জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

বাংলা (Bangla) – 202104, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
22 September, 2026
৫৯ মিনিট পড়ার সময়
৩ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: বাংলা (Bangla)
বিষয় কোড: 202104 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

২০২১ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বাংলা (Bangla – 202104) পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ, বৈষ্ণব পদাবলি, বাংলা গদ্যের বিকাশ, ত্রিশের দশক, প্রবন্ধ সাহিত্য, ছোটগল্প ও কবিতার রসোত্তীর্ণ আলোচনা এবং ব্যাকরণ ও নির্মিতি অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নিচে প্রতিটি বিভাগের সকল প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত উত্তর প্রদান করা হলো।

ক বিভাগ [মান: ১০ × ২ = ২০]

১. (ক) চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা, এ সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মতামত আলোচনা কর।

ভূমিকা

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি ও অবিকৃত রূপের একমাত্র নির্ভরযোগ্য নিদর্শন হলো ‘চর্যাপদ’। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’ পুঁথির আকারে এটি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তা প্রকাশ করেন। চর্যাপদের ভাষা যে প্রাচীন বাংলা, তা নিয়ে পণ্ডিত ও ভাষাতাত্ত্বিকগণের মধ্যে দীর্ঘ গবেষণা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পণ্ডিতগণের গবেষণা ও ভাষাতাত্ত্বিক মতামত

  1. মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মত: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের ভাষাকে সান্ধ্য ভাষা বা আলো-আঁধারির ভাষা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আলো-আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, কতক বুঝা যায়, কতক বুঝা যায় না।” তবে তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে এর মূল ভিত্তি বাংলা।
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ: ১৯২৬ সালে প্রকাশিত তাঁর ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ (ODBL)-এ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদের ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, ব্যাকরণিক প্রত্যয় এবং ছন্দ বিশ্লেষণ করে অভ্রান্তভাবে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা অবিসংবাদিতভাবে প্রাচীন বাংলা। তিনি দেখান যে চর্যার ক্রিয়াপদের রূপ (যেমন: করই, পড়ই, আইল, গেল), বিভক্তি (যেমন: -এ, -ত, -হি), এবং সম্বন্ধ পদের প্রত্যয় (-এর, -র) খাঁটি বাংলা ভাষারই প্রাচীন রূপ।
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মত: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর ‘Buddhist Mystic Songs’ ও ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা মূলত প্রাচীন বঙ্গ-কামরূপী উপভাষার অন্তর্গত প্রাচীন বাংলা রূপ। তিনি এর সময়সীমা সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত নির্ধারণ করেন।
  4. অন্যান্য ভাষার দাবি ও খণ্ডন: হিন্দি, মৈথিলী, অহমীয়া ও ওড়িয়া ভাষার গবেষকগণও চর্যাপদকে তাঁদের ভাষার আদি নিদর্শন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু বাংলা ভাষার ব্যাকরণগত কাঠামোর অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা এবং শব্দভাণ্ডারের অকাট্য প্রমাণের মুখে সেই দাবিগুলো ধোপে টেকেনি।

উপসংহার

অতএব ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষণে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য যে চর্যাপদের ভাষাই বাংলা ভাষার আদি ও প্রত্যক্ষ জননী।


[অথবা] ১. (খ) বৈষ্ণব পদাবলি বলতে কী বুঝ? বৈষ্ণব পদাবলিতে মুসলমান কবিদের অবদান আলোচনা কর।

বৈষ্ণব পদাবলির সংজ্ঞা ও পরিচয়

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক পরম ঐশ্বর্যময় সৃষ্টি হলো বৈষ্ণব পদাবলি। রাধা-কৃষ্ণের অপার্থিব প্রেমলীলা, বিরহ-মিলন এবং ভক্তিভাবকে অবলম্বন করে চতুর্দশ শতক থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত যে রসঘন ও ভাবসমৃদ্ধ গীতধর্মী কবিতা রচিত হয়েছে, তাকে ‘বৈষ্ণব পদাবলি’ বলে। বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাস এর আদি রূপকার এবং শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পর এই ধারা এক প্লাবনের মতো সমগ্র বঙ্গভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে।

বৈষ্ণব পদাবলিতে মুসলমান কবিদের অবদান

বাঙালি সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক ও সমন্বয়বাদী চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো বৈষ্ণব পদাবলিতে মুসলিম কবিদের সক্রিয় ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ। বৈষ্ণব পদাবলির প্রেমতত্ত্বকে বহু মুসলিম কবি সুফিবাদের খোদা-প্রেম ও পরমাত্মার বিরহের সাথে একাত্ম করে পরম শ্রদ্ধায় পদ রচনা করেছেন। গবেষকগণের মতে বৈষ্ণব পদাবলি রচনায় প্রায় শতাধিক মুসলিম কবির নাম পাওয়া যায়।

  • সৈয়দ সুলতান: ষোড়শ শতকের অন্যতম প্রধান মুসলিম কবি সৈয়দ সুলতান ‘জ্ঞানপ্রদীপ’ ও পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক প্রেমের গভীর বাণী প্রকাশ করেছেন। তাঁর পদে মরমি ভাব ও ভক্তির অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়।
  • আলাওল: আরাকান রাজসভার মহাকবি আলাওল বৈষ্ণব ভাবধারায় বহু উৎকৃষ্ট পদ রচনা করেছেন। রাধার রূপবর্ণনা ও বিরহের কান্নায় তাঁর পদগুলো অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
  • সৈয়দ মর্তুজা: তিনি বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় পদকর্তা। তাঁর বিখ্যাত পদ:
    “শ্যাম বন্ধু তোমার লাগিয়া রে / সকল ত্যজিয়া হইলাম বৈরাগী রে…” কিংবা “হিয়ার ভিতর হইতে কেমনে কাড়িয়া নিব…” বাঙালি হৃদয়ে চিরন্তন বিরহের সুর তোলে।
  • নাসির মাহমুদ ও শেখ কবির: এঁদের পদে রাধার প্রেমাবেগ ও রূপের মাধুর্য অকৃত্রিম দেশীয় ভাষায় চিত্রিত হয়েছে। শেখ কবিরের ভাবাবেগ বৈষ্ণব মহাজনদের সমকক্ষ ছিল।
  • অন্যান্য পদকর্তা: লালন শাহ, শেখ জালাল, ফাজিল নাসির প্রমুখ কবি রাধাকৃষ্ণের পদকে সর্বজনীন মানবিক আবেগের রূপ দিয়েছেন।

উপসংহার

ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মুসলিম কবিদের বৈষ্ণব পদ রচনা প্রমাণ করে যে সাহিত্য ও অনুভূতির জগতে মানবতার আবেদনই ছিল মধ্যযুগের বাংলার প্রকৃত পরিচয়।


২. (ক) বাংলা গদ্য বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা কর।

ভূমিকা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলা গদ্যের যে ভিত্তিভূমি নির্মিত হয়েছিল, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে এসে তা পেল পূর্ণাঙ্গ সাবলীলতা, প্রাঞ্জলতা, গতিময়তা ও শিল্পের পরাকাষ্ঠা। রবীন্দ্রনাথ বাংলা গদ্যকে কঠিন সংস্কৃতানুগ ভারমুক্ত করে জীবন্ত জীবনের কলতানে মুখরিত করেছেন।

গদ্য বিকাশে রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী অবদান

  1. সাধু রীতির সংস্কার ও প্রাঞ্জলতা: রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রারম্ভিক পর্যায়ের রচনায় (যেমন: ‘য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র’, ‘সাধনা’ ও ‘ভারতী’ পত্রিকার প্রবন্ধসমূহ) সাধু ভাষাকে এমন এক ছন্দময় ও সাবলীল রূপ দেন, যা পূর্বের গদ্যের জড়তা সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত করে।
  2. চলিত গদ্যের সার্থক প্রতিষ্ঠা: প্রমথ চৌধুরীর ‘সবুজ পত্র’ (১৯১৪) আন্দোলনের সাথে একাত্ম হয়ে রবীন্দ্রনাথ বাংলা গদ্যে চলিত বা প্রমিত মৌখিক রীতির বৈপ্লবিক জয়যাত্রা ঘোষণা করেন। ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাস, ‘চার অধ্যায়’ এবং তাঁর পরিণত বয়সের সকল নিবন্ধ চলিত গদ্যের চিরস্থায়ী আদর্শ হিসেবে পরিগণিত হয়।
  3. ছোটগল্প ও উপন্যাসের নবযুগ: তিনিই বিশ্বের দরবারে বাংলা ছোটগল্পকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ‘গল্পগুচ্ছ’-এর ভাষা সহজ, নিরাভরণ অথচ তীব্র ব্যঞ্জনাধর্মী। অন্যদিকে ‘গোরা’, ‘শেষের কবিতা’ প্রভৃতি উপন্যাসে তাঁর গদ্যের দার্শনিক গভীরতা ও আধুনিক মননশীলতা বাংলা ভাষার দিগন্তকে প্রসারিত করেছে।
  4. প্রবন্ধ ও পত্রসাহিত্য: ‘বিচিত্র প্রবন্ধ’, ‘কালান্তর’, ‘সভ্যতার সংকট’, এবং ‘ছিন্নপত্র’-এ রবীন্দ্রনাথের গদ্য চিন্তা ও নান্দনিকতার চরম শিখর স্পর্শ করেছে। তাঁর গদ্যে উপমা, রূপক ও চিত্রকল্পের ব্যবহার কবিতাকেও হার মানায়।

উপসংহার

রবীন্দ্রনাথ বাংলা গদ্যকে আধুনিক ভাব ও জটিল দর্শন প্রকাশের উপযোগী এক শক্তিশালী বিশ্বমানের মাধ্যমে রূপান্তরিত করে গেছেন।


[অথবা] ২. (খ) ত্রিশোত্তর কবি ও কবিতা বলতে কী বুঝ? এ সময়কার দুই জন বিখ্যাত কবির অবদান আলোচনা কর।

ত্রিশোত্তর কবিতা ও কবিতার ধারণা

বাংলা কবিতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিপুল প্রভাব ও রোমান্টিক আবহকে অতিক্রম করে ১৯৩০-এর দশকে যে একদল তরুণ কবি পাশ্চাত্য আধুনিকতাবাদ, নৈরাশ্য, ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্ব, ব্যক্তিক নিঃসঙ্গতা, যুদ্ধোত্তর সামাজিক ভাঙন এবং বাস্তব জীবনের কঠোরতাকে কবিতার মূল উপজীব্য করে তোলেন, তাঁদেরকে ‘ত্রিশের কবি’ এবং তাঁদের কাব্যধারাকে ‘ত্রিশোত্তর কবিতা’ বলা হয়। তাঁরা কবিতাকে ভাবালুতা থেকে মুক্ত করে তীক্ষ্ণ বৌদ্ধিক ও বৈশ্বিক রূপ দান করেন।

ত্রিশের দুই প্রধান কবির অবদান

১. জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯ – ১৯৫৪):
ত্রিশের কবিদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী। রবীন্দ্রোত্তর যুগে তিনিই বাংলা কবিতাকে সম্পূর্ণ নতুন উপমা ও চিত্রকল্পে সমৃদ্ধ করেন।
অবদান: তিনি বাংলার নিসর্গ ও নিঃসঙ্গতার চিত্রকার। তাঁর ‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘রূপসী বাংলা’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে বাংলা কবিতার রূপ-রস-গন্ধ নতুন মাত্রা পায়। পরাবাস্তববাদী চেতনা ও পরাবাস্তব মৃত্যুর টানাপোড়েন তাঁর কবিতায় এক অনন্য দার্শনিক গভীরতা সৃষ্টি করেছে। তিনিই আধুনিক মানুষের ক্লান্তি ও বিপন্ন বিস্ময়কে সবচেয়ে মমতাময় ভাষায় মূর্ত করেছেন।

২. কাজী নজরুল ইসলাম / বুদ্ধদেব বসু / সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (এখানে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বা বুদ্ধদেব বসু):
বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮ – ১৯৭৪): ত্রিশের আধুনিক কাব্য আন্দোলনের প্রধান কাণ্ডারি ও প্রবক্তা ছিলেন বুদ্ধদেব বসু। তিনি তাঁর সম্পাদিত ঐতিহাসিক ‘কবিতা’ পত্রিকার মাধ্যমে আধুনিক কবিদের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন। তাঁর ‘বন্দীর বন্দনা’, ‘কঙ্কাবতী’, ‘যে-আঁধার আলোর অধিক’ প্রভৃতি কাব্যে রোমান্টিক প্রেম ও আধুনিক জীবনের দ্বন্দ্ব প্রখরভাবে রূপায়িত হয়েছে। অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যতাত্ত্বিক হিসেবে তিনি আধুনিক কবিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন।


খ বিভাগ [মান: ১০ × ২ = ২০]

৩. (ক) ‘আমাদের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধ অবলম্বনে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ভাষা চিন্তার পরিচয় দাও।

ভূমিকা

ভাষাবিজ্ঞানী ও বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অন্যতম নির্ভীক গবেষক ও অভিভাবক। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর যখন নবগঠিত পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখন ড. শহীদুল্লাহ তাঁর কালজয়ী ‘আমাদের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতির মুক্তির দিশা দেখান।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ভাষা চিন্তার মূল উপাদানসমূহ

  1. বাংলা ভাষার অধিকার ও সংখ্যাধিক্য: ড. শহীদুল্লাহ স্পষ্ট পরিসংখ্যানে দেখান যে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। অতএব গণতান্ত্রিক বিচারে বাংলাকে সমগ্র পাকিস্তানের প্রধান রাষ্ট্রভাষা করা উচিত। বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়া হবে চরম রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অন্যায়।
  2. বাঙালিত্ব ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাষাদৃষ্টি: তিনি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভ্রান্তি ভেঙে দিয়ে উচ্চারণ করেন তাঁর ঐতিহাসিক বাণী:
    “আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব সত্য।” ভাষা ও জাতিগত ঐক্য ধর্মের চেয়েও প্রাচীন ও অমোচনীয়।
  3. উর্দু ও ইংরেজির ভূমিকা: তিনি কোনো ভাষার শত্রু ছিলেন না। তিনি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ইংরেজি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য উর্দুকে ঐচ্ছিক ভাষা হিসেবে গ্রহণের পক্ষপাতী ছিলেন, কিন্তু তা কখনোই বাংলাকে অবদমিত করে নয়।
  4. বাংলা লিপির সংস্কারের বিরোধিতার জবাব: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন আরবি ও রোমান হরফে বাংলা লেখার অপপ্রয়াস চালায়, তখন তিনি তীব্র যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে বাংলা ভাষার মূল সৌন্দর্য ও ব্যাকরণিক প্রকৃতি বাংলা লিপির সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

উপসংহার

ড. শহীদুল্লাহর এই সুদৃঢ় ভাষা চিন্তাই পরবর্তীতে বাহান্নর রক্তঝরা ভাষা আন্দোলনের তাত্ত্বিক ও বৌদ্ধিক ভিত্তি রচনা করেছিল।


[অথবা] ৩. (খ) ‘তেল’ প্রবন্ধে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাঙালি চরিত্রের যে নির্মম সত্য প্রকাশ করেছেন তার স্বরূপ বিশ্লেষণ কর।

ভূমিকা

পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তেল’ বাংলা রম্য ও ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ সাহিত্যের এক কালজয়ী সৃষ্টি। আপাতদৃষ্টিতে তৈল একটি জড় পদার্থ হলেও লেখক রূপক ও শ্লেষের আশ্রয়ে তৈলমর্দন বা তোষামোদকে মানব চরিত্রের, বিশেষত বাঙালি চরিত্রের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে নির্মম বাস্তবতায় উন্মোচিত করেছেন।

বাঙালি চরিত্রের নির্মম সত্যের স্বরূপ

  1. তেলের সর্বজনীন ক্ষমতা: লেখক দেখিয়েছেন যে সংসারে বুদ্ধি, বিদ্যা, সততা বা পরিশ্রম দিয়ে যা অর্জন করা যায় না, তা সামান্য ‘তেল’ অর্থাৎ তোষামোদ বা চাটুকারিতা দিয়ে অনায়াসে অর্জন করা যায়। তেল সর্বত্রগামী ও সর্বশক্তিমান।
  2. বাঙালির দাসমনোভাব ও চাটুকারিতা: পরাধীন জাতির মেরুদণ্ডহীনতার মূল কারণ তোষামোদি। বাঙালি শাসক বা ক্ষমতাধর প্রভুকে তেল দিয়ে পদোন্নতি ও স্বার্থ হাসিলে সিদ্ধহস্ত। যে যত বেশি তৈল দান করতে পারে, সমাজে তার প্রতিপত্তি তত দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
  3. মেধার অবমূল্যায়ন: লেখক আক্ষেপ করে বলেছেন, যদি কারো বিদ্যা থাকে কিন্তু তেল না থাকে, তবে তার বিদ্যা অন্ধকারেই হারিয়ে যায়। কিন্তু যে মূর্খ হওয়া সত্ত্বেও তেলের ব্যবহারে দক্ষ, সে সমাজের উচ্চাসনে বসে রাজত্ব করে।
  4. তেল প্রয়োগের বিজ্ঞান: লেখক ব্যঙ্গ করে তেল প্রয়োগের স্থান ও পাত্র নির্বাচনের কথাও বলেছেন। সবাইকে একভাবে তেল দেওয়া যায় না; পদমর্যাদা বুঝে তেল ঢালতে হয়।

উপসংহার

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী হাসির ছলে বাঙালির তোষামোদপ্রিয়তা ও নীতিহীন আত্মবিক্রয়ের যে নিখুঁত সমাজচিত্র এঁকেছেন, তা শতবর্ষ পরেও সমান প্রাসঙ্গিক ও নির্মম বাস্তব।


৪. (ক) ছোট গল্পের বৈশিষ্ট্য বিচারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ গল্পের সার্থকতা বিশ্লেষণ কর।

ভূমিকা

ছোটগল্প হলো জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত বা খণ্ডাংশের রসঘন রূপায়ন, যেখানে উপন্যাসের মতো জীবনের সামগ্রিক বিস্তার থাকে না, বরং প্রারম্ভ ও সমাপ্তিতে থাকে অতৃপ্তির এক চমৎকার ব্যঞ্জনা। রবীন্দ্রনাথের ‘সমাপ্তি’ বাংলা ছোটগল্প সাহিত্যের এক অনন্য শিল্পোত্তীর্ণ সৃষ্টি।

ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্যের আলোকে ‘সমাপ্তি’-র সার্থকতা

  1. আকার ও পরিসর: ছোটগল্প এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করার মতো সংক্ষিপ্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ‘সমাপ্তি’ গল্পটিতে গ্রামের চঞ্চল প্রকৃতির মৃন্ময়ী এবং কলকাতায় পড়ুয়া অপূর্বের দাম্পত্য জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত রূপান্তরকে কেন্দ্র করে গল্পটি সুপরিকল্পিতভাবে বিকশিত হয়েছে।
  2. চরিত্রের খণ্ডাংশ ও একক ভাব: গল্পে মৃন্ময়ীর স্বাধীনচেতা, দুরন্ত ও বন্য স্বভাবের কিশোরী থেকে অনুভূতির প্রগাঢ়তায় একজন প্রেমময়ী নারীতে রূপান্তরের একক ভাবকে সার্থকভাবে ফোটানো হয়েছে।
  3. নাটকীয় সূচনা ও দ্বন্দ্ব: অপূর্ব যখন পাত্রী দেখতে গিয়ে প্রথাগত সুবোধ বালিকার বদলে কাদার মধ্যে দুরন্ত মৃন্ময়ীকে আবিষ্কার করে, তখনই গল্পের নাটকীয়তার সূচনা হয়। বিয়ের পরও মৃন্ময়ীর মন বন্দিত্ব মানতে চায়নি, যা চরম মানসিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।
  4. রসোত্তীর্ণ সমাপ্তি ও অতৃপ্তির রেশ: ছোটগল্পের মূল শর্ত “শেষ হইয়াও হইল না শেষ”। শ্বশুরবাড়ির বন্দিশালা থেকে দূরে বাবার কাছে ফিরে গিয়ে এবং পরে অপূর্বের শূন্য শয্যায় এসে মৃন্ময়ী উপলব্ধি করে তার অপার্থিব ভালোবাসা। রাতে অপ্রত্যাশিতভাবে ফিরে আসা অপূর্বের বুকে যখন মৃন্ময়ী লুটিয়ে পড়ে, তখন বাহ্যিক সমাপ্তি ঘটলেও তাদের নবজীবনের অন্তহীন প্রেমের সূচনা পাঠকের হৃদয়ে দোলা দেয়।

উপসংহার

অতএব গঠনশৈলী, মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ও শৈল্পিক গভীরতার বিচারে ‘সমাপ্তি’ একটি প্রথম শ্রেণির সার্থক ছোটগল্প।


[অথবা] ৪. (খ) ‘পাদটীকা’ গল্পের পণ্ডিত মশাই বর্তমান শিক্ষক সমাজের যোগ্য প্রতিনিধি— যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

ভূমিকা

সৈয়দ মুজতবা আলীর ব্যঙ্গাত্মক ছোটগল্প ‘পাদটীকা’য় অঙ্কিত পণ্ডিত মশাই চরিত্রটি আমাদের সমাজের শিক্ষকদের মর্যাদা, অবহেলা এবং করুণ অর্থনৈতিক বাস্তবতার এক চিরন্তন ও মর্মস্পর্শী রূপ।

যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ

  1. আর্থিক দুর্দশা ও স্বল্প বেতন: পণ্ডিত মশাই স্বল্প বেতনের কারণে আজীবন দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করেছেন। বর্তমান যুগের শিক্ষকদেরও সম্মানজনক বেতন ও সামাজিক নিরাপত্তার চরম অভাব রয়েছে, যা পণ্ডিত মশাইয়ের জীবনের সাথে হুবহু মিলে যায়।
  2. যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অবমূল্যায়ন: বিদ্যালয়ে ইংরেজি বা বিজ্ঞানের শিক্ষকদের আলাদা কদর থাকলেও দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতির শিক্ষক পণ্ডিত মশাইকে দেখা হতো প্রান্তিক বা উপহাসের পাত্র হিসেবে। সমাজে আজও প্রকৃত পণ্ডিত ও শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়।
  3. পাদটীকার প্রতীকী অর্থ: বইয়ের মূল পাঠের নিচে যেমন ক্ষুদ্র হরফে পাদটীকা থাকে, সমাজের মূল ধারায়ও শিক্ষকদের স্থান যেন তেমনি পাদটীকায় নিবদ্ধ। তাঁরা সমাজে আলোকবর্তিকা জ্বালান, কিন্তু নিজেরা অন্ধকারেই থেকে যান।
  4. আত্মসম্মান ও মেধার দীপ্তি: শত দারিদ্র্য ও অবহেলার মাঝেও পণ্ডিত মশাই তাঁর আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেননি। পরিদর্শক বা ম্যানেজিং কমিটির তোষামোদ না করে তিনি তাঁর সরল প্রজ্ঞায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছেন। বর্তমান শিক্ষক সমাজের আদর্শও হওয়া উচিত এই অবিনাশী আত্মমর্যাদা।

উপসংহার

অতএব তৎকালীন ও বর্তমান শিক্ষক সমাজের বঞ্চনা, অসহায়ত্ব এবং ভেতরের প্রচ্ছন্ন আত্মগৌরব— সবদিক থেকেই পণ্ডিত মশাই শিক্ষক সমাজের এক শাশ্বত ও যোগ্য প্রতিনিধি।


গ বিভাগ [মান: ১০ × ২ = ২০]

৫. (ক) ‘শিউলিমালা’ গল্পের সফলতা ও বিফলতা আলোচনা কর।

ভূমিকা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘শিউলিমালা’ (১৯৩১)-এর নামগল্প এটি। কবি নজরুলের অন্তর্নিহিত রোমান্টিক মন, বিরহকাতরতা ও সংগীতের মূর্ছনায় গল্পটি রচিত হয়েছে।

গল্পের সফলতা

  1. সংগীত ও রোমান্টিক আবহ: গল্পের নায়ক রেজাউল একজন সংগীতসাধক। সংগীতের আসরে শিউলির সাথে তাঁর প্রেমের যে সূক্ষ্ম পরিচয় ঘটে, তা নজরুলের নিজস্ব কাব্যময় আবেগে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী হয়ে উঠেছে।
  2. উদার অসাম্প্রদায়িক প্রেমচেতনা: নজরুল চিরকাল মানুষের হৃদয়বৃত্তিকে ধর্মের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। শিউলিমালার প্রেমের আত্মনিবেদন সামাজিক বাধানিষেধের প্রাচীর ভেঙে আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যে রূপান্তরিত হয়েছে।
  3. অনুপম ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি: নজরুলের গদ্য যেন কবিতারই ছন্দময় রূপ। বিরহ-বেদনার চিত্রণে গল্পের ভাষা অত্যন্ত সংবেদনশীল।

গল্পের বিফলতা ও সীমাবদ্ধতা

  1. অতি-ভাবালুতা ও নাট্যিকতার অভাব: গল্পের গঠন ছোটগল্পের সুসংহত কাঠামোর চেয়ে কবির আত্মজৈবনিক রোমান্টিক ভাবালুতায় বেশি আক্রান্ত হয়েছে। ঘটনার চেয়ে গীতোচ্ছ্বাস প্রধান হয়ে ওঠায় গল্পের গতি ব্যাহত হয়েছে।
  2. বাস্তবতার সংকট: চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব বাস্তব জীবনের চেয়ে কল্পনার স্বপ্নিল জগতে বেশি বিচরণ করেছে, যা আধুনিক বাস্তবতাবাদী ছোটগল্পের মানদণ্ডে কিছুটা শিথিল।

উপসংহার

কাঠামোগত কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সংবেদনশীল প্রেমের প্রকাশ ও নজরুলি সুরের ইন্দ্রজালে ‘শিউলিমালা’ বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ মর্যাদার দাবিদার।


[অথবা] ৫. (খ) ‘বলাকা’ কবিতা অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিতত্ত্বের পরিচয় দাও।

ভূমিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিণত বয়সের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘বলাকা’ (১৯১৬)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে রচিত এই কাব্যে রবীন্দ্র-মানসে ঘটেছিল এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। শান্তিনিকেতন পর্বের স্থির ভক্তি ও প্রশান্তি ভেঙে তিনি আবিষ্কার করেন মহাবিশ্বের চিরন্তন গতি ও রূপান্তরের মহাতত্ত্ব।

গতিতত্ত্বের মূল ভাব ও রূপায়ন

  1. বলাকার ডানায় মহাজাগতিক স্পন্দন: ঝিলাম নদীর শান্ত সন্ধ্যায় একঝাঁক উড়ন্ত হাঁসের ডানার শব্দে কবির মনে হয় সমগ্র বিশ্বচরাচর যেন এক পরম অজানার উদ্দেশ্যে উড়ে চলেছে। পর্বত, বনানী, নদী— দৃশ্যত স্থির সবকিছুই আসলে কালস্রোতে নিরন্তর ধাবমান।
  2. বার্গসোঁর দর্শনের প্রভাব: ফরাসি দার্শনিক অঁরি বার্গসোঁর (Henri Bergson) প্রাণপ্রবাহ তত্ত্বের (Élan Vital) প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় এ কবিতায়। জীবন কোনো অচলায়তন নয়; রূপ থেকে রূপান্তরে, জন্ম থেকে জন্মান্তরে নিরন্তর পরিবর্তনই জীবনের পরম ধর্ম।
  3. ভয়হীন সম্মুখযাত্রা: গতিতত্ত্বের মূল বাণী হলো পিছিয়ে না থাকা। কবি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন:
    “হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোথা, অন্য কোন্ খানে।”
    স্থবিরতাই মৃত্যু, আর গতিই হলো সত্য ও অনন্ত মুক্তি। বিশ্বজগতের প্রতিটি ধূলিকণাও যেন উড়ে চলার আনন্দে কম্পমান।

উপসংহার

রবীন্দ্রনাথের এই গতিতত্ত্ব মানুষকে জরা, জড়তা ও সংকীর্ণতা পরিহার করে চিরনতুনের অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়ার অফুরন্ত প্রেরণা যোগায়।


৬. (ক) ‘বনলতা সেন’ কবিতায় মানব হৃদয়ের প্রেমানুভূতির যে পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা কর।

ভূমিকা

আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও সুরভিত প্রেমের কবিতা জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’। হাজার বছরের ইতিহাস ও ভূগোলের বিস্তীর্ণ পটভূমিতে কবি মানব হৃদয়ের ক্লান্তি, নিঃসঙ্গতা এবং পরম শান্তির আশ্রয় হিসেবে প্রেমানুভূতিকে রূপায়িত করেছেন।

প্রেমানুভূতির স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য

  1. ঐতিহাসিক পটভূমি ও জীবনের ক্লান্তি: কবি শুরুতেই বলেন— “হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে / সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে…”। বিদিশা ও শ্রাবস্তীর মতো প্রাচীন সভ্যতার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে পথ হেঁটে কবি পরিশ্রান্ত। মানবজীবনের এই পরম ক্লান্তি কেবল জৈবিক নয়, বরং আত্মার একাকীত্ব।
  2. শান্তির প্রতীক বনলতা সেন: জীবন-যুদ্ধের এই ফেনিল ক্লান্তি থেকে কবিকে পরম মমতায় ক্ষণিকের প্রশান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন। বনলতা সেন কেবল রক্তমাংসের কোনো মানবী নয়, সে ক্লান্ত আত্মার চিরন্তন শান্তির আশ্রয়স্থল।
  3. উপমার অনবদ্য রোমান্টিকতা: কবির বর্ণনায় বনলতার কেশ বিদিশার অন্ধকার রাত্রি, তার মুখ শ্রাবস্তীর কারুকার্য। আর সবচেয়ে বিখ্যাত উপমা:
    “পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।” নীড় যেমন ঝড়ে বিধ্বস্ত পাখিকে পরম নির্ভরতা দেয়, নারীর চোখ তেমনি নিঃসঙ্গ পুরুষকে জীবনের সমস্ত ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
  4. দিনের সমাপ্তি ও প্রেমের অমর স্মৃতি: সমস্ত দিনশেষে যখন সন্ধ্যার অন্ধকার নামে এবং জীবনের হিসাব ফুরিয়ে আসে, তখন পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল স্তব্ধ হলেও রয়ে যায় কেবল বনলতা সেনের সাথে বসে থাকার সেই অপার্থিব ভালোবাসার তৃপ্তি।

উপসংহার

অতএব ‘বনলতা সেন’ কবিতায় প্রেম কেবল ক্ষণিক কামনা নয়, বরং মানবাত্মার অনন্ত পথযাত্রায় চিরন্তন প্রশান্তি ও বেঁচে থাকার একমাত্র আশ্রয়।


[অথবা] ৬. (খ) কবি জসীম উদ্দীন রচিত ‘মুসাফির’ কবিতার মূলভাব ও কাব্যসৌন্দর্য বিচার-বিশ্লেষণ কর।

ভূমিকা

পল্লিকবি জসীম উদ্দীন গ্রাম-বাংলার সরল ও মমতাময় জীবনযাত্রার রূপকার। তাঁর ‘মুসাফির’ কবিতাটি এক মরমি ভাবধারায় সিক্ত, যেখানে তিনি মানবজীবনকে একটি ক্ষণস্থায়ী সরাইখানার যাত্রী হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন।

কবিতার মূলভাব

  1. জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি: মানুষ এ পৃথিবীতে চিরদিনের জন্য আসেনি; প্রত্যেকেই এক একজন মুসাফির বা পান্থ। নির্ধারিত সময় শেষে সবাইকে এই মায়াময় পৃথিবীর পাঠ চুকিয়ে অজানা অনন্তের পানে পাড়ি জমাতে হবে।
  2. মায়ার বাঁধন ও নির্মোহ দৃষ্টি: মানুষ ঘর বাঁধে, ধনসম্পদ গড়ে, আত্মীয়-স্বজনের প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মুসাফিরের মতো তাকে একদিন সবকিছু পেছনে ফেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় বিদায় নিতে হয়।
  3. আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা: কবি প্রকৃতির রূপ ও মানুষের দুঃখ-সুখের মাঝে স্রষ্টার সান্নিধ্য ও পরম গন্তব্যের সন্ধান করেছেন। পার্থিব আসক্তি ত্যাগ করে খাঁটি ঈমান ও ভালোবাসাই পরকালের আসল সম্বল।

কাব্যসৌন্দর্য

জসীম উদ্দীনের ভাষার সারল্যই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। কোনো কঠিন সংস্কৃত শব্দ নয়, বরং খাঁটি পল্লিবাংলার কথ্য সুর, মিষ্টি উপমা ও লোকজ ছন্দের দোলায় কবিতাটি পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে। কবিতার সুর মরমি গানের মতো করুণ ও আবেদনময়।


ঘ বিভাগ [মান: ৫ × ৪ = ২০]

৭. যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

(ক) ভাষার সংজ্ঞা দাও। সাধু ও চলিত রীতির পাঁচটি মৌলিক পার্থক্য উদাহরণসহ লিখ।

ভাষার সংজ্ঞা: মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য মনুষ্যজাতি তার বাগযন্ত্রের সাহায্যে যে অর্থপূর্ণ ও বোধগম্য ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি উচ্চারণ করে, তাকে ভাষা বলে। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন, কোনো বিশেষ জনসমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত তথা বাক্যে প্রযুক্ত শব্দসমষ্টিকে ভাষা বলে।”

সাধু ও চলিত রীতির পাঁচটি মৌলিক পার্থক্য:

পার্থক্যের বিষয় সাধু রীতি চলিত রীতি
১. প্রকৃতি ও ব্যবহার গম্ভীর, সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণিক কাঠামোর অনুসারী এবং কেবল লেখার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ। চটুল, পরিবর্তনশীল, সহজবোধ্য এবং মুখের কথা ও সাহিত্যের সর্বজনীন রূপ।
২. তৎসম শব্দের প্রয়োগ তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের আধিক্য বেশি। যেমন: মস্তক, চন্দ্র, অদ্য। তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: মাথা, চাঁদ, আজ।
৩. সর্বনাম পদের রূপ সর্বনাম পদ সর্বদা দীর্ঘ হয়। যেমন: তাহার, ইহাদের, যাহারা। সর্বনাম পদ সংক্ষিপ্ত হয়। যেমন: তার, এদের, যারা।
৪. ক্রিয়াপদের রূপ ক্রিয়াপদ পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘ হয়। যেমন: করিতেছে, খাইয়াছিল, যাইব। ক্রিয়াপদ সংকুচিত ও সংক্ষিপ্ত হয়। যেমন: করছে, খেয়েছিল, যাব।
৫. অব্যয় পদের রূপ অব্যয় পদ প্রাচীন ও সংস্কৃতঘেঁষা। যেমন: কদাপি, তথাপি, যদ্যপি। অব্যয় পদ আধুনিক ও প্রাঞ্জল। যেমন: কখনো, তবুও, যদিও।

(খ) নিচের শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ লিখ (যেকোনো পাঁচটি):

  • আশীষ -> আশিস
  • উচ্ছাস -> উচ্ছ্বাস
  • চাক্কুস -> চাক্ষুষ
  • ত্রিনয়নী -> ত্রিনয়না
  • পিপিলীকা -> পিপীলিকা
  • মুমূর্ষু / মুমুর্ষু -> মুমূর্ষু
  • মহিরুহ -> মহীরুহ

(গ) নিচের শব্দগুলোর প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর (যেকোনো পাঁচটি):

  • আদিম = আদি + ম (তদ্ধিত প্রত্যয়)
  • উক্তি = √বচ্ + তি (ক্তি) (কৃৎ প্রত্যয়)
  • কৃষক = √কৃষ্ + অক (ণ্বুল) (কৃৎ প্রত্যয়)
  • গ্রাম্য = গ্রাম + য (ষ্ণ্য) (তদ্ধিত প্রত্যয়)
  • বুদ্ধিমান = বুদ্ধি + মৎ (মতুপ) (তদ্ধিত প্রত্যয়)
  • চৈতালী = চৈতাল + ঈ (তদ্ধিত প্রত্যয়)
  • পিপাসা = √পা + সন্ + আ (কৃৎ প্রত্যয়)

(ঘ) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর (যেকোনো পাঁচটি):

  • অতিথি = নেই তিথি যার = বহুব্রীহি সমাস
  • অষ্টাদশ = অষ্ট অধিক দশ = মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  • উপভাষা = ভাষার সদৃশ = অব্যয়ীভাব সমাস
  • ঔষধালয় / ঔষধি = ঔষধির আলয় = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  • গোবেচারা = গোরুর মতো বেচারা = উপমান কর্মধারয় সমাস
  • ঘরমুখো = ঘরের দিকে মুখ যার = বহুব্রীহি সমাস
  • ছাত্রাবাস = ছাত্রদের আবাস = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস

(ঙ) অর্থসহ বাক্য গঠন কর (যেকোনো পাঁচটি):

  • উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী): উড়নচণ্ডী স্বভাবের ছেলেকে জমিজমা লিখে দিলে অচিরেই সে পথের ভিখারি হবে।
  • নয়-ছয় (অপচয়/অপব্যয়): সরকারি তহবিলের টাকা নয়-ছয় করলে আইনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
  • লেফাফা দুরস্ত (বাইরের ঠাট বজায় রাখা): লোকটির অবস্থা ভালো নয়, শুধু লেফাফা দুরস্ত ভাব নিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়ায়।
  • কংস মামা (নির্মম আত্মীয়): সম্পত্তি আত্মসাতের ফন্দি এঁটে বড় চাচা এখন আমাদের কাছে কংস মামা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
  • ঠুঁটো জগন্নাথ (অকর্মণ্য/নিষ্ক্রিয় ব্যক্তি): কমিটির সভাপতি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তিনি যেন এক ঠুঁটো জগন্নাথ।
  • ধামাধরা (তোষামোদকারী): স্বার্থান্বেষী ধামাধরা মানুষদের কখনো নিজের আসল বন্ধু মনে করা উচিত নয়।
  • বক ধার্মিক (ভণ্ড সাধু): সমাজে এমন অনেক বক ধার্মিক আছে যারা মুখে নীতিবাক্য বলে কিন্তু অন্তরে পাপ পুষে রাখে।

(চ) ভাবসম্প্রসারণ কর:

“পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন / নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন।”

মূলভাব: হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা মানুষের আত্মিক ধ্বংসের মূল কারণ। যে ব্যক্তি অন্যের অমঙ্গল ও ক্ষতিসাধনের চক্রান্তে লিপ্ত থাকে, প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে সেই ক্ষতিকর পরিণাম শেষ পর্যন্ত তার নিজের ওপরই চরম বিপর্যয় ডেকে আনে।

সম্প্রসারিত ভাব: মানবসমাজ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। একজন সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ সর্বদাই নিজের কল্যাণের পাশাপাশি অপরের মঙ্গলের চিন্তা করে। কিন্তু হীনমন্য ও ঈর্ষাকাতর মানুষ অন্যের উন্নতি সহ্য করতে পারে না। সে গোপনে অন্যের ক্ষতিসাধনের ফাঁদ পাতে। অথচ মহাবিশ্বের এক অলঙ্ঘনীয় চিরন্তন নীতি হলো— মানুষ যেমন কর্ম করবে, ঠিক তেমনই ফল ভোগ করবে। যে ব্যক্তি অন্যের চলার পথে কাঁটা ছিটায়, তাকে একদিন সেই পথ দিয়েই রক্তাক্ত পায়ে হেঁটে যেতে হয়। পবিত্র ইসলামেও স্পষ্ট সতর্কবাণী রয়েছে যে, কোনো চক্রান্তকারী তার নিজের চক্রান্তের বিষবৃক্ষের ফল থেকে নিষ্কৃতি পায় না। ইতিহাসের বহু স্বৈরশাসক ও ষড়যন্ত্রকারী অন্যের জন্য যে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করেছিল, শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদেরই সেই মঞ্চে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। সুতরাং অন্যের ক্ষতি চাওয়া মানে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা।

মন্তব্য: অতএব মানবকল্যাণকামী হয়ে সবার মঙ্গলের জন্য কাজ করাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব; অন্যের অনিষ্ট চিন্তা পরিহার করলেই কেবল জীবনে স্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব।


(ছ) মাদ্রাসায় উপাচার্য মহোদয়ের আগমন উপলক্ষে একটি মানপত্র রচনা:

হে আলোর দিশারী, তোমারে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম
ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার প্রাঙ্গণে
মান্যবর উপাচার্য মহোদয়ের শুভ পদার্পণে নিবেদিত শ্রদ্ধার্ঘ্য

শ্রদ্ধাস্পদ উপাচার্য মহোদয়,
আজ এক পরম শুভক্ষণে ঐতিহ্যবাহী ইলমে ওহীর এই পবিত্র প্রাঙ্গণে আপনার শুভ পদার্পণ আমাদের হৃদয়কে অনাবিল আনন্দে সিক্ত করেছে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমন্বয়ে ইসলামি আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে আপনার নিরলস সাধনা ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব আজ সমগ্র বাংলাদেশে প্রশংসিত। আপনার মতো একজন মহান শিক্ষাবিদ ও অভিভাবককে আমাদের মাঝে পেয়ে আমরা পরম গৌরব ও আনন্দ অনুভব করছি।

হে জ্ঞানতাপস,
আমাদের এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বহু যুগ ধরে কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান বিতরণের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক ও খাঁটি আলেম তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আপনার দূরদর্শী পরিচালনায় দেশের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা যখন এক নবদিগন্তে প্রবেশ করেছে, তখন আমাদের প্রতিষ্ঠানটিও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে আমাদের ঐতিহ্যবাহী গবেষণাগার, আধুনিক আইসিটি ল্যাব এবং সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অভাব মেটাতে আপনার স্নেহময় দৃষ্টি ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা একান্ত কাম্য।

হে বিদগ্ধ কাণ্ডারি,
আমরা আশা রাখি, আপনার প্রজ্ঞাবান দিকনির্দেশনায় আমাদের প্রতিষ্ঠানটি শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসলামি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবে। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে আপনার দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও ইহলৌকিক-পরলৌকিক সাফল্য প্রার্থনা করি।

তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২১
বিনয়াবনত,
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ
জামিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. চর্যাপদ কে, কোথা থেকে এবং কত সালে আবিষ্কার করেন?

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ করেন।

২. চর্যাপদের ভাষা যে বাংলা তা প্রথম বিজ্ঞানসম্মতভাবে কে প্রমাণ করেন?

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ ODBL-এ ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রের সাহায্যে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা।

৩. ‘আমাদের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধে ড. শহীদুল্লাহর মূল বক্তব্য কী ছিল?

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% মানুষের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার ঐতিহাসিক যুক্তি তুলে ধরা এবং বাংলা লিপি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য রক্ষা করা।

৪. রবীন্দ্রনাথের ‘সমাপ্তি’ গল্পের মূল আবেদন কী?

চঞ্চল ও বন্ধনহীন কিশোরী মৃন্ময়ীর স্বাধীন হৃদয়ে দাম্পত্য প্রেম ও আত্মিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে মানবিক সম্পর্কের গভীরতা ফুটিয়ে তোলাই এর মূল আবেদন।

৫. ‘বনলতা সেন’ কবিতায় নাটোরের বনলতা সেন কিসের প্রতীক?

হাজার বছরের ক্লান্তি ও নিঃসঙ্গ পথযাত্রায় জর্জরিত মানুষের হৃদয়ে পরম নির্ভরতা, মায়া ও অপার্থিব শান্তির এক চিরন্তন প্রতীক হলো বনলতা সেন।

৬. সাধু ও চলিত ভাষার সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রধান পার্থক্য কোথায়?

সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপে; সাধু ভাষায় এ দুটি পদ দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ হয় এবং চলিত ভাষায় তা সংকুচিত ও সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যবহৃত হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *