: ইমাম মাতুরীদী সুন্নী কালামশাস্ত্র (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত) অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেন এবং আমলের ক্ষেত্রে ঐশী তাওফীককে প্রধান মানেন; পক্ষান্তরে যামাখশারী মু’তাযিলা মতাদর্শ অনুযায়ী মানুষের স্বাধীন কর্তৃত্বকে তুলে ধরেন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সাহায্যে তা প্রমাণের চেষ্টা করেন।
  4. প্রশ্ন: সূরা আল-আসরে সফলতার কয়টি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে?
    উত্তর: সূরা আসরে সামগ্রিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে চারটি অপরিহার্য শর্ত দেওয়া হয়েছে: খাঁটি ঈমান, সৎকর্মশীলতা, সত্য প্রতিষ্ঠার পারস্পরিক নসীহত এবং দ্বীনের পথে ধৈর্যের উপদেশ।
  5. প্রশ্ন: তাফসীর বিল মা’ছূরে সনদ বর্জনের ক্ষেত্রে ‘আদ-দুররুল মানছূর’-এর ভূমিকা কী?
    উত্তর: ইমাম সুয়ূতী দীর্ঘ সনদ বর্জন করলেও প্রতিটি হাদীস ও আছার কোন প্রামাণ্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে তার মূল উৎস বিশ্বস্ততার সাথে উল্লেখ করেছেন, যা গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত অথচ সমৃদ্ধ করেছে।
  6. প্রশ্ন: ইমাম শাওকানীর ‘ফাতহুল কাদীর’-এর সর্বপ্রধান স্বাতন্ত্র্য কী?
    উত্তর: এই গ্রন্থে তিনি একই সাথে বর্ণনামূলক তাফসীর (রিওয়ায়াত) এবং ভাষাতাত্ত্বিক ও গবেষণামূলক বিশ্লেষণকে (দিরায়াত) সমান গুরুত্বের সাথে সমন্বয় করেছেন এবং কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অন্ধ অনুকরণ পরিহার করেছেন।

উপসংহার ও পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাযিল সম্মান ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আত-তাফসীর আল-মুকারিন’ (বিষয় কোড: ২০১৪০১) প্রশ্নপত্রটি অত্যন্ত উচ্চমানসম্পন্ন। পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য শুধুমাত্র সাধারণ বাংলা অনুবাদ মুখস্থ না করে মূল আরবি ইবারত, পারিভাষিক সংজ্ঞা, মুফাসসিরগণের নামের সাথে তাঁদের গ্রন্থের সঠিক নাম এবং তুলনামূলক ছক বা পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করা বাঞ্ছনীয়। এই সমাধানের প্রতিটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ মানদণ্ড এবং প্রামাণ্য আরবি উলূমুল কুরআনের উৎসের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜