ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: বাংলাদেশ স্টাডিজ (Bangladesh Studies – الدراسات البنغلاديشية)
বিষয় কোড: 202107 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
২০২১ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ (202107) পরীক্ষাটিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের চার মূলনীতি ও বর্তমান বৈশিষ্ট্য, কৃষির ভূমিকা, বেকার সমস্যা ও সমাধান, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ইসলাম প্রচার, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মুফতি আমীমুল এহসান (রহ.) ও ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসার অবদানের ওপর শিক্ষার্থীদের সম্যক ধারণা মূল্যায়ন করা হয়েছে। নিচে সকল প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণ্য সমাধান দেওয়া হলো।
مجموعة (الف) [ক-বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্ন]
١- بين تاريخ حركة اللغة لعام ١٩٥٢م مفصلا-
[১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
১৯৫২ সালের রক্তঝরা মহান ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল উন্মেষ ও বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রথম প্রত্যক্ষ সোপান। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর তাদের উগ্র আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
ভাষা আন্দোলনের পর্যায়ক্রমিক ইতিহাস
- আন্দোলনের পটভূমি ও সূচনা (১৯৪৭): ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠিত হয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘তমদ্দুন মজলিস’। তাঁদের উদ্যোগে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?’ পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত ঘটে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর উদ্ধত ঘোষণা (১৯৪৮): ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এবং রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন: “Urdu, and only Urdu shall be the state language of Pakistan.” উপস্থিত ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিকভাবে “নো, নো” ধ্বনিতে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
- সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন (১৯৫২): ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে খাজা নাজিমুদ্দীন পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
- ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তদান: সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে আমতলায় ঐতিহাসিক ছাত্রসমাবেশে ১০ জন করে মিছিল বের করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশ ছাত্রদের মিছিলে বর্বরভাবে লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। ফলে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে শহীদ হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে।
- প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: এ হত্যাকাণ্ডের পর সমগ্র বাংলা দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে। অবশেষে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় শাসকগোষ্ঠী। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি প্রদান করে।
উপসংহার
ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার ছিল না, এটি ছিল শোষণ, বৈষম্য ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার অবিনাশী সংগ্রাম।
٢- عرف الدستور- ثم بين مبادئ حكم الدولة الموصوفة في الدستور البنغلاديش لعام ١٩٧٢م-
[২. সংবিধানের পরিচয় দাও। অতঃপর ১৯৭২ সালের সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো আলোচনা কর।]
সংবিধানের সংজ্ঞা
সংবিধান হলো কোনো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ, মৌলিক ও অলঙ্ঘনীয় আইন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বরূপ, সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এরিস্টটলের মতে, “Constitution is the way of life the state has chosen for itself.”
১৯৭২ সালের সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের গণপরিষদে গৃহীত এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মৌলিক স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়:
- জাতীয়তাবাদ (Nationalism – অনুচ্ছেদ ৯): ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তা নিয়ে বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তা-ই হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সংহতি নিশ্চিত করা হয়।
- সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি (Socialism – অনুচ্ছেদ ১০): কোনো বিদেশি অন্ধ মতবাদ নয়, বরং শোষণমুক্ত ন্যায়পরায়ণ গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সুষম বণ্টন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকার (Democracy – অনুচ্ছেদ ১১): প্রজাতন্ত্র হবে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে এবং সকল ক্ষমতার উৎস হবে জনগণ, যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।
- ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা (Secularism – অনুচ্ছেদ ১২): কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রীয় পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য না থাকা এবং সকল ধর্মের নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা।
٣- تحدث عن أهمية الزراعة في اقتصاد بنغلاديش-
[৩. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব আলোচনা কর।]
ভূমিকা
বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী নদীমাতৃক কৃষিপ্রধান দেশ। শিল্প ও সেবা খাতের দ্রুত বিকাশ সত্ত্বেও কৃষি এখনও বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
অর্থনীতিতে কৃষির বহুমুখী গুরুত্ব
- খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা মেটানোর মূল দায়িত্ব পালন করে কৃষি খাত। চাল, গম, ভুট্টা, শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে রয়েছে।
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। গ্রামীণ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচনে এর অবদান অনস্বীকার্য।
- জাতীয় আয়ে (GDP) অবদান: দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের প্রত্যক্ষ অবদান প্রায় ১২-১৩ শতাংশ। সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে কৃষির স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
- শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: পাটকল, টেক্সটাইল মিল, চিনি কল, চামড়া শিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ (Agro-processing) শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পুরোটাই আসে কৃষি খাত থেকে।
- রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত চিংড়ি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী, কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য, চা এবং শাকসবজি বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
٤- تحدث عن مشكلة البطالة وحلها في بنغلاديش مفصلا-
[৪. বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো বেকার সমস্যা। বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারায় দেশের বিপুল মানবসম্পদ জাতীয় বোঝায় পরিণত হচ্ছে।
বেকার সমস্যার স্বরূপ ও কারণসমূহ
- কর্মসংস্থানহীন শিক্ষাব্যবস্থা: সাধারণ তাত্ত্বিক ও সনদভিত্তিক শিক্ষার আধিক্য; আধুনিক বাজার চাহিদা ও শিল্পোন্নত বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিগরি, আইসিটি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতার চরম অভাব।
- জনসংখ্যার তুলনায় শিল্পায়নের ধীরগতি: প্রতি বছর প্রায় ২০-২৫ লক্ষ নতুন তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে ভারী ও মাঝারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে না।
- কৃষিতে ঋতুভিত্তিক ও প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব: কৃষি খাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোক নিয়োজিত থাকায় প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা শূন্য হয়ে পড়ে।
- উদ্যোক্তা তৈরিতে পুঁজির অভাব: ব্যাংক ঋণের চড়া সুদ, জামানতের জটিলতা এবং সরকারি লালফিতার দৌরাত্ম্যে তরুণরা নতুন ব্যবসা শুরু করতে বাধাগ্রস্ত হয়।
বেকার সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায়সমূহ
- শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার: সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখী, কারিগরি ও আইসিটি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা।
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্পের বিকাশ: জামানতবিহীন সহজ শর্তে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা এবং স্টার্ট-আপ ফান্ড গঠন করা।
- কৃষি আধুনিকায়ন ও বহুমুখীকরণ: মৎস্য চাষ, ডেইরি ফার্ম, পোল্ট্রি এবং আধুনিক অ্যাগ্রো-ফার্মিংয়ে তরুণদের যুক্ত করে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করা।
- দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি: অদক্ষ শ্রমিকের বদলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় নার্সিং, ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং ও আইটি খাতে দক্ষ জনশক্তি পাঠিয়ে রেমিট্যান্স বহুগুণ বৃদ্ধি করা।
٥- تحدث عن خصائص الدستور الحالي لبنغلاديش-
[৫. বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য
- লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় দলিল: বাংলাদেশের সংবিধান একটি সুসংবদ্ধ লিখিত দলিল। এতে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, একটি প্রস্তাবনা এবং ৭টি তফসিল রয়েছে। এটি সহজে পরিবর্তন করা যায় না; সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট আবশ্যক।
- এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা: বাংলাদেশ কোনো ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন নয়; এটি একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র যার সমস্ত সার্বভৌম ক্ষমতা কেন্দ্রীয় রাজধানী ঢাকার সংসদ ও সরকারের হাতে ন্যস্ত।
- সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী শাসিত মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত, যেখানে নির্বাহী বিভাগ তাদের সমস্ত কাজের জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়বদ্ধ।
- এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: দেশের আইনসভা ‘জাতীয় সংসদ’ এককক্ষবিশিষ্ট, যা ৩০০টি প্রত্যক্ষ নির্বাচিত আসন এবং ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন নিয়ে গঠিত।
- মৌলিক অধিকারের আইনি নিশ্চয়তা: সংবিধানের ৩য় ভাগে নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে তা কার্যকর করার বলবৎ অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২) দেওয়া হয়েছে।
- রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতার সমন্বয়: ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের পাশাপাশি অন্যান্য সকল ধর্মের সমমর্যাদা ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সমুন্নত রাখা হয়েছে।
٦- بين مساهمة الشيخ شاه جلال اليمنى (رح) في نشر الإسلام ببنغلاديش-
[৬. বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে হযরত শাহজালাল ইয়ামানী (রহ) এর অবদান বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
বাংলার মাটিতে ইসলাম প্রচারের ইতিহাসে সুফি-দরবেশ ও ওলিয়া-কেরামগণের অবদান চিরস্মরণীয়। তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ও অবিসংবাদিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হলেন সুলতানুল আরিফীন হযরত শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামানী (রহিমাহুল্লাহ)।
ইসলাম প্রচারে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান
- সিলেট বিজয় ও অত্যাচারী শাসনের অবসান (১৩০৩ খ্রি.): অত্যাচারী রাজা গৌর গোবিন্দ কর্তৃক মুসলিম প্রজা বুরহান উদ্দীনের ওপর নির্মম অত্যাচারের প্রেক্ষাপটে হযরত শাহজালাল (রহ.) তাঁর ৩৬০ জন সফরসঙ্গী আউলিয়াকে নিয়ে এবং সেনাপতি সিকান্দার গাজীর সহায়তায় অত্যাচারী রাজাকে পরাজিত করে সিলেটে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন।
- আদর্শ ও চরিত্রের মাধ্যমে হৃদয় জয়: শাহজালাল (রহ.) কোনো জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নয়, বরং তাঁর অতুলনীয় খোদাভীতি, পরম দয়া, সততা ও আধ্যাত্মিক কারামতের মাধ্যমে স্থানীয় হিন্দু ও পাহাড়ি উপজাতি জনগোষ্ঠীকে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আকৃষ্ট করেন।
- ৩৬০ আউলিয়ার মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক ইসলাম প্রচার: সিলেট বিজয়ের পর তিনি তাঁর ৩৬০ জন খলিফাকে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে (যেমন: ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরাক উপত্যকা) দ্বীন প্রচারের জন্য প্রেরণ করেন, যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটে।
- সামাজিক সাম্য ও মানবকল্যাণ: জাত-পাত ও বর্ণবাদের শিকার অস্পৃশ্য নিম্নবর্ণের মানুষদের বুকে টেনে নিয়ে তিনি এক অনন্য সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দরগাহ ও লঙ্গরখানা শত শত বছর ধরে সর্বস্তরের মানুষের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
مجموعة (ب) [খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন]
٧- تحدث عن ثورة عام ١٩٦٩م الشعبية-
[৭. ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে আলোচনা কর।]
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনতার এক অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ। ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মিথ্যা ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করা হলে ছাত্রসমাজ ১১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। আসাদ, মতিউর ও ড. শামসুজ্জোহার শাহাদাতবরণের পর আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জনতার প্রচণ্ড চাপের মুখে আইয়ুব খান আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে এবং অবশেষে ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
٨- اذكر أهمية الخطبة التاريخية لصديق البنغال في ٧ مارس-
[৮. বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব উল্লেখ কর।]
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদত্ত ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতার অলিখিত ম্যাগনাকার্টা। মাত্র ১৮ মিনিটের এই কালজয়ী ভাষণে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকদের সমস্ত ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করেন এবং মুক্তির সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে ঘোষণা করেন: “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এ ভাষণ সমগ্র জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত করে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (Memory of the World) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
٩- اذكر جمال كوكس بازار الطبيعي بالإيجاز-
[৯. সংক্ষেপে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও।]
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল নীল জলরাশি, তীরে আছড়ে পড়া অবিরাম রূপালী ঢেউ, ঝাউবনের মনকাড়া শনশন শব্দ এবং সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের অপূর্ব রক্তিম দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সৈকতসংলগ্ন পাহাড়, হিমছড়ির মনোমুগ্ধকর ঝর্ণা, ইনানী বিচের প্রবাল পাথর এবং বৌদ্ধ মন্দিরের স্থাপত্য কক্সবাজারকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করেছে।
١٠- اكتب دور المفتى عميم الإحسان (رح) في علم الحديث-
[১০. ইলমুল হাদিস বিষয়ে মুফতি আমীমুল এহসান (রহ) এর অবদান লেখ।]
মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমীমুল এহসান আল-মুজাদ্দেদী বারাকাতি (রহ.) [১৯১১ – ১৯৭৪ খ্রি.] ছিলেন বিংশ শতাব্দীতে উপমহাদেশের এক অবিসংবাদিত হাদিস বিশারদ, বহুগ্রন্থ প্রণেতা এবং ঢাকা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মুহাদ্দিস ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতিব। উলূমুল হাদিস ও ফিকহে তাঁর অবদান জগদ্বিখ্যাত। তাঁর রচিত কালজয়ী গ্রন্থ ‘কাওয়াইদুল ফিকহ’ এবং হাদিস শাস্ত্রের দুর্লভ গ্রন্থ ‘মিনহাতুল মুগিস ফী ইলমির রিজাল ওয়াল হাদিস’ আরব বিশ্বেও উচ্চ সমাদৃত। তিনি ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় দীর্ঘকাল বোখারি ও মুসলিম শরিফের অত্যন্ত উচ্চমানের দরস প্রদান করে বাংলাদেশে সহস্রাধিক বিদগ্ধ মুহাদ্দিস তৈরি করে গেছেন।
١১- تحدث عن السكان في المناطق الجبلية لبنغلاديش-
[১১. বাংলাদেশের আদিবাসী সম্পর্কে আলোচনা কর।]
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) অঞ্চলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাস করে। এদের মধ্যে প্রধান হলো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, পাংখোয়া ও খিয়াং। তাদের নিজস্ব সমৃদ্ধ ভাষা, লিপি, কৃষ্টি, বর্ণাঢ্য পোশাক এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তাদের প্রধান উৎসবগুলোর মধ্যে বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসাবি অন্যতম, যা প্রতি বছর নববর্ষ উপলক্ষে এক আনন্দময় মহামিলন সৃষ্টি করে। তারা মূলত জুম চাষ ও স্থানীয় হস্তশিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।
١٢- اكتب دور مدرسة دار السنة الكامل بسرسينة في نشر تعاليم الإسلام في بنغلاديش-
[১২. বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসার অবদান সম্পর্কে লেখ।]
পিরোজপুর জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া কামিল মাদরাসা’ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কুতবুল এরশাদ আল্লামা শাহ সুফি নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ.) ১৯১৫ সালে কুরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ তালিম ও সুফি তরিকার আত্মশুদ্ধির প্রচারের উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি বিশুদ্ধ আকিদা, ফিকহ ও হাদিস চর্চার এক অনুপম দুর্গ। বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, ইলমে কেরাত ও তাজবীদের বিস্তার এবং সমাজে শিরক ও বিদআত দূর করে সুন্নাহসম্মত জীবন গঠনে এ মাদরাসা লক্ষ লক্ষ যোগ্য আলেম, মুহাদ্দিস ও ইসলাম প্রচারক তৈরি করে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা কে এবং কবে দিয়েছে?
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি প্রদান করে।
২. ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি কী কী?
সংবিধানে ঘোষিত চারটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হলো: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
৩. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান কতটুকু?
জিডিপিতে কৃষি খাতের প্রত্যক্ষ অবদান প্রায় ১২-১৩ শতাংশ এবং এটি দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি কর্মসংস্থান ধরে রেখেছে।
৪. হযরত শাহজালাল (রহ.) কবে এবং কতজন সঙ্গী নিয়ে সিলেট আসেন?
হযরত শাহজালাল (রহ.) ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ জন আউলিয়া ও সঙ্গীকে নিয়ে অত্যাচারী রাজা গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেটে আসেন।
৫. বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কী স্বীকৃতি দিয়েছে?
২০১৭ সালে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য (Memory of the World Register) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
৬. মুফতি আমীমুল এহসান (রহ.)-এর প্রধান পরিচয় কী?
তিনি ছিলেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতিব, ঢাকা আলিয়ার হেড মুহাদ্দিস এবং ‘কাওয়াইদুল ফিকহ’ ও ‘মিনহাতুল মুগিস’ গ্রন্থের বিশ্ববিখ্যাত প্রণেতা।