ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2020
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: কম্পিউটার লিটারেসি (Computer Literacy)
বিষয় কোড: 201207 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: ক বিভাগ হতে যে কোনো ৪টি এবং খ বিভাগ হতে যে কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্নাবলি
১. কম্পিউটার কী? পার্সোনাল কম্পিউটারের প্রকারভেদ উদাহরণসহ আলোচনা কর
[What is computer? Discuss the classification of personal computer with example.]
ক. কম্পিউটারের সংজ্ঞা ও ধারণা:
কম্পিউটার (Computer): ‘Computer’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Compute’ থেকে এসেছে, যার আভিধানিক অর্থ গণনা বা হিসাব করা। উৎপত্তিগত অর্থে কম্পিউটার একটি গণনাকারী যন্ত্র হলেও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার কেবল গণনাকারী যন্ত্রে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী ইলেকট্রনিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র (Electronic Data Processing Machine)। ব্যবহারকারীর নিকট থেকে ইনপুট হিসেবে কাঁচামাল বা ডেটা (Data) গ্রহণ করে, স্মৃতিতে সংরক্ষিত সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রামের নির্দেশ অনুযায়ী তা বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণ (Processing) করে এবং নির্ভুল ফলাফল বা তথ্য (Information) আউটপুট হিসেবে প্রদর্শন করে ও ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করে।
খ. পার্সোনাল কম্পিউটার (Personal Computer / PC)-এর প্রকারভেদ:
একক ব্যক্তির দৈনন্দিন অফিসিয়াল, প্রাতিষ্ঠানিক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কাজের জন্য ডিজাইনকৃত মাইক্রোকম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার (PC) বলা হয়। গঠন, বহনযোগ্যতা ও আকারের ভিত্তিতে পার্সোনাল কম্পিউটার প্রধানত নিম্নোক্ত শ্রেণীতে বিভক্ত:
- ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop PC): এটি টেবিল বা ডেস্কের ওপর রেখে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এতে সিস্টেম ইউনিট বা কেসিং, মনিটর, কীবোর্ড ও মাউস পৃথক পৃথক ডিভাইস হিসেবে সংযুক্ত থাকে। যেমন—অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত টাওয়ার বা মিনি-টাওয়ার কেসিংযুক্ত কম্পিউটার।
- ল্যাপটপ কম্পিউটার (Laptop PC): এটি ব্রিফকেসের মতো সহজে ভাঁজ করে ব্যাগে বহনযোগ্য ব্যাটারিচালিত কম্পিউটার। মনিটর, কীবোর্ড, টাচপ্যাড এবং সিস্টেম ইউনিট একটিমাত্র পোর্টেবল কাঠামোর মধ্যে একত্রিত থাকে। যেমন—Dell XPS, HP Pavilion, Lenovo ThinkPad।
- নোটবুক ও আল্ট্রাবুক (Notebook & Ultrabook): ল্যাপটপের চেয়েও হালকা, অতিমাত্রায় পাতলা ও দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রসেসরযুক্ত স্লিম কম্পিউটার। উচ্চ ব্যাটারি ব্যাকআপ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন—MacBook Air, ASUS ZenBook।
- ট্যাবলেট পিসি (Tablet PC): এটি মূলত একটি সম্পূর্ণ টাচস্ক্রিনভিত্তিক স্লিম হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস, যাতে বাহ্যিক কোনো কীবোর্ড বা মাউসের প্রয়োজন হয় না; অন-স্ক্রিন ভার্চুয়াল কীবোর্ড বা স্টাইলাস পেন দিয়ে কাজ করা হয়। যেমন—Apple iPad, Samsung Galaxy Tab।
- পামটপ / পিডিএ (Palmtop / PDA): হাতের তালুতে রেখে ব্যবহার উপযোগী অতি ক্ষুদ্র কম্পিউটার, যা আধুনিক যুগে উন্নত প্রযুক্তির স্মার্টফোনে রূপান্তরিত হয়েছে।
২. OCR, OMR ও Printer সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ
[Write down about OCR, OMR and Printer in brief.]
- OCR (Optical Character Reader / Recognition):
- পরিচয়: ওসিআর হলো একটি আধুনিক অপটিক্যাল ইনপুট প্রযুক্তি, যা সাধারণ টাইপকৃত, মুদ্রিত বা হাতে লেখা কাগজের পাঠ্যকে স্ক্যান করে সরাসরি সম্পাদনযোগ্য (Editable) ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করে।
- ব্যবহার: পুরোনো দুর্লভ বই ও পাণ্ডুলিপিকে ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর, পাসপোর্টের তথ্য দ্রুত স্ক্যান করা এবং ব্যাংকিং নথিপত্র সংরক্ষণে ওসিআর ব্যবহৃত হয়।
- OMR (Optical Mark Reader / Recognition):
- পরিচয়: ওএমআর হলো আলোর প্রতিফলন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে পূর্বে নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট চিহ্নের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি শনাক্তকারী একটি বিশেষ ইনপুট ডিভাইস। পেন্সিল বা কালির কালো দাগ যেখানে থাকে সেখান থেকে আলোর প্রতিফলন কম হয়, যা সেন্সরের মাধ্যমে ধরা পড়ে।
- ব্যবহার: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, বিসিএস ও বোর্ড পরীক্ষার বহুনির্বাচনী (MCQ) উত্তরপত্র অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে মূল্যায়নে ওএমআর প্রযুক্তি অপরিহার্য।
- Printer (মুদ্রণযন্ত্র):
- পরিচয়: প্রিন্টার হলো কম্পিউটারের প্রধান ও সর্বাধিক ব্যবহৃত হার্ডকপি আউটপুট ডিভাইস, যার মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত ডিজিটাল ফাইল, ডকুমেন্ট ও ছবি কাগজে স্থায়ীভাবে মুদ্রণ করা হয়।
- প্রকারভেদ:
- লেজার প্রিন্টার (Laser Printer): টোনার (শুকনো কালি) ও লেজার রশির সাহায্যে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উচ্চমানের মুদ্রণ নিশ্চিত করে।
- ইঙ্কজেট প্রিন্টার (Inkjet Printer): তরল কালির সূক্ষ্ম স্প্রে করে রঙিন ছবি মুদ্রণে ব্যবহৃত হয়।
- ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার (Dot Matrix): রিবন ও পিনের আঘাতে বিল ও রসিদ মুদ্রণে ব্যবহৃত হয়।
৩. ডিভাইস বলতে কী বুঝ? ইনপুট ডিভাইস সম্পর্কে যা জান লেখ
[What do you mean by device? Write what you know about the input device.]
ক. ডিভাইস (Device)-এর ধারণা:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ডিভাইস (যন্ত্র বা উপাদান) বলতে বোঝায় এমন কোনো একক ইলেকট্রনিক বা মেকানিক্যাল হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ বা পেরিফেরাল সরঞ্জাম, যা কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের (CPU) সাথে যুক্ত হয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কার্য (যেমন—তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, প্রদর্শন বা সংরক্ষণ) সম্পাদন করে। যেমন—কীবোর্ড, মনিটর, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি।
খ. ইনপুট ডিভাইস (Input Device)-এর বিশদ বিবরণ:
যে সকল ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল হার্ডওয়্যার যন্ত্রের মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটার সিস্টেমে বিভিন্ন উপাত্ত (Data), তথ্য, নির্দেশাবলী (Commands) ও প্রোগ্রাম প্রবেশ করায়, তাদেরকে ইনপুট ডিভাইস বলা হয়। ইনপুট ডিভাইস ব্যবহারকারীর ভাষাকে কম্পিউটারের বোধগম্য বাইনারি সিগন্যালে (০ ও ১) রূপান্তর করে।
প্রধান ইনপুট ডিভাইসসমূহের পরিচিতি:
- কীবোর্ড (Keyboard): এটি কম্পিউটারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান টেক্সট ইনপুট ডিভাইস। এতে বর্ণমালা (A-Z), সংখ্যা (0-9), ফাংশন কি (F1-F12) এবং বিভিন্ন কমান্ড কি থাকে।
- মাউস (Mouse): এটি একটি জনপ্রিয় পয়েন্টিং ইনপুট ডিভাইস। কার্সার বা পয়েন্টার নাড়িয়ে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসে (GUI) ফাইল ওপেন, সিলেক্ট বা ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ করা হয়।
- স্ক্যানার (Scanner): যেকোনো মুদ্রিত ছবি, মানচিত্র বা কাগজের দলিলকে ডিজিটাল ইমেজ বা গ্রাফিক্সে রূপান্তর করে কম্পিউটারে সংরক্ষণের ইনপুট ডিভাইস।
- মাইক্রোফোন (Microphone): মানুষের কণ্ঠস্বর বা শব্দ তরঙ্গকে ইলেকট্রিক্যাল অডিও সিগন্যালে রূপান্তর করে কম্পিউটারে প্রেরণের অডিও ইনপুট ডিভাইস।
- ওয়েবক্যাম ও ডিজিটাল ক্যামেরা: জীবন্ত ভিডিও ও স্থির ছবি ইনপুট করার ডিজিটাল ডিভাইস।
৪. ওয়ার্কশীট কী? কীভাবে একটি ওয়ার্কশীট তৈরি করা যায় বর্ণনা কর
[What is worksheet? Describe how to make a worksheet.]
ক. ওয়ার্কশীট (Worksheet)-এর পরিচয়:
মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel) বা স্প্রেডশীট প্রোগ্রামে গাণিতিক হিসাব-নিকাশ, বাজেট তৈরি ও তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অসংখ্য অনুভূমিক সারি (Row) এবং উল্লম্ব স্তম্ভের (Column) সমন্বয়ে গঠিত গ্রিডযুক্ত একক পৃষ্ঠাকে ওয়ার্কশীট (Worksheet) বা স্প্রেডশীট বলা হয়।
- সারি ও স্তম্ভের পরস্পর ছেদবিন্দুকে সেল (Cell) বলা হয় (যেমন—A1, B5)। প্রতিটি সেল হলো তথ্যের ধারক।
- একাধিক ওয়ার্কশীটের সমন্বয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ ফাইলকে ওয়ার্কবুক (Workbook) বলে।
খ. একটি নতুন ওয়ার্কশীট তৈরি ও হিসাব সম্পাদনের ধাপসমূহ:
- এমএস এক্সেল চালু করা: Start Menu থেকে ‘Microsoft Excel’ অ্যাপ্লিকেশনে ক্লিক করে ‘Blank Workbook’ নির্বাচন করতে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘Sheet1’ নামে একটি ফাঁকা ওয়ার্কশীট উন্মুক্ত হবে।
- হেডার ও কলামের নাম নির্ধারণ: প্রথম সারিতে (Row 1) বিভিন্ন কলামের শিরোনাম টাইপ করতে হবে; যেমন—কলাম A-তে ‘Student Name’, কলাম B-তে ‘Roll’, কলাম C-তে ‘Quran Marks’, কলাম D-তে ‘Hadith Marks’, কলাম E-তে ‘Total Marks’।
- উপাত্ত বা ডেটা এন্ট্রি: শিরোনামের নিচের সারিসমূহে (Row 2, 3…) শিক্ষার্থীদের নাম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর টাইপ করে বসাতে হবে।
- ফর্মুলা ও সূত্রের প্রয়োগ: মোট নম্বর বের করার জন্য Total কলামের সেলে (যেমন E2) ইকুয়াল চিহ্ন দিয়ে সূত্র প্রয়োগ করতে হবে:
=SUM(C2:D2)লিখে Enter চাপলে স্বয়ংক্রিয় যোগফল বের হবে। অটোফিল (AutoFill) হাতল টেনে নিচের সকল সেলে এক নিমেষেই হিসাব সম্পন্ন করা যাবে। - ফরম্যাটিং ও বর্ডার প্রদান: টেবিলের ডেটাগুলোকে সিলেক্ট করে Font গ্রুপ থেকে ‘All Borders’ নির্বাচন করতে হবে এবং শিরোনামকে Bold ও Center Align করতে হবে।
- ফাইল সংরক্ষণ (Save): File মেনু থেকে ‘Save As’ নির্বাচন করে নির্দিষ্ট ফোল্ডারে নাম লিখে ‘Save’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
৫. সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি বলতে কী বুঝ? উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা কর
[What do you mean by the base of number system? Discuss in detail with example.]
ক. সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি বা বেস (Base of Number System):
কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পদ্ধতিতে গণনা বা হিসাব-নিকাশের কাজে মোট যতগুলো মৌলিক অংক, প্রতীক বা সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তার মোট সমষ্টি বা সংখ্যাকে ঐ সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি বা বেস (Base / Radix) বলা হয়। যেমন—আমরা প্রাত্যহিক জীবনে যে দশমিক পদ্ধতি ব্যবহার করি তাতে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত মোট ১০টি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, তাই এর বেস হলো ১০।
খ. আধুনিক সংখ্যা পদ্ধতির শ্রেণীবিন্যাস ও বিস্তারিত আলোচনা:
| সংখ্যা পদ্ধতি | ভিত্তি (Base) | ব্যবহৃত অংক বা প্রতীকসমূহ | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| বাইনারি (Binary) | ২ | ০, ১ | $(110101)_2$ |
| অক্টাল (Octal) | ৮ | ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ | $(752)_8$ |
| ডেসিমাল / দশমিক (Decimal) | ১০ | ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ | $(948)_{10}$ |
| হেক্সাডেসিমাল (Hexadecimal) | ১৬ | ০-৯ এবং A, B, C, D, E, F (মোট ১৬টি) | $(2AF)_{16}$ |
গ. কম্পিউটারে বাইনারি পদ্ধতির গুরুত্ব:
কম্পিউটার একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের উপস্থিতিকে ‘১’ (High / ON) এবং ভোল্টেজের অনুপস্থিতিকে ‘০’ (Low / OFF) হিসেবে সহজে ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। ট্রানজিস্টরের এই দ্বিমুখী সুইচিং বৈশিষ্ট্য বাইনারি পদ্ধতির (০ ও ১) সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই ডিজিটাল কম্পিউটার অভ্যন্তরীণভাবে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে কাজ করে।
৬. ই-মেইল এ্যাড্রেস কী? ই-মেইল করার পদ্ধতি বর্ণনা কর
[What is e-mail address? Describe the process of making e-mail.]
ক. ই-মেইল অ্যাড্রেস (E-mail Address)-এর পরিচয়:
ই-মেইল (Electronic Mail) আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে কোনো নির্দিষ্ট গ্রাহকের জন্য বিশ্বব্যাপী বরাদ্দকৃত অনন্য ও সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ঠিকানাকে ই-মেইল অ্যাড্রেস বলা হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ ই-মেইল অ্যাড্রেসের দুটি প্রধান অংশ থাকে, যা @ (At the rate of) চিহ্ন দ্বারা পৃথক করা থাকে:
- ইউজারনেম (Username): গ্রাহকের নিজস্ব পছন্দের অনন্য নাম (যেমন:
studyboi.fazil)। - ডোমেইন নেম (Domain Name): ই-মেইল সেবা প্রদানকারী সার্ভার প্রতিষ্ঠানের ওয়েব ঠিকানা (যেমন:
gmail.com)। - উদাহরণ:
studyboi.fazil@gmail.com।
খ. একটি ই-মেইল পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি:
- ওয়েব ব্রাউজার ওপেন ও লগইন: কম্পিউটারে গুগল ক্রোম বা ফায়ারফক্স চালু করে কাঙ্ক্ষিত ই-মেইল সার্ভিস প্রোভাইডারের সাইটে (যেমন—www.gmail.com) যেতে হবে এবং নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে সাইন ইন (Log in) করতে হবে।
- নতুন বার্তা তৈরি (Compose): স্ক্রিনের বাম পাশের ‘Compose’ বা ‘+’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এতে একটি নতুন ই-মেইল বার্তা লেখার উইন্ডো চালু হবে।
- প্রাপকের ঠিকানা প্রদান (To): ‘To’ ফিল্ডে যাকে ই-মেইল পাঠানো হবে তার সঠিক ই-মেইল অ্যাড্রেস লিখতে হবে। একাধিক প্রাপককে পাঠাতে CC (Carbon Copy) বা BCC (Blind Carbon Copy) ব্যবহার করা যায়।
- বিষয় উল্লেখ করা (Subject): ‘Subject’ বক্সে ই-মেইল প্রেরণের সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক শিরোনাম লিখতে হবে (যেমন: Fazil Honours Exam 2020 Question Solutions)।
- মূল বক্তব্য লিখন (Body Text): নিচের বড় খালি অংশে মূল চিঠির বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে টাইপ করতে হবে।
- ফাইল সংযুক্তি (Attachment): কোনো ছবি, পিডিএফ বা ডকুমেন্ট পাঠাতে হলে পেপারক্লিপ আইকন (Attach Files)-এ ক্লিক করে ফাইলটি সিলেক্ট করতে হবে।
- বার্তা প্রেরণ (Send): সমস্ত তথ্য নিরীক্ষা করে নিচে নীল রঙের ‘Send’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বার্তাটি প্রাপকের ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।
খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি
৭. হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য কী?
[What are the differences between hardware and software?]
| বৈশিষ্ট্য | হার্ডওয়্যার (Hardware) | সফটওয়্যার (Software) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | কম্পিউটারের দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য সকল বাহ্যিক ভৌত যন্ত্রাংশ। | কম্পিউটার পরিচালনা ও সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে রচিত প্রোগ্রাম বা নির্দেশাবলীর সমষ্টি। |
| স্পর্শযোগ্যতা | সরাসরি ধরা ও স্পর্শ করা যায়। | স্পর্শ করা যায় না, কেবল কার্যকারিতা উপলব্ধি ও পর্দায় দেখা যায়। |
| পরস্পর নির্ভরতা | সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার প্রাণহীন খাঁচার মতো। | হার্ডওয়্যার ব্যতীত সফটওয়্যার কার্যকর হতে পারে না। |
| উদাহরণ | কীবোর্ড, মনিটর, সিপিইউ, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক। | উইন্ডোজ ওএস, এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, ওয়েব ব্রাউজার। |
৮. সিপিইউ এর কাজ বর্ণনা কর
[Narrate the functions of CPU.]
সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউ (CPU)-কে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক (Brain) বলা হয়। এর প্রধান কার্যাবলি নিম্নরূপ:
- নির্দেশনা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (Control Unit): কম্পিউটারের সকল ইনপুট, আউটপুট ও মেমোরি ডিভাইসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- গাণিতিক ও যৌক্তিক হিসাব (ALU): যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং সত্য-মিথ্যা ও ছোট-বড় সংক্রান্ত সকল যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও মেমোরি সমন্বয়: র্যাম ও রেজিস্টার থেকে ডেটা গ্রহণ করে দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে আউটপুট ডিভাইসে প্রেরণ করে।
৯. ডকুমেন্ট মুদ্রণের পদ্ধতি বর্ণনা কর
[Describe the method of document printing.]
- প্রিন্টারটি কম্পিউটারের সাথে ক্যাবল বা ওয়াই-ফাই সংযোগে অন করে প্রিন্টারে প্রয়োজনীয় কাগজ লোড করতে হবে।
- এমএস ওয়ার্ডে প্রস্তুতকৃত ফাইল ওপেন করে কীবোর্ড থেকে শর্টকাট
Ctrl + Pচাপতে হবে অথবা File মেনু থেকে ‘Print’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। - প্রিন্ট প্রিভিউতে ডকুমেন্টের লেআউট দেখে নিয়ে প্রিন্টারের মডেল নির্বাচন করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠা সংখ্যা (All, Current Page, Pages) এবং কপির সংখ্যা (Number of Copies) নির্ধারণ করে ‘Print’ বাটনে ক্লিক করলেই মুদ্রণ শুরু হবে।
১০. হার্ড ডিস্ক কী? এর কার্যাবলি বর্ণনা কর
[What is hard disk? Describe its functions.]
হার্ড ডিস্ক (Hard Disk Drive / HDD): এটি কম্পিউটারের প্রধান এবং স্থায়ী দ্বিতীয় পর্যায়ের ম্যাগনেটিক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস (Secondary Storage)। এটি অ্যালুমিনিয়াম বা কাঁচের তৈরি কতগুলো চৌম্বকীয় প্রলেপযুক্ত বৃত্তাকার ডিস্ক বা প্ল্যাটারের সমন্বয়ে গঠিত।
কার্যাবলি:
- কম্পিউটারের মূল অপারেটিং সিস্টেম (যেমন—Windows), প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও ড্রাইভার স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে রাখে।
- কম্পিউটার বন্ধ করলেও ব্যবহারকারীর যাবতীয় ব্যক্তিগত ফাইল, ডকুমেন্ট, অডিও, ভিডিও ও ডেটাবেজ সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত থাকে।
১১. ল্যাপটপ কম্পিউটার কী? এর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য লেখ
[What is Laptop computer? Write its five characteristics.]
ল্যাপটপ: ল্যাপটপ হলো একটি ছোট, হালকা ও ব্যাটারিচালিত পোর্টেবল পার্সোনাল কম্পিউটার, যা সহজে কোলে রেখে (Lap-এর ওপর) যেকোনো স্থানে বসে পরিচালনা করা যায়।
পাঁচটি বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চ বহনযোগ্যতা (Portability): ওজন কম হওয়ায় ব্রিফকেসে করে সহজে ভ্রমণকালে বহন করা যায়।
- বিল্ট-ইন রিচার্জেবল ব্যাটারি: সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও কয়েক ঘণ্টা একটানা ব্যাটারিতে কাজ করা যায়।
- একীভূত ডিজাইন (All-in-one): মনিটর, কীবোর্ড, টাচপ্যাড ও স্পিকার একই বডিতে সমন্বিত থাকে।
- বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী: সাধারণ ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় অত্যন্ত কম বিদ্যুৎ খরচ করে।
- ওয়্যারলেস সংযোগ: এতে বিল্ট-ইন ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ও ব্লুটুথ সংযোগ থাকে।
১২. কীবোর্ড পোর্ট সম্পর্কে লেখ
[Write down about keyboard port.]
কীবোর্ডকে কম্পিউটারের মাদারবোর্ড বা সিস্টেম ইউনিটের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য সিপিইউ-এর পেছনে বা পাশে যে বিশেষ সংযোগ সকেট থাকে তাকে কীবোর্ড পোর্ট বলা হয়। সময়ের বিবর্তনে প্রধানত তিন ধরনের কীবোর্ড পোর্ট ব্যবহৃত হয়:
- PS/2 পোর্ট: এটি প্রাচীন ৬-পিন বিশিষ্ট গোলাকার পোর্ট (সাধারণত বেগুনি রঙের হতো)।
- USB পোর্ট (Universal Serial Bus): বর্তমান যুগের সর্বাধিক প্রচলিত আয়তাকার প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে পোর্ট, যার মাধ্যমে কীবোর্ড মুহূর্তেই কম্পিউটারে সংযুক্ত হয়।
- ওয়্যারলেস বা ব্লুটুথ সংযোগ: কোনো তার ছাড়াই একটি ছোট ইউএসবি ডঙ্গল বা ব্লুটুথের মাধ্যমে কীবোর্ড সিগন্যাল আদান-প্রদান করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. কম্পিউটারের জনক ও আধুনিক কম্পিউটারের জনক কারা?
চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয় এবং অ্যালান টিউরিংকে আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
২. ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসের মূল পার্থক্য কী?
ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটারে তথ্য ও নির্দেশ পাঠায়; আর আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত ফলাফল ব্যবহারকারীকে প্রদর্শন করা হয়।
৩. OMR প্রযুক্তির প্রধান ব্যবহার কোথায় হয়?
ভর্তি পরীক্ষা, বিসিএস ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বহুনির্বাচনী (MCQ) উত্তরপত্র দ্রুত ও নিখুঁত মূল্যায়নে ওএমআর ব্যবহৃত হয়।
৪. এক্সেল ওয়ার্কশীটে সেল অ্যাড্রেস কীভাবে গঠিত হয়?
প্রথমে কলামের বর্ণ (যেমন A, B, C) এবং পরে সারির নম্বর (যেমন 1, 2, 3) একত্রিত হয়ে সেল অ্যাড্রেস গঠিত হয় (যেমন A1, B5)।
৫. কম্পিউটারে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি কেন ব্যবহৃত হয়?
কম্পিউটারের ইলেকট্রনিক সার্কিট বিদ্যুতের দুটি অবস্থা (ভোল্টেজ থাকা = ১, ভোল্টেজ না থাকা = ০) সহজে ও নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলেই বাইনারি ব্যবহৃত হয়।
৬. হার্ডডিস্ক এবং র্যাম (RAM)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
হার্ডডিস্ক হলো স্থায়ী স্মৃতি যেখানে তথ্য বিদ্যুৎ চলে গেলেও মুছে যায় না; আর র্যাম হলো অস্থায়ী স্মৃতি যা কম্পিউটার বন্ধ করলে মুছে যায়।